📘 মধ্যমপন্থা গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা 📄 ইসলামে সহজপন্থা

📄 ইসলামে সহজপন্থা


ইসলামী শরী'আত সর্বব্যাপী, যাতে জীবনের সকল দিক ও বিভাগের সার্বিক বিধান অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এতে কোন কিছু বাদ পড়েনি। এটা এমন কোন জীবন বিধান নয় যে, এতে একদিককে বাদ দিয়ে অন্যদিককে অধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বরং এতে সকল দিক ও বিভাগকে সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কেননা এই শরী'আত অনুযায়ী জীবন পরিচালনাই ইবাদত। যার জন্য আল্লাহ মানুষকে সৃষ্টি করেছেন (যারিয়াত ৫১/৫৬)। এ ইবাদত সুসম্পন্ন হবে আল্লাহ্র নির্দেশ প্রতিপালন ও নিষিদ্ধ বিষয় বর্জনের মাধ্যমে। আর ইসলামী শরী'আতের সব বিধানই সহজ, এতে কোন জটিলতার লেশ মাত্র নেই। পবিত্র কুরআনের বহু আয়াতে এবং অনেক হাদীছে ইসলামের এই সহজতা ও জটিলতা দূরীকরণের বিষয়টি বিবৃত হয়েছে।

১. مَا يُرِيدُ اللَّهُ لِيَجْعَلَ عَلَيْكُم مِّنْ حَرَجٍ وَلَكِنْ يُرِيدُ لِيُطَهَّرَكُمْ وَلِيتِمَّ نِعْمَتَهُ عَلَيْكُمْ لَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ 'আল্লাহ তোমাদেরকে অসুবিধায় ফেলতে চান না; কিন্তু তোমাদেরকে পবিত্র রাখতে চান এবং তোমাদের প্রতি স্বীয় নে'মত পূর্ণ করতে চান, যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর' (মায়েদাহ ৫/৬)।
২. আল্লাহ অন্যত্র বলেন, وَجَاهِدُوا فِي اللَّهِ حَقَّ جِهَادِهِ هُوَ اجْتَبَاكُمْ وَمَا جَعَلَ عَلَيْكُمْ فِي الدِّيْنِ مِنْ حَرَجِ 'তোমরা আল্লাহ্র রাস্তায় যথার্থ জিহাদ কর, যেভাবে জিহাদ করা উচিত। তিনি তোমাদেরকে পসন্দ করেছেন এবং দ্বীনের ব্যাপারে তোমাদের উপর কোন জটিলতা রাখেননি' (হজ্জ ২২/৭৮)।
৩. তিনি অন্যত্র বলেন, يُرِيدُ اللَّهُ أَنْ يُخَفِّفَ عَنْكُمْ وَخُلِقَ الإِنْسَانُ ضَعِيفاً 'আল্লাহ তোমাদের বোঝা হালকা করতে চান। মানুষ সৃষ্টি করা হয়েছে দুর্বলরূপে' (নিসা ৪/২৮)।
৪. তিনি আরো বলেন, يُرِيدُ اللَّهُ بِكُمُ الْيُسْرَ وَلَا يُرِيدُ بِكُمُ الْعُسْرَ 'আল্লাহ তোমাদের জন্য সহজ করতে চান, তোমাদের জন্য জটিল কামনা করেন না' (বাক্বারাহ ২/১৮৫)।

হাদীছে এসেছে,
১. আবু হুরায়রা (রাঃ) হ'তে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, 'নিশ্চয়ই দ্বীন সহজ। যে ব্যক্তি তাকে কঠোর করতে যাবে, তা তার পক্ষে কঠোর হয়ে পড়বে। সুতরাং তোমরা সৎকর্ম কর ও মধ্যপন্থা অবলম্বন কর। সুসংবাদ দিবে এবং সকাল-সন্ধ্যায় ও শেষ রাত্রে ইবাদত দ্বারা আল্লাহ্র সাহায্য কামনা করবে'।
২. ইবনু আবু বুরদা বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) আমার দাদা আবূ মূসা ও মু'আযকে ইয়ামানে প্রেরণ করলেন। তখন তিনি বললেন, 'মানুষের সাথে সহজ কর, কঠোরতা আরোপ কর না। তাদের সুসংবাদ শুনাও, তাড়িয়ে দিও না। একমত হবে মতভেদ করবে না'।
৩. আবু মূসা (রাঃ) হ'তে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) তাঁর কোন এক ছাহাবীকে ইয়ামানে প্রেরণ করলেন কোন দায়িত্ব দিয়ে। তখন তিনি বললেন, 'মানুষকে সুসংবাদ শুনাও তাড়িয়ে দিও না, তাদের সাথে সহজ কর, কঠোরতা আরোপ কর না'।
৪. আনাস (রাঃ) হ'তে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, 'মানুষের সাথে সহজ কর, কঠোরতা আরোপ কর না। তাদের আশ্রয় দাও, তাড়িয়ে দিও না'।
৫. তিনি আরো বলেন, إِنَّمَا بُعِعْتُمْ مُيَسِّرِينَ وَلَمْ تُبْعَثُوا مُعَسِّرِينَ 'সহজতার জন্য তোমরা প্রেরিত হয়েছ, কঠোরতার জন্য প্রেরিত হওনি'।

শরী'আতের বিধান আরোপিত ব্যক্তিদের উপর থেকে দু'টি কারণে জটিলতা দূর করা হয়েছে। ১. বান্দা যখন ইসলামের কোন বিধানের মধ্যে কঠোরতা, জটিলতা দেখবে, তখন সে ঐ বিধান পরিত্যাগ করতে উদ্যত হবে কিংবা অপসন্দ ও বিরক্তি-বিতৃষ্ণা সহকারে ঐ বিধান প্রতিপালন করবে। ফলে তার ছওয়াব বিনষ্ট হবে। কখনও সে শারীরিক, মানসিক, আর্থিক ও পারিপার্শ্বিক সমস্যার সম্মুখীন হ'তে পারে। সেজন্য অবস্থা ও পরিবেশের প্রতি লক্ষ্য রেখে ইসলামের বিধান থেকে জটিলতা ও কঠোরতা দূর করা হয়েছে। ২. বিধান প্রতিপালনে অত্যধিক কষ্ট হ'লে তা আদায় করতে ব্যর্থতা ও অক্ষমতার আশংকা থাকে।

ইসলামী শরী'আতের এই সহজকরণকে ৭টি ভাগে বিভক্ত করা যায়। ১. রহিতকরণের মাধ্যমে হালকাকরণ বা সহজকরণ। যেমন ওযরবশতঃ জুম'আর ছালাত, হজ্জ, ওমরা, জিহাদ মাফ হওয়া। ২. হ্রাসকরণের মাধ্যমে হালকা বা সহজ করা। যেমন- ছালাত কছর করা। ৩. বদলকরণের মাধ্যমে হালকাকরণ। যেমন- ওযু, গোসলের পরিবর্তে তায়াম্মুম করা। দাঁড়িয়ে ছালাত আদায়ের পরিবর্তে অক্ষমতার ক্ষেত্রে বসে, শুয়ে বা ইশারায় ছালাত আদায় করা। ৪. অগ্রিম পালনের সুযোগ দানের মাধ্যমে হালকাকরণ। যেমন- ছালাত (অগ্রিম) জমা করা, বছরপূর্ণ হওয়ার পূর্বে যাকাত প্রদান, রামাযানে ছাদাকাতুল ফিতর আদায় এবং শপথ ভঙ্গের কাফফারা (অগ্রিম) প্রদান। ৫. বিলম্বিতকরণের মাধ্যমে সহজকরণ। যেমন ছালাত (বিলম্বে) জমা করা, রোগী ও মুসাফিরের জন্য পরে ছিয়াম পালন প্রভৃতি। ৬. অবকাশ দানের মাধ্যমে হালকাকরণ। যেমন- পানি না থাকলে ঢেলা ব্যবহারকারীর জন্য ছালাত সম্পাদন, গলায় খাদ্য আটকে যাওয়া ব্যক্তির মদপান (পানি না পেলে), চিকিৎসার জন্য অপবিত্র জিনিস ভক্ষণ ইত্যাদি। ৭. পরিবর্তনের মাধ্যমে হালকাকরণ। যেমন- ভীতিকর অবস্থায় (যুদ্ধের ময়দানে) ছালাতের পদ্ধতি পরিবর্তন।

প্রয়োজন ও অসুবিধার প্রতি লক্ষ্য রেখে মানুষের প্রতি আল্লাহ ইসলামের বিধান হালকা বা সহজ করেছেন। এ ব্যাপারে কুরআন-হাদীছে অনেক দলীল রয়েছে। যার কতিপয় এখানে উপস্থাপন করা হ'ল।-
(ক) দুর্বল, অসুস্থ ও অক্ষমদের উপর জিহাদ ওয়াজিব নয়। যেমন আল্লাহ বলেন, 'দুর্বল, রুগ্ন, ব্যয়ভার বহনে অসমর্থ লোকদের জন্য কোন অপরাধ নেই, যখন তারা মনের দিক থেকে পবিত্র হবে আল্লাহ ও রাসূলের সাথে... এবং তুমি বলেছ, আমার কাছে এমন কোন বস্তু নেই যে, তার উপর তোমাদের সওয়ার করাব তখন তারা ফিরে গেছে, অথচ তখন তাদের চোখ দিয়ে অশ্রু বইতেছিল এ দুঃখে যে, তারা এমন কোন বস্তু পাচ্ছে না যা ব্যয় করবে' (তওবা ৯/৯১-৯২)।

মানুষের এখতিয়ার বহির্ভুত কোন জটিলতা ও অসুবিধার কারণে কোন কাজ করলে সেজন্য তাকে ধরা হবে না। সুতরাং অপসন্দনীয়, বাধ্যগত অবস্থায় অথবা ভুল-ত্রুটির মাধ্যমে সংঘটিত কাজের জন্য শাস্তি হবে না। আল্লাহ বলেন, لَا يُكَلِّفُ اللَّهُ نَفْساً إِلَّا وُسْعَهَا 'আল্লাহ্ কাউকে তার সাধ্যতীত কোন কাজের ভার দেন না, সে তাই পায় যা সে উপার্জন করে এবং তাই তার উপর বর্তায় যা সে করে' (বাক্বারাহ ২/২৮৬)।

অনুরূপভাবে কেউ যদি বাধ্য হয়ে অপসন্দনীয় অবস্থায় কুফরী বাক্য উচ্চারণ করে, তাহলে কুফরী বড় পাপ হওয়া সত্ত্বেও তাকে হারাম সম্পাদনকারী সাব্যস্ত করা হবে না। যেমন আল্লাহ বলেন, 'যার উপর জবরদস্তী করা হয় এবং তার অন্তর বিশ্বাসে অটল থাকে সে ব্যতীত যে কেউ বিশ্বাসী হওয়ার পর আল্লাহতে অবিশ্বাসী হয় এবং কুফরীর জন্য মন উন্মুক্ত করে দেয় তাদের উপর আপতিত হবে আল্লাহ্ গযব এবং তাদের জন্য রয়েছে শাস্তি' (নাহল ১৬/১০৬)।

সন্দেহ-সংশয় অথবা অন্তরের গোপন কথা ও কল্পনায় মানুষকে শাস্তি দেয়া হবে না, যদি সেটা বাস্তবায়িত না হয়। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, 'আল্লাহ তাঁর উম্মতের অন্তরের কুমন্ত্রণা ও কল্পনাকে ক্ষমা করে দিয়েছেন, যতক্ষণ না তা কাজে পরিণত করে কিংবা উচ্চারণ করে'। শয়তানের কুমন্ত্রণা বান্দার ঈমানের প্রমাণ। অর্থাৎ শয়তান যখন কোন বান্দাকে বিপথগামী করতে অক্ষম হয়, তখন সে কুমন্ত্রণা দানের আশ্রয় নেয়। আবু হুরায়রা (রাঃ) হ'তে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর ছাহাবীদের মধ্যে কতিপয় ছাহাবী রাসূলের নিকটে এসে জিজ্ঞেস করল, আমাদের কেউ অন্তরে এমন কিছু কল্পনা করি যা বলা বা প্রকাশ করাকে বড় গোনাহের ব্যাপার মনে করি। তিনি বললেন, তোমরা কি অন্তরে এরূপ পাও (অনুভব কর)? তারা বললেন, হ্যাঁ। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বললেন, এটাই সুস্পষ্ট ঈমান'।

(খ) সহজকরণ ও জটিলতা দূরীকরণের আরেকটি দিক হচ্ছে যে, যদি কেউ তার ওযূর ব্যাপারে সন্দেহ করে যে, তার ওযূ আছে না ছুটে গেছে। তাহলে বায়ু নির্গত হওয়ার ব্যাপারে দৃঢ় বিশ্বাস না হওয়া পর্যন্ত সে পবিত্র অবস্থায় বিদ্যমান থাকবে। জনৈক ছাহাবী রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর নিকটে এসে বলল, 'ছালাতের মধ্যে কোন ব্যক্তির ধারণা হয় যে, তার পায়ু পথে কোন কিছু বের হয়েছে। রাসূল (ছাঃ) বললেন, সে যতক্ষণ শব্দ না শুনবে বা গন্ধ না পাবে ততক্ষণ ছালাত ছাড়বে না'। আবার কেউ যদি ছালাতের রাক'আত সংখ্যায় সন্দেহে পতিত হয়, তাহলে সে সংখ্যা নির্ধারণ পূর্বক ছালাত শেষ করে দু'টি সাহু সিজদা করবে। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, 'তোমাদের কেউ যখন ছালাতের মধ্যে সন্দেহে পতিত হয় যে, সে তিন রাক'আত না চার রাক'আত পড়েছে। তাহলে সে সন্দেহ দূর করবে এবং দৃঢ় বিশ্বাস অনুযায়ী যে কোন সংখ্যার উপর ভিত্তি করে বাকী ছালাত পূর্ণ করবে। অতঃপর সালাম ফিরানোর পূর্বে দু'টি সিজদা করবে'।

(গ) সহজকরণ ও জটিলতা দূরীকরণের আরেকটি দিক হচ্ছে, একাধিক স্ত্রীর মধ্যে সমতার বিষয়। এটা ঐ ক্ষেত্রে ওয়াজিব নয় যাতে মানুষের কোন ক্ষমতা নেই। যেমন আন্তরিক টান-আকর্ষণ ও ভালবাসা, যাতে মানুষের কোন এখতিয়ার নেই। আয়েশা (রাঃ) হ'তে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) স্ত্রীদের মধ্যে বণ্টন করতেন ও ন্যায় বিচার বা ইনছাফ করতেন। আয়েশা (রাঃ) বলেন, 'হে ভগ্নীপুত্র! রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) আমাদের নিকটে অবস্থানের ব্যাপারে একজনকে অপরজনের উপরে বেশী সুযোগ বা প্রাধান্য দিতেন না। এমন দিন খুব কমই যেত (অর্থাৎ প্রায় দিনই) তিনি আমাদের সকলের নিকট আসতেন, আমাদের নিকটবর্তী হ'তেন কিন্তু স্পর্শ করতেন না (সহবাস করতেন না)। অবশেষে যাঁর নিকটে রাত্রি যাপনের পালা থাকতো, তিনি তাঁর নিকটে রাত্রি যাপন করতেন... আয়েশা (রাঃ) বলেন, আমরা বলতাম, এ প্রসঙ্গে এবং এ ধরনের অন্যান্য ব্যাপারকে উদ্দেশ্য করে মহান আল্লাহ নাযিল করেছেন, 'যদি কোন নারী তার স্বামীর তরফ থেকে নিষ্ঠুরতা কিংবা উপেক্ষিত হবার আশংকা করে ...' (নিসা ৪/১২৮)।

ঈমানের জন্য যে, আন্তরিক আকর্ষণ ও টান বা ঝোক প্রবণতা আবশ্যিক গণ্য করা হয় সেটা ওয়াজিব। যেমন আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ভালবাসা। আর এটাকে জীবনের চেয়েও প্রাধান্য দিতে হবে। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, 'তোমাদের কেউ ততক্ষণ মুমিন হ'তে পারবে না, যতক্ষণ আমি তার নিকটে তার পিতা-মাতা, সন্তান-সন্ততি ও সকল মানুষ অপেক্ষা প্রিয়তর না হব'।

শরী'আতের কোন কর্মের সাথে কষ্টকর বিষয় ইচ্ছাকৃতভাবে সংযুক্ত করা কোন মানুষের জন্য বৈধ নয়। এজন্য রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) ছাওমে বেছাল (লাগাতার সিয়াম) ও সন্ন্যাসব্রত নিষেধ করেছেন। আবু হুরায়রা (রাঃ) হ'তে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) ছাওমে বেছাল নিষেধ করেছেন। জনৈক মুসলিম ব্যক্তি বললেন, নিশ্চয়ই আপনি লাগাতার সিয়াম পালন করেন হে আল্লাহ্র রাসূল (ছাঃ)! তিনি বললেন, তোমাদের কে আমার মত? আমি রাত্রে ঘুমাই আমার প্রভু আমাকে খাওয়ান ও পান করান'।

(ঘ) সহজকরণ ও জটিলতা দূরীকরণের আরেকটি দিক হচ্ছে প্রত্যেক পাপীর জন্য তওবার সুযোগ রয়েছে, অপরাধ ও পাপ যত বড়ই হোক না কেন। তওবাকারীর আন্তরিক শান্তি ও নিশ্চিন্ততা কার্যকর করার জন্য এবং অপরাধের চিন্তা থেকে মুক্ত করতে তওবার এই ব্যবস্থা। মহান আল্লাহ বলেন, قُلْ يَا عِبَادِيَ الَّذِيْنَ أَسْرَفُوا عَلَى أَنْفُسِهِمْ لَا تَقْنَطُوا مِن رَّحْمَةِ اللَّهِ إِنَّ اللَّهَ يَغْفِرُ الذُّنُوبَ جَمِيعًا إِنَّهُ هُوَ الْغَفُوْরُ الرَّحِيمُ 'বলুন, হে আমার বান্দাগণ! যারা নিজেদের উপর যুলুম করেছ তোমরা আল্লাহ্র রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ সমস্ত গোনাহ মাফ করেন। তিনি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু' (যুমার ৩৯/৫৩)।

রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, বানী ইসরাঈলের এক লোক ৯৯ জনকে হত্যা করে অতঃপর পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ আলিমের খোঁজ করে। তাকে একজন দরবেশের খোঁজ দেয়া হলো। সে তার কাছে গিয়ে বলল, যে সে ৯৯ জন লোককে হত্যা করেছে, তার জন্য এখন তওবার কোন সুযোগ আছে কি? দরবেশ বলল, নেই। দরবেশকে হত্যা করে লোকটি একশত সংখ্যা পূর্ণ করল। অতঃপর সে পুনরায় একজন আলেমের অনুসন্ধান করায় তাকে এক আলেমের খোঁজ দেয়া হলো। তার কাছে গিয়ে সে বলল যে, সে একশত লোককে হত্যা করেছে, এখন তার জন্য তওবার কোন সুযোগ আছে কি? আলিম বললেন হ্যাঁ, তওবার সুযোগ আছে। আর তওবার বাধা কি হ'তে পারে? তুমি অমুক স্থানে চলে যাও। সেখানে কিছু সংখ্যক লোক আল্লাহ্র ইবাদত করছে। তাদের সাথে তুমিও ইবাদত কর। আর তোমার দেশে ফিরে যেও না। কারণ ওটা মন্দ এলাকা... ফলে তারা উত্তম লোকদের জমির দিকে লোকটিকে আধ হাত অধিক কাছাকাছি দেখতে পেল। তাই তাকে ক্ষমা করে দেয়া হলো।

(ঙ) সহজকরণ ও সমস্যা দূরীকরণের অন্যতম হচ্ছে, আল্লাহ তা'আলা উম্মতে মুহাম্মাদীর জন্য কিছু বিধান হালকা বা রহিত করেছেন, যা পূর্ববর্তী উম্মতের জন্য ওয়াজিব বা হারাম ছিল। এসব বিধানে ছিল অশেষ কষ্ট ও বহু সমস্যা। তাদের অবাধ্যতা ও যুলুমের কারণে সেসব তাদের প্রতি আরোপিত হয়েছিল। ইহুদীদের সীমালংঘন ও যুলুমের কারণে তাদের উপর যা হারাম ছিল তার বর্ণনায় আল্লাহ বলেন, 'ইহুদীদের জন্য আমি প্রত্যেক নখ বিশিষ্ট জন্তু হারাম করেছিলাম এবং গরু ও ছাগল থেকে এতদুভয়ের চর্বি আমি তাদের জন্য হারাম করেছিলাম, কিন্তু ঐ চর্বি, যা পৃষ্ঠে কিংবা অন্ত্রে সংযুক্ত থাকে অথবা অস্থির সাথে মিলিত থাকে' (আন'আম ৬/১৪৬)।

সহজতা ও জটিলতা দূরীকরণের উদাহরণ হচ্ছে মহিলাদের দীর্ঘ ঝুলন্ত কাপড়ে রাস্তা থেকে লেগে যাওয়া অপবিত্রতার ক্ষেত্রে তাদেরকে অবকাশ দেওয়া হয়েছে। অপবিত্র জিনিস কাপড়ে লেগে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও কাপড় ঝুলিয়ে পরা তাদের জন্য বৈধ। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, 'যে ব্যক্তি অহংকার বশতঃ কাপড় ঝুলিয়ে পরবে কিয়ামতের দিন আল্লাহ তার দিকে তাকাবেন না। উম্মু সালমা বলেন, তাহলে মহিলারা তাদের আঁচল কি করবে? রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বললেন, তারা অর্ধহাত ঝুলিয়ে দেবে। উম্মু সালমা বলেন, তাহলে তাদের পায়ের গোঁড়ালী বেরিয়ে পড়বে। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বললেন, তাহলে তারা এক হাত ঝুলিয়ে দেবে। এর চেয়ে বেশি করবে না'। অনুরূপভাবে শিশুকে দুধ দানকারিণী মহিলার জন্য বাচ্চার বমি ও লালা না ধুয়ে ঐ কাপড়ে ছালাত আদায় করা বৈধ।

(চ) সহজকরণ ও সমস্যা দূরীকরণের আরেকটি দিক হচ্ছে, মানুষের জন্য সকল উপকারী জিনিসকে বৈধ করা হয়েছে। আল্লাহ বলেন, هُوَ الَّذِي خَلَقَ لَكُم مَّا فِي الأَرْضِ جَمِيعاً ‘তিনিই সে সত্তা যিনি সৃষ্টি করেছেন তোমাদের জন্য যা কিছু যমীনে রয়েছে সে সমস্ত’ (বাক্বারাহ ২/২৯)।

(ছ) ইসলামী শরী'আতের সহজকরণ ও জটিলতা নিরসনের আরেকটি দিক হচ্ছে, বিধান প্রবর্তনের ক্ষেত্রে ধারাক্রম বা পর্যায়ক্রমিকতা অবলম্বন করা। যা অধিকাংশ ক্ষেত্রে হয়েছে। যেমন মদ হারাম হওয়ার ক্ষেত্রে এই ক্রমধারা বিদ্যমান। এমর্মে 'তারা তোমাকে মদ ও জুয়া সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে। বলে দাও, এতদুভয়ের মধ্যে রয়েছে মহাপাপ। আর মানুষের জন্য উপকারিতাও রয়েছে, তবে এগুলোর পাপ উপকারিতা অপেক্ষা অনেক বড়' (বাক্বারাহ ২/২১৯)। এ আয়াতে জ্ঞানীদের জন্য মদ পরিত্যাগের পরোক্ষ ইঙ্গিত রয়েছে। অতঃপর নির্দেশ আসল, 'হে ঈমানদারগণ! তোমরা যখন নেশাগ্রস্ত থাক, তখন ছালাতের ধারে-কাছে যেও না, যতক্ষণ না বুঝতে সক্ষম হও, যা কিছু তোমরা বলছ' (নিসা ৪/৪৩)। এরপরেই আসে মদ্যপানের চূড়ান্ত নিষেধাজ্ঞা। আল্লাহ বলেন, 'হে মুমিনগণ! মদ, জুয়া, মৃতিপূজার বেদী এবং ভাগ্য নির্ণায়ক শর সমূহ এসব শয়তানের অপবিত্র কার্য বৈ তো নয়। অতএব এগুলো থেকে বেঁচে থাক, যাতে তোমরা কল্যাণপ্রাপ্ত হও' (মায়েদা ৫/৯০-৯১)।

আয়েশা (রাঃ) বলেন, 'প্রথম দিকে বড় সূরা নাযিল হয়েছে যেসবে জান্নাত- জাহান্নামের বিবরণ উপস্থাপন করা হয়েছে, যাতে মানুষ ইসলামের দিকে ফিরে আসে। তারপর হারাম-হালালের বিধান নাযিল হয়েছে। যদি প্রথমেই নাযিল হ'ত যে, তোমরা মদ পান কর না, তাহলে তারা অবশ্যই বলত আমরা মদ কখানোই ছাড়বো না'। কিন্তু আল্লাহ বিধানকে সহজ করে দিয়েছেন এবং জটিলতাকে দূর করেছেন।

পরিশেষে বলা যায় যে, সহজকরণ ও জটিলতা দূরীকরণের মূলকথা হচ্ছে, ইসলামী শরী'আতে সকল প্রকার বাড়াবাড়ি ও সীমালংঘনকে পরিহার করে ন্যায় সঙ্গত বিধান প্রবর্তন করা। সুতরাং এতে হ্রাস-বৃদ্ধির কোন সুযোগ নেই। এ বিধান মানবতার কল্যাণে প্রবর্তিত।

টিকাঃ
৮১. বুখারী, মিশকাত, হা/১২৪৬; বঙ্গানুবাদ মিশকাত হা/১১৭৭।
৮২. মুত্তাফাক্ব 'আলাইহ, মিশকাত, হা/৩৭২৪।
৮৩. মুত্তাফাক্ব 'আলাইহ, মিশকাত, হা/৩৭২২।
৮৪. মুত্তাফাক্ব 'আলাইহ, মিশকাত, হা/৩৭২৩।
৮৫. তিরমিযী, হা/১৩৭, হাদীছ ছহীহ।
৮৬. বুখারী হা/৬১৭১; মুসলিম 'ঈমান' অধ্যায়।
৮৭. মুসলিম, হা/১৩২; মিশকাত হা/৬৮।
৮৮. বুখারী হা/১৩৪।
৮৯. মুসলিম হা/৮৮৮।
৯০. আবুদাউদ হা/২১৩৫, সনদ হাসান ছহীহ।
৯১. বুখারী হা/১৪।
৯২. বুখারী হা/১৮২৯।
৯৩. বুখারী হা/৫০৬৩; মিশকাত, হা/১৪৫, 'ঈমান' অধ্যায়।
৯৪. বুখারী, হা/ ৪৪৩৬।
৯৫. মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/২৩২৭।
৯৬. বুখারী, হা/৩৪৭০; মুসলিম, হা/২৭৬৬।
৯৭. তিরমিযী হা/১৭৩১, সনদ ছহীহ।
৯৮. মুসলিম হা/১৩৩৭।
৯৯. বুখারী হা/৬৭৪৫।
১০০. বুখারী, তিরমিযী, নাসাঈ, আবু দাউদ হা/৩১৮৫।
১০১. ওয়াসাতিয়াতুল ইসলাম, পৃঃ ১৪৫-৪৬।

📘 মধ্যমপন্থা গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা 📄 মুসলিম উম্মাহর শ্রেষ্ঠত্ব

📄 মুসলিম উম্মাহর শ্রেষ্ঠত্ব


মুসলিম মিল্লাত অন্যান্য উম্মতের মধ্যে মধ্যপন্থী ও শ্রেষ্ঠ জাতি। কতিপয় গুণ ও বৈশিষ্ট্যের মাধ্যমে মুসলিম উম্মাহ এই শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছে। যেমন আল্লাহ বলেন, كُنتُمْ خَيْرَ أُمَّةٍ أُخْرِجَتْ لِلنَّاسِ تَأْمُرُوْনَ بِالْمَعْرُوْفِ وَتَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنْكَرِ وَتُؤْمِنُوْনَ بِاللَّهِ 'তোমরাই উত্তম জাতি, মানবতার কল্যাণের জন্যই তোমাদের আবির্ভাব ঘটানো হয়েছে। তোমরা মানুষকে সৎ কাজের আদেশ কর, অসৎ কাজ থেকে বাঁধা প্রদান কর এবং আল্লাহ্র প্রতি বিশ্বাস স্থাপন কর' (আলে-ইমরান ১১০)। কেবল এই তিনটি গুণের কারণেই যে এ সম্প্রদায় শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করেছে তা নয়; বরং আরো অনেক গুণ বা বিশেষণ রয়েছে, যার দ্বারা এ জাতি শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করেছে। তন্মধ্যে উক্ত তিনটি গুণ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

আমরা এখানে উম্মতে মুসলিমার শ্রেষ্ঠত্বের কতিপয় দিক উল্লেখ করব।

১. আল্লাহর উপর ঈমান আনয়ন: এ জাতির ঈমান আম বা ব্যাপক। কারণ তারা পৃথিবীতে আল্লাহ প্রেরিত সকল নবী-রাসূল এবং পূর্ববর্তী অন্যান্য জাতির প্রতি অবতীর্ণ সমস্ত গ্রন্থের উপর ঈমান বা বিশ্বাস স্থাপন করে। আল্লাহ বলেন, آمَنَ الرَّسُولُ بِمَا أُنْزِلَ إِلَيْهِ مِنْ رَّبِّهِ وَالْمُؤْمِنُوْনَ كُلُّ آمَنَ بِاللَّهِ وَمَلَائِكَتِهِ وَكُتُبِهِ وَرُسُلِهِ لاَ نُفَرِّقُ بَيْنَ أَحَدٍ مِّنْ رُّسُلِهِ 'রাসূল বিশ্বাস রাখেন ঐ সমস্ত বিষয় সম্পর্কে যা তাঁর পালনকর্তার পক্ষ থেকে তাঁর কাছে অবতীর্ণ হয়েছে এবং মুসলমানরাও। সবাই বিশ্বাস রাখে আল্লাহ্ প্রতি, তাঁর ফেরেশতাদের প্রতি, তাঁর গ্রন্থ সমূহের প্রতি এবং তাঁর পয়গম্বরগণের প্রতি' (বাক্বারাহ ২৮৫)।

২. এ জাতি সৎ কাজের নির্দেশ দেয় এবং অসৎ কাজ থেকে বাধা প্রদান করে: এ উম্মতের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হচ্ছে তারা মানুষকে সৎ কাজের আদেশ দেয় ও অসৎ কাজে বাধা দেয়। আল্লাহ এ জাতিকে সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজে বাধা প্রদানের নির্দেশ দিয়েছেন এবং এজন্য একটি দল গঠন করারও নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, 'আর তোমাদের মধ্যে এমন একটা দল থাকা উচিত যারা আহ্বান জানাবে সৎ কাজের প্রতি, নির্দেশ দেবে ভাল কাজের এবং বারণ করবে অন্যায় কাজ থেকে, আর তারাই হলো সফলকাম' (আলে ইমরান ১০৪)।

৩. উম্মতে মুহাম্মদী অন্যান্য উম্মত অপেক্ষা মানুষের জন্য মঙ্গলকামী ও উপকারী: এ উম্মত মানুষকে এমন বিষয়ের দিকে আহ্বান জানায় যাতে তাদের উপকারিতা ও পরিত্রাণ রয়েছে। তারা এ পথে তাদের জান-মাল কুরবানী করে এজন্য যে, আল্লাহ তাদের উপর ওয়াজিব করেছেন সৃষ্টিকে নাজাতের পথ বাতলে দিতে। যেমন রাবী' ইবনু আমির পারস্য সেনাপতি রুস্তমের জিজ্ঞাসার জবাবে বলেন, আল্লাহ আমাদের প্রেরণ করেছেন যেন আমরা লোকদেরকে মানুষের উপাসনা থেকে আল্লাহ্ ইবাদতের দিকে, দুনিয়ার সংকীর্ণতা থেকে প্রশস্ততার দিকে এবং অত্যাচারী দ্বীন থেকে ইসলামের ইনছাফের দিকে বের করে আনি।

৪. নবীদের আহ্বানে অধিক সাড়া দানকারী: এ উম্মতের সংখ্যা অধিক হবে এ মর্মে ছহীহ হাদীছ বর্ণিত হয়েছে। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, 'আমিই জান্নাতের ব্যাপারে প্রথম সুফারিশকারী হব। এত অধিক সংখ্যক লোক আমাকে বিশ্বাস করেছে যে, অন্য কোন নবীকেই এত অধিক সংখ্যক লোক বিশ্বাস করেনি'। অন্যত্র তিনি বলেন, 'কিয়ামতের দিন নবীদের মধ্যে অনুসারীর সংখ্যা সর্বাধিক হবে'।

৫. এ উম্মত গোমরাহী বা ভ্রষ্টতার উপর সমবেত হবে না: রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, إِنَّ اللَّهَ قَدْ أَجَارَ أُمَّتِي مِنْ أَنْ تَجْتَمِعَ عَلَى ضَلَالَةِ 'আল্লাহ তা'আলা আমার উম্মতকে গোমরাহীর উপর সমবেত হওয়া থেকে রক্ষা করেছেন'। তাদের মধ্যে অন্ততঃ একটি দল সঠিক দ্বীনের উপরে প্রতিষ্ঠিত থাকবে। বিরোধীরা তাদের কোন ক্ষতি করতে পারবে না, এমতাবস্থায় কিয়ামত সংগঠিত হবে।

৬. এ উম্মতের কিতাব সমস্ত আসমানী গ্রন্থের চেয়ে শ্রেষ্ঠ: উম্মতে মুহাম্মাদীর নিকটে নাযিলকৃত ইলাহী গ্রন্থ অন্যান্য সকল আসমানী গ্রন্থ অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ। কুরআন একমাত্র আসমানী কিতাব যার হেফাযত এবং হ্রাস-বৃদ্ধি, পরিবর্তন-পরিবর্ধন থেকে রক্ষার দায়িত্ব আল্লাহ গ্রহণ করেছেন। আল্লাহ বলেন, إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ وَإِنَّا لَهُ لَحَافِظُوْনَ 'আমি স্বয়ং এ উপদেশ গ্রন্থ অবতীর্ণ করেছি এবং নিজেই এর সংরক্ষক' (হিজর ১৫/৯)।

৭. এ উম্মতের নবী ও রাসূল হচ্ছেন অন্যান্য নবী-রাসূলগণের চেয়ে শ্রেষ্ঠ: মুহাম্মাদ (ছাঃ) তাঁদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ এ মর্মেও কোন মতপার্থক্য নেই। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) সমগ্র সৃষ্টির মধ্যে শ্রেষ্ঠ এবং তিনি মানব জাতির নেতা-সরদার। তাঁর রিসালাত ব্যাপক যা সমগ্র মানব জাতিকে অন্তর্ভুক্ত করেছে। তিনি বলেন, 'আমাকে পাঁচটি জিনিস প্রদান করা হয়েছে, যা আমার পূর্বে কাউকে দেওয়া হয়নি... প্রত্যেক নবীকে স্বীয় কওমের প্রতি পাঠানো হয়েছে। আর আমি প্রেরিত হয়েছি সমস্ত মানুষের প্রতি'।

৮. ক্বিয়ামতের দিন হাশরে এবং হিসাবের ক্ষেত্রে এ উম্মত অগ্রগামী হবে: উম্মতে মুহাম্মাদীর শ্রেষ্ঠত্বের আরেকটি দিক হলো এ জাতি সর্বশেষ হওয়া সত্ত্বেও অন্যান্য উম্মত অপেক্ষা সর্বাগ্রে হাশরের ময়দানে সমবেত হবে এবং তাদের হিসাব হবে সবার আগে। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, 'আমরা সর্বশেষ জাতি, কিন্তু আমাদের হিসাব হবে সর্বাগ্রে'।

৯. এ উম্মত অধিক জান্নাতবাসী হবে: এ উম্মত অন্যান্য উম্মত অপেক্ষা রাসূলের দাওয়াতে সর্বাধিক সাড়া দানকারী, এজন্য তারা জান্নাতেও অধিক সংখ্যায় প্রবেশ করবে। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) ছাহাবাগণকে উদ্দেশ্য করে বলেন, 'আমি আশা করছি যে, তোমরাই জান্নাতের অর্ধেক অধিবাসী হবে'।

সুতরাং মধ্যপন্থী জাতি ও উম্মত হিসাবে আল্লাহ আমাদেরকে তাঁর পসন্দনীয় আমল করার তাওফীক দিন-আমীন!

টিকাঃ
১০২. মুসলিম, 'ঈমান' অধ্যায়, 'ঈমান ও ইসলামের বর্ণনা' অনুচ্ছেদ; মিশকাত, মুকাদ্দামা, হা/১।
১০৩. বুখারী, 'জুম'আ' অধ্যায়, 'জুম'আর ফরয' অনুচ্ছেদ, হা/৮৭৬।
১০৪. ইবনু মাজাহ, 'যুহদ' অধ্যায়, 'উম্মতে মুহাম্মাদীর গুণাবলী' অনুচ্ছেদ, হা/৪২৮৭, হাদীছ ছহীহ।
১০৫. ইবনু মাজাহ, ঐ, হা/৪২৮৭, হাদীছ ছহীহ।
১০৬. মুসলিম, 'ঈমান' অধ্যায়, 'অন্যায় কাজে বাধাদান' অনুচ্ছেদ, হা/৪৯।
১০৭. মুসলিম শরহে নববী সহ, 'ঈমান' অধ্যায়, 'সৎকাজের নির্দেশ ওয়াজিব' অনুচ্ছেদ, ২য় খণ্ড, পৃঃ ২২-২৩।
১০৮. তাফসীরে তাবারী, ৭ম খণ্ড, পৃঃ ১০২।
১০৯. তাফসীরে তাবারী, ৭ম খণ্ড, পৃঃ ১০৫।
১১০. তারীখুল উমাম ওয়াল মুলুক ৩/৫২০; আল-বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ ৭/৪০।
১১১. তাফসীর তাবারী ৭/১০৩।
১১২. মুসলিম, 'ঈমান' অধ্যায় হা/১৯৬।
১১৩. মুসলিম, 'ঈমান' অধ্যায় হা/১৯৬।
১১৪. মুত্তাফাক্ব আলাইহ, বঙ্গানুবাদ মিশকাত হা/৫৫০০।
১১৫. বুখারী, 'চিকিৎসা' অধ্যায় হা/৫৭০৫।
১১৬. সিলসিলা ছহীহাহ হা/১৩৩১, ৩য় খণ্ড, পৃঃ ৩১৯-২০, হাদীছ হাসান।
১১৭. বুখারী, 'সুন্নাত আঁকড়ে ধরা' অধ্যায়, হা/৭৩১১; ইবনু মাজাহ মুকাদ্দামাহ, হা/১০।
১১৮. তদেব।
১১৯. তাফসীরুল কুরআনিল আযীম, ৭/৮৪ পৃঃ।
১২০. আবুল হাসান নদভী, কিতাবুন নবুওয়াত ওয়াল আম্বিয়া, পৃঃ ২১৩।
১২১. তাফসীর তাবারী ১০/৩৭৭-৭৮।
১২২. তাফসীর ইবনু কাছীর ৫/৮৫।
১২৩. মুসলিম, ‘ঈমান’ অধ্যায়, হা/১৯৪।
১২৪. মুসলিম, ‘মর্যাদা’ অধ্যায়, হা/২২৭৮।
১২৫. ইবনু মাজাহ, ‘যুহদ’ অধ্যায়, ‘শাফা‘আত’ অনুচ্ছেদ, হা/৪৩0৮, হাদীছ ছহীহ।
১২৬. ফাতহুল বারী, ৬/৪৪৪।
১২৭. বুখারী, ‘তাফসীর’ অধ্যায় وأن يونس لمن المرسلين অনুচ্ছেদ হা/৩৩৯৫।
১২৮. ফাতহুল বারী, ৬/৪৪৬।
১২৯. বুখারী 'তায়াম্মুম' অধ্যায় হা/৩৩৫; মিশকাত হা/৫৭৪৭ 'ফাযায়েল' অধ্যায়।
১৩০. মুসলিম হা/৫২৩, মিশকাত হা/৫৭৪৮।
১৩১. তাফসীর ইবনে কাছীর ২/২৮৬।
১৩২. বুখারী, 'মানাসিক' অধ্যায়, 'শেষ নবীর বর্ণনা' অনুচ্ছেদ, হা/৩৫৩৫।
১৩৩. তাফসীর ইবনে কাছীর ২/৭৮।
১৩৪. বুখারী, 'জুম'আহ' অধ্যায়, 'জুম'আ করা' অনুচ্ছেদ, হা/৮৭৬।
১৩৫. মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/১৩৫৪।
১৩৬. ফতহুল বারী ২/৩৫৪।
১৩৭. মুসলিম, 'জুম'আ' অধ্যায়, হা/৮৫৫।
১৩৮. মুসলিম হা/১৯৭, মিশকাত হা/৫৭৪৩।
১৩৯. বুখারী, 'রিক্বাক্ব' অধ্যায়, 'হাশর কিভাবে হবে' অনুচ্ছেদ, হা/৬৫২৮।

ফন্ট সাইজ
15px
17px