📄 ইসলামে নিজের উপর বাড়াবাড়ি নিষিদ্ধ
নিজের উপরে কঠোরতা আরোপের মাধ্যমে দ্বীনে বাড়াবাড়ি ও সীমালংঘন শরী'আত সম্মত নয়। আহনাফ ইবনে কায়েস আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, مَلَكَ الْمُتَنَطِّعُونَ، قَالَهَا ثَلَاثًا 'সীমালংঘনকারীরা ধ্বংস হোক। এটা তিনি তিনবার বলেন'। তিনি বলেন, يَا أَيُّهَا النَّاسُ خُذُوا مِنَ الْأَعْمَالِ مَا تُطিيقُوْনَ، فَإِنَّ اللهَ لَا يَمَلُّ حَتَّى تَمَلُّوْا، وَإِنَّ أَحَبَّ الْأَعْمَالِ إِلَى اللَّهِ مَا دَامَ وَإِنْ قَلْ 'হে মানব সকল! তোমরা তোমাদের সাধ্যমত আমল কর। আর আল্লাহ প্রতিদান বন্ধ করবেন না, যতক্ষণ না তোমরা ক্লান্ত হও। আল্লাহ্র নিকট সর্বাধিক প্রিয় আমল হচ্ছে স্থায়ী আমল, যদিও তা পরিমাণে কম হয়'।
ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন, নবী করীম (ছাঃ) আমাদের মাঝে খুৎবা দিচ্ছিলেন। সেখানে এক লোক দণ্ডায়মান ছিল। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) তার সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে লোকেরা বলল, সে হচ্ছে আবু ইসরাঈল। সে মানত করেছে যে, সে দাঁড়িয়ে থাকবে বসবে না, ছায়া গ্রহণ করবে না, কথা বলবে না এবং ছিয়াম পালন করবে। নবী করীম (ছাঃ) বললেন, তাকে বল, কথা বলতে, ছায়া গ্রহণ করতে, বসতে এবং ছিয়াম পূর্ণ করতে'।
আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) তার নিকট আসলেন, এমতাবস্থায় তার নিকট এক মহিলা উপবিষ্ট ছিল। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, এ কে? আয়েশা (রাঃ) বললেন, এ অমুক মহিলা, যিনি অতি ছালাতগুযার (তিনি একজন বড় মুছল্লী, যিনি দিন-রাত নফল ছালাত আদায় করেন, এমনকি রাতেও ঘুমান না)। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বললেন, থাম, (এ মহিলা প্রশংসা পাওয়ার যোগ্য নয়)। তোমাদের পক্ষে (ফরয ব্যতীত) ঐ পরিমাণ (নফল) ইবাদত করা উচিত, যতটুকু তোমাদের সাধ্যে কুলায়। আল্লাহ্র কসম! আল্লাহ পরিশ্রান্ত হবেন না (অর্থাৎ ইবাদত করতে করতে মানুষ বৃদ্ধ হয়ে যায়, ক্লান্ত হয়ে যায়, পরিশ্রান্ত হয়ে যায়। আর তখন সে নিজেই অপারগ হয়ে পড়ে। কিন্তু আল্লাহ ছওয়াব প্রদানে অপারগ হন না। তিনি অসীম ছওয়াব প্রদানকারী)। দ্বীনি কর্মকাণ্ডে আল্লাহ্র নিকট প্রিয় ও পসন্দনীয় (নফল) ইবাদত হচ্ছে ঐ ইবাদত, যা ইবাদতকারী অব্যাহত রাখতে পারে'।
আল্লাহ যেসব জিনিস হালাল করেছেন, তা মানুষ নিজের জন্য হারাম করতে পারে না। এটা তার জন্য সমীচীন নয়, বৈধও নয়। আল্লাহ বলেন, قُلْ مَنْ حَرَّمَ زِيْنَةَ اللَّهِ الَّتِي أَخْرَجَ لِعِبَادِهِ وَالطَّيِّبَاتِ مِنَ الرِّزْقِ قُلْ هِيَ لِلَّذِينَ آمَنُوا فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا خَالِصَةً يَوْمَ الْقِيَامَةِ كَذَلِكَ نُفَصِّلُ الْآয়َاتِ لِقَوْمٍ يَعْلَمُوْনَ 'বলুন, আল্লাহ্র সাজ-সজ্জাকে যা তিনি সৃষ্টি করেছেন এবং পবিত্র খাদ্যবস্তু সমূহকে কে হারাম করেছে? আপনি বলুন, এসব নে'আমত আসলে পার্থিব জীবনে মুমিনদের জন্য এবং ক্বিয়ামতের দিন খাঁটিভাবে তাদেরই জন্য। এমনিভাবে আমি আয়াত সমূহ বিস্তারিত বর্ণনা করি তাদের জন্য, যারা অনুধাবন করে' (আ'রাফ ৭/৩২)।
ছাহাবায়ে কেরাম রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর সান্নিধ্যে থাকলে তাদের অবস্থা এক রকম থাকতো, আবার পরিবার-পরিজন ও সন্তান-সন্ততির সংস্পর্শে গেলে অবস্থা ভিন্ন হ'ত। এ পরিস্থিতির কথা ছাহাবাগণ রাসূলের নিকট পেশ করলে তাদের প্রতি সহজকরণে ও জটিলতা দূরীকরণে তাদেরকে সান্ত্বনা দিতেন। হানযালা আল-উসয়্যেদী হ'তে বর্ণিত তিনি বলেন, একদা আবু বকর (রাঃ) আমার সাথে সাক্ষাৎ করে জিজ্ঞেস করল, হে হানযালা! তুমি কেমন আছ? তিনি বলেন, আমি বললাম, হানযালা মুনাফিকী করছে। আবু বকর বললেন, সুবহানাল্লাহ, তুমি কি বল? তিনি বলেন, আমি বললাম, আমরা যখন রাসূলের নিকটে থাকি, তিনি আমাদের জান্নাত-জাহান্নামের কথা স্মরণ করিয়ে দেন (উপদেশ দেন), যেন আমরা চাক্ষুস দেখছি। অতঃপর আমরা যখন রাসূলের নিকট থেকে বেরিয়ে আসি, আমরা আমাদের স্ত্রী-পরিজন, সন্তান-সন্ততির সাথে মিলিত হই, অর্থ-সম্পদের সাথে জড়িয়ে পড়ি, তখন অনেক কিছু ভুলে যাই। আবু বকর (রাঃ) বললেন, আল্লাহ্র কসম! আমিও এরূপ অবস্থার সম্মুখীন হই। তখন আমি ও আবু বকর রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর নিকট গিয়ে বললাম, হে আল্লাহ্র রাসূল (ছাঃ)! হানযালা মুনাফিক হয়ে গেছে (মুনাফিকী করছে)। রাসূল (ছাঃ) বললেন, সেটা কি? আমি বললাম, হে আল্লাহ্র রাসূল (ছাঃ)! আমরা যখন আপনার কাছে থাকি তখন আপনি জান্নাত-জাহান্নামের কথা আমাদের স্মরণ করিয়ে দেন, এমনিভাবে যেন আমরা সরাসরি/চাক্ষুস দেখছি। কিন্তু আপনার নিকট থেকে বের হয়ে যখন আমরা আমাদের পরিবার-পরিজন ও সন্তান-সন্ততির সাথে মিলিত হই, সম্পদের সাথে জড়িয়ে পড়ি, তখন অনেক কিছু বিস্মৃত হই। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বললেন, যার হাতে আমার জীবন সে সত্তার কসম! আমার নিকট থাকতে তোমরা যে অবস্থায় থাক, অনুরূপ যদি সর্বদা স্থায়ীভাবে থাকতে এবং স্মরণে রাখতে, তাহ'লে ফেরেশতারা তোমাদের শয্যায় (বিছানায়) ও তোমাদের পথে এসে তোমাদের সাথে মুছাফাহা (করমর্দন) করত। কিন্তু হে হানযালা! মাঝে মাঝে বা কখনো কখনো (এরূপ হবে) এটা তিনি তিনবার বললেন'।
টিকাঃ
৬৭. মুসলিম হা/২৬৭০।
৬৮. বুখারী, হা/২২০, ৫৪১৩।
৬৯. বুখারী হা/৬২১০।
৭০. বুখারী হা/৪৩, মুসলিম হা/৭৮৫; নাসাঈ হা/১৬২৪; রিয়াযুছ ছালেহীন হা/১৪২, পৃ. ৭৫।
৭১. মুসলিম, হা/২৭৫০।
📄 ইসলাম মধ্যপন্থী ধর্ম
ইসলাম একটি মধ্যপন্থী ধর্ম। যেমন মহান আল্লাহ বলেছেন, 'অনুরূপভাবে আমি তোমাদের মধ্যপন্থী জাতি করেছি, যাতে তোমরা মানুষের উপর সাক্ষী হও। আর রাসূল তোমাদের উপর সাক্ষী হন' (বাক্বারাহ ২/১৪৩)। সুতরাং ইসলাম এমন একটি মধ্যপন্থী ধর্ম যাতে বাড়াবাড়ি ও সীমালংঘনের কোন স্থান নেই। ইহুদীরা তাদের নবীদেরকে হত্যা করেছিল। নাছারারা তাদের নবীকে উপাস্য বানিয়েছিল। মহান আল্লাহ বলেন, لَقَدْ أَخَذْنَا مِيثَاقَ بَنِي إِسْرَائِيلَ وَأَرْسَلْنَا إِلَيْهِمْ رُسُلاً كُلَّمَا جَاءَهُمْ رَسُوْلٌ بِمَا لاَ تَهْوَى أَنْفُسُهُمْ فَرِيقًا كَذَّبُوا وَفَرِيقًا يَقْتُلُوْনَ 'আমি বনী ইসরাঈলের নিকট থেকে অঙ্গীকার নিয়েছিলাম এবং তাদের কাছে অনেক পয়গম্বর প্রেরণ করেছিলাম। যখনই তাদের কাছে কোন পয়গম্বর এমন নির্দেশ নিয়ে আসত যা তাদের মনে চাইত না, তখন তাদের অনেকের প্রতি তারা মিথ্যারোপ করত এবং অনেককে হত্যা করে ফেলত' (মায়েদাহ ৫/৭০)।
إِنَّ الَّذِينَ يَكْفُرُونَ بِآيَاتِ اللهِ وَيَقْتُلُوْনَ النَّبِيِّينَ بِغَيْرِ حَقٌّ وَيَقْتُلُونَ الَّذِيْنَ يَأْمُرُونَ بِالْقِسْطِ مِنَ النَّاسِ فَبَشِّرْهُم بِعَذَابٍ أَلِيمٍ 'নিশ্চয়ই যারা আল্লাহ্ নিদর্শনাবলীকে অস্বীকার করে এবং পয়গম্বরগণকে হত্যা করে অন্যায়ভাবে, আর সেসব লোককে হত্যা করে যারা ন্যায়পরায়ণতার নির্দেশ দেয়, তাদেরকে বেদনাদায়ক শাস্তির সংবাদ দিন' (আলে ইমরান ৩/২১)। ইহুদীরা নবীগণের প্রতি এমন কর্ম ও গুণ-বৈশিষ্ট্য আরোপ করত যা তাঁদের অনুসারী সাধারণ মুমিনদের প্রতি আরোপ করাও সমীচীন নয়, নবীগণ তো দূরের কথা। তারা সুলায়মান (আঃ)-এর প্রতি জাদুবিদ্যা চর্চা, অতঃপর কুফরী এবং মূর্তি পূজার অপবাদ আরোপ করে। আল্লাহ তাদের একথা ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করতঃ তাকে সর্বৈব মিথ্যা আখ্যায়িত করে বলেন, كبرَتْ كَلِمَةً تَخْرُجُ مِنْ أَفْوَاهِهِمْ إِنْ يَقُولُونَ إِلَّا كَذِباً 'কত কঠিন কথা তাদের মুখ থেকে বের হয়। তারা যা বলে তা তাতো সবই মিথ্যা' (কাহফ ১৮/৫)।
আল্লাহ তা'আলা স্বীয় কিতাবে তাদের ধারণাসমূহ প্রত্যাখ্যান করে বলেন, '(ইহুদী-নাছারারা) ঐ সবের অনুসরণ করে থাকে, যা সুলায়মানের রাজত্বকালে শয়তানরা আবৃত্তি করত। (তাদের দাবী অনুযায়ী) সুলায়মান কুফরী করেননি, বরং শয়তানরাই কুফরী করেছিল। তারা মানুষকে জাদুবিদ্যা শিক্ষা দিত এবং বাবেল শহরে হারূত ও মারূত দুই ফেরেশতার উপরে যা নাযিল হয়েছিল, তা শিক্ষা দিত। বস্তুতঃ তারা (হারূত-মারূত) উভয়ে একথা না বলে কাউকে শিক্ষা দিত না যে, আমরা এসেছি পরীক্ষা স্বরূপ। কাজেই তুমি (জাদু শিখে) কাফির হয়ো না। কিন্তু তারা তাদের কাছ থেকে এমন জাদু শিখত, যার দ্বারা স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটে। অথচ আল্লাহ্র আদেশ ব্যতীত তদ্বারা তারা কারো ক্ষতি করতে পারত না। লোকেরা তাদের কাছে শিখত ঐসব বস্তু যা তাদের ক্ষতি করে এবং তাদের কোন উপকার করে না। তারা ভালভাবেই জানে যে, যে কেউ জাদু অবলম্বন করবে, তার জন্য আখেরাতে কোন অংশ নেই। যার বিনিময়ে তারা আত্মবিক্রয় করেছে, তা খুবই মন্দ, যদি তারা জানত। যদি তারা ঈমান আনত এবং আল্লাহভীরু হ'ত, তবে আল্লাহ্র কাছ থেকে উত্তম প্রতিদান পেত, যদি তারা জানত' (বাক্বারাহ ২/১০২-১০৩)।
তারা তাদের পরিবর্তিত তাওরাতে কোন কোন নবীর প্রতি এমনসব বিষয় আরোপ করেছে, যা তাঁদের লজ্জাকর, অমর্যাদাকর চরিত্র প্রমাণ করে। এছাড়াও বিভিন্ন রকম বিশৃংখলা-বিপর্যয় তারা সৃষ্টি করেছিল, যা তাদেরকে ন্যায়পরায়ণতা থেকে অনেক দূরে ঠেলে দিয়েছিল। যেমন তারা ধারণা করত এবং বলতো উযাইর আল্লাহ্ পুত্র (তওবা ৯/৩০)। অনুরূপভাবে নাছারাদের আক্বীদা-বিশ্বাসও ছিল পরিবর্তিত ও ভ্রান্ত। তারা ধারণা করত যে, ঈসা (আঃ) আল্লাহ্ পুত্র আল্লাহ। কুরআনে এই উভয় সম্প্রদায়ের ভ্রান্ত বিশ্বাস সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে যে, 'ইহুদীরা বলে যে, উযাইর আল্লাহ্ পুত্র এবং নাছারারা বলে মাসীহ (ঈসা) আল্লাহ্ পুত্র। এ হচ্ছে তাদের মুখের কথা। এরা পূর্ববর্তী কাফেরদের মত কথা বলে। আল্লাহ এদের ধ্বংস করুন, এরা কোন উল্টা পথে চলে যাচ্ছে। তারা তাদের পণ্ডিত ও সংসার বিরাগীদেরকে তাদের পালনকর্তারূপে গ্রহণ করেছে আল্লাহ ব্যতীত এবং মরিয়মের পুত্রকেও। অথচ তারা আদিষ্ট ছিল একমাত্র মা'বুদের ইবাদতের জন্য। তিনি ছাড়া কোন মা'বুদ নেই, তারা তাঁর শরীক সাব্যস্ত করে, তার থেকে তিনি পবিত্র' (তওবা ৯/৩০-৩১)।
ইহুদীদের যুলুম ও সীমালংঘনের কারণে তারা আল্লাহ্ শাস্তিতে নিপতিত হয়েছিল। তাদের প্রতি কঠোর বিধান আরোপিত হয়েছিল তাদের নিজেদের উপর কঠোরতা করার কারণে। যেমন বানী ইসরাঈলের জনৈক ব্যক্তি নিহত হ'লে হত্যাকারী কে তা নিরূপণ করা যাচ্ছিল না। ফলে তাদের মাঝে এ নিয়ে দ্বন্দ্ব ও বিচ্ছিন্নতা দেখা দেয়। প্রত্যেকেই সন্দেহ থেকে নিজেকে মুক্ত দাবী করে এবং অন্যের প্রতি সংশয়ের দৃষ্টি নিক্ষেপ করতে থাকে। এ সমস্যা মূসা (আঃ)-এর নিকট গেলে তিনি তাদেরকে একটি গাভী যবেহ করে তার একটা অংশ দ্বারা মৃতের গায়ে আঘাত করতে বললেন। যাতে আল্লাহ হত্যাকারীকে চিনিয়ে দিবেন। এমতাবস্থায় তাদের জন্য যরূরী ছিল নবীর নির্দেশ প্রতিপালনে যে কোন একটি গাভী যবেহ করা। কিন্তু তারা বাড়াবাড়ি করল, নবীর নির্দেশকে নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রূপ শুরু করল। তারা গাভীর গুণাগুণ সম্পর্কে একটার পর একটা প্রশ্ন করতে লাগল। এতে তারা যত কঠোরতা করেছিল, আল্লাহও তাদের প্রতি কঠিন বিধান আরোপ করলেন। অবশেষে তাদের প্রশ্নের আলোকে বর্ণিত গুণ বিশিষ্ট গাভী যবেহের নির্দেশ দেওয়া হয়। এ ঘটনা কুরআনে এভাবে বিবৃত হয়েছে, 'যখন মূসা স্বীয় কওমকে বললেন, আল্লাহ তোমাদেরকে একটা গাভী যবেহ করতে বলেছেন। তারা বলল, আপনি কি আমাদের সাথে উপহাস করছেন? তিনি বললেন, জাহিলদের অন্তর্ভুক্ত হওয়া থেকে আমি আল্লাহ্ আশ্রয় প্রার্থনা করছি। তারা বলল, তাহলে আপনি আপনার পালনকর্তার নিকটে আমাদের জন্য প্রার্থনা করুন, যেন তিনি বলে দেন, গাভীটি কেমন হবে? তিনি বললেন, আল্লাহ বলেছেন গাভীটি এমন হবে, যা না বুড়ী না বকনা বরং দু'য়ের মাঝামাঝি বয়সের হবে। এখন তোমাদের যা আদেশ করা হয়েছে, তা সেরে ফেল। তারা বলল, আপনার প্রভুর নিকটে আমাদের পক্ষ থেকে প্রার্থনা করুন যে, গাভীটির রং কেমন হবে। তিনি বললেন, আল্লাহ বলেছেন, গাভীটি হবে চকচকে গাঢ় পীত বর্ণের, যা দর্শকদের চক্ষু শীতল করবে। লোকেরা আবার বলল, আপনি আপনার প্রভুর নিকটে আমাদের পক্ষে প্রার্থনা করুন, যাতে তিনি বলে দেন যে, গাভীটি কিরূপ হবে। কেননা একই রংয়ের সাদৃশ্যপূর্ণ গাভী অনেক রয়েছে। আল্লাহ চাহে তো এবার আমরা অবশ্যই সঠিক দিশা পেয়ে যাব। তিনি বললেন, আল্লাহ বলেছেন, সে গাভীটি এমন হবে, যে কখনো ভূমি কর্ষণ বা পানি সেচনের শ্রমে অভ্যস্ত নয়, সুঠামদেহী ও খুঁৎহীন। তারা বলল, এতক্ষণে আপনি সঠিক তথ্য এনেছেন। অতঃপর তারা সেটা যবেহ করল। অথচ তারা (মনের থেকে) যবেহ করতে চাচ্ছিল না। অতঃপর আমি বললাম, যবেহকৃত গরুর গোশতের একটি টুকরা দিয়ে মৃত ব্যক্তির লাশের গায়ে আঘাত কর। এভাবে আল্লাহ মৃতকে জীবিত করেন এবং তোমাদেরকে তাঁর নিদর্শন সমূহ প্রদর্শন করেন। যাতে তোমরা চিন্তা কর। অতঃপর তোমাদের হৃদয় শক্ত হয়ে গেল। যেন তা পাথর, এমনকি তার চেয়েও শক্ত। পাথরের মধ্যে এমন আছে, যা থেকে ঝরণা প্রবাহিত হয়, এমনও আছে যা বিদীর্ণ হয়, অতঃপর তা থেকে পানি নির্গত হয় এবং এমনও আছে যা আল্লাহর ভয়ে খসে পড়তে থাকে। আল্লাহ তোমাদের কাজ-কর্ম সম্পর্কে বে-খবর নন' (বাক্বারাহ ২/৬৭-৭৪)।
ইহুদীরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের নির্দেশ প্রতিপালন না করে যুলুম করেছে, ন্যায়পরায়ণতার সীমাঅতিক্রম করেছে। এমনকি আল্লাহ ও রাসূলের অবাধ্যতা করেছে। যে কারণে শাস্তি স্বরূপ অনেক পবিত্র জিনিস তাদের জন্য হারাম ছিল, তাদের নিজেদের কঠোরতার কারণে তাদের উপর অনেক কঠিন শারঈ বিধান আরোপিত হয়েছিল। যেমন গোনাহ থেকে তওবার জন্য আত্মহত্যা, কাপড়ে লেগে যাওয়া নাজাসাত (অপবিত্রতা) থেকে পবিত্রতা লাভের জন্য ঐ অপবিত্র স্থান কেটে ফেলা। জীব-জন্তুর চর্বি, নখর বিশিষ্ট প্রত্যেক প্রাণী এবং গণীমত (যুদ্ধলব্ধ সম্পদ) তাদের জন্য হারাম ছিল। ইবাদতে কছর করা নির্দিষ্ট স্থানের সাথে সংশ্লিষ্ট ছিল।
فَبِظُلْمٍ مِّنَ الَّذِينَ هَادُوا حَرَّمْنَا عَلَيْهِمْ طَيِّبَاتٍ أُحِلَّتْ لَهُمْ وَبِصَدِّهِمْ عَنْ سَبِيلِ اللَّهِ كَثِيراً، وَأَخْذِهِمُ الرِّبَا وَقَدْ نُهُوا عَنْهُ وَأَكْلِهِمْ أَمْوَالَ النَّاسِ بِالْبَاطِلِ وَأَعْتَدْنَا لِلْكَافِرِينَ مِنْهُمْ عَذَابًا أَلِيمًا 'বস্তুতঃ ইহুদীদের জন্য আমি হারাম করে দিয়েছি বহু পুত-পবিত্র বস্তু যা তাদের জন্য হালাল ছিল, তাদের পাপের কারণে এবং আল্লাহর পথে অধিক পরিমাণে বাধা দানের দরুন। আর এ কারণে যে, তারা সুদ গ্রহণ করত, অথচ এ ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল এবং এ কারণে যে, তারা অপরের সম্পদ ভোগ করতো অন্যায়ভাবে। বস্তুতঃ আমি কাফেরদের জন্য তৈরী করে রেখেছি বেদনাদায়ক আযাব' (নিসা ৪/১৬০-৬১)।
পক্ষান্তরে মুসলমানরা তাদের নবী মুহম্মাদ (ছাঃ)-এর প্রতি ন্যায়সঙ্গত দৃষ্টি নিক্ষেপ করে। যে সম্পর্কে মহান আল্লাহ পবিত্র কুরআনে স্বীকৃতি দিয়েছেন। মুহাম্মাদ (ছাঃ)-এর প্রতি যে অহী নাযিল হয়, তা ব্যতীত দ্বীনের ব্যাপারে তিনি নিজের পক্ষ থেকে কোন কথা বলেন না। আর তাঁর পুংখানুপুংখ অনুসরণ ও তাঁর প্রতি সহমর্মী হ'তে উম্মতে মুসলিমা আদিষ্ট। আল্লাহ আরো বলেন, وَمَا مُحَمَّدٌ إِلَّا رَسُوْلٌ قَدْ خَلَتْ مِنْ قَبْلِهِ الرُّسُلُ 'আর মুহাম্মাদ একজন রাসূল বৈ তো নয়। তাঁর পূর্বেও বহু রাসূল অতিবাহিত হয়ে গেছেন' (আলে ইমরান ৩/১৪৪)। আল্লাহ বলেন, وَمَا يَنْطِقُ عَنِ الْهَوَى، إِنْ هُوَ إِلَّا وَحْيٌ يُوْحَى 'তিনি প্রবৃত্তির তাড়নায় কোন কথা বলেন না। নিশ্চয়ই এটা (কুরআন) অহী ব্যতীত নয় যা প্রত্যাদেশ করা হয়' (নাজম ৫৩/৩-৪)।
قُلْ يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنِّي رَسُولُ اللهِ إِلَيْكُمْ جَمِيعاً الَّذِي لَهُ مُلْكُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ يُحْيِي وَيُمِيتُ فَآمِنُوا بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ النَّبِيِّ الأُمِّيِّ الَّذِي يُؤْمِنُ بِاللهِ وَكَلِمَاتِهِ وَاتَّبِعُوهُ لَعَلَّكُمْ تَهْتَدُوْনَ 'বলুন, হে মানবমণ্ডলী! তোমাদের সবার প্রতি আমি আল্লাহ্র রাসূল। সমগ্র আসমান ও যমীনে তাঁর রাজত্ব। একমাত্র তাঁকে ছাড়া আর কারো উপাসনা নয়। তিনি জীবন ও মৃত্যু দান করেন। সুতরাং তোমরা সবাই বিশ্বাস স্থাপন কর আল্লাহ্র উপর, তাঁর প্রেরিত উম্মী নবীর উপর, যিনি বিশ্বাস রাখেন আল্লাহ্ উপর এবং তাঁর সমস্ত কালামের উপর। তাঁর অনুসরণ কর যাতে সরল পথপ্রাপ্ত হ'তে পারে' (আ'রাফ ৭/১৫৮)। তিনি আরো বলেন, বলুন, আল্লাহ ও রাসূলের আনুগত্য কর। বস্তুতঃ যদি তারা বিমুখতা অবলম্বন করে, তাহলে আল্লাহ কাফিরদেরকে ভালোবাসেন না' (আলে ইমরান ৩/৩২)। তিনি অন্যত্র বলেন, لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِي رَسُوْলِ اللَّهِ أَسْوَةٌ حَسَنَةٌ لِمَنْ كَانَ يَرْجُو اللَّهَ وَالْيَوْمَ الْآخِرَ وَذَكَرَ اللَّهَ كَثِيرًا 'যারা আল্লাহ ও শেষ দিবসের আশা রাখে এবং অধিক স্মরণ করে, তাদের জন্য রাসূলুল্লাহর মধ্যে উত্তম নমুনা রয়েছে' (আহযাব ৩৩/২১)।
মুসলমানদেরকে রাসূলের সাথে কথা-বার্তা ও তাঁকে সম্বোধন করার ক্ষেত্রে শালীনতা বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আল্লাহ বলেন, يَا أَيُّهَا الَّذِيْنَ آمَنُوا لَا تَرْفَعُوا أَصْوَاتَكُمْ فَوْقَ صَوْতِ النَّবিيِّ وَلَا تَجْهَرُوْর لَهُ بِالْقَوْلِ كَجَهْرِ بَعْضِكُمْ لِبَعْضٍ أَنْ تَحْبَطَ أَعْمَالُكُمْ وَأَنْتُمْ لَا تَشْعُرُونَ 'হে মুমিনগণ! তোমরা নবীর কন্ঠস্বরের উপর তোমাদের কন্ঠস্বর উঁচু করো না এবং তোমরা একে অপরের সাথে যেরূপ উঁচু স্বরে কথা বল, তাঁর সাথে সেরূপ উঁচু স্বরে কথা বলো না। এতে তোমাদের কর্ম নিষ্ফল হয়ে যাবে এবং তোমরা টেরও পাবে না' (হুজুরাত ৪৯/২)।
রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) মানুষ ছিলেন। তিনি মানবীয় ভুলের ঊর্ধ্বে ছিলেন না। যেমন অন্ধ ছাহাবী আব্দুল্লাহ ইবনু উম্মে মাকতুম দ্বীন শিক্ষার জন্য রাসূলের দরবারে এসে প্রশ্ন করেন। কিন্তু তখন তাঁর সামনে কুরাইশের সম্ভ্রান্ত লোকেরা উপবিষ্ট ছিল। যাদের ইসলাম কবুলের ব্যাপারে তিনি আশাবাদী ছিলেন। তাই আব্দুল্লাহ ইবনু উম্মে মাকতূমের প্রশ্নের উত্তর দেননি। এজন্য আল্লাহ তাঁর রাসূলকে ভর্ৎসনা করেন। তিনি বলেন, 'তিনি ভ্রুকুঞ্চিত করলেন এবং মুখ ফিরিয়ে নিলেন। কারণ তাঁর কাছে এক অন্ধ আগমন করল। আপনি কি জানেন, সে হয়তো পরিশুদ্ধ হতো। অথবা উপদেশ গ্রহণ করতো এবং উপদেশে তার উপকার হতো। পরন্তু যে বেপরোয়া, আপনি তার চিন্তায় মশগুল। সে শুদ্ধ না হ'লে আপনার কোন দোষ নেই। যে আপনার কাছে দৌড়ে আসলো, এমতাবস্থায় যে, সে ভয় করে, আপনি তাকে অবজ্ঞা করলেন। কখনও এরূপ করবেন না, এটা উপদেশ বাণী। অতএব যে ইচ্ছা করবে, সে একে গ্রহণ করবে' (আবাসা ৮০/১-১২)।
অনুরূপভাবে বদর যুদ্ধে বন্দীদের নিকট থেকে মুক্তিপণ গ্রহণ করে তাদের ছেড়ে দিলে আল্লাহ রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-কে তিরস্কার করেন। তিনি বলেন, مَا كَانَ لِنَبِيِّ أَنْ يَكُوْنَ لَهُ أَسْرَى حَتَّى يُنْخِنَ فِي الأَرْضِ تُرِيدُوْনَ عَرَضَ الدُّنْيَا وَاللَّهُ يُرِيدُ الآخِرَةَ وَاللَّهُ عَزِيزٌ حَكِيمٌ، وَلاَ كِتَابٌ مِّنَ اللهِ سَبَقَ لَمَسَّكُمْ فِيْمَا أَخَذْتُمْ عَذَابٌ عَظِيمٌ. 'ব্যাপকভাবে শত্রুকে পরাভূত না করা পর্যন্ত বন্দী রাখা কোন নবীর জন্য সংগত নয়। তোমরা পার্থিব সম্পদ কামনা কর, অথচ আল্লাহ চান আখিরাত। আর আল্লাহ হচ্ছেন পরাক্রমশালী হেকমতওয়ালা। যদি একটি বিষয় না হতো যা পূর্বে থেকেই আল্লাহ লিখে রেখেছেন, তাহ'লে তোমরা যা গ্রহণ করছ সেজন্য বিরাট আযাব এসে পৌঁছত' (আনফাল ৮/৬৭-৬৮)।
রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) কৃত ইজতেহাদ ও তার জন্য কুরআন মাজীদের তিরস্কার প্রমাণ করে যে, তিনি মানুষ ছিলেন। এ বিষয়টি আরো সুস্পষ্টরূপে প্রতিভাত হয়ে ওঠে খেজুর গাছের তাবীরের (পরাগায়নের) ঘটনায়। রাফে' ইবনু খাদীজ (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, আল্লাহ্ নবী (ছাঃ) মদীনায় আসলেন। তখন মদীনার লোকেরা খেজুর গাছে তাবীর করতো, তারা বলতো যে, তারা খেজুর গাছে পরাগায়ন করছে (পুরুষ ফুলের রেণু স্ত্রী ফুলে লাগাচ্ছে)। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বললেন, তোমরা এটা কেন কর? তারা বলল, আমরা এমনিতে করে থাকি। তিনি বললেন, যদি তোমরা এটা না করতে তাহলে ভাল হতো। ফলে তারা এ কাজ ছেড়ে দিল। এতে ফুল ঝরে গেল বা ফলন হ্রাস পেল। রাবী বলেন, তারা এ বিষয়টি রাসূলুল্লাহর নিকটে উল্লেখ করলে তিনি বললেন, إِنَّمَا أَنَا بَشَرٌ إِذَا أَمَرْتُكُمْ بِشَيْءٍ مِنْ دِينِكُمْ فَخُذُوا بِهِ وَإِذَا أَمَرْتُكُمْ بِشَيْءٍ مِنْ رَأْيِ فَإِنَّمَا أَنَا بَشَرٌ 'আমি একজন মানুষ। যখন আমি তোমাদেরকে তোমাদের দ্বীনের কোন বিষয়ে নির্দেশ দেব তখন তা গ্রহণ করবে। আর যখন আমি আমার নিজের পক্ষ থেকে কোন ব্যাপারে তোমাদেরকে নির্দেশ দেব, তাহলে অবশ্যই আমি একজন মানুষ'।
অনুরূপভাবে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) একদা চার রাক'আতের স্থলে পাঁচ রাক'আত ছালাত আদায় করেন ভুলবশতঃ। আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ) হ'তে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) আমাদের পাঁচ রাক'আত ছালাত পড়ালেন। আমরা তখন বললাম, হে আল্লাহ্র রাসূল (ছাঃ)! ছালাত কি বেশি করা হয়েছে? তিনি বললেন, সেটা কি? ছাহাবীগণ বললেন, আপনি পাঁচ রাক'আত পড়েছেন। তিনি বললেন, إِنَّمَا أَنَا بَشَرٌ مِثْلُكُمْ أَنْسَى كَمَا تَنْسَوْنَ فَإِذَا نَسِيتُ فَذَكِّرُوْنِي، وَإِذَا شَكٍّ أَحَدُكُمْ فِي صَلَاتِهِ فَلْيَتَحَرَّ الصَّوَابَ فَلْيُتِمَّ عَلَيْهِ ثُمَّ لِيُسَلِّمْ ثُمَّ يَسْجُدُ سَجْدَتَيْنِ 'আমি একজন মানুষ। তোমরা যেমন ভুলে যাও, আমিও তেমন ভুলে যাই। সুতরাং যখন আমি ভুলে যাব, তখন তোমরা আমাকে স্মরণ করিয়ে দেবে। তোমাদের কেউ যদি ছালাতের মধ্যে সন্দেহ করে তাহলে সে সঠিকের দিকে মনোযোগ দিবে এবং তার উপরে ছালাত পূর্ণ করবে। তারপর দু'টি সিজদা করবে। অতঃপর তিনি সাহু সিজদাহ করলেন'।
রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) মানুষ ছিলেন। এ বিষয়টি আরো স্পষ্ট হয় যখন তাঁর একটি নিকটে বিচার মীমাংসার জন্য আসে, তখন তিনি বলেন, 'নিশ্চয়ই আমি একজন মানুষ। আমার নিকট বিবাদ (মীমাংসার জন্য) আসে। সুতরাং তোমাদের মধ্যে কেউ কেউ এমন আছে, যে অপরের চেয়ে অধিক স্পষ্টভাষী। আমি ভাবি নিশ্চয়ই সে সত্য বলেছে। তখন আমি তার পক্ষে রায় (সিদ্ধান্ত) দেই। আর আমি যদি কোন মুসলমানের হকের ব্যাপারে তার পক্ষে রায় দেই। তাহলে জেনে রাখ সেটা জাহান্নামের টুকরা। অতএব সে এটা গ্রহণ করুক অথবা পরিত্যাগ করুক'।
আবার মানুষের ন্যায় রাযী-খুশি ও রাগ-ক্রোধ তাঁর মধ্যে ছিল। আনাস বিন মালেক (রাঃ) হ'তে বর্ণিত তিনি বলেন, আনাসের মা উম্মু সুলাইমের নিকট একজন ইয়াতীম বালিকা ছিল। রাসূলুল্লাহ ঐ ইয়াতীম বালিকাকে দেখে বললেন, তুমি কি সেই? তুমি বড় হবে কিন্তু তোমার বয়স বেশি হবে না। ইয়াতীম বালিকাটি উম্মে সুলাইমের নিকট কাঁদতে কাঁদতে গেল। উম্মু সুলাইম জিজ্ঞেস করলেন, তোমার কি হয়েছে, হে বেটি? মেয়েটি বলল, আল্লাহ্ নবী আমার জন্য বদ দো'আ করেছেন, আমার বয়স যেন বেশি না হয়। সুতরাং আমার বয়স কখনই বেশি হবে না। তখন উম্মু সুলাইম দ্রুত তার ওড়না মাটিতে টানতে টানতে বের হ'লেন এবং রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর সাক্ষাৎ পেলেন। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, হে উম্মু সুলাইম! তোমার কি হয়েছে? তিনি বললেন, হে আল্লাহ্ নবী (ছাঃ)! আমার ইয়াতীম মেয়ের জন্য বদ দো'আ করেছেন কি? রাসূল (ছাঃ) সেটা কি হে উম্মু সুলাইম? তিনি বললেন, মেয়েটি ধারণা করছে, আপনি দো'আ করেছেন যেন তার বয়স বেশি না হয় এবং পার্শ্ব দেশের চুল বড় না হয়। রাবী বলেন, তখন রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) হাসলেন এবং বললেন, তুমি জান না যে, আল্লাহ্র সাথে আমার শর্ত আছে। তিনি বলেন, আমি বললাম, إِنَّمَا أَنَا بَشَرٌ أَرْضَى كَمَا يَرْضَى الْبَشَرُ وَأَغْضَبُ كَمَا يَغْضَبُ الْبَشَرُ فَأَيُّمَا أَحَدٍ دَعَوْتُ عَلَيْهِ مِنْ أُمَّتِي بِدَعْوَةٍ لَيْسَ لَهَا بِأَهْلٍ أَنْ يَجْعَلَهَا لَهُ طَهُوْرًا وَزَكَاةً وَقُرْبَةً يُقَرِّبُهُ بِهَا مِنْهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ ،'নিশ্চয়ই আমি একজন মানুষ। মানুষের মতই আমি সন্তুষ্ট ও রুষ্ট হই। আমি কখনও উম্মতের কারো জন্য বদ দো'আ করলে, সে তার হকদার হবে না। আমি কেবল তার পবিত্রতা, নিষ্কলুষতা ও কিয়ামতের দিন আল্লাহ্র নৈকট্য কামনায় তা বলে থাকি'।
ছাহাবীগণ রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-কে নিজেদের জীবনের চেয়ে অধিক ভালবাসতেন। আব্দুল্লাহ ইবনু হিশাম হ'তে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর নিকট ছিলাম। তিনি ওমর ইবনুল খাত্তাব (রাঃ)-এর হাত ধরেছিলন। ওমর (রাঃ) তাকে বললেন, হে আল্লাহ্র রাসূল (ছাঃ)! আপনি সবকিছু থেকে আমার নিকট অধিক প্রিয়, কিন্তু আমার জীবন থেকে নয়। নবী করীম (ছাঃ) বললেন, সেই সত্তার শপথ যার হাতে আমার প্রাণ! তুমি ততক্ষণ মুমিন হ'তে পারবে না, যতক্ষণ আমি তোমার নিকটে তোমার জীবন অপেক্ষাও প্রিয় না হব। ওমর (রাঃ) তাঁকে বললেন, আল্লাহ্র কসম! এখন আপনি আমার জীবনের চেয়েও আমার নিকট অধিক প্রিয়। নবী করীম (ছাঃ) বললেন, হে ওমর! এখন তুমি মুমিন হ'তে পেরেছ'।
হিজরত কালে আবূ বকর (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর জন্য নিজের জীবনকে উৎসর্গ করতে উদ্ধত হয়েছিলেন রাসূলুল্লাহকে রক্ষা করার জন্য। 'ছাওর' গুহায় পৌঁছে তিনি রাসূলকে বললেন, আল্লাহ্র কসম! আমার পূর্বে আপনি এ গুহায় প্রবেশ করবেন না। কেননা এর মধ্যে কোন কিছু থাকলে আমাকে আক্রমণ করবে, আপনি নিরাপদ থাকবেন। অতঃপর তিনি গুহায় প্রবেশ করে ঝাড়ু দিলেন। তিনি তাতে গর্ত পেলেন। তখন তার পরিধানের লুঙ্গি ছিঁড়ে গর্তমুখ বন্ধ করলেন। কিন্তু দু'টি গর্ত বাকী রয়ে গেল। তাতে তিন পা দিয়ে রাখলেন। অতঃপর রাসূলকে বললেন, প্রবেশ করুন। রাসূল (ছাঃ) ভিতরে ঢুকে আবু বকরের ক্রোড়ে মাথা রেখে ঘুমিয়ে গেলেন। গর্ত থেকে আবু বকর (রাঃ)-এর পায়ে দংশন করল, তিনি রাসূলের ঘুম ভেঙ্গে যাওয়ার ভয়ে অনড় থাকলেন। কিন্তু এক ফোঁটা অশ্রু রাসূলের মুখে পড়লে, তিনি বললেন, হে আবু বকর! তোমার কি হয়েছে? বললেন, আমাকে দংশন করেছে, আপনার জন্য আমার পিতামাতা উৎসর্গ হোক। রাসূল (ছাঃ) দংশিত স্থানে থুথু লাগিয়ে দিলে ব্যথা চলে গেল।
ছাহবীগণ যুদ্ধের ময়দানে নিজের জীবন বিপন্ন করেও রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-কে রক্ষা করতেন। কায়স ইবনু হাযেম (রাঃ) হ'তে বর্ণিত, তিনি বলেন, ওহোদ যুদ্ধে তালহার হাতে বর্মের নিচে পরিধেয় চামড়ার পোশাক দেখেছি, যা দ্বারা তিনি রাসূল (ছাঃ)-কে রক্ষা করার চেষ্টা করেছিলেন। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হ'তে বর্ণিত তিনি বলেন, ওহোদ যুদ্ধে আবু তালহা (রাঃ) নবী করীম (ছাঃ)-এর সামনে থেকে ঢাল হিসাবে (মানববর্ম হয়ে) তাকে রক্ষা করছিলেন। আবু তালহা একজন দক্ষ তীরন্দাজ ব্যক্তি ছিলেন। এদিন তিনি দু'টি বা তিনটি ধনুক ভেঙ্গেছিলেন। তিনি (রাবী) বলেন, এক লোক তীর ভর্তি একটি থলে নিয়ে যাচ্ছিল। তখন রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বললেন, ওটা আবু তালহাকে দাও। তিনি (আনাস) বলেন, নবী করীম (ছাঃ) এদিক-ওদিক তাকিয়ে কওমের দিকে দেখছিলেন। তখন আবু তালহা বললেন, হে আল্লাহর নবী (ছাঃ)! আপনার জন্য আমার পিতা-মাতা উৎসর্গিত হোক। আপনি এদিক-ওদিক তাকাবেন না। যাতে বিরোধী পক্ষের তীরের কোন একটি আপনার শরীরে লেগে যায়। আপনার বক্ষ আমার বক্ষের আড়ালে থাকবে। আর (আনাস বলেন,) আমি আয়েশা বিনতু আবু বকর ও উম্মু সুলাইমকে দেখেছিলাম। এমন অবস্থায় যে তারা উভয়ে কাপড় গুটিয়ে নিয়েছিলেন, এমনকি আমি তাদের পায়ের মল দেখেছিলাম। তারা উভয়ে পিঠে করে পানির মশক বহন করে এনে সৈন্যদের মুখের কাছে ধরছিলেন (অর্থাৎ তারা সৈন্যদের পানি পান করাচ্ছিলেন)। অতঃপর ফিরে যাচ্ছিলেন, আবার মশক পূর্ণ করে নিয়ে এসে সৈন্যদের মুখের সামনে ধরছিলেন। আর তন্দ্রার কারণে আবু তালহার হাত থেকে দু'বার তরবারি পড়ে গিয়েছিল। যেখানে ইহুদীরা তাদের নবীদেরকে হত্যা করতো, সেখানে রাসূলের প্রতি ছাহাবায়ে কেরামের এই আকৃত্তিম ভালবাসার তুলনা কোথায়!
ছাহাবায়ে কেরাম রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর নির্দেশ অক্ষরে অক্ষরে প্রতিপালন করেছেন, তারা তাঁর প্রতি সহমর্মী ছিলেন। তাদের ঈমানী শক্তি, আমলে ছালেহের মাধ্যমে আল্লাহ্ আনুগত্য, দ্বীন, নবী কারীম (ছাঃ) এবং সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধের জন্য তাদের ত্যাগ-তিতিক্ষা তাদেরকে উত্তম জাতিতে পরিণত করেছিল, যাদেরকে মানুষের কল্যাণের জন্য আবির্ভাব ঘটানো হয়েছিল। আর তারা আল্লাহ্ সন্তোষ ও রেযামন্দির হকদার হয়েছিলেন। যেমন আল্লাহ বলেন, كُنتُمْ خَيْرَ أُمَّةِ أُخْرِجَتْ لِلنَّاسِ تَأْمُرُوْنَ بِالْمَعْرُوْفِ وَتَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنْكَرِ وَتُؤْمِنُوْنَ بِاللَّهِ 'তোমরাই উত্তম জাতি। মানবতার কল্যাণে তোমাদের আবির্ভাব ঘটানো হয়েছে। তোমরা মানুষকে সৎ কাজের আদেশ কর, অসৎ কাজ থেকে বাধা প্রদান কর এবং আল্লাহ্ প্রতি বিশ্বাস স্থাপন কর' (আলে ইমরান ৩/১১০)। তিনি আরো বলেন, إِنَّ الَّذِيْنَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ أُوْلَئِكَ هُمْ خَيْرُ الْبَرِيَّةِ ، جَزَاؤُهُمْ عِنْدَ رَبِّهِمْ جَنَّاتُ عَدْنٍ تَجْرِي مِنْ تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا أَبَداً رَّضِيَ اللهُ عَنْهُمْ وَرَضُوا عَنْهُ ذَلِكَ لِمَنْ خَشِيَ - رَبَّهُ 'যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম সম্পাদন করে, তারাই সৃষ্টির সেরা। তাদের পালনকর্তার কাছে রয়েছে তাদের প্রতিদান চিরকাল বসবাসের জান্নাত, যার তলদেশে নির্ঝরিণী প্রবাহিত। তারা সেখানে থাকবে অনন্তকাল। আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট এবং তারা আল্লাহ্র প্রতি সন্তুষ্ট। এটা তার জন্য যে, তার পালনকর্তাকে ভয় করে' (বাইয়েনাহ ৯৮/৭-৮)। তিনি আরো বলেন, 'আল্লাহ মুমিনদের প্রতি সন্তুষ্ট হ'লেন, যখন তারা বৃক্ষের নিচে আপনার কাছে শপথ করল। আল্লাহ অবগত ছিলেন যা তাদের অন্তরে ছিল। অতঃপর তিনি তাদের প্রতি প্রশান্তি নাযিল করলেন এবং তাদেরকে আসন্ন বিজয় পুরস্কার দিলেন' (ফাতহ ৪৮/১৮)।
ইহুদী-নাছারারা একদিকে নবী-রাসূলগণকে স্বয়ং আল্লাহ জ্ঞান করত, আবার তাঁদের নির্দেশ অমান্য করত, তাঁদের অবাধ্যতা করত এমনকি তাঁদেরকে হত্যা পর্যন্ত করত। পক্ষান্তরে উম্মতে মুহাম্মাদী তাদের নবীকে একজন মানুষ ও আল্লাহর বান্দা হিসাবে বিশ্বাস করে, তাঁর আনীত বিধানকে যথাযথভাবে মান্য করে এবং রাসূলকে অকৃত্রিমভাবে ভালবাসে, যা এ আলোচনায় সুস্পষ্ট হয়েছে। এজন্য এ জাতিকে মধ্যপন্থী উম্মত বলা হয়েছে।
টিকাঃ
৭২. ওয়াসাতিয়াতুল ইসলাম, পৃঃ ১০৩।
৭৩. মুসলিম হা/২৩৬২।
৭৪. বুখারী, হা/৩৮৬ 'ছালাত' অধ্যায়, 'কিবলার দিকে মুখকরণ' অনুচ্ছেদ; মুসলিম, হা/৮৯২।
৭৫. বুখারী হা/২২৭৮।
৭৬. মুসলিম হা/২৬০৩।
৭৭. বুখারী হা/৬১৪২।
৭৮. ছফিউর রহমান মুবারকপুরী, আর-রাহীকুল মাখতুম, পৃঃ ১৬৪।
৭৯. বুখারী হা/৩৭৫৬।
৮০. মুসলিম হা/১৮১১।
📄 ইসলামে সহজপন্থা
ইসলামী শরী'আত সর্বব্যাপী, যাতে জীবনের সকল দিক ও বিভাগের সার্বিক বিধান অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এতে কোন কিছু বাদ পড়েনি। এটা এমন কোন জীবন বিধান নয় যে, এতে একদিককে বাদ দিয়ে অন্যদিককে অধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বরং এতে সকল দিক ও বিভাগকে সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কেননা এই শরী'আত অনুযায়ী জীবন পরিচালনাই ইবাদত। যার জন্য আল্লাহ মানুষকে সৃষ্টি করেছেন (যারিয়াত ৫১/৫৬)। এ ইবাদত সুসম্পন্ন হবে আল্লাহ্র নির্দেশ প্রতিপালন ও নিষিদ্ধ বিষয় বর্জনের মাধ্যমে। আর ইসলামী শরী'আতের সব বিধানই সহজ, এতে কোন জটিলতার লেশ মাত্র নেই। পবিত্র কুরআনের বহু আয়াতে এবং অনেক হাদীছে ইসলামের এই সহজতা ও জটিলতা দূরীকরণের বিষয়টি বিবৃত হয়েছে।
১. مَا يُرِيدُ اللَّهُ لِيَجْعَلَ عَلَيْكُم مِّنْ حَرَجٍ وَلَكِنْ يُرِيدُ لِيُطَهَّرَكُمْ وَلِيتِمَّ نِعْمَتَهُ عَلَيْكُمْ لَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ 'আল্লাহ তোমাদেরকে অসুবিধায় ফেলতে চান না; কিন্তু তোমাদেরকে পবিত্র রাখতে চান এবং তোমাদের প্রতি স্বীয় নে'মত পূর্ণ করতে চান, যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর' (মায়েদাহ ৫/৬)।
২. আল্লাহ অন্যত্র বলেন, وَجَاهِدُوا فِي اللَّهِ حَقَّ جِهَادِهِ هُوَ اجْتَبَاكُمْ وَمَا جَعَلَ عَلَيْكُمْ فِي الدِّيْنِ مِنْ حَرَجِ 'তোমরা আল্লাহ্র রাস্তায় যথার্থ জিহাদ কর, যেভাবে জিহাদ করা উচিত। তিনি তোমাদেরকে পসন্দ করেছেন এবং দ্বীনের ব্যাপারে তোমাদের উপর কোন জটিলতা রাখেননি' (হজ্জ ২২/৭৮)।
৩. তিনি অন্যত্র বলেন, يُرِيدُ اللَّهُ أَنْ يُخَفِّفَ عَنْكُمْ وَخُلِقَ الإِنْسَانُ ضَعِيفاً 'আল্লাহ তোমাদের বোঝা হালকা করতে চান। মানুষ সৃষ্টি করা হয়েছে দুর্বলরূপে' (নিসা ৪/২৮)।
৪. তিনি আরো বলেন, يُرِيدُ اللَّهُ بِكُمُ الْيُسْرَ وَلَا يُرِيدُ بِكُمُ الْعُسْرَ 'আল্লাহ তোমাদের জন্য সহজ করতে চান, তোমাদের জন্য জটিল কামনা করেন না' (বাক্বারাহ ২/১৮৫)।
হাদীছে এসেছে,
১. আবু হুরায়রা (রাঃ) হ'তে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, 'নিশ্চয়ই দ্বীন সহজ। যে ব্যক্তি তাকে কঠোর করতে যাবে, তা তার পক্ষে কঠোর হয়ে পড়বে। সুতরাং তোমরা সৎকর্ম কর ও মধ্যপন্থা অবলম্বন কর। সুসংবাদ দিবে এবং সকাল-সন্ধ্যায় ও শেষ রাত্রে ইবাদত দ্বারা আল্লাহ্র সাহায্য কামনা করবে'।
২. ইবনু আবু বুরদা বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) আমার দাদা আবূ মূসা ও মু'আযকে ইয়ামানে প্রেরণ করলেন। তখন তিনি বললেন, 'মানুষের সাথে সহজ কর, কঠোরতা আরোপ কর না। তাদের সুসংবাদ শুনাও, তাড়িয়ে দিও না। একমত হবে মতভেদ করবে না'।
৩. আবু মূসা (রাঃ) হ'তে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) তাঁর কোন এক ছাহাবীকে ইয়ামানে প্রেরণ করলেন কোন দায়িত্ব দিয়ে। তখন তিনি বললেন, 'মানুষকে সুসংবাদ শুনাও তাড়িয়ে দিও না, তাদের সাথে সহজ কর, কঠোরতা আরোপ কর না'।
৪. আনাস (রাঃ) হ'তে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, 'মানুষের সাথে সহজ কর, কঠোরতা আরোপ কর না। তাদের আশ্রয় দাও, তাড়িয়ে দিও না'।
৫. তিনি আরো বলেন, إِنَّمَا بُعِعْتُمْ مُيَسِّرِينَ وَلَمْ تُبْعَثُوا مُعَسِّرِينَ 'সহজতার জন্য তোমরা প্রেরিত হয়েছ, কঠোরতার জন্য প্রেরিত হওনি'।
শরী'আতের বিধান আরোপিত ব্যক্তিদের উপর থেকে দু'টি কারণে জটিলতা দূর করা হয়েছে। ১. বান্দা যখন ইসলামের কোন বিধানের মধ্যে কঠোরতা, জটিলতা দেখবে, তখন সে ঐ বিধান পরিত্যাগ করতে উদ্যত হবে কিংবা অপসন্দ ও বিরক্তি-বিতৃষ্ণা সহকারে ঐ বিধান প্রতিপালন করবে। ফলে তার ছওয়াব বিনষ্ট হবে। কখনও সে শারীরিক, মানসিক, আর্থিক ও পারিপার্শ্বিক সমস্যার সম্মুখীন হ'তে পারে। সেজন্য অবস্থা ও পরিবেশের প্রতি লক্ষ্য রেখে ইসলামের বিধান থেকে জটিলতা ও কঠোরতা দূর করা হয়েছে। ২. বিধান প্রতিপালনে অত্যধিক কষ্ট হ'লে তা আদায় করতে ব্যর্থতা ও অক্ষমতার আশংকা থাকে।
ইসলামী শরী'আতের এই সহজকরণকে ৭টি ভাগে বিভক্ত করা যায়। ১. রহিতকরণের মাধ্যমে হালকাকরণ বা সহজকরণ। যেমন ওযরবশতঃ জুম'আর ছালাত, হজ্জ, ওমরা, জিহাদ মাফ হওয়া। ২. হ্রাসকরণের মাধ্যমে হালকা বা সহজ করা। যেমন- ছালাত কছর করা। ৩. বদলকরণের মাধ্যমে হালকাকরণ। যেমন- ওযু, গোসলের পরিবর্তে তায়াম্মুম করা। দাঁড়িয়ে ছালাত আদায়ের পরিবর্তে অক্ষমতার ক্ষেত্রে বসে, শুয়ে বা ইশারায় ছালাত আদায় করা। ৪. অগ্রিম পালনের সুযোগ দানের মাধ্যমে হালকাকরণ। যেমন- ছালাত (অগ্রিম) জমা করা, বছরপূর্ণ হওয়ার পূর্বে যাকাত প্রদান, রামাযানে ছাদাকাতুল ফিতর আদায় এবং শপথ ভঙ্গের কাফফারা (অগ্রিম) প্রদান। ৫. বিলম্বিতকরণের মাধ্যমে সহজকরণ। যেমন ছালাত (বিলম্বে) জমা করা, রোগী ও মুসাফিরের জন্য পরে ছিয়াম পালন প্রভৃতি। ৬. অবকাশ দানের মাধ্যমে হালকাকরণ। যেমন- পানি না থাকলে ঢেলা ব্যবহারকারীর জন্য ছালাত সম্পাদন, গলায় খাদ্য আটকে যাওয়া ব্যক্তির মদপান (পানি না পেলে), চিকিৎসার জন্য অপবিত্র জিনিস ভক্ষণ ইত্যাদি। ৭. পরিবর্তনের মাধ্যমে হালকাকরণ। যেমন- ভীতিকর অবস্থায় (যুদ্ধের ময়দানে) ছালাতের পদ্ধতি পরিবর্তন।
প্রয়োজন ও অসুবিধার প্রতি লক্ষ্য রেখে মানুষের প্রতি আল্লাহ ইসলামের বিধান হালকা বা সহজ করেছেন। এ ব্যাপারে কুরআন-হাদীছে অনেক দলীল রয়েছে। যার কতিপয় এখানে উপস্থাপন করা হ'ল।-
(ক) দুর্বল, অসুস্থ ও অক্ষমদের উপর জিহাদ ওয়াজিব নয়। যেমন আল্লাহ বলেন, 'দুর্বল, রুগ্ন, ব্যয়ভার বহনে অসমর্থ লোকদের জন্য কোন অপরাধ নেই, যখন তারা মনের দিক থেকে পবিত্র হবে আল্লাহ ও রাসূলের সাথে... এবং তুমি বলেছ, আমার কাছে এমন কোন বস্তু নেই যে, তার উপর তোমাদের সওয়ার করাব তখন তারা ফিরে গেছে, অথচ তখন তাদের চোখ দিয়ে অশ্রু বইতেছিল এ দুঃখে যে, তারা এমন কোন বস্তু পাচ্ছে না যা ব্যয় করবে' (তওবা ৯/৯১-৯২)।
মানুষের এখতিয়ার বহির্ভুত কোন জটিলতা ও অসুবিধার কারণে কোন কাজ করলে সেজন্য তাকে ধরা হবে না। সুতরাং অপসন্দনীয়, বাধ্যগত অবস্থায় অথবা ভুল-ত্রুটির মাধ্যমে সংঘটিত কাজের জন্য শাস্তি হবে না। আল্লাহ বলেন, لَا يُكَلِّفُ اللَّهُ نَفْساً إِلَّا وُسْعَهَا 'আল্লাহ্ কাউকে তার সাধ্যতীত কোন কাজের ভার দেন না, সে তাই পায় যা সে উপার্জন করে এবং তাই তার উপর বর্তায় যা সে করে' (বাক্বারাহ ২/২৮৬)।
অনুরূপভাবে কেউ যদি বাধ্য হয়ে অপসন্দনীয় অবস্থায় কুফরী বাক্য উচ্চারণ করে, তাহলে কুফরী বড় পাপ হওয়া সত্ত্বেও তাকে হারাম সম্পাদনকারী সাব্যস্ত করা হবে না। যেমন আল্লাহ বলেন, 'যার উপর জবরদস্তী করা হয় এবং তার অন্তর বিশ্বাসে অটল থাকে সে ব্যতীত যে কেউ বিশ্বাসী হওয়ার পর আল্লাহতে অবিশ্বাসী হয় এবং কুফরীর জন্য মন উন্মুক্ত করে দেয় তাদের উপর আপতিত হবে আল্লাহ্ গযব এবং তাদের জন্য রয়েছে শাস্তি' (নাহল ১৬/১০৬)।
সন্দেহ-সংশয় অথবা অন্তরের গোপন কথা ও কল্পনায় মানুষকে শাস্তি দেয়া হবে না, যদি সেটা বাস্তবায়িত না হয়। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, 'আল্লাহ তাঁর উম্মতের অন্তরের কুমন্ত্রণা ও কল্পনাকে ক্ষমা করে দিয়েছেন, যতক্ষণ না তা কাজে পরিণত করে কিংবা উচ্চারণ করে'। শয়তানের কুমন্ত্রণা বান্দার ঈমানের প্রমাণ। অর্থাৎ শয়তান যখন কোন বান্দাকে বিপথগামী করতে অক্ষম হয়, তখন সে কুমন্ত্রণা দানের আশ্রয় নেয়। আবু হুরায়রা (রাঃ) হ'তে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর ছাহাবীদের মধ্যে কতিপয় ছাহাবী রাসূলের নিকটে এসে জিজ্ঞেস করল, আমাদের কেউ অন্তরে এমন কিছু কল্পনা করি যা বলা বা প্রকাশ করাকে বড় গোনাহের ব্যাপার মনে করি। তিনি বললেন, তোমরা কি অন্তরে এরূপ পাও (অনুভব কর)? তারা বললেন, হ্যাঁ। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বললেন, এটাই সুস্পষ্ট ঈমান'।
(খ) সহজকরণ ও জটিলতা দূরীকরণের আরেকটি দিক হচ্ছে যে, যদি কেউ তার ওযূর ব্যাপারে সন্দেহ করে যে, তার ওযূ আছে না ছুটে গেছে। তাহলে বায়ু নির্গত হওয়ার ব্যাপারে দৃঢ় বিশ্বাস না হওয়া পর্যন্ত সে পবিত্র অবস্থায় বিদ্যমান থাকবে। জনৈক ছাহাবী রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর নিকটে এসে বলল, 'ছালাতের মধ্যে কোন ব্যক্তির ধারণা হয় যে, তার পায়ু পথে কোন কিছু বের হয়েছে। রাসূল (ছাঃ) বললেন, সে যতক্ষণ শব্দ না শুনবে বা গন্ধ না পাবে ততক্ষণ ছালাত ছাড়বে না'। আবার কেউ যদি ছালাতের রাক'আত সংখ্যায় সন্দেহে পতিত হয়, তাহলে সে সংখ্যা নির্ধারণ পূর্বক ছালাত শেষ করে দু'টি সাহু সিজদা করবে। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, 'তোমাদের কেউ যখন ছালাতের মধ্যে সন্দেহে পতিত হয় যে, সে তিন রাক'আত না চার রাক'আত পড়েছে। তাহলে সে সন্দেহ দূর করবে এবং দৃঢ় বিশ্বাস অনুযায়ী যে কোন সংখ্যার উপর ভিত্তি করে বাকী ছালাত পূর্ণ করবে। অতঃপর সালাম ফিরানোর পূর্বে দু'টি সিজদা করবে'।
(গ) সহজকরণ ও জটিলতা দূরীকরণের আরেকটি দিক হচ্ছে, একাধিক স্ত্রীর মধ্যে সমতার বিষয়। এটা ঐ ক্ষেত্রে ওয়াজিব নয় যাতে মানুষের কোন ক্ষমতা নেই। যেমন আন্তরিক টান-আকর্ষণ ও ভালবাসা, যাতে মানুষের কোন এখতিয়ার নেই। আয়েশা (রাঃ) হ'তে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) স্ত্রীদের মধ্যে বণ্টন করতেন ও ন্যায় বিচার বা ইনছাফ করতেন। আয়েশা (রাঃ) বলেন, 'হে ভগ্নীপুত্র! রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) আমাদের নিকটে অবস্থানের ব্যাপারে একজনকে অপরজনের উপরে বেশী সুযোগ বা প্রাধান্য দিতেন না। এমন দিন খুব কমই যেত (অর্থাৎ প্রায় দিনই) তিনি আমাদের সকলের নিকট আসতেন, আমাদের নিকটবর্তী হ'তেন কিন্তু স্পর্শ করতেন না (সহবাস করতেন না)। অবশেষে যাঁর নিকটে রাত্রি যাপনের পালা থাকতো, তিনি তাঁর নিকটে রাত্রি যাপন করতেন... আয়েশা (রাঃ) বলেন, আমরা বলতাম, এ প্রসঙ্গে এবং এ ধরনের অন্যান্য ব্যাপারকে উদ্দেশ্য করে মহান আল্লাহ নাযিল করেছেন, 'যদি কোন নারী তার স্বামীর তরফ থেকে নিষ্ঠুরতা কিংবা উপেক্ষিত হবার আশংকা করে ...' (নিসা ৪/১২৮)।
ঈমানের জন্য যে, আন্তরিক আকর্ষণ ও টান বা ঝোক প্রবণতা আবশ্যিক গণ্য করা হয় সেটা ওয়াজিব। যেমন আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ভালবাসা। আর এটাকে জীবনের চেয়েও প্রাধান্য দিতে হবে। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, 'তোমাদের কেউ ততক্ষণ মুমিন হ'তে পারবে না, যতক্ষণ আমি তার নিকটে তার পিতা-মাতা, সন্তান-সন্ততি ও সকল মানুষ অপেক্ষা প্রিয়তর না হব'।
শরী'আতের কোন কর্মের সাথে কষ্টকর বিষয় ইচ্ছাকৃতভাবে সংযুক্ত করা কোন মানুষের জন্য বৈধ নয়। এজন্য রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) ছাওমে বেছাল (লাগাতার সিয়াম) ও সন্ন্যাসব্রত নিষেধ করেছেন। আবু হুরায়রা (রাঃ) হ'তে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) ছাওমে বেছাল নিষেধ করেছেন। জনৈক মুসলিম ব্যক্তি বললেন, নিশ্চয়ই আপনি লাগাতার সিয়াম পালন করেন হে আল্লাহ্র রাসূল (ছাঃ)! তিনি বললেন, তোমাদের কে আমার মত? আমি রাত্রে ঘুমাই আমার প্রভু আমাকে খাওয়ান ও পান করান'।
(ঘ) সহজকরণ ও জটিলতা দূরীকরণের আরেকটি দিক হচ্ছে প্রত্যেক পাপীর জন্য তওবার সুযোগ রয়েছে, অপরাধ ও পাপ যত বড়ই হোক না কেন। তওবাকারীর আন্তরিক শান্তি ও নিশ্চিন্ততা কার্যকর করার জন্য এবং অপরাধের চিন্তা থেকে মুক্ত করতে তওবার এই ব্যবস্থা। মহান আল্লাহ বলেন, قُلْ يَا عِبَادِيَ الَّذِيْنَ أَسْرَفُوا عَلَى أَنْفُسِهِمْ لَا تَقْنَطُوا مِن رَّحْمَةِ اللَّهِ إِنَّ اللَّهَ يَغْفِرُ الذُّنُوبَ جَمِيعًا إِنَّهُ هُوَ الْغَفُوْরُ الرَّحِيمُ 'বলুন, হে আমার বান্দাগণ! যারা নিজেদের উপর যুলুম করেছ তোমরা আল্লাহ্র রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ সমস্ত গোনাহ মাফ করেন। তিনি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু' (যুমার ৩৯/৫৩)।
রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, বানী ইসরাঈলের এক লোক ৯৯ জনকে হত্যা করে অতঃপর পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ আলিমের খোঁজ করে। তাকে একজন দরবেশের খোঁজ দেয়া হলো। সে তার কাছে গিয়ে বলল, যে সে ৯৯ জন লোককে হত্যা করেছে, তার জন্য এখন তওবার কোন সুযোগ আছে কি? দরবেশ বলল, নেই। দরবেশকে হত্যা করে লোকটি একশত সংখ্যা পূর্ণ করল। অতঃপর সে পুনরায় একজন আলেমের অনুসন্ধান করায় তাকে এক আলেমের খোঁজ দেয়া হলো। তার কাছে গিয়ে সে বলল যে, সে একশত লোককে হত্যা করেছে, এখন তার জন্য তওবার কোন সুযোগ আছে কি? আলিম বললেন হ্যাঁ, তওবার সুযোগ আছে। আর তওবার বাধা কি হ'তে পারে? তুমি অমুক স্থানে চলে যাও। সেখানে কিছু সংখ্যক লোক আল্লাহ্র ইবাদত করছে। তাদের সাথে তুমিও ইবাদত কর। আর তোমার দেশে ফিরে যেও না। কারণ ওটা মন্দ এলাকা... ফলে তারা উত্তম লোকদের জমির দিকে লোকটিকে আধ হাত অধিক কাছাকাছি দেখতে পেল। তাই তাকে ক্ষমা করে দেয়া হলো।
(ঙ) সহজকরণ ও সমস্যা দূরীকরণের অন্যতম হচ্ছে, আল্লাহ তা'আলা উম্মতে মুহাম্মাদীর জন্য কিছু বিধান হালকা বা রহিত করেছেন, যা পূর্ববর্তী উম্মতের জন্য ওয়াজিব বা হারাম ছিল। এসব বিধানে ছিল অশেষ কষ্ট ও বহু সমস্যা। তাদের অবাধ্যতা ও যুলুমের কারণে সেসব তাদের প্রতি আরোপিত হয়েছিল। ইহুদীদের সীমালংঘন ও যুলুমের কারণে তাদের উপর যা হারাম ছিল তার বর্ণনায় আল্লাহ বলেন, 'ইহুদীদের জন্য আমি প্রত্যেক নখ বিশিষ্ট জন্তু হারাম করেছিলাম এবং গরু ও ছাগল থেকে এতদুভয়ের চর্বি আমি তাদের জন্য হারাম করেছিলাম, কিন্তু ঐ চর্বি, যা পৃষ্ঠে কিংবা অন্ত্রে সংযুক্ত থাকে অথবা অস্থির সাথে মিলিত থাকে' (আন'আম ৬/১৪৬)।
সহজতা ও জটিলতা দূরীকরণের উদাহরণ হচ্ছে মহিলাদের দীর্ঘ ঝুলন্ত কাপড়ে রাস্তা থেকে লেগে যাওয়া অপবিত্রতার ক্ষেত্রে তাদেরকে অবকাশ দেওয়া হয়েছে। অপবিত্র জিনিস কাপড়ে লেগে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও কাপড় ঝুলিয়ে পরা তাদের জন্য বৈধ। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, 'যে ব্যক্তি অহংকার বশতঃ কাপড় ঝুলিয়ে পরবে কিয়ামতের দিন আল্লাহ তার দিকে তাকাবেন না। উম্মু সালমা বলেন, তাহলে মহিলারা তাদের আঁচল কি করবে? রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বললেন, তারা অর্ধহাত ঝুলিয়ে দেবে। উম্মু সালমা বলেন, তাহলে তাদের পায়ের গোঁড়ালী বেরিয়ে পড়বে। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বললেন, তাহলে তারা এক হাত ঝুলিয়ে দেবে। এর চেয়ে বেশি করবে না'। অনুরূপভাবে শিশুকে দুধ দানকারিণী মহিলার জন্য বাচ্চার বমি ও লালা না ধুয়ে ঐ কাপড়ে ছালাত আদায় করা বৈধ।
(চ) সহজকরণ ও সমস্যা দূরীকরণের আরেকটি দিক হচ্ছে, মানুষের জন্য সকল উপকারী জিনিসকে বৈধ করা হয়েছে। আল্লাহ বলেন, هُوَ الَّذِي خَلَقَ لَكُم مَّا فِي الأَرْضِ جَمِيعاً ‘তিনিই সে সত্তা যিনি সৃষ্টি করেছেন তোমাদের জন্য যা কিছু যমীনে রয়েছে সে সমস্ত’ (বাক্বারাহ ২/২৯)।
(ছ) ইসলামী শরী'আতের সহজকরণ ও জটিলতা নিরসনের আরেকটি দিক হচ্ছে, বিধান প্রবর্তনের ক্ষেত্রে ধারাক্রম বা পর্যায়ক্রমিকতা অবলম্বন করা। যা অধিকাংশ ক্ষেত্রে হয়েছে। যেমন মদ হারাম হওয়ার ক্ষেত্রে এই ক্রমধারা বিদ্যমান। এমর্মে 'তারা তোমাকে মদ ও জুয়া সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে। বলে দাও, এতদুভয়ের মধ্যে রয়েছে মহাপাপ। আর মানুষের জন্য উপকারিতাও রয়েছে, তবে এগুলোর পাপ উপকারিতা অপেক্ষা অনেক বড়' (বাক্বারাহ ২/২১৯)। এ আয়াতে জ্ঞানীদের জন্য মদ পরিত্যাগের পরোক্ষ ইঙ্গিত রয়েছে। অতঃপর নির্দেশ আসল, 'হে ঈমানদারগণ! তোমরা যখন নেশাগ্রস্ত থাক, তখন ছালাতের ধারে-কাছে যেও না, যতক্ষণ না বুঝতে সক্ষম হও, যা কিছু তোমরা বলছ' (নিসা ৪/৪৩)। এরপরেই আসে মদ্যপানের চূড়ান্ত নিষেধাজ্ঞা। আল্লাহ বলেন, 'হে মুমিনগণ! মদ, জুয়া, মৃতিপূজার বেদী এবং ভাগ্য নির্ণায়ক শর সমূহ এসব শয়তানের অপবিত্র কার্য বৈ তো নয়। অতএব এগুলো থেকে বেঁচে থাক, যাতে তোমরা কল্যাণপ্রাপ্ত হও' (মায়েদা ৫/৯০-৯১)।
আয়েশা (রাঃ) বলেন, 'প্রথম দিকে বড় সূরা নাযিল হয়েছে যেসবে জান্নাত- জাহান্নামের বিবরণ উপস্থাপন করা হয়েছে, যাতে মানুষ ইসলামের দিকে ফিরে আসে। তারপর হারাম-হালালের বিধান নাযিল হয়েছে। যদি প্রথমেই নাযিল হ'ত যে, তোমরা মদ পান কর না, তাহলে তারা অবশ্যই বলত আমরা মদ কখানোই ছাড়বো না'। কিন্তু আল্লাহ বিধানকে সহজ করে দিয়েছেন এবং জটিলতাকে দূর করেছেন।
পরিশেষে বলা যায় যে, সহজকরণ ও জটিলতা দূরীকরণের মূলকথা হচ্ছে, ইসলামী শরী'আতে সকল প্রকার বাড়াবাড়ি ও সীমালংঘনকে পরিহার করে ন্যায় সঙ্গত বিধান প্রবর্তন করা। সুতরাং এতে হ্রাস-বৃদ্ধির কোন সুযোগ নেই। এ বিধান মানবতার কল্যাণে প্রবর্তিত।
টিকাঃ
৮১. বুখারী, মিশকাত, হা/১২৪৬; বঙ্গানুবাদ মিশকাত হা/১১৭৭।
৮২. মুত্তাফাক্ব 'আলাইহ, মিশকাত, হা/৩৭২৪।
৮৩. মুত্তাফাক্ব 'আলাইহ, মিশকাত, হা/৩৭২২।
৮৪. মুত্তাফাক্ব 'আলাইহ, মিশকাত, হা/৩৭২৩।
৮৫. তিরমিযী, হা/১৩৭, হাদীছ ছহীহ।
৮৬. বুখারী হা/৬১৭১; মুসলিম 'ঈমান' অধ্যায়।
৮৭. মুসলিম, হা/১৩২; মিশকাত হা/৬৮।
৮৮. বুখারী হা/১৩৪।
৮৯. মুসলিম হা/৮৮৮।
৯০. আবুদাউদ হা/২১৩৫, সনদ হাসান ছহীহ।
৯১. বুখারী হা/১৪।
৯২. বুখারী হা/১৮২৯।
৯৩. বুখারী হা/৫০৬৩; মিশকাত, হা/১৪৫, 'ঈমান' অধ্যায়।
৯৪. বুখারী, হা/ ৪৪৩৬।
৯৫. মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/২৩২৭।
৯৬. বুখারী, হা/৩৪৭০; মুসলিম, হা/২৭৬৬।
৯৭. তিরমিযী হা/১৭৩১, সনদ ছহীহ।
৯৮. মুসলিম হা/১৩৩৭।
৯৯. বুখারী হা/৬৭৪৫।
১০০. বুখারী, তিরমিযী, নাসাঈ, আবু দাউদ হা/৩১৮৫।
১০১. ওয়াসাতিয়াতুল ইসলাম, পৃঃ ১৪৫-৪৬।
📄 মুসলিম উম্মাহর শ্রেষ্ঠত্ব
মুসলিম মিল্লাত অন্যান্য উম্মতের মধ্যে মধ্যপন্থী ও শ্রেষ্ঠ জাতি। কতিপয় গুণ ও বৈশিষ্ট্যের মাধ্যমে মুসলিম উম্মাহ এই শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছে। যেমন আল্লাহ বলেন, كُنتُمْ خَيْرَ أُمَّةٍ أُخْرِجَتْ لِلنَّاسِ تَأْمُرُوْনَ بِالْمَعْرُوْفِ وَتَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنْكَرِ وَتُؤْمِنُوْনَ بِاللَّهِ 'তোমরাই উত্তম জাতি, মানবতার কল্যাণের জন্যই তোমাদের আবির্ভাব ঘটানো হয়েছে। তোমরা মানুষকে সৎ কাজের আদেশ কর, অসৎ কাজ থেকে বাঁধা প্রদান কর এবং আল্লাহ্র প্রতি বিশ্বাস স্থাপন কর' (আলে-ইমরান ১১০)। কেবল এই তিনটি গুণের কারণেই যে এ সম্প্রদায় শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করেছে তা নয়; বরং আরো অনেক গুণ বা বিশেষণ রয়েছে, যার দ্বারা এ জাতি শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করেছে। তন্মধ্যে উক্ত তিনটি গুণ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
আমরা এখানে উম্মতে মুসলিমার শ্রেষ্ঠত্বের কতিপয় দিক উল্লেখ করব।
১. আল্লাহর উপর ঈমান আনয়ন: এ জাতির ঈমান আম বা ব্যাপক। কারণ তারা পৃথিবীতে আল্লাহ প্রেরিত সকল নবী-রাসূল এবং পূর্ববর্তী অন্যান্য জাতির প্রতি অবতীর্ণ সমস্ত গ্রন্থের উপর ঈমান বা বিশ্বাস স্থাপন করে। আল্লাহ বলেন, آمَنَ الرَّسُولُ بِمَا أُنْزِلَ إِلَيْهِ مِنْ رَّبِّهِ وَالْمُؤْمِنُوْনَ كُلُّ آمَنَ بِاللَّهِ وَمَلَائِكَتِهِ وَكُتُبِهِ وَرُسُلِهِ لاَ نُفَرِّقُ بَيْنَ أَحَدٍ مِّنْ رُّسُلِهِ 'রাসূল বিশ্বাস রাখেন ঐ সমস্ত বিষয় সম্পর্কে যা তাঁর পালনকর্তার পক্ষ থেকে তাঁর কাছে অবতীর্ণ হয়েছে এবং মুসলমানরাও। সবাই বিশ্বাস রাখে আল্লাহ্ প্রতি, তাঁর ফেরেশতাদের প্রতি, তাঁর গ্রন্থ সমূহের প্রতি এবং তাঁর পয়গম্বরগণের প্রতি' (বাক্বারাহ ২৮৫)।
২. এ জাতি সৎ কাজের নির্দেশ দেয় এবং অসৎ কাজ থেকে বাধা প্রদান করে: এ উম্মতের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হচ্ছে তারা মানুষকে সৎ কাজের আদেশ দেয় ও অসৎ কাজে বাধা দেয়। আল্লাহ এ জাতিকে সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজে বাধা প্রদানের নির্দেশ দিয়েছেন এবং এজন্য একটি দল গঠন করারও নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, 'আর তোমাদের মধ্যে এমন একটা দল থাকা উচিত যারা আহ্বান জানাবে সৎ কাজের প্রতি, নির্দেশ দেবে ভাল কাজের এবং বারণ করবে অন্যায় কাজ থেকে, আর তারাই হলো সফলকাম' (আলে ইমরান ১০৪)।
৩. উম্মতে মুহাম্মদী অন্যান্য উম্মত অপেক্ষা মানুষের জন্য মঙ্গলকামী ও উপকারী: এ উম্মত মানুষকে এমন বিষয়ের দিকে আহ্বান জানায় যাতে তাদের উপকারিতা ও পরিত্রাণ রয়েছে। তারা এ পথে তাদের জান-মাল কুরবানী করে এজন্য যে, আল্লাহ তাদের উপর ওয়াজিব করেছেন সৃষ্টিকে নাজাতের পথ বাতলে দিতে। যেমন রাবী' ইবনু আমির পারস্য সেনাপতি রুস্তমের জিজ্ঞাসার জবাবে বলেন, আল্লাহ আমাদের প্রেরণ করেছেন যেন আমরা লোকদেরকে মানুষের উপাসনা থেকে আল্লাহ্ ইবাদতের দিকে, দুনিয়ার সংকীর্ণতা থেকে প্রশস্ততার দিকে এবং অত্যাচারী দ্বীন থেকে ইসলামের ইনছাফের দিকে বের করে আনি।
৪. নবীদের আহ্বানে অধিক সাড়া দানকারী: এ উম্মতের সংখ্যা অধিক হবে এ মর্মে ছহীহ হাদীছ বর্ণিত হয়েছে। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, 'আমিই জান্নাতের ব্যাপারে প্রথম সুফারিশকারী হব। এত অধিক সংখ্যক লোক আমাকে বিশ্বাস করেছে যে, অন্য কোন নবীকেই এত অধিক সংখ্যক লোক বিশ্বাস করেনি'। অন্যত্র তিনি বলেন, 'কিয়ামতের দিন নবীদের মধ্যে অনুসারীর সংখ্যা সর্বাধিক হবে'।
৫. এ উম্মত গোমরাহী বা ভ্রষ্টতার উপর সমবেত হবে না: রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, إِنَّ اللَّهَ قَدْ أَجَارَ أُمَّتِي مِنْ أَنْ تَجْتَمِعَ عَلَى ضَلَالَةِ 'আল্লাহ তা'আলা আমার উম্মতকে গোমরাহীর উপর সমবেত হওয়া থেকে রক্ষা করেছেন'। তাদের মধ্যে অন্ততঃ একটি দল সঠিক দ্বীনের উপরে প্রতিষ্ঠিত থাকবে। বিরোধীরা তাদের কোন ক্ষতি করতে পারবে না, এমতাবস্থায় কিয়ামত সংগঠিত হবে।
৬. এ উম্মতের কিতাব সমস্ত আসমানী গ্রন্থের চেয়ে শ্রেষ্ঠ: উম্মতে মুহাম্মাদীর নিকটে নাযিলকৃত ইলাহী গ্রন্থ অন্যান্য সকল আসমানী গ্রন্থ অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ। কুরআন একমাত্র আসমানী কিতাব যার হেফাযত এবং হ্রাস-বৃদ্ধি, পরিবর্তন-পরিবর্ধন থেকে রক্ষার দায়িত্ব আল্লাহ গ্রহণ করেছেন। আল্লাহ বলেন, إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ وَإِنَّا لَهُ لَحَافِظُوْনَ 'আমি স্বয়ং এ উপদেশ গ্রন্থ অবতীর্ণ করেছি এবং নিজেই এর সংরক্ষক' (হিজর ১৫/৯)।
৭. এ উম্মতের নবী ও রাসূল হচ্ছেন অন্যান্য নবী-রাসূলগণের চেয়ে শ্রেষ্ঠ: মুহাম্মাদ (ছাঃ) তাঁদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ এ মর্মেও কোন মতপার্থক্য নেই। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) সমগ্র সৃষ্টির মধ্যে শ্রেষ্ঠ এবং তিনি মানব জাতির নেতা-সরদার। তাঁর রিসালাত ব্যাপক যা সমগ্র মানব জাতিকে অন্তর্ভুক্ত করেছে। তিনি বলেন, 'আমাকে পাঁচটি জিনিস প্রদান করা হয়েছে, যা আমার পূর্বে কাউকে দেওয়া হয়নি... প্রত্যেক নবীকে স্বীয় কওমের প্রতি পাঠানো হয়েছে। আর আমি প্রেরিত হয়েছি সমস্ত মানুষের প্রতি'।
৮. ক্বিয়ামতের দিন হাশরে এবং হিসাবের ক্ষেত্রে এ উম্মত অগ্রগামী হবে: উম্মতে মুহাম্মাদীর শ্রেষ্ঠত্বের আরেকটি দিক হলো এ জাতি সর্বশেষ হওয়া সত্ত্বেও অন্যান্য উম্মত অপেক্ষা সর্বাগ্রে হাশরের ময়দানে সমবেত হবে এবং তাদের হিসাব হবে সবার আগে। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, 'আমরা সর্বশেষ জাতি, কিন্তু আমাদের হিসাব হবে সর্বাগ্রে'।
৯. এ উম্মত অধিক জান্নাতবাসী হবে: এ উম্মত অন্যান্য উম্মত অপেক্ষা রাসূলের দাওয়াতে সর্বাধিক সাড়া দানকারী, এজন্য তারা জান্নাতেও অধিক সংখ্যায় প্রবেশ করবে। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) ছাহাবাগণকে উদ্দেশ্য করে বলেন, 'আমি আশা করছি যে, তোমরাই জান্নাতের অর্ধেক অধিবাসী হবে'।
সুতরাং মধ্যপন্থী জাতি ও উম্মত হিসাবে আল্লাহ আমাদেরকে তাঁর পসন্দনীয় আমল করার তাওফীক দিন-আমীন!
টিকাঃ
১০২. মুসলিম, 'ঈমান' অধ্যায়, 'ঈমান ও ইসলামের বর্ণনা' অনুচ্ছেদ; মিশকাত, মুকাদ্দামা, হা/১।
১০৩. বুখারী, 'জুম'আ' অধ্যায়, 'জুম'আর ফরয' অনুচ্ছেদ, হা/৮৭৬।
১০৪. ইবনু মাজাহ, 'যুহদ' অধ্যায়, 'উম্মতে মুহাম্মাদীর গুণাবলী' অনুচ্ছেদ, হা/৪২৮৭, হাদীছ ছহীহ।
১০৫. ইবনু মাজাহ, ঐ, হা/৪২৮৭, হাদীছ ছহীহ।
১০৬. মুসলিম, 'ঈমান' অধ্যায়, 'অন্যায় কাজে বাধাদান' অনুচ্ছেদ, হা/৪৯।
১০৭. মুসলিম শরহে নববী সহ, 'ঈমান' অধ্যায়, 'সৎকাজের নির্দেশ ওয়াজিব' অনুচ্ছেদ, ২য় খণ্ড, পৃঃ ২২-২৩।
১০৮. তাফসীরে তাবারী, ৭ম খণ্ড, পৃঃ ১০২।
১০৯. তাফসীরে তাবারী, ৭ম খণ্ড, পৃঃ ১০৫।
১১০. তারীখুল উমাম ওয়াল মুলুক ৩/৫২০; আল-বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ ৭/৪০।
১১১. তাফসীর তাবারী ৭/১০৩।
১১২. মুসলিম, 'ঈমান' অধ্যায় হা/১৯৬।
১১৩. মুসলিম, 'ঈমান' অধ্যায় হা/১৯৬।
১১৪. মুত্তাফাক্ব আলাইহ, বঙ্গানুবাদ মিশকাত হা/৫৫০০।
১১৫. বুখারী, 'চিকিৎসা' অধ্যায় হা/৫৭০৫।
১১৬. সিলসিলা ছহীহাহ হা/১৩৩১, ৩য় খণ্ড, পৃঃ ৩১৯-২০, হাদীছ হাসান।
১১৭. বুখারী, 'সুন্নাত আঁকড়ে ধরা' অধ্যায়, হা/৭৩১১; ইবনু মাজাহ মুকাদ্দামাহ, হা/১০।
১১৮. তদেব।
১১৯. তাফসীরুল কুরআনিল আযীম, ৭/৮৪ পৃঃ।
১২০. আবুল হাসান নদভী, কিতাবুন নবুওয়াত ওয়াল আম্বিয়া, পৃঃ ২১৩।
১২১. তাফসীর তাবারী ১০/৩৭৭-৭৮।
১২২. তাফসীর ইবনু কাছীর ৫/৮৫।
১২৩. মুসলিম, ‘ঈমান’ অধ্যায়, হা/১৯৪।
১২৪. মুসলিম, ‘মর্যাদা’ অধ্যায়, হা/২২৭৮।
১২৫. ইবনু মাজাহ, ‘যুহদ’ অধ্যায়, ‘শাফা‘আত’ অনুচ্ছেদ, হা/৪৩0৮, হাদীছ ছহীহ।
১২৬. ফাতহুল বারী, ৬/৪৪৪।
১২৭. বুখারী, ‘তাফসীর’ অধ্যায় وأن يونس لمن المرسلين অনুচ্ছেদ হা/৩৩৯৫।
১২৮. ফাতহুল বারী, ৬/৪৪৬।
১২৯. বুখারী 'তায়াম্মুম' অধ্যায় হা/৩৩৫; মিশকাত হা/৫৭৪৭ 'ফাযায়েল' অধ্যায়।
১৩০. মুসলিম হা/৫২৩, মিশকাত হা/৫৭৪৮।
১৩১. তাফসীর ইবনে কাছীর ২/২৮৬।
১৩২. বুখারী, 'মানাসিক' অধ্যায়, 'শেষ নবীর বর্ণনা' অনুচ্ছেদ, হা/৩৫৩৫।
১৩৩. তাফসীর ইবনে কাছীর ২/৭৮।
১৩৪. বুখারী, 'জুম'আহ' অধ্যায়, 'জুম'আ করা' অনুচ্ছেদ, হা/৮৭৬।
১৩৫. মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/১৩৫৪।
১৩৬. ফতহুল বারী ২/৩৫৪।
১৩৭. মুসলিম, 'জুম'আ' অধ্যায়, হা/৮৫৫।
১৩৮. মুসলিম হা/১৯৭, মিশকাত হা/৫৭৪৩।
১৩৯. বুখারী, 'রিক্বাক্ব' অধ্যায়, 'হাশর কিভাবে হবে' অনুচ্ছেদ, হা/৬৫২৮।