📘 মৃত্যুর পরে অনন্ত জীবন > 📄 আগুনের বৃষ্টিতে বেঁধে রাখার মাধ্যমে শাস্তি

📄 আগুনের বৃষ্টিতে বেঁধে রাখার মাধ্যমে শাস্তি


মাসআলা-৩২০: কোনো কোনো মুজরিমদেরকে জাহান্নামে লম্বা লম্বা খুঁটির সাথে বেঁধে রেখে শাস্তি দেয়া হবে:
وَمَا أَدْرَاكَ مَا الْحُطَمَةُ نَارُ اللَّهِ الْمُوقَدَةُ الَّتِي تَطَّلِعُ عَلَى الْأَفْئِدَةِ إِنَّهَا عَلَيْهِم مُؤْصَدَةٌ فِي عَمَدٍ مُمَدَّدَةِ
অর্থ: "হুতামা কি তাকি তুমি জান? এটা আল্লাহর প্রজ্জ্বলিত অগ্নি, যা হৃদয়কে গ্রাস করবে, নিশ্চয়ই তা তাদেরকে পরিবেষ্টন করে রাখবে, দীর্ঘায়িত স্তম্ভসমূহে।” (সূরা হুমাযাহ: ৫-৯)

মাসআলা-৩২১: কোনো কোনো মুজরিমদেরকে খুব মজবুতভাবে বেঁধে রাখা হবে:
فَيَوْمَئِذٍ لا يُعَذِّبُ عَذَابَهُ أَحَدٌ وَلَا يُوْثِقُ وَثَاقَهُ أَحَدٌ
অর্থ: "সেদিন তাঁর শাস্তির মত শাস্তি কেউ দিতে পারবে না এবং তাঁর বন্ধনের মত বন্ধনও কেউ দিতে পারবে না।" (সূরা ফাজর: ২৫-২৬)

📘 মৃত্যুর পরে অনন্ত জীবন > 📄 জাহান্নামে লোহার হাতুড়ি ও গুর্জের আঘাতের মাধ্যমে শাস্তি

📄 জাহান্নামে লোহার হাতুড়ি ও গুর্জের আঘাতের মাধ্যমে শাস্তি


জাহান্নামে কাফির ও মুশরিকদেরকে গুর্জ ও লোহার হাতুড়ি দিয়ে আঘাতের মাধ্যমে শাস্তি দেয়া হবে। কুরআন ও হাদীস উভয়েই এর প্রমাণ রয়েছে: আল্লাহর বাণী: وَلَهُمْ مَّقَامِعُ مِنْ حَدِيدٍ অর্থ: "আর তাদের জন্য থাকবে লৌহ গুর্জসমূহ।” (সূরা হাজ্জ: ২১)
হাদীসে নবী এরশাদ করেন; কাফিরদেরকে মারার গুর্জের ওজন এত বেশি হবে যে, যদি একটি গুর্জ পৃথিবীর কোথাও রাখা হয়, আর পৃথিবীর সমস্ত জ্বিন ও ইনসান তা উঠানোর জন্য চেষ্টা করে, তাহলে তারা তা উঠাতে পারবে না। (মোসনাদ, আবু ইয়ালা)
জাহান্নামের পূর্বে কবরেও কাফিরদেরকে গুর্জ ও হাতুড়ি দিয়ে মারা হবে। কবরের আযাবের বিস্তারিত বর্ণনা দিতে গিয়ে রাসূল বলেন: মুনকার ও নাকীরের প্রশ্ন উত্তরে নিষ্ফল হওয়ার পর কাফিরদের জন্য অন্ধ ও বধির ফেরেশতা নিয়োগ করা হবে, তাদের নিকট লোহার গুর্জ থাকবে, আর তা এত ভারী হবে যে, যদি কোনো পাহাড়ের ওপর তা দিয়ে আঘাত করা হয়, তাহলে পাহাড় অণু অণু হয়ে যাবে। ঐ গুর্জ দিয়ে অন্ধ ও বধির ফেরেশতা তাকে মারতে থাকবে আর সে চিল্লাতে থাকবে।
নবী বলেন: কাফেরের চিল্লানোর আওয়াজ পূর্ব ও পশ্চিমের মাঝে মানুষ ও জ্বিন ব্যতীত সমস্ত সৃষ্টি জীব শুনে। ফেরেশতার আঘাতে কাফির মাটির ন্যায় অণু অণু হয়ে যাবে, তখন সেখানে আবার রূহ ফেরত দেয়া হবে। (মোসনাদ আবু ইয়ালা)
কিয়ামত পর্যন্ত বারংবার এ অবস্থা চলতে থাকবে।
জাহান্নামের শাস্তি কবরের শাস্তির চেয়ে কয়েকগুণ বেশি কঠিন ও বেদনা দায়ক হবে। কবরে হাতুড়ি ও গুর্জ দিয়ে আঘাতকারী ফেরেশতা যদি অন্ধ ও বধির হয় তাহলে জাহান্নামের ফেরেশতা সম্পর্কে স্বয়ং আল্লাহ বলেন:
عَلَيْهَا مَلَائِكَةٌ غِلاظٌ شِدَادٌ
অর্থ: "তাতে নিয়োজিত আছে নির্মম হৃদয় ও কঠোর স্বভাব বিশিষ্ট ফেরেশতা।" (সূরা তাহরীম: ৬)
ইকরিমা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: জাহান্নামীদের প্রথম গ্রুপ যখন সেখানে যাবে তখন দেখবে, যে দরজার সামনে চার লক্ষ ফেরেশতা তাদেরকে শাস্তি দেয়ার জন্য অপেক্ষা করছে। যাদের চেহারা হবে অত্যন্ত ভয়ানক ও খুবই কাল। আল্লাহ তাদের অন্তর থেকে দয়া-মায়া বের করে নিয়েছেন, ফলে তারা হবে অত্যন্ত নির্দয়। এ ফেরেশতাদের দ্বিতীয় বৈশিষ্ট্য হবে এই যে,
لَا يَعْصُونَ اللَّهَ مَا أَمَرَهُمْ وَيَفْعَلُونَ مَا يُؤْمَرُونَ
অর্থ: "ঐ ফেরেশতারা কখনো আল্লাহর নির্দেশ অমান্য করে না, আর তাদেরকে যে নির্দেশ দেয়া হয় তারা তাই করে।" (সূরা তাহরীম: ৬) অর্থাৎ: আল্লাহ ফেরেশতাদেরকে যেমন আযাব দিতে নির্দেশ দিয়েছেন তারা সাথে সাথে তেমন আযাবই দিতে শুরু করবে। এক পলকের জন্যও চিন্তা বা বন্ধ করবে না। এ ফেরেশতারা কাফিরদেরকে এত কঠিন কঠিন পদ্ধতিতে শাস্তি দিতে থাকবে যে, বড় বড় পাহাড়পিণ্ডের কলিজা চালনির ন্যায় ছিদ্র হয়ে যাবে। (ইবনে কাসীর)
এ হলো কাফিরদের পরিণতি ও তাদের কুফরীর শাস্তি। মূলত কাফির আল্লাহর নিকট পৃথিবীর সর্বাধিক পরিত্যক্ত ও লাঞ্ছিত সৃষ্টি। পৃথিবীতে ঈমানের সম্পদের চেয়ে মূল্যবান আর কোনো সম্পদ নেই, হায়! যদি মুসলমানরা পৃথিবীতে এ সম্পদকে যথাযথ মূল্যায়ন করতে পারতো! কাফিররা তো নিঃসন্দেহে কিয়ামতের দিন (জাহান্নামের) শাস্তি দেখে এ কামনা করবে যে,
لَوْ أَنَّهُمْ كَانُوا مُهْتَدُونَ
অর্থ: "হায়! তারা যদি সৎপথ অনুসরণ করতো।" (সূরা কাসাস: ৬৮) মাসআলা-৩২: লোহার ভারি ভারি হাতুড়ি ও গর্জের আঘাতের মাধ্যমে মুজরিমদের মাথা দলিত করা হবে:
وَلَهُمْ مَّقَامِعُ مِنْ حَدِيدٍ كُلَّمَا أَرَادُوا أَنْ يَخْرُجُوا مِنْهَا مِنْ غَمٍّ أُعِيدُوا فِيْهَا وَذُوقُوا عَذَابَ الْحَرِيقِ
অর্থ: "আর তাদের জন্য থাকবে লৌহ গর্জসমূহ। যখনই তারা যন্ত্রণা কাতর হয়ে জাহান্নাম থেকে বের হতে চাইবে, তখনই তাদেরকে ফিরিয়ে দেয়া হবে। তাদেরকে বলা হবে আযাবুন কর দহন যন্ত্রণা।" (সূরা হাজ্জ: ২১-২২)

মাসআলা-৩২৩: জাহান্নামে কাফিরকে আঘাত করার জন্য যে গুর্জ ব্যবহার করা হবে তার ওজন এত ভারি হবে যে, পৃথিবীর সমস্ত জ্বিন ও ইনসান মিলে তা উঠাতে চাইলে উঠানো সম্ভব হবে না
عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «لَوْ أَنَّ مِقْمَعًا مِنْ حَدِيدٍ وُضِعَ فِي الْأَرْضِ وَاجْتَمَعَ عَلَيْهِ الثَّقَلَانِ مَا أَقَلُوهُ مِنَ الْأَرْضِ».
অর্থ: "আবু সাঈদ খুদরী (রা) নবী থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: জাহান্নামে কাফিরকে মারার জন্য ব্যবহৃত গুর্জের একটি পৃথিবীতে রাখা হলে, সমস্ত জ্বিন ও ইনসান মিলে তাকে উঠানোর চেষ্টা করলে তা উঠাতে পারবে না।" (আবু ইয়ালা ২/১৩৮৮)

টিকাঃ
১৪৬ মুসনাদ আবু ইয়ালা লিল আসারি, ২য় খ. হাদীস নং-১৩৪৮।

📘 মৃত্যুর পরে অনন্ত জীবন > 📄 জাহান্নামে সাপ ও বিচ্ছুর ছোবলের মাধ্যমে আযাব

📄 জাহান্নামে সাপ ও বিচ্ছুর ছোবলের মাধ্যমে আযাব


জাহান্নামে বিষাক্ত সাপ ও বিচ্ছুর ছোবলের মাধ্যমেও শাস্তি হবে। সাপ ও বিচ্ছুর উভয়কেই মানুষের দুশমন মনে করা হয়, আর এ উভয়ের নামের মাঝেই এত ভয় ও আতংক রয়েছে যে, যদি কোনো স্থান সাপ ও বিচ্ছুর অবস্থান সম্পর্কে মানুষ অবগত থাকে, তাহলে সেখানে মানুষের বসবাসের কথাতো অনেক দূরে, বরং কোনো ব্যক্তি ঐ দিক দিয়ে রাস্তা অতিক্রমের ঝুঁকিও নিতে রাজি হবে না। কোনো কোনো সাপের আকৃতি, প্রকৃতি, রং, লম্বা, নড়াচড়া, স্বাভাবিকতা এমন থাকে যে, তা দেখা মাত্রই মানুষ সংজ্ঞাহীন হয়ে যায়। সাপ বা বিচ্ছু সর্বাধিক কতটা বিষাক্ত হতে পারে? তার সঠিক জ্ঞান একমাত্র আল্লাহ ব্যতীত আর কেউ জানে না, কিন্তু অভিজ্ঞতার আলোকে এবং বিভিন্ন পুস্তকে বর্ণিত ব্যাখ্যার আলোকে, এ সিদ্ধান্ত নেয়া দুষ্কর নয় যে, সাপ অত্যন্ত ভয়ানক ও মানুষের জানের শত্রু। দক্ষিণ পূর্ব ফ্রান্সে বিদ্যমান একটি বিষাক্ত সাপ সম্পর্কে কিছু কিছু সংবাদ সূত্রে বলা হয়েছে, সেখানকার এক একটি সাপ দেড় মিঃ লম্বা। আর এক একটি সাপের বিষ দিয়ে এক সাথে পাঁচজন লোককে নিহত করা সম্ভব।
১৯৯৯ইং, কিং সউদ ইউনিভার্সিটি রিয়াদ, সউদী আরবে ছাত্রদের জন্য একটি শিক্ষামূলক অনুষ্ঠান করা হয়েছিল। যেখানে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের অত্যন্ত বিষাক্ত সাপের প্রদর্শনীও করা হয়েছিল। যা কাঁচের বক্সে বন্দী করে রাখা হয়েছিল। এর মধ্যে কোনো কোনোটি সম্পর্কে নিম্নোক্ত তথ্য দেয়া হয়েছিল।
আরাবিয়ান কোবরা (Arabian Cobra) যা আরব দেশসমূহে পাওয়া যায় তা এত বিষাক্ত যে, তার বিষের মাত্রা বিশ মি. গ্রাম। ৭০ কি. গ্রাম ওজনের মানুষকে সাথে সাথে ধ্বংস করতে পারে। আর এ কোবরা তার মুখ থেকে এক সাথে ২০০ থেকে- ৩০০ মি. গ্রাম বিষ দুশমনের ওপর নিক্ষেপ করে।
'কানগ কোবরা' যা ইণ্ডিয়া ও পাকিস্তানে পাওয়া যায়, এদের ছোবলগ্রস্ত লোকও সাথে সাথেই মারা যায়। প্রাচ্যের দেশসমূহে বিদ্যমান সাপসমূহ (West Diamond Back Snack) অত্যন্ত বিষাক্ত সাপের অন্তর্ভুক্ত বলে মনে করা হয়।
ইন্দোনেশিয়ার থুথু নিক্ষেপকারী বিষাক্ত সাপ (Indonesian Spitting Cobra) ২ মি. লম্বা হয়ে থাকে যা ৩মি. দূরে থেকে মানুষের চোখে পিচকারীর ন্যায় বিষ নিক্ষেপ করে থাকে, যার ফলে মানুষ সাথে সাথেই মৃত্যুবরণ করে।
জাহান্নামের পূর্বে কবরেও কাফিরদেরকে সাপের ছোবলের মাধ্যমে আযাব দেয়া হবে। তাই কবরের আযাবের বর্ণনা দিতে গিয়ে রাসূল বলেন: যে কাফির যখন মুনকার নাকীরের প্রশ্নের উত্তরে নিষ্ফল হবে, তখন তার জন্য নিরানব্বইটি সাপ নির্ধারণ করা হবে। যা কিয়ামত পর্যন্ত তাকে ছোবল মারতে থাকবে। কবরের সাপ সম্পর্কে রাসূল বলেন: যদি ঐ সাপ একবার পৃথিবীতে নিঃশ্বাস ফেলে, তাহলে পৃথিবীতে কখনো আর কোনো ঘাস উৎপাদিত হবে না। (মোসনাদ আহমদ)
কবরের সাপ সম্পর্কে ইবনে হিব্বানের বর্ণনায়ও এসেছে যে, এক একটি অজগরের সত্তরটি করে মুখ হবে। যার মাধ্যমে তারা কিয়ামত পর্যন্ত কাফিরদেরকে ছোবল মারতে থাকবে।
জাহান্নামের সাপ সম্পর্কে রাসূল বলেন: সাপের কাঁধ উটের সমান হবে। আর তার একবার ছোবল মারার ফলে চল্লিশ বছর পর্যন্ত কাফির তার ব্যাথ্যা অনুভব করবে। (মোসনাদ আহমদ)
নিঃসন্দেহে কবরে ও জাহান্নামে দংশনকারী সাপসমূহ পৃথিবীর সাপের তুলনায় বহুগুণ বেশি বিষাক্ত, ভয়ানক ও আতংক সৃষ্টিকারী হবে। পৃথিবীর কোনো সাধারণ সাপের দংশনে মানুষের যে অবস্থা হয়, তা হলো প্রথমত সে বে-হুশ হয়ে যায়।
দ্বিতীয়ত: দংশনকৃত অংশটি পক্ষাঘাত গ্রস্ত হয়ে যায়।
তৃতীয়ত: মুখ, কান, এমন কি চোখ দিয়েও রক্ত ঝরতে থাকে। শুধু একবার দংশনের ফলেই এ অবস্থা হয়। তাহলে চিন্তা করা যেতে পারে যে, যে মানুষকে পৃথিবীর সাপের তুলনায় হাজারগুণ বেশি বিষাক্ত সাপ বার বার দংশন করতে থাকবে সে তখন কি পরিমাণ বেদনাদায়ক শাস্তিতে নিমজ্জিত থাকবে। (আল্লাহ আমাদেরকে তা থেকে রক্ষা করুন)
বিচ্ছুর দংশনের প্রতিক্রিয়া সাপের দংশনের প্রতিক্রিয়ার চেয়ে অধিক বেশি হবে। বিচ্ছুর দংশনের ফলে মানুষের সাথে সাথে নিম্নোক্ত অবস্থা হয়।
প্রথমত: শরীর ফুলে উঠে।
দ্বিতীয়ত: শ্বাস নেয়া কষ্টকর হয়ে যায়। দম বন্ধ হয়ে আসে।
জাহান্নামের বিচ্ছুর কথা বর্ণনা করতে গিয়ে রাসূল বলেন: তা খচ্চরের সমান হবে, আর তার একবার ছোবলের ফলে কাফির চল্লিশ বছর পর্যন্ত ব্যাথা অনুভব করতে থাকবে। (মোসনাদ আহমদ)
এর অর্থ হলো এই যে, বিচ্ছুর বারবার দংশনের ফলে জাহান্নামী বারবার ফুলে উঠবে এবং দম বন্ধ হয়ে আসার অবস্থাও বার বার বৃদ্ধি পেতে থাকবে। এ হবে ঐ কঠিন শাস্তির একটি ধরন মাত্র যা কাফিরকে দেয়া হবে। কাফির কি জাহান্নামে ঐ সাপ ও বিচ্ছুসমূহকে মেরে ফেলবে? কোথাও পালিয়ে যাবে, না কোনো আশ্রয়স্থল পাবে? আল্লাহ কতইনা সত্য বলেছেন:
رُبَمَا يَوَدُّ الَّذِينَ كَفَرُوا لَوْ كَانُوا مُسْلِمِينَ
অর্থ: "কখনো কখনো কাফিররা আকাঙ্ক্ষা করবে যে, তারা যদি মুসলিম হত।" (সূরা হিজর : ২)
কিন্তু হে ঈমানদাররা! জাহান্নাম ও তার আযাবের প্রতি ঈমান আনয়নকারী! তোমরাতো আল্লাহর আযাবকে ভয় করো এবং আল্লাহ ও তার রাসূলের নাফরমানী করা থেকে বিরত থাক। আল্লাহর আযাব সম্পর্কে জেনে এবং মেনেও যদি তাঁর নাফরমানী করা হয়, তাহলে তো তা তাঁর আযাব আরো বেশি কঠিন করবে।
فَهَلْ أَنْتُمْ مُّنتَهُونَ
অর্থ: "তোমরা কি তা থেকে বিরত থাকবে"? (সূরা মায়িদা: ৯১)

মাসআলা-৩২৪: জাহান্নামের সাপ উটের সমান হবে যার একবারের ছোবলের প্রতিক্রিয়া ৪০ বছর পর্যন্ত থাকবে:
মাসআলা-৩২৫: জাহান্নামের বিচ্ছু খচ্চরের সমান সে যার একবারের ছোবলের প্রতিক্রিয়া ৪০ বছর পর্যন্ত থাকবে:
عَنْ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ الْحَارِثِ بْنِ جَزْءٍ ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : «إِنَّ فِي النَّارِ حَيَّاتٍ كَأَمْثَالِ أَعْنَاقِ الْبُخْتِ، تَلْسَعُ إِحْدَاهُنَّ التَّسْعَةَ فَيَجِدُ حَمْوَتَهَا أَرْبَعِينَ خَرِيفًا.
অর্থ: "আবদুল্লাহ বিন হারেস বিন জায (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন রাসূলুল্লাহ বলেছেন: জাহান্নামে সাপ বোখতী উটের (এক প্রকার উটের নাম) ন্যায় হবে, এর মধ্যে একটি সাপের ছোবলের প্রতিক্রিয়া জাহান্নামী চল্লিশ বছর পর্যন্ত অনুভব করতে থাকবে। জাহান্নামের বিচ্ছু খচ্চরের সমান হবে, এর মধ্যে একটি বিচ্ছুর ছোবলের প্রতিক্রিয়া জাহান্নামী চল্লিশ বছর পর্যন্ত অনুভব করবে।" (আহমদ ২৯/১৭৭১২)

মাসআলা-৩২৬: জাহান্নামে অত্যন্ত বিষাক্ত সাপ থাকবে যা যাকাত আদায় করেনি এমন ব্যক্তির গলায় মালা আকারে পরিয়ে দেয়া হবে:
নোট: ১৬৬ নং মাসআলার হাদীস দ্রষ্টব্য।

মাসআলা-৩২৭: জাহান্নামীদের আযাব বৃদ্ধি করার জন্য জাহান্নামের বিচ্ছুর দাঁত লম্বা খেজুরের ন্যায় করে দেয়া হবে:
عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ مَسْعُودٍ هُ فِي قَوْلِ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ زِدْنَاهُمْ عَذَابًا فَوْقَ الْعَذَابِ، قَالَ: «زِيدُوا عَقَارِبَ أَنْيَا بُهَا كَالنَّخْلِ الطَّوَالِ»
অর্থ: "আবদুল্লাহ বিন মাসউদ (রা) আল্লাহর বাণী: "আমি তাদেরকে শাস্তির ওপর শাস্তি বৃদ্ধি করবো।” (সূরা নাহল: ৮৮)
এর তাফসীর বলেন: (জাহান্নামীদের আযাব বৃদ্ধি করার জন্য) বিচ্ছুর দাঁত লম্বা খেজুরের ন্যায় করা হবে। (তাবরানী)

টিকাঃ
১৪৭ উর্দু নিইজ, জিদ্দা, ১৭ আগস্ট, ১৯৯৯ইং
১৪৮ মিশকাতুল মাসাবিহ, কিতাবুল ফিতান। বাব সিফাতুন্নার ওয়া আহলুহা। আল ফাসলুসসালেস।
১৪৯ মাযমাউয্যাওয়ায়েদ খ. ১০, কিতাব সিফাতুন্নার, বাব যিয়াদাতু আহলিন্নারি মিনাল আযাব।

📘 মৃত্যুর পরে অনন্ত জীবন > 📄 স্বাস্থ্য বৃদ্ধিকরণের মাধ্যমে আযাব

📄 স্বাস্থ্য বৃদ্ধিকরণের মাধ্যমে আযাব


বর্তমান শরীর নিয়ে যেহেতু জাহান্নামের আযাব সহ্য করা অসম্ভব তাই জাহান্নামীদের শরীর অধিক পরিমাণে বড় করা হবে, যা নিজেই একটি শাস্তি হয়ে যাবে। রাসূল বলেন: “জাহান্নামে কাফিরের একটি দাঁত উহুদ পাহাড় সম হবে।” (মুসলিম)
কোনো কোনো কাফিরের চামড়া তিন দিনের রাস্তার দূরত্বের ন্যায় মোটা হবে। (মুসলিম)
কোনো কোনোটি ৪২ হাত (৬৩ ফিট) মোটা হবে। (তিরমিযী) এ পার্থক্য কাফিরের আমলের পার্থক্যের কারণে হবে।
কোনো কোনো কাফিরের দু'কাঁধের মাঝের দূরত্ব হবে দ্রুত গতি সম্পন্ন কোনো অশ্বের তিনদিন পথ চলার দূরত্বের সমান। (মুসলিম)
কোনো কোনো কাফিরের শুধু কান ও কাঁধের মাঝের দূরত্ব হবে ৭০ বছর চলার দূরত্ব। কোনো কোনো কাফেরের বসার স্থান মক্কা ও মদীনার দূরত্বের সমান হবে। (৪১০ কি. মি) (তিরমিযী)
কোনো কোনো কাফিরের শরীর এত বড় হবে যে তা জাহান্নামের একটি কোণে পরিণত হবে। (ইবনে মাজা)
কোনো কোনো কাফিরের বাহু ও রান পাহাড় সম হবে। (আহমদ) এ প্রথিবীতে আল্লাহ কোনো পার্থক্যহীন ভাবে সমস্ত মানুষকে অত্যন্ত সুন্দর আকৃতি ও মানানসই শরীর দান করেছেন। যদি ঐ মানানসই শরীরের কোনো একটি অঙ্গ বে-মানান হয়, তাহলে মানুষের আকৃতি অত্যন্ত কুৎসিত ও হাস্যকর হয়ে যায়। চিন্তা করুন ৫ বা ৬ ফিট শরীরের সাথে ১০ ফিট লম্বা বাহু যদি সংযুক্ত হয় বা কপালের ওপর ১ ফিট লম্বা নাক সংযোগ করা হলে, মানুষের আকৃতি কি পরিমাণ কুৎসিত হতে পারে। বরং তা হবে অত্যন্ত ভয়ানক। সম্ভবত জাহান্নামে কাফিরের শরীরকে, এ বে-মানান আকৃতিতে বৃদ্ধি করে, অত্যধিক ভীতিকর ও আতংকময় করা হবে। (আল্লাহই এ ব্যাপারে ভাল জানেন)
মানব শরীরে কষ্টের দিক থেকে তার চামড়া সর্বাধিক অনুভূতি পরায়ণ। আর একারণেই কাফিরকে জাহান্নামে অধিক শাস্তি দেয়ার লক্ষ্যে, জলন্ত চামড়াকে পরিবর্তনের কথা কুরআনে বার বার বিশেষভাবে এসেছে। (এ ব্যাপারে সূরা নিসা : আয়াত ৪ দ্রষ্টব্য)
চামড়াকে যখন টানা হয়, তখন কেমন ব্যাথা হয়। তার অনুমান এভাবে করা যায় যে, বাহু বা পায়ের ভাঙ্গা হাড্ডিকে জোড়া দেয়ার জন্য, চামড়াকে যদি সামান্য পরিমাণে টানা হয়, তাহলে এর ব্যাথায় মানুষ ছটফট করতে শুরু করে দেয়। ঐ চামড়াকে টেনে যখন এত লম্বা করা হবে, যার বর্ণনা হাদীসে এসেছে, তাতে কাফিরের মারাত্মক কষ্ট হবে। সম্ভবত দুনিয়াতে তার কল্পনা করাও সম্ভব নয়।
এত বিশাল দেহের অধিকারী কাফিরকে যখন বড় বড় সাপ ও বিচ্ছু বার বার দংশন করতে থাকবে, বরং তার গোশত খেতে থাকবে, তখন তার বিষের স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়ায় বেহুশ, ফুলা, রক্ত রঞ্জিত এবং হাঁপানো ও কম্পমান কাফিরের ভয়ানক দৃশ্যের কল্পনা করুন!
মানুষকে তার শরীর নিয়ে নড়াচড়া করার ক্ষমতাও একটি নির্দিষ্ট পরিমাপের মধ্যে। এ শরীর যদি অস্বাভাবিক ভাবে মোটা হয়ে যায়, তাহলে মানুষের জন্য উঠাবসা ও চলাফেরা করা এত কঠিন হয়ে যায়, যেন জীবনটা একটা আযাব। আর মোটা হওয়ার কারণে শরীরে আরো বহু প্রকার সমস্যা দেখা দেয়। যেমন মন রোগ, শ্বাস কষ্ট, চোখের সমস্যা, জাহান্নামে কাফিরের শরীর বড় হওয়ার কারণে অন্যান্য সমস্যাও আযাব আকারে দেখা দিবে, কি দিবে না এটা তো আল্লাহই ভাল জানেন। কিন্তু একথা স্পষ্ট যে, ফেরেশতা গুর্জ ও হাতুড়ি দিয়ে তাকে মারবে বা সাপ ও বিচ্ছু ছোবল মারতে থাকবে। ফলে কাফির নড়াচড়া করতে পারবে না। আর যদি কখনো তাকে জোর করে এক স্থান থেকে, অন্য স্থানে স্থানান্তর করতে চায়, তাহলে কাফিরের জন্য এক এক কদম উঠানো এত কঠিন হবে যে, এটাই একটি বেদনাদায়ক শাস্তিতে পরিণত হবে। কাফির জাহান্নামে চিল্লিয়ে চিল্লিয়ে বলবে: হে আল্লাহ! একবার এখান থেকে বের কর, পরে আমরা নেককার হয়ে এখানে আসব। উত্তরে বলা হবে-
فَذُوقُوا فَمَا لِلظَّالِمِينَ مِنْ نَصِيرٍ
অর্থ: "সুতরাং শাস্তি আস্বাদন কর; যালিমদের কোনো সাহায্যকারী নেই।” (সূরা ফাতির: ৩৭)
আল্লাহ স্বীয় রহমত, দয়া, অনুগ্রহে আমাদেরকে জাহান্নাম থেকে রক্ষা করুন। নিঃসন্দেহে তিনি অত্যন্ত উদারভাবে নিআমত দানকারী বাদশা, অনুগ্রহ পরায়ণ, অত্যন্ত করুণাময় ও দয়ালু।

মাসআলা-৩২৮: জাহান্নামে কাফিরের এক একটি দাঁত উহুদ পাহাড় সম হবে:
মাসআলা-৩২৯: জাহান্নামে কাফিরের শরীরের চামড়া তিনদিন চলার রাস্তার সমান মোটা হবে:
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ هِ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «ضِرْسُ الْكَافِرِ ، أَوْ نَابُ الْكَافِرِ ، مِثْلُ أُحُدٍ وَغِلَظُ جِلْدِهِ مَسِيرَةُ ثَلَاثٍ»
অর্থ: "আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ বলেছেন: কাফিরদের দাঁত বা তার নখ জাহান্নামে উহুদ পাহাড়ের ন্যায় হবে। আর তার চামড়া তিন মাইল রাস্তা পরিমাণ মোটা হবে।" (মুসলিম ৪/২৮৫১)

মাসআলা-৩৩০: কোনো কোনো কাফিরের দাঁত উহুদ পাহাড়ের চেয়েও বড় হবে:
عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ اللَّهِ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، قَالَ: «إِنَّ الْكَافِرَ لَيَعْظُمُ حَتَّى إِنَّ ضِرْسَهُ لَأَعْظَمُ مِنْ أُحُدٍ.
অর্থ: "আবু সাঈদ খুদরী (রা) নবী থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: নিশ্চয়ই জাহান্নামে কাফিরের শরীরকে বড় করা হবে, এমনকি তার দাঁত হবে উহুদ পাহাড়ের চেয়েও বড়।” (ইবনে মাজা ৩/৪৩২২)

মাসআলা-৩৩১: জাহান্নামে কাফিরের দু কাঁধের মাঝের দূরত্ব হবে কোনো দ্রুতগামী ঘোড়ার তিনদিন চলার রাস্তার সমান:
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ اللَّهِ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «مَا بَيْنَ مَنْكِبَي الْكَافِرِ مَسِيرَةُ ثَلَاثَةِ أَيَّامٍ لِلرَّاكِبِ الْمُسْرِعِ»
অর্থ: "আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ বলেছেন: জাহান্নামে কাফিরের দু'কাঁধের মাঝের দূরত্ব হবে কোনো দ্রুতগামী ঘোড়ার তিনদিন পথ চলার সমান।" (মুসলিম ৮/৬৫৫১)

মাসআলা-৩৩২: কোনো কোনো কাফিরের কান ও কাঁধের মাঝে ৭০ বছরের দূরত্ব হবে, তাদের শরীরে রক্ত ও বমির ঝর্ণা প্রবাহিত হবে:
নোট: ২১ নং মাসআলার হাদীস দ্রষ্টব্য।

মাসআলা-৩৩৩: জাহান্নামে কাফিরের চামড়া ৪২ হাত (৬৩ফিট) মোটা হবে, একটি দাঁত উহুদ পাহাড়ের সমান হবে, তার বসার স্থান মক্কা ও মদীনার দূরত্বের সমান হবে (৪১০ কি. মি.):
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ وَاللهُ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، قَالَ: «إِنَّ غِلَظَ جِلْدِ الْكَافِرِ اثْنَانِ وَأَرْبَعُونَ ذِرَاعًا، وَإِنَّ ضِرْسَهُ مِثْلُ أُحُدٍ، وَإِنَّ مَجْلِسَهُ مِنْ جَهَنَّمَ مَا بَيْنَ مَكَّةَ وَالْمَدِينَةِ»
অর্থ: "আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ বলেছেন: কাফিরের চামড়া ৪২ হাত মোটা হবে, একটি দাঁত উহুদ পাহাড়ের সমান হবে, আর তার বসার স্থান হবে মক্কা এবং মদীনার দূরত্বের সমান।" (তিরমিযী ৪/২৫৭৭)

মাসআলা-৩৩৪: জাহান্নামীর একটি পার্শ্ব বাইজা পাহাড়ের সমান এবং একটি রান ওযকান পাহাড়ের সমান হবে:
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، هُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : " ضِرْسُ الْكَافِرِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ مِثْلُ أُحُدٍ، وَعَرْضُ جِلْدِهِ سَبْعُونَ ذِرَاعًا، وَفَخِذُهُ مِثْلُ وَرِقَانَ ، وَمَقْعَدُهُ مِنَ النَّارِ مِثْلُ مَا بَيْنِي وَبَيْنَ الرَّبَذَةِ "
অর্থ: "আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ বলেছেন: কিয়ামতের দিন কাফেরের দাঁত হবে উহুদ পাহাড়ের সমান, তার চামড়া ৭০ হাত মোটা হবে, তার পার্শ্ব হবে বাইজা পাহাড়ের সমান, আর রান হবে ওযকান পাহাড়ের সমান, তার বসার স্থান হবে আমার ও রাবযের দূরত্বের সমান।" (আহমদ, হাকেম)
নোট: বিভিন্ন হাদীসে জাহান্নামীর বিভিন্ন রকমের অবস্থার কথা বর্ণিত হয়েছে, কোথাও চামড়া ৪২ হাত কোথাও ৭০ হাত বর্ণনা করা হয়েছে, এ পার্থক্য জাহান্নামীদের পাপ ও অন্যায় হিসেবে নির্ধারণ হবে। (এ বিষয়ে আল্লাহই সর্বাধিক অবগত)

মাসআলা-৩৫৫: কোনো কোনো কাফিরের শরীর এত বড় করে দেয়া হবে যে সে প্রশস্ত জাহান্নামের এক কোণে পড়ে থাকবে:
عَنِ الْحَارِثِ بْنِ أُقَيْشِ لَى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ قَالَ: إِنَّ مِنْ أُمَّتِي مَنْ يَعْظُمُ لِلنَّارِ حَتَّى يَكُونَ أَحَدَ زَوَايَاهَا
অর্থ: "হারেস বিন উকাইশ (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: আমার উম্মতের কোনো ব্যক্তির শরীর এত বড় করে দেয়া হবে যে, সে জাহান্নামের এক কোণ দখল করে থাকবে।” (ইবনে মাজা)

টিকাঃ
১৫০ কিতাবুল জান্না ওয়া সিফাতু নায়িমিহা, বাব জাহান্নাম।
১৫১ কিতাবুয্যুহদ, বাব সিফাতুন্নার (২/৩৪৮৯)
১৫২ কিতাবুল জান্না ওয়া সিফাতিহা, বাব জাহান্নাম।
১৫৩ আবওয়াব সিফাত জাহান্নাম, বাব ইমাম আহলিন্নার।
১৫৪ সিলসিলা আহাদীস সহীহা লি আলবানী, হাদীস নং-১১০৫।
১৫৫ কিতাবুয্যুহদ সিফাতুন্নার, (২/৩৪৯০)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00