📘 মৃত্যুর পরে অনন্ত জীবন > 📄 প্রচন্ড ঠান্ডার মাধ্যমে শাস্তি

📄 প্রচন্ড ঠান্ডার মাধ্যমে শাস্তি


আগুন যেভাবে মানুষের শরীরকে জ্বালিয়ে দেয়, তেমনিভাবে মারাত্মক ঠাণ্ডাও মানুষের শরীরকে ঢিলা করে দেয়। তাই জাহান্নামের অত্যধিক ঠান্ডার আযাবও থাকবে। জাহান্নামের ঐ স্তরটির নাম হবে 'যামহারীর' যামহারীরে কত কঠিন ঠাণ্ডা হবে তার জ্ঞান তো একমাত্র সর্বজ্ঞ ও সম্যক অবহিত মহান আল্লাহই ভাল জানেন। কিন্তু এ ঠাণ্ডা যেহেতু শাস্তি দেয়ার জন্য হবে, অতএব তা তো অবশ্যই এ ঠাণ্ডা থেকে কয়েক গুণ বেশি হবে। এ দুনিয়ার যে কোনো ঠাণ্ডার মৌসুম ডিসেম্বর ও জানুয়ারী মাসে হয়ে থাকে। যা থেকে আত্মরক্ষা করার জন্য গরম পোশাক, কম্বল, লেপ, হিটার, অঙ্গার ধানিকা, গরম গরম খানাপিনা, আরো কত কি, এর পরও মানুষের অস্বাভাবিক অসাবধানতার ফলে সাথে সাথেই মানুষ কোনো না কোনো সমস্যায় পড়ে যায়। উপযুক্ত ব্যবস্থাপনা ব্যতীত মানুষকে যদি পোশাকহীন পৃথিবীর ঠাণ্ডায় থাকতে হয়, তাহলে তাও এ প্রকার কঠিন আযাব হবে। অথচ রাসূল বলেন: “পৃথিবীর ঠাণ্ডা জাহান্নামের শ্বাস ত্যাগের কারণে হয়ে থাকে।” (বুখারী)
এ থেকে অনুমান করা যেতে পারে যে, শুধু জাহান্নামের অভ্যান্তরীণ শ্বাস থেকে সৃষ্ট ঠাণ্ডা যদি মানুষের জন্য অসহ্য হয়, তাহলে জাহান্নামের অভ্যান্তরিন ঠাণ্ডার স্তর 'যামহারীরে' মানুষের কি অবস্থা হবে?
আল্লাহ মানুষকে অত্যন্ত নরম ও মোলয়েম করে তৈরী করেছেন। এত নরম ও মোলায়েম যে শুধু ৩৭ ডিগ্রী সেন্টিগ্রেডের মাঝে সে সুস্থ্য থাকতে পারে। এর চেয়ে কম বা বেশি উভয় তাপ মাত্রাই অসুস্থতার লক্ষণ। যদি শরীরের তাপমাত্রা ৩৫-এর কম হয়ে ২৬ ডিগ্রী সেন্টিগ্রেডে পর্যন্ত পৌছে যায়, তাহলে তার মৃত্যু হয়ে যাবে। আর যদি এ তাপ মাত্রা প্রচণ্ড ঠাণ্ডার কারণে শরীরের কোনো অংশে ৬.৭৫ ডিগ্রী সেন্টিগ্রেড (বা ২০ ডিগ্রী ফারেন হাইট) পর্যন্ত পৌঁছে যায়, তাহলে শরীরের ঐ অংশটি ঠাণ্ডার কারণে ঢিলা হয়ে বা পঁচে সাথে সাথে পৃথক হয়ে যায়, যাকে চিকিৎসা শাস্ত্রে "Frost Bite" বলে। অনুমান করা যাক যে, যামহারীরে যদি এতটুকু ঠাণ্ডা থাকে যে, শরীরের অভ্যান্তরীণ তাপমাত্রা ৬.৭ ডিগ্রী সেন্টিগ্রেড (বা ২০ ডিগ্রি ফারেন হাইট) পর্যন্ত পৌঁছে যায়, তাহলে ঐ আযাবের অবস্থা এ হবে যে, জীবিত মানুষের শরীরের ঠাণ্ডার প্রচণ্ডতায় বালুর মত দানা দানা হয়ে, অণুতে পরিণত হবে। অতপর তাকে নতুন করে শরীর দেয়া হবে। যতক্ষণ সে যামহারীরে থাকবে ততক্ষণ সে ঐ আযাবে নিমজ্জিত থাকবে। এ ভাগ শুধু সাইন্স ও অভিজ্ঞতার আলোকে দেখানো হলো। যখন একথা স্পষ্ট যে, জাহান্নামের আগুনের ন্যায় যামহারীরের ঠাণ্ডাও পৃথিবীর ঠাণ্ডার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি কঠিন হবে। যামহারীরের বাস্তব ঠাণ্ডার শাস্তি যথাযথ অবস্থা কি হবে, তা হয়ত আমরা এ দুনিয়াতে কল্পনাও করতে পারব না। কিন্তু এ বিষয়ে মোটেও সন্দেহের কোনো অবকাশ নেই যে, জাহান্নামের আগুন হোক আর যামহারীরের ঠাণ্ডা, উভয় অবস্থায়ই কাফির জীবিত থাকার চেয়ে মৃত্যুকে প্রাধান্য দিবে। আর বার বার মৃত্যু কামনা করবে।

وَنَادَوْا يَا مَالِكُ لِيَقْضِ عَلَيْنَا رَبُّكَ
অর্থ: "তারা চিৎকার করে বলবে: হে মালিক (জাহান্নামের রক্ষক) তোমার প্রতিপালক আমাদেরকে নিঃশেষ করে দিন।"
উত্তরে বলা হবে: إِنَّكُمْ مَّاكِثُونَ "তোমরা তো এভাবেই থাকবে।" (সূরা যুখরুফ: ৭৭)
আল্লাহ সমস্ত মুসলমানদেরকে স্বীয় দয়া ও অনুগ্রহে যামহারীরের আযাব থেকে রক্ষা করুন। নিঃসন্দেহে তিনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল এবং স্বীয় বান্দাদের প্রতি রহম ও অনুগ্রহ পরায়ন।

মাসআলা-২৯৯: "যামহারীর” জাহান্নামের একটি স্তর যেখানে জাহান্নামীদেরকে কঠিন শাস্তি দেয়া হবে:
فَوَقَاهُمُ اللهُ شَرَّ ذَلِكَ الْيَوْمِ وَلَقَاهُمْ نَضْرَةً وَسُرُوراً وَجَزَاهُمْ بِمَا صَبَرُوا جَنَّةً وَحَرِيراً مُتَّكِثِينَ فِيهَا عَلَى الْأَرَائِكِ لَا يَرَوْنَ فِيهَا شَمْسًا وَلَا زَمْهَرِيراً
অর্থ: সুতরাং সেই দিবসের অকল্যাণ থেকে আল্লাহ তাদের রক্ষা করলেন এবং তাদের প্রদান করলেন উজ্জ্বলতা ও উৎফুল্লতা। আর তারা যে ধৈর্যধারণ করেছিল তার পরিণামে তিনি তাদেরকে জান্নাত ও রেশমী বস্ত্রের পুরস্কার প্রদান করবেন। তারা সেখানে সুউচ্চ আসনে হেলান দিয়ে আসীন থাকবে। তারা সেখানে না দেখবে অতিশয় গরম, আর না অত্যাধিক শীত। (সূরা দাহর ৭৬:১১-১৩)

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: " إِذَا كَانَ يَوْمٌ حَارٌّ أَلْقَى اللَّهُ تَعَالَى سَبْعَهُ وَبَصَرَهُ إِلَى أَهْلِ السَّمَاءِ وَأَهْلِ الْأَرْضِ, فَإِذَا قَالَ الْعَبْدُ : لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ مَا أَشَدَّ حَرًّا هَذَا الْيَوْمِ اللَّهُمَّ أَجِرْنِي مِنْ حَرِّنَارٍ جَهَنَّمَ قَالَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ لِجَهَنَّمَ : إِنَّ عَبْدًا مِنْ عِبَادِي قد اسْتَجَارَنِي مِنْكِ, وَإِنِّي أُشْهِدُكِ أَنِّي قَدْ أَجَرْتُهُ. وَإِذَا كَانَ يَوْمٌ شَدِيدُ الْبَرْدِ أَلْقَى اللهُ تَعَالَى سَمْعَهُ وَبَصَرَهُ إِلَى أَهْلِ السَّمَاءِ وَاهْلِ الْأَرْضِ, فَإِذَا قَالَ الْعَبْدُ: لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ، مَا أَشَدَّ بَرْدَ هَذَا الْيَوْمِ اللَّهُمَّ أَجِرْنِي مِنْ بَرَدٍ زَمْهَرِيرِ جَهَنَّمَ, قَالَ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ لِجَهَنَّمَ : إِنَّ عَبْدًا مِنْ عِبَادِي قد اسْتَجَارَنِي مِنْ زَمْهَرِيرِكِ, فَإِنِّي أُشْهِدُكِ أَنِّي قَدْ أَجَرْتُهُ. فَقَالُوا: وَمَا زَمْهَرِيرُ جَهَنَّمَ ؟ قَالَ: حَيْثُ يُلْقَى فِيهِ الْكَافِرُ فَيَتَمَيَّزُ مِنْ شِدَّةِ بَرْدِهَا بَعْضُهَا مِنْ بَعْضٍ "
অর্থ: "আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি রাসূলুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: গরমের সময় যখন কঠিন গরম পড়ে, তখন আল্লাহ স্বীয় কান ও চোখ আকাশ ও জমিন বাসীদের প্রতি নিক্ষেপ করেন, যখন কোনো বান্দা বলে যে, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ। আজ কত গরম পড়েছে? হে আল্লাহ! তুমি আমাকে জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তি দাও। তখন আল্লাহ জাহান্নামকে সম্বোধন করে বলেন: আমার বান্দাদের মধ্য থেকে এক বান্দা, আমার নিকট তোমার আযাব থেকে আশ্রয় চেয়েছে। আমি তোমাকে সাক্ষী রাখছি যে, আমি তাকে মুক্তি দিলাম। আবার যখন কঠিন ঠাণ্ডা পড়ে তখন আল্লাহ স্বীয় কান ও চোখ আকাশ ও জমিনবাসীদের প্রতি নিক্ষেপ করেন, যখন কোনো বান্দা বলে যে, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ। আজ কত ঠাণ্ডা পড়েছে? হে আল্লাহ! তুমি আমাকে জাহান্নামের স্তর যামহারির থেকে মুক্তি দাও। তখন আল্লাহ জাহান্নামকে সম্বোধন করে বলেন: আমার বান্দাদের মধ্য থেকে এক বান্দা, আমার নিকট তোমার স্তর যামহারীর থেকে আশ্রয় চেয়েছে। আমি তোমাকে সাক্ষী রাখছি যে, আমি তাকে মুক্তি দিলাম। সাহাবাগণ জিজ্ঞেস করলেন যে, হে আল্লাহর রাসূল! জাহান্নামের স্তর যামহারীর কি? তিনি বললেন: যখন আল্লাহ কাফিরকে এতে নিক্ষেপ করবে, তখন তার ঠান্ডার প্রচণ্ডতায়ই কাফির তাকে চিনে ফেলবে। যে এটা যামহারীরের আযাব। ঠাণ্ডা ও গরম উভয়ই জাহান্নামের আযাব।” (বায়হাকী)

টিকাঃ
১৪৩ ফর্মা-২৮

📘 মৃত্যুর পরে অনন্ত জীবন > 📄 জাহান্নামে লাঞ্ছনাময় আযাব

📄 জাহান্নামে লাঞ্ছনাময় আযাব


মাসআলা-৩০০: কাফিরদেরকে জাহান্নামে লাঞ্ছিত করা হবে:
وَيَوْمَ يُعْرَضُ الَّذِينَ كَفَرُوا عَلَى النَّارِ أَذْهَبْتُمْ طَيِّبَاتِكُمْ فِي حَيَاتِكُمُ الدُّنْيَا وَاسْتَمْتَعْتُمْ بِهَا فَالْيَوْمَ تُجْزَوْنَ عَذَابَ الْهُونِ بِمَا كُنتُمْ تَسْتَكْبِرُونَ فِي الْأَرْضِ بِغَيْرِ الْحَقِّ وَبِمَا كُنتُمْ تَفْسُقُونَ
অর্থ: আর যেদিন কাফিরদেরকে জাহান্নামের সামনে পেশ করা হবে (তাদেরকে বলা হবে) 'তোমরা তোমাদের দুনিয়ার জীবনে তোমাদের সুখ সামগ্রীগুলো নিঃশেষ করেছ এবং সেগুলো ভোগ করেছ। তোমরা যেহেতু অন্যায়ভাবে জমিনে অহঙ্কার করতে এবং তোমরা যেহেতু নাফরমানী করতে, সেহেতু তার প্রতিফলস্বরূপ আজ তোমাদেরকে অপমানজনক আযাব প্রদান করা হবে'। (সূরা আহক্বাফ ৪৬:২০)

মাসআলা-৩০১: জাহান্নামী জাহান্নামে গাধার ন্যায় উঁচু উঁচু আওয়াজ দিবে:
لَهُمْ فِيهَا زَفِيرٌ وَهُمْ فِيهَا لا يَسْمَعُونَ
অর্থ: "সেথায় থাকবে তাদের আর্তনাদ এবং সেথায় তারা কিছুই জানতে পারবে না।” (সূরা আম্বিয়া: ১০০)

মাসআলা-৩০২: কোনো কোনো কাফিরকে লাঞ্ছিত করার জন্য তাদের নাকে দাগ দেয়া হবে:
سَنَسِمُهُ عَلَى الْخُرْطُومِ
অর্থ: "আমি তাদের নাসিকা দাগিয়ে দিব।" (সূরা ক্বালাম: ১৬)

মাসআলা-৩০৩: জাহান্নামীদের চেহারা হবে কাল:
وَيَوْمَ الْقِيَامَةِ تَرَى الَّذِينَ كَذَبُوا عَلَى اللَّهِ وُجُوهُهُم مُّسْوَدَّةً أَلَيْسَ فِي جَهَنَّمَ مَثْوًى لِلْمُتَكَبِرِينَ
অর্থ: আর যারা আল্লাহর প্রতি মিথ্যারোপ করে কিয়ামতের দিন তুমি তাদের চেহারাগুলো কালো দেখতে পাবে। অহঙ্কারীদের বাসস্থান জাহান্নামের মধ্যে নয় কি? (সূরা যুমার ৩৯:৬০)

মাসআলা-৩০৪: কোনো কোনো কাফিরের চেহারা ধূলিময় হয়ে থাকবে:
وَوُجُوهٌ يَوْمَئِذٍ عَلَيْهَا غَبَرَةٌ تَرْهَقُهَا قَتَرَةٌ أُوْلَئِكَ هُمُ الْكَفَرَةُ الْفَجَرَةُ
অর্থ: "এবং অনেক মুখমণ্ডল হবে সেদিন ধূলি-ধূসর। সেগুলোকে আচ্ছন্ন করবে কালিমা, তারাই কাফির ও পাপাচারী"। (সূরা আবাসা: ৪০-৪২)

মাসআলা-৩০৫: কোনো কোনো কাফিরের মস্তকের সম্মুখ ভাগের কেশ গুচ্ছ ধরে হেঁচড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হবে:
كَلَّا لَئِن لَّمْ يَنتَهِ لَنَسْفَعَا بِالنَّاصِيَةِ نَاصِيَةٍ كَاذِبَةٍ خَاطِئَةٍ
অর্থ: "সাবধান! সে যদি নিবৃত্ত না হয়, তবে আমি তাকে অবশ্যই হেঁচড়িয়ে নিয়ে যাব, মস্তকের সম্মুখ ভাগের কেশ গুচ্ছ ধরে। মিথ্যাবাদী পাপিষ্ঠের কেশ গুচ্ছ।” (সূরা আলাক: ১৫-১৬)

মাসআলা-৩০৬: কোনো কোনো কাফিরকে জাহান্নামে উপুর করে টেনে নিয়ে যাওয়া হবে:
নোট: এ সংক্রান্ত আয়াতটি ১৩৫ নং মাসআলা দ্রষ্টব্য।

📘 মৃত্যুর পরে অনন্ত জীবন > 📄 জাহান্নামে গভীর অন্ধকারের মাধ্যমে আযাব

📄 জাহান্নামে গভীর অন্ধকারের মাধ্যমে আযাব


মাসআলা-৩০৭: কাফিরদেরকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করে তার দরজা এত মজবুতভাবে বন্ধ করে দেয়া হবে যে, জাহান্নামী শতাব্দী ধরে গভীর অন্ধকারে জাহান্নামের আযাব ভোগ করতে থাকবে, কোথাও থেকে কোনো আলোর সামান্য কিরণও তার চোখে পড়বে না:
وَالَّذِينَ كَفَرُوا بِآيَاتِنَا هُمْ أَصْحَابُ الْمَشْأَمَةِ عَلَيْهِمْ نَارٌ مُؤْصَدَةٌ
অর্থ: "এবং যারা আমার নির্দেশ অমান্য করেছে, তারা হতভাগ্য। তাদের ওপরই রয়েছে অবরুদ্ধ অগ্নি।" (সূরা বালাদ: ১৯-২০)

وَمَا أَدْرَاكَ مَا الْحُطَمَةُ نَارُ اللَّهِ الْمُوقَدَةُ الَّتِي تَطَّلِعُ عَلَى الْأَفْئِدَةِ إِنَّهَا عَلَيْهِم مُؤْصَدَةٌ فِي عَمَدٍ مُمَدَّدَةِ
অর্থ: "হুতামা কি তাকি তুমি জান? এটা আল্লাহর প্রজ্জলি অগ্নি, যা হৃদয়কে গ্রাস করবে, নিশ্চয়ই তা তাদেরকে পরিবেষ্টন করে রাখবে, দীর্ঘায়িত স্তম্ভসমূহে।” (সূরা হুমাযাহ: ৫-৯)

মাসআলা-৩০৮: জাহান্নামের আগুন স্বয়ং আলকাতরার চেয়ে কাল অন্ধকার হবে ফলে সেখানে নিজের হাতকেই চিনা যাবে না:
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ هُ أَنَّهُ قَالَ: أَتُرَوْنَهَا حَمْرَاءَ كَنَارِكُمْ هَذِهِ؟ لَهِيَ أَسْوَدُ مِنَ الْقَارِ.
অর্থ: "আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: তোমরা কি জাহান্নামের আগুনকে তোমাদের এ আগুনের ন্যায় মনে কর? বরং তা হবে আলকাতরার চেয়েও কাল'। (মালেক)

টিকাঃ
১৪৪ কিতাবুল জামে বাব মাযায়া ফি সিফাতি জাহান্নাম।

📘 মৃত্যুর পরে অনন্ত জীবন > 📄 উপুড় করে টেনে নিয়ে যাওয়ার মাধ্যমে শাস্তি

📄 উপুড় করে টেনে নিয়ে যাওয়ার মাধ্যমে শাস্তি


মাসআলা-৩০৯: ফেরেশতাগণ কাফিরকে উপুড় করে টেনে জাহান্নামে নিয়ে যাবে:
يَوْمَ يُسْحَبُونَ فِي النَّارِ عَلَى وُجُوهِهِمْ ذُوقُوا مَسَّ سَقَرَ
অর্থ: সেদিন তাদেরকে উপুড় করে টেনে-হিঁচড়ে জাহান্নামে নেয়া হবে। (বলা হবে) জাহান্নামের যন্ত্রণা আস্বাদন কর। (সূরা কামার ৫৪:৪৮)

মাসআলা-৩১০: কোনো কোনো মুজরিমকে কবর থেকে উঠিয়েই উপুড় করে টেনে নিয়ে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে:
মাসআলা-৩১১: যে কাফিরকে উপুড় করে টেনে নিয়ে যাওয়া হবে সে অন্ধ, মুক, বধিরও হবে:
وَنَحْشُرُهُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ عَلَى وُجُوهِهِمْ عُمْياً وَبُكْماً وَصُبَاً مَأْوَاهُمْ جَهَنَّمُ كُلَّمَا خَبَتْ زِدْنَاهُمْ سَعِيراً
অর্থ: আর আমি কিয়ামতের দিনে তাদেরকে একত্র করব উপুড় করে, অন্ধ, মূক ও বধির অবস্থায়। তাদের আশ্রয়স্থল জাহান্নাম; যখনই তা নিস্তেজ হবে তখনই আমি তাদের জন্য আগুন বাড়িয়ে দেব। (সূরা বনী ইসরাঈল ১৭:৯৭)

মাসআলা-৩১২: কোনো কোনো কাফিরকে ফেরেশতাগণ জিঞ্জিরাবদ্ধ করে টেনে নিয়ে যাবে:
إِذِ الأَغْلالُ فِي أَعْنَاقِهِمْ وَالسَّلَاسِلُ يُسْحَبُونَ فِي الْحَمِيمِ ثُمَّ فِي النَّارِ يُسْجَرُونَ
অর্থ: "যখন তাদের গলদেশে বেড়ি ও শৃঙ্খল থাকবে, তাদেরকে টেনে নিয়ে যাওয়া হবে ফুটন্ত পানিতে, অতপর তাদেরকে দগ্ধ করা হবে অগ্নিতে।" (সূরা মু'মিন: ৭১-৭২)

মাসআলা-৩১৩: কাফিরের মাথায় উত্তপ্ত পানি প্রবাহিত করার জন্য ফেরেশতা তাকে জাহান্নামের মাঝখানে টেনে নিয়ে যাবে:
خُذُوهُ فَاعْتِلُوهُ إِلَى سَوَاءِ الْجَحِيمِ ثُمَّ صُبُّوا فَوْقَ رَأْسِهِ مِنْ عَذَابِ الْحَمِيمِ
অর্থ: "(বলা হবে) তাকে ধর এবং টেনে নিয়ে যাও জাহান্নামের মধ্যস্থলে, অতপর তার মস্তকের ওপর ফুটন্ত পানি ঢেলে দিয়ে শাস্তি দাও।" (সূরা দুখান: ৪৭-৪৮)

মাসআলা-৩১৪: কোনো কোনো মুজরিমকে তাদের পা ও মাথার ঝুঁটি ধরে পাকড়াও করা হবে:
يُعْرَفُ الْمُجْرِمُونَ بِسِيمَاهُمْ فَيُؤْخَذُ بِالنَّوَاصِي وَالْأَقْدَامِ فَبِأَيِّ آلَاءِ رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ
অর্থ: অপরাধিদেরকে চেনা যাবে তাদের চিহ্নের সাহায্যে। অতঃপর তাদেরকে মাথার অগ্রভাগের চুল ও পা ধরে টেনে নেয়া হবে। সুতরাং তোমাদের রবের কোনো নিআমতকে তোমরা উভয়ে অস্বীকার করবে? (সূরা রাহমান ৫৫:৪১-৪২)

মাসআলা-৩১৫: আবু জাহেলকে ফেরেশতারা মাথার ঝুঁটি ধরে হেঁচড়িয়ে জাহান্নামে নিয়ে যাবে:
كَلَا لَئِن لَّمْ يَنتَهِ لَنَسْفَعاً بِالنَّاصِيَةِ نَاصِيَةٍ كَاذِبَةٍ خَاطِئَةٍ
অর্থ: "সাবধান! সে যদি নিবৃত্ত না হয়, তবে আমি তাকে অবশ্যই হেঁচড়িয়ে নিয়ে যাব মস্তকের সম্মুখ ভাগের কেশ গুচ্ছ ধরে। মিথ্যাবাদী পাপিষ্ঠদের কেশ গুচ্ছ।" (সূরা আলাক: ১৫-১৬)

মাসআলা-৩১৬: লোক দেখানো ইবাদত কারীদেরকে ফেরেশতাগণ উপুড় করে হেঁচড়িয়ে জাহান্নামে নিয়ে যাবে:
নোট: ২৬৬ নং মাসআলার হাদীস দ্রষ্টব্য।

মাসআলা-৩১৭: আল্লাহ মুজরিমদেরকে উপুড় করে চালাতে এমনভাবে সক্ষম যেমন তাদেরকে দুনিয়াতে দু'পায়ে চালাতে সক্ষম:
عَنْ أَنَسُ بْنُ مَالِكٍ ، أَنَّ رَجُلًا قَالَ : يَا رَسُولَ اللَّهِ ﷺ كَيْفَ يُحْشَرُ الْكَافِرُ عَلَى وَجْهِهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ؟ قَالَ: «أَلَيْسَ الَّذِي أَمْشَاهُ عَلَى رِجْلَيْهِ فِي الدُّنْيَا، قَادِرًا عَلَى أَنْ يُمْشِيَهُ عَلَى وَجْهِهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ؟» قَالَ قَتَادَةُ : بَلَى وَعِزَّةِ رَبِّنَا
অর্থ: "আনাস বিন মালেক (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: এক ব্যক্তি জিজ্ঞেস করল ইয়া রাসূলুল্লাহ ﷺ! কিয়ামতের দিন কাফিরকে কিভাবে উপুড় করে চালানো হবে? তিনি বললেন: যিনি তাকে দুনিয়াতে দু'পায়ের ওপর চালিয়েছেন, তিনি কি তাকে কিয়ামতের দিন উপুড় করে চালাতে সক্ষম নন? কাতাদা বলেন: আমাদের রবের কসম! অবশ্যই (তিনি তাতে সক্ষম)।" (মুসলিম ৪/২৮০৬)

টিকাঃ
১৪৫ কিতাব সিফাতুল মুনাফেকীন, বাব ফিল কুফফার।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00