📘 মৃত্যুর পরে অনন্ত জীবন > 📄 অন্ধকার ও সংকীর্ণময় স্থানে নিক্ষেপের মাধ্যমে আযাব

📄 অন্ধকার ও সংকীর্ণময় স্থানে নিক্ষেপের মাধ্যমে আযাব


জাহান্নামের ভয়াবহ শাস্তির একটি ধরণ এ হবে যে, জাহান্নামীকে তার হাত, পা ভারী জিঞ্জির দিয়ে বেঁধে অত্যন্ত সংকীর্ণ ও অন্ধকার রুমের মধ্যে ঢুকিয়ে দিয়ে ওপর থেকে দরজা পরিপূর্ণভাবে বন্ধ করে দেয়া হবে, ফলে সেখানে না বাতাস প্রবেশ করতে পারবে না সূর্যের কিরণ, আর না থাকবে পালানোর মত কোনো রাস্তা।
আবদুল্লাহ বিন ওমর (রা) বলেন: “জাহান্নাম কাফেরের জন্য এত সংকীর্ণ হবে যেমন বর্ষার ফলা কাঠের মধ্যে সংকীর্ণ করে ঢুকিয়ে দেয়া হয়।"
এ ভয়াবহ শাস্তির একটি অনুমান এভাবে করা যেতে পারে যে, কোনো বড় প্রেসার কোকার যেখানে এক হাজার মানুষ আটবে, সেখানে যদি জোরপূর্বক দু'হাজার মানুষ ঢুকিয়ে দেয়া হয়, তাহলে তাদের শ্বাস নেয়াও মুশকিল হবে, হাত, পা, জিঞ্জির দিয়ে বাঁধা, ফলে নড়া চড়াও করতে পারবে না। আর ওপর দিয়ে প্রেসার কোকারের ঢাকনা মজবুত করে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে এবং জাহান্নামের আগুনে তা রান্না করার জন্য রাখা হয়েছে, এমতাবস্থায় কাফির মৃত্যু কামনা করবে কিন্তু তার মুত্যু হবে না।
আল্লাহর বাণী "যখন এক শিকলে কয়েকজনকে বাঁধা অবস্থায় জাহান্নামের কোনো সংকীর্ণ স্থানে নিক্ষেপ করা হবে, তখন সেখানে তারা মৃত্যুকে ডাকবে। বলা হবে আজ তোমরা এক মৃত্যুকে ডেক না অনেক মৃত্যুকে ডাক।" (সূরা ফুরকান: ১৩, ১৪)
কিন্তু দূর দূরান্তে মৃত্যুর কোনো চিহ্ন পর্যন্ত থাকবে না। আগেই মৃত্যুকে জবাই করে দেয়া হয়েছে, আর কাফিররা সর্বদাই এ ভয়াবহ শাস্তিতে ডুবে থাকবে।
কাফিরকে পদবেড়ি লাগিয়ে আগুনের সংকীর্ণ রুমে ঢুকিয়ে ভয়াবহ শাস্তি কোনো যালেমদেরকে দেয়া হবে? এর উত্তরে সূরা ফুরকানে আল্লাহ তাআলা এরশাদ করেন:
وَأَعْتَدْنَا لِمَنْ كَذَّبَ بِالسَّاعَةِ سَعِيراً
অর্থ: "যে কিয়ামতকে অস্বীকার করে আমি তার জন্য অগ্নি প্রস্তুত করে রেখেছি।" (সূরা ফুরকান: ১১)
কিয়ামতকে অস্বীকার করার স্বাভাবিক উদ্দেশ্য হলো, পৃথিবীতে পিতা-মাতার স্বাধীন জীবন যাপন, দ্বীন ও মতাদর্শকে ঠাট্টা-বিদ্রুপ করার স্বাধীনতা, ইসলামী নিদর্শনসমূহকে অবমাননা করার স্বাধীনতা, অশ্লীলতা ও উলঙ্গপনা বিস্তারের স্বাধীনতা, সৌন্দর্য ও শরীর প্রদর্শনের স্বাধীনতা, উলঙ্গ ছবি প্রকাশের স্বাধীনতা, গাইর মুহরিম (যাদের সাথে বিবাহ জায়েয) নারী-পুরুষের সাথে অবাধ মেলামেশার স্বাধীনতা, গান, বাদ্য ও নত্য করার স্বাধীনতা, মদ পান ও ব্যভিচার করার স্বাধীনতা, গর্ভপাত করার স্বাধীনতা, যৌন-চারিতার স্বাধীনতা ইচ্ছামত উলঙ্গ হওয়ার স্বাধীনতা।
প্রত্যেক ঐ বিষয়ের স্বাধীনতা যার মাধ্যমে নারী পুরুষের অবাধ যৌন চর্চা চলে। এ স্বাধীনতার বিনিময়ে জাহান্নামের সংকীর্ণ ও অন্ধকার বাসস্থানে জিঞ্জিরাবদ্ধ পা নিয়ে কত বেদনাদায়ক এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ভোগ করতে হবে, হায় কাফিররা যদি তা আজ জানতে পারত!
কিন্তু হে মানবমণ্ডলী! যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান রাখে, জান্নাত ও জাহান্নামকে সত্য বলে জানে, একটু চিন্তা করো আর উত্তর দাও যে, পৃথিবীর এ স্বাধীনতার বিনিময়ে, জাহান্নামের এ বন্দীশালা গ্রহণ করতে কি প্রস্তুত আছ? আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের হালাল করা বিষয়সমূহকে হারাম করে স্থায়ীভাবে জাহান্নামের সংকীর্ণ ও অন্ধকার বাসস্থানে জীবন যাপন করা কি সহজ বলে মনে করছো?
قُلْ أَذَلِكَ خَيْرٌ أَمْ جَنَّةُ الْخُلْدِ الَّتِي وُعِدَ الْمُتَّقُونَ
অর্থ: "তাদেরকে জিজ্ঞেস করো: এটাই শ্রেয়, না স্থায়ী জান্নাত। যার প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে মুত্তাকীদেরকে? এটাইতো তাদের পুরস্কার ও প্রত্যাবর্তন স্থল।" (সূরা ফুরকান: ১৫)
মাসআলা-২৯০ : ভীষণ অন্ধকার ও সংকীর্ণ স্থানে এক সাথে কয়েকজনকে বেঁধে অপরাধীদেরকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে, তখন তারা মৃত্যু কামনা করবে:
وَإِذَا أُلْقُوا مِنْهَا مَكَانًا ضَيِّقًا مُقَرَّنِينَ دَعَوْا هُنَالِكَ ثُبُورًا لَا تَدْعُوا الْيَوْمَ ثُبُورًا وَاحِدًا وَادْعُوا ثُبُورًا كَثِيرًا
অর্থ: "যখন এক শিকলে কয়েকজনকে বাঁধা অবস্থায় জাহান্নামের কোনো সংকীর্ণ স্থানে নিক্ষেপ করা হবে, তখন সেখানে তারা মৃত্যু কামনা করবে, বলা হবে আজ তোমরা এক মৃত্যুকে ডেকোনা, অনেক মৃত্যুকে ডাক।" (সূরা ফুরকান: ১৩-১৪) নোট: এ আয়াত সম্পর্কে রাসূল ﷺ-কে জিজ্ঞেস করা হলে, তিনি বললেন: যেভাবে তারকাটাকে কঠিনভাবে দেয়ালে গাড়া হয়, এভাবে জাহান্নামীদেরকে জোর করে সংকীর্ণময় স্থানে নিক্ষেপ করা হবে।
মাসআলা-২৯১: জাহান্নামীকে জাহান্নামে এমনভাবে ঠেসে দেয়া হবে যেমন বর্শার নিম্নভাগে তার ফলা মজবুত করে ঠেসে দেয়া হয়:
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو : «إِنَّ جَهَنَّمَ لَتُضَيَّقُ عَلَى الْكَافِرِ كَتَضْيِيقِ الرُّمْحِ عَلَى النُّجْ »
অর্থ: "আবদুল্লাহ বিন আমর (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: নিশ্চয় জাহান্নাম কাফিরের ওপর এত সংকীর্ণময় করা হবে, যেমন বর্শার নিম্নভাগে তার ফলা মজবুত করে ঠেসে দেয়া হয়। (শারহুসসুন্না)

টিকাঃ
১৪১. মনে হচ্ছে যৌনচারিতায় প্রাচ্যবাসীরা কাওমে লুতকেও হার মানিয়েছে। বৃটিশ আদালতসমূহে যৌনচারিতাকে বৈধ বন্ধনের সমমান দিতে শুরু করেছে, গির্জাসমূহের কোনো কোনো পাদ্রী স্বীয় যৌনচারিতার কথা প্রকাশে গৌরভ বোধ করে, বৃটিশ লেবার পার্টির প্রতিষ্ঠাতাদের মধ্যে এমন অনেক মন্ত্রী আছে যারা নির্দ্বিধায় স্বীয় যৌনচারিতার কথা প্রকাশ করে। (তাকবীর ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০০০ইং)
১৪২. প্রাচ্যে ইচ্ছামত উলঙ্গ হওয়ার স্বাধীনতা তো এখন আর কোন বড় বিষয় নয়। তবে একটি সংবাদ বিবেচ্য যে, সিটেলে ৩৭ বছরের এক উলঙ্গ মহিলার হাইওয়ের মাঝে এক খাম্বা ধরে নৃত্য করতে করতে ওপরে চড়ে গিয়ে গান গাইতে লাগল, তার হাতে একটি মদের বোতল ছিল, পুলিশ দ্রুত বিদ্যুৎ কোম্পানীতে ফোন করে বিদ্যুৎ বন্ধ করাল। কেননা মহিলা নেশাগ্রস্ত ছিল আর সে তার জ্বালিয়ে দেয়ার চেষ্টা করতেছিল। মহিলার কাণ্ড দেখার জন্য ট্রাফিক জ্যাম লেগে গেল, লোকেরা কয়েক ঘন্টা পর্যন্ত এ দৃশ্য দেখতে থাকল। শেষে পুলিশ খুব কষ্ট করে মহিলাকে নিয়ন্ত্রণে এনে তাকে খাম্বা থেকে নামিয়ে গ্রেপ্তার করল। আর তাকে এ অভিযোগ করল যে, সে সেফটা এ্যাকট ভঙ্গ করেছে। যার ফলে ট্রাফিক জ্যাম লেগেছিল। (উর্দ নিওউজ ১০ নভেম্বর, ১৯৯৯ইং) মদ পান এবং উলঙ্গপনার বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ নেই। প্রাচ্যের এ উলঙ্গপনার স্বাধীনতায় মাতাল স্নেহ পরায়ণরা এখন প্রিয় জন্মভূমি (লেখকের) "ইসলামী প্রজাতন্ত্র পাকিস্তান" এর সংবাদ (আমরা হয়ত অনিচ্ছা সত্ত্বেও আনন্দে লাফাচ্ছি) মাধ্যমও তার স্বজাতিকে কি শিক্ষা দিচ্ছে। হে জ্ঞানবানরা শিক্ষা গ্রহণ কর!

📘 মৃত্যুর পরে অনন্ত জীবন > 📄 জাহান্নামে জাহান্নামীদের মুখমণ্ডল বিদগ্ধ করার মাধ্যমে শাস্তি

📄 জাহান্নামে জাহান্নামীদের মুখমণ্ডল বিদগ্ধ করার মাধ্যমে শাস্তি


জাহান্নামে শুধু আগুন আর আগুনই হবে। জাহান্নামীদের মাথা থেকে পা পর্যন্ত সমস্ত শরীর আগুনের মাঝে নিমজ্জিত থাকবে। এরপরও কুরআন মাজীদে কোনো কোনো অপরাধী সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে যে, তাদের চেহারায় আগুনের শিখা প্রজ্জ্বলিত করা ও চেহারাকে আগুন দিয়ে গরম করার কথা উল্লেখ হয়েছে।
আল্লাহ বলেন: "ঐ দিন তুমি অপরাধীদেরকে দেখবে শৃঙ্খলিত অবস্থায়। তাদের জামা হবে আলকাতরার, আর অগ্নি আচ্ছন্ন করবে তাদের মুখমণ্ডল।" (সূরা ইবরাহিম: ৪৯, ৫০)
আল্লাহ মানব শরীরকে যে বৈশিষ্ট্য দিয়েছেন তা সম্পর্কে তিনি বলেন: لَقَدْ خَلَقْنَا الْإِنْسَانَ فِي أَحْسَنِ تَقْوِيمٍ
অর্থ: "আমি মানুষকে সৃষ্টি করেছি উত্তম আকৃতিতে।" (সূরা ত্বীন: ৪)
মানুষের সমস্ত শরীরের মধ্যে চেহারাকে আল্লাহ সুন্দর, ইজ্জত, মাহাত্মের নিদর্শন করেছেন। তৃপ্তিদায়ক চোখ, সুন্দর নাক, মানানসই কান, নরম ঠোঁট, গণ্ডদেশ যৌবনকালে কাল চুল মানুষের সৌন্দর্য ও আকৃতিকে আরো উজ্জ্বল করে। আবার বৃদ্ধ বয়সে চাঁদির ন্যায় সাদা চুল মানুষের সম্মান ও মহত্বের নিদর্শন। চেহারার ঐ সম্মান ও মহত্বের মর্যাদায় রাসূল ﷺ এ নির্দেশ দিয়েছেন যে, "স্ত্রীকে যদি মারতে হয় তাহলে তার চেহারায় মারবে না।" (ইবনে মাজাহ)
চিকিৎসা শাস্ত্রে চেহারা শরীরের অন্যান্য অঙ্গের তুলনায় অধিক সমবেদনশীল। চোখ, কান, নাক, দাঁত, গণ্ডদেশ ইত্যাদির রগসমূহ মস্তিষ্কের সাথে সম্পৃক্ত। চেহারা মস্তিষ্কের নিকটবর্তী হওয়ার কারণে রক্তের চলাচল শরীরের অন্যান্য অংশের তুলনায় বেশি দ্রুত। তাই সামান্য রাগের কারণে চেহারার রগ দ্রুত লাল হয়ে যায়। চেহারার এক অংশে কোনো সমস্যা হলে সমস্ত চেহারাই ঐ সমস্যায় জর্জরিত হয়ে যায়। যদি শুধু দাঁতে ব্যাথা হয় তবে চোখ, কান ও মাথায় ব্যাথা অনুভব হয়। আর এ ব্যাথা এত বেশি হয় যে, এ সময়ে মানুষের সময় যেন অতিক্রান্ত হয় না। সে যত দ্রুত সম্ভব তা থেকে রক্ষা পেতে চায়। শরীরের এ সমবেদনশীল অংশে যখন জাহান্নামের অত্যধিক গরম আগুনের শিখা প্রজ্জ্বলিত করা হবে, তখন কাফিরদের কত কঠিন ব্যথা সহ্য করতে হবে, তার অনুমান জাহান্নামীদের এ আফসোস থেকে অনুভব করা যায় যে, তারা বলবে: يُلَيْتَنِي كُنْتُ تُرَاباً
অর্থ: "হায়! আমি যদি মাটি হয়ে যেতাম" (সূরা নাবা: ৪০)
অপরাধিদেরকে যখন মারপিট করা হয়, তখন তারা সাধারণত হাত দিয়ে চেহারাকে বাঁচাতে চেষ্টা করে। কিন্তু অনুমান করা হোক যে, যখন একদিকে অপরাধীদের হাত-পা ভারি জিঞ্জির দিয়ে বাঁধা থাকবে, অন্য দিকে জাহান্নামের ভয়ানক ফেরেশতা বিনা বাধায় তার চেহারায় আগুনের বৃষ্টি বর্ষণ করতে থাকবে। মূলত তাকে শারীরিক শাস্তির সাথে সাথে মারাত্মক অপমান ও লাঞ্ছনাও করা হবে। আর এ লাঞ্ছনা দায়ক শাস্তি এক বা দু'ঘণ্টা বা এক বা দু'সপ্তাহ, এক বা দু'মাসের জন্য বা এক বা দু'বছরের জন্য নয়, বরং তা সার্বক্ষণিক ভাবে চলতে থাকবে।
আল্লাহর বাণী: "হায়! যদি কাফিররা ঐ সময়ের কথা জানতো যখন তারা তাদের সম্মুখ ও পশ্চাৎ হতে অগ্নি প্রতিরোধ করতে পারবে না, আর তাদের কোনো সাহায্যও করা হবে না।" (সূরা আম্বিয়া: ৩৯)
কোনো বদনসীব এ লাঞ্ছনাময় শাস্তির যোগ্য হবে? এ ব্যাপারে আল্লাহ তাআলা অত্যন্ত স্পষ্ট করে বলেছেন:
"যেদিন তাদের মুখমণ্ডল অগ্নিতে উলট-পালট করা হবে, সেদিন তারা বলবে হায়! আমরা যদি আল্লাহকে মানতাম এবং তাঁর রাসূলকে মানতাম। তারা আরো বলবে: হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা আমাদের নেতা ও বড় লোকদের আনুগত্য করেছিলাম। আর তারা আমাদেরকে পথভ্রষ্ট করেছিল। হে আমাদের প্রতিপালক! তাদের দ্বিগুণ শাস্তি প্রদান করুন। আর তাদেরকে মহা অভিসম্পাত দিন।" (সূরা আহযাব: ৬৬-৬৮)
যেহেতু পাপিষ্টদের অন্যায় এ হবে যে, তারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিপক্ষে তাদের সরদার, গুরুদের অনুসরণ করেছে, কাফিরদের কুফরী আর মুশরিকদের শিরকের কারণে এ অবস্থা হবে যে, তারা তাদের আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অনুসরণ করেনি বরং তাদের আলেম, দরবেশ, লিডার, বাদশাদের অনুসরণ করেছে। যার বেদনাদায়ক শাস্তি তাদেরকে কিয়ামতের দিন ভোগ করতে হবে।
আমাদের নিকট কাফির মুশরিকদের তুলনায় ঐ সমস্ত মুসলমানদের আচরণ বেশি বেদনাদায়ক যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের কালিমা পাঠ করেছে, কিয়ামতের প্রতি বিশ্বাস রাখে, জান্নাত ও জাহান্নামকেও স্বীকার করে। কিন্তু এতদসত্ত্বেও কোনো না কোনো ভুল বুঝের কারণে রাসূলের অনুসরণ থেকে দূরে সরে গিয়েছে।
মনে রাখুন, রাসূল ﷺ-এর মিশন যেমন কিয়ামত পর্যন্ত বিদ্যমান থাকবে, তেমনিভাবে তার অনুসরণও কিয়ামত পর্যন্ত করে যেতে হবে।
وَمَا أَرْسَلْنَاكَ إِلَّا كَافَّةً لِلنَّاسِ بَشِيرًا وَنَذِيرًا
অর্থ: "আমি মানুষের নিকট তোমাকে সুসংবাদ দাতা ও ভয় প্রদর্শনকারী রূপে প্রেরণ করেছি।" (সূরা সাবা: ২৮)
অন্যত্র এরশাদ হয়েছে:
يَٰٓأَيُّهَا ٱلنَّاسُ إِنِّى رَسُولُ ٱللَّهِ إِلَيْكُمْ جَمِيعًا
অর্থ: "হে মানবমণ্ডলী! আমি তোমাদের সকলের প্রতি আল্লাহর রাসূল (রূপে প্রেরিত হয়েছি)।" (সূরা আরাফ: ১৫৮) এমনিভাবে আরো এরশাদ হয়েছে:
تَبَارَكَ الَّذِي نَزَّلَ الْفُرْقَانَ عَلَى عَبْدِهِ لِيَكُونَ لِلْعَالَمِينَ نَذِيرًا
অর্থ: "কত মহান তিনি যিনি তাঁর বান্দার প্রতি ফুরকান (কুরআন) অবতীর্ণ করেছেন। যাতে তিনি বিশ্ববাসীর জন্য সতর্ককারী হতে পারেন।" (সূরা ফুরকান: ১)
অতএব যারা রাসূল ﷺ-এর মিশনকে তাঁর জীবিত থাকা পর্যন্তই সীমিত বলে বিশ্বাস করে নিঃসন্দেহে তারা তাঁর অনুসরণের ব্যাপারে পথভ্রষ্ট হচ্ছে। আবার যারা রাসূল ﷺ-কে শুধু আল্লাহর বার্তাবাহক রূপে মেনে নিয়ে তাঁর নির্দেশিত পথ (হাদীসের) অকাট্যতাকে অস্বীকার করছে তারাও তাঁর অনুসরণের ব্যাপারে পথভ্রষ্ট হচ্ছে। আর যারা এ আক্বীদা পোষণ করে যে কুরআন মাজীদই হেদায়েতের জন্য যথেষ্ট এর সাথে রাসূল ﷺ-এর হাদীসের কোনো প্রয়োজন নেই তারাও তাঁর অনুসরণের ব্যাপারে পথভ্রষ্ট হচ্ছে।" (সূরা নাহল: ৪৪ নং আয়াত দ্রষ্টব্য)
এমনিভাবে যারা এ আক্বীদা পোষণ করে যে, কুরআন মাজীদ নির্ভরযোগ্য সূত্রে সংরক্ষিত আছে কিন্তু হাদীস নির্ভরযোগ্য সূত্রে সংরক্ষিত নেই। তাই তার ওপর আমল করা জরুরী নয়। তারাও তাঁর অনুসরণের ব্যাপারে পথভ্রষ্ট হচ্ছে।" (সূরা হিজর ৯নং আয়াত দ্র.)
যে সমস্ত উলামাগণ স্বীয় ফিকহী মাসআলার গোঁড়ামীর কারণে, স্বীয় ইমামগণের কথাকে রাসূল ﷺ-এর হাদীসের চেয়ে বেশী প্রাধান্য দেয় তারাও তাঁর অনুসরণের ব্যাপারে পথভ্রষ্ট হচ্ছে।
এমনিভাবে যারা স্বীয় বুযর্গদের মোরাকাবা ও কাশফকে রাসূল এর হাদীসের চেয়ে বেশী প্রাধান্য দেয় তারাও তাঁর অনুসরণের ব্যাপারে পথভ্রষ্ট হচ্ছে। এমনিভাবে যারা স্বীয় আকাবিরগণের মোশাহাদা ও স্বপ্নকে রাসূল এর সুন্নাতের চেয়ে বেশী প্রাধান্য দেয় তারাও তাঁর অনুসরণের ব্যাপারে পথভ্রষ্ট হচ্ছে।" (সূরা হুজুরাত: ১)
আমরা অত্যন্ত আদব ও ইহতিরামের সাথে, মুসলমানদের সমস্ত গবেষণালয়ের নিকট, অত্যন্ত নিষ্ঠতা ও হামদরদী নিয়ে আবেদন করছি যে, রাসূল -এর অনুসরণের বিষয়টি অত্যন্ত সূক্ষ্ম। এমন যেন না হয় যে, ইমামগণের আক্বীদা, বুযুর্গদের মোহাব্বত, আর নিজস্ব দর্শনের গোড়ামী আমাদেরকে কিয়ামতের দিন কঠিন শাস্তিতে নিষ্পেষিত না করে। কেন না আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান আনার পর এ ধরনের বেদনাদায়ক পরিণতি ক্ষতির কারণ হবে।
أَلَا ذَلِكَ هُوَ الْخُسْرَانُ الْمُبِينُ
অর্থ: "জেনে রেখ এটা সুস্পষ্ট ক্ষতি।" (সূরা যুমার: ১৫)
মাসআলা-২৯২: জাহান্নামে জাহান্নামীদের চেহারাকে উলট-পালট করে বিদগ্ধ করা হবে:
يَوْمَ تُقَلَّبُ وُجُوهُهُمْ فِي النَّارِ يَقُولُونَ يَلَيْتَنَا أَطَعْنَا اللَّهَ وَأَطَعْنَا الرَّسُولَا وَقَالُوا رَبَّنَا إِنَّا أَطَعْنَا سَادَتَنَا وَكُبَرَاءَنَا فَأَضَلُّونَا السَّبِيلَا رَبَّنَا آتِهِمْ ضِعْفَيْنِ مِنَ الْعَذَابِ وَالْعَنْهُمْ لَعْنَا كَبِيراً
অর্থ: "যেদিন তাদের মুখমণ্ডল অগ্নিতে উলট-পালট করা হবে, সেদিন তারা বলবে হায়! আমরা যদি আল্লাহকে মানতাম বা রাসূল-কে মানতাম! তারা আরো বলবে: হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা আমাদের নেতা ও বড় লোকদের আনুগত্য করেছিলাম এবং তারা আমাদেরকে পথভ্রষ্ট করেছিল, হে আমাদের প্রতিপালক! তাদেরকে দ্বিগুণ শাস্তি প্রদান করুন, আর তাদেরকে দিন মহা অভিসম্পাত।" (সূরা আহযাব: ৬৬-৬৮)
মাসআলা-২৯৩: ফেরেশতা কাফিরদেরকে আগুনে দগ্ধ করবে, আর বলবে যে, তোমরা ঐ আযাব আস্বাদন কর, যা তোমরা দুনিয়াতে কামনা করতে:
قُتِلَ الْخَرَّاصُونَ الَّذِينَ هُمْ فِي غَمْرَةٍ سَاهُونَ يَسْأَلُونَ أَيَّانَ يَوْمُ الدِّينِ يَوْمَ هُمْ عَلَى النَّارِ يُفْتَنُونَ ذُوقُواْ فِتْنَتَكُمْ هَذَا الَّذِي كُنتُمْ بِهِ تَسْتَعْجِلُونَ
অর্থ: "অভিশপ্ত হোক মিথাচারীরা যারা অজ্ঞ ও উদাসীন, তারা জিজ্ঞেস করে কর্মফল দিবস কবে হবে? বল সেদিন যেদিন তাদেরকে শাস্তি দেয়া হবে অগ্নিতে, (এবং বলা হবে) তোমরা তোমাদের শাস্তি আস্বাদন কর, তোমরা এ শাস্তিই ত্বরান্বিত করতে চেয়েছিল।" (সূরা যারিয়াত: ১০-১৪)
মাসআলা-২৯৪: কোনো কোনো কাফিরের চেহারায় অগ্নি শিখা আচ্ছন্ন করে থাকবে:
وَتَرَى الْمُجْرِمِينَ يَوْمَئِذٍ مُقَرَّنِينَ فِي الْأَصْفَادِ سَرَابِيلُهُم مِّنْ قَطِرَانٍ وَتَغْشَى وُجُوهَهُمُ النَّارُ
অর্থ: "সেদিন তুমি অপরাধীদেরকে দেখবে শৃঙ্খলিত অবস্থায়, তাদের জামা হবে আলকাতরার এবং অগ্নি আচ্ছন্ন করবে তাদের মুখমণ্ডল।" (সূরা ইবরাহিম: ৪৯-৫০)
মাসআলা-২৯৫: কাফিররা তাদের কোমল ও সুন্দর চেহারা আগুন থেকে রক্ষা করতে চেষ্টা করবে, কিন্তু তাতে তারা সফল হবে না:
لَوْ يَعْلَمُ الَّذِينَ كَفَرُوا حِينَ لا يَكْفُونَ عَنْ وُجُوهِهِمُ النَّارَ وَلَا عَن ظُهُورِهِمْ وَلَا هُمْ يُنصَرُونَ
অর্থ: হায়! কাফিররা যদি সে সময়ের কথা জানত, যখন তারা তাদের সামনে ও পেছন থেকে আগুন ফিরাতে পারবে না। আর তাদেরকে সাহায্যও করা হবে না; (সূরা আম্বিয়া ২১:৩৯)
মাসআলা-২৯৬: জাহান্নামের নিকৃষ্টতম আযাব কাফিরের চেহারায় পতিত হবে:
أَفَمَن يَتَّقِي بِوَجْهِهِ سُوَءَ الْعَذَابِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَقِيلَ لِلظَّالِمِينَ ذُوقُوا مَا كُنتُمْ تَكْسِبُونَ
অর্থ: যে ব্যক্তি কিয়ামতের দিন তার মুখমণ্ডল দ্বারা কঠিন আযাব ঠেকাতে চাইবে (সে কি তার মত যে শাস্তি থেকে নিরাপদ?) আর যালিমদেরকে বলা হবে, 'তোমরা যা অর্জন করতে, তার স্বাদ আস্বাদন কর। (সূরা যুমার ৩৯:২৪)
নোট: অপরাধীরা শাস্তির সময় স্বীয় হাত দ্বারা চেহারাকে রক্ষা করার জন্য চেষ্টা করে, কিন্তু জাহান্নামীরা জাহান্নামে যেহেতু তাদের হাত গলার সাথে বাঁধা অবস্থায় থাকবে অতএব তারা হাত নাড়াতে পারবে না, বরং ফেরেশতাদের কঠিন শাস্তি চেহারাকে দগ্ধ করবে।

📘 মৃত্যুর পরে অনন্ত জীবন > 📄 বিষাক্ত গরম হাওয়া এবং বিষাক্ত কাল ধোঁয়ার মাধ্যমে শাস্তি

📄 বিষাক্ত গরম হাওয়া এবং বিষাক্ত কাল ধোঁয়ার মাধ্যমে শাস্তি


মাসআলা-২৯৭: কোনো কোনো অপরাধীকে বিষাক্ত গরম হাওয়া ও কাল ধোঁয়ার মাধ্যমে শাস্তি দেয়া হবে:
وَأَصْحَابُ الشِّمَالِ مَا أَصْحَابُ الشِّمَالِ فِي سَمُومٍ وَحَمِيمٍ وَظِلٍ مِّنْ يَحْمُومٍ لا بَارِدٍ وَلا كَرِيمٍ
অর্থ: আর বাম দিকের দল, কত হতভাগ্য বাম দিকের দল! তারা থাকবে তীব্র গরম হাওয়া এবং প্রচণ্ড উত্তপ্ত পানিতে, আর প্রচণ্ড কালো ধোঁয়ার ছায়ায়, যা শীতলও নয়, সুখকরও নয়। (সূরা ওয়াক্বিয়াহ ৫৬:৪১-৪৪)
নোট: জাহান্নামী জাহান্নামের শাস্তিতে অতিষ্ঠ হয়ে এক ছায়াবান বৃক্ষের দিকে ছুটে আসবে, কিন্তু যখন ওখানে পৌঁছবে, তখন বুঝতে পারবে যে এটা কোনো ছায়াবান বৃক্ষ নয় বরং জাহান্নামের ঘনকাল ধোঁয়া।
মাসআলা-২৯৮: কাফিরদেরকে জাহান্নামে বিদগ্ধ কারী কঠিন গরম হাওয়া দিয়ে শাস্তি দেয়া হবে:
قَالُوا إِنَّا كُنَّا قَبْلُ فِي أَهْلِنَا مُشْفِقِينَ فَمَنَّ اللَّهُ عَلَيْنَا وَوَقَانَا عَذَابَ السَّمُومِ
অর্থ: "এবং বলবে পূর্বে আমরা পরিবার-পরিজনদের মাঝে শংকিত অবস্থায় ছিলাম, এরপর আমাদের প্রতি আল্লাহ অনুগ্রহ করেছেন এবং আমাদেরকে অগ্নি শাস্তি থেকে রক্ষা করেছেন" (সূরা তুর: ২৬-২৭)

📘 মৃত্যুর পরে অনন্ত জীবন > 📄 প্রচন্ড ঠান্ডার মাধ্যমে শাস্তি

📄 প্রচন্ড ঠান্ডার মাধ্যমে শাস্তি


আগুন যেভাবে মানুষের শরীরকে জ্বালিয়ে দেয়, তেমনিভাবে মারাত্মক ঠাণ্ডাও মানুষের শরীরকে ঢিলা করে দেয়। তাই জাহান্নামের অত্যধিক ঠান্ডার আযাবও থাকবে। জাহান্নামের ঐ স্তরটির নাম হবে 'যামহারীর' যামহারীরে কত কঠিন ঠাণ্ডা হবে তার জ্ঞান তো একমাত্র সর্বজ্ঞ ও সম্যক অবহিত মহান আল্লাহই ভাল জানেন। কিন্তু এ ঠাণ্ডা যেহেতু শাস্তি দেয়ার জন্য হবে, অতএব তা তো অবশ্যই এ ঠাণ্ডা থেকে কয়েক গুণ বেশি হবে। এ দুনিয়ার যে কোনো ঠাণ্ডার মৌসুম ডিসেম্বর ও জানুয়ারী মাসে হয়ে থাকে। যা থেকে আত্মরক্ষা করার জন্য গরম পোশাক, কম্বল, লেপ, হিটার, অঙ্গার ধানিকা, গরম গরম খানাপিনা, আরো কত কি, এর পরও মানুষের অস্বাভাবিক অসাবধানতার ফলে সাথে সাথেই মানুষ কোনো না কোনো সমস্যায় পড়ে যায়। উপযুক্ত ব্যবস্থাপনা ব্যতীত মানুষকে যদি পোশাকহীন পৃথিবীর ঠাণ্ডায় থাকতে হয়, তাহলে তাও এ প্রকার কঠিন আযাব হবে। অথচ রাসূল বলেন: “পৃথিবীর ঠাণ্ডা জাহান্নামের শ্বাস ত্যাগের কারণে হয়ে থাকে।” (বুখারী)
এ থেকে অনুমান করা যেতে পারে যে, শুধু জাহান্নামের অভ্যান্তরীণ শ্বাস থেকে সৃষ্ট ঠাণ্ডা যদি মানুষের জন্য অসহ্য হয়, তাহলে জাহান্নামের অভ্যান্তরিন ঠাণ্ডার স্তর 'যামহারীরে' মানুষের কি অবস্থা হবে?
আল্লাহ মানুষকে অত্যন্ত নরম ও মোলয়েম করে তৈরী করেছেন। এত নরম ও মোলায়েম যে শুধু ৩৭ ডিগ্রী সেন্টিগ্রেডের মাঝে সে সুস্থ্য থাকতে পারে। এর চেয়ে কম বা বেশি উভয় তাপ মাত্রাই অসুস্থতার লক্ষণ। যদি শরীরের তাপমাত্রা ৩৫-এর কম হয়ে ২৬ ডিগ্রী সেন্টিগ্রেডে পর্যন্ত পৌছে যায়, তাহলে তার মৃত্যু হয়ে যাবে। আর যদি এ তাপ মাত্রা প্রচণ্ড ঠাণ্ডার কারণে শরীরের কোনো অংশে ৬.৭৫ ডিগ্রী সেন্টিগ্রেড (বা ২০ ডিগ্রী ফারেন হাইট) পর্যন্ত পৌঁছে যায়, তাহলে শরীরের ঐ অংশটি ঠাণ্ডার কারণে ঢিলা হয়ে বা পঁচে সাথে সাথে পৃথক হয়ে যায়, যাকে চিকিৎসা শাস্ত্রে "Frost Bite" বলে। অনুমান করা যাক যে, যামহারীরে যদি এতটুকু ঠাণ্ডা থাকে যে, শরীরের অভ্যান্তরীণ তাপমাত্রা ৬.৭ ডিগ্রী সেন্টিগ্রেড (বা ২০ ডিগ্রি ফারেন হাইট) পর্যন্ত পৌঁছে যায়, তাহলে ঐ আযাবের অবস্থা এ হবে যে, জীবিত মানুষের শরীরের ঠাণ্ডার প্রচণ্ডতায় বালুর মত দানা দানা হয়ে, অণুতে পরিণত হবে। অতপর তাকে নতুন করে শরীর দেয়া হবে। যতক্ষণ সে যামহারীরে থাকবে ততক্ষণ সে ঐ আযাবে নিমজ্জিত থাকবে। এ ভাগ শুধু সাইন্স ও অভিজ্ঞতার আলোকে দেখানো হলো। যখন একথা স্পষ্ট যে, জাহান্নামের আগুনের ন্যায় যামহারীরের ঠাণ্ডাও পৃথিবীর ঠাণ্ডার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি কঠিন হবে। যামহারীরের বাস্তব ঠাণ্ডার শাস্তি যথাযথ অবস্থা কি হবে, তা হয়ত আমরা এ দুনিয়াতে কল্পনাও করতে পারব না। কিন্তু এ বিষয়ে মোটেও সন্দেহের কোনো অবকাশ নেই যে, জাহান্নামের আগুন হোক আর যামহারীরের ঠাণ্ডা, উভয় অবস্থায়ই কাফির জীবিত থাকার চেয়ে মৃত্যুকে প্রাধান্য দিবে। আর বার বার মৃত্যু কামনা করবে।

وَنَادَوْا يَا مَالِكُ لِيَقْضِ عَلَيْنَا رَبُّكَ
অর্থ: "তারা চিৎকার করে বলবে: হে মালিক (জাহান্নামের রক্ষক) তোমার প্রতিপালক আমাদেরকে নিঃশেষ করে দিন।"
উত্তরে বলা হবে: إِنَّكُمْ مَّاكِثُونَ "তোমরা তো এভাবেই থাকবে।" (সূরা যুখরুফ: ৭৭)
আল্লাহ সমস্ত মুসলমানদেরকে স্বীয় দয়া ও অনুগ্রহে যামহারীরের আযাব থেকে রক্ষা করুন। নিঃসন্দেহে তিনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল এবং স্বীয় বান্দাদের প্রতি রহম ও অনুগ্রহ পরায়ন।

মাসআলা-২৯৯: "যামহারীর” জাহান্নামের একটি স্তর যেখানে জাহান্নামীদেরকে কঠিন শাস্তি দেয়া হবে:
فَوَقَاهُمُ اللهُ شَرَّ ذَلِكَ الْيَوْمِ وَلَقَاهُمْ نَضْرَةً وَسُرُوراً وَجَزَاهُمْ بِمَا صَبَرُوا جَنَّةً وَحَرِيراً مُتَّكِثِينَ فِيهَا عَلَى الْأَرَائِكِ لَا يَرَوْنَ فِيهَا شَمْسًا وَلَا زَمْهَرِيراً
অর্থ: সুতরাং সেই দিবসের অকল্যাণ থেকে আল্লাহ তাদের রক্ষা করলেন এবং তাদের প্রদান করলেন উজ্জ্বলতা ও উৎফুল্লতা। আর তারা যে ধৈর্যধারণ করেছিল তার পরিণামে তিনি তাদেরকে জান্নাত ও রেশমী বস্ত্রের পুরস্কার প্রদান করবেন। তারা সেখানে সুউচ্চ আসনে হেলান দিয়ে আসীন থাকবে। তারা সেখানে না দেখবে অতিশয় গরম, আর না অত্যাধিক শীত। (সূরা দাহর ৭৬:১১-১৩)

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: " إِذَا كَانَ يَوْمٌ حَارٌّ أَلْقَى اللَّهُ تَعَالَى سَبْعَهُ وَبَصَرَهُ إِلَى أَهْلِ السَّمَاءِ وَأَهْلِ الْأَرْضِ, فَإِذَا قَالَ الْعَبْدُ : لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ مَا أَشَدَّ حَرًّا هَذَا الْيَوْمِ اللَّهُمَّ أَجِرْنِي مِنْ حَرِّنَارٍ جَهَنَّمَ قَالَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ لِجَهَنَّمَ : إِنَّ عَبْدًا مِنْ عِبَادِي قد اسْتَجَارَنِي مِنْكِ, وَإِنِّي أُشْهِدُكِ أَنِّي قَدْ أَجَرْتُهُ. وَإِذَا كَانَ يَوْمٌ شَدِيدُ الْبَرْدِ أَلْقَى اللهُ تَعَالَى سَمْعَهُ وَبَصَرَهُ إِلَى أَهْلِ السَّمَاءِ وَاهْلِ الْأَرْضِ, فَإِذَا قَالَ الْعَبْدُ: لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ، مَا أَشَدَّ بَرْدَ هَذَا الْيَوْمِ اللَّهُمَّ أَجِرْنِي مِنْ بَرَدٍ زَمْهَرِيرِ جَهَنَّمَ, قَالَ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ لِجَهَنَّمَ : إِنَّ عَبْدًا مِنْ عِبَادِي قد اسْتَجَارَنِي مِنْ زَمْهَرِيرِكِ, فَإِنِّي أُشْهِدُكِ أَنِّي قَدْ أَجَرْتُهُ. فَقَالُوا: وَمَا زَمْهَرِيرُ جَهَنَّمَ ؟ قَالَ: حَيْثُ يُلْقَى فِيهِ الْكَافِرُ فَيَتَمَيَّزُ مِنْ شِدَّةِ بَرْدِهَا بَعْضُهَا مِنْ بَعْضٍ "
অর্থ: "আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি রাসূলুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: গরমের সময় যখন কঠিন গরম পড়ে, তখন আল্লাহ স্বীয় কান ও চোখ আকাশ ও জমিন বাসীদের প্রতি নিক্ষেপ করেন, যখন কোনো বান্দা বলে যে, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ। আজ কত গরম পড়েছে? হে আল্লাহ! তুমি আমাকে জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তি দাও। তখন আল্লাহ জাহান্নামকে সম্বোধন করে বলেন: আমার বান্দাদের মধ্য থেকে এক বান্দা, আমার নিকট তোমার আযাব থেকে আশ্রয় চেয়েছে। আমি তোমাকে সাক্ষী রাখছি যে, আমি তাকে মুক্তি দিলাম। আবার যখন কঠিন ঠাণ্ডা পড়ে তখন আল্লাহ স্বীয় কান ও চোখ আকাশ ও জমিনবাসীদের প্রতি নিক্ষেপ করেন, যখন কোনো বান্দা বলে যে, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ। আজ কত ঠাণ্ডা পড়েছে? হে আল্লাহ! তুমি আমাকে জাহান্নামের স্তর যামহারির থেকে মুক্তি দাও। তখন আল্লাহ জাহান্নামকে সম্বোধন করে বলেন: আমার বান্দাদের মধ্য থেকে এক বান্দা, আমার নিকট তোমার স্তর যামহারীর থেকে আশ্রয় চেয়েছে। আমি তোমাকে সাক্ষী রাখছি যে, আমি তাকে মুক্তি দিলাম। সাহাবাগণ জিজ্ঞেস করলেন যে, হে আল্লাহর রাসূল! জাহান্নামের স্তর যামহারীর কি? তিনি বললেন: যখন আল্লাহ কাফিরকে এতে নিক্ষেপ করবে, তখন তার ঠান্ডার প্রচণ্ডতায়ই কাফির তাকে চিনে ফেলবে। যে এটা যামহারীরের আযাব। ঠাণ্ডা ও গরম উভয়ই জাহান্নামের আযাব।” (বায়হাকী)

টিকাঃ
১৪৩ ফর্মা-২৮

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00