📄 পিপাসার মাধ্যমে শাস্তি
জাহান্নামের শাস্তি ১. পিপাসার মাধ্যমে শাস্তি
মাসআলা-২৭৮: পাপিষ্ঠদেরকে আগুনে নিক্ষেপ করার পূর্বেই কঠিন পিপাসায় পিপাসার্ত করা হবে:
وَنَسُوقُ الْمُجْرِمِينَ إِلَى جَهَنَّمَ وِرْداً
অর্থ: "এবং অপরাধীদেরকে পিপাসার্ত অবস্থায় জাহান্নামের দিকে তাড়িয়ে নিয়ে যাব।" (সূরা মারইয়াম: ৮৬)
মাসআলা-২৭৯ : কঠিন পিপাসার কারণে জাহান্নামী জাহান্নাম ও উত্তপ্ত পানির ঝর্ণার মাঝে চক্কর লাগাতে থাকবে:
هَذِهِ جَهَنَّمُ الَّتِي يُكَذِّبُ بِهَا الْمُجْرِمُونَ يَطُوفُونَ بَيْنَهَا وَبَيْنَ حَمِيمٍ آن فَبِأَيِّ آلَاءِ رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ
অর্থ: "এটাই সে জাহান্নাম যা অপরাধীরা অবিশ্বাস করত, তারা জাহান্নামের অগ্নি ও ফুটন্ত পানির মাঝে ছুটাছুটি করবে। সুতরাং তোমরা উভয়ে তোমাদের প্রতিপালকের কোনো অনুগ্রহকে অস্বীকার করবে?" (সূরা রাহমান: ৪৩-৪৫)
মাসআলা-২৮০ : যাক্কুম খাওয়ার পর জাহান্নামীরা তৃষ্ণার্ত উটের ন্যায় তীব্র পিপাসা অনুভব করবে: নোট: ৮৩ নং আয়াতের মাসআলা দ্রষ্টব্য।
মাসআলা-২৭৮: পাপিষ্ঠদেরকে আগুনে নিক্ষেপ করার পূর্বেই কঠিন পিপাসায় পিপাসার্ত করা হবে:
وَنَسُوقُ الْمُجْرِمِينَ إِلَى جَهَنَّمَ وِرْداً
অর্থ: "এবং অপরাধীদেরকে পিপাসার্ত অবস্থায় জাহান্নামের দিকে তাড়িয়ে নিয়ে যাব।" (সূরা মারইয়াম: ৮৬)
মাসআলা-২৭৯ : কঠিন পিপাসার কারণে জাহান্নামী জাহান্নাম ও উত্তপ্ত পানির ঝর্ণার মাঝে চক্কর লাগাতে থাকবে:
هَذِهِ جَهَنَّمُ الَّتِي يُكَذِّبُ بِهَا الْمُجْرِمُونَ يَطُوفُونَ بَيْنَهَا وَبَيْنَ حَمِيمٍ آن فَبِأَيِّ آلَاءِ رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ
অর্থ: "এটাই সে জাহান্নাম যা অপরাধীরা অবিশ্বাস করত, তারা জাহান্নামের অগ্নি ও ফুটন্ত পানির মাঝে ছুটাছুটি করবে। সুতরাং তোমরা উভয়ে তোমাদের প্রতিপালকের কোনো অনুগ্রহকে অস্বীকার করবে?" (সূরা রাহমান: ৪৩-৪৫)
মাসআলা-২৮০ : যাক্কুম খাওয়ার পর জাহান্নামীরা তৃষ্ণার্ত উটের ন্যায় তীব্র পিপাসা অনুভব করবে: নোট: ৮৩ নং আয়াতের মাসআলা দ্রষ্টব্য।
📄 উত্তপ্ত পানি মাথায় ঢালার মাধ্যমে শাস্তি
কাফিরদের জন্য এ হবে আরেক ধরনের বেদনাদায়ক আযাব (আর তা হবে এই যে) ফেরেশতাদেরকে নির্দেশ দেয়া হবে, "তাকে ধরে টেনে নিয়ে যাও জাহান্নামের মধ্যখানে এবং ওখানে তার মস্তকে ফুটন্ত পানি ঢেলে তাকে শাস্তি দাও।" (সূরা দুখান: ৪৭-৪৮)
এ আয়াতের ব্যাখ্যায় নবী বলেছেন: "যখন কাফিরের মস্তিষ্কে গরম পানি ঢেলে তাকে শাস্তি দেয়া হবে, তখন ঐ পানি তার মাথা থেকে গড়িয়ে শরীরের সমস্ত অঙ্গ-পতঙ্গকে জ্বালিয়ে পায়খানার রাস্তা দিয়ে তা তার পায়ে এসে পড়বে।" (মুসনাদ আহমদ)
মাথায় ফুটন্ত পানি ঢালার পর সর্বপ্রথম এ পানি কাফিরের মস্তককে জ্বালিয়ে দিবে, যা তার খারাপ কামনা, বাতিল দর্শন, শিরকি আক্বীদার কেন্দ্রবিন্দু ছিল, যে মস্তিষ্ক দিয়ে সে ইসলাম ও মুসলমানদের বিরুদ্ধে চক্রান্ত করতো, যে মস্তিষ্ক দিয়ে সে মুসলমানদের ওপর অত্যাচারের পাহাড় চাপানোর জন্য নানান রকম প্রতারণা করতো। যে মস্তিষ্ক দিয়ে সে মুসলমানদের বিরুদ্ধে প্রচার প্রপাগান্ডার নিত্য নতুন দলীল তৈরী করতো। যে মস্তিষ্ক দিয়ে সে বড় বড় পদ ও পরিকল্পনা তৈরী করতো ঐ মস্তিষ্ক থেকেই এ বেদনাদায়ক শাস্তির সূত্রপাত হবে। সূরা দুখানে উল্লেখিত আয়াতের শেষে:
ذُقْ إِنَّكَ أَنتَ الْعَزِيزُ الْكَرِيمُ
অর্থ: "স্বাদ গ্রহণ করো, (তুমি পৃথিবীতে) ছিলে অভিজাত ও মর্যাদাবান।" (সূরা দুখান: ৪৯)
উল্লেখিত আয়াত একথা স্পষ্ট করছে যে, এ বেদনাদায়ক আযাবের হকদার হবে ঐ সমস্ত কাফির নেত্রীবর্গ যারা পৃথিবীতে বিশাল শক্তিধর ও মর্যাদার অধিকারী ছিল, পৃথিবীতে তাদের মর্যাদা ও বড়ত্ব হবে। আর এ ক্ষমতার বড়াইয়ে উম্মাদ হয়ে তারা ইসলামকে অবনত করতে এবং মুসলমানদেরকে ভূ-পৃষ্ঠ থেকে নিশ্চিহ্ন করার জন্য সর্বপ্রকার হাতিয়ার ব্যবহার করতে থাকবে। কুরআনের বিভিন্ন স্থানে কাফির নেত্রীবর্গের চক্রান্ত ও চালবাজির বর্ণনা এসেছে।
আল্লাহর বাণী- وَيَمْكُرُونَ وَيَمْكُرُ اللَّهُ وَاللَّهُ خَيْرُ الْمَاكِرِينَ
অর্থ: "তারা নবীর এর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে, আর আল্লাহ নবীকে বাঁচানোর জন্য তদবীর করেন। আর আল্লাহই দৃঢ় তদবীর কারক।" (সূরা আনফাল: ৩০)
অন্যত্র এরশাদ হয়েছে: وَقَدْ مَكَرَ الَّذِينَ مِن قَبْلِهِمْ فَلِلَّهِ الْمَكْرُ جَمِيعاً
অর্থ: "তাদের পূর্বে যারা ছিল তারাও চক্রান্ত করছিল কিন্তু সমস্ত চক্রান্ত আল্লাহর ইখতিয়ারে" (সূরা রাদ: ৪২)
সূরা ইবরাহীমে আল্লাহ তাআলা এরশাদ করেন: وَقَدْ مَكَرُواْ مَكْرَهُمْ وَعِندَ اللهِ مَكْرُهُمْ وَإِنْ كَانَ مَكْرُهُمْ لِتَزُولَ مِنْهُ الْجِبَالُ
অর্থ: "তারা ভীষণ চক্রান্ত করেছিল, কিন্তু আল্লাহর নিকট তাদের চক্রান্ত রক্ষিত হয়েছে, তাদের চক্রান্ত এমন ছিল না যাতে পাহাড় টলে যেত" (সূরা ইবরাহীম: ৪৬)
নূহ (আ) ৯৫০ বছর পর্যন্ত তাঁর কাওমকে দাওয়াত দেয়ার পর যখন তার প্রভূর নিকট আবেদন পেশ করলেন, তখন ঐ আবেদনের একটি বিশেষ অংশ ছিল এই যে,
وَمَكَرُوا مَكْراً كباراً
অর্থ: "আর তারা ভয়ানক চক্রান্ত করেছে।" (সূরা নূহঃ ২২)
মূলত ইসলামের বিরুদ্ধে চক্রান্তকারীরা, ইসলামকে পরাজিত করার অপচেষ্টা কারীরা, মুসলমানদেরকে নিঃশ্চিহ্ন কারীদেরকে কিয়ামতের দিন ঐ বৃহৎ শক্তিধর আল্লাহ তাদেরকে এ বেদনাদায়ক শাস্তির মাধ্যমে অভিবাধন জানাবেন।
নিঃসন্দেহে এ বেদনাদায়ক আযাব কাফিরদের জন্য, তবে মুসলমানদের দেশসমূহে ইসলামী বিধান প্রতিষ্ঠার পথে চক্রান্তকারী, ইসলামী আদর্শসমূহকে বিদ্রূপকারী, ইসলামের নিদর্শনসমূহকে অবজ্ঞাকারী নায়করা কি এ বেদনাদায়ক আযাব থেকে মুক্তি পাবে?
অতএব হে দলপতি! মন্ত্রীত্বের আসনে আসীন ব্যক্তিবর্গ, কোট-কাচারীর শোভা 'মাই লর্ডজ' জাতীয় সংসদসমূহের সম্মানিত প্রধান! আল্লাহর শাস্তিকে ভয় করুন। ইসলাম বিরুধিতা থেকে বিরত থাকুন, ইসলামী আদর্শ ও ইসলামী বিধানসমূহের সাথে বিদ্রূপ করা থেকে বিরত থাকুন, আল্লাহ এবং তার রাসূলের সাথে প্রতারণা করা থেকে বিরত থাকুন, অন্যথায় তাঁর শাস্তি থেকে মুক্তি পাবে না।
وَاتَّقُوا النَّارَ الَّتِي أُعِدَّتْ لِلْكَافِرِينَ
অর্থ: "এবং তোমরা ঐ আগুন থেকে বেঁচে থাক যা কাফিরদের জন্য তৈরী করা হয়েছে।" (সূরা আলে ইমরান: ১৩১)
মাসআলা-২৮১: জাহান্নামের মাঝখানে নিয়ে গিয়ে কাফিরের মাথায় গরম পানি ঢালা হবে:
خُذُوهُ فَاعْتِلُوهُ إِلَى سَوَاءِ الْجَحِيمِ ثُمَّ صُبُّوا فَوْقَ رَأْسِهِ مِنْ عَذَابِ الْحَمِيمِ ذُقْ إِنَّكَ أَنتَ الْعَزِيزُ الْكَرِيمُ إِنَّ هَذَا مَا كُنتُمْ بِهِ تَمْتَرُونَ
অর্থ: (বলা হবে) 'ওকে ধর, অতঃপর তাকে জাহান্নামের মধ্যস্থলে টেনে নিয়ে যাও'। তারপর তার মাথার উপর ফুটন্ত পানির আযাব ঢেলে দাও। (বলা হবে) 'তুমি আস্বাদন কর, নিশ্চয় তুমিই সম্মানিত, অভিজাত'। নিশ্চয় এটা তা-ই যে বিষয়ে তোমরা সন্দেহ করতে। (সূরা দুখান ৪৪:৪৭-৫০)
মাসআলা-২৮২: কাফির মুশরিকদের মাথায় এত গরম পানি ঢালা হবে যে এর ফলে তাদের চামড়া, চর্বি, পেটের ভিতরের নাড়ী-ভূঁড়ি, কলিজা, গুর্দা সব কিছু জ্বলে যাবে:
هَذَانِ خَصْمَانِ اخْتَصَمُوا فِي رَبِّهِمْ فَالَّذِينَ كَفَرُوا قُطِعَتْ لَهُمْ ثِيَابٌ مِنْ نَّارِ يُصَبُّ مِنْ فَوْقِ رُءُوسِهِمُ الْحَمِيمُ يُصْهَرُ بِهِ مَا فِي بُطُونِهِمْ وَالْجُلُودُ
অর্থ: " এরা দু'টি বিবাদমান পক্ষ, যারা তাদের রব সম্পর্কে বিতর্ক করে। তবে যারা কুফরী করে তাদের জন্য আগুনের পোশাক প্রস্তুত করা হয়েছে। তাদের মাথার উপর থেকে ঢেলে দেয়া হবে ফুটন্ত পানি। যার দ্বারা তাদের পেটের অভ্যন্তরে যাকিছু রয়েছে তাও তাদের চামড়াসমূহ বিগলিত করা হবে। (সূরা হাজ্জ ২২:১৯-২০)
মাসআলা-২৮৩: উত্তপ্ত পানি কাফিরের মাথায় ঢালা হবে যার ফলে তাদের পেটের সবকিছু বের হয়ে পায়ে গিয়ে পড়বে, আল্লাহর নির্দেশে কাফির আবার পূর্বের অবস্থায় ফিরে আসবে, এভাবে বার বার তাকে এ আজাব দেয়া হবে:
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «إِنَّ الْحَمِيمَ لَيُصَبُّ عَلَى رُءُوسِهِمْ ، فَيَنْفُذُ الْجُمْجُمَةَ حَتَّى يَخْلُصَ إِلَى جَوْفِهِ، فَيَسْلُتَ مَا فِي جَوْفِهِ حَتَّى يَمْرُقَ مِنْ قَدَمَيْهِ وَهُوَ الصَّهْرُ ثُمَّ يُعَادُ كَمَا كَانَ»
অর্থ: "আবু হুরাইরা (রা) নবী থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: উত্তপ্ত পানি কাফিরের মাথায় ঢালা হবে, যা তাদের মাথা ছিদ্র করে পেটে গিয়ে পৌঁছবে এবং পেটে যাকিছু আছে তা বের করে ফেলবে, (আর এ সবকিছু) তার পেট থেকে বের হয়ে পায়ে গিয়ে পড়বে, আর এটিই الصهر শব্দের ব্যাখ্যা। এ শাস্তি র পর কাফির আবার পূর্বের অবস্থায় ফিরে যাবে।" (আহমদ)
টিকাঃ
১৪০. শারহু সসুন্না, কিতাবুল ফিতান, বাব সিফাতুন্নার ওয়া আহলিকা।
📄 বেড়ি ও শৃঙ্খলের মাধ্যমে আযাব
মাসআলা-২৮৪: জাহান্নামে নিয়ে যাওয়ার জন্য জাহান্নামীদের গলায় ভারী বেড়ি পরিয়ে দেয়া হবে:
মাসআলা-২৮৫: জাহান্নামে নিয়ে যাওয়ার পর জাহান্নামীদেরকে ৭০ হাত প্রায় ১০৫ ফিট লম্বা শিকল দিয়ে তাদেরকে শৃঙ্খলিত করা হবে:
خُذُوهُ فَغُلُّوهُ ثُمَّ الْجَحِيمَ صَلُّوهُ ثُمَّ فِي سِلْسِلَةٍ ذَرْعُهَا سَبْعُونَ ذِرَاعاً فَاسْلُكُوهُ إِنَّهُ كَانَ لَا يُؤْمِنُ بِاللَّهِ الْعَظِيمِ وَلَا يَحُضُّ عَلَى طَعَامِ الْمِسْكِينِ
অর্থ: (বলা হবে,) 'তাকে ধর অতঃপর তাকে বেড়ি পরিয়ে দাও।' 'তারপর তাকে তোমরা নিক্ষেপ কর জাহান্নামে'। 'তারপর তাকে বাঁধ এমন এক শেকলে যার দৈর্ঘ্য হবে সত্তর হাত।' সে তো মহান আল্লাহর প্রতি ঈমান পোষণ করত না, আর মিসকীনকে খাদ্যদানে উৎসাহিত করত না। (সূরা হাক্কাহ ৬৯:৩০-৩৪)
إِنَّا أَعْتَدْنَا لِلْكَافِرِينَ سَلَاسِلَ وَأَغْلَالًا وَسَعِيراً
অর্থ: "আমি কাফিরদের জন্য প্রস্তুত করে রেখেছি শৃঙ্খল, বেড়ি ও লেলিহান অগ্নি।" (সূরা দাহর: ৪)
মাসআলা-২৮৬: কোনো কোনো অপরাধীদের পায়ে আগুনের বেড়ি পরানো হবে:
إِنَّ لَدَيْنَا أَنكَالًا وَجَحِيماً
অর্থ: "আমার নিকট আছে শৃঙ্খল প্রজ্জ্বলিত অগ্নি।" (সূরা মুযযাম্মিল: ১২)
মাসআলা-২৮৭: ফেরেশতাগণ কাফিরদেরকে জিঞ্জিরাবদ্ধ করে জাহান্নামে টেনে নিয়ে যাবে:
إِذِ الأَغْلَالُ فِي أَعْنَاقِهِمْ وَالسَّلَاسِلُ يُسْحَبُونَ إِذِ الأَغْلَالُ فِي أَعْنَاقِهِمْ وَالسَّلَاسِلُ يُسْحَبُونَ
অর্থ: "যখন তাদের গলদেশে বেড়ি ও শৃঙ্খল থাকবে, তাদেরকে টেনে নিয়ে যাওয়া হবে ফুটন্ত পানিতে, অতপর তাদেরকে দগ্ধ করা হবে অগ্নিতে।" (সূরা মু'মিন: ৭১-৭২)
মাসআলা-২৮৮: কোনো কোনো অপরাধীদেরকে হাতে ও পায়ে বেড়ি লাগিয়ে আলকাতারা পোশাক পরিয়ে দেয়া হবে:
وَتَرَى الْمُجْرِمِينَ يَوْمَئِذٍ مُقَرَّنِينَ فِي الْأَصْفَادِ سَرَابِيلُهُم مِّنْ قَطِرَانٍ وَتَغْشَى وُجُوهَهُمُ النَّارُ
অর্থ: "সেদিন তুমি অপরাধীদেরকে দেখবে শৃঙ্খলিত অবস্থায়, তাদের জামা হবে আলকাতরার এবং অগ্নি আচ্ছন্ন করবে তাদের মুখমন্ডল।" (সূরা ইবরাহিম: ৪৯-৫০)
মাসআলা-২৮৯: কোনো কোনো লোকদের গলায় বিষাক্ত সাপকে বেড়ি করে দেয়া হবে:
নোট: ১৬৬ নং মাসআলার হাদীস দ্রষ্টব্য।
📄 অন্ধকার ও সংকীর্ণময় স্থানে নিক্ষেপের মাধ্যমে আযাব
জাহান্নামের ভয়াবহ শাস্তির একটি ধরণ এ হবে যে, জাহান্নামীকে তার হাত, পা ভারী জিঞ্জির দিয়ে বেঁধে অত্যন্ত সংকীর্ণ ও অন্ধকার রুমের মধ্যে ঢুকিয়ে দিয়ে ওপর থেকে দরজা পরিপূর্ণভাবে বন্ধ করে দেয়া হবে, ফলে সেখানে না বাতাস প্রবেশ করতে পারবে না সূর্যের কিরণ, আর না থাকবে পালানোর মত কোনো রাস্তা।
আবদুল্লাহ বিন ওমর (রা) বলেন: “জাহান্নাম কাফেরের জন্য এত সংকীর্ণ হবে যেমন বর্ষার ফলা কাঠের মধ্যে সংকীর্ণ করে ঢুকিয়ে দেয়া হয়।"
এ ভয়াবহ শাস্তির একটি অনুমান এভাবে করা যেতে পারে যে, কোনো বড় প্রেসার কোকার যেখানে এক হাজার মানুষ আটবে, সেখানে যদি জোরপূর্বক দু'হাজার মানুষ ঢুকিয়ে দেয়া হয়, তাহলে তাদের শ্বাস নেয়াও মুশকিল হবে, হাত, পা, জিঞ্জির দিয়ে বাঁধা, ফলে নড়া চড়াও করতে পারবে না। আর ওপর দিয়ে প্রেসার কোকারের ঢাকনা মজবুত করে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে এবং জাহান্নামের আগুনে তা রান্না করার জন্য রাখা হয়েছে, এমতাবস্থায় কাফির মৃত্যু কামনা করবে কিন্তু তার মুত্যু হবে না।
আল্লাহর বাণী "যখন এক শিকলে কয়েকজনকে বাঁধা অবস্থায় জাহান্নামের কোনো সংকীর্ণ স্থানে নিক্ষেপ করা হবে, তখন সেখানে তারা মৃত্যুকে ডাকবে। বলা হবে আজ তোমরা এক মৃত্যুকে ডেক না অনেক মৃত্যুকে ডাক।" (সূরা ফুরকান: ১৩, ১৪)
কিন্তু দূর দূরান্তে মৃত্যুর কোনো চিহ্ন পর্যন্ত থাকবে না। আগেই মৃত্যুকে জবাই করে দেয়া হয়েছে, আর কাফিররা সর্বদাই এ ভয়াবহ শাস্তিতে ডুবে থাকবে।
কাফিরকে পদবেড়ি লাগিয়ে আগুনের সংকীর্ণ রুমে ঢুকিয়ে ভয়াবহ শাস্তি কোনো যালেমদেরকে দেয়া হবে? এর উত্তরে সূরা ফুরকানে আল্লাহ তাআলা এরশাদ করেন:
وَأَعْتَدْنَا لِمَنْ كَذَّبَ بِالسَّاعَةِ سَعِيراً
অর্থ: "যে কিয়ামতকে অস্বীকার করে আমি তার জন্য অগ্নি প্রস্তুত করে রেখেছি।" (সূরা ফুরকান: ১১)
কিয়ামতকে অস্বীকার করার স্বাভাবিক উদ্দেশ্য হলো, পৃথিবীতে পিতা-মাতার স্বাধীন জীবন যাপন, দ্বীন ও মতাদর্শকে ঠাট্টা-বিদ্রুপ করার স্বাধীনতা, ইসলামী নিদর্শনসমূহকে অবমাননা করার স্বাধীনতা, অশ্লীলতা ও উলঙ্গপনা বিস্তারের স্বাধীনতা, সৌন্দর্য ও শরীর প্রদর্শনের স্বাধীনতা, উলঙ্গ ছবি প্রকাশের স্বাধীনতা, গাইর মুহরিম (যাদের সাথে বিবাহ জায়েয) নারী-পুরুষের সাথে অবাধ মেলামেশার স্বাধীনতা, গান, বাদ্য ও নত্য করার স্বাধীনতা, মদ পান ও ব্যভিচার করার স্বাধীনতা, গর্ভপাত করার স্বাধীনতা, যৌন-চারিতার স্বাধীনতা ইচ্ছামত উলঙ্গ হওয়ার স্বাধীনতা।
প্রত্যেক ঐ বিষয়ের স্বাধীনতা যার মাধ্যমে নারী পুরুষের অবাধ যৌন চর্চা চলে। এ স্বাধীনতার বিনিময়ে জাহান্নামের সংকীর্ণ ও অন্ধকার বাসস্থানে জিঞ্জিরাবদ্ধ পা নিয়ে কত বেদনাদায়ক এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ভোগ করতে হবে, হায় কাফিররা যদি তা আজ জানতে পারত!
কিন্তু হে মানবমণ্ডলী! যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান রাখে, জান্নাত ও জাহান্নামকে সত্য বলে জানে, একটু চিন্তা করো আর উত্তর দাও যে, পৃথিবীর এ স্বাধীনতার বিনিময়ে, জাহান্নামের এ বন্দীশালা গ্রহণ করতে কি প্রস্তুত আছ? আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের হালাল করা বিষয়সমূহকে হারাম করে স্থায়ীভাবে জাহান্নামের সংকীর্ণ ও অন্ধকার বাসস্থানে জীবন যাপন করা কি সহজ বলে মনে করছো?
قُلْ أَذَلِكَ خَيْرٌ أَمْ جَنَّةُ الْخُلْدِ الَّتِي وُعِدَ الْمُتَّقُونَ
অর্থ: "তাদেরকে জিজ্ঞেস করো: এটাই শ্রেয়, না স্থায়ী জান্নাত। যার প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে মুত্তাকীদেরকে? এটাইতো তাদের পুরস্কার ও প্রত্যাবর্তন স্থল।" (সূরা ফুরকান: ১৫)
মাসআলা-২৯০ : ভীষণ অন্ধকার ও সংকীর্ণ স্থানে এক সাথে কয়েকজনকে বেঁধে অপরাধীদেরকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে, তখন তারা মৃত্যু কামনা করবে:
وَإِذَا أُلْقُوا مِنْهَا مَكَانًا ضَيِّقًا مُقَرَّنِينَ دَعَوْا هُنَالِكَ ثُبُورًا لَا تَدْعُوا الْيَوْمَ ثُبُورًا وَاحِدًا وَادْعُوا ثُبُورًا كَثِيرًا
অর্থ: "যখন এক শিকলে কয়েকজনকে বাঁধা অবস্থায় জাহান্নামের কোনো সংকীর্ণ স্থানে নিক্ষেপ করা হবে, তখন সেখানে তারা মৃত্যু কামনা করবে, বলা হবে আজ তোমরা এক মৃত্যুকে ডেকোনা, অনেক মৃত্যুকে ডাক।" (সূরা ফুরকান: ১৩-১৪) নোট: এ আয়াত সম্পর্কে রাসূল ﷺ-কে জিজ্ঞেস করা হলে, তিনি বললেন: যেভাবে তারকাটাকে কঠিনভাবে দেয়ালে গাড়া হয়, এভাবে জাহান্নামীদেরকে জোর করে সংকীর্ণময় স্থানে নিক্ষেপ করা হবে।
মাসআলা-২৯১: জাহান্নামীকে জাহান্নামে এমনভাবে ঠেসে দেয়া হবে যেমন বর্শার নিম্নভাগে তার ফলা মজবুত করে ঠেসে দেয়া হয়:
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو : «إِنَّ جَهَنَّمَ لَتُضَيَّقُ عَلَى الْكَافِرِ كَتَضْيِيقِ الرُّمْحِ عَلَى النُّجْ »
অর্থ: "আবদুল্লাহ বিন আমর (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: নিশ্চয় জাহান্নাম কাফিরের ওপর এত সংকীর্ণময় করা হবে, যেমন বর্শার নিম্নভাগে তার ফলা মজবুত করে ঠেসে দেয়া হয়। (শারহুসসুন্না)
টিকাঃ
১৪১. মনে হচ্ছে যৌনচারিতায় প্রাচ্যবাসীরা কাওমে লুতকেও হার মানিয়েছে। বৃটিশ আদালতসমূহে যৌনচারিতাকে বৈধ বন্ধনের সমমান দিতে শুরু করেছে, গির্জাসমূহের কোনো কোনো পাদ্রী স্বীয় যৌনচারিতার কথা প্রকাশে গৌরভ বোধ করে, বৃটিশ লেবার পার্টির প্রতিষ্ঠাতাদের মধ্যে এমন অনেক মন্ত্রী আছে যারা নির্দ্বিধায় স্বীয় যৌনচারিতার কথা প্রকাশ করে। (তাকবীর ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০০০ইং)
১৪২. প্রাচ্যে ইচ্ছামত উলঙ্গ হওয়ার স্বাধীনতা তো এখন আর কোন বড় বিষয় নয়। তবে একটি সংবাদ বিবেচ্য যে, সিটেলে ৩৭ বছরের এক উলঙ্গ মহিলার হাইওয়ের মাঝে এক খাম্বা ধরে নৃত্য করতে করতে ওপরে চড়ে গিয়ে গান গাইতে লাগল, তার হাতে একটি মদের বোতল ছিল, পুলিশ দ্রুত বিদ্যুৎ কোম্পানীতে ফোন করে বিদ্যুৎ বন্ধ করাল। কেননা মহিলা নেশাগ্রস্ত ছিল আর সে তার জ্বালিয়ে দেয়ার চেষ্টা করতেছিল। মহিলার কাণ্ড দেখার জন্য ট্রাফিক জ্যাম লেগে গেল, লোকেরা কয়েক ঘন্টা পর্যন্ত এ দৃশ্য দেখতে থাকল। শেষে পুলিশ খুব কষ্ট করে মহিলাকে নিয়ন্ত্রণে এনে তাকে খাম্বা থেকে নামিয়ে গ্রেপ্তার করল। আর তাকে এ অভিযোগ করল যে, সে সেফটা এ্যাকট ভঙ্গ করেছে। যার ফলে ট্রাফিক জ্যাম লেগেছিল। (উর্দ নিওউজ ১০ নভেম্বর, ১৯৯৯ইং) মদ পান এবং উলঙ্গপনার বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ নেই। প্রাচ্যের এ উলঙ্গপনার স্বাধীনতায় মাতাল স্নেহ পরায়ণরা এখন প্রিয় জন্মভূমি (লেখকের) "ইসলামী প্রজাতন্ত্র পাকিস্তান" এর সংবাদ (আমরা হয়ত অনিচ্ছা সত্ত্বেও আনন্দে লাফাচ্ছি) মাধ্যমও তার স্বজাতিকে কি শিক্ষা দিচ্ছে। হে জ্ঞানবানরা শিক্ষা গ্রহণ কর!