📘 মৃত্যুর পরে অনন্ত জীবন > 📄 জাহান্নামের আযাব থেকে আশ্রয় কামনা

📄 জাহান্নামের আযাব থেকে আশ্রয় কামনা


মাসআলা-২৬৫: যে ব্যক্তি তিন বার আল্লাহর নিকট জাহান্নাম থেকে আশ্রয় চায় তার জন্য জাহান্নাম সুপারিশ করে:
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : " مَنْ سَأَلَ اللَّهَ الْجَنَّةَ ثَلَاثَ مَرَّاتٍ قَالَتِ الْجَنَّةُ: اللَّهُمَّ أَدْخِلُهُ الْجَنَّةَ، وَمَنْ اسْتَجَارَ مِنَ النَّارِ ثَلَاثَ مَرَّاتٍ قَالَتِ النَّارُ : اللَّهُمَّ أَجِرْهُ مِنَ النَّارِ
অর্থ: "আনাস বিন মালেক (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ বলেছেন: যে ব্যক্তি আল্লাহর নিকট তিনবার জান্নাত কামনা করবে, জান্নাত তার জন্য বলে যে হে আল্লাহ! তুমি তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাও। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর নিকট তিনবার জাহান্নাম থেকে আশ্রয় কামনা করে, জাহান্নাম তার জন্য বলে হে আল্লাহ তুমি তাকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দাও।" (তিরমিজী ৪/২৫৭২)
মাসআলা-২৬৬: জাহান্নাম থেকে আশ্রয় চাওয়ার কুরআনের কতগুলো আয়াত:
ومِنْهُمْ مَنْ يَقُولُ رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الْآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ
১. অর্থ: "আর তাদের মধ্যে এমনও আছে, যারা বলে, হে আমাদের রব, আমাদেরকে দুনিয়াতে কল্যাণ দিন। আর আখিরাতেও কল্যাণ দিন এবং আমাদেরকে আগুনের আযাব থেকে রক্ষা করুন। (সূরা বাকারা ২:২০১)
رَبَّنَا اصْرِفْ عَنَّا عَذَابَ جَهَنَّمَ إِنَّ عَذَابَهَا كَانَ غَرَامًا إِنَّهَا سَاءَتْ مُسْتَقَرّاً وَمُقَاماً
২. আর যারা বলে, 'হে আমাদের রব! তুমি আমাদের থেকে জাহান্নামের আযাব ফিরিয়ে নাও। নিশ্চয় এর আযাব হলো অবিচ্ছিন্ন'। 'নিশ্চয় তা অবস্থানস্থল ও আবাসস্থল হিসেবে অত্যন্ত নিকৃষ্ট'। (সূরা ফোরকান ২৫:৬৫-৬৬)
رَبَّنَا مَا خَلَقْتَ هُذَا بَاطِلاً سُبْحَانَكَ فَقِنَا عَذَابَ النَّارِ رَبَّنَا إِنَّكَ مَنْ تُدْخِلِ النَّارَ فَقَدْ أَخْزَيْتَهُ وَمَا لِلظَّالِمِينَ مِنْ أَنْصَارٍ رَبَّنَا إِنَّنَا سَمِعْنَا مُنَادِياً يُنَادِي لِلْإِيمَانِ أَنْ آمِنُوا بِرَبِّكُمْ فَآمَنَّا رَبَّنَا فَاغْفِرْ لَنَا ذُنُوبَنَا وَكَفِّرْ عَنَّا سَيِّئَاتِنَا وَتَوَفَّنَا مَعَ الْأَبْرَارِ رَبَّنَا وَآتِنَا مَا وَعَدتَنَا عَلَى رُسُلِكَ وَلَا تُخْزِنَا يَوْمَ الْقِيَامَةِ إِنَّكَ لَا تُخْلِفُ الْمِيعَادَ
৩. 'হে আমাদের রব! তুমি এসব অনর্থক সৃষ্টি করনি। তুমি পবিত্র মহান। সুতরাং তুমি আমাদেরকে আগুনের আযাব থেকে রক্ষা কর'। 'হে আমাদের রব, নিশ্চয় তুমি যাকে আগুনে প্রবেশ করাবে, অবশ্যই তাকে তুমি অপমান করবে। আর যালিমদের জন্য কোনো সাহায্যকারী নেই'। 'হে আমাদের রব, নিশ্চয় আমরা শুনেছিলাম একজন আহ্বানকারীকে, যে ঈমানের দিকে আহবান করে যে, 'তোমরা তোমাদের রবের প্রতি ঈমান আন'। তাই আমরা ঈমান এনেছি। হে আমাদের রব আমাদের গুনাহসমূহ ক্ষমা করুন এবং বিদূরিত করুন আমাদের ত্রুটি-বিচ্যুতি, আর আমাদেরকে মৃত্যু দিন নেককারদের সাথে'। 'হে আমাদের রব! আর আপনি আমাদেরকে তা প্রদান করুন যার ওয়াদা আপনি আমাদেরকে দিয়েছেন আপনার রাসূলগণের মাধ্যমে। আর কিয়ামতের দিনে আপনি আমাদেরকে অপমান করবেন না। নিশ্চয় আপনি অঙ্গীকার ভঙ্গ করেন না'। (সূরা আলে ইমরান ৩:১৯১-১৯৪)
মাসআলা-২৬৭: জাহান্নামের আযাব থেকে বাঁচার জন্য রাসূল নিম্নোক্ত দূয়াসমূহ সাহাবাগণকে কুরআনের সূরার ন্যায় মুখস্ত করাতেন:
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنَ عَبَّاسٍ ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يُعَلِّمُهُمْ هَذَا الدُّعَاءَ كَمَا يُعَلِّمُ السُّورَةَ مِنَ الْقُرْآنِ قُولُوا: «اللَّهُمَّ إِنَّا نَعُوذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ جَهَنَّمَ ، وَنَعُوذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ وَ نَعُوذُ بِكَ مِنْ فِتْنَةِ الْمَسِيحِ الدَّجَّالِ وَنَعُوذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ وَ نَعُوذُ بِكَ مِنْ فِتْنَةِ الْمَحْيَا وَالْمَمَاتِ
অর্থ: "আবদুল্লাহ বিন আব্বাস (রা) রাসূলূল্লাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি তাদেরকে (সাহাবাগণকে) এ দুয়াটি কুরআনের সূরার ন্যায় মুখস্ত করাতেন, তোমরা বল: হে আল্লাহ আমরা আপনার নিকট জাহান্নামের আযাব থেকে আশ্রয় চাই, আমরা আপনার নিকট কবরের আযাব থেকে আশ্রয় চাই, আমরা আপনার নিকট মসিহিদদাজ্জালের ফিতনা থেকে আশ্রয় চাই, আমরা আপনার নিকট জীবন ও মৃত্যুর ফিতনা থেকে আশ্রয় চাই।" (নাসায়ী)
মাসআলা-২৬৮: জাহান্নামের গরম থেকে আশ্রয় চাওয়ার দুআ:
عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا قَالَتْ : قَالَ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : «اللَّهُمَّ رَبَّ جِبْرَائِيلَ وَمِيكَائِيلَ، وَرَبَّ إِسْرَافِيلَ، أَعُوذُ بِكَ مِنْ حَرِّ النَّارِ، وَمِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ»
অর্থ: "আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলূল্লাহ বলেছেন: হে আল্লাহ জিবরীল, মিকাঈল ও ইসরাঈলের প্রভু! আমি আপনার নিকট জাহান্নামের গরম থেকে আশ্রয় চাই এবং কবরের আযাব থেকে আশ্রয় চাই।" (নাসায়ী ৮/৫৫১৯)
মাসআলা-২৬৯: শোয়ার পূর্বে আল্লাহর আযাব থেকে আশ্রয় কামনা করার দুআ:
عَنْ حَفْصَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ إِذَا أَرَادَ أَنْ يَرْقُدَ وَضَعَ يَدَهُ الْيُمْنَى تَحْتَ خَذِهِ ثُمَّ يَقُولُ: «اللَّهُمَّ قِنِي عَذَا بَكَ يَوْمَ تَبْعَثُ عِبَادَكَ
অর্থ: "হাফসা (রা) রাসূলুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি যখন শোয়ার ইচ্ছা করতেন তখন ডান হাত স্বীয় গালের নিচে রেখে বলতেন: হে আল্লাহ যেদিন আপনি আপনার বান্দাদেরকে উঠাবেন, সেদিন আমাকে স্বীয় আযাব থেকে রক্ষা করবেন।" (আবু দাউদ ৪/৫০৪৫)
عَنِ ابْنِ عُمَرَ رَضِى اللهُ عَنْهُمَا أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَقُولُ إِذَا أَخَذَ مَضْجَعَهُ: «الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي كَفَانِي وَآوَانِي، وَأَطْعَمَنِي وَسَقَانِي وَالَّذِي مَنَّ عَلَيَّ فَأَفْضَلَ، وَالَّذِي أَعْطَانِي فَأَجْزَلَ الْحَمْدُ لِلَّهِ عَلَى كُلِّ حَالٍ اللَّهُمَّ رَبَّ كُلِّ شَيْءٍ وَمَلِيكَهُ وَإِلَهَ كُلِّ شَيْءٍ ، أَعُوذُ بِكَ مِنَ النَّارِ»
অর্থ: "ইবনে ওমার (রা) রাসূলুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি যখন বিছানায় শুইতে যেতেন তখন আল্লাহর শুকুর করে বলতেন, যিনি আমাকে সমস্ত মুসিবত থেকে রক্ষা করেছেন, আমাকে বাসস্থানের ব্যবস্থা করেছেন, আমাকে পানাহার করিয়েছেন, ঐ সত্তার শুকুর যিনি যখন আমার প্রতি অনুগ্রহ করেছেন তখন যথেষ্ট পরিমাণে তা করেছেন, যখন আমাকে দান করেছেন তখনও যথেষ্ট পরিমাণে করেছেন, সর্বাবস্থায় শুধু তাঁরই কৃতজ্ঞতা, হে আল্লাহ! সবকিছুর রব, সবকিছুর মালিক, সবকিছুর ইলাহ, আমি জাহান্নাম থেকে তোমার নিকট আশ্রয় চাই।" (আবু দাউদ ৪/৫০৫৮)
মাসআলা-২৭০: তাহাজ্জুদের নামাযে আল্লাহর আযাব থেকে আশ্রয় চাওয়ার দোয়া:
عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا قَالَتْ : فَقَدْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَيْلَةً مِنَ الْفِرَاشِ فَالْتَمَسْتُهُ فَوَقَعَتْ يَدِي عَلَى بَطْنِ قَدَمَيْهِ وَهُوَ فِي الْمَسْجِدِ وَهُمَا مَنْصُوبَتَانِ وَهُوَ يَقُولُ: «اللَّهُمَّ أَعُوذُ بِرِضَاكَ مِنْ سَخَطِكَ، وَبِمُعَافَاتِكَ مِنْ عُقُوبَتِكَ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنْكَ لَا أُحْصِي ثَنَاءً عَلَيْكَ أَنْتَ كَمَا أَثْنَيْتَ عَلَى نَفْسِكَ»
অর্থ: "আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি এক রাতে রাসূলুল্লাহ -কে বিছানায় অনুপস্থিত পেয়ে তাঁকে খুঁজতে লাগলাম, তখন আমার হাত রাসূলের পায়ের পাতায় লাগল যা দাড় করানো অবস্থায় ছিল। তখন তিনি মসজিদে ছিলেন, (আর সেজদা অবস্থায়) তিনি এ দুয়া পড়তেছিলেন: হে আল্লাহ! আমি তোমার সন্তুষ্টির মাধ্যমে তোমার অসন্তুষ্টি থেকে আশ্রয় চাই। তোমার ক্ষমার ওসীলায় তোমার আযাব থেকে আশ্রয় চাই। আর আমি প্রত্যেক বিষয়ে তোমার নিকটই আশ্রয় চাই। আমি তোমার প্রশংসা ও গুণগান করার ক্ষমতা রাখিনা তোমার প্রশংসা তেমনই যেমন তুমি করেছ।" (মুসলিম ১/৪৮৬)
মাসআলা-২৭১: জাহান্নামের আযাব থেকে বাঁচার জন্য নিম্নের দুয়াটি বেশি বেশি করে পাঠ করা উচিত:
عَنْ أَنَسٍ رَضِى اللهُ عَنْهُ قَالَ كَانَ أَكْثَرُ دَعَاءِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ «اللَّهُمَّ آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الْآخِرَةِ حَسَنَةً، وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ
অর্থ: "আনাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: নবী বেশির ভাগ এদুয়া করতেন যে, হে আল্লাহ! তুমি আমাকে দুনিয়াতেও কল্যাণ দাও এবং পরকালেও কল্যাণ দাও এবং আমাকে জাহান্নামের আযাব থেকে রক্ষা কর।" (মুসলিম)
মাসআলা-২৭২: এক সাথে কম পক্ষে তিন বার জাহান্নাম থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাওয়া উচিত:
নোট: ৩৪৪ নং মাসআলার হাদীস দ্রষ্টব্য।

টিকাঃ
১২৮. আবওয়াবুন ন্নাউম মা ইয়াকুলু ইন্দান্নাউম। বাবুল ইস্তেয়াজা মিন ফিতনাতিল মাহইয়া ওয়াল মামাত।
১২৯. কিতাবুল ইস্তেয়াজা বিন হাররিন্নার। (৩/৫০৯২)
১৩০. আবওয়াবুন্নাউম, মা ইয়াকুলু ইন্দান্নাউম (৩/৪২১৮)
১৩১. প্রাগুক্ত (৩/৪২২৯)
১৩২. কিতাবুস্সালা বাবা মা যুকালু ফির রুকু ওয়াস্ সুজুদ।
১০০. কিতাবুয যিকর ওয়াদ্দুমা, ওয়াত্ তাওবা, বাব ফাযলি দ্‌ দুয়া বি আল্লাহুম্মা ফিদ্দুনইয়া হাসানা।

📘 মৃত্যুর পরে অনন্ত জীবন > 📄 বিভিন্ন মাসায়েল

📄 বিভিন্ন মাসায়েল


মাসআলা-২৭৩: আল্লাহর দয়া ও অনুগ্রহ ব্যতীত কেউ জাহান্নামের আযাব থেকে রক্ষা পাবে না:
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «مَا مِنْ أَحَدٍ يُدْخِلُهُ عَمَلُهُ الْجَنَّةَ فَقِيلَ: وَلَا أَنْتَ؟ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ: «وَلَا أَنَا إِلَّا أَنْ يَتَغَمَّدَنِي رَبِّي بِرَحْمَةٍ»
অর্থ: "আবু হুরাইরা (রা) নবী থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: এমন কোনো ব্যক্তি নেই যাকে তার আমল জান্নাতে প্রবেশ করাবে, জিজ্ঞেস করা হলো আপনি? হে আল্লাহর রাসূল! তিনি বললেন: আমিও না, তবে যদি আমার রব আমাকে দয়া করে জান্নাত দেন।” (মুসলিম ৪/২৮১৬)১৩৫
মাসআলা-২৭৪: তাওহীদ বাদী, মুত্তাকী, সৎ লোকদের সাক্ষি, কারও জন্য জান্নাতী বা জাহান্নামী হওয়ার পরিচয়:
عَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ أَبِي زُهَيْرِ الثَّقَفِي هِ عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: خَطَبَنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِالنَّبَاوَةِ، أَوِ الْبَنَاوَةِ، قَالَ: وَالنَّبَاوَةُ مِنَ الطَّائِفِ قَالَ: «يُوشِكُ أَنْ تَعْرِفُوا أَهْلَ الْجَنَّةِ مِنْ أَهْلِ النَّارِ» ، قَالُوا : بِمَ ذَاكَ؟ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ: «بِالثَّنَاءِ الْحَسَنِ، وَالثَّنَاءِ السَّيِّئِ، أَنْتُمْ شُهَدَاءُ اللَّهِ بَعْضُكُمْ عَلَى بَعْضٍ»
অর্থ: "আলী বিন বকর বিন যুহাইর আস সাকাফী (রা) তার পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন আমাদেরকে নবী একদা তায়েফের নিকটবর্তী নাবাওয়া বা বানাওয়া নামক স্থানে একটি খুতবা প্রদান করলেন। তিনি বললেন: খুব শীঘ্রই এমন এক সময় আসবে যখন তোমরা জান্নাতী বা জাহান্নামী সম্পর্কে জানতে পারবে। সাহাবাগণ জিজ্ঞেস করল হে আল্লাহর রাসূল! তা কিভাবে? তিনি বললেন: লোকদের ভাল বা মন্দ প্রশংসার মাধ্যমে। তোমরা একে অপরের ব্যাপারে আল্লাহর সাক্ষি হবে।" (ইবনে মাযা ২/৪২২১)১৩৬
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : «أَهْلُ الْجَنَّةِ. مَنْ مَلَأُ اللَّهَ أُذُنَيْهِ مِنْ ثَنَاءِ النَّاسِ خَيْرًا ، وَهُوَ يَسْمَعُ، وَأَهْلُ النَّارِ، مَنْ مَلَا اللهُ أُذُنَيْهِ مِنْ ثَنَاءِ النَّاسِ شَرًّا ، وَهُوَ يَسْمَعُ»
অর্থ: "ইবনে আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: রাসূলুল্লাহ বলেছেন: জান্নাতী ঐ ব্যক্তি যে মানুষের নিকট থেকে স্বীয় প্রশংসা শুনতে শুনতে তার কান ভরে যাবে। আর জাহান্নামী ঐ ব্যক্তি যে মানুষের নিকট থেকে নিজের দোষ শুনতে শুনতে তার কান ভরে যাবে।” (ইবনে মাযা ২/৪২২৪)১৩৭
মাসআলা-২৭৫: প্রচন্ড গরম ও অধিক ঠান্ডা জাহান্নামের দু'টি শ্বাসের কারণে হয়: গরম শ্বাস জাহান্নামের গরম অংশ থেকে আর ঠান্ডা শ্বাস জাহান্নামের ঠান্ডা অংশ থেকে হয়ে থাকে:
নোট: এ সংক্রান্ত হাদীসটি ৪৯নং মাসআলা দ্রষ্টব্য।
মাসআলা-৩৫৫: মু'মিনের জন্য জ্বর জাহান্নামের অংশ:
عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الحُمَّى حَظَّ كُلِّ مُؤْمِنِ مِنَ النَّارِ (رَوَاهُ الْبَزَّارُ)
অর্থ: "আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: রাসূলুল্লাহ বলেছেন: জ্বর প্রত্যেক মু'মিনের জন্য জাহান্নামের অংশ।” (বাযযার)১৩৮
মাসআলা-২৭৬: কিছু কিছু কালিমা পড়া মুসলমানদের সমস্ত শরীর আগুন জ্বালিয়ে দিবে:
عَنْ جَابِرٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : «يُعَذِّبُ نَاسٌ مِنْ أَهْلِ التَّوْحِيدِ فِي النَّارِ حَتَّى يَكُونُوا فِيهَا حُمَمًا ثُمَّ تُدْرِكُهُمُ الرَّحْمَةُ فَيُخْرَجُونَ وَيُطْرَحُونَ عَلَى أَبْوَابِ الْجَنَّةِ» قَالَ: «فَيَرُشُّ عَلَيْهِمْ أَهْلُ الْجَنَّةِ المَاءَ فَيَنْبُتُونَ كَمَا يَنْبُتُ الْغُثَاءُ فِي حِمَالَةِ السَّيْلِ ثُمَّ يَدْخُلُونَ الْجَنَّةَ»
অর্থ: "জাবের (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: রাসূলুল্লাহ বলেছেন: তাওহীদ বাদীদের মধ্য থেকে কিছু লোককে জাহান্নামের শাস্তি দেয়া হবে। এমন কি তারা আগুনে জ্বলে কয়লা হয়ে যাবে। এরপর তারা আল্লাহর রহমত লাভ করবে, তখন তারা জাহান্নাম থেকে বের হবে। এরপর তাদেরকে জান্নাতের দরজায় এনে বসানো হবে, জান্নাতবাসীরা তাদেরকে পানি প্রবাহিত করে দিবে, তখন তারা উঠে দাঁড়াবে, যেমন কোনো বীচ বন্যার পানিতে ভেসে এসে চারা জন্মায়। এরপর তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে।” (তিরমিযী ৪/২৫৯৭)১৩৯
মাসআলা-২৭৭: জাহান্নামের স্থান সমুদ্র:
عن يعلى رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّ الْبَحْرَ هُوَ جَهَنَّمُ .
অর্থ: "ইয়ালা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: রাসূলুল্লাহ বলেছেন: নিশ্চয়ই সমুদ্র জাহান্নামের স্থান।” (হাকেম) ১৪০
নোট: কুরআনে আল্লাহ তাআলা এরশাদ করেছেন:
وَإِذَا الْبِحَارُ سُجِّرَتُ
অর্থ: "এবং সমুদ্রগুলোর যখন উপ-প্লাবিত-উদ্বেলিত করা হবে।" (সূরা তাকভীর: ৬)
অন্য আয়াতে এরশাদ হয়েছে:
وَإِذَا الْبِحَارُ فُجِّرَتْ
আর সমুদ্রগুলো যখন উদ্বেলিত করা হবে।" (সূরা ইনফিতার: ৩)
এ উভয় আয়াত থেকে একথা প্রমাণিত হয় যে, কিয়ামতের দিন সমস্ত সমুদ্র এক স্থানে একত্র করে দেয়া হবে, আর পানি তার মূল রূপে অর্থাৎ দুই ভাগ হাইড্রোজেন এবং এক ভাগ অক্সিজেনে পরিণত করা হবে, যার ফলে আগুন উত্তপ্ত হয়ে উঠবে, উল্লেখ্য হাইড্রোজেন নিজেই আগুন দ্বারা উত্তপ্ত হওয়া গ্যাস। আর অক্সিজেন আগুনকে উত্তপ্ত করতে সহযোগিতা করে। এসময় জান্নাত ও জাহান্নাম এ উভয়ই মওজুদ আছে। অতএব রাসূলুল্লাহ -এর বাণীর এ অর্থ হতে পারে যে, কিয়ামতের দিন জাহান্নামকে উত্তপ্ত করে সমুদ্রের ওপর রেখে দেয়া হবে। যাতে করে জাহান্নামের আগুন আরো উত্তপ্ত হয়। এরপর এ সমুদ্রের স্থানে জাহান্নামকে স্থাপিত করা হবে। (আল্লাহই এর সঠিকতা সম্পর্কে সর্বাধিক অবগত)

টিকাঃ
১৩৫ কিতাব সিফাতুল মুনাফেকীন, বাব লানয়দখিলাল জান্না আহাদুন বি আমালিহি।
১৩৬ কিতাবুয যুহদ বাব সানাউল হাসান (২/২৪০০)
১৩৭ প্রাগুক্ত (২/৩৪০৩)
১৩৮ সহীহ আল জামে' আস সাগীর, লি আলবানী, খ. ৩, হাদীস নং-৩১৮২।
১৩৯ সিফাতু আবওয়াবি জাহান্নام, বাব মা যায়া আন্না লিল্লারি নাফاسাইন। (২/২০৯৪)
১৪০ কিতাবুল আহওয়াল হাদীস নং-৮৭।

📘 মৃত্যুর পরে অনন্ত জীবন > 📄 কিছু অজানা আযাব

📄 কিছু অজানা আযাব


কুরআন ও হাদীসে আগুন ব্যতীত অন্যান্য বহু প্রকার আযাবের যেখানে সাধারণ বর্ণনা হয়েছে, সেখানে কোনো কোনো গুনাহর বিশেষ বিশেষ আযাবের উল্লেখও করা হয়েছে। কিন্তু এর সাথে সাথে আল্লাহ তা'আলা একথাও উল্লেখ করেছেন:
وَآخَرُ مِنْ شَكْلِهِ أَزْوَاجٌ
অর্থ: "আরো আছে এরূপ বিভিন্ন ধরনের শাস্তি"। (সূরা সোয়াদ: ৫৮) আবার কোথাও শুধু
عَذَابٌ أَلِيمٌ) অর্থ: "বেদনাদায়ক আযাব"। আবার কোথাও
عَذَابٌ عَظِيمٌ) "প্রকাণ্ড আযাব" আবার কোথাও
(عَذَابٌ شَدِيدٌ) "কঠিন আযাব" বলেই শেষ করা হয়েছে।
"এরূপ বিভিন্ন ধরনের শাস্তি"। "বেদনাদায়ক আযাব" "প্রকাণ্ড আযাব" "কঠিন আযাব" ইত্যাদি কি ধরনের হবে তার সঠিক জ্ঞান একমাত্র আল্লাহই ভাল রাখেন। মনে হচ্ছে যে, জেলখানায় যেমন সন্ত্রাসীদের শাস্তি সুনির্দিষ্ট থাকে, কিন্তু এর পরও কিছু কিছু বড় বড় সন্ত্রাসীদের ব্যাপারে, অফিসাররা কোনো কোনো সময় শুধু বলে দেয় যে, অমুক সন্ত্রাসীকে ইচ্ছামত শিক্ষা দাও। আর জল্লাদ ভাল করেই জানে যে, এ নির্দেশের মাধ্যমে অফিসারদের উদ্দেশ্য কি এবং এ ধরনের সন্ত্রাসীদেরকে শিক্ষা দেয়ার কি ব্যবস্থা আছে। এমনিভাবে আল্লাহ কাফিরদের বড় বড় নেতাদেরকে শিক্ষা দেয়ার জন্য, শুধু এতটুকু বলেছেন যে, অমুক অমুক মুজরেমকে বেদনাদায়ক শাস্তি দেয়া হবে। জাহান্নামের প্রহরী ভাল করে জানে যে, বেদনাদায়ক শাস্তি দেয়ার কি কি পদ্ধতি আছে। আর যে মুজরেম প্রকাণ্ড আযাবের হকদার, তাকে প্রকাণ্ড আযাব কিভাবে দিতে হবে, তাও তাদের জানা আছে। (এ ব্যাপারে আল্লাহই ভাল জানেন)
এ হলো ঐ জাহান্নাম এবং তার শাস্তি যা থেকে সতর্ক করার জন্য আল্লাহ ও রাসূল ভয় প্রদর্শনকারী রূপে প্রেরিত হয়েছিলেন। আর তিনি লোকদেরকে ভয় প্রদর্শন করতে কোনো প্রকার ত্রুটি করেন নি। লোকদেরকে বারবার সতর্ক করেছেন যে,
اتَّقُوا النَّارَ وَلَوْ بِشِقِّ تَمَرَةٍ فَمَنْ لَمْ يَجِدُ فَبِكَلِمَةٍ طَيِّبَةٍ
অর্থ: "একটি খেজুরের (সামান্য) অংশ দান করার বিনিময়ে হলেও জাহান্নাম থেকে বাঁচ। আর যার পক্ষে এতটুকুও সম্ভব নয়, সে যেন ভাল কথা বলার মাধ্যমে তা থেকে বাঁচে।" (মুসলিম)
অর্থাৎ, জাহান্নাম থেকে বাঁচা এতই গুরুত্বপূর্ণ যে, যার নিকট দান করার মত কোনো কিছুই নেই, সে যেন একটি খেজুরের একটু অংশ দান করে, জাহান্নাম থেকে নিজেকে বাঁচায়। আর যার পক্ষে তাও সম্ভব নয়, সে যেন ভাল কথা বলার মাধ্যমে নিজেকে তা থেকে বাঁচানোর জন্য চেষ্টা করে।
রাসূল -এর বাণীর শেষ অংশটি "যার নিকট খেজুরের একটি টুকরাও নেই" একথা প্রমাণ করছে যে, তিনি তার উম্মতকে জাহান্নাম থেকে বাঁচানোর জন্য কত আগ্রহী ও সু-কামনা করতেন। আবদুল্লাহ বিন আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত, "তিনি বলেন: রাসূল আমাদেরকে জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচার দোয়া এমনভাবে শিখাতেন, যেমন কুরআন মাজীদের সূরা শিখাতেন।" (নাসায়ী)
মালেক বিন দিনার (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: যদি আমার নিকট কোনো সাহায্যকারী থাকত তাহলে আমি তাকে সমগ্র পৃথিবীতে আহ্বানকারী রূপে পাঠাতাম যে, সে ঘোষণা করবে যে, হে লোকেরা! জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচ। হে লোকেরা! জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচ। সমগ্র পৃথিবীতে না হোক, অন্তত এতটুকুতো আমরা প্রত্যেকে করতে পারি যে, নিজের সন্তান-সন্ততিদেরকে জাহান্নাম থেকে সতর্ক করি। নিজের আত্মীয়-স্বজনদেরকে জাহান্নাম থেকে সতর্ক করি। নিজের বন্ধু-বান্ধব, পাড়া-প্রতিবেশীদেরকে জাহান্নামের আগুন থেকে সতর্ক করি। যে হে লোকেরা! খেজুরের একটি টুকরা দান করার মাধ্যমে হলেও জাহান্নাম থেকে বাঁচ, আর তা সম্ভব না হলে ভাল কথার মাধ্যমে তা থেকে বাঁচ। (মুসলিম)।

📘 মৃত্যুর পরে অনন্ত জীবন > 📄 শাস্তির পরিমাণ থাকা চাই!

📄 শাস্তির পরিমাণ থাকা চাই!


জাহান্নামের আগুন ও তার বিভিন্ন প্রকার শাস্তির কথা অধ্যয়নের সময় মানুষের পশম দাঁড়িয়ে যায় এবং মনের অজান্তেই জাহান্নাম থেকে মুক্তি কামনা করতে থাকে। কিন্তু সাথে সাথে একথাও মনে পড়ে যে, জীবনের সমস্ত গুনাহ যতই হোকনা কেন এ গুনাহসমূহের শাস্তির জন্য একটি পরিসীমা থাকা দরকার ছিল। আর ঐ সত্তা যিনি স্বীয় বান্দাদের প্রতি অত্যন্ত দয়াবান, তিনি সবসময়ের জন্য কি করে মানুষকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করবেন? এ প্রশ্নের উত্তর খোঁজার আগে প্রথমে আল্লাহর শাস্তি ও সাজা সম্পর্কে, একটি নিয়ম আমরা পাঠকদের দৃষ্টি গোচর করতে চাই যে, রাসূল বলেছেন: যে ব্যক্তি মানুষকে হেদায়েতের পথে আহ্বান করে, তার আমলনামায় ঐ সমস্ত লোকদের আমলের সমান সওয়াব লেখা হবে, যারা তার আহ্বানে হেদায়েত প্রাপ্ত হয়েছে। অথচ তাদের (পরস্পরের) সওয়াবের মধ্যে মোটেও কমতি হবে না। এমনিভাবে যে ব্যক্তি মানুষকে গোমরাহির পথে আহ্বান করে, তার আমলনামায় ঐ সমস্ত লোকদের গুনাহর সমান গুনাহ লিখা হবে, যারা তার আহ্বানে সাড়া দিয়ে পাপে লিপ্ত হয়েছে অথচ গুনাহকারীদের পরস্পরের গুনাহর মধ্যে কোনো কমতি হবে না। (মুসলিম)
এ নিয়মের বিস্তারিত বর্ণনা হাবীল কাবীলের ঘটনার মাধ্যমেও স্পষ্ট হয়। যে ব্যাপারে নবী বলেছেন: পৃথিবীতে কোনো ব্যক্তি অন্যায়ভাবে নিহত হলে আদম (আ)-এর প্রথম সন্তান কাবীল (হত্যাকারী) ও ঐ গুনাহর ভাগী হবে। কেননা সে সর্বপ্রথম হত্যার প্রথা চালু করেছে। (বুখারী ও মুসলিম)
এ নিয়মের আলোকে একজন কাফির শুধু তার নিজের পাপের সাজাই ভোগ করবে না, বরং তার সন্তান, সন্তানদের সন্তান...... এমনকি কিয়ামত পর্যন্ত তার বংশে যত কাফির জন্মগ্রহণ করবে এ সমস্ত কাফিরদের কুফরীর সাজা, প্রথম কাফির পাবে, যে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল -কে মানতে অস্বীকার করেছে। সাথে সাথে এ সমস্ত কাফিররা তাদের স্ব স্ব কুফরীর সাজাও পাবে। এ আচরণ ঐ সমস্ত কাফিরের সাথে করা হবে, যারা তাদের সন্তানদেরকে কুফরীর সবক দিয়েছে এবং কুফরীর ওপর অটল রেখেছে। এ নিয়মের আলোকে প্রত্যেক কাফিরের পাপের সূচী এত বৃহৎ মনে হয় যে, জাহান্নামে তার চিরস্থায়ী ঠিকানা ন্যায়পরায়ণতার আলোকে সঠিক বলেই স্পষ্ট হয়। এতো গেল ব্যক্তিগত একক কুফরীর কথা, কোনো রাষ্ট্র, বা সমগ্র পৃথিবীতে তা প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করে, তাহলে এ সম্মিলিত চেষ্টা প্রচেষ্টা তার মূল গুনাহর সাথে আরো গুনাহ বৃদ্ধির কারণ হবে। আর এ বৃদ্ধির পরিমাপ ঐ বিষয়ের ওপর নির্ভর করবে যে, এ সম্মিলিত চেষ্টা-প্রচেষ্টার ফলে কত লোক পথভ্রষ্ট হয়েছে। আর এ আন্দোলনকে প্রচার করার জন্য কত কত এবং কি কি পাপ করা হয়েছে।
যেমন- লেলিন কমিউনিজম নামক ভ্রান্ত মতবাদ আবিষ্কার করেছিল, এরপর ঐ ভ্রান্ত মতবাদকে বিভিন্ন দেশে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য লাখ লাখ মানুষ নির্দ্বিধায় হত্যা করেছে। প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিকারী লাখ মানুষের ওপর নির্যাতনের পাহাড় চালিয়েছে। শহর কি শহর, গ্রাম কি গ্রাম পদদলিত করা হয়েছে। মুসলিম অধ্যুসিত এলাকাসমূহে ইসলামের রাস্তা বন্ধ করার জন্য সর্বপ্রকার হাতিয়ার ব্যবহার করা হয়েছে। আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের নাম নেয়াতে নিয়মানুবর্তিতা, আযানে নিয়মানুবর্তীতা, নামাযে নিয়মানুবর্তিতা, কুরআনে নিয়মানুবর্তিতা, মসজিদ ও মাদরাসায় নিয়মানুবর্তিতা, আলেম উলামাদের প্রতি দূরাচরণ। এ সমস্ত অপরাধ লেলিনের গুনাহ বৃদ্ধির কারণ হবে। সে শুধু তার বংশগত কাফিরদের কুফরিরই জিম্মাদার নয়, বরং অসংখ্য মানুষকে পথভ্রষ্ট করার পাপের বোঝা বহন করে কিয়ামতের দিন উপস্থিত হবে। হত্যা, মরামারি, পৃথিবীতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পাপের সূচীও তার বদ আমলের সাথে সম্পৃক্ত হবে। সর্বশেষ এ ধরনের ইসলামের শত্রু কট্টর কাফিরের জন্য জাহান্নামের চেয়ে অধিক উপযুক্ত স্থান আর কি হতে পারে?
১৮৪৬ ইং মার্চ মাসে মহারাজা গোলব শিং কাশ্মীর খরিদ করে, তার জোরপূর্বক শাসন প্রতিষ্ঠার চেষ্টা শুরু করল। তখন দু'জন নেতৃস্থানীয় মুসলমান মল্লি খান এবং সবজ আলী খাঁন, তার প্রতিবাদ জানাল। তখন গোলব শিং এ উভয় নেতাকে উল্টা করে ঝুলিয়ে, জীবন্ত অবস্থায় তাদের চামড়া ছিলার নির্দেশ দিল। এ দৃশ্য এত ভয়ানক ছিল যে, গোলাব শিংয়ের ছেলে রামবীর শিং সহ্য না করতে পেরে দরবার থেকে উঠে গেল, তখন গোলাব শিং তাকে ডাকিয়ে বলল: যদি তোমার মধ্যে এ দৃশ্য দেখার মত সাহস না থাকে, তাহলে তোমাকে যুবরাজের পদ থেকে হটিয়ে দেয়া হবে। ইসলাম ও মুসলমানদের দুশমনীর এ ধরনের শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের উপযুক্ত শাস্তি, জাহান্নামের আগুন ব্যতীত আর কি হতে পারে?
ভারত বিভক্তির সময় লর্ড, মাউন্টবেটিন, স্যার, পেটিল, হেজাক্সী লেন্সী, নেহেরু, আনজহানী, গান্ধীরা জেনে বুঝে যেভাবে ইসলামের শত্রুতার ঝড় তুলে, নির্দ্বিধায় মুসলমানদেরকে হত্যা করিয়েছে, মুসলিম মহিলাদের ইজ্জত হরণ করেছে, মাসুম বাচ্চাদেরকে কতল করেছে এর প্রতিশোধ যতক্ষণ পর্যন্ত জাহান্নামের আগুন, তার সাপ, বিচ্ছুরা না নিবে, ততক্ষণ পর্যন্ত নিরাপরাধে নিহত মুসলমান, পবিত্র মুসলিম মহিলা, মাসুম মুসলিম বাচ্চাদের কলিজা কি করে ঠাণ্ডা হবে? এমনিভাবে বসনিয়া, কসোেভা, সিসান ইত্যাদি।
অতএব ঐ মহাজ্ঞানী অভিজ্ঞ সত্তা যিনি মানুষের অন্তরের গোপন আকাঙ্খার খবর রাখেন, কাফিরের জন্য যত শাস্তি প্রস্তুত করে রেখেছেন, তা কাফিরের উপযুক্ত শাস্তি, তার প্রাপ্যের চেয়ে বিন্দু পরিমাণ কমও হবে না আবার বেশিও না। বরং ন্যায়পরায়ণতার ভিত্তিতে তার উপযুক্ত শাস্তিই হবে। আর আল্লাহ যিনি তার সমস্ত সৃষ্টি জীবের জন্য কোনো পার্থক্যহীনভাবে, অত্যন্ত দয়ালু তিনি কারো ওপর বিন্দু পরিমাণ জুলুম করেন না।
وَلَا يَظْلِمُ رَبُّكَ أَحَداً
অর্থ: "তোমার রব কারো ওপর বিন্দু পরিমাণ জুলুম করেন না।" (সূরা কাহাফ: ৪৯)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00