📘 মৃত্যুর পরে অনন্ত জীবন > 📄 জাহান্নাম ও পূর্ববর্তীগণ

📄 জাহান্নাম ও পূর্ববর্তীগণ


মাসআলা-২৪৮: ওমর বিন আবদুল আযীয (রা) জাহান্নামের বেড়ী ও জিঞ্জীর সংক্রান্ত আয়াতটি বার বার তেলাওয়াত করে করে রাত ভর কাঁদতেন:
عُمَرُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ رَحْمَةُ اللهِ كَانَ يُصَلِّي ذَاتَ لَيْلَةٍ فَقَرَأَ إِذِ الْأَغْلَالُ فِي أَعْنَاقِهِمْ وَالسَّلَاسِلُ يُسْحَبُونَ فِي الْحَمِيمِ ثُمَّ فِي النَّارِ يُسْجَرُونَ فَجَعَلَ يُرَدِّدُهَا وَيَبْكِي حَتَّى أَصْبَحَ
অর্থ: "ওমার বিন আবদুল আযীয (রা) একদা তাহাজ্জুদ নামায পড়তেছিলেন, যখন তিনি এ আয়াত "যখন তাদের গলদেশে বেড়ি ও শৃঙ্খল থাকবে তাদেরকে টেনে নিয়ে যাওয়া হবে। ফুটন্ত পানিতে, এরপর তাদেরকে দগ্ধ করা হবে অগ্নিতে।) (সূরা মু'মিন: ৭১-৭২)
মাসআলা-২৪৯: রাবী' বিন খাইসাম (রা) চুলার আগুন দেখে বেহুশ হয়ে যেতেন:
عَنْ أَبِي وَائِلٍ رَحِمَهُ اللَّهُ خَرَجْنَا مَعَ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ وَمَعَنَا الرَّبِيعُ بْنُ خُثَيْمٍ " فَمَرُّوا عَلَى حَدَادٍ فَقَامَ عَبْدُ اللَّهِ يَنْظُرُ إِلَى حَدِيدَةٍ فِي النَّارِ وَنَظَرَ الرَّبِيعُ بْنُ خُثَيْمٍ إِلَيْهَا فَتَمَايَلَ لِيَسْقُطَ فَمَرَّ عَبْدُ اللهِ عَلَى أَتُونٍ عَلَى شَاطِئِ الْفُرَاتِ فَلَمَّا رَآهُ عَبْدُ اللَّهِ وَالنَّارُ تَلْتَهِبُ فِي جَوْفِهِ قَرَأَ هَذِهِ الْآيَةَ: {إِذَا رَأَتُهُمْ مِنْ مَكَانٍ بَعِيدٍ سَمِعُوا لَهَا تَغَيْظًا وَزَفِيرًا } [الْفُرْقَانُ: ] الْآيَةَ صَعِقَ فَحَمَلُوهُ إِلَى أَهْلِهِ وَرَا بَطَهُ عَبْدُ اللَّهِ إِلَى الظُّهْرِ فَلَمْ يُفِقْ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ.
অর্থ: "আবু ওয়ায়েল (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: আমরা আবদুল্লাহ বিন মাসউদ (রা)-এর সাথে একদা বাহিরে বের হলাম, আমাদের সাথে রাবি' বিন খাইসামও ছিল, আবদুল্লাহ বিন মাসউদ ফুরাত নদীর তীরে একটি চুলার পাশ দিয়ে অতিক্রম করছিলেন, যখন সেখানে দেখলেন যে আগুন প্রজ্জ্বলিত হচ্ছে তখন তিনি এ আয়াত তেলাওয়াত করতে লাগলেন, "যখন জাহান্নাম কাফিরদেরকে দূর থেকে দেখবে, তখন তারা তার ক্রুদ্ধ গর্জন ও চিৎকার শুনতে পাবে।" এ কথা শুনে রাবি বিন খাইসাম বেহুশ হয়ে পড়ে গেল, লোকেরা তাকে খাটে উঠিয়ে বাড়িতে নিয়ে আসল। আবদুল্লাহ বিন মাসউদ তার নিকট সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বসে বসে তার হুশ ফিরানোর চেষ্টা করল কিন্তু তার হুশ ফিরল না।"
মাসআলা-২৫০: সমস্ত দুনিয়াকে জাহান্নাম সম্পর্কে সতর্ক করার আগ্রহ:
قَالَ مَالِكَ بْنَ دِينَارٍ ، رَحِمَهُ اللَّهُ لَوِ اسْتَطَعْتُ أَنْ لَا أَنَامَ لَمْ أَنَمْ مَخَافَةَ أَنْ يَنْزِلَ الْعَذَابُ وَأَنَا نَائِمْ وَلَوْ وَجَدْتُ أَعْوَانًا لَفَرَّقْتُهُمْ يُنَادُونَ فِي سَائِرِ الدُّنْيَا كُلِّهَا : يَا أَيُّهَا النَّاسُ النَّارَ النَّارَ (رَوَاهُ أَبُو نُعَيْمٍ فِي الْحُلِيَّةِ)
অর্থ: "মালেক বিন দিনার (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: যদি আমার পক্ষে সম্ভব হত যে আমি না ঘুমিয়ে থাকব, তবে আমি তা করতাম, আর তা এ আশঙ্কায় যে, কখনো ঘুমন্ত অবস্থায় যেন আল্লাহর আযাব আমার ওপর পতিত না হয়। যদি আমার নিকট সাহায্যকারী থাকত, তাহলে আমি তাদেরকে সারা দুনিয়ায় পাঠাতাম যে, তারা যেন এ আহ্বান করে যে, হে লোকেরা! জাহান্নাম থেকে সতর্ক হও। হে লোকেরা! জাহান্নাম থেকে সতর্ক হও।" (আবু নুআইম হুলইয়া)
মাসআলা-২৫১: সুফিয়ান সাওরী পরকালের স্মরণে এত সন্ত্রস্ত হতেন যে তাতে তার রক্ত পেসাব শুরু হত:
قَالَ مُوسَى بْن مَسْعُودٍ رَحِمَةُ اللهِ كُنَّا إِذَا جَلَسْنَا إِلَى النُّورِي رَحْمَةُ اللَّهِ كَانَ قَدْ أَحَاطَتْ بِنَا لَمَّا نَرَى مِنْ خَوْفِهِ وَفَزَعِهِ وَكَانَ سُفْيَانُ إِذَا أَخَذَ فِي ذكْرِ الْآخِرَةِ يُولُ الدَّمُ
অর্থ: "মূসা বিন মাসউদ (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: যখন আমরা সুফিয়ান সাওরীর (রা) নিকট বসতাম, তখন তাকে ভীত সন্ত্রস্ত দেখে আমাদের মনে হত যেন আগুন আমাদেরকে ঘিরে রেখেছে। আর তিনি যখন পরকালের কথা স্মরণ করতেন তখন তার রক্ত পেসাব শুরু হত।"
মাসআলা-২৫২: মৃত্যু, কবর, কিয়ামত, পুলসিরাতের ভয়:
سُئِلَ عَطَاءُ السُّلَبِي رَحِمَهُ اللهُ مَا هَذَا الْحُزْنُ؟ قَالَ وَيْحَكَ الْمَوْتُ فِي عَنِقَى والقَبرُ بَيْتِي وَ فِي الْقِيَامَةِ مُوقَفَى وَعَلَى جَسْرٍ جَهَنَّمَ طَرِيقِي لَا أَدْرِي مَا يصنع بي.
অর্থ: "আতা আসসুলামী (রা)-কে জিজ্ঞেস করা হলো এ কিসের চিন্তা? তিনি বললেন: তোমার ধ্বংস হোক, (তুমি কি জান না) মৃত্যু আমার গর্দানে, কবর আমার ঠিকানা, কিয়ামতের দিন আমাকে আল্লাহর আদালতে দাঁড়াতে হবে। আর জাহান্নামের ওপর স্থাপিত পুলসিরাতের ওপর দিয়ে আমাকে অতিক্রম করতে হবে। আর আমি জানিনা যে, শেষ পর্যন্ত আমার কি হবে।"
মাসআলা-২৫৩: জাহান্নামের কথা স্মরণ হওয়ায় আবু মাইসারা (রা) বললেন: আফসোস! আমার মা যদি আমাকে প্রসব না করত:
كَانَ اَبُوْ مَيْسَرَةَ رَحِمَهُ اللهُ إِذَا اَوَى إِلَى فِرَاشِهِ قَالَ يَالَيْتَ اُمِّى لَمْ تَلِدْنِي ثُمَّ يَبْكِي فَقِيلَ لَهُ مَا يُبْكِيكَ؟ قَالَ: اَخْبِرْنَا اَنَّانَرِدُهَا وَلَمْ نُخْبَرْ اَنَّا صَادِرُوْنَ عَنْهَا
অর্থ: "আবু মাইসারা (র) যখন বিছানায় শুইতে যেতেন তখন বলতেন হায়! আফসোস আমার মা যদি আমাকে প্রসব না করত, আর কাঁদিতে শুরু করতেন, তাকে জিজ্ঞাসা করা হলো হে আবু মাইসারা কেন কাঁদছেন? তিনি বললেন: আমার একথা জানা আছে যে, আমাকে জাহান্নামের ওপর দিয়ে অতিক্রম করতে হবে, কিন্তু জানা নেই যে, আমার মুক্তি হবে কিনা।"
মাসআলা-২৫৪: জাহান্নামের স্মরণে জীবনের তরে হাসি বন্ধ:
عَنِ الْحَسَنِ الْبَصْرِيِّ رَحِمَهُ اللهُ قَالَ قَالَ رَجُلٌ لِاَخِيْهِ هَلْ اَتَاكَ اَنَّكَ وَارِدُ النَّارَ؟ قَالَ نَعَمْ قَالَ فَهَلْ اَتَاكَ اَنَّكَ صَادِرُ عَنْهَا؟ قَالَ لَا قَالَ فَفِيمَ الضَّحْكُ؟ قَالَ فَمَا رُئِيَ ضَاحِكًا حَتَّى لَحِقَ اللهَ.
অর্থ: "হাসান বসরী (র) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: এক সৎলোক তার ভাইকে জিজ্ঞাসা করল, তোমার কি জানা আছে যে, তোমাকে জাহান্নামের ওপর দিয়ে অতিক্রম করতে হবে? সে বলল: হ্যাঁ। সে আবার জিজ্ঞাসা করল তোমার কি একথা জানা আছে যে, তুমি সেখান থেকে মুক্তি পাবে? সে বলল: না। তখন ঐ সৎলোকটি বলল: তাহলে এ কিসের হাসি? এর পর থেকে মৃত্যু পর্যন্ত ঐ ব্যক্তি আর হাসে নি।"
মাসআলা-২৫৫ : বুদাইল বিন মাইসারা (রা) কিয়ামতের দিন কঠিন পিপাসার ভয়ে এত কাঁদলেন যে, তার রক্ত অশ্রু প্রবাহিত হতে লাগল:
بكي بديلُ بْنُ مَيْسَرَةَ رَحِمَهُ اللهُ حَتَّى قَرَحَتْ مَا فِيهِ فَكَانَ يُعَاتِبُ فِي ذَالِكَ فَيَقُولُ أَنَّمَا ابْكِي مِنْ طُولِ الْعَطَشِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ .
অর্থ: "বুদাইল বিন মাইসারা এত কাঁদত যে, চোখ দিয়ে বমি ও রক্ত প্রবাহিত হতে শুরু করত। সব সময় পরকালের ভয়ে ভীত সন্ত্রস্ত থাকত, আর বলত যে, আমি কিয়ামতের দিন কঠিন পিপাসার ভয়ে কাঁদছি।"
মাসআলা-২৫৬: মুহাম্মদ বিন মুনকাদের জাহান্নামের ভয়ে যখন কাঁদত তখন চোখের পানি দিয়ে চেহারা ও দাড়ি ভিজিয়ে দিত:
كَانَ مُحَمَّدُ بْنُ الْمُنْكَدِرِ رَحِمَهُ اللهُ إِذَا بَكَى مَسَحَ وَجْهَهُ وَلِحِيْتَهُ بِدُمُوعِهِ وَيَقُولُ بَلَغَنِي إِنَّ النَّارَ لَا تَأْكُلْ مَوْضَعَا مَّسَّتْهُ الدُّمُوعِ
অর্থ: "মুহাম্মদ বিন মুনকাদির (র) যখন কাঁদতেন তখন চোখের পানি দিয়ে স্বীয় চেহারা ও দাড়ি মুছে নিতেন, আর বলতেন: আমি শুনেছি (আল্লাহর ভয়ে) প্রবাহিত চোখের পানি যেখানে পৌঁছবে ঐ স্থান জাহান্নামের আগুন স্পর্শ করবে না।"
মাসআলা-২৫৭: আতা আস সুলামী (রা) তার প্রতিবেশীদের চুলার আগুন দেখে বেহুশ হয়ে গিয়েছিল:
دَخَلَ عَلَا بْنُ مُحَمَّدٍ عَلَى السُلَمِي رَحِمَهُ اللهُ وَقَدْ غَشِيَ عَلَيْهِ فَقَالَ لِامْرَأَتِهِ أَمْ جَعْفَر مَا شَانُ عَطَا فَقَالَتْ سَجَرَتْ جَارَتَنَا التَّنُورِ فَنَظَرَ إِلَيْهِ وَخَرَّ مَغْشِيَا عَلَيْهِ :
অর্থ: "আলা বিন মোহাম্মদ একদা আতা আসসুলাইমী (র)-এর নিকট এসে দেখলেন যে তিনি বেহুশ হয়ে আছেন, তখন তিনি তার স্ত্রী উম্মে জা'ফরকে জিজ্ঞেস করলেন, আতা আসসুলাইমীর কি হয়েছে? স্ত্রী বলল: আমাদের প্রতিবেশীরা চুলা জ্বালাচ্ছিল আর তা দেখে তিনি বেহুশ হয়ে গেছেন।"
মাসআলা-২৫৮: জাহান্নামের ভয়ে হাসান বসরী (র)-এর ক্রন্দন:
وَعِنْدَ مَا بَكَى الْحَسَنُ فَقِيلَ لَهُ مَا يُبْكِيكَ؟ قَالَ أَخَافُ يَطْرُ حَنِي غَدًا فِي النَّارِ وَلَا يُبَالِى
অর্থ: "হাসান বাসরী (র)-কে কাঁদতে দেখে জিজ্ঞেস করা হলো যে, কে তোমাকে কাঁদাচ্ছে? সে বলল: আমার ভয় হয় না জানি কিয়ামতের দিন আল্লাহ আমাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করেন। আল্লাহ তো কোনো কিছুর পরওয়া করেন না।"
মাসআলা-৩৩৭: ইয়াযিদ বিন হারুন (র)-এর উভয় চোখ কেঁদে কেঁদে অন্ধ হয়ে গিয়েছিল:
قَالَ الْحَسَنُ بْنُ عَرَفَةَ رَحِمَهُ اللهُ رَأَيْتُ يَزِيدَ بْنَ هَارُونَ رَحِمَهُ اللهُ مِنْ أَحْسَنَ النَّاسِ عَيْنَيْنِ ثُمَّ رَأَيْتُهُ بِعَيْنِ وَاحِدٍ ثُمَّ رَايَتُهُ أَعْمَى فَقُلْتُ يَا أَبَا خَالِدٍ مَا فَعَلَتْ الْعَيْنَانِ الْجَمِيلَتَانِ؟ قَالَ ذَهَبَ بِهَا بُكَاءَ الْأَسْحَارِ
অর্থ: "হাসান বিন আরাফা (র) বলেছেন: আমি ইয়াযিদ বিন হারুন (র)-কে দেখেছি যে, তার চোখ দু'টি খুব সুন্দর ছিল, কিছুদিন পর দেখলাম যে তার শুধু একটি চোখ, আরো কিছু দিন পর দেখলাম যে, তার দু'টি চোখই নষ্ট হয়ে গেছে। আমি জিজ্ঞেস করলাম হে আবু খালেদ! তোমার সুন্দর দু'টি চোখ কি হলো? সে বলল: কান্নাবিজড়িত রাত্রি জাগরণে তা নষ্ট হয়ে গেছে।"
মাসআলা-২৫৯: মৃত্যুর পূর্বে ঈমান নষ্ট হয়ে যাওয়ার ভয়:
قَالَ عَبْدُ الرَّحْمَانِ بن مَهْدِي رَحِمَهُ اللهُ بَاتَ سُفْيَانَ رَحِمَهُ اللَّهُ عِنْدِي فَلَمَّا أَشَدَّ بِهِ الْأَمْرِ جَعَلَ يَبْكِي فَقَالَ لَهُ رَجُلٌ يَا أَبَا عَبْدِ اللَّهِ أَرَاكَ كَثِير الذُّنُوبِ فَرَفَعَ شَيْئًا مِنَ الْأَرْضِ وَقَالَ وَاللَّهِ لَذُنُوبِي أَهْوَنُ عِنْدِي مِنْ ذَا إِنِي أَخَافُ أَنْ أَسْلَبَ الإِيمَانِ قَبْلَ أَنْ أَمُوتَ
অর্থ: "আবদুর রহমান বিন মাহদী (র) বলেন, সুফিয়ান (র) আমার নিকট রাত্রি যাপন করল, যখন তার ক্লান্তি এসে গেল তখন সে কাঁদতে লাগল। এক ব্যক্তি তাকে জিজ্ঞেস করল হে আবু আবদুল্লাহ! তুমি কি অধিক গুনাহর কারণে কাঁদতেছ? তখন সে মাটি থেকে একটি কিছু উঠিয়ে বলল: আল্লাহর কসম!
মাসআলা-২৬০: ওমার বিন আবদুল আযীয ইশার নামাযের পর থেকে ঘুম আসা পর্যন্ত আল্লাহর ভয়ে কাঁদতে থাকতেন:
قَالَتْ فَاطِمَةٌ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنَ مَرْوَانَ امْرَأَةَ عُمَرَ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ رَحِمَهُ اللَّهُ يكون في النَّاسِ مَنْ هُوَ أَكْثَرُ صَوْمًا وَصَلاةً مِنْ عُمَرَ وَمَا رَأَيْتُ أَحَدًا أَشَدَّ خوفًا مِنْ رَبِّهِ مِنْ عُمَرَ كَانَ إِذَا صَلَّى الْعِشَاءِ قَعَدَ فِي الْمَسْجِدِ ثُمَّ رَفَعَ يَدَيْهِ فَلَمْ يَزِلُ يبكى حَتَّى يَغْلِبُهُ النَّوْمُ ثُمَّ يَنْتَبهُ فَلَا يَزَالُ يَدْعُو رَافِعًا يَدَيْهِ يَبْغِي حَتَّى تَغْلِبَهُ عَيْنَاءُ
অর্থ: "ফাতেমা বিনতে আবদুল মালেক বিন মারওয়ান (র) যিনি ওমর বিন আবদুল আযীয (র)-এর স্ত্রী ছিলেন তিনি বলেছেন যে, লোকদের মধ্যে ওমর (রা) চেয়ে নামায রোযা অধিক পরিমাণে করার মত তো অনেকেই ছিল, কিন্তু আল্লাহর ভয়ে ক্রন্দনকারী আমি ওমর (রা)-এর চেয়ে অধিক আর কাউকে দেখি নি। যখন ইশার নামায শেষ হয়ে যেত তখন আল্লাহর নিকট হাত তুলে কাঁদতে থাকত এবং একাধারে ঘুম আসা পর্যন্ত কাঁদতে থাকত। যদি উঠানো হত তাহলে আবার হাত তুলে কাঁদতে শুরু করত। এমন কি ঘুম আসা পর্যন্ত কাঁদতে থাকত।"

টিকাঃ
১১৪. তাম্বীহুল গাফেলীন, ২/৬২০।
১১৫. ইবনে কাসীর (৩/১৪৫)
১১৬. ২/৬৯
১১৭. আল ইহইয়া (১৬৯)
১১৮. সাফওয়াতুস সাফওয়া (৩/৩২৭)
১১৯. ইবনে কাসীর (৩/১৭৯)
১২০. প্রাগুক্ত (৩/১৭৯)
১২১. সাফওয়াতুস সাফওয়া, ৩/২৬৫।
১২২. এহইয়া ৪/১৭২।
১২৩. সাফওয়াতুস সাফওয়া, ৩/৩২৬।
১২৪. তাযকিরাতুল হুফ্ফায (৩/৭৯০)
১২৫. সাফওয়াতুস সাফওয়া, (৩/১৫০)
১২৬. তাযকিরাতুল হুফ্ফায (১/১২০)

📘 মৃত্যুর পরে অনন্ত জীবন > 📄 চিন্তা করুন

📄 চিন্তা করুন


মাসআলা-২৬১: যে ব্যক্তি জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হবে সে উত্তম, না যে তা থেকে নিরাপত্তা পাবে সে উত্তম:
أَفَمَن يُلْقَى فِي النَّارِ خَيْرٌ أَمْ مَّن يَأْتِ آمِناً يَوْمَ الْقِيَامَةِ اعْمَلُوا مَا شِئْتُمْ إِنَّهُ بِمَا تَعْمَلُونَ بَصِيرٌ
অর্থ: "শ্রেষ্ট কে? যে ব্যক্তি জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হবে সে, না যে কিয়ামতের দিন নিরাপদে থাকবে সে! তোমাদের যা ইচ্ছা তা কর, তোমরা যা কর তিনি তার দ্রষ্টা।" (সূরা হা-মীম সেজদা: ৪০)
মাসআলা-২৬২: জাহান্নামের উত্তপ্ত আগুন দেখে মৃত্যুর ধ্বংস কামনাকারী ব্যক্তি উত্তম না ঐ ব্যক্তি উত্তম যে, এমন স্থানে থাকবে যেখানে তার সমস্ত ইচ্ছা পূরণ করা হবে:
وَأَعْتَدْنَا لِمَن كَذَّبَ بِالسَّاعَةِ سَعِيرًا إِذَا رَأَتْهُمْ مِّنْ مَّكَانٍ بَعِيدٍ سَمِعُوا لَهَا تَغَيُّظاً وَزَفِيرًا وَإِذَا أَلْقُوا مِنْهَا مَكَانَاً ضَيِّقاً مُقَرَّنِينَ دَعَوْا هُنَالِكَ ثُبُوراً لا تَدْعُوا الْيَوْمَ ثُبُوراً وَاحِداً وَادْعُوا ثُبُوراً كَثِيراً قُلْ أَذْلِكَ خَيْرٌ أَمْ جَنَّةُ الْخُلْدِ الَّتِي وُعِدَ الْمُتَّقُونَ كَانَتْ لَهُمْ جَزَاءً وَمَصِيرًا لَّهُمْ فِيهَا مَا يَشَاءُونَ خَالِدِينَ كَانَ عَلَى رَبِّكَ وَعْداً مَّسْئُولاً
অর্থ: বরং তারা কেয়ামতকে অস্বীকার করে এবং যে কেয়ামতকে অস্বীকার করে, আমি তার জন্যে অগ্নি প্রস্তুত করেছি। অগ্নি যখন দূর থেকে তাদেরকে দেখবে, তখন তারা শুনতে পাবে তার গর্জন ও হুঙ্কার। যখন এক শিকলে কয়েকজনকে বাঁধা অবস্থায় জাহান্নামের কোনো সংকীর্ণ স্থানে নিক্ষেপ করা হবে, তখন সেখানে তারা মৃতুকে ডাকবে। বলা হবে, আজ তোমরা এক মৃত্যুকে ডেকো না অনেক মৃত্যুকে ডাক। বলুন এটা উত্তম, না চিরকাল বসবাসের জান্নাত, যার সুসংবাদ দেয়া হয়েছে মুত্তাকীদেরকে? সেটা হবে তাদের প্রতিদান ও প্রত্যাবর্তন স্থান। তারা চিরকাল বসবাসরত অবস্থায় সেখানে যা চাইবে, তাই পাবে। এই প্রার্থিত ওয়াদা পূরণ আপনার পালনকর্তার দায়িত্ব। (সূরা ফুরকান ২৫:১১-১৬)
মাসআলা-২৬৩: জান্নাতের নিআমতসমূহের অতিথিয়তা উত্তম না যাক্কুম বৃক্ষ ও উত্তপ্ত পানি পান করা উত্তম:
إِنَّ هَذَا لَهُوَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ لِمِثْلِ هَذَا فَلْيَعْمَلِ الْعَامِلُونَ أَذَلِكَ خَيْرٌ نُزُلاً أَمْ شَجَرَةُ الزَّقُومِ إِنَّا جَعَلْنَاهَا فِتْنَةً لِلظَّالِمِينَ إِنَّهَا شَجَرَةٌ تَخْرُجُ فِي أَصْلِ ٱلْجَحِيمِ طَلْعُهَا كَأَنَّهُ رُءُوسُ ٱلشَّيَٰطِينِ فَإِنَّهُمْ لَـَٔاكِلُونَ مِنْهَا فَمَالِـُٔونَ مِنْهَا ٱلْبُطُونَ ثُمَّ إِنَّ لَهُمْ عَلَيْهَا لَشَوْبًا مِّنْ حَمِيمٍ
'নিশ্চয় এটি মহাসাফল্য!' এরূপ সাফল্যের জন্যই 'আমলকারীদের আমল করা উচিত। আপ্যায়নের জন্য এগুলো উত্তম না যাক্কুম বৃক্ষ? নিশ্চয় আমি তাকে যালিমদের জন্য করে দিয়েছি পরীক্ষা। নিশ্চয় এ গাছটি জাহান্নামের তলদেশ থেকে বের হয়। এর ফল যেন শয়তানের মাথা; নিশ্চয় তারা তা থেকে খাবে এবং তা দিয়ে পেট ভর্তি করবে। তদুপরি তাদের জন্য থাকবে ফুটন্ত পানির মিশ্রণ। (সূরা সাফফাত ৩৭:৬০-৬৭)
মাসআলা-২৬৪: দুনিয়াতে আনন্দ উপভোগকারী উত্তম না পরকালে:
إِنَّ ٱلَّذِينَ أَجْرَمُوا۟ كَانُوا۟ مِنَ ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ يَضْحَكُونَ وَإِذَا مَرُّوا۟ بِهِمْ يَتَغَامَزُونَ وَإِذَا ٱنقَلَبُوٓا۟ إِلَىٰٓ أَهْلِهِمُ ٱنقَلَبُوا۟ فَكِهِينَ وَإِذَا رَأَوْهُمْ قَالُوٓا۟ إِنَّ هَـٰٓؤُلَآءِ لَضَآلُّونَ وَمَآ أُرْسِلُوا۟ عَلَيْهِمْ حَـٰفِظِينَ فَٱلْيَوْمَ ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ مِنَ ٱلْكُفَّارِ يَضْحَكُونَ عَلَى ٱلْأَرَآئِكِ يَنظُرُونَ هَلْ ثُوِّبَ ٱلْكُفَّارُ مَا كَانُوا۟ يَفْعَلُونَ
অর্থ: নিশ্চয় যারা অপরাধ করেছে তারা মু'মিনদেরকে নিয়ে হাসত। আর যখন তারা মু'মিনদের পাশ দিয়ে যেত তখন তারা তাদেরকে নিয়ে চোখ টিপে বিদ্রূপ করত। আর যখন তারা পরিবার-পরিজনের কাছে ফিরে আসত তখন তারা উৎফুল্ল হয়ে ফিরে আসত। আর যখন তারা মু'মিনদেরকে দেখত তখন বলত, 'নিশ্চয় এরা পথভ্রষ্ট'। আর তাদেরকে তো মু'মিনদের হিফাযতকারী হিসেবে পাঠানো হয়নি। অতএব আজ মু'মিনরাই কাফিরদেরকে নিয়ে হাসবে। উচ্চ আসনে বসে তারা দেখতে থাকবে। কাফিরদেরকে তাদের কৃতকর্মের প্রতিদান দেয়া হলো তো? (সূরা মুতাফফিফীন ৮৩:২৯-৩৬)

টিকাঃ
১২৭. অতি তিক্ত স্বাদযুক্ত জাহান্নামের এক গাছ।

📘 মৃত্যুর পরে অনন্ত জীবন > 📄 জাহান্নামের আযাব থেকে আশ্রয় কামনা

📄 জাহান্নামের আযাব থেকে আশ্রয় কামনা


মাসআলা-২৬৫: যে ব্যক্তি তিন বার আল্লাহর নিকট জাহান্নাম থেকে আশ্রয় চায় তার জন্য জাহান্নাম সুপারিশ করে:
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : " مَنْ سَأَلَ اللَّهَ الْجَنَّةَ ثَلَاثَ مَرَّاتٍ قَالَتِ الْجَنَّةُ: اللَّهُمَّ أَدْخِلُهُ الْجَنَّةَ، وَمَنْ اسْتَجَارَ مِنَ النَّارِ ثَلَاثَ مَرَّاتٍ قَالَتِ النَّارُ : اللَّهُمَّ أَجِرْهُ مِنَ النَّارِ
অর্থ: "আনাস বিন মালেক (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ বলেছেন: যে ব্যক্তি আল্লাহর নিকট তিনবার জান্নাত কামনা করবে, জান্নাত তার জন্য বলে যে হে আল্লাহ! তুমি তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাও। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর নিকট তিনবার জাহান্নাম থেকে আশ্রয় কামনা করে, জাহান্নাম তার জন্য বলে হে আল্লাহ তুমি তাকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দাও।" (তিরমিজী ৪/২৫৭২)
মাসআলা-২৬৬: জাহান্নাম থেকে আশ্রয় চাওয়ার কুরআনের কতগুলো আয়াত:
ومِنْهُمْ مَنْ يَقُولُ رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الْآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ
১. অর্থ: "আর তাদের মধ্যে এমনও আছে, যারা বলে, হে আমাদের রব, আমাদেরকে দুনিয়াতে কল্যাণ দিন। আর আখিরাতেও কল্যাণ দিন এবং আমাদেরকে আগুনের আযাব থেকে রক্ষা করুন। (সূরা বাকারা ২:২০১)
رَبَّنَا اصْرِفْ عَنَّا عَذَابَ جَهَنَّمَ إِنَّ عَذَابَهَا كَانَ غَرَامًا إِنَّهَا سَاءَتْ مُسْتَقَرّاً وَمُقَاماً
২. আর যারা বলে, 'হে আমাদের রব! তুমি আমাদের থেকে জাহান্নামের আযাব ফিরিয়ে নাও। নিশ্চয় এর আযাব হলো অবিচ্ছিন্ন'। 'নিশ্চয় তা অবস্থানস্থল ও আবাসস্থল হিসেবে অত্যন্ত নিকৃষ্ট'। (সূরা ফোরকান ২৫:৬৫-৬৬)
رَبَّنَا مَا خَلَقْتَ هُذَا بَاطِلاً سُبْحَانَكَ فَقِنَا عَذَابَ النَّارِ رَبَّنَا إِنَّكَ مَنْ تُدْخِلِ النَّارَ فَقَدْ أَخْزَيْتَهُ وَمَا لِلظَّالِمِينَ مِنْ أَنْصَارٍ رَبَّنَا إِنَّنَا سَمِعْنَا مُنَادِياً يُنَادِي لِلْإِيمَانِ أَنْ آمِنُوا بِرَبِّكُمْ فَآمَنَّا رَبَّنَا فَاغْفِرْ لَنَا ذُنُوبَنَا وَكَفِّرْ عَنَّا سَيِّئَاتِنَا وَتَوَفَّنَا مَعَ الْأَبْرَارِ رَبَّنَا وَآتِنَا مَا وَعَدتَنَا عَلَى رُسُلِكَ وَلَا تُخْزِنَا يَوْمَ الْقِيَامَةِ إِنَّكَ لَا تُخْلِفُ الْمِيعَادَ
৩. 'হে আমাদের রব! তুমি এসব অনর্থক সৃষ্টি করনি। তুমি পবিত্র মহান। সুতরাং তুমি আমাদেরকে আগুনের আযাব থেকে রক্ষা কর'। 'হে আমাদের রব, নিশ্চয় তুমি যাকে আগুনে প্রবেশ করাবে, অবশ্যই তাকে তুমি অপমান করবে। আর যালিমদের জন্য কোনো সাহায্যকারী নেই'। 'হে আমাদের রব, নিশ্চয় আমরা শুনেছিলাম একজন আহ্বানকারীকে, যে ঈমানের দিকে আহবান করে যে, 'তোমরা তোমাদের রবের প্রতি ঈমান আন'। তাই আমরা ঈমান এনেছি। হে আমাদের রব আমাদের গুনাহসমূহ ক্ষমা করুন এবং বিদূরিত করুন আমাদের ত্রুটি-বিচ্যুতি, আর আমাদেরকে মৃত্যু দিন নেককারদের সাথে'। 'হে আমাদের রব! আর আপনি আমাদেরকে তা প্রদান করুন যার ওয়াদা আপনি আমাদেরকে দিয়েছেন আপনার রাসূলগণের মাধ্যমে। আর কিয়ামতের দিনে আপনি আমাদেরকে অপমান করবেন না। নিশ্চয় আপনি অঙ্গীকার ভঙ্গ করেন না'। (সূরা আলে ইমরান ৩:১৯১-১৯৪)
মাসআলা-২৬৭: জাহান্নামের আযাব থেকে বাঁচার জন্য রাসূল নিম্নোক্ত দূয়াসমূহ সাহাবাগণকে কুরআনের সূরার ন্যায় মুখস্ত করাতেন:
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنَ عَبَّاسٍ ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يُعَلِّمُهُمْ هَذَا الدُّعَاءَ كَمَا يُعَلِّمُ السُّورَةَ مِنَ الْقُرْآنِ قُولُوا: «اللَّهُمَّ إِنَّا نَعُوذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ جَهَنَّمَ ، وَنَعُوذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ وَ نَعُوذُ بِكَ مِنْ فِتْنَةِ الْمَسِيحِ الدَّجَّالِ وَنَعُوذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ وَ نَعُوذُ بِكَ مِنْ فِتْنَةِ الْمَحْيَا وَالْمَمَاتِ
অর্থ: "আবদুল্লাহ বিন আব্বাস (রা) রাসূলূল্লাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি তাদেরকে (সাহাবাগণকে) এ দুয়াটি কুরআনের সূরার ন্যায় মুখস্ত করাতেন, তোমরা বল: হে আল্লাহ আমরা আপনার নিকট জাহান্নামের আযাব থেকে আশ্রয় চাই, আমরা আপনার নিকট কবরের আযাব থেকে আশ্রয় চাই, আমরা আপনার নিকট মসিহিদদাজ্জালের ফিতনা থেকে আশ্রয় চাই, আমরা আপনার নিকট জীবন ও মৃত্যুর ফিতনা থেকে আশ্রয় চাই।" (নাসায়ী)
মাসআলা-২৬৮: জাহান্নামের গরম থেকে আশ্রয় চাওয়ার দুআ:
عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا قَالَتْ : قَالَ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : «اللَّهُمَّ رَبَّ جِبْرَائِيلَ وَمِيكَائِيلَ، وَرَبَّ إِسْرَافِيلَ، أَعُوذُ بِكَ مِنْ حَرِّ النَّارِ، وَمِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ»
অর্থ: "আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলূল্লাহ বলেছেন: হে আল্লাহ জিবরীল, মিকাঈল ও ইসরাঈলের প্রভু! আমি আপনার নিকট জাহান্নামের গরম থেকে আশ্রয় চাই এবং কবরের আযাব থেকে আশ্রয় চাই।" (নাসায়ী ৮/৫৫১৯)
মাসআলা-২৬৯: শোয়ার পূর্বে আল্লাহর আযাব থেকে আশ্রয় কামনা করার দুআ:
عَنْ حَفْصَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ إِذَا أَرَادَ أَنْ يَرْقُدَ وَضَعَ يَدَهُ الْيُمْنَى تَحْتَ خَذِهِ ثُمَّ يَقُولُ: «اللَّهُمَّ قِنِي عَذَا بَكَ يَوْمَ تَبْعَثُ عِبَادَكَ
অর্থ: "হাফসা (রা) রাসূলুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি যখন শোয়ার ইচ্ছা করতেন তখন ডান হাত স্বীয় গালের নিচে রেখে বলতেন: হে আল্লাহ যেদিন আপনি আপনার বান্দাদেরকে উঠাবেন, সেদিন আমাকে স্বীয় আযাব থেকে রক্ষা করবেন।" (আবু দাউদ ৪/৫০৪৫)
عَنِ ابْنِ عُمَرَ رَضِى اللهُ عَنْهُمَا أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَقُولُ إِذَا أَخَذَ مَضْجَعَهُ: «الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي كَفَانِي وَآوَانِي، وَأَطْعَمَنِي وَسَقَانِي وَالَّذِي مَنَّ عَلَيَّ فَأَفْضَلَ، وَالَّذِي أَعْطَانِي فَأَجْزَلَ الْحَمْدُ لِلَّهِ عَلَى كُلِّ حَالٍ اللَّهُمَّ رَبَّ كُلِّ شَيْءٍ وَمَلِيكَهُ وَإِلَهَ كُلِّ شَيْءٍ ، أَعُوذُ بِكَ مِنَ النَّارِ»
অর্থ: "ইবনে ওমার (রা) রাসূলুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি যখন বিছানায় শুইতে যেতেন তখন আল্লাহর শুকুর করে বলতেন, যিনি আমাকে সমস্ত মুসিবত থেকে রক্ষা করেছেন, আমাকে বাসস্থানের ব্যবস্থা করেছেন, আমাকে পানাহার করিয়েছেন, ঐ সত্তার শুকুর যিনি যখন আমার প্রতি অনুগ্রহ করেছেন তখন যথেষ্ট পরিমাণে তা করেছেন, যখন আমাকে দান করেছেন তখনও যথেষ্ট পরিমাণে করেছেন, সর্বাবস্থায় শুধু তাঁরই কৃতজ্ঞতা, হে আল্লাহ! সবকিছুর রব, সবকিছুর মালিক, সবকিছুর ইলাহ, আমি জাহান্নাম থেকে তোমার নিকট আশ্রয় চাই।" (আবু দাউদ ৪/৫০৫৮)
মাসআলা-২৭০: তাহাজ্জুদের নামাযে আল্লাহর আযাব থেকে আশ্রয় চাওয়ার দোয়া:
عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا قَالَتْ : فَقَدْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَيْلَةً مِنَ الْفِرَاشِ فَالْتَمَسْتُهُ فَوَقَعَتْ يَدِي عَلَى بَطْنِ قَدَمَيْهِ وَهُوَ فِي الْمَسْجِدِ وَهُمَا مَنْصُوبَتَانِ وَهُوَ يَقُولُ: «اللَّهُمَّ أَعُوذُ بِرِضَاكَ مِنْ سَخَطِكَ، وَبِمُعَافَاتِكَ مِنْ عُقُوبَتِكَ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنْكَ لَا أُحْصِي ثَنَاءً عَلَيْكَ أَنْتَ كَمَا أَثْنَيْتَ عَلَى نَفْسِكَ»
অর্থ: "আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি এক রাতে রাসূলুল্লাহ -কে বিছানায় অনুপস্থিত পেয়ে তাঁকে খুঁজতে লাগলাম, তখন আমার হাত রাসূলের পায়ের পাতায় লাগল যা দাড় করানো অবস্থায় ছিল। তখন তিনি মসজিদে ছিলেন, (আর সেজদা অবস্থায়) তিনি এ দুয়া পড়তেছিলেন: হে আল্লাহ! আমি তোমার সন্তুষ্টির মাধ্যমে তোমার অসন্তুষ্টি থেকে আশ্রয় চাই। তোমার ক্ষমার ওসীলায় তোমার আযাব থেকে আশ্রয় চাই। আর আমি প্রত্যেক বিষয়ে তোমার নিকটই আশ্রয় চাই। আমি তোমার প্রশংসা ও গুণগান করার ক্ষমতা রাখিনা তোমার প্রশংসা তেমনই যেমন তুমি করেছ।" (মুসলিম ১/৪৮৬)
মাসআলা-২৭১: জাহান্নামের আযাব থেকে বাঁচার জন্য নিম্নের দুয়াটি বেশি বেশি করে পাঠ করা উচিত:
عَنْ أَنَسٍ رَضِى اللهُ عَنْهُ قَالَ كَانَ أَكْثَرُ دَعَاءِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ «اللَّهُمَّ آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الْآخِرَةِ حَسَنَةً، وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ
অর্থ: "আনাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: নবী বেশির ভাগ এদুয়া করতেন যে, হে আল্লাহ! তুমি আমাকে দুনিয়াতেও কল্যাণ দাও এবং পরকালেও কল্যাণ দাও এবং আমাকে জাহান্নামের আযাব থেকে রক্ষা কর।" (মুসলিম)
মাসআলা-২৭২: এক সাথে কম পক্ষে তিন বার জাহান্নাম থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাওয়া উচিত:
নোট: ৩৪৪ নং মাসআলার হাদীস দ্রষ্টব্য।

টিকাঃ
১২৮. আবওয়াবুন ন্নাউম মা ইয়াকুলু ইন্দান্নাউম। বাবুল ইস্তেয়াজা মিন ফিতনাতিল মাহইয়া ওয়াল মামাত।
১২৯. কিতাবুল ইস্তেয়াজা বিন হাররিন্নার। (৩/৫০৯২)
১৩০. আবওয়াবুন্নাউম, মা ইয়াকুলু ইন্দান্নাউম (৩/৪২১৮)
১৩১. প্রাগুক্ত (৩/৪২২৯)
১৩২. কিতাবুস্সালা বাবা মা যুকালু ফির রুকু ওয়াস্ সুজুদ।
১০০. কিতাবুয যিকর ওয়াদ্দুমা, ওয়াত্ তাওবা, বাব ফাযলি দ্‌ দুয়া বি আল্লাহুম্মা ফিদ্দুনইয়া হাসানা।

📘 মৃত্যুর পরে অনন্ত জীবন > 📄 বিভিন্ন মাসায়েল

📄 বিভিন্ন মাসায়েল


মাসআলা-২৭৩: আল্লাহর দয়া ও অনুগ্রহ ব্যতীত কেউ জাহান্নামের আযাব থেকে রক্ষা পাবে না:
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «مَا مِنْ أَحَدٍ يُدْخِلُهُ عَمَلُهُ الْجَنَّةَ فَقِيلَ: وَلَا أَنْتَ؟ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ: «وَلَا أَنَا إِلَّا أَنْ يَتَغَمَّدَنِي رَبِّي بِرَحْمَةٍ»
অর্থ: "আবু হুরাইরা (রা) নবী থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: এমন কোনো ব্যক্তি নেই যাকে তার আমল জান্নাতে প্রবেশ করাবে, জিজ্ঞেস করা হলো আপনি? হে আল্লাহর রাসূল! তিনি বললেন: আমিও না, তবে যদি আমার রব আমাকে দয়া করে জান্নাত দেন।” (মুসলিম ৪/২৮১৬)১৩৫
মাসআলা-২৭৪: তাওহীদ বাদী, মুত্তাকী, সৎ লোকদের সাক্ষি, কারও জন্য জান্নাতী বা জাহান্নামী হওয়ার পরিচয়:
عَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ أَبِي زُهَيْرِ الثَّقَفِي هِ عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: خَطَبَنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِالنَّبَاوَةِ، أَوِ الْبَنَاوَةِ، قَالَ: وَالنَّبَاوَةُ مِنَ الطَّائِفِ قَالَ: «يُوشِكُ أَنْ تَعْرِفُوا أَهْلَ الْجَنَّةِ مِنْ أَهْلِ النَّارِ» ، قَالُوا : بِمَ ذَاكَ؟ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ: «بِالثَّنَاءِ الْحَسَنِ، وَالثَّنَاءِ السَّيِّئِ، أَنْتُمْ شُهَدَاءُ اللَّهِ بَعْضُكُمْ عَلَى بَعْضٍ»
অর্থ: "আলী বিন বকর বিন যুহাইর আস সাকাফী (রা) তার পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন আমাদেরকে নবী একদা তায়েফের নিকটবর্তী নাবাওয়া বা বানাওয়া নামক স্থানে একটি খুতবা প্রদান করলেন। তিনি বললেন: খুব শীঘ্রই এমন এক সময় আসবে যখন তোমরা জান্নাতী বা জাহান্নামী সম্পর্কে জানতে পারবে। সাহাবাগণ জিজ্ঞেস করল হে আল্লাহর রাসূল! তা কিভাবে? তিনি বললেন: লোকদের ভাল বা মন্দ প্রশংসার মাধ্যমে। তোমরা একে অপরের ব্যাপারে আল্লাহর সাক্ষি হবে।" (ইবনে মাযা ২/৪২২১)১৩৬
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : «أَهْلُ الْجَنَّةِ. مَنْ مَلَأُ اللَّهَ أُذُنَيْهِ مِنْ ثَنَاءِ النَّاسِ خَيْرًا ، وَهُوَ يَسْمَعُ، وَأَهْلُ النَّارِ، مَنْ مَلَا اللهُ أُذُنَيْهِ مِنْ ثَنَاءِ النَّاسِ شَرًّا ، وَهُوَ يَسْمَعُ»
অর্থ: "ইবনে আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: রাসূলুল্লাহ বলেছেন: জান্নাতী ঐ ব্যক্তি যে মানুষের নিকট থেকে স্বীয় প্রশংসা শুনতে শুনতে তার কান ভরে যাবে। আর জাহান্নামী ঐ ব্যক্তি যে মানুষের নিকট থেকে নিজের দোষ শুনতে শুনতে তার কান ভরে যাবে।” (ইবনে মাযা ২/৪২২৪)১৩৭
মাসআলা-২৭৫: প্রচন্ড গরম ও অধিক ঠান্ডা জাহান্নামের দু'টি শ্বাসের কারণে হয়: গরম শ্বাস জাহান্নামের গরম অংশ থেকে আর ঠান্ডা শ্বাস জাহান্নামের ঠান্ডা অংশ থেকে হয়ে থাকে:
নোট: এ সংক্রান্ত হাদীসটি ৪৯নং মাসআলা দ্রষ্টব্য।
মাসআলা-৩৫৫: মু'মিনের জন্য জ্বর জাহান্নামের অংশ:
عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الحُمَّى حَظَّ كُلِّ مُؤْمِنِ مِنَ النَّارِ (رَوَاهُ الْبَزَّارُ)
অর্থ: "আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: রাসূলুল্লাহ বলেছেন: জ্বর প্রত্যেক মু'মিনের জন্য জাহান্নামের অংশ।” (বাযযার)১৩৮
মাসআলা-২৭৬: কিছু কিছু কালিমা পড়া মুসলমানদের সমস্ত শরীর আগুন জ্বালিয়ে দিবে:
عَنْ جَابِرٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : «يُعَذِّبُ نَاسٌ مِنْ أَهْلِ التَّوْحِيدِ فِي النَّارِ حَتَّى يَكُونُوا فِيهَا حُمَمًا ثُمَّ تُدْرِكُهُمُ الرَّحْمَةُ فَيُخْرَجُونَ وَيُطْرَحُونَ عَلَى أَبْوَابِ الْجَنَّةِ» قَالَ: «فَيَرُشُّ عَلَيْهِمْ أَهْلُ الْجَنَّةِ المَاءَ فَيَنْبُتُونَ كَمَا يَنْبُتُ الْغُثَاءُ فِي حِمَالَةِ السَّيْلِ ثُمَّ يَدْخُلُونَ الْجَنَّةَ»
অর্থ: "জাবের (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: রাসূলুল্লাহ বলেছেন: তাওহীদ বাদীদের মধ্য থেকে কিছু লোককে জাহান্নামের শাস্তি দেয়া হবে। এমন কি তারা আগুনে জ্বলে কয়লা হয়ে যাবে। এরপর তারা আল্লাহর রহমত লাভ করবে, তখন তারা জাহান্নাম থেকে বের হবে। এরপর তাদেরকে জান্নাতের দরজায় এনে বসানো হবে, জান্নাতবাসীরা তাদেরকে পানি প্রবাহিত করে দিবে, তখন তারা উঠে দাঁড়াবে, যেমন কোনো বীচ বন্যার পানিতে ভেসে এসে চারা জন্মায়। এরপর তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে।” (তিরমিযী ৪/২৫৯৭)১৩৯
মাসআলা-২৭৭: জাহান্নামের স্থান সমুদ্র:
عن يعلى رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّ الْبَحْرَ هُوَ جَهَنَّمُ .
অর্থ: "ইয়ালা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: রাসূলুল্লাহ বলেছেন: নিশ্চয়ই সমুদ্র জাহান্নামের স্থান।” (হাকেম) ১৪০
নোট: কুরআনে আল্লাহ তাআলা এরশাদ করেছেন:
وَإِذَا الْبِحَارُ سُجِّرَتُ
অর্থ: "এবং সমুদ্রগুলোর যখন উপ-প্লাবিত-উদ্বেলিত করা হবে।" (সূরা তাকভীর: ৬)
অন্য আয়াতে এরশাদ হয়েছে:
وَإِذَا الْبِحَارُ فُجِّرَتْ
আর সমুদ্রগুলো যখন উদ্বেলিত করা হবে।" (সূরা ইনফিতার: ৩)
এ উভয় আয়াত থেকে একথা প্রমাণিত হয় যে, কিয়ামতের দিন সমস্ত সমুদ্র এক স্থানে একত্র করে দেয়া হবে, আর পানি তার মূল রূপে অর্থাৎ দুই ভাগ হাইড্রোজেন এবং এক ভাগ অক্সিজেনে পরিণত করা হবে, যার ফলে আগুন উত্তপ্ত হয়ে উঠবে, উল্লেখ্য হাইড্রোজেন নিজেই আগুন দ্বারা উত্তপ্ত হওয়া গ্যাস। আর অক্সিজেন আগুনকে উত্তপ্ত করতে সহযোগিতা করে। এসময় জান্নাত ও জাহান্নাম এ উভয়ই মওজুদ আছে। অতএব রাসূলুল্লাহ -এর বাণীর এ অর্থ হতে পারে যে, কিয়ামতের দিন জাহান্নামকে উত্তপ্ত করে সমুদ্রের ওপর রেখে দেয়া হবে। যাতে করে জাহান্নামের আগুন আরো উত্তপ্ত হয়। এরপর এ সমুদ্রের স্থানে জাহান্নামকে স্থাপিত করা হবে। (আল্লাহই এর সঠিকতা সম্পর্কে সর্বাধিক অবগত)

টিকাঃ
১৩৫ কিতাব সিফাতুল মুনাফেকীন, বাব লানয়দখিলাল জান্না আহাদুন বি আমালিহি।
১৩৬ কিতাবুয যুহদ বাব সানাউল হাসান (২/২৪০০)
১৩৭ প্রাগুক্ত (২/৩৪০৩)
১৩৮ সহীহ আল জামে' আস সাগীর, লি আলবানী, খ. ৩, হাদীস নং-৩১৮২।
১৩৯ সিফাতু আবওয়াবি জাহান্নام, বাব মা যায়া আন্না লিল্লারি নাফاسাইন। (২/২০৯৪)
১৪০ কিতাবুল আহওয়াল হাদীস নং-৮৭।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00