📄 জাহান্নাম ও সাহাবাগণ
মাসআলা-২৩৭: আয়েশা (রা) জাহান্নামের আগুনের কথা স্মরণ করে কাঁদতেন:
عَنْ عَائِشَةَ أَنَّهَا ذَكَرَتِ النَّارَ فَبَكَتْ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَا يُبْكِيكِ؟» قَالَتْ: ذَكَرْتُ النَّارَ فَبَكَيْتُ، فَهَلْ تَذْكُرُونَ أَهْلِيكُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ؟ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : " أَمَّا فِي ثَلَاثَةِ مَوَاطِنَ فَلَا يَذْكُرُ أَحَدٌ أَحَدًا: عِنْدَ الْمِيزَانِ حَتَّى يَعْلَمَ أَيَخِفُ مِيزَانُهُ أَوْ يَثْقُلُ، وَعِنْدَ الْكِتَابِ حِينَ يُقَالُ { هَاؤُمُ اقْرَءُوا كِتَابِيَهُ} حَتَّى يَعْلَمَ أَيْنَ يَقَعُ كِتَابُهُ أَفِي يَمِينِهِ أَمْ فِي شِمَالِهِ أَمْ مِنْ وَرَاءِ ظَهْرِهِ، وَعِنْدَ الصِّرَاطِ إِذَا وُضِعَ بَيْنَ ظَهْرَيْ جَهَنَّمَ "
অর্থ: "আয়েশা (রা) জাহান্নামের আগুনের কথা স্মরণ করে কাঁদতে লাগলেন, রাসূলুল্লাহ জিজ্ঞেস করলেন: কে তোমাকে কাঁদাল? সে বলল: আমি জাহান্নামের কথা স্মরণ করে কাঁদতেছি। আপনি কি কিয়ামতের দিন আপনার পরিবারের কথা স্মরণে রাখবেন? রাসূলুল্লাহ বললেন: তিনটি স্থানে কেউ কাউকে স্মরণে রাখতে পারবে না। মিযানের নিকট যতক্ষণ না জানতে পারবে যে, তার (নেকীর) পাল্লা ভারী হয়েছে না হালকা, আমলনামা পেশ করার সময়, যখন বলা হবে আস তোমার আমল নামা পাঠ কর। যতক্ষণ না জানতে পারবে যে, তার আমলনামা ডান হাতে দেয়া হচ্ছে না পিঠের পিছন দিক থেকে বাম হাতে। পুলসিরাতের ওপর দিয়ে অতিক্রম করার সময় যখন তা জাহান্নামের ওপর রাখা হবে।" (আবু দাউদ ৪/৪৭৫৫)১০৩
মাসআলা-২৩৮: আবদুল্লাহ বিন রাওয়াহা ও তার স্ত্রীর জাহান্নামের কথা স্মরণ করে কান্না:
عَنْ قَيْسِ بْنِ أَبِي حَازِمٍ " كَانَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ رَوَاحَةَ وَاضِعًا رَأْسَهُ فِي حِجْرِ امْرَأَتِهِ فَبَكَى فَبَكَتِ امْرَأَتُهُ، فَقَالَ: مَا يُبْكِيكِ؟ قَالَتْ: رَأَيْتُكَ تَبْكِي فَبَكَيْتُ، قَالَ: إِنِّي ذَكَرْتُ قَوْلَ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ: {وَإِنْ مِنْكُمْ إِلَّا وَارِدُهَا } فَلَا أَدْرِي أَنَنْجُو مِنْهَا أَمْ لَا
অর্থ: "কায়েস বিন হাযেম (রা) থেকে বর্ণিত, আবদুল্লাহ বিন রাওয়াহা (রা) স্বীয় স্ত্রীর কোলে মাথা রেখে হঠাৎ কাঁদতে লাগল, তার সাথে তার স্ত্রীও কাঁদতে লাগল। আবদুল্লাহ বিন রাওয়াহা জিজ্ঞেস করল, তুমি কেন কাঁদছ? স্ত্রী বলল: তোমাকে কাঁদতে দেখে আমারও কান্না চলে এসেছে। আবদুল্লাহ বিন রাওয়াহা বলল: আমার আল্লাহর এ বাণীটি স্মরণ হলো যে, তোমাদের মধ্যে কেউ এমন নেই যে জাহান্নামের ওপর দিয়ে অতিক্রম করবে না। আর আমার জানা নেই যে, জাহান্নামের ওপর স্থাপন করা পুলসিরাত অতিক্রম করার সময় আমি রক্ষা পাব কি পাব না।” (হাকেম ৪/৮৭৪৮)১০৪
মাসআলা-২৩৯ : জাহান্নামের কথা স্মরণ করে ওবাদা বিন সামেত (রা)-এর কান্না:
عَنْ زِيَادِ بْنِ أَبِي سَوْدَةَ هُ قَالَ : " كَانَ عُبَادَةُ بْنُ الصَّامِتِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ عَلَى سُورِ بَيْتِ الْمَقْدِسِ الشَّرْقِ يَبْكِي، فَقَالَ بَعْضُهُمْ : مَا يُبْكِيكَ يَا أَبَا الْوَلِيدِ؟ فَقَالَ: «مَنْ هَاهُنَا ، أَخْبَرَنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ رَأَى جَهَنَّمَ »
অর্থ: "যিয়াদ বিন আবু আসওয়াদ (রা) ওবাদা বিন সামেত (রা) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি একদা বাইতুল মাকদিসের পশ্চিম দেয়ালের পাশে কাঁদতে ছিলেন, কেউ কেউ তাকে জিজ্ঞেস করল হে আবু ওলীদ! কে তোমাকে কাঁদাল? সে বলল: ঐ স্থান যেখানে থেকে রাসূল আমাদেরকে বলেছিলেন যে, তিনি জাহান্নাম দেখেছেন।” (হাকেম ৪/৮৭৮৫)১০৫
মাসআলা-২৪০ : ওমর (রা)-এর আল্লাহর আযাবের ভয়:
عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَابِ ا يقول " لَوْ نَادَى مُنَادٍ مِنَ السَّمَاءِ : أَيُّهَا النَّاسُ، إِنَّكُمْ دَاخِلُونَ الْجَنَّةَ كُلُّكُمْ أَجْمَعُونَ إِلَّا رَجُلًا وَاحِدًا ، لَخِفْتُ أَنْ أَكُونَ هُوَ . وَلَوْ نَادَى مُنَادٍ : أَيُّهَا النَّاسُ إِنَّكُمْ دَاخِلُونَ النَّارَ إِلَّا رَجُلًا وَاحِدًا ، لَرَجَوْتُ أَنْ أَكُونَ هُوَ "
অর্থ: "ওমার বিন খাত্তাব (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: যদি আকাশ থেকে কোনো আহ্বানকারী আহ্বান করে যে, হে লোকেরা তোমরা সবাই জান্নাতে যাবে শুধু একজন ব্যতীত, তাহলে আমার ভয় হয় না জানি আমিই সে এক ব্যক্তি। যদি আকাশ থেকে কোনো আহ্বানকারী আহ্বান করে যে, হে লোকেরা! তোমরা সবাই জাহান্নামে যাবে শুধু একজন ব্যতীত তাহলে আমি আশংকা করি না জানি সে ব্যক্তি আমি।" (আবু নুয়াইম হুলিয়া)১০৬
মাসআলা-২৪১: আয়েশা (রা) জাহান্নামের গরম ও বিষাক্ত আবহাওয়ার কথা স্মরণ করে দীর্ঘক্ষণ পর্যন্ত কাঁদতে ছিলেন:
عَنْ عُرْوَةَ عَنْ أَبِيهِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَ كُنتَ إِذَا غَدَوْتُ أَبْدَأُ بَيْتَ عَائِشَة رَضِيَ اللهُ عَنْهَا فَغَدَوْتُ يَوْمًا فَإِذَا هِىَ قَائِمَةً تَقْرَاء فَمَنَّ اللَّهُ عَلَيْنَا وَوَقَانَا عَذَابَ السَّمُومِ وَتَدْعُو وَتَبْكِي وَتَرَدِّدُهَا فَقُمْتُ حَتَّى ملك الْقِيَامِ فَذَهَبْتُ إِلَى السُّوقِ لِحَاجَتِي ثُمَّ رَجَعْتُ فَإِذَا هِي قَائِمَةٌ كَمَا هِي تُصَلَّى وَ تَبْكِي.
অর্থ: "ওরওয়া (রা) তার পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: সকালে যখন আমি ঘর থেকে বের হতাম, তখন সর্বপ্রথম আয়েশা (রা)-এর ঘরে গিয়ে তাকে সালাম করতাম, একদিন আমি ঘর থেকে বের হলাম এবং সেখানে গিয়ে দেখলাম আয়শা (রা) নামাযে দাঁড়িয়ে কুরআন মাজীদের এ আয়াত "অতপর আল্লাহ আমাদের প্রতি দয়া করেছেন এবং আমাদেরকে জাহান্নামের শাস্তি থেকে রক্ষা করেছেন।” তেলাওয়াত করতেছিলেন, আয়েশা (রা) এ আয়াতটি বারবার পড়ছিলেন আর কাঁদতে ছিলেন, আমি অপেক্ষা করতে লাগলাম, এমনকি আমি ক্লান্ত হয়ে গেলাম এবং কিছু প্রয়োজনীয় কাজে আমি বাজারে চলে গেলাম, ফিরে এসে দেখি তখনো তিনি নামাযে দাঁড়িয়ে আছেন। আর ঐ আয়াতটি পড়ে পড়ে কাঁদতেছেন।" (সাফওয়াতুস সফওয়া)১০৭
মাসআলা-২৪২: ওমর (রা) আযাবের আয়াত তেলাওয়াত করে এত কাঁদলেন যে, তিনি অসুস্থ হয়ে গেলেন:
قَرَأَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ سُورَةَ الطُّورِ حَتَّى قُولُهُ تَعَالَى إِنَّ عَذَابَ رَبِّكَ لَوَاقِعَ فَبَكَى وَاشْتَدَّ بُكَاءَهُ حَتَّى مَرِضَ وَعَادُوهُ
অর্থ: "ওমার বিন খাত্তাব (রা) সূরা তৃর তেলাওয়াত করতেছিলেন যখন এ আয়াতে "নিশ্চয়ই তোমার রবের শান্তি আসবে" পৌছলেন তখন তিনি কাঁদতে লাগলেন এবং তাঁর কান্না বৃদ্ধি পেতে লাগল, এমন কি তিনি কাঁদতে কাঁদতে অসুস্থ হয়ে গেলেন এবং লোকেরা তাঁকে দেখতে আসতে লাগল। "১০৮
وَكَانَ فِي وَجْهِهِ خَطَّانِ أَسْوَدَانِ مِنَ الْبُكَاءِ
অর্থ: "ওমার বিন খাত্তাব (রা)-এর চেহারায় (অধিক পরিমাণে) কান্নার ফলে দু'টি কাল দাগ পড়ে গিয়েছিল।" (আযযুহদ লিল বাইহাকী)১০৯
মাসআলা-২৪৩: আবদুল্লাহ বিন মাসউদ (রা) কামারের দোকানে আগুন দেখে কাঁদতে লাগলেন:
قَالَ سَعْدُ بْنُ الْأَحْزَامِ رَحِمَهُ اللَّهُ كُنْتُ أَمْشِي مَعَ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُود رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ فَمَرَّ بِالْحَدَادِينَ وَقَدْ أَخْرَجُوا حَدِيدًا مِنَ النَّارِ فَقَامَ يَنظُرُ إِلَيْهِ وَيَبْكِي.
অর্থ: "সাআ'দ বিন আহযাম (রা) বলেন: আমি আবদুল্লাহ বিন মাসউদ (রা)-এর সাথে হাটতে ছিলাম, আমরা এক কামারের দোকানের পাশ দিয়ে অতিক্রম করছিলাম, তারা আগুন থেকে একটি লাল লোহা বের করল আবদুল্লাহ বিন মাসউদ (রা) তা দেখার জন্য দাঁড়ালেন এবং কাঁদতে লাগলেন। "১১০
মাসআলা-২৪৪: মুয়ায বিন জাবাল (রা) জাহান্নামের কথা স্মরণ করে অধিক পরিমাণে কাঁদতে লাগলেন:
بَكَى مُعَاذَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ بُكَاءً شَدِيدٌ فَقِيلَ لَهُ مَا يُبْكِيكَ؟ فَقَالَ لِأَنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ قَبَضَ قَبْضَتَيْنِ فَجَعَلَ وَاحِدَةً فِي الْجَنَّةِ وَالْأُخْرَى فِي النَّارِ فَأَنَا لا أَدْرِي مِنْ أَيِّ الْفَرِيقَيْنِ أَكُونُ
অর্থ: "মুয়ায বিন জাবাল (রা) খুব কান্নাকাটি করলেন, তাকে জিজ্ঞেস করা হলো আপনি কেন কাঁদতেছেন? মুয়ায (রা) বলল: আল্লাহ তাআলা তাঁর উভয় মুষ্টি সমস্ত সৃষ্টি দিয়ে ভরে তার এক মুষ্টি নিক্ষেপ করলেন জাহান্নামে, আর এক মুষ্টি জান্নাতে, আমি জানিনা যে, আমার স্থান কোথায় হবে।" নোট: উল্লেখ্য রাসূল বলেছেন: আল্লাহ তাআলা জান্নাত ও জাহান্নাম সৃষ্টি করেছেন এবং এ উভয়ের জন্যই ভিন্ন ভিন্ন লোকও তৈরী করেছেন।" (মুসলিম)
মাসআলা-২৪৫: আবদুল্লাহ বিন ওমার (রা)-এর জাহান্নামীদের পানি চাওয়ার কথা স্মরণ হলে কাঁদতে লাগলেন:
عَنْ سَيْرِ الرِّيَاحِي عَنْ أَبِيهِ قَالَ شَرْبٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ مَاءَ مُبْرِدًا فَبَكَى فَاشْتَدَّ بُكَاؤُهُ فَقِيلَ لَهُ مَا يُبْكِيكَ؟ قَالَ ذَكَرْتُ آيَةً فِي كِتَابِ اللهِ عَزَّ وَجَلَ وَحِيلَ بَيْنَهُمْ وَبَيْنَ مَا يَشْتَهُونَ فَعِرَفَتْ أَنْ أَهْلَ النَّارِ لَا يَشْتَهُونَ شَيْئًا شَهْوَتَهُمُ الْمَاءَ وَقَدْ قَالَ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ أَفِيضُوا عَلَيْنَا مِنَ الْمَاءِ أَوْمِمَّا رزقكم الله
অর্থ: "সামীর রিয়াহি তার পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আবদুল্লাহ বিন ওমার (রা) ঠাণ্ডা পানি পান করে কাঁদতে লাগলেন এবং যথেষ্ট পরিমাণে কাঁদলেন, তাকে জিজ্ঞেস করা হলো আপনি কেন এত কাঁদতেছেন? আবদুল্লাহ বিন ওমার (রা) বললেন: আমার কুরআন মাজীদের এ আয়াতটি স্মরণ হলো "তাদের ও তাদের কামনার মাঝে অন্তরাল করা হয়েছে" আর আমি জানি যে, জাহান্নামীরা ঐ সময়ে শুধু একটি জিনিসই চাইবে আর তা হলো পানি। কেননা আল্লাহ বলেছেন: জাহান্নামীরা জান্নাতীদের নিকট আবেদন করবে যে, সামান্য পানি আমাদেরকে ঢেলে দাও, বা তোমাদেরকে আল্লাহ যে রিযিক দিয়েছে তা থেকে আমাদেরকে কিছু দাও।"১১১
মাসআলা-২৪৬: সাঈদ বিন যোবইর (রা) জাহান্নামের স্মরণে কখনো হাসতেন না:
سُئِلَ الْحَجَّاجُ سَعِيدُ بْنُ جَيْرٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ مُتَعَجِبًا بَلَغَنِي أَنَّكَ لَمْ تَضْحَكُ قَط قَالَ لَهُ كَيْفَ أَضْحَكَ وَجَهَنَّمُ قَدْ سَعِيرَتْ وَلَا غُلَالٌ قَدْ نصيف والزبانية قَدْ أُعِدَّتْ (صفوة الصَّفْوَةِ)
অর্থ: "হাজ্জাজ সাঈদ বিন যুবাইর (রা)-কে আশ্চর্য হয়ে জিজ্ঞেস করল, আমি শুনেছি যে তুমি নাকি কখনো হাসনা! যুবাইর (রা) বললেন: আমি কি করে হাসব অথচ জাহান্নামকে উদ্দীপিত করা হয়েছে, লোহার বেড়ী প্রস্তুত করা হয়েছে, জাহান্নামের ফেরেশতারা প্রস্তুত হয়ে আছে।" (সাফওয়াতুস সাফওয়া) ১১২
মাসআলা-২৪৭: কোনো মু'মিন পুলসিরাত পার হওয়ার আগে নির্ভয় হতে পারবে না:
قَالَ مُعَاذُ بْنُ جَبَلٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ إِنَّ الْمُؤْمِنَ لَا يَسْكُنُ رُوعُهُ يَتْرُكُ جَسَرَ جَهَنَّمَ وَرَاعَةَ (الْفَوَائِدُ)
অর্থ: "মুয়াজ বিন জাবাল (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: মু'মিন ব্যক্তি পুলসিরাত অতিক্রম করার পূর্ব পর্যন্ত নির্ভয় হতে পারবে না।" (আল ফাওয়ায়েদ) ১১৩
টিকাঃ
১০৩ কিতাবুসুন্না বাবুল মিযান।
১০৪ কিতাবুল আহওয়াল। হাদীস ৭৩।
১০৫ কিতাবুল আহওয়াল। হাদীস নং-১১০।
১০৬ আল্লাহুম্মা সাল্লিম, হাদীস নং-২০।
১০৭ ২/২২৯
১০৮ আল জাওয়াব আল কাফী, ৭৭।
১০৯ ৬৭৮
১১০ হুলইয়াতুল আউলিয়া-২/১৩৩।
১১১ যাররুল ফায়েয, হাদীস নং-২১।
১১২ হুলইয়াতুল আওলিয়া (২/৩৩৩)।
১১৩ ৩/৩৩৩
📄 জাহান্নাম ও পূর্ববর্তীগণ
মাসআলা-২৪৮: ওমর বিন আবদুল আযীয (রা) জাহান্নামের বেড়ী ও জিঞ্জীর সংক্রান্ত আয়াতটি বার বার তেলাওয়াত করে করে রাত ভর কাঁদতেন:
عُمَرُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ رَحْمَةُ اللهِ كَانَ يُصَلِّي ذَاتَ لَيْلَةٍ فَقَرَأَ إِذِ الْأَغْلَالُ فِي أَعْنَاقِهِمْ وَالسَّلَاسِلُ يُسْحَبُونَ فِي الْحَمِيمِ ثُمَّ فِي النَّارِ يُسْجَرُونَ فَجَعَلَ يُرَدِّدُهَا وَيَبْكِي حَتَّى أَصْبَحَ
অর্থ: "ওমার বিন আবদুল আযীয (রা) একদা তাহাজ্জুদ নামায পড়তেছিলেন, যখন তিনি এ আয়াত "যখন তাদের গলদেশে বেড়ি ও শৃঙ্খল থাকবে তাদেরকে টেনে নিয়ে যাওয়া হবে। ফুটন্ত পানিতে, এরপর তাদেরকে দগ্ধ করা হবে অগ্নিতে।) (সূরা মু'মিন: ৭১-৭২)
মাসআলা-২৪৯: রাবী' বিন খাইসাম (রা) চুলার আগুন দেখে বেহুশ হয়ে যেতেন:
عَنْ أَبِي وَائِلٍ رَحِمَهُ اللَّهُ خَرَجْنَا مَعَ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ وَمَعَنَا الرَّبِيعُ بْنُ خُثَيْمٍ " فَمَرُّوا عَلَى حَدَادٍ فَقَامَ عَبْدُ اللَّهِ يَنْظُرُ إِلَى حَدِيدَةٍ فِي النَّارِ وَنَظَرَ الرَّبِيعُ بْنُ خُثَيْمٍ إِلَيْهَا فَتَمَايَلَ لِيَسْقُطَ فَمَرَّ عَبْدُ اللهِ عَلَى أَتُونٍ عَلَى شَاطِئِ الْفُرَاتِ فَلَمَّا رَآهُ عَبْدُ اللَّهِ وَالنَّارُ تَلْتَهِبُ فِي جَوْفِهِ قَرَأَ هَذِهِ الْآيَةَ: {إِذَا رَأَتُهُمْ مِنْ مَكَانٍ بَعِيدٍ سَمِعُوا لَهَا تَغَيْظًا وَزَفِيرًا } [الْفُرْقَانُ: ] الْآيَةَ صَعِقَ فَحَمَلُوهُ إِلَى أَهْلِهِ وَرَا بَطَهُ عَبْدُ اللَّهِ إِلَى الظُّهْرِ فَلَمْ يُفِقْ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ.
অর্থ: "আবু ওয়ায়েল (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: আমরা আবদুল্লাহ বিন মাসউদ (রা)-এর সাথে একদা বাহিরে বের হলাম, আমাদের সাথে রাবি' বিন খাইসামও ছিল, আবদুল্লাহ বিন মাসউদ ফুরাত নদীর তীরে একটি চুলার পাশ দিয়ে অতিক্রম করছিলেন, যখন সেখানে দেখলেন যে আগুন প্রজ্জ্বলিত হচ্ছে তখন তিনি এ আয়াত তেলাওয়াত করতে লাগলেন, "যখন জাহান্নাম কাফিরদেরকে দূর থেকে দেখবে, তখন তারা তার ক্রুদ্ধ গর্জন ও চিৎকার শুনতে পাবে।" এ কথা শুনে রাবি বিন খাইসাম বেহুশ হয়ে পড়ে গেল, লোকেরা তাকে খাটে উঠিয়ে বাড়িতে নিয়ে আসল। আবদুল্লাহ বিন মাসউদ তার নিকট সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বসে বসে তার হুশ ফিরানোর চেষ্টা করল কিন্তু তার হুশ ফিরল না।"
মাসআলা-২৫০: সমস্ত দুনিয়াকে জাহান্নাম সম্পর্কে সতর্ক করার আগ্রহ:
قَالَ مَالِكَ بْنَ دِينَارٍ ، رَحِمَهُ اللَّهُ لَوِ اسْتَطَعْتُ أَنْ لَا أَنَامَ لَمْ أَنَمْ مَخَافَةَ أَنْ يَنْزِلَ الْعَذَابُ وَأَنَا نَائِمْ وَلَوْ وَجَدْتُ أَعْوَانًا لَفَرَّقْتُهُمْ يُنَادُونَ فِي سَائِرِ الدُّنْيَا كُلِّهَا : يَا أَيُّهَا النَّاسُ النَّارَ النَّارَ (رَوَاهُ أَبُو نُعَيْمٍ فِي الْحُلِيَّةِ)
অর্থ: "মালেক বিন দিনার (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: যদি আমার পক্ষে সম্ভব হত যে আমি না ঘুমিয়ে থাকব, তবে আমি তা করতাম, আর তা এ আশঙ্কায় যে, কখনো ঘুমন্ত অবস্থায় যেন আল্লাহর আযাব আমার ওপর পতিত না হয়। যদি আমার নিকট সাহায্যকারী থাকত, তাহলে আমি তাদেরকে সারা দুনিয়ায় পাঠাতাম যে, তারা যেন এ আহ্বান করে যে, হে লোকেরা! জাহান্নাম থেকে সতর্ক হও। হে লোকেরা! জাহান্নাম থেকে সতর্ক হও।" (আবু নুআইম হুলইয়া)
মাসআলা-২৫১: সুফিয়ান সাওরী পরকালের স্মরণে এত সন্ত্রস্ত হতেন যে তাতে তার রক্ত পেসাব শুরু হত:
قَالَ مُوسَى بْن مَسْعُودٍ رَحِمَةُ اللهِ كُنَّا إِذَا جَلَسْنَا إِلَى النُّورِي رَحْمَةُ اللَّهِ كَانَ قَدْ أَحَاطَتْ بِنَا لَمَّا نَرَى مِنْ خَوْفِهِ وَفَزَعِهِ وَكَانَ سُفْيَانُ إِذَا أَخَذَ فِي ذكْرِ الْآخِرَةِ يُولُ الدَّمُ
অর্থ: "মূসা বিন মাসউদ (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: যখন আমরা সুফিয়ান সাওরীর (রা) নিকট বসতাম, তখন তাকে ভীত সন্ত্রস্ত দেখে আমাদের মনে হত যেন আগুন আমাদেরকে ঘিরে রেখেছে। আর তিনি যখন পরকালের কথা স্মরণ করতেন তখন তার রক্ত পেসাব শুরু হত।"
মাসআলা-২৫২: মৃত্যু, কবর, কিয়ামত, পুলসিরাতের ভয়:
سُئِلَ عَطَاءُ السُّلَبِي رَحِمَهُ اللهُ مَا هَذَا الْحُزْنُ؟ قَالَ وَيْحَكَ الْمَوْتُ فِي عَنِقَى والقَبرُ بَيْتِي وَ فِي الْقِيَامَةِ مُوقَفَى وَعَلَى جَسْرٍ جَهَنَّمَ طَرِيقِي لَا أَدْرِي مَا يصنع بي.
অর্থ: "আতা আসসুলামী (রা)-কে জিজ্ঞেস করা হলো এ কিসের চিন্তা? তিনি বললেন: তোমার ধ্বংস হোক, (তুমি কি জান না) মৃত্যু আমার গর্দানে, কবর আমার ঠিকানা, কিয়ামতের দিন আমাকে আল্লাহর আদালতে দাঁড়াতে হবে। আর জাহান্নামের ওপর স্থাপিত পুলসিরাতের ওপর দিয়ে আমাকে অতিক্রম করতে হবে। আর আমি জানিনা যে, শেষ পর্যন্ত আমার কি হবে।"
মাসআলা-২৫৩: জাহান্নামের কথা স্মরণ হওয়ায় আবু মাইসারা (রা) বললেন: আফসোস! আমার মা যদি আমাকে প্রসব না করত:
كَانَ اَبُوْ مَيْسَرَةَ رَحِمَهُ اللهُ إِذَا اَوَى إِلَى فِرَاشِهِ قَالَ يَالَيْتَ اُمِّى لَمْ تَلِدْنِي ثُمَّ يَبْكِي فَقِيلَ لَهُ مَا يُبْكِيكَ؟ قَالَ: اَخْبِرْنَا اَنَّانَرِدُهَا وَلَمْ نُخْبَرْ اَنَّا صَادِرُوْنَ عَنْهَا
অর্থ: "আবু মাইসারা (র) যখন বিছানায় শুইতে যেতেন তখন বলতেন হায়! আফসোস আমার মা যদি আমাকে প্রসব না করত, আর কাঁদিতে শুরু করতেন, তাকে জিজ্ঞাসা করা হলো হে আবু মাইসারা কেন কাঁদছেন? তিনি বললেন: আমার একথা জানা আছে যে, আমাকে জাহান্নামের ওপর দিয়ে অতিক্রম করতে হবে, কিন্তু জানা নেই যে, আমার মুক্তি হবে কিনা।"
মাসআলা-২৫৪: জাহান্নামের স্মরণে জীবনের তরে হাসি বন্ধ:
عَنِ الْحَسَنِ الْبَصْرِيِّ رَحِمَهُ اللهُ قَالَ قَالَ رَجُلٌ لِاَخِيْهِ هَلْ اَتَاكَ اَنَّكَ وَارِدُ النَّارَ؟ قَالَ نَعَمْ قَالَ فَهَلْ اَتَاكَ اَنَّكَ صَادِرُ عَنْهَا؟ قَالَ لَا قَالَ فَفِيمَ الضَّحْكُ؟ قَالَ فَمَا رُئِيَ ضَاحِكًا حَتَّى لَحِقَ اللهَ.
অর্থ: "হাসান বসরী (র) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: এক সৎলোক তার ভাইকে জিজ্ঞাসা করল, তোমার কি জানা আছে যে, তোমাকে জাহান্নামের ওপর দিয়ে অতিক্রম করতে হবে? সে বলল: হ্যাঁ। সে আবার জিজ্ঞাসা করল তোমার কি একথা জানা আছে যে, তুমি সেখান থেকে মুক্তি পাবে? সে বলল: না। তখন ঐ সৎলোকটি বলল: তাহলে এ কিসের হাসি? এর পর থেকে মৃত্যু পর্যন্ত ঐ ব্যক্তি আর হাসে নি।"
মাসআলা-২৫৫ : বুদাইল বিন মাইসারা (রা) কিয়ামতের দিন কঠিন পিপাসার ভয়ে এত কাঁদলেন যে, তার রক্ত অশ্রু প্রবাহিত হতে লাগল:
بكي بديلُ بْنُ مَيْسَرَةَ رَحِمَهُ اللهُ حَتَّى قَرَحَتْ مَا فِيهِ فَكَانَ يُعَاتِبُ فِي ذَالِكَ فَيَقُولُ أَنَّمَا ابْكِي مِنْ طُولِ الْعَطَشِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ .
অর্থ: "বুদাইল বিন মাইসারা এত কাঁদত যে, চোখ দিয়ে বমি ও রক্ত প্রবাহিত হতে শুরু করত। সব সময় পরকালের ভয়ে ভীত সন্ত্রস্ত থাকত, আর বলত যে, আমি কিয়ামতের দিন কঠিন পিপাসার ভয়ে কাঁদছি।"
মাসআলা-২৫৬: মুহাম্মদ বিন মুনকাদের জাহান্নামের ভয়ে যখন কাঁদত তখন চোখের পানি দিয়ে চেহারা ও দাড়ি ভিজিয়ে দিত:
كَانَ مُحَمَّدُ بْنُ الْمُنْكَدِرِ رَحِمَهُ اللهُ إِذَا بَكَى مَسَحَ وَجْهَهُ وَلِحِيْتَهُ بِدُمُوعِهِ وَيَقُولُ بَلَغَنِي إِنَّ النَّارَ لَا تَأْكُلْ مَوْضَعَا مَّسَّتْهُ الدُّمُوعِ
অর্থ: "মুহাম্মদ বিন মুনকাদির (র) যখন কাঁদতেন তখন চোখের পানি দিয়ে স্বীয় চেহারা ও দাড়ি মুছে নিতেন, আর বলতেন: আমি শুনেছি (আল্লাহর ভয়ে) প্রবাহিত চোখের পানি যেখানে পৌঁছবে ঐ স্থান জাহান্নামের আগুন স্পর্শ করবে না।"
মাসআলা-২৫৭: আতা আস সুলামী (রা) তার প্রতিবেশীদের চুলার আগুন দেখে বেহুশ হয়ে গিয়েছিল:
دَخَلَ عَلَا بْنُ مُحَمَّدٍ عَلَى السُلَمِي رَحِمَهُ اللهُ وَقَدْ غَشِيَ عَلَيْهِ فَقَالَ لِامْرَأَتِهِ أَمْ جَعْفَر مَا شَانُ عَطَا فَقَالَتْ سَجَرَتْ جَارَتَنَا التَّنُورِ فَنَظَرَ إِلَيْهِ وَخَرَّ مَغْشِيَا عَلَيْهِ :
অর্থ: "আলা বিন মোহাম্মদ একদা আতা আসসুলাইমী (র)-এর নিকট এসে দেখলেন যে তিনি বেহুশ হয়ে আছেন, তখন তিনি তার স্ত্রী উম্মে জা'ফরকে জিজ্ঞেস করলেন, আতা আসসুলাইমীর কি হয়েছে? স্ত্রী বলল: আমাদের প্রতিবেশীরা চুলা জ্বালাচ্ছিল আর তা দেখে তিনি বেহুশ হয়ে গেছেন।"
মাসআলা-২৫৮: জাহান্নামের ভয়ে হাসান বসরী (র)-এর ক্রন্দন:
وَعِنْدَ مَا بَكَى الْحَسَنُ فَقِيلَ لَهُ مَا يُبْكِيكَ؟ قَالَ أَخَافُ يَطْرُ حَنِي غَدًا فِي النَّارِ وَلَا يُبَالِى
অর্থ: "হাসান বাসরী (র)-কে কাঁদতে দেখে জিজ্ঞেস করা হলো যে, কে তোমাকে কাঁদাচ্ছে? সে বলল: আমার ভয় হয় না জানি কিয়ামতের দিন আল্লাহ আমাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করেন। আল্লাহ তো কোনো কিছুর পরওয়া করেন না।"
মাসআলা-৩৩৭: ইয়াযিদ বিন হারুন (র)-এর উভয় চোখ কেঁদে কেঁদে অন্ধ হয়ে গিয়েছিল:
قَالَ الْحَسَنُ بْنُ عَرَفَةَ رَحِمَهُ اللهُ رَأَيْتُ يَزِيدَ بْنَ هَارُونَ رَحِمَهُ اللهُ مِنْ أَحْسَنَ النَّاسِ عَيْنَيْنِ ثُمَّ رَأَيْتُهُ بِعَيْنِ وَاحِدٍ ثُمَّ رَايَتُهُ أَعْمَى فَقُلْتُ يَا أَبَا خَالِدٍ مَا فَعَلَتْ الْعَيْنَانِ الْجَمِيلَتَانِ؟ قَالَ ذَهَبَ بِهَا بُكَاءَ الْأَسْحَارِ
অর্থ: "হাসান বিন আরাফা (র) বলেছেন: আমি ইয়াযিদ বিন হারুন (র)-কে দেখেছি যে, তার চোখ দু'টি খুব সুন্দর ছিল, কিছুদিন পর দেখলাম যে তার শুধু একটি চোখ, আরো কিছু দিন পর দেখলাম যে, তার দু'টি চোখই নষ্ট হয়ে গেছে। আমি জিজ্ঞেস করলাম হে আবু খালেদ! তোমার সুন্দর দু'টি চোখ কি হলো? সে বলল: কান্নাবিজড়িত রাত্রি জাগরণে তা নষ্ট হয়ে গেছে।"
মাসআলা-২৫৯: মৃত্যুর পূর্বে ঈমান নষ্ট হয়ে যাওয়ার ভয়:
قَالَ عَبْدُ الرَّحْمَانِ بن مَهْدِي رَحِمَهُ اللهُ بَاتَ سُفْيَانَ رَحِمَهُ اللَّهُ عِنْدِي فَلَمَّا أَشَدَّ بِهِ الْأَمْرِ جَعَلَ يَبْكِي فَقَالَ لَهُ رَجُلٌ يَا أَبَا عَبْدِ اللَّهِ أَرَاكَ كَثِير الذُّنُوبِ فَرَفَعَ شَيْئًا مِنَ الْأَرْضِ وَقَالَ وَاللَّهِ لَذُنُوبِي أَهْوَنُ عِنْدِي مِنْ ذَا إِنِي أَخَافُ أَنْ أَسْلَبَ الإِيمَانِ قَبْلَ أَنْ أَمُوتَ
অর্থ: "আবদুর রহমান বিন মাহদী (র) বলেন, সুফিয়ান (র) আমার নিকট রাত্রি যাপন করল, যখন তার ক্লান্তি এসে গেল তখন সে কাঁদতে লাগল। এক ব্যক্তি তাকে জিজ্ঞেস করল হে আবু আবদুল্লাহ! তুমি কি অধিক গুনাহর কারণে কাঁদতেছ? তখন সে মাটি থেকে একটি কিছু উঠিয়ে বলল: আল্লাহর কসম!
মাসআলা-২৬০: ওমার বিন আবদুল আযীয ইশার নামাযের পর থেকে ঘুম আসা পর্যন্ত আল্লাহর ভয়ে কাঁদতে থাকতেন:
قَالَتْ فَاطِمَةٌ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنَ مَرْوَانَ امْرَأَةَ عُمَرَ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ رَحِمَهُ اللَّهُ يكون في النَّاسِ مَنْ هُوَ أَكْثَرُ صَوْمًا وَصَلاةً مِنْ عُمَرَ وَمَا رَأَيْتُ أَحَدًا أَشَدَّ خوفًا مِنْ رَبِّهِ مِنْ عُمَرَ كَانَ إِذَا صَلَّى الْعِشَاءِ قَعَدَ فِي الْمَسْجِدِ ثُمَّ رَفَعَ يَدَيْهِ فَلَمْ يَزِلُ يبكى حَتَّى يَغْلِبُهُ النَّوْمُ ثُمَّ يَنْتَبهُ فَلَا يَزَالُ يَدْعُو رَافِعًا يَدَيْهِ يَبْغِي حَتَّى تَغْلِبَهُ عَيْنَاءُ
অর্থ: "ফাতেমা বিনতে আবদুল মালেক বিন মারওয়ান (র) যিনি ওমর বিন আবদুল আযীয (র)-এর স্ত্রী ছিলেন তিনি বলেছেন যে, লোকদের মধ্যে ওমর (রা) চেয়ে নামায রোযা অধিক পরিমাণে করার মত তো অনেকেই ছিল, কিন্তু আল্লাহর ভয়ে ক্রন্দনকারী আমি ওমর (রা)-এর চেয়ে অধিক আর কাউকে দেখি নি। যখন ইশার নামায শেষ হয়ে যেত তখন আল্লাহর নিকট হাত তুলে কাঁদতে থাকত এবং একাধারে ঘুম আসা পর্যন্ত কাঁদতে থাকত। যদি উঠানো হত তাহলে আবার হাত তুলে কাঁদতে শুরু করত। এমন কি ঘুম আসা পর্যন্ত কাঁদতে থাকত।"
টিকাঃ
১১৪. তাম্বীহুল গাফেলীন, ২/৬২০।
১১৫. ইবনে কাসীর (৩/১৪৫)
১১৬. ২/৬৯
১১৭. আল ইহইয়া (১৬৯)
১১৮. সাফওয়াতুস সাফওয়া (৩/৩২৭)
১১৯. ইবনে কাসীর (৩/১৭৯)
১২০. প্রাগুক্ত (৩/১৭৯)
১২১. সাফওয়াতুস সাফওয়া, ৩/২৬৫।
১২২. এহইয়া ৪/১৭২।
১২৩. সাফওয়াতুস সাফওয়া, ৩/৩২৬।
১২৪. তাযকিরাতুল হুফ্ফায (৩/৭৯০)
১২৫. সাফওয়াতুস সাফওয়া, (৩/১৫০)
১২৬. তাযকিরাতুল হুফ্ফায (১/১২০)
📄 চিন্তা করুন
মাসআলা-২৬১: যে ব্যক্তি জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হবে সে উত্তম, না যে তা থেকে নিরাপত্তা পাবে সে উত্তম:
أَفَمَن يُلْقَى فِي النَّارِ خَيْرٌ أَمْ مَّن يَأْتِ آمِناً يَوْمَ الْقِيَامَةِ اعْمَلُوا مَا شِئْتُمْ إِنَّهُ بِمَا تَعْمَلُونَ بَصِيرٌ
অর্থ: "শ্রেষ্ট কে? যে ব্যক্তি জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হবে সে, না যে কিয়ামতের দিন নিরাপদে থাকবে সে! তোমাদের যা ইচ্ছা তা কর, তোমরা যা কর তিনি তার দ্রষ্টা।" (সূরা হা-মীম সেজদা: ৪০)
মাসআলা-২৬২: জাহান্নামের উত্তপ্ত আগুন দেখে মৃত্যুর ধ্বংস কামনাকারী ব্যক্তি উত্তম না ঐ ব্যক্তি উত্তম যে, এমন স্থানে থাকবে যেখানে তার সমস্ত ইচ্ছা পূরণ করা হবে:
وَأَعْتَدْنَا لِمَن كَذَّبَ بِالسَّاعَةِ سَعِيرًا إِذَا رَأَتْهُمْ مِّنْ مَّكَانٍ بَعِيدٍ سَمِعُوا لَهَا تَغَيُّظاً وَزَفِيرًا وَإِذَا أَلْقُوا مِنْهَا مَكَانَاً ضَيِّقاً مُقَرَّنِينَ دَعَوْا هُنَالِكَ ثُبُوراً لا تَدْعُوا الْيَوْمَ ثُبُوراً وَاحِداً وَادْعُوا ثُبُوراً كَثِيراً قُلْ أَذْلِكَ خَيْرٌ أَمْ جَنَّةُ الْخُلْدِ الَّتِي وُعِدَ الْمُتَّقُونَ كَانَتْ لَهُمْ جَزَاءً وَمَصِيرًا لَّهُمْ فِيهَا مَا يَشَاءُونَ خَالِدِينَ كَانَ عَلَى رَبِّكَ وَعْداً مَّسْئُولاً
অর্থ: বরং তারা কেয়ামতকে অস্বীকার করে এবং যে কেয়ামতকে অস্বীকার করে, আমি তার জন্যে অগ্নি প্রস্তুত করেছি। অগ্নি যখন দূর থেকে তাদেরকে দেখবে, তখন তারা শুনতে পাবে তার গর্জন ও হুঙ্কার। যখন এক শিকলে কয়েকজনকে বাঁধা অবস্থায় জাহান্নামের কোনো সংকীর্ণ স্থানে নিক্ষেপ করা হবে, তখন সেখানে তারা মৃতুকে ডাকবে। বলা হবে, আজ তোমরা এক মৃত্যুকে ডেকো না অনেক মৃত্যুকে ডাক। বলুন এটা উত্তম, না চিরকাল বসবাসের জান্নাত, যার সুসংবাদ দেয়া হয়েছে মুত্তাকীদেরকে? সেটা হবে তাদের প্রতিদান ও প্রত্যাবর্তন স্থান। তারা চিরকাল বসবাসরত অবস্থায় সেখানে যা চাইবে, তাই পাবে। এই প্রার্থিত ওয়াদা পূরণ আপনার পালনকর্তার দায়িত্ব। (সূরা ফুরকান ২৫:১১-১৬)
মাসআলা-২৬৩: জান্নাতের নিআমতসমূহের অতিথিয়তা উত্তম না যাক্কুম বৃক্ষ ও উত্তপ্ত পানি পান করা উত্তম:
إِنَّ هَذَا لَهُوَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ لِمِثْلِ هَذَا فَلْيَعْمَلِ الْعَامِلُونَ أَذَلِكَ خَيْرٌ نُزُلاً أَمْ شَجَرَةُ الزَّقُومِ إِنَّا جَعَلْنَاهَا فِتْنَةً لِلظَّالِمِينَ إِنَّهَا شَجَرَةٌ تَخْرُجُ فِي أَصْلِ ٱلْجَحِيمِ طَلْعُهَا كَأَنَّهُ رُءُوسُ ٱلشَّيَٰطِينِ فَإِنَّهُمْ لَـَٔاكِلُونَ مِنْهَا فَمَالِـُٔونَ مِنْهَا ٱلْبُطُونَ ثُمَّ إِنَّ لَهُمْ عَلَيْهَا لَشَوْبًا مِّنْ حَمِيمٍ
'নিশ্চয় এটি মহাসাফল্য!' এরূপ সাফল্যের জন্যই 'আমলকারীদের আমল করা উচিত। আপ্যায়নের জন্য এগুলো উত্তম না যাক্কুম বৃক্ষ? নিশ্চয় আমি তাকে যালিমদের জন্য করে দিয়েছি পরীক্ষা। নিশ্চয় এ গাছটি জাহান্নামের তলদেশ থেকে বের হয়। এর ফল যেন শয়তানের মাথা; নিশ্চয় তারা তা থেকে খাবে এবং তা দিয়ে পেট ভর্তি করবে। তদুপরি তাদের জন্য থাকবে ফুটন্ত পানির মিশ্রণ। (সূরা সাফফাত ৩৭:৬০-৬৭)
মাসআলা-২৬৪: দুনিয়াতে আনন্দ উপভোগকারী উত্তম না পরকালে:
إِنَّ ٱلَّذِينَ أَجْرَمُوا۟ كَانُوا۟ مِنَ ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ يَضْحَكُونَ وَإِذَا مَرُّوا۟ بِهِمْ يَتَغَامَزُونَ وَإِذَا ٱنقَلَبُوٓا۟ إِلَىٰٓ أَهْلِهِمُ ٱنقَلَبُوا۟ فَكِهِينَ وَإِذَا رَأَوْهُمْ قَالُوٓا۟ إِنَّ هَـٰٓؤُلَآءِ لَضَآلُّونَ وَمَآ أُرْسِلُوا۟ عَلَيْهِمْ حَـٰفِظِينَ فَٱلْيَوْمَ ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ مِنَ ٱلْكُفَّارِ يَضْحَكُونَ عَلَى ٱلْأَرَآئِكِ يَنظُرُونَ هَلْ ثُوِّبَ ٱلْكُفَّارُ مَا كَانُوا۟ يَفْعَلُونَ
অর্থ: নিশ্চয় যারা অপরাধ করেছে তারা মু'মিনদেরকে নিয়ে হাসত। আর যখন তারা মু'মিনদের পাশ দিয়ে যেত তখন তারা তাদেরকে নিয়ে চোখ টিপে বিদ্রূপ করত। আর যখন তারা পরিবার-পরিজনের কাছে ফিরে আসত তখন তারা উৎফুল্ল হয়ে ফিরে আসত। আর যখন তারা মু'মিনদেরকে দেখত তখন বলত, 'নিশ্চয় এরা পথভ্রষ্ট'। আর তাদেরকে তো মু'মিনদের হিফাযতকারী হিসেবে পাঠানো হয়নি। অতএব আজ মু'মিনরাই কাফিরদেরকে নিয়ে হাসবে। উচ্চ আসনে বসে তারা দেখতে থাকবে। কাফিরদেরকে তাদের কৃতকর্মের প্রতিদান দেয়া হলো তো? (সূরা মুতাফফিফীন ৮৩:২৯-৩৬)
টিকাঃ
১২৭. অতি তিক্ত স্বাদযুক্ত জাহান্নামের এক গাছ।
📄 জাহান্নামের আযাব থেকে আশ্রয় কামনা
মাসআলা-২৬৫: যে ব্যক্তি তিন বার আল্লাহর নিকট জাহান্নাম থেকে আশ্রয় চায় তার জন্য জাহান্নাম সুপারিশ করে:
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : " مَنْ سَأَلَ اللَّهَ الْجَنَّةَ ثَلَاثَ مَرَّاتٍ قَالَتِ الْجَنَّةُ: اللَّهُمَّ أَدْخِلُهُ الْجَنَّةَ، وَمَنْ اسْتَجَارَ مِنَ النَّارِ ثَلَاثَ مَرَّاتٍ قَالَتِ النَّارُ : اللَّهُمَّ أَجِرْهُ مِنَ النَّارِ
অর্থ: "আনাস বিন মালেক (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ বলেছেন: যে ব্যক্তি আল্লাহর নিকট তিনবার জান্নাত কামনা করবে, জান্নাত তার জন্য বলে যে হে আল্লাহ! তুমি তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাও। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর নিকট তিনবার জাহান্নাম থেকে আশ্রয় কামনা করে, জাহান্নাম তার জন্য বলে হে আল্লাহ তুমি তাকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দাও।" (তিরমিজী ৪/২৫৭২)
মাসআলা-২৬৬: জাহান্নাম থেকে আশ্রয় চাওয়ার কুরআনের কতগুলো আয়াত:
ومِنْهُمْ مَنْ يَقُولُ رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الْآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ
১. অর্থ: "আর তাদের মধ্যে এমনও আছে, যারা বলে, হে আমাদের রব, আমাদেরকে দুনিয়াতে কল্যাণ দিন। আর আখিরাতেও কল্যাণ দিন এবং আমাদেরকে আগুনের আযাব থেকে রক্ষা করুন। (সূরা বাকারা ২:২০১)
رَبَّنَا اصْرِفْ عَنَّا عَذَابَ جَهَنَّمَ إِنَّ عَذَابَهَا كَانَ غَرَامًا إِنَّهَا سَاءَتْ مُسْتَقَرّاً وَمُقَاماً
২. আর যারা বলে, 'হে আমাদের রব! তুমি আমাদের থেকে জাহান্নামের আযাব ফিরিয়ে নাও। নিশ্চয় এর আযাব হলো অবিচ্ছিন্ন'। 'নিশ্চয় তা অবস্থানস্থল ও আবাসস্থল হিসেবে অত্যন্ত নিকৃষ্ট'। (সূরা ফোরকান ২৫:৬৫-৬৬)
رَبَّنَا مَا خَلَقْتَ هُذَا بَاطِلاً سُبْحَانَكَ فَقِنَا عَذَابَ النَّارِ رَبَّنَا إِنَّكَ مَنْ تُدْخِلِ النَّارَ فَقَدْ أَخْزَيْتَهُ وَمَا لِلظَّالِمِينَ مِنْ أَنْصَارٍ رَبَّنَا إِنَّنَا سَمِعْنَا مُنَادِياً يُنَادِي لِلْإِيمَانِ أَنْ آمِنُوا بِرَبِّكُمْ فَآمَنَّا رَبَّنَا فَاغْفِرْ لَنَا ذُنُوبَنَا وَكَفِّرْ عَنَّا سَيِّئَاتِنَا وَتَوَفَّنَا مَعَ الْأَبْرَارِ رَبَّنَا وَآتِنَا مَا وَعَدتَنَا عَلَى رُسُلِكَ وَلَا تُخْزِنَا يَوْمَ الْقِيَامَةِ إِنَّكَ لَا تُخْلِفُ الْمِيعَادَ
৩. 'হে আমাদের রব! তুমি এসব অনর্থক সৃষ্টি করনি। তুমি পবিত্র মহান। সুতরাং তুমি আমাদেরকে আগুনের আযাব থেকে রক্ষা কর'। 'হে আমাদের রব, নিশ্চয় তুমি যাকে আগুনে প্রবেশ করাবে, অবশ্যই তাকে তুমি অপমান করবে। আর যালিমদের জন্য কোনো সাহায্যকারী নেই'। 'হে আমাদের রব, নিশ্চয় আমরা শুনেছিলাম একজন আহ্বানকারীকে, যে ঈমানের দিকে আহবান করে যে, 'তোমরা তোমাদের রবের প্রতি ঈমান আন'। তাই আমরা ঈমান এনেছি। হে আমাদের রব আমাদের গুনাহসমূহ ক্ষমা করুন এবং বিদূরিত করুন আমাদের ত্রুটি-বিচ্যুতি, আর আমাদেরকে মৃত্যু দিন নেককারদের সাথে'। 'হে আমাদের রব! আর আপনি আমাদেরকে তা প্রদান করুন যার ওয়াদা আপনি আমাদেরকে দিয়েছেন আপনার রাসূলগণের মাধ্যমে। আর কিয়ামতের দিনে আপনি আমাদেরকে অপমান করবেন না। নিশ্চয় আপনি অঙ্গীকার ভঙ্গ করেন না'। (সূরা আলে ইমরান ৩:১৯১-১৯৪)
মাসআলা-২৬৭: জাহান্নামের আযাব থেকে বাঁচার জন্য রাসূল নিম্নোক্ত দূয়াসমূহ সাহাবাগণকে কুরআনের সূরার ন্যায় মুখস্ত করাতেন:
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنَ عَبَّاسٍ ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يُعَلِّمُهُمْ هَذَا الدُّعَاءَ كَمَا يُعَلِّمُ السُّورَةَ مِنَ الْقُرْآنِ قُولُوا: «اللَّهُمَّ إِنَّا نَعُوذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ جَهَنَّمَ ، وَنَعُوذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ وَ نَعُوذُ بِكَ مِنْ فِتْنَةِ الْمَسِيحِ الدَّجَّالِ وَنَعُوذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ وَ نَعُوذُ بِكَ مِنْ فِتْنَةِ الْمَحْيَا وَالْمَمَاتِ
অর্থ: "আবদুল্লাহ বিন আব্বাস (রা) রাসূলূল্লাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি তাদেরকে (সাহাবাগণকে) এ দুয়াটি কুরআনের সূরার ন্যায় মুখস্ত করাতেন, তোমরা বল: হে আল্লাহ আমরা আপনার নিকট জাহান্নামের আযাব থেকে আশ্রয় চাই, আমরা আপনার নিকট কবরের আযাব থেকে আশ্রয় চাই, আমরা আপনার নিকট মসিহিদদাজ্জালের ফিতনা থেকে আশ্রয় চাই, আমরা আপনার নিকট জীবন ও মৃত্যুর ফিতনা থেকে আশ্রয় চাই।" (নাসায়ী)
মাসআলা-২৬৮: জাহান্নামের গরম থেকে আশ্রয় চাওয়ার দুআ:
عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا قَالَتْ : قَالَ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : «اللَّهُمَّ رَبَّ جِبْرَائِيلَ وَمِيكَائِيلَ، وَرَبَّ إِسْرَافِيلَ، أَعُوذُ بِكَ مِنْ حَرِّ النَّارِ، وَمِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ»
অর্থ: "আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলূল্লাহ বলেছেন: হে আল্লাহ জিবরীল, মিকাঈল ও ইসরাঈলের প্রভু! আমি আপনার নিকট জাহান্নামের গরম থেকে আশ্রয় চাই এবং কবরের আযাব থেকে আশ্রয় চাই।" (নাসায়ী ৮/৫৫১৯)
মাসআলা-২৬৯: শোয়ার পূর্বে আল্লাহর আযাব থেকে আশ্রয় কামনা করার দুআ:
عَنْ حَفْصَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ إِذَا أَرَادَ أَنْ يَرْقُدَ وَضَعَ يَدَهُ الْيُمْنَى تَحْتَ خَذِهِ ثُمَّ يَقُولُ: «اللَّهُمَّ قِنِي عَذَا بَكَ يَوْمَ تَبْعَثُ عِبَادَكَ
অর্থ: "হাফসা (রা) রাসূলুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি যখন শোয়ার ইচ্ছা করতেন তখন ডান হাত স্বীয় গালের নিচে রেখে বলতেন: হে আল্লাহ যেদিন আপনি আপনার বান্দাদেরকে উঠাবেন, সেদিন আমাকে স্বীয় আযাব থেকে রক্ষা করবেন।" (আবু দাউদ ৪/৫০৪৫)
عَنِ ابْنِ عُمَرَ رَضِى اللهُ عَنْهُمَا أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَقُولُ إِذَا أَخَذَ مَضْجَعَهُ: «الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي كَفَانِي وَآوَانِي، وَأَطْعَمَنِي وَسَقَانِي وَالَّذِي مَنَّ عَلَيَّ فَأَفْضَلَ، وَالَّذِي أَعْطَانِي فَأَجْزَلَ الْحَمْدُ لِلَّهِ عَلَى كُلِّ حَالٍ اللَّهُمَّ رَبَّ كُلِّ شَيْءٍ وَمَلِيكَهُ وَإِلَهَ كُلِّ شَيْءٍ ، أَعُوذُ بِكَ مِنَ النَّارِ»
অর্থ: "ইবনে ওমার (রা) রাসূলুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি যখন বিছানায় শুইতে যেতেন তখন আল্লাহর শুকুর করে বলতেন, যিনি আমাকে সমস্ত মুসিবত থেকে রক্ষা করেছেন, আমাকে বাসস্থানের ব্যবস্থা করেছেন, আমাকে পানাহার করিয়েছেন, ঐ সত্তার শুকুর যিনি যখন আমার প্রতি অনুগ্রহ করেছেন তখন যথেষ্ট পরিমাণে তা করেছেন, যখন আমাকে দান করেছেন তখনও যথেষ্ট পরিমাণে করেছেন, সর্বাবস্থায় শুধু তাঁরই কৃতজ্ঞতা, হে আল্লাহ! সবকিছুর রব, সবকিছুর মালিক, সবকিছুর ইলাহ, আমি জাহান্নাম থেকে তোমার নিকট আশ্রয় চাই।" (আবু দাউদ ৪/৫০৫৮)
মাসআলা-২৭০: তাহাজ্জুদের নামাযে আল্লাহর আযাব থেকে আশ্রয় চাওয়ার দোয়া:
عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا قَالَتْ : فَقَدْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَيْلَةً مِنَ الْفِرَاشِ فَالْتَمَسْتُهُ فَوَقَعَتْ يَدِي عَلَى بَطْنِ قَدَمَيْهِ وَهُوَ فِي الْمَسْجِدِ وَهُمَا مَنْصُوبَتَانِ وَهُوَ يَقُولُ: «اللَّهُمَّ أَعُوذُ بِرِضَاكَ مِنْ سَخَطِكَ، وَبِمُعَافَاتِكَ مِنْ عُقُوبَتِكَ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنْكَ لَا أُحْصِي ثَنَاءً عَلَيْكَ أَنْتَ كَمَا أَثْنَيْتَ عَلَى نَفْسِكَ»
অর্থ: "আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি এক রাতে রাসূলুল্লাহ -কে বিছানায় অনুপস্থিত পেয়ে তাঁকে খুঁজতে লাগলাম, তখন আমার হাত রাসূলের পায়ের পাতায় লাগল যা দাড় করানো অবস্থায় ছিল। তখন তিনি মসজিদে ছিলেন, (আর সেজদা অবস্থায়) তিনি এ দুয়া পড়তেছিলেন: হে আল্লাহ! আমি তোমার সন্তুষ্টির মাধ্যমে তোমার অসন্তুষ্টি থেকে আশ্রয় চাই। তোমার ক্ষমার ওসীলায় তোমার আযাব থেকে আশ্রয় চাই। আর আমি প্রত্যেক বিষয়ে তোমার নিকটই আশ্রয় চাই। আমি তোমার প্রশংসা ও গুণগান করার ক্ষমতা রাখিনা তোমার প্রশংসা তেমনই যেমন তুমি করেছ।" (মুসলিম ১/৪৮৬)
মাসআলা-২৭১: জাহান্নামের আযাব থেকে বাঁচার জন্য নিম্নের দুয়াটি বেশি বেশি করে পাঠ করা উচিত:
عَنْ أَنَسٍ رَضِى اللهُ عَنْهُ قَالَ كَانَ أَكْثَرُ دَعَاءِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ «اللَّهُمَّ آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الْآخِرَةِ حَسَنَةً، وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ
অর্থ: "আনাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: নবী বেশির ভাগ এদুয়া করতেন যে, হে আল্লাহ! তুমি আমাকে দুনিয়াতেও কল্যাণ দাও এবং পরকালেও কল্যাণ দাও এবং আমাকে জাহান্নামের আযাব থেকে রক্ষা কর।" (মুসলিম)
মাসআলা-২৭২: এক সাথে কম পক্ষে তিন বার জাহান্নাম থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাওয়া উচিত:
নোট: ৩৪৪ নং মাসআলার হাদীস দ্রষ্টব্য।
টিকাঃ
১২৮. আবওয়াবুন ন্নাউম মা ইয়াকুলু ইন্দান্নাউম। বাবুল ইস্তেয়াজা মিন ফিতনাতিল মাহইয়া ওয়াল মামাত।
১২৯. কিতাবুল ইস্তেয়াজা বিন হাররিন্নার। (৩/৫০৯২)
১৩০. আবওয়াবুন্নাউম, মা ইয়াকুলু ইন্দান্নাউম (৩/৪২১৮)
১৩১. প্রাগুক্ত (৩/৪২২৯)
১৩২. কিতাবুস্সালা বাবা মা যুকালু ফির রুকু ওয়াস্ সুজুদ।
১০০. কিতাবুয যিকর ওয়াদ্দুমা, ওয়াত্ তাওবা, বাব ফাযলি দ্ দুয়া বি আল্লাহুম্মা ফিদ্দুনইয়া হাসানা।