📘 মৃত্যুর পরে অনন্ত জীবন > 📄 জাহান্নাম ও ফেরেশতা

📄 জাহান্নাম ও ফেরেশতা


মাসআলা-২৩০: ফেরেশতাদের জাহান্নামে কোনো শাস্তি হবে না এরপরও তারা আল্লাহর শাস্তির ভয়ে ভীত থাকে:
وَاللَّهِ يَسْجُدُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ مِنْ دَابَّةٍ وَالْمَلَائِكَةُ وَهُمْ لَا يَسْتَكْبِرُونَ يَخَافُونَ رَبَّهُمْ مِنْ فَوْقِهِمْ وَيَفْعَلُونَ مَا يُؤْمَرُونَ
অর্থ: আর আল্লাহকেই সিজদা করে আসমানসমূহে যা আছে এবং জমিনে যে প্রাণী আছে, আর ফেরেশতারা এবং তারা অহঙ্কার করে না। তারা তাদের উপরস্থ রবকে ভয় করে এবং তাদেরকে যা নির্দেশ দেয়া হয়, তারা তা করে। (সূরা নাহল ১৬:৪৯-৫০)
মাসআলা-২৩১: আল্লাহর ভয়ে ফেরেশতারা ভীত সন্ত্রস্ত থাকে:
وَقَالُوا اتَّخَذَ الرَّحْمَنُ وَلَداً سُبْحَانَهُ بَلْ عِبَادٌ مُّكْرَمُونَ لَا يَسْبِقُونَهُ بِالْقَوْلِ وَهُمْ بِأَمْرِهِ يَعْمَلُونَ يَعْلَمُ مَا بَيْنَ أَيْدِيهِمْ وَمَا خَلْفَهُمْ وَلَا يَشْفَعُونَ إِلا لِمَنِ ارْتَضَى وَهُمْ مِّنْ خَشْيَتِهِ مُشْفِقُونَ
অর্থ: আর তারা বলে, 'পরম করুণাময় সন্তান গ্রহণ করেছেন।' অথচ তিনি পবিত্র। বরং তারা সম্মানিত বান্দা। তারা তাঁর আগ বাড়িয়ে কোনো কথা বলে না, তাঁর নির্দেশেই তো তারা কাজ করে। তাদের সামনে ও পেছনে যা কিছু আছে সবই তিনি জানেন। আর তারা শুধু তাদের জন্যই সুপারিশ করে যাদের প্রতি তিনি সন্তুষ্ট। তারা তাঁর ভয়ে ভীত। (সূরা আম্বিয়া ২১:২৬-২৮)৯৭

টিকাঃ
৯৭. বনু খুযা'আ দাবী করত, ফেরেশতারা আল্লাহর কন্যা। এ ভুল ধারণা দূর করতে আল্লাহ বলেন, ফেরেশতারা আল্লাহর সন্তান নয়; বরং তারা সম্মানিত বান্দা। আল-কাশাফ ৮. ফেরেশতারা আল্লাহর ভয়ে সর্বদা ভীত থাকে।

📘 মৃত্যুর পরে অনন্ত জীবন > 📄 জাহান্নাম ও নবীগণ

📄 জাহান্নাম ও নবীগণ


মাসআলা-২৩২: নবীগণের সর্বদার মুহাম্মদ আল্লাহর আযাবের ভয়ে ভীত সন্ত্রস্ত থাকতেন:
قُلْ إِنِّي أَخَافُ إِنْ عَصَيْتُ رَبِّي عَذَابَ يَوْمٍ عَظِيمٍ مَّنْ يُصْرَفْ عَنْهُ يَوْمَئِذٍ فَقَدْ رَحِمَهُ وَذَلِكَ الْفَوْزُ الْمُبِينُ
অর্থ: বল, 'যদি আমি আমার রবের অবাধ্য হই তবে নিশ্চয় আমি ভয় করি মহা দিবসের আযাবকে। সেদিন যার থেকে আযাব সরিয়ে নেয়া হবে তাকেই তিনি অনুগ্রহ করবেন, আর এটাই প্রকাশ্য সফলতা। (সূরা আনআম ৬:১৫-১৬)৯৮
মাসআলা-২৩৩ : জাহান্নামের ওপর দিয়ে অতিক্রম করার সময় সমস্ত নবীগণ বলতে থাকবে যে হে আল্লাহ আমাকে নিরাপত্তা দিন:
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ وَيُضْرَبُ الصِّرَاطُ بَيْنَ ظَهْرَيْ جَهَنَّمَ ، فَأَكُونُ أَنَا وَأُمَّتِي أَوَّلَ مَنْ يُجِيرُهَا، وَلَا يَتَكَلَّمُ يَوْمَئِذٍ إِلَّا الرُّسُلُ، وَدَعْوَى الرُّسُلِ يَوْمَئِذٍ : اللَّهُمَّ سَلِّمْ سَلِّمْ ، وَفِي جَهَنَّمَ كَلَالِيْبُ مِثْلُ شَوْكِ السَّعْدَانِ، هَلْ رَأَيْتُمِ السَّعْدَانَ؟ "، قَالُوا : نَعَمْ يَا رَسُولَ اللَّهِ، قَالَ : " فَإِنَّهَا مِثْلُ شَوْكِ السَّعْدَانِ، غَيْرَ أَنَّهُ لَا يَعْلَمُ مَا قَدْرُ عِظَمِهَا إِلَّا اللَّهُ، تَخْطَفُ النَّاسَ بِأَعْمَالِهِمْ ، فَمِنْهُمُ الْمُوبَقُ بَقِيَ بِعَمَلِهِ أَوِ الْمُوثَقُ بِعَمَلِهِ ، وَمِنْهُمُ الْمُخَرْدَلُ، أَوِ الْمُجَازَى، أَوْ نَحْوُهُ الْحَدِيثُ .
অর্থ: "আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি নবী থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: জাহান্নামের ওপর পুলসিরাত পাতা হবে, আমি এবং আমার উম্মতই সর্বপ্রথম তা অতিক্রম করব, সেদিন রাসূলগণ ব্যতীত আর কেউ কথা বলবে না, আর রাসূলগণও শুধু বলতে থাকবে "হে আল্লাহ! আমাকে নিরাপদে রাখ, হে আল্লাহ! আমাকে নিরাপদে রাখ।" আর জাহান্নামে সা'দানের কাঁটার মত হুক থাকবে, তোমরা কি সা'দান গাছের কাটা দেখেছ? সবাই বলল: হ্যাঁ। হে আল্লাহ রাসূল! সে হুকগুলো সা'দান বৃক্ষের কাঁটার ন্যায় হবে। তবে তার বিরাটত্ব সম্পর্কে এক মাত্র আল্লাহই ভাল জানেন। ঐ হুকগুলো লোকদেরকে তাদের আমল অনুযায়ী ছোবল দিবে। তাদের মধ্যে কিছু সংখ্যক থাকবে ঈমানদার, যারা তাদের নেক আমলের কারণে রক্ষা পেয়ে যাবে। আর কিছু সংখ্যক বদ-আমলের কারণে ধ্বংসপ্রাপ্ত হবে। কিছু সংখ্যককে টুকরো টুকরো করে দেয়া হবে, আর কিছু সংখ্যককে পুরস্কার দেয়া হবে। বা অনুরূপ কথা বলা হয়েছে।" (বুখারী)৯৯
মাসআলা-২৩৪: জাহান্নামের ভয়ানক আওয়াজ শুনে সমস্ত ফেরেশতা এবং নবীগণ এমনকি ইবরাহিম (আ) আল্লাহর নিকট নিরাপত্তার জন্য আবেদন করবে:
عَنْ عُبَيْدِ ابْنِ عُمَيْرٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ فِي قَوْلِهِ تَعَالَى سَمِعُوا لَهَا تَغَيْظًا وَ زَفِيرًا قَالَ أَن جَهَنَّمَ لَتَزْفَرُ زَفْرَةً لَا يَبْقَى مَلَكُ مُقَرَّبٌ وَلَا نَبِيَّ مُرْسَلٌ الا خُرّ لِوَجْهِهِ تَرْتَعِدُ فَرَائِضِهِ حَتَّى إِنَّ إِبْرَاهِيمَ عَلَيْهِ السَّلَامُ لِيَجْثُوا عَلَى رُكْبَتَيْهِ وَيَقُولُ رَبِّ لَا أَسْأَلُكَ الْيَوْمَ الْأَنْفُسِي
অর্থ: "ওবাইদ বিন উমাইর (রা) আল্লাহর বাণী "তারা শুনতে পারবে জাহান্নামের ক্রুদ্ধ গর্জন" তাফসীরে বলেছেন: যখন জাহান্নাম রাগে গর্জন করতে থাকবে, তখন সমস্ত নৈকট্য লাভকারী ফেরেশতা মর্যাদাবান নবীগণ, এমন কি ইবরাহিম (আ) হাটুর ওপর ভর করে বসে আল্লাহর নিকট আবেদন করতে থাকবে যে, হে আমার রব! আজ আমি তোমার নিকট একমাত্র আমার জীবনের নিরাপত্তা কামনা করি।" (ইবনে কাসীর)১০০
মাসআলা-২৩৫: তাহাজ্জুদ নামাযে রাসূল আযাব সম্পর্কে একটি আয়াত বারবার পাঠ করতে করতে রাত পার করে দিতেন:
عَنْ أَبَا ذَرَ قَالَ «قَامَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَتَّى أَصْبَحَ بِآيَةٍ يُرَدِّدُهَا وَالْآيَةُ: {إِنْ تُعَذِّبْهُمْ فَإِنَّهُمْ عِبَادُكَ وَإِنْ تَغْفِرْ لَهُمْ فَإِنَّكَ أَنْتَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ }
অর্থ: "আবু যার (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: এক রাতে রাসূল তাহাজ্জুদ পড়তেছিলেন এবং সকাল পর্যন্ত একটি আয়াতই তেলাওয়াত করেছেন। (আর তা হলো) "আপনি যদি তাদেরকে শাস্তি প্রদান করেন তবে, ওরাতো আপনার বান্দা, আর যদি তাদেরকে ক্ষমা করে দেন তবে আপনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।” (ইবনে মাজাহ)১০১
মাসআলা-২৩৬: রাসূল স্বীয় উম্মতের কিছু কিছু লোক জাহান্নামে যাওয়ায় কাঁদবেন:
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِي هِ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ تَلَا قَوْلَ اللَّهِ تَعَالَى فِي إِبْرَاهِيمَ : { رَبِّ إِنَّهُنَّ أَضْلَلْنَ كَثِيرًا مِنَ النَّاسِ فَمَنْ تَبِعَنِي فَإِنَّهُ مِنِّي وَمَنْ عَصَانِي فَإِنَّكَ غَفُورٌ رَّحِيمٌ وَقَالَ عِيسَى: {إِنْ تُعَذِّبْهُمْ فَإِنَّهُمْ عِبَادُكَ وَإِنْ تَغْفِرْ لَهُمْ فَإِنَّكَ أَنْتَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ} فَرَفَعَ يَدَيْهِ قَالَ: «اللَّهُمَّ أُمَّتِي أُمَّتِي وَبَكَى صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ يَا جِبْرِيلُ اذْهَبْ إِلَى مُحَمَّدٍ وَرَبُّكَ أَعْلَمُ ، فَاسْأَلُهُ مَا يُبْكِيْهِ فَأَتَاهُ جِبْرِيلُ فَسَأَلَهُ فَأَخْبَرَهُ وَهُوَ أَعْلَمُ ، فَقَالَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلٌ يَا جِبْرِيلُ اذْهَبْ إِلَى مُحَمَّدٍ فَقُلْ: إِنَّا سَنُرْ ضِيكَ فِي أُمَّتِكَ، وَلَا نَسُووْكَ
অর্থ: "আবদুল্লাহ বিন আমর বিন আস (রা) নবী থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি ঐ আয়াত পাঠ করলেন যেখানে ইবরাহিম (আ) বলছিলেন:হে আমার রব! এ মূর্তিসমূহ বহু লোককে পথভ্রষ্ট করেছে, অতএব যে আমার অনুকরণ করবে সে আমার দলভুক্ত, কিন্তু কেউ আমার অবাধ্য হলে আপনিতো ক্ষমাশীল পরম দয়ালু এবং ঈসা (আ) বলেছেন: আপনি যদি তাদেরকে শাস্তি প্রদান করেন তবে, ওরাতো আপনার বান্দা, আর যদি তাদেরকে ক্ষমা করে দেন তবে আপনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়। তখন তিনি হাত তুলে বলতে লাগলেন। হে আল্লাহ! আমার উম্মত আমার উম্মত এবং কাঁদতে লাগলেন, আল্লাহ বললেন: হে জিবরীল! তুমি মোহাম্মদের নিকট যাও, তোমার প্রভু তার সম্পর্কে অবগত আছে, অতএব তুমি তাকে জিজ্ঞেস কর, কেন তুমি কাঁদতেছ, তাঁর নিকট জিবরাঈল! এসে তাঁকে জিজ্ঞেস করল তখন তিনি তাকে (কারণ বললেন) এরপর সে আল্লাহর নিকট এসে বলল: (আর তিনি তা আগে থেকেই জানেন)। আল্লাহ বললেন: হে জিবরাঈল! তুমি মুহাম্মদের নিকট যাও এবং তাকে বল আল্লাহ তোমাকে তোমার উম্মতের ব্যাপারে সন্তুষ্ট করবেন অসন্তুষ্ট করবেন না।" (মুসলিম) ১০২

টিকাঃ
৯৮ কিতাবুত তাওহীদ, বাব কাওলিল্লাহি তাআলা ওয়া উজুহুই ইয়াওমা ইযিন নাযিরা ইলা রাব্বিহা নাযিরা।
৯৯ কিতাবুত তাওহীদ, বাব কাওলিল্লাহি তাআলা ওয়া উজুহুই ইয়াওমা ইযিন নাযিরা ইলা রাব্বিহা নাযিরা।
১০০ ইবনে কাসীর (৩/৪১৫)
১০১ কিতাব ইকামাতুস্ সালা, বাব মাযায়া ফিল কিরাআতি ফি সালাতিল্লাইল (১/১১১০)।
১০২ কিতাবুল ঈমান, বাব দুয়াবিন স্নাবী লি উম্মাতিহি ওয়া বুকায়িহি।

📘 মৃত্যুর পরে অনন্ত জীবন > 📄 জাহান্নাম ও সাহাবাগণ

📄 জাহান্নাম ও সাহাবাগণ


মাসআলা-২৩৭: আয়েশা (রা) জাহান্নামের আগুনের কথা স্মরণ করে কাঁদতেন:
عَنْ عَائِشَةَ أَنَّهَا ذَكَرَتِ النَّارَ فَبَكَتْ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَا يُبْكِيكِ؟» قَالَتْ: ذَكَرْتُ النَّارَ فَبَكَيْتُ، فَهَلْ تَذْكُرُونَ أَهْلِيكُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ؟ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : " أَمَّا فِي ثَلَاثَةِ مَوَاطِنَ فَلَا يَذْكُرُ أَحَدٌ أَحَدًا: عِنْدَ الْمِيزَانِ حَتَّى يَعْلَمَ أَيَخِفُ مِيزَانُهُ أَوْ يَثْقُلُ، وَعِنْدَ الْكِتَابِ حِينَ يُقَالُ { هَاؤُمُ اقْرَءُوا كِتَابِيَهُ} حَتَّى يَعْلَمَ أَيْنَ يَقَعُ كِتَابُهُ أَفِي يَمِينِهِ أَمْ فِي شِمَالِهِ أَمْ مِنْ وَرَاءِ ظَهْرِهِ، وَعِنْدَ الصِّرَاطِ إِذَا وُضِعَ بَيْنَ ظَهْرَيْ جَهَنَّمَ "
অর্থ: "আয়েশা (রা) জাহান্নামের আগুনের কথা স্মরণ করে কাঁদতে লাগলেন, রাসূলুল্লাহ জিজ্ঞেস করলেন: কে তোমাকে কাঁদাল? সে বলল: আমি জাহান্নামের কথা স্মরণ করে কাঁদতেছি। আপনি কি কিয়ামতের দিন আপনার পরিবারের কথা স্মরণে রাখবেন? রাসূলুল্লাহ বললেন: তিনটি স্থানে কেউ কাউকে স্মরণে রাখতে পারবে না। মিযানের নিকট যতক্ষণ না জানতে পারবে যে, তার (নেকীর) পাল্লা ভারী হয়েছে না হালকা, আমলনামা পেশ করার সময়, যখন বলা হবে আস তোমার আমল নামা পাঠ কর। যতক্ষণ না জানতে পারবে যে, তার আমলনামা ডান হাতে দেয়া হচ্ছে না পিঠের পিছন দিক থেকে বাম হাতে। পুলসিরাতের ওপর দিয়ে অতিক্রম করার সময় যখন তা জাহান্নামের ওপর রাখা হবে।" (আবু দাউদ ৪/৪৭৫৫)১০৩
মাসআলা-২৩৮: আবদুল্লাহ বিন রাওয়াহা ও তার স্ত্রীর জাহান্নামের কথা স্মরণ করে কান্না:
عَنْ قَيْسِ بْنِ أَبِي حَازِمٍ " كَانَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ رَوَاحَةَ وَاضِعًا رَأْسَهُ فِي حِجْرِ امْرَأَتِهِ فَبَكَى فَبَكَتِ امْرَأَتُهُ، فَقَالَ: مَا يُبْكِيكِ؟ قَالَتْ: رَأَيْتُكَ تَبْكِي فَبَكَيْتُ، قَالَ: إِنِّي ذَكَرْتُ قَوْلَ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ: {وَإِنْ مِنْكُمْ إِلَّا وَارِدُهَا } فَلَا أَدْرِي أَنَنْجُو مِنْهَا أَمْ لَا
অর্থ: "কায়েস বিন হাযেম (রা) থেকে বর্ণিত, আবদুল্লাহ বিন রাওয়াহা (রা) স্বীয় স্ত্রীর কোলে মাথা রেখে হঠাৎ কাঁদতে লাগল, তার সাথে তার স্ত্রীও কাঁদতে লাগল। আবদুল্লাহ বিন রাওয়াহা জিজ্ঞেস করল, তুমি কেন কাঁদছ? স্ত্রী বলল: তোমাকে কাঁদতে দেখে আমারও কান্না চলে এসেছে। আবদুল্লাহ বিন রাওয়াহা বলল: আমার আল্লাহর এ বাণীটি স্মরণ হলো যে, তোমাদের মধ্যে কেউ এমন নেই যে জাহান্নামের ওপর দিয়ে অতিক্রম করবে না। আর আমার জানা নেই যে, জাহান্নামের ওপর স্থাপন করা পুলসিরাত অতিক্রম করার সময় আমি রক্ষা পাব কি পাব না।” (হাকেম ৪/৮৭৪৮)১০৪
মাসআলা-২৩৯ : জাহান্নামের কথা স্মরণ করে ওবাদা বিন সামেত (রা)-এর কান্না:
عَنْ زِيَادِ بْنِ أَبِي سَوْدَةَ هُ قَالَ : " كَانَ عُبَادَةُ بْنُ الصَّامِتِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ عَلَى سُورِ بَيْتِ الْمَقْدِسِ الشَّرْقِ يَبْكِي، فَقَالَ بَعْضُهُمْ : مَا يُبْكِيكَ يَا أَبَا الْوَلِيدِ؟ فَقَالَ: «مَنْ هَاهُنَا ، أَخْبَرَنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ رَأَى جَهَنَّمَ »
অর্থ: "যিয়াদ বিন আবু আসওয়াদ (রা) ওবাদা বিন সামেত (রা) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি একদা বাইতুল মাকদিসের পশ্চিম দেয়ালের পাশে কাঁদতে ছিলেন, কেউ কেউ তাকে জিজ্ঞেস করল হে আবু ওলীদ! কে তোমাকে কাঁদাল? সে বলল: ঐ স্থান যেখানে থেকে রাসূল আমাদেরকে বলেছিলেন যে, তিনি জাহান্নাম দেখেছেন।” (হাকেম ৪/৮৭৮৫)১০৫
মাসআলা-২৪০ : ওমর (রা)-এর আল্লাহর আযাবের ভয়:
عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَابِ ا يقول " لَوْ نَادَى مُنَادٍ مِنَ السَّمَاءِ : أَيُّهَا النَّاسُ، إِنَّكُمْ دَاخِلُونَ الْجَنَّةَ كُلُّكُمْ أَجْمَعُونَ إِلَّا رَجُلًا وَاحِدًا ، لَخِفْتُ أَنْ أَكُونَ هُوَ . وَلَوْ نَادَى مُنَادٍ : أَيُّهَا النَّاسُ إِنَّكُمْ دَاخِلُونَ النَّارَ إِلَّا رَجُلًا وَاحِدًا ، لَرَجَوْتُ أَنْ أَكُونَ هُوَ "
অর্থ: "ওমার বিন খাত্তাব (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: যদি আকাশ থেকে কোনো আহ্বানকারী আহ্বান করে যে, হে লোকেরা তোমরা সবাই জান্নাতে যাবে শুধু একজন ব্যতীত, তাহলে আমার ভয় হয় না জানি আমিই সে এক ব্যক্তি। যদি আকাশ থেকে কোনো আহ্বানকারী আহ্বান করে যে, হে লোকেরা! তোমরা সবাই জাহান্নামে যাবে শুধু একজন ব্যতীত তাহলে আমি আশংকা করি না জানি সে ব্যক্তি আমি।" (আবু নুয়াইম হুলিয়া)১০৬
মাসআলা-২৪১: আয়েশা (রা) জাহান্নামের গরম ও বিষাক্ত আবহাওয়ার কথা স্মরণ করে দীর্ঘক্ষণ পর্যন্ত কাঁদতে ছিলেন:
عَنْ عُرْوَةَ عَنْ أَبِيهِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَ كُنتَ إِذَا غَدَوْتُ أَبْدَأُ بَيْتَ عَائِشَة رَضِيَ اللهُ عَنْهَا فَغَدَوْتُ يَوْمًا فَإِذَا هِىَ قَائِمَةً تَقْرَاء فَمَنَّ اللَّهُ عَلَيْنَا وَوَقَانَا عَذَابَ السَّمُومِ وَتَدْعُو وَتَبْكِي وَتَرَدِّدُهَا فَقُمْتُ حَتَّى ملك الْقِيَامِ فَذَهَبْتُ إِلَى السُّوقِ لِحَاجَتِي ثُمَّ رَجَعْتُ فَإِذَا هِي قَائِمَةٌ كَمَا هِي تُصَلَّى وَ تَبْكِي.
অর্থ: "ওরওয়া (রা) তার পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: সকালে যখন আমি ঘর থেকে বের হতাম, তখন সর্বপ্রথম আয়েশা (রা)-এর ঘরে গিয়ে তাকে সালাম করতাম, একদিন আমি ঘর থেকে বের হলাম এবং সেখানে গিয়ে দেখলাম আয়শা (রা) নামাযে দাঁড়িয়ে কুরআন মাজীদের এ আয়াত "অতপর আল্লাহ আমাদের প্রতি দয়া করেছেন এবং আমাদেরকে জাহান্নামের শাস্তি থেকে রক্ষা করেছেন।” তেলাওয়াত করতেছিলেন, আয়েশা (রা) এ আয়াতটি বারবার পড়ছিলেন আর কাঁদতে ছিলেন, আমি অপেক্ষা করতে লাগলাম, এমনকি আমি ক্লান্ত হয়ে গেলাম এবং কিছু প্রয়োজনীয় কাজে আমি বাজারে চলে গেলাম, ফিরে এসে দেখি তখনো তিনি নামাযে দাঁড়িয়ে আছেন। আর ঐ আয়াতটি পড়ে পড়ে কাঁদতেছেন।" (সাফওয়াতুস সফওয়া)১০৭
মাসআলা-২৪২: ওমর (রা) আযাবের আয়াত তেলাওয়াত করে এত কাঁদলেন যে, তিনি অসুস্থ হয়ে গেলেন:
قَرَأَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ سُورَةَ الطُّورِ حَتَّى قُولُهُ تَعَالَى إِنَّ عَذَابَ رَبِّكَ لَوَاقِعَ فَبَكَى وَاشْتَدَّ بُكَاءَهُ حَتَّى مَرِضَ وَعَادُوهُ
অর্থ: "ওমার বিন খাত্তাব (রা) সূরা তৃর তেলাওয়াত করতেছিলেন যখন এ আয়াতে "নিশ্চয়ই তোমার রবের শান্তি আসবে" পৌছলেন তখন তিনি কাঁদতে লাগলেন এবং তাঁর কান্না বৃদ্ধি পেতে লাগল, এমন কি তিনি কাঁদতে কাঁদতে অসুস্থ হয়ে গেলেন এবং লোকেরা তাঁকে দেখতে আসতে লাগল। "১০৮
وَكَانَ فِي وَجْهِهِ خَطَّانِ أَسْوَدَانِ مِنَ الْبُكَاءِ
অর্থ: "ওমার বিন খাত্তাব (রা)-এর চেহারায় (অধিক পরিমাণে) কান্নার ফলে দু'টি কাল দাগ পড়ে গিয়েছিল।" (আযযুহদ লিল বাইহাকী)১০৯
মাসআলা-২৪৩: আবদুল্লাহ বিন মাসউদ (রা) কামারের দোকানে আগুন দেখে কাঁদতে লাগলেন:
قَالَ سَعْدُ بْنُ الْأَحْزَامِ رَحِمَهُ اللَّهُ كُنْتُ أَمْشِي مَعَ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُود رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ فَمَرَّ بِالْحَدَادِينَ وَقَدْ أَخْرَجُوا حَدِيدًا مِنَ النَّارِ فَقَامَ يَنظُرُ إِلَيْهِ وَيَبْكِي.
অর্থ: "সাআ'দ বিন আহযাম (রা) বলেন: আমি আবদুল্লাহ বিন মাসউদ (রা)-এর সাথে হাটতে ছিলাম, আমরা এক কামারের দোকানের পাশ দিয়ে অতিক্রম করছিলাম, তারা আগুন থেকে একটি লাল লোহা বের করল আবদুল্লাহ বিন মাসউদ (রা) তা দেখার জন্য দাঁড়ালেন এবং কাঁদতে লাগলেন। "১১০
মাসআলা-২৪৪: মুয়ায বিন জাবাল (রা) জাহান্নামের কথা স্মরণ করে অধিক পরিমাণে কাঁদতে লাগলেন:
بَكَى مُعَاذَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ بُكَاءً شَدِيدٌ فَقِيلَ لَهُ مَا يُبْكِيكَ؟ فَقَالَ لِأَنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ قَبَضَ قَبْضَتَيْنِ فَجَعَلَ وَاحِدَةً فِي الْجَنَّةِ وَالْأُخْرَى فِي النَّارِ فَأَنَا لا أَدْرِي مِنْ أَيِّ الْفَرِيقَيْنِ أَكُونُ
অর্থ: "মুয়ায বিন জাবাল (রা) খুব কান্নাকাটি করলেন, তাকে জিজ্ঞেস করা হলো আপনি কেন কাঁদতেছেন? মুয়ায (রা) বলল: আল্লাহ তাআলা তাঁর উভয় মুষ্টি সমস্ত সৃষ্টি দিয়ে ভরে তার এক মুষ্টি নিক্ষেপ করলেন জাহান্নামে, আর এক মুষ্টি জান্নাতে, আমি জানিনা যে, আমার স্থান কোথায় হবে।" নোট: উল্লেখ্য রাসূল বলেছেন: আল্লাহ তাআলা জান্নাত ও জাহান্নাম সৃষ্টি করেছেন এবং এ উভয়ের জন্যই ভিন্ন ভিন্ন লোকও তৈরী করেছেন।" (মুসলিম)
মাসআলা-২৪৫: আবদুল্লাহ বিন ওমার (রা)-এর জাহান্নামীদের পানি চাওয়ার কথা স্মরণ হলে কাঁদতে লাগলেন:
عَنْ سَيْرِ الرِّيَاحِي عَنْ أَبِيهِ قَالَ شَرْبٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ مَاءَ مُبْرِدًا فَبَكَى فَاشْتَدَّ بُكَاؤُهُ فَقِيلَ لَهُ مَا يُبْكِيكَ؟ قَالَ ذَكَرْتُ آيَةً فِي كِتَابِ اللهِ عَزَّ وَجَلَ وَحِيلَ بَيْنَهُمْ وَبَيْنَ مَا يَشْتَهُونَ فَعِرَفَتْ أَنْ أَهْلَ النَّارِ لَا يَشْتَهُونَ شَيْئًا شَهْوَتَهُمُ الْمَاءَ وَقَدْ قَالَ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ أَفِيضُوا عَلَيْنَا مِنَ الْمَاءِ أَوْمِمَّا رزقكم الله
অর্থ: "সামীর রিয়াহি তার পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আবদুল্লাহ বিন ওমার (রা) ঠাণ্ডা পানি পান করে কাঁদতে লাগলেন এবং যথেষ্ট পরিমাণে কাঁদলেন, তাকে জিজ্ঞেস করা হলো আপনি কেন এত কাঁদতেছেন? আবদুল্লাহ বিন ওমার (রা) বললেন: আমার কুরআন মাজীদের এ আয়াতটি স্মরণ হলো "তাদের ও তাদের কামনার মাঝে অন্তরাল করা হয়েছে" আর আমি জানি যে, জাহান্নামীরা ঐ সময়ে শুধু একটি জিনিসই চাইবে আর তা হলো পানি। কেননা আল্লাহ বলেছেন: জাহান্নামীরা জান্নাতীদের নিকট আবেদন করবে যে, সামান্য পানি আমাদেরকে ঢেলে দাও, বা তোমাদেরকে আল্লাহ যে রিযিক দিয়েছে তা থেকে আমাদেরকে কিছু দাও।"১১১
মাসআলা-২৪৬: সাঈদ বিন যোবইর (রা) জাহান্নামের স্মরণে কখনো হাসতেন না:
سُئِلَ الْحَجَّاجُ سَعِيدُ بْنُ جَيْرٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ مُتَعَجِبًا بَلَغَنِي أَنَّكَ لَمْ تَضْحَكُ قَط قَالَ لَهُ كَيْفَ أَضْحَكَ وَجَهَنَّمُ قَدْ سَعِيرَتْ وَلَا غُلَالٌ قَدْ نصيف والزبانية قَدْ أُعِدَّتْ (صفوة الصَّفْوَةِ)
অর্থ: "হাজ্জাজ সাঈদ বিন যুবাইর (রা)-কে আশ্চর্য হয়ে জিজ্ঞেস করল, আমি শুনেছি যে তুমি নাকি কখনো হাসনা! যুবাইর (রা) বললেন: আমি কি করে হাসব অথচ জাহান্নামকে উদ্দীপিত করা হয়েছে, লোহার বেড়ী প্রস্তুত করা হয়েছে, জাহান্নামের ফেরেশতারা প্রস্তুত হয়ে আছে।" (সাফওয়াতুস সাফওয়া) ১১২
মাসআলা-২৪৭: কোনো মু'মিন পুলসিরাত পার হওয়ার আগে নির্ভয় হতে পারবে না:
قَالَ مُعَاذُ بْنُ جَبَلٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ إِنَّ الْمُؤْمِنَ لَا يَسْكُنُ رُوعُهُ يَتْرُكُ جَسَرَ جَهَنَّمَ وَرَاعَةَ (الْفَوَائِدُ)
অর্থ: "মুয়াজ বিন জাবাল (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: মু'মিন ব্যক্তি পুলসিরাত অতিক্রম করার পূর্ব পর্যন্ত নির্ভয় হতে পারবে না।" (আল ফাওয়ায়েদ) ১১৩

টিকাঃ
১০৩ কিতাবুসুন্না বাবুল মিযান।
১০৪ কিতাবুল আহওয়াল। হাদীস ৭৩।
১০৫ কিতাবুল আহওয়াল। হাদীস নং-১১০।
১০৬ আল্লাহুম্মা সাল্লিম, হাদীস নং-২০।
১০৭ ২/২২৯
১০৮ আল জাওয়াব আল কাফী, ৭৭।
১০৯ ৬৭৮
১১০ হুলইয়াতুল আউলিয়া-২/১৩৩।
১১১ যাররুল ফায়েয, হাদীস নং-২১।
১১২ হুলইয়াতুল আওলিয়া (২/৩৩৩)।
১১৩ ৩/৩৩৩

📘 মৃত্যুর পরে অনন্ত জীবন > 📄 জাহান্নাম ও পূর্ববর্তীগণ

📄 জাহান্নাম ও পূর্ববর্তীগণ


মাসআলা-২৪৮: ওমর বিন আবদুল আযীয (রা) জাহান্নামের বেড়ী ও জিঞ্জীর সংক্রান্ত আয়াতটি বার বার তেলাওয়াত করে করে রাত ভর কাঁদতেন:
عُمَرُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ رَحْمَةُ اللهِ كَانَ يُصَلِّي ذَاتَ لَيْلَةٍ فَقَرَأَ إِذِ الْأَغْلَالُ فِي أَعْنَاقِهِمْ وَالسَّلَاسِلُ يُسْحَبُونَ فِي الْحَمِيمِ ثُمَّ فِي النَّارِ يُسْجَرُونَ فَجَعَلَ يُرَدِّدُهَا وَيَبْكِي حَتَّى أَصْبَحَ
অর্থ: "ওমার বিন আবদুল আযীয (রা) একদা তাহাজ্জুদ নামায পড়তেছিলেন, যখন তিনি এ আয়াত "যখন তাদের গলদেশে বেড়ি ও শৃঙ্খল থাকবে তাদেরকে টেনে নিয়ে যাওয়া হবে। ফুটন্ত পানিতে, এরপর তাদেরকে দগ্ধ করা হবে অগ্নিতে।) (সূরা মু'মিন: ৭১-৭২)
মাসআলা-২৪৯: রাবী' বিন খাইসাম (রা) চুলার আগুন দেখে বেহুশ হয়ে যেতেন:
عَنْ أَبِي وَائِلٍ رَحِمَهُ اللَّهُ خَرَجْنَا مَعَ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ وَمَعَنَا الرَّبِيعُ بْنُ خُثَيْمٍ " فَمَرُّوا عَلَى حَدَادٍ فَقَامَ عَبْدُ اللَّهِ يَنْظُرُ إِلَى حَدِيدَةٍ فِي النَّارِ وَنَظَرَ الرَّبِيعُ بْنُ خُثَيْمٍ إِلَيْهَا فَتَمَايَلَ لِيَسْقُطَ فَمَرَّ عَبْدُ اللهِ عَلَى أَتُونٍ عَلَى شَاطِئِ الْفُرَاتِ فَلَمَّا رَآهُ عَبْدُ اللَّهِ وَالنَّارُ تَلْتَهِبُ فِي جَوْفِهِ قَرَأَ هَذِهِ الْآيَةَ: {إِذَا رَأَتُهُمْ مِنْ مَكَانٍ بَعِيدٍ سَمِعُوا لَهَا تَغَيْظًا وَزَفِيرًا } [الْفُرْقَانُ: ] الْآيَةَ صَعِقَ فَحَمَلُوهُ إِلَى أَهْلِهِ وَرَا بَطَهُ عَبْدُ اللَّهِ إِلَى الظُّهْرِ فَلَمْ يُفِقْ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ.
অর্থ: "আবু ওয়ায়েল (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: আমরা আবদুল্লাহ বিন মাসউদ (রা)-এর সাথে একদা বাহিরে বের হলাম, আমাদের সাথে রাবি' বিন খাইসামও ছিল, আবদুল্লাহ বিন মাসউদ ফুরাত নদীর তীরে একটি চুলার পাশ দিয়ে অতিক্রম করছিলেন, যখন সেখানে দেখলেন যে আগুন প্রজ্জ্বলিত হচ্ছে তখন তিনি এ আয়াত তেলাওয়াত করতে লাগলেন, "যখন জাহান্নাম কাফিরদেরকে দূর থেকে দেখবে, তখন তারা তার ক্রুদ্ধ গর্জন ও চিৎকার শুনতে পাবে।" এ কথা শুনে রাবি বিন খাইসাম বেহুশ হয়ে পড়ে গেল, লোকেরা তাকে খাটে উঠিয়ে বাড়িতে নিয়ে আসল। আবদুল্লাহ বিন মাসউদ তার নিকট সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বসে বসে তার হুশ ফিরানোর চেষ্টা করল কিন্তু তার হুশ ফিরল না।"
মাসআলা-২৫০: সমস্ত দুনিয়াকে জাহান্নাম সম্পর্কে সতর্ক করার আগ্রহ:
قَالَ مَالِكَ بْنَ دِينَارٍ ، رَحِمَهُ اللَّهُ لَوِ اسْتَطَعْتُ أَنْ لَا أَنَامَ لَمْ أَنَمْ مَخَافَةَ أَنْ يَنْزِلَ الْعَذَابُ وَأَنَا نَائِمْ وَلَوْ وَجَدْتُ أَعْوَانًا لَفَرَّقْتُهُمْ يُنَادُونَ فِي سَائِرِ الدُّنْيَا كُلِّهَا : يَا أَيُّهَا النَّاسُ النَّارَ النَّارَ (رَوَاهُ أَبُو نُعَيْمٍ فِي الْحُلِيَّةِ)
অর্থ: "মালেক বিন দিনার (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: যদি আমার পক্ষে সম্ভব হত যে আমি না ঘুমিয়ে থাকব, তবে আমি তা করতাম, আর তা এ আশঙ্কায় যে, কখনো ঘুমন্ত অবস্থায় যেন আল্লাহর আযাব আমার ওপর পতিত না হয়। যদি আমার নিকট সাহায্যকারী থাকত, তাহলে আমি তাদেরকে সারা দুনিয়ায় পাঠাতাম যে, তারা যেন এ আহ্বান করে যে, হে লোকেরা! জাহান্নাম থেকে সতর্ক হও। হে লোকেরা! জাহান্নাম থেকে সতর্ক হও।" (আবু নুআইম হুলইয়া)
মাসআলা-২৫১: সুফিয়ান সাওরী পরকালের স্মরণে এত সন্ত্রস্ত হতেন যে তাতে তার রক্ত পেসাব শুরু হত:
قَالَ مُوسَى بْن مَسْعُودٍ رَحِمَةُ اللهِ كُنَّا إِذَا جَلَسْنَا إِلَى النُّورِي رَحْمَةُ اللَّهِ كَانَ قَدْ أَحَاطَتْ بِنَا لَمَّا نَرَى مِنْ خَوْفِهِ وَفَزَعِهِ وَكَانَ سُفْيَانُ إِذَا أَخَذَ فِي ذكْرِ الْآخِرَةِ يُولُ الدَّمُ
অর্থ: "মূসা বিন মাসউদ (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: যখন আমরা সুফিয়ান সাওরীর (রা) নিকট বসতাম, তখন তাকে ভীত সন্ত্রস্ত দেখে আমাদের মনে হত যেন আগুন আমাদেরকে ঘিরে রেখেছে। আর তিনি যখন পরকালের কথা স্মরণ করতেন তখন তার রক্ত পেসাব শুরু হত।"
মাসআলা-২৫২: মৃত্যু, কবর, কিয়ামত, পুলসিরাতের ভয়:
سُئِلَ عَطَاءُ السُّلَبِي رَحِمَهُ اللهُ مَا هَذَا الْحُزْنُ؟ قَالَ وَيْحَكَ الْمَوْتُ فِي عَنِقَى والقَبرُ بَيْتِي وَ فِي الْقِيَامَةِ مُوقَفَى وَعَلَى جَسْرٍ جَهَنَّمَ طَرِيقِي لَا أَدْرِي مَا يصنع بي.
অর্থ: "আতা আসসুলামী (রা)-কে জিজ্ঞেস করা হলো এ কিসের চিন্তা? তিনি বললেন: তোমার ধ্বংস হোক, (তুমি কি জান না) মৃত্যু আমার গর্দানে, কবর আমার ঠিকানা, কিয়ামতের দিন আমাকে আল্লাহর আদালতে দাঁড়াতে হবে। আর জাহান্নামের ওপর স্থাপিত পুলসিরাতের ওপর দিয়ে আমাকে অতিক্রম করতে হবে। আর আমি জানিনা যে, শেষ পর্যন্ত আমার কি হবে।"
মাসআলা-২৫৩: জাহান্নামের কথা স্মরণ হওয়ায় আবু মাইসারা (রা) বললেন: আফসোস! আমার মা যদি আমাকে প্রসব না করত:
كَانَ اَبُوْ مَيْسَرَةَ رَحِمَهُ اللهُ إِذَا اَوَى إِلَى فِرَاشِهِ قَالَ يَالَيْتَ اُمِّى لَمْ تَلِدْنِي ثُمَّ يَبْكِي فَقِيلَ لَهُ مَا يُبْكِيكَ؟ قَالَ: اَخْبِرْنَا اَنَّانَرِدُهَا وَلَمْ نُخْبَرْ اَنَّا صَادِرُوْنَ عَنْهَا
অর্থ: "আবু মাইসারা (র) যখন বিছানায় শুইতে যেতেন তখন বলতেন হায়! আফসোস আমার মা যদি আমাকে প্রসব না করত, আর কাঁদিতে শুরু করতেন, তাকে জিজ্ঞাসা করা হলো হে আবু মাইসারা কেন কাঁদছেন? তিনি বললেন: আমার একথা জানা আছে যে, আমাকে জাহান্নামের ওপর দিয়ে অতিক্রম করতে হবে, কিন্তু জানা নেই যে, আমার মুক্তি হবে কিনা।"
মাসআলা-২৫৪: জাহান্নামের স্মরণে জীবনের তরে হাসি বন্ধ:
عَنِ الْحَسَنِ الْبَصْرِيِّ رَحِمَهُ اللهُ قَالَ قَالَ رَجُلٌ لِاَخِيْهِ هَلْ اَتَاكَ اَنَّكَ وَارِدُ النَّارَ؟ قَالَ نَعَمْ قَالَ فَهَلْ اَتَاكَ اَنَّكَ صَادِرُ عَنْهَا؟ قَالَ لَا قَالَ فَفِيمَ الضَّحْكُ؟ قَالَ فَمَا رُئِيَ ضَاحِكًا حَتَّى لَحِقَ اللهَ.
অর্থ: "হাসান বসরী (র) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: এক সৎলোক তার ভাইকে জিজ্ঞাসা করল, তোমার কি জানা আছে যে, তোমাকে জাহান্নামের ওপর দিয়ে অতিক্রম করতে হবে? সে বলল: হ্যাঁ। সে আবার জিজ্ঞাসা করল তোমার কি একথা জানা আছে যে, তুমি সেখান থেকে মুক্তি পাবে? সে বলল: না। তখন ঐ সৎলোকটি বলল: তাহলে এ কিসের হাসি? এর পর থেকে মৃত্যু পর্যন্ত ঐ ব্যক্তি আর হাসে নি।"
মাসআলা-২৫৫ : বুদাইল বিন মাইসারা (রা) কিয়ামতের দিন কঠিন পিপাসার ভয়ে এত কাঁদলেন যে, তার রক্ত অশ্রু প্রবাহিত হতে লাগল:
بكي بديلُ بْنُ مَيْسَرَةَ رَحِمَهُ اللهُ حَتَّى قَرَحَتْ مَا فِيهِ فَكَانَ يُعَاتِبُ فِي ذَالِكَ فَيَقُولُ أَنَّمَا ابْكِي مِنْ طُولِ الْعَطَشِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ .
অর্থ: "বুদাইল বিন মাইসারা এত কাঁদত যে, চোখ দিয়ে বমি ও রক্ত প্রবাহিত হতে শুরু করত। সব সময় পরকালের ভয়ে ভীত সন্ত্রস্ত থাকত, আর বলত যে, আমি কিয়ামতের দিন কঠিন পিপাসার ভয়ে কাঁদছি।"
মাসআলা-২৫৬: মুহাম্মদ বিন মুনকাদের জাহান্নামের ভয়ে যখন কাঁদত তখন চোখের পানি দিয়ে চেহারা ও দাড়ি ভিজিয়ে দিত:
كَانَ مُحَمَّدُ بْنُ الْمُنْكَدِرِ رَحِمَهُ اللهُ إِذَا بَكَى مَسَحَ وَجْهَهُ وَلِحِيْتَهُ بِدُمُوعِهِ وَيَقُولُ بَلَغَنِي إِنَّ النَّارَ لَا تَأْكُلْ مَوْضَعَا مَّسَّتْهُ الدُّمُوعِ
অর্থ: "মুহাম্মদ বিন মুনকাদির (র) যখন কাঁদতেন তখন চোখের পানি দিয়ে স্বীয় চেহারা ও দাড়ি মুছে নিতেন, আর বলতেন: আমি শুনেছি (আল্লাহর ভয়ে) প্রবাহিত চোখের পানি যেখানে পৌঁছবে ঐ স্থান জাহান্নামের আগুন স্পর্শ করবে না।"
মাসআলা-২৫৭: আতা আস সুলামী (রা) তার প্রতিবেশীদের চুলার আগুন দেখে বেহুশ হয়ে গিয়েছিল:
دَخَلَ عَلَا بْنُ مُحَمَّدٍ عَلَى السُلَمِي رَحِمَهُ اللهُ وَقَدْ غَشِيَ عَلَيْهِ فَقَالَ لِامْرَأَتِهِ أَمْ جَعْفَر مَا شَانُ عَطَا فَقَالَتْ سَجَرَتْ جَارَتَنَا التَّنُورِ فَنَظَرَ إِلَيْهِ وَخَرَّ مَغْشِيَا عَلَيْهِ :
অর্থ: "আলা বিন মোহাম্মদ একদা আতা আসসুলাইমী (র)-এর নিকট এসে দেখলেন যে তিনি বেহুশ হয়ে আছেন, তখন তিনি তার স্ত্রী উম্মে জা'ফরকে জিজ্ঞেস করলেন, আতা আসসুলাইমীর কি হয়েছে? স্ত্রী বলল: আমাদের প্রতিবেশীরা চুলা জ্বালাচ্ছিল আর তা দেখে তিনি বেহুশ হয়ে গেছেন।"
মাসআলা-২৫৮: জাহান্নামের ভয়ে হাসান বসরী (র)-এর ক্রন্দন:
وَعِنْدَ مَا بَكَى الْحَسَنُ فَقِيلَ لَهُ مَا يُبْكِيكَ؟ قَالَ أَخَافُ يَطْرُ حَنِي غَدًا فِي النَّارِ وَلَا يُبَالِى
অর্থ: "হাসান বাসরী (র)-কে কাঁদতে দেখে জিজ্ঞেস করা হলো যে, কে তোমাকে কাঁদাচ্ছে? সে বলল: আমার ভয় হয় না জানি কিয়ামতের দিন আল্লাহ আমাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করেন। আল্লাহ তো কোনো কিছুর পরওয়া করেন না।"
মাসআলা-৩৩৭: ইয়াযিদ বিন হারুন (র)-এর উভয় চোখ কেঁদে কেঁদে অন্ধ হয়ে গিয়েছিল:
قَالَ الْحَسَنُ بْنُ عَرَفَةَ رَحِمَهُ اللهُ رَأَيْتُ يَزِيدَ بْنَ هَارُونَ رَحِمَهُ اللهُ مِنْ أَحْسَنَ النَّاسِ عَيْنَيْنِ ثُمَّ رَأَيْتُهُ بِعَيْنِ وَاحِدٍ ثُمَّ رَايَتُهُ أَعْمَى فَقُلْتُ يَا أَبَا خَالِدٍ مَا فَعَلَتْ الْعَيْنَانِ الْجَمِيلَتَانِ؟ قَالَ ذَهَبَ بِهَا بُكَاءَ الْأَسْحَارِ
অর্থ: "হাসান বিন আরাফা (র) বলেছেন: আমি ইয়াযিদ বিন হারুন (র)-কে দেখেছি যে, তার চোখ দু'টি খুব সুন্দর ছিল, কিছুদিন পর দেখলাম যে তার শুধু একটি চোখ, আরো কিছু দিন পর দেখলাম যে, তার দু'টি চোখই নষ্ট হয়ে গেছে। আমি জিজ্ঞেস করলাম হে আবু খালেদ! তোমার সুন্দর দু'টি চোখ কি হলো? সে বলল: কান্নাবিজড়িত রাত্রি জাগরণে তা নষ্ট হয়ে গেছে।"
মাসআলা-২৫৯: মৃত্যুর পূর্বে ঈমান নষ্ট হয়ে যাওয়ার ভয়:
قَالَ عَبْدُ الرَّحْمَانِ بن مَهْدِي رَحِمَهُ اللهُ بَاتَ سُفْيَانَ رَحِمَهُ اللَّهُ عِنْدِي فَلَمَّا أَشَدَّ بِهِ الْأَمْرِ جَعَلَ يَبْكِي فَقَالَ لَهُ رَجُلٌ يَا أَبَا عَبْدِ اللَّهِ أَرَاكَ كَثِير الذُّنُوبِ فَرَفَعَ شَيْئًا مِنَ الْأَرْضِ وَقَالَ وَاللَّهِ لَذُنُوبِي أَهْوَنُ عِنْدِي مِنْ ذَا إِنِي أَخَافُ أَنْ أَسْلَبَ الإِيمَانِ قَبْلَ أَنْ أَمُوتَ
অর্থ: "আবদুর রহমান বিন মাহদী (র) বলেন, সুফিয়ান (র) আমার নিকট রাত্রি যাপন করল, যখন তার ক্লান্তি এসে গেল তখন সে কাঁদতে লাগল। এক ব্যক্তি তাকে জিজ্ঞেস করল হে আবু আবদুল্লাহ! তুমি কি অধিক গুনাহর কারণে কাঁদতেছ? তখন সে মাটি থেকে একটি কিছু উঠিয়ে বলল: আল্লাহর কসম!
মাসআলা-২৬০: ওমার বিন আবদুল আযীয ইশার নামাযের পর থেকে ঘুম আসা পর্যন্ত আল্লাহর ভয়ে কাঁদতে থাকতেন:
قَالَتْ فَاطِمَةٌ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنَ مَرْوَانَ امْرَأَةَ عُمَرَ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ رَحِمَهُ اللَّهُ يكون في النَّاسِ مَنْ هُوَ أَكْثَرُ صَوْمًا وَصَلاةً مِنْ عُمَرَ وَمَا رَأَيْتُ أَحَدًا أَشَدَّ خوفًا مِنْ رَبِّهِ مِنْ عُمَرَ كَانَ إِذَا صَلَّى الْعِشَاءِ قَعَدَ فِي الْمَسْجِدِ ثُمَّ رَفَعَ يَدَيْهِ فَلَمْ يَزِلُ يبكى حَتَّى يَغْلِبُهُ النَّوْمُ ثُمَّ يَنْتَبهُ فَلَا يَزَالُ يَدْعُو رَافِعًا يَدَيْهِ يَبْغِي حَتَّى تَغْلِبَهُ عَيْنَاءُ
অর্থ: "ফাতেমা বিনতে আবদুল মালেক বিন মারওয়ান (র) যিনি ওমর বিন আবদুল আযীয (র)-এর স্ত্রী ছিলেন তিনি বলেছেন যে, লোকদের মধ্যে ওমর (রা) চেয়ে নামায রোযা অধিক পরিমাণে করার মত তো অনেকেই ছিল, কিন্তু আল্লাহর ভয়ে ক্রন্দনকারী আমি ওমর (রা)-এর চেয়ে অধিক আর কাউকে দেখি নি। যখন ইশার নামায শেষ হয়ে যেত তখন আল্লাহর নিকট হাত তুলে কাঁদতে থাকত এবং একাধারে ঘুম আসা পর্যন্ত কাঁদতে থাকত। যদি উঠানো হত তাহলে আবার হাত তুলে কাঁদতে শুরু করত। এমন কি ঘুম আসা পর্যন্ত কাঁদতে থাকত।"

টিকাঃ
১১৪. তাম্বীহুল গাফেলীন, ২/৬২০।
১১৫. ইবনে কাসীর (৩/১৪৫)
১১৬. ২/৬৯
১১৭. আল ইহইয়া (১৬৯)
১১৮. সাফওয়াতুস সাফওয়া (৩/৩২৭)
১১৯. ইবনে কাসীর (৩/১৭৯)
১২০. প্রাগুক্ত (৩/১৭৯)
১২১. সাফওয়াতুস সাফওয়া, ৩/২৬৫।
১২২. এহইয়া ৪/১৭২।
১২৩. সাফওয়াতুস সাফওয়া, ৩/৩২৬।
১২৪. তাযকিরাতুল হুফ্ফায (৩/৭৯০)
১২৫. সাফওয়াতুস সাফওয়া, (৩/১৫০)
১২৬. তাযকিরাতুল হুফ্ফায (১/১২০)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00