📄 ক্ষণস্থায়ী জাহান্নামী
মাসআলা-১৭৯: যে ব্যক্তি যাকাত আদায় করেনি সে জাহান্নামী হবে:
وَالَّذِينَ يَكْنِزُونَ الذَّهَبَ وَالْفِضَّةَ وَلا يُنفِقُونَهَا فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَبَشِّرْهُمْ بِعَذَابٍ أَلِيمٍ يَوْمَ يُحْمَى عَلَيْهَا فِي نَارِ جَهَنَّمَ فَتُكْوَى بِهَا جِبَاهُهُمْ وَجُنُوبُهُمْ وَظُهُورُهُمْ هَذَا مَا كَنَزْتُمْ لِأَنْفُسِكُمْ فَذُوقُوا مَا كُنتُمْ تَكْنِزُونَ
অর্থ: যারা সোনা ও রূপা পুঞ্জীভূত করে রাখে, আর তা আল্লাহর রাস্তায় খরচ করে না, তুমি তাদের বেদনাদায়ক আযাবের সুসংবাদ দাও। যেদিন জাহান্নামের আগুনে তা গরম করা হবে, অতঃপর তা দ্বারা তাদের কপালে, পার্শ্বে এবং পিঠে সেঁক দেয়া হবে। (আর বলা হবে) 'এটা তা-ই যা তোমরা নিজদের জন্য জমা করে রেখেছিলে, সুতরাং তোমরা যা জমা করেছিলে তার স্বাদ উপভোগ কর'। (সূরা তাওবা ৯:৩৪-৩৫)
মাসআলা-১৮০: জেনে শুনে কোনো মু'মিনকে হত্যাকারী দীর্ঘসময় পর্যন্ত জাহান্নামে থাকবে:
وَمَنْ يَقْتُلْ مُؤْمِناً مُتَعَمِّداً فَجَزَاؤُهُ جَهَنَّمُ خَالِداً فِيهَا وَغَضِبَ اللَّهُ عَلَيْهِ وَلَعَنَهُ وَأَعَدَّ لَهُ عَذَاباً عَظِيماً
অর্থ: আর যে ইচ্ছাকৃত কোনো মু'মিনকে হত্যা করবে, তার প্রতিদান হচ্ছে জাহান্নাম, সেখানে সে স্থায়ী হবে। আর আল্লাহ তার উপর ক্রুদ্ধ হবেন, তাকে লা'নত করবেন এবং তার জন্য বিশাল আযাব প্রস্তুত করে রাখবেন। (সূরা নিসা ৪:৯৩)
عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِي وَأَبِي هُرَيْرَةَ اللهِ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ «لَوْ أَنَّ أَهْلَ السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ اشْتَرَكُوا فِي دَمِ مُؤْمِنٍ لَأَكَبَّهُمُ اللهُ فِي النَّارِ»
অর্থ: "আবু সাঈদ ও আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত, তারা বলেন: রাসূলুল্লাহ বলেছেন: যদি আকাশ ও জমিনে বসবাসকারী সমস্ত সৃষ্টি একজন মু'মিন ব্যক্তিকে হত্যায় শামিল হয়, তাহলে আল্লাহ তাদের সকলকে উপুড় করে টেনে নিয়ে জাহান্নামে নিক্ষেপ করবেন।" (তিরমিযী ৪/১৩৯৮)
মাসআলা-১৮১: কাফিরদের সাথে যুদ্ধ চলাকালে সেনাদল থেকে পলায়নকারী জাহান্নামী হবে:
وَمَنْ يُوَلِّهِمْ يَوْمَئِذٍ دُبُرَهُ إِلَّا مُتَحَرِّفاً لِقِتَالٍ أَوْ مُتَحَيِّزاً إِلَى فِئَةٍ فَقَدْ بَاءَ بِغَضَبٍ مِّنَ اللَّهِ وَمَأْوَاهُ جَهَنَّمُ وَبِئْسَ الْمَصِيرُ
অর্থ: আর যে ব্যক্তি সেদিন তাদেরকে পৃষ্ঠ প্রদর্শন করবে তাহলে সে আল্লাহর গযব নিয়ে ফিরে আসবে। তবে যুদ্ধের জন্য (কৌশলগত) দিক পরিবর্তন অথবা নিজ দলে আশ্রয় গ্রহণের জন্য হলে ভিন্ন কথা এবং তার আবাস জাহান্নাম। আর সেটি কতইনা নিকৃষ্ট প্রত্যাবর্তনস্থল। (সূরা আনফাল ৮:১৬)
মাসআলা-১৮২: ইয়াতীমের সম্পদ অন্যায়ভাবে ভক্ষণকারী জাহান্নামী হবে:
إِنَّ الَّذِينَ يَأْكُلُونَ أَمْوَالَ الْيَتَامَى ظُلْماً إِنَّمَا يَأْكُلُونَ فِي بُطُونِهِمْ نَاراً وَسَيَصْلَوْنَ سَعِيراً
অর্থ: "নিশ্চয় যারা ইয়াতীমদের ধন-সম্পদ অন্যায়ভাবে ভক্ষণ করে তারা তো তাদের পেটে আগুন খাচ্ছে; আর অচিরেই তারা প্রজ্জ্বলিত আগুনে প্রবেশ করবে। (সূরা নিসা ৪:১০)
মাসআলা-১৮৩: যারা সাসতী সরলমনা নারীদের প্রতি অপবাদ দেয় তারা জাহান্নামী হবে:
إِنَّ الَّذِينَ يَرْمُونَ الْمُحْصَنَاتِ الْغَافِلَاتِ الْمُؤْمِنَاتِ لُعِنُوا فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ وَلَهُمْ عَذَابٌ عَظِيمٌ
অর্থ: যারা সতী-সাধ্বী, নিরীহ ঈমানদার নারীদের প্রতি অপবাদ আরোপ করে, তারা ইহকালে ও পরকালে ধিকৃত এবং তাদের জন্যে রয়েছে গুরুতর শাস্তি। (সূরা নূর ২৪:২৩)
মাসআলা-১৮৪: ফাসিক, ফাজির ও অসৎ লোকেরা জাহান্নামী হবে:
وَإِنَّ الْفُجَّارَ لَفِي جَحِيمٍ يَصْلَوْنَهَا يَوْمَ الدِّينِ وَمَا هُمَ عَنْهَا بِغَائِبِينَ
অর্থ: "এবং দুষ্কর্মকারীরা থাকবে জাহান্নামে, তারা কর্মফল দিবসে তাতে প্রবিষ্ট হবে; তারা তা থেকে অন্তর্নিহিত হতে পারবে না"। (সূরা ইনফিতার: ১৪-১৬)
মাসআলা-১৮৫: নামায ত্যাগকারী জাহান্নামী হবে:
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، عَنْ النبي عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ ذَكَرَ الصَّلَاةَ يَوْمًا، فَقَالَ: «مَنْ حَافَظَ عَلَيْهَا كَانَتْ لَهُ نُورًا وَبُرْهَانَّا وَنَجَاةً يَوْمَ الْقِيَامَةِ، وَمَنْ لَمْ يُحَافِظُ عَلَيْهَا لَمْ يَكُنْ لَهُ نُورًا وَلَا بُرْهَانَّا وَلَا نَجَاةً وَيَأْتِي يَوْمَ الْقِيَامَةِ مَعَ قَارُونَ وَفِرْعَوْنَ وَهَامَانَ وَأَبِي بْنِ خَلَفٍ»
অর্থ: "আবদুল্লাহ বিন আমর বিন আস (রা) নবী থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি একদিন নামায সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে বলেছেন, যে ব্যক্তি যথাযথভাবে নামায আদায় করে, কিয়ামতের দিন তা তার জন্য নূর, দলীল ও মুক্তির ওসিলা হবে। আর যে ব্যক্তি যথাযথভাবে নামায আদায় করবে না, কিয়ামতের দিন তার জন্য কোনো নূর, দলীল ও মুক্তির মাধ্যম থাকবে না। কিয়ামতের দিন সে কারুন, ফেরাউন, হামান ও উবাই বিন খালফের সাথে থাকবে।" (ইবনে হিব্বান)
মাসআলা-১৮৬: যে ব্যক্তি রোযা পালন করবে না সে জাহান্নামী হবে: নোট: এ সংক্রান্ত হাদীসটি ১৬৯ নং হাদীস দ্রষ্টব্য।
মাসআলা-১৮৭: যে ব্যক্তি সমর্থ থাকা সত্ত্বেও হজ্ব পালন করবে না সে জাহান্নামী হবে:
عَنْ عُمَرَ بْنُ الْخَطَّابِ اللهُ قَالَ لَقَدْ هَمَمْتُ أَنْ أَبْعَثَ رَجُلًا إِلَى هَذِهِ الْأَمْصَارِ ، فَلْيَنْظُرُوا كُلَّ مَنْ كَالَ لَهُ رَجُلٍ جَدَةٍ وَلَمْ يَحُجَّ لَيَضْرِبُوا عَلَيْهِمُ الْجِزْيَةَ، مَا هُمْ بِمُسْلِمِينَ مَا هُمْ بِمُسْلِمِينَ مَا هُمْ بِمُسْلِمِينَ»
অর্থ: "ওমর বিন খাত্তাব (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমার ইচ্ছা হয় যে, কিছু লোককে শহরসমূহে প্রেরণ করি, তারা গিয়ে দেখুক যে, যাদের হজ্ব করার সামর্থ আছে অথচ তারা হজ্ব করতেছে না তাদের ওপর কর ধার্য করুক। তারা মুসলমান নয়, তারা মুসলমান নয়, তারা মুসলমান নয়।" (সাঈদ তার সুনান গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন)।
মাসআলা-১৮৮: লোক দেখানো আমলকারী জাহান্নামী হবে:
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ هُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ " إِنَّ أَوَّلَ النَّاسِ يُقْضَى يَوْمَ الْقِيَامَةِ عَلَيْهِ رَجُلٌ اسْتُشْهِدَ، فَأُتِيَ بِهِ فَعَرَّفَهُ نِعَمَهُ فَعَرَفَهَا، فَقَالَ : مَا عَمِلْتَ فِيهَا؟ قَالَ: قَاتَلْتُ فِيكَ حَتَّى اسْتُشْهِدْتُ، قَالَ: كَذَبْتَ، وَلَكِنَّكَ قَاتَلْتَ لِأَنْ يُقَالَ: جَرِيءٌ ، فَقَدْ قِيلَ ثُمَّ أُمِرَ بِهِ فَسُحِبَ عَلَى وَجْهِهِ حَتَّى أُلْقِيَ فِي النَّارِ، وَرَجُلٌ تَعَلَّمَ الْعِلْمَ ، وَعَلَّمَهُ وَقَرَأُ الْقُرْآنَ. فَأْتِي بِهِ فَعَرَّفَهُ نِعَمَهُ فَعَرَفَهَا ، قَالَ: فَمَا عَمِلْتَ فِيهَا؟ قَالَ: تَعَلَّمْتُ الْعِلْمَ وَعَلَّمْتُهُ وَقَرَأْتُ فِيكَ الْقُرْآنَ، قَالَ: كَذَبْتَ ، وَلَكِنَّكَ تَعَلَّمْتَ الْعِلْمَ لِيُقَالَ: أَنكَ عَالِمٌ ، وَقَرَأْتُ الْقُرْآنَ لِيُقَالَ: هُوَ قَارِيٌّ، فَقَدْ قِيلَ، ثُمَّ أُمِرَ بِهِ فَسُحِبَ عَلَى وَجْهِهِ حَتَّى أُلْقِيَ فِي النَّارِ، وَرَجُلٌ وَشَعَ اللَّهُ عَلَيْهِ، وَأَعْطَاهُ مِنْ أَصْنَافِ الْمَالِ كُلِّهِ، فَأُتِيَ بِهِ فَعَرَّفَهُ نِعَمَهُ فَعَرَفَهَا، قَالَ: فَمَا عَمِلْتَ فِيهَا؟ قَالَ: مَا تَرَكْتُ مِنْ سَبِيلٍ تُحِبُّ أَنْ يُنْفَقَ فِيهَا إِلَّا أَنْفَقْتُ فِيهَا لَكَ، قَالَ: كَذَبْتَ، وَلَكِنَّكَ فَعَلْتَ لِيُقَالَ: هُوَ جَوَادٌ، فَقَدْ قِيلَ ثُمَّ أُمِرَ بِهِ عَلَى وَجْهِهِ، ثُمَّ أُلْقِيَ فِي النَّارِ " أَمِرَ بِهِ فَسُحِبَ
অর্থ: "আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ বলেছেন: কিয়ামতের দিন সর্বপ্রথম যে ব্যক্তির ফায়সালা করা হবে, সে হবে ঐ ব্যক্তি যে, আল্লাহর পথে শাহাদাতবরণ করেছে, আল্লাহ তার সামনে তাকে দেয়া নিআমতসমূহের কথা স্মরণ করাবেন আর সে তা স্বীকার করবে, তখন আল্লাহ তাকে জিজ্ঞেস করবেন যে, এ নিআমতসমূহের হক আদায় করার জন্য তুমি কি করেছ? সে বলবে আমি তোমার পথে যুদ্ধ করেছি, এমনকি এপথে আমি শাহাদাত বরণ করেছি। তখন আল্লাহ বলবেন: তুমি মিথ্যা বলছ, তোমাকে লোকেরা বাহাদুর বলবে এজন্য তুমি যুদ্ধ করেছিলে, আর তোমাকে পৃথিবীতে লোকেরা বাহাদুর বলেছেও। অতপর ফেরেশতাদেরকে নির্দেশ দেয়া হবে, তখন তাকে উপুড় করে টেনে নিয়ে গিয়ে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। এরপর ঐ ব্যক্তিকে উপস্থিত করা হবে, যে নিজে জ্ঞান অর্জন করেছে এবং অপরকেও শিক্ষা দিয়েছে, কুরআন শিখেছে। আল্লাহ তাকে দেয়া নিআমত সমূহের কথা স্মরণ করাবেন, তখন সে তা স্মরণ করবে, তখন আল্লাহ তাকে জিজ্ঞেস করবেন যে, এ নেআমতসমূহের কৃতজ্ঞতা প্রকাশের জন্য তুমি কি করেছ। সে বলবে হে আল্লাহ! আমি জ্ঞান অর্জন করেছি, লোকদেরকে তা শিখিয়েছি এবং তোমার সন্তুষ্টি লাভের জন্য লোকদেরকে কুরআন তেলাওয়াত করে শুনিয়েছি। আল্লাহ বলবেন: তুমি মিথ্যা বলছ, তুমি এজন্য জ্ঞান অর্জন করেছ যেন লোকেরা তোমাকে জ্ঞানী বলে। আর এজন্য কুরআন তেলাওয়াত করে শুনিয়েছ যেন লোকেরা তোমাকে ক্বারী বলে। তাই পৃথিবীতে লোকেরা তোমাকে আলেম ও ক্বারী বলেছে। অতপর ফেরেশতাদেরকে নির্দেশ দেয়া হবে তখন তারা তাকে উপুড় করে টেনে নিয়ে গিয়ে জাহান্নামে নিক্ষেপ করবে। এরপর তৃতীয় ব্যক্তিকে উপস্থিত করা হবে যাকে পৃথিবীতে স্বচ্ছলতা এবং সর্বপ্রকার সম্পদ দান করা হয়েছিল। আল্লাহ তাকে দেয়া নিআমতসমূহের কথা তাকে স্মরণ করাবেন তখন সে তা স্মরণ করবে, আল্লাহ তাকে জিজ্ঞেস করবেন যে, এ নিআমতসমূহের কৃতজ্ঞতা প্রকাশের জন্য তুমি কি করেছ। সে বলবে হে আল্লাহ! আমি ঐ সমস্ত রাস্তায় সম্পদ ব্যয় করেছি, যেখানে ব্যয় করা তোমার পছন্দ। আল্লাহ বলবেন: তুমি মিথ্যা বলছ, তুমি এজন্য সম্পদ ব্যয় করেছ যেন লোকেরা তোমাকে দানবীর বলে। আর পৃথিবীতে লোকেরা তোমাকে দানবীর বলেছেও। অতঃপর ফেরেশতাদেরকে নির্দেশ দেয়া হবে তখন তাকে তারা উপুড় করে টেনে নিয়ে গিয়ে জাহান্নামে নিক্ষেপ করবে।" (মুসলিম ৩/১৯০৫)
মাসআলা-১৮৯: নবী -এর নামে মিথ্যা অপবাদ দাতা জাহান্নামে যাবে:
عَنْ سَلَمَةَ قَالَتْ : سَمِعْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «مَنْ يَقُلْ عَلَيَّ مَا لَمْ أَقُلْ فَلْيَتَبَوَّأُ مَقْعَدَهُ مِنَ النَّارِ»
অর্থ: "উম্মে সালামা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি নবী -কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন: যে ব্যক্তি আমার ব্যাপারে এমন কথা বলে যা আমি বলি নি সে যেন তার ঠিকানা জাহান্নামে ঠিক করে নেয়।" (বুখারী ১/১০৯)
মাসআলা-১৯০: অহংকারকারী জাহান্নামী হবে:
عَنْ أَبِي سَعِيدِ الْخُدْرِي وَأَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ قَالَا قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْعِزَّةُ إِزَارَةً وَالْكِبْرِيَاءُ رِدَاءَهُ فَمَنْ يُنَازِعُنِى عَذَّبْتُهُ
অর্থ: "আবু সাঈদ খুদরী ও আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত, তারা বলেন: রাসূলুল্লাহ বলেছেন: ইজ্জত আমার লুঙ্গি আর অহংকার আমার চাদর, যে ব্যক্তি তা আমার কাছ থেকে ছিনিয়ে নিতে চায় আমি তাকে শাস্তি দিব।" (মুসলিম)
মাসআলা-১৯১: সুদখোর জাহান্নামী হবে:
মাসআলা-১৯২: জিনাকার নারী পুরুষ জাহান্নামী হবে: নোট: এ সংক্রান্ত হাদীসটি ১৭৩/১৭৪ নং হাদীস দ্রষ্টব্য।
মাসআলা-১৯৩: মদ পানকারী জাহান্নামী হবে: নোট: এ সংক্রান্ত হাদীসটি ৯০ নং হাদীস দ্রষ্টব্য।
মাসআলা-১৯৪: আত্ম হত্যাকারী জাহান্নামী হবে: নোট: এ সংক্রান্ত হাদীসটি ১৭৮ নং হাদীস দ্রষ্টব্য।
মাসআলা-১৯৫: ছবি তৈরীকারী জাহান্নামী হবে:
عَبْدَ اللَّهِ بْن مَسْعُودٍ (রাঃ) قَالَ: سَمِعْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «إِنَّ أَشَدَّ النَّاسِ عَذَابًا عِنْدَ اللَّهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ المُصَوِّرُونَ»
অর্থ: "আবদুল্লাহ বিন মাসউদ (রা) নবী থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: ছবি তৈরী কারী আল্লাহর নিকট সর্বাধিক আযাব ভোগ করবে।" (বুখারী ৭/৫৯৫২)
মাসআলা-১৯৬: পৃথিবীর সম্মান, সম্পদ ও গৌরব লাভের আশায় জ্ঞান অর্জনকারী জাহান্নামী হবে:
عَنْ كَعْبِ بْنِ مَالِكٍ (রাঃ) قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «مَنْ طَلَبَ الْعِلْمَ لِيُجَارِيَ بِهِ الْعُلَمَاءَ أَوْ لِيُمَارِيَ بِهِ السُّفَهَاءَ أَوْ يَصْرِفَ بِهِ وُجُوهَ النَّاسِ إِلَيْهِ أَدْخَلَهُ اللَّهُ النَّارَ»
অর্থ: "কা'ব বিন মালেক (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি নবী-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন: যে ব্যক্তি আলেমদের সাথে ফখর করার উদ্দেশ্যে জ্ঞান অর্জন করে, বা অজ্ঞ লোকদের সাথে ঝগড়া করা ও মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্য জ্ঞান অর্জন করে, তাকে আল্লাহ জাহান্নামে প্রবেশ করাবেন।" (তিরমিযী ৫/২৬৫৪)
মাসআলা-১৯৭: বাইতুলমালে অন্যায়ভাবে হস্তক্ষেপকারী জাহান্নামী হবে:
عَنْ خَوْلَةَ الْأَنْصَارِيَّةِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا، قَالَتْ: سَمِعْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، يَقُولُ: «إِنَّ رِجَالًا يَتَخَوَّضُونَ فِي مَالِ اللَّهِ بِغَيْرِ حَقٌّ، فَلَهُمُ النَّارُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ»
অর্থ: "খাওলা আনসারিয়া (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি নবী -কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন: যে ব্যক্তি আল্লাহর সম্পদে অন্যায়ভাবে হস্তক্ষেপ করে সে কিয়ামতের দিন জাহান্নামী হবে।" (বুখারী ৪/৩১১৮)
মাসআলা-১৯৮: বৃদ্ধ ব্যভিচারি, মিথ্যুক বাদশা ও অহংকারী ফকীর জাহান্নামী হবে:
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ هِ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : " ثَلَاثُ لَا يُكَلِّمُهُمُ اللَّهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ، وَلَا يُزَكِّيهِمْ وَلَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ شَيْخٌ زَانٍ مَلِكَ كَذَّابٌ وَعَائِلٌ مُسْتَكْبِرُ
অর্থ: "আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ বলেছেন: তিন প্রকার লোকের সাথে কিয়ামতের দিন আল্লাহ কথা বলবেন না এবং তাদেরকে পবিত্র করবেন না, আর তাদের জন্য রয়েছে বেদনাদায়ক শাস্তি। তারা হলো: বৃদ্ধ ব্যভিচারি, মিথ্যুক বাদশা, অহংকারী ফকীর।" (মুসলিম)
মাসআলা-১৯৯: দান করে খোঁটা দেয়, মিথ্যা শপথ করে পণ্য দ্রব্য বিক্রি করা পায়ের গোছার নিচে কাপড় ঝুলিয়ে পরিধানকারী জাহান্নামী:
عَنْ أَبِي ذَرٍ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «ثَلَاثَةٌ لَا يُكَلِّمُهُمُ اللَّهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ، وَلَا يَنْظُرُ إِلَيْهِمْ وَلَا يُزَكِّيهِمْ وَلَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ» قَالَ: فَقَرَأَهَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ثَلَاثَ مِرَانًا، قَالَ أَبُو ذَرٍ : خَابُوا وَخَسِرُوا مَنْ هُمْ يَا رَسُولَ اللهِ؟ قَالَ: «الْمُسْبِلُ الْمَنَّانُ، وَالْمُنَفِقُ سِلْعَتَهُ بِالْحَلِفِ الْكَاذِبِ»
অর্থ: "আবু যার (রা) নবী থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: তিন প্রকার লোকের সাথে কিয়ামতের দিন আল্লাহ কথা বলবেন না, তাদের প্রতি দৃষ্টিপাত করবেন না এবং তাদেরকে পবিত্র করবেন না, আর তাদের জন্য রয়েছে বেদনাদায়ক শাস্তি। বর্ণনাকারী বলেন: রাসূলুল্লাহ এ কথাটি তিন বার বলেছেন, তখন আবু যার বলল: তারা ধ্বংস থেকে ক্ষতিগ্রস্ত হোক, তারা কারা ইয়া রাসূলুল্লাহ! তিনি বললেন: পায়ের গোছার নিচে কাপড় ঝুলিয়ে পরিধানকারী, দান করে খোটা দাতা, মিথ্যা শপথ করে পণ্য দ্রব্য বিক্রি কারী।" (মুসলিম ১/১০৬)
মাসআলা-২০০: জীব জন্তর প্রতি যুলুমকারী জাহান্নামী হবে:
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «عُذِّبَتِ امْرَأَةً فِي هِرَةٍ سَجَنَتُهَا حَتَّى مَاتَتْ فَدَخَلَتْ فِيهَا النَّارَ ، لَا هِيَ أَطْعَمَتُهَا وَسَقَتْهَا، إِذًا هِيَ تَرَكَتْهَا تَأْكُلُ مِنْ خَشَاشِ الْأَرْضِ»
অর্থ: "আবদুল্লাহ বিন ওমর (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ বলেছেন: এক মহিলার জাহান্নামে শাস্তি হচ্ছিল একটি বিড়ালকে তার মৃত্যু পর্যন্ত আটকিয়ে রাখার কারণে, এ কারণে সে জাহান্নামী হয়েছিল, সে তাকে খাবার দেয় নি, পান করায়নি, আটকিয়ে রেখে ছিল এমন কি পোকামাকড় ও খেতে দেয় নি।" (মুসলিম ৪/২২৪২)
মাসআলা-২০১: অন্যের ওপর যুলুমকারী এবং অন্যের হক নষ্টকারী জাহান্নামী হবে:
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ اللَّهُ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، قَالَ: «أَتَدْرُونَ مَا الْمُفْلِسُ؟» قَالُوا : الْمُفْلِسُ فِينَا مَنْ لَا دِرْهَمَ لَهُ وَلَا مَتَاعَ، فَقَالَ: « الْمُفْلِسَ مِنْ أُمَّتِي يَأْتِي يَوْمَ الْقِيَامَةِ بِصَلَاةٍ، وَصِيَامٍ، وَزَكَاةٍ، وَيَأْتِي قَدْ شَتَمَ هَذَا ، وَقَذَفَ هَذَا ، وَأَكَلَ مَالَ هَذَا ، وَسَفَكَ دَمَ هَذَا، وَضَرَبَ هَذَا. فَيُعْطَى هَذَا مِنْ حَسَنَاتِهِ، وَهَذَا مِنْ حَسَنَاتِهِ، فَإِنْ فَنِيَتْ حَسَنَاتُهُ قَبْلَ أَنْ يُقْضَى مَا عَلَيْهِ أُخِذَ مِنْ خَطَايَاهُمْ فَطْرِحَتْ عَلَيْهِ، ثُمَّ طُرِحَ فِي النَّارِ»
অর্থ: "আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত তিনি রাসূলাল্লাহ থেকে বর্ণনা করেছেন তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ-কে জিজ্ঞেস করলেন তোমরা কি জান মোফলেস (গরীব) কে? তারা বলল: আমাদের মাঝে গরীব সে যার ধন-সম্পদ নেই। তিনি বললেন: আমার উম্মতের মধ্যে মোফলেস সে যে কিয়ামতের দিন নামায, রোযা, যাকাত (ইত্যাদি আমল) নিয়ে উপস্থিত হবে, কিন্তু সে ওমুককে গালি-গালাজ করেছে, ওমুককে মিথ্যা অপবাদ দিয়েছে, ওমুকের সম্পদ নষ্ট করেছে, ওমুককে হত্যা করেছে, ওমুককে মারধর করেছে, তখন তার নেকীসমূহ ওমুক ওমুককে দিয়ে দেয়া হবে, যখন তার অপরাধ শেষ হওয়ার আগেই নেকী শেষ হয়ে যাবে, তখন তাদের গুনাহসমূহ থেকে গুনাহ তার আমলনামায় দেয়া হবে। অতপর তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে।" (মুসলিম ৪/২৫৮১)
মাসআলা-২০২: হারাম উপার্জনকারী, খিয়ানতকারী, ধোঁকাবাজ, মিথ্যুক, অশ্লীল কথা বলে এ ধরনের লোক জাহান্নামী হবে:
عَنْ عِيَاضِ بْنِ حِمَارِ الْمُجَاشِعِي وَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ ذَاتَ يَوْمٍ فِي خُطْبَتِهِ وَأَهْلُ النَّارِ الْخَمْسَةُ: الضَّعِيفُ الَّذِي لَا زَبْرَ لَهُ, الَّذِينَ هُمْ فِيكُمْ تَبَعًا لَا يَبْتَغُونَ أَهْلًا وَلَا مَالًا، وَالْخَائِنُ الَّذِي لَا يَخْفَى لَهُ طَمَعُ، وَإِنْ دَقَّ إِلَّا خَانَهُ، وَرَجُلٌ لَا يُصْبِحُ وَلَا يُمْسِي إِلَّا وَهُوَ يُخَادِعُكَ عَنْ أَهْلِكَ وَمَالِكَ وَذَكَرَ الْبُخْلَ وَالْكَذِبَ وَالشَّنْظِيرَ الْفَاحِشَ
অর্থ: "ইয়াজ বিন হিমার আল মাজাসি (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ একদা খুতবা দিতে গিয়ে বলেছেন: পাঁচ প্রকার লোক জাহান্নামী, (১) ঐ সমস্ত অজ্ঞ লোক যারা হালাল ও হারামের মাঝে কোনো পার্থক্য করে না। (২) যারা চোখ বন্ধ করে চলে, এমনকি তারা ধন-সম্পদ ও পরিবার পরিজনের প্রয়োজন থেকেও বে-পরওয়া। (৩) খিয়ানতকারী যে সামান্য প্রয়োজনেই খিয়ানত করতে থাকে। (৪) যে ব্যক্তি তোমার পরিবার-পরিজন ও সম্পদে তোমাকে ধোঁকা দেয়। অতপর তিনি বখীল ও মিথ্যুকের কথা উল্লেখ করলেন, (৫) যে ব্যক্তি অশ্লীল কথা বলে।" (মুসলিম, বায়হাকী ১০/২০১৬১)
মাসআলা-২০৩: অসৎ চরিত্রের অধিকারী ও ঝগড়া-ঝাটিকারী জাহান্নামী হবে:
عَنْ حَارِثَةَ ابْنِ وَهْبٍ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : «لَا يَدْخُلُ الْجَنَّةَ الْجَوَاظُ وَلَا الْجَعْظَرِيُّ»
অর্থ: "হারেসা বিন ওহাব (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ বলেছেন: অসৎ চরিত্রের অধিকারী ও ঝগড়া-ঝাটিকারী জাহান্নামী হবে।" (আবু দাউদ ৪/৪৮০১)
মাসআলা-২০৪: কোনো অনাবাদী এলাকায় নিজের প্রয়োজনের অতিরিক্ত পানি থাকা সত্ত্বেও যে ব্যক্তি মুসাফিরকে পানি দান করেনা, দুনিয়ার স্বার্থে রাষ্ট্রনায়কের নিকট বাইয়াত গ্রহণকারী জাহান্নামী হবে:
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : " ثَلَاثُ لَا يُكَلِّمُهُمُ اللهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ، وَلَا يَنْظُرُ إِلَيْهِمْ، وَلَا يُزَكِّيهِمْ وَلَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ : رَجُلٌ عَلَى فَضْلِ مَاءٍ بِالْفَلَاةِ يَمْنَعُهُ مِنَ ابْنِ السَّبِيلِ، وَرَجُلٌ بَايَعَ رَجُلًا بِسِلْعَةٍ بَعْدَ الْعَصْرِ فَحَلَفَ لَهُ بِاللَّهِ لَأَخَذَهَا بِكَذَا وَكَذَا فَصَدَّقَهُ وَهُوَ عَلَى غَيْرِ ذَلِكَ ، وَرَجُلٌ بَايَعَ إِمَامًا لَا يُبَايِعُهُ إِلَّا لِدُنْيَا فَإِنْ أَعْطَاهُ مِنْهَا وَفَى وَإِنْ لَمْ يُعْطِهِ مِنْهَا لَمْ يَفِ "
অর্থ: "আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ বলেছেন: তিন প্রকার লোকের সাথে কিয়ামতের দিন আল্লাহ কথা বলবেন না এবং তাদেরকে পবিত্র করবেন না এবং তাদের দিকে তাকাবেন না। আর তাদের জন্য রয়েছে বেদনাদায়ক শাস্তি। (১) কোনো ব্যক্তির নিকট প্রয়োজন অতিরিক্ত পানি থাকা সত্ত্বেও মরুভূমিতে অন্য লোকদেরকে পানি নেয়া থেকে বাধা দেয়। (২) যে ব্যক্তি আসরের পর আল্লাহর নামে এ বলে কসম করে মাল বিক্রি করল যে, এ মাল আমি এত দিয়ে ক্রয় করেছি, আর ক্রেতাও তা বিশ্বাস করে ক্রয় করল, অথচ সে এদামে তা ক্রয় করে নি। (৩) যে ব্যক্তি দুনিয়াবী স্বার্থে কোনো রাষ্ট্রনায়কের নিকট বাইয়াত করল, যদি তাকে কিছু দেয়া হয় তাহলে সে তা পূর্ণ করে, আর কিছু না দিলে সে তা পূর্ণ করে না।" (মুসলিম ১/১০৮)
মাসআলা-২০৫: লাগামহীন কথাবার্তা বলে এমন লোকও জাহান্নামী হবে:
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ هُ أَنَّهُ سَمِعَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «إِنَّ الْعَبْدَ لَيَتَكَلَّمُ بِالْكَلِمَةِ، يَنْزِلُ بِهَا فِي النَّارِ أَبْعَدَ مَا بَيْنَ الْمَشْرِقِ وَالْمَغْرِبِ»
অর্থ: "আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি রাসূলুল্লাহ কে বলতে শুনেছেন, কোনো কোনো সময় বান্দা তার মুখ দিয়ে এমন কোনো কথা বলে ফেলে যার মাধ্যমে সে পূর্ব ও পশ্চিমের দূরত্বের চেয়ে ও জাহান্নামের অধিক গভীরে গিয়ে পৌঁছে।" (মুসলিম ৪/২৯৮৮)
মাসআলা-২০৬: কসম করে অপরের হক নষ্টকারীও জাহান্নামী হবে:
عَنْ أَبِي أُمَامَةَ هُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «مَنِ اقْتَطَعَ حَقَّ امْرِي مُسْلِمٍ بِيَمِينِهِ، فَقَدْ أَوْجَبَ اللَّهُ لَهُ النَّارَ، وَحَرَّمَ عَلَيْهِ الْجَنَّةَ» فَقَالَ لَهُ رَجُلٌ يَا رَسُولَ اللهِ ؟ : وَإِنْ كَانَ شَيْئًا يَسِيرًا قَالَ: «وَإِنْ قَضِيبًا مِنْ أَراك»
অর্থ: "আবু উমামা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ বলেছেন: যে ব্যক্তি কসম করে কোনো মুসলমানের হক নষ্ট করল, আল্লাহ তার জন্য জাহান্নাম ওয়াজিব করে দেন। এক ব্যক্তি প্রশ্ন করল ইয়া রাসূলুল্লাহ! যদি সামান্য কিছুও হয়? তিনি বললেন: যদি বাবলা গাছের একটি শাখাও হয় তবুও।" (মুসলিম ১/১৩৭)
মাসআলা-২০৭: পায়জামা, সেলওয়ার, লুঙ্গি ইত্যাদি টাখনুর নিচে পরিধানকারী জাহান্নামী হবে:
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ. عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «مَا أَسْفَلَ مِنَ الكَعْبَيْنِ مِنَ الْإِزَارِ فَفِي النَّارِ»
অর্থ: "আবু হুরাইরা (রা) নবী থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: লুঙ্গির যে অংশ টাখনুর নিচে যাবে সেই অংশটুকু জাহান্নামী হবে।" (বুখারী ৭/৫৭৮৭)
মাসআলা-২০৮: যে ভাল করে অযু না করে সে জাহান্নামী হবে:
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو قَالَ: رَأَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَوْمًا يَتَوَضَّتُونَ وَأَعْقَابُهُمْ تَلُوحُ فَقَالَ: «وَيْلٌ لِلْأَعْقَابِ مِنَ النَّارِ، أَسْبِغُوا الْوُضُوءَ»
অর্থ: "আবদুল্লাহ বিন ওমার (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ কিছু লোককে ওযু করতে দেখেছেন যে, তাদের গোড়ালী চমকাচ্ছে। তিনি বললেন: ধ্বংস শুষ্ক গোড়ালীর লোকদের জন্য, তা জাহান্নামের আগুনে জ্বলবে। অতএব তোমরা ভাল করে ওযু কর।" (ইবনে মাজা ১/৪৫০)
মাসআলা-২০৯: হারাম সম্পদে লালিত ব্যক্তি জাহান্নামী:
عَنْ جَابِرٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : «كُلُ جَسَدٍ نَبَتَ مِنْ سُحْتٍ فَالنَّارُ أَوْلَى بِهِمْ»
অর্থ: "জাবের (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ বলেছেন: যে শরীর হারাম মালে লালিত হয়েছে তার জন্য জাহান্নামই উত্তম।" (ত্বাবারানী)
মাসআলা-২১০: প্রসিদ্ধি লাভের জন্য যে ব্যক্তি কোনো পোশাক পরে সে জাহান্নামী:
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : «مَنْ لَبِسَ ثَوْبَ شُهْرَةٍ فِي الدُّنْيَا، أَلْبَسَهُ اللَّهُ ثَوْبَ مَذَلَّةٍ يَوْمَ الْقِيَامَةِ، ثُمَّ أَلْهَبَ فِيهِ نَارًا»
অর্থ: "আবদুল্লাহ বিন ওমার (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ বলেছেন: যে ব্যক্তি দুনিয়াতে প্রসিদ্ধি লাভের জন্য পোশাক পরল, কিয়ামতের দিন তাকে লাঞ্ছনার পোশাক পরানো হবে। এরপর তাতে আগুন লাগিয়ে দেয়া হবে।" (ইবনে মাজাহ ২/৩৬০৭)
মাসআলা-২১১: জেনে বুঝে দ্বীনের কথা গোপনকারী জাহান্নামী হবে: নোট: এ সংক্রান্ত হাদীসটি ১৭০ নং হাদীস দ্রষ্টব্য।
মাসআলা-২১২: হত্যার উদ্দেশ্যে একে অপরের ওপর হামলাকারীরা জাহান্নামী হবে:
عَنْ أَبِي مُوسَى ﷺ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِذَا الْتَقَى الْمُسْلِمَانِ بِسَيْفَيْهِمَا ، فَالْقَاتِلُ، وَالْمَقْتُولُ فِي النَّارِ» ، قَالُوا : يَا رَسُولَ اللَّهِ هَذَا الْقَاتِلُ، فَمَا بَالُ الْمَقْتُولِ؟ قَالَ: «إِنَّهُ أَرَادَ قَتْلَ صَاحِبِهِ»
অর্থ: "আবু মূসা আশআরী (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলূল্লাহ বলেছেন: যখন দু'জন মুসলমান স্বীয় তরবারী নিয়ে একে অপরের ওপর হামলা করে, তখন হত্যাকারী ও নিহত উভয়ই জাহান্নামী। সাহাবাগণ জিজ্ঞেস করল হে আল্লাহর রাসূল! হত্যাকারী জাহান্নামী হবে এটাতো স্পষ্ট, কিন্তু নিহত কিভাবে জাহান্নামী হবে? তিনি বললেন: নিহত ব্যক্তিও স্বীয় সাথীকে হত্যা করার জন্য আগ্রহী ছিল।" (ইবনে মাজাহ ২/৩৯৬৪)
মাসআলা-২১৩: ধোঁকা ও চক্রান্তকারী জাহান্নামী হবে:
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ ابْنِ مَسْعُودِ اللهِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : «مَنْ غَشَّنَا فَلَيْسَ مِنَّا، وَالْمَكْرُ وَالْخِدَاعُ فِي النَّارِ»
অর্থ: "আবদুল্লাহ বিন মাসউদ (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ বলেছেন যে ব্যক্তি ধোঁকা দেয় সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়। ধোঁকাবাজ ও চক্রান্ত কারী জাহান্নামী হবে।" (ত্বাবারানী ১০/১০২৩৪)
মাসআলা-২১৪: সোনার আংটি ব্যবহারকারী জাহান্নামী হবে:
عَنْ بْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَأَى خَاتَمًا مِنْ ذَهَبٍ فِي يَدِ رَجُلٍ ، فَنَزَعَهُ فَطَرَحَهُ، وَقَالَ: «يَعْمِدُ أَحَدُكُمْ إِلَى جَمْرَةٍ مِنْ نَارٍ فَيَجْعَلُهَا فِي يَدِهِ»
অর্থ: "ইবনে আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ এক ব্যক্তির হাতে একটি আংটি দেখে হাত থেকে তা খুলে বাহিরে নিক্ষেপ করলেন এবং বললেন: তোমাদের মধ্যে কেউ যদি আগুনের আঙ্গরা হাতে রাখা পছন্দ করে তাহলে সে যেন সোনার আংটি ব্যবহার করে।" (মুসলিম ৩/২০৯০)
মাসআলা-২১৫: সোনা চাঁদির প্লেটে পানাহার কারী জাহান্নামী হবে:
عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ، قَالَتْ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ شَرِبَ فِي إِنَاءٍ مِنْ ذَهَبٍ ، أَوْ فِضَّةٍ، فَإِنَّمَا يُجَرْجِرُ فِي بَطْنِهِ نَارًا مِنْ جَهَنَّمَ»
অর্থ: "উম্মে সালামা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ বলেছেন: যে ব্যক্তি সোনা-চাঁদির প্লেটে পান করে সে স্বীয় পেটে জাহান্নামের আগুন প্রবেশ করাল।" (মুসলিম ৩/২০৬৫)
মাসআলা-২১৬: যে ব্যক্তি পছন্দ করে যে তার আগমনে লোকেরা দাঁড়িয়ে তাকে স্বাগতম জানাক সে জাহান্নামী হবে:
عَنْ أَبِي مِجْلَزٍ، قَالَ: خَرَجَ مُعَاوِيَةُ فَقَامَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الزُّبَيْرِ وَابْنُ صَفْوَانَ فَقَالَ : اجْلِسًا ، سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «مَنْ سَرَّهُ أَنْ يَتَمَثَلَ لَهُ الرِّجَالُ قِيَامًا فَلْيَتَبَوَّأُ مَقْعَدَهُ مِنَ النَّارِ»
অর্থ: "আবু মিজলায থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: মুয়াবিয়া (রা) বের হলে আবদুল্লাহ বিন যুবাইর ও ইবনে সাফওয়ান (রা) দাঁড়িয়ে গেল, তখন মুয়াবিয়া (রা) বললেন: তোমরা উভয়ে বসে যাও আমি রাসূলুল্লাহ-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন: যে ব্যক্তি পছন্দ করে যে, তার জন্য লোকেরা দাঁড়িয়ে থাকুক, সে যেন তার ঠিকানা নিজেই জাহান্নামে বানিয়ে নিল।" (তিরমিযী ৫/২৭৫৫)
মাসআলা-২১৭: গণীমতের মাল থেকে চুরিকারীও জাহান্নামী হবে:
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو قَالَ : كَانَ عَلَى ثَقَلِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَجُلٌ يُقَالُ لَهُ كِرْكِرَةٌ فَمَاتَ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : «هُوَ فِي النَّارِ فَذَهَبُوا يَنْظُرُونَ، فَوَجَدُوا عَبَاءَةً، قَدْ غَلَهَا
এর অর্থ: "আবদুল্লাহ বিন আমর (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: নবী যুগে এক লোক গণীমতের মাল পাহারা দিত, তার নাম ছিল কারকারা সে যখন মারা গেল, তখন রাসূলূল্লাহ বললেন: সে জাহান্নামী। সাহাবাগণ গিয়ে তার সম্পদ দেখতে লাগল, সেখানে তারা একটি চাদর পেল যা গণীমতের মাল থেকে সে চুরি করেছিল।" (ইবনে মাজাহ ২/২৮৪৯)
মাসআলা-২১৮: গিবতকারী জাহান্নামী হবে: নোট: এ সংক্রান্ত হাদীসটি ১৮১ নং মাসআলা দ্রষ্টব্য।
মাসআলা-২১৯: অধিকাংশ লোক তার মুখ ও লজ্জাস্থানের কারণে জাহান্নামী হবে:
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ হِ قَالَ: سُئِلَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ أَكْثَرِ مَا يُدْخِلُ النَّاسَ الْجَنَّةَ، فَقَالَ: «تَقْوَى اللَّهِ وَحُسْنُ الْخُلُقِ» ، وَسُئِلَ عَنْ أَكْثَرِ مَا يُدْخِلُ النَّاسَ النَّارَ، فَقَالَ: «الْفَمُ وَالْفَرْجُ»
অর্থ: "আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ-কে জিজ্ঞেস করা হলো যে ইয়া রাসূলাল্লাহ! অধিকাংশ লোক কোনো আমলের মাধ্যমে জান্নাতে যাবে? তিনি বললেন: আল্লাহ ভীতি ও সৎচরিত্র। তাঁকে আরো জিজ্ঞেস করা হলো কি কারণে অধিকাংশ লোক জাহান্নামে যাবে? তিনি বললেন: মুখ ও লজ্জাস্থানের কারণে।" (তিরমিযী ৪/২০০৪)
টিকাঃ
৬১. কিতাবুত দিয়াত বাব আল হুকমু ফিদ দীমা। (২/১১২৮)
৬২. আরনূত লিখিত সহীহ ইবনে হিব্বান, ৪র্থ খন্ড, হাদীস নং-১৪৬৭।
৬৩. মুস্তাকাল আখবার, কিতাবুল মানাসিক, বাব ওজুবুল হাজ্ব আলাল ফাওর।
৬৪. কিতাবুল, ইমারা, বাব মান কাতালা লির রিয়া ওয়াসসুময়া ইস্তাহাক্কা স্নার।
৬৫. কিতাবুল ইলম, বাব ইসমু মান কাযিবা আলান্নাবী।
৬৬. কিতabুল বির ওয়সসিলা, বাব তাহরিমুল কিবর।
৬৭. কিতাবুল লিবাস বাব আযাবুল মুছাবিরীনা ইয়াওমাল কিয়ামা।
৬৮. আবওয়াবুল ইলম, বাব ফি মান ইয়তলুবুল ইলমা বি ইলমিদ দুনিয়া (২/২১২৮)।
৬৯. কিতাবুল জিহাদ, বাব কাওলিহি তাআলা ফা ইন্না লিল্লাহি ওয়ালির রাসূল।
৭০. কিতাবুল ঈমান, বাব বায়ানুগিলযু তাহরিম ইসবালুল ইযার, ওয়াল মান বিল আতিয়া, ওয়া তানফিকিস সিলয়া বিল হালাফ।
৭১. প্রাগুক্ত।
৭২. কিতাবুল বির ওয়াসসিলা, বাব তারিম তা'যিব আল হির, রা, ওয়া নাহবিহা।
৭৩. কিতাবুয যুলম, বাবুল কাসাসওয়া আদায়িল হুকুক ইয়াওমুল কিয়ামা।
৭৪. কিতাবুল আদব বাব ফি হুসনিল খুলুক।
৭৫. কিতাব সিফাতুল মুনাফেকীন, বাব সিফাতু আহলিল জান্না ওয়ান্নার।
৭৬. কিতাবুল ঈমান, বাব বায়ান গিলজ তাহرিমিল ইসবাল ওয়া বায়ান আস্ সালাসা আল্লাযিনা লা ইয়ুকাল্লিমুহুমুল্লাহু ইয়ামুল কিয়ামা।
৭৭. কিতাবুযযুহদ বাব হিফজুল লিসান।
৭৮. কিতাবুল ঈমান বাব ওয়ায়িদি মান ইকতাতায়া হাক্কুল মুসলিম।
৭৯. কিতাবুত তাহারা বাব গাসলুল আরাকিব।
৮০. মুখতামার সহীহ বুখারী লি যোবাইদী। হাদীস নং- ২৩৪।
৮১. আলবানী লিখিত সহীহ আল জামে আস সাগীর খ. ৪, হাদীস নং-৪৩৯৫।
৮২. কিতাবুললিবাস, বাব মান লাবিসা সুহরাতান মিন লিবাস।
৮৩. কিতাবুল ফিতান, বাব ইযা ইলতাকাল মুসলিমানে বিসাইফাইহিমা।
৮৪. আলবানী লিখিত সিলসিলা আহাদিস সহীহা। খ. ৩, হাদীস নং-১০৫৮।
৮৫. কিতাবুল লিবাস ওয়াযযিনা, বাব তাহরিমিয যাহাবআলার রিজাল।
৮৬. কিতাবুল লিবাস ওয়াযযিনা, বাব তাহরিম ইস্তে'মাল আওয়ানী আয যাহাব, ফি শুরবি ওয়া গাইরিহি আলাল রিজাল ওয়া নিসা।
৮৭. আবওয়াবুল ইস্তে'জান, বাব মা যায়া ফি কারাহিয়াতি কিয়ামির রাজুলি লি রাজুল (২/২২১২)
৮৮. কিতাবুল জিহাদ বাব আলগুলুল।
৮৯. কিতাবুল বির ওয়াস সিলা, বাব মাযায়া ফি হুসনিল খুলক।
📄 জাহান্নাম ও ফেরেশতা
মাসআলা-২৩০: ফেরেশতাদের জাহান্নামে কোনো শাস্তি হবে না এরপরও তারা আল্লাহর শাস্তির ভয়ে ভীত থাকে:
وَاللَّهِ يَسْجُدُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ مِنْ دَابَّةٍ وَالْمَلَائِكَةُ وَهُمْ لَا يَسْتَكْبِرُونَ يَخَافُونَ رَبَّهُمْ مِنْ فَوْقِهِمْ وَيَفْعَلُونَ مَا يُؤْمَرُونَ
অর্থ: আর আল্লাহকেই সিজদা করে আসমানসমূহে যা আছে এবং জমিনে যে প্রাণী আছে, আর ফেরেশতারা এবং তারা অহঙ্কার করে না। তারা তাদের উপরস্থ রবকে ভয় করে এবং তাদেরকে যা নির্দেশ দেয়া হয়, তারা তা করে। (সূরা নাহল ১৬:৪৯-৫০)
মাসআলা-২৩১: আল্লাহর ভয়ে ফেরেশতারা ভীত সন্ত্রস্ত থাকে:
وَقَالُوا اتَّخَذَ الرَّحْمَنُ وَلَداً سُبْحَانَهُ بَلْ عِبَادٌ مُّكْرَمُونَ لَا يَسْبِقُونَهُ بِالْقَوْلِ وَهُمْ بِأَمْرِهِ يَعْمَلُونَ يَعْلَمُ مَا بَيْنَ أَيْدِيهِمْ وَمَا خَلْفَهُمْ وَلَا يَشْفَعُونَ إِلا لِمَنِ ارْتَضَى وَهُمْ مِّنْ خَشْيَتِهِ مُشْفِقُونَ
অর্থ: আর তারা বলে, 'পরম করুণাময় সন্তান গ্রহণ করেছেন।' অথচ তিনি পবিত্র। বরং তারা সম্মানিত বান্দা। তারা তাঁর আগ বাড়িয়ে কোনো কথা বলে না, তাঁর নির্দেশেই তো তারা কাজ করে। তাদের সামনে ও পেছনে যা কিছু আছে সবই তিনি জানেন। আর তারা শুধু তাদের জন্যই সুপারিশ করে যাদের প্রতি তিনি সন্তুষ্ট। তারা তাঁর ভয়ে ভীত। (সূরা আম্বিয়া ২১:২৬-২৮)৯৭
টিকাঃ
৯৭. বনু খুযা'আ দাবী করত, ফেরেশতারা আল্লাহর কন্যা। এ ভুল ধারণা দূর করতে আল্লাহ বলেন, ফেরেশতারা আল্লাহর সন্তান নয়; বরং তারা সম্মানিত বান্দা। আল-কাশাফ ৮. ফেরেশতারা আল্লাহর ভয়ে সর্বদা ভীত থাকে।
📄 জাহান্নাম ও নবীগণ
মাসআলা-২৩২: নবীগণের সর্বদার মুহাম্মদ আল্লাহর আযাবের ভয়ে ভীত সন্ত্রস্ত থাকতেন:
قُلْ إِنِّي أَخَافُ إِنْ عَصَيْتُ رَبِّي عَذَابَ يَوْمٍ عَظِيمٍ مَّنْ يُصْرَفْ عَنْهُ يَوْمَئِذٍ فَقَدْ رَحِمَهُ وَذَلِكَ الْفَوْزُ الْمُبِينُ
অর্থ: বল, 'যদি আমি আমার রবের অবাধ্য হই তবে নিশ্চয় আমি ভয় করি মহা দিবসের আযাবকে। সেদিন যার থেকে আযাব সরিয়ে নেয়া হবে তাকেই তিনি অনুগ্রহ করবেন, আর এটাই প্রকাশ্য সফলতা। (সূরা আনআম ৬:১৫-১৬)৯৮
মাসআলা-২৩৩ : জাহান্নামের ওপর দিয়ে অতিক্রম করার সময় সমস্ত নবীগণ বলতে থাকবে যে হে আল্লাহ আমাকে নিরাপত্তা দিন:
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ وَيُضْرَبُ الصِّرَاطُ بَيْنَ ظَهْرَيْ جَهَنَّمَ ، فَأَكُونُ أَنَا وَأُمَّتِي أَوَّلَ مَنْ يُجِيرُهَا، وَلَا يَتَكَلَّمُ يَوْمَئِذٍ إِلَّا الرُّسُلُ، وَدَعْوَى الرُّسُلِ يَوْمَئِذٍ : اللَّهُمَّ سَلِّمْ سَلِّمْ ، وَفِي جَهَنَّمَ كَلَالِيْبُ مِثْلُ شَوْكِ السَّعْدَانِ، هَلْ رَأَيْتُمِ السَّعْدَانَ؟ "، قَالُوا : نَعَمْ يَا رَسُولَ اللَّهِ، قَالَ : " فَإِنَّهَا مِثْلُ شَوْكِ السَّعْدَانِ، غَيْرَ أَنَّهُ لَا يَعْلَمُ مَا قَدْرُ عِظَمِهَا إِلَّا اللَّهُ، تَخْطَفُ النَّاسَ بِأَعْمَالِهِمْ ، فَمِنْهُمُ الْمُوبَقُ بَقِيَ بِعَمَلِهِ أَوِ الْمُوثَقُ بِعَمَلِهِ ، وَمِنْهُمُ الْمُخَرْدَلُ، أَوِ الْمُجَازَى، أَوْ نَحْوُهُ الْحَدِيثُ .
অর্থ: "আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি নবী থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: জাহান্নামের ওপর পুলসিরাত পাতা হবে, আমি এবং আমার উম্মতই সর্বপ্রথম তা অতিক্রম করব, সেদিন রাসূলগণ ব্যতীত আর কেউ কথা বলবে না, আর রাসূলগণও শুধু বলতে থাকবে "হে আল্লাহ! আমাকে নিরাপদে রাখ, হে আল্লাহ! আমাকে নিরাপদে রাখ।" আর জাহান্নামে সা'দানের কাঁটার মত হুক থাকবে, তোমরা কি সা'দান গাছের কাটা দেখেছ? সবাই বলল: হ্যাঁ। হে আল্লাহ রাসূল! সে হুকগুলো সা'দান বৃক্ষের কাঁটার ন্যায় হবে। তবে তার বিরাটত্ব সম্পর্কে এক মাত্র আল্লাহই ভাল জানেন। ঐ হুকগুলো লোকদেরকে তাদের আমল অনুযায়ী ছোবল দিবে। তাদের মধ্যে কিছু সংখ্যক থাকবে ঈমানদার, যারা তাদের নেক আমলের কারণে রক্ষা পেয়ে যাবে। আর কিছু সংখ্যক বদ-আমলের কারণে ধ্বংসপ্রাপ্ত হবে। কিছু সংখ্যককে টুকরো টুকরো করে দেয়া হবে, আর কিছু সংখ্যককে পুরস্কার দেয়া হবে। বা অনুরূপ কথা বলা হয়েছে।" (বুখারী)৯৯
মাসআলা-২৩৪: জাহান্নামের ভয়ানক আওয়াজ শুনে সমস্ত ফেরেশতা এবং নবীগণ এমনকি ইবরাহিম (আ) আল্লাহর নিকট নিরাপত্তার জন্য আবেদন করবে:
عَنْ عُبَيْدِ ابْنِ عُمَيْرٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ فِي قَوْلِهِ تَعَالَى سَمِعُوا لَهَا تَغَيْظًا وَ زَفِيرًا قَالَ أَن جَهَنَّمَ لَتَزْفَرُ زَفْرَةً لَا يَبْقَى مَلَكُ مُقَرَّبٌ وَلَا نَبِيَّ مُرْسَلٌ الا خُرّ لِوَجْهِهِ تَرْتَعِدُ فَرَائِضِهِ حَتَّى إِنَّ إِبْرَاهِيمَ عَلَيْهِ السَّلَامُ لِيَجْثُوا عَلَى رُكْبَتَيْهِ وَيَقُولُ رَبِّ لَا أَسْأَلُكَ الْيَوْمَ الْأَنْفُسِي
অর্থ: "ওবাইদ বিন উমাইর (রা) আল্লাহর বাণী "তারা শুনতে পারবে জাহান্নামের ক্রুদ্ধ গর্জন" তাফসীরে বলেছেন: যখন জাহান্নাম রাগে গর্জন করতে থাকবে, তখন সমস্ত নৈকট্য লাভকারী ফেরেশতা মর্যাদাবান নবীগণ, এমন কি ইবরাহিম (আ) হাটুর ওপর ভর করে বসে আল্লাহর নিকট আবেদন করতে থাকবে যে, হে আমার রব! আজ আমি তোমার নিকট একমাত্র আমার জীবনের নিরাপত্তা কামনা করি।" (ইবনে কাসীর)১০০
মাসআলা-২৩৫: তাহাজ্জুদ নামাযে রাসূল আযাব সম্পর্কে একটি আয়াত বারবার পাঠ করতে করতে রাত পার করে দিতেন:
عَنْ أَبَا ذَرَ قَالَ «قَامَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَتَّى أَصْبَحَ بِآيَةٍ يُرَدِّدُهَا وَالْآيَةُ: {إِنْ تُعَذِّبْهُمْ فَإِنَّهُمْ عِبَادُكَ وَإِنْ تَغْفِرْ لَهُمْ فَإِنَّكَ أَنْتَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ }
অর্থ: "আবু যার (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: এক রাতে রাসূল তাহাজ্জুদ পড়তেছিলেন এবং সকাল পর্যন্ত একটি আয়াতই তেলাওয়াত করেছেন। (আর তা হলো) "আপনি যদি তাদেরকে শাস্তি প্রদান করেন তবে, ওরাতো আপনার বান্দা, আর যদি তাদেরকে ক্ষমা করে দেন তবে আপনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।” (ইবনে মাজাহ)১০১
মাসআলা-২৩৬: রাসূল স্বীয় উম্মতের কিছু কিছু লোক জাহান্নামে যাওয়ায় কাঁদবেন:
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِي هِ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ تَلَا قَوْلَ اللَّهِ تَعَالَى فِي إِبْرَاهِيمَ : { رَبِّ إِنَّهُنَّ أَضْلَلْنَ كَثِيرًا مِنَ النَّاسِ فَمَنْ تَبِعَنِي فَإِنَّهُ مِنِّي وَمَنْ عَصَانِي فَإِنَّكَ غَفُورٌ رَّحِيمٌ وَقَالَ عِيسَى: {إِنْ تُعَذِّبْهُمْ فَإِنَّهُمْ عِبَادُكَ وَإِنْ تَغْفِرْ لَهُمْ فَإِنَّكَ أَنْتَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ} فَرَفَعَ يَدَيْهِ قَالَ: «اللَّهُمَّ أُمَّتِي أُمَّتِي وَبَكَى صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ يَا جِبْرِيلُ اذْهَبْ إِلَى مُحَمَّدٍ وَرَبُّكَ أَعْلَمُ ، فَاسْأَلُهُ مَا يُبْكِيْهِ فَأَتَاهُ جِبْرِيلُ فَسَأَلَهُ فَأَخْبَرَهُ وَهُوَ أَعْلَمُ ، فَقَالَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلٌ يَا جِبْرِيلُ اذْهَبْ إِلَى مُحَمَّدٍ فَقُلْ: إِنَّا سَنُرْ ضِيكَ فِي أُمَّتِكَ، وَلَا نَسُووْكَ
অর্থ: "আবদুল্লাহ বিন আমর বিন আস (রা) নবী থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি ঐ আয়াত পাঠ করলেন যেখানে ইবরাহিম (আ) বলছিলেন:হে আমার রব! এ মূর্তিসমূহ বহু লোককে পথভ্রষ্ট করেছে, অতএব যে আমার অনুকরণ করবে সে আমার দলভুক্ত, কিন্তু কেউ আমার অবাধ্য হলে আপনিতো ক্ষমাশীল পরম দয়ালু এবং ঈসা (আ) বলেছেন: আপনি যদি তাদেরকে শাস্তি প্রদান করেন তবে, ওরাতো আপনার বান্দা, আর যদি তাদেরকে ক্ষমা করে দেন তবে আপনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়। তখন তিনি হাত তুলে বলতে লাগলেন। হে আল্লাহ! আমার উম্মত আমার উম্মত এবং কাঁদতে লাগলেন, আল্লাহ বললেন: হে জিবরীল! তুমি মোহাম্মদের নিকট যাও, তোমার প্রভু তার সম্পর্কে অবগত আছে, অতএব তুমি তাকে জিজ্ঞেস কর, কেন তুমি কাঁদতেছ, তাঁর নিকট জিবরাঈল! এসে তাঁকে জিজ্ঞেস করল তখন তিনি তাকে (কারণ বললেন) এরপর সে আল্লাহর নিকট এসে বলল: (আর তিনি তা আগে থেকেই জানেন)। আল্লাহ বললেন: হে জিবরাঈল! তুমি মুহাম্মদের নিকট যাও এবং তাকে বল আল্লাহ তোমাকে তোমার উম্মতের ব্যাপারে সন্তুষ্ট করবেন অসন্তুষ্ট করবেন না।" (মুসলিম) ১০২
টিকাঃ
৯৮ কিতাবুত তাওহীদ, বাব কাওলিল্লাহি তাআলা ওয়া উজুহুই ইয়াওমা ইযিন নাযিরা ইলা রাব্বিহা নাযিরা।
৯৯ কিতাবুত তাওহীদ, বাব কাওলিল্লাহি তাআলা ওয়া উজুহুই ইয়াওমা ইযিন নাযিরা ইলা রাব্বিহা নাযিরা।
১০০ ইবনে কাসীর (৩/৪১৫)
১০১ কিতাব ইকামাতুস্ সালা, বাব মাযায়া ফিল কিরাআতি ফি সালাতিল্লাইল (১/১১১০)।
১০২ কিতাবুল ঈমান, বাব দুয়াবিন স্নাবী লি উম্মাতিহি ওয়া বুকায়িহি।
📄 জাহান্নাম ও সাহাবাগণ
মাসআলা-২৩৭: আয়েশা (রা) জাহান্নামের আগুনের কথা স্মরণ করে কাঁদতেন:
عَنْ عَائِشَةَ أَنَّهَا ذَكَرَتِ النَّارَ فَبَكَتْ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَا يُبْكِيكِ؟» قَالَتْ: ذَكَرْتُ النَّارَ فَبَكَيْتُ، فَهَلْ تَذْكُرُونَ أَهْلِيكُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ؟ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : " أَمَّا فِي ثَلَاثَةِ مَوَاطِنَ فَلَا يَذْكُرُ أَحَدٌ أَحَدًا: عِنْدَ الْمِيزَانِ حَتَّى يَعْلَمَ أَيَخِفُ مِيزَانُهُ أَوْ يَثْقُلُ، وَعِنْدَ الْكِتَابِ حِينَ يُقَالُ { هَاؤُمُ اقْرَءُوا كِتَابِيَهُ} حَتَّى يَعْلَمَ أَيْنَ يَقَعُ كِتَابُهُ أَفِي يَمِينِهِ أَمْ فِي شِمَالِهِ أَمْ مِنْ وَرَاءِ ظَهْرِهِ، وَعِنْدَ الصِّرَاطِ إِذَا وُضِعَ بَيْنَ ظَهْرَيْ جَهَنَّمَ "
অর্থ: "আয়েশা (রা) জাহান্নামের আগুনের কথা স্মরণ করে কাঁদতে লাগলেন, রাসূলুল্লাহ জিজ্ঞেস করলেন: কে তোমাকে কাঁদাল? সে বলল: আমি জাহান্নামের কথা স্মরণ করে কাঁদতেছি। আপনি কি কিয়ামতের দিন আপনার পরিবারের কথা স্মরণে রাখবেন? রাসূলুল্লাহ বললেন: তিনটি স্থানে কেউ কাউকে স্মরণে রাখতে পারবে না। মিযানের নিকট যতক্ষণ না জানতে পারবে যে, তার (নেকীর) পাল্লা ভারী হয়েছে না হালকা, আমলনামা পেশ করার সময়, যখন বলা হবে আস তোমার আমল নামা পাঠ কর। যতক্ষণ না জানতে পারবে যে, তার আমলনামা ডান হাতে দেয়া হচ্ছে না পিঠের পিছন দিক থেকে বাম হাতে। পুলসিরাতের ওপর দিয়ে অতিক্রম করার সময় যখন তা জাহান্নামের ওপর রাখা হবে।" (আবু দাউদ ৪/৪৭৫৫)১০৩
মাসআলা-২৩৮: আবদুল্লাহ বিন রাওয়াহা ও তার স্ত্রীর জাহান্নামের কথা স্মরণ করে কান্না:
عَنْ قَيْسِ بْنِ أَبِي حَازِمٍ " كَانَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ رَوَاحَةَ وَاضِعًا رَأْسَهُ فِي حِجْرِ امْرَأَتِهِ فَبَكَى فَبَكَتِ امْرَأَتُهُ، فَقَالَ: مَا يُبْكِيكِ؟ قَالَتْ: رَأَيْتُكَ تَبْكِي فَبَكَيْتُ، قَالَ: إِنِّي ذَكَرْتُ قَوْلَ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ: {وَإِنْ مِنْكُمْ إِلَّا وَارِدُهَا } فَلَا أَدْرِي أَنَنْجُو مِنْهَا أَمْ لَا
অর্থ: "কায়েস বিন হাযেম (রা) থেকে বর্ণিত, আবদুল্লাহ বিন রাওয়াহা (রা) স্বীয় স্ত্রীর কোলে মাথা রেখে হঠাৎ কাঁদতে লাগল, তার সাথে তার স্ত্রীও কাঁদতে লাগল। আবদুল্লাহ বিন রাওয়াহা জিজ্ঞেস করল, তুমি কেন কাঁদছ? স্ত্রী বলল: তোমাকে কাঁদতে দেখে আমারও কান্না চলে এসেছে। আবদুল্লাহ বিন রাওয়াহা বলল: আমার আল্লাহর এ বাণীটি স্মরণ হলো যে, তোমাদের মধ্যে কেউ এমন নেই যে জাহান্নামের ওপর দিয়ে অতিক্রম করবে না। আর আমার জানা নেই যে, জাহান্নামের ওপর স্থাপন করা পুলসিরাত অতিক্রম করার সময় আমি রক্ষা পাব কি পাব না।” (হাকেম ৪/৮৭৪৮)১০৪
মাসআলা-২৩৯ : জাহান্নামের কথা স্মরণ করে ওবাদা বিন সামেত (রা)-এর কান্না:
عَنْ زِيَادِ بْنِ أَبِي سَوْدَةَ هُ قَالَ : " كَانَ عُبَادَةُ بْنُ الصَّامِتِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ عَلَى سُورِ بَيْتِ الْمَقْدِسِ الشَّرْقِ يَبْكِي، فَقَالَ بَعْضُهُمْ : مَا يُبْكِيكَ يَا أَبَا الْوَلِيدِ؟ فَقَالَ: «مَنْ هَاهُنَا ، أَخْبَرَنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ رَأَى جَهَنَّمَ »
অর্থ: "যিয়াদ বিন আবু আসওয়াদ (রা) ওবাদা বিন সামেত (রা) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি একদা বাইতুল মাকদিসের পশ্চিম দেয়ালের পাশে কাঁদতে ছিলেন, কেউ কেউ তাকে জিজ্ঞেস করল হে আবু ওলীদ! কে তোমাকে কাঁদাল? সে বলল: ঐ স্থান যেখানে থেকে রাসূল আমাদেরকে বলেছিলেন যে, তিনি জাহান্নাম দেখেছেন।” (হাকেম ৪/৮৭৮৫)১০৫
মাসআলা-২৪০ : ওমর (রা)-এর আল্লাহর আযাবের ভয়:
عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَابِ ا يقول " لَوْ نَادَى مُنَادٍ مِنَ السَّمَاءِ : أَيُّهَا النَّاسُ، إِنَّكُمْ دَاخِلُونَ الْجَنَّةَ كُلُّكُمْ أَجْمَعُونَ إِلَّا رَجُلًا وَاحِدًا ، لَخِفْتُ أَنْ أَكُونَ هُوَ . وَلَوْ نَادَى مُنَادٍ : أَيُّهَا النَّاسُ إِنَّكُمْ دَاخِلُونَ النَّارَ إِلَّا رَجُلًا وَاحِدًا ، لَرَجَوْتُ أَنْ أَكُونَ هُوَ "
অর্থ: "ওমার বিন খাত্তাব (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: যদি আকাশ থেকে কোনো আহ্বানকারী আহ্বান করে যে, হে লোকেরা তোমরা সবাই জান্নাতে যাবে শুধু একজন ব্যতীত, তাহলে আমার ভয় হয় না জানি আমিই সে এক ব্যক্তি। যদি আকাশ থেকে কোনো আহ্বানকারী আহ্বান করে যে, হে লোকেরা! তোমরা সবাই জাহান্নামে যাবে শুধু একজন ব্যতীত তাহলে আমি আশংকা করি না জানি সে ব্যক্তি আমি।" (আবু নুয়াইম হুলিয়া)১০৬
মাসআলা-২৪১: আয়েশা (রা) জাহান্নামের গরম ও বিষাক্ত আবহাওয়ার কথা স্মরণ করে দীর্ঘক্ষণ পর্যন্ত কাঁদতে ছিলেন:
عَنْ عُرْوَةَ عَنْ أَبِيهِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَ كُنتَ إِذَا غَدَوْتُ أَبْدَأُ بَيْتَ عَائِشَة رَضِيَ اللهُ عَنْهَا فَغَدَوْتُ يَوْمًا فَإِذَا هِىَ قَائِمَةً تَقْرَاء فَمَنَّ اللَّهُ عَلَيْنَا وَوَقَانَا عَذَابَ السَّمُومِ وَتَدْعُو وَتَبْكِي وَتَرَدِّدُهَا فَقُمْتُ حَتَّى ملك الْقِيَامِ فَذَهَبْتُ إِلَى السُّوقِ لِحَاجَتِي ثُمَّ رَجَعْتُ فَإِذَا هِي قَائِمَةٌ كَمَا هِي تُصَلَّى وَ تَبْكِي.
অর্থ: "ওরওয়া (রা) তার পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: সকালে যখন আমি ঘর থেকে বের হতাম, তখন সর্বপ্রথম আয়েশা (রা)-এর ঘরে গিয়ে তাকে সালাম করতাম, একদিন আমি ঘর থেকে বের হলাম এবং সেখানে গিয়ে দেখলাম আয়শা (রা) নামাযে দাঁড়িয়ে কুরআন মাজীদের এ আয়াত "অতপর আল্লাহ আমাদের প্রতি দয়া করেছেন এবং আমাদেরকে জাহান্নামের শাস্তি থেকে রক্ষা করেছেন।” তেলাওয়াত করতেছিলেন, আয়েশা (রা) এ আয়াতটি বারবার পড়ছিলেন আর কাঁদতে ছিলেন, আমি অপেক্ষা করতে লাগলাম, এমনকি আমি ক্লান্ত হয়ে গেলাম এবং কিছু প্রয়োজনীয় কাজে আমি বাজারে চলে গেলাম, ফিরে এসে দেখি তখনো তিনি নামাযে দাঁড়িয়ে আছেন। আর ঐ আয়াতটি পড়ে পড়ে কাঁদতেছেন।" (সাফওয়াতুস সফওয়া)১০৭
মাসআলা-২৪২: ওমর (রা) আযাবের আয়াত তেলাওয়াত করে এত কাঁদলেন যে, তিনি অসুস্থ হয়ে গেলেন:
قَرَأَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ سُورَةَ الطُّورِ حَتَّى قُولُهُ تَعَالَى إِنَّ عَذَابَ رَبِّكَ لَوَاقِعَ فَبَكَى وَاشْتَدَّ بُكَاءَهُ حَتَّى مَرِضَ وَعَادُوهُ
অর্থ: "ওমার বিন খাত্তাব (রা) সূরা তৃর তেলাওয়াত করতেছিলেন যখন এ আয়াতে "নিশ্চয়ই তোমার রবের শান্তি আসবে" পৌছলেন তখন তিনি কাঁদতে লাগলেন এবং তাঁর কান্না বৃদ্ধি পেতে লাগল, এমন কি তিনি কাঁদতে কাঁদতে অসুস্থ হয়ে গেলেন এবং লোকেরা তাঁকে দেখতে আসতে লাগল। "১০৮
وَكَانَ فِي وَجْهِهِ خَطَّانِ أَسْوَدَانِ مِنَ الْبُكَاءِ
অর্থ: "ওমার বিন খাত্তাব (রা)-এর চেহারায় (অধিক পরিমাণে) কান্নার ফলে দু'টি কাল দাগ পড়ে গিয়েছিল।" (আযযুহদ লিল বাইহাকী)১০৯
মাসআলা-২৪৩: আবদুল্লাহ বিন মাসউদ (রা) কামারের দোকানে আগুন দেখে কাঁদতে লাগলেন:
قَالَ سَعْدُ بْنُ الْأَحْزَامِ رَحِمَهُ اللَّهُ كُنْتُ أَمْشِي مَعَ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُود رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ فَمَرَّ بِالْحَدَادِينَ وَقَدْ أَخْرَجُوا حَدِيدًا مِنَ النَّارِ فَقَامَ يَنظُرُ إِلَيْهِ وَيَبْكِي.
অর্থ: "সাআ'দ বিন আহযাম (রা) বলেন: আমি আবদুল্লাহ বিন মাসউদ (রা)-এর সাথে হাটতে ছিলাম, আমরা এক কামারের দোকানের পাশ দিয়ে অতিক্রম করছিলাম, তারা আগুন থেকে একটি লাল লোহা বের করল আবদুল্লাহ বিন মাসউদ (রা) তা দেখার জন্য দাঁড়ালেন এবং কাঁদতে লাগলেন। "১১০
মাসআলা-২৪৪: মুয়ায বিন জাবাল (রা) জাহান্নামের কথা স্মরণ করে অধিক পরিমাণে কাঁদতে লাগলেন:
بَكَى مُعَاذَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ بُكَاءً شَدِيدٌ فَقِيلَ لَهُ مَا يُبْكِيكَ؟ فَقَالَ لِأَنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ قَبَضَ قَبْضَتَيْنِ فَجَعَلَ وَاحِدَةً فِي الْجَنَّةِ وَالْأُخْرَى فِي النَّارِ فَأَنَا لا أَدْرِي مِنْ أَيِّ الْفَرِيقَيْنِ أَكُونُ
অর্থ: "মুয়ায বিন জাবাল (রা) খুব কান্নাকাটি করলেন, তাকে জিজ্ঞেস করা হলো আপনি কেন কাঁদতেছেন? মুয়ায (রা) বলল: আল্লাহ তাআলা তাঁর উভয় মুষ্টি সমস্ত সৃষ্টি দিয়ে ভরে তার এক মুষ্টি নিক্ষেপ করলেন জাহান্নামে, আর এক মুষ্টি জান্নাতে, আমি জানিনা যে, আমার স্থান কোথায় হবে।" নোট: উল্লেখ্য রাসূল বলেছেন: আল্লাহ তাআলা জান্নাত ও জাহান্নাম সৃষ্টি করেছেন এবং এ উভয়ের জন্যই ভিন্ন ভিন্ন লোকও তৈরী করেছেন।" (মুসলিম)
মাসআলা-২৪৫: আবদুল্লাহ বিন ওমার (রা)-এর জাহান্নামীদের পানি চাওয়ার কথা স্মরণ হলে কাঁদতে লাগলেন:
عَنْ سَيْرِ الرِّيَاحِي عَنْ أَبِيهِ قَالَ شَرْبٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ مَاءَ مُبْرِدًا فَبَكَى فَاشْتَدَّ بُكَاؤُهُ فَقِيلَ لَهُ مَا يُبْكِيكَ؟ قَالَ ذَكَرْتُ آيَةً فِي كِتَابِ اللهِ عَزَّ وَجَلَ وَحِيلَ بَيْنَهُمْ وَبَيْنَ مَا يَشْتَهُونَ فَعِرَفَتْ أَنْ أَهْلَ النَّارِ لَا يَشْتَهُونَ شَيْئًا شَهْوَتَهُمُ الْمَاءَ وَقَدْ قَالَ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ أَفِيضُوا عَلَيْنَا مِنَ الْمَاءِ أَوْمِمَّا رزقكم الله
অর্থ: "সামীর রিয়াহি তার পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আবদুল্লাহ বিন ওমার (রা) ঠাণ্ডা পানি পান করে কাঁদতে লাগলেন এবং যথেষ্ট পরিমাণে কাঁদলেন, তাকে জিজ্ঞেস করা হলো আপনি কেন এত কাঁদতেছেন? আবদুল্লাহ বিন ওমার (রা) বললেন: আমার কুরআন মাজীদের এ আয়াতটি স্মরণ হলো "তাদের ও তাদের কামনার মাঝে অন্তরাল করা হয়েছে" আর আমি জানি যে, জাহান্নামীরা ঐ সময়ে শুধু একটি জিনিসই চাইবে আর তা হলো পানি। কেননা আল্লাহ বলেছেন: জাহান্নামীরা জান্নাতীদের নিকট আবেদন করবে যে, সামান্য পানি আমাদেরকে ঢেলে দাও, বা তোমাদেরকে আল্লাহ যে রিযিক দিয়েছে তা থেকে আমাদেরকে কিছু দাও।"১১১
মাসআলা-২৪৬: সাঈদ বিন যোবইর (রা) জাহান্নামের স্মরণে কখনো হাসতেন না:
سُئِلَ الْحَجَّاجُ سَعِيدُ بْنُ جَيْرٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ مُتَعَجِبًا بَلَغَنِي أَنَّكَ لَمْ تَضْحَكُ قَط قَالَ لَهُ كَيْفَ أَضْحَكَ وَجَهَنَّمُ قَدْ سَعِيرَتْ وَلَا غُلَالٌ قَدْ نصيف والزبانية قَدْ أُعِدَّتْ (صفوة الصَّفْوَةِ)
অর্থ: "হাজ্জাজ সাঈদ বিন যুবাইর (রা)-কে আশ্চর্য হয়ে জিজ্ঞেস করল, আমি শুনেছি যে তুমি নাকি কখনো হাসনা! যুবাইর (রা) বললেন: আমি কি করে হাসব অথচ জাহান্নামকে উদ্দীপিত করা হয়েছে, লোহার বেড়ী প্রস্তুত করা হয়েছে, জাহান্নামের ফেরেশতারা প্রস্তুত হয়ে আছে।" (সাফওয়াতুস সাফওয়া) ১১২
মাসআলা-২৪৭: কোনো মু'মিন পুলসিরাত পার হওয়ার আগে নির্ভয় হতে পারবে না:
قَالَ مُعَاذُ بْنُ جَبَلٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ إِنَّ الْمُؤْمِنَ لَا يَسْكُنُ رُوعُهُ يَتْرُكُ جَسَرَ جَهَنَّمَ وَرَاعَةَ (الْفَوَائِدُ)
অর্থ: "মুয়াজ বিন জাবাল (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: মু'মিন ব্যক্তি পুলসিরাত অতিক্রম করার পূর্ব পর্যন্ত নির্ভয় হতে পারবে না।" (আল ফাওয়ায়েদ) ১১৩
টিকাঃ
১০৩ কিতাবুসুন্না বাবুল মিযান।
১০৪ কিতাবুল আহওয়াল। হাদীস ৭৩।
১০৫ কিতাবুল আহওয়াল। হাদীস নং-১১০।
১০৬ আল্লাহুম্মা সাল্লিম, হাদীস নং-২০।
১০৭ ২/২২৯
১০৮ আল জাওয়াব আল কাফী, ৭৭।
১০৯ ৬৭৮
১১০ হুলইয়াতুল আউলিয়া-২/১৩৩।
১১১ যাররুল ফায়েয, হাদীস নং-২১।
১১২ হুলইয়াতুল আওলিয়া (২/৩৩৩)।
১১৩ ৩/৩৩৩