📄 জাহান্নামের সুসংবাদ প্রাপ্তরা
মাসআলা-১৬৮: আমর বিন লুহাই জাহান্নামী:
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ اللهِ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «رَأَيْتُ عَمْرَو بْنَ لُحَيِّ بْنِ قَبْعَةَ بْنِ خِنْدِفَ أَبَا بَنِي كَعْبٍ هَؤُلَاءِ ، يَجُرُّ قُصْبَهُ فِي النَّارِ»
অর্থ: "আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ বলেছেন: আমি আমর বিন লুহাই বিন কাময়া বিন খান্দাফ আবু বানি কা'বকে দেখেছি যে, সে জাহান্নামে স্বীয় নাড়িভূড়ি টেনে নিয়ে চলছে।" (মুসলিম ৪/২৮৫৬)৫৬
মাসআলা-১৬৯: সায়েবা নামক মূর্তির তৈরীকারী আমর বিন আমের খুজায়ী জাহান্নামী হবে:
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ﷺ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «رَأَيْتُ عَمْرَو بْنَ عَمِارِ الْخُزَاعِيَّ يَجُرُّ قُصْبَهُ فِي النَّارِ ، وَكَانَ أَوَّلَ مَنْ سَيِّبَ السُّيُوابَ»
অর্থ: "আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ স) বলেছেন: আমি আমর বিন আম্মার আল খুযায়ীকে দেখেছি যে সে জাহান্নামে স্বীয় নাড়ীভূড়ি টেনে নিয়ে চলছে, সে ছিল ঐ ব্যক্তি যে, সর্বপ্রথম সায়েবা মূর্তি তৈরী করেছিল।" (মুসলিম ৪/২৮৫৬)৫৭
মাসআলা-১৭০: গণীমতের মাল থেকে চাদর চুরি করার কারণে কারকারা নামক এক ব্যক্তি জাহান্নামী হবে:
নোট: এ সংক্রান্ত হাদীসটি ২৯৫ নং মাসআলা দ্রষ্টব্য।
মাসআলা-১৭১: বদরের যুদ্ধে নিহত ১৪ জন কুরাইশ নেতা জাহান্নামী হবে:
عَنْ أَبِي طَلْحَةَ هِ أَنَّ نَبِيَّ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَمَرَّ يَوْمَ بَدْرٍ بِأَرْبَعَةٍ وَعِشْرِينَ رَجُلًا مِنْ صَنَادِيدِ قُرَيْشٍ، فَقُذِفُوا فِي طَوِي مِنْ أَطْوَاءِ بَدْرٍ خَبِيْثٍ مُخْبِثٍ، فقام شَفَةِ الرَّكِيِّ، فَجَعَلَ يُنَادِيهِمْ بِأَسْمَائِهِمْ وَأَسْمَاءِ آبَائِهِمْ : «يَا فُلانُ بْنَ فُلانٍ، وَيَا فُلانُ بْنَ فُلانٍ ، أَيَسُرُّكُمْ أَنَّكُمْ أَطَعْتُمُ اللَّهَ وَرَسُولَهُ، فَإِنَّا قَدْ وَجَدْنَا مَا وَعَدَنَا رَبُّنَا حَقًّا، فَهَلْ وَجَدْتُمْ مَا وَعَدَ رَبُّكُمْ حَقًّا؟»
অর্থ: "আবু তালহা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: বদরের যুদ্ধের দিন নবী কুরাইশদের ২৪ জন নেতাকে বদরের কুয়াসমূহের মধ্যে একটি দুর্গন্ধময় কুয়ায় নিক্ষেপ করার জন্য নির্দেশ দিলেন, তাদেরকে সেখানে নিক্ষেপ করার পর তিনি কুয়ার পাশে দাঁড়িয়ে সমস্ত সরদারদেরকে তাদের পিতার নামসহ ডাকলেন, হে অমুকের ছেলে অমুক, হে অমুকের ছেলে অমুক! তোমাদের কি একথা পছন্দ লাগছে যে, তোমরা আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলের আনুগত্য কর নি? আমাদের সাথে আমাদের রব যে অঙ্গিকার করেছিল তা আমরা সত্য পেয়েছি, তোমাদের সাথে তোমাদের রব যে ওয়াদা করেছিল তা কি তোমরা সত্য পেয়েছ।" (বুখারী ৫/৩৯৭৬)৫৮
মাসআলা-১৭২: আবু সামামা আমর বিন মালেক জাহান্নামী: নোট: এ সংক্রান্ত হাদীসটি ১নং মাসআলায় দ্রষ্টব্য।
মাসআলা-১৭৩: খন্দকের যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী কাফির ও মুশরিকরা জাহান্নামী হবে:
عَنْ عَلِي رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، قَالَ: لَمَّا كَانَ يَوْمُ الْأَحْزَابِ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَلَأُ اللهُ بُيُوتَهُمْ وَقُبُورَهُمْ نَارًا، شَغَلُونَا عَنِ الصَّلَاةِ الْوُسْطَى حَتَّى غَابَتِ الشَّمْسُ»
অর্থ: "আলী (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: খন্দকের যুদ্ধের দিন রাসূলুল্লাহ বলেছেন: আল্লাহ তাদের ঘর ও কবর সমূহকে আগুন দিয়ে ভরে দিন তারা আমাদেরকে মধ্যবর্তী নামায (আসরের) আদায় করা থেকে বিরত রেখেছে, এমনকি সূর্য ডুবে গেছে।" (বুখারী ৪/২৯৩১)৫৯
টিকাঃ
৫৬ প্রাগুক্ত।
৫৭ প্রাগুক্ত।
৫৮ কিতাবুল জিহাদ বাব দুয়া আলাল মুশরিকীন।
৫৯ প্রাগুক্ত।
📄 চিরস্থায়ী জাহান্নামী
মাসআলা-১৭৪: মুশরিক জাহান্নামী হবে:
إِنَّ الَّذِينَ كَفَرُوا مِنْ أَهْلِ الْكِتَابِ وَالْمُشْرِكِينَ فِي نَارِ جَهَنَّمَ خَالِدِينَ فِيهَا أُوْلَئِكَ هُمْ شَرُّ الْبَرِيَّةِ
অর্থ: "নিশ্চয় কিতাবীদের মাধ্যে যারা কুফরী করেছে ও মুশরিকরা, জাহান্নামের আগুনে থাকবে স্থায়ীভাবে। ওরাই হলো নিকৃষ্ট সৃষ্টি। (সূরা বাইয়্যিনাহ ৯৮:৬)
মাসআলা-১৭৫: কাফির জাহান্নামী হবে:
وَالَّذِينَ كَفَرُوا وَكَذَّبُوا بِآيَاتِنَا أُولَئِكَ أَصْحَابُ النَّارِ هُمْ فِيهَا خَالِدُونَ
অর্থ: " আর যারা কুফরী করেছে এবং আমার আয়াতসমূহকে অস্বীকার করেছে, তারাই আগুনের অধিবাসী। তারা সেখানে স্থায়ী হবে। (সূরা বাক্বারা ২:৩৯)
মাসআলা-১৭৬: মুরতাদ জাহান্নামী হবে:
وَمَنْ يَرْتَدِدْ مِنْكُمْ عَنْ دِينِهِ فَيَمُتْ وَهُوَ كَافِرٌ فَأُوْلَئِكَ حَبِطَتْ أَعْمَالُهُمْ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ وَأُوْلَئِكَ أَصْحَابُ النَّارِ هُمْ فِيهَا خَالِدُونَ
অর্থ: আর যে তোমাদের মধ্য থেকে তাঁর দ্বীন থেকে ফিরে যাবে, অতঃপর কাফির অবস্থায় মৃত্যুবরণ করবে, বস্তুত এদের আমলসমূহ দুনিয়া ও আখিরাতে বিনষ্ট হয়ে যাবে এবং তারাই আগুনের অধিবাসী। তারা সেখানে স্থায়ী হবে। (সূরা বাক্বারা ২:২১৭)
মাসআলা-১৭৭: মুনাফিক জাহান্নামী হবে:
وَعَدَ اللهِ الْمُنَافِقِينَ وَالْمُنَافِقَاتِ وَالْكُفَّارَ نَارَ جَهَنَّمَ خَالِدِينَ فِيهَا هِيَ حَسْبُهُمْ وَلَعَنَهُمُ اللهُ وَلَهُمْ عَذَابٌ مُقِيمٌ
অর্থ: আল্লাহ মুনাফিক পুরুষ, মুনাফিক নারী ও কাফিরদেরকে জাহান্নামের আগুনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তাতে তারা চিরদিন থাকবে, এটি তাদের জন্য যথেষ্ট। আর আল্লাহ তাদের লা'নত করেন এবং তাদের জন্য রয়েছে স্থায়ী আযাব। (সূরা তাওবা ৯:৬৮)
মাসআলা-১৭৮: আহলে কিতাব সহ অন্যান্য অমুসলিমদের মধ্য থেকে যারা মুহাম্মদ -এর প্রতি ঈমান আনবে না তারাও জাহান্নামী হবে:
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ هِ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ قَالَ: «وَالَّذِي نَفْسُ مُحَمَّدٍ بِيَدِهِ، لَا يَسْمَعُ بِي أَحَدٌ مِنْ هَذِهِ الْأُمَّةِ يَهُودِيُّ، وَلَا نَصْرَانِي ثُمَّ يَمُوتُ وَلَمْ يُؤْمِنْ بِالَّذِي أُرْسِلْتُ بِهِ، إِلَّا كَانَ مِنْ أَصْحَابِ النَّارِ»
অর্থ: "আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি রাসূলুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: ঐ সত্তার কসম! যার হাতে মুহাম্মদ -এর প্রাণ! ঐ উম্মতের মধ্যে যে ব্যক্তি আমার কথা শুনবে, চাই সে ইহুদী হোক আর নাসারা, সে আমি যা নিয়ে প্রেরিত হয়েছি তার প্রতি ঈমান না এনে মৃত্যুবরণ করল জাহান্নামীদের অন্তর্ভুক্ত হবে।" (মুসলিম)
টিকাঃ
৬০. কিতবুল ঈমান, ব্যাব ওজুবিল ঈমান বি রিসালাতি নাবিয়ি্যনা (স) ইলা জামিয়িন্নাস।
📄 ক্ষণস্থায়ী জাহান্নামী
মাসআলা-১৭৯: যে ব্যক্তি যাকাত আদায় করেনি সে জাহান্নামী হবে:
وَالَّذِينَ يَكْنِزُونَ الذَّهَبَ وَالْفِضَّةَ وَلا يُنفِقُونَهَا فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَبَشِّرْهُمْ بِعَذَابٍ أَلِيمٍ يَوْمَ يُحْمَى عَلَيْهَا فِي نَارِ جَهَنَّمَ فَتُكْوَى بِهَا جِبَاهُهُمْ وَجُنُوبُهُمْ وَظُهُورُهُمْ هَذَا مَا كَنَزْتُمْ لِأَنْفُسِكُمْ فَذُوقُوا مَا كُنتُمْ تَكْنِزُونَ
অর্থ: যারা সোনা ও রূপা পুঞ্জীভূত করে রাখে, আর তা আল্লাহর রাস্তায় খরচ করে না, তুমি তাদের বেদনাদায়ক আযাবের সুসংবাদ দাও। যেদিন জাহান্নামের আগুনে তা গরম করা হবে, অতঃপর তা দ্বারা তাদের কপালে, পার্শ্বে এবং পিঠে সেঁক দেয়া হবে। (আর বলা হবে) 'এটা তা-ই যা তোমরা নিজদের জন্য জমা করে রেখেছিলে, সুতরাং তোমরা যা জমা করেছিলে তার স্বাদ উপভোগ কর'। (সূরা তাওবা ৯:৩৪-৩৫)
মাসআলা-১৮০: জেনে শুনে কোনো মু'মিনকে হত্যাকারী দীর্ঘসময় পর্যন্ত জাহান্নামে থাকবে:
وَمَنْ يَقْتُلْ مُؤْمِناً مُتَعَمِّداً فَجَزَاؤُهُ جَهَنَّمُ خَالِداً فِيهَا وَغَضِبَ اللَّهُ عَلَيْهِ وَلَعَنَهُ وَأَعَدَّ لَهُ عَذَاباً عَظِيماً
অর্থ: আর যে ইচ্ছাকৃত কোনো মু'মিনকে হত্যা করবে, তার প্রতিদান হচ্ছে জাহান্নাম, সেখানে সে স্থায়ী হবে। আর আল্লাহ তার উপর ক্রুদ্ধ হবেন, তাকে লা'নত করবেন এবং তার জন্য বিশাল আযাব প্রস্তুত করে রাখবেন। (সূরা নিসা ৪:৯৩)
عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِي وَأَبِي هُرَيْرَةَ اللهِ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ «لَوْ أَنَّ أَهْلَ السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ اشْتَرَكُوا فِي دَمِ مُؤْمِنٍ لَأَكَبَّهُمُ اللهُ فِي النَّارِ»
অর্থ: "আবু সাঈদ ও আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত, তারা বলেন: রাসূলুল্লাহ বলেছেন: যদি আকাশ ও জমিনে বসবাসকারী সমস্ত সৃষ্টি একজন মু'মিন ব্যক্তিকে হত্যায় শামিল হয়, তাহলে আল্লাহ তাদের সকলকে উপুড় করে টেনে নিয়ে জাহান্নামে নিক্ষেপ করবেন।" (তিরমিযী ৪/১৩৯৮)
মাসআলা-১৮১: কাফিরদের সাথে যুদ্ধ চলাকালে সেনাদল থেকে পলায়নকারী জাহান্নামী হবে:
وَمَنْ يُوَلِّهِمْ يَوْمَئِذٍ دُبُرَهُ إِلَّا مُتَحَرِّفاً لِقِتَالٍ أَوْ مُتَحَيِّزاً إِلَى فِئَةٍ فَقَدْ بَاءَ بِغَضَبٍ مِّنَ اللَّهِ وَمَأْوَاهُ جَهَنَّمُ وَبِئْسَ الْمَصِيرُ
অর্থ: আর যে ব্যক্তি সেদিন তাদেরকে পৃষ্ঠ প্রদর্শন করবে তাহলে সে আল্লাহর গযব নিয়ে ফিরে আসবে। তবে যুদ্ধের জন্য (কৌশলগত) দিক পরিবর্তন অথবা নিজ দলে আশ্রয় গ্রহণের জন্য হলে ভিন্ন কথা এবং তার আবাস জাহান্নাম। আর সেটি কতইনা নিকৃষ্ট প্রত্যাবর্তনস্থল। (সূরা আনফাল ৮:১৬)
মাসআলা-১৮২: ইয়াতীমের সম্পদ অন্যায়ভাবে ভক্ষণকারী জাহান্নামী হবে:
إِنَّ الَّذِينَ يَأْكُلُونَ أَمْوَالَ الْيَتَامَى ظُلْماً إِنَّمَا يَأْكُلُونَ فِي بُطُونِهِمْ نَاراً وَسَيَصْلَوْنَ سَعِيراً
অর্থ: "নিশ্চয় যারা ইয়াতীমদের ধন-সম্পদ অন্যায়ভাবে ভক্ষণ করে তারা তো তাদের পেটে আগুন খাচ্ছে; আর অচিরেই তারা প্রজ্জ্বলিত আগুনে প্রবেশ করবে। (সূরা নিসা ৪:১০)
মাসআলা-১৮৩: যারা সাসতী সরলমনা নারীদের প্রতি অপবাদ দেয় তারা জাহান্নামী হবে:
إِنَّ الَّذِينَ يَرْمُونَ الْمُحْصَنَاتِ الْغَافِلَاتِ الْمُؤْمِنَاتِ لُعِنُوا فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ وَلَهُمْ عَذَابٌ عَظِيمٌ
অর্থ: যারা সতী-সাধ্বী, নিরীহ ঈমানদার নারীদের প্রতি অপবাদ আরোপ করে, তারা ইহকালে ও পরকালে ধিকৃত এবং তাদের জন্যে রয়েছে গুরুতর শাস্তি। (সূরা নূর ২৪:২৩)
মাসআলা-১৮৪: ফাসিক, ফাজির ও অসৎ লোকেরা জাহান্নামী হবে:
وَإِنَّ الْفُجَّارَ لَفِي جَحِيمٍ يَصْلَوْنَهَا يَوْمَ الدِّينِ وَمَا هُمَ عَنْهَا بِغَائِبِينَ
অর্থ: "এবং দুষ্কর্মকারীরা থাকবে জাহান্নামে, তারা কর্মফল দিবসে তাতে প্রবিষ্ট হবে; তারা তা থেকে অন্তর্নিহিত হতে পারবে না"। (সূরা ইনফিতার: ১৪-১৬)
মাসআলা-১৮৫: নামায ত্যাগকারী জাহান্নামী হবে:
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، عَنْ النبي عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ ذَكَرَ الصَّلَاةَ يَوْمًا، فَقَالَ: «مَنْ حَافَظَ عَلَيْهَا كَانَتْ لَهُ نُورًا وَبُرْهَانَّا وَنَجَاةً يَوْمَ الْقِيَامَةِ، وَمَنْ لَمْ يُحَافِظُ عَلَيْهَا لَمْ يَكُنْ لَهُ نُورًا وَلَا بُرْهَانَّا وَلَا نَجَاةً وَيَأْتِي يَوْمَ الْقِيَامَةِ مَعَ قَارُونَ وَفِرْعَوْنَ وَهَامَانَ وَأَبِي بْنِ خَلَفٍ»
অর্থ: "আবদুল্লাহ বিন আমর বিন আস (রা) নবী থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি একদিন নামায সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে বলেছেন, যে ব্যক্তি যথাযথভাবে নামায আদায় করে, কিয়ামতের দিন তা তার জন্য নূর, দলীল ও মুক্তির ওসিলা হবে। আর যে ব্যক্তি যথাযথভাবে নামায আদায় করবে না, কিয়ামতের দিন তার জন্য কোনো নূর, দলীল ও মুক্তির মাধ্যম থাকবে না। কিয়ামতের দিন সে কারুন, ফেরাউন, হামান ও উবাই বিন খালফের সাথে থাকবে।" (ইবনে হিব্বান)
মাসআলা-১৮৬: যে ব্যক্তি রোযা পালন করবে না সে জাহান্নামী হবে: নোট: এ সংক্রান্ত হাদীসটি ১৬৯ নং হাদীস দ্রষ্টব্য।
মাসআলা-১৮৭: যে ব্যক্তি সমর্থ থাকা সত্ত্বেও হজ্ব পালন করবে না সে জাহান্নামী হবে:
عَنْ عُمَرَ بْنُ الْخَطَّابِ اللهُ قَالَ لَقَدْ هَمَمْتُ أَنْ أَبْعَثَ رَجُلًا إِلَى هَذِهِ الْأَمْصَارِ ، فَلْيَنْظُرُوا كُلَّ مَنْ كَالَ لَهُ رَجُلٍ جَدَةٍ وَلَمْ يَحُجَّ لَيَضْرِبُوا عَلَيْهِمُ الْجِزْيَةَ، مَا هُمْ بِمُسْلِمِينَ مَا هُمْ بِمُسْلِمِينَ مَا هُمْ بِمُسْلِمِينَ»
অর্থ: "ওমর বিন খাত্তাব (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমার ইচ্ছা হয় যে, কিছু লোককে শহরসমূহে প্রেরণ করি, তারা গিয়ে দেখুক যে, যাদের হজ্ব করার সামর্থ আছে অথচ তারা হজ্ব করতেছে না তাদের ওপর কর ধার্য করুক। তারা মুসলমান নয়, তারা মুসলমান নয়, তারা মুসলমান নয়।" (সাঈদ তার সুনান গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন)।
মাসআলা-১৮৮: লোক দেখানো আমলকারী জাহান্নামী হবে:
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ هُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ " إِنَّ أَوَّلَ النَّاسِ يُقْضَى يَوْمَ الْقِيَامَةِ عَلَيْهِ رَجُلٌ اسْتُشْهِدَ، فَأُتِيَ بِهِ فَعَرَّفَهُ نِعَمَهُ فَعَرَفَهَا، فَقَالَ : مَا عَمِلْتَ فِيهَا؟ قَالَ: قَاتَلْتُ فِيكَ حَتَّى اسْتُشْهِدْتُ، قَالَ: كَذَبْتَ، وَلَكِنَّكَ قَاتَلْتَ لِأَنْ يُقَالَ: جَرِيءٌ ، فَقَدْ قِيلَ ثُمَّ أُمِرَ بِهِ فَسُحِبَ عَلَى وَجْهِهِ حَتَّى أُلْقِيَ فِي النَّارِ، وَرَجُلٌ تَعَلَّمَ الْعِلْمَ ، وَعَلَّمَهُ وَقَرَأُ الْقُرْآنَ. فَأْتِي بِهِ فَعَرَّفَهُ نِعَمَهُ فَعَرَفَهَا ، قَالَ: فَمَا عَمِلْتَ فِيهَا؟ قَالَ: تَعَلَّمْتُ الْعِلْمَ وَعَلَّمْتُهُ وَقَرَأْتُ فِيكَ الْقُرْآنَ، قَالَ: كَذَبْتَ ، وَلَكِنَّكَ تَعَلَّمْتَ الْعِلْمَ لِيُقَالَ: أَنكَ عَالِمٌ ، وَقَرَأْتُ الْقُرْآنَ لِيُقَالَ: هُوَ قَارِيٌّ، فَقَدْ قِيلَ، ثُمَّ أُمِرَ بِهِ فَسُحِبَ عَلَى وَجْهِهِ حَتَّى أُلْقِيَ فِي النَّارِ، وَرَجُلٌ وَشَعَ اللَّهُ عَلَيْهِ، وَأَعْطَاهُ مِنْ أَصْنَافِ الْمَالِ كُلِّهِ، فَأُتِيَ بِهِ فَعَرَّفَهُ نِعَمَهُ فَعَرَفَهَا، قَالَ: فَمَا عَمِلْتَ فِيهَا؟ قَالَ: مَا تَرَكْتُ مِنْ سَبِيلٍ تُحِبُّ أَنْ يُنْفَقَ فِيهَا إِلَّا أَنْفَقْتُ فِيهَا لَكَ، قَالَ: كَذَبْتَ، وَلَكِنَّكَ فَعَلْتَ لِيُقَالَ: هُوَ جَوَادٌ، فَقَدْ قِيلَ ثُمَّ أُمِرَ بِهِ عَلَى وَجْهِهِ، ثُمَّ أُلْقِيَ فِي النَّارِ " أَمِرَ بِهِ فَسُحِبَ
অর্থ: "আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ বলেছেন: কিয়ামতের দিন সর্বপ্রথম যে ব্যক্তির ফায়সালা করা হবে, সে হবে ঐ ব্যক্তি যে, আল্লাহর পথে শাহাদাতবরণ করেছে, আল্লাহ তার সামনে তাকে দেয়া নিআমতসমূহের কথা স্মরণ করাবেন আর সে তা স্বীকার করবে, তখন আল্লাহ তাকে জিজ্ঞেস করবেন যে, এ নিআমতসমূহের হক আদায় করার জন্য তুমি কি করেছ? সে বলবে আমি তোমার পথে যুদ্ধ করেছি, এমনকি এপথে আমি শাহাদাত বরণ করেছি। তখন আল্লাহ বলবেন: তুমি মিথ্যা বলছ, তোমাকে লোকেরা বাহাদুর বলবে এজন্য তুমি যুদ্ধ করেছিলে, আর তোমাকে পৃথিবীতে লোকেরা বাহাদুর বলেছেও। অতপর ফেরেশতাদেরকে নির্দেশ দেয়া হবে, তখন তাকে উপুড় করে টেনে নিয়ে গিয়ে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। এরপর ঐ ব্যক্তিকে উপস্থিত করা হবে, যে নিজে জ্ঞান অর্জন করেছে এবং অপরকেও শিক্ষা দিয়েছে, কুরআন শিখেছে। আল্লাহ তাকে দেয়া নিআমত সমূহের কথা স্মরণ করাবেন, তখন সে তা স্মরণ করবে, তখন আল্লাহ তাকে জিজ্ঞেস করবেন যে, এ নেআমতসমূহের কৃতজ্ঞতা প্রকাশের জন্য তুমি কি করেছ। সে বলবে হে আল্লাহ! আমি জ্ঞান অর্জন করেছি, লোকদেরকে তা শিখিয়েছি এবং তোমার সন্তুষ্টি লাভের জন্য লোকদেরকে কুরআন তেলাওয়াত করে শুনিয়েছি। আল্লাহ বলবেন: তুমি মিথ্যা বলছ, তুমি এজন্য জ্ঞান অর্জন করেছ যেন লোকেরা তোমাকে জ্ঞানী বলে। আর এজন্য কুরআন তেলাওয়াত করে শুনিয়েছ যেন লোকেরা তোমাকে ক্বারী বলে। তাই পৃথিবীতে লোকেরা তোমাকে আলেম ও ক্বারী বলেছে। অতপর ফেরেশতাদেরকে নির্দেশ দেয়া হবে তখন তারা তাকে উপুড় করে টেনে নিয়ে গিয়ে জাহান্নামে নিক্ষেপ করবে। এরপর তৃতীয় ব্যক্তিকে উপস্থিত করা হবে যাকে পৃথিবীতে স্বচ্ছলতা এবং সর্বপ্রকার সম্পদ দান করা হয়েছিল। আল্লাহ তাকে দেয়া নিআমতসমূহের কথা তাকে স্মরণ করাবেন তখন সে তা স্মরণ করবে, আল্লাহ তাকে জিজ্ঞেস করবেন যে, এ নিআমতসমূহের কৃতজ্ঞতা প্রকাশের জন্য তুমি কি করেছ। সে বলবে হে আল্লাহ! আমি ঐ সমস্ত রাস্তায় সম্পদ ব্যয় করেছি, যেখানে ব্যয় করা তোমার পছন্দ। আল্লাহ বলবেন: তুমি মিথ্যা বলছ, তুমি এজন্য সম্পদ ব্যয় করেছ যেন লোকেরা তোমাকে দানবীর বলে। আর পৃথিবীতে লোকেরা তোমাকে দানবীর বলেছেও। অতঃপর ফেরেশতাদেরকে নির্দেশ দেয়া হবে তখন তাকে তারা উপুড় করে টেনে নিয়ে গিয়ে জাহান্নামে নিক্ষেপ করবে।" (মুসলিম ৩/১৯০৫)
মাসআলা-১৮৯: নবী -এর নামে মিথ্যা অপবাদ দাতা জাহান্নামে যাবে:
عَنْ سَلَمَةَ قَالَتْ : سَمِعْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «مَنْ يَقُلْ عَلَيَّ مَا لَمْ أَقُلْ فَلْيَتَبَوَّأُ مَقْعَدَهُ مِنَ النَّارِ»
অর্থ: "উম্মে সালামা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি নবী -কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন: যে ব্যক্তি আমার ব্যাপারে এমন কথা বলে যা আমি বলি নি সে যেন তার ঠিকানা জাহান্নামে ঠিক করে নেয়।" (বুখারী ১/১০৯)
মাসআলা-১৯০: অহংকারকারী জাহান্নামী হবে:
عَنْ أَبِي سَعِيدِ الْخُدْرِي وَأَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ قَالَا قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْعِزَّةُ إِزَارَةً وَالْكِبْرِيَاءُ رِدَاءَهُ فَمَنْ يُنَازِعُنِى عَذَّبْتُهُ
অর্থ: "আবু সাঈদ খুদরী ও আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত, তারা বলেন: রাসূলুল্লাহ বলেছেন: ইজ্জত আমার লুঙ্গি আর অহংকার আমার চাদর, যে ব্যক্তি তা আমার কাছ থেকে ছিনিয়ে নিতে চায় আমি তাকে শাস্তি দিব।" (মুসলিম)
মাসআলা-১৯১: সুদখোর জাহান্নামী হবে:
মাসআলা-১৯২: জিনাকার নারী পুরুষ জাহান্নামী হবে: নোট: এ সংক্রান্ত হাদীসটি ১৭৩/১৭৪ নং হাদীস দ্রষ্টব্য।
মাসআলা-১৯৩: মদ পানকারী জাহান্নামী হবে: নোট: এ সংক্রান্ত হাদীসটি ৯০ নং হাদীস দ্রষ্টব্য।
মাসআলা-১৯৪: আত্ম হত্যাকারী জাহান্নামী হবে: নোট: এ সংক্রান্ত হাদীসটি ১৭৮ নং হাদীস দ্রষ্টব্য।
মাসআলা-১৯৫: ছবি তৈরীকারী জাহান্নামী হবে:
عَبْدَ اللَّهِ بْن مَسْعُودٍ (রাঃ) قَالَ: سَمِعْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «إِنَّ أَشَدَّ النَّاسِ عَذَابًا عِنْدَ اللَّهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ المُصَوِّرُونَ»
অর্থ: "আবদুল্লাহ বিন মাসউদ (রা) নবী থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: ছবি তৈরী কারী আল্লাহর নিকট সর্বাধিক আযাব ভোগ করবে।" (বুখারী ৭/৫৯৫২)
মাসআলা-১৯৬: পৃথিবীর সম্মান, সম্পদ ও গৌরব লাভের আশায় জ্ঞান অর্জনকারী জাহান্নামী হবে:
عَنْ كَعْبِ بْنِ مَالِكٍ (রাঃ) قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «مَنْ طَلَبَ الْعِلْمَ لِيُجَارِيَ بِهِ الْعُلَمَاءَ أَوْ لِيُمَارِيَ بِهِ السُّفَهَاءَ أَوْ يَصْرِفَ بِهِ وُجُوهَ النَّاسِ إِلَيْهِ أَدْخَلَهُ اللَّهُ النَّارَ»
অর্থ: "কা'ব বিন মালেক (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি নবী-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন: যে ব্যক্তি আলেমদের সাথে ফখর করার উদ্দেশ্যে জ্ঞান অর্জন করে, বা অজ্ঞ লোকদের সাথে ঝগড়া করা ও মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্য জ্ঞান অর্জন করে, তাকে আল্লাহ জাহান্নামে প্রবেশ করাবেন।" (তিরমিযী ৫/২৬৫৪)
মাসআলা-১৯৭: বাইতুলমালে অন্যায়ভাবে হস্তক্ষেপকারী জাহান্নামী হবে:
عَنْ خَوْلَةَ الْأَنْصَارِيَّةِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا، قَالَتْ: سَمِعْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، يَقُولُ: «إِنَّ رِجَالًا يَتَخَوَّضُونَ فِي مَالِ اللَّهِ بِغَيْرِ حَقٌّ، فَلَهُمُ النَّارُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ»
অর্থ: "খাওলা আনসারিয়া (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি নবী -কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন: যে ব্যক্তি আল্লাহর সম্পদে অন্যায়ভাবে হস্তক্ষেপ করে সে কিয়ামতের দিন জাহান্নামী হবে।" (বুখারী ৪/৩১১৮)
মাসআলা-১৯৮: বৃদ্ধ ব্যভিচারি, মিথ্যুক বাদশা ও অহংকারী ফকীর জাহান্নামী হবে:
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ هِ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : " ثَلَاثُ لَا يُكَلِّمُهُمُ اللَّهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ، وَلَا يُزَكِّيهِمْ وَلَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ شَيْخٌ زَانٍ مَلِكَ كَذَّابٌ وَعَائِلٌ مُسْتَكْبِرُ
অর্থ: "আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ বলেছেন: তিন প্রকার লোকের সাথে কিয়ামতের দিন আল্লাহ কথা বলবেন না এবং তাদেরকে পবিত্র করবেন না, আর তাদের জন্য রয়েছে বেদনাদায়ক শাস্তি। তারা হলো: বৃদ্ধ ব্যভিচারি, মিথ্যুক বাদশা, অহংকারী ফকীর।" (মুসলিম)
মাসআলা-১৯৯: দান করে খোঁটা দেয়, মিথ্যা শপথ করে পণ্য দ্রব্য বিক্রি করা পায়ের গোছার নিচে কাপড় ঝুলিয়ে পরিধানকারী জাহান্নামী:
عَنْ أَبِي ذَرٍ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «ثَلَاثَةٌ لَا يُكَلِّمُهُمُ اللَّهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ، وَلَا يَنْظُرُ إِلَيْهِمْ وَلَا يُزَكِّيهِمْ وَلَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ» قَالَ: فَقَرَأَهَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ثَلَاثَ مِرَانًا، قَالَ أَبُو ذَرٍ : خَابُوا وَخَسِرُوا مَنْ هُمْ يَا رَسُولَ اللهِ؟ قَالَ: «الْمُسْبِلُ الْمَنَّانُ، وَالْمُنَفِقُ سِلْعَتَهُ بِالْحَلِفِ الْكَاذِبِ»
অর্থ: "আবু যার (রা) নবী থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: তিন প্রকার লোকের সাথে কিয়ামতের দিন আল্লাহ কথা বলবেন না, তাদের প্রতি দৃষ্টিপাত করবেন না এবং তাদেরকে পবিত্র করবেন না, আর তাদের জন্য রয়েছে বেদনাদায়ক শাস্তি। বর্ণনাকারী বলেন: রাসূলুল্লাহ এ কথাটি তিন বার বলেছেন, তখন আবু যার বলল: তারা ধ্বংস থেকে ক্ষতিগ্রস্ত হোক, তারা কারা ইয়া রাসূলুল্লাহ! তিনি বললেন: পায়ের গোছার নিচে কাপড় ঝুলিয়ে পরিধানকারী, দান করে খোটা দাতা, মিথ্যা শপথ করে পণ্য দ্রব্য বিক্রি কারী।" (মুসলিম ১/১০৬)
মাসআলা-২০০: জীব জন্তর প্রতি যুলুমকারী জাহান্নামী হবে:
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «عُذِّبَتِ امْرَأَةً فِي هِرَةٍ سَجَنَتُهَا حَتَّى مَاتَتْ فَدَخَلَتْ فِيهَا النَّارَ ، لَا هِيَ أَطْعَمَتُهَا وَسَقَتْهَا، إِذًا هِيَ تَرَكَتْهَا تَأْكُلُ مِنْ خَشَاشِ الْأَرْضِ»
অর্থ: "আবদুল্লাহ বিন ওমর (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ বলেছেন: এক মহিলার জাহান্নামে শাস্তি হচ্ছিল একটি বিড়ালকে তার মৃত্যু পর্যন্ত আটকিয়ে রাখার কারণে, এ কারণে সে জাহান্নামী হয়েছিল, সে তাকে খাবার দেয় নি, পান করায়নি, আটকিয়ে রেখে ছিল এমন কি পোকামাকড় ও খেতে দেয় নি।" (মুসলিম ৪/২২৪২)
মাসআলা-২০১: অন্যের ওপর যুলুমকারী এবং অন্যের হক নষ্টকারী জাহান্নামী হবে:
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ اللَّهُ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، قَالَ: «أَتَدْرُونَ مَا الْمُفْلِسُ؟» قَالُوا : الْمُفْلِسُ فِينَا مَنْ لَا دِرْهَمَ لَهُ وَلَا مَتَاعَ، فَقَالَ: « الْمُفْلِسَ مِنْ أُمَّتِي يَأْتِي يَوْمَ الْقِيَامَةِ بِصَلَاةٍ، وَصِيَامٍ، وَزَكَاةٍ، وَيَأْتِي قَدْ شَتَمَ هَذَا ، وَقَذَفَ هَذَا ، وَأَكَلَ مَالَ هَذَا ، وَسَفَكَ دَمَ هَذَا، وَضَرَبَ هَذَا. فَيُعْطَى هَذَا مِنْ حَسَنَاتِهِ، وَهَذَا مِنْ حَسَنَاتِهِ، فَإِنْ فَنِيَتْ حَسَنَاتُهُ قَبْلَ أَنْ يُقْضَى مَا عَلَيْهِ أُخِذَ مِنْ خَطَايَاهُمْ فَطْرِحَتْ عَلَيْهِ، ثُمَّ طُرِحَ فِي النَّارِ»
অর্থ: "আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত তিনি রাসূলাল্লাহ থেকে বর্ণনা করেছেন তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ-কে জিজ্ঞেস করলেন তোমরা কি জান মোফলেস (গরীব) কে? তারা বলল: আমাদের মাঝে গরীব সে যার ধন-সম্পদ নেই। তিনি বললেন: আমার উম্মতের মধ্যে মোফলেস সে যে কিয়ামতের দিন নামায, রোযা, যাকাত (ইত্যাদি আমল) নিয়ে উপস্থিত হবে, কিন্তু সে ওমুককে গালি-গালাজ করেছে, ওমুককে মিথ্যা অপবাদ দিয়েছে, ওমুকের সম্পদ নষ্ট করেছে, ওমুককে হত্যা করেছে, ওমুককে মারধর করেছে, তখন তার নেকীসমূহ ওমুক ওমুককে দিয়ে দেয়া হবে, যখন তার অপরাধ শেষ হওয়ার আগেই নেকী শেষ হয়ে যাবে, তখন তাদের গুনাহসমূহ থেকে গুনাহ তার আমলনামায় দেয়া হবে। অতপর তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে।" (মুসলিম ৪/২৫৮১)
মাসআলা-২০২: হারাম উপার্জনকারী, খিয়ানতকারী, ধোঁকাবাজ, মিথ্যুক, অশ্লীল কথা বলে এ ধরনের লোক জাহান্নামী হবে:
عَنْ عِيَاضِ بْنِ حِمَارِ الْمُجَاشِعِي وَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ ذَاتَ يَوْمٍ فِي خُطْبَتِهِ وَأَهْلُ النَّارِ الْخَمْسَةُ: الضَّعِيفُ الَّذِي لَا زَبْرَ لَهُ, الَّذِينَ هُمْ فِيكُمْ تَبَعًا لَا يَبْتَغُونَ أَهْلًا وَلَا مَالًا، وَالْخَائِنُ الَّذِي لَا يَخْفَى لَهُ طَمَعُ، وَإِنْ دَقَّ إِلَّا خَانَهُ، وَرَجُلٌ لَا يُصْبِحُ وَلَا يُمْسِي إِلَّا وَهُوَ يُخَادِعُكَ عَنْ أَهْلِكَ وَمَالِكَ وَذَكَرَ الْبُخْلَ وَالْكَذِبَ وَالشَّنْظِيرَ الْفَاحِشَ
অর্থ: "ইয়াজ বিন হিমার আল মাজাসি (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ একদা খুতবা দিতে গিয়ে বলেছেন: পাঁচ প্রকার লোক জাহান্নামী, (১) ঐ সমস্ত অজ্ঞ লোক যারা হালাল ও হারামের মাঝে কোনো পার্থক্য করে না। (২) যারা চোখ বন্ধ করে চলে, এমনকি তারা ধন-সম্পদ ও পরিবার পরিজনের প্রয়োজন থেকেও বে-পরওয়া। (৩) খিয়ানতকারী যে সামান্য প্রয়োজনেই খিয়ানত করতে থাকে। (৪) যে ব্যক্তি তোমার পরিবার-পরিজন ও সম্পদে তোমাকে ধোঁকা দেয়। অতপর তিনি বখীল ও মিথ্যুকের কথা উল্লেখ করলেন, (৫) যে ব্যক্তি অশ্লীল কথা বলে।" (মুসলিম, বায়হাকী ১০/২০১৬১)
মাসআলা-২০৩: অসৎ চরিত্রের অধিকারী ও ঝগড়া-ঝাটিকারী জাহান্নামী হবে:
عَنْ حَارِثَةَ ابْنِ وَهْبٍ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : «لَا يَدْخُلُ الْجَنَّةَ الْجَوَاظُ وَلَا الْجَعْظَرِيُّ»
অর্থ: "হারেসা বিন ওহাব (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ বলেছেন: অসৎ চরিত্রের অধিকারী ও ঝগড়া-ঝাটিকারী জাহান্নামী হবে।" (আবু দাউদ ৪/৪৮০১)
মাসআলা-২০৪: কোনো অনাবাদী এলাকায় নিজের প্রয়োজনের অতিরিক্ত পানি থাকা সত্ত্বেও যে ব্যক্তি মুসাফিরকে পানি দান করেনা, দুনিয়ার স্বার্থে রাষ্ট্রনায়কের নিকট বাইয়াত গ্রহণকারী জাহান্নামী হবে:
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : " ثَلَاثُ لَا يُكَلِّمُهُمُ اللهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ، وَلَا يَنْظُرُ إِلَيْهِمْ، وَلَا يُزَكِّيهِمْ وَلَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ : رَجُلٌ عَلَى فَضْلِ مَاءٍ بِالْفَلَاةِ يَمْنَعُهُ مِنَ ابْنِ السَّبِيلِ، وَرَجُلٌ بَايَعَ رَجُلًا بِسِلْعَةٍ بَعْدَ الْعَصْرِ فَحَلَفَ لَهُ بِاللَّهِ لَأَخَذَهَا بِكَذَا وَكَذَا فَصَدَّقَهُ وَهُوَ عَلَى غَيْرِ ذَلِكَ ، وَرَجُلٌ بَايَعَ إِمَامًا لَا يُبَايِعُهُ إِلَّا لِدُنْيَا فَإِنْ أَعْطَاهُ مِنْهَا وَفَى وَإِنْ لَمْ يُعْطِهِ مِنْهَا لَمْ يَفِ "
অর্থ: "আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ বলেছেন: তিন প্রকার লোকের সাথে কিয়ামতের দিন আল্লাহ কথা বলবেন না এবং তাদেরকে পবিত্র করবেন না এবং তাদের দিকে তাকাবেন না। আর তাদের জন্য রয়েছে বেদনাদায়ক শাস্তি। (১) কোনো ব্যক্তির নিকট প্রয়োজন অতিরিক্ত পানি থাকা সত্ত্বেও মরুভূমিতে অন্য লোকদেরকে পানি নেয়া থেকে বাধা দেয়। (২) যে ব্যক্তি আসরের পর আল্লাহর নামে এ বলে কসম করে মাল বিক্রি করল যে, এ মাল আমি এত দিয়ে ক্রয় করেছি, আর ক্রেতাও তা বিশ্বাস করে ক্রয় করল, অথচ সে এদামে তা ক্রয় করে নি। (৩) যে ব্যক্তি দুনিয়াবী স্বার্থে কোনো রাষ্ট্রনায়কের নিকট বাইয়াত করল, যদি তাকে কিছু দেয়া হয় তাহলে সে তা পূর্ণ করে, আর কিছু না দিলে সে তা পূর্ণ করে না।" (মুসলিম ১/১০৮)
মাসআলা-২০৫: লাগামহীন কথাবার্তা বলে এমন লোকও জাহান্নামী হবে:
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ هُ أَنَّهُ سَمِعَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «إِنَّ الْعَبْدَ لَيَتَكَلَّمُ بِالْكَلِمَةِ، يَنْزِلُ بِهَا فِي النَّارِ أَبْعَدَ مَا بَيْنَ الْمَشْرِقِ وَالْمَغْرِبِ»
অর্থ: "আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি রাসূলুল্লাহ কে বলতে শুনেছেন, কোনো কোনো সময় বান্দা তার মুখ দিয়ে এমন কোনো কথা বলে ফেলে যার মাধ্যমে সে পূর্ব ও পশ্চিমের দূরত্বের চেয়ে ও জাহান্নামের অধিক গভীরে গিয়ে পৌঁছে।" (মুসলিম ৪/২৯৮৮)
মাসআলা-২০৬: কসম করে অপরের হক নষ্টকারীও জাহান্নামী হবে:
عَنْ أَبِي أُمَامَةَ هُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «مَنِ اقْتَطَعَ حَقَّ امْرِي مُسْلِمٍ بِيَمِينِهِ، فَقَدْ أَوْجَبَ اللَّهُ لَهُ النَّارَ، وَحَرَّمَ عَلَيْهِ الْجَنَّةَ» فَقَالَ لَهُ رَجُلٌ يَا رَسُولَ اللهِ ؟ : وَإِنْ كَانَ شَيْئًا يَسِيرًا قَالَ: «وَإِنْ قَضِيبًا مِنْ أَراك»
অর্থ: "আবু উমামা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ বলেছেন: যে ব্যক্তি কসম করে কোনো মুসলমানের হক নষ্ট করল, আল্লাহ তার জন্য জাহান্নাম ওয়াজিব করে দেন। এক ব্যক্তি প্রশ্ন করল ইয়া রাসূলুল্লাহ! যদি সামান্য কিছুও হয়? তিনি বললেন: যদি বাবলা গাছের একটি শাখাও হয় তবুও।" (মুসলিম ১/১৩৭)
মাসআলা-২০৭: পায়জামা, সেলওয়ার, লুঙ্গি ইত্যাদি টাখনুর নিচে পরিধানকারী জাহান্নামী হবে:
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ. عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «مَا أَسْفَلَ مِنَ الكَعْبَيْنِ مِنَ الْإِزَارِ فَفِي النَّارِ»
অর্থ: "আবু হুরাইরা (রা) নবী থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: লুঙ্গির যে অংশ টাখনুর নিচে যাবে সেই অংশটুকু জাহান্নামী হবে।" (বুখারী ৭/৫৭৮৭)
মাসআলা-২০৮: যে ভাল করে অযু না করে সে জাহান্নামী হবে:
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو قَالَ: رَأَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَوْمًا يَتَوَضَّتُونَ وَأَعْقَابُهُمْ تَلُوحُ فَقَالَ: «وَيْلٌ لِلْأَعْقَابِ مِنَ النَّارِ، أَسْبِغُوا الْوُضُوءَ»
অর্থ: "আবদুল্লাহ বিন ওমার (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ কিছু লোককে ওযু করতে দেখেছেন যে, তাদের গোড়ালী চমকাচ্ছে। তিনি বললেন: ধ্বংস শুষ্ক গোড়ালীর লোকদের জন্য, তা জাহান্নামের আগুনে জ্বলবে। অতএব তোমরা ভাল করে ওযু কর।" (ইবনে মাজা ১/৪৫০)
মাসআলা-২০৯: হারাম সম্পদে লালিত ব্যক্তি জাহান্নামী:
عَنْ جَابِرٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : «كُلُ جَسَدٍ نَبَتَ مِنْ سُحْتٍ فَالنَّارُ أَوْلَى بِهِمْ»
অর্থ: "জাবের (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ বলেছেন: যে শরীর হারাম মালে লালিত হয়েছে তার জন্য জাহান্নামই উত্তম।" (ত্বাবারানী)
মাসআলা-২১০: প্রসিদ্ধি লাভের জন্য যে ব্যক্তি কোনো পোশাক পরে সে জাহান্নামী:
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : «مَنْ لَبِسَ ثَوْبَ شُهْرَةٍ فِي الدُّنْيَا، أَلْبَسَهُ اللَّهُ ثَوْبَ مَذَلَّةٍ يَوْمَ الْقِيَامَةِ، ثُمَّ أَلْهَبَ فِيهِ نَارًا»
অর্থ: "আবদুল্লাহ বিন ওমার (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ বলেছেন: যে ব্যক্তি দুনিয়াতে প্রসিদ্ধি লাভের জন্য পোশাক পরল, কিয়ামতের দিন তাকে লাঞ্ছনার পোশাক পরানো হবে। এরপর তাতে আগুন লাগিয়ে দেয়া হবে।" (ইবনে মাজাহ ২/৩৬০৭)
মাসআলা-২১১: জেনে বুঝে দ্বীনের কথা গোপনকারী জাহান্নামী হবে: নোট: এ সংক্রান্ত হাদীসটি ১৭০ নং হাদীস দ্রষ্টব্য।
মাসআলা-২১২: হত্যার উদ্দেশ্যে একে অপরের ওপর হামলাকারীরা জাহান্নামী হবে:
عَنْ أَبِي مُوسَى ﷺ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِذَا الْتَقَى الْمُسْلِمَانِ بِسَيْفَيْهِمَا ، فَالْقَاتِلُ، وَالْمَقْتُولُ فِي النَّارِ» ، قَالُوا : يَا رَسُولَ اللَّهِ هَذَا الْقَاتِلُ، فَمَا بَالُ الْمَقْتُولِ؟ قَالَ: «إِنَّهُ أَرَادَ قَتْلَ صَاحِبِهِ»
অর্থ: "আবু মূসা আশআরী (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলূল্লাহ বলেছেন: যখন দু'জন মুসলমান স্বীয় তরবারী নিয়ে একে অপরের ওপর হামলা করে, তখন হত্যাকারী ও নিহত উভয়ই জাহান্নামী। সাহাবাগণ জিজ্ঞেস করল হে আল্লাহর রাসূল! হত্যাকারী জাহান্নামী হবে এটাতো স্পষ্ট, কিন্তু নিহত কিভাবে জাহান্নামী হবে? তিনি বললেন: নিহত ব্যক্তিও স্বীয় সাথীকে হত্যা করার জন্য আগ্রহী ছিল।" (ইবনে মাজাহ ২/৩৯৬৪)
মাসআলা-২১৩: ধোঁকা ও চক্রান্তকারী জাহান্নামী হবে:
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ ابْنِ مَسْعُودِ اللهِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : «مَنْ غَشَّنَا فَلَيْسَ مِنَّا، وَالْمَكْرُ وَالْخِدَاعُ فِي النَّارِ»
অর্থ: "আবদুল্লাহ বিন মাসউদ (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ বলেছেন যে ব্যক্তি ধোঁকা দেয় সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়। ধোঁকাবাজ ও চক্রান্ত কারী জাহান্নামী হবে।" (ত্বাবারানী ১০/১০২৩৪)
মাসআলা-২১৪: সোনার আংটি ব্যবহারকারী জাহান্নামী হবে:
عَنْ بْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَأَى خَاتَمًا مِنْ ذَهَبٍ فِي يَدِ رَجُلٍ ، فَنَزَعَهُ فَطَرَحَهُ، وَقَالَ: «يَعْمِدُ أَحَدُكُمْ إِلَى جَمْرَةٍ مِنْ نَارٍ فَيَجْعَلُهَا فِي يَدِهِ»
অর্থ: "ইবনে আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ এক ব্যক্তির হাতে একটি আংটি দেখে হাত থেকে তা খুলে বাহিরে নিক্ষেপ করলেন এবং বললেন: তোমাদের মধ্যে কেউ যদি আগুনের আঙ্গরা হাতে রাখা পছন্দ করে তাহলে সে যেন সোনার আংটি ব্যবহার করে।" (মুসলিম ৩/২০৯০)
মাসআলা-২১৫: সোনা চাঁদির প্লেটে পানাহার কারী জাহান্নামী হবে:
عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ، قَالَتْ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ شَرِبَ فِي إِنَاءٍ مِنْ ذَهَبٍ ، أَوْ فِضَّةٍ، فَإِنَّمَا يُجَرْجِرُ فِي بَطْنِهِ نَارًا مِنْ جَهَنَّمَ»
অর্থ: "উম্মে সালামা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ বলেছেন: যে ব্যক্তি সোনা-চাঁদির প্লেটে পান করে সে স্বীয় পেটে জাহান্নামের আগুন প্রবেশ করাল।" (মুসলিম ৩/২০৬৫)
মাসআলা-২১৬: যে ব্যক্তি পছন্দ করে যে তার আগমনে লোকেরা দাঁড়িয়ে তাকে স্বাগতম জানাক সে জাহান্নামী হবে:
عَنْ أَبِي مِجْلَزٍ، قَالَ: خَرَجَ مُعَاوِيَةُ فَقَامَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الزُّبَيْرِ وَابْنُ صَفْوَانَ فَقَالَ : اجْلِسًا ، سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «مَنْ سَرَّهُ أَنْ يَتَمَثَلَ لَهُ الرِّجَالُ قِيَامًا فَلْيَتَبَوَّأُ مَقْعَدَهُ مِنَ النَّارِ»
অর্থ: "আবু মিজলায থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: মুয়াবিয়া (রা) বের হলে আবদুল্লাহ বিন যুবাইর ও ইবনে সাফওয়ান (রা) দাঁড়িয়ে গেল, তখন মুয়াবিয়া (রা) বললেন: তোমরা উভয়ে বসে যাও আমি রাসূলুল্লাহ-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন: যে ব্যক্তি পছন্দ করে যে, তার জন্য লোকেরা দাঁড়িয়ে থাকুক, সে যেন তার ঠিকানা নিজেই জাহান্নামে বানিয়ে নিল।" (তিরমিযী ৫/২৭৫৫)
মাসআলা-২১৭: গণীমতের মাল থেকে চুরিকারীও জাহান্নামী হবে:
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو قَالَ : كَانَ عَلَى ثَقَلِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَجُلٌ يُقَالُ لَهُ كِرْكِرَةٌ فَمَاتَ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : «هُوَ فِي النَّارِ فَذَهَبُوا يَنْظُرُونَ، فَوَجَدُوا عَبَاءَةً، قَدْ غَلَهَا
এর অর্থ: "আবদুল্লাহ বিন আমর (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: নবী যুগে এক লোক গণীমতের মাল পাহারা দিত, তার নাম ছিল কারকারা সে যখন মারা গেল, তখন রাসূলূল্লাহ বললেন: সে জাহান্নামী। সাহাবাগণ গিয়ে তার সম্পদ দেখতে লাগল, সেখানে তারা একটি চাদর পেল যা গণীমতের মাল থেকে সে চুরি করেছিল।" (ইবনে মাজাহ ২/২৮৪৯)
মাসআলা-২১৮: গিবতকারী জাহান্নামী হবে: নোট: এ সংক্রান্ত হাদীসটি ১৮১ নং মাসআলা দ্রষ্টব্য।
মাসআলা-২১৯: অধিকাংশ লোক তার মুখ ও লজ্জাস্থানের কারণে জাহান্নামী হবে:
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ হِ قَالَ: سُئِلَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ أَكْثَرِ مَا يُدْخِلُ النَّاسَ الْجَنَّةَ، فَقَالَ: «تَقْوَى اللَّهِ وَحُسْنُ الْخُلُقِ» ، وَسُئِلَ عَنْ أَكْثَرِ مَا يُدْخِلُ النَّاسَ النَّارَ، فَقَالَ: «الْفَمُ وَالْفَرْجُ»
অর্থ: "আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ-কে জিজ্ঞেস করা হলো যে ইয়া রাসূলাল্লাহ! অধিকাংশ লোক কোনো আমলের মাধ্যমে জান্নাতে যাবে? তিনি বললেন: আল্লাহ ভীতি ও সৎচরিত্র। তাঁকে আরো জিজ্ঞেস করা হলো কি কারণে অধিকাংশ লোক জাহান্নামে যাবে? তিনি বললেন: মুখ ও লজ্জাস্থানের কারণে।" (তিরমিযী ৪/২০০৪)
টিকাঃ
৬১. কিতাবুত দিয়াত বাব আল হুকমু ফিদ দীমা। (২/১১২৮)
৬২. আরনূত লিখিত সহীহ ইবনে হিব্বান, ৪র্থ খন্ড, হাদীস নং-১৪৬৭।
৬৩. মুস্তাকাল আখবার, কিতাবুল মানাসিক, বাব ওজুবুল হাজ্ব আলাল ফাওর।
৬৪. কিতাবুল, ইমারা, বাব মান কাতালা লির রিয়া ওয়াসসুময়া ইস্তাহাক্কা স্নার।
৬৫. কিতাবুল ইলম, বাব ইসমু মান কাযিবা আলান্নাবী।
৬৬. কিতabুল বির ওয়সসিলা, বাব তাহরিমুল কিবর।
৬৭. কিতাবুল লিবাস বাব আযাবুল মুছাবিরীনা ইয়াওমাল কিয়ামা।
৬৮. আবওয়াবুল ইলম, বাব ফি মান ইয়তলুবুল ইলমা বি ইলমিদ দুনিয়া (২/২১২৮)।
৬৯. কিতাবুল জিহাদ, বাব কাওলিহি তাআলা ফা ইন্না লিল্লাহি ওয়ালির রাসূল।
৭০. কিতাবুল ঈমান, বাব বায়ানুগিলযু তাহরিম ইসবালুল ইযার, ওয়াল মান বিল আতিয়া, ওয়া তানফিকিস সিলয়া বিল হালাফ।
৭১. প্রাগুক্ত।
৭২. কিতাবুল বির ওয়াসসিলা, বাব তারিম তা'যিব আল হির, রা, ওয়া নাহবিহা।
৭৩. কিতাবুয যুলম, বাবুল কাসাসওয়া আদায়িল হুকুক ইয়াওমুল কিয়ামা।
৭৪. কিতাবুল আদব বাব ফি হুসনিল খুলুক।
৭৫. কিতাব সিফাতুল মুনাফেকীন, বাব সিফাতু আহলিল জান্না ওয়ান্নার।
৭৬. কিতাবুল ঈমান, বাব বায়ান গিলজ তাহرিমিল ইসবাল ওয়া বায়ান আস্ সালাসা আল্লাযিনা লা ইয়ুকাল্লিমুহুমুল্লাহু ইয়ামুল কিয়ামা।
৭৭. কিতাবুযযুহদ বাব হিফজুল লিসান।
৭৮. কিতাবুল ঈমান বাব ওয়ায়িদি মান ইকতাতায়া হাক্কুল মুসলিম।
৭৯. কিতাবুত তাহারা বাব গাসলুল আরাকিব।
৮০. মুখতামার সহীহ বুখারী লি যোবাইদী। হাদীস নং- ২৩৪।
৮১. আলবানী লিখিত সহীহ আল জামে আস সাগীর খ. ৪, হাদীস নং-৪৩৯৫।
৮২. কিতাবুললিবাস, বাব মান লাবিসা সুহরাতান মিন লিবাস।
৮৩. কিতাবুল ফিতান, বাব ইযা ইলতাকাল মুসলিমানে বিসাইফাইহিমা।
৮৪. আলবানী লিখিত সিলসিলা আহাদিস সহীহা। খ. ৩, হাদীস নং-১০৫৮।
৮৫. কিতাবুল লিবাস ওয়াযযিনা, বাব তাহরিমিয যাহাবআলার রিজাল।
৮৬. কিতাবুল লিবাস ওয়াযযিনা, বাব তাহরিম ইস্তে'মাল আওয়ানী আয যাহাব, ফি শুরবি ওয়া গাইরিহি আলাল রিজাল ওয়া নিসা।
৮৭. আবওয়াবুল ইস্তে'জান, বাব মা যায়া ফি কারাহিয়াতি কিয়ামির রাজুলি লি রাজুল (২/২২১২)
৮৮. কিতাবুল জিহাদ বাব আলগুলুল।
৮৯. কিতাবুল বির ওয়াস সিলা, বাব মাযায়া ফি হুসনিল খুলক।
📄 জাহান্নাম ও ফেরেশতা
মাসআলা-২৩০: ফেরেশতাদের জাহান্নামে কোনো শাস্তি হবে না এরপরও তারা আল্লাহর শাস্তির ভয়ে ভীত থাকে:
وَاللَّهِ يَسْجُدُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ مِنْ دَابَّةٍ وَالْمَلَائِكَةُ وَهُمْ لَا يَسْتَكْبِرُونَ يَخَافُونَ رَبَّهُمْ مِنْ فَوْقِهِمْ وَيَفْعَلُونَ مَا يُؤْمَرُونَ
অর্থ: আর আল্লাহকেই সিজদা করে আসমানসমূহে যা আছে এবং জমিনে যে প্রাণী আছে, আর ফেরেশতারা এবং তারা অহঙ্কার করে না। তারা তাদের উপরস্থ রবকে ভয় করে এবং তাদেরকে যা নির্দেশ দেয়া হয়, তারা তা করে। (সূরা নাহল ১৬:৪৯-৫০)
মাসআলা-২৩১: আল্লাহর ভয়ে ফেরেশতারা ভীত সন্ত্রস্ত থাকে:
وَقَالُوا اتَّخَذَ الرَّحْمَنُ وَلَداً سُبْحَانَهُ بَلْ عِبَادٌ مُّكْرَمُونَ لَا يَسْبِقُونَهُ بِالْقَوْلِ وَهُمْ بِأَمْرِهِ يَعْمَلُونَ يَعْلَمُ مَا بَيْنَ أَيْدِيهِمْ وَمَا خَلْفَهُمْ وَلَا يَشْفَعُونَ إِلا لِمَنِ ارْتَضَى وَهُمْ مِّنْ خَشْيَتِهِ مُشْفِقُونَ
অর্থ: আর তারা বলে, 'পরম করুণাময় সন্তান গ্রহণ করেছেন।' অথচ তিনি পবিত্র। বরং তারা সম্মানিত বান্দা। তারা তাঁর আগ বাড়িয়ে কোনো কথা বলে না, তাঁর নির্দেশেই তো তারা কাজ করে। তাদের সামনে ও পেছনে যা কিছু আছে সবই তিনি জানেন। আর তারা শুধু তাদের জন্যই সুপারিশ করে যাদের প্রতি তিনি সন্তুষ্ট। তারা তাঁর ভয়ে ভীত। (সূরা আম্বিয়া ২১:২৬-২৮)৯৭
টিকাঃ
৯৭. বনু খুযা'আ দাবী করত, ফেরেশতারা আল্লাহর কন্যা। এ ভুল ধারণা দূর করতে আল্লাহ বলেন, ফেরেশতারা আল্লাহর সন্তান নয়; বরং তারা সম্মানিত বান্দা। আল-কাশাফ ৮. ফেরেশতারা আল্লাহর ভয়ে সর্বদা ভীত থাকে।