📘 মৃত্যুর পরে অনন্ত জীবন > 📄 জাহান্নামে ইবলীস

📄 জাহান্নামে ইবলীস


মাসআলা-১৫৩ : জাহান্নামে প্রবেশের পর ইবলীস তার অনুসারীদেরকে লক্ষ্য করে বক্তব্য দিবে:
وَقَالَ الشَّيْطَانُ لَمَّا قُضِيَ الْأَمْرُ إِنَّ اللَّهَ وَعَدَكُمْ وَعْدَ الْحَقِّ وَوَعَدتُكُمْ فَأَخْلَفْتُكُمْ وَمَا كَانَ لِي عَلَيْكُمْ مِّنْ سُلْطَانٍ إِلَّا أَنْ دَعَوْتُكُمْ فَاسْتَجَبْتُمْ لِي فَلَا تَلُومُونِي وَلُومُوا أَنفُسَكُمْ مَّا أَنَا بِمُصْرِخِكُمْ وَمَا أَنتُمْ بِمُصْرِخِيَّ إِنِّي كَفَرْتُ بِمَا أَشْرَكْتُمُونِ مِنْ قَبْلُ إِنَّ الظَّالِمِينَ لَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ
অর্থ: আর যখন যাবতীয় বিষয়ের ফায়সালা হয়ে যাবে, তখন শয়তান বলবে, ‘নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদেরকে ওয়াদা দিয়েছিলেন সত্য ওয়াদা, তোমাদের উপর আমার কোনো আধিপত্য ছিল না, তবে আমিও তোমাদেরকে ওয়াদা দিয়েছিলাম, এখন আমি তা ভঙ্গ করলাম। তোমাদেরকে দাওয়াত দিয়েছি, আর তোমরা আমার দাওয়াতে সাড়া দিয়েছ। সুতরাং তোমরা আমাকে ভর্ৎসনা করো না, বরং নিজদেরকেই ভর্ৎসনা কর। আমি তোমাদের উদ্ধারকারী নই, আর তোমরাও আমার উদ্ধারকারী নও। ইতঃপূর্বে তোমরা আমাকে যার সাথে শরীক করেছ, নিশ্চয় আমি তা অস্বীকার করছি। নিশ্চয় যালিমদের জন্য রয়েছে বেদনাদায়ক আযাব’। (সূরা ইবরাহীম ১৪:২২)
মাসআলা-১৫৪ : ইবলীসের দৃষ্টান্তমূলক শেষ পরিণতি:
মাসআলা-১৫৫ : কিয়ামতের দিন সর্বপ্রথম ইবলীসকে আগুনের পোশাক পরানো হবে:
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، قَالَ: " أَوَّلُ مَنْ يُكْسَى حُلَةً مِنَ النَّارِ إِبْلِيسُ فَيَضَعُهَا عَلَى حَاجِبِيهِ وَيَسْحَبُهَا مِنْ خَلْفِهِ, وَذُرِّيَّتُهُ مِنْ بَعْدِهِ وَهُوَ يُنَادِي يَا ثُبُورَاهُ وَيَنْدُونَ : يَا ثُبُورَهُمْ, حَتَّى يَقِفَ عَلَى النَّارِ فَيَقُولُ: يَا ثُبُورَاهُ, وَيَقُلُونَ: يَا ثُبُورَهُمْ, فَيَقُولُ: {لَا تَدْعُوا الْيَوْمَ ثُبُورًا وَاحِدًا وَادْعُوا ثُبُورًا كَثِيرًا }
অর্থ: "আনাস বিন মালেক (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ বলেছেন: জাহান্নামে সর্বপ্রথম ইবলীসকে আগুনের পোশাক পরানো হবে। তা তার কপালের ওপর রেখে পিছন থেকে টানা হবে, তার সন্তানরা (তার চেলারা) তার পিছে পিছে চলবে, ইবলীস তার মৃত্যু ও ধ্বংস কামনা করতে থাকবে তার ভক্তরাও মৃত্যু ও ধ্বংস কামনা করতে থাকবে, এমন কি যখন সে জাহান্নামের কাছে এসে উপস্থিত হবে, তখন ইবলীস বলবে: হায় মৃত্যু! তার সাথে তার ভক্তরাও বলবে: হায় মৃত্যু! তখন তাকে বলা হবে আজ এক মৃত্যু নয় বহু মৃত্যুকে ডাক।” (আহমদ ৭/৩৫৯০৭)৪৪

টিকাঃ
৪৪ ইবনে কাসীর ৩/৪১৫

📘 মৃত্যুর পরে অনন্ত জীবন > 📄 স্মৃতিচারণ

📄 স্মৃতিচারণ


মাসআলা-১৫৬: জাহান্নামে এক ভাল বন্ধুর স্মৃতিচারণ ও তার তালাশ:
وَقَالُوا مَا لَنَا لَا نَرَى رِجَالًا كُنَّا نَعْتُهُمْ مِّنَ الْأَشْرَارِ أَتَّخَذْنَاهُمْ سِخْرِيّاً أَمْ زَاغَتْ عَنْهُمُ الْأَبْصَارُ إِنَّ ذَلِكَ لَحَقُّ تَخَاصُمُ أَهْلِ النَّارِ
অর্থ: তারা আরো বলবে, 'আমাদের কী হলো যে, আমরা যাদের মন্দ গণ্য করতাম সেসকল লোককে এখানে দেখছি না।' 'তবে কি আমরা তাদের ঠাট্টা-বিদ্রূপের পাত্র মনে করতাম, নাকি তাদের ব্যাপারে [আমাদের] দৃষ্টি বিভ্রম ঘটেছে'? নিশ্চয় এটি সুনিশ্চিত সত্য- জাহান্নামীদের এই পারস্পরিক বাকবিতণ্ডা। (সূরা সোয়াদ ৩৮:৬২-৬৪)
মাসআলা-১৫৭: জাহান্নামে এক পথভ্রষ্ট বে-দ্বীন বন্ধুর স্মৃতিচারণ:
وَيَوْمَ يَعْضُّ الظَّالِمُ عَلَى يَدَيْهِ يَقُولُ يُلَيْتَنِي اتَّخَذْتُ مَعَ الرَّسُولِ سَبِيلاً يُوَيْلَتَا لَيْتَنِي لَمْ أَتَّخِذْ فُلاناً خَلِيلًا لَقَدْ أَضَلَّنِي عَنِ الذِّكْرِ بَعْدَ إِذْ جَاءَنِي وَكَانَ الشَّيْطَانُ لِلْإِنْسَانِ خَذُولاً
অর্থ: আর সেদিন যালিম নিজের হাত দু'টো কামড়িয়ে বলবে, 'হায়! আমি যদি রাসূলের সাথে কোনো পথ অবলম্বন করতাম'! 'হায় আমার দুর্ভোগ, আমি যদি অমুককে বন্ধুরূপে গ্রহণ না করতাম'। 'অবশ্যই সে তো আমাকে উপদেশবাণী থেকে বিভ্রান্ত করেছিল, আমার কাছে তা আসার পর। আর শয়তান তো মানুষের জন্য চরম প্রতারক'। (সূরা ফুরকান ২৫:২৭-২৯)

📘 মৃত্যুর পরে অনন্ত জীবন > 📄 জাহান্নামে নিয়ে যাওয়ার আমলসমূহ আনন্দদায়ক

📄 জাহান্নামে নিয়ে যাওয়ার আমলসমূহ আনন্দদায়ক


মাসআলা-১৫৮: জাহান্নামকে আনন্দদায়ক আমলসমূহ দ্বারা ঢেকে দেয়া হয়েছে:
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ الله عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: " لَمَّا خَلَقَ اللهُ الْجَنَّةَ وَالنَّارَ أَرْسَلَ جِبْرِيلَ إِلَى الْجَنَّةِ فَقَالَ: انْظُرْ إِلَيْهَا وَإِلَى مَا أَعْدَدْتُ لِأَهْلِهَا فِيهَا " ، قَالَ: «فَجَاءَهَا وَنَظَرَ إِلَيْهَا وَإِلَى مَا أَعَدَّ اللَّهُ لِأَهْلِهَا فِيهَا» ، قَالَ: " فَرَجَعَ إِلَيْهِ، قَالَ: فَوَعِزَّتِكَ لَا يَسْمَعُ بِهَا أَحَدٌ إِلَّا دَخَلَهَا. فَأَمَرَ بِهَا فَحُقَّتْ بِالمَكَارِهِ، فَقَالَ: ارْجِعْ إِلَيْهَا فَانْظُرْ إِلَيْهَا وَ إِلَى مَا أَعْدَدْتُ لِأَهْلِهَا فِيهَا " ، قَالَ: " فَرَجَعَ إِلَيْهَا فَإِذَا هِيَ قَدْ حُفَّتْ بِالْمَكَارِهِ، فَرَجَعَ إِلَيْهِ فَقَالَ: وَعِزَّتِكَ لَقَدْ خِفْتُ أَنْ لَا يَدْخُلَهَا أَحَدٌ، قَالَ: اذْهَبْ إِلَى النَّارِ فَانْظُرْ إِلَيْهَا وَإِلَى مَا أَعْدَدْتُ لِأَهْلِهَا فِيهَا، فَإِذَا هِيَ يَرْكَبُ بَعْضُهَا بَعْضًا، فَرَجَعَ إِلَيْهِ فَقَالَ: وَعِزَّتِكَ لَا يَسْمَعُ بِهَا أَحَدٌ فَيَدْخُلَهَا، فَأَمَرَ بِهَا فَحُفَتْ بِالشَّهَوَاتِ، فَقَالَ: ارْجِعْ إِلَيْهَا، فَرَجَعَ إِلَيْهَا فَقَالَ: وَعِزَّتِكَ لَقَدْ خَشِيتُ أَنْ لَا يَنْجُوَ مِنْهَا أَحَدٌ إِلَّا دَخَلَهَا "
অর্থ: "আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি রাসূলূল্লাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: যখন আল্লাহ জান্নাত ও জাহান্নাম সৃষ্টি করেন তখন সেখানে জিবরাঈলকে জান্নাত দেখতে পাঠালেন এবং তাকে বললেন: তুমি তা দেখ এবং তার অধিবাসীদের জন্য কি তৈরী করে রাখা হয়েছে তা দেখে আস। তখন সে ওখানে গিয়ে তা এবং তার অধিবাসীদের জন্য কি তৈরী করে রাখা হয়েছে তা দেখল এবং আল্লাহর নিকট ফিরে আসল, এসে বলল তোমার ইজ্জতের কসম! যেই তার কথা শুনবে সেই সেখানে প্রবেশ করবে। তখন আল্লাহ নির্দেশ দিলেন, তখন তাকে কষ্টকর আমলসমূহ দ্বারা ঢেকে দেয়া হলো। এর পর তাকে (জিবরাঈল কে) বললেন: তুমি সেখানে আবার যাও এবং তা দেখ এবং তার অধিবাসীদের জন্য কি প্রস্তুত করে রেখেছি তা দেখে আস। তখন সে ওখানে গিয়ে তা এবং তার অধিবাসীদের জন্য কি তৈরী করে রাখা হয়েছে তা দেখল, তখন দেখল যে, এখন তা কষ্টকর আমলসমূহ দ্বারা ঢেকে দেয়া হয়েছে। তখন সে আল্লাহর নিকট ফিরে এসে বলল: তোমার ইজ্জতের কসম! আমার ভয় হচ্ছে যে এখানে কেউ প্রবেশ করতে পারবে না। তখন আল্লাহ বললেন: যাও এখন গিয়ে জাহান্নাম দেখে আস এবং তা ও তার অধিবাসীদের জন্য কি প্রস্তুত করে রেখেছি তা দেখে আস। তখন সে ওখানে গিয়ে দেখতে পেল যে, তার একাংশ আরেক অংশকে গ্রাস করছে, তখন সে আল্লাহর নিকট ফিরে আসল এবং বলল: তোমার ইজ্জতের কসম! যেই এর কথা শুনবে সেই তাতে প্রবেশ করতে চাইবে না। তখন তিনি নির্দেশ দিলেন, ফলে তাকে কামভাবাপন্ন আমলসমূহ দ্বারা ঢেকে দেয়া হলো। এরপর আল্লাহ তাকে (জিবরাঈল কে) আবার বললেন: তুমি আবার সেখানে গিয়ে তা দেখে আস, তখন সে আবার ওখানে গিয়ে তা দেখে আসল এবং বলল: তোমার ইজ্জতের কসম! আমার ভয় হচ্ছে যে এখানে প্রবেশ না করে কেউ মুক্তি পাবে না।" (তিরমিযী ৪/২৫৬০)
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، هِ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : «حُفَّتِ الْجَنَّةُ بِالْمَكَارِهِ، وَحُفَّتِ النَّارُ بِالشَّهَوَاتِ»
অর্থ: "আনাস বিন মালেক (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলূলুল্লাহ বলেছেন: জান্নাত কষ্টদায়ক আমলসমূহ দ্বারা ঢেকে দেয়া হয়েছে, আর জাহান্নাম আরামদায়ক আমলসমূহ দ্বারা ঢেকে দেয়া হয়েছে।" (মুসলিম ৪/২৮২২)
মাসআলা-১৫৯: পৃথিবীর চাকচিক্যতার পরিণতি জাহান্নাম:
عَنْ أَبِي مَالِكِ الْأَشْعَرِيَّ أَنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «حُلْوَةُ الدُّنْيَا وَ مُرَّةُ الْآخِرَةِ، وَمُرَّةُ الدُّنْيَا حُلْوَةُ الْآخِرَةِ»
অর্থ: "আবু মালেক আশআরী (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ -কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: পৃথিবীর মিষ্টি পরকালের তিক্ত, আর পৃথিবীর তিক্ত পরকালের মিষ্টি।" (আহমদ, হাকেম ৪/৭৮৬১)
মাসআলা-১৬০: আল্লাহর নাফরমানীমূলক কাজসমূহ আনন্দদায়ক:
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ هِ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : «الدُّنْيَا سِجْنُ الْمُؤْمِنِ، وَجَنَّةُ الْكَافِرِ»
অর্থ: "আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ বলেছেন: পৃথিবী মু'মিনের জন্য জেল স্বরূপ, আর কাফিরের জন্য জান্নাত স্বরূপ।" (মুসলিম ৪/২৯৫৬)

টিকাঃ
৪৫. আবওয়াব সিফাতু জাহান্নাম, বাব মাযায়া ফি আন্নাল জান্না হুফফাত বিল মাকারিহ। (২/২০৭৫)
৪৬. কিতাবুল জান্না ওয়া সিফাতু নায়িমিহা।
৪৭. আলবানী সংকলিত সহীহ আল জামে' আস সাগীর। খ. ৩. হাদীস নং ৩১৫০।
৪৮. কিতাবুযযুহদ।

📘 মৃত্যুর পরে অনন্ত জীবন > 📄 আদম সন্তানদের মধ্যে জান্নাত ও জাহান্নামীদের হার

📄 আদম সন্তানদের মধ্যে জান্নাত ও জাহান্নামীদের হার


মাসআলা-১৬০: আল্লাহর নাফরমানীমূলক কাজসমূহ আনন্দদায়ক:
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ هِ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : «الدُّنْيَا سِجْنُ الْمُؤْمِنِ، وَجَنَّةُ الْكَافِرِ»
অর্থ: "আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ বলেছেন: পৃথিবী মু'মিনের জন্য জেল স্বরূপ, আর কাফিরের জন্য জান্নাত স্বরূপ।” (মুসলিম ৪/২৯৫৬)৪৮
আদম সন্তানদের মধ্যে জান্নাত ও জাহান্নামীদের হার
মাসআলা-১৬১: হাজারে ৯৯৯ জন জাহান্নামে যাবে আর মাত্র একজন জান্নাতে যাবে:
عَنْ أَبِي سَعِيدٍ ، ﷺ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : " يَقُولُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ: يَا آدَمُ فَيَقُولُ : لَبَّيْكَ وَسَعْدَيْكَ وَالْخَيْرُ فِي يَدَيْكَ، قَالَ يَقُولُ: أَخْرِجُ بَعْثَ النَّارِ قَالَ: وَمَا بَعْثُ النَّارِ قَالَ: مِنْ كُلِّ أَلْفٍ تِسْعَمِائَةٍ وَتِسْعَةً وَتِسْعِينَ قَالَ: فَذَاكَ حِينَ يَشِيبُ الصَّغِيرُ وَتَضَعُ كُلُّ ذَاتِ حَمْلٍ حَمْلَهَا وَتَرَى النَّاسَ سُكَارَى وَمَا هُمْ بِسُكَارَى وَلَكِنَّ عَذَابَ اللَّهِ شَدِيدٌ " قَالَ: فَاشْتَدَّ ذَلِكَ عَلَيْهِمْ قَالُوا : يَا رَسُولَ اللَّهِ أَيُّنَا ذَلِكَ الرَّجُلُ؟ فَقَالَ: «أَبْشِرُوا فَإِنَّ مِنْ يَأْجُوجَ وَمَأْجُوجَ أَلْفًا، وَمِنْكُمْ رَجُلٌ»
অর্থ: "আবু সাঈদ (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলূল্লাহ বলেছেন: আল্লাহ তা'আলা বলেন: হে আদম! সে বলবে: হে আল্লাহ! আমি তোমার খেদমতে ও তোমার অনুসরণে উপস্থিত, সমস্ত কল্যাণ তোমারই হাতে, তখন আল্লাহ বলবেন: মানুষের মধ্য থেকে জাহান্নামীদেরকে আলাদা কর। আদম (আ) জিজ্ঞেস করবে যে, জাহান্নামী কতজন? আল্লাহ বলবেন: হাজারে ৯৯৯ জন। নবী বলেছেন: আর এটাই হবে ঐ মুহূর্ত যখন শিশু বৃদ্ধ হয়ে যাবে, গর্ভধারিনী মহিলা গর্ভপাত করবে, আর তুমি লোকরদেরকে বেহুশ দেখতে পাবে। অথচ তারা বেহুশ হবেনা বরং তা হবে আল্লাহর আযাবের কঠিনত্বের ফল। বর্ণনাকারী বলেন: একথা শুনে সাহাবাগণ পেরেশান হয়ে গেল এবং বলতে লাগল: হে আল্লাহর রাসূল! তাহলে আমাদের মাঝে এমন কোনো ব্যক্তি আছে যে, জান্নাতে যাবে? তিনি বললেন: সুসংবাদ গ্রহণ কর। এর মধ্যে ইয়াজুজ মাজুজের মধ্য থেকে এক হাজার মানুষ (জাহান্নামে যাবে), আর তোমাদের মধ্য থেকে একজন।” (মুসলিম ১/২২২)৪৯
মাসআলা-১৬২: মোহাম্মদ -এর উম্মতের ৭৩ ফিরকার মধ্যে ৭২ ফিরকা জাহান্নামে যাবে আর ১ ফেরকা জান্নাতে যাবে:
عَنْ عَوْفِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : «افْتَرَقَتِ الْيَهُودُ عَلَى إِحْدَى وَسَبْعِينَ فِرْقَةً، فَوَاحِدَةٌ فِي الْجَنَّةِ، وَسَبْعُونَ في النَّارِ، وَافْتَرَقَتِ النَّصَارَى عَلَى ثِنْتَيْنِ وَسَبْعِينَ فِرْقَةً، فَإِحْدَى وَسَبْعُونَ فِي النَّارِ ، وَوَاحِدَةٌ فِي الْجَنَّةِ، وَالَّذِي نَفْسُ مُحَمَّدٍ بِيَدِهِ لَتَفْتَرِقَنَّ أُمَّتِي عَلَى ثَلَاثٍ وَسَبْعِينَ فِرْقَةً، وَاحِدَةٌ فِي الْجَنَّةِ، وَثِنْتَانِ وَسَبْعُونَ فِي النَّارِ» ، قِيلَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ مَنْ هُمْ ؟ قَالَ: «الْجَمَاعَةُ»
অর্থ: "আওফ বিন মালেক (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ বলেছেন: ইহুদীরা ৭১ দলে বিভক্তি হয়েছিল, তাদের মধ্যে একটি দল জান্নাতী আর বাকী ৭০টি দল জাহান্নামী, নাসারারা ৭২ দলে বিভক্ত হয়েছিল, তাদের মধ্যে একটি দল জান্নাতী আর বাকী ৭১ দল জাহান্নামী। ঐ সত্তার কসম যার হাতে মুহাম্মদের প্রাণ! অবশ্যই আমার উম্মত ৭৩ দলে বিভক্ত হবে এর মধ্যে ৭২ দল জাহান্নামে যাবে, আর একটি দল জান্নাতে যাবে। তারা (সাহাবাগণ) জিজ্ঞেস করল ইয়া রাসূলুল্লাহ ! তারা কারা? তিনি বললেন: (আল জামায়া) আহলুসসুন্না ওয়াল জামায়া।:" (ইবনে মাজা ২/৩৯৯২)৫০

টিকাঃ
৪৮ কিতাবুযযুহদ।
৪৯ কিতাবুল ঈমান, বাব লিবায়ান কাউন হাযিহিল উম্মা নিসف আহলিল জান্না।
৫০ কিতাবুল ফিতান বাব ইফতিরাকুল উমাম।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00