📄 নিষ্ফল কামনা
মাসআলা-১২৫: কয়েক ফোটা পানির জন্য আফসোস প্রকাশ!
وَنَادَى أَصْحَابُ النَّارِ أَصْحَابَ الْجَنَّةِ أَنْ أَفِيضُوا عَلَيْنَا مِنَ الْمَاءِ أَوْ مِمَّا رَزَقَكُمُ اللهُ قَالُوا إِنَّ اللهَ حَرَّمَهُمَا عَلَى الْكَافِرِينَ الَّذِينَ اتَّخَذُوا دِينَهُمْ لَهُوا وَلَعِباً وَغَرَّتْهُمُ الْحَيَاةُ الدُّنْيَا فَالْيَوْمَ نَنْسَاهُمْ كَمَا نَسُوا لِقَاءَ يَوْمِهِمْ هَذَا وَمَا كَانُوا بِآيَاتِنَا يَجْحَدُونَ
অর্থ: জাহান্নামীরা জান্নাতবাসীদেরকে সম্বোধন করে বলবে: আমাদের ওপর কিছু পানি ঢেলে দাও, অথবা তোমাদের আল্লাহ প্রদত্ব জীবিকা থেকে কিছু প্রদান কর। তারা বলবে: আল্লাহ এসব জিনিস কাফিরদের জন্য হারাম করেছেন। 'যারা তাদের ধর্মকে গ্রহণ করেছে খেলা ও তামাসারূপে এবং তাদেরকে দুনিয়ার জীবন প্রতারিত করেছে'। সুতরাং আজ আমি তাদেরকে ভুলে যাব, যেমন তারা তাদের এই দিনের সাক্ষাতকে ভুলে গিয়েছিল। আর (যেভাবে) তারা আমার আয়াতসমূহকে অস্বীকার করত। আর আমি তো তাদের নিকট এমন কিতাব নিয়ে এসেছি, যা আমি জেনেশুনে বিস্তারিত বর্ণনা করেছি। তা হিদায়াত ও রহমতস্বরূপ এমন জাতির জন্য, যারা ঈমান রাখে। (সূরা আরাফ ৭:৫১-৫২)
মাসআলা-১২৬: আলোর একটু কিরণ লাভের জন্য আফসোস! নোট: এ সংক্রান্ত আয়াতটি ১৯৭নং মাসআলা দ্রষ্টব্য। মাসআলা-১২৭: জাহান্নামের আযাব শুধু একদিনের জন্য হালকা করার আবেদন এবং জাহান্নামের পাহারাদারের ধমক:
وَقَالَ الَّذِينَ فِي النَّارِ لِخَزَنَةِ جَهَنَّمَ ادْعُوا رَبَّكُمْ يُخَفِّفْ عَنَّا يَوْماً مِّنَ الْعَذَابِ قَالُوا أَوَلَمْ تَكُ تَأْتِيكُمْ رُسُلُكُمْ بِالْبَيِّنَاتِ قَالُوا بَلَى قَالُوا فَادْعُوا وَمَا دُعَاءُ الْكَافِرِينَ إِلَّا فِي ضَلَالٍ
অর্থ: আর যারা আগুনে থাকবে তারা আগুনের দারোয়ানদেরকে বলবে, 'তোমাদের রবকে একটু ডাকো না! তিনি যেন একটি দিন আমাদের আযাব লাঘব করে দেন।' তারা বলবে, 'তোমাদের কাছে কি সুস্পষ্ট প্রমাণাদিসহ তোমাদের রাসূলগণ আসেনি'? জাহান্নামীরা বলবে, 'হ্যাঁ অবশ্যই'। দারোয়ানরা বলবে, 'তবে তোমরাই দো'আ কর। আর কাফিরদের দো'আ কেবল নিষ্ফলই হয়'। (সূরা মু'মিন ৪০:৪৯-৫০)
মাসআলা-১২৮: নিষ্ফল মৃত্যু কামনা:
وَنَادَوْا يُمَالِكُ لِيَقْضِ عَلَيْنَا رَبُّكَ قَالَ إِنَّكُمْ مَّا كِثُونَ لَقَدْ جِئْنَاكُم بِالْحَقِّ وَلَكِنَّ أَكْثَرَكُمْ لِلْحَقِّ كَارِهُونَ
অর্থ: তারা চিৎকার করে বলবে, 'হে মালিক! তোমার রব যেন আমাদেরকে শেষ করে দেন'। সে বলবে, 'নিশ্চয় তোমরা অবস্থানকারী'। 'অবশ্যই তোমাদের কাছে আমি সত্য নিয়ে এসেছিলাম; কিন্তু তোমাদের অধিকাংশই ছিলে সত্য অপছন্দকারী। (সূরা যুখরুফ ৪৩:৭৭-৭৮)
মাসআলা-১২৯: জাহান্নামের আযাব দেখে কাফির আফসোস করে বলবে হায় আমি যদি এ জীবনের জন্য কিছু অগ্রিম পাঠাতাম:
وَجِيءَ يَوْمَئِذٍ بِجَهَنَّمَ يَوْمَئِذٍ يَتَذَكَّرُ الْإِنْسَانُ وَأَنَّى لَهُ الذِّكْرَى يَقُولُ يُلَيْتَنِي قَدَّمْتُ لِحَيَاتِي فَيَوْمَئِذٍ لا يُعَذِّبُ عَذَابَهُ أَحَدٌ وَلَا يُوْثِقُ وَثَاقَهُ أَحَدٌ
অর্থ: আর সেদিন জাহান্নামকে উপস্থিত করা হবে, সেদিন মানুষ স্মরণ করবে, কিন্তু সেই স্মরণ তার কী উপকারে আসবে? সে বলবে, 'হায়! যদি আমি কিছু আগে পাঠাতাম আমার এ জীবনের জন্য'! অতঃপর সেদিন তাঁর আযাবের মত আযাব কেউ দিতে পারবে না। আর কেউ তাঁর বাঁধার মত বাঁধতে পারবে না। (সূরা ফাজর ৮৯:২৩-২৬)
মাসআলা-১৩০: পথভ্রষ্টকারী আলেম ও পীরদেরকে জাহান্নামে পদদলিত করার নিষ্ফল কামনা:
ذلِكَ جَزَاءُ أَعْدَاءِ اللَّهِ النَّارُ لَهُمْ فِيهَا دَارُ الخُلْدِ جَزَاءً بِمَا كَانُوا بِآيَاتِنَا يَجْحَدُونَ وَقَالَ الَّذِينَ كَفَرُوا رَبَّنَا أَرِنَا اللَّذَيْنِ أَضَلانَا مِنَ الْجِنِّ وَالْإِنْسِ نَجْعَلُهُمَا تَحْتَ أَقْدَا مِنَا لِيَكُونَا مِنَ الْأَسْفَلِينَ
অর্থ: এই আগুন, আল্লাহর দুশমনদের প্রতিদান। সেখানে থাকবে তাদের জন্য স্থায়ী নিবাস তারা যে আমার আয়াতসমূহ অস্বীকার করত তারই প্রতিফলস্বরূপ। আর কাফিররা বলবে, 'হে আমাদের রব, জ্বিন ও মানুষের মধ্যে যারা আমাদেরকে পথভ্রষ্ট করেছে তাদেরকে আমাদের দেখিয়ে দিন। আমরা তাদের উভয়কে আমাদের পায়ের নীচে রাখব, যাতে তারা নিকৃষ্টদের অন্তর্ভুক্ত হয়। (সূরা হা-মীম সেজদাহ ৪১:২৮-২৯)
মাসআলা-১৩১ : আগুন দেখে পৃথিবীতে বিবেক-বুদ্ধি প্রয়োগ না করার জন্য আফসোস!
وَقَالُوا لَوْ كُنَّا نَسْمَعُ أَوْ نَعْقِلُ مَا كُنَّا فِي أَصْحَابِ السَّعِيرِ فَاعْتَرَفُوا بِذَنْبِهِمْ فَسُحْقَ الأَصْحَابِ السَّعِيرِ
অর্থ: আর তারা বলবে, 'যদি আমরা শুনতাম অথবা বুঝতাম, তাহলে আমরা জ্বলন্ত আগুনের অধিবাসীদের মধ্যে থাকতাম না'। অতঃপর তারা তাদের অপরাধ স্বীকার করবে। অতএব ধ্বংস জ্বলন্ত আগুনের অধিবাসীদের জন্য। (সূরা মূলক ৬৭:১০-১১)
মাসআলা-১৩২ : কাফির আগুন দেখে আকাঙ্ক্ষা করবে যে হায়! আমি যদি মাটি হয়ে যেতাম:
إِنَّا أَنذَرْنَاكُمْ عَذَاباً قَرِيباً يَوْمَ يَنظُرُ الْمَرْءُ مَا قَدَّمَتْ يَدَاهُ وَيَقُولُ الْكَافِرُ يُلَيْتَنِي كُنْتُ تُرَاباً
অর্থ: নিশ্চয় আমি তোমাদেরকে একটি নিকটবর্তী আযাব সম্পর্কে সতর্ক করলাম। যেদিন মানুষ দেখতে পাবে, তার দু'হাত কী অগ্রে প্রেরণ করেছে এবং কাফির বলবে 'হায়, আমি যদি মাটি হতাম'! (সূরা নাবা ৭৮:৪০)
মাসআলা-১৩৩ : আরো একটি আফসোস। হায়! আমি যদি রাসূলের কথা শুনতাম, হায়! আমি যদি অমুক ও অমুককে বন্ধু না বানাতাম:
وَيَوْمَ يَعَضُّ الظَّالِمُ عَلَى يَدَيْهِ يَقُولُ يُلَيْتَنِي اتَّخَذْتُ مَعَ الرَّسُولِ سَبِيلاً يُوَيْلَتَا لَيْتَنِي لَمْ أَتَّخِذْ فُلاناً خَلِيلًا لَقَدْ أَضَلَّنِي عَنِ الذِّكْرِ بَعْدَ إِذْ جَاءَنِي وَكَانَ الشَّيْطَانُ لِلْإِنْسَانِ خَذُولاً
অর্থ: আর সেদিন যালিম নিজের হাত দু'টো কামড়িয়ে বলবে, 'হায়, আমি যদি রাসূলের সাথে কোনো পথ অবলম্বন করতাম'! 'হায়! আমার দুর্ভোগ, আমি যদি অমুককে বন্ধুরূপে গ্রহণ না করতাম'। 'অবশ্যই সে তো আমাকে উপদেশবাণী থেকে বিভ্রান্ত করেছিল, আমার কাছে তা আসার পর। আর শয়তান তো মানুষের জন্য চরম প্রতারক'। (সূরা ফুরকান ২৫:২৭-২৯)
মাসআলা-১৩৪: আগুনে জ্বলার পর কাফির আকাঙ্ক্ষা করবে যে হায়! আমরা যদি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অনুসরণ করতাম:
يَوْمَ تُقَلَّبُ وُجُوهُهُمْ فِي النَّارِ يَقُولُونَ يُلَيْتَنَا أَطَعْنَا اللَّهَ وَأَطَعْنَا الرَّسُولَا
অর্থ: যেদিন তাদের চেহারাগুলো আগুনে উপুড় করে দেয়া হবে, তারা বলবে, 'হায়, আমরা যদি আল্লাহর আনুগত্য করতাম এবং রাসূলের আনুগত্য করতাম'! (সূরা আহযাব ৩৩:৬৬)
মাসআলা-১৩৫: স্বীয় গুনাহর কথা স্বীকার করার পর জাহান্নাম থেকে বের হওয়ার জন্য নিষ্ফল আফসোস:
قَالُوا رَبَّنَا أَمَتَنَا اثْنَتَيْنِ وَأَحْيَيْتَنَا اثْنَتَيْنِ فَاعْتَرَفْنَا بِذُنُوبِنَا فَهَلْ إِلَى خُرُوجٍ مِّنْ سَبِيلٍ ذَلِكُم بِأَنَّهُ إِذَا دُعِيَ اللَّهُ وَحْدَهُ كَفَرْتُمْ وَإِنْ يُشْرَكْ بِهِ تُؤْمِنُوا فَالْحُكْمُ اللَّهِ الْعَلِيِّ الْكَبِيرِ
অর্থ: তারা বলবে, 'হে আমাদের রব! আপনি আমাদেরকে দু'বার মৃত্যু দিয়েছেন এবং দু'বার জীবন দিয়েছেন। অতঃপর আমরা আমাদের অপরাধ স্বীকার করছি। অতএব (জাহান্নাম থেকে) বের হবার কোনো পথ আছে কি'? তাদেরকে বলা হবে] 'এটা তো এজন্য যে, যখন আল্লাহকে এককভাবে ডাকা হত তখন তোমরা তাঁকে অস্বীকার করতে আর যখন তাঁর সাথে শরীক হত তখন তোমরা বিশ্বাস করতে। সুতরাং যাবতীয় কর্তৃত্ব সমুচ্চ, মহান আল্লাহর'। (সূরা মু'মিন ৪০:১১-১২)
মাসআলা-১৩৬: মুজরিম নিজের সন্তান, স্ত্রী, ভাই, আত্মীয়-স্বজন, এমন কি পৃথিবীর সমস্ত সৃষ্টিকে জাহান্নামে দিয়ে হলেও সেখান থেকে সে নিজে বাঁচতে চাইবে কিন্তু তার এ আফসোস পূর্ণ হবে না:
يَوَدُّ الْمُجْرِمُ لَوْ يَفْتَدِي مِنْ عَذَابِ يَوْمِئِذٍ بِبَنِيْهِ وَصَاحِبَتِهِ وَأَخِيهِ وَفَصِيلَتِهِ الَّتِي تُؤْوِيهِ وَمَنْ فِي الْأَرْضِ جَمِيعاً ثُمَّ يُنْجِيهِ كَلَّا إِنَّهَا لَظَى نَزَاعَةً لِلشَّوَى
অর্থ: তাদেরকে একে অপরের দৃষ্টিগোচর করা হবে। অপরাধী চাইবে যদি সে সেদিনের শাস্তি থেকে তার সন্তান-সন্ততিকে পণ হিসেবে দিয়ে মুক্তি পেতে, আর তার স্ত্রী ও ভাইকে, আর তার জ্ঞাতি-গোষ্ঠীকে, যারা তাকে আশ্রয় দিত। আর জমিনে যারা আছে তাদের সবাইকে, যাতে এটি তাকে রক্ষা করে। কখনো নয়! এটিতো লেলিহান আগুন। যা মাথার চামড়া খসিয়ে নেবে। (সূরা মাআরিজ ৭০:১১-১৬)
মাসআলা-১৩৭: কাফির পৃথিবীর ওজন পরিমাণ স্বর্ণের বিনিময়ে হলেও জাহান্নাম থেকে বাঁচতে চাইবে কিন্তু তখন এ কামনা পূর্ণ হবে না:
إِنَّ الَّذِينَ كَفَرُوا وَمَاتُوا وَهُمْ كُفَّارٌ فَلَنْ يُقْبَلَ مِنْ أَحَدِهِمْ مِّلْءُ الْأَرْضِ ذَهَباً وَلَوِ افْتَدَى بِهِ أُوْلَئِكَ لَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ وَمَا لَهُمْ مِنْ نَاصِرِينَ
অর্থ: নিশ্চয় যারা কুফরী করেছে এবং কাফির অবস্থায় মারা গেছে, তাদের কারো কাছ থেকে যমীন ভরা স্বর্ণ বিনিময়স্বরূপ প্রতিদান করলেও গ্রহণ করা হবে না, তাদের জন্যই রয়েছে বেদনাদায়ক আযাব, আর তাদের জন্য কোনো সাহায্যকারী নেই। (সূরা আলে ইমরান ৩:৯১)
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ ، قَالَ : " يُقَالُ لِلْكَافِرِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ : أَرَأَيْتَ لَوْ كَانَ لَكَ مِلْءُ الْأَرْضِ ذَهَبًا، أَكُنْتَ تَفْتَدِي بِهِ؟ فَيَقُولُ: نَعَمْ، فَيُقَالُ لَهُ: قَدْ سُئِلْتَ أَيْسَرَ مِنْ ذَلِكَ "
অর্থ: "আনাস বিন মালেক (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: কিয়ামতের দিন কাফিরকে বলা হবে, যদি পথিবী পরিমাণ স্বর্ণ তোমার থাকে তাহলে কি তুমি তা এর বিনিময় দান করতে? সে বলবে: হ্যাঁ। তাকে বলা হবে এর চেয়েও সহজ জিনিস তোমার কাছে চাওয়া হয়েছিল।" (মুসলিম)
মাসআলা-১৩৮: আযাব দেখে মুশরিকদের নির্ধারণ কৃত শরীকদের ব্যাপারে আপেক্ষ "হায় আমাদেরকে যদি একবার দুনিয়াতে পাঠানো হত, তাহলে আমরা এ নেতাদের কাছ থেকে এমনভাবে সম্পর্ক মুক্ত থাকতাম যেমন তারা আজ আমাদের থেকে সম্পর্ক মুক্ত":
إِذْ تَبَرَّأُ الَّذِينَ اتَّبِعُوا مِنَ الَّذِينَ اتَّبَعُوا وَرَأَوُا الْعَذَابَ وَتَقَطَّعَتْ بِهِمُ الأَسْبَابُ وَقَالَ الَّذِينَ اتَّبَعُوا لَوْ أَنَّ لَنَا كَرَّةً فَنَتَبَرَّأَ مِنْهُمْ كَمَا تَبَرَّءُوا مِنَّا كَذَلِكَ يُرِيهِمُ اللَّهُ أَعْمَالَهُمْ حَسَرَاتٍ عَلَيْهِمْ وَمَا هُمْ بِخَارِجِينَ مِنَ النَّارِ
অর্থ: যখন, যাদেরকে অনুসরণ করা হয়েছে, তারা অনুসারীদের থেকে আলাদা হয়ে যাবে এবং তারা আযাব দেখতে পাবে। আর তাদের সব সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে যাবে। আর যারা অনুসরণ করেছে, তারা বলবে, 'যদি আমাদের ফিরে যাওয়ার সুযোগ হত, তাহলে আমরা তাদের থেকে আলাদা হয়ে যেতাম, যেভাবে তারা আলাদা হয়ে গিয়েছে'। এভাবে আল্লাহ তাদেরকে তাদের আমলসমূহ দেখাবেন, তাদের জন্য আক্ষেপস্বরূপ। আর তারা আগুন থেকে বের হতে পারবে না। (সূরা বাকারা ২:১৬৬-১৬৭)
মাসআলা-১৩৯: আগুনের আযাব দেখে কাফিরের দিলে সৃষ্ট বেদনা: আফসোস! আমি যদি আল্লাহর সাথে নাফরমানী না করতাম। আফসোস! আমি যদি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সাথে ঠাট্টা বিদ্রুপ না করতাম। আফসোস। আমি যদি হিদায়াত প্রাপ্ত হতে চেষ্টা করতাম। আফসোস। আমিও যদি পরহেযগার হয়ে যেতাম। আফসোস। যদি একবার সুযোগ মিলে তাহলে আমিও নেককার হয়ে যাব:
وَاتَّبِعُوا أَحْسَنَ مَا أُنزِلَ إِلَيْكُم مِّنْ رَّبِّكُمْ مِنْ قَبْلِ أَنْ يَأْتِيَكُمُ الْعَذَابُ بَغْتَةً وَأَنتُمْ لا تَشْعُرُونَ أَن تَقُولَ نَفْسٌ يُحَسْرَتَا عَلَى مَا فَرَّطْتُ فِي جَنْبِ اللَّهِ وَإِنْ كُنْتُ لَمِنَ السَّاخِرِينَ أَوْ تَقُولَ لَوْ أَنَّ اللَّهَ هَدَانِي لَكُنْتُ مِنَ الْمُتَّقِينَ أَوْ تَقُولَ حِينَ تَرَى الْعَذَابَ لَوْ أَنَّ لِي كَرَّةً فَأَكُونَ مِنَ الْمُحْسِنِينَ بَلَى قَدْ جَاءَتْكَ آيَاتِي فَكَذَّبْتَ بِهَا وَاسْتَكْبَرْتَ وَكُنْتَ مِنَ الْكَافِرِينَ
অর্থ: আর অনুসরণ কর উত্তম যা নাযিল করা হয়েছে তোমাদের রবের পক্ষ থেকে, তোমাদের উপর অতর্কিতভাবে আযাব আসার পূর্বে। অথচ তোমরা উপলব্ধি করতে পারবে না। যাতে কাউকেও বলতে না হয়, 'হায় আফসোস! আল্লাহর হক আদায়ে আমি যে শৈথিল্য করেছিলাম তার জন্য। আর আমি কেবল ঠাট্টা-বিদ্রূপকারীদের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত ছিলাম'। অথবা যাতে কাউকে একথাও বলতে না হয়, 'আল্লাহ যদি আমাকে হিদায়াত দিতেন তাহলে অবশ্যই আমি মুত্তাকীদের অন্তর্ভুক্ত হতাম'। অথবা আযাব প্রত্যক্ষ করার সময় যাতে কাউকে একথাও বলতে না হয়, 'যদি একবার ফিরে যাওয়ার সুযোগ আমার হত, তাহলে আমি মু'মিনদের অন্তর্ভুক্ত হতাম'। হ্যাঁ, অবশ্যই তোমার কাছে আমার নিদর্শনাবলী এসেছিল, অতঃপর তুমি সেগুলোকে অস্বীকার করেছিলে এবং তুমি অহঙ্কার করেছিলে। আর তুমি কাফিরদের অন্তর্ভুক্ত ছিলে। (সূরা যুমার ৩৯:৫৫-৫৯)
মাসআলা-১৪০: প্রতিফল দেখে কাফিরের দুঃখ আফসোস! আমার আমল নামা যেন আমাকে না দেয়া হয়, আফসোস হায়। আমার মৃত্যুই যদি আমার শেষ হত:
وَأَمَّا مَنْ أُوتِيَ كِتَابَهُ بِشِمَالِهِ فَيَقُولُ يُلَيْتَنِي لَمْ أُوْتَ كِتَابِيَهُ وَلَمْ أَدْرِ مَا حِسَابِيَهُ يُلَيْتَهَا كَانَتِ الْقَاضِيَةَ
অর্থ: কিন্তু যার আমলনামা তার বাম হাতে দেয়া হবে সে বলবে, 'হায়! আমাকে যদি আমার আমলনামা দেয়া না হত'! 'আর যদি আমি না জানতাম আমার হিসাব'! 'হায়! মৃত্যুই যদি আমার চূড়ান্ত ফায়সালা হত'! (সূরা হাক্কাহ ৬৯:২৫-২৭)
মাসআলা-১৪১: আফসোস! আমি যদি আল্লাহর সাথে শিরক না করতাম:
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : " كُلُّ أَهْلِ النَّارِ يَرَى مَقْعَدَهُ مِنَ الْجَنَّةِ فَيَقُولُ: لَوْ أَنَّ اللَّهَ هَدَانِي فَتَكُونُ عَلَيْهِ حَسْرَةٌ، وَكُلُّ أَهْلِ الْجَنَّةِ يَرَى مَقْعَدَهُ مِنَ النَّارِ فَيَقُولُ: لَوْلَا أَنَّ اللَّهَ هَدَانِي فَيَكُونُ لَهُ شُكْرْ ، ثُمَّ تَلَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ { أَنْ تَقُولَ نَفْسٌ يَا حَسْرَنَا عَلَى مَا فَرَّطْتُ فِي جَنْبِ اللَّهِ }
অর্থ: "আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ বলেছেন: সমস্ত জাহান্নামবাসী জান্নাতে তার ঠিকানা দেখতে পাবে, আর আফসোস করে বলবে: হায়! আল্লাহ যদি আমাকে হিদায়াত প্রাপ্ত করতেন! তা দেখা তাদের জন্য আফসোসের কারণ হবে। আর প্রত্যেক জান্নাতীকে জাহান্নামে তার ঠিকানা দেখানো হবে। তখন সে বলবে: যদি আল্লাহ আমাকে হিদায়াত না দিত (তাহলে আমাকে সেখানে যেতে হত) তা দেখা হবে তার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশের কারণ। এরপর রাসূলুল্লাহ তেলাওয়াত করলেন: হায়! আল্লাহর প্রতি আমার কর্তব্যে আমি যে শৈথিল্য করেছি তার জন্য আফসোস!" (হাকেম)
টিকাঃ
৪১. কিতাব সিফাতুল মুনাফেকীন, বাব ফিল কুফার।
৪২. সিলসিলা আহাদিস সহীহ লি আল বানী ৫ম খ. হাদীস নং-২০৩৪।
📄 জাহান্নামের আরো একটি সুযোগ লাভের আকাঙ্ক্ষা
মাসআলা-১৪২ : কাফির আগুন দেখে সত্যকে স্বীকার করবে আর সৎ আমল করার জন্য দ্বিতীয়বার পৃথিবীতে ফিরে আসার জন্য আকাঙ্খা করবে:
يَوْمَ يَأْتِي تَأْوِيلُهُ يَقُولُ الَّذِينَ نَسُوهُ مِن قَبْلُ قَدْ جَاءَتْ رُسُلُ رَبِّنَا بِالْحَقِّ فَهَل لَّنَا مِنْ شُفَعَاءَ فَيَشْفَعُوا لَنَا أَوْ نُرَدُّ فَنَعْمَلَ غَيْرَ الَّذِي كُنَّا نَعْمَلُ قَدْ خَسِرُوا أَنْفُسَهُمْ وَضَلَّ عَنْهُمْ مَّا كَانُوا يَفْتَرُونَ
অর্থ: তারা কি শুধু তার পরিণামের অপেক্ষা করছে? যেদিন তার পরিণাম প্রকাশ হবে, তখন পূর্বে যারা তাকে ভুলে গিয়েছিল, তারা বলবে, 'আমাদের রবের রাসূলগণ তৌ সত্য নিয়ে এসেছিলেন। সুতরাং আমাদের জন্য কি সুপারিশকারীদের কেউ আছে, যে আমাদের জন্য সুপারিশ করবে, কিংবা আমাদের প্রত্যাবর্তন করানো হবে, অতঃপর আমরা যা করতাম তা ভিন্ন অন্য আমল করব'? তারা তো নিজদেরকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে এবং তারা যে মিথ্যা রটাত, তা তাদের থেকে বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছে। (সূরা আরাফ ৭:৫৩)
মাসআলা-১৪৩ : জাহান্নাম থেকে মুক্তি পেয়ে আগামীতে ভাল আমল করার দরখাস্তের ব্যাপারে জাহান্নামের পাহারাদারের কড়া কড়া উত্তর" যালিমদের জন্য এখানে কোনো সাহায্যকারী নেই:
وَهُمْ يَصْطَرِخُونَ فِيهَا رَبَّنَا أَخْرِجْنَا نَعْمَلْ صَالِحاً غَيْرَ الَّذِي كُنَّا نَعْمَلُ أَوَلَمْ نُعَمِّرْكُمْ مَّا يَتَذَكَّرُ فِيهِ مَنْ تَذَكَّرَ وَجَاءَكُمُ النَّذِيرُ فَذُوقُوا فَمَا لِلظَّالِمِينَ مِنْ نَصِيرٍ
অর্থ: আর সেখানে তারা আর্তনাদ করে বলবে, 'হে আমাদের রব! আমাদেরকে বের করে দিন, আমরা পূর্বে যে আমল করতাম, তার পরিবর্তে আমরা নেক আমল করব'। (আল্লাহ বলবেন) 'আমি কি তোমাদেরকে এতটা বয়স দেইনি যে, তখন কেউ শিক্ষাগ্রহণ করতে চাইলে শিক্ষাগ্রহণ করতে পারত? আর তোমাদের কাছে তো সতর্ককারী এসেছিল। কাজেই তোমরা আযাব আস্বাদন কর, আর যালিমদের কোনো সাহায্যকারী নেই। (সূরা ফাতির ৩৫:৩৭)
মাসআলা-১৪৪: জাহান্নামে মুশরিকদের অন্যায় স্বীকার ও সুযোগ হলে মু'মিন হওয়ার আকাঙ্খা:
فَكُبْكِبُوا فِيهَا هُمْ وَالْغَاوُونَ وَجُنُودُ إِبْلِيسَ أَجْمَعُونَ قَالُوا وَهُمْ فِيهَا يَخْتَصِمُونَ تَاللَّهِ إِنْ كُنَّا لَفِي ضَلَالٍ مُّبِينٍ إِذْ نُسَوِيكُمْ بِرَبِّ الْعَالَمِينَ وَمَا أَضَلَّنَا إِلَّا الْمُجْرِمُونَ فَمَا لَنَا مِنْ شَافِعِينَ وَلَا صَدِيقٍ حَمِيمٍ فَلَوْ أَنَّ لَنَا كَرَّةً فَتَكُونَ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ
অর্থ: অতঃপর তাদেরকে এবং পথভ্রষ্টকারীদেরকে উপুড় করে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে, আর ইবলীসের সকল সৈন্যবাহিনীকে। সেখানে পরস্পর ঝগড়া করতে গিয়ে তারা বলবে, 'আল্লাহর কসম! আমরা তো সুস্পষ্ট পথভ্রষ্টতায় নিমজ্জিত ছিলাম', 'যখন আমরা তোমাদেরকে সকল সৃষ্টির রবের সমকক্ষ বানাতাম'। 'আর অপরাধীরাই শুধু আমাদেরকে পথভ্রষ্ট করেছিল'; 'অতএব, আমাদের কোনো সুপারিশকারী নেই'। 'এবং কোনো অন্তরঙ্গ বন্ধুও নেই'। 'হায়! আমাদের যদি আরেকটি সুযোগ হত, তবে আমরা মু'মিনদের অর্ন্তভুক্ত হতাম'। (সূরা শুআরা ২৬:৯৪-১০২)
মাসআলা-১৪৫: আল্লাহর সামনে লজ্জিত হয়ে কাফির ঈমান আনার অঙ্গিকার করে দ্বিতীয় বার পৃথিবীতে আসার আবেদন জানাবে উত্তরে বলা হবে: তোমাদের কৃতকর্মের বদলা হিসেবে তোমরা সর্বদা জাহান্নামের স্বাদ গ্রহণ কর:
وَلَوْ تَرَى إِذِ الْمُجْرِمُونَ نَاكِسُوا رُءُوسِهِمْ عِندَ رَبِّهِمْ رَبَّنَا أَبْصَرْنَا وَسَمِعْنَا فَارْجِعْنَا نَعْمَلْ صَالِحاً إِنَّا مُوقِنُونَ وَلَوْ شِئْنَا لَآتَيْنَا كُلَّ نَفْسٍ هُدَاهَا وَلَكِنْ حَقَّ الْقَوْلُ مِنِّي لَأَمْلأَنَّ جَهَنَّمَ مِنَ الْجِنَّةِ وَالنَّاسِ أَجْمَعِينَ فَذُوقُوا بِمَا نَسِيتُمْ لِقَاءَ يَوْمِكُمْ هَذَا إِنَّا نَسِينَاكُمْ وَذُوقُوا عَذَابَ الْخُلْدِ بِمَا كُنتُمْ تَعْمَلُونَ
অর্থ: যদি আপনি দেখতেন যখন অপরাধীরা তাদের পালনকর্তার সামনে নতশির হয়ে বলবে, হে আমাদের পালনকর্তা, আমরা দেখলাম ও শ্রবণ করলাম। এখন আমাদেরকে পাঠিয়ে দিন, আমরা সৎকর্ম করব। আমরা দৃঢ়বিশ্বাসী হয়ে গেছি। আমি ইচ্ছা করলে প্রত্যেককে সঠিক দিক নির্দেশ দিতাম; কিন্তু আমার এ উক্তি অবধারিত সত্য যে, আমি জ্বিন ও মানব সকলকে দিয়ে অবশ্যই জাহান্নাম পূর্ণ করব। অতএব এ দিবসকে ভুলে যাওয়ার কারণে তোমরা মজা আস্বাদন কর। আমিও তোমাদেরকে ভুলে গেলাম, তোমরা তোমাদের কৃতকর্মের কারণে স্থায়ী আযাব ভোগ কর। (সূরা সাজদা ৩২:১২-১৪)
মাসআলা-১৪৬: আগুনের আযাব দেখে কাফির একবার সুযোগ পেয়ে সৎ হয়ে জীবন যাপনের জন্য আগ্রহ প্রকাশ করবে কিন্তু তা পুরণ হবে না:
أَوْ تَقُولَ حِينَ تَرَى الْعَذَابَ لَوْ أَنَّ لِي كَرَّةً فَأَكُونَ مِنَ الْمُحْسِنِينَ بَلَى قَدْ جَاءَتْكَ آيَاتِي فَكَذَّبْتَ بِهَا وَاسْتَكْبَرْتَ وَكُنْتَ مِنَ الْكَافِرِينَ
অর্থ: অথবা আযাব প্রত্যক্ষ করার সময় যাতে কাউকে একথাও বলতে না হয়, 'যদি একবার ফিরে যাওয়ার সুযোগ আমার হত, তাহলে আমি মু'মিনদের অন্তর্ভুক্ত হতাম'। হ্যাঁ, অবশ্যই তোমার কাছে আমার নিদর্শনাবলী এসেছিল, অতঃপর তুমি সেগুলোকে অস্বীকার করেছিলে এবং তুমি অহঙ্কার করেছিলে। আর তুমি কাফিরদের অন্তর্ভুক্ত ছিলে। (সূরা যুমার ৩৯:৫৮-৫৯)
মাসআলা-১৪৭: জাহান্নামী আল্লাহর সামনে জাহান্নাম থেকে বের হওয়ার জন্য ঈমান আনার ব্যাপারে ওয়াদা করবে উত্তরে আল্লাহর পক্ষ থেকে কঠিনভাবে ধমক দেয়া হবে:
قَالُوا رَبَّنَا غَلَبَتْ عَلَيْنَا شِقْوَتُنَا وَكُنَّا قَوْماً ضَالِّينَ رَبَّنَا أَخْرِجْنَا مِنْهَا فَإِنْ عُدْنَا فَإِنَّا ظَالِمُونَ قَالَ اخْسَئُوا فِيهَا وَلَا تُكَلِّمُونِ إِنَّهُ كَانَ فَرِيقٌ مِّنْ عِبَادِي يَقُولُونَ رَبَّنَا آمَنَّا فَاغْفِرْ لَنَا وَارْحَمْنَا وَأَنتَ خَيْرُ الرَّاحِمِينَ فَاتَّخَذْتُمُوهُمْ سِخْرِيَّاً حَتَّى أَنسَوْكُمْ ذِكْرِي وَكُنْتُمْ مِّنْهُمْ تَضْحَكُونَ
অর্থ: তারা বলবে, হে আমাদের পালনকর্তা! আমরা দুর্ভাগ্যের হাতে পরাভূত ছিলাম এবং আমরা ছিলাম বিভ্রান্ত জাতি। হে আমাদের পালনকর্তা! এ থেকে আমাদেরকে উদ্ধার কর; আমরা যদি পুনরায় তা করি, তবে আমরা গুনাহগার হব। আল্লাহ বলবেনঃ তোমরা ধিকৃত অবস্থায় এখানেই পড়ে থাক এবং আমার সাথে কোনো কথা বলো না। আমার বান্দাদের একদলে বলত: হে আমাদের পালনকর্তা! আমরা বিশ্বাস স্থাপন করেছি। অতএব তুমি আমাদেরকে ক্ষমা কর ও আমাদের প্রতি রহম কর। তুমি তো দয়ালুদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ দয়ালু। অতঃপর তোমরা তাদেরকে ঠাট্টার পাত্ররূপে গ্রহণ করতে। এমনকি, তা তোমাদেরকে আমার স্মরণ ভুলিয়ে দিয়েছিল এবং তোমরা তাদেরকে দেখে পরিহাস করতে। (সূরা মু'মিনূন ২৩:১০৬-১১০)
মাসআলা-১৪৮: আগুনের আযাব দেখে কাফির এক মুহূর্তের জন্য সুযোগ চাইবে যাতে ঈমান আনতে পারে কিন্তু তার দরখাস্ত কবুল হবে না:
وَأَنذِرِ النَّاسَ يَوْمَ يَأْتِيهِمُ الْعَذَابُ فَيَقُولُ الَّذِينَ ظَلَمُوا رَبَّنَا أَخْرْنَا إِلَى أَجَلٍ قَرِيبٍ تُجِبْ دَعْوَتَكَ وَنَتَّبِعِ الرُّسُلَ أَوَلَمْ تَكُونُوا أَقْسَمْتُمْ مِّنْ قَبْلُ مَا لَكُمْ مِنْ زَوَالٍ
অর্থ: আর তুমি মানুষদেরকে সতর্ক কর, যেদিন তাদের উপর আযাব নেমে আসবে। অতঃপর তখন যারা যুলুম করেছে তারা বলবে, 'হে আমাদের রব! তুমি আমাদেরকে কিছু সময়ের জন্য অবকাশ দাও, আমরা তোমার ডাকে সাড়া দেব এবং রাসূলদের অনুসরণ করব'। ইতঃপূর্বে তোমরা কি কসম করনি যে, তোমাদের কোনো পতন নেই? (সূরা ইবরাহীম ১৪:৪৪)
মাসআলা-১৪৯: জাহান্নামের পাশে দাঁড়িয়ে কাফিরের আরেক দফা পৃথিবীতে ফিরে আসার আবেদন:
وَلَوْ تَرَى إِذْ وُقِفُوا عَلَى النَّارِ فَقَالُوا يُلَيْتَنَا نُرَدُّ وَلَا نُكَذِّبَ بِآيَاتِ رَبِّنَا وَنَكُونَ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ
অর্থ: আর যদি তুমি দেখতে, যখন তাদেরকে আগুনের উপর আটকানো হবে, তখন তারা বলবে, 'হায়! যদি আমাদেরকে ফেরত পাঠানো হত। আর আমরা আমাদের রবের আয়াতসমূহ অস্বীকার না করতাম এবং আমরা মু'মিনদের অন্তর্ভুক্ত হতাম!' (সূরা আনআম ৬:২৭)
মাসআলা-১৫০: জাহান্নামের আযাব দেখে দ্বিতীয়বার পৃথিবীতে ফিরে যাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ:
وَتَرَى الظَّالِمِينَ لَمَّا رَأَوُا الْعَذَابَ يَقُولُونَ هَلْ إِلَى مَرَدَّ مِنْ سَبِيلٍ وَتَرَاهُمْ يُعْرَضُونَ عَلَيْهَا خَاشِعِينَ مِنَ الذُّلِّ يَنْظُرُونَ مِنْ طَرْفٍ خَفِيٍّ وَقَالَ الَّذِينَ آمَنُوا إِنَّ الْخَاسِرِينَ الَّذِينَ خَسِرُوا أَنفُسَهُمْ وَأَهْلِيهِمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ أَلَا إِنَّ الظَّالِمِينَ فِي عَذَابٍ مُّقِيمٍ
অর্থ: আর তুমি যালিমদেরকে দেখবে, যখন তারা আযাব প্রত্যক্ষ করবে তখন বলবে, 'ফিরে যাওয়ার কোনো পথ আছে কি'? তুমি তাদেরকে আরো দেখবে যে, তাদেরকে অপমানে অবনত অবস্থায় জাহান্নামে উপস্থিত করা হচ্ছে, তারা আড় চোখে তাকাচ্ছে। আর কিয়ামতের দিন মু'মিনগণ বলবে, তারাই তো ক্ষতিগ্রস্ত যারা নিজেদের ও পরিবার-পরিজনের ক্ষতি সাধন করেছে। সাবধান! যালিমরাই থাকবে স্থায়ী আযাবে। (সূরা শুরা ৪২:৪৪-৪৫)
মাসআলা-১৫১: কঠিন শাস্তিতে নিমজ্জিত মুজরিমদের আবেদন "হে আমাদের প্রভু! একবার একটু আযাব দূর করুন আমরা ঈমান আনব"
رَبَّنَا اكْشِفْ عَنَّا الْعَذَابَ إِنَّا مُؤْمِنُونَ أَنَّى لَهُمُ الذِّكْرَى وَقَدْ جَاءَهُمْ رَسُولٌ مُّبِينٌ ثُمَّ تَوَلَّوْا عَنْهُ وَقَالُوا مُعَلَّمٌ مَّجْنُونَ إِنَّا كَاشِفُو الْعَذَابِ قَلِيلًا إِنَّكُمْ عَائِدُونَ يَوْمَ نَبْطِشُ الْبَطْشَةَ الْكُبْرَى إِنَّا مُنتَقِمُونَ
অর্থ: (তখন তারা বলবে) 'হে আমাদের রব! আমাদের থেকে আযাব দূর করুন; নিশ্চয় আমরা মু'মিন হব।' এখন কীভাবে তারা উপদেশ গ্রহণ করবে, অথচ ইতঃপূর্বে তাদের কাছে সুস্পষ্টভাবে বর্ণনাকারী রাসূল এসেছিল? তারপর তারা তাঁর দিক থেকে বিমুখ হয়েছিল এবং বলেছিল 'এ শিক্ষাপ্রাপ্ত পাগল'। নিশ্চয় আমি ক্ষণকালের জন্য আযাব দূর করব; নিশ্চয় তোমরা পূর্বাবস্থায় ফিরে যাবে। সেদিন আমি প্রবলভাবে পাকড়াও করব; নিশ্চয় আমি হব প্রতিশোধ গ্রহণকারী। (সূরা দুখান ৪৪:১২-১৬)
মাসআরা-১৫২: ইবরাহিম (আ)-এর পিতা আষর জাহান্নাম দেখে বলবে: হে ইবরাহিম! আজ আমি তোমার কথা শুনব কিন্তু তখন ইবরাহিম (আ) এর পিতাকেও সুযোগ দেয়া হবে না বরং জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে:
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، قَالَ : " يَلْقَى إِبْرَاهِيمُ أَبَاهُ آزَرَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ، وَعَلَى وَجْهِ آزَرَ قَتَرَةً وَغَبَرَةٌ، يَقُولُ لَهُ إِبْرَاهِيمُ : أَلَمْ أَقُلْ لَكَ لَا تَعْصِنِي، فَيَقُولُ أَبُوهُ: فَالْيَوْمَ لَا أَعْصِيكَ. فَيَقُولُ إِبْرَاهِيمُ : يَا رَبِّ إِنَّكَ وَعَدْتَنِي أَنْ لَا تُخْزِينِي يَوْمَ يُبْعَثُونَ، فَأَيُّ خِزْيِ أَخْزَى مِنْ أَبِي الْأَبْعَدِ؟ فَيَقُولُ اللَّهُ تَعَالَى: " إِنِّي حَرَّمْتُ الْجَنَّةَ عَلَى الْكَافِرِينَ، ثُمَّ يُقَالُ: يَا إِبْرَاهِيمُ مَا تَحْتَ رِجْلَيْكَ؟ فَيَنْظُرُ، فَإِذَا هُوَ ضَبُحْ مُلْتَطِحْ فَيُؤْخَذُ بِقَوَائِمِهِ فَيُلْقَى فِي النَّارِ "
অর্থ: "আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি নবী থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইবরাহিম (আ) কিয়ামতের দিন তাঁর পিতাকে এমনভাবে দেখতে পাবে যে, তার মুখে কাল ও ধুলাময়, তখন ইবরাহিম (আ) বলবেন: আমি কি পৃথিবীতে তোমাকে বলি নাই যে, আমার কথা অমান্য করবে না? আযর বলবে: আচ্ছা আজ আমি তোমার কথা অমান্য করব না। তখন ইবরাহিম (আ) স্বীয় রবের নিকট আবেদন করবে যে, হে আমার রব! তুমি আমাকে ওয়াদা দিয়েছিলে যে, কিয়ামতের দিন আমাকে অপমানিত করবে না কিন্তু এর চেয়ে বড় অপমান আর কি হতে পারে যে, আমার পিতা তোমার রহমত থেকে বঞ্চিত। আল্লাহ বলবেন: হে ইবরাহিম! তোমার উভয় পায়ের নিচে কি? ইবরাহিম (হঠাৎ) দেখবেন আবর্জনার সাথে মিসা এক মূর্তি যাকে ফেরেশতারা পদাঘাত করে জাহান্নামে নিক্ষেপ করছে।" (বুখারী ৪/৩৩৫০)৪০
টিকাঃ
৪২ সিলসিলা আহাদিস সহীহ লি আল বানী ৫ম খ. হাদীস নং-২০৩৪।
৪০ কিতাব বাদউল খালক, বাব কাওলিল্লাহি তা'আলা ওয়াত্বাখাজাল্লাহা ইবরাহিমা খালীলা।
📄 জাহান্নামে ইবলীস
মাসআলা-১৫৩ : জাহান্নামে প্রবেশের পর ইবলীস তার অনুসারীদেরকে লক্ষ্য করে বক্তব্য দিবে:
وَقَالَ الشَّيْطَانُ لَمَّا قُضِيَ الْأَمْرُ إِنَّ اللَّهَ وَعَدَكُمْ وَعْدَ الْحَقِّ وَوَعَدتُكُمْ فَأَخْلَفْتُكُمْ وَمَا كَانَ لِي عَلَيْكُمْ مِّنْ سُلْطَانٍ إِلَّا أَنْ دَعَوْتُكُمْ فَاسْتَجَبْتُمْ لِي فَلَا تَلُومُونِي وَلُومُوا أَنفُسَكُمْ مَّا أَنَا بِمُصْرِخِكُمْ وَمَا أَنتُمْ بِمُصْرِخِيَّ إِنِّي كَفَرْتُ بِمَا أَشْرَكْتُمُونِ مِنْ قَبْلُ إِنَّ الظَّالِمِينَ لَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ
অর্থ: আর যখন যাবতীয় বিষয়ের ফায়সালা হয়ে যাবে, তখন শয়তান বলবে, ‘নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদেরকে ওয়াদা দিয়েছিলেন সত্য ওয়াদা, তোমাদের উপর আমার কোনো আধিপত্য ছিল না, তবে আমিও তোমাদেরকে ওয়াদা দিয়েছিলাম, এখন আমি তা ভঙ্গ করলাম। তোমাদেরকে দাওয়াত দিয়েছি, আর তোমরা আমার দাওয়াতে সাড়া দিয়েছ। সুতরাং তোমরা আমাকে ভর্ৎসনা করো না, বরং নিজদেরকেই ভর্ৎসনা কর। আমি তোমাদের উদ্ধারকারী নই, আর তোমরাও আমার উদ্ধারকারী নও। ইতঃপূর্বে তোমরা আমাকে যার সাথে শরীক করেছ, নিশ্চয় আমি তা অস্বীকার করছি। নিশ্চয় যালিমদের জন্য রয়েছে বেদনাদায়ক আযাব’। (সূরা ইবরাহীম ১৪:২২)
মাসআলা-১৫৪ : ইবলীসের দৃষ্টান্তমূলক শেষ পরিণতি:
মাসআলা-১৫৫ : কিয়ামতের দিন সর্বপ্রথম ইবলীসকে আগুনের পোশাক পরানো হবে:
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، قَالَ: " أَوَّلُ مَنْ يُكْسَى حُلَةً مِنَ النَّارِ إِبْلِيسُ فَيَضَعُهَا عَلَى حَاجِبِيهِ وَيَسْحَبُهَا مِنْ خَلْفِهِ, وَذُرِّيَّتُهُ مِنْ بَعْدِهِ وَهُوَ يُنَادِي يَا ثُبُورَاهُ وَيَنْدُونَ : يَا ثُبُورَهُمْ, حَتَّى يَقِفَ عَلَى النَّارِ فَيَقُولُ: يَا ثُبُورَاهُ, وَيَقُلُونَ: يَا ثُبُورَهُمْ, فَيَقُولُ: {لَا تَدْعُوا الْيَوْمَ ثُبُورًا وَاحِدًا وَادْعُوا ثُبُورًا كَثِيرًا }
অর্থ: "আনাস বিন মালেক (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ বলেছেন: জাহান্নামে সর্বপ্রথম ইবলীসকে আগুনের পোশাক পরানো হবে। তা তার কপালের ওপর রেখে পিছন থেকে টানা হবে, তার সন্তানরা (তার চেলারা) তার পিছে পিছে চলবে, ইবলীস তার মৃত্যু ও ধ্বংস কামনা করতে থাকবে তার ভক্তরাও মৃত্যু ও ধ্বংস কামনা করতে থাকবে, এমন কি যখন সে জাহান্নামের কাছে এসে উপস্থিত হবে, তখন ইবলীস বলবে: হায় মৃত্যু! তার সাথে তার ভক্তরাও বলবে: হায় মৃত্যু! তখন তাকে বলা হবে আজ এক মৃত্যু নয় বহু মৃত্যুকে ডাক।” (আহমদ ৭/৩৫৯০৭)৪৪
টিকাঃ
৪৪ ইবনে কাসীর ৩/৪১৫
📄 স্মৃতিচারণ
মাসআলা-১৫৬: জাহান্নামে এক ভাল বন্ধুর স্মৃতিচারণ ও তার তালাশ:
وَقَالُوا مَا لَنَا لَا نَرَى رِجَالًا كُنَّا نَعْتُهُمْ مِّنَ الْأَشْرَارِ أَتَّخَذْنَاهُمْ سِخْرِيّاً أَمْ زَاغَتْ عَنْهُمُ الْأَبْصَارُ إِنَّ ذَلِكَ لَحَقُّ تَخَاصُمُ أَهْلِ النَّارِ
অর্থ: তারা আরো বলবে, 'আমাদের কী হলো যে, আমরা যাদের মন্দ গণ্য করতাম সেসকল লোককে এখানে দেখছি না।' 'তবে কি আমরা তাদের ঠাট্টা-বিদ্রূপের পাত্র মনে করতাম, নাকি তাদের ব্যাপারে [আমাদের] দৃষ্টি বিভ্রম ঘটেছে'? নিশ্চয় এটি সুনিশ্চিত সত্য- জাহান্নামীদের এই পারস্পরিক বাকবিতণ্ডা। (সূরা সোয়াদ ৩৮:৬২-৬৪)
মাসআলা-১৫৭: জাহান্নামে এক পথভ্রষ্ট বে-দ্বীন বন্ধুর স্মৃতিচারণ:
وَيَوْمَ يَعْضُّ الظَّالِمُ عَلَى يَدَيْهِ يَقُولُ يُلَيْتَنِي اتَّخَذْتُ مَعَ الرَّسُولِ سَبِيلاً يُوَيْلَتَا لَيْتَنِي لَمْ أَتَّخِذْ فُلاناً خَلِيلًا لَقَدْ أَضَلَّنِي عَنِ الذِّكْرِ بَعْدَ إِذْ جَاءَنِي وَكَانَ الشَّيْطَانُ لِلْإِنْسَانِ خَذُولاً
অর্থ: আর সেদিন যালিম নিজের হাত দু'টো কামড়িয়ে বলবে, 'হায়! আমি যদি রাসূলের সাথে কোনো পথ অবলম্বন করতাম'! 'হায় আমার দুর্ভোগ, আমি যদি অমুককে বন্ধুরূপে গ্রহণ না করতাম'। 'অবশ্যই সে তো আমাকে উপদেশবাণী থেকে বিভ্রান্ত করেছিল, আমার কাছে তা আসার পর। আর শয়তান তো মানুষের জন্য চরম প্রতারক'। (সূরা ফুরকান ২৫:২৭-২৯)