📄 জাহান্নামে পথ ভ্রষ্ট পীর মুরীদদের ঝগড়া
মাসআলা-১০৮: জাহান্নামে পথভ্রষ্টকারী আলেম ও পীর ফকীরদেরকে লক্ষ্য করে তাদের ভক্তরা বলবে: "এখন আমাদের শাস্তি হালকা কর" তারা উত্তরে বলবে: এখানে আমরা সবাই সমান আমরা তোমাদের কোনো উপকার করতে পারব না:
وَإِذْ يَتَحَاجُّونَ فِي النَّارِ فَيَقُولُ الضُّعَفَاءُ لِلَّذِينَ اسْتَكْبَرُوا إِنَّا كُنَّا لَكُمْ تَبَعاً فَهَلْ أَنتُم مُّغْنُونَ عَنَّا نَصِيباً مِنَ النَّارِ قَالَ الَّذِينَ اسْتَكْبَرُوا إِنَّا كُلَّ فِيهَا إِنَّ اللَّهَ قَدْ حَكَمَ بَيْنَ الْعِبَادِ
অর্থ: আর জাহান্নামে তারা যখন বিতর্কে লিপ্ত হবে তখন দুর্বলরা, যারা অহঙ্কার করেছিল, তাদেরকে বলবে, 'আমরা তো তোমাদের অনুসারী ছিলাম, অতএব তোমরা কি আমাদের থেকে আগুনের কিয়দাংশ বহন করবে'? অহঙ্কারীরা বলবে, 'আমরা সবাই এতে আছি; নিশ্চয় আল্লাহ বান্দাদের মধ্যে ফয়সালা করে ফেলেছেন।' (সূরা মু'মিন ৪০:৪৭-৪৮)
মাসআলা-১০৯: পীর জাহান্নামে যাওয়ার সময় মুরীদদেরকে লক্ষ্য করে বলবে: বদবখত মুরীদদের এদলও জাহান্নামে যাবে, আর মুরীদরা স্বীয় পীরের এ বক্তব্য শুনে বলবে: বদবখত তোমরাও জাহান্নামেই যাচ্ছ? হে আল্লাহ! আমাদেরকে জাহান্নামে প্রেরণ কারীদেরকে ভাল করে শাস্তি দিন:
هَذَا فَوْجٌ مُّقْتَحِمْ مَعَكُمْ لا مَرْحَباً بِهِمْ إِنَّهُمْ صَالُو النَّارِ قَالُوا بَلْ أَنتُمْ لا مَرْحَباً بِكُمْ أَنتُمْ قَدَّمْتُمُوهُ لَنَا فَبِئْسَ الْقَرَارُ قَالُوا رَبَّنَا مَنْ قَدَّمَ لَنَا هَذَا فَزِدْهُ عَذَاباً ضِعْفًا فِي النَّارِ
অর্থ: এই তো এক দল তোমাদের সাথেই প্রবেশ করছে, তাদের জন্য নেই কোনো অভিনন্দন। নিশ্চয় তারা আগুনে জ্বলবে। অনুসারীরা বলবে, 'বরং তোমরাও, তোমাদের জন্যও তো নেই কোনো অভিনন্দন। তোমরাই আমাদের জন্য এ বিপদ এনেছ। অতএব কতই না নিকৃষ্ট এ আবাসস্থল'! তারা বলবে, 'হে আমাদের রব, যে আমাদের জন্য এ বিপদ এনেছে, জাহান্নামে তুমি তার আযাবকে দ্বিগুণ বাড়িয়ে দাও।' (সূরা সোয়াদ ৩৮:৫৯-৬১)
মাসআলা-১১০: পথভ্রষ্টকারী নেতাদের জন্য জাহান্নামে তাদের ভক্তদের লা'নত ও তাদেরকে দ্বিগুণ আযাব দেয়ার জন্য দরখাস্ত:
يَوْمَ تُقَلَّبُ وُجُوهُهُمْ فِي النَّارِ يَقُولُونَ يُلَيْتَنَا أَطَعْنَا اللَّهَ وَأَطَعْنَا الرَّسُولَا وَقَالُوا رَبَّنَا إِنَّا أَطَعْنَا سَادَتَنَا وَكُبَرَاءَنَا فَأَضَلُّونَا السَّبِيلَا رَبَّنَا آتِهِمْ ضِعْفَيْنِ مِنَ الْعَذَابِ وَالْعَنْهُمْ لَعْناً كَبِيراً
অর্থ: "যেদিন তাদের মুখমণ্ডল অগ্নিতে উলট পালট করা হবে, সেদিন তারা বলবে হায়। আমরা যদি আল্লাহকে মানতাম ও রাসূলকে মানতাম! তারা আরো বলবে: হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা আমাদের নেতা ও বড় লোকদের আনুগত্য করেছিলাম এবং তারা আমাদেরকে পথভ্রষ্ট করেছিল। হে আমাদের প্রতিপালক! তাদের দ্বিগুণ শাস্তি প্রদান করুন এবং তাদেরকে দিন মহা অভিসম্পাত।" (সূরা আহযাব: ৬৬-৬৮)
মাসআলা-১১১: জাহান্নামে যাওয়ার পর পথভ্রষ্ট আলেম ও তাদের ভক্তদের পরস্পরের ঝগড়া:
وَأَقْبَلَ بَعْضُهُمْ عَلَى بَعْضٍ يَتَسَاءَلُونَ قَالُوا إِنَّكُمْ كُنْتُمْ تَأْتُونَنَا عَنِ الْيَمِينِ قَالُوا بَلْ لَّمْ تَكُونُوا مُؤْمِنِينَ وَمَا كَانَ لَنَا عَلَيْكُمْ مِّنْ سُلْطَانٍ بَلْ كُنتُمْ قَوْماً طَاغِيْنَ فَحَقَّ عَلَيْنَا قَوْلُ رَبِّنَا إِنَّا لَذَآئِقُونَ فَأَغْوَيْنَاكُمْ إِنَّا كُنَّا غَاوِينَ فَإِنَّهُمْ يَوْمَئِذٍ فِي الْعَذَابِ مُشْتَرِكُونَ
অর্থ: আর তারা একে অপরের মুখোমুখি হয়ে জিজ্ঞেস করবে, তারা বলবে, 'তোমরাই তো আমাদের কাছে আসতে ধর্মীয় দিক থেকে'। জবাবে তারা (নেতৃস্থানীয় কাফিররা) বলবে, 'বরং তোমরা তো মু'মিন ছিলে না'। আর তোমাদের উপর আমাদের কোনো কর্তৃত্ব ছিল না, বরং তোমরা ছিলে সীমালঙ্ঘনকারী কওম'। 'তাই আমাদের বিরুদ্ধে আমাদের রবের বাণী সত্য হয়েছে; নিশ্চয় আমরা আস্বাদন করব (আযাব)'। 'আর আমরা তোমাদেরকে বিভ্রান্ত করেছি, কারণ আমরা নিজেরাই ছিলাম বিভ্রান্ত'। নিশ্চয় তারা সবাই সেদিন আযাবে অংশীদার হবে। (সূরা সাফফাত ৩৭:২৭-৩৩)৩৬
মাসআলা-১১২: জাহান্নামে মুশরিকরা স্বীয় উস্তাদদের চক্রান্তের ভর্ৎসনা করবে তখন উস্তাদরা নিজেদের নির্দোষিতা প্রমাণ করতে চাইবে:
وَقَالَ الَّذِينَ كَفَرُوا لَن تُؤْمِنَ بِهَذَا الْقُرْآنِ وَلَا بِالَّذِي بَيْنَ يَدَيْهِ وَلَوْ تَرَى إِذِ الظَّالِمُونَ مَوْقُوفُونَ عِندَ رَبِّهِمْ يَرْجِعُ بَعْضُهُمْ إِلَى بَعْضِ الْقَوْلَ يَقُولُ الَّذِينَ اسْتُضْعِفُوا لِلَّذِينَ اسْتَكْبَرُوا لَوْلَا أَنتُمْ لَكُنَّا مُؤْمِنِينَ قَالَ الَّذِينَ اسْتَكْبَرُوا لِلَّذِينَ اسْتُضْعِفُوا أَنَحْنُ صَدَدْنَاكُمْ عَنِ الْهُدَى بَعْدَ إِذْ جَاءَكُمْ بَلْ كُنْتُمْ مُجْرِمِينَ وَقَالَ الَّذِينَ اسْتُضْعِفُوا لِلَّذِينَ اسْتَكْبَرُوا بَلْ مَكْرُ اللَّيْلِ وَالنَّهَارِ إِذْ تَأْمُرُونَنَا أَنْ تَكْفُرَ بِاللَّهِ وَنَجْعَلَ لَهُ أَندَاداً وَأَسَرُّوا النَّدَامَةَ لَمَّا رَأَوُا الْعَذَابَ وَجَعَلْنَا الْأَغْلَالَ فِي أَعْنَاقِ الَّذِينَ كَفَرُوا هَلْ يُجْزَوْنَ إِلَّا مَا كَانُوا يَعْمَلُونَ
অর্থ: আর কাফিরগণ বলে, 'আমরা কখনো এ কুরআনের প্রতি ঈমান আনব না এবং এর পূর্ববর্তী কোনো কিতাবের প্রতিও না'। আর তুমি যদি দেখতে যালিমদেরকে, যখন তাদের রবের কাছে দাঁড় করিয়ে দেয়া হবে তখন তারা পরস্পর বাদানুবাদ করতে থাকবে। যাদেরকে দুর্বল করে রাখা হয়েছিল তারা অহঙ্কারীদেরকে বলবে, 'তোমরা না থাকলে অবশ্যই আমরা মু'মিন হতাম'। যারা অহঙ্কারী ছিল তারা, তাদেরকে বলবে, যাদেরকে দুর্বল করে রাখা হয়েছিল, 'তোমাদের কাছে হিদায়াত আসার পর আমরা কি তোমাদেরকে তা থেকে বাধা দিয়েছিলাম? বরং তোমরাই ছিলে অপরাধী'। আর যাদেরকে দুর্বল করে রাখা হয়েছিল তারা, যারা অহঙ্কারী ছিল তাদেরকে বলবে, 'বরং এ ছিল তোমাদের দিন-রাতের চক্রান্ত, যখন তোমরা আমাদেরকে আদেশ দিয়েছিলে যেন আমরা আল্লাহকে অস্বীকার করি এবং তাঁর সমকক্ষ স্থির করি'। আর তারা যখন আযাব দেখবে তখন তারা অনুতাপ গোপন করবে। আর আমি কাফিরদের গলায় শৃঙ্খল পরিয়ে দেব। তারা যা করত কেবল তারই প্রতিফল তাদেরকে দেয়া হবে। (সূরা সাবা ৩৪:৩১-৩৩)
মাসআলা-১১৩: জাহান্নামে মুরীদরা পীরদেরকে বলবে আমাদেরকে আল্লাহর আযাব থেকে রক্ষা কর, তারা উত্তরে বলবে: এখানে আল্লাহর আযাব থেকে বাঁচানোর মত কেউ নেই:
وَبَرَزُوا اللَّهِ جَمِيعاً فَقَالَ الضُّعَفَاءُ لِلَّذِينَ اسْتَكْبَرُوا إِنَّا كُنَّا لَكُمْ تَبَعاً فَهَلْ أَنتُمْ مُّغْنُونَ عَنَّا مِنْ عَذَابِ اللَّهِ مِنْ شَيْءٍ قَالُوا لَوْ هَدَانَا اللَّهُ لَهَدَيْنَاكُمْ سَوَاءٌ عَلَيْنَا أَجَزِعْنَا أَمْ صَبَرْنَا مَا لَنَا مِنْ مَّحِيصٍ
অর্থ: আর তারা সবাই আল্লাহর সামনে হাজির হবে, অতঃপর যারা অহঙ্কার করেছে দুর্বলরা তাদেরকে বলবে, 'নিশ্চয় আমরা তোমাদের অনুসারী ছিলাম। সুতরাং তোমরা কি আল্লাহর আযাবের মোকাবেলায় আমাদের কোনো উপকারে আসবে'? তারা বলবে, 'যদি আল্লাহ আমাদের হিদায়াত করতেন, তাহলে আমরাও তোমাদের হিদায়াত করতাম, এখন আমরা অস্থির হই কিংবা সবর করি, উভয় অবস্থাই আমাদের জন্য সমান, আমাদের পালানোর কোনো জায়গা নেই'। (সূরা ইবরাহীম ১৪:২১)
টিকাঃ
৩৬ এ আয়াতে اليمين বলতে দীন বুঝানো হয়েছে। কারো কারো মতে এ দ্বারা শক্তি-সামর্থ্য বা কল্যাণ-স্বাচ্ছন্দ্য বুঝানো হয়েছে।
📄 দৃষ্টান্তমূলক কথাবার্তা
মাসআলা-১১৪: জাহান্নামের পাহারাদার: তোমাদের নিকট কি আল্লাহর রাসূল আসেন নি? কাফির: এসেছিল কিন্তু আমরা নিজেরাই জাহান্নামের আযাব মেনে নিয়েছি। জাহান্নামের পাহারাদার: তাহলে এ দরজা দিয়ে জাহান্নামে প্রবেশ কর।
وَسِيقَ الَّذِينَ كَفَرُوا إِلَى جَهَنَّمَ زُمَراً حَتَّى إِذَا جَاءُوهَا فُتِحَتْ أَبْوَابُهَا وَقَالَ لَهُمْ خَزَنَتُهَا أَلَمْ يَأْتِكُمْ رُسُلٌ مِنْكُمْ يَتْلُونَ عَلَيْكُمْ آيَاتِ رَبِّكُمْ وَيُنْذِرُونَكُمْ لِقَاءَ يَوْمِكُمْ هَذَا قَالُوا بَلَى وَلَكِنْ حَقَّتْ كَلِمَةُ الْعَذَابِ عَلَى الْكَافِرِينَ قِيلَ ادْخُلُوا أَبْوَابَ جَهَنَّمَ خَالِدِينَ فِيهَا فَبِئْسَ مَثْوَى الْمُتَكَبِرِينَ
অর্থ: আর কাফিরদেরকে দলে দলে জাহান্নামের দিকে হাঁকিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে। অবশেষে তারা যখন জাহান্নামের কাছে এসে পৌঁছবে তখন তার দরজাগুলো খুলে দেয়া হবে এবং জাহান্নামের রক্ষীরা তাদেরকে বলবে, 'তোমাদের মধ্য থেকে তোমাদের কাছে কি রাসূলগণ আসেনি, যারা তোমাদের কাছে তোমাদের রবের আয়াতগুলো তিলাওয়াত করত এবং এ দিনের সাক্ষাৎ সম্পর্কে তোমাদেরকে সতর্ক করত'? তারা বলবে, 'অবশ্যই এসেছিল'; কিন্তু কাফিরদের উপর আযাবের বাণী সত্যে পরিণত হলো। বলা হবে, 'তোমরা জাহান্নামের দরজাসমূহে প্রবেশ কর, তাতেই স্থায়ীভাবে থাকার জন্য। অতএব অহঙ্কারীদের আবাসস্থল কতই না নিকৃষ্ট'! (সূরা যুমার ৩৯:৭১-৭২)
মাসআলা-১১৫: জাহান্নামের পাহারদার: তোমাদের নিকট কি কোনো ভয় প্রদর্শনকারী আসে নি?
কাফির: এসেছিল কিন্তু আমরা তাদেরকে মিথ্যায় প্রতিপন্ন করেছি, হায়! আমরা যদি তাদের কথা মনযোগ দিয়ে শুনতাম তাহলে জাহান্নাম থেকে বেঁচে যেতাম: জাহান্নামের পাহারাদার: এখন অন্যায় স্বীকার করার ফায়দা এই যে, তোমাদের প্রতি লা'নত:
كُلَّمَا أُلْقِيَ فِيهَا فَوْجٌ سَأَلَهُمْ خَزَنَتُهَا أَلَمْ يَأْتِكُمْ نَذِيرٌ قَالُوا بَلَى قَدْ جَاءَنَا نَذِيرٌ فَكَذَّبْنَا وَقُلْنَا مَا نَزَّلَ اللَّهُ مِنْ شَيْءٍ إِنْ أَنتُمْ إِلَّا فِي ضَلَالٍ كَبِيرٍ وَقَالُوا لَوْ كُنَّا نَسْمَعُ أَوْ نَعْقِلُ مَا كُنَّا فِي أَصْحَابِ السَّعِيرِ فَاعْتَرَفُوا بِذَنْبِهِمْ فَسُحْقًا الأَصْحَابِ السَّعِيرِ
অর্থ: যখনই তাতে কোনো দলকে নিক্ষেপ করা হবে, তখন তার প্রহরীরা তাদেরকে জিজ্ঞেস করবে, 'তোমাদের নিকট কি কোনো সতর্ককারী আসেনি'? তারা বলবে, 'হ্যাঁ, আমাদের নিকট সতর্ককারী এসেছিল। তখন আমরা (তাদেরকে) মিথ্যাবাদী আখ্যায়িত করেছিলাম এবং বলেছিলাম, 'আল্লাহ কিছুই নাযিল করেননি। তোমরা তো ঘোর বিভ্রান্তিতে রয়েছ'। আর তারা বলবে, 'যদি আমরা শুনতাম অথবা বুঝতাম, তাহলে আমরা জ্বলন্ত আগুনের অধিবাসীদের মধ্যে থাকতাম না'। অতঃপর তারা তাদের অপরাধ স্বীকার করবে। অতএব ধ্বংস জ্বলন্ত আগুনের অধিবাসীদের জন্য। (সূরা মূলক ৬৭:৮-১১)
মাসআলা-১১৬: জাহান্নামের পাহারাদার: তোমাদের বিপদাপদ দূর কারীরা কোথায়?
কাফির: আফসোস! তাদের বিপদাপদ দূর করার কথা তো মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে:
إِذِ الأَغْلالُ فِي أَعْنَاقِهِمْ وَالسَّلاسِلُ يُسْحَبُونَ فِي الْحَمِيمِ ثُمَّ فِي النَّارِ يُسْجَرُونَ ثُمَّ قِيلَ لَهُمْ أَيْنَ مَا كُنتُمْ تُشْرِكُونَ مِنْ دُونِ اللَّهِ قَالُوا ضَلُّوا عَنَّا بَل لَّمْ نَكُنْ نَدْعُوا مِنْ قَبْلُ شَيْئاً
অর্থ: যখন তাদের গলদেশে বেড়ী ও শিকল থাকবে, তাদেরকে টেনে নিয়ে যাওয়া হবে ফুটন্ত পানিতে, অতঃপর তাদেরকে আগুনে পোড়ানো হবে। তারপর তাদেরকে বলা হবে, 'কোথায় তারা, যাদেরকে তোমরা শরীক করতে আল্লাহ ছাড়া'? তারা বলবে, 'তারা তো আমাদের কাছ থেকে উধাও হয়ে গেছে', বরং এর পূর্বে আমরা কোনো কিছুকে আহ্বান করিনি'। এভাবেই আল্লাহ কাফিরদেরকে পথভ্রষ্ট করেন। (সূরা মু'মিন ৪০:৭১-৭৪)
মাসআলা-১১৭: কাফির স্বীয় চোখ, কান, চামড়াকে লক্ষ্য করে বলবে: তোমরা আল্লাহর সামনে আমাদের বিরুদ্ধে কেন সাক্ষী দিয়েছ? চোখ, কান, চামড়া বলবে: আমাদের ঐ আল্লাহ সাক্ষী দেয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন, যিনি আমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন তাই আমরা সাক্ষী দিয়েছি:
وَيَوْمَ يُحْشَرُ أَعْدَاءُ اللَّهِ إِلَى النَّارِ فَهُمْ يُوزَعُوْنَ حَتَّى إِذَا مَا جَاءُوهَا شَهِدَ عَلَيْهِمْ سَمْعُهُمْ وَأَبْصَارُهُمْ وَجُلُودُهُم بِمَا كَانُوا يَعْمَلُونَ وَقَالُوا لِجُلُودِهِمْ لِمَ شَهِدتُّمْ عَلَيْنَا قَالُوا أَنطَقَنَا اللَّهُ الَّذِي أَنطَقَ كُلَّ شَيْءٍ وَهُوَ خَلَقَكُمْ أَوَّلَ مَرَّةٍ وَإِلَيْهِ تُرْجَعُونَ
অর্থ: আর যেদিন আল্লাহর দুশমনদেরকে আগুনের দিকে সমবেত করা হবে তখন তাদেরকে বিভিন্ন দলে বিন্যস্ত করা হবে। অবশেষে তারা যখন জাহান্নামের কাছে পৌঁছবে, তখন তাদের কান, তাদের চোখ ও তাদের চামড়া তাদের বিরুদ্ধে তাদের কৃতকর্ম সম্পর্কে সাক্ষ্য দেবে। আর তারা তাদের চামড়াগুলোকে বলবে, 'কেন তোমরা আমাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিলে'? তারা বলবে, 'আল্লাহ আমাদের বাকশক্তি দিয়েছেন যিনি সবকিছুকে বাকশক্তি দিয়েছেন। তিনি তোমাদেরকে প্রথমবার সৃষ্টি করেছেন এবং তাঁরই প্রতি তোমরা প্রত্যাবর্তিত হবে।' (সূরা হা-মীম সেজদাহ ৪১:১৯-২১)
মাসআলা-১১৮ : জান্নাতীরা জাহান্নামীদেরকে লক্ষ্য করে বলবে: আল্লাহ আমাদের সাথে কৃত সমস্ত ওয়াদা পূরণ করেছেন, তোমাদের সাথে কৃত সমস্ত ওয়াদাও কি পুরণ করেছেন?
জাহান্নামীরা বলবে: হ্যাঁ আমাদের সাথে কৃত সমস্ত ওয়াদাও পুরণ করেছেন, জাহান্নামের পাহারাদার বলবে লা'নত পরকালকে অস্বীকার কারীদের প্রতি এবং ইসলামের রাস্তা থেকে বাঁধা দানকারীদের প্রতি:
وَنَادَى أَصْحَابُ الْجَنَّةِ أَصْحَابَ النَّارِ أَن قَدْ وَجَدْنَا مَا وَعَدَنَا رَبُّنَا حَقًّاً فَهَلْ وَجَدتُم مَّا وَعَدَ رَبُّكُمْ حَقّاً قَالُوا نَعَمْ فَأَذَّنَ مُؤَذِّنٌ بَيْنَهُمْ أَنْ لَعْنَةُ اللهِ عَلَى الظَّالِمِينَ الَّذِينَ يَصُدُّونَ عَنْ سَبِيلِ اللَّهِ وَيَبْغُونَهَا عِوَجًا وَهُمْ بِالْآخِرَةِ كَافِرُونَ
অর্থ: আর জান্নাতের অধিবাসীগণ আগুনের অধিবাসীদেরকে ডাকবে যে, 'আমাদের রব আমাদেরকে যে ওয়াদা দিয়েছেন তা আমরা সত্য পেয়েছি। সুতরাং তোমাদের রব তোমাদেরকে যে ওয়াদা দিয়েছেন, তা কি তোমরা সত্যই পেয়েছ'? তারা বলবে, 'হ্যাঁ'। অতঃপর এক ঘোষক তাদের মধ্যে ঘোষণা দেবে যে, আল্লাহর লা'নত যালিমদের উপর'। 'যারা আল্লাহর পথে বাধা প্রদান করত এবং তাতে বক্রতা সন্ধান করত এবং তারা ছিল আখিরাতকে অস্বীকারকারী'। (সূরা আরাফ ৭:৪৪-৪৫)
মাসআলা-১১৯ : পৃথিবীতে এক সাথে জীবন যাপনকারী মুনাফিক ও মু'মিনদের মাঝে নিন্মোক্ত কথাবার্তা হবে:
মুনাফিক: এ অন্ধকারে আমাদেরকে তোমাদের আলো থেকে কিছু আলো দাও।
মু'মিন: এ আলো পাওয়ার জন্য আবার পৃথিবীতে যাও যদি সম্ভব হয়, এ অস্বীকৃতি শুনে মুনাফিক দ্বিতীয়বার বলবে: দুনিয়াতে আমরা কি তোমাদের সাথে ছিলাম না?
মু'মিন: তোমরা আমাদের সাথে তো ছিলো কিন্তু আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের রাস্তার ব্যাপারে সন্দেহে লিপ্ত ছিলে। মুসলমানদেরকে ধোঁকা দিতে ছিলে তাই তোমাদের ঠিকানা জাহান্নাম।
يَوْمَ يَقُولُ الْمُنَافِقُونَ وَالْمُنَافِقَاتُ لِلَّذِينَ آمَنُوا انْظُرُونَا نَقْتَبِسْ مِنْ ثُوْرِكُمْ قِيلَ ارْجِعُوا وَرَاءَكُمْ فَالْتَمِسُوا نُورًا فَضُرِبَ بَيْنَهُم بِسُورٍ لَهُ بَابٌ بَاطِنُهُ فِيهِ الرَّحْمَةُ وَظَاهِرُهُ مِنْ قِبَلِهِ الْعَذَابُ يُنَادُونَهُمْ أَلَمْ نَكُن مَّعَكُمْ قَالُوا بَلَى وَلَكِنَّكُمْ فَتَنْتُمْ أَنفُسَكُمْ وَتَرَبَّصْتُمْ وَارْتَبْتُمْ وَغَرَّتْكُمُ الْأَمَانِيُّ حَتَّى جَاءَ أَمْرُ اللَّهِ وَغَرَّكُم بِاللَّهِ الْغَرُورُ
অর্থ: সেদিন মুনাফিক পুরুষ ও মুনাফিক নারীগণ ঈমানদারদের বলবে, 'তোমরা আমাদের জন্য অপেক্ষা কর, তোমাদের নূর থেকে আমরা একটু নিয়ে নেই', বলা হবে, 'তোমরা তোমাদের পিছনে ফিরে যাও এবং নূরের সন্ধান কর,' তারপর তাদের মাঝখানে একটি প্রাচীর স্থাপন করে দেয়া হবে, যাতে একটি দরজা থাকবে। তার ভিতরভাগে থাকবে রহমত এবং তার বহির্ভাগে থাকবে আযাব। মুনাফিকরা মু'মিনদেরকে ডেকে বলবে, 'আমরা কি তোমাদের সাথে ছিলাম না? তারা বলবে 'হ্যাঁ, কিন্তু তোমরা নিজেরাই নিজদেরকে বিপদগ্রস্ত করেছ। আর তোমরা অপেক্ষা করেছিলে৩৭ এবং সন্দেহ পোষণ করেছিলে এবং আকাঙ্ক্ষা তোমাদেরকে প্রতারিত করেছিল, অবশেষে আল্লাহর নির্দেশ এসে গেল। আর মহা প্রতারক শয়তান তোমাদেরকে আল্লাহ সম্পর্কে প্রতারিত করেছিল। (সূরা হাদীদ ৫৭:১৩-১৪)
মাসআলা-১২০: আল্লাহর সাথে কাফিরদেরদের কথাবার্তা: আল্লাহ: আমার নিদর্শনসমূহ কি তোমাদের নিকট আসে নি? কাফির: হে আল্লাহ! আমরা বাস্তবেই পথভ্রষ্ট ছিলাম একবার আমাদেরকে এখান থেকে বের করুন দ্বিতীয় বার কুফরী করলে তখন আমাদেরকে শাস্তি দিবেন। আল্লাহ: তোমরা লাঞ্ছিত হও এখান থেকে বের হওয়ার ব্যাপারে আমার সাথে কোনো কথা বলবে না। বল পৃথিবীতে তোমরা কতদিন জীবিত ছিলে? কাফির: এক বা দু'দিন। আল্লাহ: এত অল্প সময়ের জন্য তোমরা বিবেক খাটিয়ে কাজ করতে পার নি আর মনে করেছিলে যে আমার নিকট আর কখনো আসবে না?
أَلَمْ تَكُنْ آيَاتِي تُتْلَى عَلَيْكُمْ فَكُنْتُمْ بِهَا تُكَذِّبُونَ قَالُوا رَبَّنَا غَلَبَتْ عَلَيْنَا شِقْوَتُنَا وَكُنَّا قَوْماً ضَالِينَ رَبَّنَا أَخْرِجْنَا مِنْهَا فَإِنْ عُدْنَا فَإِنَّا ظَالِمُونَ قَالَ اخْسَئُوا فِيهَا وَلَا تُكَلِّمُونِ إِنَّهُ كَانَ فَرِيقٌ مِّنْ عِبَادِي يَقُولُونَ رَبَّنَا آمَنَّا فَاغْفِرْ لَنَا وَارْحَمْنَا وَأَنتَ خَيْرُ الرَّاحِمِينَ فَاتَّخَذْتُمُوهُمْ سِخْرِيَّاً حَتَّى أَنسَوْكُمْ ذِكْرِي وَكُنْتُمْ مِنْهُمْ تَضْحَكُونَ إِنِّي جَزَيْتُهُمُ الْيَوْمَ بِمَا صَبَرُوا أَنَّهُمْ هُمُ الْفَائِزُونَ قَالَ كَمْ لَبِثْتُمْ فِي الْأَرْضِ عَدَدَ سِنِينَ قَالُوا لَبِثْنَا يَوْماً أَوْ بَعْضَ يَوْمٍ فَاسْأَلِ الْعَاذِينَ قَالَ إِنْ لَبِثْتُمْ إِلَّا قَلِيلًا لَّوْ أَنَّكُمْ كُنْتُمْ تَعْلَمُونَ أَفَحَسِبْتُمْ أَنَّمَا خَلَقْنَاكُمْ عَبَثًا وَأَنَّكُمْ إِلَيْنَا لَا تُرْجَعُونَ
অর্থ: তোমাদের সামনে কি আমার আয়াতসমূহ পঠিত হত না? তোমরা তো সেগুলোকে মিথ্যা বলতে। তারা বলবেঃ হে আমাদের পালনকর্তা, আমরা দুর্ভাগ্যের হাতে পরাভূত ছিলাম এবং আমরা ছিলাম বিভ্রান্ত জাতি। হে আমাদের পালনকর্তা! এ থেকে আমাদেরকে উদ্ধার কর; আমরা যদি পুনরায় তা করি, তবে আমরা গুনাহগার হব। আল্লাহ বলবেনঃ তোমরা ধিকৃত অবস্থায় এখানেই পড়ে থাক এবং আমার সাথে কোনো কথা বলো না। আমার বান্দাদের একদলে বলত: হে আমাদের পালনকর্তা! আমরা বিশ্বাস স্থাপন করেছি। অতএব তুমি আমাদেরকে ক্ষমা কর ও আমাদের প্রতি রহম কর। তুমি তো দয়ালুদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ দয়ালু। অতঃপর তোমরা তাদেরকে ঠাট্টার পাত্ররূপে গ্রহণ করতে। এমনকি, তা তোমাদেরকে আমার স্মরণ ভুলিয়ে দিয়েছিল এবং তোমরা তাদেরকে দেখে পরিহাস করতে। আজ আমি তাদেরকে তাদের সবরের কারণে এমন প্রতিদান দিয়েছি যে, তারাই সফলকাম। আল্লাহ বলবেনঃ তোমরা পৃথিবীতে কতদিন অবস্থান করলে বছরের গণনায়? তারা বলবে, আমরা একদিন অথবা দিনের কিছু অংশ অবস্থান করেছি। অতএব আপনি গণনাকারীদেরকে জিজ্ঞেস করুন। আল্লাহ বলবেনঃ তোমরা তাতে অল্পদিনই অবস্থান করেছ, যদি তোমরা জানতে? তোমরা কি ধারণা কর যে, আমি তোমাদেরকে অনর্থক সৃষ্টি করেছি এবং তোমরা আমার কাছে ফিরে আসবে না? (সূরা মু'মিনূন ২৩:১০৫-১১৫)
মাসআলা-১২১: আল্লাহর সাথে কাফিরদের আরো একটি কথপোকথন: আল্লাহ: মৃত্যুর পর পুনরায় জীবিত হওয়া সত্য কি না? কাফির: কেন নয় বিলকুলই সত্য আল্লাহ: তাহলে তা অস্বীকারের স্বাদ গ্রহণ কর। কাফির: আফসোস! কিয়ামতের ব্যাপারে আমরা বিরাট ভুল করেছি?
وَلَوْ تَرَى إِذْ وُقِفُوا عَلَى رَبِّهِمْ قَالَ أَلَيْسَ هَذَا بِالْحَقِّ قَالُوا بَلَى وَرَبِّنَا قَالَ فَذُوقُوا الْعَذَابَ بِمَا كُنْتُمْ تَكْفُرُونَ قَدْ خَسِرَ الَّذِينَ كَذَّبُوا بِلِقَاءِ اللَّهِ حَتَّى إِذَا جَاءَتْهُمُ السَّاعَةُ بَغْتَةً قَالُوا يُحَسْرَتَنَا عَلَى مَا فَرَّطْنَا فِيهَا وَهُمْ يَحْمِلُونَ أَوْزَارَهُمْ عَلَى ظُهُورِهِمْ أَلَّا سَاءَ مَا يَزِرُونَ
অর্থ: আর যদি তুমি দেখতে যখন তাদেরকে দাঁড় করানো হবে তাদের রবের সামনে এবং তিনি বলবেন 'এটা কি সত্য নয়'? তারা বলবে, 'হ্যাঁ, আমাদের রবের কসম!' তিনি বলবেন, 'সুতরাং তোমরা যে কুফরী করতে তার কারণে আযাব আস্বাদন কর।' যারা আল্লাহর সাক্ষাৎ অস্বীকার করেছে তারা অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, এমনকি যখন হঠাৎ তাদের কাছে কিয়ামত এসে যাবে, তারা বলবে, 'হায় আফসোস! সেখানে আমরা যে ত্রুটি করেছি তার উপর।' তারা তাদের পাপসমূহ তাদের পিঠে বহন করবে; সাবধান! তারা যা বহন করবে তা কত নিকৃষ্ট! (সূরা আনআম ৬:৩০-৩১)
মাসআলা-১২২: জান্নাতী ও জাহান্নামীদের মাঝে একটি কথপোকথন: জান্নাতী: তোমরা কি কারণে জাহান্নামে আসলে? জাহান্নামী: আমরা নামায পড়তাম না মিসকীনদেরকে খাবার দিতাম না। আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সাথে বিদ্রূপকারীদের সাথে মিলে আমরাও তাদের সাথে বিদ্রুপ করতাম এবং কিয়ামতের দিনকে অস্বীকার করতাম।
فِي جَنَّاتٍ يَتَسَاءَلُونَ عَنِ الْمُجْرِمِينَ مَا سَلَكَكُمْ فِي سَقَرَ قَالُوا لَمْ نَكُ مِنَ الْمُصَلِّينَ وَلَمْ نَكُ نُطْعِمُ الْمِسْكِينَ وَكُنَّا نَخُوضُ مَعَ الْخَائِضِينَ وَكُنَّا نُكَذِّبُ بِيَوْمِ الدِّينِ حَتَّى أَتَانَا الْيَقِينُ
অর্থ: বাগ-বাগিচার মধ্যে তারা একে অপরকে জিজ্ঞাসা করবে, অপরাধীদের সম্পর্কে, কিসে তোমাদেরকে জাহান্নামের আগুনে প্রবেশ করাল? তারা বলবে, 'আমরা সালাত আদায়কারীদের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত ছিলাম না'। 'আর আমরা অভাবগ্রস্তকে খাদ্য দান করতাম না'। 'আর আমরা অনর্থক আলাপকারীদের সাথে (বেহুদা আলাপে) মগ্ন থাকতাম'। 'আর আমরা প্রতিদান দিবসকে অস্বীকার করতাম'। 'অবশেষে আমাদের কাছে মৃত্যু আগমন করে'। (সূরা মুদ্দাসসির ৭৪:৪০-৪৭)
মাসআলা-১২৩: আল্লাহ ও তাঁর ওলীদের মাঝে একটি শিক্ষামূলক কথপোকথন: আল্লাহ: তোমরা কি আমার বান্দাদেরকে পথ ভ্রষ্ট করেছ? না তারা নিজেরাই পথভ্রষ্ট হয়েছে?
আল্লাহর ওলী: সুবহানাল্লাহ! আমরা তুমি ব্যতীত অন্য কাউকে আমাদের বিপদাপদ দূরকারী কি করে বানাতে পারি? তুমি তাদেরকে দুনিয়ার সম্পদ দিয়েছ আর তারা তা পেয়ে নিজেরাই পথভ্রষ্ট হয়েছে:
وَيَوْمَ يَحْشُرُهُمْ وَمَا يَعْبُدُونَ مِنْ دُونِ اللَّهِ فَيَقُولُ أَأَنتُمْ أَضْلَلْتُمْ عِبَادِي هَؤُلَاءِ أَمْ هُمْ ضَلُّوا السَّبِيلَ قَالُوا سُبْحَانَكَ مَا كَانَ يَنْبَغِي لَنَا أَنْ نَتَّخِذَ مِنْ دُونِكَ مِنْ أَوْلِيَاءَ وَلَكِن مَّتَعْتَهُمْ وَآبَاءَهُمْ حَتَّى نَسُوا الذِّكْرَ وَكَانُوا قَوْماً بُوراً
অর্থ: সেদিন আল্লাহ একত্রিত করবেন তাদেরকে এবং তারা আল্লাহর পরিবর্তে যাদের ইবাদত করত তাদেরকে, সেদিন তিনি উপাস্যদেরকে বলবেন, তোমরাই কি আমার এই বান্দাদেরকে পথভ্রান্ত করেছিলে, না তারা নিজেরাই পথভ্রান্ত হয়েছিল? তারা বলবে- আপনি পবিত্র, আমরা আপনার পরিবর্তে অন্যকে মুরুব্বীরূপে গ্রহণ করতে পারতাম না; কিন্তু আপনিই তো তাদেরকে এবং তাদের পিতৃপুরুষদেরকে ভোগসম্ভার দিয়েছিলেন, ফলে তারা আপনার স্মৃতি বিস্মৃত হয়েছিল এবং তারা ছিল ধ্বংসপ্রাপ্ত জাতি। (সূরা ফুরকান ২৫:১৭-১৮)
মাসআলা-১২৪: জাহান্নামের পাহারাদারের সাথে জাহান্নামীদের কিছু শিক্ষনীয় কথপোকথন:
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو فِي قَوْلِهِ عَزَّ وَجَلَّ: {وَنَادَوْا يَا مَالِكُ لِيَقْضِ عَلَيْنَا رَبُّكَ } قَالَ : " يُخَلِّي عَنْهُمْ أَرْبَعِينَ عَامًا لَا يُجِيبُهُمْ ، ثُمَّ أَجَابَهُمْ : {إِنَّكُمْ مَاكِثُونَ} فَيَقُولُونَ: {رَبَّنَا أَخْرِجْنَا مِنْهَا فَإِنْ عُدْنَا فَإِنَّا ظَالِمُونَ } قَالَ: فَيُخَلِّي عَنْهُمْ مِثْلَ الدُّنْيَا، ثُمَّ أَجَابَهُمُ : {اخْسَئُوا فِيهَا وَلَا تُكَلِّمُونَ } قَالَ: فَوَاللَّهِ مَا يَنْبِسُ الْقَوْمُ بَعْدَ هَذِهِ الْكَلِمَةِ إِنْ كَانَ إِلَّا الرَّفِيرُ وَالشَّهِيقُ
অর্থ: আব্দুল্লাহ বিন আমর (রা) আল্লাহর বাণী তারা চিৎকার করে বলবে: হে জাহান্নামের পাহারাদার তোমার প্রতিপালক আমাদেরকে নিঃশেষ করে দিন। (বর্ণনাকারী বলেন) এরপর চল্লিশ বছর পর্যন্ত (ফেরেশতা) তাদের কাছ থেকে দূরে থাকবে, এর কোনো উত্তর দিবে না। এরপর উত্তরে সে বলবে: তোমরাতো এভাবেই থাকবে। তখন তারা বলবে: হে আমাদের প্রতিপালক! এই অগ্নি থেকে আমাদেরকে উদ্ধার করুন। অতপর আমরা যদি পুনরায় কুফরী করি তবে তো আমরা অবশ্যই সীমালংঘনকারী হব। আল্লাহ তাদের একথা শুনে এমনভাবে মুখ ফিরিয়ে নিবেন, যেমন তারা দুনিয়াতে তাঁর কথা শুনে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিল, এরপর আল্লাহ তাদের উত্তরে বলবেন: তোমরা হীন অবস্থায় এখানেই থাক এবং আমার সাথে কোনো কথা বলবে না। বর্ণনাকারী বলেন: আল্লাহর কসম! এর পর তাদের ঠোট বন্ধ হয়ে যাবে আর শুধু তাদের চিল্লাচিল্লির আওয়াজই শোনা যাবে।” (হাকেম ৪/৮৭৭০)৩৯
টিকাঃ
৩৭ আমাদের অমঙ্গলের। শয়তান।
৩৯ ৪/৬৪০
📄 নিষ্ফল কামনা
মাসআলা-১২৫: কয়েক ফোটা পানির জন্য আফসোস প্রকাশ!
وَنَادَى أَصْحَابُ النَّارِ أَصْحَابَ الْجَنَّةِ أَنْ أَفِيضُوا عَلَيْنَا مِنَ الْمَاءِ أَوْ مِمَّا رَزَقَكُمُ اللهُ قَالُوا إِنَّ اللهَ حَرَّمَهُمَا عَلَى الْكَافِرِينَ الَّذِينَ اتَّخَذُوا دِينَهُمْ لَهُوا وَلَعِباً وَغَرَّتْهُمُ الْحَيَاةُ الدُّنْيَا فَالْيَوْمَ نَنْسَاهُمْ كَمَا نَسُوا لِقَاءَ يَوْمِهِمْ هَذَا وَمَا كَانُوا بِآيَاتِنَا يَجْحَدُونَ
অর্থ: জাহান্নামীরা জান্নাতবাসীদেরকে সম্বোধন করে বলবে: আমাদের ওপর কিছু পানি ঢেলে দাও, অথবা তোমাদের আল্লাহ প্রদত্ব জীবিকা থেকে কিছু প্রদান কর। তারা বলবে: আল্লাহ এসব জিনিস কাফিরদের জন্য হারাম করেছেন। 'যারা তাদের ধর্মকে গ্রহণ করেছে খেলা ও তামাসারূপে এবং তাদেরকে দুনিয়ার জীবন প্রতারিত করেছে'। সুতরাং আজ আমি তাদেরকে ভুলে যাব, যেমন তারা তাদের এই দিনের সাক্ষাতকে ভুলে গিয়েছিল। আর (যেভাবে) তারা আমার আয়াতসমূহকে অস্বীকার করত। আর আমি তো তাদের নিকট এমন কিতাব নিয়ে এসেছি, যা আমি জেনেশুনে বিস্তারিত বর্ণনা করেছি। তা হিদায়াত ও রহমতস্বরূপ এমন জাতির জন্য, যারা ঈমান রাখে। (সূরা আরাফ ৭:৫১-৫২)
মাসআলা-১২৬: আলোর একটু কিরণ লাভের জন্য আফসোস! নোট: এ সংক্রান্ত আয়াতটি ১৯৭নং মাসআলা দ্রষ্টব্য। মাসআলা-১২৭: জাহান্নামের আযাব শুধু একদিনের জন্য হালকা করার আবেদন এবং জাহান্নামের পাহারাদারের ধমক:
وَقَالَ الَّذِينَ فِي النَّارِ لِخَزَنَةِ جَهَنَّمَ ادْعُوا رَبَّكُمْ يُخَفِّفْ عَنَّا يَوْماً مِّنَ الْعَذَابِ قَالُوا أَوَلَمْ تَكُ تَأْتِيكُمْ رُسُلُكُمْ بِالْبَيِّنَاتِ قَالُوا بَلَى قَالُوا فَادْعُوا وَمَا دُعَاءُ الْكَافِرِينَ إِلَّا فِي ضَلَالٍ
অর্থ: আর যারা আগুনে থাকবে তারা আগুনের দারোয়ানদেরকে বলবে, 'তোমাদের রবকে একটু ডাকো না! তিনি যেন একটি দিন আমাদের আযাব লাঘব করে দেন।' তারা বলবে, 'তোমাদের কাছে কি সুস্পষ্ট প্রমাণাদিসহ তোমাদের রাসূলগণ আসেনি'? জাহান্নামীরা বলবে, 'হ্যাঁ অবশ্যই'। দারোয়ানরা বলবে, 'তবে তোমরাই দো'আ কর। আর কাফিরদের দো'আ কেবল নিষ্ফলই হয়'। (সূরা মু'মিন ৪০:৪৯-৫০)
মাসআলা-১২৮: নিষ্ফল মৃত্যু কামনা:
وَنَادَوْا يُمَالِكُ لِيَقْضِ عَلَيْنَا رَبُّكَ قَالَ إِنَّكُمْ مَّا كِثُونَ لَقَدْ جِئْنَاكُم بِالْحَقِّ وَلَكِنَّ أَكْثَرَكُمْ لِلْحَقِّ كَارِهُونَ
অর্থ: তারা চিৎকার করে বলবে, 'হে মালিক! তোমার রব যেন আমাদেরকে শেষ করে দেন'। সে বলবে, 'নিশ্চয় তোমরা অবস্থানকারী'। 'অবশ্যই তোমাদের কাছে আমি সত্য নিয়ে এসেছিলাম; কিন্তু তোমাদের অধিকাংশই ছিলে সত্য অপছন্দকারী। (সূরা যুখরুফ ৪৩:৭৭-৭৮)
মাসআলা-১২৯: জাহান্নামের আযাব দেখে কাফির আফসোস করে বলবে হায় আমি যদি এ জীবনের জন্য কিছু অগ্রিম পাঠাতাম:
وَجِيءَ يَوْمَئِذٍ بِجَهَنَّمَ يَوْمَئِذٍ يَتَذَكَّرُ الْإِنْسَانُ وَأَنَّى لَهُ الذِّكْرَى يَقُولُ يُلَيْتَنِي قَدَّمْتُ لِحَيَاتِي فَيَوْمَئِذٍ لا يُعَذِّبُ عَذَابَهُ أَحَدٌ وَلَا يُوْثِقُ وَثَاقَهُ أَحَدٌ
অর্থ: আর সেদিন জাহান্নামকে উপস্থিত করা হবে, সেদিন মানুষ স্মরণ করবে, কিন্তু সেই স্মরণ তার কী উপকারে আসবে? সে বলবে, 'হায়! যদি আমি কিছু আগে পাঠাতাম আমার এ জীবনের জন্য'! অতঃপর সেদিন তাঁর আযাবের মত আযাব কেউ দিতে পারবে না। আর কেউ তাঁর বাঁধার মত বাঁধতে পারবে না। (সূরা ফাজর ৮৯:২৩-২৬)
মাসআলা-১৩০: পথভ্রষ্টকারী আলেম ও পীরদেরকে জাহান্নামে পদদলিত করার নিষ্ফল কামনা:
ذلِكَ جَزَاءُ أَعْدَاءِ اللَّهِ النَّارُ لَهُمْ فِيهَا دَارُ الخُلْدِ جَزَاءً بِمَا كَانُوا بِآيَاتِنَا يَجْحَدُونَ وَقَالَ الَّذِينَ كَفَرُوا رَبَّنَا أَرِنَا اللَّذَيْنِ أَضَلانَا مِنَ الْجِنِّ وَالْإِنْسِ نَجْعَلُهُمَا تَحْتَ أَقْدَا مِنَا لِيَكُونَا مِنَ الْأَسْفَلِينَ
অর্থ: এই আগুন, আল্লাহর দুশমনদের প্রতিদান। সেখানে থাকবে তাদের জন্য স্থায়ী নিবাস তারা যে আমার আয়াতসমূহ অস্বীকার করত তারই প্রতিফলস্বরূপ। আর কাফিররা বলবে, 'হে আমাদের রব, জ্বিন ও মানুষের মধ্যে যারা আমাদেরকে পথভ্রষ্ট করেছে তাদেরকে আমাদের দেখিয়ে দিন। আমরা তাদের উভয়কে আমাদের পায়ের নীচে রাখব, যাতে তারা নিকৃষ্টদের অন্তর্ভুক্ত হয়। (সূরা হা-মীম সেজদাহ ৪১:২৮-২৯)
মাসআলা-১৩১ : আগুন দেখে পৃথিবীতে বিবেক-বুদ্ধি প্রয়োগ না করার জন্য আফসোস!
وَقَالُوا لَوْ كُنَّا نَسْمَعُ أَوْ نَعْقِلُ مَا كُنَّا فِي أَصْحَابِ السَّعِيرِ فَاعْتَرَفُوا بِذَنْبِهِمْ فَسُحْقَ الأَصْحَابِ السَّعِيرِ
অর্থ: আর তারা বলবে, 'যদি আমরা শুনতাম অথবা বুঝতাম, তাহলে আমরা জ্বলন্ত আগুনের অধিবাসীদের মধ্যে থাকতাম না'। অতঃপর তারা তাদের অপরাধ স্বীকার করবে। অতএব ধ্বংস জ্বলন্ত আগুনের অধিবাসীদের জন্য। (সূরা মূলক ৬৭:১০-১১)
মাসআলা-১৩২ : কাফির আগুন দেখে আকাঙ্ক্ষা করবে যে হায়! আমি যদি মাটি হয়ে যেতাম:
إِنَّا أَنذَرْنَاكُمْ عَذَاباً قَرِيباً يَوْمَ يَنظُرُ الْمَرْءُ مَا قَدَّمَتْ يَدَاهُ وَيَقُولُ الْكَافِرُ يُلَيْتَنِي كُنْتُ تُرَاباً
অর্থ: নিশ্চয় আমি তোমাদেরকে একটি নিকটবর্তী আযাব সম্পর্কে সতর্ক করলাম। যেদিন মানুষ দেখতে পাবে, তার দু'হাত কী অগ্রে প্রেরণ করেছে এবং কাফির বলবে 'হায়, আমি যদি মাটি হতাম'! (সূরা নাবা ৭৮:৪০)
মাসআলা-১৩৩ : আরো একটি আফসোস। হায়! আমি যদি রাসূলের কথা শুনতাম, হায়! আমি যদি অমুক ও অমুককে বন্ধু না বানাতাম:
وَيَوْمَ يَعَضُّ الظَّالِمُ عَلَى يَدَيْهِ يَقُولُ يُلَيْتَنِي اتَّخَذْتُ مَعَ الرَّسُولِ سَبِيلاً يُوَيْلَتَا لَيْتَنِي لَمْ أَتَّخِذْ فُلاناً خَلِيلًا لَقَدْ أَضَلَّنِي عَنِ الذِّكْرِ بَعْدَ إِذْ جَاءَنِي وَكَانَ الشَّيْطَانُ لِلْإِنْسَانِ خَذُولاً
অর্থ: আর সেদিন যালিম নিজের হাত দু'টো কামড়িয়ে বলবে, 'হায়, আমি যদি রাসূলের সাথে কোনো পথ অবলম্বন করতাম'! 'হায়! আমার দুর্ভোগ, আমি যদি অমুককে বন্ধুরূপে গ্রহণ না করতাম'। 'অবশ্যই সে তো আমাকে উপদেশবাণী থেকে বিভ্রান্ত করেছিল, আমার কাছে তা আসার পর। আর শয়তান তো মানুষের জন্য চরম প্রতারক'। (সূরা ফুরকান ২৫:২৭-২৯)
মাসআলা-১৩৪: আগুনে জ্বলার পর কাফির আকাঙ্ক্ষা করবে যে হায়! আমরা যদি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অনুসরণ করতাম:
يَوْمَ تُقَلَّبُ وُجُوهُهُمْ فِي النَّارِ يَقُولُونَ يُلَيْتَنَا أَطَعْنَا اللَّهَ وَأَطَعْنَا الرَّسُولَا
অর্থ: যেদিন তাদের চেহারাগুলো আগুনে উপুড় করে দেয়া হবে, তারা বলবে, 'হায়, আমরা যদি আল্লাহর আনুগত্য করতাম এবং রাসূলের আনুগত্য করতাম'! (সূরা আহযাব ৩৩:৬৬)
মাসআলা-১৩৫: স্বীয় গুনাহর কথা স্বীকার করার পর জাহান্নাম থেকে বের হওয়ার জন্য নিষ্ফল আফসোস:
قَالُوا رَبَّنَا أَمَتَنَا اثْنَتَيْنِ وَأَحْيَيْتَنَا اثْنَتَيْنِ فَاعْتَرَفْنَا بِذُنُوبِنَا فَهَلْ إِلَى خُرُوجٍ مِّنْ سَبِيلٍ ذَلِكُم بِأَنَّهُ إِذَا دُعِيَ اللَّهُ وَحْدَهُ كَفَرْتُمْ وَإِنْ يُشْرَكْ بِهِ تُؤْمِنُوا فَالْحُكْمُ اللَّهِ الْعَلِيِّ الْكَبِيرِ
অর্থ: তারা বলবে, 'হে আমাদের রব! আপনি আমাদেরকে দু'বার মৃত্যু দিয়েছেন এবং দু'বার জীবন দিয়েছেন। অতঃপর আমরা আমাদের অপরাধ স্বীকার করছি। অতএব (জাহান্নাম থেকে) বের হবার কোনো পথ আছে কি'? তাদেরকে বলা হবে] 'এটা তো এজন্য যে, যখন আল্লাহকে এককভাবে ডাকা হত তখন তোমরা তাঁকে অস্বীকার করতে আর যখন তাঁর সাথে শরীক হত তখন তোমরা বিশ্বাস করতে। সুতরাং যাবতীয় কর্তৃত্ব সমুচ্চ, মহান আল্লাহর'। (সূরা মু'মিন ৪০:১১-১২)
মাসআলা-১৩৬: মুজরিম নিজের সন্তান, স্ত্রী, ভাই, আত্মীয়-স্বজন, এমন কি পৃথিবীর সমস্ত সৃষ্টিকে জাহান্নামে দিয়ে হলেও সেখান থেকে সে নিজে বাঁচতে চাইবে কিন্তু তার এ আফসোস পূর্ণ হবে না:
يَوَدُّ الْمُجْرِمُ لَوْ يَفْتَدِي مِنْ عَذَابِ يَوْمِئِذٍ بِبَنِيْهِ وَصَاحِبَتِهِ وَأَخِيهِ وَفَصِيلَتِهِ الَّتِي تُؤْوِيهِ وَمَنْ فِي الْأَرْضِ جَمِيعاً ثُمَّ يُنْجِيهِ كَلَّا إِنَّهَا لَظَى نَزَاعَةً لِلشَّوَى
অর্থ: তাদেরকে একে অপরের দৃষ্টিগোচর করা হবে। অপরাধী চাইবে যদি সে সেদিনের শাস্তি থেকে তার সন্তান-সন্ততিকে পণ হিসেবে দিয়ে মুক্তি পেতে, আর তার স্ত্রী ও ভাইকে, আর তার জ্ঞাতি-গোষ্ঠীকে, যারা তাকে আশ্রয় দিত। আর জমিনে যারা আছে তাদের সবাইকে, যাতে এটি তাকে রক্ষা করে। কখনো নয়! এটিতো লেলিহান আগুন। যা মাথার চামড়া খসিয়ে নেবে। (সূরা মাআরিজ ৭০:১১-১৬)
মাসআলা-১৩৭: কাফির পৃথিবীর ওজন পরিমাণ স্বর্ণের বিনিময়ে হলেও জাহান্নাম থেকে বাঁচতে চাইবে কিন্তু তখন এ কামনা পূর্ণ হবে না:
إِنَّ الَّذِينَ كَفَرُوا وَمَاتُوا وَهُمْ كُفَّارٌ فَلَنْ يُقْبَلَ مِنْ أَحَدِهِمْ مِّلْءُ الْأَرْضِ ذَهَباً وَلَوِ افْتَدَى بِهِ أُوْلَئِكَ لَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ وَمَا لَهُمْ مِنْ نَاصِرِينَ
অর্থ: নিশ্চয় যারা কুফরী করেছে এবং কাফির অবস্থায় মারা গেছে, তাদের কারো কাছ থেকে যমীন ভরা স্বর্ণ বিনিময়স্বরূপ প্রতিদান করলেও গ্রহণ করা হবে না, তাদের জন্যই রয়েছে বেদনাদায়ক আযাব, আর তাদের জন্য কোনো সাহায্যকারী নেই। (সূরা আলে ইমরান ৩:৯১)
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ ، قَالَ : " يُقَالُ لِلْكَافِرِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ : أَرَأَيْتَ لَوْ كَانَ لَكَ مِلْءُ الْأَرْضِ ذَهَبًا، أَكُنْتَ تَفْتَدِي بِهِ؟ فَيَقُولُ: نَعَمْ، فَيُقَالُ لَهُ: قَدْ سُئِلْتَ أَيْسَرَ مِنْ ذَلِكَ "
অর্থ: "আনাস বিন মালেক (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: কিয়ামতের দিন কাফিরকে বলা হবে, যদি পথিবী পরিমাণ স্বর্ণ তোমার থাকে তাহলে কি তুমি তা এর বিনিময় দান করতে? সে বলবে: হ্যাঁ। তাকে বলা হবে এর চেয়েও সহজ জিনিস তোমার কাছে চাওয়া হয়েছিল।" (মুসলিম)
মাসআলা-১৩৮: আযাব দেখে মুশরিকদের নির্ধারণ কৃত শরীকদের ব্যাপারে আপেক্ষ "হায় আমাদেরকে যদি একবার দুনিয়াতে পাঠানো হত, তাহলে আমরা এ নেতাদের কাছ থেকে এমনভাবে সম্পর্ক মুক্ত থাকতাম যেমন তারা আজ আমাদের থেকে সম্পর্ক মুক্ত":
إِذْ تَبَرَّأُ الَّذِينَ اتَّبِعُوا مِنَ الَّذِينَ اتَّبَعُوا وَرَأَوُا الْعَذَابَ وَتَقَطَّعَتْ بِهِمُ الأَسْبَابُ وَقَالَ الَّذِينَ اتَّبَعُوا لَوْ أَنَّ لَنَا كَرَّةً فَنَتَبَرَّأَ مِنْهُمْ كَمَا تَبَرَّءُوا مِنَّا كَذَلِكَ يُرِيهِمُ اللَّهُ أَعْمَالَهُمْ حَسَرَاتٍ عَلَيْهِمْ وَمَا هُمْ بِخَارِجِينَ مِنَ النَّارِ
অর্থ: যখন, যাদেরকে অনুসরণ করা হয়েছে, তারা অনুসারীদের থেকে আলাদা হয়ে যাবে এবং তারা আযাব দেখতে পাবে। আর তাদের সব সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে যাবে। আর যারা অনুসরণ করেছে, তারা বলবে, 'যদি আমাদের ফিরে যাওয়ার সুযোগ হত, তাহলে আমরা তাদের থেকে আলাদা হয়ে যেতাম, যেভাবে তারা আলাদা হয়ে গিয়েছে'। এভাবে আল্লাহ তাদেরকে তাদের আমলসমূহ দেখাবেন, তাদের জন্য আক্ষেপস্বরূপ। আর তারা আগুন থেকে বের হতে পারবে না। (সূরা বাকারা ২:১৬৬-১৬৭)
মাসআলা-১৩৯: আগুনের আযাব দেখে কাফিরের দিলে সৃষ্ট বেদনা: আফসোস! আমি যদি আল্লাহর সাথে নাফরমানী না করতাম। আফসোস! আমি যদি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সাথে ঠাট্টা বিদ্রুপ না করতাম। আফসোস। আমি যদি হিদায়াত প্রাপ্ত হতে চেষ্টা করতাম। আফসোস। আমিও যদি পরহেযগার হয়ে যেতাম। আফসোস। যদি একবার সুযোগ মিলে তাহলে আমিও নেককার হয়ে যাব:
وَاتَّبِعُوا أَحْسَنَ مَا أُنزِلَ إِلَيْكُم مِّنْ رَّبِّكُمْ مِنْ قَبْلِ أَنْ يَأْتِيَكُمُ الْعَذَابُ بَغْتَةً وَأَنتُمْ لا تَشْعُرُونَ أَن تَقُولَ نَفْسٌ يُحَسْرَتَا عَلَى مَا فَرَّطْتُ فِي جَنْبِ اللَّهِ وَإِنْ كُنْتُ لَمِنَ السَّاخِرِينَ أَوْ تَقُولَ لَوْ أَنَّ اللَّهَ هَدَانِي لَكُنْتُ مِنَ الْمُتَّقِينَ أَوْ تَقُولَ حِينَ تَرَى الْعَذَابَ لَوْ أَنَّ لِي كَرَّةً فَأَكُونَ مِنَ الْمُحْسِنِينَ بَلَى قَدْ جَاءَتْكَ آيَاتِي فَكَذَّبْتَ بِهَا وَاسْتَكْبَرْتَ وَكُنْتَ مِنَ الْكَافِرِينَ
অর্থ: আর অনুসরণ কর উত্তম যা নাযিল করা হয়েছে তোমাদের রবের পক্ষ থেকে, তোমাদের উপর অতর্কিতভাবে আযাব আসার পূর্বে। অথচ তোমরা উপলব্ধি করতে পারবে না। যাতে কাউকেও বলতে না হয়, 'হায় আফসোস! আল্লাহর হক আদায়ে আমি যে শৈথিল্য করেছিলাম তার জন্য। আর আমি কেবল ঠাট্টা-বিদ্রূপকারীদের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত ছিলাম'। অথবা যাতে কাউকে একথাও বলতে না হয়, 'আল্লাহ যদি আমাকে হিদায়াত দিতেন তাহলে অবশ্যই আমি মুত্তাকীদের অন্তর্ভুক্ত হতাম'। অথবা আযাব প্রত্যক্ষ করার সময় যাতে কাউকে একথাও বলতে না হয়, 'যদি একবার ফিরে যাওয়ার সুযোগ আমার হত, তাহলে আমি মু'মিনদের অন্তর্ভুক্ত হতাম'। হ্যাঁ, অবশ্যই তোমার কাছে আমার নিদর্শনাবলী এসেছিল, অতঃপর তুমি সেগুলোকে অস্বীকার করেছিলে এবং তুমি অহঙ্কার করেছিলে। আর তুমি কাফিরদের অন্তর্ভুক্ত ছিলে। (সূরা যুমার ৩৯:৫৫-৫৯)
মাসআলা-১৪০: প্রতিফল দেখে কাফিরের দুঃখ আফসোস! আমার আমল নামা যেন আমাকে না দেয়া হয়, আফসোস হায়। আমার মৃত্যুই যদি আমার শেষ হত:
وَأَمَّا مَنْ أُوتِيَ كِتَابَهُ بِشِمَالِهِ فَيَقُولُ يُلَيْتَنِي لَمْ أُوْتَ كِتَابِيَهُ وَلَمْ أَدْرِ مَا حِسَابِيَهُ يُلَيْتَهَا كَانَتِ الْقَاضِيَةَ
অর্থ: কিন্তু যার আমলনামা তার বাম হাতে দেয়া হবে সে বলবে, 'হায়! আমাকে যদি আমার আমলনামা দেয়া না হত'! 'আর যদি আমি না জানতাম আমার হিসাব'! 'হায়! মৃত্যুই যদি আমার চূড়ান্ত ফায়সালা হত'! (সূরা হাক্কাহ ৬৯:২৫-২৭)
মাসআলা-১৪১: আফসোস! আমি যদি আল্লাহর সাথে শিরক না করতাম:
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : " كُلُّ أَهْلِ النَّارِ يَرَى مَقْعَدَهُ مِنَ الْجَنَّةِ فَيَقُولُ: لَوْ أَنَّ اللَّهَ هَدَانِي فَتَكُونُ عَلَيْهِ حَسْرَةٌ، وَكُلُّ أَهْلِ الْجَنَّةِ يَرَى مَقْعَدَهُ مِنَ النَّارِ فَيَقُولُ: لَوْلَا أَنَّ اللَّهَ هَدَانِي فَيَكُونُ لَهُ شُكْرْ ، ثُمَّ تَلَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ { أَنْ تَقُولَ نَفْسٌ يَا حَسْرَنَا عَلَى مَا فَرَّطْتُ فِي جَنْبِ اللَّهِ }
অর্থ: "আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ বলেছেন: সমস্ত জাহান্নামবাসী জান্নাতে তার ঠিকানা দেখতে পাবে, আর আফসোস করে বলবে: হায়! আল্লাহ যদি আমাকে হিদায়াত প্রাপ্ত করতেন! তা দেখা তাদের জন্য আফসোসের কারণ হবে। আর প্রত্যেক জান্নাতীকে জাহান্নামে তার ঠিকানা দেখানো হবে। তখন সে বলবে: যদি আল্লাহ আমাকে হিদায়াত না দিত (তাহলে আমাকে সেখানে যেতে হত) তা দেখা হবে তার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশের কারণ। এরপর রাসূলুল্লাহ তেলাওয়াত করলেন: হায়! আল্লাহর প্রতি আমার কর্তব্যে আমি যে শৈথিল্য করেছি তার জন্য আফসোস!" (হাকেম)
টিকাঃ
৪১. কিতাব সিফাতুল মুনাফেকীন, বাব ফিল কুফার।
৪২. সিলসিলা আহাদিস সহীহ লি আল বানী ৫ম খ. হাদীস নং-২০৩৪।
📄 জাহান্নামের আরো একটি সুযোগ লাভের আকাঙ্ক্ষা
মাসআলা-১৪২ : কাফির আগুন দেখে সত্যকে স্বীকার করবে আর সৎ আমল করার জন্য দ্বিতীয়বার পৃথিবীতে ফিরে আসার জন্য আকাঙ্খা করবে:
يَوْمَ يَأْتِي تَأْوِيلُهُ يَقُولُ الَّذِينَ نَسُوهُ مِن قَبْلُ قَدْ جَاءَتْ رُسُلُ رَبِّنَا بِالْحَقِّ فَهَل لَّنَا مِنْ شُفَعَاءَ فَيَشْفَعُوا لَنَا أَوْ نُرَدُّ فَنَعْمَلَ غَيْرَ الَّذِي كُنَّا نَعْمَلُ قَدْ خَسِرُوا أَنْفُسَهُمْ وَضَلَّ عَنْهُمْ مَّا كَانُوا يَفْتَرُونَ
অর্থ: তারা কি শুধু তার পরিণামের অপেক্ষা করছে? যেদিন তার পরিণাম প্রকাশ হবে, তখন পূর্বে যারা তাকে ভুলে গিয়েছিল, তারা বলবে, 'আমাদের রবের রাসূলগণ তৌ সত্য নিয়ে এসেছিলেন। সুতরাং আমাদের জন্য কি সুপারিশকারীদের কেউ আছে, যে আমাদের জন্য সুপারিশ করবে, কিংবা আমাদের প্রত্যাবর্তন করানো হবে, অতঃপর আমরা যা করতাম তা ভিন্ন অন্য আমল করব'? তারা তো নিজদেরকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে এবং তারা যে মিথ্যা রটাত, তা তাদের থেকে বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছে। (সূরা আরাফ ৭:৫৩)
মাসআলা-১৪৩ : জাহান্নাম থেকে মুক্তি পেয়ে আগামীতে ভাল আমল করার দরখাস্তের ব্যাপারে জাহান্নামের পাহারাদারের কড়া কড়া উত্তর" যালিমদের জন্য এখানে কোনো সাহায্যকারী নেই:
وَهُمْ يَصْطَرِخُونَ فِيهَا رَبَّنَا أَخْرِجْنَا نَعْمَلْ صَالِحاً غَيْرَ الَّذِي كُنَّا نَعْمَلُ أَوَلَمْ نُعَمِّرْكُمْ مَّا يَتَذَكَّرُ فِيهِ مَنْ تَذَكَّرَ وَجَاءَكُمُ النَّذِيرُ فَذُوقُوا فَمَا لِلظَّالِمِينَ مِنْ نَصِيرٍ
অর্থ: আর সেখানে তারা আর্তনাদ করে বলবে, 'হে আমাদের রব! আমাদেরকে বের করে দিন, আমরা পূর্বে যে আমল করতাম, তার পরিবর্তে আমরা নেক আমল করব'। (আল্লাহ বলবেন) 'আমি কি তোমাদেরকে এতটা বয়স দেইনি যে, তখন কেউ শিক্ষাগ্রহণ করতে চাইলে শিক্ষাগ্রহণ করতে পারত? আর তোমাদের কাছে তো সতর্ককারী এসেছিল। কাজেই তোমরা আযাব আস্বাদন কর, আর যালিমদের কোনো সাহায্যকারী নেই। (সূরা ফাতির ৩৫:৩৭)
মাসআলা-১৪৪: জাহান্নামে মুশরিকদের অন্যায় স্বীকার ও সুযোগ হলে মু'মিন হওয়ার আকাঙ্খা:
فَكُبْكِبُوا فِيهَا هُمْ وَالْغَاوُونَ وَجُنُودُ إِبْلِيسَ أَجْمَعُونَ قَالُوا وَهُمْ فِيهَا يَخْتَصِمُونَ تَاللَّهِ إِنْ كُنَّا لَفِي ضَلَالٍ مُّبِينٍ إِذْ نُسَوِيكُمْ بِرَبِّ الْعَالَمِينَ وَمَا أَضَلَّنَا إِلَّا الْمُجْرِمُونَ فَمَا لَنَا مِنْ شَافِعِينَ وَلَا صَدِيقٍ حَمِيمٍ فَلَوْ أَنَّ لَنَا كَرَّةً فَتَكُونَ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ
অর্থ: অতঃপর তাদেরকে এবং পথভ্রষ্টকারীদেরকে উপুড় করে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে, আর ইবলীসের সকল সৈন্যবাহিনীকে। সেখানে পরস্পর ঝগড়া করতে গিয়ে তারা বলবে, 'আল্লাহর কসম! আমরা তো সুস্পষ্ট পথভ্রষ্টতায় নিমজ্জিত ছিলাম', 'যখন আমরা তোমাদেরকে সকল সৃষ্টির রবের সমকক্ষ বানাতাম'। 'আর অপরাধীরাই শুধু আমাদেরকে পথভ্রষ্ট করেছিল'; 'অতএব, আমাদের কোনো সুপারিশকারী নেই'। 'এবং কোনো অন্তরঙ্গ বন্ধুও নেই'। 'হায়! আমাদের যদি আরেকটি সুযোগ হত, তবে আমরা মু'মিনদের অর্ন্তভুক্ত হতাম'। (সূরা শুআরা ২৬:৯৪-১০২)
মাসআলা-১৪৫: আল্লাহর সামনে লজ্জিত হয়ে কাফির ঈমান আনার অঙ্গিকার করে দ্বিতীয় বার পৃথিবীতে আসার আবেদন জানাবে উত্তরে বলা হবে: তোমাদের কৃতকর্মের বদলা হিসেবে তোমরা সর্বদা জাহান্নামের স্বাদ গ্রহণ কর:
وَلَوْ تَرَى إِذِ الْمُجْرِمُونَ نَاكِسُوا رُءُوسِهِمْ عِندَ رَبِّهِمْ رَبَّنَا أَبْصَرْنَا وَسَمِعْنَا فَارْجِعْنَا نَعْمَلْ صَالِحاً إِنَّا مُوقِنُونَ وَلَوْ شِئْنَا لَآتَيْنَا كُلَّ نَفْسٍ هُدَاهَا وَلَكِنْ حَقَّ الْقَوْلُ مِنِّي لَأَمْلأَنَّ جَهَنَّمَ مِنَ الْجِنَّةِ وَالنَّاسِ أَجْمَعِينَ فَذُوقُوا بِمَا نَسِيتُمْ لِقَاءَ يَوْمِكُمْ هَذَا إِنَّا نَسِينَاكُمْ وَذُوقُوا عَذَابَ الْخُلْدِ بِمَا كُنتُمْ تَعْمَلُونَ
অর্থ: যদি আপনি দেখতেন যখন অপরাধীরা তাদের পালনকর্তার সামনে নতশির হয়ে বলবে, হে আমাদের পালনকর্তা, আমরা দেখলাম ও শ্রবণ করলাম। এখন আমাদেরকে পাঠিয়ে দিন, আমরা সৎকর্ম করব। আমরা দৃঢ়বিশ্বাসী হয়ে গেছি। আমি ইচ্ছা করলে প্রত্যেককে সঠিক দিক নির্দেশ দিতাম; কিন্তু আমার এ উক্তি অবধারিত সত্য যে, আমি জ্বিন ও মানব সকলকে দিয়ে অবশ্যই জাহান্নাম পূর্ণ করব। অতএব এ দিবসকে ভুলে যাওয়ার কারণে তোমরা মজা আস্বাদন কর। আমিও তোমাদেরকে ভুলে গেলাম, তোমরা তোমাদের কৃতকর্মের কারণে স্থায়ী আযাব ভোগ কর। (সূরা সাজদা ৩২:১২-১৪)
মাসআলা-১৪৬: আগুনের আযাব দেখে কাফির একবার সুযোগ পেয়ে সৎ হয়ে জীবন যাপনের জন্য আগ্রহ প্রকাশ করবে কিন্তু তা পুরণ হবে না:
أَوْ تَقُولَ حِينَ تَرَى الْعَذَابَ لَوْ أَنَّ لِي كَرَّةً فَأَكُونَ مِنَ الْمُحْسِنِينَ بَلَى قَدْ جَاءَتْكَ آيَاتِي فَكَذَّبْتَ بِهَا وَاسْتَكْبَرْتَ وَكُنْتَ مِنَ الْكَافِرِينَ
অর্থ: অথবা আযাব প্রত্যক্ষ করার সময় যাতে কাউকে একথাও বলতে না হয়, 'যদি একবার ফিরে যাওয়ার সুযোগ আমার হত, তাহলে আমি মু'মিনদের অন্তর্ভুক্ত হতাম'। হ্যাঁ, অবশ্যই তোমার কাছে আমার নিদর্শনাবলী এসেছিল, অতঃপর তুমি সেগুলোকে অস্বীকার করেছিলে এবং তুমি অহঙ্কার করেছিলে। আর তুমি কাফিরদের অন্তর্ভুক্ত ছিলে। (সূরা যুমার ৩৯:৫৮-৫৯)
মাসআলা-১৪৭: জাহান্নামী আল্লাহর সামনে জাহান্নাম থেকে বের হওয়ার জন্য ঈমান আনার ব্যাপারে ওয়াদা করবে উত্তরে আল্লাহর পক্ষ থেকে কঠিনভাবে ধমক দেয়া হবে:
قَالُوا رَبَّنَا غَلَبَتْ عَلَيْنَا شِقْوَتُنَا وَكُنَّا قَوْماً ضَالِّينَ رَبَّنَا أَخْرِجْنَا مِنْهَا فَإِنْ عُدْنَا فَإِنَّا ظَالِمُونَ قَالَ اخْسَئُوا فِيهَا وَلَا تُكَلِّمُونِ إِنَّهُ كَانَ فَرِيقٌ مِّنْ عِبَادِي يَقُولُونَ رَبَّنَا آمَنَّا فَاغْفِرْ لَنَا وَارْحَمْنَا وَأَنتَ خَيْرُ الرَّاحِمِينَ فَاتَّخَذْتُمُوهُمْ سِخْرِيَّاً حَتَّى أَنسَوْكُمْ ذِكْرِي وَكُنْتُمْ مِّنْهُمْ تَضْحَكُونَ
অর্থ: তারা বলবে, হে আমাদের পালনকর্তা! আমরা দুর্ভাগ্যের হাতে পরাভূত ছিলাম এবং আমরা ছিলাম বিভ্রান্ত জাতি। হে আমাদের পালনকর্তা! এ থেকে আমাদেরকে উদ্ধার কর; আমরা যদি পুনরায় তা করি, তবে আমরা গুনাহগার হব। আল্লাহ বলবেনঃ তোমরা ধিকৃত অবস্থায় এখানেই পড়ে থাক এবং আমার সাথে কোনো কথা বলো না। আমার বান্দাদের একদলে বলত: হে আমাদের পালনকর্তা! আমরা বিশ্বাস স্থাপন করেছি। অতএব তুমি আমাদেরকে ক্ষমা কর ও আমাদের প্রতি রহম কর। তুমি তো দয়ালুদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ দয়ালু। অতঃপর তোমরা তাদেরকে ঠাট্টার পাত্ররূপে গ্রহণ করতে। এমনকি, তা তোমাদেরকে আমার স্মরণ ভুলিয়ে দিয়েছিল এবং তোমরা তাদেরকে দেখে পরিহাস করতে। (সূরা মু'মিনূন ২৩:১০৬-১১০)
মাসআলা-১৪৮: আগুনের আযাব দেখে কাফির এক মুহূর্তের জন্য সুযোগ চাইবে যাতে ঈমান আনতে পারে কিন্তু তার দরখাস্ত কবুল হবে না:
وَأَنذِرِ النَّاسَ يَوْمَ يَأْتِيهِمُ الْعَذَابُ فَيَقُولُ الَّذِينَ ظَلَمُوا رَبَّنَا أَخْرْنَا إِلَى أَجَلٍ قَرِيبٍ تُجِبْ دَعْوَتَكَ وَنَتَّبِعِ الرُّسُلَ أَوَلَمْ تَكُونُوا أَقْسَمْتُمْ مِّنْ قَبْلُ مَا لَكُمْ مِنْ زَوَالٍ
অর্থ: আর তুমি মানুষদেরকে সতর্ক কর, যেদিন তাদের উপর আযাব নেমে আসবে। অতঃপর তখন যারা যুলুম করেছে তারা বলবে, 'হে আমাদের রব! তুমি আমাদেরকে কিছু সময়ের জন্য অবকাশ দাও, আমরা তোমার ডাকে সাড়া দেব এবং রাসূলদের অনুসরণ করব'। ইতঃপূর্বে তোমরা কি কসম করনি যে, তোমাদের কোনো পতন নেই? (সূরা ইবরাহীম ১৪:৪৪)
মাসআলা-১৪৯: জাহান্নামের পাশে দাঁড়িয়ে কাফিরের আরেক দফা পৃথিবীতে ফিরে আসার আবেদন:
وَلَوْ تَرَى إِذْ وُقِفُوا عَلَى النَّارِ فَقَالُوا يُلَيْتَنَا نُرَدُّ وَلَا نُكَذِّبَ بِآيَاتِ رَبِّنَا وَنَكُونَ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ
অর্থ: আর যদি তুমি দেখতে, যখন তাদেরকে আগুনের উপর আটকানো হবে, তখন তারা বলবে, 'হায়! যদি আমাদেরকে ফেরত পাঠানো হত। আর আমরা আমাদের রবের আয়াতসমূহ অস্বীকার না করতাম এবং আমরা মু'মিনদের অন্তর্ভুক্ত হতাম!' (সূরা আনআম ৬:২৭)
মাসআলা-১৫০: জাহান্নামের আযাব দেখে দ্বিতীয়বার পৃথিবীতে ফিরে যাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ:
وَتَرَى الظَّالِمِينَ لَمَّا رَأَوُا الْعَذَابَ يَقُولُونَ هَلْ إِلَى مَرَدَّ مِنْ سَبِيلٍ وَتَرَاهُمْ يُعْرَضُونَ عَلَيْهَا خَاشِعِينَ مِنَ الذُّلِّ يَنْظُرُونَ مِنْ طَرْفٍ خَفِيٍّ وَقَالَ الَّذِينَ آمَنُوا إِنَّ الْخَاسِرِينَ الَّذِينَ خَسِرُوا أَنفُسَهُمْ وَأَهْلِيهِمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ أَلَا إِنَّ الظَّالِمِينَ فِي عَذَابٍ مُّقِيمٍ
অর্থ: আর তুমি যালিমদেরকে দেখবে, যখন তারা আযাব প্রত্যক্ষ করবে তখন বলবে, 'ফিরে যাওয়ার কোনো পথ আছে কি'? তুমি তাদেরকে আরো দেখবে যে, তাদেরকে অপমানে অবনত অবস্থায় জাহান্নামে উপস্থিত করা হচ্ছে, তারা আড় চোখে তাকাচ্ছে। আর কিয়ামতের দিন মু'মিনগণ বলবে, তারাই তো ক্ষতিগ্রস্ত যারা নিজেদের ও পরিবার-পরিজনের ক্ষতি সাধন করেছে। সাবধান! যালিমরাই থাকবে স্থায়ী আযাবে। (সূরা শুরা ৪২:৪৪-৪৫)
মাসআলা-১৫১: কঠিন শাস্তিতে নিমজ্জিত মুজরিমদের আবেদন "হে আমাদের প্রভু! একবার একটু আযাব দূর করুন আমরা ঈমান আনব"
رَبَّنَا اكْشِفْ عَنَّا الْعَذَابَ إِنَّا مُؤْمِنُونَ أَنَّى لَهُمُ الذِّكْرَى وَقَدْ جَاءَهُمْ رَسُولٌ مُّبِينٌ ثُمَّ تَوَلَّوْا عَنْهُ وَقَالُوا مُعَلَّمٌ مَّجْنُونَ إِنَّا كَاشِفُو الْعَذَابِ قَلِيلًا إِنَّكُمْ عَائِدُونَ يَوْمَ نَبْطِشُ الْبَطْشَةَ الْكُبْرَى إِنَّا مُنتَقِمُونَ
অর্থ: (তখন তারা বলবে) 'হে আমাদের রব! আমাদের থেকে আযাব দূর করুন; নিশ্চয় আমরা মু'মিন হব।' এখন কীভাবে তারা উপদেশ গ্রহণ করবে, অথচ ইতঃপূর্বে তাদের কাছে সুস্পষ্টভাবে বর্ণনাকারী রাসূল এসেছিল? তারপর তারা তাঁর দিক থেকে বিমুখ হয়েছিল এবং বলেছিল 'এ শিক্ষাপ্রাপ্ত পাগল'। নিশ্চয় আমি ক্ষণকালের জন্য আযাব দূর করব; নিশ্চয় তোমরা পূর্বাবস্থায় ফিরে যাবে। সেদিন আমি প্রবলভাবে পাকড়াও করব; নিশ্চয় আমি হব প্রতিশোধ গ্রহণকারী। (সূরা দুখান ৪৪:১২-১৬)
মাসআরা-১৫২: ইবরাহিম (আ)-এর পিতা আষর জাহান্নাম দেখে বলবে: হে ইবরাহিম! আজ আমি তোমার কথা শুনব কিন্তু তখন ইবরাহিম (আ) এর পিতাকেও সুযোগ দেয়া হবে না বরং জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে:
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، قَالَ : " يَلْقَى إِبْرَاهِيمُ أَبَاهُ آزَرَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ، وَعَلَى وَجْهِ آزَرَ قَتَرَةً وَغَبَرَةٌ، يَقُولُ لَهُ إِبْرَاهِيمُ : أَلَمْ أَقُلْ لَكَ لَا تَعْصِنِي، فَيَقُولُ أَبُوهُ: فَالْيَوْمَ لَا أَعْصِيكَ. فَيَقُولُ إِبْرَاهِيمُ : يَا رَبِّ إِنَّكَ وَعَدْتَنِي أَنْ لَا تُخْزِينِي يَوْمَ يُبْعَثُونَ، فَأَيُّ خِزْيِ أَخْزَى مِنْ أَبِي الْأَبْعَدِ؟ فَيَقُولُ اللَّهُ تَعَالَى: " إِنِّي حَرَّمْتُ الْجَنَّةَ عَلَى الْكَافِرِينَ، ثُمَّ يُقَالُ: يَا إِبْرَاهِيمُ مَا تَحْتَ رِجْلَيْكَ؟ فَيَنْظُرُ، فَإِذَا هُوَ ضَبُحْ مُلْتَطِحْ فَيُؤْخَذُ بِقَوَائِمِهِ فَيُلْقَى فِي النَّارِ "
অর্থ: "আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি নবী থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইবরাহিম (আ) কিয়ামতের দিন তাঁর পিতাকে এমনভাবে দেখতে পাবে যে, তার মুখে কাল ও ধুলাময়, তখন ইবরাহিম (আ) বলবেন: আমি কি পৃথিবীতে তোমাকে বলি নাই যে, আমার কথা অমান্য করবে না? আযর বলবে: আচ্ছা আজ আমি তোমার কথা অমান্য করব না। তখন ইবরাহিম (আ) স্বীয় রবের নিকট আবেদন করবে যে, হে আমার রব! তুমি আমাকে ওয়াদা দিয়েছিলে যে, কিয়ামতের দিন আমাকে অপমানিত করবে না কিন্তু এর চেয়ে বড় অপমান আর কি হতে পারে যে, আমার পিতা তোমার রহমত থেকে বঞ্চিত। আল্লাহ বলবেন: হে ইবরাহিম! তোমার উভয় পায়ের নিচে কি? ইবরাহিম (হঠাৎ) দেখবেন আবর্জনার সাথে মিসা এক মূর্তি যাকে ফেরেশতারা পদাঘাত করে জাহান্নামে নিক্ষেপ করছে।" (বুখারী ৪/৩৩৫০)৪০
টিকাঃ
৪২ সিলসিলা আহাদিস সহীহ লি আল বানী ৫ম খ. হাদীস নং-২০৩৪।
৪০ কিতাব বাদউল খালক, বাব কাওলিল্লাহি তা'আলা ওয়াত্বাখাজাল্লাহা ইবরাহিমা খালীলা।