📘 মৃত্যুর পরে অনন্ত জীবন > 📄 জাহান্নামীদের বিছানা

📄 জাহান্নামীদের বিছানা


(আমরা আল্লাহর উত্তম নাম ও উচ্চ গুণাবলীর মাধ্যমে তাঁর নিকট আশ্রয় চাই। তিনি অত্যন্ত ধৈর্যশীল, দয়ালু ও ক্ষমাশীল)
মাসআলা-৯৮: জাহান্নামীদের ঘুমানোর জন্য আগুনের বিছানা বিছিয়ে দেয়া হবে:
لَهُمْ مِّنْ جَهَنَّمَ مِهَادٌ وَمِنْ فَوْقِهِمْ غَوَاشٍ وَكَذَلِكَ نَجْزِي الظَّالِمِينَ
অর্থ: "জাহান্নামে তাদের জন্য থাকবে আগুনের শয্যা, আর তাদের ওপরের আচ্ছাদনও হবে আগুনের, এমনিভাবেই আমি যালিমদেরকে প্রতিফল দিয়ে থাকি।" (সূরা আরাফ: ৪১)
মাসআলা-৯৯: জাহান্নামীদের গালিচাও হবে আগুনের:
لَهُمْ مِنْ فَوْقِهِمْ ظُلَلٌ مِّنَ النَّارِ وَمِنْ تَحْتِهِمْ ظُلَلْ ذَلِكَ يُخَوِّفُ اللَّهُ بِهِ عِبَادَهُ يُعِبَادِ فَاتَّقُونِ
অর্থ: তাদের জন্য তাদের উপরের দিকে থাকবে আগুনের আচ্ছাদন আর তাদের নিচের দিকেও থাকবে (আগুনের) আচ্ছাদন; এদ্বারা আল্লাহ তাঁর বান্দাদেরকে ভয় দেখান। 'হে আমার বান্দারা! তোমরা আমাকেই ভয় কর'। (সূরা যুমার ৩৯:১৬)
মাসআলা-১০০: জাহান্নামীদের চাদর ও বিছানা সবই আগুনের হবে:
يَوْمَ يَغْشَاهُمُ الْعَذَابُ مِنْ فَوْقِهِمْ وَمِنْ تَحْتِ أَرْجُلِهِمْ وَيَقُولُ ذُوقُوا مَا كُنْتُمْ تَعْمَلُونَ
অর্থ: যেদিন আযাব তাদেরকে তাদের উপর থেকে ও তাদের পায়ের নীচে থেকে আচ্ছন্ন করে ফেলবে এবং তিনি বলবেন, 'তোমরা যা করতে, তার স্বাদ আস্বাদন কর'। (সূরা আনকাবুত ২৯:৫৫)
وَإِن يَسْتَغِيثُوا يُغَاثُوا بِمَاءٍ كَالْمُهْلِ يَشْوِي الْوُجُوهَ بِئْسَ الشَّرَابُ وَسَاءَتْ مُرْتَفَقًا
অর্থ: যদি তারা পানি চায়, তবে তাদেরকে দেয়া হবে এমন পানি যা গলিত ধাতুর মত, যা চেহারাগুলো ঝলসে দেবে। কী নিকৃষ্ট পানীয়! আর কী মন্দ বিশ্রামস্থল! (সূরা কাহাফ ১৮:২৯)

📘 মৃত্যুর পরে অনন্ত জীবন > 📄 জাহান্নামের হাতি ও বেষ্টনী

📄 জাহান্নামের হাতি ও বেষ্টনী


(আল্লাহ স্বীয় দয়া ও অনুগ্রহে তা থেকে আমাদেরকে রক্ষা করুন, নিশ্চয় তিনি ক্ষমাশীল দয়ালু।)
মাসআলা-১০১: জাহান্নামীদের উপর আগুনের ছাতি থাকবে:
لَهُمْ مِّنْ فَوْقِهِمْ ظُلَلٌ مِنَ النَّارِ وَمِنْ تَحْتِهِمْ ظُلَلْ ذَلِكَ يُخَوِّفُ اللَّهُ بِهِ عِبَادَهُ يُعِبَادِ فَاتَّقُونِ
অর্থ: তাদের জন্য তাদের উপরের দিকে থাকবে আগুনের আচ্ছাদন আর তাদের নিচের দিকেও থাকবে (আগুনের) আচ্ছাদন; এদ্বারা আল্লাহ তাঁর বান্দাদেরকে ভয় দেখান। 'হে আমার বান্দারা! তোমরা আমাকেই ভয় কর'। (সূরা যুমার ৩৯:১৬)
মাসআলা-১০২: আগুনের তাবুসমূহে জাহান্নামীদের বাসস্থান হবে:
فَلْيَكْفُرْ إِنَّا أَعْتَدْنَا لِلظَّالِمِينَ نَارًا أَحَاطَ بِهِمْ
অর্থ: "আমি যালিমদের জন্য প্রস্তুত করে রেখেছি, অগ্নি, যার বেষ্টনী তাদেরকে পরিবেষ্টন করে থাকবে।" (সূরা কাহাফ: ২৯)
মাসআলা-১০৩: জাহান্নামের বেষ্টনী সমূহের দু'দেয়ালের মাঝে চল্লিশ বছরের রাস্তার দূরত্ব হবে:
নোট: ২০ নং মাসআলার হাদীস দ্রষ্টব্য।

📘 মৃত্যুর পরে অনন্ত জীবন > 📄 কুরআনের আলোকে জাহান্নামীরা

📄 কুরআনের আলোকে জাহান্নামীরা


মাসআলা-১০৪: কিয়ামতের প্রতি অবিশ্বাসী ভদ্র লোকদের ব্যাপারে কুরআনের ভাষ্য:
خُذُوهُ فَاعْتِلُوهُ إِلَى سَوَاءِ الْجَحِيمِ ثُمَّ صُبُّوا فَوْقَ رَأْسِهِ مِنْ عَذَابِ الْحَمِيمِ ذُقْ إِنَّكَ أَنتَ الْعَزِيزُ الْكَرِيمُ إِنَّ هَذَا مَا كُنْتُمْ بِهِ تَمْتَرُونَ
অর্থ: "(বলা হবে) তাকে ধর এবং টেনে নিয়ে যাও জাহান্নামের মধ্যস্থলে। অতপর তার মস্তকের ওপর ফুটন্ত পানি ঢেলে দিয়ে শাস্তি দাও। আস্বাদ গ্রহণ কর, তুমিতো ছিলে সম্মানিত অভিজাত, এটাতো ওটাই, যে বিষয়ে তোমরা সন্দেহ করতে।" (সূরা দুখান: ৪৭-৫০)
মাসআলা-১০৫: রাসূল -কে যাদুকর বলে ইসলামের দাওয়াত কে অবমাননা কারীদেরকে জাহান্নামে নিয়ে যাওয়ার সময় তাদেরকে একটি খোঁচা মূলক প্রশ্ন করে বলা হবে" এ আগুন কি যাদু না তারা দেখতে পাচ্ছে না":
يَوْمَ يُدَعُونَ إِلَى نَارِ جَهَنَّمَ دَعَا هَذِهِ النَّارُ الَّتِي كُنتُم بِهَا تُكَذِّبُونَ أَفَسِحْرُ هَذَا أَمْ أَنتُمْ لَا تُبْصِرُونَ إِصْلَوْهَا فَاصْبِرُوا أَوْ لَا تَصْبِرُوا سَوَاءٌ عَلَيْكُمْ إِنَّمَا تُجْزَوْنَ مَا كُنتُمْ تَعْمَلُونَ
অর্থ: সেদিন তাদেরকে জাহান্নামের আগুনের দিকে হাঁকিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে। 'এটি সেই জাহান্নাম যা তোমরা অস্বীকার করতে।' 'এটি কি যাদু, নাকি তোমরা দেখতে পাচ্ছ না!' তোমরা আগুনে প্রবেশ কর, তারপর তোমরা ধৈর্যধারণ কর বা না কর, উভয়ই তোমাদের জন্য সমান; তোমাদেরকে তো কেবল তোমাদের আমলের প্রতিফল দেয়া হচ্ছে। (সূরা তূর ৫২:১৩-১৬)৩৫
মাসআলা-১০৬: কাফিরদেরকে জাহান্নামে উত্তপ্ত করতে করতে জাহান্নামের পাহারাদার বলবে, দুনিয়াতে এ আযাব দ্রুত আসুক তা কামনা করতে এখন খুব মজা করে তা গ্রহণ কর:
قُتِلَ الْخَرَّاصُونَ الَّذِينَ هُمْ فِي غَمْرَةٍ سَاهُونَ يَسْأَلُونَ أَيَّانَ يَوْمُ الدِّينِ يَوْمَ هُمْ عَلَى النَّارِ يُفْتَنُونَ ذُوقُوا فِتْنَتَكُمْ هَذَا الَّذِي كُنتُمْ بِهِ تَسْتَعْجِلُونَ
অর্থ: "অভিশপ্ত হোক মিথ্যাচারীরা, যারা অজ্ঞ ও উদাসীন! তারা জিজ্ঞেস করে কর্মফল দিবস কবে হবে? (বল) সেদিন যেদিন তাদেরকে শাস্তি দেয়া হবে অগ্নিতে। (এবং বলা হবে) তোমরা তোমাদের শান্তি আস্বাদন কর তোমরা এ শাস্তিই ত্বরান্বিত করতে চেয়েছিলে।” (সূরা যারিয়াত:১০-১৪)
মাসআলা-১০৭: জাহান্নামে প্রবেশকারী কাফিরদেরকে জাহান্নামের পাহারাদার ফেরেশতা এক বিদ্রুপাত্মক প্রশ্ন করে বলবে: আপনারা তো খুব অনুগত লোক ছিলেন:
احْشُرُوا الَّذِينَ ظَلَمُوا وَأَزْوَاجَهُمْ وَمَا كَانُوا يَعْبُدُونَ مِنْ دُونِ اللَّهِ فَاهْدُوهُمْ إِلَى صِرَاطِ الْجَحِيمِ وَقِفُوهُمْ إِنَّهُمْ مَّسْئُولُونَ مَا لَكُمْ لَا تَنَاصَرُونَ بَلْ هُمُ الْيَوْمَ مُسْتَسْلِمُونَ
অর্থ: "(ফেরেশতাদেরকে বলা হবে) 'একত্র কর যালিম ও তাদের সঙ্গী-সাথীদেরকে এবং যাদের ইবাদাত তারা করত তাদেরকে। 'আল্লাহকে বাদ দিয়ে, আর তাদেরকে আগুনের পথে নিয়ে যাও'। 'আর তাদেরকে থামাও, অবশ্যই তারা জিজ্ঞাসিত হবে'। 'তোমাদের কী হলো, তোমরা একে অপরকে সাহায্য করছ না?' বরং তারা হবে আজ আত্মসমর্পণকারী। (সূরা সাফফাত ৩৭:২২-২৬)

টিকাঃ
৩৫ অন্য তাফসীর মতে- "তোমরা এর উত্তাপ ভোগ কর"।

📘 মৃত্যুর পরে অনন্ত জীবন > 📄 জাহান্নামে পথ ভ্রষ্ট পীর মুরীদদের ঝগড়া

📄 জাহান্নামে পথ ভ্রষ্ট পীর মুরীদদের ঝগড়া


মাসআলা-১০৮: জাহান্নামে পথভ্রষ্টকারী আলেম ও পীর ফকীরদেরকে লক্ষ্য করে তাদের ভক্তরা বলবে: "এখন আমাদের শাস্তি হালকা কর" তারা উত্তরে বলবে: এখানে আমরা সবাই সমান আমরা তোমাদের কোনো উপকার করতে পারব না:
وَإِذْ يَتَحَاجُّونَ فِي النَّارِ فَيَقُولُ الضُّعَفَاءُ لِلَّذِينَ اسْتَكْبَرُوا إِنَّا كُنَّا لَكُمْ تَبَعاً فَهَلْ أَنتُم مُّغْنُونَ عَنَّا نَصِيباً مِنَ النَّارِ قَالَ الَّذِينَ اسْتَكْبَرُوا إِنَّا كُلَّ فِيهَا إِنَّ اللَّهَ قَدْ حَكَمَ بَيْنَ الْعِبَادِ
অর্থ: আর জাহান্নামে তারা যখন বিতর্কে লিপ্ত হবে তখন দুর্বলরা, যারা অহঙ্কার করেছিল, তাদেরকে বলবে, 'আমরা তো তোমাদের অনুসারী ছিলাম, অতএব তোমরা কি আমাদের থেকে আগুনের কিয়দাংশ বহন করবে'? অহঙ্কারীরা বলবে, 'আমরা সবাই এতে আছি; নিশ্চয় আল্লাহ বান্দাদের মধ্যে ফয়সালা করে ফেলেছেন।' (সূরা মু'মিন ৪০:৪৭-৪৮)
মাসআলা-১০৯: পীর জাহান্নামে যাওয়ার সময় মুরীদদেরকে লক্ষ্য করে বলবে: বদবখত মুরীদদের এদলও জাহান্নামে যাবে, আর মুরীদরা স্বীয় পীরের এ বক্তব্য শুনে বলবে: বদবখত তোমরাও জাহান্নামেই যাচ্ছ? হে আল্লাহ! আমাদেরকে জাহান্নামে প্রেরণ কারীদেরকে ভাল করে শাস্তি দিন:
هَذَا فَوْجٌ مُّقْتَحِمْ مَعَكُمْ لا مَرْحَباً بِهِمْ إِنَّهُمْ صَالُو النَّارِ قَالُوا بَلْ أَنتُمْ لا مَرْحَباً بِكُمْ أَنتُمْ قَدَّمْتُمُوهُ لَنَا فَبِئْسَ الْقَرَارُ قَالُوا رَبَّنَا مَنْ قَدَّمَ لَنَا هَذَا فَزِدْهُ عَذَاباً ضِعْفًا فِي النَّارِ
অর্থ: এই তো এক দল তোমাদের সাথেই প্রবেশ করছে, তাদের জন্য নেই কোনো অভিনন্দন। নিশ্চয় তারা আগুনে জ্বলবে। অনুসারীরা বলবে, 'বরং তোমরাও, তোমাদের জন্যও তো নেই কোনো অভিনন্দন। তোমরাই আমাদের জন্য এ বিপদ এনেছ। অতএব কতই না নিকৃষ্ট এ আবাসস্থল'! তারা বলবে, 'হে আমাদের রব, যে আমাদের জন্য এ বিপদ এনেছে, জাহান্নামে তুমি তার আযাবকে দ্বিগুণ বাড়িয়ে দাও।' (সূরা সোয়াদ ৩৮:৫৯-৬১)
মাসআলা-১১০: পথভ্রষ্টকারী নেতাদের জন্য জাহান্নামে তাদের ভক্তদের লা'নত ও তাদেরকে দ্বিগুণ আযাব দেয়ার জন্য দরখাস্ত:
يَوْمَ تُقَلَّبُ وُجُوهُهُمْ فِي النَّارِ يَقُولُونَ يُلَيْتَنَا أَطَعْنَا اللَّهَ وَأَطَعْنَا الرَّسُولَا وَقَالُوا رَبَّنَا إِنَّا أَطَعْنَا سَادَتَنَا وَكُبَرَاءَنَا فَأَضَلُّونَا السَّبِيلَا رَبَّنَا آتِهِمْ ضِعْفَيْنِ مِنَ الْعَذَابِ وَالْعَنْهُمْ لَعْناً كَبِيراً
অর্থ: "যেদিন তাদের মুখমণ্ডল অগ্নিতে উলট পালট করা হবে, সেদিন তারা বলবে হায়। আমরা যদি আল্লাহকে মানতাম ও রাসূলকে মানতাম! তারা আরো বলবে: হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা আমাদের নেতা ও বড় লোকদের আনুগত্য করেছিলাম এবং তারা আমাদেরকে পথভ্রষ্ট করেছিল। হে আমাদের প্রতিপালক! তাদের দ্বিগুণ শাস্তি প্রদান করুন এবং তাদেরকে দিন মহা অভিসম্পাত।" (সূরা আহযাব: ৬৬-৬৮)
মাসআলা-১১১: জাহান্নামে যাওয়ার পর পথভ্রষ্ট আলেম ও তাদের ভক্তদের পরস্পরের ঝগড়া:
وَأَقْبَلَ بَعْضُهُمْ عَلَى بَعْضٍ يَتَسَاءَلُونَ قَالُوا إِنَّكُمْ كُنْتُمْ تَأْتُونَنَا عَنِ الْيَمِينِ قَالُوا بَلْ لَّمْ تَكُونُوا مُؤْمِنِينَ وَمَا كَانَ لَنَا عَلَيْكُمْ مِّنْ سُلْطَانٍ بَلْ كُنتُمْ قَوْماً طَاغِيْنَ فَحَقَّ عَلَيْنَا قَوْلُ رَبِّنَا إِنَّا لَذَآئِقُونَ فَأَغْوَيْنَاكُمْ إِنَّا كُنَّا غَاوِينَ فَإِنَّهُمْ يَوْمَئِذٍ فِي الْعَذَابِ مُشْتَرِكُونَ
অর্থ: আর তারা একে অপরের মুখোমুখি হয়ে জিজ্ঞেস করবে, তারা বলবে, 'তোমরাই তো আমাদের কাছে আসতে ধর্মীয় দিক থেকে'। জবাবে তারা (নেতৃস্থানীয় কাফিররা) বলবে, 'বরং তোমরা তো মু'মিন ছিলে না'। আর তোমাদের উপর আমাদের কোনো কর্তৃত্ব ছিল না, বরং তোমরা ছিলে সীমালঙ্ঘনকারী কওম'। 'তাই আমাদের বিরুদ্ধে আমাদের রবের বাণী সত্য হয়েছে; নিশ্চয় আমরা আস্বাদন করব (আযাব)'। 'আর আমরা তোমাদেরকে বিভ্রান্ত করেছি, কারণ আমরা নিজেরাই ছিলাম বিভ্রান্ত'। নিশ্চয় তারা সবাই সেদিন আযাবে অংশীদার হবে। (সূরা সাফফাত ৩৭:২৭-৩৩)৩৬
মাসআলা-১১২: জাহান্নামে মুশরিকরা স্বীয় উস্তাদদের চক্রান্তের ভর্ৎসনা করবে তখন উস্তাদরা নিজেদের নির্দোষিতা প্রমাণ করতে চাইবে:
وَقَالَ الَّذِينَ كَفَرُوا لَن تُؤْمِنَ بِهَذَا الْقُرْآنِ وَلَا بِالَّذِي بَيْنَ يَدَيْهِ وَلَوْ تَرَى إِذِ الظَّالِمُونَ مَوْقُوفُونَ عِندَ رَبِّهِمْ يَرْجِعُ بَعْضُهُمْ إِلَى بَعْضِ الْقَوْلَ يَقُولُ الَّذِينَ اسْتُضْعِفُوا لِلَّذِينَ اسْتَكْبَرُوا لَوْلَا أَنتُمْ لَكُنَّا مُؤْمِنِينَ قَالَ الَّذِينَ اسْتَكْبَرُوا لِلَّذِينَ اسْتُضْعِفُوا أَنَحْنُ صَدَدْنَاكُمْ عَنِ الْهُدَى بَعْدَ إِذْ جَاءَكُمْ بَلْ كُنْتُمْ مُجْرِمِينَ وَقَالَ الَّذِينَ اسْتُضْعِفُوا لِلَّذِينَ اسْتَكْبَرُوا بَلْ مَكْرُ اللَّيْلِ وَالنَّهَارِ إِذْ تَأْمُرُونَنَا أَنْ تَكْفُرَ بِاللَّهِ وَنَجْعَلَ لَهُ أَندَاداً وَأَسَرُّوا النَّدَامَةَ لَمَّا رَأَوُا الْعَذَابَ وَجَعَلْنَا الْأَغْلَالَ فِي أَعْنَاقِ الَّذِينَ كَفَرُوا هَلْ يُجْزَوْنَ إِلَّا مَا كَانُوا يَعْمَلُونَ
অর্থ: আর কাফিরগণ বলে, 'আমরা কখনো এ কুরআনের প্রতি ঈমান আনব না এবং এর পূর্ববর্তী কোনো কিতাবের প্রতিও না'। আর তুমি যদি দেখতে যালিমদেরকে, যখন তাদের রবের কাছে দাঁড় করিয়ে দেয়া হবে তখন তারা পরস্পর বাদানুবাদ করতে থাকবে। যাদেরকে দুর্বল করে রাখা হয়েছিল তারা অহঙ্কারীদেরকে বলবে, 'তোমরা না থাকলে অবশ্যই আমরা মু'মিন হতাম'। যারা অহঙ্কারী ছিল তারা, তাদেরকে বলবে, যাদেরকে দুর্বল করে রাখা হয়েছিল, 'তোমাদের কাছে হিদায়াত আসার পর আমরা কি তোমাদেরকে তা থেকে বাধা দিয়েছিলাম? বরং তোমরাই ছিলে অপরাধী'। আর যাদেরকে দুর্বল করে রাখা হয়েছিল তারা, যারা অহঙ্কারী ছিল তাদেরকে বলবে, 'বরং এ ছিল তোমাদের দিন-রাতের চক্রান্ত, যখন তোমরা আমাদেরকে আদেশ দিয়েছিলে যেন আমরা আল্লাহকে অস্বীকার করি এবং তাঁর সমকক্ষ স্থির করি'। আর তারা যখন আযাব দেখবে তখন তারা অনুতাপ গোপন করবে। আর আমি কাফিরদের গলায় শৃঙ্খল পরিয়ে দেব। তারা যা করত কেবল তারই প্রতিফল তাদেরকে দেয়া হবে। (সূরা সাবা ৩৪:৩১-৩৩)
মাসআলা-১১৩: জাহান্নামে মুরীদরা পীরদেরকে বলবে আমাদেরকে আল্লাহর আযাব থেকে রক্ষা কর, তারা উত্তরে বলবে: এখানে আল্লাহর আযাব থেকে বাঁচানোর মত কেউ নেই:
وَبَرَزُوا اللَّهِ جَمِيعاً فَقَالَ الضُّعَفَاءُ لِلَّذِينَ اسْتَكْبَرُوا إِنَّا كُنَّا لَكُمْ تَبَعاً فَهَلْ أَنتُمْ مُّغْنُونَ عَنَّا مِنْ عَذَابِ اللَّهِ مِنْ شَيْءٍ قَالُوا لَوْ هَدَانَا اللَّهُ لَهَدَيْنَاكُمْ سَوَاءٌ عَلَيْنَا أَجَزِعْنَا أَمْ صَبَرْنَا مَا لَنَا مِنْ مَّحِيصٍ
অর্থ: আর তারা সবাই আল্লাহর সামনে হাজির হবে, অতঃপর যারা অহঙ্কার করেছে দুর্বলরা তাদেরকে বলবে, 'নিশ্চয় আমরা তোমাদের অনুসারী ছিলাম। সুতরাং তোমরা কি আল্লাহর আযাবের মোকাবেলায় আমাদের কোনো উপকারে আসবে'? তারা বলবে, 'যদি আল্লাহ আমাদের হিদায়াত করতেন, তাহলে আমরাও তোমাদের হিদায়াত করতাম, এখন আমরা অস্থির হই কিংবা সবর করি, উভয় অবস্থাই আমাদের জন্য সমান, আমাদের পালানোর কোনো জায়গা নেই'। (সূরা ইবরাহীম ১৪:২১)

টিকাঃ
৩৬ এ আয়াতে اليمين বলতে দীন বুঝানো হয়েছে। কারো কারো মতে এ দ্বারা শক্তি-সামর্থ্য বা কল্যাণ-স্বাচ্ছন্দ্য বুঝানো হয়েছে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00