📄 জাহান্নামের স্তরসমূহ
(আমরা আল্লাহর নিকট জাহান্নামের আযাব থেকে আশ্রয় চাই, কেননা তিনি ব্যতীত আর কোনো উপাস্য নেই, তিনি এক অমুখাপেক্ষী যিনি কারো কাছ থেকে জন্ম নেন নি, আর তিনি কাওকে জন্মও দেন নি, আর তাঁর সমকক্ষও কেউ নেই।)
মাসআলা-৭: জাহান্নামের স্তরসমূহের মধ্যে সর্বনিম্ন স্তরে সর্বাধিক কঠিন আযাব হবে, আর ওপরের স্তরসমূহে হালকা আযাব হবে:
عَنِ الْعَبَّاسِ بْنِ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ هُ أَنَّهُ قَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ ﷺ هَلْ نَفَعْتَ أَبَا طَالِبٍ بِشَيْءٍ، فَإِنَّهُ كَانَ يَحُوطُكَ وَيَغْضَبُ لَكَ؟ قَالَ: «نَعَمْ، هُوَ فِي ضَحْضَاحٍ مِنْ نَارٍ ، وَلَوْلَا أَنَا لَكَانَ فِي الدَّرْكِ الْأَسْفَلِ مِنَ النَّارِ»
অর্থ: "আব্বাস বিন আদুল মোত্তালেব (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি জিজ্ঞেস করলেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ ﷺ! আবু তালেব আপনাকে রক্ষণাবেক্ষণ করত, আপনার জন্য অন্যদের ওপর অসন্তুষ্ট হত, তা কি তার কোনো উপকারে আসবে? তিনি বললেন: হ্যাঁ। সে জাহান্নামের ওপরে স্তরে আছে, যদি আমি তার জন্য সুপারিশ না করতাম, তাহলে সে জাহান্নামের সর্বনিম্নস্তরে থাকত।" (মুসলিম ১/২০৯)৫
মাসআলা-৮: মুনাফিকরা জাহান্নামের সর্বনিম্ন স্তরে থাকবে:
إِنَّ الْمُنَافِقِينَ فِي الدَّرْكِ الْأَسْفَلِ مِنَ النَّارِ وَلَن تَجِدَ لَهُمْ نَصِيراً
অর্থ: "নিঃসন্দেহে মুনাফিকরা রয়েছে জাহান্নামের সর্বনিম্ন স্তরে, আর তোমরা তাদের জন্য কখনো কোনো সাহায্যকারী পাবে না।" (সূরা নিসা: ১৪৫)
মাসআলা-৯: জাহান্নামের স্তরসমূহ বিভিন্ন গুনাহর জন্য পৃথক পৃথক শাস্তির জন্য নিদৃষ্ট থাকবে:
عَنْ سَمُرَةَ هُ أَنَّهُ سَمِعَ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، يَقُولُ: «إِنَّ مِنْهُمْ مَنْ تَأْخُذُهُ النَّارُ إِلَى كَعْبَيْهِ، وَمِنْهُمْ مَنْ تَأْخُذُهُ إِلَى حُجْزَتِهِ، وَمِنْهُمْ مَنْ تَأْخُذُهُ إِلَى عُنُقِهِ
অর্থ: "সামুরা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি নবী ﷺ-কে বলতে শুনেছেন, তিনি বলেছেন: কোনো কোনো জাহান্নামীকে আগুন তার টাখনু পর্যন্ত জ্বালাবে, কোনো কোনো লোককে কোমর পর্যন্ত, আর কোনো কোনো লোককে গর্দান পর্যন্ত।" (মুসলিম)৬
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، قَالَ: «تَأْكُلُ النَّارُ ابْنَ آدَمَ إِلَّا أَثَرَ السُّجُودِ، حَرَّمَ اللَّهُ عَلَى النَّارِ أَنْ تَأْكُلَ أَثَرَ السُّجُودِ»
অর্থ: "আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি নবী থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: জাহান্নামের আগুন আদম সন্তানের সিজদার স্থান ব্যতীত সমস্ত শরীর জ্বালিয়ে দিবে, সিজদার স্থানটুকু জ্বালানো আল্লাহ জাহান্নামের জন্য হারাম করেছেন।" (ইবনে মাজা ২/৪৩২৬)৭
মাসআলা-১০: জাহান্নামের একটি স্তরের নাম জাহীম:
فَأَمَّا مَنْ طَغَى وَآثَرَ الْحَيَاةَ الدُّنْيَا فَإِنَّ الْجَحِيمَ هِيَ الْمَأْوَى
অর্থ: "তখন যে ব্যক্তি সীমালংঘন করেছে, পার্থিব জীবনকে অগ্রাধিকার দিয়েছে, তার ঠিকানা হবে জাহিম (জাহান্নাম)। (সূরা নাযিয়াত: ৩৭-৩৯)
মাসআলা-১১: জাহান্নামের আরেকটি স্তরের নাম হুতামা:
كَلَّا لَيُنبَذَنَّ فِي الْحُطَمَةِ وَمَا أَدْرَاكَ مَا الْحُطَمَةُ نَارُ اللَّهِ الْمُوقَدَةُ
অর্থ: কখনো নয়, অবশ্যই সে নিক্ষিপ্ত হবে হুতামা'য়। আর কিসে তোমাকে জানাবে হুতামা কি? আল্লাহর প্রজ্জ্বলিত আগুন। যা হৃৎপিণ্ড পর্যন্ত পৌঁছে যাবে। নিশ্চয় তা তাদেরকে আবদ্ধ করে রাখবে লম্বা খুঁটিতে। (সূরা হুমাযাহ ১০৪:৪-৬)
মাসআলা-১২: জাহান্নামের আরেকটি স্তরের নাম হাবিয়া:
وَأَمَّا مَنْ خَفَّتْ مَوَازِينُهُ فَأُمُّهُ هَاوِيَةٌ وَمَا أَدْرَاكَ مَا هِيَهُ نَارٌ حَامِيَةٌ
অর্থ: "অতএব যার পাল্লা হালকা হবে, তার ঠিকানা হবে হাবিয়া, আপনি কি জানেন তা কি? (তাহলো) প্রজ্জলিত অগ্নি।" (সূরা কারিয়া: ৮-১১)
মাসআলা-১৩: জাহান্নামের আরেকটি স্তরের নাম সাকার:
سَأُصْلِيْهِ سَقَرَ وَمَا أَدْرَاكَ مَا سَقَرُ لَا تُبْقِي وَلَا تَذَرُ لَوَّاحَةٌ لِلْبَشَرِ
অর্থ: " অচিরেই আমি তাকে জাহান্নামের আগুনে প্রবেশ করাব। কিসে তোমাকে জানাবে জাহান্নামের আগুন কী? এটা অবশিষ্টও রাখবে না এবং ছেড়েও দেবে না। চামড়াকে দগ্ধ করে কালো করে দেবে। (সূরা মুদ্দাসসির ৭৪:২৬-২৯)
মাসআলা-১৪: জাহান্নামের আরেকটি স্তরের নাম লাযা:
كَلَّا إِنَّهَا لَظَى نَزَّاعَةٌ لِلشَّوَى تَدْعُو مَنْ أَدْبَرَ وَتَوَلَّى وَجَمَعَ فَأَوْعَى
অর্থ: কখনো নয়। এটিতো লেলিহান আগুন। যা মাথার চামড়া খসিয়ে নেবে। জাহান্নাম তাকে ডাকবে যে পৃষ্ঠ প্রদর্শন করেছিল এবং মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিল। আর সম্পদ জমা করেছিল, অতঃপর তা সংরক্ষণ করে রেখেছিল। (সূরা মাআরিজ ৭০:১৫-১৮)
মাসআলা-১৫: জাহান্নামের আরেকটি স্তরের নাম সাঈর:
وَقَالُوا لَوْ كُنَّا نَسْمَعُ أَوْ نَعْقِلُ مَا كُنَّا فِي أَصْحَابِ السَّعِيرِ فَاعْتَرَفُوا بِذَنْبِهِمْ فَسُحْقًا لأَصْحَابِ السَّعِيرِ
অর্থ: " আর তারা বলবে, 'যদি আমরা শুনতাম অথবা বুঝতাম, তাহলে আমরা জ্বলন্ত আগুনের অধিবাসীদের মধ্যে থাকতাম না'। অতঃপর তারা তাদের অপরাধ স্বীকার করবে। অতএব ধ্বংস জ্বলন্ত আগুনের অধিবাসীদের জন্য। (সূরা মূলক ৬৭:১০-১১)
মাসআলা-১৬: জাহান্নামের আরেকটি স্তরের নাম হবে যামহারীর: নোট: এ সংক্রান্ত হাদীসটি ১২৫ নং মাসআলা দ্রষ্টব্য।
মাসআলা-১৭: জাহান্নামের একটি নালার নাম ওয়াইল:
انْطَلِقُوا إِلَى ظِلَّ ذِي ثَلَاثِ شُعَبٍ لا قَلِيلٍ وَلَا يُغْنِي مِنَ اللَّهَبِ إِنَّهَا تَرْمِي بِشَرَرٍ كَالْقَصْرِ كَأَنَّهُ جِمَالَةٌ صُفْرٌ وَيْلٌ يَوْمَئِذٍ لِلْمُكَذِّبِينَ
অর্থ: " যাও তিন কুণ্ডলী বিশিষ্ট আগুনের ছায়ায়, যা ছায়াদানকারী নয় এবং তা জাহান্নামের জ্বলন্ত অগ্নিশিখার মোকাবেলায় কোনো কাজেও আসবে না। নিশ্চয় তা (জাহান্নাম) ছড়াবে প্রাসাদসম স্ফুলিঙ্গ। তা যেন হলুদ উস্ত্রী। মিথ্যারোপ কারীদের জন্য সেদিনের দুর্ভোগ! (সূরা মুরসালাত ৭৭:৩০-৩৪)
টিকাঃ
৫ কিতাবুল ঈমান বাব সাফায়াতুন্নাবী (স) লি আবি তালেব।
৬ কিতাবুল জান্না, বাব জাহান্নাম।
৭ কিতাবুষযুহদ, বাব সিফাতিন্নার, (২/৩৪৯২)
📄 জাহান্নামের গভীরতা
মাসআলা-১৮: জাহান্নামে একটি পাথর নিক্ষেপ করলে তা তার তলদেশে গিয়ে পৌঁছতে ৭০ বছর সময় লাগে:
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ هِ قَالَ: كُنَّا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، إِذْ سَمِعَ وَجْبَةً، فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَتَدْرُونَ مَا هُذَا؟ قَالَ: قُلْنَا: اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ ، قَالَ: «هَذَا حَجَرٌ رُمِيَ بِهِ فِي النَّارِ مُنْذُ سَبْعِينَ خَرِيفًا. فَهُوَ يَهْوِي فِي النَّارِ الْآنَ، حَتَّى انْتَهَى إِلَى قَعْرِهَا»
অর্থ: "আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমরা একদা রাসূল (স-এর সাথে ছিলাম, এমন সময় একটি বিকট শব্দ শোনা গেল, রাসূল বললেন: তোমরা কি জান এটা কিসের শব্দ? (বর্ণনাকারী বলেন) আমরা বললাম: আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই এব্যাপারে ভাল জানেন। তিনি বললেন: এটি একটি পাথর, যা আজ থেকে সত্তর বছর পূর্বে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হয়েছিল, আর তা তার তলদেশে যেতে ছিল এবং এত দিনে সেখানে গিয়ে পৌঁছেছে”। (মুসলিম ৪/২৮৪৪)৮
মাসআলা-১৯: জাহান্নামের প্রশস্ততা আকাশ ও জমিনের দূরত্বের চেয়ে অধিক:
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ وَاللَّهُ أَنَّهُ سَمِعَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «إِنَّ الْعَبْدَ لَيَتَكَلَّمُ بِالْكَلِمَةِ، يَنْزِلُ بِهَا فِي النَّارِ أَبْعَدَ مَا بَيْنَ الْمَشْرِقِ وَالْمَغْرِبِ»
অর্থ: "আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি রাসূল-কে বলতে শুনেছেন, তিনি বলেন: বান্দা মুখ দিয়ে এমন কথা বলে ফেলে, যার ফলে জাহান্নামে আকাশ ও যমিনের দূরত্বের চেয়েও গভীরে চলে যায়।" (মুসলিম ৪/২৯৮৮)৯
মাসআলা-২০: জাহান্নামের বাউন্ডারির দু'টি দেয়ালের মাঝে ৪০ বছরের রাস্তার দূরত্বঃ
عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِي هُ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ قَالَ: «السُرَادِقِ النَّارِ أَرْبَعَةُ جُدُرٍ ، بَيْنَ كُلِّ جِدَارٍ مِثْلُ أَرْبَعِينَ سَنَةً»
অর্থ: "আবু সাঈদ খুদরী (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূল বলেছেন: জাহান্নামের বাউণ্ডারীর দুই দেয়ালের মাঝে ৪০ বছরের রাস্তার দূরত্ব।" (আবু ইয়ালা ২/১৩৫৮)১০
মাসআলা-২১: জাহান্নামে এক এক কাফিরের কান ও কাঁধের মাঝে ৭০ বছরের রাস্তার দূরত্ব:
عَنْ مُجَاهِدٍ ، قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ أَتَدْرِي مَا سِعَةُ جَهَنَّمَ؟ قُلْتُ : لَا ، قَالَ: أَجَلْ، وَاللَّهِ مَا تَدْرِي إِنَّ بَيْنَ شَحْمَةٍ أُذُنِ أَحَدِهِمْ وَبَيْنَ عَاتِقِهِ مَسِيرَةً سَبْعِينَ خَرِيفًا، تَجْرِي فِيهَا أَوْدِيَةُ الْقَيْحِ وَالدَّمِ ، قُلْتُ: أَنْهَارًا ۚ قَالَ: لَا. بَلْ أَوْدِيَةٌ.
অর্থ: "মুজাহিদ (র) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমাকে ইবনে আব্বাস (রা) বলেছেন: তুমি কি জান যে জাহান্নামের গভীরতা কতটুকু? আমি বললাম: না। তিনি বললেন: তাহলে আল্লাহর কসম! তুমি জান না যে জাহান্নামীর কানের লতি থেকে তার কাঁধ পর্যন্ত সত্তর বছরের রাস্তার দূরত্ব, যার মাঝে থাকে রক্ত ও পুঁজের ঝর্ণাসমূহ। আমি জিজ্ঞেস করলাম, নদীও কি প্রবাহিত হবে? তিনি বললেন: না বরং ঝর্ণাসমূহ প্রবাহিত হবে।” (আবু নুয়াইম ফিল হুলিয়া)১১
মাসআলা-২২: আল্লাহর সমস্ত সৃষ্টি জীবের মধ্যে হাজারে ৯৯৯ জন লোক জাহান্নামে যাবে: নোট: এ সংক্রান্ত হাদীসটি ২৪২ নং মাসআলা দ্রঃ।
মাসআলা-২৩: হাজারে ৯৯৯ জন জাহান্নামে যাওয়া সত্ত্বেও জাহান্নামে খালি থেকে যাবে এবং জাহান্নাম আরো লোক পেতে চাইবে:
يَوْمَ نَقُولُ لِجَهَنَّمَ هَلِ امْتَلأْتِ وَتَقُولُ هَلْ مِنْ مَزِيدٍ
অর্থ: "যেদিন আমি জাহান্নামকে জিজ্ঞেস করব যে, তুমি কি পূর্ণ হয়ে গেছ? সে বলবে আরো আছে কি?” (সূরা ক্বাফ: ৩০)
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ ، أَنَّ نَبِيَّ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، قَالَ: " لَا تَزَالُ جَهَنَّمُ تَقُولُ: هَلْ مِنْ مَزِيدٍ، حَتَّى يَضَعَ فِيهَا رَبُّ الْعِزَّةِ، تَبَارَكَ وَتَعَالَى قَدَمَهُ فَتَقُولُ : قَدْ قَدْ ، وَعِزَّتِكَ وَيُزْوَى بَعْضُهَا إِلَى بَعْضٍ "
অর্থ: “আনাস বিন মালেক (রা) নবী থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সর্বদাই জাহান্নাম বলতে থাকবে যে আরো কি আছে? আরো কি আছে? এমনকি আল্লাহ তাআলা তাঁর কদম জাহান্নামে রাখবেন, তখন সে বলবে: তোমার ইজ্জতের কসম! যথেষ্ট যথেষ্ট। আর তখন জাহান্নামের এক অংশ অপর অংশের সাথে মিলিত হয়ে যাবে।" (মুসলিম ৪/২৮৪৮)১২
মাসআলা-২৪: জাহান্নামকে হাশরের মাঠে নিয়ে আসতে চারশ নব্বই কোটি ফেরেশতা নিয়োগ করা হবে:
عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ مَسْعُودِ اللهِ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : يُؤْتَى بِجَهَنَّمَ يَوْمَئِذٍ لَهَا سَبْعُونَ أَلْفَ زِمَامٍ ، مَعَ كُلِّ زِمَامٍ سَبْعُونَ أَلْفَ مَلَكَ يَجُرُّونَهَا»
অর্থ: “আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ বলেছেন: কিয়ামতের দিন জাহান্নামকে হাশরের মাঠে আনা হবে, তখন তার সত্তর হাজার লাগাম থাকবে, আর প্রত্যেক লাগামে সত্তর হাজার ফেরেশতা ধরে টেনে টেনে তা নিয়ে আসবে।” (মুসলিম ৪/২৮৪২)১৩
টিকাঃ
৮ কিতাব সিফাতুল মুনাফিকীন, বাব জাহান্নাম।
৯ কিতাবুয যুহদ, বাব হিফযুল লিসান।
১০ আবু ইয়ালা লিল আসায়ী, ২য় খণ্ড, হাদীস নং১৩৫৮।
১১ শরহুসুসুন্না, খ. ১৫ পৃ. ২৫১।
১২ কিতাবুল জান্না ওয়ান্নার, বাব জাহান্নام।
১৩ প্রাগুক্ত।
📄 জাহান্নামের আযাবের ভয়াবহতা
(আল্লাহ তাঁর স্বীয় দয়া ও অনুগ্রহে আমাদেরকে তা থেকে বাঁচান, আর তিনিই একমাত্র এর ক্ষমতাবান)
মাসআলা-২৫: কাফিরকে দূর থেকে আসতে দেখে জাহান্নাম রাগে ও ক্রোধে এমন আওয়াজ করবে যে তা শুনে কাফির অজ্ঞান হয়ে যাবে:
إِذَا رَأَتْهُمْ مِنْ مَّكَانٍ بَعِيدٍ سَمِعُوا لَهَا تَغَيُّظاً وَزَفِيراً
অর্থ: “জাহান্নাম যখন দূর থেকে তাদেরকে দেখবে, তখন তারা শুনতে পাবে তার গর্জন ও হুঙ্কার।” (সূরা ফুরকান: ১২)
নোট: আবদুল্লাহ বিন আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত, যখন জাহান্নামীকে জাহান্নামের দিকে নিয়ে যাওয়া হবে, তখন জাহান্নাম আওয়াজ করতে থাকবে, আর এমন এক কম্পনের সৃষ্টি করবে যে, এর ফলে সমস্ত হাশরবাসী ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে যাবে।
ওবাইদ বিন ওমাইর (রা) বলেন: যে যখন জাহান্নাম রাগে কম্পন করতে থাকবে হট্টগোল ও চিল্লা চিল্লি শুরু করবে, তখন সমস্ত নৈকট্য প্রাপ্ত ফেরেশতা এবং উঁচু পর্যায়ের নবীগণও কেঁপে উঠবে। এমন কি খালিলুল্লাহ ইবরাহিম (আ) ও নতজানু হয়ে পড়ে যাবেন আর বলতে থাকবে যে, হে আল্লাহ! আজ আমি তোমার নিকট শুধু আমার নিরাপত্তা চাই, আর কিছু চাই না।
একদা আবদুল্লাহ বিন মাসউদ (রা) রাবী (রা)-কে সাথে নিয়ে যাচ্ছিলেন, (চলতে চলতে) রাস্তায় একটি চুলা দেখতে পেলেন, যেখানে অগ্নি স্ফুলিঙ্গ দেখা যাচ্ছিল, তা দেখে আবদুল্লাহ বিন মাসউদ (রা) অনিচ্ছা সত্ত্বেই সূরা ফুরকানের ওপরে উল্লেখিত আয়াতটি পাঠ করলেন, আর তা শুনা মাত্রই রাবি (রা) বেহুশ হয়ে পড়ে গেলেন, খাটে উঠিয়ে তাকে ঘরে আনা হলো, সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত আবদুল্লাহ বিন মাসউদ (রা) তার পাশে বসে থাকলেন, কিন্তু তার হুশ ফিরাতে পারলেন না।” (ইবনে কাসীর)
মাসআলা-২৬: যখন কাফিরকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে, তখন জাহান্নাম কঠিন শাস্তি দেয়ার জন্য ভয়ানক আওয়াজ করতে থাকবে:
إِذَا أُلْقُوا فِيهَا سَمِعُوا لَهَا شَهِيقاً وَهِيَ تَفُورُ تَكَادُ تَمَيَّزُ مِنَ الْغَيْظِ
অর্থ: "যখন তারা (জাহান্নামে) নিক্ষিপ্ত হবে, তখন তার উৎক্ষিপ্ত গর্জন শুনতে পাবে, ক্রোধে জাহান্নাম যেন ফেটে পড়বে।” (সূরা মূলক: ৭-৮)
মাসআলা-২৭: জাহান্নাম কাফিরকে শাস্তি দেয়ার জন্য উন্মাদ হয়ে থাকবে:
إِنَّ جَهَنَّمَ كَانَتْ مِرْصَاداً لِلطَّاغِينَ مَا بَا لَا بِثِينَ فِيهَا أَحْقَابِاً
অর্থ: "নিশ্চয়ই জাহান্নাম প্রতিক্ষায় থাকবে, সীমালংঘন কারীদের আশ্রয়স্থল রূপে, তারা তথায় শতাব্দীর পর শতাব্দী অবস্থান করবে।” (সূরা নাবা: ২১,২৩)
মাসআলা-২৮: জাহান্নামের আগুনকে প্রজ্জ্বলিত করার জন্য আল্লাহ এমন ফেরেশতা নির্ধারণ করে রেখেছেন যারা অত্যন্ত রুক্ষ্ম, নির্দয় ও কঠোর স্বভাব সম্পন্ন, যাদের সংখ্যা হবে ১৯ জন:
يَأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا قُوا أَنفُسَكُمْ وَأَهْلِيكُمْ نَاراً وَقُودُهَا النَّاسُ وَالْحِجَارَةُ عَلَيْهَا مَلائِكَةٌ غِلاظٌ شِدَادٌ لا يَعْصُونَ اللهَ مَا أَمَرَهُمْ وَيَفْعَلُونَ مَا يُؤْمَرُوْنَ
অর্থ: "হে মু'মিনগণ! তোমরা নিজেদেরকে এবং তোমাদের পরিবার-পরিজনদেরকে সেই অগ্নি থেকে রক্ষা কর, যার ইন্ধন হবে মানুষ ও পাথর, যাতে নিয়োজিত আছে পাষাণ হৃদয়, কঠোর স্বভাবের অধিকারী ফেরেশতাগণ, আল্লাহ যা আদেশ করেন তারা তা অমান্য করে না, আর যা করতে আদেশ করা হয় তাই করে।” (সূরা তাহরীম: ৬)
عَلَيْهَا تِسْعَةَ عَشَرَ
অর্থ: "এর ওপর (জাহান্নামে) নিয়োজিত আছে ১৯ জন ফেরেশতা।” (সূরা মুদ্দাসসির: ৩০)
মাসআলা-২৯: জাহান্নামের আযাব দেখা মাত্রই কাফেরের চেহারা কাল হয়ে যাবে:
وَالَّذِينَ كَسَبُوا السَّيِّئَاتِ جَزَاءُ سَيِّئَةٍ بِمِثْلِهَا وَتَرْهَقُهُمْ ذِلَّةٌ مَّا لَهُمْ مِّنَ اللَّهِ مِنْ عَاصِمٍ كَأَنَّمَا أُغْشِيَتْ وُجُوهُهُمْ قِطَعاً مِنَ اللَّيْلِ مُظْلِما أُوْلَئِكَ أَصْحَابُ النَّارِ هُمْ فِيهَا خَالِدُونَ
অর্থ: আর যারা মন্দ উপার্জন করবে, প্রতিটি মন্দের প্রতিদান হবে তারই অনুরূপ; আর লাঞ্ছনা তাদেরকে আচ্ছন্ন করবে। আল্লাহর পাকড়াও থেকে তাদের কোনো রক্ষাকারী নেই। যেন অন্ধকার রাতের এক অংশ দিয়ে তাদের চেহারাগুলো ঢেকে দেয়া হয়েছে। তারাই আগুনের অধিবাসী, তারা তাতে স্থায়ী হবে। (সূরা ইউনুস ১০:২৭)
মাসআলা-৩০: জাহান্নামীদের চামড়া যখন জ্বলে যাবে, তখন সাথে সাথে অন্য চামড়া লাগিয়ে দেয়া হবে, যেন আযাবের ধারাবাহিকতায় কোনো বিরতি না ঘটে:
إِنَّ الَّذِينَ كَفَرُوا بِآيَاتِنَا سَوْفَ نُصْلِيْهِمْ نَاراً كُلَّمَا نَضِجَتْ جُلُودُهُمْ بَدَّلْنَاهُمْ جُلُودًا غَيْرَهَا لِيَذُوقُوا الْعَذَابَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَزِيزاً حَكِيماً
অর্থ: নিশ্চয় যারা আমার আয়াতসমূহকে অস্বীকার করেছে, অচিরেই আমি তাদেরকে প্রবেশ করাব আগুনে। যখনই তাদের চামড়াগুলো পুড়ে যাবে তখনই আমি তাদেরকে পালটে দেব অন্য চামড়া দিয়ে যাতে তারা আস্বাদন করে আযাব। নিশ্চয় আল্লাহ পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়। (সূরা নিসা ৪:৫৬)
মাসআলা-৩১: জাহান্নামের আযাবে অসহ্য হয়ে জাহান্নামী মৃত্যু কামনা করবে কিন্তু তার মৃত্যু হবে না:
وَإِذَا أُلْقُوا مِنْهَا مَكَانًا ضَيِّقًا مُقَرَّنِينَ دَعَوْا هُنَالِكَ ثُبُوراً لَا تَدْعُوا الْيَوْمَ ثُبُورًا وَاحِدًا وَادْعُوا ثُبُورًا كَثِيرًا
অর্থ: যখন এক শিকলে কয়েকজনকে বাঁধা অবস্থায় জাহান্নামের কোনো সংকীর্ণ স্থানে নিক্ষেপ করা হবে, তখন সেখানে তারা মৃত্যুকে ডাকবে। বলা হবে, আজ তোমরা এক মৃত্যুকে ডেকো না অনেক মৃত্যুকে ডাক। (সূরা ফুরকান ২৫:১৩-১৪)
মাসআলা-৩২: জাহান্নামের আগুন যখনই হালকা হতে শুরু করবে তখনই ফেরেশতাগণ তাকে প্রজ্জ্বলিত করবে:
وَمَنْ يَهْدِ اللَّهُ فَهُوَ الْمُهْتَدِ وَمَنْ يُضْلِلْ فَلَنْ تَجِدَ لَهُمْ أَوْلِيَاءَ مِنْ دُونِهِ وَنَحْشُرُهُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ عَلَى وُجُوهِهِمْ عُمْيًا وَبُكْمًا وَصُلًّا مَأْوَاهُمْ جَهَنَّمُ كُلَّمَا خَبَتْ زِدْنَاهُمْ سَعِيرًا
অর্থ: আর আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করেন সে-ই হিদায়াতপ্রাপ্ত এবং যাকে তিনি পথহারা করেন তুমি কখনো তাদের জন্য আল্লাহকে ছাড়া কোনো অভিভাবক পাবে না। আর আমি কিয়ামতের দিনে তাদেরকে একত্র করব উপুড় করে, অন্ধ, মূক ও বধির অবস্থায়। তাদের আশ্রয়স্থল জাহান্নাম; যখনই তা নিস্তেজ হবে তখনই আমি তাদের জন্য আগুন বাড়িয়ে দেব। (সূরা বনী ইসরাঈল ১৭:৯৭)
মাসআলা-৩৩: জাহান্নামীদের ওপর তাদের আযাব এক পলকের জন্যও হালকা হবে না:
وَالَّذِينَ كَفَرُوا لَهُمْ نَارُ جَهَنَّمَ لا يُقْضَى عَلَيْهِمْ فَيَمُوتُوا وَلَا يُخَفَّفُ عَنْهُمْ مِنْ عَذَابِهَا كَذَلِكَ نَجْزِي كُلَّ كَفُورٍ
অর্থ: আর যারা কুফরী করে, তাদের জন্য রয়েছে জাহান্নামের আগুন। তাদের প্রতি এমন কোনো ফয়সালা দেয়া হবে না যে, তারা মারা যাবে, এবং তাদের থেকে জাহান্নামের আযাবও লাঘব করা হবে না। এভাবেই আমি প্রত্যেক অকৃতজ্ঞকে প্রতিফল দিয়ে থাকি। (সূরা ফাত্বির ৩৫:৩৬)
মাসআলা-৩৪ : জাহান্নামের আযাব দেখে সমস্ত নবীগণ আল্লাহর নিকট শুধু আত্মরক্ষার জন্য আবেদন করবে: নোট: এ সংক্রান্ত হাদীসটি ৩১৩ নং মাসআলা দ্র:
মাসআলা-৩৫ : জাহান্নামের আযাব জীবনকে সংকীর্ণময় করে দিবে:
وَالَّذِينَ يَقُولُونَ رَبَّنَا اصْرِفْ عَنَّا عَذَابَ جَهَنَّمَ إِنَّ عَذَابَهَا كَانَ غَرَاماً إِنَّهَا سَاءَتْ مُسْتَقَرّاً وَمُقَاماً
অর্থ: "আর যারা বলে, 'হে আমাদের রব! তুমি আমাদের থেকে জাহান্নামের আযাব ফিরিয়ে নাও। নিশ্চয় এর আযাব হলো অবিচ্ছিন্ন'। 'নিশ্চয় তা অবস্থানস্থল ও আবাসস্থল হিসেবে অত্যন্ত নিকৃষ্ট'। (সূরা ফুরকান ২৫:৬৫-৬৬)
মাসআলা-৩৬ : জীবনভর পৃথিবীর বড় বড় নিআমতসমূহ ভোগকারী ব্যক্তি, যখন জাহান্নামের আযাবসমূহকে এক পলক দেখবে তখন সে পৃথিবীর সমস্ত নিআমতের কথা ভুলে যাবে:
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رَضِىَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : " يُؤْتَى بِأَنْعَمِ أَهْلِ الدُّنْيَا مِنْ أَهْلِ النَّارِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ، فَيُصْبَغُ فِي النَّارِ صَبْغَةً، ثُمَّ يُقَالُ: يَا ابْنَ آدَمَ هَلْ رَأَيْتَ خَيْرًا قَطُّ هَلْ مَرَّ بِكَ نَعِيمٌ قَطُّ فَيَقُولُ: لَا ، وَاللَّهِ يَا رَبِّ وَيُؤْتَى بِأَشَدِّ النَّاسِ بُؤْسًا فِي الدُّنْيَا، مِنْ أَهْلِ الْجَنَّةِ، فَيُصْبَغُ صَبْغَةٌ فِي الْجَنَّةِ، فَيُقَالُ لَهُ: يَا ابْنَ آدَمَ هَلْ رَأَيْتَ بُوسًا قَطُّ هَلْ مَرَّ بِكَ شِدَّةٌ قَطْ؟ فَيَقُولُ : لَا ، وَاللَّهِ يَا رَبِّ مَا مَرَّ بِي بُؤْسٌ قَطُّ، وَلَا رَأَيْتُ شِدَّةٌ قَطُّ "
অর্থ: "আনাস বিন মালেক (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: কিয়ামতের দিন এমন এক ব্যক্তিকে আনা হবে, যার জাহান্নামী হওয়ার ফায়সালা হয়ে গেছে, যে পৃথিবীতে অত্যধিক আরাম আয়েসে জীবন যাপন করেছে, তাকে এক পলকের জন্য জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে এবং তাকে জিজ্ঞেস করা হবে, হে ইবনে আদম! পৃথিবীতে কি তুমি কোনো নিআমত ভোগ করেছিলে? পৃথিবীতে কি কখনো তুমি নিআমত ভরপুর পরিবেশে ছিলে? সে বলবে: হে আমার প্রভু! তোমার কসম! কখনো নয়। এর পর এমন এক ব্যক্তিকে আনা হবে যে জান্নাতী হবে, কিন্তু পৃথিবীতে খুব কষ্ট করে জীবন যাপন করেছিলো, তাকে জান্নাতে এক পলকের জন্য পাঠানো হবে, এর পর তাকে জিজ্ঞেস করা হবে হে ইবনে আদম! কখনো কি তুমি দুনিয়াতে কোনো কষ্ট ভোগ করেছ? বা চিন্তিত ছিলে? সে বলবে হে আমার প্রভু! তোমার কসম! কখনো নয়। আমি কখনো চিন্তা যুক্ত ছিলাম আর না কখনো কোনো দুঃখ কষ্ট ভোগ করেছি।" (মুসলিম ৪/২৮০৭)১৪
মাসআলা-৩৭: জাহান্নামে কখনো মৃত্যু হবে না যদি মৃত্যু হত তাহলে জাহান্নামী জাহান্নামের আযাবের চিন্তায় মরে যেত:
عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِي هُ يَرْفَعُهُ، قَالَ: «إِذَا كَانَ يَوْمُ الْقِيَامَةِ أُتِي بِالْمَوْتِ كَالكَبْشِ الْأَمْلَحِ، فَيُوقَفُ بَيْنَ الْجَنَّةِ وَالنَّارِ، فَيُذْبَحُ وَهُمْ يَنْظُرُونَ، فَلَوْ أَنَّ أَحَدًا مَاتَ فَرَحًا لَمَاتَ أَهْلُ الْجَنَّةِ، وَلَوْ أَنَّ أَحَدًا مَاتَ حُزْنًا لَمَاتَ أَهْلُ النَّارِ»
অর্থ: "আবু সাঈদ খুদরী (রা) রাসূলূল্লাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: কিয়ামতের দিন মৃত্যুকে একটি কালোর মাঝে সাদা লোম বিশিষ্ট ভেড়ার আকৃতিতে এনে, জান্নাত ও জাহান্নামের মাঝে রেখে যবাই করা হবে। জান্নাতী ও জাহান্নামীরা এ দৃশ্য দেখতে থাকবে। যদি খুশিতে মরা সম্ভব হত, তাহলে জান্নাতীরা খুশিতে মরে যেত, আর যদি চিন্তায় মরা সম্ভব হত, তাহলে জাহান্নামীরা চিন্তায় মরে যেত।” (তিরমিযী ৪/২৫৫৮)১৫
টিকাঃ
১৪ কিতাবুল মুনাফিকীন, বাব ফিল কুফফার।
১৫ আবওয়াব সিফাতিল জান্না, বাব মাযায়া ফি খুলুদি আহলিল জান্না। (২/২০৭৩)
📄 জাহান্নামের আগুনের গরমের প্রচণ্ডতা
(হে আল্লাহ! আমরা তোমার দয়া ও অনুগ্রহে জাহান্নামের কঠিন গরম থেকে আশ্রয় চাই, তুমি অত্যন্ত দয়ালু ও দাতা)
মাসআলা-৩৮: জাহান্নামের আগুনের প্রথম স্কুলিংগই জাহান্নামীদের শরীর মাংশকে হাড্ডি থেকে আলাদা করে দিবে:
تَلْفَحُ وُجُوهَهُمُ النَّارُ وَهُمْ فِيهَا كَالِحُونَ
অর্থ: "আগুন তাদের মুখমণ্ডল দগ্ধ করবে, আর তারা তাতে বীভৎস আকার ধারণ করবে।" (সূরা মু'মিনূন: ১০৪)
كَلَّا إِنَّهَا لَظَى نَزَّاعَةٌ لِّلشَّوَى
অর্থ: "কখনো নয় নিশ্চয় এটা লেলিহান অগ্নি যা চামড়া তুলে দিবে।” (সূরা মাআরিজ: ১৫,১৬)
মাসআলা-৩৯: জাহান্নামের আগুন মানুষকে না জীবিত থাকতে দিবে আর না মরতে দিবে:
وَمَا أَدْرَاكَ مَا سَقَرُ لَا تُبْقِي وَلَا تَذَرُ لَوَّاحَةٌ لِّلْبَشَرِ
অর্থ: "আপনি কি জানেন অগ্নি কি? এটা অক্ষতও রাখবে না এবং ছাড়বেও না, মানুষকে দগ্ধ করবে।" (সূরা মুদ্দাসসির: ২৭-২৯)
وَيَتَجَنَّبُهَا الْأَشْقَى الَّذِي يَصْلَى النَّارَ الْكُبْرَى ثُمَّ لَا يَمُوتُ فِيهَا وَلَا يَحْيَا
অর্থ: "আর যে হতভাগা সে তা উপেক্ষা করবে, সে মহা অগ্নিতে প্রবেশ করবে, অতপর সেখানে সে মরবেও না আর জীবন্তও থাকবে না।" (সূরা আলা: ১১-১৩)
মাসআলা-৪০: জাহান্নামের আগুনের একটি সাধারণ স্কুলিংগ অট্টালিকা সম হবে:
انطَلِقُوا إِلَى ظِلَّ ذِي ثَلَاثِ شُعَبٍ لَّا ظَلِيلٍ وَلَا يُغْنِي مِنَ اللَّهَبِ إِنَّهَا تَرْمِي بِشَرَرٍ كَالْقَصْرِ كَأَنَّهُ جِمَالَةٌ صُفْرٌ
অর্থ: "চল তোমরা তিন কুণ্ডলী বিশিষ্ট ছায়ার দিকে, যে ছায়া সুনিবিড় নয় এবং অগ্নির উত্তাপ থেকে রক্ষা করে না। এটা অট্টালিকা সদৃশ বৃহৎ স্কুলিংগ নিক্ষেপ করবে যেন সে পীত বর্ণ উষ্ট্র শ্রেণী।" (সূরা মুরসালাত: ৩০-৩৩)
মাসআলা-৪১: জাহান্নামের আগুন ধারাবাহিক ভাবে উত্তপ্ত হবে যা কখনো ঠাণ্ডা হবে না:
فَأَنذَرْتُكُمْ نَاراً تَلَظَّى
অর্থ: "অতএব আমি তোমাদেরকে প্রজ্জলিত অগ্নি সম্পর্কে সতর্ক করে দিয়েছি।" (সূরা লাইল: ১৪)
نَاراً حَامِيَةً
অর্থ: "তারা জ্বলন্ত আগুনে পতিত হবে।" (সূরা গাশিয়া: ৪)
وَأَمَّا مَنْ خَفَّتْ مَوَازِينُهُ فَأُمُّهُ هَاوِيَةٌ وَمَا أَدْرَاكَ مَا هِيَهُ نَارٌ حَامِيَةٌ
অর্থ: "আর যার পাল্লা হালকা হবে, তার ঠিকানা হবে হাবিয়া, আপনি কি জানেন তা কি? তা প্রজ্জ্বলিত অগ্নি।" (সূরা কারিয়া: ৮-১১)
মাসআলা-৪২: জাহান্নামের আগুন যখনই ঠাণ্ডা হতে যাবে, তখনই তার পাহারাদার তা উত্তপ্ত করে দিবে:
كُلَّمَا خَبَتْ زِدْنَاهُمْ سَعِيراً
অর্থ: "যখনই তা নির্বাপিত হওয়ার উপক্রম হবে, তখন তাদের জন্য অগ্নি আরো বৃদ্ধি করে দিব।” (সূরা বনী ইসরাঈল: ৯৭)
মাসআলা-৪৩: জাহান্নামের আগুন তাতে প্রবেশকারী সমস্ত মানুষকে চূর্ণ বিচূর্ণ করে দিবে:
كَلَّا لَيُنْبَذَنَّ فِي الْحُطَمَةِ وَمَا أَدْرَاكَ مَا الْحُطَمَةُ نَارُ اللَّهِ الْمُوْقَدَةُ الَّتِي تَطَّلِعُ عَلَى الْأَفْئِدَةِ إِنَّهَا عَلَيْهِم مُّؤْصَدَةٌ فِي عَمَدٍ مُّمَدَّدَةِ
অর্থ: "কখনো না, সে অবশ্যই নিক্ষিপ্ত হবে পিষ্ট কারীর মধ্যে, আপনি কি জানেন পিষ্টকারী কি? এটা আল্লাহর প্রজ্বলিত অগ্নি, যা হৃদয় পর্যন্ত পৌঁছবে, এতে তাদেরকে বেঁধে দেয়া হবে। লম্বা লম্বা খুঁটিতে।” (সূরা হুমাযা: ৪-৯)
মাসআলা-৪৪: জাহান্নামের আগুনের জ্বালানী হবে পাথর ও মানুষ:
فَاتَّقُوا النَّارَ الَّتِي وَقُودُهَا النَّاسُ وَالْحِجَارَةُ أُعِدَّتْ لِلْكَافِرِينَ
অর্থ: "সে জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচার চেষ্টা কর, যার জ্বালানী হবে মানুষ ও পাথর। যা প্রস্তুত করা হয়েছে কাফিরদের জন্য।" (সূরা বাক্বারা: ২৪)
মাসআলা-৪৫: জাহান্নামের আগুন দুনিয়ার আগুনের চেয়ে ৬৯ গুণ বেশি গরম আর তার প্রতি অংশে গরমের এত প্রচণ্ডতা রয়েছে যেমন দুনিয়ার আগুনে রয়েছে:
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، قَالَ: «نَارُكُمْ هَذِهِ الَّتِي يُوقِدُ ابْنُ آدَمَ جُزْءٌ مِنْ سَبْعِينَ جُزْءًا مِنْ حَرِّ جَهَنَّمَ قَالُوا: وَاللَّهِ إِنْ كَانَتْ لَكَافِيَةً ، يَا رَسُولَ اللهِ قَالَ: «فَإِنَّهَا فُضْلَتْ عَلَيْهَا بِتِسْعَةٍ وَسِتِّينَ جُزْءًا، كُلُّهَا مِثْلُ حَرِّهَا»
অর্থ: "আবু হুরাইরা (রা) নবী থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: তোমাদের এ আগুন যা বনি আদম জ্বালায়, তা জাহান্নামের আগুনের ৭০ ভাগের এক ভাগ। তারা (সাহাবাগণ) বলল: আল্লাহর কসম! যদি (দুনিয়ার আগুনের মত হত) তাহলেই তো যথেষ্ট ছিল, হে আল্লাহর রাসূল। তিনি বললেন: কিন্তু তা হবে দুনিয়ার আগুনের চেয়ে ৬৯ গুণ বেশি গরম। আর তার প্রত্যেকটি অংশ দুনিয়ার আগুনের ন্যায় গরম হবে।” (মুসলিম ৪/২৮৪৩)
মাসআলা-৪৬: জাহান্নামের পাহারাদার একাধারে জাহান্নামের আগুন প্রজ্জলিত করে চলছে:
عَنْ سَمُرَةَ اللهِ قَالَ: قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «رَأَيْتُ اللَّيْلَةَ رَجُلَيْنِ أَتَيَانِي قَالَا الَّذِي يُوقِدُ النَّارَ مَالِكَ خَازِنُ النَّارِ، وَأَنَا جِبْرِيلُ وَهَذَا مِيكَائِيلُ»
অর্থ: "সামুরা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: নবী বলেছেন: আজ রাতে আমি স্বপ্নে দেখলাম যে, আমার নিকট দু'জন লোক এসেছে এবং তারা বলল: যে ব্যক্তি আগুন প্রজ্জ্বলিত করছে সে জাহান্নামের পাহারাদার মালেক আর আমি জিবরাঈল, আর সে হলো মীকাঈল।" (বুখারী ৪/৩২৩৬) ১৭
মাসআলা-৪৭: যদি লোকেরা জাহান্নামের আগুন দেখত তাহলে হাসা ভুলে যেত, স্ত্রী সহবাসের চাহিদা থাকত না। শহরের আরামদায়ক জীবন পরিত্যাগ করে জঙ্গলে চলে গিয়ে সর্বদা আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করতে থাকত:
عَنْ أَبِي ذَرٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : «إِنِّي أَرَى مَا لَا تَرَوْنَ ، وَأَسْمَعُ مَا لَا تَسْمَعُونَ، إِنَّ السَّمَاءَ أَطَتْ ، وَحَقَّ لَهَا أَنْ تَئِطَ مَا فِيهَا مَوْضِعُ أَرْبَعِ أَصَابِعَ إِلَّا وَمَلَكٌ وَاضِعٌ جَبْهَتَهُ سَاجِدَ اللَّهِ، وَاللَّهِ لَوْ تَعْلَمُونَ مَا أَعْلَمُ لَضَحِكْتُمْ قَلِيلًا، وَلَبَكَيْتُمْ كَثِيرًا، وَمَا تَلَذَّذْتُمْ بِالنِّسَاءِ عَلَى الْفُرُشَاتِ، وَلَخَرَجْتُمْ إِلَى الصُّعْدَاتِ، تَجْأَرُونَ إِلَى اللَّهِ.
অর্থ: "আবু যার (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ বলেছেন: আমি ঐ সমস্ত বিষয়সমূহ দেখছি যা তোমরা দেখতেছ না। আর ঐ সমস্ত বিষয় শুনছি যা তোমরা শুনতেছ না। নিশ্চয় আকাশ আবোল তাবল বকছে, আর তার উচিতও তা করা, কেননা তার মাঝে কোথাও এক বিঘা পরিমাণ স্থান নেই যেখানে কোনো কোনো ফেরেশতা আল্লাহর জন্য সিজদা করে নাই। আল্লাহর কসম! যদি তোমরা তা জানতে যা আমি জানি, তাহলে তোমরা কম হাসতে আর বেশি করে কাঁদতে। বিছানায় স্ত্রীর সাথে আরামদায়ক রাত্রিযাপন ত্যাগ করতে, আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনার জন্য জঙ্গল ও মরুভূমিতে চলে যেতে।” (ইবনে মাজাহ ২/৪১৯০) ১৮
নোট: মুসনাদে আহমদে বর্ণিত হয়েছে যে, সাহাবাগণ জিজ্ঞেস করল ইয়া রাসূলুল্লাহ! আপনি কি দেখেছেন? তিনি বললেন: আমি জান্নাত ও জাহান্নাম দেখেছি।” (এ বিষয়ে আল্লাহই ভাল জানেন)
মাসআলা-৪৮: জাহান্নামের আগুনের হাওয়া সহ্য করাও মানুষের সাধ্যাতীত:
عَنْ جَابِرِ بْن عَبْدِ اللَّهِ ﷺ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، لَقَدْ جِيءَ بِالنَّارِ، وَذَلِكُمْ حِينَ رَأَيْتُمُونِي تَأَخَّرْتُ، مَخَافَةَ أَنْ يُصِيبَنِي مِنْ لَفْحِهَا
অর্থ: "জাবের বিন আবদুল্লাহ (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলূলুল্লাহ বলেছেন: (সূর্য গ্রহণের নামাযের সময়) আমার সামনে জাহান্নাম নিয়ে আসা হলো, আর তা ঐ সময় আনা হয়েছিল, যখন তোমরা নামাযের সময় আমাকে স্বীয় স্থান পরিবর্তন করে পিছনে আসতে দেখেছিলে। আর তখন আমি এ ভয়ে পিছনে এসে ছিলাম যেন আমার শরীরে জাহান্নামের আগুনের হাওয়া না লাগে।" (মুসলিম ২/৯০৪) ১৯
মাসআলা-৪৯: গরমের সময় প্রচণ্ড গরম জাহান্নামের আগুনের বাষ্পের কারণেই হয়ে থাকে:
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ هِ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «إِذَا اشْتَدَّ الْحَرُّ فَأَبْرِدُوا بِالصَّلَاةِ، فَإِنَّ شِدَّةَ الْحَرِّ مِنْ فَيْحِ جَهَنَّمَ وَاشْتَكَتِ النَّارُ إِلَى رَبِّهَا، فَقَالَتْ: يَا رَبِّ أَكَلَ بَعْضِي بَعْضًا، فَأَذِنَ لَهَا بِنَفَسَيْنِ، نَفَسٍ فِي الشَّتَاءِ وَنَفَسٍ فِي الصَّيْفِ، فَهُوَ أَشَدُّ مَا تَجِدُونَ مِنَ الْحَرِ، وَأَشَدُّ مَا تَجِدُونَ مِنَ الزَّمْهَرِيرِ "
অর্থ: "আবু হুরাইরা (রা) নবী থেকে বর্ণনা করছেন, তিনি বলেন: যখন কঠিন গরম হয়, তখন নামাযের মাধ্যমে তা ঠাণ্ডা কর। কেননা গরমের প্রচণ্ডতা জাহান্নামের গরম বাষ্প থেকে হয়। জাহান্নাম আল্লাহর নিকট অভিযোগ করল যে, হে আমার রব! গরমের প্রচণ্ডতায় আমার এক অংশ অপর অংশকে খাচ্ছে। এরপর আল্লাহ তাকে বছরে দু' বার শ্বাস ত্যাগের অনুমতি দিলেন। একটি ঠাণ্ডার সময়, আর অপরটি গরমের সময়। তোমরা গরমের সময় যে কঠিন গরম অনুভব কর, তা এ শ্বাস ত্যাগের কারণে, আর শীতের সময় যে কঠিন শীত অনুভব কর তাও ঐ শ্বাস ত্যাগেরই কারণে।” (বুখারী ১/৫৩৫, ৫৩৬) ২০
মাসআলা-৫০: জাহান্নামের বাষ্পের কারণে জ্বর হয়ে থাকে:
عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، قَالَ: «الْحُمَّى مِنْ فَيْحِ جَهَنَّمَ فَأَبْرِ دُوهَا بِالْمَاءِ»
অর্থ: "আয়েশা (রা) নবী থেকে বর্ণনা করছেন, তিনি বলেন: জ্বর জাহান্নামের বাষ্পের কারণে হয়ে থাকে, অতএব তাকে পানি দিয়ে ঠাণ্ডা কর।" (বুখারী ৪/৩২৬৩) ২১
মাসআলা-৫১: জাহান্নামের আগুনের কল্পনা, যে ব্যক্তি মাথায় রাখে এমন ব্যক্তি আরামের ঘুম ঘুমাতে পারে না:
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ لا قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَا رَأَيْتُ مِثْلَ النَّارِ نَامَ هَارِبُهَا ، وَلَا مِثْلَ الْجَنَّةِ نَامَ طَالِبُهَا»
অর্থ: "আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ বলেছেন: জাহান্নাম থেকে পলায়নকারী কোনো ব্যক্তিকে আমি আরামে ঘুমাতে দেখি নি। আর জান্নাত লাভে আগ্রহী কোনো ব্যক্তিকেও আমি আরামে ঘুমাতে দেখি নি।" (তিরমিযী ৪/২৬০১) ২২
মাসআলা-৫২: জাহান্নামের আগুন ধারাবাহিকভাবে প্রজ্জ্বলিত করার কারণে লাল না হয়ে তা অত্যন্ত কাল হবে:
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ هُ أَنَّهُ قَالَ: أَتُرَوْنَهَا حَمْرَاءَ كَنَارِكُمْ هَذِهِ؟ لَهِيَ أَسْوَدُ مِنَ الْقَارِ.
অর্থ: "আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: তোমরা কি জাহান্নামের আগুনকে দুনিয়ার আগুনের ন্যায় লাল হবে মনে কর? তা হবে আলকাতরার চেয়েও কাল।” (মালেক ৫/৩৬৪৮) ২৩
টিকাঃ
১৬ কিতাবুল জান্না ওয়া সিফাতু নায়িমিহা। বাবু জাহান্নাম।
১৭ কিতাব বাদউল খালক, বাব যিকরিল মালাইকা।
১৮ কিতাবুয যুহদ, বাবুল হযন ওয়াল বুকা।
১৯ কিতাবুল কুসুফ।
২০ কিতাব মাওয়াকিতিসসালা, বাব ইবরাদ বিজ্জহর ফি সিদ্দাতিল হার।
২১ কিতাব বাদউল খালক বাব ফি সিফাতিন্নার।
২২ আবওয়াব সিফাতু জাহান্নাম। বাবা ইন্না লিল্লারি নাফাসাইন। (২/২০৯৭)
২৩ শরহুসসুন্না, কিতাবুল জামে, বাব মাযায়া ফি সিফাতি জাহান্নাম। (৯৫/২৪০)