📘 মৃত্যুর পরে অনন্ত জীবন > 📄 জাহান্নামের অস্তিত্বের প্রমাণ

📄 জাহান্নামের অস্তিত্বের প্রমাণ


মাসআলা-১: রাসূলূল্লাহ বলেন, আবু সামামা আমর বিন মালেককে জাহান্নামে তার নাড়ী ভুঁড়ি হেঁচড়িয়ে নিয়ে চলতে দেখেছি:
عَنْ جَابِرٍ : قَالَ: رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : رَأَيْتُ أَبَا ثُمَامَةَ عَمْرَو بْنَ مَالِكٍ يَجُرُّ قُصْبَهُ فِي النَّارِ
অর্থ: "জাবের (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: নবী থেকে বর্ণনা করেছেন তিনি বলেছেন, আমি আবু সামামা আমর বিন মালেককে জাহান্নামে তার নাড়ী ভুঁড়ি হেঁচড়িয়ে নিয়ে চলতে দেখেছি।" (মুসলিম)১
মাসআলা-২: কবরে জাহান্নামীকে জাহান্নামে তার ঠিকানা দেখানো হয়:
عَنْ بْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : «إِذَا مَاتَ أَحَدُكُمْ ، فَإِنَّهُ يُعْرَضُ عَلَيْهِ مَقْعَدُهُ بِالْغَدَاةِ وَالْعَشِيِّ، فَإِنْ كَانَ مِنْ أَهْلِ الْجَنَّةِ، فَمِنْ أَهْلِ الْجَنَّةِ، وَإِنْ كَانَ مِنْ أَهْلِ النَّارِ فَمِنْ أَهْلِ النَّارِ»
অর্থ: "ইবনে ওমর (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলূল্লাহ বলেছেন: যখন তোমাদের মধ্যে কোনো ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করে, তখন সকাল সন্ধ্যায় তাকে তার ঠিকানা দেখানো হয়। যদি জান্নাতী হয় তাহলে জান্নাতে তার ঠিকানা তাকে দেখানো হয়, আর যদি জাহান্নামী হয়, তাহলে জাহান্নামে তার ঠিকানা তাকে দেখানো হয়।” (বুখারী ৪/৩২৪০)২

টিকাঃ
১ কিতাবুল কুসুফ।
২ কিতাবু বাদয়িল খালক, বাব মাযায়া ফি সিফাতিল জান্না।

📘 মৃত্যুর পরে অনন্ত জীবন > 📄 জাহান্নামের দরজাসমূহ

📄 জাহান্নামের দরজাসমূহ


মাসআলা-৩: জাহান্নামের সাতটি দরজা:
মাসআলা-৪: প্রত্যেক জাহান্নামী নিজ নিজ গুনাহ অনুযায়ী নিদৃষ্ট দরজা দিয়ে জাহান্নামে প্রবেশ করবে:
وَإِنَّ جَهَنَّمَ لَمَوْعِدُهُمْ أَجْمَعِينَ - لَهَا سَبْعَةُ أَبْوَابٍ لِكُلِّ بَابٍ مِنْهُمْ جُزْءً مقْسُومٌ
অর্থ: তাদের সবার নির্ধারিত স্থান হচ্ছে জাহান্নাম, এর সাতটি দরজা আছে, প্রত্যেক দরজার জন্য এক একটি পৃথক দল আছে।” (সূরা হিজর: ৪৩-৪৪)
মাসআলা-৫: কিয়ামতের দিন ফেরেশতারা জাহান্নামের বন্ধ দরজাসমূহ খুলে দিবে যাতে করে জাহান্নামীরা পৃথক পৃথক দলে বিভক্ত হয়ে সেখানে প্রবেশ করতে পারে:
নোট: এ সংক্রান্ত আয়াতটি ১৯২ নং মাসআলায় দ্রঃ।
মাসআলা-৬: জাহান্নামীদেরকে জাহান্নামে প্রবেশ করানোর পর জাহান্নামের দরজাসমূহ মজবুত করে বন্ধ করে দেয়া হবে:
নোট: এ সংক্রান্ত আয়াতটি ১৩৩নং মাসআলায় দ্রঃ।

📘 মৃত্যুর পরে অনন্ত জীবন > 📄 জাহান্নামের স্তরসমূহ

📄 জাহান্নামের স্তরসমূহ


(আমরা আল্লাহর নিকট জাহান্নামের আযাব থেকে আশ্রয় চাই, কেননা তিনি ব্যতীত আর কোনো উপাস্য নেই, তিনি এক অমুখাপেক্ষী যিনি কারো কাছ থেকে জন্ম নেন নি, আর তিনি কাওকে জন্মও দেন নি, আর তাঁর সমকক্ষও কেউ নেই।)
মাসআলা-৭: জাহান্নামের স্তরসমূহের মধ্যে সর্বনিম্ন স্তরে সর্বাধিক কঠিন আযাব হবে, আর ওপরের স্তরসমূহে হালকা আযাব হবে:
عَنِ الْعَبَّاسِ بْنِ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ هُ أَنَّهُ قَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ ﷺ هَلْ نَفَعْتَ أَبَا طَالِبٍ بِشَيْءٍ، فَإِنَّهُ كَانَ يَحُوطُكَ وَيَغْضَبُ لَكَ؟ قَالَ: «نَعَمْ، هُوَ فِي ضَحْضَاحٍ مِنْ نَارٍ ، وَلَوْلَا أَنَا لَكَانَ فِي الدَّرْكِ الْأَسْفَلِ مِنَ النَّارِ»
অর্থ: "আব্বাস বিন আদুল মোত্তালেব (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি জিজ্ঞেস করলেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ ﷺ! আবু তালেব আপনাকে রক্ষণাবেক্ষণ করত, আপনার জন্য অন্যদের ওপর অসন্তুষ্ট হত, তা কি তার কোনো উপকারে আসবে? তিনি বললেন: হ্যাঁ। সে জাহান্নামের ওপরে স্তরে আছে, যদি আমি তার জন্য সুপারিশ না করতাম, তাহলে সে জাহান্নামের সর্বনিম্নস্তরে থাকত।" (মুসলিম ১/২০৯)৫
মাসআলা-৮: মুনাফিকরা জাহান্নামের সর্বনিম্ন স্তরে থাকবে:
إِنَّ الْمُنَافِقِينَ فِي الدَّرْكِ الْأَسْفَلِ مِنَ النَّارِ وَلَن تَجِدَ لَهُمْ نَصِيراً
অর্থ: "নিঃসন্দেহে মুনাফিকরা রয়েছে জাহান্নামের সর্বনিম্ন স্তরে, আর তোমরা তাদের জন্য কখনো কোনো সাহায্যকারী পাবে না।" (সূরা নিসা: ১৪৫)
মাসআলা-৯: জাহান্নামের স্তরসমূহ বিভিন্ন গুনাহর জন্য পৃথক পৃথক শাস্তির জন্য নিদৃষ্ট থাকবে:
عَنْ سَمُرَةَ هُ أَنَّهُ سَمِعَ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، يَقُولُ: «إِنَّ مِنْهُمْ مَنْ تَأْخُذُهُ النَّارُ إِلَى كَعْبَيْهِ، وَمِنْهُمْ مَنْ تَأْخُذُهُ إِلَى حُجْزَتِهِ، وَمِنْهُمْ مَنْ تَأْخُذُهُ إِلَى عُنُقِهِ
অর্থ: "সামুরা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি নবী ﷺ-কে বলতে শুনেছেন, তিনি বলেছেন: কোনো কোনো জাহান্নামীকে আগুন তার টাখনু পর্যন্ত জ্বালাবে, কোনো কোনো লোককে কোমর পর্যন্ত, আর কোনো কোনো লোককে গর্দান পর্যন্ত।" (মুসলিম)৬
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، قَالَ: «تَأْكُلُ النَّارُ ابْنَ آدَمَ إِلَّا أَثَرَ السُّجُودِ، حَرَّمَ اللَّهُ عَلَى النَّارِ أَنْ تَأْكُلَ أَثَرَ السُّجُودِ»
অর্থ: "আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি নবী থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: জাহান্নামের আগুন আদম সন্তানের সিজদার স্থান ব্যতীত সমস্ত শরীর জ্বালিয়ে দিবে, সিজদার স্থানটুকু জ্বালানো আল্লাহ জাহান্নামের জন্য হারাম করেছেন।" (ইবনে মাজা ২/৪৩২৬)৭
মাসআলা-১০: জাহান্নামের একটি স্তরের নাম জাহীম:
فَأَمَّا مَنْ طَغَى وَآثَرَ الْحَيَاةَ الدُّنْيَا فَإِنَّ الْجَحِيمَ هِيَ الْمَأْوَى
অর্থ: "তখন যে ব্যক্তি সীমালংঘন করেছে, পার্থিব জীবনকে অগ্রাধিকার দিয়েছে, তার ঠিকানা হবে জাহিম (জাহান্নাম)। (সূরা নাযিয়াত: ৩৭-৩৯)
মাসআলা-১১: জাহান্নামের আরেকটি স্তরের নাম হুতামা:
كَلَّا لَيُنبَذَنَّ فِي الْحُطَمَةِ وَمَا أَدْرَاكَ مَا الْحُطَمَةُ نَارُ اللَّهِ الْمُوقَدَةُ
অর্থ: কখনো নয়, অবশ্যই সে নিক্ষিপ্ত হবে হুতামা'য়। আর কিসে তোমাকে জানাবে হুতামা কি? আল্লাহর প্রজ্জ্বলিত আগুন। যা হৃৎপিণ্ড পর্যন্ত পৌঁছে যাবে। নিশ্চয় তা তাদেরকে আবদ্ধ করে রাখবে লম্বা খুঁটিতে। (সূরা হুমাযাহ ১০৪:৪-৬)
মাসআলা-১২: জাহান্নামের আরেকটি স্তরের নাম হাবিয়া:
وَأَمَّا مَنْ خَفَّتْ مَوَازِينُهُ فَأُمُّهُ هَاوِيَةٌ وَمَا أَدْرَاكَ مَا هِيَهُ نَارٌ حَامِيَةٌ
অর্থ: "অতএব যার পাল্লা হালকা হবে, তার ঠিকানা হবে হাবিয়া, আপনি কি জানেন তা কি? (তাহলো) প্রজ্জলিত অগ্নি।" (সূরা কারিয়া: ৮-১১)
মাসআলা-১৩: জাহান্নামের আরেকটি স্তরের নাম সাকার:
سَأُصْلِيْهِ سَقَرَ وَمَا أَدْرَاكَ مَا سَقَرُ لَا تُبْقِي وَلَا تَذَرُ لَوَّاحَةٌ لِلْبَشَرِ
অর্থ: " অচিরেই আমি তাকে জাহান্নামের আগুনে প্রবেশ করাব। কিসে তোমাকে জানাবে জাহান্নামের আগুন কী? এটা অবশিষ্টও রাখবে না এবং ছেড়েও দেবে না। চামড়াকে দগ্ধ করে কালো করে দেবে। (সূরা মুদ্দাসসির ৭৪:২৬-২৯)
মাসআলা-১৪: জাহান্নামের আরেকটি স্তরের নাম লাযা:
كَلَّا إِنَّهَا لَظَى نَزَّاعَةٌ لِلشَّوَى تَدْعُو مَنْ أَدْبَرَ وَتَوَلَّى وَجَمَعَ فَأَوْعَى
অর্থ: কখনো নয়। এটিতো লেলিহান আগুন। যা মাথার চামড়া খসিয়ে নেবে। জাহান্নাম তাকে ডাকবে যে পৃষ্ঠ প্রদর্শন করেছিল এবং মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিল। আর সম্পদ জমা করেছিল, অতঃপর তা সংরক্ষণ করে রেখেছিল। (সূরা মাআরিজ ৭০:১৫-১৮)
মাসআলা-১৫: জাহান্নামের আরেকটি স্তরের নাম সাঈর:
وَقَالُوا لَوْ كُنَّا نَسْمَعُ أَوْ نَعْقِلُ مَا كُنَّا فِي أَصْحَابِ السَّعِيرِ فَاعْتَرَفُوا بِذَنْبِهِمْ فَسُحْقًا لأَصْحَابِ السَّعِيرِ
অর্থ: " আর তারা বলবে, 'যদি আমরা শুনতাম অথবা বুঝতাম, তাহলে আমরা জ্বলন্ত আগুনের অধিবাসীদের মধ্যে থাকতাম না'। অতঃপর তারা তাদের অপরাধ স্বীকার করবে। অতএব ধ্বংস জ্বলন্ত আগুনের অধিবাসীদের জন্য। (সূরা মূলক ৬৭:১০-১১)
মাসআলা-১৬: জাহান্নামের আরেকটি স্তরের নাম হবে যামহারীর: নোট: এ সংক্রান্ত হাদীসটি ১২৫ নং মাসআলা দ্রষ্টব্য।
মাসআলা-১৭: জাহান্নামের একটি নালার নাম ওয়াইল:
انْطَلِقُوا إِلَى ظِلَّ ذِي ثَلَاثِ شُعَبٍ لا قَلِيلٍ وَلَا يُغْنِي مِنَ اللَّهَبِ إِنَّهَا تَرْمِي بِشَرَرٍ كَالْقَصْرِ كَأَنَّهُ جِمَالَةٌ صُفْرٌ وَيْلٌ يَوْمَئِذٍ لِلْمُكَذِّبِينَ
অর্থ: " যাও তিন কুণ্ডলী বিশিষ্ট আগুনের ছায়ায়, যা ছায়াদানকারী নয় এবং তা জাহান্নামের জ্বলন্ত অগ্নিশিখার মোকাবেলায় কোনো কাজেও আসবে না। নিশ্চয় তা (জাহান্নাম) ছড়াবে প্রাসাদসম স্ফুলিঙ্গ। তা যেন হলুদ উস্ত্রী। মিথ্যারোপ কারীদের জন্য সেদিনের দুর্ভোগ! (সূরা মুরসালাত ৭৭:৩০-৩৪)

টিকাঃ
৫ কিতাবুল ঈমান বাব সাফায়াতুন্নাবী (স) লি আবি তালেব।
৬ কিতাবুল জান্না, বাব জাহান্নাম।
৭ কিতাবুষযুহদ, বাব সিফাতিন্নার, (২/৩৪৯২)

📘 মৃত্যুর পরে অনন্ত জীবন > 📄 জাহান্নামের গভীরতা

📄 জাহান্নামের গভীরতা


মাসআলা-১৮: জাহান্নামে একটি পাথর নিক্ষেপ করলে তা তার তলদেশে গিয়ে পৌঁছতে ৭০ বছর সময় লাগে:
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ هِ قَالَ: كُنَّا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، إِذْ سَمِعَ وَجْبَةً، فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَتَدْرُونَ مَا هُذَا؟ قَالَ: قُلْنَا: اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ ، قَالَ: «هَذَا حَجَرٌ رُمِيَ بِهِ فِي النَّارِ مُنْذُ سَبْعِينَ خَرِيفًا. فَهُوَ يَهْوِي فِي النَّارِ الْآنَ، حَتَّى انْتَهَى إِلَى قَعْرِهَا»
অর্থ: "আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমরা একদা রাসূল (স-এর সাথে ছিলাম, এমন সময় একটি বিকট শব্দ শোনা গেল, রাসূল বললেন: তোমরা কি জান এটা কিসের শব্দ? (বর্ণনাকারী বলেন) আমরা বললাম: আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই এব্যাপারে ভাল জানেন। তিনি বললেন: এটি একটি পাথর, যা আজ থেকে সত্তর বছর পূর্বে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হয়েছিল, আর তা তার তলদেশে যেতে ছিল এবং এত দিনে সেখানে গিয়ে পৌঁছেছে”। (মুসলিম ৪/২৮৪৪)৮
মাসআলা-১৯: জাহান্নামের প্রশস্ততা আকাশ ও জমিনের দূরত্বের চেয়ে অধিক:
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ وَاللَّهُ أَنَّهُ سَمِعَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «إِنَّ الْعَبْدَ لَيَتَكَلَّمُ بِالْكَلِمَةِ، يَنْزِلُ بِهَا فِي النَّارِ أَبْعَدَ مَا بَيْنَ الْمَشْرِقِ وَالْمَغْرِبِ»
অর্থ: "আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি রাসূল-কে বলতে শুনেছেন, তিনি বলেন: বান্দা মুখ দিয়ে এমন কথা বলে ফেলে, যার ফলে জাহান্নামে আকাশ ও যমিনের দূরত্বের চেয়েও গভীরে চলে যায়।" (মুসলিম ৪/২৯৮৮)৯
মাসআলা-২০: জাহান্নামের বাউন্ডারির দু'টি দেয়ালের মাঝে ৪০ বছরের রাস্তার দূরত্বঃ
عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِي هُ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ قَالَ: «السُرَادِقِ النَّارِ أَرْبَعَةُ جُدُرٍ ، بَيْنَ كُلِّ جِدَارٍ مِثْلُ أَرْبَعِينَ سَنَةً»
অর্থ: "আবু সাঈদ খুদরী (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূল বলেছেন: জাহান্নামের বাউণ্ডারীর দুই দেয়ালের মাঝে ৪০ বছরের রাস্তার দূরত্ব।" (আবু ইয়ালা ২/১৩৫৮)১০
মাসআলা-২১: জাহান্নামে এক এক কাফিরের কান ও কাঁধের মাঝে ৭০ বছরের রাস্তার দূরত্ব:
عَنْ مُجَاهِدٍ ، قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ أَتَدْرِي مَا سِعَةُ جَهَنَّمَ؟ قُلْتُ : لَا ، قَالَ: أَجَلْ، وَاللَّهِ مَا تَدْرِي إِنَّ بَيْنَ شَحْمَةٍ أُذُنِ أَحَدِهِمْ وَبَيْنَ عَاتِقِهِ مَسِيرَةً سَبْعِينَ خَرِيفًا، تَجْرِي فِيهَا أَوْدِيَةُ الْقَيْحِ وَالدَّمِ ، قُلْتُ: أَنْهَارًا ۚ قَالَ: لَا. بَلْ أَوْدِيَةٌ.
অর্থ: "মুজাহিদ (র) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমাকে ইবনে আব্বাস (রা) বলেছেন: তুমি কি জান যে জাহান্নামের গভীরতা কতটুকু? আমি বললাম: না। তিনি বললেন: তাহলে আল্লাহর কসম! তুমি জান না যে জাহান্নামীর কানের লতি থেকে তার কাঁধ পর্যন্ত সত্তর বছরের রাস্তার দূরত্ব, যার মাঝে থাকে রক্ত ও পুঁজের ঝর্ণাসমূহ। আমি জিজ্ঞেস করলাম, নদীও কি প্রবাহিত হবে? তিনি বললেন: না বরং ঝর্ণাসমূহ প্রবাহিত হবে।” (আবু নুয়াইম ফিল হুলিয়া)১১
মাসআলা-২২: আল্লাহর সমস্ত সৃষ্টি জীবের মধ্যে হাজারে ৯৯৯ জন লোক জাহান্নামে যাবে: নোট: এ সংক্রান্ত হাদীসটি ২৪২ নং মাসআলা দ্রঃ।
মাসআলা-২৩: হাজারে ৯৯৯ জন জাহান্নামে যাওয়া সত্ত্বেও জাহান্নামে খালি থেকে যাবে এবং জাহান্নাম আরো লোক পেতে চাইবে:
يَوْمَ نَقُولُ لِجَهَنَّمَ هَلِ امْتَلأْتِ وَتَقُولُ هَلْ مِنْ مَزِيدٍ
অর্থ: "যেদিন আমি জাহান্নামকে জিজ্ঞেস করব যে, তুমি কি পূর্ণ হয়ে গেছ? সে বলবে আরো আছে কি?” (সূরা ক্বাফ: ৩০)
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ ، أَنَّ نَبِيَّ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، قَالَ: " لَا تَزَالُ جَهَنَّمُ تَقُولُ: هَلْ مِنْ مَزِيدٍ، حَتَّى يَضَعَ فِيهَا رَبُّ الْعِزَّةِ، تَبَارَكَ وَتَعَالَى قَدَمَهُ فَتَقُولُ : قَدْ قَدْ ، وَعِزَّتِكَ وَيُزْوَى بَعْضُهَا إِلَى بَعْضٍ "
অর্থ: “আনাস বিন মালেক (রা) নবী থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সর্বদাই জাহান্নাম বলতে থাকবে যে আরো কি আছে? আরো কি আছে? এমনকি আল্লাহ তাআলা তাঁর কদম জাহান্নামে রাখবেন, তখন সে বলবে: তোমার ইজ্জতের কসম! যথেষ্ট যথেষ্ট। আর তখন জাহান্নামের এক অংশ অপর অংশের সাথে মিলিত হয়ে যাবে।" (মুসলিম ৪/২৮৪৮)১২
মাসআলা-২৪: জাহান্নামকে হাশরের মাঠে নিয়ে আসতে চারশ নব্বই কোটি ফেরেশতা নিয়োগ করা হবে:
عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ مَسْعُودِ اللهِ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : يُؤْتَى بِجَهَنَّمَ يَوْمَئِذٍ لَهَا سَبْعُونَ أَلْفَ زِمَامٍ ، مَعَ كُلِّ زِمَامٍ سَبْعُونَ أَلْفَ مَلَكَ يَجُرُّونَهَا»
অর্থ: “আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ বলেছেন: কিয়ামতের দিন জাহান্নামকে হাশরের মাঠে আনা হবে, তখন তার সত্তর হাজার লাগাম থাকবে, আর প্রত্যেক লাগামে সত্তর হাজার ফেরেশতা ধরে টেনে টেনে তা নিয়ে আসবে।” (মুসলিম ৪/২৮৪২)১৩

টিকাঃ
৮ কিতাব সিফাতুল মুনাফিকীন, বাব জাহান্নাম।
৯ কিতাবুয যুহদ, বাব হিফযুল লিসান।
১০ আবু ইয়ালা লিল আসায়ী, ২য় খণ্ড, হাদীস নং১৩৫৮।
১১ শরহুসুসুন্না, খ. ১৫ পৃ. ২৫১।
১২ কিতাবুল জান্না ওয়ান্নার, বাব জাহান্নام।
১৩ প্রাগুক্ত।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00