📄 আমাদের জন্য আল্লাহর কিতাব ও তাঁর নবীর সুন্নাতই যথেষ্ট
রাসূল মৃত্যুর পূর্বে আল্লাহ তাঁর দয়া ও অনুগ্রহে সর্বদিক থেকে দ্বীন ইসলামকে পরিপূর্ণ করে দিয়েছেন।
আল্লাহর বাণী: الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِي وَرَضِيتُ لَكُمُ الْإِسْلَامَ دِيناً
অর্থ: "আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পরিপূর্ণ করে দিলাম।" (সূরা মায়েদা: ৩)
রাসূল বলেন: لَقَدْ جِئْتُكَ بِهَا بَيْضَاءً نَقِيَّةً
অর্থ: "আমি তোমাদের নিকট একটি স্পষ্ট বিধান নিয়ে এসেছি।” (মোসনাদ আহমদ)
অন্য এক স্থানে নবী বলেন: لَيْلَها كنهارها
অর্থ: "(ইসলামের) রাতগুলো দিনের ন্যায় পরিষ্কার। (ইসলামের প্রতিটি নির্দেশই স্পষ্ট)"। (ইবনে আবি আসেম)
অতএব এ দ্বীনে আজ আর কোনো সংযোজন বা বিয়োজনের প্রয়োজন নেই। আর সেখানে কোনো কিছু অস্পষ্টও নেই। আক্বীদার ব্যাপার হোক, বা ইবাদতের, বা জীবনযাপন, বা উৎসাহ উদ্দীপনা, বা ভয়ভীতির ব্যাপার হোক, সকল বিষয়ে যতটুকু বলা প্রয়োজন ছিল তা আল্লাহ ও তাঁর রাসূল বলে দিয়েছেন। জান্নাতের প্রতি উৎসাহিত ও জাহান্নাম থেকে সতর্ক করার ব্যাপারে, যা যা দরকার ছিল তার সবকিছু আল্লাহ কুরআন মাজীদে স্পষ্ট করেছেন। কুরআন মাজীদের কোনো পৃষ্ঠা এমন নেই যেখানে কোনো না কোনো ভাবে জাহান্নাম বা জান্নাতের উল্লেখ নেই। কুরআন মাজীদের ১১৪টি সূরার মধ্যে একটি বৃহৎ অংশ এমন আছে যা শুধু হাশর-নাশর, হিসাব-কিতাব, জান্নাত ও জাহান্নাম সংক্রান্ত বিষয়সমূহ আলোচিত হয়েছে। আর রাসূল হাদীসের মধ্যে তা আরো স্পষ্ট করে দিয়েছেন। এতদসত্ত্বেও আমাদের দেশে জান্নাত ও জাহান্নাম সংক্রান্ত বিষয়ে লিখিত পুস্তকসমূহে এমন মন গড়া কিছু কাহিনী বুর্যগদের স্বপ্ন, ওলীদের মোরাকাবা মোশাহাদা, এমনকি দুর্বল ও বানোওয়াট হাদীস যথেষ্ট গুরুত্বের সাথে বর্ণনা করা হয়ে থাকে। আমাদের দৃষ্টিতে এসবই ইসলামের মধ্যে নতুন সংযোজন, যা পরিষ্কার বাতিল ও গোমরাহি। এতে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের স্পষ্ট নাফরমানী রয়েছে।
আল্লাহর বাণী: يَأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لا تُقَدِّمُوا بَيْنَ يَدَيِ اللَّهِ وَرَسُولِهِ وَاتَّقُوا اللَّهَ
অর্থ: "হে মু'মিনগণ! তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সামনে অগ্রণী হয়ো না এবং আল্লাহকে ভয় কর।" (সূরা হুজুরাত: ১)
দ্বীন ইসলামের মূল ভিত্তি দু'টি স্পষ্ট জিনিসের ওপর। আর তা হলো আল্লাহর কিতাব ও রাসূল এর সুন্নাত। আমাদের আক্বীদা ও ঈমান আমাদেরকে এসবকে অতিক্রম করার অনুমতি দেয় না। আর আমাদের এতটা হিম্মতও নেই যে, আমরা বুযুর্গদের স্বপ্ন, আকাবেরদের মোরাকাবা, ওলীদের মোকাশাফা বা পীর-ফকীরদের মনগড়া কিচ্ছাকাহিনী মানুষের সামনে আল্লাহর দ্বীন রূপে পেশ করব। আর কিয়ামতের দিন আল্লাহর আদালতে মুজরিম হিসেবে দাড়াব।
أعوذُ بِاللَّهِ إِنْ أَكُونَ مِنَ الْجَاهِلِينَ
অর্থ: "আমি জাহেলদের অন্তর্ভুক্ত হওয়া থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাচ্ছি।"
রাসূল স্বীয় উম্মতদেরকে এ বিষয়ে তাকিদ করেছেন যে, পথভ্রষ্টতা থেকে বাঁচার একটিই মাত্র রাস্তা তা হলো, আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূল এর সুন্নাতকে মজবুতভাবে ধরে থাকা। নবী বলেন: إِنِّي قَدْ تَرَكْتُ فِيكُمْ مَا إِنْ اعْتَصَمْتُمْ بِهِ فَلَنْ تَضِلُّوا أَبَدًا كِتَابَ اللَّهِ وَسُنَّةَ نَبِيِّهِ
অর্থ: "আমি তোমাদের মাঝে রেখে যাচ্ছি এমন জিনিস বা তোমরা মযবুত ভাবে ধরে থাকলে, কখনো পথ ভ্রষ্ট হবে না। আর তা হলো আল্লাহর কিতাব এবং তাঁর রাসূলের সুন্নাত।" (মোস্তাদরাক হাকেম)
আমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের হুকুম শুনে তার অনুসরণ করছি, হেদায়েত এবং মুক্তির জন্য আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূল -এর সুন্নাতই আমাদের জন্য যথেষ্ট, এর বাহিরে তৃতীয় কোনো কিছুর দিকে দৃষ্টি নিক্ষেপ করা আমাদের কোনো প্রয়োজন নেই। আমাদের জন্য আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূলের সুন্নাতই যথেষ্ট।
প্রিয় পাঠক! জাহান্নামের বর্ণনা মূলত জান্নাতের বর্ণনারই দ্বিতীয় খণ্ড, যা আলাদা পুস্তক হিসেবে পেশ করা হলো। আশা করছি ফায়দার দিক থেকে উভয় গ্রন্থে কোনো কম বেশি হবে না ইনশাআল্লাহ। আল্লাহর নিকট বিনয়ের সাথে এ কামনা করছি যে, তিনি যেন জান্নাতের বর্ণনা ও জাহান্নামের বর্ণনাকে উৎসাহ ও ভয় প্রদর্শনের উত্তম, মাধ্যম করে সর্ব সাধারণের উপকারের উপকরণ করেন। এ গ্রন্থের ভাল দিকগুলো তিনি স্বীয় দয়া ও অনুগ্রহে কবুল করেন। আর তার ভুলভ্রান্তি অসাবধানতাসমূহ ক্ষমা করেন। আমীন!
পূর্বের ন্যায় হাদীসসমূহের বিশুদ্ধতা মুহাম্মদ নাসিরুদ্দীন আলবানী (র)-এর তাহকীক থেকে ফায়দা গ্রহণ করে, রেফারেন্স হিসেবে তাঁর গ্রন্থসমূহের নাম্বার ব্যবহার করা হয়েছে।
সবশেষে শ্রদ্ধাভাজন আলেমগণের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা জরুরী মনে করছি। "তাফহিমুসসুন্না” লিখার ক্ষেত্রে আমাকে দিক নির্দেশনা ও মূল্যবান পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন এবং ঐ সমস্ত সাথীদের জন্যও দুআ করছি, যারা হাদীস প্রচারণার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থেকে, বিগত ১৫ বছর যাবত হাটি হাটি পা পা করে সাথে চলছেন, আল্লাহ তাদেরকে উত্তম প্রতিদান দিন।
প্রিয় পাঠক! এবার আসুন, আমরা সবাই মিলে আমাদের পাক পবিত্র রব এর নিকট, জাহান্নাম থেকে মুক্তির দুআ করি। নিশ্চয়ই তিনি দুআ শ্রবণকারী এবং তা কবুল কারী।
إِنَّ رَبِّي لَسَمِيعُ الدُّعَاءِ
অর্থ: "নিশ্চয়ই আমার রব দুআ শ্রবণকারী।" (সূরা ইবরাহীম: ৩৯)
হে আমাদের সৃষ্টিকর্তা। পাক পবিত্র অনুগ্রহ পরায়ণ প্রভু! তুমি আমাদের মালিক, আমরা তোমার গোলাম, তুমি আমাদের নির্দেশ দাতা, আমরা তোমার নির্দেশ পালনকারী, তুমি সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী, আমরা অধিনস্থ, তুমি অমুখাপেক্ষী আর আমরা তোমার মুখাপেক্ষী, তুমি ধনী আমরা ফকীর, আমাদের জীবন তোমার হাতে, আমাদের ফায়সালা তোমার ইচ্ছাধীন।
হে আমাদের ইজ্জতময় ও বড়ত্বের অধিকারী পবিত্র প্রভূ! তোমার আশ্রয় ব্যতীত আমাদের কোনো আশ্রয় নেই, তোমার সাহায্য ব্যতীত আমাদের কোনো সাহায্যকারী নেই। তোমার দরজা ব্যতীত আমাদের আর কোনো দরজা নেই। তোমার দরবার ব্যতীত আমাদের কোনো দরবার নেই। তোমার রহমত আমাদের পাথেয়, আর তোমার ক্ষমা আমাদের পুঁজী, হে আমাদের কুদরতময়, বরকতময়, গুণময়, মর্যাদাবান, ওপরে অবস্থানকারী, বড়ত্বের অধিকারী পবিত্র রব, তুমি স্বয়ং বলেছ যে, জাহান্নাম খারাপ ঠিকানা, তার আযাব মর্মন্তুদ, তাতে প্রবেশকারী না জীবিত থাকবে না মৃত্যুবরণ করবে, অতএব যাকে তুমি জাহান্নামে দিলে সে তো লাঞ্ছিত হয়েই গেল।
হে আমাদের ক্ষমা পরায়ন, দোষ গোপনকারী, অত্যন্ত দয়াময় রব। আমরা আমাদের নিজেদের প্রতি যুলুম করেছি, আমরা আমাদের সমস্ত কবীরা সগীরা, প্রকাশ্য অপ্রকাশ্য, বুঝা না বুঝা, জানা অজানা, গুনাহসমূহের কথা স্বীকার করছি, তোমার আযাবের ভয় করছি, তোমার জাহান্নাম থেকে আশ্রয় চাচ্ছি, আর প্রত্যেক ঐ কথা ও কাজ থেকে আশ্রয় চাচ্ছি যা জাহান্নামের নিকটবর্তী করবে।
হে শাস্তিদাতা, নিরাপত্তা দাতা, গুনাহ ক্ষমাকারী, দোষত্রুটি গোপনকারী পবিত্র প্রভু! যেভাবে এ দুনিয়াতে তোমার দয়ায় আমাদের গুনাহসমূহকে গোপন করে রেখেছ এভাবে কিয়ামতের দিনও স্বীয় রহমত দ্বারা আমাদের গুনাহসমূহকে ঢেকে রাখ, আর স্বীয় রহমত দ্বারা ঐ দিনের অপমান ও লাঞ্ছনা থেকে আমাদেরকে রক্ষা কর।
হে আরশে আযীমের মালিক, আকাশ ও জমিনের মালিক, প্রতিদান দিবসের মালিক, সমস্ত বাদশাহদের বাদশাহ, বিচারকদের বিচারক পবিত্র রব! যদি তুমি আমাদের প্রতি দয়া না কর, তাহলে তুমিই বল যে আমাদের প্রতি কে দয়া করবে? যদি তুমি আমাদেরকে আশ্রয় না দাও, তাহলে কে আমাদেরকে আশ্রয় দিবে? যদি তুমি আমাদেরকে জাহান্নাম থেকে না বাঁচাও তাহলে আমাদেরকে কে বাঁচাবে, তুমি যদি আমাদেরকে দূরে ঠেলে দাও তাহলে কে আমাদের প্রতি দয়া করবে।
হে জিবরাঈল, মীকাঈল, ইসরাফীল ও মুহাম্মদ -এর পবিত্র রব। আমরা জাহান্নাম থেকে তোমার নিকট আশ্রয় চাই, তোমার রহমতের আশা রাখি যে, কিয়ামতের দিন তুমি আমাদেরকে নিরাশ করবে না। "আর আল্লাহর নিকট আশা রাখি যে, প্রতিদান দিবসে তিনি আমদেরকে ক্ষমা করে দিবেন। (সূরা শুআরা: ৮২)
📄 জাহান্নামের অস্তিত্বের প্রমাণ
মাসআলা-১: রাসূলূল্লাহ বলেন, আবু সামামা আমর বিন মালেককে জাহান্নামে তার নাড়ী ভুঁড়ি হেঁচড়িয়ে নিয়ে চলতে দেখেছি:
عَنْ جَابِرٍ : قَالَ: رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : رَأَيْتُ أَبَا ثُمَامَةَ عَمْرَو بْنَ مَالِكٍ يَجُرُّ قُصْبَهُ فِي النَّارِ
অর্থ: "জাবের (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: নবী থেকে বর্ণনা করেছেন তিনি বলেছেন, আমি আবু সামামা আমর বিন মালেককে জাহান্নামে তার নাড়ী ভুঁড়ি হেঁচড়িয়ে নিয়ে চলতে দেখেছি।" (মুসলিম)১
মাসআলা-২: কবরে জাহান্নামীকে জাহান্নামে তার ঠিকানা দেখানো হয়:
عَنْ بْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : «إِذَا مَاتَ أَحَدُكُمْ ، فَإِنَّهُ يُعْرَضُ عَلَيْهِ مَقْعَدُهُ بِالْغَدَاةِ وَالْعَشِيِّ، فَإِنْ كَانَ مِنْ أَهْلِ الْجَنَّةِ، فَمِنْ أَهْلِ الْجَنَّةِ، وَإِنْ كَانَ مِنْ أَهْلِ النَّارِ فَمِنْ أَهْلِ النَّارِ»
অর্থ: "ইবনে ওমর (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলূল্লাহ বলেছেন: যখন তোমাদের মধ্যে কোনো ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করে, তখন সকাল সন্ধ্যায় তাকে তার ঠিকানা দেখানো হয়। যদি জান্নাতী হয় তাহলে জান্নাতে তার ঠিকানা তাকে দেখানো হয়, আর যদি জাহান্নামী হয়, তাহলে জাহান্নামে তার ঠিকানা তাকে দেখানো হয়।” (বুখারী ৪/৩২৪০)২
টিকাঃ
১ কিতাবুল কুসুফ।
২ কিতাবু বাদয়িল খালক, বাব মাযায়া ফি সিফাতিল জান্না।
📄 জাহান্নামের দরজাসমূহ
মাসআলা-৩: জাহান্নামের সাতটি দরজা:
মাসআলা-৪: প্রত্যেক জাহান্নামী নিজ নিজ গুনাহ অনুযায়ী নিদৃষ্ট দরজা দিয়ে জাহান্নামে প্রবেশ করবে:
وَإِنَّ جَهَنَّمَ لَمَوْعِدُهُمْ أَجْمَعِينَ - لَهَا سَبْعَةُ أَبْوَابٍ لِكُلِّ بَابٍ مِنْهُمْ جُزْءً مقْسُومٌ
অর্থ: তাদের সবার নির্ধারিত স্থান হচ্ছে জাহান্নাম, এর সাতটি দরজা আছে, প্রত্যেক দরজার জন্য এক একটি পৃথক দল আছে।” (সূরা হিজর: ৪৩-৪৪)
মাসআলা-৫: কিয়ামতের দিন ফেরেশতারা জাহান্নামের বন্ধ দরজাসমূহ খুলে দিবে যাতে করে জাহান্নামীরা পৃথক পৃথক দলে বিভক্ত হয়ে সেখানে প্রবেশ করতে পারে:
নোট: এ সংক্রান্ত আয়াতটি ১৯২ নং মাসআলায় দ্রঃ।
মাসআলা-৬: জাহান্নামীদেরকে জাহান্নামে প্রবেশ করানোর পর জাহান্নামের দরজাসমূহ মজবুত করে বন্ধ করে দেয়া হবে:
নোট: এ সংক্রান্ত আয়াতটি ১৩৩নং মাসআলায় দ্রঃ।
📄 জাহান্নামের স্তরসমূহ
(আমরা আল্লাহর নিকট জাহান্নামের আযাব থেকে আশ্রয় চাই, কেননা তিনি ব্যতীত আর কোনো উপাস্য নেই, তিনি এক অমুখাপেক্ষী যিনি কারো কাছ থেকে জন্ম নেন নি, আর তিনি কাওকে জন্মও দেন নি, আর তাঁর সমকক্ষও কেউ নেই।)
মাসআলা-৭: জাহান্নামের স্তরসমূহের মধ্যে সর্বনিম্ন স্তরে সর্বাধিক কঠিন আযাব হবে, আর ওপরের স্তরসমূহে হালকা আযাব হবে:
عَنِ الْعَبَّاسِ بْنِ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ هُ أَنَّهُ قَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ ﷺ هَلْ نَفَعْتَ أَبَا طَالِبٍ بِشَيْءٍ، فَإِنَّهُ كَانَ يَحُوطُكَ وَيَغْضَبُ لَكَ؟ قَالَ: «نَعَمْ، هُوَ فِي ضَحْضَاحٍ مِنْ نَارٍ ، وَلَوْلَا أَنَا لَكَانَ فِي الدَّرْكِ الْأَسْفَلِ مِنَ النَّارِ»
অর্থ: "আব্বাস বিন আদুল মোত্তালেব (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি জিজ্ঞেস করলেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ ﷺ! আবু তালেব আপনাকে রক্ষণাবেক্ষণ করত, আপনার জন্য অন্যদের ওপর অসন্তুষ্ট হত, তা কি তার কোনো উপকারে আসবে? তিনি বললেন: হ্যাঁ। সে জাহান্নামের ওপরে স্তরে আছে, যদি আমি তার জন্য সুপারিশ না করতাম, তাহলে সে জাহান্নামের সর্বনিম্নস্তরে থাকত।" (মুসলিম ১/২০৯)৫
মাসআলা-৮: মুনাফিকরা জাহান্নামের সর্বনিম্ন স্তরে থাকবে:
إِنَّ الْمُنَافِقِينَ فِي الدَّرْكِ الْأَسْفَلِ مِنَ النَّارِ وَلَن تَجِدَ لَهُمْ نَصِيراً
অর্থ: "নিঃসন্দেহে মুনাফিকরা রয়েছে জাহান্নামের সর্বনিম্ন স্তরে, আর তোমরা তাদের জন্য কখনো কোনো সাহায্যকারী পাবে না।" (সূরা নিসা: ১৪৫)
মাসআলা-৯: জাহান্নামের স্তরসমূহ বিভিন্ন গুনাহর জন্য পৃথক পৃথক শাস্তির জন্য নিদৃষ্ট থাকবে:
عَنْ سَمُرَةَ هُ أَنَّهُ سَمِعَ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، يَقُولُ: «إِنَّ مِنْهُمْ مَنْ تَأْخُذُهُ النَّارُ إِلَى كَعْبَيْهِ، وَمِنْهُمْ مَنْ تَأْخُذُهُ إِلَى حُجْزَتِهِ، وَمِنْهُمْ مَنْ تَأْخُذُهُ إِلَى عُنُقِهِ
অর্থ: "সামুরা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি নবী ﷺ-কে বলতে শুনেছেন, তিনি বলেছেন: কোনো কোনো জাহান্নামীকে আগুন তার টাখনু পর্যন্ত জ্বালাবে, কোনো কোনো লোককে কোমর পর্যন্ত, আর কোনো কোনো লোককে গর্দান পর্যন্ত।" (মুসলিম)৬
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، قَالَ: «تَأْكُلُ النَّارُ ابْنَ آدَمَ إِلَّا أَثَرَ السُّجُودِ، حَرَّمَ اللَّهُ عَلَى النَّارِ أَنْ تَأْكُلَ أَثَرَ السُّجُودِ»
অর্থ: "আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি নবী থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: জাহান্নামের আগুন আদম সন্তানের সিজদার স্থান ব্যতীত সমস্ত শরীর জ্বালিয়ে দিবে, সিজদার স্থানটুকু জ্বালানো আল্লাহ জাহান্নামের জন্য হারাম করেছেন।" (ইবনে মাজা ২/৪৩২৬)৭
মাসআলা-১০: জাহান্নামের একটি স্তরের নাম জাহীম:
فَأَمَّا مَنْ طَغَى وَآثَرَ الْحَيَاةَ الدُّنْيَا فَإِنَّ الْجَحِيمَ هِيَ الْمَأْوَى
অর্থ: "তখন যে ব্যক্তি সীমালংঘন করেছে, পার্থিব জীবনকে অগ্রাধিকার দিয়েছে, তার ঠিকানা হবে জাহিম (জাহান্নাম)। (সূরা নাযিয়াত: ৩৭-৩৯)
মাসআলা-১১: জাহান্নামের আরেকটি স্তরের নাম হুতামা:
كَلَّا لَيُنبَذَنَّ فِي الْحُطَمَةِ وَمَا أَدْرَاكَ مَا الْحُطَمَةُ نَارُ اللَّهِ الْمُوقَدَةُ
অর্থ: কখনো নয়, অবশ্যই সে নিক্ষিপ্ত হবে হুতামা'য়। আর কিসে তোমাকে জানাবে হুতামা কি? আল্লাহর প্রজ্জ্বলিত আগুন। যা হৃৎপিণ্ড পর্যন্ত পৌঁছে যাবে। নিশ্চয় তা তাদেরকে আবদ্ধ করে রাখবে লম্বা খুঁটিতে। (সূরা হুমাযাহ ১০৪:৪-৬)
মাসআলা-১২: জাহান্নামের আরেকটি স্তরের নাম হাবিয়া:
وَأَمَّا مَنْ خَفَّتْ مَوَازِينُهُ فَأُمُّهُ هَاوِيَةٌ وَمَا أَدْرَاكَ مَا هِيَهُ نَارٌ حَامِيَةٌ
অর্থ: "অতএব যার পাল্লা হালকা হবে, তার ঠিকানা হবে হাবিয়া, আপনি কি জানেন তা কি? (তাহলো) প্রজ্জলিত অগ্নি।" (সূরা কারিয়া: ৮-১১)
মাসআলা-১৩: জাহান্নামের আরেকটি স্তরের নাম সাকার:
سَأُصْلِيْهِ سَقَرَ وَمَا أَدْرَاكَ مَا سَقَرُ لَا تُبْقِي وَلَا تَذَرُ لَوَّاحَةٌ لِلْبَشَرِ
অর্থ: " অচিরেই আমি তাকে জাহান্নামের আগুনে প্রবেশ করাব। কিসে তোমাকে জানাবে জাহান্নামের আগুন কী? এটা অবশিষ্টও রাখবে না এবং ছেড়েও দেবে না। চামড়াকে দগ্ধ করে কালো করে দেবে। (সূরা মুদ্দাসসির ৭৪:২৬-২৯)
মাসআলা-১৪: জাহান্নামের আরেকটি স্তরের নাম লাযা:
كَلَّا إِنَّهَا لَظَى نَزَّاعَةٌ لِلشَّوَى تَدْعُو مَنْ أَدْبَرَ وَتَوَلَّى وَجَمَعَ فَأَوْعَى
অর্থ: কখনো নয়। এটিতো লেলিহান আগুন। যা মাথার চামড়া খসিয়ে নেবে। জাহান্নাম তাকে ডাকবে যে পৃষ্ঠ প্রদর্শন করেছিল এবং মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিল। আর সম্পদ জমা করেছিল, অতঃপর তা সংরক্ষণ করে রেখেছিল। (সূরা মাআরিজ ৭০:১৫-১৮)
মাসআলা-১৫: জাহান্নামের আরেকটি স্তরের নাম সাঈর:
وَقَالُوا لَوْ كُنَّا نَسْمَعُ أَوْ نَعْقِلُ مَا كُنَّا فِي أَصْحَابِ السَّعِيرِ فَاعْتَرَفُوا بِذَنْبِهِمْ فَسُحْقًا لأَصْحَابِ السَّعِيرِ
অর্থ: " আর তারা বলবে, 'যদি আমরা শুনতাম অথবা বুঝতাম, তাহলে আমরা জ্বলন্ত আগুনের অধিবাসীদের মধ্যে থাকতাম না'। অতঃপর তারা তাদের অপরাধ স্বীকার করবে। অতএব ধ্বংস জ্বলন্ত আগুনের অধিবাসীদের জন্য। (সূরা মূলক ৬৭:১০-১১)
মাসআলা-১৬: জাহান্নামের আরেকটি স্তরের নাম হবে যামহারীর: নোট: এ সংক্রান্ত হাদীসটি ১২৫ নং মাসআলা দ্রষ্টব্য।
মাসআলা-১৭: জাহান্নামের একটি নালার নাম ওয়াইল:
انْطَلِقُوا إِلَى ظِلَّ ذِي ثَلَاثِ شُعَبٍ لا قَلِيلٍ وَلَا يُغْنِي مِنَ اللَّهَبِ إِنَّهَا تَرْمِي بِشَرَرٍ كَالْقَصْرِ كَأَنَّهُ جِمَالَةٌ صُفْرٌ وَيْلٌ يَوْمَئِذٍ لِلْمُكَذِّبِينَ
অর্থ: " যাও তিন কুণ্ডলী বিশিষ্ট আগুনের ছায়ায়, যা ছায়াদানকারী নয় এবং তা জাহান্নামের জ্বলন্ত অগ্নিশিখার মোকাবেলায় কোনো কাজেও আসবে না। নিশ্চয় তা (জাহান্নাম) ছড়াবে প্রাসাদসম স্ফুলিঙ্গ। তা যেন হলুদ উস্ত্রী। মিথ্যারোপ কারীদের জন্য সেদিনের দুর্ভোগ! (সূরা মুরসালাত ৭৭:৩০-৩৪)
টিকাঃ
৫ কিতাবুল ঈমান বাব সাফায়াতুন্নাবী (স) লি আবি তালেব।
৬ কিতাবুল জান্না, বাব জাহান্নাম।
৭ কিতাবুষযুহদ, বাব সিফাতিন্নার, (২/৩৪৯২)