📄 কিছু সময়ের জন্য জাহান্নামে অবস্থানকারীরা
উল্লেখিত নামে এ গ্রন্থে একটি অধ্যায় রচনা করা হয়েছে, যেখানে ঐ মুসলমানদের জাহান্নামে যাওয়ার বর্ণনা রয়েছে যে, যারা কিছু কিছু কবীরা গুনাহর কারণে প্রথমে জাহান্নামে যাবে এবং স্বীয় গুনাহর শাস্তি ভোগ করার পর জান্নাতে যাবে।
উল্লেখিত অধ্যায়ে আমরা ঐ সমস্ত হাদীস বাছাই করেছি যেখানে রাসূল স্পষ্ট করে বলেছেন: "ঐ ব্যক্তি জাহান্নামে প্রবেশ করেছে" এরকম শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে বা তার সাথে সম্পৃক্ত এমন কোনো শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। যাতে করে কোনো প্রকার ভুল না বুঝা হয়। কিন্তু এ থেকে এ কথা বুঝা ঠিক হবে না যে, এ কবীরা গুনাহসমূহ ব্যতীত আর এমন কোনো কবীরা গুনাহ নেই, জাহান্নামে যাওয়ার কারণ হতে পারে। জাহান্নামের বর্ণনা নামক গ্রন্থ লেখার উদ্দেশ্য শুধু এই যে, লোকেরা জাহান্নামের আযাব সম্পর্কে সতর্ক হয়ে তা থেকে বাঁচার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করবে। এ জন্য জরুরী ছিল যে, লোকদেরকে এ সমস্ত কবীরা গুনাহ থেকে সতর্ক করা যা জাহান্নামে যাওয়ার কারণ হবে। এ জন্য আমরা কোনো লম্বা আলোচনায় না গিয়ে ইমাম সাহাবীর 'কিতাবুল কাবায়ের' থেকে কবীরা গুনাহসমূহের সূচী পেশ করছি। এ আশায় যে আল্লাহর শাস্তিকে ভয় কারী, নেককার মুত্তাকী লোকেরা এ থেকে অবশ্যই উপকৃত হবে ইনশাআল্লাহ।
১. শিরক করা।
২. অন্যায়ভাবে কাউকে হত্যা করা।
৩. যাদু করা বা করানো।
৪. নামায ত্যাগ করা।
৫. যাকাত না দেয়া।
৬. বিনা ওজরে রমযানের রোযা ত্যাগ করা।
৭. ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও হজ্জ না করা।
৮. পিতা-মাতার অবাধ্য হওয়া।
৯. আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করা।
১০. ব্যভিচার করা।
১১. পুরুষে পুরুষে ব্যভিচার করা।
১২. সুদ আদান প্রদান করা, তা লিখা, এ বিষয়ে সাক্ষী থাকা ইত্যাদি একই ধরনের কবীরা গুনাহ।
১৩. ইয়াতীমের সম্পদ খাওয়া।
১৪. আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের নামে মিথ্যা কথা চালিয়ে দেয়া।
১৫. জিহাদের ময়দান থেকে পলায়ন করা।
১৬. শাসক তার অধিনস্তদের প্রতি যুলুম করা।
১৭. অহংকার করা।
১৮. মিথ্যা সাক্ষী দেয়া।
১৯. মিথ্যা কসম করা।
২০. জুয়া খেলা।
২১. নির্দোষ মহিলাদেরকে মিথ্যা অপবাদ দেয়া।
২২. গনীমতের মাল আত্মসাৎ করা।
২৩. চুরি করা।
২৪. ডাকাতি করা।
২৫. মদ পান করা।
২৬. যুলুম করা।
২৭. চাঁদাবাজী করা।
২৮. হারাম খাওয়া।
২৯. আত্মহত্যা করা।
৩০. মিথ্যা বলা।
৩১. কিতাব ও সুন্নাত বিরোধী বিচার ফায়সালা করা।
৩২. ঘুষ নেয়া।
৩৩. নারী পুরুষ একে অপরের সাদৃশ্যতা অবলম্বন করা।
৩৪. দাইউস হওয়া (নিজের স্ত্রীকে অন্য পুরুষের সহবাসে দেয়া এবং তার উপার্জন ভোগ করা।)
৩৫. হিলা (তিন তালাক প্রাপ্ত মহিলার সাময়িক বিবাহ, যা পূর্ব স্বামীর সাথে পুনঃ বিবাহে সহায়তা করে)। করা বা করানো।
৩৬. পেসাব থেকে সাবধানতা অবলম্বন না করা।
৩৭. লোক দেখানো কাজ করা।
৩৮. পার্থিব সুবিধা লাভের জন্য দ্বীনি ইলম অর্জন করা এবং দ্বীনি ইলম গোপন করা।
৩৯. খিয়ানত করা।
৪০. উপকার করে তা বলে বেড়ানো।
৪১. তাকদীর (ভাগ্যকে) অস্বীকার করা।
৪২. অপরের গোপনীয়তা প্রকাশ করা।
৪৩. চোগলখোরী (এক জায়গার কথা অন্য জায়গায় লাগানো) ও গীবত (পরনিন্দা) করা।
৪৪. লা'নত (অভিসম্পাত) করা।
৪৫. ওয়াদা ভঙ্গ করা।
৪৬. গণকদের কথা বিশ্বাস করা।
৪৭. স্বামীর সাথে স্ত্রীর চরিত্রহীন আচরণ করা।
৪৮. ছবি তোলা।
৪৯. (আত্মীয়-স্বজনদের মৃত্যুতে) উচ্চ স্বরে কান্না-কাটি করা।
৫০. স্ত্রীর কাজের লোকদের সাথে খারাপ আচরণ করা।
৫১. প্রতিবেশীকে কষ্ট দেয়া।
৫২. মুসলমানের ওপর হস্তক্ষেপ করা।
৫৩. টাখনুর নীচে কাপড় পরিধান করা।
৫৪. পুরুষের রেশম ও স্বর্ণ ব্যবহার করা।
৫৫. কাজের লোক ভেগে যাওয়া।
৫৬. আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো নামে প্রাণী যবাই করা।
৫৭. আপন পিতা ব্যতীত অপরের প্রতি নিজের সম্পর্ক স্থাপন করা।
৫৮. অন্যায়ভাবে ঝগড়া করা।
৫৯. নিজের প্রয়োজনের অতিরিক্ত পানি অপরকে না দেয়া।
৬০. ওজনে কম করা।
৬১. আল্লাহর শাস্তি থেকে নির্ভয় হওয়া।
৬২. সগীরা (ছোট গুনাহর) ওপর অটল থাকা।
৬৩. কোনো ওজর ব্যতীত জামাআত ছেড়ে একা নামায পড়া।
৬৪. ইসলাম বিরোধী উপদেশ (ওসীয়ত) করা।
৬৫. কাউকে ধোঁকা দেয়া।
৬৬. ইসলামী রাষ্ট্রের গোপন তথ্য ফাঁস করা।
৬৭. সাহাবাগণকে গালি দেয়া।২
এ সমস্ত গুনাহ ঐ কবীরা গুনাহর অন্তর্ভুক্ত যার যে কোনো একটিতে লিপ্ত হওয়াই মানুষের জাহান্নামে যাওয়ার জন্য যথেষ্ট। অতএব জাহান্নাম থেকে বাঁচার জন্য জরুরী হলো এই যে, প্রথমত এ সমস্ত কবীরা গুনাহ থেকে পরিপূর্ণভাবে বেঁচে থাকা।
দ্বিতীয়: আর কখনো যদি মানুষিক কোনো কারণে কোনো কবীরা গুনাহ হয়ে যায়, তাহলে সাথে সাথে আল্লাহর নিকট তাওবা করে ভবিষ্যতে কখনো ঐ গুনায় লিপ্ত না হওয়ার জন্য কঠোর মনোভাব গ্রহণ করবে।
তৃতীয়ত: ঐ গুনাহর মাধ্যমে যদি কোনো মানুষের হক নষ্ট হয়, তাহলে তার ক্ষতি পূরণ দেয়া বা তার কাছ থেকে ক্ষমা চেয়ে নেয়া। আর কোনো কারণে (যেমন ঐ ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করেছে) যদি তা সম্ভব না হয়, তাহলে তার জন্য বেশি বেশি করে ক্ষমা প্রার্থনা করবে।
চতুর্থ: সগীরা গুনাহসমূহকে মাফকারী নেক আমল যেমন নফল নামায, নফল রোযা, নফল সাদকা, বেশি বেশি করে করবে। কিন্তু এ কথা স্মরণ রাখতে হবে যে, ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো সগীরা গুনাহর ওপর অটল থাকা, সগীরা গুনাহকে কবীরা গুনায় পরিণত করে। যার জন্য তাওবা করা জরুরী। নেক আমলের কারণে ঐ সমস্ত সগীরা গুনাহ মাফ হয় যা মানুষের অনিচ্ছা সত্ত্বেও হয়ে থাকে। উল্লেখিত বিষয়সমূহ পালন করার পর আল্লাহর নিকট দৃঢ় আশা রাখতে হবে, যেন তিনি স্বীয় দয়া ও অনুগ্রহের মাধ্যমে অবশ্যই জাহান্নামের শাস্তি থেকে রক্ষা করেন এবং তাঁর নিআমত ভরপুর জান্নাতে প্রবেশ করান। আর তা আল্লাহর জন্য মোটেও কষ্টকর নয়।
টিকাঃ
২ উল্লেখিত সমস্ত গুনাহসমূহ সম্পর্কে ইমাম যাহাবী কুরআন ও হাদীসের আলোকে রেফারেন্স সহ একথা প্রমাণ করতে চেয়েছেন যে, এ সবগুলোই কবীরা গুনাহ।
📄 আমাদের জন্য আল্লাহর কিতাব ও তাঁর নবীর সুন্নাতই যথেষ্ট
রাসূল মৃত্যুর পূর্বে আল্লাহ তাঁর দয়া ও অনুগ্রহে সর্বদিক থেকে দ্বীন ইসলামকে পরিপূর্ণ করে দিয়েছেন।
আল্লাহর বাণী: الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِي وَرَضِيتُ لَكُمُ الْإِسْلَامَ دِيناً
অর্থ: "আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পরিপূর্ণ করে দিলাম।" (সূরা মায়েদা: ৩)
রাসূল বলেন: لَقَدْ جِئْتُكَ بِهَا بَيْضَاءً نَقِيَّةً
অর্থ: "আমি তোমাদের নিকট একটি স্পষ্ট বিধান নিয়ে এসেছি।” (মোসনাদ আহমদ)
অন্য এক স্থানে নবী বলেন: لَيْلَها كنهارها
অর্থ: "(ইসলামের) রাতগুলো দিনের ন্যায় পরিষ্কার। (ইসলামের প্রতিটি নির্দেশই স্পষ্ট)"। (ইবনে আবি আসেম)
অতএব এ দ্বীনে আজ আর কোনো সংযোজন বা বিয়োজনের প্রয়োজন নেই। আর সেখানে কোনো কিছু অস্পষ্টও নেই। আক্বীদার ব্যাপার হোক, বা ইবাদতের, বা জীবনযাপন, বা উৎসাহ উদ্দীপনা, বা ভয়ভীতির ব্যাপার হোক, সকল বিষয়ে যতটুকু বলা প্রয়োজন ছিল তা আল্লাহ ও তাঁর রাসূল বলে দিয়েছেন। জান্নাতের প্রতি উৎসাহিত ও জাহান্নাম থেকে সতর্ক করার ব্যাপারে, যা যা দরকার ছিল তার সবকিছু আল্লাহ কুরআন মাজীদে স্পষ্ট করেছেন। কুরআন মাজীদের কোনো পৃষ্ঠা এমন নেই যেখানে কোনো না কোনো ভাবে জাহান্নাম বা জান্নাতের উল্লেখ নেই। কুরআন মাজীদের ১১৪টি সূরার মধ্যে একটি বৃহৎ অংশ এমন আছে যা শুধু হাশর-নাশর, হিসাব-কিতাব, জান্নাত ও জাহান্নাম সংক্রান্ত বিষয়সমূহ আলোচিত হয়েছে। আর রাসূল হাদীসের মধ্যে তা আরো স্পষ্ট করে দিয়েছেন। এতদসত্ত্বেও আমাদের দেশে জান্নাত ও জাহান্নাম সংক্রান্ত বিষয়ে লিখিত পুস্তকসমূহে এমন মন গড়া কিছু কাহিনী বুর্যগদের স্বপ্ন, ওলীদের মোরাকাবা মোশাহাদা, এমনকি দুর্বল ও বানোওয়াট হাদীস যথেষ্ট গুরুত্বের সাথে বর্ণনা করা হয়ে থাকে। আমাদের দৃষ্টিতে এসবই ইসলামের মধ্যে নতুন সংযোজন, যা পরিষ্কার বাতিল ও গোমরাহি। এতে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের স্পষ্ট নাফরমানী রয়েছে।
আল্লাহর বাণী: يَأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لا تُقَدِّمُوا بَيْنَ يَدَيِ اللَّهِ وَرَسُولِهِ وَاتَّقُوا اللَّهَ
অর্থ: "হে মু'মিনগণ! তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সামনে অগ্রণী হয়ো না এবং আল্লাহকে ভয় কর।" (সূরা হুজুরাত: ১)
দ্বীন ইসলামের মূল ভিত্তি দু'টি স্পষ্ট জিনিসের ওপর। আর তা হলো আল্লাহর কিতাব ও রাসূল এর সুন্নাত। আমাদের আক্বীদা ও ঈমান আমাদেরকে এসবকে অতিক্রম করার অনুমতি দেয় না। আর আমাদের এতটা হিম্মতও নেই যে, আমরা বুযুর্গদের স্বপ্ন, আকাবেরদের মোরাকাবা, ওলীদের মোকাশাফা বা পীর-ফকীরদের মনগড়া কিচ্ছাকাহিনী মানুষের সামনে আল্লাহর দ্বীন রূপে পেশ করব। আর কিয়ামতের দিন আল্লাহর আদালতে মুজরিম হিসেবে দাড়াব।
أعوذُ بِاللَّهِ إِنْ أَكُونَ مِنَ الْجَاهِلِينَ
অর্থ: "আমি জাহেলদের অন্তর্ভুক্ত হওয়া থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাচ্ছি।"
রাসূল স্বীয় উম্মতদেরকে এ বিষয়ে তাকিদ করেছেন যে, পথভ্রষ্টতা থেকে বাঁচার একটিই মাত্র রাস্তা তা হলো, আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূল এর সুন্নাতকে মজবুতভাবে ধরে থাকা। নবী বলেন: إِنِّي قَدْ تَرَكْتُ فِيكُمْ مَا إِنْ اعْتَصَمْتُمْ بِهِ فَلَنْ تَضِلُّوا أَبَدًا كِتَابَ اللَّهِ وَسُنَّةَ نَبِيِّهِ
অর্থ: "আমি তোমাদের মাঝে রেখে যাচ্ছি এমন জিনিস বা তোমরা মযবুত ভাবে ধরে থাকলে, কখনো পথ ভ্রষ্ট হবে না। আর তা হলো আল্লাহর কিতাব এবং তাঁর রাসূলের সুন্নাত।" (মোস্তাদরাক হাকেম)
আমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের হুকুম শুনে তার অনুসরণ করছি, হেদায়েত এবং মুক্তির জন্য আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূল -এর সুন্নাতই আমাদের জন্য যথেষ্ট, এর বাহিরে তৃতীয় কোনো কিছুর দিকে দৃষ্টি নিক্ষেপ করা আমাদের কোনো প্রয়োজন নেই। আমাদের জন্য আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূলের সুন্নাতই যথেষ্ট।
প্রিয় পাঠক! জাহান্নামের বর্ণনা মূলত জান্নাতের বর্ণনারই দ্বিতীয় খণ্ড, যা আলাদা পুস্তক হিসেবে পেশ করা হলো। আশা করছি ফায়দার দিক থেকে উভয় গ্রন্থে কোনো কম বেশি হবে না ইনশাআল্লাহ। আল্লাহর নিকট বিনয়ের সাথে এ কামনা করছি যে, তিনি যেন জান্নাতের বর্ণনা ও জাহান্নামের বর্ণনাকে উৎসাহ ও ভয় প্রদর্শনের উত্তম, মাধ্যম করে সর্ব সাধারণের উপকারের উপকরণ করেন। এ গ্রন্থের ভাল দিকগুলো তিনি স্বীয় দয়া ও অনুগ্রহে কবুল করেন। আর তার ভুলভ্রান্তি অসাবধানতাসমূহ ক্ষমা করেন। আমীন!
পূর্বের ন্যায় হাদীসসমূহের বিশুদ্ধতা মুহাম্মদ নাসিরুদ্দীন আলবানী (র)-এর তাহকীক থেকে ফায়দা গ্রহণ করে, রেফারেন্স হিসেবে তাঁর গ্রন্থসমূহের নাম্বার ব্যবহার করা হয়েছে।
সবশেষে শ্রদ্ধাভাজন আলেমগণের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা জরুরী মনে করছি। "তাফহিমুসসুন্না” লিখার ক্ষেত্রে আমাকে দিক নির্দেশনা ও মূল্যবান পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন এবং ঐ সমস্ত সাথীদের জন্যও দুআ করছি, যারা হাদীস প্রচারণার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থেকে, বিগত ১৫ বছর যাবত হাটি হাটি পা পা করে সাথে চলছেন, আল্লাহ তাদেরকে উত্তম প্রতিদান দিন।
প্রিয় পাঠক! এবার আসুন, আমরা সবাই মিলে আমাদের পাক পবিত্র রব এর নিকট, জাহান্নাম থেকে মুক্তির দুআ করি। নিশ্চয়ই তিনি দুআ শ্রবণকারী এবং তা কবুল কারী।
إِنَّ رَبِّي لَسَمِيعُ الدُّعَاءِ
অর্থ: "নিশ্চয়ই আমার রব দুআ শ্রবণকারী।" (সূরা ইবরাহীম: ৩৯)
হে আমাদের সৃষ্টিকর্তা। পাক পবিত্র অনুগ্রহ পরায়ণ প্রভু! তুমি আমাদের মালিক, আমরা তোমার গোলাম, তুমি আমাদের নির্দেশ দাতা, আমরা তোমার নির্দেশ পালনকারী, তুমি সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী, আমরা অধিনস্থ, তুমি অমুখাপেক্ষী আর আমরা তোমার মুখাপেক্ষী, তুমি ধনী আমরা ফকীর, আমাদের জীবন তোমার হাতে, আমাদের ফায়সালা তোমার ইচ্ছাধীন।
হে আমাদের ইজ্জতময় ও বড়ত্বের অধিকারী পবিত্র প্রভূ! তোমার আশ্রয় ব্যতীত আমাদের কোনো আশ্রয় নেই, তোমার সাহায্য ব্যতীত আমাদের কোনো সাহায্যকারী নেই। তোমার দরজা ব্যতীত আমাদের আর কোনো দরজা নেই। তোমার দরবার ব্যতীত আমাদের কোনো দরবার নেই। তোমার রহমত আমাদের পাথেয়, আর তোমার ক্ষমা আমাদের পুঁজী, হে আমাদের কুদরতময়, বরকতময়, গুণময়, মর্যাদাবান, ওপরে অবস্থানকারী, বড়ত্বের অধিকারী পবিত্র রব, তুমি স্বয়ং বলেছ যে, জাহান্নাম খারাপ ঠিকানা, তার আযাব মর্মন্তুদ, তাতে প্রবেশকারী না জীবিত থাকবে না মৃত্যুবরণ করবে, অতএব যাকে তুমি জাহান্নামে দিলে সে তো লাঞ্ছিত হয়েই গেল।
হে আমাদের ক্ষমা পরায়ন, দোষ গোপনকারী, অত্যন্ত দয়াময় রব। আমরা আমাদের নিজেদের প্রতি যুলুম করেছি, আমরা আমাদের সমস্ত কবীরা সগীরা, প্রকাশ্য অপ্রকাশ্য, বুঝা না বুঝা, জানা অজানা, গুনাহসমূহের কথা স্বীকার করছি, তোমার আযাবের ভয় করছি, তোমার জাহান্নাম থেকে আশ্রয় চাচ্ছি, আর প্রত্যেক ঐ কথা ও কাজ থেকে আশ্রয় চাচ্ছি যা জাহান্নামের নিকটবর্তী করবে।
হে শাস্তিদাতা, নিরাপত্তা দাতা, গুনাহ ক্ষমাকারী, দোষত্রুটি গোপনকারী পবিত্র প্রভু! যেভাবে এ দুনিয়াতে তোমার দয়ায় আমাদের গুনাহসমূহকে গোপন করে রেখেছ এভাবে কিয়ামতের দিনও স্বীয় রহমত দ্বারা আমাদের গুনাহসমূহকে ঢেকে রাখ, আর স্বীয় রহমত দ্বারা ঐ দিনের অপমান ও লাঞ্ছনা থেকে আমাদেরকে রক্ষা কর।
হে আরশে আযীমের মালিক, আকাশ ও জমিনের মালিক, প্রতিদান দিবসের মালিক, সমস্ত বাদশাহদের বাদশাহ, বিচারকদের বিচারক পবিত্র রব! যদি তুমি আমাদের প্রতি দয়া না কর, তাহলে তুমিই বল যে আমাদের প্রতি কে দয়া করবে? যদি তুমি আমাদেরকে আশ্রয় না দাও, তাহলে কে আমাদেরকে আশ্রয় দিবে? যদি তুমি আমাদেরকে জাহান্নাম থেকে না বাঁচাও তাহলে আমাদেরকে কে বাঁচাবে, তুমি যদি আমাদেরকে দূরে ঠেলে দাও তাহলে কে আমাদের প্রতি দয়া করবে।
হে জিবরাঈল, মীকাঈল, ইসরাফীল ও মুহাম্মদ -এর পবিত্র রব। আমরা জাহান্নাম থেকে তোমার নিকট আশ্রয় চাই, তোমার রহমতের আশা রাখি যে, কিয়ামতের দিন তুমি আমাদেরকে নিরাশ করবে না। "আর আল্লাহর নিকট আশা রাখি যে, প্রতিদান দিবসে তিনি আমদেরকে ক্ষমা করে দিবেন। (সূরা শুআরা: ৮২)
📄 জাহান্নামের অস্তিত্বের প্রমাণ
মাসআলা-১: রাসূলূল্লাহ বলেন, আবু সামামা আমর বিন মালেককে জাহান্নামে তার নাড়ী ভুঁড়ি হেঁচড়িয়ে নিয়ে চলতে দেখেছি:
عَنْ جَابِرٍ : قَالَ: رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : رَأَيْتُ أَبَا ثُمَامَةَ عَمْرَو بْنَ مَالِكٍ يَجُرُّ قُصْبَهُ فِي النَّارِ
অর্থ: "জাবের (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: নবী থেকে বর্ণনা করেছেন তিনি বলেছেন, আমি আবু সামামা আমর বিন মালেককে জাহান্নামে তার নাড়ী ভুঁড়ি হেঁচড়িয়ে নিয়ে চলতে দেখেছি।" (মুসলিম)১
মাসআলা-২: কবরে জাহান্নামীকে জাহান্নামে তার ঠিকানা দেখানো হয়:
عَنْ بْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : «إِذَا مَاتَ أَحَدُكُمْ ، فَإِنَّهُ يُعْرَضُ عَلَيْهِ مَقْعَدُهُ بِالْغَدَاةِ وَالْعَشِيِّ، فَإِنْ كَانَ مِنْ أَهْلِ الْجَنَّةِ، فَمِنْ أَهْلِ الْجَنَّةِ، وَإِنْ كَانَ مِنْ أَهْلِ النَّارِ فَمِنْ أَهْلِ النَّارِ»
অর্থ: "ইবনে ওমর (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলূল্লাহ বলেছেন: যখন তোমাদের মধ্যে কোনো ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করে, তখন সকাল সন্ধ্যায় তাকে তার ঠিকানা দেখানো হয়। যদি জান্নাতী হয় তাহলে জান্নাতে তার ঠিকানা তাকে দেখানো হয়, আর যদি জাহান্নামী হয়, তাহলে জাহান্নামে তার ঠিকানা তাকে দেখানো হয়।” (বুখারী ৪/৩২৪০)২
টিকাঃ
১ কিতাবুল কুসুফ।
২ কিতাবু বাদয়িল খালক, বাব মাযায়া ফি সিফাতিল জান্না।
📄 জাহান্নামের দরজাসমূহ
মাসআলা-৩: জাহান্নামের সাতটি দরজা:
মাসআলা-৪: প্রত্যেক জাহান্নামী নিজ নিজ গুনাহ অনুযায়ী নিদৃষ্ট দরজা দিয়ে জাহান্নামে প্রবেশ করবে:
وَإِنَّ جَهَنَّمَ لَمَوْعِدُهُمْ أَجْمَعِينَ - لَهَا سَبْعَةُ أَبْوَابٍ لِكُلِّ بَابٍ مِنْهُمْ جُزْءً مقْسُومٌ
অর্থ: তাদের সবার নির্ধারিত স্থান হচ্ছে জাহান্নাম, এর সাতটি দরজা আছে, প্রত্যেক দরজার জন্য এক একটি পৃথক দল আছে।” (সূরা হিজর: ৪৩-৪৪)
মাসআলা-৫: কিয়ামতের দিন ফেরেশতারা জাহান্নামের বন্ধ দরজাসমূহ খুলে দিবে যাতে করে জাহান্নামীরা পৃথক পৃথক দলে বিভক্ত হয়ে সেখানে প্রবেশ করতে পারে:
নোট: এ সংক্রান্ত আয়াতটি ১৯২ নং মাসআলায় দ্রঃ।
মাসআলা-৬: জাহান্নামীদেরকে জাহান্নামে প্রবেশ করানোর পর জাহান্নামের দরজাসমূহ মজবুত করে বন্ধ করে দেয়া হবে:
নোট: এ সংক্রান্ত আয়াতটি ১৩৩নং মাসআলায় দ্রঃ।