📘 মৃত্যুর পরে অনন্ত জীবন > 📄 আ'রাফের অধিবাসীগণ

📄 আ'রাফের অধিবাসীগণ


মাসআলা-৪০২: জান্নাত জাহান্নামের মাঝে একটি উঁচু স্থানে কিছু লোক জীবন যাপন করবে তাদেরকে আ'রাফের অধিবাসী বলা হয়:
মাসআলা-৪০৩: আ'রাফের অধিবাসীদের পাপ ও সাওয়াব বরাবর হবে তাই তারা জান্নাতেও যেতে পারবেন না জাহান্নামে, কিন্তু আল্লাহর দয়া ও অনুগ্রহে জান্নাতে যাওয়ার আশাবাদী তারা হবে:
وَبَيْنَهُمَا حِجَابٌ وَعَلَى الْأَعْرَافِ رِجَالٌ يَعْرِفُونَ كُلا بِسِيمَاهُمْ وَنَادَوْا أَصْحَابَ الْجَنَّةِ أَن سَلَامٌ عَلَيْكُمْ لَمْ يَدْخُلُوهَا وَهُمْ يَطْمَعُونَ
অর্থ: আর তাদের মধ্যে থাকবে পর্দা এবং আ'রাফের উপর থাকবে কিছু লোক, যারা প্রত্যেককে তাদের চিহ্ন দ্বারা চিনবে। আর তারা জান্নাতের অধিবাসীদেরকে ডাকবে যে, 'তোমাদের উপর সালাম'। তারা (এখনো) তাতে প্রবেশ করেনি তবে তারা আশা করবে। (সূরা আ'রাফ ৭:৪৬)

মাসআলা-৪০৪: আ'রাফের অধিবাসীরা জাহান্নামীদেরকে দেখে নিম্নোক্ত দুআ পাঠ করবে:
وَإِذَا صُرِفَتْ أَبْصَارُهُمْ تِلْقَاءَ أَصْحَابِ النَّارِ قَالُوا رَبَّنَا لَا تَجْعَلْنَا مَعَ الْقَوْمِ الظَّالِمِينَ
অর্থ: আর যখন তাদের দৃষ্টিকে আগুনের অধিবাসীদের প্রতি ফেরানো হবে, তারা বলবে, 'হে আমাদের রব! আমাদেরকে যালিম কওমের অন্তর্ভুক্ত করবেন না'। (সূরা আ'রাফ ৭:৪৭)

মাসআলা-৪০৫: আ'রাফবাসীদের পক্ষ থেকে তাদের পরিচিত কিছু জাহান্নামীদেরকে শিক্ষণীয় সম্বোধন:
وَنَادَى أَصْحَابُ الْأَعْرَافِ رِجَالًا يَعْرِفُونَهُمْ بِسِيمَاهُمْ قَالُوا مَا أَغْنَى عَنكُمْ جَمْعُكُمْ وَمَا كُنْتُمْ تَسْتَكْبِرُونَ - أَهَؤُلَاءِ الَّذِينَ أَقْسَمْتُمْ لا يَنَالُهُمُ اللَّهُ بِرَحْمَةٍ ادْخُلُوا الْجَنَّةَ لَا خَوْفٌ عَلَيْكُمْ وَلَا أَنتُمْ تَحْزَنُونَ
অর্থ: আর আ'রাফের অধিবাসীরা এমন লোকদেরকে ডাকবে, যাদেরকে তারা চিনবে তাদের চিহ্নের মাধ্যমে, তারা বলবে, 'তোমাদের দল এবং যে বড়াই তোমরা করতে তা তোমাদের উপকারে আসেনি'। এরাই কি তারা যাদের ব্যাপারে তোমরা কসম করতে যে, আল্লাহ তাদেরকে রহমতে শামিল করবেন না? 'তোমরা জান্নাতে প্রবেশ করো। তোমাদের উপর কোনো ভয় নেই এবং তোমরা দুঃখিত হবে না'। (সূরা আরাফ ৭:৪৮-৪৯)

টিকাঃ
১৮৯ জান্নাত ও জাহান্নামের মধ্যবর্তী প্রাচীরকে আ'রাফ বলে।

📘 মৃত্যুর পরে অনন্ত জীবন > 📄 দু'টি বিরোধপূর্ণ বিশ্বাস ও তার দু'টি বিরোধ পূর্ণ প্রতিফল

📄 দু'টি বিরোধপূর্ণ বিশ্বাস ও তার দু'টি বিরোধ পূর্ণ প্রতিফল


মাসআলা-৪০৬: পৃথিবীতে সুখ-শান্তি ও নিআমত পেয়ে আনন্দে বসবাসকারী কাফির পৃথিবীতে ঈমানদারদের সাধারণ জীবন যাপন দেখে হাসত এবং বিদ্রুপ করতো, পরকালে ঈমানদাররা জান্নাতের নিয়ামত ও আনন্দে জীবন যাপন করবে এবং কাফিরদের দুরবস্থা দেখে হাসবে এবং তাদেরকে বিদ্রুপ করবে:
إِنَّ الَّذِينَ أَجْرَمُوا كَانُواْ مِنَ الَّذِينَ آمَنُوا يَضْحَكُونَ وَإِذَا مَرُّوا بِهِمْ يَتَغَامَزُونَ - وَإِذَا انقَلَبُوا إِلَى أَهْلِهِمُ انْقَلَبُوا فَكِهِينَ - وَإِذَا رَأَوْهُمْ قَالُوا إِنَّ هَؤُلاءِ لَضَالُّونَ . وَمَا أُرْسِلُوا عَلَيْهِمْ حَافِظِينَ - فَالْيَوْمَ الَّذِينَ آمَنُواْ مِنَ الْكُفَّارِ يَضْحَكُونَ - عَلَى الْأَرَائِكِ يَنظُرُونَ - هَلْ ثُوبَ الْكُفَّارُ مَا كَانُوا يَفْعَلُونَ
অর্থ: নিশ্চয় যারা অপরাধ করেছে তারা মু'মিনদেরকে নিয়ে হাসতো। আর যখন তারা মু'মিনদের পাশ দিয়ে যেত তখন তারা তাদেরকে নিয়ে চোখ টিপে বিদ্রূপ করতো। আর যখন তারা পরিবার-পরিজনের কাছে ফিরে আসতো তখন তারা উৎফুল্ল হয়ে ফিরে আসতো। আর যখন তারা মু'মিনদেরকে দেখত তখন বলতো, 'নিশ্চয় এরা পথভ্রষ্ট'। আর তাদেরকে তো মু'মিনদের হিফাযতকারী হিসেবে পাঠানো হয়নি। অতএব আজ মু'মিনরাই কাফিরদেরকে নিয়ে হাসবে। উচ্চ আসনে বসে তারা দেখতে থাকবে। কাফিরদেরকে তাদের কৃতকর্মের প্রতিদান দেয়া হলো তো? (সূরা মুতাফফিফীন ৮৩:২৯-৩৬)

📘 মৃত্যুর পরে অনন্ত জীবন > 📄 পৃথিবীতে জান্নাতের কিছু নিয়ামত

📄 পৃথিবীতে জান্নাতের কিছু নিয়ামত


মাসআলা-৪০৭: হাজরে আসওয়াদ (কাল পাথর) জান্নাতের পাথর সমূহের মধ্যে একটি পাথর:
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِىَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : «نَزَلَ الْحَجَرُ الْأَسْوَدُ مِنَ الْجَنَّةِ، وَهُوَ أَشَدُّ بَيَاضًا مِنَ اللَّيْنِ فَسَوَّدَتْهُ خَطَايَا بَنِي آدَمَ »
অর্থ: "আবদুল্লাহ বিন আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ বলেছেন: হাজরে আসওয়াদ জান্নাত থেকে আনিত পাথর, যা দুধ থেকেও সাদা ছিল, কিন্তু মানুষের পাপ তাকে কাল করে দিয়েছে।" (তিরমিযী ৩/৮৭৭)১৯০

মাসআলা-৪০৮: আজওয়া খেজুর (এক প্রকার উন্নত মানের খেজুরের নাম) জান্নাতী ফল:
মাসআলা-৪০৯: মাকামে ইবরাহীম জান্নাতের পাথর:
মাসআলা-৪১০: যাইতুন জান্নাতের একটি গাছ:
عن رَافِعَ بْنَ عَمْرِو ﷺ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْعَجْوَةُ وَالصَّخْرَةُ وَالشَّجَرَةُ مِنَ الْجَنَّةِ»
অর্থ: "রাফে' বিন আমর (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ বলেছেন: আজওয়া খেজুর, পাথর (মাকামে ইবরাহীম) এবং (বৃক্ষ) যাইতুন গাছ জান্নাত থেকে আনিত।" (হাকেম) ১৯১

মাসআলা-৪১১: রাসূলুল্লাহ -এর হুজরা ও মিম্বরের মধ্যবর্তীস্থান জান্নাতের একটি অংশ:
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «مَا بَيْنَ بَيْتِي وَمِنْبَرِي رَوْضَةً مِنْ رِيَاضِ الْجَنَّةِ، وَمِنْبَرِي عَلَى حَوْضِي»
অর্থ: "আবু হুরাইরা (রা) নবী থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার হুজরা ও মিম্ববরের মধ্যবর্তীস্থান জান্নাতের বাগানসমূহের মধ্যে একটি বাগান, আর আমার মিম্বর আমার হাউজের ওপর।" (বুখারী ২/১১৯৬) ১৯২

মাসআলা-৪১২: মেহেদী জান্নাতের সুগন্ধিসমূহের মধ্যে একটি সুগন্ধি:
عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرٍو رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سَيِّدُ رَيْحَانِ أَهْلِ الْجَنَّةِ الحَناء.
অর্থ: "আবদুল্লাহ বিন আমর (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ বলেছেন: জান্নাতীদের জন্য সুঘ্রাণসমূহের মধ্যে স্রেষ্ট সুঘ্রাণ হবে মেহেদীর সুঘ্রাণ।” (ত্বারাবানী) ১৯৩

মাসআলা-৪১৩: বকরী জান্নাতের প্রাণীসমূহের মধ্যে একটি প্রাণী:
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ اللهِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : «الْغَنَمُ مِنْ دَوَاتِ الْجَنَّةِ، فَامْسَحُوا رُغَامَهَا، وَصَلَّوْا فِي مَرَا بِضِهَا»
অর্থ: "আবু হুরায়রাহ (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ বলেছেন: বকরী জান্নাতের প্রাণীসমূহের মধ্যে একটি প্রাণী, তার থাকার স্থান থেকে তার পায়খানা ও পেশাব পরিষ্কার করো এবং সেখানে নামায আদায় করো।" (বাইহাকী) ১৯৪

মাসআলা-৪১৩: বুতহান উপত্যকা জান্নাতের উপত্যকা সমূহের মধ্যে একটি উপত্যকা:
عَنْ عَائِشَةَ اللهِ قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : «بُطْحَانٌ عَلَى بَرَكَةِ مِنْ بَرَكِ الْجَنَّةِ»
অর্থ: "আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ বলেছেন: বুতহান জান্নাতের উপত্যকা সমূহের মধ্যে একটি উপত্যকা।” (বাযযার)১৯৫

নোট: বুতহান মদীনার নিটকবর্তী স্থান কুবার পার্শ্বস্থ একটি উপত্যকা।

টিকাঃ
১৯০ আবওয়াবুল জান্না, বাব ফযল হাজরিল আসওয়াদ (১/৬৯৫)
১৯১ তাহকীক মোস্তফা আবদুল কাদের, দারুল কুতুব আর ইলমিয়্যা, বাইরুত। (৪/২২৬)
১৯২ কিতাবুসসালা ফি মাসজিদি মাক্কা ওয়া মাদীন।
১৯৩ সিলসিলা আহাদীস আসসাহীহা লি আলবানী খ. ৩, হাদীস নং-১৪২০।
১৯৪ সিলসিলা আহাদীস আসসাহীহা লি আলবানী খ. ৩, হাদীস নং-১১২৮।
১৯৫ সিলসিলা আহাদীস আসসাহীহা লিআলবানী খ. ৩, হাদীস নং-৭৬৯।

📘 মৃত্যুর পরে অনন্ত জীবন > 📄 অন্যান্য মাসআলা

📄 অন্যান্য মাসআলা


মাসআলা-৮১৬: শুধু আল্লাহর দয়া ও অনুগ্রহেই জান্নাতে প্রবেশ সম্ভব:
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ اللَّهِ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «مَا مِنْ أَحَدٍ يُدْخِلُهُ عَمَلُهُ الْجَنَّةَ فَقِيلَ : وَلَا أَنْتَ؟ يَا رَسُولَ اللَّهِ ﷺ قَالَ: «وَلَا أَنَا. إِلَّا أَنْ يَتَغَمَّدَنِي رَبِّي بِرَحْمَتِهِ»
অর্থ: "আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: নবী বলেছেন: কোনো ব্যক্তি তার আমলের বিনিময়ে জান্নাতে যেতে পারবে না। জিজ্ঞেস করা হলো ইয়া রাসূলুল্লাহ! আপনি? তিনি বললেন: হ্যাঁ আমিও। তবে আমার প্রভু আমাকে স্বীয় রহমত দ্বারা ঢেকে নিবেন। (মুসলিম ৪/২৮১৬)২০০
মাসআলা-৪১৭: যে ব্যক্তি আল্লাহর নিকট তিনবার জান্নাত লাভের জন্য দুয়া করে তার জন্য জান্নাত সুপারিশ করে:
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ اللهِ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : " مَنْ سَأَلَ اللهَ الْجَنَّةَ ثَلَاثَ مَرَّاتٍ قَالَتِ الْجَنَّةُ: اللَّهُمَّ أَدْخِلْهُ الْجَنَّةَ، وَمَنْ اسْتَجَارَ مِنَ النَّارِ ثَلَاثَ مَرَّاتٍ قَالَتِ النَّارُ : اللَّهُمَّ أَجِرْهُ مِنَ النَّارِ
অর্থ: "আনাস বিন মালেক (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ বলেছেন: যে ব্যক্তি তিন বার আল্লাহর নিকট জান্নাত কামনা করবে, জান্নাত তার জন্য বলে হে আল্লাহ! তুমি তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাও। আর যে ব্যক্তি তিনবার আল্লাহর নিকট জাহান্নাম থেকে মুক্তি কামনা করে, জাহান্নাম তার জন্য বলে হে আল্লাহ তুমি তাকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দাও।” (তিরমিযী ৪/২৫৭২)২০১
মাসআলা-৪১৮: আল্লাহর পথে হিজরতকারী ফকীর মিসকীনরা ধনীদের চাইতে পাঁচশত বছর পূর্বে জান্নাতে যাবে:
عَنْ أَبِي سَعِيدٍ اللَّهِ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «فُقَرَاءُ الْمُهَاجِرِينَ يَدْخُلُونَ الْجَنَّةَ قَبْلَ أَغْنِيَائِهِمْ بِخَمْسِ مِائَةِ سَنَةٍ»
অর্থ: "আবু সাঈদ (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: গরীব মুহাজিররা (হিজরতকারী) ধনীদের চেয়ে পাঁচশত বছর পূর্বে জান্নাত যাবে।” (তিরমিযী ৪/২৩৫১) ২০২
মাসআলা-৪১৯: প্রত্যেক মানুষের জন্য জান্নাত ও জাহান্নামে জায়গা থাকে কিন্তু যখন একজন লোক জাহান্নামে চলে যায় তখন জান্নাতে তার স্থান টুকু জান্নাতীদেরকে দিয়ে দেয়া হয়:
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضى الله عنه قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : " مَا مِنْكُمْ مِنْ أَحَدٍ إِلَّا لَهُ مَنْزِلَانِ: مَنْزِلَ فِي الْجَنَّةِ، وَمَنْزِلُ فِي النَّارِ، فَإِذَا مَاتَ، فَدَخَلَ النَّارَ، وَرِثَ أَهْلُ الْجَنَّةِ مَنْزِلَهُ، فَذَلِكَ قَوْلُهُ تَعَالَى: {أُولَئِكَ هُمُ الْوَارِثُونَ}
অর্থ: "আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: তোমাদের মাঝে এমন কোনো ব্যক্তি নেই যার জন্য দু'টি স্থান নেই। একটি জান্নাতে অপরটি জাহান্নামে, কিন্তু মৃত্যুর পর যখন কোনো ব্যক্তি জাহান্নামে চলে যায় তখন জান্নাতীরা জান্নাতে তার স্থানটির অধিকারী হয়ে যায়। আর আল্লাহর বাণী:
أُوْلَئِكَ هُمُ الْوَارِثُونَ
অর্থ: "তারাই হবে উত্তরাধিকারী" (সূরা মু'মিনীন: ১০) (ইবনে মাজা ২/৪৩৪১)২০৩
মাসআলা-৪২০: নবী ﷺ-এর সুপারিশে জাহান্নাম থেকে মুক্তি পেয়ে জান্নাতে প্রবেশকারীকে জান্নাতীরা 'জাহান্নামী' বলে ডাকবে:
عَنِ عِمْرَانُ بْنُ حُصَيْنٍ رضى الله عنه عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «يَخْرُجُ قَوْمٌ مِنَ النَّارِ بِشَفَاعَةِ مُحَمَّدٍ ﷺ فَيَدْخُلُونَ الْجَنَّةَ وَيُسَمَّوْنَ الْجَهَنَّبِيِّينَ»
অর্থ: “ইমরান বিন হুসাইন (রা) থেকে বর্ণিত তিনি নবী থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: কিছু লোক মুহাম্মাদ -এর সুপারিশ ক্রমে জাহান্নাম থেকে বের হবে এবং জান্নাতে প্রবেশ করবে, লোকেরা (তখনো) তাদেরকে ‘জাহান্নামী’ বলে ডাকবে।” (আবু দাউদ ৪/৪৭৪০) ২০৪
নোট: তাদেরকে আঘাত করার জন্য ‘জাহান্নামী’ বলা হবে না, বরং তাদের প্রতি আল্লাহর দয়া ও অনুগ্রহের কথা স্মরণ করানো জন্য তাদেরকে এভাবে ডাকা হবে যাতে করে তারা বেশি বেশি করে আল্লাহর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে।
মাসআলা-৪২১: জান্নাতী ব্যক্তির রুহ কিয়ামতের পূর্বে জান্নাতে পৌছে যায়:
عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ كَعْبٍ الْأَنْصَارِيِّ ﷺ أَنَّهُ أَخْبَرَهُ، أَنَّ أَبَاهُ كَانَ يُحَدِّثُ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: «إِنَّمَا نَسَمَةُ الْمُؤْمِنِ طَائِرُ يَعْلُقُ فِي شَجَرِةِ الْجَنَّةِ، حَتَّى يَرْجِعَ إِلَى جَسَدِهِ يَوْمَ يُبْعَثُ»
অর্থ: “আবদুর রহমান বিন কা’ব আনসারী (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: তার পিতা রাসূলুল্লাহ থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন তিনি বলেন: মু’মিন ব্যক্তির রূহ মৃত্যুর পর জান্নাতের বৃক্ষসমূহে উড়ে বেড়ায়। ঐ দিন পর্যন্ত যে দিন মানুষের পুনরুত্থান হবে সেদিন তা তাদের শরীরে ফেরত পাঠানো হবে।” (ইবনে মাজাহ ২/৪২৭১) ২০৫
মাসআলা-৪২২: মু’মিনরা সর্বদা আল্লাহর রহমতের আশাবাদী এবং তাঁর আযাবের ভয়ে ভিত থাকতে হবে:
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: فَلَوْ يَعْلَمُ الكَافِرُ بِكُلِّ الَّذِي عِنْدَ اللَّهِ مِنَ الرَّحْمَةِ لَمْ يَيْنَسُ مِنَ الْجَنَّةِ، وَلَوْ يَعْلَمُ الْمُؤْمِنُ بِكُلِ الَّذِي عِنْدَ اللَّهِ مِنَ الْعَذَابِ لَمْ يَأْمَنْ مِنَ النَّارِ
অর্থ: "আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ বলেছেন: যদি কাফির জানত যে আল্লাহর দয়া কত বড় তাহলে সে জান্নাত থেকে নিরাশ হতো না। আর যদি মু'মিন জানতো যে আল্লাহর শাস্তি কত কঠিন তাহলে সে জাহান্নাম থেকে নির্ভয় হত না।" (বুখারী ৮/৬৪৬৯) ২০৬
عَنْ أَنَسِ لا دَخَلَ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى شَاتٍ وَهُوَ فِي بِالْمَوْتِ. فَقَالَ: «كَيْفَ تَجِدُكَ؟» ، قَالَ: وَاللَّهِ يَا رَسُولَ اللَّهِ لا إِنِّي أَرْجُو اللَّهَ، وَإِنِّي أَخَافُ ذُنُوبِي، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : «لَا يَجْتَمِعَانِ فِي قَلْبِ عَبْدٍ فِي مِثْلِ هَذَا الْمَوْطِنِ إِلَّا أَعْطَاهُ اللَّهُ مَا يَرْجُو وَآمَنَهُ مِمَّا يَخَافُ»
অর্থ: "আনাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: নবী (সা) মৃত্যুশয্যায় শায়িত এক অসুস্থ যুবকের নিকট গেলেন এবং তাকে জিজ্ঞেস করলেন: তোমার কেমন লাগছে? সে বলরো হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহর কসম! আমার ভয়ও হচ্ছে আবার আল্লাহর রহমতেরও আশা করছি। রাসূলুল্লাহ বললেন: এ মুহূর্তে যদি কোনো অন্তরে ভয় ও আশার সংমিশ্রণ ঘটে তাহলে আল্লাহ তার কামনা অনুযায়ী বান্দার প্রতি দয়া ও অনুগ্রহ করেন। আর তার ভয় অনুযায়ী তাকে হেফাজত ও নিরাপত্তা দেন।” (তিরমিযী ৩/৯৮৩)২০৭
মাসআলা-৪২৩: মৃত্যুবরণকারী মুশরিকদের অপ্রাপ্ত বয়স্ক বাচ্চাদের ব্যাপারে আল্লাহই ভাল জানেন:
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا، قَالَ: سُئِلَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ أَوْلَادِ الْمُشْرِكِينَ، فَقَالَ: «اللَّهُ إِذْ خَلَقَهُمْ أَعْلَمُ بِمَا كَانُوا عَامِلِينَ
অর্থ: "আবদুল্লাহ বিন আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ বলেছেন: মৃত্যুবরণকারী মুশরিকদের অপ্রাপ্ত বয়স্ক শিশুদের সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বললেন: আল্লাহ ভাল করে জানেন যে তারা বড় হয়ে কি আমল করতো)" (বুখারী ২/১৩৮৩) ২০৮
মাসআলা-৪২৪: মৃত্যুবরণকারী মুসলমানদের অপ্রাপ্ত বয়স্ক বাচ্চাদেরকে জান্নাতে ইবরাহিম ও সারা (আ) লালন-পালন করবেন:
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَطْفَالُ الْمُسْلِمِينَ فِي جَبَلٍ فِي الْجَنَّةِ يَكْفُلُهُمْ إِبْرَاهِيمُ وَسَارَةُ عَلَيْهِمَا السَّلَامُ حَتَّى يَدْفَعُوهُمْ إِلَى آبَائِهِمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ»
অর্থ: "আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ বলেছেন: মুসলমানদের মৃত্যুবরণকারী অপ্রাপ্ত বয়স্ক বাচ্চাদেরকে জান্নাতের একটি পাহাড়ে ইবরাহিম ও সারা (আ) লালন-পালন করতে থাকবেন এর পর কিয়ামতের দিন তাদেরকে তাদের পিতা-মাতার নিকট হস্তান্তর করবে।" (ইবনে আসাকের) ২০৯
মাসআলা-৪২৫: জান্নাত ও তার নিআমত সমূহ আল্লাহর দয়া ও অনুগ্রহের নিদর্শন:
মাসআলা-৪২৬: জাহান্নাম ও তার কষ্ট আল্লাহর শাস্তির নিদর্শন:
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: " تَحَاجَّتِ النَّارُ وَالْجَنَّةُ، فَقَالَتِ النَّارُ: أُورِثْتُ بِالْمُتَكَبِرِينَ، وَالْمُتَجَبْرِينَ، وَقَالَتِ الْجَنَّةُ: فَمَا لِي لَا يَدْخُلُنِي إِلَّا ضُعَفَاءُ النَّاسِ، وَسَقَطُهُمْ، وَعَجَزُهُمْ، فَقَالَ اللَّهُ لِلْجَنَّةِ: أَنْتِ رَحْمَتِي أَرْحَمُ بِكِ مَنْ أَشَاءُ مِنْ عِبَادِي، وَقَالَ لِلنَّارِ : أَنْتِ عَذَابِي أُعَذِّبُ بِكِ مَنْ أَشَاءُ مِنْ عِبَادِي، وَلِكُلِّ وَاحِدَةٍ مِنْكُمْ مِلْؤُهَا، فَأَمَّا النَّارُ فَلَا تَمْتَلِيُّ. فَيَضَعُ قَدَمَهُ عَلَيْهَا ، فَتَقُولُ: قَدْ قَدْ فَهُنَالِكَ تَمْتَلِئُ وَيُزْوَى بَعْضُهَا إِلَى بَعْضٍ "
অর্থ: "আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি নবী থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: জান্নাত ও জাহান্নাম পরস্পরে আলোচনা করলো যে, জাহান্নাম বললো: আমার মাঝে অহংকারী ও অত্যাচারীরা প্রবেশ করবে, জান্নাত বললো: আমার মাঝে শুধু দুর্বল ও অক্ষম লোকেরাই আসবে। তখন আল্লাহ জান্নাতকে বললেন: তুমি আমার রহমত, আমি আমার বান্দাদের মধ্য থেকে যাকে খুশি তাকে তোমার মাধ্যমে দয়া করবো। আর জাহান্নামকে বললেন: তুমি আমার শাস্তি আমি আমার বান্দাদের মাঝে যাকে খুশি তাকে তোমার মাধ্যমে শাস্তি দিব এবং তুমি ভরপুর হয়ে যাবে। রাসূলুল্লাহ বললেন: জাহান্নাম তো মানুষের দ্বারা ভরপুর হবে না। তবে আল্লাহ তার মধ্যে স্বীয় পা প্রবেশ করাবেন, তখন সে বলবে যথেষ্ট হয়েছে, যথেষ্ট হয়েছে, তখন তা ভরপুর হয়ে যাবে। তার এক অংশ আরেক অংশের সাথে একাকার হয়ে যাবে।" (মুসলিম ৪/২৮৪৬) ২১০
মাসআলা-৪২৭: প্রত্যেক জান্নাতী জান্নাতে তার ঠিকানা পৃথিবীতে তার বাসস্থানের চেয়ে বেশি চিনবে:
মাসআলা-৪২৮: জান্নাতে প্রবেশের পূর্বে প্রত্যেককে একে অপরের অধিকার আদায় করতে হবে:
عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: " إِذَا خَلَصَ الْمُؤْمِنُونَ مِنَ النَّارِ حُبِسُوا بِقَنْطَرَةٍ بَيْنَ الْجَنَّةِ وَالنَّارِ، فَيَتَقَاصُونَ مَظَالِمَ كَانَتْ بَيْنَهُمْ فِي الدُّنْيَا حَتَّى إِذَا نُقُوا وَهُذِبُوا أُذِنَ لَهُمْ بِدُخُولِ الْجَنَّةِ، فَوَالَّذِي نَفْسُ مُحَمَّدٍ بِيَدِهِ، لَأَحَدُهُمْ بِمَسْكَنِهِ فِي الجَنَّةِ أَدَلُّ بِمَنْزِلِهِ كَانَ فِي الدُّنْيَا.
অর্থ: "আবু সাঈদ খুদরী (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ বলেছেন: যখন ঈমানদাররা জাহান্নামের ওপর বাধা পুলসিরাত অতিক্রম করে যাবে তখন জান্নাত এবং জাহান্নামের মাঝে এক পুলের ওপর তাদেরকে আটকিয়ে দেয়া হবে, পৃথিবীতে একে অপরের ওপর যে যুলুম করেছে তখন তার বদলা পরস্পর পরস্পরের কাছ থেকে নিবে। (এভাবে) যখন সমস্ত ঈমানদাররা পাক পবিত্র হয়ে যাবে, তখন তাদেরকে জান্নাতে প্রবেশের অনুমতি দেয়া হবে। ঐ সত্তার কসম যার হাতে আমার প্রাণ! প্রত্যেক জান্নাতী জান্নাতে তার ঠিকানাকে পৃথিবীতে তার ঠিকানার চেয়ে বেশি চিনবে।" (বুখারী ৩/২৪৪০) ২১১
মাসআলা-৪২৯: মৃত্যুকে যবাই করার দৃশ্য:
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: إِذَا أَدْخَلَ اللَّهُ أَهْلَ الْجَنَّةِ الْجَنَّةَ وَأَهْلَ النَّارِ النَّارَ، قَالَ: أُتِيَ بِالْمَوْتِ مُلَبِّيًا، فَيُوقَفُ عَلَى السُّورِ الَّذِي بَيْنَ أَهْلِ الْجَنَّةِ وَأَهْلِ النَّارِ، ثُمَّ يُقَالُ: يَا أَهْلَ الْجَنَّةِ. فَيَطَّلِعُونَ خَائِفِينَ، ثُمَّ يُقَالُ: يَا أَهْلَ النَّارِ، فَيَطَّلِعُونَ مُسْتَبْشِرِينَ يَرْجُونَ الشَّفَاعَةَ، فَيُقَالُ لِأَهْلِ الْجَنَّةِ وَأَهْلِ النَّارِ : هَلْ تَعْرِفُونَ هَذَا؟ فَيَقُولُونَ هَؤُلَاءِ وَهَؤُلَاءِ : قَدْ عَرَفْنَاهُ، هُوَ الْمَوْتُ الَّذِي وُكِّلَ بِنَا، فَيُضْجَعُ فَيُذْبَحُ ذَبْحًا عَلَى السُّورِ ثُمَّ يُقَالُ: يَا أَهْلَ الْجَنَّةِ خُلُودٌ لَا مَوْتَ، وَيَا أَهْلَ النَّارِ خُلُودُ لَا مَوْتَ "
অর্থ: "আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ বলেছেন: যখন আল্লাহ জান্নাতীদেরকে জান্নাতে এবং জাহান্নামীদেরকে জাহান্নামে প্রবেশ করাবেন, তখন মৃত্যুকে টেনে আনা হবে এবং একটি দেয়ালের ওপর রাখা হবে, যা জান্নাত ও জাহান্নামীদের মাঝে থাকবে। অতপর বলা হবে হে জান্নাতবাসী! তারা ভয়ে ভিত হয়ে তাকাবে, অতপর বলা হবে হে জাহান্নাম বাসীরা! তারা আনন্দিত হয়ে তাকাবে। তারা সুপারিশের আশা করবে, এরপর জান্নাত ও জাহান্নামের অধিবাসীদেরকে সম্বোধন করে বলা হবে, তোমরা কি একে চিন? জান্নাত ও জাহান্নামের অধিবাসীরা বলবে হ্যাঁ আমরা চিনি। এ হলো মৃত্যু যা পৃথিবীতে আমাদের ওপর চাপিয়ে দেয়া হয়েছিল, তখন তাকে দেয়ালে রেখে জবাই করে দেয়া হবে, এরপর বলা হবে হে জান্নাতবাসীরা! আজকের পর আর মৃত্যু নেই চিরস্থায়ী ভাবে জান্নাতে থাকবে। আর হে জাহান্নামীরা! আজকের পর আর মৃত্যু নেই চিরস্থায়ীভাবে জাহান্নামে থাক।” (তিরমিযী ৪/২৫৫৭)
মাসআলা-৪৩০: যে ব্যক্তির অন্তরে বিন্দু পরিমাণে ঈমান থাকবে পরিশেষে আল্লাহ স্বীয় দয়া ও অনুগ্রহে তাকেও জাহান্নাম থেকে বের করে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন:
عَنْ أَنَسُ بْنُ مَالِكٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: " يَخْرُجُ مِنَ النَّارِ مِنْ قَالَ: لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَكَانَ فِي قَلْبِهِ مِنَ الْخَيْرِ مَا يَزِنُ شَعِيرَةً، ثُمَّ يَخْرُجُ مِنَ النَّارِ مِنْ قَالَ: لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَكَانَ فِي قَلْبِهِ مِنَ الْخَيْرِ مَا يَزِنُ بُرَّةً، ثُمَّ يَخْرُجُ مِنَ النَّارِ مِنْ قَالَ: لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَكَانَ فِي قَلْبِهِ مِنَ الْخَيْرِ مَا يَزِنُ ذَرَّةً
অর্থ: "আনাস বিন মালেক (রা) থেকে বর্ণিত, নবী বলেছেন: যে ব্যক্তি লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলেছে, আর তার অন্তরে বিন্দু পরিমাণ ঈমান আছে সেও জাহান্নাম থেকে মুক্তি পাবে। (এবং জান্নাতে প্রবেশ করবে) আবার যে ব্যক্তি লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলেছে আর তার অন্তরে বিন্দু পরিমাণ ঈমান আছে সেও জাহান্নাম থেকে মুক্তি পাবে।" (মুসলিম ১/১৯৩) ২১২

টিকাঃ
২০৬ কিতাবুর রিকাক, বাব আর রাজা মায়াল খাওফ।
২০৭ সহীহ জামে আত তিরমিযী, লি আলবানী, খ. ১ম হাদীস নং-৭৮৫।
২০৮ মোখতাসার সহীহ আল বুখারী, লি যুবাইদী, হাদীস নং-৬৯৬।
২০৯ সিলসিলাতুল আহাদিস আস সহীহা লি আলবানী, খ. ১ম, হাদীস নং-১৪৬৭।
২১০ কিতাবুল জান্না ওয়া সিফাতু নায়ীমিহা।
২১১ কিতাবুল মাযালেম, বাব কিসাসুল মাযালেম।
২১২ কিতাবুল ঈমান, বাব ইসবাতুসসাফায়া ওয়া ইখরাজুল মুয়াহহেদীন মিনান্নার।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00