📄 প্রাথমিকভাবে জান্নাত থেকে বঞ্চিত লোকেরা
মাসআলা-৩৮৩: মিথ্যা কসম করে অন্যের হক নষ্টকারী জান্নাতে যাবে না:
عَنْ أَبِي أُمَامَةَ هِ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «مَنِ اقْتَطَعَ حَقَّ امْرِئٍ مُسْلِمٍ بِيَمِينِهِ، فَقَدْ أَوْجَبَ اللَّهُ لَهُ النَّارَ، وَحَرَّمَ عَلَيْهِ الْجَنَّةَ» فَقَالَ لَهُ رَجُلٌ : وَإِنْ كَانَ شَيْئًا يَسِيرًا يَا رَسُولَ اللَّهِ؟ قَالَ: «وَإِنْ قَضِيبًا مِنْ أَرَاكِ»
অর্থ: "আবু উমামা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ বলেছেন: যে ব্যক্তি মিথ্যা কসম করে কোনো ব্যক্তির হক নষ্ট করলো, আল্লাহ তার জন্য জাহান্নাম ওয়াজিব করেছেন এবং জান্নাত হারাম করেছেন, এক ব্যক্তি বললো: ইয়া রাসূলুল্লাহ যদিও সাধারণ কোনো বিষয় হয়? তিনি বললেন: যদিও কোনো ডালের একটি শাখাই হোক না কেন।” (মুসলিম ১/১৩৭)১৭২
মাসআলা-৩৮৪: হারামাভাবে সম্পদ উপার্জন ও ভক্ষণকারী জান্নাতে যাবে না:
عَنْ أَبِي بَكْرِ الصِّدِيقِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «لَا يَدْخُلُ الْجَنَّةَ جَسَدٌ غُذِيَ بِحَرَامٍ »
অর্থ: "আবু বকর (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ বলেছেন: যে শরীর হারাম খাদ্য দিয়ে লালিত হয়েছে তা জান্নাতে যাবে না।” (বাইহাকী ১/৮৩) ১৭৩
মাসআলা-৩৮৫: পিতা-মাতার অবাধ্য, দাইউস, পুরুষের সাদৃশ্য অবলম্বনকারী মহিলা জান্নাতে যাবে না:
عَنْ بْنِ عُمَرَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : " ثَلَاثَةٌ لَا يَدْخُلُونَ الْجَنَّةَ: الْعَاقُ لِوَالِدَيْهِ، وَالدَّيُّوتُ، وَرَجُلَةُ النِّسَاءِ "
অর্থ: "ইবনে ওমর (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ বলেছেন: তিন ব্যক্তি জান্নাতে যাবে না, পিতা-মাতার অবাধ্য, দাইউস ও পুরুষের সাদৃশ্য অবলম্বনকারী মহিলা।” (হাকেম) ১৭৪
মাসআলা-৩৮৬: আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারী জান্নাতে যাবে না:
عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ جُبَيْرِ بْنِ مُطْعِمٍ عَنْ أَبِيهِ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : «لَا يَدْخُلُ الْجَنَّةَ قَاطِع»
অর্থ: "মুহাম্মদ বিন জুবাইর বিন মুতয়িম (রা) তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ বলেছেন: আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারী জান্নাতে যাবে না।” (তিরমিযী ৩/১৯০৯) ১৭৫
মাসআলা-৩৮৭: স্বীয় অধিনস্তদেরকে প্রতারণাকারী বিচারক জান্নাতে যাবে না:
عَنِ مَعْقِلَ بْنَ يَسَارٍ قَالَ سَمِعْتُهُ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، فَقَالَ: «مَا مِنْ وَالٍ يَلِي رَعِيَّةً مِنَ الْمُسْلِمِينَ، فَيَمُوتُ وَهُوَ غَالٌّ لَهُمْ ، إِلَّا حَرَّمَ اللَّهُ عَلَيْهِ الْجَنَّةَ»
অর্থ: "মা'কাল বিন ইয়াসার (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী- কে বলতে শুনেছি তিনি বলেন: মুসলমানদের ওপর প্রতিনিধিত্বকারী শাসক, যদি এ অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে যে, সে তার অধিনস্তদেরকে ধোঁকা দিয়েছে তাহলে আল্লাহ তার জন্য জান্নাত হারাম করেছেন।” (বুখারী ৯/৭১৫১)১৭৬
মাসআলা-৩৮৮: উপকার করে খোঁটা দেয়, পিতা-মাতার অবাধ্য, সর্বদা মদ পানকারী জান্নাতে যাবে না:
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو هِ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «لَا يَدْخُلُ الْجَنَّةَ مَنَانٌ، وَلَا عَاقٌ، وَلَا مُدْمِنْ خَمْرٍ »
অর্থ: "আবদুল্লাহ বিন আমর (রা) নবী থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: উপকার করে খোঁটা দেয়, পিতা-মাতার অবাধ্য, সর্বদা মদ পান করে এমন ব্যক্তি জান্নাতে যাবে না।” (নাসায়ী ৮/৫৬৭২)১৭৭
মাসআলা-৩৮৯: প্রতিবেশীকে কষ্ট দাতা জান্নাত থেকে বঞ্চিত হবে:
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ هِ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «لَا يَدْخُلُ الْجَنَّةَ مَنْ لَا يَأْمَنُ جَارُهُ بَوَائِقَهُ»
অর্থ: "আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ বলেছেন: যার অত্যাচার থেকে তার প্রতিবেশীরা নিরাপদ নয় সে জান্নাতে প্রবেশ করবে না।” (মুসলিম ১/৪৬)১৭৮
মাসআলা-৩৯০: অশ্লীল ভাষী ও বদ মেজাজী লোক জান্নাতে যাবে না:
عَنْ حَارِثَةَ ابْنِ وَهْبٍ ﷺ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : «لَا يَدْخُلُ الْجَنَّةَ الْجَوَاظُ وَلَا الْجَعْظَرِيُّ»
অর্থ: "হারেসা বিন ওহাব (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ বলেছেন: অশ্লীল ভাষী ও বদ মেজাজী লোক জান্নাতে যাবে না।" (আবু দাউদ ৪/৪৮০১)১৭৯
মাসআলা-৩৯১: অহংকারী জান্নাতে প্রবেশ করবে না:
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ هِ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «لَا يَدْخُلُ الْجَنَّةَ مَنْ كَانَ فِي قَلْبِهِ مِثْقَالُ ذَرَّةٍ مِنْ كِبْرٍ»
অর্থ: "আবদুল্লাহ বিন মাসউদ (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলূল্লাহ বলেছেন: যার অন্তরে বিন্দু পরিমাণ অহংকার আছে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে না।” (মুসলিম ১/৯১)১৮০
মাসআলা-৩৯২: চোগলখোর জান্নাতে যাবে না:
عَنْ حُذَيْفَةَ اللهِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَا يَدْخُلُ الْجَنَّةَ فَتَاتُ»
অর্থ: "হুযাইফা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ বলেছেন: চোগলখোর জান্নাতে প্রবেশ করবে না।" (আবু দাউদ ৪/৪৮৭১)১৮১
নোট: কোনো কোনো হাদীসে নাম্মাম শব্দ এসেছে। উভয় শব্দের অর্থ একই।
মাসআলা-৩৯৩: জেনে বুঝে নিজেকে অন্য পিতার প্রতি সম্পর্ক কারী জান্নাতে প্রবেশ করবে না:
عَنْ سَعْدٍ بْنِ أَبِي وَقَاصِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ، قَالَ سَمِعْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، يَقُولُ: «مَنِ ادَّعَى إِلَى غَيْرِ أَبِيهِ، وَهُوَ يَعْلَمُ أَنَّهُ غَيْرُ أَبِيهِ، فَالْجَنَّةُ عَلَيْهِ حَرَامٌ »
অর্থ: "সা'দ বিন আবু ওক্কাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি নবী-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: যে ব্যক্তি জেনে বুঝে নিজেকে অন্য পিতার প্রতি সম্পর্ক করে তার জন্য জান্নাত হারাম।" (বুখারী ৮/৬৭৬৬)১৮২
মাসআলা-৩৯৪: বিনা কারণে তালাক দাবীকারী মহিলা জান্নাতে প্রবেশ করবে না:
عَنْ ثَوْبَانَ اللهُ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «أَيُّمَا امْرَأَةٍ سَأَلَتْ زَوْجَهَا طَلَاقًا مِنْ غَيْرِ بَأْسٍ فَحَرَامٌ عَلَيْهَا رَائِحَةُ الْجَنَّةِ»
অর্থ: "সাওবান (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ বলেছেন: যে মহিলা তার স্বামীর নিকট বিনা কারণে তালাক দাবী করে সে জান্নাতের সুঘ্রাণও পাবে না।” (তিরমিযী ৩/১১৮৭, ইবনে মাজাহ)১৮৩
মাসআলা-৩৯৫: কালো রংয়ের কলপ ব্যবহারকারী জান্নাতে প্রবেশ করবে না:
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ ই قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : «يَكُونُ قَوْمٌ يَخْضِبُونَ فِي آخِرِ الزَّمَانِ بِالسَّوَادِ، كَحَوَاصِلِ الْحَمَامِ ، لَا يَرِيحُونَ رَائِحَةَ الْجَنَّةِ»
অর্থ: "আবদুল্লাহ বিন আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ বলেছেন: শেষ যামানায় কিছু লোক কবুতরের পায়খানার ন্যায় কালো কলপ ব্যবহার করবে, তারা জান্নাতের সুঘ্রাণও পাবে না।" (আবু দাউদ ৪/৪২১২) ১৮৪
টিকাঃ
১৭২ কিতাবুল ঈমান, বাব ওয়ায়ীদ মান ইকতাতায়া হাক্কুমুসলিম বিয়ামীনিহি।
১৭৩ মিশকাতুল মাসাবীহ, লি আলবানী, কিতাবুল বুয়ু, বাব কাসব ওয়া তালাবুল হালাল (২/২৭৮৭)
১৭৪ কিতাবুল জামে আসসাগীর লি আলবানী, খ. ৩, (হাদীস নং৩০৫৮)
১৭৫ আবওয়াবুল বির ও ওয়াস সিলা, বাব সিলাতুর রেহেম (২/১৫৫৯)
১৭৬ কিতাবুল আহকাম বাব মান ইস্তারা রায়িয়্যা ফালাম ইয়ানফা।
১৭৭ কিতাবুল আসতুর বিহি, বাব আর রুইয়া ফিল মুদমিনীনা ফিল খামر (৩/৫২৪۱)
১৭৮ কিতাবুল ঈমান, বাব বায়ান তাহরীম ইযা আল জার।
১৭৯ কিতাবুল আদব, বাব ফি হুসনিল খুলক। (৩/৪০১৭)
১৮০ কিতাবুল ঈমান বাব তাহরীমুল কিبر।
১৮১ কিতابুল আদب, باب ফিল কাত্তাত (৩/৪০৭৬)
১৮২ কিতাবুল ফারায়েয, বাব মান ইদ্দায়া গাইরা আবিহি।
১৮৩ সহীহ সুনানে তিরমিযী, আবওয়াবুত্তালাক, বাব ফি মুখতালিয়াত, (২/৩৫৪৮)
১৮৪ কিতাবুল লিবাস, বাব মাযায়া ফি খিজাবিসসওদা (৯২/৩৫৪৮)
📄 নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তির ব্যাপারে বলা যাবে না যে সে জান্নাতী
মাসআলা-৩৯৬: নির্দিষ্ট করে কোনো ব্যক্তিকে বলা যে, সে জান্নাতী এটা নাজায়েয:
মাসআলা-৩৯৭: কে জান্নাতী আর কে জাহান্নামী তার সঠিক জ্ঞান একমাত্র আল্লাহরই আছে:
أَنَّ أُمَّ الْعَلَاءِ امْرَأَةً مِنَ الْأَنْصَارِ وَهِيَ مِمَّنْ بَايَعَتِ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَتْ أَنَّهُ اقْتُسِمَ الْمُهَاجِرُونَ قُرْعَةً فَطَارَ لَنَا عُثْمَانُ بْنُ مَطْعُونٍ فَأَنْزَلْنَاهُ فِي أَبْيَاتِنَا، فَوَجِعَ وَجَعَهُ الَّذِي تُوُفِّيَ فِيهِ، فَلَمَّا تُوُفِّيَ وَغُسِلَ وَكُفْنَ فِي أَثْوَابِهِ ، دَخَلَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، فَقُلْتُ: رَحْمَةُ اللَّهِ عَلَيْكَ أَبَا السَّائِبِ، فَشَهَادَتِي عَلَيْكَ : لَقَدْ أَكْرَمَكَ اللَّهُ، فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : «وَمَا يُدْرِيكِ أَنَّ اللَّهَ قَدْ أَكْرَمَهُ؟» فَقُلْتُ: بِأَبِي أَنْتَ يَا رَسُولَ اللَّهِ، فَمَنْ يُكْرِمُهُ اللَّهُ؟ فَقَالَ: «أَمَّا هُوَ فَقَدْ جَاءَهُ الْيَقِينُ.
وَاللَّهِ إِنِّي لَأَرْجُو لَهُ الْخَيْرَ، وَاللَّهِ مَا أَدْرِي، وَأَنَا رَسُولُ اللَّهِ، مَا يُفْعَلُ بِي» قَالَتْ: فَوَاللَّهِ لَا أُرْكِّي أَحَدًا بَعْدَهُ أَبَدًا
অর্থ: "উম্মুল আলা আনসারী (রা) নবী -এর নিকট যারা বাইয়াত করেছিল তাদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, তিনি বলেছেন: লটারীর মাধ্যমে মুহাজিরদেরকে আনসারদের মাঝে বণ্টন করা হয়েছিলো, আমাদের ভাগে ওসমান বিন মাযউন (রা) পড়েছিল, আমরা তাকে আমাদের ঘরে উঠালাম, তখন সে অসুস্থ হয়ে ঐ রোগে মৃত্যুবরণ করলো। মৃত্যুর পর তাকে গোসল দিয়ে কাফন পরানো হলো, রাসূলুল্লাহ আসলেন, আমি বললাম হে আবু সায়েব, (ওসমান বিন মাযউন (রাযিয়াল্লাহু আনহু এর কুনিয়াত) তোমার প্রতি আল্লাহ রহম করুন। তোমার ব্যাপারে আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ তোমাকে ইয্যত দিক, রাসূল (স) বললেন: উম্মুল আলা তুমি কি করে জানলে যে, আল্লাহ তাকে ইযযত দিয়েছেন, আমি বললাম: ইয়া রাসূলুল্লাহ! আমার পিতা-মাতা আপনার জন্য কুরবান হোক! আল্লাহ কাকে ইয্যত দিবেন? তিনি বললেন: নিঃসন্দেহে ওসমান ইন্তেকাল করেছে, আল্লাহর কসম! আমিও আল্লাহর নিকট তার জন্য কল্যাণ কামনা করছি, কিন্তু আল্লাহর কসম! আমি নিজেও জানি না যে কিয়ামতের দিন আমার কি অবস্থা হবে? অথচ আমি আল্লাহর রাসূল। উম্মুল আলা (রা) বলেন: আল্লাহর কসম! এর পর আমি আর কারো ব্যাপারে বলি নি যে সে পাপ মুক্ত।" (বুখারী) ১৮৫
নোট: (১) নবী যে সমস্ত সাহাবাগণের নাম নিয়ে তাদেরকে জান্নাতের সুসংবাদ দিয়েছেন তাদেরকে জান্নাতী বলা জায়েয আছে।
(২) নিজের ব্যাপারে নবী যে কথা বলেছেন, তা হলো আল্লাহর বড়ত্ব, গৌরব, অ-মুখাপেক্ষিতা ও ক্ষমতার প্রতি লক্ষ্য রেখে বলেছেন, যার বাহ্যিকতা অন্য হাদীসে এভাবে এসেছে যে, কোনো ব্যক্তি তার আমলের বিনিময়ে জান্নাতে যাবে না। জিজ্ঞেস করা হলো হে আল্লাহ রাসূল! আপনিও কি নন? তিনি বললেন: হ্যাঁ আমিও। তবে হ্যাঁ আমার প্রভু স্বীয় রহমত দ্বারা আমাকে ঢেকে রাখবেন। (মুসলিম)
(৩) উসমান বিন মাযউন (রা) দুই বার হাবশায় হিজরতের সুযোগ লাভ করেছিলেন। এরপর তৃতীয় বার মদীনায় হিজরতের সুযোগ লাভ করেছিলেন। তার মৃত্যুর পর রাসূলুল্লাহ তিনবার তার কপালে চুমু দিয়ে বলেছিলেন যে, তুমি পৃথিবী থেকে এমনভাবে বিদায় নিয়েছো যে তোমার আঁচল পৃথিবীর সাথে বিন্দু পরিমাণেও একাকার হয়ে যায়নি। এরপরও তার ব্যাপারে এক মহিলা তাকে জান্নাতী বলে আখ্যায়িত করলে রাসূলুল্লাহ ﷺ তাকে বাধা দিলেন।
মাসআলা-৩১৮ : যুদ্ধের ময়দানে এক ব্যক্তি নিহত হলে সাহাবাগণ তাকে জান্নাতী মনে করতে লাগলেন তখন রাসূলুল্লাহ ﷺ বললেন: কখনো নয় সে জাহান্নামী।
عُمَرَ بْنُ الْخَطَّابِ ﷺ قَالَ: قِيْلَ: يَا رَسُوْلَ اللهِ! إِنَّ فُلاَنًا قُدِ اسْتُشْهِدَ، قَالَ: «كَلاَّ قَدْ رَأَيْتُهُ فِي النَّارِ بِعَبَاءَةٍ قَدْ غَلَّهَا»
অর্থ: “ওমর বিন খাত্তাব (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ ﷺ কে জিজ্ঞাসা করা হলো ইয়া রাসূলাল্লাহ ﷺ ! অমুক ব্যক্তি শাহাদাত বরণ করেছে। তিনি বললেন: কখনো নয় গণীমতোর মাল থেকে একটি চাদর চুরি করার কারণে আমি তাকে জাহান্নামে দেখেছি।" (তিরমিযী ৪/১৫৭৪)৩৫৮
মাসআলা-৩১৯ : কোনো জীবিত বা মৃত ব্যক্তি চাই সে বড় মোত্তাকী, আলেম, ওলী, পীর, ফকীর, দরবেশই হোক না কেন তাকে নিশ্চিত জান্নাতী বলা না জায়েয:
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ﷺ أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ قَالَ: «إِنَّ الرَّجُلَ لَيَعْمَلُ الزَّمَنَ الطَّوِيْلَ بِعَمَلِ أَهْلِ الْجَنَّةِ. ثُمَّ يُخْتَمُ لَهُ عَمَلُهُ بِعَمَلِ أَهْلِ النَّارِ. وَإِنَّ الرَّجُلَ لَيَعْمَلُ الزَّمَنَ الطَّوِيْلَ بِعَمَلِ أَهْلِ النَّارِ. ثُمَّ يُخْتَمُ لَهُ عَمَلُهُ بِعَمَلِ أَهْلِ الْجَنَّةِ»
অর্থ: “আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: কোনো ব্যক্তি দীর্ঘ সময় পর্যন্ত জান্নাতে যাওয়ার আমল করতে থাকে, শেষ পর্যায়ে সে আবার জাহান্নামে যাওয়ার আমল শুরু করে এবং এ অবস্থায় সে মৃত্যুবরণ করে। আবার কোনো ব্যক্তি দীর্ঘ সময় পর্যন্ত জাহান্নামে যাওয়ার আমল করতে থাকে এরপর শেষ পর্যায়ে জান্নাতে যাওয়ার আমল শুরু করে এবং এ অবস্থায় সে মৃত্যুবরণ করে।" (মুসলিম ৪/২০৫১)৩৫৯
মাসআলা-৩৯৮: মানুষের দৃষ্টিতে কোনো ব্যক্তি জান্নাতী বা জাহান্নামী হতে পারে, কিন্তু আল্লাহর নিকট তার বিপরীতও হতে পারে:
عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ السَّاعِدِيِّ هِ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ. قَالَ: «إِنَّ الرَّجُلَ لَيَعْمَلُ عَمَلَ أَهْلِ الْجَنَّةِ، فِيمَا يَبْدُو لِلنَّاسِ وَهُوَ مِنْ أَهْلِ النَّارِ ، وَإِنَّ الرَّجُلَ لَيَعْمَلُ عَمَلَ أَهْلِ النَّارِ، فِيمَا يَبْدُو لِلنَّاسِ وَهُوَ مِنْ أَهْلِ الْجَنَّةِ»
অর্থ: "সাহাল বিন সা'দ (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ বলেছেন: মানুষের দৃষ্টিতে কোনো ব্যক্তি জান্নাতে যাওয়ার আমল করতে পারে, অথচ সে জাহান্নামী হবে, আবার মানুষের দৃষ্টিতে কোনো ব্যক্তি জাহান্নামে যাওয়ার আমল করতে পারে অথচ সে জান্নাতী হবে।" (মুসলিম) ১৮৮
নোট: এমনিতেই তো কবর ও মাযারসমূহে নযর-নেয়াজ দেয়া বিভিন্ন জিনিস লটকানো বড় শিরক, এ হাদীসের আলোকে এটি একটি অর্থহীন কাজও বটে। আর তা এজন্য যে, যে কোনো মৃত ব্যক্তি সম্পর্কে আল্লাহ ব্যতীত আর কেউ জানে না যে সে সেখানে আরামের ঘুম ঘুমাচ্ছে না শাস্তি ভোগ করতেছে।
টিকাঃ
১৮৫ কিতাবুল জানাযেয, বাবুদ্দুখুল আলাল মায়্যিত বা'দাল মাউত ইযা আদরাজা ফি আকফানিহি।
৩৫৮ আওনুলমাবুদ, বাব আল গুল (৭/১২৭৯)
৩৫৯ কিতাবুল কদর।
১৮৮ কিতাবুল কদর।
📄 জান্নাতে বিগত দিনের স্মরণ
মাসআলা-৪০০: পুরাতন সাথীর স্মরণ ও তার সাথে সাক্ষাতের শিক্ষামূলক দৃশ্য:
فَأَقْبَلَ بَعْضُهُمْ عَلَى بَعْضٍ يَتَسَاءَلُونَ . قَالَ قَائِلٌ مِنْهُمْ إِنِّي كَانَ لِي قَرِينٌ . يَقُولُ أَإِنَّكَ لَمِنَ الْمُصَدِّقِينَ . أَإِذَا مِتْنَا وَكُنَّا تُرَاباً وَعِظَامًا أَإِنَّا لَمَدِينُونَ . قَالَ هَلْ أَنتُمْ مُّطَّلِعُونَ . فَاطَّلَعَ فَرَآهُ فِي سَوَاءِ الْجَحِيمِ . قَالَ تَاللَّهِ إِن كدتَّ لَتُرْدِينِ . وَلَوْلا نِعْمَةُ رَبِّي لَكُنتُ مِنَ الْمُحْضَرِينَ . أَفَمَا نَحْنُ بِمَيِّتِيْنَ - إِلَّا مَوْتَتَنَا الأُولَى وَمَا نَحْنُ بِمُعَذِّبِينَ - إِنَّ هَذَا لَهُوَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ - لِمِثْلِ هَذَا فَلْيَعْمَلِ الْعَامِلُونَ .
অর্থ: অতঃপর তারা মুখোমুখি হয়ে পরস্পরকে জিজ্ঞেস করবে। তাদের একজন বলবে, ('পৃথিবীতে) আমার এক সঙ্গী ছিল', সে বলতো, 'তুমি কি সে লোকদের অন্তর্ভুক্ত যারা বিশ্বাস করে'। 'আমরা যখন মরে যাব এবং মাটি ও হাড়ে পরিণত হব তখনও কি আমাদেরকে প্রতিফল দেয়া হবে'? আল্লাহ বলবেন, 'তোমরা কি উঁকি দিয়ে দেখবে?' অতঃপর সে উঁকি দিয়ে দেখবে এবং তাকে (পৃথিবীর সঙ্গীকে) দেখবে জাহান্নামের মধ্যস্থলে। সে বলবে, 'আল্লাহর কসম! তুমি তো আমাকে প্রায় ধ্বংস করে দিয়েছিলে'। 'আমার রবের অনুগ্রহ না থাকলে আমিও তো (জাহান্নামে) হাযিরকৃতদের একজন হতাম'। (জান্নাতবাসী ব্যক্তি বলবে) 'তাহলে আমরা কি আর মরব না'? 'আমাদের প্রথম মৃত্যু ছাড়া, আর আমরা কি আযাবপ্রাপ্ত হব না'? 'নিশ্চয় এটি মহাসাফল্য!' এরূপ সাফল্যের জন্যই 'আমলকারীদের আমল করা উচিত। (সূরা সাফফাত ৩৭:৫০-৬১)
মাসআলা-৪০১: জান্নাতীরা তাদের বৈঠকসমূহে পৃথিবীর জীবনের কথা স্মরণ করবে:
وَأَقْبَلَ بَعْضُهُمْ عَلَى بَعْضٍ يَتَسَاءَلُونَ - قَالُوا إِنَّا كُنَّا قَبْلُ فِي أَهْلِنَا مُشْفِقِينَ - فَمَنَّ اللَّهُ عَلَيْنَا وَوَقَانَا عَذَابَ السَّمُومِ - إِنَّا كُنَّا مِن قَبْلُ نَدْعُوهُ إِنَّهُ هُوَ الْبَرُّ الرَّحِيمُ
অর্থ: আর তারা একে অপরের মুখোমুখি হয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করবে, তারা বলবে, 'পূর্বে আমরা আমাদের পরিবারের মধ্যে শঙ্কিত ছিলাম।' 'অতঃপর আল্লাহ আমাদের প্রতি দয়া করেছেন এবং আগুনের আযাব থেকে আমাদেরকে রক্ষা করেছেন।' নিশ্চয় পূর্বে আমরা তাঁকে ডাকতাম; নিশ্চয় তিনি ইহসানকারী, পরম দয়ালু। (সূরা তূর ৫২:২৫-২৮)
📄 আ'রাফের অধিবাসীগণ
মাসআলা-৪০২: জান্নাত জাহান্নামের মাঝে একটি উঁচু স্থানে কিছু লোক জীবন যাপন করবে তাদেরকে আ'রাফের অধিবাসী বলা হয়:
মাসআলা-৪০৩: আ'রাফের অধিবাসীদের পাপ ও সাওয়াব বরাবর হবে তাই তারা জান্নাতেও যেতে পারবেন না জাহান্নামে, কিন্তু আল্লাহর দয়া ও অনুগ্রহে জান্নাতে যাওয়ার আশাবাদী তারা হবে:
وَبَيْنَهُمَا حِجَابٌ وَعَلَى الْأَعْرَافِ رِجَالٌ يَعْرِفُونَ كُلا بِسِيمَاهُمْ وَنَادَوْا أَصْحَابَ الْجَنَّةِ أَن سَلَامٌ عَلَيْكُمْ لَمْ يَدْخُلُوهَا وَهُمْ يَطْمَعُونَ
অর্থ: আর তাদের মধ্যে থাকবে পর্দা এবং আ'রাফের উপর থাকবে কিছু লোক, যারা প্রত্যেককে তাদের চিহ্ন দ্বারা চিনবে। আর তারা জান্নাতের অধিবাসীদেরকে ডাকবে যে, 'তোমাদের উপর সালাম'। তারা (এখনো) তাতে প্রবেশ করেনি তবে তারা আশা করবে। (সূরা আ'রাফ ৭:৪৬)
মাসআলা-৪০৪: আ'রাফের অধিবাসীরা জাহান্নামীদেরকে দেখে নিম্নোক্ত দুআ পাঠ করবে:
وَإِذَا صُرِفَتْ أَبْصَارُهُمْ تِلْقَاءَ أَصْحَابِ النَّارِ قَالُوا رَبَّنَا لَا تَجْعَلْنَا مَعَ الْقَوْمِ الظَّالِمِينَ
অর্থ: আর যখন তাদের দৃষ্টিকে আগুনের অধিবাসীদের প্রতি ফেরানো হবে, তারা বলবে, 'হে আমাদের রব! আমাদেরকে যালিম কওমের অন্তর্ভুক্ত করবেন না'। (সূরা আ'রাফ ৭:৪৭)
মাসআলা-৪০৫: আ'রাফবাসীদের পক্ষ থেকে তাদের পরিচিত কিছু জাহান্নামীদেরকে শিক্ষণীয় সম্বোধন:
وَنَادَى أَصْحَابُ الْأَعْرَافِ رِجَالًا يَعْرِفُونَهُمْ بِسِيمَاهُمْ قَالُوا مَا أَغْنَى عَنكُمْ جَمْعُكُمْ وَمَا كُنْتُمْ تَسْتَكْبِرُونَ - أَهَؤُلَاءِ الَّذِينَ أَقْسَمْتُمْ لا يَنَالُهُمُ اللَّهُ بِرَحْمَةٍ ادْخُلُوا الْجَنَّةَ لَا خَوْفٌ عَلَيْكُمْ وَلَا أَنتُمْ تَحْزَنُونَ
অর্থ: আর আ'রাফের অধিবাসীরা এমন লোকদেরকে ডাকবে, যাদেরকে তারা চিনবে তাদের চিহ্নের মাধ্যমে, তারা বলবে, 'তোমাদের দল এবং যে বড়াই তোমরা করতে তা তোমাদের উপকারে আসেনি'। এরাই কি তারা যাদের ব্যাপারে তোমরা কসম করতে যে, আল্লাহ তাদেরকে রহমতে শামিল করবেন না? 'তোমরা জান্নাতে প্রবেশ করো। তোমাদের উপর কোনো ভয় নেই এবং তোমরা দুঃখিত হবে না'। (সূরা আরাফ ৭:৪৮-৪৯)
টিকাঃ
১৮৯ জান্নাত ও জাহান্নামের মধ্যবর্তী প্রাচীরকে আ'রাফ বলে।