📄 জান্নাতে প্রবেশকারী ব্যক্তিদের গুণাবলী
মাসআলা-৩৩৩: নরম দিল, খোশ মেজাজ, সর্বদা আল্লাহ ভিতু কারো কোনো ক্ষতিকারী নয় ধৈর্যশীল ব্যক্তি জান্নাতী হবে:
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ اللهِ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، قَالَ: «يَدْخُلُ الْجَنَّةَ أَقْوَامٌ ، أَفْئِدَتُهُمْ مِثْلُ أَفْئِدَةِ الطَّيْرِ»
অর্থ: "আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ বলেছেন: জান্নাতে প্রবেশ করবে এমন ব্যক্তি যাদের অন্তরসমূহ হবে পাখীর অন্তরের ন্যায়।” (মুসলিম ৪/২৮৪০)১২৫
মাসআলা-৩৩৪: জান্নাতে গরীব-মিসকীন, ফকীর পরমুখাপেক্ষী দুর্বল লোকদের সংখ্যাধিক্য হবে:
حَارِثَةَ بْنَ وَهْبِ اللهِ أَنَّهُ سَمِعَ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «أَلَا أُخْبِرُكُمْ بِأَهْلِ الْجَنَّةِ؟ قَالُوا : بَلَى ، قَالَ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : كُلُّ ضَعِيفٍ مُتَضَعِفٍ ، لَوْ أَقْسَمَ عَلَى اللَّهِ لَأَبَرَّهُ ثُمَّ قَالَ: «أَلَا أُخْبِرُكُمْ بِأَهْلِ النَّارِ ؟» قَالُوا : بَلَى ، قَالَ: «كُلُّ عُتُلٍ جَوَاطٍ مُسْتَكْبِرٍ»
অর্থ: "হারেসা বিন ওহাব (রা) নবী-কে বলত শুনেছেন তিনি বলেছেন: আমি কি তোমাদেরকে জান্নাতী লোকদের গুণাবলীর কথা বললোনা? সাহাবাগণ বলল: হ্যাঁ বলুন। তিনি বললেন: প্রত্যেক দুর্বল, লোকচোখে হেয়, কিন্তু সে যদি কোনো বিষয়ে আল্লাহর নামে কসম করে তাহলে আল্লাহ তার কসম পূর্ণ করবেন। অতপর তিনি বললেন: আমি কি তোমাদেরকে জাহান্নামী লোকদের কথা বলবো না? তারা বললো: বলুন। তিনি বললেন: প্রত্যেক ঝগড়াকারী, দুশ্চরিত্র, অহংকারী ব্যক্তি।” (মুসলিম ৪/২৮৫৩)
মাসআলা-৩৩৫ নমর দিল, ভদ্র, খোশ মেজাজ, প্রত্যেক ভাল লোক যাকে চিনে:
عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ هُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ «حُرِّمَ عَلَى النَّارِ كُلُّ هَيْنٍ لَيْنٍ سَهْلٍ قَرِيبٍ مِنَ النَّاسِ»
অর্থ: “ইবনে মাসউদ (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ বলেছেন: প্রত্যেক নমর দিল ভদ্র এবং মানুষের সাথে মিশুক লোকদের জন্য জাহান্নাম হারাম।” (আহমাদ ৭/৩৯৩৮)
মাসআলা-৩৩৬: রাসূলুল্লাহ -এর অনুসরণকারী ব্যক্তি জান্নাতে যাবে:
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ اللَّهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، قَالَ: «كُلُّ أُمَّتِي يَدْخُلُونَ الْجَنَّةَ إِلَّا مَنْ أَبَي» ، قَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ، وَمَنْ أَبَي؟ قَالَ: «مَنْ أَطَاعَنِي دَخَلَ الْجَنَّةَ وَمَنْ عَصَانِي فَقَدْ أَبَ»
অর্থ: “আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ বলেছেন: আমার সমস্ত উম্মত জান্নাতে যাবে তবে ঐ সমস্ত লোক ব্যতীত যারা জান্নাতে যেতে চায় না। সাহabাগণ জিজ্ঞেস করলো হে আল্লাহর রাসূল কে জান্নাতে যেতে চায়না? তিনি বললেন: যে ব্যক্তি আমার অনুসরণ করে সে জান্নাতে যাবে আর যে আমার নাফরমানী করে সে জাহান্নামী”। (বুখারী ৯/৭২৮০)১২৬
মাসআলা-৩৩৭: আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যে যে ব্যক্তি প্রতি দিন বার রাকআত নামায (ফজরের পূর্বে দু'রাকাত, যোহরের পূর্বে চার রাকআত, পরে দু'রাকআত, মাগরিবের পরে দু'রাকআত, ইশার পরে দু'রাকআত সুন্নাত) আদায় করে সে জান্নাতে যাবে:
عَنْ أُمِّ حَبِيبَةَ اللهِ زَوْجِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، أَنَّهَا قَالَتْ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، يَقُولُ: «مَا مِنْ عَبْدٍ مُسْلِمٍ يُصَلِّي لِلَّهِ كُلَّ يَوْمٍ ثِنْتَيْ عَشْرَةَ رَكْعَةً تَطَوُّعًا، غَيْرَ فَرِيضَةٍ إِلَّا بَنَى اللَّهُ لَهُ بَيْتًا فِي الْجَنَّةِ.
অর্থ: “নবী -এর স্ত্রী উম্মে হাবীবা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি রাসূলুল্লাহ -কে বলতে শুনেছেন, তিনি বলেন: যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে প্রতিদিন ফরয ব্যতীত বার রাকআত সুন্নাত নামায আদায় করবে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতে একটি ঘর নির্মাণ করবেন।” (মুসলিম ১/৭২৮) ১২৭
মাসআলা-৩৩৮: আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষাকারী জান্নাতে যাবে:
عَنْ أَبِي أَيُّوبَ هِ قَالَ: جَاءَ رَجُلٌ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، فَقَالَ: دُلَّنِي عَلَى عَمَلٍ أَعْمَلُهُ يُدْنِينِي مِنَ الْجَنَّةِ، وَيُبَاعِدُنِي مِنَ النَّارِ، قَالَ: تَعْبُدُ اللهَ لَا تُشْرِكْ بِهِ شَيْئًا، وَتُقِيمُ الصَّلَاةَ، وَتُؤْتِي الزَّكَاةَ، وَتَصِلُ ذَا رَحِمِكَ» فَلَمَّا أَدْبَرَ ، قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : «إِنْ تَمَسَّكَ بِمَا أُمِرَ بِهِ دَخَلَ الْجَنَّةَ»
অর্থ: "আবু আয়্যুব (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: এক ব্যক্তি নবী এর নিকট এসে বলল: আমাকে এমন কোনো আমলের কথা বলেন যা আমাকে জান্নাতের নিকটবর্তী এবং জাহান্নাম থেকে দূরে রাখবে। তিনি বললেন: আল্লাহর ইবাদত করো এবং তাঁর সাথে কাউকে অংশীদার করবে না। নামায কায়েম করো, যাকাত আদায় করো, আর আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখ, যখন ঐ লোক ফিরে যেতে লাগল তখন রাসূলুল্লাহ বললেন: তাকে যা করতে বলা হলো যদি সে এর ওপর আমল করে তাহলে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।” (মুসলিম ১/১৩)১২৮
মাসআলা-৩৩৯: চরিত্রবান, তাহাজ্জুদগুজার, অধিক পরিমাণে নফল রোযা আদায়কারী ও অন্যকে খাদ্যদানকারী জান্নাতে যাবে:
عَنْ عَلِيِّ هِ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : «إِنَّ فِي الْجَنَّةِ لَغُرَفًا تُرَى ظُهُورُهَا مِنْ بُطُونِهَا وَبُطُونُهَا مِنْ ظُهُورِهَا» فَقَامَ إِلَيْهِ أَعْرَابِي فَقَالَ: لِمَنْ هِيَ يَا رَسُولَ اللهِ؟ قَالَ: «هِيَ لِمَنْ أَطَابَ الكَلَامَ، وَأَطْعَمَ الطَّعَامَ ، وَأَدَامَ الصِّيَامَ ، وَصَلَّى لِلَّهِ بِاللَّيْلِ وَالنَّاسُ نِيَامٌ »
অর্থ: "আলী (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ বলেছেন: জান্নাতে এমন কিছু ঘর আছে যার ভিতর থেকে বাহিরের সবকিছু দেখা যাবে, আবার বাহির থেকে ভিতরের সবকিছু দেখা যাবে। এক বেদুইন ব্যক্তি দাড়িয়ে বললো, ইয়া রাসূলাল্লাহ! ঐ ঘর কার জন্য? তিনি বললেন: ঐ ব্যক্তির জন্য যে ভাল কথা বলে, অন্যকে আহার করায়, অধিক পরিমাণে নফল রোযা রাখে, আর যখন লোকেরা আরামে নিদ্রারত থাকে তখন উঠে নামায আদায় করে।" (তিরমিযী ৪/২৫২৭)১২৯
মাসআলা-৩৪০: ন্যায়পরায়ন বাদশা, অপরের প্রতি অনুগ্রহকারী, নরম অন্তর, কারো নিকট কোনো কিছু চায় না এমন ব্যক্তিও জান্নাতী হবে:
عَنْ عِيَاضِ بْنِ حِمَارِ الْمُجَاشِعِي هِ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ ذَاتَ يَوْمٍ فِي خُطْبَتِهِ وَ أَهْلُ الْجَنَّةِ ثَلَاثَةٌ: ذُو سُلْطَانٍ مُقْسِطٍ مُتَصَدِّقٌ مُوَفِّقٌ ، وَرَجُلٌ رَحِيمٌ رَقِيقُ الْقَلْبِ لِكُلِّ ذِي قُرْبَى وَمُسْلِمٌ فَقِيرٌ عَفِيفٌ مُتَعَقِّفُ ذُو عَيَالٍ
অর্থ: "ইয়াজ বিন হিমার মুজাসেয়ী (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ বলেছেন: তিন প্রকারের লোক জান্নাতে যাবে। ন্যায় পরায়ন বাদশা, সত্যবাদী, নেক আমল কারী, আর ঐ ব্যক্তি যে প্রত্যেক আত্মীয়ের সাথে এবং প্রত্যেক মুসলমানের সাথে দয়া করে। ঐ ব্যক্তি যে লজ্জাস্থানকে সংরক্ষণ করে এবং বিনা প্রয়োজনে কারো নিকট কোনো কিছু চায় না।” (মুসলিম)১৩০
মাসআলা-৩৪১: আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান আনায় আনন্দ অনুভব কারী, ইসলামকে সন্তুষ্টচিত্তে স্বীয় দ্বীন হিসেবে বিশ্বাসকারীও জান্নাতে যাবে:
عن أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ ﷺ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: " مَنْ قَالَ : رَضِيتُ بِاللهِ رَبَّا، وَبِالْإِسْلَامِ دِينًا، وَبِمُحَمَّدٍ رَسُولًا ، وَجَبَتْ لَهُ الْجَنَّةُ
অর্থ: "আবু সাঈদ খুদরী (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ বলেছেন: যে ব্যক্তি বলে যে আল্লাহকে রব হিসেবে, ইসলামকে দ্বীন হিসেবে এবং মুহাম্মদ-কে নবী হিসেবে পেয়ে আমি সন্তুষ্ট। তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব।" (আবু দাউদ)১৩১
মাসআলা-৩৪২: দুই বা দুয়ের অধিক কন্যাকে সু-শিক্ষা দানকারী এবং বালেগা হওয়ার পর তাদেরকে সুপাত্রে পাত্রস্থকারী ব্যক্তিও জান্নাতী হবে:
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ عَالَ جَارِيَتَيْنِ حَتَّى تَبْلُغَا جَاءَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ أَنَا وَهُوَ وَضَمَّ أَصَابِعَهُ
অর্থ: "আনাস বিন মালেক (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ বলেছেন: যে ব্যক্তি দু'জন কন্যা তাদের প্রাপ্তবয়স্কা হওয়া পর্যন্ত লালন পালন করলো, কিয়ামতের দিন আমি ও ঐ ব্যক্তি এক সাথে উপস্থিত হবো, একথা বলে তিনি তাঁর দুই আঙ্গুলকে একত্র করে দেখালেন যে এভাবে)। (মুসলিম ৪/২৬৩১) ১৩২
মাসআলা-৩৪৩: ওযুর পর দুই রাকআত নফল নামায (তাহিয়্যাতুল ওষু) রীতিমত আদায়কারীও জান্নাতী হবে:
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِبِلَالٍ: عِنْدَ صَلَاةِ الْغَدَاةِ «يَا بِلَالُ حَدِّثْنِي بِأَرْجَى عَمَلٍ عَمِلْتَهُ، عِنْدَكَ فِي الْإِسْلَامِ مَنْفَعَةً، فَإِنِّي سَمِعْتُ اللَّيْلَةَ خَشْفَ نَعْلَيْكَ بَيْنَ يَدَيَّ فِي الْجَنَّةِ» قَالَ بِلَالٌ: مَا عَمِلْتُ عَمَلًا فِي الْإِسْلَامِ أَرْجَى عِنْدِي مَنْفَعَةٌ مِنْ أَنِّي لَم أَتَطَهَّرُ طُهُورًا تَامَّا فِي سَاعَةٍ مِنْ لَيْلٍ أَوْ نَهَارٍ ، إِلَّا صَلَّيْتُ بِذَلِكَ الظُّهُورِ ، مَا كَتَبَ اللَّهُ لِي أَنْ أُصَلِّي
অর্থ: "আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ একদিন ফজরের নামাযের পর বেলাল (রা)-কে জিজ্ঞেস করলেন হে বেলাল! ইসলাম গ্রহনের পর তোমার এমনকি আমল আছে যার বিনিময়ে তুমি পুরস্কৃত হওয়ার আশা রাখ? কেননা আজ রাতে আমি জান্নাতে আমার সামনে তোমার চলার শব্দ পেয়েছি। বেলাল (রা) বললো: আমি এর চেয়ে অধিক কোনো আমল তো দেখছি না যে, দিনে বা রাতে যখনই আমি ওজু করি তখনই যতটুকু আল্লাহ তাওফীক দেন ততটুকু নফল নামায আমি আদায় করি। (বুখারী ও মুসলিম ৪/২৪৫৮)১৩৩
মাসআলা-৩৪৪: যথাযথ নামাযী, স্বামীর অনুগত স্ত্রী জান্নাতী হবে:
عن أبي هريرة বললেন: . قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : " إذا صَلَّتِ المرأة خَمْسَهَا، وَصَامَتْ شَهْرَهَا، وَحَفِظَتْ فَرْجَهَا، وَأَطَاعَتْ زَوْجَهَا قِيلَ لَهَا: ادْخُلِي الْجَنَّةَ مِنْ أَيِّ أَبْوَابِ الْجَنَّةِ شِئْتِ "
অর্থ: "আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ বলেছেন: যে মহিলা পাঁচ ওয়াক্ত নামায আদায় করে, রমযান মাসে রোযা রাখে, স্বীয় লজ্জাস্থান সংরক্ষণ করে, স্বীয় স্বামীর অনুগত থাকে কিয়ামতের দিন তাকে বলা হবে যে, জান্নাতের যে দরজা দিয়ে খুশি তা দিয়ে তুমি জান্নাতে প্রবেশ করো।" (ইবনে হিব্বান) ১৩৪
মাসআলা-৩৪৫: আম্বিয়া, শহীদ, ঈমানদারদের নবজাতক শিশু মৃত্যুবরণকারী এবং জীবন্ত প্রথিত সন্তান (জাহিলিয়াতের যুগে যা করা হত) জান্নাতী হবে:
عَنْ حَسْنَاءُ بِنْتُ مُعَاوِيَةَ لَهُ فَقَالَتْ : حَدَّثَنَا عَتِي، قَالَ: قُلْتُ لِلنَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : مَنْ فِي الْجَنَّةِ؟ قَالَ: «النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي الْجَنَّةِ، وَالشَّهِيدُ فِي الْجَنَّةِ، وَالْمَوْلُودُ فِي الْجَنَّةِ، وَالْوَثِيدُ فِي الْجَنَّةِ»
অর্থ: "হাসনা বিনতে মুয়াবিয়া (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমাকে আমার চাচা এ হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি নবী কে জিজ্ঞেস করেছি যে, কোনো ধরনের লোকেরা জান্নাতী হবে? তিনি বললেন: নবীরা জান্নাতী, শহীদরা জান্নাতী, মৃত্যুবরণকারী নবজাতক শিশু জান্নাতী, (জাহিলিয়াতের যুগে) জীবন্ত প্রথিত শিশু জান্নাতী।" (আবু দাউদ ৩/১৫২১) ১৫০
মাসআলা-৩৪৬: আল্লাহর পথে জিহাদকারী জান্নাতী হবে:
عَنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ عن النبي صلى الله عليه وسلم قَالَ: «مَنْ قَاتَلَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ مِنْ رَجُلٍ مُسْلِمٍ فُوَاقَ نَاقَةٍ وَجَبَتْ لَهُ الْجَنَّةُ.
অর্থ: মুয়ায বিন জাবাল (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: নবী বলেছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর পথে ততক্ষণ পর্যন্ত জিহাদ করেছে যতক্ষণ কোন উটের দুধ দোহন করতে সময় লাগে তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব।" (তিরমিযী ৪/১৬৫৭)১৩৬
মাসআলা-৩৪৭: মুত্তাকী এবং চরিত্রবান লোক জান্নাতে যাবে:
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ هِ قَالَ : سُئِلَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ أَكْثَرِ مَا يُدْخِلُ النَّاسَ الْجَنَّةَ، فَقَالَ: «تَقْوَى اللَّهِ وَحُسْنُ الْخُلُقِ» . وَسُئِلَ عَنْ أَكْثَرِ مَا يُدْخِلُ النَّاسَ النَّارَ، فَقَالَ: «أَلْفَمُ وَالْفَرْجُ»
অর্থ: "আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহকে জিজ্ঞেস করা হলো কোনো আমলের কারণে সর্বাধিক লোক জান্নাতে প্রবেশ করবে? তিনি বললেন: তাকওয়া (আল্লাহ ভীতি) ও উত্তম চরিত্র।” (তিরমিযী ৪/২০০৪) ১৩৭
মাসআলা-৩৪৮: ইয়াতীমের লালন পালনকারী জান্নাতী হবে:
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ اللهِ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «كَافِلُ الْيَتِيمِ لَهُ أَوْ لِغَيْرِهِ أَنَا وَهُوَ كَهَاتَيْنِ فِي الْجَنَّةِ» وَأَشَارَ مَالِكَ بِالسَّبَّابَةِ وَالْوُسْطَى
অর্থ: "আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ বলেছেন: ইয়াতীমের লালন পালনকারী, চাই ইয়াতীম তার আত্মীয় হোক আর অনাত্মীয় ও আমি জান্নাতে এ দু'আঙ্গুলের ন্যায় এ বলে তিনি তাঁর দু'আঙ্গুলকে একত্র করে দেখালেন যে এভাবে)। ইমাম মালেক (রহ) শাহাদাত ও মধ্যাঙ্গুলের প্রতি ইশারা করে দেখিয়েছেন।” (মুসলিম ৪/২৯৮৩)১৩৮
মাসআলা-৩৪৯: যার হজ্জ কবুল হয়েছে সে জান্নাতী হবে:
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ: قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْعُمْرَةُ إِلَى الْعُمْرَةِ كَفَّارَةً لِمَا بَيْنَهُمَا، وَالْحَجُّ الْمَبْرُورُ لَيْسَ لَهُ جَزَاء إِلَّا الْجَنَّةُ»
অর্থ: "আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: এক ওমরা থেকে অপর ওমরার মাঝে যে পাপ করা হয়, পরবর্তী ওমরা তার জন্য কাফ্ফারা। আর কবুল হজ্জের একমাত্র প্রতিদান হলো জান্নাত।” (বুখারী ৩/১৭৭৩ ও মুসলিম) ১৩৯
মাসআলা-৩৫০: মসজিদ নির্মাণকারী জান্নাতী হবে:
عَنْ عُثْمَانَ بْنَ عَفَّانَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ : سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، يَقُولُ: «مَنْ بَنَى مَسْجِدًا لِلَّهِ ، بَنَى اللَّهُ لَهُ فِي الْجَنَّةِ مِثْلَهُ»
অর্থ: "ওসমান বিন আফফান (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ ﷺ কে বলতে শুনেছি তিনি বলেন: যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে একটি মসজিদ বানাবে আল্লাহ তার জন্য অনুরূপ একটি ঘর জান্নাতে নির্মাণ করবেন।” (মুসলিম) ১৪০
মাসআলা-৩৫১: লজ্জাস্থান ও জিহ্বা সংরক্ষণকারী জান্নাতী হবে:
عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ عَنْ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ «مَنْ يَضْمَنُ لِي مَا بَيْنَ لَحْيَيْهِ وَمَا بَيْنَ رِجْلَيْهِ أَضْمَنْ لَهُ الْجَنَّةَ»
অর্থ: "সাহাল বিন সা'দ (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: যে ব্যক্তি তার দাড়ী ও গোফের মধ্যবর্তী স্থান (মুখ) এবং তার উভয় পায়ের মধ্যবর্তীস্থান (লজ্জা স্থান) সংরক্ষণের জিম্মা গ্রহণ করবে, আমি তার জন্য জান্নাতের জিম্মা গ্রহণ করবো।" (বুখারী ৮/৬৪৭৪) ১৪১
মাসআলা-৩৫২: প্রতিবেশীর প্রতি উত্তম আচরণকারী জান্নাতী হবে:
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ اللهِ قَالَ: قَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ لاله فُلَانَةٌ تَصُومُ النَّهَارَ. وَتَقُومُ اللَّيْلَ، وَتُؤْذِي جِيرَانَهَا؟ قَالَ: «هِيَ فِي النَّارِ» . قَالُوا: فُلَانَةٌ تُصَلِّي الْمَكْتُوبَاتِ، وَتَصَدَّقُ بِالْأَثْوَارِ مِنَ الْأَقِطِ، وَلَا تُؤْذِي جِيرَانَهَا؟ قَالَ: «هِيَ فِي الْجَنَّةِ»
অর্থ: "আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক ব্যক্তি জিজ্ঞেস করল, ইয়া রাসূলুল্লাহ ! ওমুক মহিলা দিনে রোযা রাখে রাতে তাহাজ্জুদ নামায পড়ে, কিন্তু সে তার প্রতিবেশীকে কষ্ট দেয়, নবী বললেন: সে জাহান্নামী, অতপর সাহাবাগণ জিজ্ঞেস করলো যে, অন্য এক মহিলা শুধু ফরয নামায আদায় করে, আর পনিরের এক টুকরা করে তা দান করে, কিন্তু সে তার প্রতিবেশীকে কোনো কষ্ট দেয় না। তিনি বললেন: সে জান্নাতী।” (আহমদ) ১৪২
মাসআলা-৩৫৩: আল্লাহর নিরানব্বই নাম মুখস্তকারী জান্নাতী হবে:
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ اللهِ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنَّ اللَّهَ تَعَالَى تِسْعَةً وَتِسْعِينَ إِسْمًا مِائَةً غَيْرَ وَاحِدٍ مَنْ أَحْصَاهَا دَخَلَ الْجَنَّةَ.
অর্থ: "আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ বলেছেন: আল্লাহর এক কম একশত অর্থাৎ, নিরানব্বইটি নাম আছে, যে ব্যক্তি তা মুখস্ত করবে সে জান্নাতে যাবে।” (তিরমিযী ৫/৩৬০৭) ১৪৩
মাসআলা-৩৫৪: কুরআনের সংরক্ষণকারী জান্নাতী হবে:
عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ ﷺ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : يُقَالُ لِصَاحِبِ الْقُرْآنِ إِذَا دَخَلَ الْجَنَّةَ اقْرَأُ وَاصْعَدُ، فَيَقْرَأُ وَيَصْعَدُ بِكُلِّ آيَةٍ دَرَجَةً حَتَّى يَقْرَأُ آخِرَ شَيْءٍ مَعَهُ»
অর্থ: "আবু সাঈদ খুদরী (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ বলেছেন: কুরআন সংরক্ষণকারী যখন জান্নাতে যাবে তখন তাকে বলা হবে কুরআন পাঠ করতে থাক এবং এক এক স্তর করে আরোহণ করতে থাক। তখন সে প্রত্যেক আয়াত পাঠের মাধ্যমে এক স্তর করে আরোহণ করবে। এমনকি তার সংরক্ষিত (মুখস্ত কৃত) সর্বশেষ আয়াত পাঠ করে সে তার নিদৃষ্ট স্থানে আরোহণ করবে এবং সেটাই তার ঠিকানা হবে।" (ইবনে মাজা ২/৩৭৮০) ১৪৪
মাসআলা-৩৫৫: বেশি বেশি সালাম বিনিময়কারী জান্নাতী হবে:
عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَلَامٍ هُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : «يَا أَيُّهَا النَّاسُ أَقْشُوا السَّلَامَ ، وَأَطْعَمُوا الطَّعَامَ وَصَلُّوا وَالنَّاسُ نِيَامٌ تَدْخُلُوا الْجَنَّةَ بِسَلَامٍ "
অর্থ: "আবদুল্লাহ বিন সালাম (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ বলেছেন: হে মানবমন্ডলী! সালাম বিনিময় করো, মানুষকে আহার করাও, যখন মানুষ ঘুমন্ত থাকে তখন নামায পড়, তাহলে নিরাপদে জান্নাতে প্রবেশ করবে।" (তিরমিযী) ১৪৫
মাসআলা-৩৫৬: রুগী দেখাশোনাকারী জান্নাতী হবে:
عَنْ ثَوْبَانَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «عَائِدُ الْمَرِيضِ فِي مَخْرَفَةِ الْجَنَّةِ حَتَّى يَرْجِعَ»
অর্থ: সাওবান (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলূল্লাহ বলেছেন: রুগীর দেখাশোনাকারী যতক্ষণ পর্যন্ত ফিরে না আসে ততক্ষণ পর্যন্ত সে জান্নাতের বাগানে থাকে।” (মুসলিম ৪/২৫৬৮) ১৪৬
মাসআলা-৩৫৭: সাইয়্যেদুল ইস্তেগফার পাঠকারী জান্নাতী হবে:
عَنْ شَدَّادِ بْنِ أَوْسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : «سَيِّدُ الِاسْتِغْفَارِ أَنْ تَقُولَ: اللَّهُمَّ أَنْتَ رَبِّي لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ، خَلَقْتَنِي وَأَنَا عَبْدُكَ، وَأَنَا عَلَى عَهْدِكَ وَوَعْدِكَ مَا اسْتَطَعْتُ، أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا صَنَعْتُ، أَبُوءُ لَكَ بِنِعْمَتِكَ عَلَيَّ، وَأَبُوءُ بِذَنْبِي، فَاغْفِرْ لِي، فَإِنَّهُ لَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا أَنْتَ» قَالَ: «وَمَنْ قَالَهَا مِنَ النَّهَارِ مُوقِنًا بِهَا، فَمَاتَ مِنْ يَوْمِهِ قَبْلَ أَنْ يُمْسِيَ، فَهُوَ مِنْ أَهْلِ الْجَنَّةِ، وَمَنْ قَالَهَا مِنَ اللَّيْلِ وَهُوَ مُوقِنٌ بِهَا، فَمَاتَ قَبْلَ أَنْ يُصْبِحَ، فَهُوَ مِنْ أَهْلِ الْجَنَّةِ»
অর্থ: "হে আল্লাহ! তুমি আমার প্রভু, তুমি ব্যতীত ইবাদতের যোগ্য আর কোনো ইলাহ নেই। তুমি আমাকে সৃষ্টি করেছো, আর আমি হচ্ছি তোমার বান্দা, আর আমি আমার সাধ্যমত তোমার প্রতিশ্রুতিতে অঙ্গীকারাবদ্ধ। আমি আমার কৃতকর্মের অনিষ্টতা থেকে তোমার আশ্রয় কামনা করছি, আমার প্রতি তোমার নিআমতের স্বীকৃতি প্রদান করছি, আর আমি আমার গুনাহখাতা স্বীকার করছি, অতএব তুমি আমাকে ক্ষমা করো, নিশ্চয় তুমি ব্যতীত গুনাহ মাফকারী আর কেউ নেই। যে ব্যক্তি একীনসহ এদুআ দিনের বেলা পাঠ করে, আর সন্ধ্যার পূর্বে মৃত্যুবরণ করে সে জান্নাতী। আর যে ব্যক্তি রাতের বেলা ইকীন সহ এদুআ পাঠ করে এবং সকাল হওয়ার পূর্বে মৃত্যুবরণ করে সেও জান্নাতী।" (বুখারী ৮/৬৩০৬) ১৪৮
মাসআলা-৩৬০: যার চোখ অন্ধ হয়ে যায় আর সে তাতে ধৈর্যধারণ করে সে জান্নাতী হবে:
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، قَالَ: سَمِعْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: " إِنَّ اللَّهَ تَعَالَى قَالَ: إِذَا ابْتَلَيْتُ عَبْدِي بِحَبِيبَتَيْهِ فَصَبَرَ ، عَوَّضْتُهُ مِنْهُمَا الْجَنَّةَ "
অর্থ: "আনাস বিন মালেক (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি নবী -কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আল্লাহ বলেন: আমি যখন আমার কোনো প্রিয় বান্দাকে তার দু'টি প্রিয় অঙ্গ (চোখ দ্বারা) আমি পরীক্ষা করি, আর সে তাতে ধৈর্যধারণ করে তখন এর বিনিময়ে আমি তাকে জান্নাত দান করি।” (বুখারী ৭/৫৬৫৩) ১৪৯
মাসআলা-৩৬১: পিতা-মাতার সেবাকারী জান্নাতী হবে:
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِي صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ رَغِمَ أَنْفُهُ، ثُمَّ رَغِمَ أَنْفُهُ، ثُمَّ رَغِمَ أَنْفُهُ قِيلَ: مَنْ؟ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ: «مَنْ أَدْرَكَ وَالِدَيْهِ عِنْدَ الْكِبَرِ ، أَحَدَهُمَا أَوْ كِلَيْهِمَا، ثُمَّ لَمْ يَدْخُلِ الْجَنَّةَ»
অর্থ: "আবু হুরায়রা (রা) নবী থেকে বর্ণনা করেছেন তিনি বলেন: ঐ ব্যক্তির নাক ধূলায় ধুলণ্ঠিত হোক, ঐ ব্যক্তির নাক ধূলায় ধুলন্ঠিত থেকে, ঐ ব্যক্তির নাক ধূলায় ধুলণ্ঠিত হোক, যে তার পিতা-মাতাকে বা তাদের কোনো একজনকে বা উভয়কে বৃদ্ধ বয়সে পেল অথচ তাদের সন্তুষ্টি অর্জন করে জান্নাত লাভ করতে পারলো না।" (মুসলিম ৪/২৫৫১)১৫০
মাসআলা-৩৬২: মুসলমানদের কোনো কষ্টদায়ক বস্তু দূরকারী জান্নাতী হবে:
عن أبي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِنَّ الشَّجَرَةَ كَانَتْ تُؤْذِي الْمُسْلِمِينَ فَجَاءَ رَجُلٌ فَقَطَعَهَا فَدَخَلَ الْجَنَّةَ.
অর্থ: "আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ বলেছেন: একটি গাছ মুসলমানদেরকে কষ্ট দিতে ছিল, তখন এক ব্যক্তি এসে তা কেটে দিল, এর বিনিময়ে সে জান্নাত লাভ করলো।” (মুসলিম) ১৫১
মাসআলা-৩৬৩: রোগে ধৈর্যধারণকারী জান্নাতী হবে:
عن أبي رَبَاحٍ قَالَ لِي ابْنُ عَبَّاسٍ هِ أَلَا أُرِيكَ امْرَأَةً مِنْ أَهْلِ الْجَنَّةِ؟ قُلْتُ: بَلَى، قَالَ: هَذِهِ الْمَرْأَةُ السَّوْدَاءُ، أَتَتِ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَتْ: إِنِّي أَصْرَعُ، وَإِنِّي أَتَكَشَّفُ، فَادْعُ اللَّهَ لِي، قَالَ: «إِنْ شِئْتِ صَبَرْتِ وَلَكِ الْجَنَّةُ، وَإِنْ شِئْتِ دَعَوْتُ اللَّهَ أَنْ يُعَافِيَكِ» فَقَالَتْ: أَصْبِرُ. فَقَالَتْ: إِنِّي أَتَكَشَّفُ ، فَادْعُ اللَّهَ لِي أَنْ لَا أَتَكَشَّفَ ، فَدَعَا لَهَا
অর্থ: "আতা বিন আবী রাবাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন ইবনে আব্বাস (রা) আমাকে বলেছেন, আমি কি তোমাকে একজন জান্নাতী রমণী দেখাবো না? আমি বললাম কেন নয়, তিনি এক মহিলার প্রতি ইঙ্গিত করে বললেন: গত কাল যে মহিলাটি, নবী -এর নিকট এসে বললো: যে, আমি মৃগী রুগী, আর এ রোগে আক্রান্ত হলে আমার সতর খুলে যায়, তাই আপনি কি আমার জন্য আল্লাহর নিকট দুআ করবেন যেন আল্লাহ আমাকে সুস্থ করেন? তিনি বললেন: যদি তুমি চাও তাহলে ধৈর্য ধরো আর এর বিনিময়ে তুমি জান্নাত লাভ করবে। আর যদি তুমি চাও তাহলে আমি তোমার জন্য দুয়া করি, তিনি তোমাকে সুস্থ করে দিবেন, তখন ঐ মহিলা বললো: আমি ধর্য্যধারণ করবো। কিন্তু সাথে আবেদনও করছি যে এ রোগে আক্রান্ত হলে আমার সতর খুলে যায়, আপনি আমার জন্য দুআ করুন যাতে আমার সতর না খুলে, রাসূলুল্লাহ ﷺ তার জন্য এ দুআ করলেন।" (বুখারী ৭/৫৬৫২)১৫২
মাসআলা-৩৬৪: নবী, শহিদ, সিদ্দীক, মৃত্যুবরণ কারী নবজাতক শিশু, আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে মুসলিম ভাইয়ের সাথে সাক্ষাতকারী জান্নাতী হবে:
মাসআলা-৩৬৫: স্বীয় স্বামীর ভক্ত, অধিক সন্তান জন্মদানে কষ্ট সহ্যকারী এবং স্বামীর নির্যাতনে ধৈর্যধারণ কারীনী জান্নাতী হবে:
عَنْ كَعْبِ بْنِ عُجْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : «أَلَا أُخْبِرُكُمْ بِرِجَالِكُمْ مِنْ أَهْلِ الْجَنَّةِ؟» ، قَالُوا: بَلَى يَا رَسُولَ اللَّهِ، قَالَ: «النَّبِيُّ فِي الْجَنَّةِ، وَالشَّهِيدُ فِي الْجَنَّةِ، وَالصِّدِّيقُ فِي الْجَنَّةِ، وَالْمَوْلُودُ فِي الْجَنَّةِ، وَالرَّجُلُ يَزُورُ أَخَاهُ فِي جَانِبِ الْمِصْرِ فِي الْجَنَّةِ، أَلَا أُخْبِرُكُمْ بِنِسَائِكُمْ مِنْ أَهْلِ الْجَنَّةِ؟» ، قَالُوا : بَلَى يَا رَسُولَ اللَّهِ، قَالَ: " الْوَدُودُ الْوَلُودُ الَّتِي إِنْ ظَلَمَتْ أَوْ ظُلِمَتْ قَالَتْ: هَذِهِ نَاصِيَتِي بِيَدِكَ، لَا أُذُوقُ غَيْضًا حَتَّى تَرْضَى "
অর্থ: "কা'ব বিন ওজরা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন রাসূলূল্লাহ ﷺ বলেছেন: আমি কি জান্নাতী পুরুষদের কথা তোমাদেরকে বলবো না? তারা বললেন, বলুন হে আল্লাহর রাসূল ﷺ বললেন নবী, শহীদ, সিদ্দীক, মৃত্যুবরণকারী নবজাতক শিশু, দূর থেকে স্বীয় মুসলিম ভাইকে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে দেখতে আসে এমন ব্যক্তি জান্নাতী, (তিনি আরো বলেন) আমি কি তোমাদেরকে জান্নাতী মহিলাদের ব্যাপারে অবগত করাব না? সাহাবীরা বললো ইয়া রাসূলুল্লাহ! স্বীয় স্বামী ভক্ত, অধিক সন্তান প্রসবে ধৈর্য ধারণকারী, ঐ সতী নারী যে তার স্বামীর অত্যাচারে ধৈর্যধারণ করে বলে যে, আমার হাত তোমার হাতে, আমি ততক্ষণ পর্যন্ত রাগ করবো না যতক্ষণ না তুমি আমার প্রতি সন্তুষ্ট হও।” (ত্বাবারানী) ১৫০
মাসআলা-৩৬৬: শরিয়তে হালালকৃত বিষয়সমূহকে হালাল, এবং হারামকৃত বিষয়সমূহকে হারাম বলে জানা এবং সে অনুযায়ী আমলকারীও জান্নাতী হবে:
عَنْ جَابِرٍ أَنَّ رَجُلًا سَأَلَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، فَقَالَ: أَرَأَيْتَ إِذَا صَلَّيْتُ الصَّلَوَاتِ الْمَكْتُوبَاتِ، وَصُمْتُ رَمَضَانَ، وَ حَلَالْتُ الْحَلَالَ وَحَرَّمْتُ الْحَرَامَ ، وَلَمْ أَزِدْ عَلَى ذَلِكَ شَيْئًا، أَأَدْخُلُ الْجَنَّةَ؟ قَالَ: «نَعَمْ»
অর্থ: "জাবের (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: এক ব্যক্তি রাসূলূল্লাহ -কে জিজ্ঞেস করলো ইয়া রাসূলুল্লাহ ! যদি আমি ফরয নামায আদায় করি, রমযানে রোযা রাখি শরিয়তে হালালকৃত বিষয়সমূহকে হালাল বলে জানি এবং শরিয়তে হারামকৃত বিষয়সমূহকে হারাম বলে জানি, আর এর চেয়ে অধিক আর কোনো কিছু না করি, তাহলে কি আমি জান্নাত পাব? তিনি বললেন: হ্যাঁ। (মুসলিম ১/১৫)১৫৪
মাসআলা-৩৬৭: দু'জন অপ্রাপ্ত বয়স্ক বাচ্চার মৃত্যুতে ধৈর্যধারণকারী ব্যক্তি জান্নাতী হবে:
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ هُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، قَالَ لِنِسْوَةٍ مِنَ الْأَنْصَارِ: «لَا يَمُوتُ لِإِحْدَا كُنَّ ثَلَاثَةٌ مِنَ الْوَلَدِ فَتَحْتَسِبَهُ، إِلَّا دَخَلَتِ الْجَنَّةَ فَقَالَتِ امْرَأَةٌ مِنْهُنَّ : أَوِ اثْنَانِ يَا رَسُولَ اللَّهِ؟ قَالَ: «أَوِ اثْنَانِ»
অর্থ: "আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ এক আনসারী মহিলাকে লক্ষ্য করে বললেন: তোমাদের মধ্যে যার তিনটি সন্তান মৃত্যুবরণ করে আর সে তাতে সাওয়াবের আশা নিয়ে ধৈর্য্যধারণ করে সে জান্নাতী হবে, তাদের মধ্যে এক মহিলা জিজ্ঞেস করলো ইয়া রাসূলুল্লাহ যদি দু'জন মৃত্যুবরণ করে? তিনি বললেন: দুজন মৃত্যুবরণ করলেও। (মুসলিম ৪/২৬৩২)১৫৫
মাসআলা-৩৬৮: প্রত্যেক ফরয নামাযের পর আয়াতুল কুরসী পাঠকারী জান্নাতী হবে:
عَنْ أَبِي أُمَامَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ قَرَأَ آيَةَ الْكُرْسِيِّ دُبُرَ كُلِّ صَلَاةٍ مَكْتُوبَةٍ لَمْ يَمْنَعْهُ مِنْ دُخُولِ الْجَنَّةِ إِلَّا أَنْ يَمُوتَ»
অর্থ: "আবু উমামা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ বলেছেন: যে ব্যক্তি প্রত্যেক ফরয নামাযের পর আয়াতুল কুরসী পাঠ করবে তার জন্য মৃত্যু ব্যতীত জান্নাতে যাওয়ার ব্যাপারে আর কোনো বাধা নেই।” (নাসায়ী, ইবনে হিব্বান, ত্বাবারানী) ১৫৬
মাসআলা-৩৬৯ : "লা-হাওলা ওলা কুয়্যাতা ইল্লা বিল্লাহ" বেশি বেশি করে পাঠকারী জান্নাতী হবে:
عَنْ أَبِي ذَرٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَلَا أَدُلُّكَ عَلَى كَنْزِ مِنْ كُنُوزِ الْجَنَّةِ؟» قُلْتُ : بَلَى يَا رَسُولَ اللَّهِ ﷺ قَالَ: «لَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ»
অর্থ: "আবু যার (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ বলেছেন: আমি কি তোমাদেরকে জান্নাতের খনি সম্পর্কে অবগত করাবো না? আমি বললাম: ইয়া রাসূলুল্লাহ! অবশ্যই অবগত করাবেন, তিনি বললেন: লা-হাওলা ওলা কুয়াতা ইল্লা বিল্লাহ" (বলা)। (ইবনে মাজা ২/৩৮২৫)১৫৭
মাসআলা-৩৭০: "সুবহানাল্লাহিল আযীম ওয়া বিহামdihi" বেশি বেশি পাঠকারী জান্নাতী হবে:
عَنْ جَابِرٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: " مَنْ قَالَ: سُبْحَانَ اللَّهِ الْعَظِيمِ وَبِحَمْدِهِ، غُرِسَتْ لَهُ نَخْلَةٌ فِي الْجَنَّةِ "
অর্থ: "জাবের বিন আবদুল্লাহ (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন রাসূলুল্লাহ বলেছেন: যে ব্যক্তি "সুবহানাল্লাহিল আযীম ওয়া বিহামদিহি" (বড়ত্বের অধিকারী আল্লাহ তাঁর প্রশংসার সাথে পবিত্রতা বর্ণনা করছি) এ দুআ পাঠ করে, তার জন্য জান্নাতে একটি খেজুর গাছ লাগানো হয়।" (তিরমিযী ৪/৩৪৬৪)১৫৮
মাসআলা-৩৭১: যে ব্যক্তি তার সম্পদ রক্ষা করতে গিয়ে অন্যায়ভাবে নিহত হয়েছে সে জান্নাতী হবে:
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ هُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «مَنْ قُتِلَ دُونَ مَالِهِ مَظْلُومًا فَلَهُ الْجَنَّةُ»
অর্থ: "আবদুল্লাহ বিন আমর বিন আস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ বলেছেন: যে ব্যক্তি তার সম্পদ রক্ষা করতে গিয়ে অন্যায়ভাবে নিহত হলো সে জান্নাতী।” (নাসায়ী ৭/৪০৮৬) ১৫৯
মাসআলা-৩৭২: যে নারী অনিচ্ছাকৃত গর্ভপাত হওয়াতে ধৈর্যধারণ করে সে জান্নাতী :
عَنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ هِ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ إِنَّ السِّقْطَ لَيَجُرُّ أُمَّهُ بِسَرَرِهِ إِلَى الْجَنَّةِ إِذَا احْتَسَبَتْهُ»
অর্থ: "মুয়ায বিন জাবাল (রা) নবী থেকে বর্ণনা করেছেন: তিনি বলেন, ঐ সত্তার কসম! যার হাতে আমার প্রাণ, অনিচ্ছাকৃত গর্ভপাতের মাধ্যমে ভূমিষ্ট হওয়া বাচ্চা, তার মায়ের আঙ্গুল ধরে টেনে টেনে জান্নাতে নিয়ে যাবে। তবে এ শর্তে যে ঐ মহিলা সাওয়াবের আশায় তাতে ধৈর্য্যধারণ করেছিলো।” (ইবনে মাজাহ ১/১৬০৯)১৬০
মাসআলা-৩৭৩: ন্যায়বিচার কারী বিচারক জান্নাতী হবে:
عن بريدَةَ رَضِي اللَّهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قاضيانِ فِي أَنَارٍ وَقَاضِ فِي الْجَنَّةِ قَاضِ عَرَفَ الْحَقِّ فَقَضَى بِهِ فَهُوَ فِي الْجَنَّةِ وَقَاضَ عَرِفَ الْحَقِّ فَجَارَ مُتَعَمِّدًا أَوْ قَضَى بِغَيْرِ عِلْمٍ فَهُمَا فِي النَّارِ
অর্থ: "বুরাইদা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলূল্লাহ বলেছেন: দু'প্রকারের বিচারক জাহান্নামী হবে, আর এক প্রকার জান্নাতী হবে, ঐ বিচারক যে সত্যকে বুঝেছে এবং ঐ অনুযায়ী বিচার করেছে সে জান্নাতী হবে, আর যে বিচারক সত্যকে বুঝেছে এবং জেনে বুঝে অন্যায়ভাবে বিচার করেছে এবং ঐ বিচারক যে, কোনো যাচাই বাছাই ব্যতীত বিচার করেছে সেও জাহান্নামী হবে।" (হাকেম)১৬১
মাসআলা-৩৭৪: যে ব্যক্তি কোনো মুসলমান ভাইয়ের অনুপস্থিতিতে তার ইয্যত রক্ষার ব্যাপারে ভূমিকা পালন করলো সে জান্নাতী হবে:
عَنْ أَسْمَاءَ بِنْتِ يَزِيدَ قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ «مَنْ ذَبَّ عَنْ عِرْضِ أَخِيهِ بِالْغَيْبِة كَانَ حَقًّا عَلَى اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ أَنْ يَعْتِقَهُ مِنَ النَّارِ»
অর্থ: "আসমা বিনতে ইয়াযিদ (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ বলেছেন: যে ব্যক্তি কোনো মুসলমানের অনুপস্থিতিতে তার অপমান থেকে তাকে রক্ষা করলো তার ব্যাপারে আল্লাহর দায়িত্ব হলো যে তাকে জাহান্নাম থেকে মুক্ত করা।” (আহমদ)১৬২
মাসআলা-৩৭৫: কারো নিকট কখনো হাত পাতে না এমন ব্যক্তিও জান্নাতী হবে:
عَنْ ثَوْبَانَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ يَكْفُلُ لِي أَنْ لَا يَسْأَلَ النَّاسَ شَيْئًا، وَأَتَكَفَّلُ لَهُ بِالْجَنَّةِ؟
অর্থ: "সাওবান (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ বলেছেন: যে ব্যক্তি আমাকে এ বিষয়ে জিম্মাদারী দিবে যে, সে কারো নিকট কখনো হাত পাতবে না আমি তার জন্য জান্নাতের জিম্মাদার হবো।” (আবু দাউদ ২/১৬৪৩)১৬০
মাসআলা-৩৭৬: রাগ দমন কারী ব্যক্তি জান্নাতী হবে:
عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ اللهِ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : «لَا تَغْضَبْ, وَلَكَ الْجَنَّةُ»
অর্থ: "আবু দারদা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ বলেছেন: তুমি রাগ করো না তোমার জন্য জান্নাত।” (ত্বাবারানী ১/২১)১৬৪
মাসআলা-৩৭৭: আসর ও ফজরের নামায নিয়মিত জামাতের সাথে আদায়কারী ব্যক্তি জান্নাতী হবে:
عَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ أَبِي مُوسَى الْأَشْعَرِي عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «مَنْ صَلَّى الْبَرْدَيْنِ دَخَلَ الْجَنَّةَ»
অর্থ: "আবুবকর বিন আবু মূসা আল আশআরী (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ বলেছেন: যে ব্যক্তি দু'টি ঠাণ্ডার সময় নামায আদায় করে সে জান্নাতী হবে।” (বুখারী ১/৫৭৪)১৬৫
মাসআলা-৩৭৮: যে ব্যক্তি যোহরের পূর্বে চার রাকআত সুন্নাত নিয়মিত আদায় করে সে ব্যক্তি জান্নাতী হবে:
عَنْ أُمْ حَبِيبَةَ قَالَتْ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ صَلَّى قَبْلَ الظُّهْرِ أَرْبَعًا حَرَّمَهُ اللَّهُ عَلَى النَّارِ»
অর্থ: "উম্মে হাবীবা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলূল্লাহ বলেছেন: যে ব্যক্তি যোহরের পূর্বে চার রাকআত নামায (নিয়মিত) আদায় করে তার ওপর আল্লাহ জাহান্নাম হারাম করেছেন।" (তিরমিযী ২/৪২৭)১৬৬
মাসআলা-৩৭৯: একাধারে চল্লিশ দিন পর্যন্ত পাঁচ ওয়াক্ত নামায জামাতের সাথে আদায়কারী জান্নাতী হবে:
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : " مَنْ صَلَّى لِلَّهِ أَرْبَعِينَ يَوْمًا فِي جَمَاعَةٍ يُدْرِكُ التَّكْبِيرَةَ الأُولَى كُتِبَ لَهُ بَرَاءَتَانِ : بَرَاءَةٌ مِنَ النَّارِ، وَبَرَاءَةٌ مِنَ النِّفَاقِ
অর্থ: "আনাস বিন মালেক (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ বলেছেন: যে ব্যক্তি চল্লিশ দিন পর্যন্ত পাঁচ ওয়াক্ত নামায তাকবীরে উলার সাথে জামাতের সাথে নামায আদায় করে তার জন্য দু'টি মুক্তি লিখা হয়, একটি জাহান্নাম থেকে আর অপরটি মুনাফিকী থেকে।” (তিরমিযী ২/২৪১) ১৬৭
মাসআলা-৩৮০: নিম্নোক্ত সাত ব্যক্তি জান্নাতী হবে: (১) ন্যায়বিচারক, (২) যৌবন কালে ইবাদত কারী, (৩) মসজিদের সাথে অন্তরের সম্পর্ক স্থাপনকারী, (৪) আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে অপরের সাথে সম্পর্ক স্থাপনকারী, (৫) আল্লাহর ভয়ে একান্ত ক্রন্দনকারী, (৬) আল্লাহর ভয়ে সুন্দরী রমণীর খারাপ প্রলোভনকে ত্যাগকারী, (৭) গোপনে আল্লাহর পথে দান কারী:
عَنْ أَبِي سَعِيدٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: " سَبْعَةٌ يُظِلُّهُمُ اللَّهُ فِي ظِلَّهِ يَوْمَ لَا ظِلَّ إِلَّا ظِلُّهُ، إِمَامٌ عَادِلٌ، وَشَابٌ نَشَأَ بِعِبَادَةِ اللَّهِ، وَرَجُلٌ كَانَ قَلْبُهُ مُعَلَّقًا بِالْمَسْجِدِ إِذَا خَرَجَ مِنْهُ حَتَّى يَعُودَ إِلَيْهِ، وَرَجُلَانِ تَحَابَّا فِي اللهِ فَاجْتَمَعَا عَلَى ذَلِكَ وَتَفَرَّقَا، وَرَجُلٌ ذَكَرَ اللَّهَ خَالِيًّا فَفَاضَتْ عَيْنَاهُ، وَرَجُلٌ دَعَتْهُ امْرَأَةٌ ذَاتُ حَسَبٍ وَجَمَالٍ فَقَالَ: إِنِّي أَخَافُ اللَّهَ، وَرَجُلٌ تَصَدَّقَ بِصَدَقَةٍ فَأَخْفَاهَا حَتَّى لَا تَعْلَمَ شِمَالُهُ مَا تُنْفِقُ يَمِينُهُ "
অর্থ: "আবু সাঈদ (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ বলেছেন: সাত প্রকার লোককে আল্লাহ তাঁর আরশের ছায়ার নীচে ছায়া দিবেন, ন্যায়বিচারক বাদশাহ, আল্লাহর ইবাদতে মগ্ন যুবক, ঐ ব্যক্তি যার অন্তর একবার মসজিদ থেকে বের হয়ে আসার পর আবার মসজিদে যাওয়ার জন্য উদগ্রীব থাকে, যে দু'জন ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যেই একে অপরকে ভালবাসে এবং এ উদ্দেশ্যে একে অপর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়। ঐ ব্যক্তি যে একা একা আল্লাহর স্মরণে অশ্রুপ্রবাহিত করে, ঐ ব্যক্তি যাকে কোনো উচ্চ বংশের মহিলা ব্যভিচারের জন্য আহ্বান করলো আর সে তার উত্তরে বললো: আমি আল্লাহকে ভয় করি। ঐ ব্যক্তি যে এমনভাবে দান করে সে তার বাম হাত জানে না যে তার ডান হাত কি দান করেছে।" (তিরমিযী ৪/২৩৯১)১৬৮
মাসআলা-৩৮১: অপরকে ক্ষমাকারী জান্নাতী হবে:
عَنْ مُعَاذٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ " مَنْ كَتَمَ غَيْظًا، وَهُوَ قَادِرٌ عَلَى أَنْ يُنْفِنَ، دَعَاهُ اللَّهُ تَبَارَكَ وَتَعَالَى عَلَى رُءُوسِ الْخَلَائِقِ حَتَّى يُخَيِّرَهُ مَا مِنَ الْحُورِ الْعِينِ يُزَوجَهُ مِنْهُ شَاءَ "
অর্থ: "মুয়ায (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ বলেছেন: যে ব্যক্তি প্রতিশোধ নিতে পরিপূর্ণভাবে সক্ষম ছিল কিন্তু সে প্রতিশোধ না নিয়ে রাগকে দমন করল, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাকে সমস্ত সৃষ্টি জীবের সামনে উপস্থিত করে, তাকে হুরেইন বাছাই করার স্বাধীনতা দিবেন, তাদের মধ্যে যাকে খুশি তাকে সে বিয়ে করবে।” (আহমদ ২৪/১৫৬৩৭)১৬৯
মাসআলা-৩৮২: অহংকার, খিয়ানত, ঋণ থেকে মুক্ত ব্যক্তি জান্নাতী হবে:
عَنْ ثَوْبَانَهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : " مَنْ مَاتَ وَهُوَ بَرِيءٌ مِنْ ثَلَاثٍ : الْكِبْرِ، وَالْغُلُولِ، وَالدَّيْنِ دَخَلَ الْجَنَّةَ "
অর্থ: "সাওবান (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ বলেছেন: যে ব্যক্তি অহংকার, খিয়ানত, ঋণ থেকে মুক্ত থাকে সে জান্নাতী হবে।” (তিরমিযী ৪/১৫৭২)১৭০
মাসআলা-৩৮৩: আযানের উত্তর দাতা জান্নাতী হবে:
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ هِ قَالَ كُنَّا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، فَقَامَ بِلَالٌ يُنَادِي، فَلَمَّا سَكَتَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ قَالَ مِثْلَ هَذَا يَقِينَا دَخَلَ الْجَنَّةَ»
অর্থ: "আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমরা একদা রাসূলুল্লাহ -এর সাথে ছিলাম, তখন বেলাল (রা) দাড়িয়ে আযান দিলেন, যখন সে আযান শেষ করলো তখন রাসূলুল্লাহ বললেন: যে ব্যক্তি দৃঢ় বিশ্বাস সহ মুয়ায্যনের ন্যায় বলবে সে জান্নাতী হবে।" (নাসায়ী ২/৬৭৪)১৭১
টিকাঃ
১২৫ কিতাবুল জান্না ওয়া সিফাতু নায়িমিহা।
১২৬ কিতাবুল ইতিসাম বিল কিতাবি ওয়াসসুন্না। বাব ইকতেদা বি সুনানি রাসূলিল্লাহ।
১২৭ কিতাব সালাতুল মুসাফিরীন, বাব ফযলু সুনানিরত্মাতিবা।
১২৮ কিতাবুল ইমান, বাব বয়ানুল ঈমান আল্লাষী ইয়াদখুলুল জান্না।
১২৯ আবওয়াবুল জান্না, বাব মা যায়া ফি সিফাত গুরাফিল জান্না (২/২০৫১)
১৩০ কিতাবুল জান্না ওয়া সিফাতু নায়িমিহা, বাব সিফাতু আহলিল জান্না ওয়ান্নার।
১৩১ আবওয়াবুল বিতর, বাব ফিল ইস্তেগফার (১/১৩৫৩)
১৩২ কিতাবুল বির ওয়াসসিলা, বাব ফযলুল ইহসান ইলালবানাত।
১৩৩ মোখতাসার সহীহ মুসলিম লি আলবানী, হাদীস নং-১৬৮২।
১৩৪ সহীহ আল জামে আসসাগীর ওয়া যিয়াদাতিহি লি আলবানী, খ. ১ম, হাদীস নং-৬৭৩।
১৫০ কিতাবুল জিহাদ, বাব ফি ফাযলি শুহাদা। (২/২২০০)
১৩৬ আবওয়াব ফজলুল জিহাদ, বাবা মা মায়া ফিল মুজাহিদ ওয়াল মুকাতিব, ওয়ান্নাকিহ, (২/১৩৫৩)
১৩৭ কিতাবুল বির ওয়াসসিলা, বাব মাযায়া ফি হুসনিল খুলক।
১৩৮ কিতাবুযযুহদ, বাব ফজলুল ইহসান ইলা আল আরমিলা ওয়াল মিসকীন ওয়াল ইয়াতীম।
১৩৯ কিতাবুল ওমরা, বাব উজুবুল ওমরা ওয়া ফযলুহা।
১৪০ কিতাবুযযুহেদ, বাব ফযলু বিনায়িল মাসজিদ।
১৪১ কিতাবুর রিকাক, বাব হিফযুল প্লিসান।
১৪২ তামামুল মিন্না বিবায়ানিল খিসাল আল মুওজেবা বিল জান্না, হাদীস নং-১৩৬।
১৪৩ আললুলু ওয়াল মারজান (২য় খ. হাদীস নং-১৭১৪)
১৪৪ কিতাবুল আদব, আবওয়াবুযযিকর, বাব সাওয়াবুল কুরআন, (২/৩০৪৭)
১৪৫ আবওয়াব সিফাতুল কিয়ামা, অনুচ্ছেদ নং (১০/২০১৯)
১৪৬ কিতাবুল বির ওয়াসসিলা, বাব ফষলু ইয়াদাতিল মারিয।
১৪৮ মোখতাসার সহীহ বুখারী লি যুবাইদী, হাদীস নং-২০৭০।
১৪৯ কিতাবুল মারায, বাব ফযলু মান যাহাবা বাসারুহ।
১৫০ কিতাবুল বির ওয়াসসিলা, বাব তাকদীম বিরুল ওয়ালিদাইন আলা তাতাউ' বিসসালা।
১৫১ কিতাবুল বির ওয়াসসিলা, বাব ফাজলু ইষালাতিল আযা মিনাত্তারীক।
১৫২ কিতাবুল মারজা, বাব ফাজলু মান ইয়ুসরাউ মিনাররিহ।
১৫৩ আল জামে আসসাগীর লি আলবানী, হাদীস নং-২৬০১।
১৫৪ কিতাবুল ঈমান, বাব বায়ান আল্লাজি ইয়াদুখুলুল জান্না।
১৫৫ কিতাবুল বিররি ওয়াসসিলা, বাব ফাজলু মান ইয়ামুতু লাহু ওলাদ ফাইয়াহসাবুহু।
১৫৬ সিলাসিলা আহাদীস সহীহা লি আলবানী, খ. ২, হাদীস নং-৯৭২।
১৫৭ সুনান ইবনে মাজা লি আল বানী, খ. ২য়, হাদীস নং-৩০৮৩।
১৫৮ সহীহ জামে আত তিরমিযী, লি আলবানী, ৩য় খ. হাদীস নং-২৭৫৭।
১৫৯ কিতাব তাহরিমিদ্দাম, বাব মান কাতালা দুনা মালিহি ৩/৩৮০৮)।
১৬০ কিতাবুল জানায়েয, বাৰ মাযায়া ফি মান উসীবা বি সাকت (১/১৩০৫)
১৬১ সহীহ আল জামে; আসসাগীর লি আলবানী, খ. ৩য়, হাদীস নং-৪১৭৪।
১৬২ সহীহ আল জামে' আসসাগীর লি আলবানী, খ. ৫ম, হাদীস নং-৬১১৬।
১৬৩ কিতাবুয যাকাত, বাব কারাহিয়্যাতুল মাসআলা (১/১৪৪৬)
১৬৪ সহীহ আল জামে আসসাগীর লি আলبানী, খ. ৬ষ্ঠ, হাদীস নং-৭২৫১।
১৬৫ কিতাবুসসাল, বাব ফাজলু সালাতিسسوبহি ওয়াল আসর।
১৬৬ কিতাবুস সালাহ বাব (১/৩১৫)
১৬৭ আবওয়াবুসসালাহ, বাব ফি ফাযলি তাকبীরাতুল উلا। (১/২০০)
১৬৮ কিতাবুযযুহদ, বাব মাযায়া ফি হুব্বিল্লাহ (২/১৯৪৯)
১৬৯ সহীহ আল জামে; আসسাগীর লি আলبانی, খ. ৫ম হাদীس নং-৬৩৯৪।
১৭۰ ابওয়ابوسسایب, باب ال غلول (۲/۱۲۷۸)
১৭১ কিতাবুল আযান, বাব সাওয়াবু জালিকা (১/৬৫০)
📄 প্রাথমিকভাবে জান্নাত থেকে বঞ্চিত লোকেরা
মাসআলা-৩৮৩: মিথ্যা কসম করে অন্যের হক নষ্টকারী জান্নাতে যাবে না:
عَنْ أَبِي أُمَامَةَ هِ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «مَنِ اقْتَطَعَ حَقَّ امْرِئٍ مُسْلِمٍ بِيَمِينِهِ، فَقَدْ أَوْجَبَ اللَّهُ لَهُ النَّارَ، وَحَرَّمَ عَلَيْهِ الْجَنَّةَ» فَقَالَ لَهُ رَجُلٌ : وَإِنْ كَانَ شَيْئًا يَسِيرًا يَا رَسُولَ اللَّهِ؟ قَالَ: «وَإِنْ قَضِيبًا مِنْ أَرَاكِ»
অর্থ: "আবু উমামা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ বলেছেন: যে ব্যক্তি মিথ্যা কসম করে কোনো ব্যক্তির হক নষ্ট করলো, আল্লাহ তার জন্য জাহান্নাম ওয়াজিব করেছেন এবং জান্নাত হারাম করেছেন, এক ব্যক্তি বললো: ইয়া রাসূলুল্লাহ যদিও সাধারণ কোনো বিষয় হয়? তিনি বললেন: যদিও কোনো ডালের একটি শাখাই হোক না কেন।” (মুসলিম ১/১৩৭)১৭২
মাসআলা-৩৮৪: হারামাভাবে সম্পদ উপার্জন ও ভক্ষণকারী জান্নাতে যাবে না:
عَنْ أَبِي بَكْرِ الصِّدِيقِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «لَا يَدْخُلُ الْجَنَّةَ جَسَدٌ غُذِيَ بِحَرَامٍ »
অর্থ: "আবু বকর (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ বলেছেন: যে শরীর হারাম খাদ্য দিয়ে লালিত হয়েছে তা জান্নাতে যাবে না।” (বাইহাকী ১/৮৩) ১৭৩
মাসআলা-৩৮৫: পিতা-মাতার অবাধ্য, দাইউস, পুরুষের সাদৃশ্য অবলম্বনকারী মহিলা জান্নাতে যাবে না:
عَنْ بْنِ عُمَرَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : " ثَلَاثَةٌ لَا يَدْخُلُونَ الْجَنَّةَ: الْعَاقُ لِوَالِدَيْهِ، وَالدَّيُّوتُ، وَرَجُلَةُ النِّسَاءِ "
অর্থ: "ইবনে ওমর (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ বলেছেন: তিন ব্যক্তি জান্নাতে যাবে না, পিতা-মাতার অবাধ্য, দাইউস ও পুরুষের সাদৃশ্য অবলম্বনকারী মহিলা।” (হাকেম) ১৭৪
মাসআলা-৩৮৬: আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারী জান্নাতে যাবে না:
عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ جُبَيْرِ بْنِ مُطْعِمٍ عَنْ أَبِيهِ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : «لَا يَدْخُلُ الْجَنَّةَ قَاطِع»
অর্থ: "মুহাম্মদ বিন জুবাইর বিন মুতয়িম (রা) তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ বলেছেন: আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারী জান্নাতে যাবে না।” (তিরমিযী ৩/১৯০৯) ১৭৫
মাসআলা-৩৮৭: স্বীয় অধিনস্তদেরকে প্রতারণাকারী বিচারক জান্নাতে যাবে না:
عَنِ مَعْقِلَ بْنَ يَسَارٍ قَالَ سَمِعْتُهُ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، فَقَالَ: «مَا مِنْ وَالٍ يَلِي رَعِيَّةً مِنَ الْمُسْلِمِينَ، فَيَمُوتُ وَهُوَ غَالٌّ لَهُمْ ، إِلَّا حَرَّمَ اللَّهُ عَلَيْهِ الْجَنَّةَ»
অর্থ: "মা'কাল বিন ইয়াসার (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী- কে বলতে শুনেছি তিনি বলেন: মুসলমানদের ওপর প্রতিনিধিত্বকারী শাসক, যদি এ অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে যে, সে তার অধিনস্তদেরকে ধোঁকা দিয়েছে তাহলে আল্লাহ তার জন্য জান্নাত হারাম করেছেন।” (বুখারী ৯/৭১৫১)১৭৬
মাসআলা-৩৮৮: উপকার করে খোঁটা দেয়, পিতা-মাতার অবাধ্য, সর্বদা মদ পানকারী জান্নাতে যাবে না:
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو هِ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «لَا يَدْخُلُ الْجَنَّةَ مَنَانٌ، وَلَا عَاقٌ، وَلَا مُدْمِنْ خَمْرٍ »
অর্থ: "আবদুল্লাহ বিন আমর (রা) নবী থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: উপকার করে খোঁটা দেয়, পিতা-মাতার অবাধ্য, সর্বদা মদ পান করে এমন ব্যক্তি জান্নাতে যাবে না।” (নাসায়ী ৮/৫৬৭২)১৭৭
মাসআলা-৩৮৯: প্রতিবেশীকে কষ্ট দাতা জান্নাত থেকে বঞ্চিত হবে:
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ هِ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «لَا يَدْخُلُ الْجَنَّةَ مَنْ لَا يَأْمَنُ جَارُهُ بَوَائِقَهُ»
অর্থ: "আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ বলেছেন: যার অত্যাচার থেকে তার প্রতিবেশীরা নিরাপদ নয় সে জান্নাতে প্রবেশ করবে না।” (মুসলিম ১/৪৬)১৭৮
মাসআলা-৩৯০: অশ্লীল ভাষী ও বদ মেজাজী লোক জান্নাতে যাবে না:
عَنْ حَارِثَةَ ابْنِ وَهْبٍ ﷺ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : «لَا يَدْخُلُ الْجَنَّةَ الْجَوَاظُ وَلَا الْجَعْظَرِيُّ»
অর্থ: "হারেসা বিন ওহাব (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ বলেছেন: অশ্লীল ভাষী ও বদ মেজাজী লোক জান্নাতে যাবে না।" (আবু দাউদ ৪/৪৮০১)১৭৯
মাসআলা-৩৯১: অহংকারী জান্নাতে প্রবেশ করবে না:
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ هِ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «لَا يَدْخُلُ الْجَنَّةَ مَنْ كَانَ فِي قَلْبِهِ مِثْقَالُ ذَرَّةٍ مِنْ كِبْرٍ»
অর্থ: "আবদুল্লাহ বিন মাসউদ (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলূল্লাহ বলেছেন: যার অন্তরে বিন্দু পরিমাণ অহংকার আছে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে না।” (মুসলিম ১/৯১)১৮০
মাসআলা-৩৯২: চোগলখোর জান্নাতে যাবে না:
عَنْ حُذَيْفَةَ اللهِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَا يَدْخُلُ الْجَنَّةَ فَتَاتُ»
অর্থ: "হুযাইফা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ বলেছেন: চোগলখোর জান্নাতে প্রবেশ করবে না।" (আবু দাউদ ৪/৪৮৭১)১৮১
নোট: কোনো কোনো হাদীসে নাম্মাম শব্দ এসেছে। উভয় শব্দের অর্থ একই।
মাসআলা-৩৯৩: জেনে বুঝে নিজেকে অন্য পিতার প্রতি সম্পর্ক কারী জান্নাতে প্রবেশ করবে না:
عَنْ سَعْدٍ بْنِ أَبِي وَقَاصِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ، قَالَ سَمِعْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، يَقُولُ: «مَنِ ادَّعَى إِلَى غَيْرِ أَبِيهِ، وَهُوَ يَعْلَمُ أَنَّهُ غَيْرُ أَبِيهِ، فَالْجَنَّةُ عَلَيْهِ حَرَامٌ »
অর্থ: "সা'দ বিন আবু ওক্কাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি নবী-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: যে ব্যক্তি জেনে বুঝে নিজেকে অন্য পিতার প্রতি সম্পর্ক করে তার জন্য জান্নাত হারাম।" (বুখারী ৮/৬৭৬৬)১৮২
মাসআলা-৩৯৪: বিনা কারণে তালাক দাবীকারী মহিলা জান্নাতে প্রবেশ করবে না:
عَنْ ثَوْبَانَ اللهُ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «أَيُّمَا امْرَأَةٍ سَأَلَتْ زَوْجَهَا طَلَاقًا مِنْ غَيْرِ بَأْسٍ فَحَرَامٌ عَلَيْهَا رَائِحَةُ الْجَنَّةِ»
অর্থ: "সাওবান (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ বলেছেন: যে মহিলা তার স্বামীর নিকট বিনা কারণে তালাক দাবী করে সে জান্নাতের সুঘ্রাণও পাবে না।” (তিরমিযী ৩/১১৮৭, ইবনে মাজাহ)১৮৩
মাসআলা-৩৯৫: কালো রংয়ের কলপ ব্যবহারকারী জান্নাতে প্রবেশ করবে না:
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ ই قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : «يَكُونُ قَوْمٌ يَخْضِبُونَ فِي آخِرِ الزَّمَانِ بِالسَّوَادِ، كَحَوَاصِلِ الْحَمَامِ ، لَا يَرِيحُونَ رَائِحَةَ الْجَنَّةِ»
অর্থ: "আবদুল্লাহ বিন আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ বলেছেন: শেষ যামানায় কিছু লোক কবুতরের পায়খানার ন্যায় কালো কলপ ব্যবহার করবে, তারা জান্নাতের সুঘ্রাণও পাবে না।" (আবু দাউদ ৪/৪২১২) ১৮৪
টিকাঃ
১৭২ কিতাবুল ঈমান, বাব ওয়ায়ীদ মান ইকতাতায়া হাক্কুমুসলিম বিয়ামীনিহি।
১৭৩ মিশকাতুল মাসাবীহ, লি আলবানী, কিতাবুল বুয়ু, বাব কাসব ওয়া তালাবুল হালাল (২/২৭৮৭)
১৭৪ কিতাবুল জামে আসসাগীর লি আলবানী, খ. ৩, (হাদীস নং৩০৫৮)
১৭৫ আবওয়াবুল বির ও ওয়াস সিলা, বাব সিলাতুর রেহেম (২/১৫৫৯)
১৭৬ কিতাবুল আহকাম বাব মান ইস্তারা রায়িয়্যা ফালাম ইয়ানফা।
১৭৭ কিতাবুল আসতুর বিহি, বাব আর রুইয়া ফিল মুদমিনীনা ফিল খামر (৩/৫২৪۱)
১৭৮ কিতাবুল ঈমান, বাব বায়ান তাহরীম ইযা আল জার।
১৭৯ কিতাবুল আদব, বাব ফি হুসনিল খুলক। (৩/৪০১৭)
১৮০ কিতাবুল ঈমান বাব তাহরীমুল কিبر।
১৮১ কিতابুল আদب, باب ফিল কাত্তাত (৩/৪০৭৬)
১৮২ কিতাবুল ফারায়েয, বাব মান ইদ্দায়া গাইরা আবিহি।
১৮৩ সহীহ সুনানে তিরমিযী, আবওয়াবুত্তালাক, বাব ফি মুখতালিয়াত, (২/৩৫৪৮)
১৮৪ কিতাবুল লিবাস, বাব মাযায়া ফি খিজাবিসসওদা (৯২/৩৫৪৮)
📄 নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তির ব্যাপারে বলা যাবে না যে সে জান্নাতী
মাসআলা-৩৯৬: নির্দিষ্ট করে কোনো ব্যক্তিকে বলা যে, সে জান্নাতী এটা নাজায়েয:
মাসআলা-৩৯৭: কে জান্নাতী আর কে জাহান্নামী তার সঠিক জ্ঞান একমাত্র আল্লাহরই আছে:
أَنَّ أُمَّ الْعَلَاءِ امْرَأَةً مِنَ الْأَنْصَارِ وَهِيَ مِمَّنْ بَايَعَتِ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَتْ أَنَّهُ اقْتُسِمَ الْمُهَاجِرُونَ قُرْعَةً فَطَارَ لَنَا عُثْمَانُ بْنُ مَطْعُونٍ فَأَنْزَلْنَاهُ فِي أَبْيَاتِنَا، فَوَجِعَ وَجَعَهُ الَّذِي تُوُفِّيَ فِيهِ، فَلَمَّا تُوُفِّيَ وَغُسِلَ وَكُفْنَ فِي أَثْوَابِهِ ، دَخَلَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، فَقُلْتُ: رَحْمَةُ اللَّهِ عَلَيْكَ أَبَا السَّائِبِ، فَشَهَادَتِي عَلَيْكَ : لَقَدْ أَكْرَمَكَ اللَّهُ، فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : «وَمَا يُدْرِيكِ أَنَّ اللَّهَ قَدْ أَكْرَمَهُ؟» فَقُلْتُ: بِأَبِي أَنْتَ يَا رَسُولَ اللَّهِ، فَمَنْ يُكْرِمُهُ اللَّهُ؟ فَقَالَ: «أَمَّا هُوَ فَقَدْ جَاءَهُ الْيَقِينُ.
وَاللَّهِ إِنِّي لَأَرْجُو لَهُ الْخَيْرَ، وَاللَّهِ مَا أَدْرِي، وَأَنَا رَسُولُ اللَّهِ، مَا يُفْعَلُ بِي» قَالَتْ: فَوَاللَّهِ لَا أُرْكِّي أَحَدًا بَعْدَهُ أَبَدًا
অর্থ: "উম্মুল আলা আনসারী (রা) নবী -এর নিকট যারা বাইয়াত করেছিল তাদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, তিনি বলেছেন: লটারীর মাধ্যমে মুহাজিরদেরকে আনসারদের মাঝে বণ্টন করা হয়েছিলো, আমাদের ভাগে ওসমান বিন মাযউন (রা) পড়েছিল, আমরা তাকে আমাদের ঘরে উঠালাম, তখন সে অসুস্থ হয়ে ঐ রোগে মৃত্যুবরণ করলো। মৃত্যুর পর তাকে গোসল দিয়ে কাফন পরানো হলো, রাসূলুল্লাহ আসলেন, আমি বললাম হে আবু সায়েব, (ওসমান বিন মাযউন (রাযিয়াল্লাহু আনহু এর কুনিয়াত) তোমার প্রতি আল্লাহ রহম করুন। তোমার ব্যাপারে আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ তোমাকে ইয্যত দিক, রাসূল (স) বললেন: উম্মুল আলা তুমি কি করে জানলে যে, আল্লাহ তাকে ইযযত দিয়েছেন, আমি বললাম: ইয়া রাসূলুল্লাহ! আমার পিতা-মাতা আপনার জন্য কুরবান হোক! আল্লাহ কাকে ইয্যত দিবেন? তিনি বললেন: নিঃসন্দেহে ওসমান ইন্তেকাল করেছে, আল্লাহর কসম! আমিও আল্লাহর নিকট তার জন্য কল্যাণ কামনা করছি, কিন্তু আল্লাহর কসম! আমি নিজেও জানি না যে কিয়ামতের দিন আমার কি অবস্থা হবে? অথচ আমি আল্লাহর রাসূল। উম্মুল আলা (রা) বলেন: আল্লাহর কসম! এর পর আমি আর কারো ব্যাপারে বলি নি যে সে পাপ মুক্ত।" (বুখারী) ১৮৫
নোট: (১) নবী যে সমস্ত সাহাবাগণের নাম নিয়ে তাদেরকে জান্নাতের সুসংবাদ দিয়েছেন তাদেরকে জান্নাতী বলা জায়েয আছে।
(২) নিজের ব্যাপারে নবী যে কথা বলেছেন, তা হলো আল্লাহর বড়ত্ব, গৌরব, অ-মুখাপেক্ষিতা ও ক্ষমতার প্রতি লক্ষ্য রেখে বলেছেন, যার বাহ্যিকতা অন্য হাদীসে এভাবে এসেছে যে, কোনো ব্যক্তি তার আমলের বিনিময়ে জান্নাতে যাবে না। জিজ্ঞেস করা হলো হে আল্লাহ রাসূল! আপনিও কি নন? তিনি বললেন: হ্যাঁ আমিও। তবে হ্যাঁ আমার প্রভু স্বীয় রহমত দ্বারা আমাকে ঢেকে রাখবেন। (মুসলিম)
(৩) উসমান বিন মাযউন (রা) দুই বার হাবশায় হিজরতের সুযোগ লাভ করেছিলেন। এরপর তৃতীয় বার মদীনায় হিজরতের সুযোগ লাভ করেছিলেন। তার মৃত্যুর পর রাসূলুল্লাহ তিনবার তার কপালে চুমু দিয়ে বলেছিলেন যে, তুমি পৃথিবী থেকে এমনভাবে বিদায় নিয়েছো যে তোমার আঁচল পৃথিবীর সাথে বিন্দু পরিমাণেও একাকার হয়ে যায়নি। এরপরও তার ব্যাপারে এক মহিলা তাকে জান্নাতী বলে আখ্যায়িত করলে রাসূলুল্লাহ ﷺ তাকে বাধা দিলেন।
মাসআলা-৩১৮ : যুদ্ধের ময়দানে এক ব্যক্তি নিহত হলে সাহাবাগণ তাকে জান্নাতী মনে করতে লাগলেন তখন রাসূলুল্লাহ ﷺ বললেন: কখনো নয় সে জাহান্নামী।
عُمَرَ بْنُ الْخَطَّابِ ﷺ قَالَ: قِيْلَ: يَا رَسُوْلَ اللهِ! إِنَّ فُلاَنًا قُدِ اسْتُشْهِدَ، قَالَ: «كَلاَّ قَدْ رَأَيْتُهُ فِي النَّارِ بِعَبَاءَةٍ قَدْ غَلَّهَا»
অর্থ: “ওমর বিন খাত্তাব (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ ﷺ কে জিজ্ঞাসা করা হলো ইয়া রাসূলাল্লাহ ﷺ ! অমুক ব্যক্তি শাহাদাত বরণ করেছে। তিনি বললেন: কখনো নয় গণীমতোর মাল থেকে একটি চাদর চুরি করার কারণে আমি তাকে জাহান্নামে দেখেছি।" (তিরমিযী ৪/১৫৭৪)৩৫৮
মাসআলা-৩১৯ : কোনো জীবিত বা মৃত ব্যক্তি চাই সে বড় মোত্তাকী, আলেম, ওলী, পীর, ফকীর, দরবেশই হোক না কেন তাকে নিশ্চিত জান্নাতী বলা না জায়েয:
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ﷺ أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ قَالَ: «إِنَّ الرَّجُلَ لَيَعْمَلُ الزَّمَنَ الطَّوِيْلَ بِعَمَلِ أَهْلِ الْجَنَّةِ. ثُمَّ يُخْتَمُ لَهُ عَمَلُهُ بِعَمَلِ أَهْلِ النَّارِ. وَإِنَّ الرَّجُلَ لَيَعْمَلُ الزَّمَنَ الطَّوِيْلَ بِعَمَلِ أَهْلِ النَّارِ. ثُمَّ يُخْتَمُ لَهُ عَمَلُهُ بِعَمَلِ أَهْلِ الْجَنَّةِ»
অর্থ: “আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: কোনো ব্যক্তি দীর্ঘ সময় পর্যন্ত জান্নাতে যাওয়ার আমল করতে থাকে, শেষ পর্যায়ে সে আবার জাহান্নামে যাওয়ার আমল শুরু করে এবং এ অবস্থায় সে মৃত্যুবরণ করে। আবার কোনো ব্যক্তি দীর্ঘ সময় পর্যন্ত জাহান্নামে যাওয়ার আমল করতে থাকে এরপর শেষ পর্যায়ে জান্নাতে যাওয়ার আমল শুরু করে এবং এ অবস্থায় সে মৃত্যুবরণ করে।" (মুসলিম ৪/২০৫১)৩৫৯
মাসআলা-৩৯৮: মানুষের দৃষ্টিতে কোনো ব্যক্তি জান্নাতী বা জাহান্নামী হতে পারে, কিন্তু আল্লাহর নিকট তার বিপরীতও হতে পারে:
عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ السَّاعِدِيِّ هِ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ. قَالَ: «إِنَّ الرَّجُلَ لَيَعْمَلُ عَمَلَ أَهْلِ الْجَنَّةِ، فِيمَا يَبْدُو لِلنَّاسِ وَهُوَ مِنْ أَهْلِ النَّارِ ، وَإِنَّ الرَّجُلَ لَيَعْمَلُ عَمَلَ أَهْلِ النَّارِ، فِيمَا يَبْدُو لِلنَّاسِ وَهُوَ مِنْ أَهْلِ الْجَنَّةِ»
অর্থ: "সাহাল বিন সা'দ (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ বলেছেন: মানুষের দৃষ্টিতে কোনো ব্যক্তি জান্নাতে যাওয়ার আমল করতে পারে, অথচ সে জাহান্নামী হবে, আবার মানুষের দৃষ্টিতে কোনো ব্যক্তি জাহান্নামে যাওয়ার আমল করতে পারে অথচ সে জান্নাতী হবে।" (মুসলিম) ১৮৮
নোট: এমনিতেই তো কবর ও মাযারসমূহে নযর-নেয়াজ দেয়া বিভিন্ন জিনিস লটকানো বড় শিরক, এ হাদীসের আলোকে এটি একটি অর্থহীন কাজও বটে। আর তা এজন্য যে, যে কোনো মৃত ব্যক্তি সম্পর্কে আল্লাহ ব্যতীত আর কেউ জানে না যে সে সেখানে আরামের ঘুম ঘুমাচ্ছে না শাস্তি ভোগ করতেছে।
টিকাঃ
১৮৫ কিতাবুল জানাযেয, বাবুদ্দুখুল আলাল মায়্যিত বা'দাল মাউত ইযা আদরাজা ফি আকফানিহি।
৩৫৮ আওনুলমাবুদ, বাব আল গুল (৭/১২৭৯)
৩৫৯ কিতাবুল কদর।
১৮৮ কিতাবুল কদর।
📄 জান্নাতে বিগত দিনের স্মরণ
মাসআলা-৪০০: পুরাতন সাথীর স্মরণ ও তার সাথে সাক্ষাতের শিক্ষামূলক দৃশ্য:
فَأَقْبَلَ بَعْضُهُمْ عَلَى بَعْضٍ يَتَسَاءَلُونَ . قَالَ قَائِلٌ مِنْهُمْ إِنِّي كَانَ لِي قَرِينٌ . يَقُولُ أَإِنَّكَ لَمِنَ الْمُصَدِّقِينَ . أَإِذَا مِتْنَا وَكُنَّا تُرَاباً وَعِظَامًا أَإِنَّا لَمَدِينُونَ . قَالَ هَلْ أَنتُمْ مُّطَّلِعُونَ . فَاطَّلَعَ فَرَآهُ فِي سَوَاءِ الْجَحِيمِ . قَالَ تَاللَّهِ إِن كدتَّ لَتُرْدِينِ . وَلَوْلا نِعْمَةُ رَبِّي لَكُنتُ مِنَ الْمُحْضَرِينَ . أَفَمَا نَحْنُ بِمَيِّتِيْنَ - إِلَّا مَوْتَتَنَا الأُولَى وَمَا نَحْنُ بِمُعَذِّبِينَ - إِنَّ هَذَا لَهُوَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ - لِمِثْلِ هَذَا فَلْيَعْمَلِ الْعَامِلُونَ .
অর্থ: অতঃপর তারা মুখোমুখি হয়ে পরস্পরকে জিজ্ঞেস করবে। তাদের একজন বলবে, ('পৃথিবীতে) আমার এক সঙ্গী ছিল', সে বলতো, 'তুমি কি সে লোকদের অন্তর্ভুক্ত যারা বিশ্বাস করে'। 'আমরা যখন মরে যাব এবং মাটি ও হাড়ে পরিণত হব তখনও কি আমাদেরকে প্রতিফল দেয়া হবে'? আল্লাহ বলবেন, 'তোমরা কি উঁকি দিয়ে দেখবে?' অতঃপর সে উঁকি দিয়ে দেখবে এবং তাকে (পৃথিবীর সঙ্গীকে) দেখবে জাহান্নামের মধ্যস্থলে। সে বলবে, 'আল্লাহর কসম! তুমি তো আমাকে প্রায় ধ্বংস করে দিয়েছিলে'। 'আমার রবের অনুগ্রহ না থাকলে আমিও তো (জাহান্নামে) হাযিরকৃতদের একজন হতাম'। (জান্নাতবাসী ব্যক্তি বলবে) 'তাহলে আমরা কি আর মরব না'? 'আমাদের প্রথম মৃত্যু ছাড়া, আর আমরা কি আযাবপ্রাপ্ত হব না'? 'নিশ্চয় এটি মহাসাফল্য!' এরূপ সাফল্যের জন্যই 'আমলকারীদের আমল করা উচিত। (সূরা সাফফাত ৩৭:৫০-৬১)
মাসআলা-৪০১: জান্নাতীরা তাদের বৈঠকসমূহে পৃথিবীর জীবনের কথা স্মরণ করবে:
وَأَقْبَلَ بَعْضُهُمْ عَلَى بَعْضٍ يَتَسَاءَلُونَ - قَالُوا إِنَّا كُنَّا قَبْلُ فِي أَهْلِنَا مُشْفِقِينَ - فَمَنَّ اللَّهُ عَلَيْنَا وَوَقَانَا عَذَابَ السَّمُومِ - إِنَّا كُنَّا مِن قَبْلُ نَدْعُوهُ إِنَّهُ هُوَ الْبَرُّ الرَّحِيمُ
অর্থ: আর তারা একে অপরের মুখোমুখি হয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করবে, তারা বলবে, 'পূর্বে আমরা আমাদের পরিবারের মধ্যে শঙ্কিত ছিলাম।' 'অতঃপর আল্লাহ আমাদের প্রতি দয়া করেছেন এবং আগুনের আযাব থেকে আমাদেরকে রক্ষা করেছেন।' নিশ্চয় পূর্বে আমরা তাঁকে ডাকতাম; নিশ্চয় তিনি ইহসানকারী, পরম দয়ালু। (সূরা তূর ৫২:২৫-২৮)