📄 আদম সন্তানদের মধ্যে জান্নাতী ও জাহান্নামীর হার
মাসআলা-২৯৭: হাজারে মাত্র একজন জান্নাতে যাবে আর বাকী ৯৯৯ জন যাবে জাহান্নামে।
عَنْ أَبِي سَعِيدٍ ﷺ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : " يَقُولُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ: يَا آدَمُ فَيَقُولُ : لَبَّيْكَ وَسَعْدَيْكَ وَالْخَيْرُ فِي يَدَيْكَ، قَالَ يَقُولُ: أَخْرِجْ بَعْثَ النَّارِ قَالَ: وَمَا بَعْثُ النَّارِ قَالَ: مِنْ كُلِّ أَلْفٍ تِسْعَ مِائَةٍ وَتِسْعَةً وَتِسْعِينَ قَالَ: فَذَاكَ حِينَ يَشِيبُ الصَّغِيرُ وَتَضَعُ كُلُّ ذَاتِ حَمْلٍ حَمْلَهَا وَتَرَى النَّاسَ سُكَارَى وَمَا هُمْ بِسُكَارَى وَلَكِنَّ عَذَابَ اللَّهِ شَدِيدٌ " قَالَ: فَاشْتَدَّ ذَلِكَ عَلَيْهِمْ قَالُوا : يَا رَسُولَ اللَّهِ أَيْنَو ذَالِكَ الرَّجُلُ؟ فَقَالَ : رَسُولُ الله ﷺ أَبْشِرُوا فَإِنَّ مِنْ يَأْجُوجَ وَمَأْجُوجَ أَلْفًا، وَمِنْكُمْ رَجُلٌ»
অর্থ: "আবু সাঈদ (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন: (কিয়ামতের দিন) আল্লাহ বলবেন, হে আদম! আদম (আ) বলবে: হে আল্লাহ আমি তোমার আনুগত্যে উপস্থিত, আর সমস্ত কল্যাণ তোমার হাতেই। তখন আল্লাহ বলবেন: সৃষ্টির মধ্য থেকে জাহান্নামীদেরকে পৃথক করো। আদম বলবে: জাহান্নামীদের সংখ্যা কত? আল্লাহ বলবেন: এক হাজারের মধ্যে ৯৯৯ জন। নবী ﷺ বলেন: এটা ঐ সময় যখন বাচ্চা বৃদ্ধ হয়ে যাবে, আর গর্ভধারিনীদের গর্ভপাত হয়ে যাবে, আর তুমি লোকদেরকে দেখে বেহুশ বলে মনে করবে, অথচ তারা বেহুশ নয়, বরং আল্লাহর আযাব এতো কঠিন হবে যে, লোকেরা হুশ জ্ঞান হারিয়ে ফেলবে। বর্ণনাকারী বলেন: একথা শুনে সাহাবাগণ হয়রান হয়ে গেল, আর বলতে লাগলো, হে আল্লাহর রাসূল! তাহলে আমাদের মধ্যে এমন সৌভাগ্যবান কে হবে যে জান্নাতে যাবে? তিনি বললেন: আশান্বিত হও। ইয়াজুজ মাজুজের সংখ্যা এতো বেশি হবে যে, ৯৯৯ জন তাদের মধ্য থেকে হবে আর বাকী একজন তোমাদের মধ্য থেকে।" (মুসলিম ১/২২২)৯৪
টিকাঃ
৯৪ কিতাবুল ঈমান, বাব বয়ান কাউনু হাযিহিল উম্মা নিসফ আহলিল জান্না।
📄 সংখ্যাগরিষ্ঠ জান্নাতী মুহাম্মদ ﷺ-এর উম্মত
মাসআলা-২৯৮: জান্নাতীদের দুই তৃতীয়াংশ মুহাম্মদ-এর উম্মত আর বাকী এক তৃতীয়াংশ হবে সমস্ত নবীদের উম্মত:
عَنْ بُرَيْدَةَ হِ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَهْلُ الْجَنَّةِ عِشْرُونَ وَمِائَةُ صَفٍ ثَمَانُونَ مِنْهَا مِنْ هَذِهِ الْأُمَّةِ وَأَرْبَعُونَ مِنْ سَائِرِ الْأُمَمِ»
অর্থ: "বুরাইদা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ বলেন: জান্নাতীদের একশ বিশটি কাতার হবে, যার মধ্যে আশি কাতার হবে মুহাম্মদ-এর উম্মত আর বাকী চল্লিশ কাতার হবে অন্যান্য উম্মত।” (তিরমিযী ৪/২৫৪৬)৯৫
মাসআলা-২৯৯: জান্নাতীদের অর্ধেক সংখ্যক হবে মুহাম্মদ-এর উম্মত:
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ હি قَالَ: قَالَ لَنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَمَا تَرْضَوْنَ أَنْ تَكُونُوا رُبعَ أَهْلِ الْجَنَّةِ؟ قَالَ: فَكَبَرْنَا، ثُمَّ قَالَ: «أَمَا تَرْضَوْنَ أَنْ تَكُونُوا ثُلُثَ أَهْلِ الْجَنَّةِ؟ قَالَ: فَكَبَّرْنَا، ثُمَّ قَالَ: «إِنِّي لَأَرْجُو أَنْ تَكُونُوا شَطْرَ أَهْلِ الْجَنَّةِ، وَسَأُخْبِرُكُمْ عَنْ ذَلِكَ، مَا الْمُسْلِمُونَ فِي الْكُفَّارِ إِلَّا كَشَعْرَةٍ بَيْضَاءَ فِي ثَوْرٍ أَسْوَدَ، أَوْ كَشَعْرَةٍ سَوْدَاءَ فِي ثَوْرٍ أَبْيَضَ»
অর্থ: "আবদুল্লাহ বিন মাউদ (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ আমাদেরকে বলেন তোমরা কি এতে খুশি নও যে, অতপর বললেন: জান্নাতীদের এক চতুর্থাংশ তোমাদের মধ্য থেকে হবে? একথা শুনে আমরা আনন্দে আল্লাহু আকবার বললাম। অতপর রাসূলুল্লাহ বললেন: তোমরা কি এতে খুশি নও যে, জান্নাতীদের এক তৃতীয়াংশ তোমরা হবে? আমরা আনন্দে আবারো আল্লাহু আকবার বললাম। আবার রাসূলুল্লাহ বললেন: আমি আশা করতেছি যে, জান্নাতীদের অর্ধেক তোমরা হবে, আর এর কারণ এই যে, কাফিরদের তুলনায় মুসলমানদের সংখ্যা এমন যেমন কাল চুল বিশিষ্ট এক শরীরে একটি সাদা চুল, বা সাদা চুল বিশিষ্ট শরীরে একটি কাল চুল। (মুসলিম ১/২২১)৯৬
নোট: প্রথম হাদীসে রাসূলুল্লাহ জান্নাতীদের মধ্যে উম্মতে মুহাম্মদীর সংখ্যা এক তৃতীয়াংশ বলে বলেছেন আর পরবর্তী অংশে বলেছেন অর্ধেক, মূলত উভয় অংশের মাধ্যমে জান্নাতে উম্মতে মুহম্মদীর সংখ্যাধিক্য বুঝানোই উদ্দেশ্য। (আল্লাহই এ ব্যাপারে ভাল জানেন)
মাসআলা-৩০০: মুহাম্মদ -এর উম্মতের মধ্যে সত্তর হাজার লোক বিনা হিসেবে ও বিনা শাস্তিতে জান্নাতে যাবে:
মাসআলা-৩০১: প্রত্যেক হাজারের সাথে আরো একহাজার করে (অর্থাৎ ৪৯ লক্ষ) লোক মুহাম্মদ -এর উম্মতের মধ্য থেকে জান্নাতে যাবে:
মাসআলা-৩০২: এতদ্ব্যতীত আল্লাহর তিন লুফ পূর্ণ (যার সংখ্যা একমাত্র আল্লাহই ভাল জানেন) মানুষও উম্মতে মুহাম্মদীর মধ্য থেকে জান্নাতে যাবে:
عَنْ أَبِي أَمَامَةَ الْبَاهِلِيَّ ﷺ يَقُولُ : سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، يَقُولُ: «وَعَدَنِي رَبِّي أَنْ يُدْخِلَ الْجَنَّةَ مِنْ أُمَّتِي سَبْعِينَ أَلْفًا، لَا حِسَابَ عَلَيْهِمْ ، وَلَا عَذَابَ ، مَعَ كُلِّ أَلْفٍ سَبْعُونَ أَلْفًا، وَثَلَاثُ حَثَيَاتٍ مِنْ حَثَيَاتِ رَبِّي
অর্থ: "আবু উমামা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ বলেছেন: আমার রব আমার সাথে ওয়াদা করেছেন যে, আমার উম্মতের মধ্য থেকে সত্তর হাজার লোককে বিনা হিসাব ও শাস্তিহীন ভাবে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। আর এ প্রত্যেক হাজারের সাথে আরো সত্তর হাজার লোক জান্নাতে যাবে। এর সাথে আরো আল্লাহর তিন লুফপূর্ণ লোক জান্নাতে যাবে।” (তিরমিযী)৯৭
عَنْ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ هِ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «يَدْخُلُ الْجَنَّةَ مِنْ أُمَّتِي سَبْعُونَ أَلْفًا بِغَيْرِ حِسَابٍ ، قَالُوا: مَنْ هُمْ يَا رَسُولَ اللَّهِ؟ قَالَ: «هُمُ الَّذِينَ لَا يَسْتَرْقُونَ، وَلَا يَتَطَيَّرُونَ، وَلَا يَكْتَوُونَ وَعَلَى رَبِّهِمْ يَتَوَكَّلُونَ فَقَامَ عُكَاشَةٌ، فَقَالَ: ادْعُ اللَّهَ يَا نَبِيَّ اللَّهِ أَنْ تَجْعَلَنِي مِنْهُمْ ، قَالَ: «أَنْتَ مِنْهُمْ »
অর্থ: "ইমরান বিন হুসাইন (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ বলেছেন: আমার উম্মতের মধ্য থেকে সত্তর হাজার লোক বিনা হিসেবে জান্নাতে যাবে। সাহাবাগণ জিজ্ঞেস করলো ইয়া রাসূলুল্লাহ! ঐ সৌভাগ্যবানরা কারা? তিনি বললেন: তারা ঐসমস্ত লোক যারা কোনো দিন (অসুস্থতার কারণে) কোনো চিকিৎসা বা ঝাড় ফুকের বা ছেঁক দেয়ার ব্যবস্থা করে নি। বরং তারা শুধু তাদের রবের উপর ভরসা করে থাকে। উক্কাসা (রা) বললেন: হে আল্লাহর নবী! আমার জন্য দু'আ করুন আমিও যেন তাদের একজন হতে পারি। নবী বললেন: তুমি তাদের একজন।” (মুসলিম ১/২১৮)৯৮
عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ هِ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: " عُرِضَتْ عَلَيَّ الْأُمَمُ ، فَرَأَيْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَمَعَهُ الرُّهَيْطُ، وَالنَّبِيَّ وَمَعَهُ الرَّجُلُ وَالرَّجُلَانِ، وَالنَّبِيَّ لَيْسَ مَعَهُ أَحَدٌ إِذْ رُفِعَ لِي سَوَادٌ عَظِيمٌ ، فَظَنَنْتُ أَنَّهُمْ أُمَّتِي، فَقِيلَ لِي: هَذَا مُوسَى عَلَيْهِ السَّلَامُ وَقَوْمُهُ، وَلَكِنْ انْظُرْ إِلَى الْأُفُقِ، فَنَظَرْتُ فَإِذَا سَوَادٌ عَظِيمٌ ، فَقِيلَ لِي: انْظُرْ إِلَى الْأُفُقِ الْآخَرِ، فَإِذَا سَوَادٌ عَظِيمٌ ، فَقِيلَ لِي: هَذِهِ أُمَّتُكَ وَمَعَهُمْ سَبْعُونَ أَلْفًا يَدْخُلُونَ الْجَنَّةَ بِغَيْرِ حِسَابٍ وَلَا عَذَابٍ "
অর্থ: "ইবনে আব্বাস (রা) নবী থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার সামনে বিভিন্ন নবীর উম্মতদেরকে পেশ করা হলো, কোনো কোনো নবী এমন ছিল যাদের সাথে দশজন লোকও ছিল না। আবার কোনো কোনো নবীর সাথে এক বা দুজন লোক ছিল, আবার কোনো কোনো নবীর সাথে কোনো লোকই ছিল না। এমতাবস্থায় আমার সামনে এক বিশাল জনসমুদ্র আসল, আমি ভাবলাম তারা আমার উম্মত, কিন্তু আমাকে বলা হলো যে, এ হলো মূসা (আ) এবং তাঁর উম্মত। আমাকে বলা হলো আপনি আকাশের কর্ণারের দিকে তাকান, আমি দেখতে পেলাম সেখানেও এক বিশাল জনসমুদ্র। অতপর আমাকে বলা হলো আপনি আকাশের অন্য কর্ণারের দিকে তাকান, আমি দেখলাম সেখানেও এক বিশাল জনসমুদ্র। তখন আমাকে বলা হলো এরা হলো আপনার উম্মত। যাদের মধ্য থেকে সত্তর হাজার লোক বিনা হিসেবে এবং শাস্তি ছাড়াই ভাবে জান্নাতে যাবে।” (মুসলিম ১/২২০)৯৯
টিকাঃ
৯৫ আবওয়াবুল জান্না, বাব মাযায কাম সফ আহলিল জান্না (২/২০৬৫)।
৯৬ কিতাবুল ঈমান, বাব বয়ান কাওনু হাযিহিল উম্মা নিসফ আহলিল জান্না।
৯৭ কিতাবুল ঈমান, বাব বয়ান কাওনু হাযিহিল উম্মা নিসফ আহলil জান্না।
৯৮ কিতাবুল ঈমান, বাব দলীল আলা দুখুল ত্বয়িফা মিনাল মুসলিমীন আল জান্না বিগাইরি হিসাব।
৯৯ কিতাবুল ঈমান বাব দলীল আলা দুখুল ত্বয়েফা মিনাল মুসলিমীন আল জান্না বিগাইরি হিসাব।
📄 জান্নাতে প্রবেশকারী আমলসমূহ কঠিন
মাসআলা-৩০৩: জান্নাত কঠিন এবং মানুষের মন তিক্তকারী আমল দ্বারা ঢাকা রয়েছে:
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ اللهُ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: " لَمَّا خَلَقَ اللهُ الْجَنَّةَ وَالنَّارَ أَرْسَلَ جِبْرِيلَ إِلَى الْجَنَّةِ فَقَالَ: انْظُرْ إِلَيْهَا وَإِلَى مَا أَعْدَدْتُ لِأَهْلِهَا فِيهَا "، قَالَ: «فَجَاءَهَا وَنَظَرَ إِلَيْهَا وَإِلَى مَا أَعَدَّ اللَّهُ لِأَهْلِهَا فِيهَا». قَالَ: «فَرَجَعَ إِلَيْهِ، قَالَ: فَوَعِزَّتِكَ لَا يَسْمَعُ بِهَا أَحَدٌ إِلَّا دَخَلَهَا. فَأَمَرَ بِهَا فَحُفَّتْ بِالْمَكَارِهِ، فَقَالَ: ارْجِعْ إِلَيْهَا فَانْظُرْ إِلَى مَا أَعْدَدْتُ لِأَهْلِهَا فِيهَا " ، قَالَ : " فَرَجَعَ إِلَيْهَا فَإِذَا هِيَ قَدْ حُفَّتْ بِالْمَكَارِهِ، فَرَجَعَ إِلَيْهِ فَقَالَ: وَعِزَّتِكَ لَقَدْ خِفْتُ أَنْ لَا يَدْخُلَهَا أَحَدٌ، قَالَ: اذْهَبْ إِلَى النَّارِ فَانْظُرْ إِلَيْهَا وَإِلَى مَا أَعْدَدْتُ لِأَهْلِهَا فِيهَا، فَإِذَا هِيَ يَرْكَبُ بَعْضُهَا بَعْضًا، فَرَجَعَ إِلَيْهِ فَقَالَ: وَعِزَّتِكَ لَا يَسْمَعُ بِهَا أَحَدٌ فَيَدْخُلَهَا، فَأَمَرَ بِهَا فَحُفَّتْ بِالشَّهَوَاتِ، فَقَالَ: ارْجِعُ إِلَيْهَا، فَرَجَعَ إِلَيْهَا فَقَالَ: وَعِزَّتِكَ لَقَدْ خَشِيتُ أَنْ لَا يَنْجُو مِنْهَا أَحَدٌ إِلَّا دَخَلَهَا "
অর্থ: "আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ বলেছেন: যখন আল্লাহ জান্নাত ও জাহান্নাম সৃষ্টি করলেন তখন জিবরাঈল (আ)-কে জান্নাতের দিকে পাঠালেন এবং বললেন: জান্নাত এবং জান্নাতীদের জন্য যে, নিআমত আমি প্রস্তুত করে রেখেছি তা দেখে আস। জিবরাঈল (আ) এসে তা দেখলেন এবং জান্নাত ও জান্নাতীদের জন্য যে নিআমত প্রস্তুত করে রাখা হয়েছে তা দেখলো, এরপর আল্লাহর নিকট আসলো, এবং বললো তোমার ইয্যতের কসম! যে-ই এর কথা শুনবে সে অবশ্যই তাতে প্রবেশ করবে। অতপর আল্লাহ ফেরেশতাদেরকে নির্দেশ দিলেন যে জান্নাতকে কষ্টকর আমলসমূহ দিয়ে ঢেকে দাও। এরপর আল্লাহ জিবরাঈল (আ)-কে দ্বিতীয়বার নির্দেশ দিলেন তুমি আবার জান্নাতে যাও এবং জান্নাতীদের জন্য আমি যে নিআমত প্রস্তুত করে রেখেছি তা দেখে আস। জিবরীল গেল তখন জান্নাত কষ্টকর আমলসমূহ দ্বারা ঢাকা ছিল, তখন সে আল্লাহর নিকট ফিরে এসে বললো: তোমার ইয্যতের কসম! আমার ভয় হচ্ছে যে এতে কেউ প্রবেশ করতে পারবে না। অতপর আল্লাহ তাকে নির্দেশ দিলেন যে, এখন জাহান্নামের দিকে যাও এবং জাহান্নামীদের জন্য আমি যে শাস্তি প্রস্তুত করে রেখেছি তা দেখে আস যে, কিভাবে তার এক অংশ অপর অংশকে গ্রাস করছে, জিবরাঈল সবকিছু দেখে ফিরে এসে বললো: তোমার ইযযতের কসম! এমন কোনো লোক হবে না যে তার সম্পর্কে শোনবে অথচ সেখানে সে প্রবেশ করবে। তখন আল্লাহ ফেরেশতাদেরকে নির্দেশ দিলেন যে, জাহান্নামকে মনের কামনা দিয়ে ঢেকে দাও। আল্লাহ জিবরাঈলকে দ্বিতীয়বার বললেন: তুমি আবার যাও, তখন জিবরাঈল দ্বিতীয় বার গেল এবং সবকিছু দেখে এসে বললো: তোমার ইয্যতের কসম! আমার ভয় হচ্ছে যে, এখন এখান থেকে কোনো ব্যক্তিই মুক্তি পাবে না, সবাই সেখানে প্রবেশ করবে।" (তিরমিযী ৪/২৫৬০)১০০
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ اللهِ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : «حُفَّتِ الْجَنَّةُ بِالْمَكَارِهِ، وَحُفَّتِ النَّارُ بِالشَّهَوَاتِ»
অর্থ: "আনাস বিন মালেক (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ বলেছেন: জান্নাত কষ্টকর আমলসমূহ দ্বারা ঢেকে দেয়া হয়েছে, আর জাহান্নাম মনের কামনা দ্বারা ঢেকে দেয়া হয়েছে।" (মুসলিম ৪/২৮২২)১০১
মাসআলা-৩০৪: জান্নাত পেতে হলে কঠোর সাধনার প্রয়োজন রয়েছে:
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ اللهِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : «مَنْ خَافَ أَدْلَجَ، وَمَنْ أَدْلَجَ بَلَغَ الْمَنْزِلَ، أَلَّا إِنَّ سِلْعَةَ اللَّهِ غَالِيَةٌ، أَلَّا إِنَّ سِلْعَةَ اللَّهِ الْجَنَّةُ»
অর্থ: "আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ বলেছেন: যে ব্যক্তি ভয় করেছে সে পালিয়েছে, আর যে পালিয়েছে সে লক্ষস্থলে পৌঁছেছে। জেনে রেখ আল্লাহর সম্পদ অত্যন্ত মূল্যবান, জেনে রেখ আল্লাহর সম্পদ অত্যন্ত মূল্যবান, আর যেনে রেখ আল্লাহর সম্পদ হলো জান্নাত।” (তিরমিযী ৪/২৪৫০)১০২
মাসআলা-৩০৫: নিআমতে ভরপুর জান্নাত অন্বেষণকারী পৃথিবীতে কখনো নিশ্চিন্তায় ঘুমাতে পারবে না:
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ هِ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : «مَا رَأَيْتُ مِثْلَ النَّارِ نَامَ هَارِبُهَا، وَلَا مِثْلَ الْجَنَّةِ نَامَ طَالِبُهَا»
অর্থ: "আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ বলেছেন: আমি জাহান্নাম থেকে পলায়নকারী ব্যক্তিকে কখনো ঘুমাতে দেখি নি। আর জান্নাত অন্বেষণকারীকেও কখনো ঘুমাতে দেখি নি। (তিরমিযী ৪/২৬০১)১০৩
মাসআলা-৩০৬: পরকালে মর্যাদা ও পুরস্কৃত হওয়ার আমলসমূহ পার্থিব দিক থেকে তিক্ত:
عَنْ أَبِي مَالِكِ الْأَشْعَرِي قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «حُلْوَةُ الدُّنْيَا مُرَّةُ الْآخِرَةِ، وَمُرَّةُ الدُّنْيَا حُلُوَةُ الْآخِرَةِ»
অর্থ: "আবু মালেক আশআরী (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ -কে বলতে শুনেছি তিনি বলেন: পৃথিবীর মিষ্টতা পরকালের তিক্ততা। আর পৃথিবীর তিক্ততা পরকালের মিষ্টতা।” (আহমদ, হাকেম ৩৭/২২৮৯৯)১০৪
মাসআলা-৩০৭: মু'মিনের জন্য দুনিয়া কারাগারের ন্যায়:
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : «الدُّنْيَا سِجْنُ الْمُؤْمِنِ، وَجَنَّةُ الْكَافِرِ»
অর্থ: "আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ বলেছেন: পৃথিবী মু'মিনের জন্য কারাগারের ন্যায় আর কাফিরের জন্য জান্নাতের ন্যায়।" (মসলিম ৪/২৯৫৬)১০৫
টিকাঃ
১০০ আবওয়াব সিফাতুল জান্না, মাযায়া ফি আন্নাল জান্না হুফফাত বিল মাকারিহ (২/২০৭৫)
১০১ কিতাবুল জান্না ওয়া সিফাত নায়ীমিহা।
১০২ আবওয়াব সিফাতুল কিয়ামা (২/১৯৯৩)
১০৩ আবওয়াব সিফাতুন স্নার, বাব ইন্না লিন্নারি নফসাইন। (২/২০৯৭)
১০৪ সহীহ আলজামে আসসাগীর লি আলবানী, ৩য় খন্ড, হাদীস নং-৩১৫০।
১০৫ কিতাবুযযুহদ।
📄 জান্নাতের সুসংবাদ প্রাপ্ত ব্যক্তি
মাসআলা-৩০৮: রাসূলুল্লাহ সর্বপ্রথম জান্নাতে প্রবেশ করবেন: নোট: এ সম্পর্কিত হাদীস ৮৬ নং মাসআলায় দ্র:
মাসআলা-৩০৯: আবু বকর ও ওমর (রা) ঐ সমস্ত জান্নাতীদের সরদার হবেন যারা বৃদ্ধ বয়সে ইন্তেকাল করেছেন:
عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ : قَالَ : كُنْتُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذْ طَلَعَ أَبُو بَكْرٍ وَعُمَرُ ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «هَذَانِ سَيِّدَا كُهُولِ أَهْلِ الْجَنَّةِ مِنَ الْأَوَّلِينَ وَالْآخِرِينَ إِلَّا النَّبِيِّينَ وَالْمُرْسَلِينَ، يَا عَلِيُّ لَا تُخْبِرُهُمَا»
অর্থ: "আলী বিন আবু তালেব (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি একদা রাসূলুল্লাহ -এর সাথে ছিলাম হঠাৎ করে আবুবকর ও ওমর (রা)ও চলে আসলো, রাসূলুল্লাহ বললেন: তারা উভয়ে বৃদ্ধ বয়সে মৃত্যুবরণকারী মুসলমানদের সরদার হবে, চাই তারা পূর্ববর্তী উম্মতের লোক হোক আর পরবর্তী উম্মতের। তবে নবী-রাসূলগণ ব্যতীত। হে আলী তুমি এ সংবাদ তাদেরকে দিওনা।” (তিরমিযী ৫/৩৬৬৫) ১০৬
মাসআলা-৩১০: হাসান ও হুসাইন (রা) জান্নাতে ঐ সমস্ত লোকদের সরদার হবে যারা যৌবনকালে মৃত্যুবরণ করেছে:
عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ ﷺ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : الْحَسَنُ وَالْحُسَيْنُ سَيِّدَا شَبَابِ أَهْلِ الْجَنَّةِ»
অর্থ: "আবু সাঈদ খুদরী (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ বলেছেন: হাসান ও হুসাইন (রা) জান্নাতী যুবকদের সরদার হবে।” (তিরমিযী ৫/৩৭৬৮)১০৭
মাসআলা-৩১২: খাদীজা (রা)-কে নবী জান্নাতে একটি ঘরের সুসংবাদ দিয়েছেন:
عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا قَالَتْ : بَشَرَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خَدِيجَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا بِبَيْتٍ فِي الْجَنَّةِ
অর্থ: "আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ খাদীজা (রা)-কে জান্নাতে একটি ঘরের সুসংবাদ দিয়েছেন।" (মুসলিম) ১০৮
মাসআলা-৩১৩ : আয়েশা (রা)-কে রাসূলুল্লাহ জান্নাতের সু সংবাদ দিয়েছেন:
عَنْ عَائِشَةَ هُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، قَالُ: «أَمَا تَرْضَيْنَ أَنْ تَكُونِي زَوْجَتِي فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ؟» ، قُلْتُ : بَلَى قَالَ: «فَأَنْتِ زَوْجَتِي فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ»
অর্থ: "আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ বলেছেন হে আয়েশা! তুমি কি এতে সন্তুষ্ট নও যে, তুমি দুনিয়া ও আখিরাতে আমার স্ত্রী হবে? আয়েশা বললো কেন নয়? তখন রাসূলুল্লাহ বললেন: তুমি দুনিয়া ও আখেরাতে আমার স্ত্রী।” (হাকেম) ১০৯
মাসআলা-৩১৪ : (তালহা রায়িাল্লাহ আনহু-এর স্ত্রী) উম্মে সুলাইমকেও নবী জান্নাতের সুসংবাদ দিয়েছেন:
মাসআলা-৩১৫ : বেলাল (রা)-কে নবী জান্নাতে একটি ঘরের সু সংবাদ দিয়েছেন:
عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «أُرِيتُ الْجَنَّةَ فَرَأَيْتُ امْرَأَةَ أَبِي طَلْحَةَ ، ثُمَّ سَمِعْتُ خَشْخَشَةً أَمَامِي فَإِذَا بِلَالٌ»
অর্থ: "জাবির বিন আবদুল্লাহ (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ বলেছেন: আমাকে জান্নাত দেখানো হলো, আমি আবু তালহা (রা)-এর স্ত্রী উম্মে সুলাইমকে সেখানে দেখতে পেলাম, অতপর আমি সামনে অগ্রসর হয়ে কোনো মানুষের চলার আওয়াজ পেলাম, হঠাৎ দেখলাম বেলাল কে।” (মুসলিম ৪/২৪৫৭)১১০
মাসাআলা-৩১৬: ওমর (রা)-কে নবী জান্নাতে একটি ঘরের সু সংবাদ দিয়েছেন:
নোট: ৩নং মাসআলার হাদীস দ্র:
মাসাআলা-৩১৭: তালহা বিন ওবায়দুল্লাহ (রা)-কে নবী জান্নাতের সু সংবাদ দিয়েছেন:
عَنِ الزُّبَيْرِ قَالَ: كَانَ عَلَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَوْمَ أُحُدٍ دِرْعَانِ فَنَهَضَ إِلَى صَخْرَةٍ، فَلَمْ يَسْتَطِعْ فَأَقْعَدَ تَحْتَهُ طَلْحَةَ، فَصَعِدَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَتَّى اسْتَوَى عَلَى الصَّخْرَةِ، قَالَ: فَسَمِعْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: أَوْجَبَ طَلْحَةُ.
অর্থ: "যুবায়ের (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: উহুদের যুদ্ধের দিন রাসূলুল্লাহ দু জোড়া কাপড় পরিধান করেছিলেন। তিনি একটি পাথরের উপর আরোহণ করতে ছিলেন কিন্তু তিনি তাতে চড়তে পারতেছিলেন না। তখন তিনি তালহা (রা)-কে তার নীচে বসালেন এবং তার ওপর আরোহণ করে তিনি তাতে চড়লেন। যুবায়ের বলেন, এ সময় আমি নবী -কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: তালহার জন্য জান্নাত ওয়াজিব হয়ে গেছে।" (তিরমিযী ৬/৩৭৩৮)১১১
মাসাআলা-৩১৮: সা'দ বিন মুয়ায (রা) জান্নাতী:
নোট: এ সংক্রান্ত হাদীস ২২৪ নং মাসআলা দ্র:
মাসাআলা-৩১৯: বদরের যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী এবং বৃক্ষের নীচে বাইয়াত গ্রহণকারীরা জান্নাতী:
عَنْ جَابِرٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : " لَنْ يَدْخُلَ النَّارَ رَجُلٌ شَهِدَ بَدْرًا وَالْحُدَيْبِيَةَ "
অর্থ: "জাবির (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ বলেছেন: বদরের যুদ্ধে এবং হুদায়বিয়ার সন্ধিতে অংশগ্রহণকারী কোনো লোক জাহান্নামী হবে না।" (আহমদ ২৩/১৫২৬২) ১১২
নোট: হুদায়বিয়ার সন্ধি ৬ হি: যিলকাদ মাসে সংঘটিত হয়, সাহাবাগণ হুদায়বিয়ার ময়দানে একটি গাছের নীচে রাসূলুল্লাহ হাতে হাত রেখে তাঁর আনুগত্যে জীবন দেয়ার ওপর বাইয়াত গ্রহণ করে। আর ঐ বাইয়াতে অংশগ্রহণকারী সমস্ত সাহাবাগণকে আসহাবুসসাজারা বলা হয়।
মাসআলা-৩২০: আবদুল্লাহ বিন সালামকে নবী জান্নাতের সুসংবাদ দিয়েছেন:
عَنْ سَعْدٍ لا يَقُولُ : مَا سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: لحَيِّ يَمْشِي إِنَّهُ فِي الْجَنَّةِ إِلَّا لِعَبْدِ اللَّهِ بْنِ سَلَامٍ»
অর্থ: "সা'দ (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহকে কোনো জীবিত চলমান ব্যক্তির ব্যাপারে একথা বলতে শুনি নি যে সে জান্নাতী তবে শুধু আবদুল্লাহ বিন সালামকে একথা বলেছেন।" (মুসলিম ৪/২৪৮৩) ১১৩
নোট: সা'দ (রা) শুধু আবদুল্লাহ বিন সালাম (রা)-কেই এ সুসংবাদ দিতে শুনেছেন তাই তিনি তার ব্যাপারেই বর্ণনা করেছেন, কিন্তু অন্যান্য সাহাবাগণ রাসূলুল্লাহ থেকে অন্য সাহাবীদেরকেও জান্নাতের সু সংবাদ দিতে শুনেছেন তাই তারা অন্যদের কথাও বর্ণনা করেছেন।
মাসআলা-৩২১: মারইয়াম বিনতে ইমরান, ফাতেমা বিনতে মুহাম্মদ রাসূলুল্লাহ-এর স্ত্রী খাদীজা ফেরাউনের স্ত্রী আসিয়া জান্নাতী রমণীদের সরদার হবে:
عَنْ جَابِرٍ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : «سَيِّدَاتُ نِسَاءِ أَهْلِ الْجَنَّةِ بَعْدَ مَرْيَمَ بِنْتِ عِمْرَانَ، فَاطِمَةُ، وَخَدِيجَةُ، وَآسِيَةُ امْرَأَةُ فِرْعَوْنَ»
অর্থ: "জাবের (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ বলেছেন: জান্নাতী রমণীদের সরদার মারইয়াম বিনতে ইমরান-এর পরে ফাতেমা, খাদীজা, ও ফেরাউনের স্ত্রী আসিয়া।” (তাবারানী) ১১৪
মাসআলা-৩২২: যায়েদ বিন আমর (রা) জান্নাতী:
عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ دَخَلْتُ الْجَنَّةَ فَرَأَيْتُ لِزَيْدِ بْنِ عَمْرِو بْنِ نُفَيْلٍ دَرَجَتَيْن.
অর্থ: "আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ বলেছেন: আমি জান্নাতে প্রবেশ করে যায়েদ বিন আমর বিন নুফাইলের দু'টি স্তর দেখতে পেলাম।” (ইবনে আসাকের) ১১৫
মাসআলা-৩২৩: আবদুল্লাহ বিন আমর বিন হারাম (রা) জান্নাতী:
عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ ﷺ يَقُولُ : لَمَّا قُتِلَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَمْرِو بْنِ حَرَامٍ يَوْمَ أُحُدٍ، قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : «يَا جَابِرُ ، أَلَا أُخْبِرُكَ مَا قَالَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ لِأَبِيكَ؟» قُلْتُ : بَلَى ، قَالَ : " مَا كَلَّمَ اللَّهُ أَحَدًا إِلَّا مِنْ وَرَاءِ حِجَابٍ، وَكَلَّمَ أَبَاكَ كِفَاحًا فَقَالَ: يَا عَبْدِي، تَمَنَّ عَلَيَّ أُعْطِيكَ، قَالَ: يَا رَبِّ، تُحْيِينِي فَأُقْتَلُ فِيكَ ثَانِيَةً، قَالَ: إِنَّهُ سَبَقَ مِنِّي أَنَّهُمْ إِلَيْهَا لَا يُرْجَعُونَ. قَالَ: يَا رَبِّ، فَأَبْلِغْ مَنْ وَرَائِي، فَأَنْزَلَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ هَذِهِ الْآيَةَ " : { وَلَا تَحْسَبَنَّ الَّذِينَ قُتِلُوا فِي سَبِيلِ اللَّهِ أَمْوَاتًا بَا أَحَيَاء عِندَ رَبِّهِمْ يُرْزَقُونَ .
অর্থ: "যাবের বিন আবদুল্লাহ (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: উহুদ যুদ্ধের দিন যখন আবদুল্লাহ বিন হারাম (রা) শহীদ হলেন, তখন রাসূলুল্লাহ বললেন: হে যাবের! আমি কি তোমাকে ঐ কথা বলবো না, যা আল্লাহ তোমার পিতা সম্পর্কে বলেছেন? আমি বললাম: কেন নয়? তিনি বললেন: আল্লাহ কোনো ব্যক্তির সাথে পর্দার আড়াল ব্যতীত কথা বলেন নি। কিন্তু তোমার পিতার সাথে কোনো পর্দা ব্যতীত কথা বলেছে এবং বলেছেন হে আমার বান্দা! তুমি যা চাওয়ার তা চাও, আমি তোমাকে দিব। তোমার পিতা বলেছে হে আমার রব? আমাকে দ্বিতীয় বার জীবিত করো, যাতে আমি তোমার রাস্তায় শহীদ হতে পারি। আল্লাহ বললেন: আমার পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আগেই সিদ্ধান্ত হয়েছে যে, মৃত্যুর পর দুনিয়াতে আর ফেরত আসা যাবে না। তোমার পিতা বললো: হে আমার রব! তাহলে তুমি আমার পক্ষ থেকে দুনিয়াবাসীকে আমার এ পয়গাম শুনিয়ে দাও যে, (আমি দ্বিতীয় বার শহিদ হয়ে মৃত্যুবরণের আকাঙ্খা করেছিলাম) তখন আল্লাহ এ আয়াত অবতীর্ণ করলেন, "যারা আল্লাহর পথে নিহত হয়েছে তাদেরকে মৃত মনে কর না। বরং তারা জীবিত। তারা তাদের পালনকর্তার নিকট রিযিক প্রাপ্ত হয়।" (সূরা আলে ইমরান: ১৬৯) (ইবনে মাজা ২/২৮০০)১১৬
মাসআলা-৩২৪: আম্বার বিন ইয়াসার এবং সালমান ফারসী (রা) জান্নাতী:
عَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّ الْجَنَّةَ لَتَشْتَاقُ إِلَى ثَلَاثَةِ عَلَى وَعَمَّارُ وَسَلْمَانَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمْ .
অর্থ: "আনাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ বলেছেন: জান্নাত তিন ব্যক্তির প্রতি আসক্ত, আলী, আম্বার এবং সালমান (রা)" (হাকেম) ১১৭।
মাসআলা-৩২৫: জা'ফর বিন আবু তালেব এবং হামজা (রা) জান্নাতী:
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ ﷺ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : «دَخَلْتُ الْجَنَّةَ الْبَارِحَةَ فَنَظَرْتُ فِيهَا فَإِذَا جَعْفَرٌ يَطِيرُ مَعَ الْمَلَائِكَةِ، وَإِذَا حَمْزَةُ مُتَّكِيُّ عَلَى سَرِيرٍ»
অর্থ: "ইবনে আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ বলেছেন: গতরাতে আমি জান্নাতে প্রবেশ করে দেখতে পেলাম যে, জা'ফর ফেরেশতাদের সাথে উড়ে বেড়াচ্ছে। আর হামযা খাটে হেলান দিয়ে বসে আছে।” (ত্বাবারানী ১/২৫৫)১১৮
মাসআলা-৩২৬: যায়েদ বিন হারেসা (রা) জান্নাতী:
عَنْ بُرَيْدَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ دَخَلْتُ الْجَنَّةَ فَاسْتَقْبَلَتْنِي جَارِيَةً شَأْبَةً فَقُلْتُ لِمَنْ أَنْتِ؟ قَالَتْ لَزِيدٍ بن حارثة.
অর্থ: "বুরাইদা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ বলেছেন: আমি জান্নাতে প্রবেশ করতেই আমাকে এক যুবতী স্বাগতম জানালো, আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম তুমি কার জন্য? সে বললো: যায়েদ বিন হারেসার জন্য।" (ইবনে আসাকের)১১৯
মাসআলা-৩২৭: গুমাইসা বিনতে মিলহান (রা) জান্নাতী:
عَنْ أَنَسٍ اللهِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: " دَخَلْتُ الْجَنَّةَ فَسَمِعْتُ خَشَفَةً، بَيْنَ يَدَيَّ فَقُلْتُ مَا هَذَ الْخَشْفَةُ؟ فَقِيلَ: الْغُمَيْصَاءُ بِنْتُ مِلْحَانَ
অর্থ: "আনাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ বলেছেন: আমি জান্নাতে প্রবেশ করে আমার সামনে কারো চলার আওয়াজ পেলাম আমি (জিবরাঈলকে) জিজ্ঞেস করলাম এ কিসের আওয়াজ? আমাকে বলা হলো যে এটা গুমাইসা বিনতে মিলহানের চলার আওয়াজ।” (আহমদ ১৯/১২২৫৬)১২০
নোট: উল্লেখ্য যে গুমাইসা বিনতে মিলহানের শশুর ও ছেলে ওহুদ যুদ্ধে শহীদ হয়েছিল, আর তার ভাই হারাম বিন মিলহান বি'র মাউনার ঘটনায় শহীদ হয়েছিল। আর সে নিজে কুবরুস দ্বীপে আক্রমণ করে প্রত্যাবর্তনকারী সৈন্যদের অন্তর্ভুক্ত ছিল, আর ঐ সফরেই তিনি আল্লাহর প্রিয় হয়ে গিয়ে ছিলেন। (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)
মাসআলা-৩২৮: হারেসা বিন নোমান (রা) জান্নাতী:
عَنْ عَائِشَةَ اللهِ قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ دَخَلْتُ الْجَنَّةَ فَسَمِعْتُ فِيهَا قِرَاءَةً فَقُلْتُ: قِرَاءَ مَنْ هَذَا ؟ قَالُوا : قِرَاءَةُ حَارِثَةَ بْنِ النُّعْمَانِ كَذَلِكُمُ الْبِرُّ ، كَذَلِكُمُ الْبِرُّ "
অর্থ: "আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ বলেছেন: আমি জান্নাতে প্রবেশ করে ক্বেরাতের আওয়াজ শুনতে পেলাম, আমি জিজ্ঞেস করলাম এ কে? ফেরেশতা উত্তরে বললো: হারেসা বিন নোমান। একথা শুনে তিনি বললেন: এটিই নেকীর প্রতিদান এটিই নেকীর প্রতিদান।” (হাকেম ২/১০০৪)১২১
মাসআলা-৩২৯: মক্কা থেকে মদীনায় হিজরত কারীদেরকে রাসূলুল্লাহ জান্নাতের সুসংবাদ দিয়েছেন:
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَتَعْلَمُ أَوَّلَ زُمْرَةٍ تَدْخُلُ الْجَنَّةَ مِنْ أُمَّتِي؟» قُلْتُ اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ فَقَالَ: " الْمُهَاجِرُونَ يَأْتُونَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ إِلَى بَابِ الْجَنَّةِ وَيَسْتَفْتِحُونَ فَيَقُولُ لَهُمُ الْخَزَنَةُ، أَوَ قَدْ حُوسِبْتُمْ، فَيَقُولُونَ بِأَيِّ شَيْءٍ نُحَاسَبُ، وَإِنَّمَا كَانَتْ أَسْيَافُنَا عَلَى عَوَاتِقِنَا فِي سَبِيلِ اللَّهِ، حَتَّى مِتْنَا عَلَى ذَلِكَ، قَالَ: فَيُفْتَحُ لَهُمْ ، فَيَقِيلُونَ فِيهِ أَرْبَعِينَ عَامًا قَبْلَ أَنْ يَدْخُلَهَا النَّاسُ
অর্থ: "আবদুল্লাহ বিন আমর (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ বলেছেন: তোমরা কি জান যে, আমার উম্মতের মধ্যে কোন্ দলটি সর্ব প্রথম জান্নাতে যাবে? আমি বললাম: আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলই সর্বাধিক জ্ঞাত। তখন তিনি বললেন: মক্কা থেকে মদীনায় হিজরত কারীরা কিয়ামতের দিন জান্নাতের দরজায় আসবে আর তাদের জন্য দরজা খুলে যাবে। জান্নাতের দারওয়ান তাদেরকে জিজ্ঞেস করবে, তোমাদের হিসাব নিকাশ হয়ে গেছে? তখন তারা বলবে কিসের হিসাব? আমাদের তরবারী আল্লাহর পথে আমাদের কাঁধে ছিল আর ঐ অবস্থায়ই আমরা মৃত্যুবরণ করেছি। তখন জান্নাতের দরজা তাদের জন্য খুলে দেয়া হবে, আর তারা অন্যদের জান্নাতে প্রবেশের চল্লিশ বছর পূর্বে সেখানে প্রবেশ করে আনন্দ করতে থাকবে।” (হাকেম)১২২
মাসআলা-৩৩০ : ইবনে দাহ্দাহ (রা) জান্নাতী:
عَنْ جَابِرِ بْنِ سُمَرَةَ رَضِي اللَّهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى ابْنِ دَحْدَاحٍ لَمْ أتى بِفَرَسِ عُرْى فَعَقَلَهُ رَجُلٌ فَرَكِبَهُ فَجَعَلَ يَتَوقِصُ بِهِ وَنَحْنُ نَتَّبِعُهُ نَسْعَى خَلْفَهُ قَالَ فَقَالَ رَجُلٌ مِنَ الْقَوْمُ إِنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ كَمْ مِنْ عَذْقِ مُعَلَّقِ أَوْ مَدْلَى فِي الْجَنَّةِ لأبن الدحداح
অর্থ: “জাবির বিন সামুরা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ ইবনে দাহদার জানাযার নামায পড়ানোর পর তাঁর পাশে উন্মুক্ত পিঠ বিশিষ্ট একটি ঘোড়া আনা হলো, এক ব্যক্তি তা ধরলো এবং রাসূলুল্লাহ তাতে আরোহণ করলেন। ঘোড়াটি তখন ভয়ে ভিত হয়ে বলতে লাগল আমরা সবাই আপনার পিছনে পিছনে চলতে ছিলাম, হঠাৎ লোকদের মধ্য থেকে একজন বলে উঠলো যে, নবী বলেছেন: ইবনে দাহদার জন্য জান্নাতে কত ফল ঝুলছে।" (মুসলিম)১২৩
মাসআলা-৩৩১: উম্মুল মু'মিনীন হাফসা (রা) জান্নাতী:
عَنْ أَنَسِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ قَالَ جِبْرِيلُ : رَاجِعُ حَفْصَةً فَإِنَّهَا صَوَّامَةً قَوَّامَةً وَإِنَّهَا زَوْجَتُكَ فِي الْجَنَّةِ"
অর্থ: "আনাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ বলেছেন: জিবরীল আমাকে বলেছে যে, আপনি হাফসা (রা) থেকে প্রত্যাবর্তন করুন, কেননা সে অধিক রোযাদার ও অধিক নফল নামায আদায়কারী এবং সে জান্নাতে আপনার স্ত্রী।” (হাকেম)১২৪
মাসআলা-৩৩২: উক্কাসা (রা) জান্নাতী: নোট: এ সংক্রান্ত হাদীসটি ৩০২ নং মাসআলা দ্রঃ।
টিকাঃ
১০৬ আবওয়াবুল মানাকেব, বাব মানাকেব আবুবকর সিদ্দীক (৩/২৮৯৭)
১০৭ আবওয়াবুল মানাকেব, বাব মানাকেব আবু মুহাম্মদ আল হাসান ওয়াল হুসাইন।
১০৮ কিতাবুল ফাযায়েল, বাব মিন ফাযায়েল খাদীজা।
১০৯ সিলসিলা আহাদিস সহীহা লি আলবানী। হাদীস নং-১১৪২।
১১০ কিতাবুল ফাযায়েল, বাব মিন ফাযায়েল উম্মে সুলাইম।
১১১ আবওয়াবুল মানাকেব বাব মানাকেব আবু মুহাম্মদ তালহা বিন ওবায়দুল্লাহ (৩/২৯৩১)।
১১২ সিলসিলা আহadিস সহীহা লি আলবানী। হাদীস নং-২১৬০।
১১৩ আবওয়াব মানাকেব, বাব ফজল মান বাইয়া তাহতাসসাজারা। (৩/৩০৩৩)
১১৪ সিলসিলা আহাদিস সহীহা লি আলবানী। হাদীস নং-১৪৩৪।
১১৫ সিলসিলা আহাদিস সহীহা লি আলবানী। হাদীস নং-১৪০৬।
১১৬ সহীহ সুনানে ইবনে মাজা লি আলবানী, খ. ২য়, হাদীস নং-২২৫৮।
১১৭ সহীহ আল জামে আসসাগীর লি আলবানী, (হাদীস নং-১৫৯৪)
১১৮ সহীহ আল জামে আসসাগীর লি আলবানী, (হাদীস নং-৩৩৫৮)
১১৯ সহী আল জামে আসগারীর লি আলবানী, (হাদীস নং-৩৩৬১)
১২০ সহীহ আল জামে আসসাগীর লি আলবানী, (হাদীস নং-৩৩৬৩)
১২১ সহীহ আল জামে আসসাগীর লি আলবানী, (হাদীস নং-৩৩৬৬)
১২২ সিলসিলা আহাদিস সহীহা লি আলবানী। (হাদীস নং-৮৫২)
১২৩ কিতাবুল জানায়েয, বাব রকুবুল মুসাল্লি আলা আল জানাযা ইযা ইনসারাফা।
১২৪ সহীহ আল জামে আসসাগীর লি আলবানী, খ. ৪, হাদীস নং-৪৭২৭।