📘 মৃত্যুর পরে অনন্ত জীবন > 📄 জান্নাতীদের গুণাবলী

📄 জান্নাতীদের গুণাবলী


মাসআলা-২৭৫: জান্নাতীরা জান্নাতে যাওয়ার পর আল্লাহর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করবে:
وَنَزَعْنَا مَا فِي صُدُورِهِم مِّنْ غِلَّ تَجْرِي مِن تَحْتِهِمُ الْأَنْهَارُ وَقَالُوا الْحَمْدُ اللهِ الَّذِي هَدَانَا لِهَذَا وَمَا كُنَّا لِنَهْتَدِيَ لَوْلَا أَنْ هَدَانَا اللَّهُ لَقَدْ جَاءَتْ رُسُلُ رَبِّنَا بِالْحَقِّ وَنُودُوا أَن تِلْكُمُ الْجَنَّةُ أُورِثْتُمُوهَا بِمَا كُنتُمْ تَعْمَلُونَ
অর্থ: "আর তাদের অন্তরে যে ঈর্ষা ছিল, আমি তা বের করে নিয়েছি। তাদের নীচ দিয়ে নহরসমূহ প্রবাহিত হবে। আর তারা বলবে, 'সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি এর জন্য আমাদেরকে হিদায়াত দিয়েছেন। আর আমরা হিদায়াত পাওয়ার ছিলাম না, যদি না আল্লাহ আমাদেরকে হিদায়াত দিতেন। অবশ্যই আমার রবের রাসূলগণ সত্য নিয়ে এসেছেন এবং তাদেরকে ডাকা হবে যে, ঐ হলো জান্নাত, তোমরা যা আমল করেছো, তার বিনিময়ে তোমাদেরকে এর উত্তরাধিকারী করা হয়েছে"। (সূরা আরাফ ৭:৪৩)
وَقَالُوا الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي صَدَقَنَا وَعْدَهُ وَأَوْرَثَنَا الْأَرْضَ نَتَبَوَّأُ مِنَ الْجَنَّةِ حَيْثُ نَشَاءُ فَنِعْمَ أَجْرُ الْعَامِلِينَ
অর্থ: "আর তারা বলবে, সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদের প্রতি তার ওয়াদাকে সত্য করেছেন। আর আমাদেরকে যমীনের অধিকারী করেছেন। আমরা জান্নাতে যেখানে ইচ্ছা বসবাসের জায়গা করে নেব। অতএব (নেক) আমলকারীদের প্রতিফল কতইনা উত্তম!" (সূরা যুমার ৩৯:৭৪)
মাসআলা-২৭৬: জান্নাতে জান্নাতীদের প্রার্থনা হবে "সুবহানাকা আল্লাহুম্মা” আর তারা পরস্পর পরস্পরের সাথে সাক্ষাতে” আসসালামু আলাইকুম বলবে। আর প্রত্যেক কথার শেষে” আলহামদু লিল্লাহি রাব্বিল আলামীন" বলবে:
دَعْوَاهُمْ فِيهَا سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ وَتَحِيَّتُهُمْ فِيهَا سَلَامٌ وَآخِرُ دَعْوَاهُمْ أَنِ الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ
অর্থ: "সেখানে তাদের কথা হবে, 'হে আল্লাহ! তুমি পবিত্র মহান' এবং তাদের অভিবাদন হবে, 'সালাম'। আর তাদের শেষ কথা হবে যে, 'সকল প্রশংসা আল্লাহর, যিনি সকল সৃষ্টির রব।" (সূরা ইউনুস ১০:১০)
মাসআলা-২৭৭: জান্নাতীরা জান্নাতে প্রবেশের সময় ফেরেশতারা তাদের জন্য বরকত ও নিরাপত্তার জন্য দুআ করবে:
وَسِيقَ الَّذِينَ اتَّقَوْا رَبَّهُمْ إِلَى الْجَنَّةِ زُمَراً حَتَّى إِذَا جَاءُوهَا وَفُتِحَتْ أَبْوَابُهَا وَقَالَ لَهُمْ خَزَنَتُهَا سَلَامٌ عَلَيْكُمْ طِبْتُمْ فَادْخُلُوهَا خَالِدِينَ
অর্থ: "আর যারা তাদের রবকে ভয় করেছে তাদেরকে দলে দলে জান্নাতের দিকে নিয়ে যাওয়া হবে। অবশেষে তারা যখন সেখানে এসে পৌঁছবে এবং এর দরজাসমূহ খুলে দেয়া হবে তখন জান্নাতের রক্ষীরা তাদেরকে বলবে, 'তোমাদের প্রতি সালাম, তোমরা ভাল ছিলে। অতএব স্থায়ীভাবে থাকার জন্য এখানে প্রবেশ করো'।" (সূরা যুমার ৩৯:৭৩)
وَالمَلَائِكَةُ يَدْخُلُونَ عَلَيْهِمْ مِّنْ كُلِّ بَابٍ سَلَامٌ عَلَيْكُم بِمَا صَبَرْتُمْ فَنِعْمَ عُقْبَى الدَّارِ
অর্থ: "ফেরেশতারা তাদের নিকট আসবে প্রত্যেক দরজা দিয়ে, বলবে তোমাদের সবরের কারণে তোমাদের উপর শান্তি বর্ষিত হোক।" (সূরা রাদ: ২৩-২৪)
মাসআলা-২৭৮: স্বয়ং আল্লাহও জান্নাতীদেরকে সালাম করবে:
سَلَامٌ قَوْلاً مِّنْ رَّبِّ رَّحِيمٍ
অর্থ: "করুনাময় পালকর্তার পক্ষ থেকে তাদেরকে বলা হবে 'সালাম'।" (সূরা ইয়াসীন: ৫৮)
মাসআলা-২৭৯: সর্বপ্রথম জান্নাতে প্রবেশকারীদের চেহারা ১৪ তারিখের চাঁদের ন্যায় উজ্জ্বল হবে:
মাসআলা-২৮০: দ্বিতীয় দলটির চেহারা আকাশের উজ্জ্বল তারকার ন্যায় হবে:
মাসআলা-২৮১: জান্নাতে কোনো ব্যক্তি অবিবাহিত থাকবে না প্রত্যেকের কমপক্ষে দু'জন করে স্ত্রী থাকবে: নোট: এ সংক্রান্ত হাদীসটি ২৫৪ নং মাসআলা দ্র:
মাসআলা-২৮২: জান্নাতীদের চেহারা সর্বদা সতেজ ও হাসি খুশি থাকবে: নোট: এ সংক্রান্ত হাদীসটি ৬২ নং মাসআলায় দ্র:
মাসআলা-২৮৩: জান্নাতীরা সর্বদা সুস্থ থাকবে কখনো রোগাক্রান্ত হবে না।
মাসআলা-২৮৪: জান্নাতীরা সর্বদা যুবক বয়সী থাকবে কখনো বৃদ্ধ হবে না।
মাসআলা-২৮৫: জান্নাতীরা সর্বদা জীবিত থাকবে মৃত্যু তাদেরকে কখনো গ্রাস করবে না।
মাসআলা-২৮৬: জান্নাতীরা সর্বদা আনন্দের মাঝে থাকবে কখনো চিন্তিত হবে না।
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ا عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: " يُنَادِي مُنَادٍ : إِنَّ لَكُمْ أَنْ تَصِحُّوا فَلَا تَسْقَمُوا أَبَدًا، وَإِنَّ لَكُمْ أَنْ تَحْيَوْا فَلَا تَمُوتُوا أَبَدًا . وَإِنَّ لَكُمْ أَنْ تَشِبُّوا فَلَا تَهْرَمُوا أَبَدًا، وَإِنَّ لَكُمْ أَنْ تَنْعَمُوا فَلَا تَبْأَسُوا أَبَدًا " فَذَلِكَ قَوْلُهُ عَزَّ وَجَلَّ: { وَنُودُوا أَنْ تِلْكُمُ الْجَنَّةُ أُورِثْتُمُوهَا بِمَا كُنْتُمْ تَعْمَلُونَ }
অর্থ: "আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী বলেছেন: (কিয়ামতের দিন) এক আহ্বানকারী আহ্বান করে বলতে থাকবে, তোমরা সর্বদা সুস্থ থাকবে, কখনো অসুস্থ হবে না। সর্বদা জীবিত থাকবে কখনো মৃত্যু বরণ করবে না। সর্বদা যৌবনকাল নিয়ে থাকবে কখনো বৃদ্ধ হবে না। সর্বদা আনন্দে মেতে থাকবে কখনো চিন্তিত হবে না। আর আল্লাহর বাণীর ও এ অর্থই "এই সেই জান্নাত যার উত্তরসূরি তোমাদেরকে করা হয়েছে, ঐ আমলের ওসীলায় যা তোমরা করতেছিলে।" (মুসলিম ৪/২৮৩৭)৮৫
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ هِ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، قَالَ: «مَنْ يَدْخُلُ الْجَنَّةَ يَنْعَمُ لَا يَبْأَسُ، لَا تَبْلَى ثِيَابُهُ وَلَا يَفْنَى شَبَابُهُ»
অর্থ: আবু হুরাইরা (রা) নবী থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: যে ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করবে সে সর্বদা আনন্দে মেতে থাকবে, কখনো চিন্তিত হবে না, তাদের পোশাকও পুরাতন হবে না। না যৌবন শেষ হবে।” (মুসলিম ৪/২৮৩৬) ৮৬
মাসআলা-২৮৭: জান্নাতীদের পায়খানা পেসাবের প্রয়োজন দেখা দিবে না।
মাসআলা-২৮৮: জান্নাতীদের খানা পিনা ঘাম ও ঢেকুরের মাধ্যমে হজম হয়ে যাবে।
মাসআলা-২৮৯: জান্নাতীরা নিঃশ্বাস ত্যাগ করার ন্যায় প্রতি মুহূর্তে আল্লাহর প্রশংসা করবে:
عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ، يَقُولُ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : يَأْكُلُ أَهْلُ الْجَنَّةِ فِيهَا وَيَشْرَبُونَ، وَلَا يَتَغَوَّطُونَ وَلَا يَسْتَخِطُونَ وَلَا يَبُولُونَ، وَلَكِنْ طَعَامُهُمْ ذَلِكَ جُشَاءُ كَرَشْحِ الْمِسْكِ يُلْهَمُونَ التَّسْبِيحَ وَالتَّحْمِيدَ، كَمَا تُلْهَمُونَ النَّفَسَ»
অর্থ: "জাবের বিন আবদুল্লাহ (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ বলেছেন, জান্নাতীরা পানাহার করবে কিন্তু থুথু ফেলবে না, এবং পায়খানা পেসাবও করবে না। না নাকে পানি আসবে। সাহাবাগণ আরয করল, তাহলে তাদের খাবার কোথায় যাবে? তিনি উত্তরে বললেন: ঢেঁকুর ও ঘামের মাধ্যমে তা হজম হবে। জান্নাতীরা এমনভাবে আল্লাহর প্রশংসা ও তাসবীহ পাঠ করবে যেমন তারা শ্বাস গ্রহণ করে। (মুসলিম ৪/২৮৩৫) ৮৭
মাসআলা-২৯০: জান্নাতীরা ঘুমের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করবে না:
عَنْ جَابِرٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «النَّوْمُ أَخُو الْمَوْتِ، وَلَا يَنَامُ أَهْلُ الْجَنَّةِ»
অর্থ: "জাবের (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ বলেছেন, ঘুম মৃত্যুর ভাই, তাই জান্নাতীদের মৃত্যু হবে না।" (আবু নুআইম) ৮৮
মাসআলা-২৯১: সমস্ত জান্নাতীদের কাঁধ হবে ষাট হাত:
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ﷺ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : فَكُلُّ مَنْ يَدْخُلُ الْجَنَّةَ عَلَى صُورَةِ آدَمَ وَطُولُهُ سِتُّونَ ذِرَاعًا، فَلَمْ يَزَلِ الْخَلْقُ يَنْقُصُ بَعْدَهُ حَتَّى الْآنَ
অর্থ: "আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ বলেছেন, জান্নাতে প্রবেশকারী প্রত্যেক ব্যক্তি আদম (আ)-এর ন্যায় ষাট হাত লম্বা হবে, (প্রথমে মানুষ ষাট হাত ছিল) পরবর্তীতে তারা খাট হতে লাগলো শেষে বর্তমান অবস্থায় এসে পৌঁছেছে।” (মুসলিম ৪/২৮৪১)৮৯
মাসআলা-২৯২: জান্নাতীদের চেহারায় দাড়ি-গোফ থাকবে না:
মাসআলা-২৯৩: জান্নাতীদের চোখ অলৌকিক ভাবে লাজুক হবে:
মাসআলা-২৯৪: জান্নাতীদের বয়স ৩০-৩৩ বছরের মাঝামাঝি হবে:
عَنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ قَالَ: «يَدْخُلُ أَهْلُ الْجَنَّةِ الْجَنَّةَ جُرْدًا مُرْدًا مُكَحَّلِينَ أَبْنَاءَ ثَلَاثِينَ أَوْ ثَلَاثٍ وَثَلَاثِينَ سَنَةً»
অর্থ: "মুয়ায বিন জাবাল (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: নবী বলেছেন, জান্নাতীরা জান্নাতে প্রবেশের সময় তাদের চেহারায় কোনো দাড়ি, গোফ থাকবে না। চক্ষুদ্বয় লাজুক হবে। বয়স হবে ৩০-৩৩ এর মাঝামাঝি”। (তিরমিযি ৪/২৫৪৫)৯০
মাসআলা-২৯৫: জান্নাতীরা যা কামনা করবে তা সাথে সাথেই পূর্ণ হবে:
عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ ﷺ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ : الْمُؤْمِنُ إِذَا اشْتَهَى الوَلَدَ فِي الْجَنَّةِ كَانَ حَمْلُهُ وَوَضْعُهُ وَسِنُّهُ فِي سَاعَةٍ كَمَا يَشْتَهِي»
অর্থ: "আবু সাঈদ খুদরী (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ বলেছেন, মু'মিন ব্যক্তি জান্নাতে যদি সন্তান কামনা করে তাহলে মুহূর্তের মধ্যেই গর্ভধারণ ও সন্তান প্রসব হয়ে যাবে।” (ইবনে মাজা ৪/২৫৬৩)৯১
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ : أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَوْمًا يُحَدِّثُ، وَعِنْدَهُ رَجُلٌ مِنْ أَهْلِ الْبَادِيَةِ : " أَنَّ رَجُلًا مِنْ أَهْلِ الْجَنَّةِ اسْتَأْذَنَ رَبَّهُ فِي الزَّرْعِ، فَقَالَ لَهُ : أَلَسْتَ فِيمَا شِئْتَ؟ قَالَ: بَلَى، وَلَكِنِّي أُحِبُّ أَنْ أَزْرَعَ. قَالَ: فَبَذَرَ، فَبَادَرَ الطَّرْفَ نَبَاتُهُ وَاسْتِوَاؤُهُ وَاسْتِحْصَادُهُ، فَكَانَ أَمْثَالَ الْجِبَالِ، فَيَقُولُ اللهُ: دُونَكَ يَا ابْنَ آدَمَ ، فَإِنَّهُ لَا يُشْبِعُكَ شَيْءٌ " ، فَقَالَ الْأَعْرَابِيُّ: وَاللَّهِ لَا تَجِدُهُ إِلَّا قُرَيْشِيًّا، أَوْ أَنْصَارِيًّا، فَإِنَّهُمْ أَصْحَابُ زَرْعٍ. وَأَمَّا نَحْنُ فَلَسْنَا بِأَصْحَابِ زَرْعٍ، فَضَحِكَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
অর্থ: আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: নবী একদা তাঁর সাহাবীদের সাথে কথা বলতে ছিলেন আর তাঁর পাশে একজন গ্রাম্য লোক বসছিলো, তিনি বললেন: জান্নাতীদের মধ্যে এক ব্যক্তি তার রবের নিকট কৃষি কাজ করার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করবে। আল্লাহ বলবেন: তুমি যা চাচ্ছ তা কি তোমার নিকট নেই? জান্নাতী বলবে, কেন সবই আছে, কিন্তু কৃষি কাজ আমার পছন্দনীয়, তাই আমি তা করতে চাই। তখন ঐ ব্যক্তি যমীনে বিচ বপন করবে, মুহূর্তের মধ্যেই তার ফল আসবে এবং কাটার উপযুক্ত হয়ে যাবে। বরং পাহাড় সমান ফসল হয়ে যাবে। তখন আল্লাহ বলবেন: হে আদম সন্তান! এখন খুশি হও, তোমার পেট কোনো কিছুতেই ভরবে না। গ্রাম্য লোকটি বললো: আল্লাহর কসম! এ লোকটি অবশ্যই কুরাইশ বা আনসারদের মধ্য থেকে হবে, কেননা তারাই কৃষি কাজ করে, আমরা কখনো কৃষি কাজ করি না। রাসূলুল্লাহ একথা শুনে মুচকি হাসলেন।" (বুখারী ৩/২৩৪৮)৯২
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ اللهِ قَالَ: قِيلَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ, هَلْ نَصِلُ إِلَى نِسَائِنَا فِي الْجَنَّةِ؟ فَقَالَ: «إِنَّ الرَّجُلَ لَيَصِلُ فِي الْيَوْمِ إِلَى مِائَةِ عَذْرَاءَ»
অর্থ: "আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে জিজ্ঞেস করা হলো যে, আমরা কি জান্নাতে আমাদের স্ত্রীদের নিকট যাব? তিনি বললেন: এক ব্যক্তি প্রতিদিন একশ কুমারী নারীর নিকট যাবে।” (আবু নুআইম)৯৩

টিকাঃ
৮৫ কিতাবুল জান্না ওয়া সিফাতু নায়ীমিহা।
৮৬ কিতাবুল জান্না ওয়া সিফাতু নায়ীমিহা।
৮৭ আলবানী সংকলিত সিলসিলা আহাদীস সহীহা, হাদীস নং-৩৬৭।
৮৮ আলবানী সংকলিত সিলসিলা আহাদীস সহীহা, হাদীস নং-১০৮৭।
৮৯ কিতابুল জান্না ওয়া সিফাতু নারীমিহা।
৯০ সিফাত আবওয়াবিল জান্না, বাব মাযায়া ফি সিন্নি আহলিল জান্না (২/২০৬৪)
৯১ কিতাবুযযুহ্‌د, বাব সিফাতুল জান্নাহ (২/৩৫০০)
৯২ কিতাবুল মাযরাজা।
৯৩ আলবানী সংকলিত সিলসিলা আহাদীস সহীহা, ১ম খ. হাদীস নং-১০৮৭।

📘 মৃত্যুর পরে অনন্ত জীবন > 📄 আদম সন্তানদের মধ্যে জান্নাতী ও জাহান্নামীর হার

📄 আদম সন্তানদের মধ্যে জান্নাতী ও জাহান্নামীর হার


মাসআলা-২৯৭: হাজারে মাত্র একজন জান্নাতে যাবে আর বাকী ৯৯৯ জন যাবে জাহান্নামে।
عَنْ أَبِي سَعِيدٍ ﷺ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : " يَقُولُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ: يَا آدَمُ فَيَقُولُ : لَبَّيْكَ وَسَعْدَيْكَ وَالْخَيْرُ فِي يَدَيْكَ، قَالَ يَقُولُ: أَخْرِجْ بَعْثَ النَّارِ قَالَ: وَمَا بَعْثُ النَّارِ قَالَ: مِنْ كُلِّ أَلْفٍ تِسْعَ مِائَةٍ وَتِسْعَةً وَتِسْعِينَ قَالَ: فَذَاكَ حِينَ يَشِيبُ الصَّغِيرُ وَتَضَعُ كُلُّ ذَاتِ حَمْلٍ حَمْلَهَا وَتَرَى النَّاسَ سُكَارَى وَمَا هُمْ بِسُكَارَى وَلَكِنَّ عَذَابَ اللَّهِ شَدِيدٌ " قَالَ: فَاشْتَدَّ ذَلِكَ عَلَيْهِمْ قَالُوا : يَا رَسُولَ اللَّهِ أَيْنَو ذَالِكَ الرَّجُلُ؟ فَقَالَ : رَسُولُ الله ﷺ أَبْشِرُوا فَإِنَّ مِنْ يَأْجُوجَ وَمَأْجُوجَ أَلْفًا، وَمِنْكُمْ رَجُلٌ»
অর্থ: "আবু সাঈদ (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন: (কিয়ামতের দিন) আল্লাহ বলবেন, হে আদম! আদম (আ) বলবে: হে আল্লাহ আমি তোমার আনুগত্যে উপস্থিত, আর সমস্ত কল্যাণ তোমার হাতেই। তখন আল্লাহ বলবেন: সৃষ্টির মধ্য থেকে জাহান্নামীদেরকে পৃথক করো। আদম বলবে: জাহান্নামীদের সংখ্যা কত? আল্লাহ বলবেন: এক হাজারের মধ্যে ৯৯৯ জন। নবী ﷺ বলেন: এটা ঐ সময় যখন বাচ্চা বৃদ্ধ হয়ে যাবে, আর গর্ভধারিনীদের গর্ভপাত হয়ে যাবে, আর তুমি লোকদেরকে দেখে বেহুশ বলে মনে করবে, অথচ তারা বেহুশ নয়, বরং আল্লাহর আযাব এতো কঠিন হবে যে, লোকেরা হুশ জ্ঞান হারিয়ে ফেলবে। বর্ণনাকারী বলেন: একথা শুনে সাহাবাগণ হয়রান হয়ে গেল, আর বলতে লাগলো, হে আল্লাহর রাসূল! তাহলে আমাদের মধ্যে এমন সৌভাগ্যবান কে হবে যে জান্নাতে যাবে? তিনি বললেন: আশান্বিত হও। ইয়াজুজ মাজুজের সংখ্যা এতো বেশি হবে যে, ৯৯৯ জন তাদের মধ্য থেকে হবে আর বাকী একজন তোমাদের মধ্য থেকে।" (মুসলিম ১/২২২)৯৪

টিকাঃ
৯৪ কিতাবুল ঈমান, বাব বয়ান কাউনু হাযিহিল উম্মা নিসফ আহলিল জান্না।

📘 মৃত্যুর পরে অনন্ত জীবন > 📄 সংখ্যাগরিষ্ঠ জান্নাতী মুহাম্মদ ﷺ-এর উম্মত

📄 সংখ্যাগরিষ্ঠ জান্নাতী মুহাম্মদ ﷺ-এর উম্মত


মাসআলা-২৯৮: জান্নাতীদের দুই তৃতীয়াংশ মুহাম্মদ-এর উম্মত আর বাকী এক তৃতীয়াংশ হবে সমস্ত নবীদের উম্মত:
عَنْ بُرَيْدَةَ হِ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَهْلُ الْجَنَّةِ عِشْرُونَ وَمِائَةُ صَفٍ ثَمَانُونَ مِنْهَا مِنْ هَذِهِ الْأُمَّةِ وَأَرْبَعُونَ مِنْ سَائِرِ الْأُمَمِ»
অর্থ: "বুরাইদা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ বলেন: জান্নাতীদের একশ বিশটি কাতার হবে, যার মধ্যে আশি কাতার হবে মুহাম্মদ-এর উম্মত আর বাকী চল্লিশ কাতার হবে অন্যান্য উম্মত।” (তিরমিযী ৪/২৫৪৬)৯৫
মাসআলা-২৯৯: জান্নাতীদের অর্ধেক সংখ্যক হবে মুহাম্মদ-এর উম্মত:
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ હি قَالَ: قَالَ لَنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَمَا تَرْضَوْنَ أَنْ تَكُونُوا رُبعَ أَهْلِ الْجَنَّةِ؟ قَالَ: فَكَبَرْنَا، ثُمَّ قَالَ: «أَمَا تَرْضَوْنَ أَنْ تَكُونُوا ثُلُثَ أَهْلِ الْجَنَّةِ؟ قَالَ: فَكَبَّرْنَا، ثُمَّ قَالَ: «إِنِّي لَأَرْجُو أَنْ تَكُونُوا شَطْرَ أَهْلِ الْجَنَّةِ، وَسَأُخْبِرُكُمْ عَنْ ذَلِكَ، مَا الْمُسْلِمُونَ فِي الْكُفَّارِ إِلَّا كَشَعْرَةٍ بَيْضَاءَ فِي ثَوْرٍ أَسْوَدَ، أَوْ كَشَعْرَةٍ سَوْدَاءَ فِي ثَوْرٍ أَبْيَضَ»
অর্থ: "আবদুল্লাহ বিন মাউদ (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ আমাদেরকে বলেন তোমরা কি এতে খুশি নও যে, অতপর বললেন: জান্নাতীদের এক চতুর্থাংশ তোমাদের মধ্য থেকে হবে? একথা শুনে আমরা আনন্দে আল্লাহু আকবার বললাম। অতপর রাসূলুল্লাহ বললেন: তোমরা কি এতে খুশি নও যে, জান্নাতীদের এক তৃতীয়াংশ তোমরা হবে? আমরা আনন্দে আবারো আল্লাহু আকবার বললাম। আবার রাসূলুল্লাহ বললেন: আমি আশা করতেছি যে, জান্নাতীদের অর্ধেক তোমরা হবে, আর এর কারণ এই যে, কাফিরদের তুলনায় মুসলমানদের সংখ্যা এমন যেমন কাল চুল বিশিষ্ট এক শরীরে একটি সাদা চুল, বা সাদা চুল বিশিষ্ট শরীরে একটি কাল চুল। (মুসলিম ১/২২১)৯৬
নোট: প্রথম হাদীসে রাসূলুল্লাহ জান্নাতীদের মধ্যে উম্মতে মুহাম্মদীর সংখ্যা এক তৃতীয়াংশ বলে বলেছেন আর পরবর্তী অংশে বলেছেন অর্ধেক, মূলত উভয় অংশের মাধ্যমে জান্নাতে উম্মতে মুহম্মদীর সংখ্যাধিক্য বুঝানোই উদ্দেশ্য। (আল্লাহই এ ব্যাপারে ভাল জানেন)
মাসআলা-৩০০: মুহাম্মদ -এর উম্মতের মধ্যে সত্তর হাজার লোক বিনা হিসেবে ও বিনা শাস্তিতে জান্নাতে যাবে:
মাসআলা-৩০১: প্রত্যেক হাজারের সাথে আরো একহাজার করে (অর্থাৎ ৪৯ লক্ষ) লোক মুহাম্মদ -এর উম্মতের মধ্য থেকে জান্নাতে যাবে:
মাসআলা-৩০২: এতদ্ব্যতীত আল্লাহর তিন লুফ পূর্ণ (যার সংখ্যা একমাত্র আল্লাহই ভাল জানেন) মানুষও উম্মতে মুহাম্মদীর মধ্য থেকে জান্নাতে যাবে:
عَنْ أَبِي أَمَامَةَ الْبَاهِلِيَّ ﷺ يَقُولُ : سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، يَقُولُ: «وَعَدَنِي رَبِّي أَنْ يُدْخِلَ الْجَنَّةَ مِنْ أُمَّتِي سَبْعِينَ أَلْفًا، لَا حِسَابَ عَلَيْهِمْ ، وَلَا عَذَابَ ، مَعَ كُلِّ أَلْفٍ سَبْعُونَ أَلْفًا، وَثَلَاثُ حَثَيَاتٍ مِنْ حَثَيَاتِ رَبِّي
অর্থ: "আবু উমামা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ বলেছেন: আমার রব আমার সাথে ওয়াদা করেছেন যে, আমার উম্মতের মধ্য থেকে সত্তর হাজার লোককে বিনা হিসাব ও শাস্তিহীন ভাবে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। আর এ প্রত্যেক হাজারের সাথে আরো সত্তর হাজার লোক জান্নাতে যাবে। এর সাথে আরো আল্লাহর তিন লুফপূর্ণ লোক জান্নাতে যাবে।” (তিরমিযী)৯৭
عَنْ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ هِ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «يَدْخُلُ الْجَنَّةَ مِنْ أُمَّتِي سَبْعُونَ أَلْفًا بِغَيْرِ حِسَابٍ ، قَالُوا: مَنْ هُمْ يَا رَسُولَ اللَّهِ؟ قَالَ: «هُمُ الَّذِينَ لَا يَسْتَرْقُونَ، وَلَا يَتَطَيَّرُونَ، وَلَا يَكْتَوُونَ وَعَلَى رَبِّهِمْ يَتَوَكَّلُونَ فَقَامَ عُكَاشَةٌ، فَقَالَ: ادْعُ اللَّهَ يَا نَبِيَّ اللَّهِ أَنْ تَجْعَلَنِي مِنْهُمْ ، قَالَ: «أَنْتَ مِنْهُمْ »
অর্থ: "ইমরান বিন হুসাইন (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ বলেছেন: আমার উম্মতের মধ্য থেকে সত্তর হাজার লোক বিনা হিসেবে জান্নাতে যাবে। সাহাবাগণ জিজ্ঞেস করলো ইয়া রাসূলুল্লাহ! ঐ সৌভাগ্যবানরা কারা? তিনি বললেন: তারা ঐসমস্ত লোক যারা কোনো দিন (অসুস্থতার কারণে) কোনো চিকিৎসা বা ঝাড় ফুকের বা ছেঁক দেয়ার ব্যবস্থা করে নি। বরং তারা শুধু তাদের রবের উপর ভরসা করে থাকে। উক্কাসা (রা) বললেন: হে আল্লাহর নবী! আমার জন্য দু'আ করুন আমিও যেন তাদের একজন হতে পারি। নবী বললেন: তুমি তাদের একজন।” (মুসলিম ১/২১৮)৯৮
عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ هِ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: " عُرِضَتْ عَلَيَّ الْأُمَمُ ، فَرَأَيْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَمَعَهُ الرُّهَيْطُ، وَالنَّبِيَّ وَمَعَهُ الرَّجُلُ وَالرَّجُلَانِ، وَالنَّبِيَّ لَيْسَ مَعَهُ أَحَدٌ إِذْ رُفِعَ لِي سَوَادٌ عَظِيمٌ ، فَظَنَنْتُ أَنَّهُمْ أُمَّتِي، فَقِيلَ لِي: هَذَا مُوسَى عَلَيْهِ السَّلَامُ وَقَوْمُهُ، وَلَكِنْ انْظُرْ إِلَى الْأُفُقِ، فَنَظَرْتُ فَإِذَا سَوَادٌ عَظِيمٌ ، فَقِيلَ لِي: انْظُرْ إِلَى الْأُفُقِ الْآخَرِ، فَإِذَا سَوَادٌ عَظِيمٌ ، فَقِيلَ لِي: هَذِهِ أُمَّتُكَ وَمَعَهُمْ سَبْعُونَ أَلْفًا يَدْخُلُونَ الْجَنَّةَ بِغَيْرِ حِسَابٍ وَلَا عَذَابٍ "
অর্থ: "ইবনে আব্বাস (রা) নবী থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার সামনে বিভিন্ন নবীর উম্মতদেরকে পেশ করা হলো, কোনো কোনো নবী এমন ছিল যাদের সাথে দশজন লোকও ছিল না। আবার কোনো কোনো নবীর সাথে এক বা দুজন লোক ছিল, আবার কোনো কোনো নবীর সাথে কোনো লোকই ছিল না। এমতাবস্থায় আমার সামনে এক বিশাল জনসমুদ্র আসল, আমি ভাবলাম তারা আমার উম্মত, কিন্তু আমাকে বলা হলো যে, এ হলো মূসা (আ) এবং তাঁর উম্মত। আমাকে বলা হলো আপনি আকাশের কর্ণারের দিকে তাকান, আমি দেখতে পেলাম সেখানেও এক বিশাল জনসমুদ্র। অতপর আমাকে বলা হলো আপনি আকাশের অন্য কর্ণারের দিকে তাকান, আমি দেখলাম সেখানেও এক বিশাল জনসমুদ্র। তখন আমাকে বলা হলো এরা হলো আপনার উম্মত। যাদের মধ্য থেকে সত্তর হাজার লোক বিনা হিসেবে এবং শাস্তি ছাড়াই ভাবে জান্নাতে যাবে।” (মুসলিম ১/২২০)৯৯

টিকাঃ
৯৫ আবওয়াবুল জান্না, বাব মাযায কাম সফ আহলিল জান্না (২/২০৬৫)।
৯৬ কিতাবুল ঈমান, বাব বয়ান কাওনু হাযিহিল উম্মা নিসফ আহলিল জান্না।
৯৭ কিতাবুল ঈমান, বাব বয়ান কাওনু হাযিহিল উম্মা নিসফ আহলil জান্না।
৯৮ কিতাবুল ঈমান, বাব দলীল আলা দুখুল ত্বয়িফা মিনাল মুসলিমীন আল জান্না বিগাইরি হিসাব।
৯৯ কিতাবুল ঈমান বাব দলীল আলা দুখুল ত্বয়েফা মিনাল মুসলিমীন আল জান্না বিগাইরি হিসাব।

📘 মৃত্যুর পরে অনন্ত জীবন > 📄 জান্নাতে প্রবেশকারী আমলসমূহ কঠিন

📄 জান্নাতে প্রবেশকারী আমলসমূহ কঠিন


মাসআলা-৩০৩: জান্নাত কঠিন এবং মানুষের মন তিক্তকারী আমল দ্বারা ঢাকা রয়েছে:
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ اللهُ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: " لَمَّا خَلَقَ اللهُ الْجَنَّةَ وَالنَّارَ أَرْسَلَ جِبْرِيلَ إِلَى الْجَنَّةِ فَقَالَ: انْظُرْ إِلَيْهَا وَإِلَى مَا أَعْدَدْتُ لِأَهْلِهَا فِيهَا "، قَالَ: «فَجَاءَهَا وَنَظَرَ إِلَيْهَا وَإِلَى مَا أَعَدَّ اللَّهُ لِأَهْلِهَا فِيهَا». قَالَ: «فَرَجَعَ إِلَيْهِ، قَالَ: فَوَعِزَّتِكَ لَا يَسْمَعُ بِهَا أَحَدٌ إِلَّا دَخَلَهَا. فَأَمَرَ بِهَا فَحُفَّتْ بِالْمَكَارِهِ، فَقَالَ: ارْجِعْ إِلَيْهَا فَانْظُرْ إِلَى مَا أَعْدَدْتُ لِأَهْلِهَا فِيهَا " ، قَالَ : " فَرَجَعَ إِلَيْهَا فَإِذَا هِيَ قَدْ حُفَّتْ بِالْمَكَارِهِ، فَرَجَعَ إِلَيْهِ فَقَالَ: وَعِزَّتِكَ لَقَدْ خِفْتُ أَنْ لَا يَدْخُلَهَا أَحَدٌ، قَالَ: اذْهَبْ إِلَى النَّارِ فَانْظُرْ إِلَيْهَا وَإِلَى مَا أَعْدَدْتُ لِأَهْلِهَا فِيهَا، فَإِذَا هِيَ يَرْكَبُ بَعْضُهَا بَعْضًا، فَرَجَعَ إِلَيْهِ فَقَالَ: وَعِزَّتِكَ لَا يَسْمَعُ بِهَا أَحَدٌ فَيَدْخُلَهَا، فَأَمَرَ بِهَا فَحُفَّتْ بِالشَّهَوَاتِ، فَقَالَ: ارْجِعُ إِلَيْهَا، فَرَجَعَ إِلَيْهَا فَقَالَ: وَعِزَّتِكَ لَقَدْ خَشِيتُ أَنْ لَا يَنْجُو مِنْهَا أَحَدٌ إِلَّا دَخَلَهَا "
অর্থ: "আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ বলেছেন: যখন আল্লাহ জান্নাত ও জাহান্নাম সৃষ্টি করলেন তখন জিবরাঈল (আ)-কে জান্নাতের দিকে পাঠালেন এবং বললেন: জান্নাত এবং জান্নাতীদের জন্য যে, নিআমত আমি প্রস্তুত করে রেখেছি তা দেখে আস। জিবরাঈল (আ) এসে তা দেখলেন এবং জান্নাত ও জান্নাতীদের জন্য যে নিআমত প্রস্তুত করে রাখা হয়েছে তা দেখলো, এরপর আল্লাহর নিকট আসলো, এবং বললো তোমার ইয্যতের কসম! যে-ই এর কথা শুনবে সে অবশ্যই তাতে প্রবেশ করবে। অতপর আল্লাহ ফেরেশতাদেরকে নির্দেশ দিলেন যে জান্নাতকে কষ্টকর আমলসমূহ দিয়ে ঢেকে দাও। এরপর আল্লাহ জিবরাঈল (আ)-কে দ্বিতীয়বার নির্দেশ দিলেন তুমি আবার জান্নাতে যাও এবং জান্নাতীদের জন্য আমি যে নিআমত প্রস্তুত করে রেখেছি তা দেখে আস। জিবরীল গেল তখন জান্নাত কষ্টকর আমলসমূহ দ্বারা ঢাকা ছিল, তখন সে আল্লাহর নিকট ফিরে এসে বললো: তোমার ইয্যতের কসম! আমার ভয় হচ্ছে যে এতে কেউ প্রবেশ করতে পারবে না। অতপর আল্লাহ তাকে নির্দেশ দিলেন যে, এখন জাহান্নামের দিকে যাও এবং জাহান্নামীদের জন্য আমি যে শাস্তি প্রস্তুত করে রেখেছি তা দেখে আস যে, কিভাবে তার এক অংশ অপর অংশকে গ্রাস করছে, জিবরাঈল সবকিছু দেখে ফিরে এসে বললো: তোমার ইযযতের কসম! এমন কোনো লোক হবে না যে তার সম্পর্কে শোনবে অথচ সেখানে সে প্রবেশ করবে। তখন আল্লাহ ফেরেশতাদেরকে নির্দেশ দিলেন যে, জাহান্নামকে মনের কামনা দিয়ে ঢেকে দাও। আল্লাহ জিবরাঈলকে দ্বিতীয়বার বললেন: তুমি আবার যাও, তখন জিবরাঈল দ্বিতীয় বার গেল এবং সবকিছু দেখে এসে বললো: তোমার ইয্যতের কসম! আমার ভয় হচ্ছে যে, এখন এখান থেকে কোনো ব্যক্তিই মুক্তি পাবে না, সবাই সেখানে প্রবেশ করবে।" (তিরমিযী ৪/২৫৬০)১০০
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ اللهِ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : «حُفَّتِ الْجَنَّةُ بِالْمَكَارِهِ، وَحُفَّتِ النَّارُ بِالشَّهَوَاتِ»
অর্থ: "আনাস বিন মালেক (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ বলেছেন: জান্নাত কষ্টকর আমলসমূহ দ্বারা ঢেকে দেয়া হয়েছে, আর জাহান্নাম মনের কামনা দ্বারা ঢেকে দেয়া হয়েছে।" (মুসলিম ৪/২৮২২)১০১
মাসআলা-৩০৪: জান্নাত পেতে হলে কঠোর সাধনার প্রয়োজন রয়েছে:
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ اللهِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : «مَنْ خَافَ أَدْلَجَ، وَمَنْ أَدْلَجَ بَلَغَ الْمَنْزِلَ، أَلَّا إِنَّ سِلْعَةَ اللَّهِ غَالِيَةٌ، أَلَّا إِنَّ سِلْعَةَ اللَّهِ الْجَنَّةُ»
অর্থ: "আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ বলেছেন: যে ব্যক্তি ভয় করেছে সে পালিয়েছে, আর যে পালিয়েছে সে লক্ষস্থলে পৌঁছেছে। জেনে রেখ আল্লাহর সম্পদ অত্যন্ত মূল্যবান, জেনে রেখ আল্লাহর সম্পদ অত্যন্ত মূল্যবান, আর যেনে রেখ আল্লাহর সম্পদ হলো জান্নাত।” (তিরমিযী ৪/২৪৫০)১০২
মাসআলা-৩০৫: নিআমতে ভরপুর জান্নাত অন্বেষণকারী পৃথিবীতে কখনো নিশ্চিন্তায় ঘুমাতে পারবে না:
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ هِ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : «مَا رَأَيْتُ مِثْلَ النَّارِ نَامَ هَارِبُهَا، وَلَا مِثْلَ الْجَنَّةِ نَامَ طَالِبُهَا»
অর্থ: "আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ বলেছেন: আমি জাহান্নাম থেকে পলায়নকারী ব্যক্তিকে কখনো ঘুমাতে দেখি নি। আর জান্নাত অন্বেষণকারীকেও কখনো ঘুমাতে দেখি নি। (তিরমিযী ৪/২৬০১)১০৩
মাসআলা-৩০৬: পরকালে মর্যাদা ও পুরস্কৃত হওয়ার আমলসমূহ পার্থিব দিক থেকে তিক্ত:
عَنْ أَبِي مَالِكِ الْأَشْعَرِي قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «حُلْوَةُ الدُّنْيَا مُرَّةُ الْآخِرَةِ، وَمُرَّةُ الدُّنْيَا حُلُوَةُ الْآخِرَةِ»
অর্থ: "আবু মালেক আশআরী (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ -কে বলতে শুনেছি তিনি বলেন: পৃথিবীর মিষ্টতা পরকালের তিক্ততা। আর পৃথিবীর তিক্ততা পরকালের মিষ্টতা।” (আহমদ, হাকেম ৩৭/২২৮৯৯)১০৪
মাসআলা-৩০৭: মু'মিনের জন্য দুনিয়া কারাগারের ন্যায়:
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : «الدُّنْيَا سِجْنُ الْمُؤْمِنِ، وَجَنَّةُ الْكَافِرِ»
অর্থ: "আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ বলেছেন: পৃথিবী মু'মিনের জন্য কারাগারের ন্যায় আর কাফিরের জন্য জান্নাতের ন্যায়।" (মসলিম ৪/২৯৫৬)১০৫

টিকাঃ
১০০ আবওয়াব সিফাতুল জান্না, মাযায়া ফি আন্নাল জান্না হুফফাত বিল মাকারিহ (২/২০৭৫)
১০১ কিতাবুল জান্না ওয়া সিফাত নায়ীমিহা।
১০২ আবওয়াব সিফাতুল কিয়ামা (২/১৯৯৩)
১০৩ আবওয়াব সিফাতুন স্নার, বাব ইন্না লিন্নারি নফসাইন। (২/২০৯৭)
১০৪ সহীহ আলজামে আসসাগীর লি আলবানী, ৩য় খন্ড, হাদীস নং-৩১৫০।
১০৫ কিতাবুযযুহদ।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00