📘 মৃত্যুর পরে অনন্ত জীবন > 📄 জান্নাতে আল্লাহর সন্তুষ্টি

📄 জান্নাতে আল্লাহর সন্তুষ্টি


মাসআলা-২৬৮: জান্নাতে জান্নাতীদের আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ করা হবে তাদের জন্য সবচেয়ে বড় সফলতা:
وَعَدَ اللهُ الْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَاتِ جَنَّاتٍ تَجْرِي مِن تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا وَمَسَاكِنَ طَيِّبَةً فِي جَنَّاتِ عَدْنٍ وَرِضْوَانٌ مِّنَ اللَّهِ أَكْبَرُ ذَلِكَ هُوَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ
অর্থ: "আল্লাহ মু'মিন পুরুষ ও মু'মিন নারীদেরকে জান্নাতের ওয়াদা দিয়েছেন, যার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হবে নহরসমূহ, তাতে তারা চিরদিন থাকবে এবং (ওয়াদা দিচ্ছেন) স্থায়ী জান্নাতসমূহে পবিত্র বাসস্থানসমূহের। আর আল্লাহর পক্ষ থেকে সন্তুষ্টি সবচেয়ে বড়। এটাই মহাসফলতা।" (সূরা তাওবা ৯:৭২)
মাসআলা-২৬৯: জান্নাতীদেরকে আল্লাহ স্বয়ং তার সন্তুষ্টির কথা তাদেরকে জানাবেন:
মাসআলা-২৬৬: জান্নাতে আল্লাহ জান্নাতীদের সাথে কথা বলবেন:
عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ ﷺ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: " إِنَّ اللَّهَ يَقُولُ لِأَهْلِ الْجَنَّةِ : يَا أَهْلَ الْجَنَّةِ فَيَقُولُونَ : لَبَّيْكَ رَبَّنَا وَسَعْدَيْكَ وَالْخَيْرُ فِي يَدَيْكَ فَيَقُولُ : هَلْ رَضِيتُمْ ؟ فَيَقُولُونَ : وَمَا لَنَا لَا نَرْضَى؟ يَا رَبِّ وَقَدْ أَعْطَيْتَنَا مَا لَمْ تُعْطِ أَحَدًا مِنْ خَلْقِكَ، فَيَقُولُ: أَلَا أُعْطِيكُمْ أَفْضَلَ مِنْ ذلِكَ؟ فَيَقُولُونَ : يَا رَبِّ وَأَيُّ شَيْءٍ أَفْضَلُ مِنْ ذَلِكَ؟ فَيَقُولُ: أُحِلُّ عَلَيْكُمْ رِضْوَانِي، فَلَا أَسْخَطُ عَلَيْكُمْ بَعْدَهُ أَبَدًا "
অর্থ: "আবু সাঈদ খুদরী (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন রাসূলুল্লাহ বলেছেন: আল্লাহ জান্নাতীদেরকে বলবেন হে জান্নাতীরা! তারা বলবে হে আমাদের প্রভু আমরা তোমার সামনে উপস্থিত, সমস্ত কল্যাণ তোমার হাতে, আল্লাহ বলবেন তোমরা কি সন্তুষ্ট হয়েছো? তারা বলবে হে আমাদের প্রভু! আমরা কেন সন্তুষ্ট হব না! তুমি আমাদেরকে যা কিছু দিয়েছ তোমার সৃষ্টির অন্য কাউকে তা দাও নি। আল্লাহ বলবেন আমি কি তোমাদেরকে এর চেয়ে উত্তম জিনিস দিব না? জান্নাতীরা বলবে হে আল্লাহ! এর চেয়ে উত্তম আর কি আছে? আল্লাহ বলবেন: আমি তোমাদের প্রতি সন্তুষ্ট হলাম। এখন থেকে আমি আর কখনো তোমাদের প্রতি অসন্তুষ্ট হবো না।" (মুসলিম ৪/২৮২৯)৭৭

টিকাঃ
৭৭ কিতাবুল জান্না ওয়া সিফাত নায়ীমিহা।

📘 মৃত্যুর পরে অনন্ত জীবন > 📄 জান্নাতে আল্লাহর সাক্ষাত

📄 জান্নাতে আল্লাহর সাক্ষাত


মাসআলা-২৭১ : আল্লাহর দীদারের সময় জান্নাতীদের চেহারা খুশিতে উজ্জ্বল থাকবে:
وَجُوهٌ يَوْمَئِذٍ نَاضِرَةٌ إِلَى رَبِّهَا نَاظِرَةٌ
অর্থ: "সেদিন অনেক মুখমণ্ডল উজ্জ্বল হবে, তারা তাদের পালনকর্তার দিকে তাকিয়ে থাকবে।” (সূরা ক্বিয়ামাহ: ২২-২৩)
মাসআলা-২৭২ : জান্নাতে জান্নাতীরা এত স্পষ্টভাবে আল্লাহকে দেখবে যেমন ১৪ তারিখের রাতে চাঁদকে স্পষ্টভাবে দেখা যায়:
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ هِ أَنَّ النَّاسَ قَالُوا : يَا رَسُولَ اللَّهِ ﷺ هَلْ نَرَى رَبَّنَا يَوْمَ الْقِيَامَةِ؟ فَقَالَ: «هَلْ تُمَارُونَ فِي الْقَمَرِ لَيْلَةَ الْبَدْرِ قَالُوا: لَا يَا رَسُولَ اللهِ ، قَالَ: «فَهَلْ تُمَارُونَ فِي الشَّمْسِ لَيْسَ دُونَهَا سَحَابٌ» قَالُوا : لَا ، قَالَ : " فَإِنَّكُمْ تَرَوْنَهُ كَذَلِكَ .
অর্থ "আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন কিছু লোক রাসূলুল্লাহ- কে জিজ্ঞেস করলো হে আল্লাহর রাসূল কিয়ামতের দিন আমরা কি আমাদের রবকে দেখবো? রাসূলূল্লাহ বললেন: ১৪ তারিখের রাতের চাঁদ দেখতে কি তোমাদের কোনো সমস্যা হয়? তারা বললো: না হে আল্লাহর রাসূল! রাসূলুল্লাহ (স) বললেন, স্বচ্ছ আকাশে সূর্য দেখতে কি তোমাদের কোনো সমস্যা হয়? তারা বললো: না। তখন তিনি বললেন: তোমরা এভাবেই তোমাদের রবকে দেখতে পারবে।” (মুসলিম)৭৮
عَنْ جَرِيرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ وَهُوَ يَقُولُ كُنَّا جُلُوسًا عِنْدَ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا نَظَرَ إِلَى الْقَمَرِ لَيْلَةَ الْبَدْرِ فَقَالَ أَمَا أَنَّكُمْ سَتَرَونَ رَبَّكُمْ كَمَا تَرَوْنَ هَذَا الْقَمَرَ لَا تَضَامُونَ فِي رُؤْيَتِهِ.
অর্থ: "জারীর বিন আবদুল্লাহ (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ -এর নিকট উপস্থিত ছিলাম, তখন তিনি ১৪ তারিখের চাঁদের দিকে তাকিয়ে বললেন: অতি শীঘ্রই কোনো বাধা ব্যতীত তোমরা তোমাদের রবকে দেখতে পাবে। যেমন এ চাঁদকে বিনা বাধায় দেখতে পাচ্ছ।” (মুসলিম)৭৯
عَنْ صُهَيْبٍ هِ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: " إِذَا دَخَلَ أَهْلُ الْجَنَّةِ الْجَنَّةَ، قَالَ: يَقُولُ اللَّهُ تَبَارَكَ وَتَعَالَى: تُرِيدُونَ شَيْئًا أَزِيدُكُمْ ؟ فَيَقُولُونَ: أَلَمْ تُبَيِّضُ وُجُوهَنَا؟ أَلَمْ تُدْخِلْنَا الْجَنَّةَ، وَتُنَجِّنَا مِنَ النَّارِ؟ قَالَ: فَيَكْشِفُ الْحِجَابَ، فَمَا أُعْطُوا شَيْئًا أَحَبَّ إِلَيْهِمْ مِنَ النَّظَرِ إِلَى رَبِّهِمْ عَزَّ وَجَلَّ "
অর্থ: "সুহাইব (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম বলেছেন: জান্নাতীরা জান্নাতে যাওয়ার পর আল্লাহ বলবেন: তোমাদের কি আরো কোনো দাবী আছে? তারা বলবে হে আল্লাহ! তুমি কি আমাদের চেহারাকে আলোকিত করো নি? তুমি কি আমাদেরকে জান্নাতে প্রবেশ করাও নি? তুমি কি আমাদেরকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দাও নি? (এর পর আমরা আর কি দাবী করতে পারি!) এরপর হঠাৎ করে আল্লাহ ও জান্নাতীদের মাঝের পর্দা উঠে যাবে, আর তখন জান্নাতীরা তাদের রবকে সরাসরি দেখবে আর তাদের এ দেখা জান্নাতের সমস্ত নিআমত থেকে উত্তম হবে।" (মুসলিম ১/১৮১)৮০
মাসআলা-২৭৩: দুনিয়াতে আল্লাহর দিদার সম্ভব নয়:
عَنْ أَبِي ذَرٍ قَالَ: سَأَلْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، هَلْ رَأَيْتَ رَبَّكَ؟ قَالَ: «نُورُ أَنَّى أَرَاهُ»
অর্থ: "আবু যার (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ ﷺ কে জিজ্ঞেস করলাম আপনি কি আপনার রবকে দেখেছেন? তিনি উত্তরে বললেন: তিনি তো নূর আমি তা কি করে দেখবো"? (মুসলিম ১/১৭৮)৮১
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ هُ قَالَ: قَالَ مَا كَذَبَ الْفُؤَادُ مَا رَأَى } ، قَالَ: رَأَى جِبْرِيلَ عَلَيْهِ السَّلَامُ لَهُ سِتُّ مِائَةِ جَنَاحٍ»
অর্থ: "আবদুল্লাহ বিন মাসউদ (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, তাঁর অন্তর মিথ্যা বলেনি যা সে দেখেছে ঐ ব্যাপারে। (অর্থাৎ) তিনি জিবরীল (আ) কে দেখেছেন যে, তার ছয় শত পাখা আছে।” (মুসলিম ১/১৭৪)৮২
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، { وَلَقَدْ رَآهُ نَزْلَةٌ أُخْرَى ، قَالَ: «رَأَى جِبْرِيلَ»
অর্থ: "আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর বাণী "নিশ্চয় সে (মুহাম্মদ) তাকে (জিবরাঈলকে) আরেকবার দেখেছিল। বর্ণনাকারী বলেন: তিনি (মুহাম্মদ) জিবরাঈল (আ)-কে দেখেছেন।" (মুসলিম ১/১৭৫)৮৩
মাসআলা-২৭৪: কিয়ামতের দিন আল্লাহর দিদার লাভের দুআ:
عَنْ عَمَّارُ بْنُ يَاسِرِ كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : يَدْعُو صَلَاةٌ «اللَّهُمَّ بِعِلْمِكَ الْغَيْبَ، وَقُدْرَتِكَ عَلَى الْخَلْقِ، أَحْيِنِي مَا عَلِمْتَ الْحَيَاةَ خَيْرًا لِي، وَتَوَفَّنِي إِذَا عَلِمْتَ الْوَفَاةَ خَيْرًا لِي اللَّهُمَّ وَأَسْأَلُكَ خَشْيَتَكَ فِي الْغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ، كَلِمَةَ الْإِخْلَاصِ فِي الرِّضَا وَالْغَضَبِ، وَأَسْأَلُكَ نَعِيمًا لَا يَنْفَدُ، قُرَّةَ عَيْنٍ لَا تَنْقَطِعُ، وَأَسْأَلُكَ الرِّضَاءَ بَعْدَ الْقَضَاءِ، بَرْدَ الْعَيْشِ بَعْدَ الْمَوْتِ، لَذَّةَ النَّظَرِ إِلَى وَجْهِكَ، وَالشَّوْقَ إِلَى لِقَائِكَ وَأَعُوْذُبِكَ مِنْ صَرَّاءَ مُضِرَّةٍ، وَ فِتْنَةٍ مُضِلَّةٍ، اللَّهُمَّ زَيِّنَا بِزِينَةِ الْإِيْمَانِ، وَاجْعَلْنَا هُدَاةً مُهْتَدِينَ»
অর্থ: "আম্মার বিন ইয়াসির (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী নামাযে এ দুআ করতেন যে, হে আল্লাহ! তোমার অদৃশ্য জ্ঞান ও সৃষ্টির ওপর তোমার ক্ষমতার ওসীলায় তোমার নিকট দুআ করছি যে, তুমি আমাকে ঐ সময় পর্যন্ত জিবিত রাখ যতোক্ষণ পর্যন্ত জিবিত থাকা আমার জন্য কল্যাণকর হয়। হে আল্লাহ আমি দৃশ্য ও অদৃশ্যে তোমাকে ভয় করার তাওফিক লাভের জন্য দুআ করছি, রাগ ও সন্তুষ্ট উভয় অবস্থায়ই তোমার জন্য একনিষ্ঠ থাকার তাওফিক কামনা করছি। তোমার নিকট এমন নিআমত কামনা করছি যা কখনো শেষ হবে না। এমন চক্ষু তৃপ্তি কামনা করছি যা সর্বদা বিদ্যমান থাকবে। তোমার সকল ফায়সালায় সন্তুষ্ট থাকার তাওফিক কামনা করছি। মৃত্যুর পর আরামদায়ক জীবন কামনা করছি। আর তোমার চেহারা দেখার স্বাদ আস্বাদনের তাওফিক কামনা করছি। তোমার দিদার লাভের আকাঙ্খা প্রকাশ করছি। আমি তোমার আশ্রয় কামনা করছি এমন অপারগতা থেকে যা আমার দ্বীন ও দুনিয়ার জন্য ক্ষতিকর। আর তোমার আশ্রয় কামনা করছি এমন ফেতনা থেকে যা পথভ্রষ্ট করবে। হে আল্লাহ তুমি আমাদেরকে ঈমানের সৌন্দর্যে সৌন্দর্য মণ্ডিত করো। আর আমাদেরকে হিদায়াতের পথের পথিকদের অনুসারী করো।” (নাসায়ী) ৮৪

টিকাঃ
৭৮ কিতাবুল ঈমান, বাব ইসবাত রুইয়াতুল মু'মিনীন ফিল আখেরা রাব্বাহুম সুবহানাহু ওয়া তায়ালা।
৭৯ কিতাবুল মাসাজিদ, ওয়া মাওয়াযিয়িসসালা, বাব সালাতুসসুবহি ওয়াল আসর।
৮০ কিতাবুল ঈমান, বাব ইসবাত রুইয়াতুল মু'মিনীন ফিল আখেরা রাব্বাহুম সুবহানাহু ওয়া তায়ালা।
৮১ কিতাবুল ঈমান, বাব মা'না কাওলুল্লাহি আযযা ওয়া জাল্লা, ওয়ালাকাদ রায়াহু নাযলাতান উখরা।"
৮২ কিতাবুল ঈমান, বাব মা'না কাওলুল্লাহি আযযা ওয়া জাল্লা, ওয়ালাকাদ রায়াহু নাযlaতান উখরা।"
৮৩ কিতাবুল ঈমান, বাব মা'না কাওলুল্লাহি আযযা ওয়া জাল্লা, ওয়ালাকাদ রায়াহু নাযলাতান উখরা।"
৮৪ কিতাবুসসালা বাব আযযিকর বা'দাসসালা।

📘 মৃত্যুর পরে অনন্ত জীবন > 📄 জান্নাতীদের গুণাবলী

📄 জান্নাতীদের গুণাবলী


মাসআলা-২৭৫: জান্নাতীরা জান্নাতে যাওয়ার পর আল্লাহর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করবে:
وَنَزَعْنَا مَا فِي صُدُورِهِم مِّنْ غِلَّ تَجْرِي مِن تَحْتِهِمُ الْأَنْهَارُ وَقَالُوا الْحَمْدُ اللهِ الَّذِي هَدَانَا لِهَذَا وَمَا كُنَّا لِنَهْتَدِيَ لَوْلَا أَنْ هَدَانَا اللَّهُ لَقَدْ جَاءَتْ رُسُلُ رَبِّنَا بِالْحَقِّ وَنُودُوا أَن تِلْكُمُ الْجَنَّةُ أُورِثْتُمُوهَا بِمَا كُنتُمْ تَعْمَلُونَ
অর্থ: "আর তাদের অন্তরে যে ঈর্ষা ছিল, আমি তা বের করে নিয়েছি। তাদের নীচ দিয়ে নহরসমূহ প্রবাহিত হবে। আর তারা বলবে, 'সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি এর জন্য আমাদেরকে হিদায়াত দিয়েছেন। আর আমরা হিদায়াত পাওয়ার ছিলাম না, যদি না আল্লাহ আমাদেরকে হিদায়াত দিতেন। অবশ্যই আমার রবের রাসূলগণ সত্য নিয়ে এসেছেন এবং তাদেরকে ডাকা হবে যে, ঐ হলো জান্নাত, তোমরা যা আমল করেছো, তার বিনিময়ে তোমাদেরকে এর উত্তরাধিকারী করা হয়েছে"। (সূরা আরাফ ৭:৪৩)
وَقَالُوا الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي صَدَقَنَا وَعْدَهُ وَأَوْرَثَنَا الْأَرْضَ نَتَبَوَّأُ مِنَ الْجَنَّةِ حَيْثُ نَشَاءُ فَنِعْمَ أَجْرُ الْعَامِلِينَ
অর্থ: "আর তারা বলবে, সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদের প্রতি তার ওয়াদাকে সত্য করেছেন। আর আমাদেরকে যমীনের অধিকারী করেছেন। আমরা জান্নাতে যেখানে ইচ্ছা বসবাসের জায়গা করে নেব। অতএব (নেক) আমলকারীদের প্রতিফল কতইনা উত্তম!" (সূরা যুমার ৩৯:৭৪)
মাসআলা-২৭৬: জান্নাতে জান্নাতীদের প্রার্থনা হবে "সুবহানাকা আল্লাহুম্মা” আর তারা পরস্পর পরস্পরের সাথে সাক্ষাতে” আসসালামু আলাইকুম বলবে। আর প্রত্যেক কথার শেষে” আলহামদু লিল্লাহি রাব্বিল আলামীন" বলবে:
دَعْوَاهُمْ فِيهَا سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ وَتَحِيَّتُهُمْ فِيهَا سَلَامٌ وَآخِرُ دَعْوَاهُمْ أَنِ الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ
অর্থ: "সেখানে তাদের কথা হবে, 'হে আল্লাহ! তুমি পবিত্র মহান' এবং তাদের অভিবাদন হবে, 'সালাম'। আর তাদের শেষ কথা হবে যে, 'সকল প্রশংসা আল্লাহর, যিনি সকল সৃষ্টির রব।" (সূরা ইউনুস ১০:১০)
মাসআলা-২৭৭: জান্নাতীরা জান্নাতে প্রবেশের সময় ফেরেশতারা তাদের জন্য বরকত ও নিরাপত্তার জন্য দুআ করবে:
وَسِيقَ الَّذِينَ اتَّقَوْا رَبَّهُمْ إِلَى الْجَنَّةِ زُمَراً حَتَّى إِذَا جَاءُوهَا وَفُتِحَتْ أَبْوَابُهَا وَقَالَ لَهُمْ خَزَنَتُهَا سَلَامٌ عَلَيْكُمْ طِبْتُمْ فَادْخُلُوهَا خَالِدِينَ
অর্থ: "আর যারা তাদের রবকে ভয় করেছে তাদেরকে দলে দলে জান্নাতের দিকে নিয়ে যাওয়া হবে। অবশেষে তারা যখন সেখানে এসে পৌঁছবে এবং এর দরজাসমূহ খুলে দেয়া হবে তখন জান্নাতের রক্ষীরা তাদেরকে বলবে, 'তোমাদের প্রতি সালাম, তোমরা ভাল ছিলে। অতএব স্থায়ীভাবে থাকার জন্য এখানে প্রবেশ করো'।" (সূরা যুমার ৩৯:৭৩)
وَالمَلَائِكَةُ يَدْخُلُونَ عَلَيْهِمْ مِّنْ كُلِّ بَابٍ سَلَامٌ عَلَيْكُم بِمَا صَبَرْتُمْ فَنِعْمَ عُقْبَى الدَّارِ
অর্থ: "ফেরেশতারা তাদের নিকট আসবে প্রত্যেক দরজা দিয়ে, বলবে তোমাদের সবরের কারণে তোমাদের উপর শান্তি বর্ষিত হোক।" (সূরা রাদ: ২৩-২৪)
মাসআলা-২৭৮: স্বয়ং আল্লাহও জান্নাতীদেরকে সালাম করবে:
سَلَامٌ قَوْلاً مِّنْ رَّبِّ رَّحِيمٍ
অর্থ: "করুনাময় পালকর্তার পক্ষ থেকে তাদেরকে বলা হবে 'সালাম'।" (সূরা ইয়াসীন: ৫৮)
মাসআলা-২৭৯: সর্বপ্রথম জান্নাতে প্রবেশকারীদের চেহারা ১৪ তারিখের চাঁদের ন্যায় উজ্জ্বল হবে:
মাসআলা-২৮০: দ্বিতীয় দলটির চেহারা আকাশের উজ্জ্বল তারকার ন্যায় হবে:
মাসআলা-২৮১: জান্নাতে কোনো ব্যক্তি অবিবাহিত থাকবে না প্রত্যেকের কমপক্ষে দু'জন করে স্ত্রী থাকবে: নোট: এ সংক্রান্ত হাদীসটি ২৫৪ নং মাসআলা দ্র:
মাসআলা-২৮২: জান্নাতীদের চেহারা সর্বদা সতেজ ও হাসি খুশি থাকবে: নোট: এ সংক্রান্ত হাদীসটি ৬২ নং মাসআলায় দ্র:
মাসআলা-২৮৩: জান্নাতীরা সর্বদা সুস্থ থাকবে কখনো রোগাক্রান্ত হবে না।
মাসআলা-২৮৪: জান্নাতীরা সর্বদা যুবক বয়সী থাকবে কখনো বৃদ্ধ হবে না।
মাসআলা-২৮৫: জান্নাতীরা সর্বদা জীবিত থাকবে মৃত্যু তাদেরকে কখনো গ্রাস করবে না।
মাসআলা-২৮৬: জান্নাতীরা সর্বদা আনন্দের মাঝে থাকবে কখনো চিন্তিত হবে না।
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ا عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: " يُنَادِي مُنَادٍ : إِنَّ لَكُمْ أَنْ تَصِحُّوا فَلَا تَسْقَمُوا أَبَدًا، وَإِنَّ لَكُمْ أَنْ تَحْيَوْا فَلَا تَمُوتُوا أَبَدًا . وَإِنَّ لَكُمْ أَنْ تَشِبُّوا فَلَا تَهْرَمُوا أَبَدًا، وَإِنَّ لَكُمْ أَنْ تَنْعَمُوا فَلَا تَبْأَسُوا أَبَدًا " فَذَلِكَ قَوْلُهُ عَزَّ وَجَلَّ: { وَنُودُوا أَنْ تِلْكُمُ الْجَنَّةُ أُورِثْتُمُوهَا بِمَا كُنْتُمْ تَعْمَلُونَ }
অর্থ: "আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী বলেছেন: (কিয়ামতের দিন) এক আহ্বানকারী আহ্বান করে বলতে থাকবে, তোমরা সর্বদা সুস্থ থাকবে, কখনো অসুস্থ হবে না। সর্বদা জীবিত থাকবে কখনো মৃত্যু বরণ করবে না। সর্বদা যৌবনকাল নিয়ে থাকবে কখনো বৃদ্ধ হবে না। সর্বদা আনন্দে মেতে থাকবে কখনো চিন্তিত হবে না। আর আল্লাহর বাণীর ও এ অর্থই "এই সেই জান্নাত যার উত্তরসূরি তোমাদেরকে করা হয়েছে, ঐ আমলের ওসীলায় যা তোমরা করতেছিলে।" (মুসলিম ৪/২৮৩৭)৮৫
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ هِ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، قَالَ: «مَنْ يَدْخُلُ الْجَنَّةَ يَنْعَمُ لَا يَبْأَسُ، لَا تَبْلَى ثِيَابُهُ وَلَا يَفْنَى شَبَابُهُ»
অর্থ: আবু হুরাইরা (রা) নবী থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: যে ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করবে সে সর্বদা আনন্দে মেতে থাকবে, কখনো চিন্তিত হবে না, তাদের পোশাকও পুরাতন হবে না। না যৌবন শেষ হবে।” (মুসলিম ৪/২৮৩৬) ৮৬
মাসআলা-২৮৭: জান্নাতীদের পায়খানা পেসাবের প্রয়োজন দেখা দিবে না।
মাসআলা-২৮৮: জান্নাতীদের খানা পিনা ঘাম ও ঢেকুরের মাধ্যমে হজম হয়ে যাবে।
মাসআলা-২৮৯: জান্নাতীরা নিঃশ্বাস ত্যাগ করার ন্যায় প্রতি মুহূর্তে আল্লাহর প্রশংসা করবে:
عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ، يَقُولُ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : يَأْكُلُ أَهْلُ الْجَنَّةِ فِيهَا وَيَشْرَبُونَ، وَلَا يَتَغَوَّطُونَ وَلَا يَسْتَخِطُونَ وَلَا يَبُولُونَ، وَلَكِنْ طَعَامُهُمْ ذَلِكَ جُشَاءُ كَرَشْحِ الْمِسْكِ يُلْهَمُونَ التَّسْبِيحَ وَالتَّحْمِيدَ، كَمَا تُلْهَمُونَ النَّفَسَ»
অর্থ: "জাবের বিন আবদুল্লাহ (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ বলেছেন, জান্নাতীরা পানাহার করবে কিন্তু থুথু ফেলবে না, এবং পায়খানা পেসাবও করবে না। না নাকে পানি আসবে। সাহাবাগণ আরয করল, তাহলে তাদের খাবার কোথায় যাবে? তিনি উত্তরে বললেন: ঢেঁকুর ও ঘামের মাধ্যমে তা হজম হবে। জান্নাতীরা এমনভাবে আল্লাহর প্রশংসা ও তাসবীহ পাঠ করবে যেমন তারা শ্বাস গ্রহণ করে। (মুসলিম ৪/২৮৩৫) ৮৭
মাসআলা-২৯০: জান্নাতীরা ঘুমের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করবে না:
عَنْ جَابِرٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «النَّوْمُ أَخُو الْمَوْتِ، وَلَا يَنَامُ أَهْلُ الْجَنَّةِ»
অর্থ: "জাবের (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ বলেছেন, ঘুম মৃত্যুর ভাই, তাই জান্নাতীদের মৃত্যু হবে না।" (আবু নুআইম) ৮৮
মাসআলা-২৯১: সমস্ত জান্নাতীদের কাঁধ হবে ষাট হাত:
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ﷺ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : فَكُلُّ مَنْ يَدْخُلُ الْجَنَّةَ عَلَى صُورَةِ آدَمَ وَطُولُهُ سِتُّونَ ذِرَاعًا، فَلَمْ يَزَلِ الْخَلْقُ يَنْقُصُ بَعْدَهُ حَتَّى الْآنَ
অর্থ: "আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ বলেছেন, জান্নাতে প্রবেশকারী প্রত্যেক ব্যক্তি আদম (আ)-এর ন্যায় ষাট হাত লম্বা হবে, (প্রথমে মানুষ ষাট হাত ছিল) পরবর্তীতে তারা খাট হতে লাগলো শেষে বর্তমান অবস্থায় এসে পৌঁছেছে।” (মুসলিম ৪/২৮৪১)৮৯
মাসআলা-২৯২: জান্নাতীদের চেহারায় দাড়ি-গোফ থাকবে না:
মাসআলা-২৯৩: জান্নাতীদের চোখ অলৌকিক ভাবে লাজুক হবে:
মাসআলা-২৯৪: জান্নাতীদের বয়স ৩০-৩৩ বছরের মাঝামাঝি হবে:
عَنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ قَالَ: «يَدْخُلُ أَهْلُ الْجَنَّةِ الْجَنَّةَ جُرْدًا مُرْدًا مُكَحَّلِينَ أَبْنَاءَ ثَلَاثِينَ أَوْ ثَلَاثٍ وَثَلَاثِينَ سَنَةً»
অর্থ: "মুয়ায বিন জাবাল (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: নবী বলেছেন, জান্নাতীরা জান্নাতে প্রবেশের সময় তাদের চেহারায় কোনো দাড়ি, গোফ থাকবে না। চক্ষুদ্বয় লাজুক হবে। বয়স হবে ৩০-৩৩ এর মাঝামাঝি”। (তিরমিযি ৪/২৫৪৫)৯০
মাসআলা-২৯৫: জান্নাতীরা যা কামনা করবে তা সাথে সাথেই পূর্ণ হবে:
عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ ﷺ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ : الْمُؤْمِنُ إِذَا اشْتَهَى الوَلَدَ فِي الْجَنَّةِ كَانَ حَمْلُهُ وَوَضْعُهُ وَسِنُّهُ فِي سَاعَةٍ كَمَا يَشْتَهِي»
অর্থ: "আবু সাঈদ খুদরী (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ বলেছেন, মু'মিন ব্যক্তি জান্নাতে যদি সন্তান কামনা করে তাহলে মুহূর্তের মধ্যেই গর্ভধারণ ও সন্তান প্রসব হয়ে যাবে।” (ইবনে মাজা ৪/২৫৬৩)৯১
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ : أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَوْمًا يُحَدِّثُ، وَعِنْدَهُ رَجُلٌ مِنْ أَهْلِ الْبَادِيَةِ : " أَنَّ رَجُلًا مِنْ أَهْلِ الْجَنَّةِ اسْتَأْذَنَ رَبَّهُ فِي الزَّرْعِ، فَقَالَ لَهُ : أَلَسْتَ فِيمَا شِئْتَ؟ قَالَ: بَلَى، وَلَكِنِّي أُحِبُّ أَنْ أَزْرَعَ. قَالَ: فَبَذَرَ، فَبَادَرَ الطَّرْفَ نَبَاتُهُ وَاسْتِوَاؤُهُ وَاسْتِحْصَادُهُ، فَكَانَ أَمْثَالَ الْجِبَالِ، فَيَقُولُ اللهُ: دُونَكَ يَا ابْنَ آدَمَ ، فَإِنَّهُ لَا يُشْبِعُكَ شَيْءٌ " ، فَقَالَ الْأَعْرَابِيُّ: وَاللَّهِ لَا تَجِدُهُ إِلَّا قُرَيْشِيًّا، أَوْ أَنْصَارِيًّا، فَإِنَّهُمْ أَصْحَابُ زَرْعٍ. وَأَمَّا نَحْنُ فَلَسْنَا بِأَصْحَابِ زَرْعٍ، فَضَحِكَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
অর্থ: আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: নবী একদা তাঁর সাহাবীদের সাথে কথা বলতে ছিলেন আর তাঁর পাশে একজন গ্রাম্য লোক বসছিলো, তিনি বললেন: জান্নাতীদের মধ্যে এক ব্যক্তি তার রবের নিকট কৃষি কাজ করার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করবে। আল্লাহ বলবেন: তুমি যা চাচ্ছ তা কি তোমার নিকট নেই? জান্নাতী বলবে, কেন সবই আছে, কিন্তু কৃষি কাজ আমার পছন্দনীয়, তাই আমি তা করতে চাই। তখন ঐ ব্যক্তি যমীনে বিচ বপন করবে, মুহূর্তের মধ্যেই তার ফল আসবে এবং কাটার উপযুক্ত হয়ে যাবে। বরং পাহাড় সমান ফসল হয়ে যাবে। তখন আল্লাহ বলবেন: হে আদম সন্তান! এখন খুশি হও, তোমার পেট কোনো কিছুতেই ভরবে না। গ্রাম্য লোকটি বললো: আল্লাহর কসম! এ লোকটি অবশ্যই কুরাইশ বা আনসারদের মধ্য থেকে হবে, কেননা তারাই কৃষি কাজ করে, আমরা কখনো কৃষি কাজ করি না। রাসূলুল্লাহ একথা শুনে মুচকি হাসলেন।" (বুখারী ৩/২৩৪৮)৯২
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ اللهِ قَالَ: قِيلَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ, هَلْ نَصِلُ إِلَى نِسَائِنَا فِي الْجَنَّةِ؟ فَقَالَ: «إِنَّ الرَّجُلَ لَيَصِلُ فِي الْيَوْمِ إِلَى مِائَةِ عَذْرَاءَ»
অর্থ: "আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে জিজ্ঞেস করা হলো যে, আমরা কি জান্নাতে আমাদের স্ত্রীদের নিকট যাব? তিনি বললেন: এক ব্যক্তি প্রতিদিন একশ কুমারী নারীর নিকট যাবে।” (আবু নুআইম)৯৩

টিকাঃ
৮৫ কিতাবুল জান্না ওয়া সিফাতু নায়ীমিহা।
৮৬ কিতাবুল জান্না ওয়া সিফাতু নায়ীমিহা।
৮৭ আলবানী সংকলিত সিলসিলা আহাদীস সহীহা, হাদীস নং-৩৬৭।
৮৮ আলবানী সংকলিত সিলসিলা আহাদীস সহীহা, হাদীস নং-১০৮৭।
৮৯ কিতابুল জান্না ওয়া সিফাতু নারীমিহা।
৯০ সিফাত আবওয়াবিল জান্না, বাব মাযায়া ফি সিন্নি আহলিল জান্না (২/২০৬৪)
৯১ কিতাবুযযুহ্‌د, বাব সিফাতুল জান্নাহ (২/৩৫০০)
৯২ কিতাবুল মাযরাজা।
৯৩ আলবানী সংকলিত সিলসিলা আহাদীস সহীহা, ১ম খ. হাদীস নং-১০৮৭।

📘 মৃত্যুর পরে অনন্ত জীবন > 📄 আদম সন্তানদের মধ্যে জান্নাতী ও জাহান্নামীর হার

📄 আদম সন্তানদের মধ্যে জান্নাতী ও জাহান্নামীর হার


মাসআলা-২৯৭: হাজারে মাত্র একজন জান্নাতে যাবে আর বাকী ৯৯৯ জন যাবে জাহান্নামে।
عَنْ أَبِي سَعِيدٍ ﷺ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : " يَقُولُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ: يَا آدَمُ فَيَقُولُ : لَبَّيْكَ وَسَعْدَيْكَ وَالْخَيْرُ فِي يَدَيْكَ، قَالَ يَقُولُ: أَخْرِجْ بَعْثَ النَّارِ قَالَ: وَمَا بَعْثُ النَّارِ قَالَ: مِنْ كُلِّ أَلْفٍ تِسْعَ مِائَةٍ وَتِسْعَةً وَتِسْعِينَ قَالَ: فَذَاكَ حِينَ يَشِيبُ الصَّغِيرُ وَتَضَعُ كُلُّ ذَاتِ حَمْلٍ حَمْلَهَا وَتَرَى النَّاسَ سُكَارَى وَمَا هُمْ بِسُكَارَى وَلَكِنَّ عَذَابَ اللَّهِ شَدِيدٌ " قَالَ: فَاشْتَدَّ ذَلِكَ عَلَيْهِمْ قَالُوا : يَا رَسُولَ اللَّهِ أَيْنَو ذَالِكَ الرَّجُلُ؟ فَقَالَ : رَسُولُ الله ﷺ أَبْشِرُوا فَإِنَّ مِنْ يَأْجُوجَ وَمَأْجُوجَ أَلْفًا، وَمِنْكُمْ رَجُلٌ»
অর্থ: "আবু সাঈদ (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন: (কিয়ামতের দিন) আল্লাহ বলবেন, হে আদম! আদম (আ) বলবে: হে আল্লাহ আমি তোমার আনুগত্যে উপস্থিত, আর সমস্ত কল্যাণ তোমার হাতেই। তখন আল্লাহ বলবেন: সৃষ্টির মধ্য থেকে জাহান্নামীদেরকে পৃথক করো। আদম বলবে: জাহান্নামীদের সংখ্যা কত? আল্লাহ বলবেন: এক হাজারের মধ্যে ৯৯৯ জন। নবী ﷺ বলেন: এটা ঐ সময় যখন বাচ্চা বৃদ্ধ হয়ে যাবে, আর গর্ভধারিনীদের গর্ভপাত হয়ে যাবে, আর তুমি লোকদেরকে দেখে বেহুশ বলে মনে করবে, অথচ তারা বেহুশ নয়, বরং আল্লাহর আযাব এতো কঠিন হবে যে, লোকেরা হুশ জ্ঞান হারিয়ে ফেলবে। বর্ণনাকারী বলেন: একথা শুনে সাহাবাগণ হয়রান হয়ে গেল, আর বলতে লাগলো, হে আল্লাহর রাসূল! তাহলে আমাদের মধ্যে এমন সৌভাগ্যবান কে হবে যে জান্নাতে যাবে? তিনি বললেন: আশান্বিত হও। ইয়াজুজ মাজুজের সংখ্যা এতো বেশি হবে যে, ৯৯৯ জন তাদের মধ্য থেকে হবে আর বাকী একজন তোমাদের মধ্য থেকে।" (মুসলিম ১/২২২)৯৪

টিকাঃ
৯৪ কিতাবুল ঈমান, বাব বয়ান কাউনু হাযিহিল উম্মা নিসফ আহলিল জান্না।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00