📄 জান্নাতের সেবক
মাসআলা-২৩৫: জান্নাতীদের সেবকরা সর্বদা শৈশব বয়সী হবে:
মাসআলা-২৩৬: জান্নাতীদের সেবক সর্বদা মোতির ন্যায় সুন্দর ও মনপুত দৃশ্যমান হবে:
মাসআলা-২৩৭: জান্নাতীদের সেবক এত চৌকশ হবে যে, চলতে ফিরতে এমন মনে হবে যেন বিক্ষিপ্ত মোতি:
وَيَطُوفُ عَلَيْهِمْ وِلْدَانٌ مُّخَلَّدُونَ إِذَا رَأَيْتَهُمْ حَسِبْتَهُمْ لُؤْلُوا مَّنثُورًاً
অর্থ: আর তাদের চারপাশে প্রদক্ষিণ করবে চিরকিশোরেরা; তুমি তাদেরকে দেখলে বিক্ষিপ্ত মুক্তা মনে করবে। (সূরা দাহর ৭৬:১৯)
মাসআলা-২৩৮: জান্নাতীদের সেবক ধুলাবালি মুক্ত মোতির ন্যায় পরিচ্ছন্ন থাকবে:
وَيَطُوفُ عَلَيْهِمْ غِلْمَانٌ لَهُمْ كَأَنَّهُمْ لُؤْلُؤُ مَكْنُونٌ
অর্থ: "সুরক্ষিত মোতি সদৃশ কিশোররা তাদের সেবায় ঘুরাফেরা করবে।” (সূরা তুর: ২৪)
মাসআলা-২৩৯: মুশরিকদের নাবালেগ বয়সে মৃত্যুবরণকারী কিছু বাচ্চা জান্নাতীদের সেবক হবে:
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ: سَأَلْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، عَنْ ذَرَارِي الْمُشْرِكِينَ لَمْ يَكُنْ لَهُمْ ذُنُوبٌ يُعَاقَبُونَ بِهَا فَيَدْخُلُونَ النَّارَ وَلَمْ تَكُنْ لَهُمْ حَسَنَةٌ يُجَارَوْنَ بِهَا فَيَكُونُوا مِنْ مُلُوكِ الْجَنَّةِ، فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : «هُمْ خَدَمُ أَهْلِ الْجَنَّةِ»
অর্থ: "হযরত আনাস বিন মালেক (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ ﷺ কে জিজ্ঞেস করলাম মুশরিকদের (নাবালেগ বয়সে মৃত্যুবরণ কারী) বাচ্চাদের সম্পর্কে, যে তাদের কোনো পাপ নেই, যে কারণে তারা জাহান্নামের শাস্তি ভোগ করবে, বা এমন কোনো সাওয়াবও নেই যার ওসীলায় তারা জান্নাতের বাদশা হবে। তাহলে তাদের কি হবে? তিনি উত্তরে বললেন: তারা জান্নাতীদের খাদেম হবে।" (আবু নুয়াইম ওধাবু ইয়ায়লা)
টিকাঃ
* আলবানী সংকলিত সিলসিলা সহীহা, হাদীস নং-১৪৬৮।
📄 জান্নাতের রমণী
মাসআলা-২৪০: জান্নাতী মহিলারা সর্বপ্রকার প্রকাশ্য দোষ-ত্রুটি (হায়েয, নেফাস ইত্যাদি) এবং অপ্রকাশ্য দোষ-ত্রুটি (রাগ, হিংসা ইত্যাদি) মুক্ত হবে:
وَلَهُمْ فِيهَا أَزْوَاجٌ مُطَهَّرَةٌ وَهُمْ فِيهَا خَالِدُونَ
অর্থ: "সেখানে তাদের জন্য থাকবে পবিত্র স্ত্রীরা এবং তারা ওখানে অনন্তকাল থাকবে”। (সূরা বাকারা: ২৫)
মাসআলা-২৪১: জান্নাতে প্রবেশকারী মহিলাদেরকে আল্লাহ নতুনভাবে সৃষ্টি করবেন এবং তারা কুমারী অবস্থায় জান্নাতে প্রবেশ করবে:
মাসআলা-২৪২: জান্নাতী মহিলা তার স্বামীর সাথে মিলন হওয়ার পরও চিরকাল কুমারী থাকবে:
মাসআলা-২৪৩: জান্নাতী মহিলারা তাদের স্বামীদের সম বয়সী হবে:
মাসআলা-২৪৪: জান্নাতী মহিলারা তাদের স্বামী প্রেমী হবে:
فِيهِنَّ خَيْرَاتٌ حِسَانٌ فَبِأَيِّ آلَاءِ رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ
অর্থ: সেই জান্নাতসমূহে থাকবে উত্তম চরিত্রবতী অনিন্দ্য সুন্দরীগণ। সুতরাং তোমাদের রবের কোনো নিআমতকে তোমরা উভয়ে অস্বীকার করবে? (সূরা রাহমান ৫৫:৭০-৭১)
মাসআলা-২৪৫: জান্নাতী মহিলারা সৌন্দর্য এবং চারিত্রিক গুণাবলীর দিক থেকে অতুলনীয় হবে:
إِنَّا أَنشَأْنَاهُنَّ إِنشَاء فَجَعَلْنَاهُنَّ أَبْكَاراً . عُرُبًا أَتْرَاباً وَلِأَصْحَابِ الْيَمِينِ
অর্থ: নিশ্চয় আমি হুরদেরকে বিশেষভাবে সৃষ্টি করবো। অতঃপর তাদেরকে বানাব কুমারী, সোহাগিনী ও সমবয়সী। ডানদিকের লোকদের জন্য। (সূরা ওয়াক্বিয়াহ ৫৬:৩৫-৩৮)
মাসআলা-২৪৬: জান্নাতের আনন্দের পূর্ণতা লাভ হবে রমণীদের সাথে মিলনের মাধ্যমে:
ادْخُلُوا الْجَنَّةَ أَنتُمْ وَأَزْوَاجُكُمْ تُحْبَرُونَ
অর্থ: "তোমরা এবং তোমাদের স্ত্রীরা সানন্দে জান্নাতে প্রবেশ করো।” (সূরা যুখরুফ: ৭০)
মাসআলা-২৪৭ ঈমান ও আমলের ভিত্তিতে জান্নাতে প্রবেশকারী নারীরা মর্যাদার দিক থেকে হুরদের তুলনায় অধিক মর্যাদাবান হবে:
عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ قُلْتُ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ، أَخْبِرْنِي ، نِسَاءُ الدُّنْيَا أَفْضَلُ أَمِ الْحُورُ الْعِينِ؟ قَالَ: بَلْ نِسَاءُ الدُّنْيَا أَفْضَلُ مِنَ الْحُورِ الْعِينِ، كَفَضْلِ الظِّهَارَ عَلَى الْبِطَانَةِ". قُلْتُ : يَا رَسُولَ اللهِ، وَبِمَ ذَاكَ؟ قَالَ: "بِصَلَاتِهِنَّ وَصِيَامِهِنَّ وَعِبَادَتِهِنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ.
অর্থ: "উম্মে সালামা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি জিজ্ঞেস করলাম হে আল্লাহ রাসূল! বলুন যে, পৃথিবীর নারীরা উত্তম না জান্নাতের হুরেরা? তিনি বললেন: বরং পৃথিবীর নারীরা হুরদের চেয়ে উত্তম। যেমন কাপড়ের বাহিরের দিকটি ভিতরের দিকের চেয়ে উত্তম। আমি জিজ্ঞেস করলাম ইয়া রাসূলুল্লাহ! এটা কেন? তিনি বললেন: তাদের নামায রোযা ও অন্যান্য ইবাদতের কারণে যা তারা আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে করে থাকে।” (ত্বাবারানী)৬৯
মাসআলা-২৪৮: জান্নাতের নারীরা যদি একবার দুনিয়ার দিকে ঝুকে তাহলে পূর্ব থেকে পশ্চিম পর্যন্ত সমস্ত জায়গা আলোকময় হয়ে যাবে:
মাসআলা-২৪৯: জান্নাতের নারীর মাথার উড়না পৃথিবীর সমস্ত নিআমত থেকে মূল্যবান:
عَنْ أَنَسِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ لا غَدْوَةٌ فِي سَبِيلِ اللَّهِ أَوْ رَوْحَةٌ خَيْرٌ مِنَ الدُّنْيَا وَمَا فِيهَا وَلَوْ أَنَّ امْرَأَةً مِنْ نِسَاءِ أَهْلِ الْجَنَّةِ اطَّلَعَتْ إِلَى الْأَرْضِ لأَضَاءَتْ مَا بَيْنَهُمَا، وَلَمَلَاتُ مَا بَيْنَهُمَا رِيحًا، وَلَنَصِيفُهَا عَلَى لَاسَهَا خَيْرٌ مِنَ الدُّنْيَا وَمَا فِيهَا»
অর্থ: "আনাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ বলেছেন: সকাল-সন্ধ্যায় আল্লাহর পথে বের হওয়া, দুনিয়া ও দুনিয়াতে যা কিছু আছে তার সবকিছু থেকে উত্তম। যদি জান্নাতী রমণীদের মধ্য থেকে কোনো রমণী পৃথিবীতে উঁকি দিত, তাহলে পূর্ব থেকে পশ্চিম-এর মাঝে যাকিছু আছে সব কিছু আলোক উজ্জ্বল হয়ে যেত। আর সমস্ত জাগয়াকে সুগন্ধিতে ভরে দিত, জান্নাতের নারীর মাথার উড়না পৃথিবীর সমস্ত নিআমত থেকে মূল্যবান।" (বোখরী ৮/৬৫৬৮)৭০
মাসআলা-২৫০: জান্নাতে প্রত্যেক জান্নাতীর বিয়ে আদম সন্তানদের মধ্য থেকে দু'জন মহিলার সাথে হবে:
মাসআলা-২৫১: জান্নাতী মহিলারা একই সাথে সত্তর জোড়া পোশাক পরিধান করে সজ্জিত হবে, যা এতো উন্নতমানের হবে যে, এর ভিতর দিয়ে তাদের শরীর দেখা যাবে:
মাসআলা-২৫২: মহিলারা এতো সুন্দর হবে যে, তাদের শরীরের ভিতরের হাড্ডির মজ্জা বাহির থেকে দেখা যাবে:
عَنْ أَبِي سَعِيدٍ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «إِنَّ أَوَّلَ زُمْرَةٍ يَدْخُلُونَ الْجَنَّةَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ ضَوْءُ وُجُوهِهِمْ عَلَى مِثْلِ ضُوْءِ الْقَمَرِ لَيْلَةَ الْبَدْرِ، وَالزُّمْرَةُ الثَّانِيَةُ عَلَى مِثْلِ أَحْسَنِ كَوْكَبٍ دُرِّيُّ فِي السَّمَاءِ، لِكُلِّ رَجُلٍ مِنْهُمْ زَوْجَتَانِ عَلَى كُلِّ زَوْجَةٍ سَبْعُونَ حُلَّةً يُرَى مُخُ سَاقِهَا مِنْ وَرَائِهَا»
অর্থ: আবু সাঈদ (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি নবী থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: কিয়ামতের দিন সর্বপ্রথম যে দল জান্নাতে প্রবেশ করবে তাদের চেহারা চৌদ্দ তারিখের চাঁদের ন্যায় উজ্জ্বল হবে। দ্বিতীয় দলটির চেহারা আকাশে আলোকময় কোনো তারকার ন্যায় হবে। উভয় দলের পুরুষদেরকে দু'জন করে স্ত্রী দেয়া হবে। প্রত্যেক স্ত্রী সত্তর জোড়া করে কাপড় পরিধান করে থাকবে। আর ঐ কাপড় এতো পাতলা হবে সে এর মধ্য দিয়ে তাদের পায়ের গোছার মজ্জা দেখা যাবে।” (তিরমিযী ৪/২৫৩৫)৭১
عَنْ مُحَمَّدٍ هُ قَالَ: إِمَّا تَفَاخَرُوا وَإِمَّا تَذَا كَرُوا : الرِّجَالُ فِي الْجَنَّةِ أَكْثَرُ أَمِ النِّسَاءُ؟ فَقَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ: أَوَ لَمْ يَقُلْ أَبُو الْقَاسِمِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : «إِنَّ أَوَّلَ زُمْرَةٍ تَدْخُلُ الْجَنَّةَ عَلَى صُورَةِ الْقَمَرِ لَيْلَةَ الْبَدْرِ، وَالَّتِي تَلِيهَا عَلَى أَضْوَءِ كَوْكَبٍ دُرِّيُّ فِي السَّمَاءِ، لِكُلِّ امْرِئٍ مِنْهُمْ زَوْجَتَانِ اثْنَتَانِ ، يُرَى مُخْ سُوقِهِمَا مِنْ وَرَاءِ اللَّحْمِ ، وَمَا فِي الْجَنَّةِ أَعْزَبُ؟»
অর্থ: "মোহাম্মদ (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: লোকেরা পরস্পরে ফখর করতে ছিল বা বলতে ছিল যে, জান্নাতে পুরুষের সংখ্যা বেশি হবে না মহিলার সংখ্যা। আবু হুরাইরা (রা) বললেন: আবুল কাসেম কি বলেন নি যে, সর্বপ্রথম যে দল জান্নাতে প্রবেশ করবে তাদের চেহারা চৌদ্দ তারিখের চাঁদের ন্যায় উজ্জ্বল হবে। দ্বিতীয় দলটির চেহারা আকাশে আলোকময় কোনো তারকার ন্যায় হবে। উভয় দলের পুরুষদেরকে দুজন করে স্ত্রী দেয়া হবে। এদের পায়ের গোছার হাড্ডির মধ্য দিয়ে তাদের পায়ের গুচ্ছের মজ্জা দেখা যাবে।” (মুসলিম ৪/২৮৩৪)৭২
قَالَ ابْنُ كَثِيرِ رَحِمَهُ اللهُ تَعَالَى فَالْمُرَادُ مَنْ هَذَا إِنَّ هَاتَيْنِ مِنْ بَنَاتِ أَدَمَ وَمَعَهُمَا مِنَ الْحُورِ الْعِينِ مَا شَاءَ عَزَّ وَجَلَّ، وَاللَّهُ أَعْلَمُ بِالصَّوَابِ.
অর্থ: "ইবনে কাসীর (রা) বলেন: এর উদ্দেশ্য হলো এই যে, এ উভয় রমণী আদম সন্তানদের মধ্য থেকে হবে। আর তাদের উভয়ের সাথে থাকবে আল্লাহর ইচ্ছা অনুযায়ী হুরেইনরা।" (এ ব্যাপারে আল্লাহই সর্বাধিক জ্ঞাত)
মাসআলা-২৫৩ : জান্নাতে প্রবেশকারী রমণীরা তাদের ইচ্ছা ও পছন্দানুযায়ী তাদের দুনিয়ার স্বামীদেরকে গ্রহণ করবে। তবে এর জন্য শর্ত হলো এই যে, ঐ স্বামীকেও জান্নাতী হতে হবে। অন্যথায় আল্লাহ তাদেরকে অন্য কোনো জান্নাতীর সাথে বিয়ে দিয়ে দিবেন:
মাসআলা-২৫৪: যে মহিলাদের দুনিয়াতে একাধিক স্বামী ছিল ঐ রমণীদেরকে তাদের ইচ্ছা ও পছন্দানুযায়ী তাদের দুনিয়ার স্বামীদের মধ্য থেকে কোনো একজনকে গ্রহণ করার সুযোগ দেয়া হবে:
عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ ا قَالَتْ : قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ ! الْمَرْأَةُ مِنَّا تَتَزَوَّجُ الزَّوْجَيْنِ وَالثَّلَاثَةَ وَالْأَرْبَعَةَ ، ثُمَّ تَمُوتُ فَتَدْخُلُ الْجَنَّةَ وَيَدْخُلُونَ مَعَهَا . مَنْ يَكُونُ زَوْجُهَا مِنْهُمْ؟ فَقَالَ: «يَا أُمَّ سَلَمَةَ ، إِنَّهَا تُخَيَّرُ ، فَتَخْتَارُ أَحْسَنَهُمْ خُلُقًا ، فَتَقُولُ: يَا رَبِّ إِنَّ هَذَا كَانَ أَحْسَنَهُمْ مَعِي خُلُقًا فِي دَارِ الدُّنْيَا فَزَوْجُنِيهِ ، يَا أُمَّ سَلَمَةَ ذَهَبَ حُسْنُ الْخُلُقِ بِخَيْرِ الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ»
অর্থ: "উম্মে সালামা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি জিজ্ঞেস করলাম ইয়া রাসূলুল্লাহ ! আমাদের মধ্য থেকে কোনো কোনো মহিলা দুনিয়ায় একাধিক স্বামীর সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়, মৃত্যুর পর যদি ঐ মহিলা জান্নাতে যায় এবং তার সমস্ত স্বামীরাও যদি জান্নাতে যায় তাহলে এদের মধ্যে কোনো ব্যক্তি তার স্বামী হবে? নবী বললেন: হে উম্মে সালামা! ঐ মহিলা তার স্বামীদের মধ্য থেকে যে কোনো একজনকে বাছাই করবে। আর সে নিঃসন্দেহে উত্তম চরিত্রের অধিকারী স্বামীকেই বেছে নিবে। মহিলা আল্লাহর নিকট আরয করবে যে, হে আমার প্রভু! এ ব্যক্তি দুনিয়াতে সবচেয়ে বেশি ভাল চরিত্র নিয়ে আমার সাথে চলেছে, অতএব তার সাথেই আমাকে বিয়ে দিন। হে উম্মে সালামা উত্তম চরিত্র দুনিয়া ও আখেরাতের সমস্ত কল্যাণের মধ্যে উত্তম।" (ত্বাবারানী) ৭৩
টিকাঃ
৬৯ মাজমাউজ্জাওয়ায়েদ, খ. ১০, পৃ. ৪১৭, ৪১৮।
৭০ মেশকাতুল মাসাবিহ, বাব সিফাতিল জান্না ওয়া আহলিহা, আল ফাসলুল আওয়াল।
৭১ আবওয়াবুল জান্না, বাব মাযায়া ফি সিফাতিল জান্না। (২/২০৫৭)
৭২ কিতাবুল জান্নাত ওয়া সিফাত নায়ীমিহা।
৭৩ আন নিহায়া লি ইবনে কাসীর, ফিল ফিতন ওয়াল মালাহেম। ২য় খন্ড, পৃ. ৩৮৭।
📄 হূরেইন
মাসআলা-২৫৫: জান্নাতের অন্যান্য নিআমতের ন্যায় হুরেইনও একটি নিআমত হবে:
মাসআলা-২৫৬: কোনো কোনো হুরেইন ইয়াকুত ও মুক্তার ন্যায় লাল হবে:
মাসআলা-২৫৭: অতুলনীয় সুন্দরের সাথে সাথে হুরেইনরা সতিত্ব ও লজ্জাশীলাতায়ও তারা নিজেরা নিজেদের তুলনা হবে:
মাসআলা-২৫৮: মানব হurদেরকে ইতিপূর্বে অন্য কোনো মানুষ স্পর্শ করে নি, জ্বিন হুরদেরকেও ইতিপূর্বে অন্য কোনো জিন স্পর্শ করে নি:
فِيهِنَّ قَاصِرَاتُ الطَّرْفِ لَمْ يَطْمِثْهُنَّ إِنسٌ قَبْلَهُمْ وَلَا جَانٌّ فَبِأَيِّ آلَاءِ رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ كَأَنَّهُنَّ الْيَاقُوتُ وَالْمَرْجَانُ فَبِأَيِّ آلَاءِ رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ
অর্থ: "তথায় থাকবে আয়তনয়না রমনীগণ, কোনো জ্বিন ও মানব পূর্বে যাদেরকে স্পর্শ করেনি। অতএব তোমরা উভয়ে তোমাদের পালনকর্তার কোনো অবদানকে অস্বীকার করবে? প্রবাল ও পদ্মরাগ সদৃশ রমণীগণ। অতএব তোমরা উভয়ে তোমাদের পালন কর্তার কোনো অবদানকে অস্বীকার করবে"? (সূরা রহমান: ৫৬-৫৮)
নোট: উল্লেখ্য মু'মিন ও সৎ মানুষের ন্যায় মু'মিন ও সৎ জ্বিনেরাও জান্নাতে যাবে। ওখানে যেমন মানব পুরুষের জন্য মানব নারী ও মানব হুর থাকবে তেমনি পুরুষ জ্বিনের জন্যও নারী জ্বিন ও জ্বিন হুর থাকবে। অর্থাৎ মানুষের জন্য তার সমজাতীয় এবং জ্বিনের জন্যও তার সমজাতীয় জোড়া থাকবে। (এ ব্যাপারে আল্লাহই সর্বাধিক জ্ঞাত)
মাসআলা-২৫৯ : হুরেরা এতোটা লজ্জাশীল হবে যে, স্বীয় স্বামী ব্যতীত আর কারো দিকে চোখ তুলে তাকাবে না:
মাসআলা-২৬০ : হুরেরা ডিমের ভিতর লুকায়িত পাতলা চামড়ার চেয়েও অধিক নরম হবে:
وَعِنْدَهُمْ قَاصِرَاتُ الطَّرْفِ عِينٌ كَأَنَّهُنَّ بَيْضٌ مَكْنُونٌ
অর্থ: "তাদের নিকট থাকবে নত আয়তলোচনা তরুণীগণ যেন তারা সুরক্ষিত ডিম।" (সূরা সাফফাত: ৪৯-৪৯)
মাসআলা-২৬১ : জান্নাতের হুরেরা সুন্দর লাজুক চক্ষু বিশিষ্ট, মোতির ন্যায় সাদা এবং স্বচ্ছতা ও রং প্রতি নিখুঁত হবে যেন সংরক্ষিত স্বর্ণালংকার:
وَحُورٌ عِينٌ كَأَمْثَالِ اللُّؤْلُؤِ الْمَكْنُونِ جَزَاءً بِمَا كَانُوا يَعْمَلُونَ
অর্থ: "তথায় থাকবে আয়তনয়নমা হুরগণ, আবরণে রক্ষিত মোতির ন্যায়, তারা যাকিছু করতো তার পুরস্কার স্বরূপ”। (সূরা ওয়াক্বিয়া: ২২-২৪)
মাসআলা-২৬২ : হুরদের সাথে জান্নাতী পুরুষদের নিয়মতান্ত্রিক ভাবে বিয়ে হবে:
كُلُوا وَاشْرَبُوا هَنِيئًا بِمَا كُنتُمْ تَعْمَلُونَ . مُتَّكِثِينَ عَلَى سُرُرٍ مَّصْفُوفَةٍ وَزَوَّجْنَاهُم بِحُورٍ عِينٍ
অর্থ: তোমরা তৃপ্তি সহকারে খাও ও পান করো, তোমরা যে আমল করতে তার বিনিময়ে। সারিবদ্ধ পালঙ্কে তারা হেলান দিয়ে বসবে; আর আমি তাদেরকে মিলিয়ে দেব ডাগরচোখা হুর-এর সাথে। (সূরা তূর ৫২:১৯-২০)
মাসআলা-২৬৩ : হুরেরা তাদের স্বামীদের সমবয়সী হবে:
وَعِندَهُمْ قَاصِرَاتُ الطَّرْفِ أَتْرَابُ - هَذَا مَا تُوعَدُونَ لِيَوْمِ الْحِسَابِ
অর্থ: "তাদের নিকট থাকবে আয়তনয়না সমবয়স্কা রমণীগণ। তোমাদেরকে এরই প্রতিশ্রুতি দেয়া হচ্ছে বিচার দিবসের জন্য।" (সূরা সোয়াদ: ৫২-৫৩)
মাসআলা-২৬৪ : সুন্দর মোতির তাবুতে হরেরা থাকবে, যেখানে জান্নাতী পুরুষদের সাথে তাদের সাক্ষাত হবে:
حُورٌ مَّقْصُورَاتٌ فِي الْخِيَامِ فَبِأَيِّ آلَاءِ رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ لَمْ يَطْمِثْهُنَّ إِنسٌ قَبْلَهُمْ وَلَا جَانٌّ فَبِأَيِّ آلَاءِ رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ
অর্থ: "সেখানে থাকবে সচ্চরিত্রা সুন্দরী রমণীগণ। অতএব তোমরা উভয়ে তোমাদের পালনকর্তার কোনো কোনো অবদানকে অস্বীকার করবে? তাবুতে অবস্থান কারিণী হুরগণ। অতএব তোমরা উভয়ে তোমাদের পালনকর্তার কোনো অবদানকে অস্বীকার করবে?" (সূরা রহমান: ৭২-৭৫)
মাসআলা-২৬৫: জান্নাতে স্বীয় স্বামীদেরকে আনন্দ দানে হুরদের সংগীত:
عَنْ أَنَسٍ ﷺ قَالَ: إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَآلِهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِنَّ الْحُورَ الْعِينَ يَتَغَنَّيْنَ فِي الْجَنَّةِ يَقُلْنَ : نَحْنُ الْحُورُ الْحِسَانُ خُبِّثْنَا لِأَزْوَاجٍ كرام
অর্থ: "আনাস (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ বলেন: জান্নাতে আকর্ষণীয় চক্ষু বিশিষ্ট হurেরা সংগীত পরিবেশন করবে এ বলে: আমরা সুন্দর এবং সতী ও সৎচরিত্রের অধিকারীণী হুর, আমরা আমাদের স্বামীদের অপেক্ষায় অপেক্ষমান ছিলাম।” (ত্বাবারানী) ৭৪
মাসআলা-২৬৬: ঈমানদারদের জন্য জান্নাতের হুরদেরকে আল্লাহ বাছাই করে রেখেছেন:
عَنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ ﷺ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : " لَا تُؤْذِي امْرَأَةً زَوْجَهَا إِلَّا قَالَتْ زَوْجَتُهُ مِنَ الْحُورِ الْعِينِ: لَا تُؤْذِيهِ، قَاتَلَكِ اللَّهُ ، فَإِنَّمَا هُوَ عِنْدَكِ دَخِيلٌ ، أَوْ شَكَ أَنْ يُفَارِ قَكِ إِلَيْنَا "
অর্থ: "মুয়াজ বিন জাবাল (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলূল্লাহ বলেছেন: যখন কোনো মহিলা তার স্বামীকে কোনো কষ্ট দেয়, তখন আয়তনয়না হুরদের মধ্য থেকে মু'মিনের স্ত্রী বলবে যে আল্লাহ তেমাকে ধ্বংস করুক। তাকে কষ্ট দিওনা, সে অল্প দিনের জন্য তোমার নিকট আছে অতি শীঘ্রই সে তোমাদেরকে ছেড়ে চলে আসবে।” (ইবনে মাজাহ ১/২০১৪)৭৫
عَنْ بُرَيْدَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ دَخَلْتُ الْجَنَّةَ فَاسْتَقْبَلَتْنِي جَارِيَةٌ شَابَةٌ فَقُلْتُ لِمَنْ أَنْتِ ؟ قَالَتْ لِزَيْدِ بْنِ حَارِثَةَ.
অর্থ: “বুরাইদা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: আমি জান্নাতে প্রবেশ করার সময় এক যুবতী আমাকে অভ্যর্থনা জানাল, আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম, তুমি কার? সে বলল যে আমি যায়েদ বিন হারিসার”। (ইবনে আসাকির) ৭৬
মাসআলা-২৬৭: প্রতিশোধ গ্রহণে সক্ষম ব্যক্তি যদি প্রতিশোধ না নেয় তাহলে সে তার পছন্দমত হুরকে বিবাহ করবে:
নোট: এ সংক্রান্ত হাদীসটি ৩১৮ নং মাসআলা দ্রঃ।
টিকাঃ
৭৪ আলবানী সংকলিত সহীহ জামে আসসাগীর, হাদীস নং-১৫৯৮।
৭৫ ইবনে মাজাহ, আলবানী, ১ম খ. হাদীস নং-১৬৩৭।
৭৬ সহীহ আল জামে' আসসগীর, আলবানী, হাদীস নং-৩৩৬১।
📄 জান্নাতে আল্লাহর সন্তুষ্টি
মাসআলা-২৬৮: জান্নাতে জান্নাতীদের আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ করা হবে তাদের জন্য সবচেয়ে বড় সফলতা:
وَعَدَ اللهُ الْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَاتِ جَنَّاتٍ تَجْرِي مِن تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا وَمَسَاكِنَ طَيِّبَةً فِي جَنَّاتِ عَدْنٍ وَرِضْوَانٌ مِّنَ اللَّهِ أَكْبَرُ ذَلِكَ هُوَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ
অর্থ: "আল্লাহ মু'মিন পুরুষ ও মু'মিন নারীদেরকে জান্নাতের ওয়াদা দিয়েছেন, যার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হবে নহরসমূহ, তাতে তারা চিরদিন থাকবে এবং (ওয়াদা দিচ্ছেন) স্থায়ী জান্নাতসমূহে পবিত্র বাসস্থানসমূহের। আর আল্লাহর পক্ষ থেকে সন্তুষ্টি সবচেয়ে বড়। এটাই মহাসফলতা।" (সূরা তাওবা ৯:৭২)
মাসআলা-২৬৯: জান্নাতীদেরকে আল্লাহ স্বয়ং তার সন্তুষ্টির কথা তাদেরকে জানাবেন:
মাসআলা-২৬৬: জান্নাতে আল্লাহ জান্নাতীদের সাথে কথা বলবেন:
عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ ﷺ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: " إِنَّ اللَّهَ يَقُولُ لِأَهْلِ الْجَنَّةِ : يَا أَهْلَ الْجَنَّةِ فَيَقُولُونَ : لَبَّيْكَ رَبَّنَا وَسَعْدَيْكَ وَالْخَيْرُ فِي يَدَيْكَ فَيَقُولُ : هَلْ رَضِيتُمْ ؟ فَيَقُولُونَ : وَمَا لَنَا لَا نَرْضَى؟ يَا رَبِّ وَقَدْ أَعْطَيْتَنَا مَا لَمْ تُعْطِ أَحَدًا مِنْ خَلْقِكَ، فَيَقُولُ: أَلَا أُعْطِيكُمْ أَفْضَلَ مِنْ ذلِكَ؟ فَيَقُولُونَ : يَا رَبِّ وَأَيُّ شَيْءٍ أَفْضَلُ مِنْ ذَلِكَ؟ فَيَقُولُ: أُحِلُّ عَلَيْكُمْ رِضْوَانِي، فَلَا أَسْخَطُ عَلَيْكُمْ بَعْدَهُ أَبَدًا "
অর্থ: "আবু সাঈদ খুদরী (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন রাসূলুল্লাহ বলেছেন: আল্লাহ জান্নাতীদেরকে বলবেন হে জান্নাতীরা! তারা বলবে হে আমাদের প্রভু আমরা তোমার সামনে উপস্থিত, সমস্ত কল্যাণ তোমার হাতে, আল্লাহ বলবেন তোমরা কি সন্তুষ্ট হয়েছো? তারা বলবে হে আমাদের প্রভু! আমরা কেন সন্তুষ্ট হব না! তুমি আমাদেরকে যা কিছু দিয়েছ তোমার সৃষ্টির অন্য কাউকে তা দাও নি। আল্লাহ বলবেন আমি কি তোমাদেরকে এর চেয়ে উত্তম জিনিস দিব না? জান্নাতীরা বলবে হে আল্লাহ! এর চেয়ে উত্তম আর কি আছে? আল্লাহ বলবেন: আমি তোমাদের প্রতি সন্তুষ্ট হলাম। এখন থেকে আমি আর কখনো তোমাদের প্রতি অসন্তুষ্ট হবো না।" (মুসলিম ৪/২৮২৯)৭৭
টিকাঃ
৭৭ কিতাবুল জান্না ওয়া সিফাত নায়ীমিহা।