📘 মৃত্যুর পরে অনন্ত জীবন > 📄 জান্নাতীদের পোশাক ও অলংকার

📄 জান্নাতীদের পোশাক ও অলংকার


মাসআলা-২১৫: জান্নাতীরা পাতলা ও মোটা সবুজ রেশমের কাপড় পরিধান করবে:
মাসআলা-২১৬: জান্নাতীরা হাতে সোনার অলংকার ব্যবহার করবে:
إِنَّ الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ إِنَّا لَا نُضِيعُ أَجْرَ مَنْ أَحْسَنَ عَمَلاً . أَوْلَئِكَ لَهُمْ جَنَّاتُ عَدْنٍ تَجْرِي مِن تَحْتِهِمُ الْأَنْهَارُ يُحَلَّوْنَ فِيهَا مِنْ أَسَاوِرَ مِنْ ذَهَبٍ وَيَلْبَسُونَ ثِيَاباً خُضْراً مِّنْ سُنْدُسٍ وَإِسْتَبْرَقٍ مُتَّكِئِينَ فِيهَا عَلَى الْأَرَائِكِ نِعْمَ الثَّوَابُ وَحَسُنَتْ مُرْتَفَقًا
অর্থ: নিশ্চয় যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকাজ করেছে, নিশ্চয় আমি এমন কারো প্রতিদান নষ্ট করবো না, যে সুকর্ম করেছে। এরাই তারা, যাদের জন্য রয়েছে স্থায়ী জান্নাতসমূহ, যার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয় নদীসমূহ। সেখানে তাদেরকে অলংকৃত করা হবে স্বর্ণের চুড়ি দিয়ে এবং তারা পরিধান করবে মিহি ও পুরু সিল্কের সবুজ পোশাক। তারা সেখানে (থাকবে) আসনে হেলান দিয়ে। কী উত্তম প্রতিদান এবং কী সুন্দর বিশ্রামস্থল। (সূরা কাহাফ ১৮:৩০-৩১)
মাসআলা-২১৭: খাঁটি রেশমী কাপড়ের পোশাক, খাঁটি স্বর্ণের অলংকার, খাঁটি মোতির অলংকার এবং মোতি মিশ্রিত স্বর্ণের অলংকারও জান্নাতীরা ব্যবহার করবে:
إِنَّ اللهَ يُدْخِلُ الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ جَنَّاتٍ تَجْرِي مِن تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ يُحَلَّوْنَ فِيهَا مِنْ أَسَاوِرَ مِنْ ذَهَبٍ وَلُؤْلُوْا وَلِبَاسُهُمْ فِيهَا حَرِيرٌ
অর্থ: যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে নিশ্চয় আল্লাহ তাদেরকে প্রবেশ করাবেন এমন জান্নাতে, যার পাদদেশে নহরসমূহ প্রবাহিত। যেখানে তাদেরকে সোনার কাঁকন ও. মুক্তা দ্বারা অলংকৃত করা হবে এবং যেখানে তাদের পোশাক-পরিচ্ছদ হবে রেশমের। (সূরা হাজ্জ ২২:২৩)
جَنَّاتُ عَدْنٍ يَدْخُلُونَهَا يُحَلَّوْنَ فِيهَا مِنْ أَسَاوِرَ مِنْ ذَهَبٍ وَلُؤْلُوْا وَلِبَاسُهُمْ فِيهَا حَرِيرٌ
অর্থ: চিরস্থায়ী জান্নাত, এতে তারা প্রবেশ করবে। যেখানে তাদেরকে স্বর্ণের চুড়ি ও মুক্তা দ্বারা অলঙ্কৃত করা হবে এবং সেখানে তাদের পোশাক হবে রেশমের। (সূরা ফাত্বির ৩৫:৩৩)
মাসআলা-২১৮: মোটা ও পাতলা রেশম ব্যতীত সুন্দুস এবং ইস্তেবরাক নামক রেশমও জান্নাতীরা ব্যবহার করবে:
إِنَّ الْمُتَّقِينَ فِي مَقَامٍ أَمِينٍ . فِي جَنَّاتٍ وَعُيُونٍ - يَلْبَسُونَ مِنْ سُندُسٍ وَإِسْتَبْرَقٍ مُتَقَابِلِينَ . كَذلِكَ وَزَوَّجْنَاهُم بِحُورٍ عِينٍ يَدْعُونَ فِيهَا بِكُلِّ فَاكِهَةٍ آمِنِينَ - لَا يَذُوقُونَ فِيهَا الْمَوْتَ إِلَّا الْمَوْتَةَ الأُولَى وَوَقَاهُمْ عَذَابَ الْجَحِيمِ - فَضْلاً مِنْ رَبِّكَ ذَلِكَ هُوَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ .
অর্থ: নিশ্চয় মুত্তাকীরা থাকবে নিরাপদ স্থানে, বাগ-বাগিচা ও ঝর্নাধারার মধ্যে, তারা পরিধান করবে পাতলা ও পুরু রেশমী বস্ত্র এবং বসবে মুখোমুখী হয়ে। এরূপই ঘটবে, আর আমি তাদেরকে বিয়ে দেব ডাগর নয়না হুরদের সাথে। সেখানে তারা প্রশান্তচিত্তে সকল প্রকারের ফলমূল আনতে বলবে। প্রথম মৃত্যুর পর সেখানে তারা আর মৃত্যু আস্বাদন করবে না। আর তিনি তাদেরকে জাহান্নামের আযাব থেকে রক্ষা করবেন। তোমার রবের অনুগ্রহস্বরূপ, এটাই তো মহা সাফল্য। (সূরা দুখান ৪৪:৫১-৫৭)
মাসআলা-২১৯: জান্নাতীরা চাঁদির অলংকারও ব্যবহার করবে:
وَيَطُوفُ عَلَيْهِمْ وِلْدَانٌ مُخَلَّدُونَ إِذَا رَأَيْتَهُمْ حَسِبْتَهُمْ لُؤْلُوْا مَّنثُورًا - وَإِذَا رَأَيْتَ ثَمَّ رَأَيْتَ نَعِيماً وَمُلْكًا كَبِيراً - عَالِيَهُمْ ثِيَابُ سُندُسٍ خُضْرٌ وَإِسْتَبْرَقٌ وَحُلُّوا أَسَاوِرَ مِنْ فِضَّةٍ وَسَقَاهُمْ رَبُّهُمْ شَرَاباً طَهُوراً . إِنَّ هَذَا كَانَ لَكُمْ جَزَاءً وَكَانَ سَعْيُكُم مَّشْكُوراً
অর্থ: আর তাদের চারপাশে প্রদক্ষিণ করবে চিরকিশোরেরা; তুমি তাদেরকে দেখলে বিক্ষিপ্ত মুক্তা মনে করবে। আর তুমি যখন দেখবে তুমি সেখানে দেখতে পাবে স্বাচ্ছন্দ্য ও বিরাট সাম্রাজ্য। তাদের উপর থাকবে সবুজ ও মিহি রেশমের পোশাক এবং মোটা রেশমের পোশাক, আর তাদেরকে পরিধান করানো হবে রূপার চুড়ি এবং তাদের রব তাদেরকে পান করাবেন পবিত্র পানীয়। (তাদেরকে বলা হবে) 'এটিই তোমাদের পুরস্কার; আর তোমাদের প্রচেষ্টা ছিল প্রশংসাযোগ্য।' (সূরা দাহর ৭৬:১৯-২২)
মাসআলা-২২০: জান্নাতীদের পোশাক কখনো পুরাতন হবে না: নোট: এ সংক্রান্ত হাদীস ২৮৬ নং মাসআলায় দ্রঃ।
মাসআলা-২২১: জান্নাতী মহিলারা একই সাথে সত্তর জোড়া পোশাক পরিধান করে সজ্জিত হবে, যা এতো উন্নতমানের হবে যে, এর ভিতর দিয়ে তাদের পায়ের গোছার মজ্জা দৃষ্টিগোচর হবে। নোট: এ সংক্রান্ত হাদীসটি ২৫১ নং মাসআলায় দ্রঃ।
মাসআলা-২২২: জান্নাতী মহিলাদের উড়না মান ও দামের দিক থেকে দুনিয়ার সমস্ত সম্পদ থেকে মূল্যবান হবে: এ সংক্রান্ত হাদীসটি ২৪৯ নং মাসআলায় দ্র:
মাসআলা-২২৩: খেজুরের ডালের সুক্ষ্ম সূতা দিয়ে জান্নাতীদের পোশাক তৈরী করা হবে যা হবে লাল স্বর্ণের: নোট: এ সংক্রান্ত হাদীস ১৩৭ নং মাসআলায় দ্রঃ।
মাসআলা-২২৪: জান্নাতীরা উন্নতমানের রেশমের রুমাল ব্যবহার করবে:
عَنْ الْبَرَاءَ بْنَ عَازِبٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا، قَالَ: أُتِيَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، بِثَوْبِ مِنْ حَرِيرٍ فَجَعَلُوا يَعْجَبُونَ مِنْ حُسْنِهِ وَلِينِهِ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : «لَمَنَادِيلُ سَعْدِ بْنِ مُعَادٍ فِي الْجَنَّةِ أَفْضَلُ مِنْ هَذَا»
অর্থ: "বারা বিন আযেব (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ এর নিকট একটি রেশমী কাপড় আনা হলো, লোকেরা এর সৌন্দর্য এবং পাতলা অবলোকনে আশ্চর্যবোধ করলো, তখন রাসূলুল্লাহ বললেন: জান্নাতে সাদ বিন মুয়াযের রুমাল এর চেয়েও উন্নত মানের।” (বুখারী) ৬৪
মাসআলা-২২৫: অযুর পানি যেখানে যেখানে পৌঁছে ওখান পর্যন্ত জান্নাতীদেরকে অলংকার পরানো হবে:
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ سَمِعْتُ خَلِيلِي صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «تَبْلُغُ الْحِلْيَةُ مِنَ الْمُؤْمِنِ، حَيْثُ يَبْلُغُ الْوَضُوءُ»
অর্থ: "আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আমার বন্ধু রাসূলুল্লাহ -কে বলতে শুনেছি তিনি বলেন: মু'মিনকে ঐ পর্যন্ত অলংকার পরানো হবে যে পর্যন্ত অযুর পানি পৌঁছে।" (মুসলিম) ৬৫
মাসআলা-২২৬: জান্নাতীদের ব্যবহার করা অলংকারের যে কোনো একটির চমকের সামনে সূর্যের আলো আড়াল হয়ে যাবে:
عَنْ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَاصٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «لَوْ أَنَّ مَا يُقِلُّ ظُفُرْ مِمَّا فِي الْجَنَّةِ بَدَا لَتَزَخْرَفَتْ لَهُ مَا بَيْنَ خَوَافِقِ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضِ، وَلَوْ أَنَّ رَجُلًا مِنْ أَهْلِ الْجَنَّةِ اطَّلَعَ فَبَدَا أَسَاوِرُهُ لَطَمَسَ ضَوْءَ الشَّمْسِ كَمَا تَطْمِسُ الشَّمْسُ ضَوْءَ النُّجُومِ »
অর্থ: "সাদ বিন আবু ওক্কাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আমার বন্ধু রাসূলুল্লাহ -কে বলতে শুনেছি তিনি বলেন: জান্নাতের জিনিস সমূহের মধ্য থেকে নখ বরাবর কোনো জিনিস যদি পৃথিবীতে প্রকাশিত হয়, তাহলে আকাশ ও যমীনের মাঝে যাকিছু আছে তাকে আলোকময় করে তুলবে। আর যদি একজন জান্নাতী পুরুষ তার অলংকারসহ পৃথিবীকে উকি দেয়, তাহলে সূর্যের আলো এমনভাবে আড়াল হয়ে যাবে যেভাবে সূর্যের আলো তারকার আলোকে আড়াল করে দেয়।” (তিরমিযী ৪/২৫৩৮)৬৬
মাসআলা-২২৭: জান্নাতীদের অলংকারের মধ্যে ব্যবহৃত একটি মোতি পৃথিবীর সমস্ত সম্পদ থেকে মূল্যবান:
عَنْ المِقْدَامِ بْنِ مَعْدِي كَرِبَ هِ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : " لِلشَّهِيدِ عِنْدَ اللَّهِ سِتُّ خِصَالٍ: يُغْفَرُ لَهُ فِي أَوَّلِ دَفْعَةٍ، وَيَرَى مَقْعَدَهُ مِنَ الْجَنَّةِ، وَيُجَارُ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ، وَيَأْمَنُ مِنَ الْفَزَعِ الْأَكْبَرِ. وَيُوضَعُ عَلَى رَأْسِهِ تَاجُ الْوَقَارِ الْيَاقُوتَةُ مِنْهَا خَيْرٌ مِنَ الدُّنْيَا وَمَا فِيهَا. وَيُزَقَجُ اثْنَتَيْنِ وَسَبْعِينَ زَوْجَةً مِنَ الْحُورِ الْعِينِ، وَيُشَفَعُ فِي سَبْعِينَ مِنْ أَقَارِبِهِ"
অর্থ: "মেকদাদ বিন মা'দী কারিব (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ বলেছেন: শহীদের জন্য আল্লাহর নিকট ছয়টি ফযীলত রয়েছে, (১) শহীদের সমস্ত গুনাহ মাফ, আর তার শাহাদাতের সময়ই তাকে জান্নাতে তার ঠিকানা দেখানো হয়। (২) কবরের আযাব থেকে তাকে সংরক্ষণ করা হয়। (৩) কিয়ামতের দিন দুশ্চিন্তা থেকে তাকে রক্ষা করা হবে। (৪) তার মাথায় সম্মানের এমন এক তাজ রাখা হবে যার একটি ইয়াকুত দুনিয়া ও তার মাঝে বিদ্যমান প্রত্যেক জিনিসের চেয়ে মূল্যাবন হবে। (৫) জান্নাতে ৭২ জন হুরে ইনের সাথে তার বিয়ে হবে। (৬) আর সে তার সত্তর জন নিকট আত্মীয়ের জন্য সুপারিশ করবে।” (তিরমিযী) ৬৭

টিকাঃ
৬৪ কিতাব বাদউল খালক, বাব মাযায়া ফী সিফাতিল জান্না।
৬৫ কিতাবুত্তাহারা বাবু ইস্তিহবাব ইতালাতুল গোররা।
৬৬ আবওয়াব সিফাতিল জান্না। বাব মাযায়া ফি সিফাতি আহলিল জান্না। (২/২০৬১)
৬৭ সহীহ জামে তিরমিযী, আলবানী, খ. ২, হাদীস নং-১৩৫৮।

📘 মৃত্যুর পরে অনন্ত জীবন > 📄 জান্নাতীদের বৈঠক ও আসনসমূহ

📄 জান্নাতীদের বৈঠক ও আসনসমূহ


মাসআলা-২২৮: জান্নাতীরা দূর্লভ ও মূল্যবান রেশমী বিছানায় হেলান দিয়ে স্বীয় বাগান ও ঘরে বসবে:
مُتَّكِثِينَ عَلَى فُرُشٍ بَطَائِنُهَا مِنْ إِسْتَبْرَقٍ وَجَنَى الْجَنَّتَيْنِ دَانٍ فَبِأَيِّ آلَاءِ رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ
অর্থ: সেখানে পুরু রেশমের আস্তরবিশিষ্ট বিছানায় তারা হেলান দেয়া অবস্থায় থাকবে এবং দুই জান্নাতের ফল-ফলাদি থাকবে নিকটবর্তী। সুতরাং তোমাদের রবের কোনো নিআমতকে তোমরা উভয়ে অস্বীকার করবে? (সূরা রাহমান ৫৫:৫৪-৫৫)
মাসআলা-২২৯: জান্নাতীরা সামনা সামনি রাখা খুব সুন্দর খাটে বসবে:
مُتَّكِئِينَ عَلَى سُرُرٍ مَّصْفُوفَةٍ وَزَوَّجْنَاهُم بِحُورٍ عِينٍ
অর্থ: সারিবদ্ধ পালঙ্কে তারা হেলান দিয়ে বসবে; আর আমি তাদেরকে মিলায়ে দেব ডাগরচোখা হুর-এর সাথে। (সূরা তৃর ৫২:২০)
মাসআলা-২৩০: জান্নাতীরা সামনাসামনি রাখা খাটে বসে চাহিদা মতো পানাহারে আত্মতৃপ্তি লাভ করবে:
أُوْلَئِكَ لَهُمْ رِزْقٌ مَعْلُومٌ ، فَوَاكِهُ وَهُم مُّكْرَمُونَ فِي جَنَّاتِ النَّعِيمِ . عَلَى سُرُرٍ مُتَقَابِلِينَ - يُطَافُ عَلَيْهِمْ بِكَأْسٍ مِّنْ مَّعِينٍ - بَيْضَاءَ لَذَّةٍ لِلشَّارِبِينَ . لا فِيهَا غَوْلٌ وَلَا هُمْ عَنْهَا يُنزَفُونَ - وَعِندَهُمْ قَاصِرَاتُ الطَّرْفِ عِينٌ . كَأَنَّهُنَّ بَيْضٌ مَكْنُونٌ
অর্থ: তাদের জন্য থাকবে নির্ধারিত রিযিক, ফলমূল; আর তারা হবে সম্মানিত, নি'আমত-ভরা জান্নাতে, মুখোমুখি পালঙ্কে। তাদের চারপাশে ঘুরে ঘুরে পরিবেশন করা হবে বিশুদ্ধ সুরাপাত্র, সাদা, পানকারীদের জন্য সুস্বাদু। তাতে থাকবে না ক্ষতিকর কিছু এবং তারা এগুলো দ্বারা মাতালও হবে না। তাদের কাছে থাকবে আনতনয়না, ডাগরচোখা। তারা যেন আচ্ছাদিত ডিম। (সূরা সাফ্ফাত ৩৭:৪১-৪৯)
মাসআলা-২৩১: সোনা, চাঁদি ও জাওহারের মূল্যবান পাথর দিয়ে তৈরি আসনসমূহ পরস্পরের সামনে বসে জান্নাতীরা সুরাপাত্র পানের আগ্রহ প্রকাশ করবে:
أُوْلَئِكَ الْمُقَرَّبُونَ . فِي جَنَّاتِ النَّعِيمِ . ثُلَةٌ مِّنَ الْأَوَّلِينَ . وَقَلِيلٌ مِّنَ الآخِرِينَ . عَلَى سُرُرٍ مَّوْضُونَةٍ مُتَّكِثِينَ عَلَيْهَا مُتَقَابِلِينَ . يَطُوفُ عَلَيْهِمُ وِلْدَانٌ مُّخَلَّدُونَ بِأَكْوَابٍ وَأَبَارِيقَ وَكَأْسٍ مِنْ مَّعِينٍ - لا يُصَدَّعُونَ عَنْهَا وَلَا يُنزِفُونَ.
অর্থ: তারাই সান্নিধ্যপ্রাপ্ত। তারা থাকবে নিআমতপূর্ণ জান্নাতসমূহে। বহুসংখ্যক হবে পূর্ববর্তীদের মধ্য থেকে, আর অল্পসংখ্যক হবে পরবর্তীদের মধ্য থেকে। স্বর্ণ ও দামী পাথরখচিত আসনে! তারা সেখানে হেলান দিয়ে আসীন থাকবে মুখোমুখি অবস্থায়। তাদের আশ-পাশে ঘোরাফেরা করবে চির কিশোররা, পানপাত্র, জগ ও প্রবাহিত ঝর্ণার শরাবপূর্ণ পেয়ালা নিয়ে, তা পানে না তাদের মাথা ব্যথা করবে, আর না তারা মাতাল হবে। (সূরা ওয়াক্বিয়াহ ৫৬:১০-১৯)
মাসআলা-২৩২: জান্নাতীদের বসার আসন দূর্লভ সবুজ রং ও কার্পেট দ্বারা নির্মিত হবে:
مُتَّكِئِينَ عَلَى فُرُشٍ بَطَائِنُهَا مِنْ إِسْتَبْرَقٍ وَجَنَى الْجَنَّتَيْنِ دَانِ فَبِأَيِّ آلَاءِ رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ
অর্থ: সেখানে পুরু রেশমের আস্তরবিশিষ্ট বিছানায় তারা হেলান দেয়া অবস্থায় থাকবে এবং দুই জান্নাতের ফল-ফলাদি থাকবে নিকটবর্তী। সুতরাং তোমাদের রবের কোন্ নিআমতকে তোমরা অস্বীকার করবে? (সূরা রাহমান ৫৫:৫৪)৬৮
মাসআলা-২৩৩: কোনো কোনো আসন উচু স্তরে থাকবে যা মখমল ও নরম কার্পেটের তৈরি খুব সুন্দর বিছানা ও মূল্যবান বালিশ সজ্জিত থাকবে জান্নাতীরা যেখানে খুশি সেখানে তাদের বৈঠকখানা স্থাপন করতে পারবে:
فِيهَا سُرُرٌ مَرْفُوعَةٌ ، وَأَكْوَابٌ مَوْضُوعَةً وَنَمَارِقُ مَصْفُوفَةٌ وَزَرَابِي مَبْثُوثَةٌ
অর্থ: "তথায় থাকবে উন্নত সুসজ্জিত আসন এবং সংরক্ষিত পান পাত্র। সারি সারি গালিচা তার বিস্তৃত বিছানা বিছানো কার্পেট। (সূরা গাসিয়া: ১৩-১৬)
মাসআলা-২৩৪: জান্নাতীরা ঘনছায়াময় স্থানে মসনদ স্থাপন করে স্বীয় স্ত্রীদের সাথে আনন্দময় আলাপচারিতায় মেতে উঠবে:
অর্থ: "এ দিন জান্নাতীরা আনন্দে ব্যস্ত থাকবে। তারা ও তাদের স্ত্রীরা উপবিষ্ট থাকবে ছায়াময় পরিবেশে আসনে হেলান দিয়ে।” (সূরা ইয়াসীন: ৫৫-৫৬)

টিকাঃ
৬৮. ‘গুল’ অর্থ নেশা, মাতলামি, মাথাব্যথা ও পেটের পীড়া।

📘 মৃত্যুর পরে অনন্ত জীবন > 📄 জান্নাতের সেবক

📄 জান্নাতের সেবক


মাসআলা-২৩৫: জান্নাতীদের সেবকরা সর্বদা শৈশব বয়সী হবে:
মাসআলা-২৩৬: জান্নাতীদের সেবক সর্বদা মোতির ন্যায় সুন্দর ও মনপুত দৃশ্যমান হবে:
মাসআলা-২৩৭: জান্নাতীদের সেবক এত চৌকশ হবে যে, চলতে ফিরতে এমন মনে হবে যেন বিক্ষিপ্ত মোতি:
وَيَطُوفُ عَلَيْهِمْ وِلْدَانٌ مُّخَلَّدُونَ إِذَا رَأَيْتَهُمْ حَسِبْتَهُمْ لُؤْلُوا مَّنثُورًاً
অর্থ: আর তাদের চারপাশে প্রদক্ষিণ করবে চিরকিশোরেরা; তুমি তাদেরকে দেখলে বিক্ষিপ্ত মুক্তা মনে করবে। (সূরা দাহর ৭৬:১৯)
মাসআলা-২৩৮: জান্নাতীদের সেবক ধুলাবালি মুক্ত মোতির ন্যায় পরিচ্ছন্ন থাকবে:
وَيَطُوفُ عَلَيْهِمْ غِلْمَانٌ لَهُمْ كَأَنَّهُمْ لُؤْلُؤُ مَكْنُونٌ
অর্থ: "সুরক্ষিত মোতি সদৃশ কিশোররা তাদের সেবায় ঘুরাফেরা করবে।” (সূরা তুর: ২৪)
মাসআলা-২৩৯: মুশরিকদের নাবালেগ বয়সে মৃত্যুবরণকারী কিছু বাচ্চা জান্নাতীদের সেবক হবে:
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ: سَأَلْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، عَنْ ذَرَارِي الْمُشْرِكِينَ لَمْ يَكُنْ لَهُمْ ذُنُوبٌ يُعَاقَبُونَ بِهَا فَيَدْخُلُونَ النَّارَ وَلَمْ تَكُنْ لَهُمْ حَسَنَةٌ يُجَارَوْنَ بِهَا فَيَكُونُوا مِنْ مُلُوكِ الْجَنَّةِ، فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : «هُمْ خَدَمُ أَهْلِ الْجَنَّةِ»
অর্থ: "হযরত আনাস বিন মালেক (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ ﷺ কে জিজ্ঞেস করলাম মুশরিকদের (নাবালেগ বয়সে মৃত্যুবরণ কারী) বাচ্চাদের সম্পর্কে, যে তাদের কোনো পাপ নেই, যে কারণে তারা জাহান্নামের শাস্তি ভোগ করবে, বা এমন কোনো সাওয়াবও নেই যার ওসীলায় তারা জান্নাতের বাদশা হবে। তাহলে তাদের কি হবে? তিনি উত্তরে বললেন: তারা জান্নাতীদের খাদেম হবে।" (আবু নুয়াইম ওধাবু ইয়ায়লা)

টিকাঃ
* আলবানী সংকলিত সিলসিলা সহীহা, হাদীস নং-১৪৬৮।

📘 মৃত্যুর পরে অনন্ত জীবন > 📄 জান্নাতের রমণী

📄 জান্নাতের রমণী


মাসআলা-২৪০: জান্নাতী মহিলারা সর্বপ্রকার প্রকাশ্য দোষ-ত্রুটি (হায়েয, নেফাস ইত্যাদি) এবং অপ্রকাশ্য দোষ-ত্রুটি (রাগ, হিংসা ইত্যাদি) মুক্ত হবে:
وَلَهُمْ فِيهَا أَزْوَاجٌ مُطَهَّرَةٌ وَهُمْ فِيهَا خَالِدُونَ
অর্থ: "সেখানে তাদের জন্য থাকবে পবিত্র স্ত্রীরা এবং তারা ওখানে অনন্তকাল থাকবে”। (সূরা বাকারা: ২৫)
মাসআলা-২৪১: জান্নাতে প্রবেশকারী মহিলাদেরকে আল্লাহ নতুনভাবে সৃষ্টি করবেন এবং তারা কুমারী অবস্থায় জান্নাতে প্রবেশ করবে:
মাসআলা-২৪২: জান্নাতী মহিলা তার স্বামীর সাথে মিলন হওয়ার পরও চিরকাল কুমারী থাকবে:
মাসআলা-২৪৩: জান্নাতী মহিলারা তাদের স্বামীদের সম বয়সী হবে:
মাসআলা-২৪৪: জান্নাতী মহিলারা তাদের স্বামী প্রেমী হবে:
فِيهِنَّ خَيْرَاتٌ حِسَانٌ فَبِأَيِّ آلَاءِ رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ
অর্থ: সেই জান্নাতসমূহে থাকবে উত্তম চরিত্রবতী অনিন্দ্য সুন্দরীগণ। সুতরাং তোমাদের রবের কোনো নিআমতকে তোমরা উভয়ে অস্বীকার করবে? (সূরা রাহমান ৫৫:৭০-৭১)
মাসআলা-২৪৫: জান্নাতী মহিলারা সৌন্দর্য এবং চারিত্রিক গুণাবলীর দিক থেকে অতুলনীয় হবে:
إِنَّا أَنشَأْنَاهُنَّ إِنشَاء فَجَعَلْنَاهُنَّ أَبْكَاراً . عُرُبًا أَتْرَاباً وَلِأَصْحَابِ الْيَمِينِ
অর্থ: নিশ্চয় আমি হুরদেরকে বিশেষভাবে সৃষ্টি করবো। অতঃপর তাদেরকে বানাব কুমারী, সোহাগিনী ও সমবয়সী। ডানদিকের লোকদের জন্য। (সূরা ওয়াক্বিয়াহ ৫৬:৩৫-৩৮)
মাসআলা-২৪৬: জান্নাতের আনন্দের পূর্ণতা লাভ হবে রমণীদের সাথে মিলনের মাধ্যমে:
ادْخُلُوا الْجَنَّةَ أَنتُمْ وَأَزْوَاجُكُمْ تُحْبَرُونَ
অর্থ: "তোমরা এবং তোমাদের স্ত্রীরা সানন্দে জান্নাতে প্রবেশ করো।” (সূরা যুখরুফ: ৭০)
মাসআলা-২৪৭ ঈমান ও আমলের ভিত্তিতে জান্নাতে প্রবেশকারী নারীরা মর্যাদার দিক থেকে হুরদের তুলনায় অধিক মর্যাদাবান হবে:
عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ قُلْتُ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ، أَخْبِرْنِي ، نِسَاءُ الدُّنْيَا أَفْضَلُ أَمِ الْحُورُ الْعِينِ؟ قَالَ: بَلْ نِسَاءُ الدُّنْيَا أَفْضَلُ مِنَ الْحُورِ الْعِينِ، كَفَضْلِ الظِّهَارَ عَلَى الْبِطَانَةِ". قُلْتُ : يَا رَسُولَ اللهِ، وَبِمَ ذَاكَ؟ قَالَ: "بِصَلَاتِهِنَّ وَصِيَامِهِنَّ وَعِبَادَتِهِنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ.
অর্থ: "উম্মে সালামা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি জিজ্ঞেস করলাম হে আল্লাহ রাসূল! বলুন যে, পৃথিবীর নারীরা উত্তম না জান্নাতের হুরেরা? তিনি বললেন: বরং পৃথিবীর নারীরা হুরদের চেয়ে উত্তম। যেমন কাপড়ের বাহিরের দিকটি ভিতরের দিকের চেয়ে উত্তম। আমি জিজ্ঞেস করলাম ইয়া রাসূলুল্লাহ! এটা কেন? তিনি বললেন: তাদের নামায রোযা ও অন্যান্য ইবাদতের কারণে যা তারা আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে করে থাকে।” (ত্বাবারানী)৬৯
মাসআলা-২৪৮: জান্নাতের নারীরা যদি একবার দুনিয়ার দিকে ঝুকে তাহলে পূর্ব থেকে পশ্চিম পর্যন্ত সমস্ত জায়গা আলোকময় হয়ে যাবে:
মাসআলা-২৪৯: জান্নাতের নারীর মাথার উড়না পৃথিবীর সমস্ত নিআমত থেকে মূল্যবান:
عَنْ أَنَسِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ لا غَدْوَةٌ فِي سَبِيلِ اللَّهِ أَوْ رَوْحَةٌ خَيْرٌ مِنَ الدُّنْيَا وَمَا فِيهَا وَلَوْ أَنَّ امْرَأَةً مِنْ نِسَاءِ أَهْلِ الْجَنَّةِ اطَّلَعَتْ إِلَى الْأَرْضِ لأَضَاءَتْ مَا بَيْنَهُمَا، وَلَمَلَاتُ مَا بَيْنَهُمَا رِيحًا، وَلَنَصِيفُهَا عَلَى لَاسَهَا خَيْرٌ مِنَ الدُّنْيَا وَمَا فِيهَا»
অর্থ: "আনাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ বলেছেন: সকাল-সন্ধ্যায় আল্লাহর পথে বের হওয়া, দুনিয়া ও দুনিয়াতে যা কিছু আছে তার সবকিছু থেকে উত্তম। যদি জান্নাতী রমণীদের মধ্য থেকে কোনো রমণী পৃথিবীতে উঁকি দিত, তাহলে পূর্ব থেকে পশ্চিম-এর মাঝে যাকিছু আছে সব কিছু আলোক উজ্জ্বল হয়ে যেত। আর সমস্ত জাগয়াকে সুগন্ধিতে ভরে দিত, জান্নাতের নারীর মাথার উড়না পৃথিবীর সমস্ত নিআমত থেকে মূল্যবান।" (বোখরী ৮/৬৫৬৮)৭০
মাসআলা-২৫০: জান্নাতে প্রত্যেক জান্নাতীর বিয়ে আদম সন্তানদের মধ্য থেকে দু'জন মহিলার সাথে হবে:
মাসআলা-২৫১: জান্নাতী মহিলারা একই সাথে সত্তর জোড়া পোশাক পরিধান করে সজ্জিত হবে, যা এতো উন্নতমানের হবে যে, এর ভিতর দিয়ে তাদের শরীর দেখা যাবে:
মাসআলা-২৫২: মহিলারা এতো সুন্দর হবে যে, তাদের শরীরের ভিতরের হাড্ডির মজ্জা বাহির থেকে দেখা যাবে:
عَنْ أَبِي سَعِيدٍ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «إِنَّ أَوَّلَ زُمْرَةٍ يَدْخُلُونَ الْجَنَّةَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ ضَوْءُ وُجُوهِهِمْ عَلَى مِثْلِ ضُوْءِ الْقَمَرِ لَيْلَةَ الْبَدْرِ، وَالزُّمْرَةُ الثَّانِيَةُ عَلَى مِثْلِ أَحْسَنِ كَوْكَبٍ دُرِّيُّ فِي السَّمَاءِ، لِكُلِّ رَجُلٍ مِنْهُمْ زَوْجَتَانِ عَلَى كُلِّ زَوْجَةٍ سَبْعُونَ حُلَّةً يُرَى مُخُ سَاقِهَا مِنْ وَرَائِهَا»
অর্থ: আবু সাঈদ (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি নবী থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: কিয়ামতের দিন সর্বপ্রথম যে দল জান্নাতে প্রবেশ করবে তাদের চেহারা চৌদ্দ তারিখের চাঁদের ন্যায় উজ্জ্বল হবে। দ্বিতীয় দলটির চেহারা আকাশে আলোকময় কোনো তারকার ন্যায় হবে। উভয় দলের পুরুষদেরকে দু'জন করে স্ত্রী দেয়া হবে। প্রত্যেক স্ত্রী সত্তর জোড়া করে কাপড় পরিধান করে থাকবে। আর ঐ কাপড় এতো পাতলা হবে সে এর মধ্য দিয়ে তাদের পায়ের গোছার মজ্জা দেখা যাবে।” (তিরমিযী ৪/২৫৩৫)৭১
عَنْ مُحَمَّدٍ هُ قَالَ: إِمَّا تَفَاخَرُوا وَإِمَّا تَذَا كَرُوا : الرِّجَالُ فِي الْجَنَّةِ أَكْثَرُ أَمِ النِّسَاءُ؟ فَقَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ: أَوَ لَمْ يَقُلْ أَبُو الْقَاسِمِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : «إِنَّ أَوَّلَ زُمْرَةٍ تَدْخُلُ الْجَنَّةَ عَلَى صُورَةِ الْقَمَرِ لَيْلَةَ الْبَدْرِ، وَالَّتِي تَلِيهَا عَلَى أَضْوَءِ كَوْكَبٍ دُرِّيُّ فِي السَّمَاءِ، لِكُلِّ امْرِئٍ مِنْهُمْ زَوْجَتَانِ اثْنَتَانِ ، يُرَى مُخْ سُوقِهِمَا مِنْ وَرَاءِ اللَّحْمِ ، وَمَا فِي الْجَنَّةِ أَعْزَبُ؟»
অর্থ: "মোহাম্মদ (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: লোকেরা পরস্পরে ফখর করতে ছিল বা বলতে ছিল যে, জান্নাতে পুরুষের সংখ্যা বেশি হবে না মহিলার সংখ্যা। আবু হুরাইরা (রা) বললেন: আবুল কাসেম কি বলেন নি যে, সর্বপ্রথম যে দল জান্নাতে প্রবেশ করবে তাদের চেহারা চৌদ্দ তারিখের চাঁদের ন্যায় উজ্জ্বল হবে। দ্বিতীয় দলটির চেহারা আকাশে আলোকময় কোনো তারকার ন্যায় হবে। উভয় দলের পুরুষদেরকে দুজন করে স্ত্রী দেয়া হবে। এদের পায়ের গোছার হাড্ডির মধ্য দিয়ে তাদের পায়ের গুচ্ছের মজ্জা দেখা যাবে।” (মুসলিম ৪/২৮৩৪)৭২
قَالَ ابْنُ كَثِيرِ رَحِمَهُ اللهُ تَعَالَى فَالْمُرَادُ مَنْ هَذَا إِنَّ هَاتَيْنِ مِنْ بَنَاتِ أَدَمَ وَمَعَهُمَا مِنَ الْحُورِ الْعِينِ مَا شَاءَ عَزَّ وَجَلَّ، وَاللَّهُ أَعْلَمُ بِالصَّوَابِ.
অর্থ: "ইবনে কাসীর (রা) বলেন: এর উদ্দেশ্য হলো এই যে, এ উভয় রমণী আদম সন্তানদের মধ্য থেকে হবে। আর তাদের উভয়ের সাথে থাকবে আল্লাহর ইচ্ছা অনুযায়ী হুরেইনরা।" (এ ব্যাপারে আল্লাহই সর্বাধিক জ্ঞাত)
মাসআলা-২৫৩ : জান্নাতে প্রবেশকারী রমণীরা তাদের ইচ্ছা ও পছন্দানুযায়ী তাদের দুনিয়ার স্বামীদেরকে গ্রহণ করবে। তবে এর জন্য শর্ত হলো এই যে, ঐ স্বামীকেও জান্নাতী হতে হবে। অন্যথায় আল্লাহ তাদেরকে অন্য কোনো জান্নাতীর সাথে বিয়ে দিয়ে দিবেন:
মাসআলা-২৫৪: যে মহিলাদের দুনিয়াতে একাধিক স্বামী ছিল ঐ রমণীদেরকে তাদের ইচ্ছা ও পছন্দানুযায়ী তাদের দুনিয়ার স্বামীদের মধ্য থেকে কোনো একজনকে গ্রহণ করার সুযোগ দেয়া হবে:
عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ ا قَالَتْ : قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ ! الْمَرْأَةُ مِنَّا تَتَزَوَّجُ الزَّوْجَيْنِ وَالثَّلَاثَةَ وَالْأَرْبَعَةَ ، ثُمَّ تَمُوتُ فَتَدْخُلُ الْجَنَّةَ وَيَدْخُلُونَ مَعَهَا . مَنْ يَكُونُ زَوْجُهَا مِنْهُمْ؟ فَقَالَ: «يَا أُمَّ سَلَمَةَ ، إِنَّهَا تُخَيَّرُ ، فَتَخْتَارُ أَحْسَنَهُمْ خُلُقًا ، فَتَقُولُ: يَا رَبِّ إِنَّ هَذَا كَانَ أَحْسَنَهُمْ مَعِي خُلُقًا فِي دَارِ الدُّنْيَا فَزَوْجُنِيهِ ، يَا أُمَّ سَلَمَةَ ذَهَبَ حُسْنُ الْخُلُقِ بِخَيْرِ الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ»
অর্থ: "উম্মে সালামা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি জিজ্ঞেস করলাম ইয়া রাসূলুল্লাহ ! আমাদের মধ্য থেকে কোনো কোনো মহিলা দুনিয়ায় একাধিক স্বামীর সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়, মৃত্যুর পর যদি ঐ মহিলা জান্নাতে যায় এবং তার সমস্ত স্বামীরাও যদি জান্নাতে যায় তাহলে এদের মধ্যে কোনো ব্যক্তি তার স্বামী হবে? নবী বললেন: হে উম্মে সালামা! ঐ মহিলা তার স্বামীদের মধ্য থেকে যে কোনো একজনকে বাছাই করবে। আর সে নিঃসন্দেহে উত্তম চরিত্রের অধিকারী স্বামীকেই বেছে নিবে। মহিলা আল্লাহর নিকট আরয করবে যে, হে আমার প্রভু! এ ব্যক্তি দুনিয়াতে সবচেয়ে বেশি ভাল চরিত্র নিয়ে আমার সাথে চলেছে, অতএব তার সাথেই আমাকে বিয়ে দিন। হে উম্মে সালামা উত্তম চরিত্র দুনিয়া ও আখেরাতের সমস্ত কল্যাণের মধ্যে উত্তম।" (ত্বাবারানী) ৭৩

টিকাঃ
৬৯ মাজমাউজ্জাওয়ায়েদ, খ. ১০, পৃ. ৪১৭, ৪১৮।
৭০ মেশকাতুল মাসাবিহ, বাব সিফাতিল জান্না ওয়া আহলিহা, আল ফাসলুল আওয়াল।
৭১ আবওয়াবুল জান্না, বাব মাযায়া ফি সিফাতিল জান্না। (২/২০৫৭)
৭২ কিতাবুল জান্নাত ওয়া সিফাত নায়ীমিহা।
৭৩ আন নিহায়া লি ইবনে কাসীর, ফিল ফিতন ওয়াল মালাহেম। ২য় খন্ড, পৃ. ৩৮৭।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00