📄 কাওসার নদী
(আল্লাহ তার স্বীয় দয়া ও অনুগ্রহের মাধ্যমে আমাদেরকে তা থেকে পানি পান করান)
মাসআলা১৭৩: কাওসার জান্নাতের একটি নদী যা আল্লাহ শুধু রাসূলুল্লাহ -কে তা দিবেন:
মাসআলা-১৭৪: কাওসার নদী জান্নাতের সবচেয়ে বড় ও সবচেয়ে উন্নত নদী:
عَنْ أَنَسٍ هِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ " بَيْنَمَا أَنَا أَسِيرُ فِي الْجَنَّةِ، إِذَا أَنَا بِنَهَرٍ، حَافَتَاهُ قِبَابُ الدُّرِّ الْمُجَوَّفِ، قُلْتُ: مَا هَذَا يَا جِبْرِيلُ؟ قَالَ: هَذَا الْكَوْثَرُ الَّذِي أَعْطَاكَ رَبُّكَ، فَإِذَا طِينُهُ أَوْ طِيبُهُ مِسْكَ أَذْفَرُ "
অর্থ: "আনাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ বলেছেন: (মেরাজের সময়) আমি জান্নাত দেখতেছিলাম, সেখানে আমি একটি নদী দেখতে পেলাম যার উভয় তীরে মোতি খচিত গম্বুজ রয়েছে। আমি জিজ্ঞেস করলাম হে জিবরাঈল! এগুলো কি? সে বললো: এ হলো কাওসার যা আপনাকে আপনার প্রভু দিয়েছেন। আর তার মাটি বা সুগন্ধি মেশক আম্বরের ন্যায়” (বুখারী ৮/৬৫৮১)৫০
মাসআলা-১৭৫: কাওসার নদীর উভয় তীর স্বর্ণ নির্মিত, তার কঙ্করসমূহ মোতি ও ইয়াকুতের। আর মাটি মেশকের চেয়েও অধিক সুগন্ধিময়:
عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ اللهِ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : الكَوْثَرُ نَهْرٌ فِي الْجَنَّةِ، حَافَتَاهُ مِنْ ذَهَبٍ، وَمَجْرَاهُ عَلَى الدُّرِّ وَالْيَاقُوتِ، تُرْبَتُهُ أَطْيَبُ مِنَ الْمِسْكِ ، وَمَاؤُهُ أَحْلَى مِنَ الْعَسَلِ، وَأَبْيَضُ مِنَ الثَّلْجِ»
অর্থ: "আবদুল্লাহ বিন ওমর (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলূল্লাহ বলেছেন: কাওসার জান্নাতের একটি নদী, যার উভয় তীর স্বর্ণ নির্মিত, তার পানি ইয়াকুত ও মোতির উপর প্রবাহমান। তার মাটি মেশকের চেয়েও বেশি সুগন্ধিময়, তার পানি মধুর চেয়ে অধিক মিষ্টি এবং বরফের চেয়ে অধিক সাদা। (তিরমিযী ৫/৩৩৬১)৫১
মাসআলা-১৭৬: কাওসার নদীতে উটের গর্দানের ন্যায় উঁচু প্রাণী থাকবে, যা ভক্ষণে জান্নাতীরা তৃপ্তিলাভ করবে: নোট: এ সংক্রান্ত হাদীস ১৬২ নং মাসআলায় দেখুন।
* উল্লেখ্য যে হাউজে কাওসার এবং কাওসার নদী পৃথক জিনিস, কাওসার নদী জান্নাতের ভিতরে থাকবে, আর হাউজে কাওসার জান্নাতের বাহিরে হাশরের মাঠে থাকবে। যেখানে রাসূল মিম্বরে আসন গ্রহণ করে স্বীয় হস্তে ঈমানদারদেরকে পানি পান করিয়ে তাদের পিপাসা মিটাবেন। (আল্লাহই এ ব্যাপারে সর্বাধিক অবগত)
* কাওসারের ব্যাপারে হাউজে কাওসার সম্পর্কিত হাদীসসমূহও আমরা এখানে উল্লেখ করেছি।
টিকাঃ
৫০ কিতাবুর রিকাক, বাব ফিলহাউয।
৫১ আবওয়াব তাফসীর বাব তাফসীর সূরাতুল কাওসার।
📄 হাউজে কাওসার
মাসআলা-১৭৭: হাউজে কাওসারে পানি পান করানোর দায়িত্ব স্বয়ং রাসূল পালন করবেন:
মাসআলা-১৭৮: ইয়ামেনবাসীদের সম্মানে রাসূল অন্যদেরকে হাউজে কাওসার থেকে দূর করে দিবেন:
মাসআলা-১৭৯: হাউজে কাওসারের প্রশস্ততা মদীনা এবং আম্মানের দূরত্বের সমান। (প্রায় এক হাজার কি.মি.)
মাসআলা-১৮০: হাউজে কাওসারের পানি দুধের চেয়ে সাদা এবং মধুর চেয়েও মিষ্টি হবে:
عَنْ ثَوْبَانَ هِ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «إِنِّي لَبِعُقُرِ حَوْضِي أَذُودُ النَّاسَ لِأَهْلِ الْيَمَنِ أَضْرِبُ بِعَصَايَ حَتَّى يَرْفَضَّ عَلَيْهِمْ » . فَسُئِلَ عَنْ عَرْضِهِ فَقَالَ: «مِنْ مَقَامِي إِلَى عَمَّانَ» وَسُئِلَ عَنْ شَرَابِهِ فَقَالَ: «أَشَدُّ بَيَاضًا مِّنَ اللَّبَنِ، وَأَحْلَى مِنَ الْعَسَلِ، يَغِفُّ فِيْهِ مِيْزَابَانِ يَمُدَّانِهِ مِنَ الْجَنَّةِ، أَحَدُهُمَا مِنْ ذَهَبِ، وَالْآخَرُ مِنْ وَرِقٍ
অর্থঃ “সাওবান (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ বলেছেন: হাউজে কাউসারের পার্শে আমি ইয়ামানবাসীদের সম্মানে অন্য লোকদেরকে স্বীয় লাঠি দিয়ে দূর করে দিব। এমনকি পানি ইয়ামানবাসীর প্রতি প্রবাহিত হতে থাকবে আর তারা তা পানে তৃপ্তি লাভ করবে। তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলো যে, হাউজের প্রশস্ততা কতটুকু। তিনি বললেন: মদীনা থেকে ওমানের দূরত্বের সমান। এরপর হাউজের পানি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলো যে, কেমন হবে? তিনি বললেন: দুধের চেয়ে অধিক সাদা, মধুর চেয়ে অধিক মিষ্টি, এরপর তিনি বললেন আমার হাউজে জান্নাত থেকে দুটি নালা প্রবাহিত হবে, তার একটি হবে স্বর্ণের, অপরটি হবে রুপার। (মুসলিম ৪/R00১)৫২
নোট: আম্মান জর্ডানের রাজধানী, যা মদীনা থেকে এক হাজার কি.মি. দূরে। অন্যান্য হাদীস থেকে প্রমাণিত হয় যে, হাউজে কাওসারের চতুর্পার্শ্ব সমান সমান। নবী বলেছেনঃ “হাউজের প্রশস্ততা তার দৈর্ঘ্যের সমান।” (তিরমিযী)
মাসআলা-১৮১ : হাউজে কাওসারের কিনারে সোনা-চাঁদির গ্লাস থাকবে যার সংখ্যা হবে আকাশের তারকার সমান:
عَنْ أَنَسٍ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وَسَلَّمَ: تُرَى فِيْهِ أَبَارِيْقُ الذَّهَبِ وَالْفِضَّةِ كَعَدَدِ نُجُوْمِ السَّمَاءِ
অর্থ: “আনাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: নবী বলেছেন: হাউজে কাওসারের পাড়ে তোমরা আকাশের তারকার সমান সংখ্যক গ্লাস দেখতে পাবে।” (মুসলিম)৫৩
মাসআলা-১৮২ : কিয়ামতের দিন রাসুলুল্লাহ -এর মিম্বর হাউজে কাওসারের পার্শে রাখা হবে। তার ওপর আরোহন করে তিনি তাঁর উম্মতদেরকে পানি পান করাবেন:
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ ، إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «مَا بَيْنَ بَيْتِي وَمِنْبَرِي رَوْضَةٌ مِنْ رِيَاضِ الْجَنَّةِ، وَمِنْبَرِي عَلَى حَوْضِي»
অর্থ: "আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ বলেছেন: আমার ঘর ও মিম্বরের মাঝে যে স্থানটি আছে তা জান্নাতের বাগানসমূহের মধ্যে একটি বাগান। আর আমার মিম্বর (কিয়ামতের দিন) আমার হাউজের পার্শ্বে রাখা হবে।” (বুখারী ২/১১৯৬)৫৪
মাসআলা-১৮৩: যে ব্যক্তি একবার হাউজে কাওসারের পানি পান করবে তার আর কখনো পানির পিপাসা হবে না:
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْن عُمَرَ اهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «إِنَّ أَمَامَكُمْ حَوْضًا كَمَا بَيْنَ جَرْبَاءَ وَأَذْرُحَ فِيهِ أَبَارِيقُ كَنُجُومِ السَّمَاءِ مَنْ وَرَدَهُ فَشَرِبَ مِنْهُ لَمْ يَظْمَأُ بَعْدَهَا أَبَدًا»
অর্থ: "আবদুল্লাহ বিন ওমার (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ বলেছেন: জান্নাতে তোমাদের সামনে একটি হাউজ থাকবে, যার একটি কঙ্কর যারবা থেকে আজরার (সিরিয়ার দু'টি শহরের নাম) মাঝের দূরত্বের সমান হবে। যার পার্শ্বে আকাশের তারকা সংখ্যক গ্লাস রাখা হবে। যে ব্যক্তি ওখান থেকে একবার পানি পান করবে সে আর কখনো পিপাসিত হবে না।” (মুসলিম ৪/২২৯৯) ৫৫
মাসআলা-১৮৪ : হাউজে কাওসারের পানি সর্বপ্রথম পান করবে গরীব মুহাজিরগণ (মক্কা থেকে মদীনায় হিজরত কারীরা):
عَنْ ثَوْبَانَ هُ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِنْ أَوَّلُ النَّاسِ وُرُودًا عَلَيْهِ فُقَرَاءُ الْمُهَاجِرِينَ الشُّعْثُ رُءُوسًا، الدُّنْسُ ثِيَابًا، الَّذِينَ لَا يَنْكِحُونَ الْمُتَنَعِمَاتِ، وَلَا يُفْتَحُ لَهُمُ السُّدَدُ
অর্থ: “সাওবান (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি রাসূলুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেছেন: তিনি বলেন: আমার হাউজে সর্বপ্রথম আগমনকারী হবে গরিব মুহাজিরগণ। এলোকেশি, ময়লা কাপড় পরিধানকারী, সুখী সমৃদ্ধশালী মহিলাদেরকে বিবাহ করতে অক্ষম ব্যক্তিবর্গ। যাদের জন্য আমীর ওমরাদের দরজা উন্মুক্ত থাকে না।” (তিরমিযী) ৫৬
মাসআলা-১৮৫ : কিয়ামতের দিন প্রত্যেক নবীকে হাউজ দেয়া হবে যা থেকে তাঁর উম্মতরা পানি পান করবে:
মাসআলা-১৮৬ : রাসূলুল্লাহ -এর হাউজে আগন্তুকদের সংখ্যা অন্যান্য নবীদের উম্মতদের তুলনায় অধিক হবে:
عَنْ سَمُرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : «إِنَّ لِكُلِّ نَبِيِّ حَوْضًا وَإِنَّهُمْ يَتَبَاهَوْنَ أَيُّهُمْ أَكْثَرُ وَارِدَةً، وَإِنِّي أَرْجُو أَنْ أَكُونَ أَكْثَرَهُمُ وَارِدَةً»
অর্থ: “সামুরা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি রাসূলুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেছেন: নিশ্চয়ই প্রত্যেক নবীর জন্য একটি করে হাউজ থাকবে, আর প্রত্যেক নবী পরস্পরের সাথে গৌরব করবে যে, কার হাউজে পানি পানকারীর সংখ্যা বেশি। আমি আশা করছি যে আমার হাউজে আগন্তুকদের সংখ্যা বেশি হবে।” (তিরমিযী ৪/২৪৪৩) ৫৭
মাসআলা-১৮৭ : হাউজে কাওসারের পাশে রাসূলুল্লাহ তাঁর উম্মতদের সামনে থাকবেন:
মাসআলা-১৮৮ : বিদআতীরা রাসূলুল্লা -এর হাউজ থেকে বিতাড়িত হবে:
عَنْ عَبْدُ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودِ اللهُ عَنِ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ " أَنَا فَرَطُكُمْ عَلَى الْحَوْضِ، لَيُرْفَعَنَّ إِلَيَّ رِجَالٌ مِنْكُمْ، حَتَّى إِذَا أَهْوَيْتُ لِأُنَاوِلَهُمُ اخْتُلِجُوا دُونِي، فَأَقُولُ: يَا رَبِّ أَصْحَابِي، فَيُقَالُ إِنَّكَ لَا تَدْرِي مَا أَحْدَثُوا بَعْدَكَ "
অর্থ: "আবদুল্লাহ বিন মাসউদ (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি রাসূলুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেছেন: তিনি বলেন আমি হাউজে কাওসারের পাশে তোমাদের আগে থাকবো। তোমাদের মধ্যে কিছু লোক সেখানে আসবে, অতপর তাদেরকে আমার কাছ থেকে দূরে সরিয়ে দেয়া হবে, আমি বলবো: হে আমার প্রভু! এরাতো আমার উম্মত। বলা হবে আপনি জানেন না যে, আপনার পরে তারা কি কি বিদআত চালু করেছে।” (বুখারী ৯/৭০৪৯) ৫৮
মাসআলা-১৮৯: কাফিররা হাউজে কাওসারের নিকট এসে পানি পান করতে চাইবে কিন্তু রাসূলুল্লাহ তাদেরকে দূরে সরিয়ে দিবেন:
মাসআলা-১৯০: রাসূলুল্লাহ তাঁর উম্মতদেরকে ওযুর কারণে উজ্জ্বল হাত ও কপাল দেখে চিনতে পারবেন:
عَنْ حُذَيْفَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ إِنِّي لَأَذُودُ عَنْهُ الرِّجَالَ، كَمَا يَذُودُ الرَّجُلُ الْإِبِلَ الْغَرِيبَةَ عَنْ حَوْضِهِ قِيلَ: يَا رَسُولَ اللهِ أَتَعْرِفُنَا ؟ قَالَ: «نَعَمْ ، تَرِدُونَ عَلَيَّ غُرَّا مُحَجَّلِينَ. مِنْ أَثَرِ الْوُضُوءِ لَيْسَتْ لِأَحَدٍ غَيْرِكُمْ»
অর্থ: "হুযাইফা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি রাসূলুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেছেন: ঐ সত্তার কসম যার হাতে আমার প্রাণ। আমি হাউজ থেকে অমুসলিমদেরকে এমন ভাবে দূর করে দিব, যেমন উটের মালিকরা তাদের পাল থেকে অন্য মালিকের উটকে তাড়িয়ে দেয়। জিজ্ঞেস করা হলো ইয়া রাসূলুল্লাহ! আপনি আমাদেরকে চিনবেন? তিনি বললেন: হ্যাঁ, তোমরা আমার নিকট আসবে এমতাবস্থায় যে অযুর কারণে তোমাদের হাত, পা, কপাল ইত্যাদি চমকাতে থাকবে। এ গুণ তোমরা ব্যতীত অন্য কোনো উম্মতের হবে না।” (ইবনে মাজা) ৫৯
টিকাঃ
৫২ কিতাবুল ফাযায়েল, বাব ইসবাত হাওজিন্নাবী
৫৩ কিতাবুল ফাযায়েল, বাব ইসবাত হাওজিন্নাবী
৫৪ কিতabুল ফাযায়েল, বাব ইসবাত হাওজিন্নাবী, ৫৪ কিতাবুল ফাযায়েল, বাব ইসবাত হাওজিন্নাবী,
৫৬ আবওয়াব সিফাতিল কিয়ামা, বাবা মাযায়া ফী সিফাতিল হাউজ, (২/১৯৮৯)
৫৭ আবওয়াব সিফাতিল কিয়ামা, বাব মাযায়া ফি সিফাতিল হাউজ (২/১৯৮৮)
৫৮ কিতাবুর রিকাক, বাব ফীল হাউজ।
৫৯ কিতাবুয যুহদ, বাব ফীল হাউজ (২/৩৪৭১)
📄 জান্নাতীদের খানাপিনা
মাসআলা-১৯১: জান্নাতীদের প্রথম খানা হবে মাছ, এর পরবর্তী খাবার হবে গরুর গোস্ত:
মাসআলা-১৯২: জান্নাতীদের সর্বপ্রথম পানীয় হবে সালসাবীল নামক কূপের পানি:
عَنْ ثَوْبَانَ مَوْلَى رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: كُنْتُ قَائِمًا عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَجَاءَ حِبْرٌ مِنْ أَحْبَارِ الْيَهُودِ فَقَالَ: أَيْنَ يَكُونُ النَّاسُ يَوْمَ تُبَدَّلُ الْأَرْضُ غَيْرَ الْأَرْضِ وَالسَّمَاوَاتُ؟ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : «هُمْ فِي الظُّلْمَةِ دُونَ الْجِسْرِ» قَالَ: فَمَنْ أَوَّلُ النَّاسِ إِجَازَةً؟ قَالَ: «فُقَرَاءُ الْمُهَاجِرِينَ» قَالَ الْيَهُودِيُّ: فَمَا تُحْفَتُهُمْ حِينَ يَدْخُلُونَ الْجَنَّةَ؟ قَالَ: «زِيَادَةُ كَبِدِ النُّونِ» ، قَالَ: فَمَا غِذَاؤُهُمْ عَلَى إِثْرِهَا؟ قَالَ: «يُنْحَرُ لَهُمْ ثَوْرُ الْجَنَّةِ الَّذِي كَانَ يَأْكُلُ مِنْ أَطْرَافِهَا قَالَ: فَمَا شَرَابُهُمْ عَلَيْهِ؟ قَالَ: «مِنْ عَيْنٍ فِيهَا تُسَمَّى سَلْسَبِيلًا» قَالَ : صَدَقْتَ .
অর্থ: "রাসূলুল্লাহ এর গোলাম সাওবান (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন আমি রাসূলুল্লাহ-এর নিকট দাঁড়িয়ে ছিলাম, ইতিমধ্যে ইহুদীদের পাদ্রীদের মধ্য থেকে একজন পাদ্রী আসলো এবং জিজ্ঞেস করল যে, যেদিন আকাশ ও জমিন প্রথম পরিবর্তন করা হবে তখন মানুষ কোথায় থাকবে? রাসূলুল্লাহ বললেন, পুলসিরাতের নিকটবর্তী এক অন্ধকার স্থানে। অতপর ইহুদী আলেম জিজ্ঞেস করলো, সর্বপ্রথম কে পুলসিরাত পার হবে? তিনি বললেন: গরীব মুহাজিরগণ। (মক্কা থেকে মদীনায় হিজরত কারীরা) ঐ ইহুদী পাদ্রী আবার জিজ্ঞেস করলো, জান্নাতীরা জান্নাতে প্রবেশ করার পর সর্বপ্রথম তাদেরকে কি খাবার পরিবেশন করা হবে? রাসূলুল্লাহ বললেন: মাছের কলিজা, ইহুদী জিজ্ঞেস করলো এরপর কি পরিবেশন করা হবে? রাসূলুল্লাহ বললেন: এর পর জান্নাতীদের জন্য জান্নাতে পালিত গরুর গোশত পরিবেশন করা হবে। এরপর ইহুদী পাদ্রী জিজ্ঞেস করলো খাওয়ার পর পানীয় কি পরিবেশন করা হবে? রাসূলুল্লাহ বললেন: সালসাবীল নামক ঝর্ণার পানি। ইহুদী পাদ্রী বললো: “তুমি সত্য বলেছো”। (মুসলিম)৬০
মাসআলা-১৯৩: আমাদের বর্তমান এ পৃথিবী জান্নাতীদের রুটি হবে।
عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ ﷺ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : تَكُونُ الْأَرْضُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ خُبْزَةً وَاحِدَةً، يَتَكَفَؤُهَا الْجَبَّارُ بِيَدِهِ كَمَا يَكْفَأُ أَحَدُكُمْ خُبْزَتَهُ فِي السَّفَرِ ، نُزُولًا لِأَهْلِ الْجَنَّةِ»
অর্থ: "আবু সাঈদ খুদরী (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি রাসূলুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেছেন: কিয়ামতের দিন এ পৃথিবী একটি রুটির ন্যায় হবে, আল্লাহ স্বীয় হস্তে তা এমনভাবে উলট পালট করবেন যেমন তোমাদের কেউ সফররত অবস্থায় তার রুটিকে উলট পালট করে। আর ঐ রুটি দিয়ে জান্নাতীদের মেহমানদারী করা হবে।” (বুখারী ৮/৬৫২০, মুসলিম)৬১
মাসআলা-১৯৪: জান্নাতে সবচেয়ে উন্নতমানের পানীয় হবে তাসনীম যা শুধু আল্লাহর বিশেষ বান্দাদেরকে পরিবেশন করা হবে:
মাসআলা-১৯৫: জান্নাতের স্বচ্ছ ও পরিষ্কার শরাব “রাহিক” পানে সমস্ত জান্নাতীরা আত্মতৃপ্তি লাভ করবে:
মাসআলা-১৯৬: জান্নাতীদের সেবায় “রাহিকের” মুখবদ্ধ পান পাত্র পেশ করা হবে:
মাসআলা-১৯৭: “রাহিক” পান করার পর জান্নাতীরা মুখে মেশকের স্বাদ অনুভব হবে:
নোট: ১৬৮ নং মাসআলার আয়াত দ্রঃ।
মাসআলা-১৯৯: জান্নাতে সাদা উজ্জ্বল পানীয়ও জান্নাতীদের সম্মানার্থে মজুদ থাকবে।
মাসাআলা-২০০: জান্নাতের শরাব পান করার পর কোনো প্রকার মাতলামী ভাব দেখা দিবে না:
يُطَافُ عَلَيْهِمْ بِكَأْسٍ مِّنْ مَّعِينٍ - بَيْضَاءَ لَذَّةٍ لِلشَّارِبِينَ . لَا فِيهَا غَوْلٌ وَلَا هُمْ عَنْهَا يُنزَفُونَ
অর্থ: তাদের চারপাশে ঘুরে ঘুরে পরিবেশন করা হবে বিশুদ্ধ সুরাপাত্র, সাদা, পানকারীদের জন্য সুস্বাদু। তাতে থাকবে না ক্ষতিকর কিছু এবং তারা এগুলো দ্বারা মাতালও হবে না। (সূরা সাফফাত ৩৭:৪৫-৪৭)
وَيُطَافُ عَلَيْهِمْ بِآنِيَةٍ مِنْ فِضَّةٍ وَأَكْوَابٍ كَانَتْ قَوَارِيرَا . قَوَارِيرَا مِنْ فِضَّةٍ قَدَّرُوهَا تَقْدِيراً
অর্থ: "তাদেরকে পরিবেশন করা হবে রৌপ্য পাত্র এবং স্ফটিকের মতো স্বচ্ছ পান পাত্রে। রুপালী স্ফটিক পাত্রে, পরিবেশনকারীরা তা যথাযথ পরিমাণে পূর্ণ করবে।" (সূরা দাহর: ১৫-১৬)৬২
মাসআলা-২০১: জান্নাতীদের সেবায় ত্বাহুর শরাব পেশ করা হবে: নোট: ২১৯ নং মাসআলা দ্রঃ।
মাসাআলা-২০২: জান্নাতীদেরকে এমন শরাব পান করানো হবে যার মধ্যে আদার স্বাদ থাকবে: নোট: ১৬৫ মাসআলা দ্রঃ।
মাসাআলা-২০৩: জান্নাতীদের সেবায় এমন শরাবও পেশ করা হবে যার মধ্যে কাফুরের স্বাদ থাকবে: নোট: ১৬৬ মাসআলা দ্রঃ।
মাসাআলা-২০৪: জান্নাতীদের পানের জন্য সুস্বাদু পানি, সু মিষ্টি দুধ, সুস্বাদু শরাব, পরিষ্কার স্বচ্ছ মধুর নদীও জান্নাতে বিদ্যমান থাকবে: নোট: ১৫৮ নং মাসআলা দ্রঃ।
মাসআলা-২০৫: তীব্র গতিসম্পন্ন ঝর্ণার পানি দ্বারাও জান্নাতীরা আত্মতৃপ্তি লাভ করবে:
فِيهَا عَيْنَ جَارِيَةٌ
অর্থ: “তথায় থাকবে প্রবাহিত ঝর্ণা” (সূরা গাসিয়া: ১২)
মাসআলা-২০৬: জান্নাতের শরাব পানে জান্নাতীদের মাথায় কোনো প্রতিক্রিয়া হবে না।
মাসআলা-২০৭: জান্নাতীদের পছন্দনীয় ফল তাদের রুচি অনুযায়ী তাদের সামনে পেশ করা হবে:
মাসআলা-২০৮: পছন্দনীয় পাখির গোশতও তাদের জন্য বিদ্যমান থাকবে:
يَطُوفُ عَلَيْهِمْ وِلْدَانٌ مُخَلَّدُونَ بِأَكْوَابٍ وَأَبَارِيقَ وَكَأْسٍ مِنْ مَّعِينٍ . لا يُصَدَّعُونَ عَنْهَا وَلَا يُنْزِفُونَ . وَفَاكِهَةٍ مِّمَّا يَتَخَيَّرُونَ - وَلَحْمِ طَيْرٍ مِمَّا يَشْتَهُونَ
অর্থ: "তাদের আশ-পাশে ঘোরাফেরা করবে চির কিশোররা, পানপাত্র, জগ ও প্রবাহিত ঝর্ণার শরাবপূর্ণ পেয়ালা নিয়ে, তা পানে না তাদের মাথা ব্যথা করবে, আর না তারা মাতাল হবে। আর (ঘোরাফেরা করবে) তাদের পছন্দমত ফল নিয়ে। আর পাখির গোশত নিয়ে, যা তারা কামনা করবে। (সূরা ওয়াকিয়াহ ৫৬:১৭-২১)
মাসআলা-২০৯: জান্নাতীদের মেহমানদারীর জন্য অন্যান্য ফল ব্যতীত খেজুর, আঙ্গুর, আনার, বরই, আনজীর ইত্যাদি ফলও থাকবে।
নোট: এ গ্রন্থের “জান্নাতের ফল” নামক অধ্যায় দ্রঃ
মাসআলা-২১০: হাউজে কাওসারে উড়ে বেড়ানো পাখির গোশত ভক্ষণে জান্নাতীরা তৃপ্তিলাভ করবে:
নোট: এ বিষয়ের হাদীস ১৬২ নং মাসআলায় দ্রঃ।
মাসআলা-২১১: সকাল সন্ধ্যায় জান্নাতীদের খাবার পরিবেশনের ধারা বাহিকতা চালু থাকবে:
وَلَهُمْ رِزْقُهُمْ فِيهَا بُكْرَةً وَعَشِيّاً
অর্থ: "এবং সকাল সন্ধ্যায় তাদের জন্য রিযিকের ব্যবস্থা থাকবে।" (সূরা মারইয়াম: ৬২)
মাসআলা-২১২: জান্নাতে প্রত্যেক ব্যক্তিকে একশ লোকের খাবারের শক্তি দেয়া হবে:
عَنْ زَيْدِ بْنِ أَرْقَمَ اللهِ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : «إِنَّ الرَّجُلَ مِنْ أَهْلِ الْجَنَّةِ لَيُعْطَى قُوَّةَ مِائَةِ رَجُلٍ فِي الْأَكْلِ وَالشُّرْبِ وَالشَّهْوَةِ وَالْجِمَاعِ حَاجَةُ أَحَدِهِمْ عَرَقٌ يُفِيضُ مِنْ جِلْدِهِ فَإِذَا بَطْنُهُ قَدْ ضَمُرَ »
অর্থ: "যায়েদ বিন আরকাম (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি রাসূলুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেছেন: জান্নাতীদের প্রত্যেক ব্যক্তিকে খানা-পিনা যৌন শক্তি, স্বামী-স্ত্রীর মিলন ইত্যাদির ব্যাপারে একশত লোকের সমপরিমাণ শক্তি দেয়া হবে। তাদের পায়খানা প্রস্রাবের অবস্থা হবে এই যে, তাদের শরীর থেকে ঘাম বের হবে ফলে তাদের পেট আবার পূর্বের অবস্থায় ফিরে আসবে।” (ত্বাবারানী) ৬৩
মাসআলা-২১৩: জান্নাতীদের খানা-পিনা ঘাম ও ঢেঁকুরের মাধ্যমে হজম হয়ে যাবে:
নোট: এ বিষয়ে হাদীসটি ২৮৮ নং মাসআলায় দ্রঃ।
মাসআলা-২১৪: জান্নাতীদের খানা-পিনা সোনা-চাঁদি এবং সাদা চমকদার কাঁচের থালে পরিবেশন করা হবে:
يُطَافُ عَلَيْهِمْ بِصِحَافٍ مِنْ ذَهَبٍ وَأَكْوَابٍ وَفِيهَا مَا تَشْتَهِيهِ الْأَنْفُسُ وَتَلَذُّ الْأَعْيُنُ وَأَنتُمْ فِيهَا خَالِدُونَ - وَتِلْكَ الْجَنَّةُ الَّتِي أُورِثْتُمُوهَا بِمَا كُنتُمْ تَعْمَلُونَ . لَكُمْ فِيهَا فَاكِهَةٌ كَثِيرَةٌ مِنْهَا تَأْكُلُونَ
অর্থ: স্বর্ণখচিত থালা ও পানপাত্র নিয়ে তাদেরকে প্রদক্ষিণ করা হবে, সেখানে মন যা চায় আর যাতে চোখ তৃপ্ত হয় তা-ই থাকবে এবং সেখানে তোমরা হবে স্থায়ী। আর এটিই জান্নাত, নিজদের আমলের ফলস্বরূপ তোমাদেরকে এর অধিকারী করা হয়েছে। সেখানে তোমাদের জন্য রয়েছে অনেক ফলমূল, যা থেকে তোমরা খাবে। (সূরা যুখরুফ ৪৩:৭১-৭৩)
টিকাঃ
৬০ কিতাবুল হায়েয, বায়ান মনিউর রজুলি ওয়াল মারয়া।
৬১ মেশকাতুল মাসাবীহ, কিতাবুল ফিতান, বাবুল হাশর, ফসলুল আউয়্যাল।
৬২ غول অর্থ নেশা, মাতলমি, মাথাব্যথা ও পেটের পীড়া।
৬৩ আলবানী সংকলিত সহীহ আল জামে' আস সাগীর, হাদীস নং-১৬২৩।
📄 জান্নাতীদের পোশাক ও অলংকার
মাসআলা-২১৫: জান্নাতীরা পাতলা ও মোটা সবুজ রেশমের কাপড় পরিধান করবে:
মাসআলা-২১৬: জান্নাতীরা হাতে সোনার অলংকার ব্যবহার করবে:
إِنَّ الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ إِنَّا لَا نُضِيعُ أَجْرَ مَنْ أَحْسَنَ عَمَلاً . أَوْلَئِكَ لَهُمْ جَنَّاتُ عَدْنٍ تَجْرِي مِن تَحْتِهِمُ الْأَنْهَارُ يُحَلَّوْنَ فِيهَا مِنْ أَسَاوِرَ مِنْ ذَهَبٍ وَيَلْبَسُونَ ثِيَاباً خُضْراً مِّنْ سُنْدُسٍ وَإِسْتَبْرَقٍ مُتَّكِئِينَ فِيهَا عَلَى الْأَرَائِكِ نِعْمَ الثَّوَابُ وَحَسُنَتْ مُرْتَفَقًا
অর্থ: নিশ্চয় যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকাজ করেছে, নিশ্চয় আমি এমন কারো প্রতিদান নষ্ট করবো না, যে সুকর্ম করেছে। এরাই তারা, যাদের জন্য রয়েছে স্থায়ী জান্নাতসমূহ, যার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয় নদীসমূহ। সেখানে তাদেরকে অলংকৃত করা হবে স্বর্ণের চুড়ি দিয়ে এবং তারা পরিধান করবে মিহি ও পুরু সিল্কের সবুজ পোশাক। তারা সেখানে (থাকবে) আসনে হেলান দিয়ে। কী উত্তম প্রতিদান এবং কী সুন্দর বিশ্রামস্থল। (সূরা কাহাফ ১৮:৩০-৩১)
মাসআলা-২১৭: খাঁটি রেশমী কাপড়ের পোশাক, খাঁটি স্বর্ণের অলংকার, খাঁটি মোতির অলংকার এবং মোতি মিশ্রিত স্বর্ণের অলংকারও জান্নাতীরা ব্যবহার করবে:
إِنَّ اللهَ يُدْخِلُ الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ جَنَّاتٍ تَجْرِي مِن تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ يُحَلَّوْنَ فِيهَا مِنْ أَسَاوِرَ مِنْ ذَهَبٍ وَلُؤْلُوْا وَلِبَاسُهُمْ فِيهَا حَرِيرٌ
অর্থ: যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে নিশ্চয় আল্লাহ তাদেরকে প্রবেশ করাবেন এমন জান্নাতে, যার পাদদেশে নহরসমূহ প্রবাহিত। যেখানে তাদেরকে সোনার কাঁকন ও. মুক্তা দ্বারা অলংকৃত করা হবে এবং যেখানে তাদের পোশাক-পরিচ্ছদ হবে রেশমের। (সূরা হাজ্জ ২২:২৩)
جَنَّاتُ عَدْنٍ يَدْخُلُونَهَا يُحَلَّوْنَ فِيهَا مِنْ أَسَاوِرَ مِنْ ذَهَبٍ وَلُؤْلُوْا وَلِبَاسُهُمْ فِيهَا حَرِيرٌ
অর্থ: চিরস্থায়ী জান্নাত, এতে তারা প্রবেশ করবে। যেখানে তাদেরকে স্বর্ণের চুড়ি ও মুক্তা দ্বারা অলঙ্কৃত করা হবে এবং সেখানে তাদের পোশাক হবে রেশমের। (সূরা ফাত্বির ৩৫:৩৩)
মাসআলা-২১৮: মোটা ও পাতলা রেশম ব্যতীত সুন্দুস এবং ইস্তেবরাক নামক রেশমও জান্নাতীরা ব্যবহার করবে:
إِنَّ الْمُتَّقِينَ فِي مَقَامٍ أَمِينٍ . فِي جَنَّاتٍ وَعُيُونٍ - يَلْبَسُونَ مِنْ سُندُسٍ وَإِسْتَبْرَقٍ مُتَقَابِلِينَ . كَذلِكَ وَزَوَّجْنَاهُم بِحُورٍ عِينٍ يَدْعُونَ فِيهَا بِكُلِّ فَاكِهَةٍ آمِنِينَ - لَا يَذُوقُونَ فِيهَا الْمَوْتَ إِلَّا الْمَوْتَةَ الأُولَى وَوَقَاهُمْ عَذَابَ الْجَحِيمِ - فَضْلاً مِنْ رَبِّكَ ذَلِكَ هُوَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ .
অর্থ: নিশ্চয় মুত্তাকীরা থাকবে নিরাপদ স্থানে, বাগ-বাগিচা ও ঝর্নাধারার মধ্যে, তারা পরিধান করবে পাতলা ও পুরু রেশমী বস্ত্র এবং বসবে মুখোমুখী হয়ে। এরূপই ঘটবে, আর আমি তাদেরকে বিয়ে দেব ডাগর নয়না হুরদের সাথে। সেখানে তারা প্রশান্তচিত্তে সকল প্রকারের ফলমূল আনতে বলবে। প্রথম মৃত্যুর পর সেখানে তারা আর মৃত্যু আস্বাদন করবে না। আর তিনি তাদেরকে জাহান্নামের আযাব থেকে রক্ষা করবেন। তোমার রবের অনুগ্রহস্বরূপ, এটাই তো মহা সাফল্য। (সূরা দুখান ৪৪:৫১-৫৭)
মাসআলা-২১৯: জান্নাতীরা চাঁদির অলংকারও ব্যবহার করবে:
وَيَطُوفُ عَلَيْهِمْ وِلْدَانٌ مُخَلَّدُونَ إِذَا رَأَيْتَهُمْ حَسِبْتَهُمْ لُؤْلُوْا مَّنثُورًا - وَإِذَا رَأَيْتَ ثَمَّ رَأَيْتَ نَعِيماً وَمُلْكًا كَبِيراً - عَالِيَهُمْ ثِيَابُ سُندُسٍ خُضْرٌ وَإِسْتَبْرَقٌ وَحُلُّوا أَسَاوِرَ مِنْ فِضَّةٍ وَسَقَاهُمْ رَبُّهُمْ شَرَاباً طَهُوراً . إِنَّ هَذَا كَانَ لَكُمْ جَزَاءً وَكَانَ سَعْيُكُم مَّشْكُوراً
অর্থ: আর তাদের চারপাশে প্রদক্ষিণ করবে চিরকিশোরেরা; তুমি তাদেরকে দেখলে বিক্ষিপ্ত মুক্তা মনে করবে। আর তুমি যখন দেখবে তুমি সেখানে দেখতে পাবে স্বাচ্ছন্দ্য ও বিরাট সাম্রাজ্য। তাদের উপর থাকবে সবুজ ও মিহি রেশমের পোশাক এবং মোটা রেশমের পোশাক, আর তাদেরকে পরিধান করানো হবে রূপার চুড়ি এবং তাদের রব তাদেরকে পান করাবেন পবিত্র পানীয়। (তাদেরকে বলা হবে) 'এটিই তোমাদের পুরস্কার; আর তোমাদের প্রচেষ্টা ছিল প্রশংসাযোগ্য।' (সূরা দাহর ৭৬:১৯-২২)
মাসআলা-২২০: জান্নাতীদের পোশাক কখনো পুরাতন হবে না: নোট: এ সংক্রান্ত হাদীস ২৮৬ নং মাসআলায় দ্রঃ।
মাসআলা-২২১: জান্নাতী মহিলারা একই সাথে সত্তর জোড়া পোশাক পরিধান করে সজ্জিত হবে, যা এতো উন্নতমানের হবে যে, এর ভিতর দিয়ে তাদের পায়ের গোছার মজ্জা দৃষ্টিগোচর হবে। নোট: এ সংক্রান্ত হাদীসটি ২৫১ নং মাসআলায় দ্রঃ।
মাসআলা-২২২: জান্নাতী মহিলাদের উড়না মান ও দামের দিক থেকে দুনিয়ার সমস্ত সম্পদ থেকে মূল্যবান হবে: এ সংক্রান্ত হাদীসটি ২৪৯ নং মাসআলায় দ্র:
মাসআলা-২২৩: খেজুরের ডালের সুক্ষ্ম সূতা দিয়ে জান্নাতীদের পোশাক তৈরী করা হবে যা হবে লাল স্বর্ণের: নোট: এ সংক্রান্ত হাদীস ১৩৭ নং মাসআলায় দ্রঃ।
মাসআলা-২২৪: জান্নাতীরা উন্নতমানের রেশমের রুমাল ব্যবহার করবে:
عَنْ الْبَرَاءَ بْنَ عَازِبٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا، قَالَ: أُتِيَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، بِثَوْبِ مِنْ حَرِيرٍ فَجَعَلُوا يَعْجَبُونَ مِنْ حُسْنِهِ وَلِينِهِ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : «لَمَنَادِيلُ سَعْدِ بْنِ مُعَادٍ فِي الْجَنَّةِ أَفْضَلُ مِنْ هَذَا»
অর্থ: "বারা বিন আযেব (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ এর নিকট একটি রেশমী কাপড় আনা হলো, লোকেরা এর সৌন্দর্য এবং পাতলা অবলোকনে আশ্চর্যবোধ করলো, তখন রাসূলুল্লাহ বললেন: জান্নাতে সাদ বিন মুয়াযের রুমাল এর চেয়েও উন্নত মানের।” (বুখারী) ৬৪
মাসআলা-২২৫: অযুর পানি যেখানে যেখানে পৌঁছে ওখান পর্যন্ত জান্নাতীদেরকে অলংকার পরানো হবে:
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ سَمِعْتُ خَلِيلِي صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «تَبْلُغُ الْحِلْيَةُ مِنَ الْمُؤْمِنِ، حَيْثُ يَبْلُغُ الْوَضُوءُ»
অর্থ: "আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আমার বন্ধু রাসূলুল্লাহ -কে বলতে শুনেছি তিনি বলেন: মু'মিনকে ঐ পর্যন্ত অলংকার পরানো হবে যে পর্যন্ত অযুর পানি পৌঁছে।" (মুসলিম) ৬৫
মাসআলা-২২৬: জান্নাতীদের ব্যবহার করা অলংকারের যে কোনো একটির চমকের সামনে সূর্যের আলো আড়াল হয়ে যাবে:
عَنْ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَاصٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «لَوْ أَنَّ مَا يُقِلُّ ظُفُرْ مِمَّا فِي الْجَنَّةِ بَدَا لَتَزَخْرَفَتْ لَهُ مَا بَيْنَ خَوَافِقِ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضِ، وَلَوْ أَنَّ رَجُلًا مِنْ أَهْلِ الْجَنَّةِ اطَّلَعَ فَبَدَا أَسَاوِرُهُ لَطَمَسَ ضَوْءَ الشَّمْسِ كَمَا تَطْمِسُ الشَّمْسُ ضَوْءَ النُّجُومِ »
অর্থ: "সাদ বিন আবু ওক্কাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আমার বন্ধু রাসূলুল্লাহ -কে বলতে শুনেছি তিনি বলেন: জান্নাতের জিনিস সমূহের মধ্য থেকে নখ বরাবর কোনো জিনিস যদি পৃথিবীতে প্রকাশিত হয়, তাহলে আকাশ ও যমীনের মাঝে যাকিছু আছে তাকে আলোকময় করে তুলবে। আর যদি একজন জান্নাতী পুরুষ তার অলংকারসহ পৃথিবীকে উকি দেয়, তাহলে সূর্যের আলো এমনভাবে আড়াল হয়ে যাবে যেভাবে সূর্যের আলো তারকার আলোকে আড়াল করে দেয়।” (তিরমিযী ৪/২৫৩৮)৬৬
মাসআলা-২২৭: জান্নাতীদের অলংকারের মধ্যে ব্যবহৃত একটি মোতি পৃথিবীর সমস্ত সম্পদ থেকে মূল্যবান:
عَنْ المِقْدَامِ بْنِ مَعْدِي كَرِبَ هِ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : " لِلشَّهِيدِ عِنْدَ اللَّهِ سِتُّ خِصَالٍ: يُغْفَرُ لَهُ فِي أَوَّلِ دَفْعَةٍ، وَيَرَى مَقْعَدَهُ مِنَ الْجَنَّةِ، وَيُجَارُ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ، وَيَأْمَنُ مِنَ الْفَزَعِ الْأَكْبَرِ. وَيُوضَعُ عَلَى رَأْسِهِ تَاجُ الْوَقَارِ الْيَاقُوتَةُ مِنْهَا خَيْرٌ مِنَ الدُّنْيَا وَمَا فِيهَا. وَيُزَقَجُ اثْنَتَيْنِ وَسَبْعِينَ زَوْجَةً مِنَ الْحُورِ الْعِينِ، وَيُشَفَعُ فِي سَبْعِينَ مِنْ أَقَارِبِهِ"
অর্থ: "মেকদাদ বিন মা'দী কারিব (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ বলেছেন: শহীদের জন্য আল্লাহর নিকট ছয়টি ফযীলত রয়েছে, (১) শহীদের সমস্ত গুনাহ মাফ, আর তার শাহাদাতের সময়ই তাকে জান্নাতে তার ঠিকানা দেখানো হয়। (২) কবরের আযাব থেকে তাকে সংরক্ষণ করা হয়। (৩) কিয়ামতের দিন দুশ্চিন্তা থেকে তাকে রক্ষা করা হবে। (৪) তার মাথায় সম্মানের এমন এক তাজ রাখা হবে যার একটি ইয়াকুত দুনিয়া ও তার মাঝে বিদ্যমান প্রত্যেক জিনিসের চেয়ে মূল্যাবন হবে। (৫) জান্নাতে ৭২ জন হুরে ইনের সাথে তার বিয়ে হবে। (৬) আর সে তার সত্তর জন নিকট আত্মীয়ের জন্য সুপারিশ করবে।” (তিরমিযী) ৬৭
টিকাঃ
৬৪ কিতাব বাদউল খালক, বাব মাযায়া ফী সিফাতিল জান্না।
৬৫ কিতাবুত্তাহারা বাবু ইস্তিহবাব ইতালাতুল গোররা।
৬৬ আবওয়াব সিফাতিল জান্না। বাব মাযায়া ফি সিফাতি আহলিল জান্না। (২/২০৬১)
৬৭ সহীহ জামে তিরমিযী, আলবানী, খ. ২, হাদীস নং-১৩৫৮।