📄 জান্নাতের নদীসমূহ
মাসআলা-১৫৮: জান্নাতে সুস্বাদু পানি, সুস্বাদু দুধ, সুমিষ্ট শরাব এবং স্বচ্ছ মধুর নদী প্রবাহিত হচ্ছে:
মাসআলা-১৫৯: জান্নাতের নদীসমূহের পানীয়র রং ও স্বাদ সর্বদা একই রকমের থাকবে:
مَّثَلُ الْجَنَّةِ الَّتِي وُعِدَ الْمُتَّقُونَ فِيهَا أَنْهَارٌ مِّنْ مَّاءٍ غَيْرِ آسِنٍ وَأَنْهَارٌ مِّنْ لَبَنٍ لَّمْ يَتَغَيَّرُ طَعْمُهُ وَأَنْهَارُ مِنْ خَمْرٍ لَذَّةٍ لِلشَّارِبِينَ وَأَنْهَارُ مِنْ عَسَلٍ مُصَفًّى
অর্থ: মুত্তাকীদেরকে যে জান্নাতের ওয়াদা দেয়া হয়েছে তার দৃষ্টান্ত হলো, তাতে রয়েছে নির্মল পানির নহরসমূহ, দুধের ঝর্ণাধারা, যার স্বাদ পরিবর্তিত হয়নি, পানকারীদের জন্য সুস্বাদু সূরার নহরসমূহ এবং আছে পরিশোধিত মধুর ঝর্ণাধারা। (সূরা মুহাম্মদ ৪৭:১৫)
মাসআলা-১৬০ : সাইহান, জাইহান, ফোরাত, নীল জান্নাতের নদী:
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ اللهِ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : «سَيْحَانُ وَجَيْحَانُ ، وَالْفُرَاتُ وَالنِّيلُ كُلٌّ مِنْ أَنْهَارِ الْجَنَّةِ»
অর্থ: "আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ বলেছেন: সাইহান, জাইহান, ফোরাত, ও নীল জান্নাতের নদী। (মুসলিম ৪/২৮৩৯)৪৫
মাসআলা-১৬১: কাওসার জান্নাতের নদী যার পানি দুধ থেকেও সাদা এবং মধু থেকেও অধিক মিষ্টি হবে:
মাসআলা-১৬২: কাওসার আল্লাহর পক্ষ থেকে রাসূলকে দেয়া উপহার:
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ: سُئِلَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : مَا الكَوْثَرُ؟ قَالَ: «ذَاكَ نَهْرٌ أَعْطَانِيهِ اللَّهُ يَعْنِي فِي الْجَنَّةِ أَشَدُّ بَيَاضًا مِنَ اللَّبَنِ، وَأَحْلَى مِنَ الْعَسَلِ، فِيهَا طَيْرُ أَعْنَاقُهَا كَأَعْنَاقِ الْجُزْرِ» قَالَ عُمَرُ : إِنَّ هَذِهِ لَنَاعِمَةٌ. قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَكَلَتُهَا أَنْعَمُ مِنْهَا»
অর্থ: "আনাস বিন মালেক (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ জিজ্ঞাসিত হলেন কাউসার কি? তিনি উত্তরে বললেন: এ হলো একটি নদী যা আমাকে আমার আল্লাহ জান্নাতে দিবেন। যার পানি দুধের চেয়েও সাদা হবে, মধুর চেয়েও মিষ্টি হবে এবং সেখানে এমন পাখি থাকবে যাদের গর্দান হবে উটের ন্যায়। ওমর (রা) বলেছেন: ঐ পাখীরা খুব আনন্দে আছে, রাসূলুল্লাহ বললেন: ঐ পাখীগুলোকে ভক্ষণকারী আরো আনন্দে আছে।" (তিরমিযী ৪/২৫৪২)৪৬
নোট: বিস্তারিত জানার জন্য হাউজে কাওসার অধ্যায় দেখুন।
মাসআলা-১৬৩ : জান্নাতীরা নিজেদের ইচ্ছামত জান্নাতের নদীসমূহ থেকে ছোট ছোট নদী বের করে তাদের অট্টালিকাসমূহে নিয়ে যেতে পারবে:
عَنْ حَكِيمِ بْنِ مُعَاوِيَةَ، عَنْ أَبِيهِ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ. قَالَ: «إِنَّ فِي الْجَنَّةِ بَحْرَ الْمَاءِ وَبَحْرَ الْعَسَلِ وَبَحْرَ اللَّبَنِ وَبَحْرَ الْخَمْرِ، ثُمَّ تُشَقَّقُ الْأَنْهَارُ بَعْدُ»
অর্থ: "হাকীম বিন মোয়াবিয়া তার পিতা থেকে তিনি নবী থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: জান্নাতে পানি, মধু, দুধ ও শরাবের নদী থাকবে। অতপর ঐ সমস্ত নদী থেকে আরো ছোট ছোট নদী বের করা হবে।” (তিরমিযী ৪/২৫৭১) ৪৭
নোট: উল্লেখিত হাদীসের সাথে ১৬৬ নং মাসআলাও দেখুন।
মাসআলা-১৬৪ : জান্নাতের একটি নদীর নাম হায়াত, যার পানি জাহান্নাম থেকে বেরকৃতদের শরীরে দেয়া হবে, ফলে তারা দ্বিতীয়বার চারা গাছের ন্যায় সজিব হবে:
عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِي هُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: " يُدْخِلُ اللهُ أَهْلَ الْجَنَّةِ الْجَنَّةَ، يُدْخِلُ مَنْ يَشَاءُ بِرَحْمَتِهِ، وَيُدْخِلُ أَهْلَ النَّارِ النَّارِ ، ثُمَّ يَقُولُ: انْظُرُوا مَنْ وَجَدْتُمْ فِي قَلْبِهِ مِثْقَالَ حَبَّةٍ مِنْ خَرْدَلٍ مِنْ إِيمَانٍ فَأَخْرِجُوهُ، فَيُخْرَجُونَ مِنْهَا حُمَمًا قَدْ امْتَحَشُوا ، فَيُلْقَوْنَ فِي نَهَرٍ الْحَيَاةِ، أَوِ الْحَيَا، فَيَنْبُتُونَ فِيهِ كَمَا تَنْبُتُ الْحِبَّةُ إِلَى جَانِبِ السَّيْلِ، أَلَمْ تَرَوْهَا كَيْفَ تَخْرُجُ صَفْرَاءَ مُلْتَوِيَةً؟ "
অর্থ: "আবু সাঈদ খুদরী (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ বলেছেন: আল্লাহ স্বীয় দয়ায় যাকে খুশী তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন এবং জাহান্নামীদেরকে জাহান্নামে প্রবেশ করাবেন। (অতপর দীর্ঘদিন পর বলবেন) দেখ যে ব্যক্তির অন্তরে বিন্দু পরিমাণ ঈমান আছে তাকে জাহান্নাম থেকে বের করো। তখন তারা এমন অবস্থায় বের হবে যে তাদের শরীর কয়লার ন্যায় জ্বলে গেছে, তখন তাদেরকে হায়াত বা হায়া নামক নদীতে নিক্ষেপ করা হবে, তখন তারা এমনভাবে সজিব হয়ে উঠবে, যেমন বন্যার আবর্জনার মাঝে চারাগাছ সজিব হয়ে উঠে। তোমরা কি কখনো দেখনি যে কেমন হলুদ রং বিশিষ্ট হয়ে উঠে?” (মুসলিম ১/১৮৪)৪৮
টিকাঃ
৪৫ কিতাবুল জান্না ওয়া সিফাতু নায়ীমিহা।
৪৬ আবওয়াবুল জান্নাহ, বাব মাযায়া ফী সিফাত তাইরিল জান্নাহ।
৪৭ আবওয়াবুল জান্না, বাব মাষায়া ফী সিফাত আনহারিল জান্না।
৪৮ কিতাবুল ঈমান, বাব ইসবাতুসশাফায়া।
📄 জান্নাতের ঝর্ণাসমূহ
মাসআলা-১৬৫: জান্নাতের একটি ঝর্ণার নাম "সালসাবীল” যা থেকে আদা মিশ্রিত স্বাদ আসবে:
وَيُطَافُ عَلَيْهِمْ بِآنِيَةٍ مِنْ فِضَّةٍ وَأَكْوَابٍ كَانَتْ قَوَارِيرَا - قَوَارِيرَا مِنْ فِضَّةٍ قَدَّرُوهَا تَقْدِيراً . وَيُسْقَوْنَ فِيهَا كَأْساً كَانَ مِزَاجُهَا زَنْجَبِيلاً - عَيْنَا فِيهَا تُسَمَّى سَلْسَبِيلاً
অর্থ: "তাদেরকে পরিবেশন করা হবে রৌপ্য পাত্র এবং স্ফটিকের মতো স্বচ্ছ পান পাত্রে। রুপালী স্ফটিক পাত্রে, পরিবেশনকারীরা তা যথাযথ পরিমাণে তা পূর্ণ করবে। সেখানে পান করতে দেয়া হবে আদা মিশ্রিত পানীয়। জান্নাতের এমন এক ঝর্ণা যার নাম "সালসাবীল”। (সূরা দাহর: ১৫-১৮)
মাসআলা-১৬৬: জান্নাতের একটি ঝর্ণার নাম কাফুর, যা পানে জাহান্নামীরা আত্মতৃপ্তি লাভ করবে।
إِنَّ الْأَبْرَارَ يَشْرَبُونَ مِنْ كَأْسٍ كَانَ مِزَاجُهَا كَافُوراً عَيْناً يَشْرَبُ بِهَا عِبَادُ اللَّهِ يُفَجِّرُونَهَا تَفْجِيراً
অর্থ: "সৎকর্মশীলরা পান করবে এমন পানীয় যার মিশ্রণ হবে কাফুর। এমন একটি প্রশ্রবণের যা থেকে আল্লাহর বান্দারা পান করবে, তারা এই প্রস্রবণকে যথা ইচ্ছা প্রবাহিত করবে।” (সূরা দাহر: ৫-৬)
মাসআলা-১৬৭: জান্নাতের একটি ঝর্ণার নাম “তাসনীম” যার স্বচ্ছ পানি একমাত্র আল্লাহর বিশেষ বান্দাদেরকে পান করার জন্য দেয়া হবে:
মাসআলা-১৬৮: সৎকর্মশীল (যাদের স্তর বিশেষ বান্দাদের চেয়ে একটু নীচু হবে) তাদেরকে উত্তম পানীয়ের সাথে তাসনীমের পানি মিশ্রণ করে দেয়া হবে:
إِنَّ الْأَبْرَارَ لَفِي نَعِيمٍ . عَلَى الْأَرَائِكِ يَنظُرُونَ . تَعْرِفُ فِي وُجُوهِهِمْ نَضْرَةَ النَّعِيمِ . يُسْقَوْنَ مِنْ رَّحِيقٍ مَخْتُومٍ . خِتَامُهُ مِسْكٌ وَفِي ذَلِكَ فَلْيَتَنَافَسِ الْمُتَنَافِسُونَ - وَمِزَاجُهُ مِنْ تَسْنِيمٍ عَيْناً يَشْرَبُ بِهَا الْمُقَرَّبُونَ
অর্থ: নিশ্চয় নেককাররাই থাকবে সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের মধ্যে। সুসজ্জিত আসনে বসে তারা দেখতে থাকবে। তুমি তাদের চেহারাসমূহে সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের লাবণ্যতা দেখতে পাবে। তাদেরকে সীলমোহর করা বিশুদ্ধ পানীয় থেকে পান করানো হবে। তার মোহর হবে মিসকের। আর প্রতিযোগিতাকারীদের উচিত এ বিষয়ে প্রতিযোগিতা করা। আর তার মিশ্রণ হবে তাসনীম থেকে। তা এক প্রস্রবণ, যা থেকে নৈকট্যপ্রাপ্তরা পান করবে। (সূরা মুতাফফিফীন ৮৩:২২-২৮)
মাসআলা-১৬৯: কোনো কোনো ঝর্ণা থেকে সাদা উজ্জ্বল সুস্বাদু পানীয় প্রবাহিত হবে:
أُوْلَئِكَ لَهُمْ رِزْقٌ مَّعْلُومٌ . فَوَاكِهُ وَهُم مُّكْرَمُونَ فِي جَنَّاتِ النَّعِيمِ ـ عَلَى سُرُرٍ مُتَقَابِلِينَ - يُطَافُ عَلَيْهِمْ بِكَأْسٍ مِنْ مَّعِينٍ . بَيْضَاءَ لَذَّةٍ لِلشَّارِبِينَ . لا فِيهَا غَوْلٌ وَلَا هُمْ عَنْهَا يُنزَفُونَ.
অর্থ: তাদের জন্য থাকবে নির্ধারিত রিযিক, ফলমূল; আর তারা হবে সম্মানিত, নি'আমত-ভরা জান্নাতে, মুখোমুখি পালঙ্কে। তাদের চারপাশে ঘুরে ঘুরে পরিবেশন করা হবে বিশুদ্ধ সুরাপাত্র, সাদা, পানকারীদের জন্য সুস্বাদু। তাতে থাকবে না ক্ষতিকর কিছু এবং তারা এগুলো দ্বারা মাতালও হবে না। (সূরা সাফ্ফাত ৩৭:৪১-৪৭)৪৯
মাসআলা-১৭০: কোনো কোনো ঝর্ণা ফোয়ারার ন্যায় উদ্বেলিত হবে:
فِيهِمَا عَيْنَانِ نَضَّاخَتَانِ فَبِأَيِّ آلَاءِ رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ
অর্থ: "তথায় আছে উদ্বেলিত দুই প্রস্রবণ, অতএব তোমরা উভয়ে তোমাদের পালন কর্তার কোনো অবদানকে অস্বীকার করবে।" (সূরা রহমান: ৬৬-৬৭)
মাসআলা-১৭১: জান্নাতীদের আত্মা ও চক্ষু তৃপ্তির জন্য সর্বদা পানির ঝর্ণা ও জলপ্রপাতও জান্নাতে থাকবে:
فِيهَا عَيْنٌ جَارِيَةً
অর্থ: "সেখানে আছে প্রবাহমান ঝর্ণাসমূহ” (সূরা গাসিয়া: ১২)
وَمَاءٍ مَّسْكُوبٍ وَفَاكِهَةٍ كَثِيرَةٍ
অর্থ: সম্প্রসারিত ছায়া, সদা প্রবাহমান পানি। (সূরা ওয়াকিয়া: ৩০-৩১) মাসআলা-১৭২: উল্লেখিত ঝর্ণাসমূহ ব্যতীত জান্নাতীদের আরামের জন্য বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন রকমের আরো ঝর্ণা থাকবে:
إِنَّ الْمُتَّقِينَ فِي مَقَامٍ أَمِينِ فِي جَنَّاتٍ وَعُيُونٍ
অর্থ: "মুত্তাকীরা থাকবে নিরাপদ স্থানে। উদ্যান ও ঝর্ণার মাঝে" (সূরা দুখান :৫১-৫২)
إِنَّ الْمُتَّقِينَ فِي ظِلالٍ وَعُيُونٍ وَفَوَاكِهَ مِمَّا يَشْتَهُونَ
অর্থ: মুত্তাকীরা থাকবে ছায়ায় ও প্রস্রবণ বহুল স্থানে। তাদের রুচিসম্মত ফলসমূহের প্রাচুর্যের মধ্যে।" (সূরা মুরসালাত: ৪১-৪২)
টিকাঃ
৪৯ غول অর্থ নেশা, মাতলমি, মাথাব্যথা ও পেটের পীড়া।
📄 কাওসার নদী
(আল্লাহ তার স্বীয় দয়া ও অনুগ্রহের মাধ্যমে আমাদেরকে তা থেকে পানি পান করান)
মাসআলা১৭৩: কাওসার জান্নাতের একটি নদী যা আল্লাহ শুধু রাসূলুল্লাহ -কে তা দিবেন:
মাসআলা-১৭৪: কাওসার নদী জান্নাতের সবচেয়ে বড় ও সবচেয়ে উন্নত নদী:
عَنْ أَنَسٍ هِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ " بَيْنَمَا أَنَا أَسِيرُ فِي الْجَنَّةِ، إِذَا أَنَا بِنَهَرٍ، حَافَتَاهُ قِبَابُ الدُّرِّ الْمُجَوَّفِ، قُلْتُ: مَا هَذَا يَا جِبْرِيلُ؟ قَالَ: هَذَا الْكَوْثَرُ الَّذِي أَعْطَاكَ رَبُّكَ، فَإِذَا طِينُهُ أَوْ طِيبُهُ مِسْكَ أَذْفَرُ "
অর্থ: "আনাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ বলেছেন: (মেরাজের সময়) আমি জান্নাত দেখতেছিলাম, সেখানে আমি একটি নদী দেখতে পেলাম যার উভয় তীরে মোতি খচিত গম্বুজ রয়েছে। আমি জিজ্ঞেস করলাম হে জিবরাঈল! এগুলো কি? সে বললো: এ হলো কাওসার যা আপনাকে আপনার প্রভু দিয়েছেন। আর তার মাটি বা সুগন্ধি মেশক আম্বরের ন্যায়” (বুখারী ৮/৬৫৮১)৫০
মাসআলা-১৭৫: কাওসার নদীর উভয় তীর স্বর্ণ নির্মিত, তার কঙ্করসমূহ মোতি ও ইয়াকুতের। আর মাটি মেশকের চেয়েও অধিক সুগন্ধিময়:
عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ اللهِ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : الكَوْثَرُ نَهْرٌ فِي الْجَنَّةِ، حَافَتَاهُ مِنْ ذَهَبٍ، وَمَجْرَاهُ عَلَى الدُّرِّ وَالْيَاقُوتِ، تُرْبَتُهُ أَطْيَبُ مِنَ الْمِسْكِ ، وَمَاؤُهُ أَحْلَى مِنَ الْعَسَلِ، وَأَبْيَضُ مِنَ الثَّلْجِ»
অর্থ: "আবদুল্লাহ বিন ওমর (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলূল্লাহ বলেছেন: কাওসার জান্নাতের একটি নদী, যার উভয় তীর স্বর্ণ নির্মিত, তার পানি ইয়াকুত ও মোতির উপর প্রবাহমান। তার মাটি মেশকের চেয়েও বেশি সুগন্ধিময়, তার পানি মধুর চেয়ে অধিক মিষ্টি এবং বরফের চেয়ে অধিক সাদা। (তিরমিযী ৫/৩৩৬১)৫১
মাসআলা-১৭৬: কাওসার নদীতে উটের গর্দানের ন্যায় উঁচু প্রাণী থাকবে, যা ভক্ষণে জান্নাতীরা তৃপ্তিলাভ করবে: নোট: এ সংক্রান্ত হাদীস ১৬২ নং মাসআলায় দেখুন।
* উল্লেখ্য যে হাউজে কাওসার এবং কাওসার নদী পৃথক জিনিস, কাওসার নদী জান্নাতের ভিতরে থাকবে, আর হাউজে কাওসার জান্নাতের বাহিরে হাশরের মাঠে থাকবে। যেখানে রাসূল মিম্বরে আসন গ্রহণ করে স্বীয় হস্তে ঈমানদারদেরকে পানি পান করিয়ে তাদের পিপাসা মিটাবেন। (আল্লাহই এ ব্যাপারে সর্বাধিক অবগত)
* কাওসারের ব্যাপারে হাউজে কাওসার সম্পর্কিত হাদীসসমূহও আমরা এখানে উল্লেখ করেছি।
টিকাঃ
৫০ কিতাবুর রিকাক, বাব ফিলহাউয।
৫১ আবওয়াব তাফসীর বাব তাফসীর সূরাতুল কাওসার।
📄 হাউজে কাওসার
মাসআলা-১৭৭: হাউজে কাওসারে পানি পান করানোর দায়িত্ব স্বয়ং রাসূল পালন করবেন:
মাসআলা-১৭৮: ইয়ামেনবাসীদের সম্মানে রাসূল অন্যদেরকে হাউজে কাওসার থেকে দূর করে দিবেন:
মাসআলা-১৭৯: হাউজে কাওসারের প্রশস্ততা মদীনা এবং আম্মানের দূরত্বের সমান। (প্রায় এক হাজার কি.মি.)
মাসআলা-১৮০: হাউজে কাওসারের পানি দুধের চেয়ে সাদা এবং মধুর চেয়েও মিষ্টি হবে:
عَنْ ثَوْبَانَ هِ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «إِنِّي لَبِعُقُرِ حَوْضِي أَذُودُ النَّاسَ لِأَهْلِ الْيَمَنِ أَضْرِبُ بِعَصَايَ حَتَّى يَرْفَضَّ عَلَيْهِمْ » . فَسُئِلَ عَنْ عَرْضِهِ فَقَالَ: «مِنْ مَقَامِي إِلَى عَمَّانَ» وَسُئِلَ عَنْ شَرَابِهِ فَقَالَ: «أَشَدُّ بَيَاضًا مِّنَ اللَّبَنِ، وَأَحْلَى مِنَ الْعَسَلِ، يَغِفُّ فِيْهِ مِيْزَابَانِ يَمُدَّانِهِ مِنَ الْجَنَّةِ، أَحَدُهُمَا مِنْ ذَهَبِ، وَالْآخَرُ مِنْ وَرِقٍ
অর্থঃ “সাওবান (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ বলেছেন: হাউজে কাউসারের পার্শে আমি ইয়ামানবাসীদের সম্মানে অন্য লোকদেরকে স্বীয় লাঠি দিয়ে দূর করে দিব। এমনকি পানি ইয়ামানবাসীর প্রতি প্রবাহিত হতে থাকবে আর তারা তা পানে তৃপ্তি লাভ করবে। তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলো যে, হাউজের প্রশস্ততা কতটুকু। তিনি বললেন: মদীনা থেকে ওমানের দূরত্বের সমান। এরপর হাউজের পানি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলো যে, কেমন হবে? তিনি বললেন: দুধের চেয়ে অধিক সাদা, মধুর চেয়ে অধিক মিষ্টি, এরপর তিনি বললেন আমার হাউজে জান্নাত থেকে দুটি নালা প্রবাহিত হবে, তার একটি হবে স্বর্ণের, অপরটি হবে রুপার। (মুসলিম ৪/R00১)৫২
নোট: আম্মান জর্ডানের রাজধানী, যা মদীনা থেকে এক হাজার কি.মি. দূরে। অন্যান্য হাদীস থেকে প্রমাণিত হয় যে, হাউজে কাওসারের চতুর্পার্শ্ব সমান সমান। নবী বলেছেনঃ “হাউজের প্রশস্ততা তার দৈর্ঘ্যের সমান।” (তিরমিযী)
মাসআলা-১৮১ : হাউজে কাওসারের কিনারে সোনা-চাঁদির গ্লাস থাকবে যার সংখ্যা হবে আকাশের তারকার সমান:
عَنْ أَنَسٍ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وَسَلَّمَ: تُرَى فِيْهِ أَبَارِيْقُ الذَّهَبِ وَالْفِضَّةِ كَعَدَدِ نُجُوْمِ السَّمَاءِ
অর্থ: “আনাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: নবী বলেছেন: হাউজে কাওসারের পাড়ে তোমরা আকাশের তারকার সমান সংখ্যক গ্লাস দেখতে পাবে।” (মুসলিম)৫৩
মাসআলা-১৮২ : কিয়ামতের দিন রাসুলুল্লাহ -এর মিম্বর হাউজে কাওসারের পার্শে রাখা হবে। তার ওপর আরোহন করে তিনি তাঁর উম্মতদেরকে পানি পান করাবেন:
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ ، إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «مَا بَيْنَ بَيْتِي وَمِنْبَرِي رَوْضَةٌ مِنْ رِيَاضِ الْجَنَّةِ، وَمِنْبَرِي عَلَى حَوْضِي»
অর্থ: "আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ বলেছেন: আমার ঘর ও মিম্বরের মাঝে যে স্থানটি আছে তা জান্নাতের বাগানসমূহের মধ্যে একটি বাগান। আর আমার মিম্বর (কিয়ামতের দিন) আমার হাউজের পার্শ্বে রাখা হবে।” (বুখারী ২/১১৯৬)৫৪
মাসআলা-১৮৩: যে ব্যক্তি একবার হাউজে কাওসারের পানি পান করবে তার আর কখনো পানির পিপাসা হবে না:
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْن عُمَرَ اهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «إِنَّ أَمَامَكُمْ حَوْضًا كَمَا بَيْنَ جَرْبَاءَ وَأَذْرُحَ فِيهِ أَبَارِيقُ كَنُجُومِ السَّمَاءِ مَنْ وَرَدَهُ فَشَرِبَ مِنْهُ لَمْ يَظْمَأُ بَعْدَهَا أَبَدًا»
অর্থ: "আবদুল্লাহ বিন ওমার (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ বলেছেন: জান্নাতে তোমাদের সামনে একটি হাউজ থাকবে, যার একটি কঙ্কর যারবা থেকে আজরার (সিরিয়ার দু'টি শহরের নাম) মাঝের দূরত্বের সমান হবে। যার পার্শ্বে আকাশের তারকা সংখ্যক গ্লাস রাখা হবে। যে ব্যক্তি ওখান থেকে একবার পানি পান করবে সে আর কখনো পিপাসিত হবে না।” (মুসলিম ৪/২২৯৯) ৫৫
মাসআলা-১৮৪ : হাউজে কাওসারের পানি সর্বপ্রথম পান করবে গরীব মুহাজিরগণ (মক্কা থেকে মদীনায় হিজরত কারীরা):
عَنْ ثَوْبَانَ هُ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِنْ أَوَّلُ النَّاسِ وُرُودًا عَلَيْهِ فُقَرَاءُ الْمُهَاجِرِينَ الشُّعْثُ رُءُوسًا، الدُّنْسُ ثِيَابًا، الَّذِينَ لَا يَنْكِحُونَ الْمُتَنَعِمَاتِ، وَلَا يُفْتَحُ لَهُمُ السُّدَدُ
অর্থ: “সাওবান (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি রাসূলুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেছেন: তিনি বলেন: আমার হাউজে সর্বপ্রথম আগমনকারী হবে গরিব মুহাজিরগণ। এলোকেশি, ময়লা কাপড় পরিধানকারী, সুখী সমৃদ্ধশালী মহিলাদেরকে বিবাহ করতে অক্ষম ব্যক্তিবর্গ। যাদের জন্য আমীর ওমরাদের দরজা উন্মুক্ত থাকে না।” (তিরমিযী) ৫৬
মাসআলা-১৮৫ : কিয়ামতের দিন প্রত্যেক নবীকে হাউজ দেয়া হবে যা থেকে তাঁর উম্মতরা পানি পান করবে:
মাসআলা-১৮৬ : রাসূলুল্লাহ -এর হাউজে আগন্তুকদের সংখ্যা অন্যান্য নবীদের উম্মতদের তুলনায় অধিক হবে:
عَنْ سَمُرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : «إِنَّ لِكُلِّ نَبِيِّ حَوْضًا وَإِنَّهُمْ يَتَبَاهَوْنَ أَيُّهُمْ أَكْثَرُ وَارِدَةً، وَإِنِّي أَرْجُو أَنْ أَكُونَ أَكْثَرَهُمُ وَارِدَةً»
অর্থ: “সামুরা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি রাসূলুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেছেন: নিশ্চয়ই প্রত্যেক নবীর জন্য একটি করে হাউজ থাকবে, আর প্রত্যেক নবী পরস্পরের সাথে গৌরব করবে যে, কার হাউজে পানি পানকারীর সংখ্যা বেশি। আমি আশা করছি যে আমার হাউজে আগন্তুকদের সংখ্যা বেশি হবে।” (তিরমিযী ৪/২৪৪৩) ৫৭
মাসআলা-১৮৭ : হাউজে কাওসারের পাশে রাসূলুল্লাহ তাঁর উম্মতদের সামনে থাকবেন:
মাসআলা-১৮৮ : বিদআতীরা রাসূলুল্লা -এর হাউজ থেকে বিতাড়িত হবে:
عَنْ عَبْدُ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودِ اللهُ عَنِ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ " أَنَا فَرَطُكُمْ عَلَى الْحَوْضِ، لَيُرْفَعَنَّ إِلَيَّ رِجَالٌ مِنْكُمْ، حَتَّى إِذَا أَهْوَيْتُ لِأُنَاوِلَهُمُ اخْتُلِجُوا دُونِي، فَأَقُولُ: يَا رَبِّ أَصْحَابِي، فَيُقَالُ إِنَّكَ لَا تَدْرِي مَا أَحْدَثُوا بَعْدَكَ "
অর্থ: "আবদুল্লাহ বিন মাসউদ (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি রাসূলুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেছেন: তিনি বলেন আমি হাউজে কাওসারের পাশে তোমাদের আগে থাকবো। তোমাদের মধ্যে কিছু লোক সেখানে আসবে, অতপর তাদেরকে আমার কাছ থেকে দূরে সরিয়ে দেয়া হবে, আমি বলবো: হে আমার প্রভু! এরাতো আমার উম্মত। বলা হবে আপনি জানেন না যে, আপনার পরে তারা কি কি বিদআত চালু করেছে।” (বুখারী ৯/৭০৪৯) ৫৮
মাসআলা-১৮৯: কাফিররা হাউজে কাওসারের নিকট এসে পানি পান করতে চাইবে কিন্তু রাসূলুল্লাহ তাদেরকে দূরে সরিয়ে দিবেন:
মাসআলা-১৯০: রাসূলুল্লাহ তাঁর উম্মতদেরকে ওযুর কারণে উজ্জ্বল হাত ও কপাল দেখে চিনতে পারবেন:
عَنْ حُذَيْفَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ إِنِّي لَأَذُودُ عَنْهُ الرِّجَالَ، كَمَا يَذُودُ الرَّجُلُ الْإِبِلَ الْغَرِيبَةَ عَنْ حَوْضِهِ قِيلَ: يَا رَسُولَ اللهِ أَتَعْرِفُنَا ؟ قَالَ: «نَعَمْ ، تَرِدُونَ عَلَيَّ غُرَّا مُحَجَّلِينَ. مِنْ أَثَرِ الْوُضُوءِ لَيْسَتْ لِأَحَدٍ غَيْرِكُمْ»
অর্থ: "হুযাইফা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি রাসূলুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেছেন: ঐ সত্তার কসম যার হাতে আমার প্রাণ। আমি হাউজ থেকে অমুসলিমদেরকে এমন ভাবে দূর করে দিব, যেমন উটের মালিকরা তাদের পাল থেকে অন্য মালিকের উটকে তাড়িয়ে দেয়। জিজ্ঞেস করা হলো ইয়া রাসূলুল্লাহ! আপনি আমাদেরকে চিনবেন? তিনি বললেন: হ্যাঁ, তোমরা আমার নিকট আসবে এমতাবস্থায় যে অযুর কারণে তোমাদের হাত, পা, কপাল ইত্যাদি চমকাতে থাকবে। এ গুণ তোমরা ব্যতীত অন্য কোনো উম্মতের হবে না।” (ইবনে মাজা) ৫৯
টিকাঃ
৫২ কিতাবুল ফাযায়েল, বাব ইসবাত হাওজিন্নাবী
৫৩ কিতাবুল ফাযায়েল, বাব ইসবাত হাওজিন্নাবী
৫৪ কিতabুল ফাযায়েল, বাব ইসবাত হাওজিন্নাবী, ৫৪ কিতাবুল ফাযায়েল, বাব ইসবাত হাওজিন্নাবী,
৫৬ আবওয়াব সিফাতিল কিয়ামা, বাবা মাযায়া ফী সিফাতিল হাউজ, (২/১৯৮৯)
৫৭ আবওয়াব সিফাতিল কিয়ামা, বাব মাযায়া ফি সিফাতিল হাউজ (২/১৯৮৮)
৫৮ কিতাবুর রিকাক, বাব ফীল হাউজ।
৫৯ কিতাবুয যুহদ, বাব ফীল হাউজ (২/৩৪৭১)