📄 জান্নাতের ফলসমূহ
(মহান আল্লাহর নিকট এ কামনা করি যেন তিনি স্বীয় দয়া ও অনুগ্রহে আমাদেরকে তা খাওয়ার তাওকীক দান করেন।)
মাসআলা-১৪৩: জান্নাতের ফল জান্নাতীদের জন্য যথেষ্ট পরিমাণে থাকবে:
মাসআলা-১৪৪: জান্নাতে মৌসুমী প্রত্যেক ফল সর্বদাই থাকবে:
মাসআলা-১৪৫: জান্নাতের ফল ভোগ করার জন্য কারো নিকট থেকে অনুমতি নিতে হবে না।
মাসআলা-১৪৬: জান্নাতের ফলের মজুদ কখনো শেষে হবে না:
মাসআলা-১৪৭: জান্নাতের ফল কখনো নষ্ট হবে না:
মাসআলা-১৪৮: কলা ও বরই জান্নাতের ফল:
وَأَصْحَابُ الْيَمِينِ مَا أَصْحَابُ الْيَمِينِ . فِي سِدْرٍ مَخْضُودٍ - وَطَلْحٍ مَنْضُودٍ . وَظِلٍ مَّمْدُودٍ - وَمَاءٍ مَّسْكُوبٍ - وَفَاكِهَةٍ كَثِيرَةٍ
অর্থ: "আর ডান দিকের দল কত ভাগ্যবান ডান দিকের দল। তারা থাকবে (এক উদ্যানে) সেখানে আছে কন্টকহীন কুল বৃক্ষ। কাঁদি ভরা কলা বৃক্ষ। সম্প্রসারিত ছায়া, সদা প্রবাহমান পানি ও প্রচুর ফলমূল। (সূরা ওয়াকিয়াহ: ২৭-৩২)
أُكُلُهَا دَائِمٌ وِظِلُّهَا تِلْكَ عُقْبَى الَّذِينَ اتَّقَوا
অর্থ: "যারা মুত্তাকী এটা তাদের কর্মফল, আর কাফিদের কর্মফল অগ্নি।" (সূরা রাআদ: ৩৫)
মাসআলা-১৪৯: জান্নাতে প্রত্যেক জান্নাতীর পছন্দ মতো সর্বপ্রকার ফল মূল মজুদ থাকবে:
إِنَّ الْمُتَّقِينَ فِي ظِلالٍ وَعُيُونٍ ، وَفَوَاكِهَ مِمَّا يَشْتَهُونَ - كُلُوا وَاشْرَبُوا هَنِيئاً بِمَا كُنتُمْ تَعْمَلُونَ إِنَّا كَذلِكَ نَجْزِي الْمُحْسِنِينَ
অর্থ: নিশ্চয় মুত্তাকীরা থাকবে ছায়া ও ঝর্ণাবহুল স্থানে, আর নিজেদের বাসনানুযায়ী ফলমূল-এর মাধ্যে। (তাদেরকে বলা হবে) 'তোমরা যে আমল করতে তার প্রতিদানস্বরূপ তৃপ্তির সাথে পানাহার করো; সৎকর্মশীলদের আমরা এমন-ই প্রতিদান দিয়ে থাকি। (সূরা মুরসালাত ৭৭:৪১-৪৪)
মাসআলা-১৫০: জান্নাতের ফল সর্বদা জান্নাতীদের নাগালের মধ্যে থাকবে, দাড়িয়ে, বসে, চলা ফিরা করা অবস্থায়, যখন খুশি তখনই তা তারা ভক্ষণ করতে পারবে:
وَدَانِيَةً عَلَيْهِمْ ظِلالُهَا وَذُلِّلَتْ قُطُوفُهَا تَذْلِيلاً
অর্থ: "সন্নিহিত বৃক্ষছায়া তাদের উপর থাকবে এবং তার ফলমূল সম্পূর্ণরূপে তাদের আয়ত্বাধীন করা হবে।" (সূরা দাহর: ১৪)
মাসআলা-১৫১: জান্নাতের খেজুর মটকা বা বালতির মত হবে যা দুধ থেকেও সাদা, মধু থেকেও মিষ্টি, মাখন থেকেও নরম: নোট" এ সংক্রান্ত হাদীস ১৩৭ নং মাসআলায় দেখুন।
মাসআলা-১৫২: জান্নাতের ফলের শীষ এতো বড় হবে যে, তা যদি পৃথিবীতে আসতো তাহলে সাহাবাগণ কিয়ামত পর্যন্ত তা খেয়ে শেষ করতে পারত না:
عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا فِي حَدِيثِ صَلَاةِ الْكُسُوفِ قَالُوا : يَا رَسُولَ اللَّهِ، رَأَيْنَاكَ تَنَاوَلْتَ شَيْئًا فِي مَقَامِكَ، ثُمَّ رَأَيْنَاكَ تَكَعْكَعْتَ. قَالَ: «إِنِّي أُرِيتُ الْجَنَّةَ، فَتَنَاوَلْتُ مِنْهَا عُنْقُودًا، وَلَوْ أَخَذْتُهُ لَأَكَلْتُمْ مِنْهُ مَا بَقِيَتِ الدُّنْيَا»
অর্থ: "আবদুল্লাহ বিন আব্বাস (রা) থেকে সূর্যগ্রহণের নামায সম্পর্কে বর্ণিত হাদীস এসেছে যে, সাহাবাগ রাসূল ﷺ কে জিজ্ঞেস করলো: ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমরা আপনাকে (নামাযের সময়) দেখলাম যেন আপনি কোনো কিছু নিতে যাচ্ছিলেন কিন্তু আবার থেমে গেলেন। তিনি বললেন: আমি জান্নাত দেখছিলাম আর তার একটি শীষ নিতে চাইলাম, কিন্তু যদি আমি তা নিতাম তাহলে তোমরা যত দিন দুনিয়ায় থাকতে ততদিন তোমরা তা খেতে পারতে।” (বুখারী ১/৭৪৮)৪১
মাসআলা-১৫৩: জান্নাতের একটি শীষ যদি পৃথিবীতে আসতো তাহলে আকাশ ও যমীনের সমস্ত মাখলুক তা খেয়ে শেষ করতে পারতো না:
عَنْ جَابِرٍ ﷺ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : "إِنِّي عُرِضَتْ عَلَيَّ الْجَنَّةُ وَمَا فِيهَا مِنَ الزَّهْرَةِ وَالنَّضْرَةِ، فَتَنَاوَلْتُ مِنْهَا قِطْفًا مِنْ عِنَبٍ لَآتِيَكُمْ بِهِ، فَحِيلَ بَيْنِي وَبَيْنَهُ، وَلَوْ أَتَيْتُكُمْ بِهِ لَأَكَلَ مِنْهُ مِنْ بَيْنِ السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ لَا يَنْقُصُونَهُ"
অর্থ: "যাবের (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ বলেছেন: আমার সামনে জান্নাত ও তাতে বিদ্যমান সমস্ত নিআমত পেশ করা হলো, ফল-ফুল, সবুজ সজিব জিনিসসমূহ। আমি তোমাদের জন্য ওখান থেকে আঙ্গুরের একটি থোকা নিতে চাইলাম, কিন্তু আমাকে থামিয়ে দেয়া হলো, যদি ঐ থোকাটি তোমাদের জন্য নিয়ে আসতাম তা হলে আকাশ ও যমীনের সমস্ত সৃষ্টি জীব যদি তা খেত তাহলে তা খেয়ে শেষ করতে পারতো না।” (আহমদ) ৪২
নোট: জান্নাতের নিআমত সম্পর্কে বর্ণিত এ সমস্ত হাদীস অন্তত মুসলমানদের জন্য কোনো আশ্চার্য বিষয় নয়। যারা গত ছয় হাজার বছর থেকে জমজম কূপকে প্রবাহিত হতে দেখে আসছে, যা থেকে সমস্ত পৃথিবীর মানুষ উপকৃত হচ্ছে, রমযান ও হজ্জ এর সময় সমস্ত মানুষ প্রত্যেক ব্যক্তি স্ব-চোখে তা অবলোকন করে, লোকেরা শুধু আত্মতৃপ্তির সাথে তা পান করে তাই নয়, বরং স্ব স্ব এলাকায় প্রত্যাবর্তন কালে বাধাহীনভাবে যার যত খুশি সে তত পরিমাণে নিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু এরপরও পানির মধ্যে কখনো কোনো কমতি হচ্ছে না বা শেষও হচ্ছে না। আর কিয়ামত পর্যন্ত এ পানি এভাবেই ব্যবহৃত হতে থাকবে। (সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি সুবহানাল্লাহিল আযীম)।
মাসআলা-১৫৪: খেজুর, আনার ও আঙ্গুর জান্নাতের ফল: নোট: এ সম্পর্কে বর্ণিত হাদীসটি ১২৮ নং মাসআলায় দেখুন।
মাসআলা-১৫৫: আনজীর জান্নাতী ফল:
মাসআলা-১৫৬: জান্নাতের সমস্ত ফল আটিহীন হবে:
عَنْ البِي الدَّرْدَاءِ أُهْدِى إِلَى النَّبِيِّ ﷺ طَبَقٌ مِنْ تِينٍ فَقَالَ كُلُوا وَأَكَلَ مِنْهُ وَقَالَ لَوا فَلَوْ قُلْتُ إِنَّ فَاكِهَةً نَزَلَتْ مِنَ الْجَنَّةِ لَقُلْتُ هَذِهِ لِأَنَّ فَاكِهَةَ الْجَنَّةِ بِلَا عَجَمٍ فَكُلُوا مِنْهَا فَإِنَّهَا تَقْطَعُ الْبَوَاسِيرَ وَتَنْفَعُ مِنَ النُّفُوسِ .
অর্থ: "আবু দারদা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: নবী কে এক প্লেট আনজীরা হাদীয়া দেয়া হলো, তিনি বললেন: খাও, তিনি নিজেও তা থেকে খেলেন, আর বললেন: যদি আমি কোনো ফল সম্পর্কে বলি যে, এটা জান্নাত থেকে আগত ফল, তাহলে এই সেই ফল, কেননা জান্নাতের ফল আটি বিহীন হবে। অতএব খাও, আনজীর অশ্বরোগের ঔষধ, আর তা গ্রন্থির ব্যাথা দূর করে। (ইবনে কায়্যিম তার তিব্বুনন্নবুবীতে তা উল্লেখ করেছেন।) ৪৩
মাসআলা-১৫৭: জান্নাতী যখন কোনো বৃক্ষের ফল পাড়বে তখন সাথে সাথে ওখানে আরেকটি নতুন ফল হয়ে যাবে:
عَنْ ثَوْبَانَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنَّ الرَّجُلَ إِذَا نَزَعَ ثَمَرَةً مِنَ الْجَنَّةِ عَادَتْ مَكَانَهَا أُخْرَى»
অর্থ: "সাওবান (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলূল্লাহ বলেছেন: যখন কোনো ব্যক্তি জান্নাতের কোনো ফল পাড়বে তখন তার স্থলে অন্য একটি ফল হয়ে যাবে।” (ত্ববারানী) ৪৪
টিকাঃ
৪১ কিতাব সালাতিল খুসুফ।
৪২ অনে নেহায়া লিইবনে কাসীর, (২/৩৬৭)
৪৩ তিব্বুন নববী পৃ, ৩১৮।
৪৪ মাজমাউয্যাওয়ায়েদ (১০/৪১৪)
📄 জান্নাতের নদীসমূহ
মাসআলা-১৫৮: জান্নাতে সুস্বাদু পানি, সুস্বাদু দুধ, সুমিষ্ট শরাব এবং স্বচ্ছ মধুর নদী প্রবাহিত হচ্ছে:
মাসআলা-১৫৯: জান্নাতের নদীসমূহের পানীয়র রং ও স্বাদ সর্বদা একই রকমের থাকবে:
مَّثَلُ الْجَنَّةِ الَّتِي وُعِدَ الْمُتَّقُونَ فِيهَا أَنْهَارٌ مِّنْ مَّاءٍ غَيْرِ آسِنٍ وَأَنْهَارٌ مِّنْ لَبَنٍ لَّمْ يَتَغَيَّرُ طَعْمُهُ وَأَنْهَارُ مِنْ خَمْرٍ لَذَّةٍ لِلشَّارِبِينَ وَأَنْهَارُ مِنْ عَسَلٍ مُصَفًّى
অর্থ: মুত্তাকীদেরকে যে জান্নাতের ওয়াদা দেয়া হয়েছে তার দৃষ্টান্ত হলো, তাতে রয়েছে নির্মল পানির নহরসমূহ, দুধের ঝর্ণাধারা, যার স্বাদ পরিবর্তিত হয়নি, পানকারীদের জন্য সুস্বাদু সূরার নহরসমূহ এবং আছে পরিশোধিত মধুর ঝর্ণাধারা। (সূরা মুহাম্মদ ৪৭:১৫)
মাসআলা-১৬০ : সাইহান, জাইহান, ফোরাত, নীল জান্নাতের নদী:
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ اللهِ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : «سَيْحَانُ وَجَيْحَانُ ، وَالْفُرَاتُ وَالنِّيلُ كُلٌّ مِنْ أَنْهَارِ الْجَنَّةِ»
অর্থ: "আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ বলেছেন: সাইহান, জাইহান, ফোরাত, ও নীল জান্নাতের নদী। (মুসলিম ৪/২৮৩৯)৪৫
মাসআলা-১৬১: কাওসার জান্নাতের নদী যার পানি দুধ থেকেও সাদা এবং মধু থেকেও অধিক মিষ্টি হবে:
মাসআলা-১৬২: কাওসার আল্লাহর পক্ষ থেকে রাসূলকে দেয়া উপহার:
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ: سُئِلَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : مَا الكَوْثَرُ؟ قَالَ: «ذَاكَ نَهْرٌ أَعْطَانِيهِ اللَّهُ يَعْنِي فِي الْجَنَّةِ أَشَدُّ بَيَاضًا مِنَ اللَّبَنِ، وَأَحْلَى مِنَ الْعَسَلِ، فِيهَا طَيْرُ أَعْنَاقُهَا كَأَعْنَاقِ الْجُزْرِ» قَالَ عُمَرُ : إِنَّ هَذِهِ لَنَاعِمَةٌ. قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَكَلَتُهَا أَنْعَمُ مِنْهَا»
অর্থ: "আনাস বিন মালেক (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ জিজ্ঞাসিত হলেন কাউসার কি? তিনি উত্তরে বললেন: এ হলো একটি নদী যা আমাকে আমার আল্লাহ জান্নাতে দিবেন। যার পানি দুধের চেয়েও সাদা হবে, মধুর চেয়েও মিষ্টি হবে এবং সেখানে এমন পাখি থাকবে যাদের গর্দান হবে উটের ন্যায়। ওমর (রা) বলেছেন: ঐ পাখীরা খুব আনন্দে আছে, রাসূলুল্লাহ বললেন: ঐ পাখীগুলোকে ভক্ষণকারী আরো আনন্দে আছে।" (তিরমিযী ৪/২৫৪২)৪৬
নোট: বিস্তারিত জানার জন্য হাউজে কাওসার অধ্যায় দেখুন।
মাসআলা-১৬৩ : জান্নাতীরা নিজেদের ইচ্ছামত জান্নাতের নদীসমূহ থেকে ছোট ছোট নদী বের করে তাদের অট্টালিকাসমূহে নিয়ে যেতে পারবে:
عَنْ حَكِيمِ بْنِ مُعَاوِيَةَ، عَنْ أَبِيهِ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ. قَالَ: «إِنَّ فِي الْجَنَّةِ بَحْرَ الْمَاءِ وَبَحْرَ الْعَسَلِ وَبَحْرَ اللَّبَنِ وَبَحْرَ الْخَمْرِ، ثُمَّ تُشَقَّقُ الْأَنْهَارُ بَعْدُ»
অর্থ: "হাকীম বিন মোয়াবিয়া তার পিতা থেকে তিনি নবী থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: জান্নাতে পানি, মধু, দুধ ও শরাবের নদী থাকবে। অতপর ঐ সমস্ত নদী থেকে আরো ছোট ছোট নদী বের করা হবে।” (তিরমিযী ৪/২৫৭১) ৪৭
নোট: উল্লেখিত হাদীসের সাথে ১৬৬ নং মাসআলাও দেখুন।
মাসআলা-১৬৪ : জান্নাতের একটি নদীর নাম হায়াত, যার পানি জাহান্নাম থেকে বেরকৃতদের শরীরে দেয়া হবে, ফলে তারা দ্বিতীয়বার চারা গাছের ন্যায় সজিব হবে:
عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِي هُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: " يُدْخِلُ اللهُ أَهْلَ الْجَنَّةِ الْجَنَّةَ، يُدْخِلُ مَنْ يَشَاءُ بِرَحْمَتِهِ، وَيُدْخِلُ أَهْلَ النَّارِ النَّارِ ، ثُمَّ يَقُولُ: انْظُرُوا مَنْ وَجَدْتُمْ فِي قَلْبِهِ مِثْقَالَ حَبَّةٍ مِنْ خَرْدَلٍ مِنْ إِيمَانٍ فَأَخْرِجُوهُ، فَيُخْرَجُونَ مِنْهَا حُمَمًا قَدْ امْتَحَشُوا ، فَيُلْقَوْنَ فِي نَهَرٍ الْحَيَاةِ، أَوِ الْحَيَا، فَيَنْبُتُونَ فِيهِ كَمَا تَنْبُتُ الْحِبَّةُ إِلَى جَانِبِ السَّيْلِ، أَلَمْ تَرَوْهَا كَيْفَ تَخْرُجُ صَفْرَاءَ مُلْتَوِيَةً؟ "
অর্থ: "আবু সাঈদ খুদরী (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ বলেছেন: আল্লাহ স্বীয় দয়ায় যাকে খুশী তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন এবং জাহান্নামীদেরকে জাহান্নামে প্রবেশ করাবেন। (অতপর দীর্ঘদিন পর বলবেন) দেখ যে ব্যক্তির অন্তরে বিন্দু পরিমাণ ঈমান আছে তাকে জাহান্নাম থেকে বের করো। তখন তারা এমন অবস্থায় বের হবে যে তাদের শরীর কয়লার ন্যায় জ্বলে গেছে, তখন তাদেরকে হায়াত বা হায়া নামক নদীতে নিক্ষেপ করা হবে, তখন তারা এমনভাবে সজিব হয়ে উঠবে, যেমন বন্যার আবর্জনার মাঝে চারাগাছ সজিব হয়ে উঠে। তোমরা কি কখনো দেখনি যে কেমন হলুদ রং বিশিষ্ট হয়ে উঠে?” (মুসলিম ১/১৮৪)৪৮
টিকাঃ
৪৫ কিতাবুল জান্না ওয়া সিফাতু নায়ীমিহা।
৪৬ আবওয়াবুল জান্নাহ, বাব মাযায়া ফী সিফাত তাইরিল জান্নাহ।
৪৭ আবওয়াবুল জান্না, বাব মাষায়া ফী সিফাত আনহারিল জান্না।
৪৮ কিতাবুল ঈমান, বাব ইসবাতুসশাফায়া।
📄 জান্নাতের ঝর্ণাসমূহ
মাসআলা-১৬৫: জান্নাতের একটি ঝর্ণার নাম "সালসাবীল” যা থেকে আদা মিশ্রিত স্বাদ আসবে:
وَيُطَافُ عَلَيْهِمْ بِآنِيَةٍ مِنْ فِضَّةٍ وَأَكْوَابٍ كَانَتْ قَوَارِيرَا - قَوَارِيرَا مِنْ فِضَّةٍ قَدَّرُوهَا تَقْدِيراً . وَيُسْقَوْنَ فِيهَا كَأْساً كَانَ مِزَاجُهَا زَنْجَبِيلاً - عَيْنَا فِيهَا تُسَمَّى سَلْسَبِيلاً
অর্থ: "তাদেরকে পরিবেশন করা হবে রৌপ্য পাত্র এবং স্ফটিকের মতো স্বচ্ছ পান পাত্রে। রুপালী স্ফটিক পাত্রে, পরিবেশনকারীরা তা যথাযথ পরিমাণে তা পূর্ণ করবে। সেখানে পান করতে দেয়া হবে আদা মিশ্রিত পানীয়। জান্নাতের এমন এক ঝর্ণা যার নাম "সালসাবীল”। (সূরা দাহর: ১৫-১৮)
মাসআলা-১৬৬: জান্নাতের একটি ঝর্ণার নাম কাফুর, যা পানে জাহান্নামীরা আত্মতৃপ্তি লাভ করবে।
إِنَّ الْأَبْرَارَ يَشْرَبُونَ مِنْ كَأْسٍ كَانَ مِزَاجُهَا كَافُوراً عَيْناً يَشْرَبُ بِهَا عِبَادُ اللَّهِ يُفَجِّرُونَهَا تَفْجِيراً
অর্থ: "সৎকর্মশীলরা পান করবে এমন পানীয় যার মিশ্রণ হবে কাফুর। এমন একটি প্রশ্রবণের যা থেকে আল্লাহর বান্দারা পান করবে, তারা এই প্রস্রবণকে যথা ইচ্ছা প্রবাহিত করবে।” (সূরা দাহر: ৫-৬)
মাসআলা-১৬৭: জান্নাতের একটি ঝর্ণার নাম “তাসনীম” যার স্বচ্ছ পানি একমাত্র আল্লাহর বিশেষ বান্দাদেরকে পান করার জন্য দেয়া হবে:
মাসআলা-১৬৮: সৎকর্মশীল (যাদের স্তর বিশেষ বান্দাদের চেয়ে একটু নীচু হবে) তাদেরকে উত্তম পানীয়ের সাথে তাসনীমের পানি মিশ্রণ করে দেয়া হবে:
إِنَّ الْأَبْرَارَ لَفِي نَعِيمٍ . عَلَى الْأَرَائِكِ يَنظُرُونَ . تَعْرِفُ فِي وُجُوهِهِمْ نَضْرَةَ النَّعِيمِ . يُسْقَوْنَ مِنْ رَّحِيقٍ مَخْتُومٍ . خِتَامُهُ مِسْكٌ وَفِي ذَلِكَ فَلْيَتَنَافَسِ الْمُتَنَافِسُونَ - وَمِزَاجُهُ مِنْ تَسْنِيمٍ عَيْناً يَشْرَبُ بِهَا الْمُقَرَّبُونَ
অর্থ: নিশ্চয় নেককাররাই থাকবে সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের মধ্যে। সুসজ্জিত আসনে বসে তারা দেখতে থাকবে। তুমি তাদের চেহারাসমূহে সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের লাবণ্যতা দেখতে পাবে। তাদেরকে সীলমোহর করা বিশুদ্ধ পানীয় থেকে পান করানো হবে। তার মোহর হবে মিসকের। আর প্রতিযোগিতাকারীদের উচিত এ বিষয়ে প্রতিযোগিতা করা। আর তার মিশ্রণ হবে তাসনীম থেকে। তা এক প্রস্রবণ, যা থেকে নৈকট্যপ্রাপ্তরা পান করবে। (সূরা মুতাফফিফীন ৮৩:২২-২৮)
মাসআলা-১৬৯: কোনো কোনো ঝর্ণা থেকে সাদা উজ্জ্বল সুস্বাদু পানীয় প্রবাহিত হবে:
أُوْلَئِكَ لَهُمْ رِزْقٌ مَّعْلُومٌ . فَوَاكِهُ وَهُم مُّكْرَمُونَ فِي جَنَّاتِ النَّعِيمِ ـ عَلَى سُرُرٍ مُتَقَابِلِينَ - يُطَافُ عَلَيْهِمْ بِكَأْسٍ مِنْ مَّعِينٍ . بَيْضَاءَ لَذَّةٍ لِلشَّارِبِينَ . لا فِيهَا غَوْلٌ وَلَا هُمْ عَنْهَا يُنزَفُونَ.
অর্থ: তাদের জন্য থাকবে নির্ধারিত রিযিক, ফলমূল; আর তারা হবে সম্মানিত, নি'আমত-ভরা জান্নাতে, মুখোমুখি পালঙ্কে। তাদের চারপাশে ঘুরে ঘুরে পরিবেশন করা হবে বিশুদ্ধ সুরাপাত্র, সাদা, পানকারীদের জন্য সুস্বাদু। তাতে থাকবে না ক্ষতিকর কিছু এবং তারা এগুলো দ্বারা মাতালও হবে না। (সূরা সাফ্ফাত ৩৭:৪১-৪৭)৪৯
মাসআলা-১৭০: কোনো কোনো ঝর্ণা ফোয়ারার ন্যায় উদ্বেলিত হবে:
فِيهِمَا عَيْنَانِ نَضَّاخَتَانِ فَبِأَيِّ آلَاءِ رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ
অর্থ: "তথায় আছে উদ্বেলিত দুই প্রস্রবণ, অতএব তোমরা উভয়ে তোমাদের পালন কর্তার কোনো অবদানকে অস্বীকার করবে।" (সূরা রহমান: ৬৬-৬৭)
মাসআলা-১৭১: জান্নাতীদের আত্মা ও চক্ষু তৃপ্তির জন্য সর্বদা পানির ঝর্ণা ও জলপ্রপাতও জান্নাতে থাকবে:
فِيهَا عَيْنٌ جَارِيَةً
অর্থ: "সেখানে আছে প্রবাহমান ঝর্ণাসমূহ” (সূরা গাসিয়া: ১২)
وَمَاءٍ مَّسْكُوبٍ وَفَاكِهَةٍ كَثِيرَةٍ
অর্থ: সম্প্রসারিত ছায়া, সদা প্রবাহমান পানি। (সূরা ওয়াকিয়া: ৩০-৩১) মাসআলা-১৭২: উল্লেখিত ঝর্ণাসমূহ ব্যতীত জান্নাতীদের আরামের জন্য বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন রকমের আরো ঝর্ণা থাকবে:
إِنَّ الْمُتَّقِينَ فِي مَقَامٍ أَمِينِ فِي جَنَّاتٍ وَعُيُونٍ
অর্থ: "মুত্তাকীরা থাকবে নিরাপদ স্থানে। উদ্যান ও ঝর্ণার মাঝে" (সূরা দুখান :৫১-৫২)
إِنَّ الْمُتَّقِينَ فِي ظِلالٍ وَعُيُونٍ وَفَوَاكِهَ مِمَّا يَشْتَهُونَ
অর্থ: মুত্তাকীরা থাকবে ছায়ায় ও প্রস্রবণ বহুল স্থানে। তাদের রুচিসম্মত ফলসমূহের প্রাচুর্যের মধ্যে।" (সূরা মুরসালাত: ৪১-৪২)
টিকাঃ
৪৯ غول অর্থ নেশা, মাতলমি, মাথাব্যথা ও পেটের পীড়া।
📄 কাওসার নদী
(আল্লাহ তার স্বীয় দয়া ও অনুগ্রহের মাধ্যমে আমাদেরকে তা থেকে পানি পান করান)
মাসআলা১৭৩: কাওসার জান্নাতের একটি নদী যা আল্লাহ শুধু রাসূলুল্লাহ -কে তা দিবেন:
মাসআলা-১৭৪: কাওসার নদী জান্নাতের সবচেয়ে বড় ও সবচেয়ে উন্নত নদী:
عَنْ أَنَسٍ هِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ " بَيْنَمَا أَنَا أَسِيرُ فِي الْجَنَّةِ، إِذَا أَنَا بِنَهَرٍ، حَافَتَاهُ قِبَابُ الدُّرِّ الْمُجَوَّفِ، قُلْتُ: مَا هَذَا يَا جِبْرِيلُ؟ قَالَ: هَذَا الْكَوْثَرُ الَّذِي أَعْطَاكَ رَبُّكَ، فَإِذَا طِينُهُ أَوْ طِيبُهُ مِسْكَ أَذْفَرُ "
অর্থ: "আনাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ বলেছেন: (মেরাজের সময়) আমি জান্নাত দেখতেছিলাম, সেখানে আমি একটি নদী দেখতে পেলাম যার উভয় তীরে মোতি খচিত গম্বুজ রয়েছে। আমি জিজ্ঞেস করলাম হে জিবরাঈল! এগুলো কি? সে বললো: এ হলো কাওসার যা আপনাকে আপনার প্রভু দিয়েছেন। আর তার মাটি বা সুগন্ধি মেশক আম্বরের ন্যায়” (বুখারী ৮/৬৫৮১)৫০
মাসআলা-১৭৫: কাওসার নদীর উভয় তীর স্বর্ণ নির্মিত, তার কঙ্করসমূহ মোতি ও ইয়াকুতের। আর মাটি মেশকের চেয়েও অধিক সুগন্ধিময়:
عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ اللهِ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : الكَوْثَرُ نَهْرٌ فِي الْجَنَّةِ، حَافَتَاهُ مِنْ ذَهَبٍ، وَمَجْرَاهُ عَلَى الدُّرِّ وَالْيَاقُوتِ، تُرْبَتُهُ أَطْيَبُ مِنَ الْمِسْكِ ، وَمَاؤُهُ أَحْلَى مِنَ الْعَسَلِ، وَأَبْيَضُ مِنَ الثَّلْجِ»
অর্থ: "আবদুল্লাহ বিন ওমর (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলূল্লাহ বলেছেন: কাওসার জান্নাতের একটি নদী, যার উভয় তীর স্বর্ণ নির্মিত, তার পানি ইয়াকুত ও মোতির উপর প্রবাহমান। তার মাটি মেশকের চেয়েও বেশি সুগন্ধিময়, তার পানি মধুর চেয়ে অধিক মিষ্টি এবং বরফের চেয়ে অধিক সাদা। (তিরমিযী ৫/৩৩৬১)৫১
মাসআলা-১৭৬: কাওসার নদীতে উটের গর্দানের ন্যায় উঁচু প্রাণী থাকবে, যা ভক্ষণে জান্নাতীরা তৃপ্তিলাভ করবে: নোট: এ সংক্রান্ত হাদীস ১৬২ নং মাসআলায় দেখুন।
* উল্লেখ্য যে হাউজে কাওসার এবং কাওসার নদী পৃথক জিনিস, কাওসার নদী জান্নাতের ভিতরে থাকবে, আর হাউজে কাওসার জান্নাতের বাহিরে হাশরের মাঠে থাকবে। যেখানে রাসূল মিম্বরে আসন গ্রহণ করে স্বীয় হস্তে ঈমানদারদেরকে পানি পান করিয়ে তাদের পিপাসা মিটাবেন। (আল্লাহই এ ব্যাপারে সর্বাধিক অবগত)
* কাওসারের ব্যাপারে হাউজে কাওসার সম্পর্কিত হাদীসসমূহও আমরা এখানে উল্লেখ করেছি।
টিকাঃ
৫০ কিতাবুর রিকাক, বাব ফিলহাউয।
৫১ আবওয়াব তাফসীর বাব তাফসীর সূরাতুল কাওসার।