📄 জান্নাতের তাবূসমূহ
মাসআলা-১২২: প্রত্যেক জান্নাতীর অট্টালিকায় তাবু থাকবে যেখানে হুরেরা অবস্থান করবে:
حُورٌ مَّقْصُورَاتٌ فِي الْخِيَامِ فَبِأَيِّ آلَاءِ رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ
অর্থ: "তারা তাঁবুতে সুরক্ষিত হুর, অতএব তোমরা উভয়ে তোমাদের প্রতিপালকের কোনো কোনো অনুগ্রহকে অস্বীকার করবে।" (সূরা রহমান: ৭২-৭৩)
মাসআলা-১২৩: জান্নাতের প্রতিটি তাবু ৬০ মাইল প্রশস্ত হবে। ভিতরে খুব সুন্দর মোতি খোদাই করে নির্মাণ করা হয়েছে:
মাসআলা-১২৪: ঐ তাবুসমূহে জান্নাতীদের স্ত্রীরা থাকবে যারা সর্বদাই তাদের (স্বামীদের) আগমনের অপেক্ষায় অপেক্ষমান থাকবে:
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ قَيْسٍ هُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «فِي الْجَنَّةِ خَيْمَةٌ مِنْ لُؤْلُؤَةٍ مُجَوَّفَةٍ عَرْضُهَا سِتُّونَ مِيلًا، فِي كُلِّ زَاوِيَةٍ مِنْهَا أَهْلٌ ، مَا يَرَوْنَ الْآخَرِينَ، يَطُوفُ عَلَيْهِمِ الْمُؤْمِنُ»
অর্থ: "আবদুল্লাহ বিন কায়েস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ বলেছেন: জান্নাতে মোতি খচিত একটি তাবু থাকবে, যার প্রশস্ততা হবে ষাট মাইল, ঐ তাবুর প্রত্যেক কর্ণারে অবস্থান করবে মু'মিনের স্ত্রীরা। যাদেরকে অন্য অট্টালিকার লোকেরা দূরত্ব এবং প্রশস্ততার কারণে দেখতে পাবে না। মু'মিন ব্যক্তি এ স্ত্রীদের মাঝে ঘুরে বেড়াবে। (মুসলিম ৪/২৮৩৮)৩০
টিকাঃ
৩০ কিতাবুল জান্না ওয়া সিফাতু নায়ীমিহা।
📄 জান্নাতের বাজার
মাসআলা-১২৫: জান্নাতে প্রত্যেক জুমার দিন বাজার জমবে:
মাসআলা-১২৬: জুমার দিন বাজারে অংশগ্রহণকারী জান্নাতীদের সৌন্দর্য পূর্ব থেকে বেশি হবে:
মাসআলা-১২৭: মহিলারা শুক্রবারের বাজারে উপস্থিত হবেনা কিন্তু ঘরে বসে থাকা অবস্থায়ই আল্লাহ তাদের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে দিবেন:
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ هُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: " إِنَّ فِي الْجَنَّةِ لَسُوقًا، يَأْتُونَهَا كُلَّ جُمُعَةٍ، فَتَهُبُّ رِيحُ الشَّمَالِ فَتَحْتُو فِي وُجُوهِهِمْ وَثِيَابِهِمْ ، فَيَزْدَادُونَ حُسْنًا وَجَمَالًا، فَيَرْجِعُونَ إِلَى أَهْلِيْهِمْ وَقَدِ ازْدَادُوا حُسْنًا وَجَمَالًا، فَيَقُولُ لَهُمْ أَهْلُهُمْ : وَاللَّهِ لَقَدِ ازْدَدْتُمْ بَعْدَنَا حُسْنًا وَجَمَالًا، فَيَقُولُونَ : وَأَنْتُمْ ، وَاللَّهِ لَقَدِ ازْدَدْتُمْ بَعْدَنَا حُسْنًا وَجَمَالًا "
অর্থ: "আনাস বিন মালেক (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ বলেছেন: জান্নাতে একটি বাজার আছে, যেখানে প্রত্যেক শুক্রবারে জান্নাতীরা উপস্থিত হবে। উত্তর দিক থেকে একটি বাতাস এসে যখন জান্নাতীদের শরীর ও পোশাকে লাগবে তখন তা তাদের সৌন্দর্যকে আরো বৃদ্ধি করবে। যখন তারা সেখান থেকে তাদের ঘরে ফিরে আসবে তখন (এসে দেখবে যে) তাদের স্ত্রীদের সৌন্দর্যও আগের চেয়ে বৃদ্ধি পেয়েছে, স্ত্রীরা স্বামীদেরকে বলবে যে আল্লাহর কসম! আমাদেরকে ছেড়ে যাওয়ার পর তোমাদের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পেয়েছে, জান্নাতীরা বলবে: আল্লাহর কসম আমাদের অনুপস্থিতিতে তোমাদের সৌন্দর্যও বৃদ্ধি পেয়েছে।" (মুসলিম ৪/২৮৩৩)৩৪
টিকাঃ
৩৪ কিতাবুল জান্নাহ ওয়া সিফাতু নায়ীমিহা।
📄 জান্নাতের বৃক্ষসমূহ
মাসআলা-১২৮: জান্নাতে সর্বপ্রকার ফলের গাছ থাকবে, তবে খেজুর, আনার আঙ্গুরের গাছ বেশি পরিমাণে থাকবে: (আল্লাহই এ ব্যাপারে সর্বাধিক জ্ঞাত)
فِيهِمَا فَاكِهَةٌ وَنَخْلٌ وَرُمَّانٌ ، فَبِأَيِّ آلَاءِ رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ
অর্থ: "সেখানে রয়েছে ফলমূল, খেজুর ও আনার। সুতরাং তোমরা উভয়ে তোমাদের প্রতিপালকের কোনো কোনো অনুগ্রহ অস্বীকার করবে।" (সূরা রহমান: ৬৮,৬৯)
إِنَّ لِلْمُتَّقِينَ مَفَازًا - حَدَائِقَ وَأَعْنَابِاً
অর্থ: "এবং নিশ্চয়ই মুত্তাকীনদের জন্যই সফলতা, (সুশোভিত) উদ্যানসমূহ ও নানাবিধ আঙ্গুর।” (সূরা নাবা: ৩১-৩২)
মাসআলা-১২৯: জান্নাতের বৃক্ষ কাটাবিহীন হবে:
মাসআলা-১৩০: কলা ও বরই জান্নাতের বৃক্ষ:
মাসআলা-১৩১: জান্নাতের বৃক্ষসমূহের ছায়া অনেক লম্বা হবে:
وَأَصْحَابُ الْيَمِينِ مَا أَصْحَابُ الْيَمِينِ - فِي سِدْرٍ مَّخْضُودٍ - وَطَلْحٍ مَنْضُودٍ . وَظِلٍ مَمْدُودٍ ، وَمَاءٍ مَّسْكُوبٍ ، وَفَاكِهَةٍ كَثِيرَةٍ
অর্থ: "আর ডান দিকের দল কত ভাগ্যবান ডান দিকের দল। তারা থাকবে (এক উদ্যানে) সেখানে আছে কন্টকহীন কুল বৃক্ষ। কাঁদি ভরা কলা বৃক্ষ। সম্প্রসারিত ছায়া, সদা প্রবাহমান পানি ও প্রচুর ফলমূল। (সূরা ওয়াকিয়াহ: ২৭-৩২)
أُكُلُهَا دَائِمٌ وِظِلُّهَا تِلْكَ عُقْبَى الَّذِينَ اتَّقَوا
অর্থ: "যারা মুত্তাকী এটা তাদের কর্মফল, আর কাফিদের কর্মফল অগ্নি।" (সূরা রাআদ: ৩৫)
মাসআলা-১৩২: জান্নাতের বৃক্ষসমূহ এতো সবুজ হবে যে, তাদের রং সবুজ কাল মিশ্রিত হবে:
মাসআলা-১৩৩: জান্নাতের বৃক্ষসমূহ সর্বদা শস্য-শ্যামল থাকবে:
مُدْهَا مَتَانِ فَبِأَيِّ آلَاءِ رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ
অর্থ: "ঘন সবুজ এ উদ্যান দু'টি, সুতরাং তোমরা উভয়ে তোমাদের প্রভুর কোনো অনুগ্রহকে অস্বীকার করবে।" (সূরা রহমান: ৬৪-৬৫)
মাসআলা-১৩৪: জান্নাতের বৃক্ষসমূহের শাখাসমূহ শস্য-শ্যামল, লম্বা ও ঘন হবে:
ذَوَاتَا أَفْنَانٍ فَبِأَيِّ آلَاءِ رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ
অর্থ: "উভয়টিই বহু শাখাপল্লব বিশিষ্ট বৃক্ষে পূর্ণ। সুতরাং তোমরা উভয়ে তোমাদের প্রভুর কোনো কোনো অনুগ্রহকে অস্বীকার করবে।" (সূরা রহমান: ৪৮-৪৯)
মাসআলা-১৩৫: জান্নাতের একটি বৃক্ষের ছায়া এতো লম্বা হবে যে, উষ্ট্রারোহী একাধারে শতবছর চলার পরও ঐ ছায়া শেষ হবে না:
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، قَالَ: " إِنَّ فِي الْجَنَّةِ لَشَجَرَةٌ يَسِيرُ الرَّاكِبُ فِي ظِلْهَا مِائَةَ سَنَةٍ، وَاقْرَءُوا إِنْ شِئْتُمْ {وَظِلَّ مَمْدُودٍ} وَلَقَابُ قَوْسِ أَحَدِكُمْ فِي الْجَنَّةِ خَيْرٌ مِمَّا طَلَعَتْ عَلَيْهِ الشَّمْسُ أَوْ تَغْرُبُ"
অর্থ: "আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলূল্লাহ বলেছেন: জান্নাতে একটি বৃক্ষ আছে যার ছায়ায় কোনো অশ্বারোহী শত বছর চলার পরও শেষ প্রান্তে পৌঁছতে পারবে না। যদি চাও তাহলে পাঠ কর (সূরা রহমানের আয়াত) "লম্বা ছায়া" জান্নাতে কোনো ব্যক্তির ধনুক রাখার সমান জায়গা দুনিয়ার সবকিছু থেকে উত্তম, যার মাঝে সূর্য উদিত হয় ও অস্তমিত হয়।” (বুখারী ৪/৩২৫২)৩৫
মাসআলা-১৩৬: জান্নাতের সমস্ত বৃক্ষের মূল স্বর্ণের হবে:
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ﷺ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَا فِي الْجَنَّةِ شَجَرَةٌ إِلَّا وَسَاقُهَا مِنْ ذَهَبٍ»
অর্থ: "আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ বলেছেন: জান্নাতের প্রতিটি বৃক্ষের মূল হবে স্বর্ণের। (তিরমিযী ৪/২৫২৫)৩৬
মাসআলা-১৩৭: কোনো কোনো খেজুর গাছের মূল সবুজ পান্নার হবে, আর তার শাখার মূলগুলো হবে লাল বর্ণের:
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ : نَخْلُ الْجَنَّةِ جُذُوعُهَا زُمُرُّدٌ أَخْضَرُ، وَوَرَقُهَا ذَهَبٌ أَحْمَرُ ، وَسَعَفُهَا كِسْوَةً لِأَهْلِ الْجَنَّةِ مِنْهَا مُقَطَّعَاتُهُمْ وَحُلَلُهُمْ. وَثَمَرُهَا أَمْثَالُ الْقِلَالِ أَوِ الدِّلَاةِ أَشَدُّ بَيَاضًا مِنَ اللَّبَنِ وَأَحْلَى مِنَ الْعَسَلِ وَأَلْيَنُ مِنَ الزُّبْرِ لَيْسَ لَهُ عَجَمٌ
অর্থ: "ইবনে আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: জান্নাতের খেজুর গাছের মূল সবুজ পান্নার হবে, আর তার শাখার মূলগুলো হবে লাল বর্ণের। আর তা দিয়ে জান্নাতীদের পোশাক তৈরী করা হবে। ঐ খেজুর মটকা বা বালতির মতো হবে যা দুধ থেকে সাদা, মধু থেকেও মিষ্টি, মাখন থেকেও নরম, মোটেও শক্ত হবে না।" (শারহুসসুন্না)৩৭
মাসআলা-১৩৮: যে তাসবির সওয়াব জান্নাতে চারটি উত্তম বৃক্ষ রোপন হবে:
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ مَرَّ بِهِ وَهُوَ يَغْرِسُ غَرْسًا، فَقَالَ: «يَا أَبَا هُرَيْرَةَ، مَا الَّذِي تَغْرِسُ؟» قُلْتُ: غِرَاسًا لِي، قَالَ: «أَلَا أَدُلُّكَ عَلَى غِرَاسٍ خَيْرٍ لَكَ مِنْ هَذَا؟» قَالَ: بَلَى يَا رَسُولَ اللَّهِ، قَالَ: " قُلْ : سُبْحَانَ اللَّهِ، وَالْحَمْدُ لِلَّهِ ، وَلَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَاللَّهُ أَكْبَرُ، يُغْرَسُ لَكَ بِكُلِّ وَاحِدَةٍ شَجَرَةٌ فِي الْجَنَّةِ
অর্থ: "আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি একটি বৃক্ষ রোপন করতেছিলেন, এমন সময় তার পাশ দিয়ে রাসূলুল্লাহ ﷺ পথ অতিক্রম করছিলেন, তিনি জিজ্ঞেস করলেন হে আবু হুরাইরা! তুমি কি রোপণ করতেছো? তিনি বললেন আমার জন্য একটি গাছ লাগাচ্ছি। তিনি বললেন: আমি কি তোমাকে এর চেয়ে উত্তম বৃক্ষ রোপনের জন্য বলবো না? সে বললো হ্যাঁ হে আল্লাহর রাসূল ﷺ! তিনি বললেন: বলো: সুবহানাল্লাহ, ওয়াল হামদুলিল্লাহ, ওয়া লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু আল্লাহু আকবার, এই প্রত্যেকটি শব্দের বিনিময়ে তোমাদের জন্য জান্নাতে একটি করে বৃক্ষ রোপন করা হবে।" (ইবনে মাজা ২/৩৮০৭)৩৮
মাসআলা-১৩৯: যে তাসবির সাওয়াব জান্নাতে খেজুর বৃক্ষরোপনের পরিমাণ:
عَنْ جَابِرٍ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، قَالَ: " مَنْ قَالَ: سُبْحَانَ اللَّهِ الْعَظِيمِ وَبِحَمْدِهِ، غُرِسَتْ لَهُ نَخْلَةٌ فِي الْجَنَّةِ "
অর্থ: "আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ বলেছেন: যে ব্যক্তি বলে সুবহানাল্লাহিল আযীম ওয়া বিহামদিহি, তার জন্য জান্নাতে একটি খেজুর বৃক্ষ রোপন করা হয়।” (তিরমিযী ৫/৩৪৬৪)৩৯
মাসআলা-১৪০: তুবা জান্নাতের একটি বৃক্ষের নাম, যার ছায়া শতবছরের রাস্তার সমান:
মাসআলা-১৪১: তুবা বৃক্ষের ফলের শীষ দিয়ে জান্নাতীদের পোশাক তৈরী করা হবে:
عَنْ أَبِي سَعِيدِ الْخُدْرِيِّ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ طُوبَى شَجَرَةِ فِي الْجَنَّةِ مَسِيرَتُهَا مِائَةَ عَامِ ثِيَابٌ أَهْلِ الْجَنَّةِ تَخْرُجُ مِنْ أَكْمَامِهَا .
অর্থ: "আবু সাঈদ খুদরী (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বিলেন: রাসূলুল্লাহ বলেছেন: তুবা জান্নাতের একটি বৃক্ষের নাম, যার ছায়া হবে শতবছরের চলার পথের সমান। জান্নাতীদের পোশাক তার শীষ দিয়ে তৈরী করা হবে।" (আহমদ) ৪০
মাসআলা-১৪২: যাইতুন জান্নাতের একটি বৃক্ষের নাম: নোট: এ সংক্রান্ত হাদীস ৪১০ নং মাসআলায় দেখুন।
টিকাঃ
৩৫ কিতাব বাদউল খালক, বাব মাযায়া ফী সিফাতিল জান্নাহ।
৩৬ আবওয়াব সিফাতিল জান্নাহ, বাব মাযায়া ফী সিফা আসজারিল জান্নাহ।
৩৭ কিতাবুল ফিতান, বাব সিফাতিল জান্নাহ ওয়া আহলিহা।
৩৮ কিতাবুল আদব, বাব ফাযলিত্তাসবিহ (২/৩০২৯)
৩৯ আলবানী রচিত সিলসিলা আহাদীস সহীহা। খ. ৩, হাদীস নং-১৯৫৮।
৪০ আলবানী রচিত সিলসিলা আহাদীস সহীহা। খ. ৩, হাদীস নং-১৯৫৮।
📄 জান্নাতের ফলসমূহ
(মহান আল্লাহর নিকট এ কামনা করি যেন তিনি স্বীয় দয়া ও অনুগ্রহে আমাদেরকে তা খাওয়ার তাওকীক দান করেন।)
মাসআলা-১৪৩: জান্নাতের ফল জান্নাতীদের জন্য যথেষ্ট পরিমাণে থাকবে:
মাসআলা-১৪৪: জান্নাতে মৌসুমী প্রত্যেক ফল সর্বদাই থাকবে:
মাসআলা-১৪৫: জান্নাতের ফল ভোগ করার জন্য কারো নিকট থেকে অনুমতি নিতে হবে না।
মাসআলা-১৪৬: জান্নাতের ফলের মজুদ কখনো শেষে হবে না:
মাসআলা-১৪৭: জান্নাতের ফল কখনো নষ্ট হবে না:
মাসআলা-১৪৮: কলা ও বরই জান্নাতের ফল:
وَأَصْحَابُ الْيَمِينِ مَا أَصْحَابُ الْيَمِينِ . فِي سِدْرٍ مَخْضُودٍ - وَطَلْحٍ مَنْضُودٍ . وَظِلٍ مَّمْدُودٍ - وَمَاءٍ مَّسْكُوبٍ - وَفَاكِهَةٍ كَثِيرَةٍ
অর্থ: "আর ডান দিকের দল কত ভাগ্যবান ডান দিকের দল। তারা থাকবে (এক উদ্যানে) সেখানে আছে কন্টকহীন কুল বৃক্ষ। কাঁদি ভরা কলা বৃক্ষ। সম্প্রসারিত ছায়া, সদা প্রবাহমান পানি ও প্রচুর ফলমূল। (সূরা ওয়াকিয়াহ: ২৭-৩২)
أُكُلُهَا دَائِمٌ وِظِلُّهَا تِلْكَ عُقْبَى الَّذِينَ اتَّقَوا
অর্থ: "যারা মুত্তাকী এটা তাদের কর্মফল, আর কাফিদের কর্মফল অগ্নি।" (সূরা রাআদ: ৩৫)
মাসআলা-১৪৯: জান্নাতে প্রত্যেক জান্নাতীর পছন্দ মতো সর্বপ্রকার ফল মূল মজুদ থাকবে:
إِنَّ الْمُتَّقِينَ فِي ظِلالٍ وَعُيُونٍ ، وَفَوَاكِهَ مِمَّا يَشْتَهُونَ - كُلُوا وَاشْرَبُوا هَنِيئاً بِمَا كُنتُمْ تَعْمَلُونَ إِنَّا كَذلِكَ نَجْزِي الْمُحْسِنِينَ
অর্থ: নিশ্চয় মুত্তাকীরা থাকবে ছায়া ও ঝর্ণাবহুল স্থানে, আর নিজেদের বাসনানুযায়ী ফলমূল-এর মাধ্যে। (তাদেরকে বলা হবে) 'তোমরা যে আমল করতে তার প্রতিদানস্বরূপ তৃপ্তির সাথে পানাহার করো; সৎকর্মশীলদের আমরা এমন-ই প্রতিদান দিয়ে থাকি। (সূরা মুরসালাত ৭৭:৪১-৪৪)
মাসআলা-১৫০: জান্নাতের ফল সর্বদা জান্নাতীদের নাগালের মধ্যে থাকবে, দাড়িয়ে, বসে, চলা ফিরা করা অবস্থায়, যখন খুশি তখনই তা তারা ভক্ষণ করতে পারবে:
وَدَانِيَةً عَلَيْهِمْ ظِلالُهَا وَذُلِّلَتْ قُطُوفُهَا تَذْلِيلاً
অর্থ: "সন্নিহিত বৃক্ষছায়া তাদের উপর থাকবে এবং তার ফলমূল সম্পূর্ণরূপে তাদের আয়ত্বাধীন করা হবে।" (সূরা দাহর: ১৪)
মাসআলা-১৫১: জান্নাতের খেজুর মটকা বা বালতির মত হবে যা দুধ থেকেও সাদা, মধু থেকেও মিষ্টি, মাখন থেকেও নরম: নোট" এ সংক্রান্ত হাদীস ১৩৭ নং মাসআলায় দেখুন।
মাসআলা-১৫২: জান্নাতের ফলের শীষ এতো বড় হবে যে, তা যদি পৃথিবীতে আসতো তাহলে সাহাবাগণ কিয়ামত পর্যন্ত তা খেয়ে শেষ করতে পারত না:
عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا فِي حَدِيثِ صَلَاةِ الْكُسُوفِ قَالُوا : يَا رَسُولَ اللَّهِ، رَأَيْنَاكَ تَنَاوَلْتَ شَيْئًا فِي مَقَامِكَ، ثُمَّ رَأَيْنَاكَ تَكَعْكَعْتَ. قَالَ: «إِنِّي أُرِيتُ الْجَنَّةَ، فَتَنَاوَلْتُ مِنْهَا عُنْقُودًا، وَلَوْ أَخَذْتُهُ لَأَكَلْتُمْ مِنْهُ مَا بَقِيَتِ الدُّنْيَا»
অর্থ: "আবদুল্লাহ বিন আব্বাস (রা) থেকে সূর্যগ্রহণের নামায সম্পর্কে বর্ণিত হাদীস এসেছে যে, সাহাবাগ রাসূল ﷺ কে জিজ্ঞেস করলো: ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমরা আপনাকে (নামাযের সময়) দেখলাম যেন আপনি কোনো কিছু নিতে যাচ্ছিলেন কিন্তু আবার থেমে গেলেন। তিনি বললেন: আমি জান্নাত দেখছিলাম আর তার একটি শীষ নিতে চাইলাম, কিন্তু যদি আমি তা নিতাম তাহলে তোমরা যত দিন দুনিয়ায় থাকতে ততদিন তোমরা তা খেতে পারতে।” (বুখারী ১/৭৪৮)৪১
মাসআলা-১৫৩: জান্নাতের একটি শীষ যদি পৃথিবীতে আসতো তাহলে আকাশ ও যমীনের সমস্ত মাখলুক তা খেয়ে শেষ করতে পারতো না:
عَنْ جَابِرٍ ﷺ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : "إِنِّي عُرِضَتْ عَلَيَّ الْجَنَّةُ وَمَا فِيهَا مِنَ الزَّهْرَةِ وَالنَّضْرَةِ، فَتَنَاوَلْتُ مِنْهَا قِطْفًا مِنْ عِنَبٍ لَآتِيَكُمْ بِهِ، فَحِيلَ بَيْنِي وَبَيْنَهُ، وَلَوْ أَتَيْتُكُمْ بِهِ لَأَكَلَ مِنْهُ مِنْ بَيْنِ السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ لَا يَنْقُصُونَهُ"
অর্থ: "যাবের (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ বলেছেন: আমার সামনে জান্নাত ও তাতে বিদ্যমান সমস্ত নিআমত পেশ করা হলো, ফল-ফুল, সবুজ সজিব জিনিসসমূহ। আমি তোমাদের জন্য ওখান থেকে আঙ্গুরের একটি থোকা নিতে চাইলাম, কিন্তু আমাকে থামিয়ে দেয়া হলো, যদি ঐ থোকাটি তোমাদের জন্য নিয়ে আসতাম তা হলে আকাশ ও যমীনের সমস্ত সৃষ্টি জীব যদি তা খেত তাহলে তা খেয়ে শেষ করতে পারতো না।” (আহমদ) ৪২
নোট: জান্নাতের নিআমত সম্পর্কে বর্ণিত এ সমস্ত হাদীস অন্তত মুসলমানদের জন্য কোনো আশ্চার্য বিষয় নয়। যারা গত ছয় হাজার বছর থেকে জমজম কূপকে প্রবাহিত হতে দেখে আসছে, যা থেকে সমস্ত পৃথিবীর মানুষ উপকৃত হচ্ছে, রমযান ও হজ্জ এর সময় সমস্ত মানুষ প্রত্যেক ব্যক্তি স্ব-চোখে তা অবলোকন করে, লোকেরা শুধু আত্মতৃপ্তির সাথে তা পান করে তাই নয়, বরং স্ব স্ব এলাকায় প্রত্যাবর্তন কালে বাধাহীনভাবে যার যত খুশি সে তত পরিমাণে নিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু এরপরও পানির মধ্যে কখনো কোনো কমতি হচ্ছে না বা শেষও হচ্ছে না। আর কিয়ামত পর্যন্ত এ পানি এভাবেই ব্যবহৃত হতে থাকবে। (সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি সুবহানাল্লাহিল আযীম)।
মাসআলা-১৫৪: খেজুর, আনার ও আঙ্গুর জান্নাতের ফল: নোট: এ সম্পর্কে বর্ণিত হাদীসটি ১২৮ নং মাসআলায় দেখুন।
মাসআলা-১৫৫: আনজীর জান্নাতী ফল:
মাসআলা-১৫৬: জান্নাতের সমস্ত ফল আটিহীন হবে:
عَنْ البِي الدَّرْدَاءِ أُهْدِى إِلَى النَّبِيِّ ﷺ طَبَقٌ مِنْ تِينٍ فَقَالَ كُلُوا وَأَكَلَ مِنْهُ وَقَالَ لَوا فَلَوْ قُلْتُ إِنَّ فَاكِهَةً نَزَلَتْ مِنَ الْجَنَّةِ لَقُلْتُ هَذِهِ لِأَنَّ فَاكِهَةَ الْجَنَّةِ بِلَا عَجَمٍ فَكُلُوا مِنْهَا فَإِنَّهَا تَقْطَعُ الْبَوَاسِيرَ وَتَنْفَعُ مِنَ النُّفُوسِ .
অর্থ: "আবু দারদা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: নবী কে এক প্লেট আনজীরা হাদীয়া দেয়া হলো, তিনি বললেন: খাও, তিনি নিজেও তা থেকে খেলেন, আর বললেন: যদি আমি কোনো ফল সম্পর্কে বলি যে, এটা জান্নাত থেকে আগত ফল, তাহলে এই সেই ফল, কেননা জান্নাতের ফল আটি বিহীন হবে। অতএব খাও, আনজীর অশ্বরোগের ঔষধ, আর তা গ্রন্থির ব্যাথা দূর করে। (ইবনে কায়্যিম তার তিব্বুনন্নবুবীতে তা উল্লেখ করেছেন।) ৪৩
মাসআলা-১৫৭: জান্নাতী যখন কোনো বৃক্ষের ফল পাড়বে তখন সাথে সাথে ওখানে আরেকটি নতুন ফল হয়ে যাবে:
عَنْ ثَوْبَانَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنَّ الرَّجُلَ إِذَا نَزَعَ ثَمَرَةً مِنَ الْجَنَّةِ عَادَتْ مَكَانَهَا أُخْرَى»
অর্থ: "সাওবান (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলূল্লাহ বলেছেন: যখন কোনো ব্যক্তি জান্নাতের কোনো ফল পাড়বে তখন তার স্থলে অন্য একটি ফল হয়ে যাবে।” (ত্ববারানী) ৪৪
টিকাঃ
৪১ কিতাব সালাতিল খুসুফ।
৪২ অনে নেহায়া লিইবনে কাসীর, (২/৩৬৭)
৪৩ তিব্বুন নববী পৃ, ৩১৮।
৪৪ মাজমাউয্যাওয়ায়েদ (১০/৪১৪)