📄 জান্নাতের অট্টালিকাসমূহ
মাসআলা-১০৭: জান্নাতের অট্টালিকাসমূহ সর্বপ্রকার ছোট বড় নাপাকী এবং ময়লা-আবর্জনা থেকে পাক-পবিত্র থাকবে:
وَعَدَ اللَّهُ الْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَاتِ جَنَّاتٍ تَجْرِي مِنْ تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا وَمَسَاكِنَ طَيِّبَةً فِي جَنَّاتِ عَدْنٍ وَرِضْوَانٌ مِّنَ اللَّهِ أَكْبَرُ ذَلِكَ هُوَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ
অর্থ: আল্লাহ মু'মিন পুরুষ ও মু'মিন নারীদেরকে জান্নাতের ওয়াদা দিয়েছেন, যার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হবে নহরসমূহ, তাতে তারা চিরদিন থাকবে এবং (ওয়াদা দিচ্ছেন) স্থায়ী জান্নাতসমূহে পবিত্র বাসস্থানসমূহের। আর আল্লাহর পক্ষ থেকে সন্তুষ্টি সবচেয়ে বড়। এটাই মহাসফলতা। (সূরা তওবা ৯:৭২)
মাসআলা-১০৮: জান্নাতের অট্টালিকাসমূহে সমস্ত প্লেটসমূহ হবে সোনা-চাঁদির:
মাসআলা-১০৯: জান্নাতীদের অট্টালিকাসমূহে সর্বদা চন্দন কাঠ জ্বলতে থাকবে, যার ফলে তাদের অট্টালিকাসমূহ সুঘ্রাণযুক্ত হবে:
মাসআলা-১১০: জান্নাতীদের ঘাম থেকে মেশক আম্বরের ঘ্রাণ আসবে:
মাসআলা-১১১: জান্নাতে থুথু, নাকের পানি, পায়খানা পেসাব হবে না:
আসআলা-১১২: সমস্ত জান্নাতী শোকরগুজার হবে কেউ কারো প্রতি কোনো হিংসা-বিদ্বেষ রাখবে না:
মাসআলা-১১৩: জান্নাতীরা প্রত্যেক শ্বাস-প্রশ্বাসে আল্লাহর প্রশংসা ও তাসবীহ পাঠ করবে:
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : «أَوَّلُ زُمْرَةٍ تَلِجُ الْجَنَّةَ صُورَتُهُمْ عَلَى صُورَةِ الْقَمَرِ لَيْلَةَ الْبَدْرِ ، لَا يَبْصُقُونَ فِيهَا ، وَلَا يَسْتَخِطُونَ، وَلَا يَتَغَوَّطُونَ ، آنِيَتُهُمْ فِيهَا الذَّهَبُ، أَمْشَاطُهُمْ مِنَ الذَّهَبِ وَالْفِضَّةِ، وَمَجَامِرُهُمُ الأَلُوَّةُ، وَرَشْحُهُمُ الْمِسْكُ، وَلِكُلِّ وَاحِدٍ مِنْهُمْ زَوْجَتَانِ، يُرَى مُخُ سُوقِهِمَا مِنْ وَرَاءِ اللَّحْمِ مِنَ الْحُسْنِ، لَا اخْتِلافَ بَيْنَهُمْ وَلَا تَبَاغُضَ، قُلُوبُهُمْ قَلْبٌ رَجُلٌ وَاحِدٌ يُسَبِّحُونَ اللَّهَ بُكْرَةً وَعَشِيًّا»
অর্থ: "আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ বলেছেন: জান্নাতে সর্বপ্রথম প্রবেশকারী দলটির চেহারা হবে ১৪ তারিখের চাঁদের মতো উজ্জ্বল। তাদের থুথু আসবে না আর না আসবে নাকের পানি। তাদের আংটি থেকে চন্দনের সুগন্ধি আসবে। জান্নাতীদের ঘাম থেকে মেশক আম্বরের সুগন্ধি আসবে। প্রত্যেক জান্নাতীর এমন দু'জন স্ত্রী থাকবে যাদের সৌন্দর্যের কারণে তাদের পায়ের গোছার গোশতের ভিতর দিয়ে হাড্ডির মজ্জা দেখা যাবে। জান্নাতীদের পরস্পরের মাঝে কোনো মতভেদ থাকবে না। না তাদের মাঝে কোনো হিংসা-বিদ্বেষ থাকবে। বরং তারা সমমনা হয়ে সকাল সন্ধ্যা আল্লাহর তাসবিহ পাঠ করবে।” (বুখারী ৪/৩২৪৫)
মাসআলা-১১৪: জান্নাতের অট্টালিকাসমূহ সোনা-চাঁদির ইট দিয়ে নির্মিত হবে:
মাসআলা-১১৫: জান্নাতের কঙ্করসমূহ হবে মোতি ও ইয়াকুতের, আর মাটি হবে জাফরানের:
মাসআলা-১১৬: জান্নাতে মৃত্যু হবে না, জান্নাতী চিরকাল জিবিত থাকবে:
মাসআলা-১১৭: জান্নাতে বার্ধক্যও আসবে না বরং জান্নাতী চিরকাল যুবক থাকবে:
عَن أَبي هُرَيْرَةَ هِ قَالَ: قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ مِمَّ خُلِقَ الْخَلْقُ؟ قَالَ: «مِنَ الْمَاءِ» ، قُلْتُ: الْجَنَّةُ مَا بِنَاؤُهَا؟ قَالَ: «لَبِنَةٌ مِنْ فِضَّةٍ وَلَبِنَةٌ مِنْ ذَهَبٍ. وَمِلَاطُهَا الْمِسْكُ الْأَذْفَرُ، وَحَصْبَاؤُهَا اللُّؤْلُؤُ وَالْيَاقُوتُ، وَتُرْبَتُهَا الزَّعْفَرَانُ مَنْ دَخَلَهَا يَنْعَمُ وَلَا يَبْأَسُ، وَيَخْلُدُ وَلَا يَمُوتُ، لَا تَبْلَى ثِيَابُهُمْ ، وَلَا يَفْنَى شَبَابُهُمْ «
অর্থ: "আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি জিজ্ঞেস করলাম ইয়া রাসূলুল্লাহ! সৃষ্টিকে কি দিয়ে সৃষ্টি করা হয়েছে। রাসূলুল্লাহ বললেন: পানি দিয়ে। আমি জিজ্ঞেস করলাম: জান্নাত কি দিয়ে নির্মিত? তিনি বললেন: একটি ইট চাঁদির এবং আরেকটি ইট স্বর্ণের। তার সিমেন্ট সুগন্ধি যুক্ত মেশক আম্বর। তার কঙ্কর মোতি ও ইয়াকুতের। তার মাটি জাফরানের। যে ব্যক্তি সেখানে প্রবেশ করবে সে জীবন যাপন করবে, কোনো কষ্ট তার দৃষ্টিগোচর হবে না। চিরকাল জিবিত থাকবে মৃত্যু হবে না। জান্নাতীদের কাপড় কখনো পুরানো হবে না। আর তাদের যৌবন কখনো বিনষ্ট হবে না। (তিরমিযী) ২৯
মাসআলা-১১৮: জান্নাতে আদন আল্লাহ স্বীয় হাতে নির্মাণ করেছেন:
মাসআলা-১১৯: জান্নাতে আদনের অট্টালিকাসমূহ এক ইট হবে সাদা মোতির আরেক ইট হবে কাল মোতির, এক ইট হবে লাল ইয়াকুতের আরেক ইট হবে সবুজ পান্নার। তার মাটি হবে মেশকের, তার কনকর হবে মুক্তার, তার ঘাস হবে জাফরানের:
عَنْ أَنَسِ هُ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : خَلَقَ اللهُ جَنَّةَ عَدْنٍ بِيَدِهِ، لَبِنَةً مِنْ دُرَّة بَيْضَاءَ، وَلَبِنَةً مِنْ يَأْقُوتَةٍ حَمْرَاءَ. وَلَبِنَةً مِنْ زَبَرْجَدَةً خَضْرَاءَ مِلَاحُهَا الْمِسْكُ، وَحَصْبَاؤُهَا اللُّؤْلُؤُ وَحَشِيشُهَا الزَّعْفَرَانُ ثُمَّ قَالَ لَهَا: انطِقِي قَالَتْ: قَدْ أَفْلَحَ الْمُؤْمِنُونَ عَزَّ وَجَلٌ فَقَالَ اللهُ: وَعِزَّتِي، وَجَلَالِي لَا يُجَاوِرُنِي فِيكِ بَخِيلٌ ثُمَّ تَلَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : وَمَنْ يُوقَ شُحَّ نَفْسِهِ فَأُوْلَئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ
অর্থ: "আনাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ বলেছেন: জান্নাতে আদন আল্লাহ স্বীয় হস্তে নির্মাণ করেছেন। যার একটি ইট সাদা মোতি, আরেকটি লাল ইয়াকুতের, আর অপরটি সবুজ পান্নার। তার মাটি মেশকের তার কঙ্করসমূহ মুক্তার, আর ঘাসসমূহ জাফরানের। জান্নাত নির্মাণের পর, আল্লাহ জান্নাতকে জিজ্ঞেস করলেন কিছু বল: জান্নাত বলল ঈমানদার লোকেরা মুক্তি পেয়েছে। অতপর আল্লাহ এরশাদ করেন: আমার ইজ্জত ও মর্যাদার কসম! কোনো বখীল তোমার মাঝে প্রবেশ করবে না। অতপর রাসূলুল্লাহ এ আয়াত পাঠ করলেন: যে ব্যক্তি কার্পণ্য থেকে নিজেদেরকে মুক্ত করেছে তারাই সফলকাম। (সূরা হাশর: ৯)০০
নোট: উল্লেখিত হাদীসে বখীল অর্থ যারা যাকাত প্রদান করে না।
মাসআলা-১২০: জান্নাতের কোনো কোনো অট্টালিকায় স্বর্ণের বাগান থাকবে, যার প্রত্যেকটি জিনিস স্বর্ণের হবে। আবার কোনো কোনো অট্টালিকায় চাদির বাগান থাকবে যার প্রত্যেকটি জিনিস চাঁদির হবে:
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ قَيْسٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: جَنَّتَانِ مِنْ فِضَّةٍ آنِيَتُهُمَا، وَمَا فِيهِمَا ، وَجَنَّتَانِ مِنْ ذَهَبٍ آنِيَتُهُمَا، وَمَا فِيهِمَا، وَمَا بَيْنَ الْقَوْمِ وَبَيْنَ أَنْ يَنْظُرُوا إِلَى رَبِّهِمْ إِلَّا رِدَاءُ الْكِبْرِيَاءِ عَلَى وَجْهِهِ فِي جَنَّةِ عَدْنٍ»
অর্থ: "আবদুল্লাহ বিন কায়েস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ বলেছেন: দু'টি বাগান হবে চাঁদির, যার পাত্র এবং সবকিছুই হবে চাঁদির। দু'টি বাগান হবে স্বর্ণের, যার পাত্র এবং সবকিছুই হবে স্বর্ণের। মানুষের জন্য জান্নাতে আদনে আল্লাহকে দেখার ব্যাপারে কোনো বাধা থাকবে না তবে একমাত্র তাঁর মহানুভবতার চাদর, যা তাঁর চেহারার উপর থাকবে।" (মুসলিম ১/১৮০)০১
মাসআলা-১২১: জান্নাতের অট্টালিকাসমূহে সাদা মোতির নির্মিত, বড় বড় সুন্দর গম্বুজ নির্মাণ করা হয়েছে:
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ اللهِ فِي حَدِيثِ أَلا سَرَاءِ قَالَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ثُمَّ أُدْخِلْتُ الْجَنَّةَ، فَإِذَا فِيهَا جَنَابِنُ اللُّؤْلُؤً، وَإِذَا تُرَابُهَا الْمِسْكُ
অর্থ: "আনাস বিন মালেক (রা) থেকে মেরাজের হাদীসে বর্ণিত হয়েছে, রাসূলুল্লাহ বলেছেন: অতপর আমাকে জান্নাতে নিয়ে যাওয়া হলো, যাতে সাদা মোতির নির্মিত গম্বুজ আছে, আর তার মাটি হলো মেশক আম্বরের।" (মুসলিম) ৩২
টিকাঃ
২৯ আবওয়া সিফাতিল জান্না, বাব মাযায়া ফী সিফাতিল জান্না ওয়া নায়ীমিহা। (২/২০৫০)
৩০ ইবনু আবুদ্দুনিয়া, আন নিহায়া লি ইবনে কাসীর, খ. ২ (হাদীস নং-৩৫২)
৩১ কিতাবুল ঈমান, বাব ইসবাাত রুইয়াতুল মু'মিনীন ফীল জান্না রাব্বাহুম সুবহানাহু ওয়া তাআলা।
৩২ কিতাবুল ঈমান, বাব ইসরা বিরাসলিল্লা ইলাযসামাওয়াত।
📄 জান্নাতের তাবূসমূহ
মাসআলা-১২২: প্রত্যেক জান্নাতীর অট্টালিকায় তাবু থাকবে যেখানে হুরেরা অবস্থান করবে:
حُورٌ مَّقْصُورَاتٌ فِي الْخِيَامِ فَبِأَيِّ آلَاءِ رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ
অর্থ: "তারা তাঁবুতে সুরক্ষিত হুর, অতএব তোমরা উভয়ে তোমাদের প্রতিপালকের কোনো কোনো অনুগ্রহকে অস্বীকার করবে।" (সূরা রহমান: ৭২-৭৩)
মাসআলা-১২৩: জান্নাতের প্রতিটি তাবু ৬০ মাইল প্রশস্ত হবে। ভিতরে খুব সুন্দর মোতি খোদাই করে নির্মাণ করা হয়েছে:
মাসআলা-১২৪: ঐ তাবুসমূহে জান্নাতীদের স্ত্রীরা থাকবে যারা সর্বদাই তাদের (স্বামীদের) আগমনের অপেক্ষায় অপেক্ষমান থাকবে:
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ قَيْسٍ هُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «فِي الْجَنَّةِ خَيْمَةٌ مِنْ لُؤْلُؤَةٍ مُجَوَّفَةٍ عَرْضُهَا سِتُّونَ مِيلًا، فِي كُلِّ زَاوِيَةٍ مِنْهَا أَهْلٌ ، مَا يَرَوْنَ الْآخَرِينَ، يَطُوفُ عَلَيْهِمِ الْمُؤْمِنُ»
অর্থ: "আবদুল্লাহ বিন কায়েস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ বলেছেন: জান্নাতে মোতি খচিত একটি তাবু থাকবে, যার প্রশস্ততা হবে ষাট মাইল, ঐ তাবুর প্রত্যেক কর্ণারে অবস্থান করবে মু'মিনের স্ত্রীরা। যাদেরকে অন্য অট্টালিকার লোকেরা দূরত্ব এবং প্রশস্ততার কারণে দেখতে পাবে না। মু'মিন ব্যক্তি এ স্ত্রীদের মাঝে ঘুরে বেড়াবে। (মুসলিম ৪/২৮৩৮)৩০
টিকাঃ
৩০ কিতাবুল জান্না ওয়া সিফাতু নায়ীমিহা।
📄 জান্নাতের বাজার
মাসআলা-১২৫: জান্নাতে প্রত্যেক জুমার দিন বাজার জমবে:
মাসআলা-১২৬: জুমার দিন বাজারে অংশগ্রহণকারী জান্নাতীদের সৌন্দর্য পূর্ব থেকে বেশি হবে:
মাসআলা-১২৭: মহিলারা শুক্রবারের বাজারে উপস্থিত হবেনা কিন্তু ঘরে বসে থাকা অবস্থায়ই আল্লাহ তাদের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে দিবেন:
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ هُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: " إِنَّ فِي الْجَنَّةِ لَسُوقًا، يَأْتُونَهَا كُلَّ جُمُعَةٍ، فَتَهُبُّ رِيحُ الشَّمَالِ فَتَحْتُو فِي وُجُوهِهِمْ وَثِيَابِهِمْ ، فَيَزْدَادُونَ حُسْنًا وَجَمَالًا، فَيَرْجِعُونَ إِلَى أَهْلِيْهِمْ وَقَدِ ازْدَادُوا حُسْنًا وَجَمَالًا، فَيَقُولُ لَهُمْ أَهْلُهُمْ : وَاللَّهِ لَقَدِ ازْدَدْتُمْ بَعْدَنَا حُسْنًا وَجَمَالًا، فَيَقُولُونَ : وَأَنْتُمْ ، وَاللَّهِ لَقَدِ ازْدَدْتُمْ بَعْدَنَا حُسْنًا وَجَمَالًا "
অর্থ: "আনাস বিন মালেক (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ বলেছেন: জান্নাতে একটি বাজার আছে, যেখানে প্রত্যেক শুক্রবারে জান্নাতীরা উপস্থিত হবে। উত্তর দিক থেকে একটি বাতাস এসে যখন জান্নাতীদের শরীর ও পোশাকে লাগবে তখন তা তাদের সৌন্দর্যকে আরো বৃদ্ধি করবে। যখন তারা সেখান থেকে তাদের ঘরে ফিরে আসবে তখন (এসে দেখবে যে) তাদের স্ত্রীদের সৌন্দর্যও আগের চেয়ে বৃদ্ধি পেয়েছে, স্ত্রীরা স্বামীদেরকে বলবে যে আল্লাহর কসম! আমাদেরকে ছেড়ে যাওয়ার পর তোমাদের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পেয়েছে, জান্নাতীরা বলবে: আল্লাহর কসম আমাদের অনুপস্থিতিতে তোমাদের সৌন্দর্যও বৃদ্ধি পেয়েছে।" (মুসলিম ৪/২৮৩৩)৩৪
টিকাঃ
৩৪ কিতাবুল জান্নাহ ওয়া সিফাতু নায়ীমিহা।
📄 জান্নাতের বৃক্ষসমূহ
মাসআলা-১২৮: জান্নাতে সর্বপ্রকার ফলের গাছ থাকবে, তবে খেজুর, আনার আঙ্গুরের গাছ বেশি পরিমাণে থাকবে: (আল্লাহই এ ব্যাপারে সর্বাধিক জ্ঞাত)
فِيهِمَا فَاكِهَةٌ وَنَخْلٌ وَرُمَّانٌ ، فَبِأَيِّ آلَاءِ رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ
অর্থ: "সেখানে রয়েছে ফলমূল, খেজুর ও আনার। সুতরাং তোমরা উভয়ে তোমাদের প্রতিপালকের কোনো কোনো অনুগ্রহ অস্বীকার করবে।" (সূরা রহমান: ৬৮,৬৯)
إِنَّ لِلْمُتَّقِينَ مَفَازًا - حَدَائِقَ وَأَعْنَابِاً
অর্থ: "এবং নিশ্চয়ই মুত্তাকীনদের জন্যই সফলতা, (সুশোভিত) উদ্যানসমূহ ও নানাবিধ আঙ্গুর।” (সূরা নাবা: ৩১-৩২)
মাসআলা-১২৯: জান্নাতের বৃক্ষ কাটাবিহীন হবে:
মাসআলা-১৩০: কলা ও বরই জান্নাতের বৃক্ষ:
মাসআলা-১৩১: জান্নাতের বৃক্ষসমূহের ছায়া অনেক লম্বা হবে:
وَأَصْحَابُ الْيَمِينِ مَا أَصْحَابُ الْيَمِينِ - فِي سِدْرٍ مَّخْضُودٍ - وَطَلْحٍ مَنْضُودٍ . وَظِلٍ مَمْدُودٍ ، وَمَاءٍ مَّسْكُوبٍ ، وَفَاكِهَةٍ كَثِيرَةٍ
অর্থ: "আর ডান দিকের দল কত ভাগ্যবান ডান দিকের দল। তারা থাকবে (এক উদ্যানে) সেখানে আছে কন্টকহীন কুল বৃক্ষ। কাঁদি ভরা কলা বৃক্ষ। সম্প্রসারিত ছায়া, সদা প্রবাহমান পানি ও প্রচুর ফলমূল। (সূরা ওয়াকিয়াহ: ২৭-৩২)
أُكُلُهَا دَائِمٌ وِظِلُّهَا تِلْكَ عُقْبَى الَّذِينَ اتَّقَوا
অর্থ: "যারা মুত্তাকী এটা তাদের কর্মফল, আর কাফিদের কর্মফল অগ্নি।" (সূরা রাআদ: ৩৫)
মাসআলা-১৩২: জান্নাতের বৃক্ষসমূহ এতো সবুজ হবে যে, তাদের রং সবুজ কাল মিশ্রিত হবে:
মাসআলা-১৩৩: জান্নাতের বৃক্ষসমূহ সর্বদা শস্য-শ্যামল থাকবে:
مُدْهَا مَتَانِ فَبِأَيِّ آلَاءِ رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ
অর্থ: "ঘন সবুজ এ উদ্যান দু'টি, সুতরাং তোমরা উভয়ে তোমাদের প্রভুর কোনো অনুগ্রহকে অস্বীকার করবে।" (সূরা রহমান: ৬৪-৬৫)
মাসআলা-১৩৪: জান্নাতের বৃক্ষসমূহের শাখাসমূহ শস্য-শ্যামল, লম্বা ও ঘন হবে:
ذَوَاتَا أَفْنَانٍ فَبِأَيِّ آلَاءِ رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ
অর্থ: "উভয়টিই বহু শাখাপল্লব বিশিষ্ট বৃক্ষে পূর্ণ। সুতরাং তোমরা উভয়ে তোমাদের প্রভুর কোনো কোনো অনুগ্রহকে অস্বীকার করবে।" (সূরা রহমান: ৪৮-৪৯)
মাসআলা-১৩৫: জান্নাতের একটি বৃক্ষের ছায়া এতো লম্বা হবে যে, উষ্ট্রারোহী একাধারে শতবছর চলার পরও ঐ ছায়া শেষ হবে না:
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، قَالَ: " إِنَّ فِي الْجَنَّةِ لَشَجَرَةٌ يَسِيرُ الرَّاكِبُ فِي ظِلْهَا مِائَةَ سَنَةٍ، وَاقْرَءُوا إِنْ شِئْتُمْ {وَظِلَّ مَمْدُودٍ} وَلَقَابُ قَوْسِ أَحَدِكُمْ فِي الْجَنَّةِ خَيْرٌ مِمَّا طَلَعَتْ عَلَيْهِ الشَّمْسُ أَوْ تَغْرُبُ"
অর্থ: "আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলূল্লাহ বলেছেন: জান্নাতে একটি বৃক্ষ আছে যার ছায়ায় কোনো অশ্বারোহী শত বছর চলার পরও শেষ প্রান্তে পৌঁছতে পারবে না। যদি চাও তাহলে পাঠ কর (সূরা রহমানের আয়াত) "লম্বা ছায়া" জান্নাতে কোনো ব্যক্তির ধনুক রাখার সমান জায়গা দুনিয়ার সবকিছু থেকে উত্তম, যার মাঝে সূর্য উদিত হয় ও অস্তমিত হয়।” (বুখারী ৪/৩২৫২)৩৫
মাসআলা-১৩৬: জান্নাতের সমস্ত বৃক্ষের মূল স্বর্ণের হবে:
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ﷺ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَا فِي الْجَنَّةِ شَجَرَةٌ إِلَّا وَسَاقُهَا مِنْ ذَهَبٍ»
অর্থ: "আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ বলেছেন: জান্নাতের প্রতিটি বৃক্ষের মূল হবে স্বর্ণের। (তিরমিযী ৪/২৫২৫)৩৬
মাসআলা-১৩৭: কোনো কোনো খেজুর গাছের মূল সবুজ পান্নার হবে, আর তার শাখার মূলগুলো হবে লাল বর্ণের:
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ : نَخْلُ الْجَنَّةِ جُذُوعُهَا زُمُرُّدٌ أَخْضَرُ، وَوَرَقُهَا ذَهَبٌ أَحْمَرُ ، وَسَعَفُهَا كِسْوَةً لِأَهْلِ الْجَنَّةِ مِنْهَا مُقَطَّعَاتُهُمْ وَحُلَلُهُمْ. وَثَمَرُهَا أَمْثَالُ الْقِلَالِ أَوِ الدِّلَاةِ أَشَدُّ بَيَاضًا مِنَ اللَّبَنِ وَأَحْلَى مِنَ الْعَسَلِ وَأَلْيَنُ مِنَ الزُّبْرِ لَيْسَ لَهُ عَجَمٌ
অর্থ: "ইবনে আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: জান্নাতের খেজুর গাছের মূল সবুজ পান্নার হবে, আর তার শাখার মূলগুলো হবে লাল বর্ণের। আর তা দিয়ে জান্নাতীদের পোশাক তৈরী করা হবে। ঐ খেজুর মটকা বা বালতির মতো হবে যা দুধ থেকে সাদা, মধু থেকেও মিষ্টি, মাখন থেকেও নরম, মোটেও শক্ত হবে না।" (শারহুসসুন্না)৩৭
মাসআলা-১৩৮: যে তাসবির সওয়াব জান্নাতে চারটি উত্তম বৃক্ষ রোপন হবে:
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ مَرَّ بِهِ وَهُوَ يَغْرِسُ غَرْسًا، فَقَالَ: «يَا أَبَا هُرَيْرَةَ، مَا الَّذِي تَغْرِسُ؟» قُلْتُ: غِرَاسًا لِي، قَالَ: «أَلَا أَدُلُّكَ عَلَى غِرَاسٍ خَيْرٍ لَكَ مِنْ هَذَا؟» قَالَ: بَلَى يَا رَسُولَ اللَّهِ، قَالَ: " قُلْ : سُبْحَانَ اللَّهِ، وَالْحَمْدُ لِلَّهِ ، وَلَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَاللَّهُ أَكْبَرُ، يُغْرَسُ لَكَ بِكُلِّ وَاحِدَةٍ شَجَرَةٌ فِي الْجَنَّةِ
অর্থ: "আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি একটি বৃক্ষ রোপন করতেছিলেন, এমন সময় তার পাশ দিয়ে রাসূলুল্লাহ ﷺ পথ অতিক্রম করছিলেন, তিনি জিজ্ঞেস করলেন হে আবু হুরাইরা! তুমি কি রোপণ করতেছো? তিনি বললেন আমার জন্য একটি গাছ লাগাচ্ছি। তিনি বললেন: আমি কি তোমাকে এর চেয়ে উত্তম বৃক্ষ রোপনের জন্য বলবো না? সে বললো হ্যাঁ হে আল্লাহর রাসূল ﷺ! তিনি বললেন: বলো: সুবহানাল্লাহ, ওয়াল হামদুলিল্লাহ, ওয়া লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু আল্লাহু আকবার, এই প্রত্যেকটি শব্দের বিনিময়ে তোমাদের জন্য জান্নাতে একটি করে বৃক্ষ রোপন করা হবে।" (ইবনে মাজা ২/৩৮০৭)৩৮
মাসআলা-১৩৯: যে তাসবির সাওয়াব জান্নাতে খেজুর বৃক্ষরোপনের পরিমাণ:
عَنْ جَابِرٍ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، قَالَ: " مَنْ قَالَ: سُبْحَانَ اللَّهِ الْعَظِيمِ وَبِحَمْدِهِ، غُرِسَتْ لَهُ نَخْلَةٌ فِي الْجَنَّةِ "
অর্থ: "আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ বলেছেন: যে ব্যক্তি বলে সুবহানাল্লাহিল আযীম ওয়া বিহামদিহি, তার জন্য জান্নাতে একটি খেজুর বৃক্ষ রোপন করা হয়।” (তিরমিযী ৫/৩৪৬৪)৩৯
মাসআলা-১৪০: তুবা জান্নাতের একটি বৃক্ষের নাম, যার ছায়া শতবছরের রাস্তার সমান:
মাসআলা-১৪১: তুবা বৃক্ষের ফলের শীষ দিয়ে জান্নাতীদের পোশাক তৈরী করা হবে:
عَنْ أَبِي سَعِيدِ الْخُدْرِيِّ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ طُوبَى شَجَرَةِ فِي الْجَنَّةِ مَسِيرَتُهَا مِائَةَ عَامِ ثِيَابٌ أَهْلِ الْجَنَّةِ تَخْرُجُ مِنْ أَكْمَامِهَا .
অর্থ: "আবু সাঈদ খুদরী (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বিলেন: রাসূলুল্লাহ বলেছেন: তুবা জান্নাতের একটি বৃক্ষের নাম, যার ছায়া হবে শতবছরের চলার পথের সমান। জান্নাতীদের পোশাক তার শীষ দিয়ে তৈরী করা হবে।" (আহমদ) ৪০
মাসআলা-১৪২: যাইতুন জান্নাতের একটি বৃক্ষের নাম: নোট: এ সংক্রান্ত হাদীস ৪১০ নং মাসআলায় দেখুন।
টিকাঃ
৩৫ কিতাব বাদউল খালক, বাব মাযায়া ফী সিফাতিল জান্নাহ।
৩৬ আবওয়াব সিফাতিল জান্নাহ, বাব মাযায়া ফী সিফা আসজারিল জান্নাহ।
৩৭ কিতাবুল ফিতান, বাব সিফাতিল জান্নাহ ওয়া আহলিহা।
৩৮ কিতাবুল আদব, বাব ফাযলিত্তাসবিহ (২/৩০২৯)
৩৯ আলবানী রচিত সিলসিলা আহাদীস সহীহা। খ. ৩, হাদীস নং-১৯৫৮।
৪০ আলবানী রচিত সিলসিলা আহাদীস সহীহা। খ. ৩, হাদীস নং-১৯৫৮।