📄 জান্নাতের স্তরসমূহ
মাসআলা-৯৭: জান্নাতের উন্নত স্থানসমূহ জান্নাতীদের স্তর অনুযায়ী উঁচু নীচু হয়:
لَكِنِ الَّذِينَ اتَّقَوْا رَبَّهُمْ لَهُمْ غُرَفٌ مِنْ فَوْقِهَا غُرَفٌ مَبْنِيَّةٌ تَجْرِي مِنْ تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ وَعْدَ اللَّهِ لَا يُخْلِفُ اللَّهُ الْمِيعَادَ
অর্থ: "কিন্তু যারা তাদের পালনকর্তাকে ভয় করে, তাদের জন্য নির্মিত রয়েছে প্রাসাদের উপর প্রাসাদ, এগুলোর তলদেশে নদী প্রবাহিত। আল্লাহ প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, আল্লাহ প্রতিশ্রুতি খেলাফ করেন না।” (সূরা যুমার: ২০)
মাসআলা-৯৮: জান্নাতের সর্বোচ্চ সম্মানজনক স্তর "ওসীলা” যার রওনাক বখস হবেন আমাদের প্রিয় নবী:
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ هَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «إِذَا صَلَّيْتُمْ عَلَيَّ فَسَلُوا الْوَسِيلَةَ قَالُوا وَمَا الْوَسِيلَةُ يَا رَسُولَ اللَّهِ؟ قَالَ: «أَعْلَى دَرَجَةٍ فِي الْجَنَّةِ لَا يَنَالُهَا إِلَّا رَجُلٌ وَاحِدٌ، وَأَرْجُو أَنْ أَكُونَ أَنَا هُوَ »
অর্থ: "আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ বলেছেন: যখন তোমরা আমার প্রতি দরূদ পাঠ করবে তখন আল্লাহর নিকট আমার জন্য "ওসীলার" দুআ করবে। সাহাবাগণ জিজ্ঞেস করলেন হে আল্লাহর রাসূল! ওসীলা কি? তিনি বললেন: জান্নাতের মধ্যে সর্বোচ্চ সম্মানজক স্তর, যা শুধু একজন লোকই হাসিল করবে, আর আমি আশা করছি সে ব্যক্তি আমিই হব”। (আহমদ) ২৩
মাসআলা-৯৯: জান্নাতে শত স্তর আর প্রত্যেক স্তরের মাঝে এত দূরত্ব যেমন আকাশ ও যমীনের মাঝে দূরত্ব:
মাসআলা-১০০: জান্নাতের সর্বোচ্চ স্তরের নাম "ফিরদাউস”। যা থেকে জান্নাতের চারটি ঝর্ণা প্রবাহিত।
মাসআলা-১০১: প্রত্যেক মু'মিনের উচিত জান্নাতের সর্বোচ্চ স্তর ফিরদাউস পাওয়ার জন্য দু'আ করা।
মাসআলা-১০২: ফিরদাউসের উপরে আল্লাহর আরশ:
عَنْ عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ اللهُ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «فِي الْجَنَّةِ مِائَةُ دَرَجَةٍ مَا بَيْنَ كُلِّ دَرَجَتَيْنِ كَمَا بَيْنَ السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ وَالْفِرْدَوْسُ أَعْلَاهَا دَرَجَةً وَمِنْهَا تُفَجَّرُ أَنْهَارُ الْجَنَّةِ الْأَرْبَعَةُ، وَمِنْ فَوْقِهَا يَكُونُ الْعَرْشُ، فَإِذَا سَأَلْتُمُ اللَّهَ فَاسْتَلُوهُ الْفِرْدَوْسَ»
অর্থ: "ওবাদা বিন সামিত (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ বলেছেন: জান্নাতে শত স্তর আছে, প্রত্যেক স্তরের মাঝে দূরত্ব হলো আকাশ ও যমীনের দূরত্বের সমান। আর ফিরদাউস তার মধ্যে সর্বোচ্চস্তরে আছে। আর সেখান থেকেই জান্নাতের চারটি ঝর্ণা প্রবাহমান। এর উপরে রয়েছে আরশ। তোমরা আল্লাহর নিকট জান্নাতের জন্য দুআ করলে জান্নাতুল ফিরদাউসের জন্য দুআ করবে। তিরমিযী ৪/২৫৩১)২৪
মাসআলা-১০৩: জান্নাতের নিচের স্তরে অবস্থানকারীরা উপরের স্তরের জান্নাতীদেরকে দেখে মনে করবে এ যেন দূরবর্তী কোনো নক্ষত্র:
عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، قَالَ: «إِنَّ أَهْلَ الْجَنَّةِ يَتَرَاءَوْنَ أَهْلَ الْغُرَفِ مِنْ فَوْقِهِمْ، كَمَا يَتَرَاءَوْنَ الكَوْكَبَ الدُّرِّيَّ الْغَابِرَ فِي الْأُفُقِ، مِنَ الْمَشْرِقِ أَوِ الْمَغْرِبِ لِتَفَاضُلِ مَا بَيْنَهُمْ» قَالُوا يَا رَسُولَ اللهِ ﷺ تِلْكَ مَنَازِلُ الْأَنْبِيَاءِ لَا يَبْلُغُهَا غَيْرُهُمْ، قَالَ: «بَلَى وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ، رِجَالٌ آمَنُوا بِاللَّهِ وَصَدَّقُوا الْمُرْسَلِينَ»
অর্থ: "আবু সাঈদ খুদরী (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ বলেছেন: জান্নাতী লোকেরা তাদের উপরস্ত জান্নাতীদেরকে দেখে মনে করবে যে দূরবর্তী আকাশের পূর্ব বা পশ্চিম প্রান্তের কোনো তারকা চমকাচ্ছে। এত দূরত্ব হবে জান্নাতীদের পরস্পরের স্তরের পার্থক্যের কারণে। সাহাবাগণ বললো হে আল্লাহর রাসূল! ঐ উচ্চস্তরে নবীগণ ব্যতীত আর কেউ পৌঁছতে পারবে। রাসূলুল্লাহ বললেন: কেন নয়, ঐ সত্ত্বার কসম! যার হাতে আমার প্রাণ, তারা ঐ সমস্ত লোক হবে, যারা আল্লাহর প্রতি ঈমান এনেছে এবং তার রাসূলকে সত্য বলে বিশ্বাস করেছে। (বুখারী ৪/৩২৫৬) ২৫
মাসআলা-১০৪: জান্নাতে শতস্তর রয়েছে, আর প্রত্যেক স্তরের মাঝে রয়েছে শতবছরের রাস্তার দূরত্ব:
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ هِ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : «فِي الْجَنَّةِ مِائَةُ دَرَجَةٍ مَا بَيْنَ كُلِّ دَرَجَتَيْنِ مِائَةُ عَامٍ
অর্থ: "আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ বলেছেন: জান্নাতে শতস্তর রয়েছে। আর প্রত্যেক স্তরের মাঝে দূরত্ব হলো শত বছরের। (তিরমিযী ৪/২৫২৯) ২৬
মাসআলা-১০৫: আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যে একে অপরকে মহাব্বত কারীর ঘর (জান্নাতে) পূর্ব প্রান্তে বা পশ্চিম প্রান্তে উদিত উজ্জ্বল তারকার ন্যায় মনে হবে:
عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ ﷺ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : " إِنَّ الْمُتَحَابِّينَ لَتُرَى غُرَفُهُمْ فِي الْجَنَّةِ كَالْكَوْكَبِ الطَّالِعِ الشَّرْقِ أَوِ الْغَرْبِي فَيُقَالُ : مَنْ هَؤُلَاءِ؟ فَيُقَالُ: هُؤُلَاءِ الْمُتَحَابُّونَ فِي اللَّهِ
অর্থ: "আবু সাঈদ খুদরী (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ বলেছেন: আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যে একে অপরকে মহাব্বত কারীর ঘর জান্নাতে তোমরা এমনভাবে দেখতে পাবে যেমন পূর্ব প্রান্তে বা পশ্চিম প্রান্তে উদিত কোনো তারকা। লোকেরা জিজ্ঞেস করবে ইনি কে? তাদেরকে বলা হবে এরা হলো: আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যে একে অপরকে মহাব্বত কারী।" (আহমদ ১৮/১১৮২৯) ২৭
মাসআলা-১০৬: "সাবেকীন”-দের জন্য স্বর্ণের দু'টি করে বাগান আর আসহাবুল ইয়ামিনদের জন্য রূপার দু'টি করে বাগান:
عَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ أَبِي مُوسَى، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ؛ قَالَ: «جَنَّتَانِ مِنْ ذَهَبٍ لِلسَّابِقِينَ، وَجَنَّتَانِ مِنْ وَرِقٍ لِأَصْحَابِ الْيَمِينِ»
অর্থ: আবুবকর বিন আবু মূসা তার পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন রাসূলুল্লাহ বলেছেন: জান্নাতে 'সাবেকীনদের' জন্য দু'টি স্বর্ণের বাগান এবং 'আসহাবুল ইয়ামিনদের' জন্য দু'টি করে রূপার বাগান থাকবে।” (বাইহাকী ৪/১৪১৫)১২৮
নোট: সাবেকীন বলা হয় সর্বপ্রথম ঈমান আনয়নকারীগণকে। আর আসহাবুল ইয়ামিন বলা হয় সমস্ত নেককার লোকদেরকে। সাবেকীনগণ আসহাবুল ইয়ামিন থেকে উত্তম। (এ ব্যাপারে আল্লাহই সর্বাধিক জ্ঞাত)
টিকাঃ
২৩ মুসনাদ আহমদ, হাদীস নং ৭৫৮৮।
২৪ আবওয়াবুল জান্না, বাব মাযায়া ফী সিফাত দারাজাতিল জানুঅ (২/৬০৫৬)
২৫ কিতাবুল জান্না ওয়া সিফাতু নায়ীমিহা।
২৬ আবওয়াবুল জান্না, বাব মাযায়া ফী সিফাত দারাজাতিল জান্না (২/২০৫৪)
২৭ কিতাবু আহলিল জান্না, বাব মানাযিলুল মোতাহাব্বিনা ফীল্লাহি তাআলা।
১২৮ আননিহায়া লি ইবনে কাসীর, খ. ২ হাদীস নং-৩৪৬।
📄 জান্নাতের অট্টালিকাসমূহ
মাসআলা-১০৭: জান্নাতের অট্টালিকাসমূহ সর্বপ্রকার ছোট বড় নাপাকী এবং ময়লা-আবর্জনা থেকে পাক-পবিত্র থাকবে:
وَعَدَ اللَّهُ الْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَاتِ جَنَّاتٍ تَجْرِي مِنْ تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا وَمَسَاكِنَ طَيِّبَةً فِي جَنَّاتِ عَدْنٍ وَرِضْوَانٌ مِّنَ اللَّهِ أَكْبَرُ ذَلِكَ هُوَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ
অর্থ: আল্লাহ মু'মিন পুরুষ ও মু'মিন নারীদেরকে জান্নাতের ওয়াদা দিয়েছেন, যার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হবে নহরসমূহ, তাতে তারা চিরদিন থাকবে এবং (ওয়াদা দিচ্ছেন) স্থায়ী জান্নাতসমূহে পবিত্র বাসস্থানসমূহের। আর আল্লাহর পক্ষ থেকে সন্তুষ্টি সবচেয়ে বড়। এটাই মহাসফলতা। (সূরা তওবা ৯:৭২)
মাসআলা-১০৮: জান্নাতের অট্টালিকাসমূহে সমস্ত প্লেটসমূহ হবে সোনা-চাঁদির:
মাসআলা-১০৯: জান্নাতীদের অট্টালিকাসমূহে সর্বদা চন্দন কাঠ জ্বলতে থাকবে, যার ফলে তাদের অট্টালিকাসমূহ সুঘ্রাণযুক্ত হবে:
মাসআলা-১১০: জান্নাতীদের ঘাম থেকে মেশক আম্বরের ঘ্রাণ আসবে:
মাসআলা-১১১: জান্নাতে থুথু, নাকের পানি, পায়খানা পেসাব হবে না:
আসআলা-১১২: সমস্ত জান্নাতী শোকরগুজার হবে কেউ কারো প্রতি কোনো হিংসা-বিদ্বেষ রাখবে না:
মাসআলা-১১৩: জান্নাতীরা প্রত্যেক শ্বাস-প্রশ্বাসে আল্লাহর প্রশংসা ও তাসবীহ পাঠ করবে:
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : «أَوَّلُ زُمْرَةٍ تَلِجُ الْجَنَّةَ صُورَتُهُمْ عَلَى صُورَةِ الْقَمَرِ لَيْلَةَ الْبَدْرِ ، لَا يَبْصُقُونَ فِيهَا ، وَلَا يَسْتَخِطُونَ، وَلَا يَتَغَوَّطُونَ ، آنِيَتُهُمْ فِيهَا الذَّهَبُ، أَمْشَاطُهُمْ مِنَ الذَّهَبِ وَالْفِضَّةِ، وَمَجَامِرُهُمُ الأَلُوَّةُ، وَرَشْحُهُمُ الْمِسْكُ، وَلِكُلِّ وَاحِدٍ مِنْهُمْ زَوْجَتَانِ، يُرَى مُخُ سُوقِهِمَا مِنْ وَرَاءِ اللَّحْمِ مِنَ الْحُسْنِ، لَا اخْتِلافَ بَيْنَهُمْ وَلَا تَبَاغُضَ، قُلُوبُهُمْ قَلْبٌ رَجُلٌ وَاحِدٌ يُسَبِّحُونَ اللَّهَ بُكْرَةً وَعَشِيًّا»
অর্থ: "আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ বলেছেন: জান্নাতে সর্বপ্রথম প্রবেশকারী দলটির চেহারা হবে ১৪ তারিখের চাঁদের মতো উজ্জ্বল। তাদের থুথু আসবে না আর না আসবে নাকের পানি। তাদের আংটি থেকে চন্দনের সুগন্ধি আসবে। জান্নাতীদের ঘাম থেকে মেশক আম্বরের সুগন্ধি আসবে। প্রত্যেক জান্নাতীর এমন দু'জন স্ত্রী থাকবে যাদের সৌন্দর্যের কারণে তাদের পায়ের গোছার গোশতের ভিতর দিয়ে হাড্ডির মজ্জা দেখা যাবে। জান্নাতীদের পরস্পরের মাঝে কোনো মতভেদ থাকবে না। না তাদের মাঝে কোনো হিংসা-বিদ্বেষ থাকবে। বরং তারা সমমনা হয়ে সকাল সন্ধ্যা আল্লাহর তাসবিহ পাঠ করবে।” (বুখারী ৪/৩২৪৫)
মাসআলা-১১৪: জান্নাতের অট্টালিকাসমূহ সোনা-চাঁদির ইট দিয়ে নির্মিত হবে:
মাসআলা-১১৫: জান্নাতের কঙ্করসমূহ হবে মোতি ও ইয়াকুতের, আর মাটি হবে জাফরানের:
মাসআলা-১১৬: জান্নাতে মৃত্যু হবে না, জান্নাতী চিরকাল জিবিত থাকবে:
মাসআলা-১১৭: জান্নাতে বার্ধক্যও আসবে না বরং জান্নাতী চিরকাল যুবক থাকবে:
عَن أَبي هُرَيْرَةَ هِ قَالَ: قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ مِمَّ خُلِقَ الْخَلْقُ؟ قَالَ: «مِنَ الْمَاءِ» ، قُلْتُ: الْجَنَّةُ مَا بِنَاؤُهَا؟ قَالَ: «لَبِنَةٌ مِنْ فِضَّةٍ وَلَبِنَةٌ مِنْ ذَهَبٍ. وَمِلَاطُهَا الْمِسْكُ الْأَذْفَرُ، وَحَصْبَاؤُهَا اللُّؤْلُؤُ وَالْيَاقُوتُ، وَتُرْبَتُهَا الزَّعْفَرَانُ مَنْ دَخَلَهَا يَنْعَمُ وَلَا يَبْأَسُ، وَيَخْلُدُ وَلَا يَمُوتُ، لَا تَبْلَى ثِيَابُهُمْ ، وَلَا يَفْنَى شَبَابُهُمْ «
অর্থ: "আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি জিজ্ঞেস করলাম ইয়া রাসূলুল্লাহ! সৃষ্টিকে কি দিয়ে সৃষ্টি করা হয়েছে। রাসূলুল্লাহ বললেন: পানি দিয়ে। আমি জিজ্ঞেস করলাম: জান্নাত কি দিয়ে নির্মিত? তিনি বললেন: একটি ইট চাঁদির এবং আরেকটি ইট স্বর্ণের। তার সিমেন্ট সুগন্ধি যুক্ত মেশক আম্বর। তার কঙ্কর মোতি ও ইয়াকুতের। তার মাটি জাফরানের। যে ব্যক্তি সেখানে প্রবেশ করবে সে জীবন যাপন করবে, কোনো কষ্ট তার দৃষ্টিগোচর হবে না। চিরকাল জিবিত থাকবে মৃত্যু হবে না। জান্নাতীদের কাপড় কখনো পুরানো হবে না। আর তাদের যৌবন কখনো বিনষ্ট হবে না। (তিরমিযী) ২৯
মাসআলা-১১৮: জান্নাতে আদন আল্লাহ স্বীয় হাতে নির্মাণ করেছেন:
মাসআলা-১১৯: জান্নাতে আদনের অট্টালিকাসমূহ এক ইট হবে সাদা মোতির আরেক ইট হবে কাল মোতির, এক ইট হবে লাল ইয়াকুতের আরেক ইট হবে সবুজ পান্নার। তার মাটি হবে মেশকের, তার কনকর হবে মুক্তার, তার ঘাস হবে জাফরানের:
عَنْ أَنَسِ هُ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : خَلَقَ اللهُ جَنَّةَ عَدْنٍ بِيَدِهِ، لَبِنَةً مِنْ دُرَّة بَيْضَاءَ، وَلَبِنَةً مِنْ يَأْقُوتَةٍ حَمْرَاءَ. وَلَبِنَةً مِنْ زَبَرْجَدَةً خَضْرَاءَ مِلَاحُهَا الْمِسْكُ، وَحَصْبَاؤُهَا اللُّؤْلُؤُ وَحَشِيشُهَا الزَّعْفَرَانُ ثُمَّ قَالَ لَهَا: انطِقِي قَالَتْ: قَدْ أَفْلَحَ الْمُؤْمِنُونَ عَزَّ وَجَلٌ فَقَالَ اللهُ: وَعِزَّتِي، وَجَلَالِي لَا يُجَاوِرُنِي فِيكِ بَخِيلٌ ثُمَّ تَلَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : وَمَنْ يُوقَ شُحَّ نَفْسِهِ فَأُوْلَئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ
অর্থ: "আনাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ বলেছেন: জান্নাতে আদন আল্লাহ স্বীয় হস্তে নির্মাণ করেছেন। যার একটি ইট সাদা মোতি, আরেকটি লাল ইয়াকুতের, আর অপরটি সবুজ পান্নার। তার মাটি মেশকের তার কঙ্করসমূহ মুক্তার, আর ঘাসসমূহ জাফরানের। জান্নাত নির্মাণের পর, আল্লাহ জান্নাতকে জিজ্ঞেস করলেন কিছু বল: জান্নাত বলল ঈমানদার লোকেরা মুক্তি পেয়েছে। অতপর আল্লাহ এরশাদ করেন: আমার ইজ্জত ও মর্যাদার কসম! কোনো বখীল তোমার মাঝে প্রবেশ করবে না। অতপর রাসূলুল্লাহ এ আয়াত পাঠ করলেন: যে ব্যক্তি কার্পণ্য থেকে নিজেদেরকে মুক্ত করেছে তারাই সফলকাম। (সূরা হাশর: ৯)০০
নোট: উল্লেখিত হাদীসে বখীল অর্থ যারা যাকাত প্রদান করে না।
মাসআলা-১২০: জান্নাতের কোনো কোনো অট্টালিকায় স্বর্ণের বাগান থাকবে, যার প্রত্যেকটি জিনিস স্বর্ণের হবে। আবার কোনো কোনো অট্টালিকায় চাদির বাগান থাকবে যার প্রত্যেকটি জিনিস চাঁদির হবে:
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ قَيْسٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: جَنَّتَانِ مِنْ فِضَّةٍ آنِيَتُهُمَا، وَمَا فِيهِمَا ، وَجَنَّتَانِ مِنْ ذَهَبٍ آنِيَتُهُمَا، وَمَا فِيهِمَا، وَمَا بَيْنَ الْقَوْمِ وَبَيْنَ أَنْ يَنْظُرُوا إِلَى رَبِّهِمْ إِلَّا رِدَاءُ الْكِبْرِيَاءِ عَلَى وَجْهِهِ فِي جَنَّةِ عَدْنٍ»
অর্থ: "আবদুল্লাহ বিন কায়েস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ বলেছেন: দু'টি বাগান হবে চাঁদির, যার পাত্র এবং সবকিছুই হবে চাঁদির। দু'টি বাগান হবে স্বর্ণের, যার পাত্র এবং সবকিছুই হবে স্বর্ণের। মানুষের জন্য জান্নাতে আদনে আল্লাহকে দেখার ব্যাপারে কোনো বাধা থাকবে না তবে একমাত্র তাঁর মহানুভবতার চাদর, যা তাঁর চেহারার উপর থাকবে।" (মুসলিম ১/১৮০)০১
মাসআলা-১২১: জান্নাতের অট্টালিকাসমূহে সাদা মোতির নির্মিত, বড় বড় সুন্দর গম্বুজ নির্মাণ করা হয়েছে:
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ اللهِ فِي حَدِيثِ أَلا سَرَاءِ قَالَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ثُمَّ أُدْخِلْتُ الْجَنَّةَ، فَإِذَا فِيهَا جَنَابِنُ اللُّؤْلُؤً، وَإِذَا تُرَابُهَا الْمِسْكُ
অর্থ: "আনাস বিন মালেক (রা) থেকে মেরাজের হাদীসে বর্ণিত হয়েছে, রাসূলুল্লাহ বলেছেন: অতপর আমাকে জান্নাতে নিয়ে যাওয়া হলো, যাতে সাদা মোতির নির্মিত গম্বুজ আছে, আর তার মাটি হলো মেশক আম্বরের।" (মুসলিম) ৩২
টিকাঃ
২৯ আবওয়া সিফাতিল জান্না, বাব মাযায়া ফী সিফাতিল জান্না ওয়া নায়ীমিহা। (২/২০৫০)
৩০ ইবনু আবুদ্দুনিয়া, আন নিহায়া লি ইবনে কাসীর, খ. ২ (হাদীস নং-৩৫২)
৩১ কিতাবুল ঈমান, বাব ইসবাাত রুইয়াতুল মু'মিনীন ফীল জান্না রাব্বাহুম সুবহানাহু ওয়া তাআলা।
৩২ কিতাবুল ঈমান, বাব ইসরা বিরাসলিল্লা ইলাযসামাওয়াত।
📄 জান্নাতের তাবূসমূহ
মাসআলা-১২২: প্রত্যেক জান্নাতীর অট্টালিকায় তাবু থাকবে যেখানে হুরেরা অবস্থান করবে:
حُورٌ مَّقْصُورَاتٌ فِي الْخِيَامِ فَبِأَيِّ آلَاءِ رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ
অর্থ: "তারা তাঁবুতে সুরক্ষিত হুর, অতএব তোমরা উভয়ে তোমাদের প্রতিপালকের কোনো কোনো অনুগ্রহকে অস্বীকার করবে।" (সূরা রহমান: ৭২-৭৩)
মাসআলা-১২৩: জান্নাতের প্রতিটি তাবু ৬০ মাইল প্রশস্ত হবে। ভিতরে খুব সুন্দর মোতি খোদাই করে নির্মাণ করা হয়েছে:
মাসআলা-১২৪: ঐ তাবুসমূহে জান্নাতীদের স্ত্রীরা থাকবে যারা সর্বদাই তাদের (স্বামীদের) আগমনের অপেক্ষায় অপেক্ষমান থাকবে:
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ قَيْسٍ هُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «فِي الْجَنَّةِ خَيْمَةٌ مِنْ لُؤْلُؤَةٍ مُجَوَّفَةٍ عَرْضُهَا سِتُّونَ مِيلًا، فِي كُلِّ زَاوِيَةٍ مِنْهَا أَهْلٌ ، مَا يَرَوْنَ الْآخَرِينَ، يَطُوفُ عَلَيْهِمِ الْمُؤْمِنُ»
অর্থ: "আবদুল্লাহ বিন কায়েস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ বলেছেন: জান্নাতে মোতি খচিত একটি তাবু থাকবে, যার প্রশস্ততা হবে ষাট মাইল, ঐ তাবুর প্রত্যেক কর্ণারে অবস্থান করবে মু'মিনের স্ত্রীরা। যাদেরকে অন্য অট্টালিকার লোকেরা দূরত্ব এবং প্রশস্ততার কারণে দেখতে পাবে না। মু'মিন ব্যক্তি এ স্ত্রীদের মাঝে ঘুরে বেড়াবে। (মুসলিম ৪/২৮৩৮)৩০
টিকাঃ
৩০ কিতাবুল জান্না ওয়া সিফাতু নায়ীমিহা।
📄 জান্নাতের বাজার
মাসআলা-১২৫: জান্নাতে প্রত্যেক জুমার দিন বাজার জমবে:
মাসআলা-১২৬: জুমার দিন বাজারে অংশগ্রহণকারী জান্নাতীদের সৌন্দর্য পূর্ব থেকে বেশি হবে:
মাসআলা-১২৭: মহিলারা শুক্রবারের বাজারে উপস্থিত হবেনা কিন্তু ঘরে বসে থাকা অবস্থায়ই আল্লাহ তাদের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে দিবেন:
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ هُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: " إِنَّ فِي الْجَنَّةِ لَسُوقًا، يَأْتُونَهَا كُلَّ جُمُعَةٍ، فَتَهُبُّ رِيحُ الشَّمَالِ فَتَحْتُو فِي وُجُوهِهِمْ وَثِيَابِهِمْ ، فَيَزْدَادُونَ حُسْنًا وَجَمَالًا، فَيَرْجِعُونَ إِلَى أَهْلِيْهِمْ وَقَدِ ازْدَادُوا حُسْنًا وَجَمَالًا، فَيَقُولُ لَهُمْ أَهْلُهُمْ : وَاللَّهِ لَقَدِ ازْدَدْتُمْ بَعْدَنَا حُسْنًا وَجَمَالًا، فَيَقُولُونَ : وَأَنْتُمْ ، وَاللَّهِ لَقَدِ ازْدَدْتُمْ بَعْدَنَا حُسْنًا وَجَمَالًا "
অর্থ: "আনাস বিন মালেক (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ বলেছেন: জান্নাতে একটি বাজার আছে, যেখানে প্রত্যেক শুক্রবারে জান্নাতীরা উপস্থিত হবে। উত্তর দিক থেকে একটি বাতাস এসে যখন জান্নাতীদের শরীর ও পোশাকে লাগবে তখন তা তাদের সৌন্দর্যকে আরো বৃদ্ধি করবে। যখন তারা সেখান থেকে তাদের ঘরে ফিরে আসবে তখন (এসে দেখবে যে) তাদের স্ত্রীদের সৌন্দর্যও আগের চেয়ে বৃদ্ধি পেয়েছে, স্ত্রীরা স্বামীদেরকে বলবে যে আল্লাহর কসম! আমাদেরকে ছেড়ে যাওয়ার পর তোমাদের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পেয়েছে, জান্নাতীরা বলবে: আল্লাহর কসম আমাদের অনুপস্থিতিতে তোমাদের সৌন্দর্যও বৃদ্ধি পেয়েছে।" (মুসলিম ৪/২৮৩৩)৩৪
টিকাঃ
৩৪ কিতাবুল জান্নাহ ওয়া সিফাতু নায়ীমিহা।