📄 জান্নাতের নামসমূহ
মাসআলা-৪: জান্নাতের একটি নাম দারুসসালাম: (নিরাপত্তার ঘর)
وَاللَّهُ يَدْعُوَ إِلَى دَارِ السَّلَامِ وَيَهْدِي مَنْ يَشَاءُ إِلَى صِرَاطٍ مُسْتَقِيمٍ
অর্থ: "আর আল্লাহ শান্তি ও নিরাপত্তালয়ের প্রতি (জান্নাতের প্রতি) আহ্বান করেন, আর যাকে ইচ্ছা তাকে সরল পথ প্রদর্শন করেন। (সূরা ইউনুস: ৩৫)
মাসআলা-৫: জান্নাতের অপর নাম দারুল মুত্তাকীন (পরহেযগার লোকদের গৃহ):
وَقِيلَ لِلَّذِينَ اتَّقَوْا مَاذَا أَنْزَلَ رَبُّكُمْ قَالُوا خَيْراً لِلَّذِينَ أَحْسَنُوا فِي هَذِهِ الدُّنْيَا حَسَنَةٌ وَلَدَارُ الْآخِرَةِ خَيْرٌ وَلَنِعْمَ دَارُ الْمُتَّقِينَ - جَنَّاتُ عَدْنٍ يَدْخُلُونَهَا تَجْرِي مِن تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ لَهُمْ فِيهَا مَا يَشَاؤُونَ كَذلِكَ يَجْزِي اللهُ الْمُتَّقِينَ
অর্থ: "পরহেযগারদেরকে জিজ্ঞেস করা হয়, তোমাদের পালনকর্তা কি নাযিল করেছেন, তারা বলে মহা কল্যাণ। যারা এ জগতে সৎকাজ করে, তাদের জন্য কল্যাণ রয়েছে এবং পরকালের গৃহ আরো উত্তম। পরহেযগারদের গৃহ কি চমৎকার? সর্বদা বসবাসের উদ্যান, তারা যাতে প্রবেশ করবে তার পাদদেশ দিয়ে স্রোতম্বিনী প্রবাহিত হয়। তাদের জন্য তাতে তাই রয়েছে যা তারা চায়। এমনিভাবে প্রতিদান দিবেন আল্লাহ পরহেযগারদের কে"। (সূরা আন নাহল: ৩০.৩১)
মাসআলা-৬: জান্নাতের অপর নাম দারুল কারার (স্থায়ী বসবাসের গৃহ):
يُقَوْمِ إِنَّمَا هَذِهِ الْحَيَاةُ الدُّنْيَا مَتَاعٌ وَإِنَّ الْآخِرَةَ هِيَ دَارُ الْقَرَارِ অর্থ: “হে আমার কাওম, পার্থিব এ জীবন তো কেবল উপভোগের বস্তু, আর পরকাল হচ্ছে স্থায়ী বসবাসের গৃহ"। (সূরা আল মু'মিন: ৩৯)
মাসআলা-৭: জান্নাতের অপর নাম মাকামুন আমীন (নিরাপদ স্থান):
إِنَّ الْمُتَّقِينَ فِي مَقَامٍ أَمِينِ فِي جَنَّاتٍ وَعُيُونٍ অর্থ: "নিশ্চয়ই আল্লাহভীরুরা নিরাপদ স্থানে থাকবে। উদ্যানরাজি ও নির্ঝরিণীসমূহে”। (সূরা দুখান: ৫১-৫২)
মাসআলা-৮: জান্নাতকে দারুল আখেরা (পরকালের ঘর ও) বলা হয়:
وَلَدَارُ الْآخِرَةِ خَيْرٌ لِلَّذِينَ اتَّقُوا أَفَلَا تَعْقِلُونَ অর্থ: "পরহেযগারদের জন্য পরকালের ঘরই উত্তম, তারা কি এখনো বুঝে না।" (সূরা ইউসুফ: ১০৯)
মাসআলা-৯: জান্নাতকে জান্নাতুন নায়ীম (নিআমত ভরপুর জান্নাত) ও বলা হয়:
وَالسَّابِقُونَ السَّابِقُونَ أُوْلَئِكَ الْمُقَرَّبُونَ فِي جَنَّاتِ النَّعِيمِ অর্থ: "অগ্রবর্তীগণ তো অগ্রবর্তীই। তারাই নৈকট্যশীল, অবদানের উদ্যানসমূহে।" (সূরা ওয়াকিয়াহ: ১০,১২)
মাসআলা-১০: জান্নাতকে জান্নাতে আদনও বলা হয়:
أُوْلَئِكَ لَهُمْ جَنَّاتُ عَدْنٍ تَجْرِي مِنْ تَحْتِهِمُ الْأَنْهَارُ يُحَلَّوْنَ فِيهَا مِنْ أَسَاوِرَ مِنْ ذَهَبٍ وَيَلْبَسُونَ ثِيَاباً خُضْراً مِنْ سُنْدُسٍ وَإِسْتَبْرَقٍ مُتَّكِثِينَ فِيهَا عَلَى الْأَرَائِكِ نِعْمَ الثَّوَابُ وَحَسُنَتْ مُرْتَفَقَاً
অর্থ: এরাই তারা, যাদের জন্য রয়েছে স্থায়ী জান্নাতসমূহ, যার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয় নদীসমূহ। সেখানে তাদেরকে অলংকৃত করা হবে স্বর্ণের চুড়ি দিয়ে এবং তারা পরিধান করবে মিহি ও পুরু সিল্কের সবুজ পোশাক। তারা সেখানে (থাকবে) আসনে হেলান দিয়ে। কী উত্তম প্রতিদান এবং কী সুন্দর বিশ্রামস্থল! (সূরা কাহাফ ১৮:৩১)
📄 আলকুরআনের আলোকে জান্নাত
মাসআলা-১১: ঈমান আনার পর সৎ আমলকারী জান্নাতে প্রবেশ করবে:
মাসআলা-১২: জান্নাতের ফলসমূহের নাম ও আকৃতির দিক থেকে দুনিয়ার ফলের অনুরূপ হবে:
মাসআলা-১৩: জান্নাতী মহিলাগণ বাহ্যিক ত্রুটি যেমন (হায়েয, নেফাস) এবং অভ্যান্তরীন ত্রুটি যেমন: (রাগ, গিবত, হিংসা) ইত্যাদি থেকে পবিত্র থাকবে:
মাসআলা-১৪: জান্নাতের জীবন হবে চিরস্থায়ী:
وَبَشِّرِ الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ أَنَّ لَهُمْ جَنَّاتٍ تَجْرِي مِن تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ كُلَّمَا رُزِقُوا مِنْهَا مِنْ ثَمَرَةٍ رِزْقاً قَالُوا هَذَا الَّذِي رُزِقْنَا مِنْ قَبْلُ وَأُتُوا بِهِ مُتَشَابِهَا وَلَهُمْ فِيهَا أَزْوَاجٌ مُطَهَّرَةٌ وَهُمْ فِيهَا خَالِدُونَ
অর্থ: আর যারা ঈমান এনেছে এবং নেক কাজ করেছে তুমি তাদেরকে সুসংবাদ দাও যে, তাদের জন্য রয়েছে জান্নাতসমূহ, যার তলদেশ দিয়ে প্রবাহিত হবে নদীসমূহ। যখনই তাদেরকে জান্নাত থেকে কোনো ফল খেতে দেয়া হবে, তারা বলবে, 'এটা তো পূর্বে আমাদেরকে খেতে দেয়া হয়েছিল'। আর তাদেরকে তা দেয়া হবে সাদৃশ্যপূর্ণ করে এবং তাদের জন্য তাতে থাকবে পূতঃপবিত্র স্ত্রীগণ এবং তারা সেখানে হবে স্থায়ী। (সূরা বাক্বারা ২:২৫)
মাসআলা-১৫: জান্নাতীগণ কিয়ামতের দিন সর্বপ্রকার অপমান ও লাঞ্ছনা থেকে নিরাপদ থাকবে।
মাসআলা-১৬: জান্নাতীরা জান্নাতে আল্লাহর দীদার লাভ করবে:
لِلَّذِينَ أَحْسَنُوا الْحُسْنَى وَزِيَادَةٌ وَلَا يَرْهَقُ وُجُوهَهُمْ قَتَرٌ وَلَا ذِلَّةٌ أُوْلَئِكَ أَصْحَابُ الْجَنَّةِ هُمْ فِيهَا خَالِدُونَ অর্থ: যারা ভালো কাজ করে তাদের জন্য রয়েছে শুভ পরিণাম (জান্নাত) এবং আরও বেশি। আর ধূলোমলিনতা ও লাঞ্ছনা তাদের চেহারাগুলোকে আচ্ছন্ন করবে না। তারাই জান্নাতবাসী। তারা তাতে স্থায়ী হবে। (সূরা ইউনুস ১০:২৬)
মাসআলা-১৭: ঈমানদারদের মধ্য থেকে যাদের অন্তরে পরস্পরের ব্যাপারে কোনো প্রকার হিংসা বা অপছন্দনীয়তা থাকবে জান্নাতে যাওয়ার পর আল্লাহ তা মিটিয়ে দেবেন:
وَنَزَعْنَا مَا فِي صُدُورِهِم مِّنْ غِلَّ تَجْرِي مِن تَحْتِهِمُ الْأَنْهَارُ وَقَالُوا الْحَمْدُ للَّهِ الَّذِي هَدَانَا لِهَذَا وَمَا كُنَّا لِنَهْتَدِيَ لَوْلَا أَنْ هَدَانَا اللَّهُ لَقَدْ جَاءَتْ رُسُلُ رَبِّنَا بِالْحَقِّ وَنُودُوا أَن تِلْكُمُ الْجَنَّةُ أُورِثْتُمُوهَا بِمَا كُنتُمْ تَعْمَلُونَ অর্থ: আর তাদের অন্তরে যে ঈর্ষা ছিলো, আমি তা বের করে নিয়েছি। তাদের নীচ দিয়ে নহরসমূহ প্রবাহিত হবে। আর তারা বলবে, 'সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি এর জন্য আমাদেরকে হিদায়াত দিয়েছেন। আর আমরা হিদায়াত পাওয়ার ছিলাম না, যদি না আল্লাহ আমাদেরকে হিদায়াত দিতেন। অবশ্যই আমার রবের রাসূলগণ সত্য নিয়ে এসেছেন' এবং তাদেরকে ডাকা হবে যে, 'ঐ হলো জান্নাত, তোমরা যা আমল করেছো, তার বিনিময়ে তোমাদেরকে এর উত্তরাধিকারী করা হয়েছে'। (সূরা আরাফ ৭:৪৩)
মাসআলা-১৮: জান্নাতে জান্নাতীরা কখনো ক্ষুধা এবং পিপাসা অনুভব করবে না:
মাসআলা-১৯: জান্নাতে না বেশি ঠাণ্ডা হবে না বেশি গরম বরং নাতিশীতোষ্ণ থাকবে:
إِنَّ لَكَ أَلا تَجُوعَ فِيهَا وَلَا تَعْرَى، وَأَنَّكَ لَا تَطْمَأُ فِيهَا وَلَا تَضْحَى
অর্থ: "তোমাকে এই দেয়া হলো যে, তুমি এতে ক্ষুধার্ত হবে না এবং বস্ত্রহীন হবে না। আর তোমার পিপাসাও হবে না এবং রোদ্রের কষ্টও পাবে না। (সূরা ত্বহা: ১১৮, ১১৯)
মাসআলা-২০: একই বংশের নেককার লোকেরা যেমন: বাপ-দাদা, স্ত্রী-সন্তান, ইত্যাদি জান্নাতে একই স্থানে থাকবে:
جَنَّاتُ عَدْنٍ يَدْخُلُونَهَا وَمَنْ صَلَحَ مِنْ آبَائِهِمْ وَأَزْوَاجِهِمْ وَذُرِّيَّاتِهِمْ وَالْمَلَائِكَةُ يَدْخُلُونَ عَلَيْهِمْ مِّنْ كُلِّ بَابٍ - سَلَامٌ عَلَيْكُم بِمَا صَبَرْتُمْ فَنِعْمَ عُقْبَى الدَّارِ
অর্থ: স্থায়ী জান্নাতসমূহ, যাতে তারা এবং তাদের পিতৃপুরুষগণ, তাদের স্ত্রীগণ ও তাদের সন্তানদের মধ্যে যারা সৎ ছিল তারা প্রবেশ করবে। আর ফেরেশতারা প্রতিটি দরজা দিয়ে তাদের নিকট প্রবেশ করবে। (আর বলবে) 'শান্তি তোমাদের উপর, কারণ তোমরা সবর করেছো, আর আখিরাতের এ পরিণাম কতই না উত্তম'। (সূরা রা'আদ ১৩:২৩-২৪)
মাসআলা-২১: জান্নাতীদের জান্নাতে কোনো প্রকার কষ্ট বা পরিশ্রম করতে হবে না:
لا يَمَسُّهُمْ فِيهَا نَصَبٌ وَمَا هُمْ مِنْهَا بِمُخْرَجِينَ
অর্থ: "তাদের মোটেই কষ্ট হবে না এবং তারা সেখান থেকে বহিষ্কৃতও হবে না।" (সূরা হিজর: ৪৮)
মাসআলা-২২: জান্নাতে জান্নাতীদের সাথে যথেষ্ট সম্মানজনক ব্যবহার করা হবে:
মাসআলা-২৩: জান্নাতের খাদেমরা জান্নাতী লোকদের জন্য সাদা রংয়ের সুমিষ্টি মদের পান পাত্র পেশ করবে:
মাসআলা-২৪: জান্নাতী মদ নেশা মুক্ত হবে।
মাসআলা-২৫: পাখার নীচে লুকায়িত সুরক্ষিত ডিমের চেয়ে নরম ও সুন্দর চোখ বিশিষ্ট হুরেইন জান্নাতীদেরকে পুরস্কার স্বরূপ দেয়া হবে:
أُوْلَئِكَ لَهُمْ رِزْقٌ مَّعْلُومٌ - فَوَاكِهُ وَهُم مُّكْرَمُونَ فِي جَنَّاتِ النَّعِيمِ عَلَى سُرُرٍ مُتَقَابِلِينَ - يُطَافُ عَلَيْهِمْ بِكَأْسٍ مِّنْ مَّعِينٍ - بَيْضَاءَ لَذَّةٍ لِلشَّارِبِينَ . لا فِيهَا غَوْلٌ وَلَا هُمْ عَنْهَا يُنزَفُونَ - وَعِنْدَهُمْ قَاصِرَاتُ الطَّرْفِ عِينٌ . كَأَنَّهُنَّ بَيْضٌ مَكْنُونٌ
অর্থ: তাদের জন্য থাকবে নির্ধারিত রিযিক, ফলমূল; আর তারা হবে সম্মানিত, নি'আমত-ভরা জান্নাতে, মুখোমুখি পালঙ্কে। তাদের চারপাশে ঘুরে ঘুরে পরিবেশন করা হবে বিশুদ্ধ সুরাপাত্র, সাদা পানকারীদের জন্য সুস্বাদু। তাতে থাকবে না ক্ষতিকর কিছু এবং তারা এগুলো দ্বারা মাতালও হবে না। তাদের কাছে থাকবে আনতনয়না, ডাগরচোখা। তারা যেন আচ্ছাদিত ডিম। (সূরা সাফ্ফাত ৩৭:৪১-৪৯)
মাসআলা-২৬: জান্নাতীদের জন্য জান্নাতে আদনে এমন বাগানসমূহ থাকবে যার দরজাসমূহ তাদের জন্য সর্বদা খোলা থাকবে:
মাসআলা-২৭: জান্নাতীরা সেকেন্ডের মধ্যে যথেষ্ট ফল-মূল, পানীয় পান করবে তা সাথে সাথেই হজম হয়ে যাবে:
মাসআলা-২৮: জান্নাতী হুরগণ খুব সুন্দর লাজুক ও সুন্দর চোখ বিশিষ্ট তারা তাদের স্বামীদের সম বয়স্কা হবে:
মাসআলা-২৯: জান্নাতের নিআমতসমূহ কখনো কমবেও না এবং শেষও হবে না।
وَإِنَّ لِلْمُتَّقِينَ لَحُسْنَ مَآبٍ - جَنَّاتِ عَدْنٍ مُّفَتَّحَةً لَّهُمُ الْأَبْوَابُ - مُتَّكِثِينَ فِيهَا يَدْعُونَ فِيهَا بِفَاكِهَةٍ كَثِيرَةٍ وَشَرَابٍ . وَعِنْدَهُمْ قَاصِرَاتُ الطَّرْفِ أَتْرَابُ - هَذَا مَا تُوعَدُونَ لِيَوْمِ الْحِسَابِ - إِنَّ هَذَا لَرِزْقُنَا مَا لَهُ مِنْ نَفَادٍ
অর্থ: আর মুত্তাকীদের জন্য অবশ্যই রয়েছে উত্তম নিবাস- চিরস্থায়ী জান্নাত, যার দরজাসমূহ থাকবে তাদের জন্য উন্মুক্ত। সেখানে তারা হেলান দিয়ে আসীন থাকবে, সেখানে তারা বহু ফলমূল ও পানীয় চাইবে। আর তাদের নিকটে থাকবে আনতনয়না সমবয়সীরা। হিসাব দিবস সম্পর্কে তোমাদেরকে এ ওয়াদাই
* غول অর্থ নেশা, মাতলমি, মাথাব্যথা ও পেটের পীড়া।
দেয়া হয়েছিল। নিশ্চয় এটি আমার দেয়া রিযিক, যা নিঃশেষ হবার নয়। (সূরা সোয়াদ ৩৮:৪৯-৫৪)
মাসআলা-৩০ : জান্নাতীরা জান্নাতে তাদের সতী স্ত্রীদেরকে নিয়ে আনন্দময় জীবন যাপন করবে:
মাসআলা-৩১ : জান্নাতে দম্পতীদের সামনে সোনার পাত্রে বিভিন্ন প্রকার খানা পরিবেশন করা হবে এবং সোনার পান পাত্রে বিভিন্ন প্রকার পানীয় পেশ করা হবে:
মাসআলা-৩২ : জান্নাতে চক্ষু ও অন্তর জুড়ানোর মত সর্বপ্রকার ব্যবস্থাপনা থাকবে:
মাসআলা-৩৩ : জান্নাতী লোকদের সম্মানের ও উৎসাহের জন্য বলা হবে যে, তোমাদের আমলের প্রতিদান স্বরূপ তোমাদেরকে এ নিআমত ভরপুর জান্নাত দান করা হলো:
ادْخُلُوا الْجَنَّةَ أَنتُمْ وَأَزْوَاجُكُمْ تُحْبَرُونَ - يُطَافُ عَلَيْهِمْ بِصِحَافٍ مِنْ ذَهَبٍ وَأَكْوَابٍ وَفِيهَا مَا تَشْتَهِيهِ الْأَنْفُسُ وَتَلَذُّ الْأَعْيُنُ وَأَنتُمْ فِيهَا خَالِدُونَ - وَتِلْكَ الْجَنَّةُ الَّتِي أُورِثْتُمُوهَا بِمَا كُنتُمْ تَعْمَلُونَ . لَكُمْ فِيهَا فَاكِهَةٌ كَثِيرَةٌ مِنْهَا تَأْكُلُونَ
অর্থ : তোমরা সস্ত্রীক সানন্দে জান্নাতে প্রবেশ করো। স্বর্ণখচিত থালা ও পানপাত্র নিয়ে তাদেরকে প্রদক্ষিণ করা হবে, সেখানে মন যা চায় আর যাতে চোখ তৃপ্ত হয় তা-ই থাকবে এবং সেখানে তোমরা হবে স্থায়ী। আর এটিই জান্নাত, নিজেদের আমলের ফলস্বরূপ তোমাদেরকে এর অধিকারী করা হয়েছে। সেখানে তোমাদের জন্য রয়েছে অনেক ফলমূল, যা থেকে তোমরা খাবে। (সূরা যুখরুফ ৪৩:৭০-৭৩)
মাসআলা-৩৪ : জান্নাতে কোনো প্রকার দুঃখ বেদনা, মুসিবত ও চিন্তা থাকবে না।
মাসআলা-৩৫ : জান্নাতীদের পোশাক চিকন ও পুরু রেশমের তৈরী হবে।
মাসআলা-৩৬ : সুন্দর ও আকর্ষণীয় চোখ সম্পন্ন নারীর সাথে তাদের মিলন হবে:
মাসআলা-৩৭ : জান্নাতে মৃত্যু আসবে না বরং চিরস্থায়ী জীবন যাপন করবে।
মাসআলা-৩৮: সর্বপ্রথম জান্নাতে প্রবেশকারীরা জাহান্নামের আযাব থেকে মুক্ত থাকবে।
মাসআলা-৩৯: আল্লাহর দয়া ও অনুগ্রহ ব্যতীত জান্নাতে যাওয়া সম্ভব নয়।
মাসআলা-৪০: জান্নাতে প্রবেশ করাই মূল সফলতা ও কামিয়াবী।
إِنَّ الْمُتَّقِينَ فِي مَقَامٍ أَمِينٍ - فِي جَنَّاتٍ وَعُيُونٍ - يَلْبَسُونَ مِنْ سُنْدُسٍ وَإِسْتَبْرَقٍ مُتَقَابِلِينَ - كَذلِكَ وَزَوَّجْنَاهُم بِحُورٍ عِيْنٍ يَدْعُونَ فِيهَا بِكُلِّ فَاكِهَةٍ آمِنِينَ . لَا يَذُوقُونَ فِيهَا الْمَوْتَ إِلَّا الْمَوْتَةَ الْأُولَى وَوَقَاهُمْ عَذَابَ الْجَحِيمِ فَضْلاً مِّن رَّبِّكَ ذُلِكَ هُوَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ
অর্থ: নিশ্চয় মুত্তাকীরা থাকবে নিরাপদ স্থানে, বাগ-বাগিচা ও ঝর্ণাধারার মধ্যে, তারা পরিধান করবে পাতলা ও পুরু রেশমী বস্ত্র এবং বসবে মুখোমুখী হয়ে। এরূপই ঘটবে, আর আমি তাদেরকে বিয়ে দেব ডাগর নয়না হুরদের সাথে। সেখানে তারা প্রশান্তচিত্তে সকল প্রকারের ফলমূল আনতে বলবে। প্রথম মৃত্যুর পর সেখানে তারা আর মৃত্যু আস্বাদন করবে না। আর তিনি তাদেরকে জাহান্নামের আযাব থেকে রক্ষা করবেন। তোমার রবের অনুগ্রহস্বরূপ, এটাই তো মহা সাফল্য। (সূরা দুখান ৪৪:৫১-৫৭)
মাসআলা-৪১: জান্নাতে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন পানি, দুধ, মধু, মদ ইত্যাদির ঝর্ণা থাকবে যা থেকে জান্নাতীরা পান করবে:
মাসআলা-৪২: জান্নাতের ঝর্ণা এবং পানীয়সমূহের রং ও স্বাদ সর্বদা একই রকমের থাকবে:
মাসআলা-৪৩: জান্নাতীদেরকে আল্লাহ সমস্ত গুনাহ থেকে মুক্ত করে জান্নাতে দিবেন।
مَثَلُ الْجَنَّةِ الَّتِي وُعِدَ الْمُتَّقُونَ فِيهَا أَنْهَارٌ مِّنْ مَّاءٍ غَيْرِ آسِنٍ وَأَنْهَارُ مِنْ لَبَنٍ لَّمْ يَتَغَيَّرُ طَعْمُهُ وَأَنْهَارُ مِنْ خَمْرٍ لَذَّةٍ لِلشَّارِبِينَ وَأَنْهَارُ مِنْ عَسَلٍ مُصَفًّى وَلَهُمْ فِيهَا مِنْ كُلِّ الثَّمَرَاتِ وَمَغْفِرَةً
অর্থ: "মুত্তাকীদেরকে যে জান্নাতের ওয়াদা দেয়া হয়েছে তার দৃষ্টান্ত হলো, তাতে রয়েছে নির্মল পানির নহরসমূহ, দুধের ঝর্ণাধারা, যার স্বাদ পরিবর্তিত হয়নি, পানকারীদের জন্য সুস্বাদু সূরার নহরসমূহ এবং আছে পরিশোধিত মধুর ঝর্ণাধারা। তথায় তাদের জন্য থাকবে সব ধরনের ফলমূল আর তাদের রবের পক্ষ থেকে ক্ষমা।” (সূরা মুহাম্মদ ৪৭:১৫)
মাসআলা-৪৪: সু-সন্তানদেরকে তাদের আদর্শ বাপ-দাদার সাথে জান্নাতে একত্র করা হবে। যদি জান্নাতে তাদের পরস্পরের স্তরের মধ্যে কোনো ব্যবধান থাকে তাহলে নিম্নস্তরের লোকদেরকে আল্লাহ স্বীয় দয়া ও অনুগ্রহের মাধ্যমে তাদের মর্যাদা বৃদ্ধি করে উভয়কে উচ্চস্তরে মিলিত করবেন। যাতে জান্নাতে তারা সকলে একে অপরকে দেখে আনন্দ উপভোগ করতে পারে:
وَالَّذِينَ آمَنُوا وَاتَّبَعَتُهُمْ ذُرِّيَّتُهُم بِإِيْمَانِ الْحَقْنَا بِهِمْ ذُرِّيَّتَهُمْ وَمَا أَلَتْنَاهُمْ مِّنْ عَمَلِهِم مِّنْ شَيْءٍ كُلُّ امْرِيءٍ بِمَا كَسَبَ رَهِينٌ
অর্থ: আর যারা ঈমান আনে এবং তাদের সন্তান-সন্ততি ঈমানের সাথে তাদের অনুসরণ করে, আমরা তাদের সাথে তাদের সন্তানদের মিলন ঘটাব এবং তাদের কর্মের কোনো অংশই কমাব না। প্রত্যেক ব্যক্তি তার কামাইয়ের ব্যাপারে দায়ী থাকবে। (সূরা তূর ৫২:২১)
মাসআলা-৪৫: জান্নাতীদেরকে সুস্বাদু ফলের সাথে তাদের রুচীসম্মত গোশতও পরিবেশন করা হবে:
মাসআলা-৪৬: জান্নাতীরা খানা-পিনার সময় অন্তরঙ্গভাবে আলাপচারিতা করবে:
মাসআলা-৪৭: জান্নাতীদের খাদেমরা এতো সুন্দর হবে যেন তারা সংরক্ষিত মুক্তা:
وَأَمْدَدْنَاهُم بِفَاكِهَةٍ وَلَحْمٍ مِّمَّا يَشْتَهُونَ - يَتَنَازَعُونَ فِيهَا كَأْسًا لَا لَغْوٌ فِيهَا وَلَا تَأْثِيمُ . وَيَطُوفُ عَلَيْهِمْ غِلْمَانٌ لَهُمْ كَأَنَّهُمْ لُؤْلُؤً مَكْنُونٌ.
অর্থ: আর আমি তাদেরকে অতিরিক্ত দেব ফলমূল ও গোস্ত যা তারা কামনা করবে। তারা পরস্পরের মধ্যে পানপাত্র বিনিময় করবে; সেখানে থাকবে না কোনো বেহুদা কথাবার্তা এবং কোনো পাপকাজ। আর তাদের সেবায় চারপাশে ঘুরবে বালকদল; তারা যেন সুরক্ষিত মুক্তা। (সূরা তূর ৫২:২২-২৪)
মাসআলা-৪৮: জান্নাতে আল্লাহর বিশেষ বান্দাদের জন্য দু'টি করে বাগান থাকবে, যা নিআমতের দিক থেকে সাধারণ মু'মিনদের বাগানের তুলনায় উত্তম হবে:
মাসআলা-৪৯: উভয় বাগানে দু'টি করে ঝর্ণা থাকবে, আরো থাকবে বিভিন্ন প্রকার সুস্বাদু ফল ও রেশমী আসনসমূহ:
মাসআলা-৫০: জান্নাতীদের স্ত্রীগণ যথেষ্ট লাজুক, পবিত্র, হিরা ও মুক্তার ন্যায় উজ্জ্বল ও সুন্দর হবে তারা শুধু তাদের স্বামীর সেবায় নিমগ্ন থাকবে:
মাসআলা-৫১: জান্নাতীদের স্ত্রীগণকে জান্নাতে প্রবেশের পূর্বে নতুন করে সৃষ্টি করা হবে। আর এরপর তাদেরকে আর কোনো জ্বিন ও ইনসানের স্পর্শ তাদের শরীরে লাগেনি (একমাত্র তাদের জান্নাতী স্বামীই তাদেরকে উপভোগ করবে):
وَلِمَنْ خَافَ مَقَامَ رَبِّهِ جَنَّتَانِ . فَبِأَيِّ آلَاءِ رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ ذَوَا تَا أَفْنَانٍ - فَبِأَيِّ آلَآءِ رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ - فِيهِمَا عَيْنَانِ تَجْرِيَانِ . فَبِأَيِّ آلَاءِ رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ - فِيهِمَا مِنْ كُلِّ فَاكِهَةٍ زَوْجَانِ . فَبِأَيِّ آلَاءِ رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ . مُتَّكِثِينَ عَلَى فُرُشٍ بَطَائِنُهَا مِنْ إِسْتَبْرَقٍ وَجَنَى الْجَنَّتَيْنِ دَانٍ - فَبِأَيِّ آلاءِ رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ - فِيهِنَّ قَاصِرَاتُ الطَّرْفِ لَمْ يَطْمِثْهُنَّ إِنسٌ قَبْلَهُمْ وَلَا جَانٌ ، فَبِأَيِّ آلَاءِ رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ - كَأَنَّهُنَّ الْيَاقُوتُ وَالْمَرْجَانُ - فَبِأَيِّ آلَاءِ رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ .
অর্থ: আর যে তার রবের সামনে দাঁড়াতে ভয় করে, তার জন্য থাকবে দু'টি জান্নাত। সুতরাং তোমাদের রবের কোন্ নিআমতকে তোমরা উভয়ে অস্বীকার করবে? উভয় উদ্যানই বহু ফলদার শাখাবিশিষ্ট। সুতরাং তোমাদের রবের কোনো নিআমতকে তোমরা উভয়ে অস্বীকার করবে? উভয়ের মধ্যে থাকবে দু'টি ঝর্ণাধারা যা প্রবাহিত হবে। সুতরাং তোমাদের রবের কোনো নিআমতকে তোমরা উভয়ে অস্বীকার করবে? উভয়ের মধ্যে প্রত্যেক ফল থেকে থাকবে দু প্রকারের। সুতরাং তোমাদের রবের কোনো নিআমতকে তোমরা উভয়ে অস্বীকার করবে? সেখানে পুরু রেশমের আস্তরবিশিষ্ট বিছানায় তারা হেলান দেয়া অবস্থায় থাকবে এবং দু' জান্নাতের ফল-ফলাদি থাকবে নিকটবর্তী। সুতরাং তোমাদের রবের কোনো নিআমতকে তোমরা উভয়ে অস্বীকার করবে? সেখানে থাকবে স্বামীর প্রতি দৃষ্টি সীমিতকারী মহিলাগণ, যাদেরকে ইতঃপূর্বে স্পর্শ করেনি কোনো মানুষ আর না কোনো জ্বিন। সুতরাং তোমাদের রবের কোনো নিআমতকে তোমরা উভয়ে অস্বীকার করবে? তারা যেন হীরা ও প্রবাল। সুতরাং তোমাদের রবের কোন্ নিআমতকে তোমরা উভয়ে অস্বীকার করবে? (সূরা রাহমান ৫৫:৪৬-৫৮)
মাসআলা-৫২: সাধারণ মু'মিনদেরকেও দু'টি করে বাগান দেয়া হবে তবে তা বিশেষ বান্দাদের বাগানের তুলনায় কম মর্যাদাপূর্ণ হবে:
মাসআলা-৫৩: তাদের বাগান সমূহের ঝর্ণা ও সুস্বাদু ফল-মূল থাকবে:
মাসআলা-৫৪: সতী, পবিত্র, সুন্দর, আকর্ষণীয় চোখবিশিষ্ট, হুরেরা তাদের স্ত্রী হবে, যাদেরকে ইতিপূর্বে আর কেউ স্পর্শ করে নি:
وَمِنْ دُونِهِمَا جَنَّتَانِ - فَبِأَيِّ آلَاءِ رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ - مُدْهَا مَتَانِ . فَبِأَيِّ آلَاءِ رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ . فِيهِمَا عَيْنَانِ نَضَاخَتَانِ . فَبِأَيِّ آلَاءِ رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ - فِيهِمَا فَاكِهَةٌ وَنَخْلٌ وَرُمَّانَ - فَبِأَيِّ آلَاءِ رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ . فِيهِنَّ خَيْرَاتٌ حِسَانٌ . فَبِأَيِّ آلَاءِ رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ - حُورٌ مَّقْصُورَاتٌ فِي الْخِيَامِ . فَبِأَيِّ آلَاءِ رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ . لَمْ يَطْمِثْهُنَّ إِنْسٌ قَبْلَهُمْ وَلَا جَانٌّ. فَبِأَيِّ آلَاءِ رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ مُتَّكِئِينَ عَلَى رَفْرَفٍ خُضْرٍ وَعَبْقَرِي حِسَانٍ. فَبِأَيِّ آلَاءِ رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ . تَبَارَكَ اسْمُ رَبِّكَ ذِي الْجَلَالِ وَالْإِكْرَامِ .
অর্থ: আর ঐ দু'টি জান্নাত ছাড়াও আরো দু'টি জান্নাত রয়েছে। সুতরাং তোমাদের রবের কোন্ নিআমতকে তোমরা উভয়ে অস্বীকার করবে? জান্নাত দু'টি গাঢ় সবুজ সুতরাং তোমাদের রবের কোন্ নিআমতকে তোমরা উভয়ে অস্বীকার করবে? এ দু'টিতে থাকবে অবিরাম ধারায় উচ্ছলমান দু'টি ঝর্ণাধারা। সুতরাং তোমাদের রবের কোন্ নিআমতকে তোমরা উভয়ে অস্বীকার করবে? এ দু'টিতে থাকবে ফলমূল, খেজুর ও আনার। সুতরাং তোমাদের রবের কোন্ নিআমতকে তোমরা উভয়ে অস্বীকার করবে? সেই জান্নাতসমূহে থাকবে উত্তম চরিত্রবতী অনিন্দ্য সুন্দরীগণ। সুতরাং তোমাদের রবের কোন্ নিআমতকে তোমরা উভয়ে, অস্বীকার করবে? তারা হুর, তাঁবুতে থাকবে সুরক্ষিতা। সুতরাং তোমাদের রবের।
কোন্ নিআমতকে তোমরা উভয়ে অস্বীকার করবে? যাদেরকে ইতঃপূর্বে স্পর্শ করেনি কোন মানুষ আর না কোন জ্বিন। সুতরাং তোমাদের রবের কোন্ নিআমতকে তোমরা উভয়ে অস্বীকার করবে? তারা সবুজ বালিশে ও সুন্দর কারুকার্য খচিত গালিচার উপর হেলান দেয়া অবস্থায় থাকবে। সুতরাং তোমাদের রবের কোন্ নিআমতকে তোমরা উভয়ে অস্বীকার করবে? তোমার রবের নাম বরকতময়, যিনি মহামহিম ও মহানুভব। (সূরা রাহমান ৫৫:৬২-৭৮)
মাসআলা-৫৫ : জীবন ব্যাপী মনের হারাম কামনা থেকে নিজেকে সংরক্ষণ কারী এবং আল্লাহর নির্দেশ পালনকারী জান্নাতে যাবে:
মাসআলা-৫৬ : জান্নাতে না বেশি গরম হবে না বেশি ঠাণ্ডা বরং নাতিশীতোষ্ণ সুন্দর আবহাওয়া থাকবে:
মাসআলা-৫৭ : জান্নাতের খাদেম জান্নাতীগণকে চাঁদী ও স্ফটিক নির্মিত পান পাত্রে পানি পরিবেশন করবে:
মাসআলা-৫৮ : জান্নাতের ফলসমূহ এতো নাগালের মধ্যে থাকবে যে, জান্নাতী চাইলে তা দাড়িয়ে, শুয়ে, বসে, গ্রহণ করতে পারবে:
মাসআলা-৫৯ : সালসাবীল নামক জান্নাতের ঝর্ণা থেকে এমন মদ প্রবাহিত হবে যাতে আদার স্বাদ মিশ্রিত থাকবে:
মাসআলা-৬০ : প্রত্যেক জান্নাতীর বাগানগুলো এক বিস্তীর্ণ সাম্রাজ্যের ন্যায় দৃশ্যমান হবে:
মাসআলা-৬১ : জান্নাতীদেরকে চাঁদীর কংকর পরানো হবে:
وَجَزَاهُمْ بِمَا صَبَرُوا جَنَّةً وَحَرِيرًا . مُتَّكِثِينَ فِيهَا عَلَى الْأَرَائِكِ لَا يَرَوْنَ فِيهَا شَمْساً وَلا زَمْهَرِيراً . وَدَانِيَةً عَلَيْهِمْ ظِلالُهَا وَذُلِلَتْ قُطُوفُهَا تَذْلِيلاً. وَيُطَافُ عَلَيْهِمْ بِآنِيَةٍ مِنْ فِضَّةٍ وَأَكْوَابٍ كَانَتْ قَوَارِيرَاً . قَوَارِيرَا مِنْ فِضَّةٍ قَدَّرُوهَا تَقْدِيراً . وَيُسْقَوْنَ فِيهَا كَأْسًا كَانَ مِزَاجُهَا زَنْجَبِيلاً - عَيْنَا فِيهَا تُسَمَّى سَلْسَبِيلاً - وَيَطُوفُ عَلَيْهِمْ وِلْدَانٌ مُخَلَّدُونَ إِذَا رَأَيْتَهُمْ حَسِبْتَهُمُ لُؤْلُوا مَّنثُورًاً . وَإِذَا رَأَيْتَ ثَمَّ رَأَيْتَ نَعِيماً وَمُلْكًا كَبِيراً . عَالِيَهُمْ ثِيَابُ
سُندُسٍ خُضْرٌ وَإِسْتَبْرَقٌ وَحُلُوا أَسَاوِرَ مِنْ فِضَّةٍ وَسَقَاهُمْ رَبُّهُمْ شَرَاباً طَهُوراً - إِنَّ هَذَا كَانَ لَكُمْ جَزَاءً وَكَانَ سَعْيُكُم مَّشْكُوراً.
অর্থ: আর তারা যে ধৈর্যধারণ করেছিল তার পরিণামে তিনি তাদেরকে জান্নাত ও রেশমী বস্ত্রের পুরস্কার প্রদান করবেন। তারা সেখানে সুউচ্চ আসনে হেলান দিয়ে আসীন থাকবে। তারা সেখানে না দেখবে অতিশয় গরম, আর না অত্যধিক শীত। তাদের উপর সন্নিহিত থাকবে উদ্যানের ছায়া এবং তার ফলমূলের থোকাসমূহ তাদের সম্পূর্ণ আয়ত্তাধীন করা হবে। তাদের চারপাশে আবর্তিত হবে রৌপ্যপাত্র ও স্ফটিক স্বচ্ছ পানপাত্র রূপার ন্যায় শুভ্র স্ফটিক পাত্র; যার পরিমাপ তারা নির্ধারণ করবে। সেখানে তাদেরকে পান করানো হবে পাত্রভরা আদা-মিশ্রিত সূরা, সেখানকার এক ঝর্ণা যার নাম হবে সালসাবীল। আর তাদের চারপাশে প্রদক্ষিণ করবে চিরকিশোরেরা; তুমি তাদেরকে দেখলে বিক্ষিপ্ত মুক্তা মনে করবে। আর তুমি যখন দেখবে তুমি সেখানে দেখতে পাবে স্বাচ্ছন্দ্য ও বিরাট সাম্রাজ্য। তাদের উপর থাকবে সবুজ ও মিহি রেশমের পোশাক এবং মোটা রেশমের পোশাক, আর তাদেরকে পরিধান করানো হবে রূপার চুড়ি এবং তাদের রব তাদেরকে পান করাবেন পবিত্র পানীয়। (তাদেরকে বলা হবে) 'এটিই তোমাদের পুরস্কার; আর তোমাদের প্রচেষ্টা ছিল প্রশংসাযোগ্য।' (সূরা দাহার ৭৬:১২-২২)
মাসআলা-৬২: উজ্জ্বল চেহারা, সর্বপ্রকার অনর্থক কথাবার্তা মুক্ত পরিবেশ, প্রবাহমান ঝর্ণা, সুউচ্চ আসন, সারি সারি গালিচা এবং বিস্তৃত বিছানো কার্পেট, এসবই জান্নাতের নিআমত যা থেকে জান্নাতীরা উপকৃত হবে:
وُجُوهٌ يَوْمَئِذٍ نَاعِمَةٌ لِسَعْيِهَا رَاضِيَةً فِي جَنَّةٍ عَالِيَةٍ لَا تَسْمَعُ فِيهَا لَآغِيَةً فِيْهَا عَيْنَ جَارِيَةٌ فِيْهَا سُرُرٌ مَرْفُوعَةٌ ، وَأَكْوَابٌ مَّوْضُوعَةٌ ، وَنَمَارِقُ مَصْفُوفَةٌ وَزَرَابِي مَبْثُوثَةٌ.
অর্থ: সেদিন অনেক চেহারা হবে লাবণ্যময়। নিজেদের চেষ্টা-সাধনায় সন্তুষ্ট। সুউচ্চ জান্নাতে সেখানে তারা শুনবে না কোনো অসার বাক্য। সেখানে থাকবে প্রবাহমান ঝর্ণাধারা, সেখানে থাকবে সুউচ্চ আসনসমূহ। আর প্রস্তুত পানপাত্রসমূহ। আর সারি সারি বালিশসমূহ। আর বিস্তৃত বিছানো কার্পেটরাজি। (সূরা গাশিয়া ৮৮:৮-১৬)
মাসআলা-৬৩: জান্নাতে কণ্টকহীন কুল বৃক্ষ থাকবে। আরো থাকবে কাঁদি কাঁদি কলা ও ঘন এবং দীর্ঘ ছায়া। প্রবাহমান পানির ঝর্ণা, আনন্দ উদযাপনের স্থান:
মাসআলা-৬৪: জান্নাতী লোকদের দুনিয়ার সতী স্ত্রীদেরকে আল্লাহ দ্বিতীয়বার সৃষ্টি করবেন যাদের মধ্যে নিম্নোক্ত তিনটি গুণ থাকবে। কুমারী, স্বামীর সম বয়স্কা, প্রাণ ভরে স্বামী ভক্তিপূর্ণ:
وَأَصْحَابُ الْيَمِينِ مَا أَصْحَابُ الْيَمِينِ - فِي سِدْرٍ مَخْضُودٍ - وَطَلْحٍ مَّنضُورٍ . وَظِلَّ مَمْدُودٍ - وَمَاءٍ مَسْكُوبٍ ، وَفَاكِهَةٍ كَثِيرَةٍ - لا مَقْطُوعَةٍ وَلَا مَمْنُوعَةٍ . وَفُرُشٍ مَرْفُوعَةٍ ، إِنَّا أَنشَأْنَاهُنَّ إِنشَاءُ - فَجَعَلْنَاهُنَّ أَبْكَاراً - عُرُبًا أَتْرَاباً وَالْأَصْحَابِ الْيَمِينِ .
অর্থ: "যারা ডান দিকে থাকবে তারা কত ভাগ্যবান। তারা থাকবে কাঁটাবিহীন বরই বৃক্ষে এবং কাঁদি কাঁদি কলায়। আর দীর্ঘ ছায়ায় এবং প্রবাহমান ঝর্ণায়। আর প্রচুর ফলমূলের মাঝে। যা শেষ হবার নয় এবং নিষিদ্ধও নয়। আরো থাকবে সমুন্নত শয্যায়। আমি জান্নাতী রমণীগণকে বিশেষরূপে সৃষ্টি করেছি। অতপর তাদেরকে চিরকুমারী। কামিনী, সমবয়স্কা। ডান দিকের লোকদের জন্য।” (সূরা ওয়াকিয়া: ২৭-৩৮)
মাসআলা-৬৫: জান্নাতে কাফুর নামক ঝর্ণা থেকে এমন শরাব প্রবাহিত হবে যে, যাতে কাফুরের স্বাদ থাকবে এবং তা জান্নাতীদেরকে পান করানো হবে:
মাসআলা-৬৬: জান্নাতে সমস্ত কাজ জান্নাতীদের ইচ্ছা অনুযায়ী চোখের পলকে সুসম্পন্ন হয়ে যাবে:
إِنَّ الأَبْرَارَ يَشْرَبُونَ مِنْ كَأْسٍ كَانَ مِزَاجُهَا كَافُوراً - عَيْناً يَشْرَبُ بِهَا عِبَادُ اللَّهِ يُفَجِّرُونَهَا تَفْجِيراً
অর্থ: "নিশ্চয়ই সৎকর্মশীলরা পান করবে কাফুর মিশ্রিত পানীয়। এটা একটি ঝর্ণা, যা থেকে আল্লাহর বান্দাগণ পান করবে, তারা একে প্রবাহিত করবে।” (সূরা দাহর: ৫-৬)
মাসআলা-৬৭: জান্নাতের নিআমতসমূহ জান্নাতীদের মন ও দৃষ্টিকে শান্ত করবে:
মাসআলা-৬৮: পৃথিবীতে জান্নাতের নিআমত সম্পর্কে কল্পনা করাও সম্ভব নয়:
فَلَا تَعْلَمُ نَفْسٌ مَّا أُخْفِيَ لَهُم مِنْ قُرَّةِ أَعْيُنٍ جَزَاءً بِمَا كَانُوا يَعْمَلُونَ অর্থ: "কেউ জানে না তার জন্য তার কৃতকর্মের কি কি নয়ন-প্রীতিকর প্রতিদান লুকায়িত আছে।" (সূরা সাজদা: ১৭)
📄 জান্নাতের প্রশস্ততা
মাসআলা-৭৮: জান্নাতের সর্ব নিম্ন আনুমানিক প্রশস্ততার পরিমাণ পৃথিবী এবং সমস্ত আকাশের সম পরিমাণ, আর সর্বোচ্চ প্রশস্ততার কোনো পরিমাণ নেই। (তা একমাত্র আল্লাহই ভাল জানেন):
وَسَارِعُوا إِلَى مَغْفِرَةٍ مِّنْ رَّبِّكُمْ وَجَنَّةٍ عَرْضُهَا السَّمَاوَاتُ وَالْأَرْضُ أُعِدَّتُ لِلْمُتَّقِينَ
অর্থ: "তোমরা তোমাদের পালনকর্তার ক্ষমা এবং জান্নাতের দিকে ছুটে যাও, যার সীমানা হচ্ছে আসমান ও যমীন, যা তৈরী করা হয়েছে মোত্তাকীনদের জন্য”। (সূরা আলে ইমরান: ১৩৩)
فَلَا تَعْلَمُ نَفْسٌ مَّا أُخْفِي لَهُم مِنْ قُرَّةِ أَعْيُنٍ جَزَاءً بِمَا كَانُوا يَعْمَلُونَ
অর্থ: "কেউ জানে না তার জন্যে কৃতকর্মের কি কি নয়ন-প্রীতিকর প্রতিদান লুক্কায়িত আছে। (সূরা সাজদা ৩২:১৭)
মাসআলা-৭৯: জান্নাত দেখার পরই সঠিকভাবে বুঝা যাবে যে জান্নাত কত বিশাল এবং তাঁর নিআমত কত অসংখ্য:
وَإِذَا رَأَيْتَ ثَمَّ رَأَيْتَ نَعِيماً وَمُلْكًا كَبِيراً
অর্থ: সেখানে তাদেরকে পান করানো হবে পাত্রভরা আদা-মিশ্রিত সূরা, (সূরা দাহর ৭৬:১৭)
মাসআলা-৮০: জান্নাতে শত স্তর আছে আর প্রত্যেক স্তরের মাঝে এত দূরত্ব যেমন আকাশ ও যমীনের মাঝে দূরত্ব: নোট: এ সম্পর্কিত হাদীসটি ৯৯ নং মাসআলায় দেখুন।
মাসআলা-৮১: জান্নাতের একটি বৃক্ষের ছায়া এতো লম্বা হবে যে, কোনো অশ্বারোহী ঐ ছায়ায় শত বছর চলার পরও তা অতিক্রম করতে পারবে না: নোট: এ সম্পর্কিত হাদীসটি ১৩৫টি নং মাসআলায় দেখুন।
মাসআলা-৮২: সর্বশেষ জান্নাতে প্রবেশকারীকে এ দুনিয়ার চেয়ে দশগুণ বড় জান্নাত দান করা হবে:
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ ﷺ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : " إِنِّي لَأَعْرِفُ آخَرُ أَهْلِ النَّارِ خُرُوجًا مِنَ النَّارِ، رَجُلٌ يَخْرُجُ مِنْهَا زَحْفًا، فَيُقَالُ لَهُ: انْطَلِقُ فَادْخُلِ الْجَنَّةَ " ، قَالَ : " فَيَذْهَبُ فَيَدْخُلُ الْجَنَّةَ، فَيَجِدُ النَّاسَ قَدْ أَخَذُوا الْمَنَازِلَ ، فَيُقَالُ لَهُ: أَتَذْكُرُ الزَّمَانَ الَّذِي كُنْتَ فِيهِ، فَيَقُولُ: نَعَمْ ، فَيُقَالُ لَهُ: تَمَنَّ، فَيَتَمَنَّى فَيُقَالُ لَهُ: لَكَ الَّذِي تَمَنَّيْتَ وَعَشَرَةَ أَضْعَافِ الدُّنْيَا " ، قَالَ: " فَيَقُولُ: أَتَسْخَرُ بِي وَأَنْتَ الْمَلِكُ؟ "، قَالَ: فَلَقَدْ رَأَيْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ضَحِكَ حَتَّى بَدَتُ نَوَاجِذُهُ وَفِي رِوَايَةٍ أُخْرَى فَيَقُولُ إِنِّي لَاسْتَهْزِئُ مِنْكَ وَلِكُنِّي عَلَى مَا لشَاءُ قَادِرُ.
অর্থ: "আবদুল্লাহ বিন মাসউদ (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ বলেছেন: জাহান্নাম থেকে সর্বশেষে মুক্তিপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে আমি চিনি, তার অবস্থা হবে এই যে, সে হামাগুড়ি দিয়ে জাহান্নাম থেকে বের হবে, তাকে বলা হবে চলো, যখন জান্নাতে প্রবেশ করবে তখন দেখবে যে, পূর্ব থেকেই সমস্ত লোক জান্নাতে স্ব স্ব স্থান দখল করে রেখেছে। তখন তাকে বলা হবে তোমার কি ঐ সময়ের কথা স্মরণ আছে, যে সময় তুমি জাহান্নামে ছিলে? সে বলবে হ্যাঁ। তখন তাকে বলা হবে চাও, সে চাইবে। তখন তাকে বলা হবে তোমার জন্য রয়েছে তুমি যা চেয়েছ তা এবং তার সাথে আরো দেয়া হলো দুনিয়ার চেয়ে আরো দশগুণ বেশি। তখন বলবে হে আল্লাহ! তুমি বাদশা হয়ে আমার সাথে ঠাট্টা করছো? বর্ণনাকারী বলেন: আমি দেখলাম একথা বলে রাসূলুল্লাহ হেসেছেন এমনকি তাঁর দাত দেখা গেল। অন্য এক বর্ণনায় এসেছে, তাকে বলা হবে নিশ্চয়ই আমি তোমার সাথে ঠাট্টা করছি না। তবে আমি যা করতে চাই তাতে আমি সর্বশক্তিমান। (মুসলিম ১৯১৮৬)
নোট: রাসূলুল্লাহর ঐ ব্যক্তির উত্তর শুনে এজন্য হেসেছেন যে, আল্লাহর ক্ষমতা সম্পর্কে বান্দাদের ধারণা এতো অল্প যে, আল্লাহর নির্দেশকে অসম্ভব মনে করে, তাই সে ঠাট্টা বলে সম্বোধন করেছে।
মাসআলা-৮৩ : জান্নাতে প্রবেশকারী সর্বশেষ ব্যক্তিকে দুনিয়ার দশগুণ স্থান দেয়ার পরও জান্নাতে অনেক জায়গা বাকী থাকবে। যা পূর্ণ করার জন্য আল্লাহ নতুন সৃষ্টিজীব সৃষ্টি করবেন:
قَالَ: سَمِعْتُ أَنَسًا ، يَقُولُ: عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، قَالَ: يَبْقَى مِنَ الْجَنَّةِ مَا شَاءَ اللَّهُ أَنْ يَبْقَى ثُمَّ يُنْشِئُ اللَّهُ تَعَالَى لَهَا خَلْقًا مِمَّا يَشَاءُ
অর্থ: "আনাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ বলেছেন: জান্নাতে যতটুকু স্থান আল্লাহ চাইবেন ততটুকু স্থান খালী থেকে যাবে। অতপর আল্লাহ তার ইচ্ছা অনুযায়ী অন্য এক সৃষ্টিজীব সৃষ্টি করবেন।” (মুসলিম ৪/২৮৪৮)
টিকাঃ
১০ কিতাবুল ইমান, বাব ইসবাতুশ শাফায়া।
১১ কিতাবুল জান্নাত, সিফাত বাবু জাহান্নাম।
📄 জান্নাতের দরজা
মাসআলা-৮৪ : জান্নাতীদের জান্নাতে প্রবেশের সময় ফেরেশতাগণ জান্নাতের দরজাসমূহ খুলে দিবেন:
মাসআলা-৮৫ : দরজা দিয়ে প্রবেশের সময় ফেরেশতাগণ জান্নাতবাসীদের নিরাপত্তার জন্য দুয়া করবে:
وَسِيقَ الَّذِينَ اتَّقَوْا رَبَّهُمْ إِلَى الْجَنَّةِ زُمَراً حَتَّى إِذَا جَاءُوهَا وَفُتِحَتْ أَبْوَابُهَا وَقَالَ لَهُمْ خَزَنَتُهَا سَلَامٌ عَلَيْكُمْ طِبْتُمْ فَادْخُلُوهَا خَالِدِينَ
অর্থ: আর যারা তাদের রবকে ভয় করেছে তাদেরকে দলে দলে জান্নাতের দিকে নিয়ে যাওয়া হবে। অবশেষে তারা যখন সেখানে এসে পৌঁছবে এবং এর দরজাসমূহ খুলে দেয়া হবে তখন জান্নাতের রক্ষীরা তাদেরকে বলবে, 'তোমাদের প্রতি সালাম, তোমরা ভাল থাক। অতএব স্থায়ীভাবে থাকার জন্য এখানে (জান্নাতে) প্রবেশ করো'। (সূরা যুমার ৩৯:৭৩)
মাসআলা-৮৬: সর্বপ্রথম রাসূলুল্লাহ -এর জন্য জান্নাতের দরজা উন্মুক্ত করা হবে:
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : " آتِي بَابَ الْجَنَّةِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فَأَسْتَفْتِحُ، فَيَقُولُ الْخَازِنُ: مَنْ أَنْتَ؟ فَأَقُولُ: مُحَمَّدٌ ، فَيَقُولُ: بِكَ أُمِرْتُ لَا أَفْتَحُ لِأَحَدٍ قَبْلَكَ "
অর্থ: "আনাস বিন মালেক (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ বলেছেন: কিয়ামতের দিন আমি (সর্বপ্রথম) জান্নাতের দরজার সামনে আসবো এবং তা খুলতে বলবো, দ্বার রক্ষী (ফেরেশতা) বলবে কে তুমি? আমি বলবো: মুহাম্মদ, তখন সে বলবে আমাকে এ নির্দেশ দেয়া হয়েছে, যে আপনার পূর্বে আর কারো দরজা না খুলতে। (মুসলিম ১৯১৯৭)
আরো বর্ণিত হয়েছে:
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ هُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَنَا أَكْثَرُ الْأَنْبِيَاءِ تَبَعًا يَوْمَ الْقِيَامَةِ، وَأَنَا أَوَّلُ مَنْ يَقْرَعُ بَابَ الْجَنَّةِ»
অর্থ: "আনাস বিন মালেক (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ বলেছেন: কিয়ামতের দিন সবচেয়ে বেশি উম্মত আমার হবে। আর আমি সর্বপ্রথম জান্নাতের দরজা নক করবো।” (মুসলিম ১৯১৯৬)
মাসআলা-৮৭: জান্নাতের আট দরজা:
عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، قَالَ: فِي الْجَنَّةِ ثَمَانِيَةُ أَبْوَابٍ فِيهَا بَابٌ يُسَمَّى الرِّيَّانَ، لَا يَدْخُلُهُ إِلَّا الصَّائِمُونَ»
অর্থ: “সাহাল বিন সা’দ (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: জান্নাতের আটটি দরজা রয়েছে যার মধ্যে একটির নাম রাইয়্যান, যার মধ্য দিয়ে একমাত্র রোযাদারগণই প্রবেশ করবে।” (বুখারী ৪৯৩২৫৭)
মাসআলা-৮৮ : জান্নাতের অন্যান্য দরজা সমূহের নাম হলো “বাবুস্সালাহ” “বাবুল জিহাদ” “বাবুস্সাদাকা”
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ اللهِ ﷺ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ قَالَ: «مَنْ أَنْفَقَ زَوْجَيْنِ فِي سَبِيلِ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ نُودِيَ فِي الْجَنَّةِ يَا عَبْدَ اللَّهِ هَذَا خَيْرٌ، فَمَنْ كَانَ مِنْ أَهْلِ الصَّلَاةِ يُدْعَى مِنْ بَابِ الصَّلَاةِ، وَمَنْ كَانَ مِنْ أَهْلِ الْجِهَادِ يُدْعَى مِنْ بَابِ الْجِهَادِ، وَمَنْ كَانَ مِنْ أَهْلِ الصَّدَقَةِ يُدْعَى مِنْ بَابِ الصَّدَقَةِ، وَمَنْ كَانَ مِنْ أَهْلِ الصِّيَامِ دُعِيَ مِنْ بَابِ الرَّيَّانِ» ، قَالَ أَبُو بَكْرٍ الصِّدِّيقُ : يَا رَسُولَ اللَّهِ ، مَا عَلَى أَحَدٍ يُدْعَى مِنْ تِلْكَ الْأَبْوَابِ مِنْ ضَرُورَةٍ. فَهَلْ يُدْعَى أَحَدٌ مِنْ تِلْكَ الْأَبْوَابِ كُلِّهَا؟ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ : نَعَمْ ، وَأَرْجُو أَنْ تَكُونَ مِنْهُمْ»
অর্থ: “আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: যে ব্যক্তি আল্লাহর এক জোড়া জিনিস ব্যয় করেছে (যেমন: দু’টি ঘোড়া, দু’টি তলোয়ার) তাকে জান্নাতে এ বলে ডাকা হবে যে, হে আল্লাহর বান্দা তুমি যা ব্যয় করেছো তা উত্তম। আর যে ব্যক্তি নামাযী ছিল তাকে বাবুসসালাহ দিয়ে ডাকা হবে। যে ব্যক্তি জিহাদী ছিল তাকে বাবুল জিহাদ দিয়ে ডাকা হবে। যে ব্যক্তি দান-খয়রাত করতো তাকে বাবুসসাদাকা দিয়ে ডাকা হবে। যে ব্যক্তি রোযাদার ছিল তাকে বাবুর রাইয়্যান দিয়ে ডাকা হবে। (এ কথা শুনে) আবু বকর (রা) জিজ্ঞেস করলেন হে আল্লাহর রাসূল! কোনো ব্যক্তিকে জান্নাতের সমস্ত দরজাগুলি দিয়ে আহ্বান করার প্রয়োজন হবে কি? আর এমন কি কেউ আছে যাকে জান্নাতের সমস্ত দরজাগুলি দিয়ে ডাকা হবে? নবী ﷺ বললেন: হ্যাঁ আছে। আর আমি আশা করছি তুমিই হবে ঐ ব্যক্তি।” (নাসায়ী ৪/২২৩৮)
মাসআলা-৮৯ : জান্নাতের একটি দরজার প্রশস্ততা প্রায় বার তেরশ কি.মি. সমান:
মাসআলা-৯০ : কোনো প্রকার হিসাব নিকাশ ব্যতীত জান্নাতে প্রবেশ কারীদের দরজার নাম "বাব আইমান"।
(হে আল্লাহ তুমি তোমার দয়া ও অনুগ্রহে আমাদেরকে তাদের অন্তর্ভুক্ত করো)
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ اللهِ فِي حَدِيثِ الشَّفَاعَةِ فَيَقُولُ اللَّهُ تَعَالَى يَا مُحَمَّدُ ، أَدْخِلْ الْجَنَّةَ مِنْ أُمَّتِكَ مَنْ لَا حِسَابَ عَلَيْهِ مِنَ الْبَابُ الْأَيْمَنِ مِنْ أَبْوَابِ الْجَنَّةِ وَهُمْ شُرَكَاءُ النَّاسِ فِيمَا سِوَى ذَلِكَ مِنَ الْأَبْوَابِ، وَالَّذِي نَفْسُ مُحَمَّدٍ بِيَدِهِ، إِنَّ مَا بَيْنَ الْمِصْرَاعَيْنِ مِنْ مَصَارِيعِ الْجَنَّةِ لَكَمَا بَيْنَ مَكَّةَ وَهَجَرٍ أَوْ كَمَا بَيْنَ مَكَّةَ وَبُصْرَى "
অর্থ: "আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত, শাফায়াতের হাদীসে বর্ণিত হয়েছে, আল্লাহ তা'আলা বলবেন: হে মুহাম্মদ! তোমার উম্মতের মধ্য থেকে ঐ সমস্ত লোকদেরকে আইমান দরজা দিয়ে জান্নাতে প্রবেশ করাও যাদের কোনো হিসাব-নিকাশ নেই। আর তারা অন্য লোকদের সাথেও শরীক আছে যারা জান্নাতের অন্যান্য দরজা দিয়ে জান্নাতে প্রবেশ করবে। (অর্থাৎ: তারা যদি অন্য কোনো দরজা দিয়ে জান্নাতে প্রবেশ করতে চায় তাহলে তাও তারা করতে পারবে) কসম ঐ সত্তার যার হাতে মুহাম্মদ -এর প্রাণ। জান্নাতের দু'টি চৌকাঠের মাঝের দূরত্ব হলো মক্কা ও হিজর (বাহরাইনের একটি শহরের নাম) এর দূরত্বের সমান। বা তিনি বলেছেন, মক্কা ও বাসরার দূরত্বের সমান।” (মুসলিম ১/১৯৪)
নোট: মক্কা-হিজরের মাঝের দূরত্ব হলো ১১৬০ কি.মি.। আর মক্কা বাসরার মাঝের দূরত্ব হলো ১২৫০ কি. মি.।
মাসআলা-৯১ : কোনো প্রকার হিসাব ব্যতীত সত্তর হাজার লোক এক সাথে আইমান নামক দরজা দিয়ে জান্নাতে প্রবেশ করবে অথচ কেউ সামনে পিছনে হবে না:
عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «لَيَدْخُلَنَّ الْجَنَّةَ مِنْ أُمَّتِي سَبْعُونَ أَلْفًا، أَوْ سَبْعُ مِائَةِ أَلْفٍ لَا يَدْرِي أَبُو حَازِمٍ أَيَّهُمَا قَالَ مُتَمَاسِكُيونَ آخِذُ بَعْضُهُمْ بَعْضًا، لَا يَدْخُلُ أَوَّلُهُمْ حَتَّى يَدْخُلَ آخِرُهُمْ ، وُجُوهُهُمْ عَلَى صُورَةِ الْقَمَرِ لَيْلَةَ الْبَدْرِ»
অর্থ: "সাহাল বিন সা'দ (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ বলেছেন: আমার উম্মতের মধ্যে সত্তর হাজার লোক বা সাত লক্ষ লোক বর্ণনাকারী আবু হাজেম সঠিকভাবে জানেন না যে, রাসূল কোনো সংখ্যাটির কথা বলেছেন। তারা একে অপরের হাত ধরে জান্নাতে প্রবেশ করবে, তাদের সর্বপ্রথম ব্যক্তি ততক্ষণ পর্যন্ত সেখানে প্রবেশ করবে না, যতক্ষণ না তাদের সর্বশেষ ব্যক্তি সেখানে প্রবেশ করে। (অর্থাৎ তারা সবাই একই সাথে একবারে জান্নাতে প্রবেশ করবে) ঐ জান্নাতীদের চেহারা ১৪ তারিখের রাতের চাঁদের ন্যায় চমকাতে থাকবে। (মুসলিম ১/২১৯)
নোট: মুসলিমের বর্ণনায় এক হাদীসে সত্তর হাজারের কথা বর্ণিত হয়েছে। (এর সঠিক সংখ্যা সম্পর্কে একমাত্র আল্লাহই ভাল জানেন)
মাসআলা-৯২ : ভাল করে ওযু করার পর কালেমা শাহাদাত পাঠকারী ব্যক্তি জান্নাতের আট দরজার মধ্য থেকে যে কোনো দরজা দিয়েই জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে:
عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ " مَا مِنْكُمْ مِنْ أَحَدٍ يَتَوَضَّأُ فَيُبْلِغُ أَوْ فَيُسْبِغُ الْوَضُوءَ ثُمَّ يَقُولُ: أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ إِلَّا فُتِحَتْ لَهُ أَبْوَابُ الْجَنَّةِ الثَّمَانِيَةُ يَدْخُلُ مِنْ أَيْهَا شَاءَ
অর্থ: "ওমার বিন খাত্তাব (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ বলেছেন: যে ব্যক্তি ভাল করে ওযু করে এর পর এ দুআ পাঠ করে- أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ
অর্থ: "আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত অন্য কোনো ইলাহ নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা এবং তাঁর রাসূল। তার জন্য জান্নাতের আটটি দরজা খুলে দেয়া হয়, সে তখন যেটি দিয়ে খুশি সেটি দিয়ে জান্নাতে প্রবেশ করবে। (মুসলিম)
মাসআলা-৯৩: রীতিমত পাঁচ ওয়াক্ত নামায আদায়কারী, রমযানে রোযা পালনকারিনী, সতী, স্বীয় স্বামীর আনুগত্যশীল নারী জান্নাতের আট দরজার মধ্য থেকে যে কোনো দরজা দিয়ে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে:
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : "إِذَا صَلَّتِ الْمَرْأَةُ خُمُسَهَا ، وَصَامَتْ شَهْرَهَا ، وَحَصَّنَتْ فَرْجَهَا، وَأَطَاعَتْ بَعْلَهَا ، دَخَلْتَ مِنْ أَي أَبْوَابِ الْجَنَّةِ شَاءَتْ"
অর্থ: "আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ বলেছেন: যে মহিলা পাঁচ ওয়াক্ত নামায যথাযথভাবে আদায় করে, রমযানে রোযা রাখে, লজ্জাস্থান সংরক্ষণ করে, স্বীয় স্বামীর অনুগত থাকে, কিয়ামতের দিন তাকে বলা হবে, জান্নাতের যে দরজা দিয়ে খুশি তা দিয়ে তুমি জান্নাতে প্রবেশ করো।" (ইবনে হিব্বান ৯/৪২৬৩)
মাসআলা- ৯৪: তিনজন অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তানের মৃত্যুতে ধৈর্যধারণকারী ব্যক্তি জান্নাতের আট দরজার মধ্য থেকে যে কোনো এক দরজা দিয়ে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে?
عَنْ أَنَسٍ مَالِكِ عَنِ النَّبِيِّ قَالَ «مَا مِنْ مُسْلِمٍ يَمُوتُ لَهُ ثَلَاثَةٌ مِنَ الْوَلَدِ لَمْ يَبْلُغُوا الْحِنْثَ إِلَّا تَلَقَّوْهُ مِنْ أَبْوَابِ الْجَنَّةِ الثَّمَانِيَةِ، مِنْ أَيْهَا شَاءَ دَخَلَ»
অর্থ: "আনাস বিন মালেক (রা) নবী থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: যে মুসলমান ব্যক্তির তিনজন নাবালেগ সন্তান মৃত্যুবরণ করলো (আর সে তাতে ধৈর্যধারণ করলো) সে জান্নাতের আট দরজাতেই তাদের সাক্ষাৎ লাভ করবে এবং এর যে দরজা দিয়ে খুশি তা দিয়েই সে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে।” (ইবনে মাজা)
মাসআলা-৯৫: সোম ও বৃহস্পতিবার দিন জান্নাতের দরজাসমূহ খোলা হয়ে থাকে:
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ اللهِ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، قَالَ: " تُفْتَحُ أَبْوَابُ الْجَنَّةِ يَوْمَ الْإِثْنَيْنِ، وَيَوْمَ الْخَمِيسِ، فَيُغْفَرُ لِكُلِّ عَبْدٍ لَا يُشْرِكُ بِاللَّهِ شَيْئًا، إِلَّا رَجُلًا كَانَتْ بَيْنَهُ وَبَيْنَ أَخِيهِ شَحْنَاءُ، فَيُقَالُ: أَنْظِرُوا هَذَيْنِ حَتَّى يَصْطَلِحَا، أَنْظِرُوا هَذَيْنِ حَتَّى يَصْطَلِحَا، أَنْظِرُوا هَذَيْنِ حَتَّى يَصْطَلِحَا
অর্থ: "আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ বলেছেন: সোম ও বৃহস্পতিবার জান্নাতের দরজাসমূহ খোলা হয় এবং প্রত্যেক ঐ ব্যক্তিকে ক্ষমা করা হয়, যে আল্লাহর সাথে শিরক করে নি। কিন্তু ঐ ব্যক্তি ব্যতীত যে তার জন্য কোনো ভাইয়ের সাথে হিংসা রাখে। (তাদের উভয়ের সম্পর্কে) ফেরেশতাকে বলা হয় যে, তাদের জন্য অপেক্ষা কর যাতে তারা পরস্পরে মিলিত হয়ে যায়।" (মুসলিম ৪/২৫৬৫)
মাসআলা-৯৬: রমযানে পূর্ণ মাস ব্যাপী জান্নাতের আট দরজা খোলা থাকে:
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : «إِذَا دَخَلَ رَمَضَانُ فُتِحَتْ أَبْوَابُ أَسْمَاءِ وَخُلِقَتْ أَبْوَابُ جَهَنَّمَ وَسُلْسِلَتِ الشَّيَاطِينُ»
অর্থ: "আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ বলেছেন: যখন রমযান আসে তখন আকাশের দরজাসমূহ খুলে দেয়া হয়, আর জাহান্নামের দরজাসমূহ বন্ধ করে দেয়া হয় এবং শয়তানকে জিঞ্জিরাবদ্ধ করা হয়।" (মুত্তাফাকুন আলাইহি)
টিকাঃ
১২ কিতাবুল ঈমান, বাব ইসবাতুশশাফায়া।
১৩ কিতাবুল ঈমান, বাব ইসবাতুশশাফায়া।
১৪ কিতাব বাদউল খালক, বাব মা যায়া ফি সিফাতিল জান্নাহ।
১৫ কিতাবুল জিহাদ, বাবু মান আনফাকা যাওযাইনি ফী সাবীলিল্লাহ।
১৬ কিতাবুল ঈমান, বাব ইসরাতুশশাফায়া।
১৭ কিতাবুল ঈমান, বাব আদ্দালীল আলা দুখুলি ত্বাওয়ায়িফিল মুসলিমীন আল জান্নাত বিগাইরি হিসাব।
১৮ কিতাবুত তাহারা, বাব যিকরিল মুস্তাহাব আকিবাল ওযু।
১৯ আলবানীর সম্পাদিত সহীহ আল জামে আসসাগীর, খ.-৩, হাদীস নং-৬৭৩।
২০ কিতাবুল জানায়েয, বাব মাযায়া ফী সাওয়াবি মান অসীবা লিওয়ালেদিহি। (১/১৩০৩)
২১ কিতাবুল বির ওয়া সিলা, বাব সাহানা।
২২ আল লু 'লু' ওয়াল মারজান, খ.১, হাদীস নং ৬৫২।