📘 মৃত্যুর পরে অনন্ত জীবন > 📄 মু'মিনরা হুশিয়ার

📄 মু'মিনরা হুশিয়ার


আল্লাহ আদম (আ) কে সৃষ্টি করার পর ফেরেশতাগণকে হুকুম দিয়েছেন যে, আদমকে সেজদা করো। ইবলীস ব্যতীত সবাই তাকে সেজদা করেছিল। আল্লাহ ইবলীসকে জিজ্ঞেস করলেন: আমার নির্দেশ সত্ত্বেও কে তোমাকে সেজদা দিতে বাধা দিল। ইবলীস বললো: আমি আদমের চাইতে উত্তম, তাকে তুমি মাটি দিয়ে সৃষ্টি করেছেন, আর আমাকে আগুন দিয়ে। আল্লাহ বললেন: তোমার অধিকার নেই যে, তুমি এখানে অহংকার করো, তুমি এখান থেকে বের হও। নিশ্চয় তুমি লাঞ্ছিত ও অপমানিত। ইবলিস আবার বললো: আমাকে কিয়ামত পর্যন্ত সুযোগ দিন। আল্লাহ বললেন: তোমাকে সুযোগ দেয়া হলো। তখন ইবলীস এ ঘোষণা দিল যে, হে আল্লাহ! যেভাবে তুমি আমাকে (সেজদার নির্দেশ দিয়ে) পথভ্রষ্ট করেছো, এমনিভাবে আমিও মানুষকে সঠিক রাস্তা থেকে পথ ভ্রষ্ট করার জন্য তাদের পিছনে লেগে থাকবো। সামনে পিছনে ডানে বামে সকল দিক থেকে তাদেরকে ঘিরে রাখবো, আর তাদের অধিকাংশকেই তুমি অকৃতজ্ঞ পাবে।
আল্লাহ বললেন: তুমি এখান থেকে লাঞ্ছিত ও পদদলিত হয়ে বের হয়ে যাও, আর জেনে রাখ যে, মানুষের মধ্য থেকে যারা তোমার কথা মানবে তুমি সহ তাদেরকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করবো। অতপর আল্লাহ আদম (আ) কে লক্ষ্য করে বললেন: তুমি এবং তোমার স্ত্রী এ জান্নাতে বসবাস করো। সেখান থেকে যা খুশি তা খাও, কিন্তু ঐ বৃক্ষের নিকটবর্তী হইও না। অন্যথায় তুমি যালিমদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে। হিংসা ও প্রতিরোধ প্রত্যাসী ইবলীস আদম (আ)-এর নিকট এসে বললো: তোমার রব তো তোমাকে ঐ বৃক্ষ থেকে বারণ করেছে এজন্য যে, তুমি যেন ঐ বৃক্ষের নিকট গিয়ে ফেরেশতা না বনে যাও বা চিরস্থায়ীভাবে জান্নাতের অধিবাসী না হয়ে যাও। এবং সাথে সাথে ইবলীস কসম খেয়ে দৃঢ় বিশ্বাস করাল যে, আমি তোমার কল্যাণকামী এবং তোমার বন্ধু। এভাবে ইবলীস আদম ও তাঁর স্ত্রীকে ধোকায় ফেলার ব্যাপারে সফল হয়ে গেল, যার ফলে আদম (আ) ও হাওয়া (আ) বড় নিআমত জান্নাত থেকে বঞ্চিত হয়ে গেল। তখন আল্লাহ আদম ও হাওয়াকে পৃথিবীতে থাকার নির্দেশ দিলেন। তাদেরকে কিছু নির্দেশ ও বিধি-বিধান দিয়ে তাদেরকে সতর্ক করে দিলেন যে, হে আদম সন্তান। আর যেন এমন না হয় যে, শয়তান আবার তোমাদেরকে এভাবে ফেতনায় ফেলে, যেভাবে সে তোমাদের পিতা-মাতাকে ফেতনায় ফেলে জান্নাত থেকে বের করেছিল এবং তাদের পোশাক তাদের শরীর থেকে খুলে দিয়েছিল। যেন তাদের লজ্জাস্থান একে অপরের সামনে খুলে যায়। (বিস্তারিত দেখুন সূরা আরাফ)।
আল্লাহ কুরআনের বিভিন্ন স্থানে বিভিন্নভাবে, আদম সন্তানদেরকে বার বার সতর্ক করেছেন যে, হে আদম সন্তান! শয়তান তোমাদের স্পষ্ট শত্রু। তার চক্রান্তে পড় না। তাহলে তোমরা ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে।
কিছু আয়াতের উদ্ধৃতি:
১. হে লোকেরা! শয়তানের অনুসরণ করো না, সে তোমাদের স্পষ্ট দুশমন। (সূরা বাক্বারা: ২০৮)
২. শয়তান মানুষকে ওয়াদা দেয়, তাদেরকে আশার আলো দেখায়, কিন্তু স্মরণ রাখ শয়তানের সমস্ত ওয়াদা চক্রান্ত ব্যতীত আর কিছুই নয়।
৩. (লোকেরা)! সুতরাং পার্থিব জীবন যেন তোমাদেরকে কিছুতেই প্রতারিত না করে এবং সে শয়তান যেন তোমাদেরকে কিছুতেই আল্লাহ সম্পর্কে প্রবঞ্চিত না করে। (সূরা লুকমান: ৩৩)
আল্লাহর স্পষ্ট সতর্কতা সত্ত্বেও মানুষ কতইনা সহজভাবে শয়তানের চক্রান্তে পড়ে নিজেকে জান্নাত থেকে বঞ্চিত করেছে। এর অনুমান প্রত্যেক মানুষ তার বাস্তব জীবনের প্রতিটি মুহূর্তকে নিয়ে চিন্তা করলে নিজেই তা বুঝতে পারবে।
দুনিয়ার এ সংক্ষিপ্ত জীবনের তুলনায় পরকালের দীর্ঘজীবনকে রাসূলুল্লাহ এভাবে বুঝিয়েছেন যে, যদি কোনো ব্যক্তি তার হাতের আঙ্গুলকে কোনো সমুদ্রের মধ্যে রেখে আবার তুলে নেয় তাহলে তার আঙ্গুলের সাথে যে সামান্য পানি লেগেছে এটা দুনিয়ার জীবনের ন্যায়, আর বিশাল সমুদ্র পরকালের জীবনের ন্যায়। (মুসলিম)
যদি এ উদাহরণকে আমরা গাণিতিকভাবে বুঝতে চাই, তাহলে এভাবে তা বুঝা যেতে পারে যে, রাসূলুল্লাহ -এর বর্ণনা অনুযায়ী, উম্মতে মুহাম্মদীর বয়স ষাট ও সত্তর বছরের মাঝামাঝি। এ বাণী অনুযায়ী দুনিয়াতে মানুষের জীবন বেশি থেকে বেশি হলে সত্তর বছর ধরা যায়। দুনিয়ার গণনার সর্বশেষ সংখ্যার দশগুণকে, পরকালের জীবনের সাথে অনুমান করে উভয়ের তুলনা করলে, দুনিয়ার সত্তর বছর জীবন যাপনকারী ব্যক্তি, দুনিয়ার প্রতি মিনিটের বিনিময়ে, পরকালে এক কোটি তের লক্ষ চব্বিশ হাজার নয়শত বছর জীবন যাপন করবে। চাই সে জান্নাতের অফুরন্ত নিআমতের মধ্যে থাকুক আর জাহান্নামের কঠিন শাস্তি তে থাকুক।
উল্লেখ্য: দুনিয়া ও আখেরাতের এ পরিসংখ্যানও একান্তই আনুমানিক বাস্তবিক নয়। চিন্তা করুন আমরা কি আমাদের সার্বিক প্রচেষ্টা এক মিনিটের জীবনকে সুন্দর ও কারুকার্যময় করার জন্য ব্যয় করবো, না এক কোটি তের লক্ষ চব্বিশ হাজার নয়শত বছরের জীবনকে সুন্দর ও কারুকার্যময় করার জন্য ব্যয় করবো কিন্তু ইবলীস শুধু এক সেকেন্ডের জীবনকে আমাদের জন্য এত চিত্তাকর্ষক করে দিয়েছে যে, এর ফলে আমরা কোটি বছর দীর্ঘ চিরস্থায়ী নিআমতসমূহ থেকে আমরা গাফেল হয়ে আছি, আর এক সেকেন্ডের সংক্ষিপ্ত জীবনের রং তামাশায় পিনপতন হীন নিমগ্ন হয়ে আছি, এ শয়তানের ধোঁকায় ও চক্রান্তে পরকালে জান্নাত থেকে বঞ্চিত হতে যাচ্ছি। দুনিয়ার ক্ষণস্থায়ী জীবনে নিমগ্ন থাকা, আর পরকালের দীর্ঘজীবনের কথা ভুলে যাওয়ার চিত্র কদমে কদমে আমাদের সামনে ফুটে উঠে। রাসূলুল্লাহ বলেন: "ফজর নামাযের দু'রাকআত (সুন্নাত) দুনিয়া ও এর মাঝে যাকিছু আছে তা থেকে উত্তম।” (তিরমিযী)
চিন্তা করুন "দুনিয়া ও এর মাঝে যাকিছু আছে" এতে আমেরিকা, আফ্রিকা, ইউরোপ, এশিয়া এবং বাকী সমস্ত রাষ্ট্রের সম্পদ অন্তর্ভুক্ত আছে। পৃথিবীর অনুদ্ঘাটিত সম্পদও এর অন্তর্ভুক্ত। কিন্তু এ দু'রাকআত সুন্নাত আদায়ের জন্য কতজন মুসলমান ফজরের আযানের সাথে সাথে উঠে? অথচ দুনিয়া কামানোর উদ্দেশ্যে কত মুসলমান ফজরের আযানের আগে উঠে যায়। কত ব্যবসায়ী এমন আছে যে, তার ব্যবসার জন্য সারা রাত জাগ্রত থাকে, কত কৃষক এমন আছে যে, সে তার যমীনে কাজ করার জন্য সারা রাত কষ্ট করে। কত ছাত্র এমন আছে যে, সুন্দর ভবিষ্যতের আশায় সারা রাত পড়াশুনার মাঝে কাটায়। কিন্তু ফজরের নামাযের দু'রাকআত (সুন্নাত) পড়ার ভাগ্য কজনের হয়? দুনিয়ার লোভ ও আশা-আকাঙ্খা আমাদেরকে পরকালের চিরস্থায়ী নিআমতে ভরপুর জান্নাত থেকে বঞ্চিত করতেছে।
রাসূলূল্লাহ বলেন: "দানের মাধ্যমে সম্পদ কমে না।" (মুসলিম)
অর্থাৎ: প্রকাশ্যভাবে সম্পদ কমা সত্ত্বেও আল্লাহ তাতে এত বরকত দেন যে, সামান্য দান হওয়া সত্ত্বেও এর মাধ্যমে আল্লাহ বহু মানুষের প্রয়োজন মিটিয়ে দেন। কিন্তু শয়তান বাহ্যিক পরিমাণ গুণে আমাদেরকে দেখায় যে, হাজার টাকা থেকে যদি একশত টাকা দান করা হয় তাহলে নয়শত টাকা থাকবে এতে সম্পদ বাড়বে কি করে বরং কমবে। তোমার ঘরের প্রয়োজনীয়তা, ছেলে মেয়েদের লেখাপড়া, চিকিৎসা, অন্যান্য নিত্য প্রয়োজনীয়তার এত বিশাল চার্ট তুমি কিভাবে পূরণ করবে। মানুষ তখন তার ঘনিষ্ট কল্যাণকামীর সামনে চলে আসে, অথচ এ ইবলীস আদম সন্তানকে জান্নাত থেকে বঞ্চিত করার পাথেয় যোগাচ্ছে।
আল্লাহর বাণী "আমি সুদের মাধ্যমে সম্পদ কমিয়ে দেই।" (সূরা বাক্বারা: ২৭৬)
নবী বলেন: যেকোনভাবে অর্জিত হারাম সম্পদে লালিত শরীর সর্বপ্রথম জাহান্নামের আগুনে জ্বলবে। (ত্বাবারানী)।
ঐ আগুন যার এক মুহূর্ত দুনিয়ার সমস্ত নিআমত ও আরাম আয়েশকে ভুলিয়ে দেয়ার জন্য যথেষ্ট। আগুনের পোশাক, আগুনের উড়না, আগুনের বিছানা, আগুনের ছাদ, আগুনের ছাতা, পান করার জন্য গরম পানি, খাওয়ার জন্য বিষাক্ত কাঁটাদার খাদ্য, আগুনে সৃষ্ট সাপ ও বিচ্ছু কিন্তু সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি, আরামদায়ক জীবন, সন্তানদের ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে শিক্ষা, একে অপরের তুলনায় বড় হওয়া, পার্থিব মর্যাদা ও সম্মান লাভ করা, মিথ্যা আমিত্ব, মিথ্যা সম্মান, মিথ্যা শান্তি প্রতিষ্ঠার ধারণাকে অভিশপ্ত ইবলীস এতো চিত্তাকর্ষক করেছে যার ফলে রাসূলূল্লাহ -এর সতর্কবাণী পরাজিত, আর ইবলীসের চক্রান্ত বিজয়ী হয়েছে।
(লা-হাওলা ওয়ালাকুয়‍্যাতা ইল্লাহ বিল্লাহ।)
আল্লাহর বাণী: أَلَا بِذِكْرِ اللَّهِ تَطْمَئِنُّ الْقُلُوبُ
অর্থ: "অবশ্যই আল্লাহর যিকিরের মাধ্যমে আত্মা তৃপ্তি লাভ করে।" (সূরা রা'দ: ২৮)
আল্লাহর এ স্পষ্ট বাণী সত্ত্বেও অভিশপ্ত ইবলীশ মানুষকে বিভিন্ন প্রকার শান্তি লাভের চক্রান্তে ফেলে রেখেছে, কাউকে স্বীয় পীর সাহেবের কবরে মান্নত মানার মধ্যে শান্তি মনে হয়, আবার কারো স্বীয় পীরের কদম বুসীতে তৃপ্তি হাসিল হয়। কারো মদ পানে শান্তি লাগে, কারো অন্য মহিলার কণ্ঠ শোনা, গান-বাজনা শোনার মধ্যে তৃপ্তি মনে হয়। কারো সোনা-চান্দ ও সম্পদের পাহাড় গড়ার মধ্যে শান্তি মনে হয়, কারো সরকারী উচ্চ পদ লাভে শান্তি মনে হয়, কারো সাংসদ ও মন্ত্রী হওয়ায় বা উপদেষ্টা হওয়ায় শান্তি মনে হয়। চিন্তা করুন আদম সন্তানের কত মানুষ এমন হবে যে, আল্লাহর স্মরণে আত্মতৃপ্তি লাভ করতে আগ্রহী, আর কত লোক এমন যে অভিশপ্ত ইবলীসের চক্রান্তে পড়ে আছে, আর এই হলো ঐ বাস্তব অবস্থা যা থেকে আল্লাহ আমাদেরকে আগেই সতর্ক করেছেন।
وَزَيَّنَ لَهُمُ الشَّيْطَانُ أَعْمَالَهُمْ فَصَدَّهُمْ عَنِ السَّبِيلِ وَكَانُوا مُسْتَبْصِرِينَ
অর্থ: "শয়তান তাদের কাজকে তাদের দৃষ্টিতে শোভন করেছিল এবং তাদেরকে সৎ পথ অবলম্বনে বাধা দিয়েছিল, যদিও তারা ছিল বিচক্ষণ।" (সূরা আনকাবুত: ৩৮)
দুনিয়া হাসিলের জন্য সমস্ত মানষ এ নীতির ওপর দৃঢ় বিশ্বাস রাখে যে, যতক্ষণ পর্যন্ত কেউ পরিশ্রমী না হবে ততক্ষণ পর্যন্ত ঘরে বসে থেকে কেউ আরাম দায়ক জীবন যাপন করতে পারবে না। কৃষক ফসল লাভের জন্য রাত-দিন মাঠে কাজ করে, ব্যবসায়ী লাভবান হওয়ার জন্য রাত-দিন দোকানে বসে থাকে। চাকুরীজীবী বেতন লাভের জন্য মাসভর ডিউটি করতে থাকে, শ্রমিক পয়সা লাভের জন্য সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কঠিন পরিশ্রম করতে থাকে, ছাত্র পরীক্ষায় পাস করার জন্য বছর ব্যাপী লিখা-পড়া করতে থাকে। মানব জীবনে এ ধরনের পরিশ্রম করা এতো স্বাভাবিক ব্যাপার যে, এ ব্যাপারে কেউ কাউকে সবক দেয়ারও প্রয়োজন হয় না। কিন্তু দ্বীনের ব্যাপারে শয়তানের ধোঁকা ও চক্রান্ত পরিলক্ষিত হয় যে, মুসলমানদের বহু সংখ্যক লোক এমন আছে যারা মনে করে আমাদের জান্নাত ও জাহান্নামে যাওয়া আল্লাহ আগেই লিখে রেখেছেন, তাহলে আমল করার আর কি প্রয়োজন। আবার কোনো লোক এ চক্রান্তে পড়ে আছে যে, যখন আল্লাহ চাইবেন তখন নামায পড়ব। বা আপনি আমাদের জন্য দুআ করুন যেন আল্লাহ আমাদেরকে নামায পড়ার তাওফীক দেন। আবার কোনো কোনো লোক এ ধোকায় পড়ে আছে যে, আল্লাহ অত্যন্ত দয়ালু তিনি সবকিছু ক্ষমা করে দিবেন। দুনিয়ার ব্যাপারে কঠোর পরিশ্রম এবং ধারাবাহিক প্রচেষ্টা আর দ্বীনের ব্যাপারে ভাগ্য ও আল্লাহর দয়ার দোহাই দিয়ে আমল ত্যাগ করা অভিশপ্ত শয়তানের ঐ ধোঁকা ও চক্রান্ত যে ব্যাপারে কুরআনুল কারীমে স্পষ্ট এরশাদ হয়েছে,
لَئِنْ أَخَّرْتَنِ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ لَأَحْتَنِكَنَّ ذُرِّيَّتَهُ إِلَّا قَلِيلاً
অর্থাৎ: "যদি কিয়ামতের দিন পর্যন্ত তুমি আমাকে অবকাশ দাও তাহলে আমি অল্প কয়েকজন ব্যতীত তার বংশধরদের সমূলে নষ্ট করে ফেলবো”। (সূরা বনী ইসরাঈল: ৬২)
নবী এরশাদ করেন, যাকে মুসলমানদের দায়িত্বশীল করা হলো অথচ সে তা যথোপোযুক্তভাবে আদায় করলো না সে জান্নাতের সুঘ্রাণও পাবে না। (বুখারী ও মুসলিম)
রাসূলুল্লাহ-এর এ বাণীর ফলে সালফে সালেহীনগণ সবসময় সরকারী দায় দায়িত্ব থেকে দূরে থাকতেন। আর যদি কাউকে এ দায়িত্ব পালন করতে হতো তাহলে সে আল্লাহ ভীতি, দ্বীনদারী ও আমানতদারীর উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত কায়েম করেছেন।
ওমর ফারুক (রা)-এর যুগে হিমস শহরের গভর্নর ইয়াজ বিন গনম (রা) মৃত্যু বরণ করেন, তখন ওমর ফারুক (রা) সাঈদ বিন আমের (রা) কে হিমস শহরের গভর্নর নিযুক্ত করেন। তাতে সাঈদ অপারগতা প্রকাশ করলেন, তখন ওমর জোর করেই তাকে দায়িত্ব দিলেন। গভর্নর থাকাকালে অল্পতুষ্টি ও দুনিয়া বিমুখতায় সাঈদের অবস্থা ছিল এই যে, মাসিক বেতন পাওয়ার পর স্বীয় পরিবারের খরচের পয়সা রেখে বাকী ফকীর ও মিসকীনদের মাঝে বন্টন করে দিতেন। স্ত্রী জিজ্ঞেস করত যে আপনি বাকী পয়সা কোথায় খরচ করেন? উত্তরে তিনি বলতেন আমি তা ঋণ দিয়ে দেই। একদা ওমর ফারুক (রা) হিমসে আসলেন এবং দায়িত্বশীলদেরকে বললেন যে, এখানকার গরীব লোকদের লিষ্ট তৈরী কর, যাতে তাদের চাকুরীর ব্যবস্থা করা যায়। তাঁর নির্দেশক্রমে লিষ্ট তৈরী করা হলো, আর লিষ্টের প্রথমেই সাঈদ বিন আমের (রা)-এর নাম ছিল, ওমর (রা) জিজ্ঞেস করলেন কে এ সাঈদ? লোকেরা বলল: আমাদের গভর্ণর। তার সংসারের খরচ মিটিয়ে যা থাকে সে তা গরীব দুঃখীদের মাঝে বণ্টন করে দেয়। একথা শুনে ওমর (রা) আশ্চর্য হলেন এবং এক হাজার দীনারের একটি ব্যাগ সাঈদ (রা) এর নিকট এ নির্দেশ নামা দিয়ে পাঠালেন যে, এ টাকা নিজের ব্যক্তিগত প্রয়োজনে খরচ করো। দূত ব্যাগটি নিয়ে তাঁকে দিল, আর অনিচ্ছাসত্ত্বেই তিনি বলে ফেললেন: ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। স্ত্রী শুনে জিজ্ঞেস করল কি হয়েছে, আমীরুল মু'মিনীন ইন্তেকাল করেছেন নাকি? তিনি বললেন: না এর চেয়েও বড় ঘটনা ঘটেছে। স্ত্রী জিজ্ঞেস করল: কি কিয়ামতের কোনো আলামত দেখা দিয়েছে? তিনি বললেন: না এর চেয়েও বড় ঘটনা ঘটেছে, স্ত্রী খুব গভীরভাবে জিজ্ঞেস করল: বলুন তো মূল ঘটনাটি কি? সাঈদ (রা) বললেন: দুনিয়া ফেতনা সহ আমার ঘরে প্রবেশ করেছে: স্ত্রী বলল: চিন্তিত হবেন না বরং তার কোনো সমাধান দেখুন। গভর্ণর ব্যাগটি একদিকে রেখে নামাযে দাড়িয়ে গেলেন সারা রাত আল্লাহর নিকট কান্নাকাটি করলেন, সকাল বেলা দেখতে পেল ইসলামী সেনাদল ঘরের সামনে দিয়ে অতিক্রম করছে, তখন তিনি ব্যাগটি হাতে নিয়ে সমস্ত টাকা সৈন্যদের মাঝে বণ্টন করে দিলেন।
হুযাইফা বিন ইয়ামান (রা)-কে মাদায়েনের গভর্ণর করে পাঠানো হলো, মাদায়েনবাসীকে একত্র করে আমীরুল মু'মিনীন ওমর (রা)-এর দেয়া ফরমান পড়ে শোনালেন। হে দেশবাসী! হুযাইফা বিন ইয়ামান (রা)-কে তোমাদের আমীর নিযুক্ত করা হলো। তার নির্দেশ শোন এবং তার অনুসরণ করো। আর সে যা কিছু তোমাদের নিকট চায় তোমরা তা তাকে দাও। ফরমান পাঠ শেষ হলে, লোকেরা জিজ্ঞেস করলো আপনার কি কি প্রয়োজন তা আমাদেরকে বলুন আমরা আপনার জন্য তা ব্যবস্থা করছি। হুযাইফা বলল: আমি যতদিন এখানে থাকবো ততদিন দু'বেলা খাবার আর আমার গাধার জন্য তার আহার। এর চেয়ে বেশি কিছু আমি তোমাদের নিকট চাই না।
সরকারী উচ্চপদ থেকে পশ্চাদপসরণের যে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত ইমাম আবু হানিফা (রা) কায়েম করেছেন, ইসলামের ইতিহাস কিয়ামত পর্যন্ত তা স্মরণ করবে। আব্বাসীয় খলিফা আবু জা'ফর মানসূর তাকে ডেকে প্রধান বিচারক হিসেবে নিয়োগ দিতে চাইলেন। তখন তিনি বললেন: বিচারক এমন দুঃসাহসী হওয়া দরকার যে, বাদশা ও তার সন্তান এবং সিপাহসালারদের বিরুদ্ধেও বিচার করতে পারবে। আর আমার মধ্যে এ হিম্মত নেই। একথা শুনে বাদশা তাকে জেলে পাঠিয়ে দিল। সেখানে তাকে বেত্রাঘাতও করা হয়েছিল কিন্তু তবুও তিনি এ পদ গ্রহণ করেন নি। এমন কি জেলেই তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। এ ছিল ঐ বিশাল ব্যক্তিত্ব যারা জান্নাত ও জাহান্নামের ওপর দৃঢ় বিশ্বাস রাখতো, যার ফলে ইবলীসের কোনো চক্রান্ত তাদের পা স্পর্শ করতে পারে নি। বর্তমান সমাজের দিকে দৃষ্টি দিয়ে দেখুন যে, ইবলীস আদম সন্তানের জন্য সরকারী উচ্চপদ ও দায়িত্ব লাভের জন্য এত হন্য করে তুলেছে যে, এ ময়দানে অজ্ঞ মুর্খরা তো আছেই, বহু জ্ঞানী ব্যক্তিবর্গও ইবলীসের এ চক্রান্তে পড়ে আছে। ইসলাম, গণতন্ত্র, রাজতন্ত্র, এবং জনসেবা করা সরকারী উচ্চপদ ব্যতীত কি সম্ভব নয়? চিন্তা করুন ঐ উজ্জ্বল দৃষ্টান্তের আলোকে যে, ইবলীস আদম সন্তানকে জান্নাত থেকে বঞ্চিত করার জন্য কি কি ব্যবস্থা করে রেখেছে। এ পদ ও দায়িত্ব লাভের জন্য মিথ্যা নির্বাচন, ধোঁকাবাজি, চক্রান্ত, মিথ্যা অঙ্গিকার, ঝগড়া-বিবাদ, গালী-গালাজ, মিথ্যা অপবাদ, অভিসম্পাত, মানুষকে অনুগত বাধ্য রাখা, সাধারণ সমর্থনের বেঁচা-কেনা, ভ্রান্তি, এমনকি হত্যা ও লুটপাটের মত কবীরা গুনাহ পর্যন্ত ইবলীস মানুষের জন্য অত্যন্ত সহজ ও আরামদায়ক করে তুলেছে, আর এ মানুষ ইবলীসদের চক্রান্তে পড়ে জান্নাত থেকে বঞ্চিত হওয়ার দূর্ভাগ্যকে অন্ধভাবে মেনে নিচ্ছে।
কুরআন মাজীদে আল্লাহর এরশাদ:
إِنَّ الَّذِينَ يُحِبُّونَ أَن تَشِيعَ الْفَاحِشَةُ فِي الَّذِينَ آمَنُوا لَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ وَاللَّهُ يَعْلَمُ وَأَنْتُمْ لَا تَعْلَمُونَ
অর্থ: "যারা মু'মিনদের মধ্যে অশ্লীতার প্রসার কামনা করে তাদের জন্য আছে দুনিয়া ও আখিরাতে মর্মন্তুদ শাস্তি।" (সূরা নূর: ১৯)
ইবলীস বে-হায়া ও অশ্লীল কাজ-কর্মকে আদম সন্তানের জন্য এত মনপুত করে তুলেছে যে, আল্লাহর এ স্পষ্ট সতর্কতার পরও ইবলীসের চক্রান্তে লিপ্ত আদম সন্তান বিভিন্নভাবে বে-হায়া ও অশ্লীলতা বিস্তারে নিমগ্ন আছে।
বিভিন্ন প্রচার মাধ্যম সুন্দর সুন্দর নামে অত্যন্ত সু-বিন্নস্ত ভাবে, সরকারী বে-সরকারী অফিস আদালত, সিনেমা, টিভি, রেডিও, দৈনিক, বিভিন্ন দৈনিকের বিশেষ কোড়পত্র, সাপ্তাহিক, দৈনিক, মাসিক, অত্যন্ত আনন্দ ও গৌরবের সাথে রাত দিন ভরে ইবলীসের অনুসরণে মহাব্যস্ত আছে, অবস্থা এমন পর্যায়ে পৌছেছে যে, কিছু কিছু সৎ কাজের আদেশ ও অন্যায় কাজে বাধা দেয়ার পবিত্র দায়িত্বে নিয়োজিত সাপ্তাহিক, দৈনিক এবং মাসিকও প্রতিষ্ঠান চালানোর মিথ্যা অজুহাতে, মনভোলা ভাব নিয়ে বিনা বাক্য ব্যয়ে, কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ইবলীসের বে-হায়াপনাকে বিস্তারের খেদমত আনজাম দিচ্ছে। আর তারা আল্লাহর আযাবের সতর্ক বাণীকে পিছনে ফেলে এবং শয়তানের মনোলোভা সুন্দর দলীল, আশা, আকাঙ্খায় নিমগ্ন আছে, যা তাদেরকে জান্নাত থেকে বঞ্চিত কারী এবং জাহান্নামের হকদার কারী।
অতএব হে মরদে মু'মিন হুশিয়ার! এ দুনিয়া সরাসরি ধোঁকা ও চক্রান্তের স্থান। আল্লাহর বাণী:
وَمَا الْحَيَاةُ الدُّنْيَا إِلَّا مَتَاعُ الْغُرُورِ
অর্থ: "আর পার্থিব জীবন প্রতারণার সম্পদ ব্যতীত আর কিছুই নয়।” (সূরা আলে ইমরান: ১৮৫)
এখানের আসল রূপ সেটা নয় যা বাহ্যত দেখা যাচ্ছে। দুনিয়ার জীবন যাপন এ রঙমহলের পর্দার অন্তরাল অত্যন্ত তিক্ততা ও দুর্দশা এবং পরীক্ষা রয়েছে। দুনিয়ার নায্য নিআমত ও মান-সম্মান নামক পর্দার পিছন অত্যন্ত লাঞ্ছনাময় এবং লজ্জাস্কর। রাসূলুল্লাহ -এর এ বাণী "দুনিয়ার মিষ্টতা পরকালের তিক্ততা, আর দুনিয়ার তিক্ততা পরকালের মিষ্টতা।” (ত্বাবারানী ও আহমদ)
যাকাতহীন সোনা-চাঁদীর স্তুপ সোনা-চাঁদী নয় বরং জলন্ত আগুন, সুদ, ঘুষ, জুয়া, চুরি, ডাকাতি, অন্যান্য হারাম মাধ্যম সমূহের অর্জিত সম্পদ সম্পদ নয় বরং আগুনের সাপ ও বিচ্ছু, মিথ্যা, চাল-চক্রান্তের মাধ্যমে অর্জিত পদমর্যাদা, সম্মান, গৌরব হবে আগুনের জিঞ্জির। বে-হায়াপনার মাধ্যমে বিস্তার কৃত ব্যবসা ব্যবসা নয় বরং কঠিন আযাব।
হে বনী আদম হুশিয়ার! এ দুনিয়া একটি ক্ষণস্থায়ী ঠিকানা মাত্র, যেখানে তোমাকে পরীক্ষা করা উদ্দেশ্য, তোমার মূল আবাস জান্নাত। যে দিকে তোমাকে খুব দ্রুত যেতে হবে। তোমার চীরস্থায়ী শত্রু অভিশপ্ত ইবলীস, চায় যেভাবে তোমার পিতা-মাতা আদম ও হাওয়াকে ধোঁকা ও চক্রান্তের মাধ্যমে জান্নাত থেকে বের করেছে, এমনিভাবে তোমাকেও দুনিয়ার চাল চক্রান্তে ফেলে জান্নাত থেকে বঞ্চিত করতে। মানুষের প্রতি তার উন্মুক্ত চ্যালেঞ্জ:
رَبِّ بِمَا أَغْوَيْتَنِي لَأُزَيِّنَنَّ لَهُمْ فِي الْأَرْضِ وَلَأُغْوِيَنَّهُمْ أَجْمَعِينَ
অর্থ: “হে আমার প্রতিপালক! আপনি যে আমাকে বিপদগামী করলেন, তজ্জন্য আমি পৃথিবীতে মানুষের নিকট পাপ কর্মকে অবশ্যই শোভনীয় করে তুলবো এবং আমি তাদের সকলকেই বিপথগামী করেই ছাড়বো।" (সূরা হিজর: ৩৯)
অতএব হে মরদে মু'মিন হুশিয়ার! খবরদার! অভিশপ্ত শয়তানের সমস্ত ওয়াদা মিথ্যা এবং বাতিল, তার ধোঁকায় কখনো পড়বে না। যেই তার ধোঁকায় পড়বে তাকে সে তার সাথে জাহান্নামে নিয়ে যাবে:
أَلَّا ذَلِكَ هُوَ الْخُسْرَانُ الْمُبِينُ
অর্থ: "স্মরণ রেখ এটা স্পষ্ট ক্ষতি।" (সূরা যুমার: ১৫)

📘 মৃত্যুর পরে অনন্ত জীবন > 📄 জান্নাতের অস্তিত্বের প্রমাণ

📄 জান্নাতের অস্তিত্বের প্রমাণ


মাসআলা-১: রামাযান মাসে জান্নাতের দরজাসমূহ খুলে দেয়া হলো:
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، قَالَ: «إِذَا جَاءَ رَمَضَانُ فُتِحَتْ أَبْوَابُ الْجَنَّةِ، وَغُلِّقَتْ أَبْوَابُ النَّارِ، وَصُفْدَتِ الشَّيَاطِينُ»
অর্থ: "আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: যখন রামাযানের আগমন ঘটে, তখন জান্নাতের দরজাসমূহ খুলে দেয়া হয়। আর জাহান্নামের দরজাসমূহ বন্ধ করে দেয়া হয়। শয়তানকে জিঞ্জিরাবদ্ধ করা হয়। (মুসলিম ২/১০৭৯)

মাসআলা-২: কবরে জান্নাতী ব্যক্তিকে জান্নাতে তার ঠিকানা দেখানো হয়:
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا ، قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : «إِذَا مَاتَ أَحَدُكُمْ ، فَإِنَّهُ يُعْرَضُ عَلَيْهِ مَقْعَدُهُ بِالْغَدَاةِ وَالْعَشِيِّ. فَإِنْ كَانَ مِنْ أَهْلِ الْجَنَّةِ، فَمِنْ أَهْلِ الْجَنَّةِ، وَإِنْ كَانَ مِنْ أَهْلِ النَّارِ فَمِنْ أَهْلِ النَّارِ»
অর্থ: "ইবনে ওমর (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: যখন তোমাদের কোনো লোক মৃত্যুবরণ করে তখন সকাল, সন্ধ্যা তার ঠিকানা তার সামনে পেশ করা হয়, যদি জান্নাতী হয় তাহলে জান্নাতে (তার ঠিকানা তাকে দেখানো হয়) আর যদি জাহান্নামী হয় (তাহলে জাহান্নামে তার ঠিকানা তাকে দেখানো হয়)"। (বুখারী ৪/৩২৪০)

মাসআলা-৩: নবী জান্নাতে ওমর (রা)-এর ঠিকানা দেখে এসেছেন:
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، قَالَ: بَيْنَا نَحْنُ عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، إِذْ قَالَ: " بَيْنَا أَنَا نَائِمٌ رَأَيْتُنِي فِي الْجَنَّةِ، فَإِذَا امْرَأَةٌ تَتَوَضَّأُ إِلَى جَانِبِ قَصْرٍ فَقُلْتُ: لِمَنْ هَذَا الْقَصْرُ ؟ فَقَالُوا : لِعُمَرَ بْنِ الْخَطَابِ هِ فَذَكَرْتُ غَيْرَتَهُ فَوَلَّيْتُ مُدْبِرًا ، فَبَكَى عُمَرُ وَقَالَ: أَعَلَيْكَ أَغَارُ يَا رَسُولَ اللَّهِ "
অর্থ: "আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা একদা নবী এর নিকট ছিলাম তখন তিনি বললেন: আমি ঘুমন্ত অবস্থায় ছিলাম হঠাৎ করে আমি আমাকে জান্নাতে দেখতে পেলাম? আমি একটি অট্টালিকার পাশে এক মহিলাকে ওযু করতে দেখে জিজ্ঞেস করলাম যে, এ অট্টালিকাটি কার? তারা বলল: এটা ওমর বিন খাত্তাব (রা)-এর আমি তখন তার আত্মমর্যাদা রোধের কথা চিন্তা করলাম। তাই আমি ফিরে গেলাম। তখন ওমর (রা) কাঁদলেন এবং বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আমি কি আপনার ওপর আত্মমর্যাদা বোধ দেখাব?" (বুখারী ৪/৩২৪২)

📘 মৃত্যুর পরে অনন্ত জীবন > 📄 জান্নাতের নামসমূহ

📄 জান্নাতের নামসমূহ


মাসআলা-৪: জান্নাতের একটি নাম দারুসসালাম: (নিরাপত্তার ঘর)
وَاللَّهُ يَدْعُوَ إِلَى دَارِ السَّلَامِ وَيَهْدِي مَنْ يَشَاءُ إِلَى صِرَاطٍ مُسْتَقِيمٍ
অর্থ: "আর আল্লাহ শান্তি ও নিরাপত্তালয়ের প্রতি (জান্নাতের প্রতি) আহ্বান করেন, আর যাকে ইচ্ছা তাকে সরল পথ প্রদর্শন করেন। (সূরা ইউনুস: ৩৫)

মাসআলা-৫: জান্নাতের অপর নাম দারুল মুত্তাকীন (পরহেযগার লোকদের গৃহ):
وَقِيلَ لِلَّذِينَ اتَّقَوْا مَاذَا أَنْزَلَ رَبُّكُمْ قَالُوا خَيْراً لِلَّذِينَ أَحْسَنُوا فِي هَذِهِ الدُّنْيَا حَسَنَةٌ وَلَدَارُ الْآخِرَةِ خَيْرٌ وَلَنِعْمَ دَارُ الْمُتَّقِينَ - جَنَّاتُ عَدْنٍ يَدْخُلُونَهَا تَجْرِي مِن تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ لَهُمْ فِيهَا مَا يَشَاؤُونَ كَذلِكَ يَجْزِي اللهُ الْمُتَّقِينَ
অর্থ: "পরহেযগারদেরকে জিজ্ঞেস করা হয়, তোমাদের পালনকর্তা কি নাযিল করেছেন, তারা বলে মহা কল্যাণ। যারা এ জগতে সৎকাজ করে, তাদের জন্য কল্যাণ রয়েছে এবং পরকালের গৃহ আরো উত্তম। পরহেযগারদের গৃহ কি চমৎকার? সর্বদা বসবাসের উদ্যান, তারা যাতে প্রবেশ করবে তার পাদদেশ দিয়ে স্রোতম্বিনী প্রবাহিত হয়। তাদের জন্য তাতে তাই রয়েছে যা তারা চায়। এমনিভাবে প্রতিদান দিবেন আল্লাহ পরহেযগারদের কে"। (সূরা আন নাহল: ৩০.৩১)

মাসআলা-৬: জান্নাতের অপর নাম দারুল কারার (স্থায়ী বসবাসের গৃহ):
يُقَوْمِ إِنَّمَا هَذِهِ الْحَيَاةُ الدُّنْيَا مَتَاعٌ وَإِنَّ الْآخِرَةَ هِيَ دَارُ الْقَرَارِ অর্থ: “হে আমার কাওম, পার্থিব এ জীবন তো কেবল উপভোগের বস্তু, আর পরকাল হচ্ছে স্থায়ী বসবাসের গৃহ"। (সূরা আল মু'মিন: ৩৯)

মাসআলা-৭: জান্নাতের অপর নাম মাকামুন আমীন (নিরাপদ স্থান):
إِنَّ الْمُتَّقِينَ فِي مَقَامٍ أَمِينِ فِي جَنَّاتٍ وَعُيُونٍ অর্থ: "নিশ্চয়ই আল্লাহভীরুরা নিরাপদ স্থানে থাকবে। উদ্যানরাজি ও নির্ঝরিণীসমূহে”। (সূরা দুখান: ৫১-৫২)

মাসআলা-৮: জান্নাতকে দারুল আখেরা (পরকালের ঘর ও) বলা হয়:
وَلَدَارُ الْآخِرَةِ خَيْرٌ لِلَّذِينَ اتَّقُوا أَفَلَا تَعْقِلُونَ অর্থ: "পরহেযগারদের জন্য পরকালের ঘরই উত্তম, তারা কি এখনো বুঝে না।" (সূরা ইউসুফ: ১০৯)

মাসআলা-৯: জান্নাতকে জান্নাতুন নায়ীম (নিআমত ভরপুর জান্নাত) ও বলা হয়:
وَالسَّابِقُونَ السَّابِقُونَ أُوْلَئِكَ الْمُقَرَّبُونَ فِي جَنَّاتِ النَّعِيمِ অর্থ: "অগ্রবর্তীগণ তো অগ্রবর্তীই। তারাই নৈকট্যশীল, অবদানের উদ্যানসমূহে।" (সূরা ওয়াকিয়াহ: ১০,১২)

মাসআলা-১০: জান্নাতকে জান্নাতে আদনও বলা হয়:
أُوْلَئِكَ لَهُمْ جَنَّاتُ عَدْنٍ تَجْرِي مِنْ تَحْتِهِمُ الْأَنْهَارُ يُحَلَّوْنَ فِيهَا مِنْ أَسَاوِرَ مِنْ ذَهَبٍ وَيَلْبَسُونَ ثِيَاباً خُضْراً مِنْ سُنْدُسٍ وَإِسْتَبْرَقٍ مُتَّكِثِينَ فِيهَا عَلَى الْأَرَائِكِ نِعْمَ الثَّوَابُ وَحَسُنَتْ مُرْتَفَقَاً
অর্থ: এরাই তারা, যাদের জন্য রয়েছে স্থায়ী জান্নাতসমূহ, যার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয় নদীসমূহ। সেখানে তাদেরকে অলংকৃত করা হবে স্বর্ণের চুড়ি দিয়ে এবং তারা পরিধান করবে মিহি ও পুরু সিল্কের সবুজ পোশাক। তারা সেখানে (থাকবে) আসনে হেলান দিয়ে। কী উত্তম প্রতিদান এবং কী সুন্দর বিশ্রামস্থল! (সূরা কাহাফ ১৮:৩১)

📘 মৃত্যুর পরে অনন্ত জীবন > 📄 আলকুরআনের আলোকে জান্নাত

📄 আলকুরআনের আলোকে জান্নাত


মাসআলা-১১: ঈমান আনার পর সৎ আমলকারী জান্নাতে প্রবেশ করবে:

মাসআলা-১২: জান্নাতের ফলসমূহের নাম ও আকৃতির দিক থেকে দুনিয়ার ফলের অনুরূপ হবে:

মাসআলা-১৩: জান্নাতী মহিলাগণ বাহ্যিক ত্রুটি যেমন (হায়েয, নেফাস) এবং অভ্যান্তরীন ত্রুটি যেমন: (রাগ, গিবত, হিংসা) ইত্যাদি থেকে পবিত্র থাকবে:

মাসআলা-১৪: জান্নাতের জীবন হবে চিরস্থায়ী:

وَبَشِّرِ الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ أَنَّ لَهُمْ جَنَّاتٍ تَجْرِي مِن تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ كُلَّمَا رُزِقُوا مِنْهَا مِنْ ثَمَرَةٍ رِزْقاً قَالُوا هَذَا الَّذِي رُزِقْنَا مِنْ قَبْلُ وَأُتُوا بِهِ مُتَشَابِهَا وَلَهُمْ فِيهَا أَزْوَاجٌ مُطَهَّرَةٌ وَهُمْ فِيهَا خَالِدُونَ

অর্থ: আর যারা ঈমান এনেছে এবং নেক কাজ করেছে তুমি তাদেরকে সুসংবাদ দাও যে, তাদের জন্য রয়েছে জান্নাতসমূহ, যার তলদেশ দিয়ে প্রবাহিত হবে নদীসমূহ। যখনই তাদেরকে জান্নাত থেকে কোনো ফল খেতে দেয়া হবে, তারা বলবে, 'এটা তো পূর্বে আমাদেরকে খেতে দেয়া হয়েছিল'। আর তাদেরকে তা দেয়া হবে সাদৃশ্যপূর্ণ করে এবং তাদের জন্য তাতে থাকবে পূতঃপবিত্র স্ত্রীগণ এবং তারা সেখানে হবে স্থায়ী। (সূরা বাক্বারা ২:২৫)

মাসআলা-১৫: জান্নাতীগণ কিয়ামতের দিন সর্বপ্রকার অপমান ও লাঞ্ছনা থেকে নিরাপদ থাকবে।

মাসআলা-১৬: জান্নাতীরা জান্নাতে আল্লাহর দীদার লাভ করবে:
لِلَّذِينَ أَحْسَنُوا الْحُسْنَى وَزِيَادَةٌ وَلَا يَرْهَقُ وُجُوهَهُمْ قَتَرٌ وَلَا ذِلَّةٌ أُوْلَئِكَ أَصْحَابُ الْجَنَّةِ هُمْ فِيهَا خَالِدُونَ অর্থ: যারা ভালো কাজ করে তাদের জন্য রয়েছে শুভ পরিণাম (জান্নাত) এবং আরও বেশি। আর ধূলোমলিনতা ও লাঞ্ছনা তাদের চেহারাগুলোকে আচ্ছন্ন করবে না। তারাই জান্নাতবাসী। তারা তাতে স্থায়ী হবে। (সূরা ইউনুস ১০:২৬)

মাসআলা-১৭: ঈমানদারদের মধ্য থেকে যাদের অন্তরে পরস্পরের ব্যাপারে কোনো প্রকার হিংসা বা অপছন্দনীয়তা থাকবে জান্নাতে যাওয়ার পর আল্লাহ তা মিটিয়ে দেবেন:
وَنَزَعْنَا مَا فِي صُدُورِهِم مِّنْ غِلَّ تَجْرِي مِن تَحْتِهِمُ الْأَنْهَارُ وَقَالُوا الْحَمْدُ للَّهِ الَّذِي هَدَانَا لِهَذَا وَمَا كُنَّا لِنَهْتَدِيَ لَوْلَا أَنْ هَدَانَا اللَّهُ لَقَدْ جَاءَتْ رُسُلُ رَبِّنَا بِالْحَقِّ وَنُودُوا أَن تِلْكُمُ الْجَنَّةُ أُورِثْتُمُوهَا بِمَا كُنتُمْ تَعْمَلُونَ অর্থ: আর তাদের অন্তরে যে ঈর্ষা ছিলো, আমি তা বের করে নিয়েছি। তাদের নীচ দিয়ে নহরসমূহ প্রবাহিত হবে। আর তারা বলবে, 'সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি এর জন্য আমাদেরকে হিদায়াত দিয়েছেন। আর আমরা হিদায়াত পাওয়ার ছিলাম না, যদি না আল্লাহ আমাদেরকে হিদায়াত দিতেন। অবশ্যই আমার রবের রাসূলগণ সত্য নিয়ে এসেছেন' এবং তাদেরকে ডাকা হবে যে, 'ঐ হলো জান্নাত, তোমরা যা আমল করেছো, তার বিনিময়ে তোমাদেরকে এর উত্তরাধিকারী করা হয়েছে'। (সূরা আরাফ ৭:৪৩)

মাসআলা-১৮: জান্নাতে জান্নাতীরা কখনো ক্ষুধা এবং পিপাসা অনুভব করবে না:

মাসআলা-১৯: জান্নাতে না বেশি ঠাণ্ডা হবে না বেশি গরম বরং নাতিশীতোষ্ণ থাকবে:
إِنَّ لَكَ أَلا تَجُوعَ فِيهَا وَلَا تَعْرَى، وَأَنَّكَ لَا تَطْمَأُ فِيهَا وَلَا تَضْحَى
অর্থ: "তোমাকে এই দেয়া হলো যে, তুমি এতে ক্ষুধার্ত হবে না এবং বস্ত্রহীন হবে না। আর তোমার পিপাসাও হবে না এবং রোদ্রের কষ্টও পাবে না। (সূরা ত্বহা: ১১৮, ১১৯)

মাসআলা-২০: একই বংশের নেককার লোকেরা যেমন: বাপ-দাদা, স্ত্রী-সন্তান, ইত্যাদি জান্নাতে একই স্থানে থাকবে:

جَنَّاتُ عَدْنٍ يَدْخُلُونَهَا وَمَنْ صَلَحَ مِنْ آبَائِهِمْ وَأَزْوَاجِهِمْ وَذُرِّيَّاتِهِمْ وَالْمَلَائِكَةُ يَدْخُلُونَ عَلَيْهِمْ مِّنْ كُلِّ بَابٍ - سَلَامٌ عَلَيْكُم بِمَا صَبَرْتُمْ فَنِعْمَ عُقْبَى الدَّارِ

অর্থ: স্থায়ী জান্নাতসমূহ, যাতে তারা এবং তাদের পিতৃপুরুষগণ, তাদের স্ত্রীগণ ও তাদের সন্তানদের মধ্যে যারা সৎ ছিল তারা প্রবেশ করবে। আর ফেরেশতারা প্রতিটি দরজা দিয়ে তাদের নিকট প্রবেশ করবে। (আর বলবে) 'শান্তি তোমাদের উপর, কারণ তোমরা সবর করেছো, আর আখিরাতের এ পরিণাম কতই না উত্তম'। (সূরা রা'আদ ১৩:২৩-২৪)

মাসআলা-২১: জান্নাতীদের জান্নাতে কোনো প্রকার কষ্ট বা পরিশ্রম করতে হবে না:

لا يَمَسُّهُمْ فِيهَا نَصَبٌ وَمَا هُمْ مِنْهَا بِمُخْرَجِينَ

অর্থ: "তাদের মোটেই কষ্ট হবে না এবং তারা সেখান থেকে বহিষ্কৃতও হবে না।" (সূরা হিজর: ৪৮)

মাসআলা-২২: জান্নাতে জান্নাতীদের সাথে যথেষ্ট সম্মানজনক ব্যবহার করা হবে:

মাসআলা-২৩: জান্নাতের খাদেমরা জান্নাতী লোকদের জন্য সাদা রংয়ের সুমিষ্টি মদের পান পাত্র পেশ করবে:

মাসআলা-২৪: জান্নাতী মদ নেশা মুক্ত হবে।

মাসআলা-২৫: পাখার নীচে লুকায়িত সুরক্ষিত ডিমের চেয়ে নরম ও সুন্দর চোখ বিশিষ্ট হুরেইন জান্নাতীদেরকে পুরস্কার স্বরূপ দেয়া হবে:

أُوْلَئِكَ لَهُمْ رِزْقٌ مَّعْلُومٌ - فَوَاكِهُ وَهُم مُّكْرَمُونَ فِي جَنَّاتِ النَّعِيمِ عَلَى سُرُرٍ مُتَقَابِلِينَ - يُطَافُ عَلَيْهِمْ بِكَأْسٍ مِّنْ مَّعِينٍ - بَيْضَاءَ لَذَّةٍ لِلشَّارِبِينَ . لا فِيهَا غَوْلٌ وَلَا هُمْ عَنْهَا يُنزَفُونَ - وَعِنْدَهُمْ قَاصِرَاتُ الطَّرْفِ عِينٌ . كَأَنَّهُنَّ بَيْضٌ مَكْنُونٌ

অর্থ: তাদের জন্য থাকবে নির্ধারিত রিযিক, ফলমূল; আর তারা হবে সম্মানিত, নি'আমত-ভরা জান্নাতে, মুখোমুখি পালঙ্কে। তাদের চারপাশে ঘুরে ঘুরে পরিবেশন করা হবে বিশুদ্ধ সুরাপাত্র, সাদা পানকারীদের জন্য সুস্বাদু। তাতে থাকবে না ক্ষতিকর কিছু এবং তারা এগুলো দ্বারা মাতালও হবে না। তাদের কাছে থাকবে আনতনয়না, ডাগরচোখা। তারা যেন আচ্ছাদিত ডিম। (সূরা সাফ্ফাত ৩৭:৪১-৪৯)

মাসআলা-২৬: জান্নাতীদের জন্য জান্নাতে আদনে এমন বাগানসমূহ থাকবে যার দরজাসমূহ তাদের জন্য সর্বদা খোলা থাকবে:

মাসআলা-২৭: জান্নাতীরা সেকেন্ডের মধ্যে যথেষ্ট ফল-মূল, পানীয় পান করবে তা সাথে সাথেই হজম হয়ে যাবে:

মাসআলা-২৮: জান্নাতী হুরগণ খুব সুন্দর লাজুক ও সুন্দর চোখ বিশিষ্ট তারা তাদের স্বামীদের সম বয়স্কা হবে:

মাসআলা-২৯: জান্নাতের নিআমতসমূহ কখনো কমবেও না এবং শেষও হবে না।

وَإِنَّ لِلْمُتَّقِينَ لَحُسْنَ مَآبٍ - جَنَّاتِ عَدْنٍ مُّفَتَّحَةً لَّهُمُ الْأَبْوَابُ - مُتَّكِثِينَ فِيهَا يَدْعُونَ فِيهَا بِفَاكِهَةٍ كَثِيرَةٍ وَشَرَابٍ . وَعِنْدَهُمْ قَاصِرَاتُ الطَّرْفِ أَتْرَابُ - هَذَا مَا تُوعَدُونَ لِيَوْمِ الْحِسَابِ - إِنَّ هَذَا لَرِزْقُنَا مَا لَهُ مِنْ نَفَادٍ

অর্থ: আর মুত্তাকীদের জন্য অবশ্যই রয়েছে উত্তম নিবাস- চিরস্থায়ী জান্নাত, যার দরজাসমূহ থাকবে তাদের জন্য উন্মুক্ত। সেখানে তারা হেলান দিয়ে আসীন থাকবে, সেখানে তারা বহু ফলমূল ও পানীয় চাইবে। আর তাদের নিকটে থাকবে আনতনয়না সমবয়সীরা। হিসাব দিবস সম্পর্কে তোমাদেরকে এ ওয়াদাই
* غول অর্থ নেশা, মাতলমি, মাথাব্যথা ও পেটের পীড়া।

দেয়া হয়েছিল। নিশ্চয় এটি আমার দেয়া রিযিক, যা নিঃশেষ হবার নয়। (সূরা সোয়াদ ৩৮:৪৯-৫৪)

মাসআলা-৩০ : জান্নাতীরা জান্নাতে তাদের সতী স্ত্রীদেরকে নিয়ে আনন্দময় জীবন যাপন করবে:

মাসআলা-৩১ : জান্নাতে দম্পতীদের সামনে সোনার পাত্রে বিভিন্ন প্রকার খানা পরিবেশন করা হবে এবং সোনার পান পাত্রে বিভিন্ন প্রকার পানীয় পেশ করা হবে:

মাসআলা-৩২ : জান্নাতে চক্ষু ও অন্তর জুড়ানোর মত সর্বপ্রকার ব্যবস্থাপনা থাকবে:

মাসআলা-৩৩ : জান্নাতী লোকদের সম্মানের ও উৎসাহের জন্য বলা হবে যে, তোমাদের আমলের প্রতিদান স্বরূপ তোমাদেরকে এ নিআমত ভরপুর জান্নাত দান করা হলো:

ادْخُلُوا الْجَنَّةَ أَنتُمْ وَأَزْوَاجُكُمْ تُحْبَرُونَ - يُطَافُ عَلَيْهِمْ بِصِحَافٍ مِنْ ذَهَبٍ وَأَكْوَابٍ وَفِيهَا مَا تَشْتَهِيهِ الْأَنْفُسُ وَتَلَذُّ الْأَعْيُنُ وَأَنتُمْ فِيهَا خَالِدُونَ - وَتِلْكَ الْجَنَّةُ الَّتِي أُورِثْتُمُوهَا بِمَا كُنتُمْ تَعْمَلُونَ . لَكُمْ فِيهَا فَاكِهَةٌ كَثِيرَةٌ مِنْهَا تَأْكُلُونَ

অর্থ : তোমরা সস্ত্রীক সানন্দে জান্নাতে প্রবেশ করো। স্বর্ণখচিত থালা ও পানপাত্র নিয়ে তাদেরকে প্রদক্ষিণ করা হবে, সেখানে মন যা চায় আর যাতে চোখ তৃপ্ত হয় তা-ই থাকবে এবং সেখানে তোমরা হবে স্থায়ী। আর এটিই জান্নাত, নিজেদের আমলের ফলস্বরূপ তোমাদেরকে এর অধিকারী করা হয়েছে। সেখানে তোমাদের জন্য রয়েছে অনেক ফলমূল, যা থেকে তোমরা খাবে। (সূরা যুখরুফ ৪৩:৭০-৭৩)

মাসআলা-৩৪ : জান্নাতে কোনো প্রকার দুঃখ বেদনা, মুসিবত ও চিন্তা থাকবে না।

মাসআলা-৩৫ : জান্নাতীদের পোশাক চিকন ও পুরু রেশমের তৈরী হবে।

মাসআলা-৩৬ : সুন্দর ও আকর্ষণীয় চোখ সম্পন্ন নারীর সাথে তাদের মিলন হবে:

মাসআলা-৩৭ : জান্নাতে মৃত্যু আসবে না বরং চিরস্থায়ী জীবন যাপন করবে।

মাসআলা-৩৮: সর্বপ্রথম জান্নাতে প্রবেশকারীরা জাহান্নামের আযাব থেকে মুক্ত থাকবে।

মাসআলা-৩৯: আল্লাহর দয়া ও অনুগ্রহ ব্যতীত জান্নাতে যাওয়া সম্ভব নয়।

মাসআলা-৪০: জান্নাতে প্রবেশ করাই মূল সফলতা ও কামিয়াবী।

إِنَّ الْمُتَّقِينَ فِي مَقَامٍ أَمِينٍ - فِي جَنَّاتٍ وَعُيُونٍ - يَلْبَسُونَ مِنْ سُنْدُسٍ وَإِسْتَبْرَقٍ مُتَقَابِلِينَ - كَذلِكَ وَزَوَّجْنَاهُم بِحُورٍ عِيْنٍ يَدْعُونَ فِيهَا بِكُلِّ فَاكِهَةٍ آمِنِينَ . لَا يَذُوقُونَ فِيهَا الْمَوْتَ إِلَّا الْمَوْتَةَ الْأُولَى وَوَقَاهُمْ عَذَابَ الْجَحِيمِ فَضْلاً مِّن رَّبِّكَ ذُلِكَ هُوَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ

অর্থ: নিশ্চয় মুত্তাকীরা থাকবে নিরাপদ স্থানে, বাগ-বাগিচা ও ঝর্ণাধারার মধ্যে, তারা পরিধান করবে পাতলা ও পুরু রেশমী বস্ত্র এবং বসবে মুখোমুখী হয়ে। এরূপই ঘটবে, আর আমি তাদেরকে বিয়ে দেব ডাগর নয়না হুরদের সাথে। সেখানে তারা প্রশান্তচিত্তে সকল প্রকারের ফলমূল আনতে বলবে। প্রথম মৃত্যুর পর সেখানে তারা আর মৃত্যু আস্বাদন করবে না। আর তিনি তাদেরকে জাহান্নামের আযাব থেকে রক্ষা করবেন। তোমার রবের অনুগ্রহস্বরূপ, এটাই তো মহা সাফল্য। (সূরা দুখান ৪৪:৫১-৫৭)

মাসআলা-৪১: জান্নাতে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন পানি, দুধ, মধু, মদ ইত্যাদির ঝর্ণা থাকবে যা থেকে জান্নাতীরা পান করবে:

মাসআলা-৪২: জান্নাতের ঝর্ণা এবং পানীয়সমূহের রং ও স্বাদ সর্বদা একই রকমের থাকবে:

মাসআলা-৪৩: জান্নাতীদেরকে আল্লাহ সমস্ত গুনাহ থেকে মুক্ত করে জান্নাতে দিবেন।

مَثَلُ الْجَنَّةِ الَّتِي وُعِدَ الْمُتَّقُونَ فِيهَا أَنْهَارٌ مِّنْ مَّاءٍ غَيْرِ آسِنٍ وَأَنْهَارُ مِنْ لَبَنٍ لَّمْ يَتَغَيَّرُ طَعْمُهُ وَأَنْهَارُ مِنْ خَمْرٍ لَذَّةٍ لِلشَّارِبِينَ وَأَنْهَارُ مِنْ عَسَلٍ مُصَفًّى وَلَهُمْ فِيهَا مِنْ كُلِّ الثَّمَرَاتِ وَمَغْفِرَةً

অর্থ: "মুত্তাকীদেরকে যে জান্নাতের ওয়াদা দেয়া হয়েছে তার দৃষ্টান্ত হলো, তাতে রয়েছে নির্মল পানির নহরসমূহ, দুধের ঝর্ণাধারা, যার স্বাদ পরিবর্তিত হয়নি, পানকারীদের জন্য সুস্বাদু সূরার নহরসমূহ এবং আছে পরিশোধিত মধুর ঝর্ণাধারা। তথায় তাদের জন্য থাকবে সব ধরনের ফলমূল আর তাদের রবের পক্ষ থেকে ক্ষমা।” (সূরা মুহাম্মদ ৪৭:১৫)

মাসআলা-৪৪: সু-সন্তানদেরকে তাদের আদর্শ বাপ-দাদার সাথে জান্নাতে একত্র করা হবে। যদি জান্নাতে তাদের পরস্পরের স্তরের মধ্যে কোনো ব্যবধান থাকে তাহলে নিম্নস্তরের লোকদেরকে আল্লাহ স্বীয় দয়া ও অনুগ্রহের মাধ্যমে তাদের মর্যাদা বৃদ্ধি করে উভয়কে উচ্চস্তরে মিলিত করবেন। যাতে জান্নাতে তারা সকলে একে অপরকে দেখে আনন্দ উপভোগ করতে পারে:

وَالَّذِينَ آمَنُوا وَاتَّبَعَتُهُمْ ذُرِّيَّتُهُم بِإِيْمَانِ الْحَقْنَا بِهِمْ ذُرِّيَّتَهُمْ وَمَا أَلَتْنَاهُمْ مِّنْ عَمَلِهِم مِّنْ شَيْءٍ كُلُّ امْرِيءٍ بِمَا كَسَبَ رَهِينٌ

অর্থ: আর যারা ঈমান আনে এবং তাদের সন্তান-সন্ততি ঈমানের সাথে তাদের অনুসরণ করে, আমরা তাদের সাথে তাদের সন্তানদের মিলন ঘটাব এবং তাদের কর্মের কোনো অংশই কমাব না। প্রত্যেক ব্যক্তি তার কামাইয়ের ব্যাপারে দায়ী থাকবে। (সূরা তূর ৫২:২১)

মাসআলা-৪৫: জান্নাতীদেরকে সুস্বাদু ফলের সাথে তাদের রুচীসম্মত গোশতও পরিবেশন করা হবে:

মাসআলা-৪৬: জান্নাতীরা খানা-পিনার সময় অন্তরঙ্গভাবে আলাপচারিতা করবে:

মাসআলা-৪৭: জান্নাতীদের খাদেমরা এতো সুন্দর হবে যেন তারা সংরক্ষিত মুক্তা:

وَأَمْدَدْنَاهُم بِفَاكِهَةٍ وَلَحْمٍ مِّمَّا يَشْتَهُونَ - يَتَنَازَعُونَ فِيهَا كَأْسًا لَا لَغْوٌ فِيهَا وَلَا تَأْثِيمُ . وَيَطُوفُ عَلَيْهِمْ غِلْمَانٌ لَهُمْ كَأَنَّهُمْ لُؤْلُؤً مَكْنُونٌ.

অর্থ: আর আমি তাদেরকে অতিরিক্ত দেব ফলমূল ও গোস্ত যা তারা কামনা করবে। তারা পরস্পরের মধ্যে পানপাত্র বিনিময় করবে; সেখানে থাকবে না কোনো বেহুদা কথাবার্তা এবং কোনো পাপকাজ। আর তাদের সেবায় চারপাশে ঘুরবে বালকদল; তারা যেন সুরক্ষিত মুক্তা। (সূরা তূর ৫২:২২-২৪)

মাসআলা-৪৮: জান্নাতে আল্লাহর বিশেষ বান্দাদের জন্য দু'টি করে বাগান থাকবে, যা নিআমতের দিক থেকে সাধারণ মু'মিনদের বাগানের তুলনায় উত্তম হবে:

মাসআলা-৪৯: উভয় বাগানে দু'টি করে ঝর্ণা থাকবে, আরো থাকবে বিভিন্ন প্রকার সুস্বাদু ফল ও রেশমী আসনসমূহ:

মাসআলা-৫০: জান্নাতীদের স্ত্রীগণ যথেষ্ট লাজুক, পবিত্র, হিরা ও মুক্তার ন্যায় উজ্জ্বল ও সুন্দর হবে তারা শুধু তাদের স্বামীর সেবায় নিমগ্ন থাকবে:

মাসআলা-৫১: জান্নাতীদের স্ত্রীগণকে জান্নাতে প্রবেশের পূর্বে নতুন করে সৃষ্টি করা হবে। আর এরপর তাদেরকে আর কোনো জ্বিন ও ইনসানের স্পর্শ তাদের শরীরে লাগেনি (একমাত্র তাদের জান্নাতী স্বামীই তাদেরকে উপভোগ করবে):

وَلِمَنْ خَافَ مَقَامَ رَبِّهِ جَنَّتَانِ . فَبِأَيِّ آلَاءِ رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ ذَوَا تَا أَفْنَانٍ - فَبِأَيِّ آلَآءِ رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ - فِيهِمَا عَيْنَانِ تَجْرِيَانِ . فَبِأَيِّ آلَاءِ رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ - فِيهِمَا مِنْ كُلِّ فَاكِهَةٍ زَوْجَانِ . فَبِأَيِّ آلَاءِ رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ . مُتَّكِثِينَ عَلَى فُرُشٍ بَطَائِنُهَا مِنْ إِسْتَبْرَقٍ وَجَنَى الْجَنَّتَيْنِ دَانٍ - فَبِأَيِّ آلاءِ رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ - فِيهِنَّ قَاصِرَاتُ الطَّرْفِ لَمْ يَطْمِثْهُنَّ إِنسٌ قَبْلَهُمْ وَلَا جَانٌ ، فَبِأَيِّ آلَاءِ رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ - كَأَنَّهُنَّ الْيَاقُوتُ وَالْمَرْجَانُ - فَبِأَيِّ آلَاءِ رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ .

অর্থ: আর যে তার রবের সামনে দাঁড়াতে ভয় করে, তার জন্য থাকবে দু'টি জান্নাত। সুতরাং তোমাদের রবের কোন্ নিআমতকে তোমরা উভয়ে অস্বীকার করবে? উভয় উদ্যানই বহু ফলদার শাখাবিশিষ্ট। সুতরাং তোমাদের রবের কোনো নিআমতকে তোমরা উভয়ে অস্বীকার করবে? উভয়ের মধ্যে থাকবে দু'টি ঝর্ণাধারা যা প্রবাহিত হবে। সুতরাং তোমাদের রবের কোনো নিআমতকে তোমরা উভয়ে অস্বীকার করবে? উভয়ের মধ্যে প্রত্যেক ফল থেকে থাকবে দু প্রকারের। সুতরাং তোমাদের রবের কোনো নিআমতকে তোমরা উভয়ে অস্বীকার করবে? সেখানে পুরু রেশমের আস্তরবিশিষ্ট বিছানায় তারা হেলান দেয়া অবস্থায় থাকবে এবং দু' জান্নাতের ফল-ফলাদি থাকবে নিকটবর্তী। সুতরাং তোমাদের রবের কোনো নিআমতকে তোমরা উভয়ে অস্বীকার করবে? সেখানে থাকবে স্বামীর প্রতি দৃষ্টি সীমিতকারী মহিলাগণ, যাদেরকে ইতঃপূর্বে স্পর্শ করেনি কোনো মানুষ আর না কোনো জ্বিন। সুতরাং তোমাদের রবের কোনো নিআমতকে তোমরা উভয়ে অস্বীকার করবে? তারা যেন হীরা ও প্রবাল। সুতরাং তোমাদের রবের কোন্ নিআমতকে তোমরা উভয়ে অস্বীকার করবে? (সূরা রাহমান ৫৫:৪৬-৫৮)

মাসআলা-৫২: সাধারণ মু'মিনদেরকেও দু'টি করে বাগান দেয়া হবে তবে তা বিশেষ বান্দাদের বাগানের তুলনায় কম মর্যাদাপূর্ণ হবে:

মাসআলা-৫৩: তাদের বাগান সমূহের ঝর্ণা ও সুস্বাদু ফল-মূল থাকবে:

মাসআলা-৫৪: সতী, পবিত্র, সুন্দর, আকর্ষণীয় চোখবিশিষ্ট, হুরেরা তাদের স্ত্রী হবে, যাদেরকে ইতিপূর্বে আর কেউ স্পর্শ করে নি:

وَمِنْ دُونِهِمَا جَنَّتَانِ - فَبِأَيِّ آلَاءِ رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ - مُدْهَا مَتَانِ . فَبِأَيِّ آلَاءِ رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ . فِيهِمَا عَيْنَانِ نَضَاخَتَانِ . فَبِأَيِّ آلَاءِ رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ - فِيهِمَا فَاكِهَةٌ وَنَخْلٌ وَرُمَّانَ - فَبِأَيِّ آلَاءِ رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ . فِيهِنَّ خَيْرَاتٌ حِسَانٌ . فَبِأَيِّ آلَاءِ رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ - حُورٌ مَّقْصُورَاتٌ فِي الْخِيَامِ . فَبِأَيِّ آلَاءِ رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ . لَمْ يَطْمِثْهُنَّ إِنْسٌ قَبْلَهُمْ وَلَا جَانٌّ. فَبِأَيِّ آلَاءِ رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ مُتَّكِئِينَ عَلَى رَفْرَفٍ خُضْرٍ وَعَبْقَرِي حِسَانٍ. فَبِأَيِّ آلَاءِ رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ . تَبَارَكَ اسْمُ رَبِّكَ ذِي الْجَلَالِ وَالْإِكْرَامِ .

অর্থ: আর ঐ দু'টি জান্নাত ছাড়াও আরো দু'টি জান্নাত রয়েছে। সুতরাং তোমাদের রবের কোন্ নিআমতকে তোমরা উভয়ে অস্বীকার করবে? জান্নাত দু'টি গাঢ় সবুজ সুতরাং তোমাদের রবের কোন্ নিআমতকে তোমরা উভয়ে অস্বীকার করবে? এ দু'টিতে থাকবে অবিরাম ধারায় উচ্ছলমান দু'টি ঝর্ণাধারা। সুতরাং তোমাদের রবের কোন্ নিআমতকে তোমরা উভয়ে অস্বীকার করবে? এ দু'টিতে থাকবে ফলমূল, খেজুর ও আনার। সুতরাং তোমাদের রবের কোন্ নিআমতকে তোমরা উভয়ে অস্বীকার করবে? সেই জান্নাতসমূহে থাকবে উত্তম চরিত্রবতী অনিন্দ্য সুন্দরীগণ। সুতরাং তোমাদের রবের কোন্ নিআমতকে তোমরা উভয়ে, অস্বীকার করবে? তারা হুর, তাঁবুতে থাকবে সুরক্ষিতা। সুতরাং তোমাদের রবের।

কোন্ নিআমতকে তোমরা উভয়ে অস্বীকার করবে? যাদেরকে ইতঃপূর্বে স্পর্শ করেনি কোন মানুষ আর না কোন জ্বিন। সুতরাং তোমাদের রবের কোন্ নিআমতকে তোমরা উভয়ে অস্বীকার করবে? তারা সবুজ বালিশে ও সুন্দর কারুকার্য খচিত গালিচার উপর হেলান দেয়া অবস্থায় থাকবে। সুতরাং তোমাদের রবের কোন্ নিআমতকে তোমরা উভয়ে অস্বীকার করবে? তোমার রবের নাম বরকতময়, যিনি মহামহিম ও মহানুভব। (সূরা রাহমান ৫৫:৬২-৭৮)

মাসআলা-৫৫ : জীবন ব্যাপী মনের হারাম কামনা থেকে নিজেকে সংরক্ষণ কারী এবং আল্লাহর নির্দেশ পালনকারী জান্নাতে যাবে:

মাসআলা-৫৬ : জান্নাতে না বেশি গরম হবে না বেশি ঠাণ্ডা বরং নাতিশীতোষ্ণ সুন্দর আবহাওয়া থাকবে:

মাসআলা-৫৭ : জান্নাতের খাদেম জান্নাতীগণকে চাঁদী ও স্ফটিক নির্মিত পান পাত্রে পানি পরিবেশন করবে:

মাসআলা-৫৮ : জান্নাতের ফলসমূহ এতো নাগালের মধ্যে থাকবে যে, জান্নাতী চাইলে তা দাড়িয়ে, শুয়ে, বসে, গ্রহণ করতে পারবে:

মাসআলা-৫৯ : সালসাবীল নামক জান্নাতের ঝর্ণা থেকে এমন মদ প্রবাহিত হবে যাতে আদার স্বাদ মিশ্রিত থাকবে:

মাসআলা-৬০ : প্রত্যেক জান্নাতীর বাগানগুলো এক বিস্তীর্ণ সাম্রাজ্যের ন্যায় দৃশ্যমান হবে:

মাসআলা-৬১ : জান্নাতীদেরকে চাঁদীর কংকর পরানো হবে:

وَجَزَاهُمْ بِمَا صَبَرُوا جَنَّةً وَحَرِيرًا . مُتَّكِثِينَ فِيهَا عَلَى الْأَرَائِكِ لَا يَرَوْنَ فِيهَا شَمْساً وَلا زَمْهَرِيراً . وَدَانِيَةً عَلَيْهِمْ ظِلالُهَا وَذُلِلَتْ قُطُوفُهَا تَذْلِيلاً. وَيُطَافُ عَلَيْهِمْ بِآنِيَةٍ مِنْ فِضَّةٍ وَأَكْوَابٍ كَانَتْ قَوَارِيرَاً . قَوَارِيرَا مِنْ فِضَّةٍ قَدَّرُوهَا تَقْدِيراً . وَيُسْقَوْنَ فِيهَا كَأْسًا كَانَ مِزَاجُهَا زَنْجَبِيلاً - عَيْنَا فِيهَا تُسَمَّى سَلْسَبِيلاً - وَيَطُوفُ عَلَيْهِمْ وِلْدَانٌ مُخَلَّدُونَ إِذَا رَأَيْتَهُمْ حَسِبْتَهُمُ لُؤْلُوا مَّنثُورًاً . وَإِذَا رَأَيْتَ ثَمَّ رَأَيْتَ نَعِيماً وَمُلْكًا كَبِيراً . عَالِيَهُمْ ثِيَابُ

سُندُسٍ خُضْرٌ وَإِسْتَبْرَقٌ وَحُلُوا أَسَاوِرَ مِنْ فِضَّةٍ وَسَقَاهُمْ رَبُّهُمْ شَرَاباً طَهُوراً - إِنَّ هَذَا كَانَ لَكُمْ جَزَاءً وَكَانَ سَعْيُكُم مَّشْكُوراً.

অর্থ: আর তারা যে ধৈর্যধারণ করেছিল তার পরিণামে তিনি তাদেরকে জান্নাত ও রেশমী বস্ত্রের পুরস্কার প্রদান করবেন। তারা সেখানে সুউচ্চ আসনে হেলান দিয়ে আসীন থাকবে। তারা সেখানে না দেখবে অতিশয় গরম, আর না অত্যধিক শীত। তাদের উপর সন্নিহিত থাকবে উদ্যানের ছায়া এবং তার ফলমূলের থোকাসমূহ তাদের সম্পূর্ণ আয়ত্তাধীন করা হবে। তাদের চারপাশে আবর্তিত হবে রৌপ্যপাত্র ও স্ফটিক স্বচ্ছ পানপাত্র রূপার ন্যায় শুভ্র স্ফটিক পাত্র; যার পরিমাপ তারা নির্ধারণ করবে। সেখানে তাদেরকে পান করানো হবে পাত্রভরা আদা-মিশ্রিত সূরা, সেখানকার এক ঝর্ণা যার নাম হবে সালসাবীল। আর তাদের চারপাশে প্রদক্ষিণ করবে চিরকিশোরেরা; তুমি তাদেরকে দেখলে বিক্ষিপ্ত মুক্তা মনে করবে। আর তুমি যখন দেখবে তুমি সেখানে দেখতে পাবে স্বাচ্ছন্দ্য ও বিরাট সাম্রাজ্য। তাদের উপর থাকবে সবুজ ও মিহি রেশমের পোশাক এবং মোটা রেশমের পোশাক, আর তাদেরকে পরিধান করানো হবে রূপার চুড়ি এবং তাদের রব তাদেরকে পান করাবেন পবিত্র পানীয়। (তাদেরকে বলা হবে) 'এটিই তোমাদের পুরস্কার; আর তোমাদের প্রচেষ্টা ছিল প্রশংসাযোগ্য।' (সূরা দাহার ৭৬:১২-২২)

মাসআলা-৬২: উজ্জ্বল চেহারা, সর্বপ্রকার অনর্থক কথাবার্তা মুক্ত পরিবেশ, প্রবাহমান ঝর্ণা, সুউচ্চ আসন, সারি সারি গালিচা এবং বিস্তৃত বিছানো কার্পেট, এসবই জান্নাতের নিআমত যা থেকে জান্নাতীরা উপকৃত হবে:

وُجُوهٌ يَوْمَئِذٍ نَاعِمَةٌ لِسَعْيِهَا رَاضِيَةً فِي جَنَّةٍ عَالِيَةٍ لَا تَسْمَعُ فِيهَا لَآغِيَةً فِيْهَا عَيْنَ جَارِيَةٌ فِيْهَا سُرُرٌ مَرْفُوعَةٌ ، وَأَكْوَابٌ مَّوْضُوعَةٌ ، وَنَمَارِقُ مَصْفُوفَةٌ وَزَرَابِي مَبْثُوثَةٌ.

অর্থ: সেদিন অনেক চেহারা হবে লাবণ্যময়। নিজেদের চেষ্টা-সাধনায় সন্তুষ্ট। সুউচ্চ জান্নাতে সেখানে তারা শুনবে না কোনো অসার বাক্য। সেখানে থাকবে প্রবাহমান ঝর্ণাধারা, সেখানে থাকবে সুউচ্চ আসনসমূহ। আর প্রস্তুত পানপাত্রসমূহ। আর সারি সারি বালিশসমূহ। আর বিস্তৃত বিছানো কার্পেটরাজি। (সূরা গাশিয়া ৮৮:৮-১৬)

মাসআলা-৬৩: জান্নাতে কণ্টকহীন কুল বৃক্ষ থাকবে। আরো থাকবে কাঁদি কাঁদি কলা ও ঘন এবং দীর্ঘ ছায়া। প্রবাহমান পানির ঝর্ণা, আনন্দ উদযাপনের স্থান:

মাসআলা-৬৪: জান্নাতী লোকদের দুনিয়ার সতী স্ত্রীদেরকে আল্লাহ দ্বিতীয়বার সৃষ্টি করবেন যাদের মধ্যে নিম্নোক্ত তিনটি গুণ থাকবে। কুমারী, স্বামীর সম বয়স্কা, প্রাণ ভরে স্বামী ভক্তিপূর্ণ:

وَأَصْحَابُ الْيَمِينِ مَا أَصْحَابُ الْيَمِينِ - فِي سِدْرٍ مَخْضُودٍ - وَطَلْحٍ مَّنضُورٍ . وَظِلَّ مَمْدُودٍ - وَمَاءٍ مَسْكُوبٍ ، وَفَاكِهَةٍ كَثِيرَةٍ - لا مَقْطُوعَةٍ وَلَا مَمْنُوعَةٍ . وَفُرُشٍ مَرْفُوعَةٍ ، إِنَّا أَنشَأْنَاهُنَّ إِنشَاءُ - فَجَعَلْنَاهُنَّ أَبْكَاراً - عُرُبًا أَتْرَاباً وَالْأَصْحَابِ الْيَمِينِ .

অর্থ: "যারা ডান দিকে থাকবে তারা কত ভাগ্যবান। তারা থাকবে কাঁটাবিহীন বরই বৃক্ষে এবং কাঁদি কাঁদি কলায়। আর দীর্ঘ ছায়ায় এবং প্রবাহমান ঝর্ণায়। আর প্রচুর ফলমূলের মাঝে। যা শেষ হবার নয় এবং নিষিদ্ধও নয়। আরো থাকবে সমুন্নত শয্যায়। আমি জান্নাতী রমণীগণকে বিশেষরূপে সৃষ্টি করেছি। অতপর তাদেরকে চিরকুমারী। কামিনী, সমবয়স্কা। ডান দিকের লোকদের জন্য।” (সূরা ওয়াকিয়া: ২৭-৩৮)

মাসআলা-৬৫: জান্নাতে কাফুর নামক ঝর্ণা থেকে এমন শরাব প্রবাহিত হবে যে, যাতে কাফুরের স্বাদ থাকবে এবং তা জান্নাতীদেরকে পান করানো হবে:

মাসআলা-৬৬: জান্নাতে সমস্ত কাজ জান্নাতীদের ইচ্ছা অনুযায়ী চোখের পলকে সুসম্পন্ন হয়ে যাবে:

إِنَّ الأَبْرَارَ يَشْرَبُونَ مِنْ كَأْسٍ كَانَ مِزَاجُهَا كَافُوراً - عَيْناً يَشْرَبُ بِهَا عِبَادُ اللَّهِ يُفَجِّرُونَهَا تَفْجِيراً

অর্থ: "নিশ্চয়ই সৎকর্মশীলরা পান করবে কাফুর মিশ্রিত পানীয়। এটা একটি ঝর্ণা, যা থেকে আল্লাহর বান্দাগণ পান করবে, তারা একে প্রবাহিত করবে।” (সূরা দাহর: ৫-৬)

মাসআলা-৬৭: জান্নাতের নিআমতসমূহ জান্নাতীদের মন ও দৃষ্টিকে শান্ত করবে:
মাসআলা-৬৮: পৃথিবীতে জান্নাতের নিআমত সম্পর্কে কল্পনা করাও সম্ভব নয়:
فَلَا تَعْلَمُ نَفْسٌ مَّا أُخْفِيَ لَهُم مِنْ قُرَّةِ أَعْيُنٍ جَزَاءً بِمَا كَانُوا يَعْمَلُونَ অর্থ: "কেউ জানে না তার জন্য তার কৃতকর্মের কি কি নয়ন-প্রীতিকর প্রতিদান লুকায়িত আছে।" (সূরা সাজদা: ১৭)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00