📄 ঘোর অন্ধকারের মুখোমুখি
মানুষের হিসেব নিকাশের পর তারা পুলসিরাতের আগে একটা অন্ধকারের মুখোমুখি হবেন। আয়শা (রা.) থেকে বর্ণিত এক হাদীস থেকে জানা যায় যে, রাসূলুল্লাহ্ সা. কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল যেদিন পৃথিবী ও আকাশমণ্ডলী ধ্বংস হয়ে সব পরিবর্তন হয়ে যাবে সেদিন লোকেরা কোথায় থাকবে? মহানবী (সা.) উত্তরে বলেন তারা পুলসিরাতের আগে এক অন্ধকারে থাকবে। "১৪২
এ স্থানে মুমিনরা মুনাফিকদের থেকে আলাদা হয়ে যাবেন, আর মুনফিকরা অন্ধকারে পড়ে থাকবে কিন্তু মুমিনরা সামনের দিকে এগিয়ে যাবে।
টিকাঃ
১৪২. মুসলিম, ৪৭৩।
📄 পুলসিরাত
হিসেব নিকাশ, আমলের ওযন দান ও সৌভাগ্যবান ও সৌভাগ্যহীনদের মধ্যে পার্থক্য হয়ে যাওয়ার পর সমস্ত মানুষকে পুলসিরাত অতিক্রম করে যেতে হবে। পুলসিরাত হল জাহান্নামের উপর নির্মিত একটা অতিসুক্ষ্ম সেতু। যা তরবারীর ধারের চেয়ে বেশী ধারালো হবে এবং অত্যন্ত পিচ্ছিল হবে। সমস্ত মানুষকে তা অতিক্রম করে যাবার আদেশ দেয়া হবে। কারো কারো মতে তা কিছু কিছু মানুষের কাছে তরবারীর চেয়ে ধারালো বলে মনে হবে ফলে সে তার উপর দিয়ে অতিক্রম করে যাবার সময় ব্যর্থ হবে ফলে জাহান্নামে পড়ে যাবে। আবার তা কারো কারো জন্য প্রশস্ত হয়ে যাবে তখন সে বিনা দ্বিধায় ও বিনা ভয়ে অতিক্রম করে চলে গিয়ে আল্লাহ কর্তৃক তার জন্য রাখা নেয়ামত ভোগ করবে। "১৪৩
এসব বিষয়ের দিকে ইঙ্গিত করেই আল্লাহ্ তা'আলা বলেন:
وَإِنْ مِنْكُمْ إِلَّا وَارِدُهَا كَانَ عَلَى رَبِّكَ حَتْمًا مَقْضِيًّا . ثُمَّ نُنَجِّي الَّذِينَ اتَّقَوْا وَنَذَرُ الظَّالِمِينَ فِيهَا جِثِيًّا.
"তোমাদের প্রত্যেককে তা অতিক্রম করতে হবে। এটা তোমার প্রতিপালকের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত। পরে আমি মুত্তাকীদের উদ্ধার করবো এবং জালিমদেরকে নতজানু অবস্থায় রেখে দিব।"১৪৪
এ আয়াতের তাফসীরে আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. বলেন: এ আয়াতের অর্থ হল তাদের পুলসিরাতের উপর দিয়ে অবশ্যই যেতে হবে।” পুলসিরাত হল তরবারীর ধারের মত ধারালো এক সেতু। এ সেতুর উপর দিয়ে প্রথম পথ যাত্রীরা বিদ্যুৎগতিতে অতিক্রম করবে। দ্বিতীয় যাত্রীদল বাতাসের গতিতে অতিক্রম করবে। আর তৃতীয় দল দ্রুতগামী অশ্বারোহীর মত গতিতে যাবে। অতপর যাত্রীদের দল যেতে থাকবে তখন ফেরেস্তারা বলতে থাকবে সালাম। এ সব বক্তব্যের পক্ষে বুখারী মুসলিমে অনেক সহীহ হাদীস রয়েছে। ১৪৫
আল্লাহ্ তা'আলা আরও বলেন:
وَلَوْ نَشَاءُ لَطَمَسْنَا عَلَى أَعْيُنِهِمْ فَاسْتَبَقُوا الصِّرَاطَ فَأَنَّى يُبْصِرُونَ .
"আমি ইচ্ছা করলে তাদের চোখগুলোকে লোপ করে দিতে পারতাম। তখন তারা পুলসিরাত অতিক্রম করতে চাইলে কী করে দেখতে পেত?"১৪৬
আবু হুরাইরা হতে বর্ণিত যে, কিছু লোক রাসূলুল্লাহ্ সা. জিজ্ঞেস করলেন: হে আল্লাহর রাসূল! আমরা কি কিয়ামত দিবসে আমাদের প্রভুকে দেখতে পাব? তখন তিনি বললেন: তোমরা চৌদ্দ তারিখের রাতে চাঁদ দেখতে সমস্যাবোধ কর, যখন তার সামনে কোন মেঘ থাকে না? অবশেষে রাসূলুল্লাহ্ সা. বলেন আল্লাহ্ তা'আলা জাহান্নামের উপর পুলসিরাত নির্মাণ করবেন। তখন দোয়া হবে আল্লাহ রক্ষাকর, আল্লাহ রক্ষা কর। সেখানে সোদানের কাটার মত বড় পেরাক থাকবে। তবে তা যে কত বড় তা আল্লাহ ছাড়া আর কেউ জানে না। অতপর লোকদেরকে তাদের আমল অনুযায়ী নিয়ে যাওয়া হবে। তাদের মধ্যে কেউ কেউ তার আমলের জন্য ধ্বংস হবে, আর কেউ কেউ পড়ে যাবে অতপর আবার মুক্তি পাবে। ১৪৭
পুলসিরাত পূর্ণ নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্ধে অতিক্রম করার পর মুমিনদেরকে জান্নাত ও জাহান্নামের মধ্যে এক সেতুর সামনে দাঁড় করানো হবে। বুখারী শরীফের এক হাদীসে আছে, মুমিনদেরকে জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্ত করার পর জান্নাত ও জাহান্নামের মধ্যে এক সেতুর সামনে দাঁড় করানো হবে। তখন তাদের পরস্পরের মধ্যে যদি দুনিয়ার জীবনে জোর জুলুমের কিছু থেকে থাকে তার প্রতিশোধ নেয়ার ব্যবস্থা করা হবে। যখন তারা সম্পূর্ণ পরিচ্ছন্ন ও পরিস্কার হয়ে যাবে তখন তাদেরকে জান্নাতে প্রবেশ করার অনুমতি দেয়া হবে। যার হাতে মুহাম্মাদের জীবন, তারা প্রত্যেকেই দুনিয়ার জীবনে তাদের বাড়ী ঘর যেভাবে চিনে জান্নাতে তারা তাদের জান্নাতী ঘর তার চেয়ে বেশী চিনবে। ১৪৮ হাসান থেকে মুরছাল সনদে বর্ণিত আছে যে, আমি শুনেছি যে, রাসূলুল্লাহ্ সা. বলেছেন, জান্নাতবাসীদেরকে পুলসিরাত অতিক্রম করার পর থামিয়ে দেয়া হবে। তখন তারা তাদের দুনিয়ার জীবনের পরস্পরের মধ্যে জুলুমের প্রতিশোধ নিবে। তারপর জান্নাতে প্রবেশ করবে। তখন তাদের কারো অন্তরে অন্য কারো প্রতি কোন রকমের ঘৃণা ও হিংসা থাকবে না।" ১৪৯
টিকাঃ
১৪৩. ড. এমাদুদ্দিন খলীল, কুরবান ইয়াকিনিয়াত আল কাওনিয়া, পৃ-২৫৩।
১৪৪. সূরা মরিয়াম, ৭১-৭২।
১৪৫. মুহাম্মদ আলী সাবৃনী, মুখতাছার তাফসীরে ইবনে কাসীর, খ-২, পৃ-৬৪২।
১৪৬. সূরা ইয়াসীন, ৬৬।
১৪৭. বুখারী, ৬০৮৮; মুসলিম, ২৬৯।
১৪৮. বুখারী, ২২৬০; ফাতহুল বারী, খ-১১, পৃ-৩৯৯; আহমদ, ১০৬৭৩।
১৪৯. ফাতহুল বারী, খ:১১, পৃ-৩৯৯।
📄 সুপারিশ বা শাফায়াত
শাফায়াত বা সুপারিশ বলতে বুঝানো হয়, কোন ক্ষমতাশালী বা ক্ষমতার অধিকারীর কাছে নিজের প্রয়োজন পুরণ কিংবা নিজের পাপ বা অপরাধ মোচনের জন্য অপর কাউকে মধ্যস্ততাকারী হিসেবে গ্রহণ করা। মানুষকে হাশরের ময়দানে বিচার ফায়সালার জন্য তখন তাদের কষ্ট ও ভোগান্তি চুড়ান্ত পর্যায়ে পৌছাবে। ভয় সন্ত্রস্ততার কারণে এবং অবস্থার কঠোরতা ও দীখায়তের ফলে। সে ভয়ংকর দিনের দুঃখ কষ্ট এতই ভয়াবহ হবে যে গোটা হাশরের ময়দানে উপস্থিতি ইয়া নাফসী ইয়া নফসী করতে থাকবে। এমতাবস্থায় তারা সুপারিশের জন্য প্রথমে আমাদের আদী পিতা আদম আ.-এর কাছে যাবেন তার কাছে কামনা করবেন তিনি যেন আল্লাহর কাছে তাদের জন্য সুপারিশ করেন। তখন আদম আ. তার অপরাগতা প্রকাশ করবেন। অতপর অপরাপর নবীদের কাছে যাবেন তাদের কাছে সুপারিশের জন্য আবেদন করবেন তারাও একে একে সকলেই তাদের অপারগতার কথা বলবেন। সর্বশেষ তারা আমাদের প্রিয় নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর কাছে আসবেন এবং তাঁর কাছে তাদের জন্য আল্লাহ তা'আলার দরবারে সুপারিশ করার আবেদন জানাবেন। তখন মহানবী (সা.) সমস্ত হাশর বাসীর জন্য তাদেরকে যেন কিছুটা আরাম দেয়া হয় এবং দীর্ঘক্ষণ অবস্থান ও ভয়াবহ অবস্থা হতে মুক্তি দেয়া হয় আল্লাহর কাছে সুপারিশ করবেন। পবিত্র কুরআনের নিম্নোক্ত আয়াতে আল্লাহ তা'আলা মহানবী (সা.)-কে যে "মাকামে মাহমুদ" বা প্রসংশিত স্থান দান করবেন বলে ওয়াদা করেছেন তা হলো
এই সুপারিশ। আল্লাহ তা'আলা বলেন: عَسَى أَنْ يَبْعَثَكَ رَبُّكَ مَقَامًا مَحْمُوُدًا "আশা করা যায় আল্লাহ আপনাকে মাকামে মাহমুদে পৌছাবেন।" মাকামে মাহমুদ হচ্ছে এই সুপারিশের সুযোগ দান। রাসূলুল্লাহ্ সা. সমস্ত হাশর বাসী দুঃখ কষ্ট লাঘবের জন্য আল্লাহর কাছে সুপারিশ করবেন।১৫০
ইবনে আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: সমস্ত মানুষ কিয়ামত দিবসে নতজানু অবস্থায় চলতে থাকবে। প্রত্যেক উম্মত তাদের নবীর অনুসরণ করবে তারা বলবে হে অমুক! আপনি আমাদের জন্য সুপারিশ করুন। তারা প্রত্যেকেই অপারগতা প্রকাশ করবেন। অবশেষে তারা মহানবী (সা.) এর কাছে আসবেন এবং তিনি তাদের জন্য সুপারিশ করবেন। এটাই হল সে দিন যে দিন আল্লাহ তাকে মাকামে মাহমুদ বা প্রশংসিত স্থান দান করবেন। ১৫১
অপর এক বর্ণনায় আছে কিয়ামতের দিন সূর্য অত্যন্ত কাছে আসবে ফলে ঘাম কান বরাবর পৌঁছবে। যখন এরূপ অবস্থা তখন তারা আদম এর সাহায্য চাইবে। তিনি বলবেন আমি এ উপযোগী নই। অতপর মুসা আ. এর কাছে আসবে তিনিও বলবেন আমি এর উপযুক্ত নই। অতপর রাসূলুল্লাহ্ সা.-এর কাছে আসবে। তখন তিনি সুপারিশ করবেন। তখন তিনি এগিয়ে যাবেন অবশেষে জান্নাতের দরজার কড়া ধরবেন। সে দিন আল্লাহ তাকে মাকামে মাহমুদে অবস্থান করাবেন। তখন সর্বোচ্চ সকলেই তার প্রসংশা করবেন। "১৫২
নিম্নোক্ত হাদীসে কিয়ামত দিবসের অবস্থার বিবরণ এবং সুপারিশের রূপ রেখা বর্ণিত হয়েছে।
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ : أَتِيَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَ سَلَّمَ بِلَحْمِ فَرُفِعَ إِلَيْهِ الذِّرَاعِ وَكَانَتْ تُعْجِبُهُ فَنَهَسَ مِنْهَا نَهْسَةً ثُمَّ قَالَ : أَنَا سَيِّدُ النَّاسِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَهَلْ تَدْرُونَ مِمَّ ذَلِكَ ؟ يَجْمَعُ اللهُ النَّاسَ الأَوَّلِينَ وَالآخِرِينَ فِي صَعِيدٍ وَاحِدٍ يَسْمَعُهُمْ الدَّاعِي وَيَنْفُذُهُمُ الْبَصَرَ وَتَدْنُو الشَّمْسَ فَيَبْلُغَ النَّاسِ مِنَ الْغَمِّ وَالكَرَب مَا لَا يُطِيقُونَ وَلَا يَحْتَمِلُونَ فَيَقُولُ النَّاسُ أَلَا تَرَوْنَ مَا قَدْ بَلَغَكُمْ أَلَا تَنْظُرُونَ مِنْ يَشْفَعُ لَكُمْ إِلَى رَبِّكُمْ ؟ فَيَقُولُ بَعْضُ النَّاسِ لِبَعْضٍ عَلَيْكُمْ بِآدَمَ فَيَأْتُونَ آدَمَ عَلَيْهِ السَّلَامُ فَيَقُولُونَ لَهُ
أنتَ أبو الْبَشَرِ خَلَقَكَ اللهُ بِيَدِهِ وَنَفَخَ فِيكَ مِنْ رُوحِهِ وَأَمَرَ الْمَلَائِكَةَ فَسَجَدُوا لَكَ اشْفَعْ لَنَا إِلَى رَبِّكَ أَلَا تَرَى إِلَى مَا نَحْنُ فِيْهِ ألا ترى إلى مَا قَدْ بَلَغْنَا ؟ فَيَقُولُ آدَمُ إِنَّ رَبِّي قَدْ غَضَبَ الْيَوْمُ غَضَبًا لَمْ يَغْضَبْ قَبْلَهُ مِثْلَهُ وَلَنْ يَغْضَبَ بَعْدَهُ مِثْلَهُ وَإِنَّهُ نَهَانِي عَن الشَّجَرَةِ فَعَصَيْتُهُ نَفْسِي نَفْسِي نَفْسِي اذْهَبُوا إِلَى غَيْرِي اذْهَبُوا إِلَى نوح . فَيَأْتُونَ نُوحًا فَيَقُولُونَ يَا نُوحُ إِنَّكَ أَنْتَ أَوَّلُ الرُّسُلِ إِلَى أَهْلِ الْأَرْضِ وَقَدْ سَمَاكَ اللهُ عَبْدًا شَكُورًا اشْفَعْ لَنَا إِلَى رَبِّكَ أَلَا تَرَى إِلَى مَا نَحْنُ فِيْهِ ؟ فَيَقُولُ إِنَّ رَبِّي عَزَّ وَ جل قَدْ غَضِبَ الْيَوْمَ غَضَبًا لَمْ يَغْضَبْ قَبْلَهُ مِثْلَهُ وَلَنْ يَغْضَبَ بَعدَهُ مِثْلَهُ وَإِنَّهُ قَدْ كَانَتْ لِي دَعوة دَعَوْتُهَا عَلَى قَوْمِي نَفْسِي نَفْسِي نَفْسِي اذْهَبُوا إِلَى غَيْرِي اذْهَبُوا إِلَى إِبْرَاهِيمَ. فَيَأْتُونَ إِبْرَاهِيمَ فَيَقُولُونَ يَا إِبْرَاهِيمُ أَنْتَ نَبِيُّ اللَّهِ وَخَلِيلُهُ مِنْ أَهْلِ الْأَرْضِ اشْفَعْ لَنَا إِلى رَبِّكَ أَلَا تَرَى إِلَى مَا نَحْنُ فِيهِ ؟ فَيَقُولُ لَهُمْ إِنَّ رَبِّي قَدْ غَضِبَ الْيَوْمَ غَضَبًا لَمْ يَغْضَبُ قَبْلَهُ مِثْلَهُ وَلَنْ يَغْضَبَ بَعْدَهُ مِثْلَهُ وَإِنِّي قَدْ كُنْتُ كَذِبْتُ ثَلَاثَ كَذِبَاتِ فَذَكَرَهُنَّ أَبُو حَيَّانِ فِي الْحَدِيثِ نَفْسِي نَفْسِي نَفْسِي اذْهَبُوا إِلَى غَيْرِي اذْهَبُوا إِلَى مُوسَى . فَيَأْتُونَ مُوسَى فَيَقُولُونَ يَا مُوسَى أَنْتَ رَسُولُ اللهِ فَضَّلَكَ اللهُ بِرِسَالَتِهِ وَبِكَلامِهِ عَلَى النَّاسِ اشْفَعْ لَنَا إِلَى ربِّكَ أَلَا تَرَى إِلَى مَا نَحْنُ فِيهِ ؟ فَيَقُولُ إِنَّ رَبِّي قَدْ غَضِبَ الْيَوْمَ غَضَبًا لَمْ يَغْضَبْ قَبْلَهُ مِثْلَهُ وَلَنْ يَغْضَبَ بَعْدَهُ مِثْلَهُ وَإِنِّي قَدْ قتلت نَفْسًا لَمْ أُوْمَرْ بِقَتْلِهَا نَفْسِي نَفْsi نَفْسِي اذْهَبُوا إِلَى غَيْرِي اذْهَبُوا إِلَى عِيسَى . فَيَأْتُونَ عِيسَى فَيَقُولُونَ يَا عِيسَى أَنْتَ رَسُولُ اللهِ وَكَلِمَتُهُ أَلْقَاهَا إِلى مَرْيَمَ وَرُوجٍ مِنْهُ وَكَلَّمْتَ النَّاسَ فِي الْمَهْدِ صبيًّا اشْفَعْ لَنَا أَلَا تَرَى إِلَى مَا نَحْنُ فِيْهِ ؟ فَيَقُولُ عِيسَى إِنَّ رَبِّي قَدْ
غَضِبَ الْيَوْمَ غَضَبًا لَمْ يَغْضَبْ قَبْلَهُ مِثْلَهُ قَطَّ وَلَنْ يَغْضَبَ بَعْدَهُ مثله وَلَمْ يَذْكُرُ ذَنْبًا نَفْسِي نَفْسِي نَفْسِي اذْهَبُوا إِلَى غَيْرِي اذْهَبُوا إلى مُحَمَّدٍ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، فَيَأْتُونَ مُحَمَّدًا صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَيَقُولُونَ يَا مُحَمَّدُ أَنْتَ رَسُولُ اللَّهِ وَخَاتَمُ الْأَنْبِيَاءِ وَقَدْ غَفَرَ اللَّهُ لَكَ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِكَ وَمَا تَأَخَرَ اشْفَعْ لَنَا إِلَى رَبِّكَ ألا ترى إلى مَا نَحْنُ فِيْهِ ؟ فَأَنْطَلَقَ فَأْتِي تَحْتَ الْعَرْشِ فَأَقَعُ سَاجِدًا الربي عزو وَ . جَلَ ثُمَّ يَفْتَحُ اللَّهُ عَلَي مِنْ مَحَامِدِهِ وَحُسْنِ الثَّنَاءِ عَلَيْهِ شَيْئًا لَمْ يَفْتَحْهُ عَلَى أَحَدٍ قَبْلِي ثُمَّ يُقَالُ يَا مُحَمَّدُ ارْفَعْ رَأْسَكَ سَل تَعْطَهُ وَاشْفَعْ تَشْفَعُ فَأَرْفَعُ رَأْسِي فَأَقُولُ أُمَّتِي يَا رَبِّ أُمَّتِي يَا رَبِّ فَيُقَالُ يَا مُحَمَّدُ ادْخِلُ مِنْ أُمَّتِكَ مِنْ لَا حِسَابَ عَلَيْهِمْ مِنَ الْبَابِ الْأَيْمَنِ مِنْ أَبْوَابِ الْجَنَّةِ وَهُمْ شُرَكَاءُ النَّاسِ فِيمَا سِوَى ذَلِكَ مِنَ الأَبْوَابِ ثُمَّ قَالَ وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ إِنَّ مَا بَيْنَ الْمِصْرَاعَيْنِ مِنْ مَصَارِيعِ الْجَنَّةِ كَمَا بَيْنَ مَكَّةَ وَتَجِيرِ أَوْ كَمَا بَيْنَ مَكَّةَ وَبَصْرَى .
“আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন রাসূলুল্লাহ্ সা. এর জন্য গোস্ত নিয়ে আসা হল। গোস্ত থেকে তাঁকে তাঁর পছন্দনীয় রানের গোস্ত দেয়া হল। তখন তিনি সেখান থেকে কিছু খেলেন, তারপর বললেন, আমি কিয়ামত দিবসে মানুষের নেতা রূপে আবির্ভূত হব। তোমরা তা কি কারণে জান কি? সে দিন আল্লাহ পূর্বকাল ও পরকালের সকলকে এক ভূমিতে একত্রিত করবেন।
এমতাবস্থায় আহ্বায়ক তাদেরকে তার বক্তব্য শুনাতে পারবে এবং চোখ তাদেরকে দেখবেন। আর সূর্য তাদের নিকটবর্তী হবে তখন লোকেরা দুঃখ কষ্টে এমন পর্যায়ে পৌঁছবে যা তারা সহ্য করতে পারবে না। তখন কিছু লোক অপর কিছু লোককে বলবে তোমরা কেমন দুরাবস্থায় তা কি দেখতে পাচ্ছ না? তোমরা দেখছো না কেমনন দুর্গতি তোমাদের? তোমরা কি ভাবছ না কে তোমাদের জন্য তোমার প্রভুর কাজে সুপারিশ করতে পার? তখন কিছু লোক অপর কিছু লোককে বলবে তোমাদের পিতা আদম আ. পারবে। তখন তারা আদম আ.-এর কাছে আসবে এবং তাকে বলবে। হে আদম আপনি হলেন মানব জাতির আদি পিতা, আল্লাহ আপনাকে নিজ হাতে সৃষ্টি করেছেন। এবং আপনার মধ্যে নিজে রূহ ফুঁকে
দিয়েছেন। আর ফেরেস্তাদের আপনাকে সিজদা করার নির্দেশ দিয়েছেন তখন তারা আপনাকে সিজদা করেছে। কজেই আপনি আমাদের জন্য আপনার রবের কাছে সুপারিশ করুন। আমরা কেমন বিপদে আছি তা কি আপনি দেখতে পাচ্ছেন না? আমাদের অবস্থা কোথায় গিয়ে দাড়িয়েছে তা কি দেখতে পাচ্ছেন না? তখন আদম বলবেন আমার রব আজকে এমনভাবে রাগান্বিত হয়েছেন যে, আর কখনো এমন রাগান্বিত হননি। এরপর আর কখনো এমনভাবে রাগান্বিত হবেন না। তিনি আমাকে কাছে কাছে যেতে নিষেধ করে ছিলেন, কিন্তু আমি তার নিষেধ অমান্য করেছি। নাফসী, নাফসী, (হায়, হায় আমিার কি হবে, হায় হায় আমার কিছ হবে, হায় হায় আমার কি হবে?) তোমরা অন্যের কাছে যাও। তোমরা নূহের কাছে যাও। তখন তারা নূহের কাছে যাবেন। অতপর তাকে বলবেন, হে নূহ আ.! আপনি হলেন পৃথিবীবাসীর প্রতি প্রথম রাসূল। আল্লাহ আপনাকে কৃতজ্ঞ বান্দা নাম রেখেছেন। আপনি আমাদের জন্য আপনার প্রভুর কাছে সুপারিশ করুন। আমরা কোন অবস্থায় আছি তা কি আপনি দেখতে পাচ্ছেন না? আমাদের অবস্থা কোথায় গিয়ে দাড়িয়েছে তা কি দেখতে পাচ্ছেন না? তখন নূহ বলবেন, আমার রব আজকে এমন রাগান্বিত হয়েছেন যে, আর কখনও এরূপ রাগান্বিত হননি। এর পরও কখনও রূপ রাগান্বিত হবেননা।
আমার একটা দোয়া করার সুযোগ ছিল আমি সে দোয়াটি আমার কাউমের বিরুদ্ধে করে ফেলেছি। হায় হায় আমার কি হবে, হায় হায় আমার কি হবে, হায় হায় আমার কি হবে, তোমরা অন্যের কাছে যাও। তোমরা ইব্রাহীমের কাছে যাও। তখন তারা ইব্রাহিমের কাছে যাবেন। তারপর তাকে বলবেন হে ইব্রাহিম। আপনি হলেন এ পৃথিবীতে আল্লাহর নবী ও খলীল। আপনি আমাদের দুরাবস্থা কি দেখতে পাচ্ছেন না? আমাদের অবস্থা কোথায় গিয়ে দাড়িয়েছে তা কি দেখতে পাচ্ছেন না? তখন তিনি বলবেন, আমার রব আজকে এমন রাগান্বিত হয়েছেন যে, আর কখনও এরূপ রাগান্বিত হননি। এরপরও কখনও হবেননা। অতপর তিনি তার মিথ্যাগুলোর কথা উল্লেখ করবেন। হায় হায় আমার কি হবে। হায় হায় আমার কি হবে। হায় হায় আমার কি হবে। তোমরা মুসা আ. এর কাছে যাও। তখন তারা মুসার কাছে যাবে। গিয়ে তাকে বলবে হে মুসা! আপনি আল্লাহর রাসূল। আল্লাহ আপনাকে রিসালাত দান করেছেন এবং মানুষের উপর আপনাকে বেশী গুরুত্ব দিয়ে স্বয়ং আপনার সাথে কথা বলেছেন। আপনি আমাদের আপনার প্রভুর কাছে সুপারিশ করুন। আমরা কোন বিপদে আছি তা কি দেখতে পাচ্ছেন না। আপনি কে দেখছেন না আমাদের অবস্থা কোথায় গিয়ে দাড়িয়েছে? তখন মুসা তাদেরকে বলবেন আমার রব আজকে এমন ভাবে রাগান্বিত যে ইতিপূর্বে কখন ও রূপ রাগান্বিত হননি। এরপরও কখনও এরূপ রাগাবেন না। আমি এমন একটি
লোককে হত্যা করেছি যা যে হত্যা করা আদেশ ছিল না আমার প্রতি। হায় আমার কি হবে, আমার কি হবে আমার কি হবে। তোমরা অন্যের কাছে যাও। তোমরা ঈসা আ. এর কাছে যাও। তখন তারা ঈসা আ. এর কাছে যাবে। তাকে বলবে, হে ঈসা আপনি হলেন আল্লাহর রাসূল এবং তার থেকেই রূহ। তিনি বলবেন হা তাই সত্য। আর আপনি দোলনায় থাকাবস্থায় মানুষের সাথে কথা বলেছেন। সুতরাং আপনার প্রভুর কাছে আমাদের জন্য সুপারিশ করুন। আমরা কি কি বিপদে আপনি কি দেখছেন না? আমাদের অবস্থা কোথায় গিয়ে দাড়িয়েছে তা কি দেখতে পাচ্ছেন না। তখন তিনি তাদের বলবেন আমার রব আজকে এমন ভাবে রাগান্বিত হয়েছেন যে, ইতিপূর্বে কখনও এভাবে রাগান্বিত হননি। এরপরও কখনও এরূপ রাগান্বিত হবেন না। তবে তিনি তার কোন অপরাধের কথা উল্লেখ করবেন না। তোমরা অন্যের কাছে যাও। তোমরা মুহাম্মদ (সা.) এর কাছে যাও। তখন তারা তাঁর কাছে যাবে এবং বলবে, হে মুহাম্মদ আপনি হলেন আল্লাহর রাসূল এবং শেষ নবী। আল্লাহ আপনার পূর্বাপর সকল গুনাহ মাফ করে দিয়েছেন। অতএব আমাদের জন্য আপনার রবের কাছে সুপারিশ করুন। আপনি কি দেখছেন না আমরা কি বিপদে আছি? আমাদের অবস্থা কোথায় গিয়ে দাড়িয়েছে? তখন আমি দাঁড়াব, অতপর আরশের নিচে আসব। অতপর আমার রবের উদ্দেশ্যে সিজদায় পড়ে থাকব। অতপর আল্লাহ আমার উদ্দেশ্যে তার (রহমতের দরজা) খুলে দিবেন এবং আমাকে তার প্রশংসা ও উত্তম সুখ্যাতির এমন সব বিষয় জানিয়ে দিবেন যা তিনি আমার পূর্বে আর কারো জন্য খুলে দেননি। তখন বলা হবে হে মুহাম্মদ! তোমার মাথা উত্তোলন কর চাও যা চাইবে তা দেয়া হবে। তুমি সুপারিশ করতে পার। তোমার সুপারিশ গ্রহণ করা হবে। তখন আমি বলব: হে আমার রব! আমার উম্মতকে রক্ষা করুন আমার উম্মতকে রক্ষা করুন। হে রব আমার উম্মতকে রক্ষা করুন আমার উম্মতকে রক্ষা করুন। হে রব আমার উম্মতকে রক্ষা করুন। তখন বলা হবে তোমার উম্মতের মধ্য হতে যাদের হিসাব নেয়া হবে না তাদেরকে জান্নাতের ডান দরজা দিয়ে প্রবেশ করাও। তারা অন্যান্য দরজা দিয়ে অপরাপর মানুষের সাথেও প্রবেশ করতে পারবে। অতপর বলেন: যার হাতে আমার প্রাণ তার নামে শপথ জান্নাতের দুটি দরজার মধ্যে যে দূরত্ব তা মক্কা ও হিজজের দূরত্বের সমপরিমাণ। কিংবা মক্কা ও বসরার মধ্যে দূরত্বের সমপরিমাণ।"১৫৩
অপর এক হাদীসে আছে অতপর সকলে মহানবী মুহাম্মদ (সা.)-এর কাছে আসবে। তখন তিনি গিয়ে আরশের নিচে আল কাছাছ নামক একটা স্থানে
সিজদায় পড়বেন। তখন আল্লাহ বলবেন তোমার কি হয়েছে? অথচ আল্লাহ এ ব্যপ্যারে সবাধিক জানেন। তখন রাসূলুল্লাহ্ সা. বললেন আমি বলব হে আমার রব! আপনি আমাকে শাফায়াত বা সুপারিশ করার ওয়াদা দিয়েছিলেন। অতপর আপনার বান্দাদের ব্যাপারে আমার সুপারিশ কবুল করুন। আপনি তাদের মধ্যে ফায়সালা করুন। তখন আল্লাহ তা'আলা বলবেন: আমি তোমার সুপারিশ কবুল করলাম। আমি তোমাদের মধ্যে এসে তোমাদের ফায়সালা করব। তিনি বলেন তখন আমি ফিরে আসব এসে মানুষের সাথে দাড়িয়ে যাব।"১৫৪
এ সুপারিশ হলো বড় সুপারিশ যে সুপারিশের সুযোগ লাভ করবেন একমাত্র মুহাম্মদ (সা.) আর এ সুপারিশটা হবে গোটা হাশর বাসীর কষ্ট ও দুর্দশা লাভের জন্য। তাদেরকে দীর্ঘ অবস্থান হতে মুক্তি দানের জন্য। একথা অপর এক হাদীসে এসেছে এভাবেই। সূর্য নিকটবর্তী হবে। ফলে ঘাম কানে অর্ধেক পর্যন্ত হবে। যখন তারা এরূপ অবস্থায় থাকবে তখন তারা আদম আ. অতপর মুসা অতপর মুহাম্মদ (সা.)-এর কাছে সাহায্য চাইবেন। যাতে মানুষের মধ্যে ফায়সালা করেন। তখন তিনি গিয়ে দরজার কড়াই ধরে থাকবেন। সে দিন আল্লাহ তা'আলা তাকে মাকামে মাহমুদ অবস্থান করাবেন। সমস্ত হাশরবাসী তার প্রশংসা করবে। ১৫৫
এ হলো সমস্ত হাশরবাসীর জন্য রাসূলুল্লাহ্ সা.-এর সুপারিশ। এ ছাড়াও আল্লাহ তা'আলা রাসূলুল্লাহ্ সা.কে অনেক বিষয়ে ও অনেক মানুষের জন্য বিশেষ তার উম্মতের সুপারিশ করার সুযোগ দিবেন। আমরা নিম্নে রাসূলুল্লাহ্ সা.-এর সুপারিশ সম্পর্কে এখানে আলোচনা করবো:
১। একদল মানুষকে বিনা হিসেবে জান্নাতে প্রবেশ করবার জন্য মহানবীর সুপারিশ
উপরোক্ত দীর্ঘ হাদীসটির এক স্থানে আছে তখন আমি হে আমার রব আমার উম্মতকে রক্ষা করুন আমার উম্মতকে রক্ষা করুন। তখন আমাকে বলা হবে আপনার উম্মত থেকে যাদের কোন হিসাব নেয়া হবে না, যাদের কোন শাস্তি দেয়া হবে না এ রকমের লোকদেরকে জান্নাতের ডান দরজা দিয়ে প্রবেশ করাও। "১৫৬
২। অপরাধের কারণে জাহান্নামে প্রবেশ করানো হয়েছে এমন কিছু মানুষকে জাহান্নাম থেকে বের করার জন্য মহানবীর সুপারিশ
এ প্রসঙ্গে বুখারীতে আনাছ (রা.) থেকে বর্ণিত আছে, রাসূল সা. বলেছেন : তখন আমি আমার মাথা তোলব তোলে আমার রবের এমন প্রশংসা করব যা আমাকে শিখিয়ে দেয়া হয়েছে অতপর সুপারিশ করব। তখন আমার জন্য একটা সীমানা নির্ধারণ করে দেয়া হবে। তখন আমি তাদেরকে জাহান্নাম থেকে বের করে জান্নাতে প্রবেশ করাব। অতপর ফিরে এসে আবার অনুরূপ তৃতীয়বার, চতুর্থবার সিজদায় পড়ব। পরিশেষে জাহান্নামে কেবল ঐসমস্ত লোকেরাই থাকবে যারা চিরস্থায়ী হবে বলে আল কুরআন জানিয়েছে।"১৫৭
৩। কিছু মানুষের হিসাব নেয়ার শাস্তি যোগ্য বলে প্রমাণিত হবে, ঐসব লোকদেরকে শাস্তি না দেয়ার জন্য মহানবী (সা.) এর সুপারিশ
এ প্রসঙ্গে আনাছ ইবনে মালেক থেকে মুসনাদে আহমদে বর্ণিত হয়েছে, তিনি রাসূলুল্লাহ্ সা.-কে বলতে শুনেছেন, রাসূল সা. বলেছেন: আমিই সর্ব প্রথম মানুষ হব যার মাথার উপর হতে মাটি বিদীর্ন করা হবে কিয়ামত দিবসে এতে অহংকারের কিছু নেই। আর আমাকে প্রশংসার পতাকা দেয়া হবে এতেও অহংকারের কিছু নেই। আমি কিয়ামত দিবসে মানুষের নেতা হব তাতেও অহংকারের কিছুই নেই, আমি হব সে ব্যক্তি যাকে জান্নাতে প্রথম প্রবেশ করানো হবে তাতেও অহংকারের কিছু নেই। আমি জান্নাতের দরজায় আসব তার কড়াই ধরে থাকব। তখন বলা হবে এ কে? তখন আমি বলব আমি মুহাম্মদ। তখন আমার জন্য জান্নাতের দরজা খোলা হবে। তখন আমি জান্নাতে প্রবেশ করব। তখন দেখব পরাক্রমশালী আল্লাহ আমার সামনে তখন আমি তার উদ্দেশ্যে সিজদায় পড়ে যাব। তখন তিনি আমাকে বলবেন মুহাম্মদ তোমার মাথা তোল। কথা বল, তোমার কথা শুনা হবে। তখন আমার মাথা তুলব। তার পর বলব : আমার উম্মতকে রক্ষা করুন। আমার উম্মতকে রক্ষা করুন। তখন আল্লাহ বলবেন তোমার উম্মতের কাছে যাও। যার অন্তরে জাররা পরিমাণ ঈমান পাবে তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাও। তখন আমি ঐরূপ যাদের পাব তাদের দিকে যাব যাদের অন্তরে ঐরূপ ঈমান পাব তাদেরকে জান্নাতে প্রবেশ করাব। (আল্লাহ তা'আলা দ্বিতীয় বার বলবেন) তোমার উম্মতের কাছে যাও যার অন্তরে জারের দানার অর্ধেক পরিমাণ ঈমানও পাবে তাদেরকে জান্নাতে প্রবেশ করাও। তখন আমি যাব, যাদের অন্তরে অনুরূপ ঈমান পাব তাদেরকে জান্নাতে প্রবেশ করাব। (তৃতীয়বার আল্লাহ তা'আলা বলবেন) তোমার উম্মতের কাছে যাও যার অন্তরে শর্ষে পরিমাণ ঈমান পাবে তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাও তখন আমি যাব গিয়ে যাদের অন্তরে অনুরূপ ঈমান পাবে তাদেরকে জান্নাতে প্রবেশ করাব।..."১৫৮
৪। মর্যাদা বৃদ্ধির জন্য মহানবী (সা.) এর সুপারিশ
মহানবী (সা.) কিছু মানুষের জান্নাতে মর্যাদা বৃদ্ধির জন্য সুপারিশ করবেন। মুসলিম শরীফে আনাছ ইবনে মালেক থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন রাসূলুল্লাহ্ সা. বলেছেন: আমিই প্রথম মানুষ যিনি জান্নাতে সুপারিশ করবে। এবং আমিই হবো নবীদের মধ্যে সর্বাধিক অনুসারী সম্পন্ন নবী।"১৫৯ মুহাদ্দিসদের মতে জান্নাতে প্রবেশের পর এ সুপারিশ হবে জান্নাতে মর্যাদা বৃদ্ধির জন্য।
৫। উম্মতের মধ্যে কবিরা গুনাহর অধিকারীকে মুক্ত করার জন্য মহা নবীর সুপারিশ
এ প্রসঙ্গে আনাছ ইবনে মালেক মহানবী (সা.) থেকে বর্ণনা করেন, মহানবী (সা.) বলেন: আমার উম্মতের মধ্যে যারা কবীরা গুনাহর মুরতাকিব বা কবিরা গুনাহতে লিপ্ত ঐরকম লোকদের জন্য আমার সুপারিশ থাকবে। ১৬০
৬। শাস্তির পরিমাণ কমাবার জন্য মহানবীর সুপারিশ: কিছু কিছু লোক শাস্তি পাওয়ার যোগ্য প্রমাণিত হবার পর শাস্তি ভোগ করতে থাকবে। ঐ ধরণের কিছু লোকের শাস্তি হালকা করার জন্য বা শাস্তির পরিমাণ কমাবার জন্য মহানবী (সা.) আল্লাহর কাছে সুপারিশ করবেন। যেমন- তিনি তাঁর চাচা আবু তালিবের শাস্তি কমাবার জন্য সুপারিশ করবেন। এ প্রসঙ্গে বুখারীতে আবু সাঈদ খুদরী থেকে বর্ণিত আছে রাসূলুল্লাহ্ সা. এর সামনে তার চাচা আবু তালিবের কথা উঠলে তখন মহানবী (সা.) কে তার সম্বন্ধে বলতে শুনেছি, ফলে তাকে জাহান্নামের আগনীর স্থানে তাকে রাখা হবে, যা তার পায়ের গোড়ালী পর্যন্ত পৌছবে। এ থেকেই তার মাথার মগজের মূল পর্যন্ত টগবগ করতে থাকবে। "১৬১
টিকাঃ
১৫০. আয়াত সূরা ইব্রাহিম: ৭৮।
১৫১. বুখারী, হাদীস নং- ৪৩৪৯।
১৫২. বুখারী, দেখুন তাফসীরে ইবনে কাসীর, খ: ২, পৃ-৩৯৩।
১৫৩. বুখারী, হাদীস নং- ৩৯২, মুসলিরম, হাদীস নং- ২৮৭, আহমদ, হাদীস নং- ৩১১১, তিরমিযি, হাদীস নং- ২৩৫৮।
১৫৪. তাবারানী, ইবনে কাসীর, তাফসীর, খঃ ২, পৃ- ১৪৬।
১৫৫. বুখারী, ১৩৮১।
১৫৬. বুখারী, ৩১১১; মুসলিম, ২৭৮।
১৫৭. বুখারী, ৬৮৮৬; ফাতহুল বারী, খ: ১১, পৃ-৪১৭,৪১৮।
১৫৮. আহমদ, আল-মুসনাদ, হাদীস নং-১২১৩।
১৫৯. মুসলিম, হাদীস নং-২৮৯।
১৬০. আহমদ, ১২৭৪৫, আবু দাউদ, ৪১১৪, তিরমিযি, ২৩৫৯।
১৬১. বুখারী, ৬০৭৯; আহমদ, ১০৬৩৬।
📄 নবী, শহীদ, আলেম, ফেরেশতা ও আল কুরআনের সুপারিশ
আল কুরআনের কিছু আয়াত ও কিছু হাদীস থেকে জানা যায় যে, নবীগণ শহীদগণ আলেমগণ ফেরেস্তাগণ এবং পবিত্র কুরআন কিছু অপরাধী মানুষের জন্য আল্লাহর কাছে সুপারিশ করবে। ফেরেস্তাদের সুপারিশ প্রসঙ্গে পবিত্র কুরআনে বলা হয়:
وَكَمْ مِنْ مَلَكٍ فِي السَّمَاوَاتِ لَا تُغْنِي شَفَاعَتُهُمْ شَيْئًا إِلَّا مِنْ بَعْدِ أَنْ يَأْذَنَ اللَّهُ لِمَنْ يَشَاءُ وَيَرْضَى .
"আসমানের অনেক ফেরেস্তা রয়েছে তাদের কোন সুপারিশ ফলপ্রসু হয় না যতক্ষণ আল্লাহ যার জন্য ইচ্ছা ও যাকে পছন্দ করেন অনুমতি না দেন।"১৬২ আল্লাহ তা'আলা আরও বলেন:
وَلَا يَشْفَعُونَ إِلَّا لِمَنِ ارْتَضَى وَهُمْ مِنْ خَشْيَتِهِ مُشْفِقُونَ .
"তারা শুধু তাদের জন্য সুপারিশ করে যাদের প্রতি আল্লাহ সন্তুষ্ট। এবং তারা তার ভয়ে ভীত। ১৬৩
আবু সাঈদ থেকে মারফু সনদে বর্ণিত আছে, তিনি (রাসূল সা.) বলেন: তখন আল্লাহ তা'আলা বলবেন, ফেরেস্তাগণ সুপারিশ করেছেন, নবীগণ সুপারিশ করেছেন, মুমিনগণও সুপারিশ করেছেন। এখন দয়াময় মেহেরবান আল্লাহ ছাড়া আর কেউ বাকি নেই। তখন তিনি এক মুষ্টি আগুন নিয়ে তার মধ্য হতে এমন কিছু লোককে বের করে নিয়ে আসবেন যারা কখনও সৎকর্ম করেনি। "১৬৪
হাকেম আবু ইয়ানী ওসমান (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ্ সা. বলেছেন: কিয়ামত দিবসে তিন প্রকারের মানুষ সুপারিশ করবেন। (তারা হলেন) নবীগণ, আলেমগণ ও শহীদরা। ১৬৫
অপর এক বর্ণনায় আছে, একজন শহীদ তার পরিবারের সত্তর জন লোকের জন্য সুপারিশ করবেন। "১৬৬
সহীহ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত যে পবিত্র কুরআনও সেদিন সুপারিশ করবেন আহলে কুরআনদের জন্য। আবু উমামা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ্ সা. কে বলতে শুনেছি, তোমরা কুরআন পাঠ করবে কেননা তা কিয়ামত দিবসে কুরআন তেলাওয়াতকারীর জন্য সুপারিশ করবেন। "১৬৭
আবু বারযা থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ্ সা.কে বলতে শুনেছি আমার উম্মতের মধ্যে কিছু কিছু লোক রাবিয়া ও মুদর গোত্রের চেয়ে বেশী লোকের জন্য সুপারিশ করবেন।" ১৬৮
অপর এক হাদীসে আছে আমার উম্মতের কোন এক লোক অনেক লোকের জন্য সুপারিশ করে তাদেরকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। আর এক লোক একা কবিলার লোকদের জন্য সুপারিশ করবেন, তার সুপারিশের কারণেই তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে। আর এক লোক একদল লোকের জন্য সুপারিশ করবে।
আর কোন লোক তিনজনের জন্য আর কোন লোক দুজনের জন্য। আর কোন লোক এক লোকের জন্য সুপারিশ করবেন। ১৬৯ মোদ্দাকথা কিয়ামত দিবসে আল্লাহর কাছে হাশরবাসীদের সুপারিশ করবেন আল্লাহর নবীগণ শহীদগণ আলেম ওলামা মুমিনরা ও ফেরেস্তারা। তবে সুপারিশের জন্য কিছু শর্ত আছে।
টিকাঃ
১৬২ সূরা নজম, ২৬।
১৬৩ সূরা আম্বিয়া, ২৮।
১৬৪ মুসলিম, ৩৬৯, একটি দীর্ঘ হাদীসের অংশবিশেষ।
১৬৫ ইবনে মাজাহ, ৪৩০৪, হাদীসটি সনদ হাসান পর্যায়ের।
১৬৬ আবু দাউদ, ২১৬০।
১৬৭ মুসলিম, ৯৩৩৭।
১৬৮ আহমদ, ১৭১৮৩; এ হাদীসের রাবীগণ নির্ভর যোগ্য।
১৬৯ আহমাদ, ১৭০২১; তিরমিযি, ২৩৬৪; ও বাইহাকী কর্তৃক বর্ণিত।