📘 মৃত্যুর পরে অনন্ত জীবন > 📄 হাশরের ময়দানের ভয়াবহ অবস্থা

📄 হাশরের ময়দানের ভয়াবহ অবস্থা


কুরআন ও বিভিন্ন হাদীস থেকে জানা যায় যে, হাশরের ময়দান হবে সমতল ভূমি। সেখানে কোন পাহাড় কোন উপশাখা কিংবা নদ-নদী থাকবে না। কোন নীচু ভূমি কিংবা টিলাও থাকবে না। আল্লাহ্ তা'আলা বলেন:
وَيَسْأَلُونَكَ عَنِ الْجِبَالِ فَقُلْ يَنْسِفُهَا رَبِّي نَسْفًا . فَيَذَرُهَا قَاعًا صَفْصَفًا . لَا تَرَى فِيهَا عِوَجًا وَلَا أَمْتًا
"তারা তোমাকে পর্বত সমূহ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে। বল আমার প্রতিপালক তার সমূলে উৎপাটন করে বিক্ষিপ্ত করে দিবেন। অতপর তিনি তাকে মসৃন সমতল ময়দানে পরিণত করবেন। যাতে তুমি বক্রতা ও উচ্চতা দেখতে পাবেনা।"১১৯ আল্লাহ্ তা'আলা আরও বলেন:
وَيَوْمَ نُسَيِّرُ الْجِبَالَ وَتَرَى الْأَرْضَ بَارِزَةً وَحَشَرْنَاهُمْ فَلَمْ نُغَادِرُ مِنْهُمْ أَحَدًا .
"স্মরণ কর সেদিনের কথা যেদিন পর্বত মালাকে সঞ্চালিত করব। এবং তুমি পৃথিবীকে দেখবে উন্মুক্ত প্রান্তর, সেদিন তাদের সকলকে আমি সমবেত করব। এবং তাদের কাউকে অব্যাহতি দিবনা।"১২০
হাদীস শরীফে আছে কিয়ামত দিবসে মানুষকে এক শুভ্র ঘাম পানিহীন পরিচ্ছন্ন সাদা ময়দার বুটির মত ভূমির উপর সমবেত করা হবে যেখানে কারো কোন চিহ্ন থাকবে না।"১২১

টিকাঃ
১১৯ সূরা ত্বাহাদীস নং- ১০৪-১০৭।
১২০ সূরা কাহফ, ৪৭।
১২১ বুখারী, ৬০৪০, মুসলিম, ৪৯৯৮।

📘 মৃত্যুর পরে অনন্ত জীবন > 📄 হাওযে কাউছারে অবতরণ

📄 হাওযে কাউছারে অবতরণ


'হাউযে কাউছার' জান্নাতের একটি প্রস্রবন বা ঝর্ণাধারা। হাউযে কাউছারের অমীয় পানি উম্মতে মুহাম্মদীকে বিশেষ মর্যাদা স্বরূপ পান করানো হবে। আল্লাহ্ তা'আলা নবী (সা.)-কেএ নহর দান করে তার উম্মত ও তাঁকে মর্যাদা দান করেছিলেন। এই হাওয সম্পর্কে হাদীস শরীফে বলা হয়েছে, আমার হাওয দীর্ঘতায় ঈলা থেকে ইয়ামানে সানায়া পর্যন্ত হবে। আর তাতে পান পাত্র থাকবে আকাশের নক্ষত্রের সমপরিমাণ।”১২২
আমরা এ হাওযের কথা বিশ্বাস করি কারণ তার সম্পর্কে বর্ণিত হাদীসের সনদ মুতাওয়াতির পর্যায়ের। এবং তা প্রায় ত্রিশের অধিক সাহাবী থেকে বর্ণিত হয়েছে। অপর এক হাদীসে আছে, প্রত্যেক নবীর জন্য নির্দিষ্ট 'হাওয' থাকবে। আমাদের নবীর হাওয হবে সব চেয়ে বড় সব চেয়ে উত্তম এবং তা থেকে পানকারীর সংখ্যা হবে সর্বাধিক। "১২৩
অপর এক হাদীসে আছে, প্রত্যেক নবীর জন্য নির্ধারিত হাওয আছে। তারা অহংকার করতে থাকবে কোনটা পানকারীর সংখ্যা তা নিয়ে আর আমি আশা করি আমার হাওযে পানকারীর সংখ্যা সর্বাধিক হবে। "১২৪
আমলনামা ওযনের মীযান ও খাওযের মধ্যে কোনটার অবস্থান আগে সে ব্যপারে আলেমদের মধ্যে মতভেদ আছে। কারো কারো মতে মীযান আগে। আবুল হাসান রহ. বলেন: সত্য কথা হল হাওযই আগে। আর কুরতুবী বলেন: যুক্তির দাবীও তাই। কারণ মানুষ কবর থেকে পিপাসার্থ অবস্থায় উঠে আসবে যেমনটি আমরা আগেই বলেছি। সুতরাং পিপাসার্থ মানুষের পিপাসা নিবারণের জন্য হাওযের অবস্থান আগে হবে মীযান ও পুলসিরাতের এটাই স্বাভাবিক। ১২৫
হাওয কাউছার হাশর ময়দানে সিরাতের আগে হওয়া যুক্তি সঙ্গত। কারণ কিছু মানুষকে হাওয কাউছারের পানি পান করতে দেয়া হবে না তারা পরে মুরতাদ হয়ে গিয়েছিল বলে। এ সব লোকেরা তো পুলসিরাত পার হতে পারার কথা নয়। ১২৬
এক হাদীসে আছে যে, রাসূলুল্লাহ্ সা. বলেছেন, আমি তোমাদেরকে হাওয কাউছারে দ্রুত অতিক্রম করব। যে ব্যক্তি আমার পাশ দিয়ে যাবে সে তা থেকে পান করবে। আর যে পান করবে সে কখনও পিপাসিত হবে না। আমার কাছে কিছু মানুষ পান করবার জন্য আসবে। আমি তাদেরকে তারাও আমাকে চিনবে। অতপর তাদের ও আমার মধ্যে পর্দা নেমে আসবে। তখন আমি বলব ওরা তো আমার উম্মত। তখন বলা হবে আপনি জানেন না তারা আপনার পর কি বিদআত সৃষ্টি করেছে। তখন আমি বলব দূরে সরিয়ে দাও দূরে সরিয়ে দাও ঐসব লোকদেরকে যারা আমার পর (দ্বীনে) বিকৃতি সাধন করেছে। "১২৭

টিকাঃ
১২২ বুখারী, ৬০৯৪; মুসলিম, ৪২৫৮; তিরমিযি, ২৩৬৬।
১২৩ ইবনে মাজাহ, কিছু কিছু মুহাদ্দিস এ হাদীস দুর্বল বলেছেন।
১২৪ তিরমিযি, ২৩৬৭।
১২৫ ইবনুল ইজ্জ, শারহুল আকীদা আত ত্বাহাবিয়া, পৃ-৮২৮।
১২৬ প্রাগুক্ত, পৃ-২৭৯।
১২৭ বুখারী, ৬০৯৭।

📘 মৃত্যুর পরে অনন্ত জীবন > 📄 আল্লাহ্ তা'আলার সামনে আনায়ন ও সাওয়াল-জওয়াব

📄 আল্লাহ্ তা'আলার সামনে আনায়ন ও সাওয়াল-জওয়াব


প্রাণি জগতকে সমবেত করার পর হিসেব-নিকাশের জন্য তাদেরকে আল্লাহ্ তা'আলার সামনে উপস্থিত করা হবে। তখন তারা দুনিয়ার জীবনে যা কিছু করেছে সে প্রসঙ্গে জিজ্ঞেস করা হবে। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ্ তা'আলা বলেন:
وَعُرِضُوا عَلَى رَبِّكَ صَفًّا لَقَدْ جِئْتُمُونَا كَمَا خَلَقْنَاكُمْ أَوَّلَ مَرَّةٍ بَلْ زَعَمْتُمْ أَلَّنْ نَجْعَلَ لَكُمْ مَوْعِدًا .
"তাদেরকে তোমার প্রতিপালকের সামনে কাতারবদ্ধ ভাবে উপস্থিত করা হবে। তখন তোমরা আমার সামনে প্রথমবার তোমাদেরকে যে অবস্থায় সৃষ্টি করেছিলাম সে অবস্থায় উপস্থিত হবে। বরং তোমরা মনে করে আছ আমি তোমাদের জন্য আমার সামনে উপস্থিতির কোন সময় নির্ধারণ করিনি। ১২৮ আল্লাহ্ তা'আলা আমল সম্বন্ধে গাওয়াল জবাব সম্পর্কে বলেন:
فَوَرَبِّكَ لَنَسْأَلَنَّهُمْ أَجْمَعِينَ . عَمَّا كَانُوا يَعْمَلُونَ .
"তোমার প্রতিপালকের শপথ, আমরা তাদের সকলকে প্রশ্ন করব, তারা দুনিয়ায় কি আমল করেছিল সে সম্পর্কে। "১২৯ মুয়ায ইবনে জাবাল রা. থেকে বর্ণিত তিনি বলেন রাসূলুল্লাহ্ সা. বলেছেন হে মুয়ায লোকেরা কিয়ামত দিবসে সব তৎপরতা প্রসঙ্গে জিজ্ঞাসিত হবে এমন কি চোখের সুরমা দেয়া প্রসঙ্গেও। এবং হাতের আঙ্গুল দ্বারা কাদা মাটি সরানো প্রসঙ্গেও। আমি যেন কিয়ামত দিবসে তোমাকে অন্য যে কারো চেয়ে আল্লাহ তোমাকে যা দান করেছেন তার জন্য বেশী সৌভাগ্যবান পাই। "১৩০

টিকাঃ
১২৮ সূরা আল-কাহাফ, ৪৮।
১২৯ সূরা হজর, ৯২-৯৩।
১৩০. ইবনে আবু খাতেম, মুখতাহার তাফসীরে ইবনে কাসীর, খ-২, পৃ-৩১৯।

📘 মৃত্যুর পরে অনন্ত জীবন > 📄 হিসাব-নিকাশ

📄 হিসাব-নিকাশ


অতপর বান্দার সব আমলের হিসাব-নিকাশ শুরু হবে। ছোট বড় কোন আমলই বাদ পড়বে না। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ্ তা'আলা বলেন:
إِلَيْنَا إِيَابَهُمْ . ثُمَّ إِنَّ عَلَيْنَا حِسَابَهُمْ .
"তাদেরকে আমার কাছে ফিরে আসতে হবে, অতপর আমি অবশ্যই তাদের হিসেব নিব। "১৩১
হিসাব-নিকাশ হবে প্রত্যেকে তার হাতে যে নিখুঁত আমলনামা দেয়া হবে পড়ার জন্য তার উপর ভিত্তি করে। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ্ তা'আলা বলেন:
فَمَنْ أُوتِيَ كِتَابَهُ بِيَمِينِهِ فَأُوْلَئِكَ يَقْرَءُونَ كِتَابَهُمْ وَلَا يُظْلَمُونَ فَتِيلًا .
"যাদের ডান হাতে কিতাব বা আমলনামা দেয়া হবে তারা তাদের কিতাব পড়বে তাদেরকে সামান্যমত জুলুম করা হবে না। "১৩২
আল্লাহ্ তা'আলা আরও বলেন:
فَأَمَّا مَنْ أُوتِيَ كِتَابَهُ بِيَمِينِهِ فَيَقُولُ هَاؤُمُ اقْرَءُوا كِتَابِي إِنِّي ظَنَنْتُ أَنِّي مُلَاقٍ حِسَابِي ، فَهُوَ فِي عِيشَةٍ رَاضِيَةٍ فِي جَنَّةٍ عَالِيَةٍ . قُطُوفُهَا دَانِيَةٌ . كُلُوا وَاشْرَبُوا هَنِيئًا بِمَا أَسْلَفْتُمْ فِي الْأَيَّامِ الْخَالِيَةِ . وَأَمَّا مَنْ أُوتِيَ كِتَابَهُ بِشِمَالِهِ فَيَقُولُ يَا لَيْتَنِي لَمْ أُوْتَ كِتَابِي ، وَلَمْ أَدْرِ مَا حِسَابِي.
"তখন যাকে তার আমলনামা ডান হাতে দেয়া হবে সে বলবে লও তোমার আমলনামা, পড়ে দেখ। আমি জানতাম যে আমাকে আমার হিসেবের সম্মুখীন হতে হবে। সুতরাং সন্তোষজন জীবন লাভ করবে। সুমহান জান্নাতে। যার ফলগুলো অবনমিত থাকবে না গালের মধ্যে। তাদেরকে বলা হবে পানাহার কর তৃপ্তির সাথে, তোমরা অতীত দিনে যা করেছিলে তার বিনিময়ে। আর যার আমলনামা তার বাম হাতে দেয়া হবে সে বলবে হায়। আমাকে যদি আমার আমলনামা দেয়া না হত। এবং আমি যদি না জানতাম আমার হিসেব।"১৩৩ আল্লাহ্ তা'আলা আরও বলেন:
فَأَمَّا مَنْ أُوتِيَ كِتَابَهُ بِيَمِينِهِ . فَسَوْفَ يُحَاسَبُ حِسَابًا يَسِيرًا وَيَنقَلِبُ إِلَى أَهْلِهِ مَسْرُورًا ، وَأَمَّا مَنْ أُوتِيَ كِتَابَهُ وَرَاءَ ظَهْرِهِ . فَسَوْفَ يَدْعُو ثُبُورًا . وَيَصْلَى سَعِيرًا .
"যাকে আমলনামা তার ডান হাতে দেয়া হবে তাকে সহজ ভাবে হিসেব নেয়া হবে। এবং সে স্বপরিবারে আনন্দে ফিরে আসবে। আর যাকে তার আমলনামা পৃষ্ঠদেশ দিয়ে দেয়া হবে সে চিৎকার করতে থাকবে। এবং প্রজ্জ্বলিত আগুনে নিক্ষিপ্ত হবে।”১৩৪
তারা যখন দুনিয়ায় কৃত তাদের আমলের হিসেব দিতে থাকবে তখন তাদের সমস্ত অঙ্গ প্রত্যঙ্গ তাদের বিরুদ্ধে সাক্ষী দিবে যদি তারা কোন ব্যপারে মিথ্যা বলার চেষ্টা করে। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ্ তা'আলা বলেন:
يَوْمَ تَشْهَدُ عَلَيْهِمْ أَلْسِنَتُهُمْ وَأَيْدِيهِمْ وَأَرْجُلُهُمْ بِمَا كَانُوا يَعْمَلُونَ
"যেদিন তাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ দিবে তার জিহ্বা, তাদের হাত, পা, তারা দুনিয়ায় যা করেছে সে প্রসঙ্গে। "১৩০ আল্লাহ্ তা'আলা আরও বলেন:
الْيَوْمَ نَخْتِمُ عَلَى أَفْوَاهِهِمْ وَتُكَلِّمُنَا أَيْدِيهِمْ وَتَشْهَدُ أَرْجُلُهُمْ بِمَا كَانُوا يَكْسِبُونَ .
"আজকে তাদের মুখে তালা লাগিয়ে দিব, তাই তাদের হাতগুলো আমাদের সাথে কথা বলবে। আর তাদের পাগুলো সাক্ষ্য দিবে তারা কি করেছে সে বিষয়ে। "১৩৬

টিকাঃ
১৩১ সূরা আল গাশিয়া, ২৫,২৬।
১৩২. সূরা ইসরা, ৭১।
১৩৩. সূরা হাক্কা, ১৯-২৬।
১৩৪. সূরা ইসশিকাক, ৭-১২।
১৩৫. সূরা নূর, ২৪।
১৩৬. ইয়াসীন, ৬৫।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00