📄 মৃত ব্যক্তিকে দাফনের সময় করণীয় বিষয়সমূহ
এ প্রসঙ্গে হাদীসের এক বর্ণনায় এসেছে, আলী রা. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: যখন লাশ কবর পর্যন্ত পৌছে এবং সকল লোক বসে যায়, তোমরা বসো না; বরং কবরের নিকটে দাঁড়িয়ে থাক। যখন মৃত ব্যক্তিকে কবরে রাখবে, তখন বলো
بِسْمِ اللَّهِ وَعَلَى مِلَّةِ رَسُولِ اللَّهِ
"আল্লাহর নামে তাকে দাফন করা হলো। তিনি রাসূলের দলভূক্ত ছিলেন।"
📄 কবজের পর রূহের ঊর্ধ্বেগমন
মানুষের রূহ দেহ থেকে বের হবার পর প্রথমে ফেরেস্তারা তাকে আসমানের দিকে নিয়ে যায়। যখনই কোন ফেরেস্তাদলের সাক্ষাত লাভ করে তখন তারা বলে (যদি রূহটি মুমিনের হয়) এই পবিত্র রূহ কার? তখন ফেরেস্তারা জবাবে বলেন: অমুকের ছেলে অমুকের। দুনিয়ায় রাখা সর্বোত্তম নাম ধরেই একথা বলা হয়। তখন তার জন্য আসমানের দরজা খুলে দিতে বলা হয়। তখন খুলে দেয়া হয়। অতপর তার খবর প্রতি আসমানে প্রচার করা হয় পরিশেষে তার রূহ সপ্তম আসমান পর্যন্ত পৌঁছে। তখন আল্লাহ্ তা'আলা বলেন: আমার বান্দার নাম ইল্লিঈনে (সর্বোত্তম স্তরে) লিখে দাও। আর তাকে পৃথিবীতে তার দেহে পৌঁছিয়ে দাও।
📄 অতঃপর দাফনের পর আবার দেহে গমন
আর যদি রূহটি কোন কাফেরের হয়, তখন ফেরেস্তারা তাকে নিয়ে উর্দ্ধজগতে যেতে থাকে যখনই কোন ফেরেস্তাদলের পাশ দিয়ে যায় তখন তারা বলে এ মন্দ রূহটি কার? তখন বলা হয় অমুকের ছেলে অমুকের। দুনিয়ায় রাখা তার সর্ব নিকৃষ্ট নামে একথা বলা হয়। তারপর তার জন্য আসমানের দরজা খোলার আহ্বান জানানো হয়। তখন দরজা খোলা হয়না। অতপর আল্লাহ্ তা'আলা বলেন: তার নাম ভুগর্ভের সর্ব নিম্নস্তর সিজ্জিনে লিখে রাখ। অতপর তার রূহ জোরে নিক্ষেপ করা হয়। তখন তা তার দেহে ফিরে আসে। ৪৫ উপরোক্ত হাদীস থেকে বুঝা যায় যে রূহ কবরেই তার দেহে ফিরে আসে। আর তখনই সে গাওয়াল জবাবের সম্মুখীন হয়। পরে এ প্রসঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা আসবে।
টিকাঃ
৪৫ আহমদ, হাদীস নং- ১৭৮০৩।
📄 যাঁদেরকে কবরে প্রশ্ন করা হবে না
সহীহ হাদীসের বর্ণনানুযায়ী অনেক মৃত ব্যক্তির কবরে আযাব হবে না। যেমন: ঐ সকল লোক যারা জিহাদে শহীদ হয়েছে, যাদের মৃত্যুর সময় কঠোরতা প্রদর্শন করা হয়েছে, যারা এমন দিনে মারা গেছে যেদিন আযাব ও প্রশ্নোত্তর হয় না। যেমন: জুমুআর দিন ও রাত। ৪৬
টিকাঃ
৪৬ ইবনুল কায়্যিম আল-জাওজীয়াহ, কিতাবুর রহ।