📄 বারযাখী জীবন মৃত্যু থেকে হাশর পর্যন্ত
কিয়ামতের পূর্বের আর একটি বিষয় হল বারযাখী জীবন। বারযাখী জীবন বলতে আমরা মৃত্যুর পর থেকে কিয়ামত সংগঠিত হবার পর পূনরুত্থানের পূর্বের জীবনকে বুঝি এটিকে পবিত্র কুর'আন বারযাখ (পর্দা) নামে আখ্যায়িত করেছেন।
বারযাখ শব্দটি আরবী। এর শাব্দিক অর্থ অন্তরায়, পৃথককারী, আলাদা বস্তু। এ কারণেই মৃত্যুর পর কিয়ামত ও হাশর পর্যন্ত কালকে বারযাখ বলা হয়। কারণ, এটা ইহকাল ও পরকালের জীবনের মাঝখানে সীমা প্রাচীর। এখান থেকে কেউ পৃথিবীতে ফিরে আসে না এবং কিয়ামত ও হাশর-নাশরের পূর্বে পুনর্জীবনও পায় না। এটাই বিধান। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ বলেন:
حَتَّى إِذَا جَاءَ أَحَدَهُمُ الْمَوْتُ قَالَ رَبِّ ارْجِعُونِي . لَعَلِّي أَعْمَلُ صَالِحًا فِيمَا تَرَكْتُ كَلَّا إِنَّهَا كَلِمَةٌ هُوَ قَائِلُهَا وَمِنْ وَرَائِهِمْ بَرْزَخٌ إِلَى يَوْمِ يُبْعَثُونَ.
"যখন তাদের কারো মৃত্যু আসে তখন সে বলে হে আমার পালন কর্তা আমাকে পুনরায় (দুনিয়াতে) প্রেরণ কর যাতে আমি সৎকর্ম করতে পারি যা আমি করিনি। কখনই না। এতো তার একটি কথার কথা মাত্র। তাদের সামনে বারযাখ আছে পুনরুত্থান দিবস পর্যন্ত।"৪২
উল্লেখ্য, মানুষ মৃতব্যক্তিকে দাফন করার কারণে হাদীসে বরযখের শান্তি বা শাস্তি কে কবরই বলা হয়। এর অর্থ এই নয় যে, যাদেরকে আগুনে পুড়িয়ে ফেলা হয় কিংবা পানিতে ডুবে মারা যায়, তারা জীবিত থাকে না। মূলত শান্তি ও শাস্তির সম্পর্ক থাকে রূহের সাথে। এ কথা মনে রাখতে হবে যে, আল্লাহ্ পাক জ্বালিয়ে দেয়া শরীরকে একত্র করে শাস্তি ও পুরস্কার দেয়ার শক্তি রাখেন।
টিকাঃ
৪২ সূরা আল মুমেনুন: ৯৯-১০০
📄 কবর
মানুষ স্বাভাবিকভাবে ইন্তিকাল করার পর ইসলামী শরীয়াতে মৃতব্যক্তিকে কবরের ব্যবস্থা করে দাফন করার জন্য নির্দেশ দিয়েছে কিন্তু যদি কেউ পানিতে ডুবে, আগুনে পুড়ে কিংবা নভোমন্ডল বা ভূমন্ডলের এমন কোন স্থানে এমনভাবে মারা যায়, যার ফলে তাকে কবরস্ত করার সুযোগ না থাকে, তবুও তার পুনরুত্থান না হওয়া পর্যন্ত সময়টা সম্পূর্ণই কবরের বসতির মধ্যে শামিল করা হয়। এজন্য আল্লাহ্ তা'আলা সকলকেই কবরস্থ করে থাকেন। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ্ তা'আলা ঘোষণা করেন:
قُتِلَ الْإِنْسَانُ مَا أَكْفَرَهُ مِنْ أَيِّ شَيْءٍ خَلَقَهُ مِنْ نُطْفَةٍ خَلَقَهُ فَقَدَّرَهُ ثُمَّ السَّبِيلَ يَسَّرَهُ . ثُمَّ أَمَاتَهُ فَأَقْبَرَهُ ، ثُمَّ إِذَا شَاءَ أَنْشَرَهُ.
"মানুষ ধ্বংস হোক, সে কত অকৃতজ্ঞ। তিনি তাকে কী বস্তু থেকে সৃষ্টি করেছেন? শুক্রাণু থেকে তাকে সৃষ্টি করেছেন। এরপর তাকে সুপরিমিত করেছেন, তৎপর তার পথ সহজ করেছেন। এরপর মৃত্যু ঘটানো ও কবরস্থ করেন। তৎপর যখনই ইচ্ছা কবরে তাকে পুনরুজ্জীবিত করবেন।"৪৩
এ প্রসঙ্গে রাসূলুল্লাহ্ সা. বলেছেন:
إِنَّمَا القَبْرُ رَوْضَةً مِنْ رِيَاضِ الْجَنَّةِ أَوْ حُفَرَةٌ مِّنْ حُفَرِ النَّارِ.
"নিশ্চয়ই কবর বেহেশতের উদ্যানসমূহের একটি উদ্যান অথবা দোযখের গর্তসমূহের একটি গর্তবিশেষ।"৪৪
টিকাঃ
৪৩ সূরা আবাসা, ১৭-২২।
৪৪. তিরমিযী, আস-সুনান, ৪খ., পৃ. ৬৩৯, হাদীস নং-২৪৬০।
📄 মৃত ব্যক্তিকে দাফনের সময় করণীয় বিষয়সমূহ
এ প্রসঙ্গে হাদীসের এক বর্ণনায় এসেছে, আলী রা. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: যখন লাশ কবর পর্যন্ত পৌছে এবং সকল লোক বসে যায়, তোমরা বসো না; বরং কবরের নিকটে দাঁড়িয়ে থাক। যখন মৃত ব্যক্তিকে কবরে রাখবে, তখন বলো
بِسْمِ اللَّهِ وَعَلَى مِلَّةِ رَسُولِ اللَّهِ
"আল্লাহর নামে তাকে দাফন করা হলো। তিনি রাসূলের দলভূক্ত ছিলেন।"
📄 কবজের পর রূহের ঊর্ধ্বেগমন
মানুষের রূহ দেহ থেকে বের হবার পর প্রথমে ফেরেস্তারা তাকে আসমানের দিকে নিয়ে যায়। যখনই কোন ফেরেস্তাদলের সাক্ষাত লাভ করে তখন তারা বলে (যদি রূহটি মুমিনের হয়) এই পবিত্র রূহ কার? তখন ফেরেস্তারা জবাবে বলেন: অমুকের ছেলে অমুকের। দুনিয়ায় রাখা সর্বোত্তম নাম ধরেই একথা বলা হয়। তখন তার জন্য আসমানের দরজা খুলে দিতে বলা হয়। তখন খুলে দেয়া হয়। অতপর তার খবর প্রতি আসমানে প্রচার করা হয় পরিশেষে তার রূহ সপ্তম আসমান পর্যন্ত পৌঁছে। তখন আল্লাহ্ তা'আলা বলেন: আমার বান্দার নাম ইল্লিঈনে (সর্বোত্তম স্তরে) লিখে দাও। আর তাকে পৃথিবীতে তার দেহে পৌঁছিয়ে দাও।