📄 পৃথিবীতে যতক্ষণ আল্লাহ-আল্লাহ বলা হবে ততক্ষণ কিয়ামত হবে না
আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন—
لَا تَقُوْمُ السَّاعَةُ حَتَّى لَا يُقَالَ فِي الْأَرْضِ اللَّهُ اللَّهُ.
যতক্ষণ পৃথিবীতে আল্লাহ-আল্লাহ বলা বন্ধ না হবে, ততক্ষণ কিয়ামত সংঘটিত হবে না。
অন্য বর্ণনায় আছে—
لَا تَقُوْمُ السَّاعَةُ عَلَى أَحَدٍ يَقُولُ اللَّهُ اللَّهُ.
যতক্ষণ কোনো ব্যক্তি আল্লাহ-আল্লাহ বলবে, ততক্ষণ তার ওপর কিয়ামত সংঘটিত হবে না。
উলামায়ে কিরাম বলেছেন, হাদিসটির দুটি মর্ম হতে পারে। আল্লাহু আল্লাহু মর্ম হবে, তাওহিদ তথা আল্লাহর একত্ববাদ। আল্লাহু আল্লাহু পড়লে মর্ম হবে, সৎকাজের আদেশ এবং অসৎকাজ থেকে বারণ করার আমল বন্ধ হয়ে যাওয়া। অর্থাৎ যতক্ষণ কেউ বলবে, 'আল্লাহকে ভয় করো' ততক্ষণ পর্যন্ত কিয়ামত কায়িম হবে না।
টিকাঃ
[৫৮৩] সহীহ মুসলিম, খণ্ড: ১, পৃষ্ঠা: ৩৫৪, হাদিস: ২১৬。
[৫৮৪] সহীহ মুসলিম, খণ্ড: ১, পৃষ্ঠা: ৩৫৪, হাদিস: ২১৬。
📄 কার ওপর কিয়ামত কায়িম হবে
আবদুর রহমান ইবনু শামাসা আল-মিহরি বলেন, আমি মাসলামা ইবনু মুখাল্লাদের কাছে উপস্থিত ছিলাম এবং তার কাছে ছিলেন হজরত আবদুল্লাহ ইবনু আমর ইবনুল আস রাদিয়াল্লাহু আনহু। হজরত আবদুল্লাহ বলেন, খারাপ মানুষদের ওপর কিয়ামত সংঘটিত হবে, তারা জাহালতের যুগের মানুষের চেয়েও বেশি খারাপ হবে। তারা আল্লাহর কাছে যেকোনো দুআ করলেই আল্লাহ তাআলা তা প্রত্যাখ্যান করবেন। এমন আলোচনা চলা অবস্থাতেই হজরত উকবা ইবনু আমের রাদিয়াল্লাহু আনহু আগমন করলেন। তখন ইবনু শামাসা তাকে বললেন, হে উকবা! শুনুন আবদুল্লাহ কী বলছেন?! উকবা জবাব দিলেন—তিনিই ভালো জানেন। আর আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি—
لَا تَزَالُ عِصَابَةٌ مِنْ أُمَّتِي يُقَاتِلُوْنَ عَلَى أَمْرِ اللَّهِ قَاهِرِينَ لِعَدُوِّهِمْ لَا يَضُرُّهُمْ مَنْ خَالَفَهُمْ حَتَّى تَأْتِيَهُمُ السَّاعَةُ وَهُمْ عَلَى ذَلِكَ.
আমার উম্মতের একটি দল আল্লাহর নির্দেশ অনুপাতে যুদ্ধ করতেই থাকবে, শত্রুদের ওপর বিজয়ী থাকবে। তাদের বিরোধীরা তাদের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না। এ-অবস্থাতেই তাদের ওপর কিয়ামত সংঘটিত হবে।
তখন আবদুল্লাহ বললেন—হ্যাঁ, (আপনার কথা ঠিক আছে। তবে) তারপর আল্লাহ তাআলা মিশকের সুঘ্রাণযুক্ত একটি বাতাস প্রেরণ করবেন, যার স্পর্শ হবে রেশমের মতো। এই বাতাসটি দুনিয়া পরিমাণ ঈমানদার ব্যক্তিরুহ্ কবজ করবে। তারপর কেবল খারাপ মানুষগুলো বেঁচে থাকবে, তাদের ওপরই কিয়ামত সংঘটিত হবে。
আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন, 'কিয়ামত সংঘটিত হবে অধিকতর মানুষগুলোর ওপর—যারা কোনো ভালো কাজ করত না এবং গর্হিত কাজ পরিহার করত না। তারা এমনভাবে চিৎকার করবে—ঠিক যেভবে চতুস্পদ জন্তু রাস্তায় চিৎকার করে।’
আয়েশা সিদ্দিকা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলেছেন, 'যতক্ষণ লাত ও উজ্জার পূজা না করা হবে, ততক্ষণ রাত ও দিন বন্ধ হবে না। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমি তো বিশ্বাস করি—আল্লাহ তাআলা যে অবতীর্ণ করেছেন—
هُوَ الَّذِي أَرْسَلَ رَسُولَهُ بِالْهُدَىٰ وَدِينِ الْحَقِّ لِيُظْهِرَهُ عَلَى الدِّينِ كُلِّهِ وَلَوْ كَرِهَ الْمُشْرِكُونَ.
যে আল্লাহ তাঁর রাসূলকে হিদায়াত ও সত্য দ্বীনসহ প্রেরণ করেছেন সমস্ত ধর্মের ওপর বিজয়ী করার জন্য, যদিও মুশরিকরা তা অপছন্দ করে। [সূরা তাওবা, আয়াত: ৩৩]
এই ঘোষণাটি (কিয়ামত পূর্ব পর্যন্ত) পূর্ণ সময়ের জন্য! রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, 'আল্লাহ তাআলা যেভাবে চান সেভাবেই এ বাস্তবায়ন হবে। তারপর আল্লাহ পবিত্র একটি বাতাস প্রেরণ করবেন। যাতে শায়াননামা পরিমাণ ইমানের অধিকারী প্রতিটি মুমিনহি মৃত্যুরবরণ করবে। কেবল সেসব লোকই জীবিত থাকবে— যাদের মাঝে কল্যাণকর কিছু নেই, তারা নিজেদের পূর্বপুরুষদের (প্রতিমাপূজারিদের) ধর্মের দিকে ফিরে যাবে।’
মহান আল্লাহর কাছে, আরশের আজিমের রবের কাছে আমরা আবেদন করছি—তিনি যেন আমাদেরকে মৃত্যুরবরণ করা, আমাদেরকে শুহাদায়ে কিরাম ও সালিহিনদের সঙ্গে মিলিত করেন, আমাদেরকে সফল মুজাহিদ বাদশাহর সঙ্গে শামিল করেন, আমি যা দেখেছি—সেগুলোকে যেন তাঁর দয়া ও করুণায় একান্তভাবে তাঁর জন্যই গ্রহণ করেন, তার দ্বারা আমাদেরকে এবং আমার পিতা-মাতাকে উপকৃত করেন, ক্ষমা করেন এই গ্রন্থের লেখককে, তার মাতা-পিতাকে এবং সমস্ত মুসলিমকে। আমি ইয়া রব্বাল আলামিন!
টিকাঃ
[৫৮৫] সহীহ মুসলিম, খণ্ড: ৩, পৃষ্ঠা: ৪২, হাদিস: ৩৫৫৩。
[৫৮৬] আল-মুসতাদরাক আলাস সাহীহাইন লিফ-হাকাম, খণ্ড: ৪, পৃষ্ঠা: ৮০, হাদিস: ৮৫৬৪。
[৫৮৭] সহীহ মুসলিম, খণ্ড: ১৮, পৃষ্ঠা: ২১০, হাদিস: ৭৩৪৩。