📄 ভূমিধস
আনাস ইবনু মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, হে আনাস!
إِنَّ النَّاسَ يَتَصَرَّمُونَ أَمْصَارًا وَإِنَّ مَصْرًا مِنْهَا يُقَالُ لَهُ الْبَصْرَةُ أَوْ الْبَصَيْرَةُ فَإِنْ أَنْتَ مَرَرْتَ بِهَا أَوْ دَخَلْتَهَا فَإِيَّاكَ وَسِبَاخَهَا وَقَلَّاعَهَا وَسُوقَهَا وَبَابَ أَمَرَائِهَا وَعَلَيْكَ بِضَوَاحِيهَا فَإِنَّهُ يَكُونُ بِهَا خَسْفٌ وَقَذْفٌ وَرَجْفٌ وَقَوْمٌ يَبِيتُونَ يُصْبِحُونَ قِرَدَةً وَخَنَazīr.
মানুষ অনেক শহর প্রতিষ্ঠা করবে, সেগুলোর মধ্য থেকে একটি শহরের নাম বসহারা বা বুসাইরা। যদি তুমি শহরটি অতিক্রম করো বা সেই শহরে প্রবেশ করো, তাহলে তুমি নিজেকে সেই শহরের বিষাদভূমি থেকে, সেখানকার খাল থেকে, সেখানকার বাজার থেকে এবং সেখানকার আমিরদের দরজা থেকে নিজেকে দূরে রাখবে এবং শহরতলিতে অবস্থান করবে। কারণ, সেখানে ভূমিধস ঘটবে, (মাটি তার পেটের খুব বাহিরে) নিক্ষেপন করবে, ঝাকুনি হবে এবং একটি গোষ্ঠী বানর ও শুকরে পরিণত হবে。
হযরত নাতু থেকে বর্ণনা করেছেন, জনৈক ব্যক্তি হযরত আবদুল্লাহ ইবনু উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুঝু কাছে এসে বলল, “অমুক আপনাকে সালাম দিয়েছেন। তিনি বললেন, আমি জানতে চেয়েছি যে, সে বিদ্বাতটি” আর যে ব্যক্তি বিদ্বাতটি—তার পক্ষ থেকে আমাকে সালাম দিয়েছ না। কারণ, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি—‘আমার উম্মতের মাঝে বা এই উম্মতের মাঝে বিকৃতি, ভূমিধস এবং নিক্ষেপন সংঘটিত হবে।’
জাবির ইবনু আব্দুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন—
سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: تَبْقَى مَدِينَةٌ بَيْنَ دِجْلَةَ وَدَجِيلٍ وَطَارُوقٍ وَالصَّرَاةِ، تَجْتَمِعُ فِيهَا جَبَابِرَةُ الْأَرْضِ تُجَى إِلَيْهَا الْخَرَائِنُ يُخْسَفُ بِهَا - وَفِي رِوَايَةِ بِأَهْلِهَا - فَهِيَ أَسْرَعُ ذَهَابًا فِي الْأَرْضِ مِنَ الْوَتِدِ الْجِيدِ فِي الْأَرْضِ الرَّخْوَةِ.
আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, দাজ্জাল ও দাজিলের মাঝে এবং কুতরাব ও সুরা (ফুরাতের) মাঝে একটি শহর প্রতিষ্ঠিত হবে। সেখানে দুনিয়ার জালিমেরা একত্রিত হবে। ধনভাণ্ডারগুলো তাদের কাছে চলে যাবে, সেগুলোতে ওই শহরটিকে বিধ্বস্ত করা হবে। অন্য আরেক বর্ণনায় আছে, শহরটি তার অধিবাসীদেরকে নিয়ে বিধ্বস্ত হবে। এই বিপর্যয়ের গতি হবে নরম জমিনে শক্ত খুটির বিপক্ষ হওয়ার মতোও দ্রুত。
কেউ কেউ বলেছেন, সেই শহরটি হলো বাগদাদ।
***
টিকাঃ
[৩৫৪] সুন্নানু আবু দাউদ, খণ্ড : ১১, পৃষ্ঠা : ৩৮, হাদীস : ৪৪৩৩。
[৩৫۵] সুন্নানু আবু দাউদ, খণ্ড : ১১, পৃষ্ঠা : ৩৮, হাদীস : ৪৪৩৪。
[৩৫৬] জামিঈয়ুন তুহফাতি, খণ্ড : ১৫, পৃষ্ঠা : ২১。
📄 দাজ্জালের আগমন
আবু দারদা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন—
مَنْ حَفِظَ عَشْرَ آيَاتٍ مِنْ أَوَّلِ سُورَةِ الْكَهْفِ عُصِمَ مِنَ الدَّجَّالِ.
যে ব্যক্তি সূরা কাহাফের প্রথম দশটি আয়াত মুখস্থ করবে, তাকে দাজ্জাল থেকে মুক্ত রাখা হবে。
কোনো কোনো বর্ণনায় সূরা কাহাফের শেষ দশ আয়াতের কথা আছে।
হযরত হুযাইফা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন—
الدَّجَّالُ أَعْوَرُ الْعَيْنِ الْيُسْرَى جُفَالُ الشَّعَرِ مَعَهُ جَنَّةٌ وَنَارٌ فَنَارُهُ جَنَّةٌ وَجَنَّتُهُ نَارٌ.
দাজ্জালের বাম চোখ হবে কানা, ফোলানো চুল হবে (চুল বেশি হওয়ার কারণে এমন মনে হবে), তার সঙ্গে থাকবে জান্নাত ও জাহান্নাম। তবে তার জাহান্নাম প্রকৃত জান্নাত এবং তার জান্নাত হলো প্রকৃত জাহান্নাম。
হুজরাত হুজাইফা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, 'আমি খুব ভালোভাবে জানি যে, দাজ্জালের সঙ্গে কী আছে! তার সঙ্গে থাকবে প্রবহমান দুটি নদী, একটি দেখতে হবে সাদা পানি, আরেকটি দেখতে হবে জ্বলন্ত আগুন। যদি কেউ দাজ্জালকে পেয়ে যায়, তাহলে সে যেন ওই নদীতে যায় যেখানে আগুন দেখবে। তারপর চোখ বন্ধ করে তার মধ্যে মাথা ঢুকিয়ে দিয়ে পানি পান করবে। কারণ, সেটা হবে প্রকৃত শীতল পানি। দাজ্জালের একচোখ হবে নিশানা, যার ওপর থাকবে মোটা চামড়া আর দুই চোখের মাঝামাঝি অংশে লেখা থাকবে `كفر`- কাফির’ শিক্ষিত ও অশিক্ষিত প্রতিটি মুমিন তা পড়তে পারবে.`
আবু বকর সিদ্দিক রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, 'দাজ্জাল পাশ্চাত্যের খোরাসান থেকে বের হবে। অনেকেই তার অনুসারী হবে। তার চেহারা হবে পেঁচানো চালের মতো.'
উবাদা ইবনু সামিত রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন— `আমি তোমাদেরকে প্রতিশ্রুত دাজ্জাল সম্পর্কে বলছিলাম, তবে আশঙ্কা করছিলাম যে, তোমরা হয়তো বুঝবে না। মনে রেখো, দাজ্জাল হবে খাটো, অহংকারী, বাঁকা কানা চোখবিশিষ্ট, চোখ হবে নিশানা-সমান, উঁচুও হবে না, আবার গভীরও হবে না। যদি তার ব্যাপারে সন্দেহে নিপতিত হও, তবে মনে রেখো, তোমাদের রব কানা নন.'
জ্ঞাতব্য: নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমনভাবে দাজ্জালের পরিচয়, বিবরণ ও গুণাগুণ বলে দিয়েছেন যে, এরপর তাকে নিয়ে আর কোনো সংশয় থাকার অবকাশ নেই। তবে তার সমস্ত গুণই নিফাক। সুস্থ জ্ঞানের অধিকারী প্রত্যেকের কাছেই যা স্পষ্ট। কিন্তু যার কপালে দুর্ভাগ্য নির্ধারিত হয়ে গেছে, সে দাজ্জালের অনুসারী হবে, মিথ্যা ও নির্দিষ্টতায় তার অনুসারী হবে এবং সত্যের অনুসরণ ও তিলাওয়াতের জ্যোতি থেকে বঞ্চিত হবে। তো হাদিসে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী, `নিশ্চয় দাজ্জাল কানা, কিন্তু তোমাদের রব কানা নন'-এটি সেসকল মানুষের জন্য সতর্কবাণী- যাদের বুদ্ধি কম, উদাসীন। যেন তারা খুব ভালোভাবে এ-কথা বুঝে নেয়, যে ব্যক্তি নিজেই অসম্পূর্ণ, নিজের সমস্যাই যে সমাধান করতে পারে না, সে কোনোভাবেই ইলাহ হওয়ার যোগ্যতা রাখে না। কারণ, সে অক্ষম, দুর্বল। আর যে ব্যক্তি নিজের অসম্পূর্ণতা ও সমস্যা দূর করতে অক্ষম, সে অবশ্যই অন্যের উপকার করতে এবং অন্যের ক্ষতি প্রতিরোধ করতে আরও ও বেশি অক্ষম।
টিকাঃ
[৩৫৭] সহীহ মুসলিম, খণ্ড : ৪, পৃষ্ঠা : ১০৪。
[৩৫৮] সহীহ মুসলিম, খণ্ড : ৪, পৃষ্ঠা : ১০৯。
[৩৯৬] সহিহ মুসলিম, খণ্ড : ১৫, পৃষ্ঠা : ১৫২, হাদিস : ৭২২২。
[৩৯৭] সহিহ মুসলিম, খণ্ড : ১৫, পৃষ্ঠা : ১৫২, হাদিস : ৭২২৩。
[৩৯৮] সুনানে তিরমিজি, খণ্ড : ৮, পৃষ্ঠা : ১৮৭, হাদিস : ২২৪৬。
[৩৯৯] মুনতাজু আদি দাজ্জাল, খণ্ড : ১১, পৃষ্ঠা : ০৩৮, হাদিস : ৩৪৩৪。
📄 যে শহরে দাজ্জালের প্রবেশ নিষেধ
আনাস ইবনু মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন—
لَيْسَ مِنْ بَلَدٍ إِلَّا سَيَطَؤُهُ الدَّجَّالُ إِلَّا مَكَّةَ وَالْمَدِينَةَ
দাজ্জাল মক্কা ও মদিনা ছাড়া প্রতিটি শহরেই প্রবেশ করবে.`
অন্য বর্ণনায় আছে—`আমি মক্কা ও পবিত্র নগরী ছাড়া প্রতিটা জনপদেই প্রবেশ করব এবং চল্লিশ দিন পর্যন্ত সেগুলোকে পদানত করব। আর এই দুটি নগরী আমার জন্য হারাম.'
টিকাঃ
[৪০০] সহিহ বুখারি, খণ্ড : ৪, পৃষ্ঠা : ৪০৯, হাদিস : ১৭৯৪; সহিহ মুসলিম, খণ্ড : ১৫, পৃষ্ঠা : ১৭৯, হাদিস : ৭২৩১。
[৪০১] সহিহ মুসলিম, খণ্ড : ১৫, পৃষ্ঠা : ১৭৮, হাদিস : ৭২২৯。
📄 দাজ্জাল বের হওয়ার কারণ এবং ফিতনার আস্ফালন
ইমরান ইবনু হুসাইন রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি—
مَا بَيْنَ خَلْقِ آدَمَ إِلَى قِيَامِ السَّاعَةِ خَلْقٌ أَكْبَرُ مِنَ الدَّجَّالِ
'হযরত আদম আলাইহিস সালামের সৃষ্টি এবং কিয়ামতের মাঝে দাজ্জালের চেয়ে বড় আর কোনো সৃষ্টি নেই.'`
তামিম আদ-দারি রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন, 'আমরা দ্রুত চলতে লাগলাম এবং একপর্যায়ে একটি গির্জায় প্রবেশ করলাম। হঠাৎ সেখানে (প্রচণ্ডভাবে, লম্বার দিক থেকে নয়) বিশালাকারের একটি মানুষ দেখলাম, যাকে শক্তভাবে বেঁধে রাখা হয়েছে.`
আবদুল্লাহ ইবনু উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বলেন, মদিনার কোনো এক রাস্তায় ইবনুস সাইয়্যাদের সঙ্গে মিলিত হলে ইবনু উমর তাকে কিছু কথা বলেন, যার ফলে সে রাগে ফুলতে থাকে; সে এমন ফুলল যা, পুরো গলি যেন পূর্ণ হয়ে গেলো। অতঃপর ইবনু উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা হজরত হাফসা রাদিয়াল্লাহু আনহার ঘরে কাজে গেলেন। তিনি ইবনু উমরের বিষয়টি আগেই জানতে পেরেছিলেন। সুতরাং তিনি ইবনু উমরকে বললেন—
رَحْمَةُ الله مَا أَرَدْتَ مِنْ ابْنِ صَائِدٍ أَمَا عَلِمْتَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِنَّمَا يَخْرُجُ مِنْ غَضْبَةٍ يَغْضَبُهَا
আল্লাহ তোমার প্রতি রহম করুন! তুমি ইবন সাঈদের কাছে কী ইচ্ছা করেছিলে? তুমি কি জানো না যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কী বলেছেন? তিনি বলেছেন, সে (দাজ্জাল) তো রাগ করেই বের হবে.`
টিকাঃ
[৪০২] সহিহ মুসলিম, খণ্ড : ১৫, পৃষ্ঠা : ১৬০, হাদিস : ৭২০৪。
[৪০৩] সহিহ মুসলিম, খণ্ড : ১৫, পৃষ্ঠা : ১৬৭, হাদিস : ৭২০৫。
[৪০৪] সহিহ মুসলিম, খণ্ড : ১৫, পৃষ্ঠা : ১৬৪, হাদিস : ৭২৩১。