📄 ইলম উঠিয়ে নেওয়া হবে
জিয়াদ ইবনু লাবিদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোনো একটি বিষয়ের আলোচনা করতে গিয়ে বললেন,
دَالَ عِنْدَ أَوَانِ ذَهَابِ الْعِلْمِ فَلِذَا يَا رَسُولَ اللَّهِ وَكَيْفَ يَذْهَبُ الْعِلْمُ وَنَحْنُ نَقْرَأُ الْقُرْآنَ وَنُقْرِئُهُ أَبْنَاءَنَا وَيُقْرِئُهُ أَبْنَاؤُنَا أَبْنَاءَنَا إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ قَالَ تِلْكَ لَكَعَةُ أَمْكُ زِيَادٍ إِنْ كُنْتَ لأَرَاكَ مِنْ أَفْقَهِ رِجَالِ الْمَدِينَةِ أَوَلَيْسَ هَذِهِ الْيَهُودُ وَالنَّصَارَى يَقْرَءُونَ التَّوْرَاةَ وَالْإِنْجِيلَ لَا يَعْمَلُونَ بِشَيْءٍ مِّمَّا فِيهِمَا.
এটা হবে ইলম চলে যাওয়ার প্রাক্কালে। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! কুরআন কীভাবে চলে যাবে—অথচ আমরা কুরআন পড়ব, আমাদের সন্তানদেরকে পড়াব, তারা তাদের সন্তানদেরকে পড়াবে, এভাবে কিয়ামত পর্যন্তই চলতে থাকবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, জিয়াদ, তুমি এটা কী বলছো! আমি তোমাকে মদিনার সবচেয়ে বুদ্ধিমান মানুষদের অন্যতম মনে করি। আচ্ছা, এই যে ইহুদি ও খ্রিষ্টান—তারা কি তাওরাত ও ইঞ্জিল পড়ে না? কিন্তু তারা এর অন্তর্নিহিত বিষয়াবলি সম্পর্কে জানে না। (মুসলিমদের অবস্থা ও হবে তথৈবচ)।
টিকাঃ
[৩৬۵] সুনানু ইবনু মাজাহ, খণ্ড: ۱۲, পৃষ্ঠা: ۵۷, হাদিস: ۴۰۴۱。
[৩৬۶] সহীহ মুসলিম, খণ্ড: ۱, পৃষ্ঠা: ۱۳۰, হাদিস: ۱۵۱。
📄 ইসলামের পঠন-পাঠন সত্ত্বেও কুরআনের বিদায়
হুজাইফা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন—
يُدْرَسُ الْإِسْلَامُ كَمَا يُدْرَسُ وِشْيُ الثَّوْبِ حَتَّى لَا يُدْرَى مَا صِيَامٌ وَلَا صَلَاةٌ وَلَا نُسُكٌ وَلَا صَدَقَةٌ وَلَيُسْرَى عَلَى كِتَابِ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ فِي لَيْلَةٍ فَلَا يَبْقَى فِي الْأَرْضِ مِنْهُ آيَةٌ وَتَبْقَى طَوَائِفُ مِنَ النَّاسِ الشَّيْخُ الْكَبِيرُ وَالْعَجُورُ يَقُولُونَ أَدْرَكْنَا آبَاءَنَا عَلَى هَذِهِ الْكَلِمَةِ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ فَنَحْنُ نَقُولُهَا فَقَالَ لَهُ صِلَةٌ مَا تُغْنِي عَنْهُمْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَهُمْ لَا يَدْرُونَ مَا صَلَاةٌ وَلَا صِيَامٌ وَلَا نُسُكٌ وَلَا صَدَقَةٌ فَأَعْرَضَ عَنْهُ حُذَيْفَةُ ثُمَّ رَدَّهَا عَلَيْهِ.
عَلَيْهِ ثَلَاثًا كُلَّ ذَلِكَ يُعْرِضُ عَنْهُ حُذَيْفَةُ ثُمَّ أَقْبَلَ عَلَيْهِ فَقَالَ يَا صِلَةُ تُنْجِيهِمْ مِنَ النَّارِ ثَلَاثًا.
ইসলামের প্রথাগত পাঠ চলবে, ঠিক যেমন (পুরাতন) কাপড়কে রঙচঙে করা হয়। এমনকি (ভরসামাহীন ইসলামি পাঠের কারণে অনস্থান এমন পর্যায়ে গিয়ে দাঁড়াবে যে), বোঝা যাবে না যে, রোজা কী, নামাজ কী, কুরবানি কী এবং সাদাকাহ কী!!! রাতে আল্লাহ তায়ালার কিতাবের পঠন- পাঠন চলবে। একপর্যায়ে জমিনে একটি আয়াতও থাকবে না। মানুষের মাঝে কিছু বৃদ্ধ মানুষ থাকবে। তারা বলবে, আমরা আমাদের পূর্বপুরুষদেরকে এই কালিমার ওপর পেয়েছি 'আল্লাহই একমাত্র ইলাহ', সুতরাং আমরা সেটা বলব। তখন সিলাহ তাকে বলল, যারা জানে না যে, নামাজ কী, রোজা কী, কুরবানি কী এবং সাদাকাহ কী—তাদের জন্য এই কালিমাটি কি কোনো উপকারে আসবে না? হুজাইফা রাদিয়াল্লাহু আনহু তার কথা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলেন। তারপর সিলাহ কথাটি তিনবার বলল। হযরত হুজাইফা তিনবারই মুখ ফিরিয়ে নিলেন। তারপর তার দিকে মুখ করে হযরত হুজাইফা তিনবার বললেন, হে সিলাহ! কালিমাটি তাদেরকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেবে。
টিকাঃ
[৩৬۷] সুনানু ইবনু মাজাহ, খণ্ড: ۱۲, পৃষ্ঠা: ۵۱, হাদিস: ۴۰۰۹。