📄 কলব থেকে আমানত ও ঈমান উঠে যাবে
হুজাইফা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে দুটি হাদিস বর্ণনা করেছেন। আমি একটির বাস্তবতা দেখেছি এবং আরেকটির অপেক্ষায় আছি। তিনি আমাদেরকে হাদিস বর্ণনা করেছেন—
إِنَّ الْأَمَانَةَ نَزَلَتْ فِي جَذْرِ قُلُوبِ الرِّجَالِ ثُمَّ عَلِمُوا مِنَ الْقُرْآنِ ثُمَّ عَلِمُوا مِنَ السُّنَّةِ.
আমানত মানুষের হৃদয়ের মাঝখানে অবতীর্ণ হয়েছে। তারপর কুরআন কারিম অবতীর্ণ হয়েছে। সুতরাং তারা কুরআন জেনেছে এবং সুন্নাহ বুঝেছে。
হুজাইফা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমােেক আমানত তুলে নেওয়ার হাদিস বলেছেন, “মানুষ গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন থাকবে, তখন হঠাৎ করে তার কলব থেকে আমানত তুলে নেওয়া হবে। যার প্রক্রিয়া হবে হালকা দাগের মতো। তারপর আবার ঘুমালে, তখন আবার আমানত তুলে নেওয়া হবে। সুতরাং চিহ্ন হবে ফোসকা পড়ার মতো, ঠিক যেমন আপনার পায়ে অঙ্গার জ্বালিয়ে দিলে ফোসকা পড়ে, অতঃপর আপনি দেখেন যে, ফোসকা গভীর হয়ে গেছে—যার ভেতরে কোনো কিছু থাকে না। এরপর মানুষ ক্রয়-বিক্রয় করবে, কিন্তু কেউ আমানত রক্ষা করতে পারবে না। এমনকি তখন বলা হবে যে, অমুক গোত্রে আমানতদার মানুষ আছে। এমনকি তখন কোনো ব্যক্তি সম্পর্কে বলা হয়, সে কতই না বাহাদুর, কতই না বিচক্ষণ এবং কতই না জ্ঞানী। কিন্তু তার হৃদয়ে দানা পরিমাণও ঈমান থাকবে না।”
বর্ণনাকারী বলেন—আমার সামনে এমন একটি সময় এসেছিল, তোমাদের যে কারও সাথে বহিরাগত গ্রহণ করাতে কোনো পরোয়া করতাম না। যদি সে মুসলিম হয়, তাহলে সে আমার সঙ্গে দ্বীনদারিমূলক আচরণ করবে। আর যদি খ্রিষ্টান বা ইহুদি হয়, তাহলে সে আমার সঙ্গে সখ্যতাতে ভালো আচরণ করবে। কিন্তু আজকে তোমাদের মাঝে থেকে আমি কেবল অমুক ও অমুকের হাতেই রৌতাত্ম গ্রহণ করতে পারি.'
টিকাঃ
[৩৬৪] সহীহ বুখারি, খণ্ড: ১০, পৃষ্ঠা: ১২০, হাদিস: ৬৪৯৮。
📄 ইলম উঠিয়ে নেওয়া হবে
জিয়াদ ইবনু লাবিদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোনো একটি বিষয়ের আলোচনা করতে গিয়ে বললেন,
دَالَ عِنْدَ أَوَانِ ذَهَابِ الْعِلْمِ فَلِذَا يَا رَسُولَ اللَّهِ وَكَيْفَ يَذْهَبُ الْعِلْمُ وَنَحْنُ نَقْرَأُ الْقُرْآنَ وَنُقْرِئُهُ أَبْنَاءَنَا وَيُقْرِئُهُ أَبْنَاؤُنَا أَبْنَاءَنَا إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ قَالَ تِلْكَ لَكَعَةُ أَمْكُ زِيَادٍ إِنْ كُنْتَ لأَرَاكَ مِنْ أَفْقَهِ رِجَالِ الْمَدِينَةِ أَوَلَيْسَ هَذِهِ الْيَهُودُ وَالنَّصَارَى يَقْرَءُونَ التَّوْرَاةَ وَالْإِنْجِيلَ لَا يَعْمَلُونَ بِشَيْءٍ مِّمَّا فِيهِمَا.
এটা হবে ইলম চলে যাওয়ার প্রাক্কালে। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! কুরআন কীভাবে চলে যাবে—অথচ আমরা কুরআন পড়ব, আমাদের সন্তানদেরকে পড়াব, তারা তাদের সন্তানদেরকে পড়াবে, এভাবে কিয়ামত পর্যন্তই চলতে থাকবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, জিয়াদ, তুমি এটা কী বলছো! আমি তোমাকে মদিনার সবচেয়ে বুদ্ধিমান মানুষদের অন্যতম মনে করি। আচ্ছা, এই যে ইহুদি ও খ্রিষ্টান—তারা কি তাওরাত ও ইঞ্জিল পড়ে না? কিন্তু তারা এর অন্তর্নিহিত বিষয়াবলি সম্পর্কে জানে না। (মুসলিমদের অবস্থা ও হবে তথৈবচ)।
টিকাঃ
[৩৬۵] সুনানু ইবনু মাজাহ, খণ্ড: ۱۲, পৃষ্ঠা: ۵۷, হাদিস: ۴۰۴۱。
[৩৬۶] সহীহ মুসলিম, খণ্ড: ۱, পৃষ্ঠা: ۱۳۰, হাদিস: ۱۵۱。
📄 ইসলামের পঠন-পাঠন সত্ত্বেও কুরআনের বিদায়
হুজাইফা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন—
يُدْرَسُ الْإِسْلَامُ كَمَا يُدْرَسُ وِشْيُ الثَّوْبِ حَتَّى لَا يُدْرَى مَا صِيَامٌ وَلَا صَلَاةٌ وَلَا نُسُكٌ وَلَا صَدَقَةٌ وَلَيُسْرَى عَلَى كِتَابِ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ فِي لَيْلَةٍ فَلَا يَبْقَى فِي الْأَرْضِ مِنْهُ آيَةٌ وَتَبْقَى طَوَائِفُ مِنَ النَّاسِ الشَّيْخُ الْكَبِيرُ وَالْعَجُورُ يَقُولُونَ أَدْرَكْنَا آبَاءَنَا عَلَى هَذِهِ الْكَلِمَةِ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ فَنَحْنُ نَقُولُهَا فَقَالَ لَهُ صِلَةٌ مَا تُغْنِي عَنْهُمْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَهُمْ لَا يَدْرُونَ مَا صَلَاةٌ وَلَا صِيَامٌ وَلَا نُسُكٌ وَلَا صَدَقَةٌ فَأَعْرَضَ عَنْهُ حُذَيْفَةُ ثُمَّ رَدَّهَا عَلَيْهِ.
عَلَيْهِ ثَلَاثًا كُلَّ ذَلِكَ يُعْرِضُ عَنْهُ حُذَيْفَةُ ثُمَّ أَقْبَلَ عَلَيْهِ فَقَالَ يَا صِلَةُ تُنْجِيهِمْ مِنَ النَّارِ ثَلَاثًا.
ইসলামের প্রথাগত পাঠ চলবে, ঠিক যেমন (পুরাতন) কাপড়কে রঙচঙে করা হয়। এমনকি (ভরসামাহীন ইসলামি পাঠের কারণে অনস্থান এমন পর্যায়ে গিয়ে দাঁড়াবে যে), বোঝা যাবে না যে, রোজা কী, নামাজ কী, কুরবানি কী এবং সাদাকাহ কী!!! রাতে আল্লাহ তায়ালার কিতাবের পঠন- পাঠন চলবে। একপর্যায়ে জমিনে একটি আয়াতও থাকবে না। মানুষের মাঝে কিছু বৃদ্ধ মানুষ থাকবে। তারা বলবে, আমরা আমাদের পূর্বপুরুষদেরকে এই কালিমার ওপর পেয়েছি 'আল্লাহই একমাত্র ইলাহ', সুতরাং আমরা সেটা বলব। তখন সিলাহ তাকে বলল, যারা জানে না যে, নামাজ কী, রোজা কী, কুরবানি কী এবং সাদাকাহ কী—তাদের জন্য এই কালিমাটি কি কোনো উপকারে আসবে না? হুজাইফা রাদিয়াল্লাহু আনহু তার কথা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলেন। তারপর সিলাহ কথাটি তিনবার বলল। হযরত হুজাইফা তিনবারই মুখ ফিরিয়ে নিলেন। তারপর তার দিকে মুখ করে হযরত হুজাইফা তিনবার বললেন, হে সিলাহ! কালিমাটি তাদেরকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেবে。
টিকাঃ
[৩৬۷] সুনানু ইবনু মাজাহ, খণ্ড: ۱۲, পৃষ্ঠা: ۵۱, হাদিস: ۴۰۰۹。