📘 মৃত্যুর ওপারে অনন্তের পথে > 📄 শেষ জামানার শাসকদের গুণাবলি

📄 শেষ জামানার শাসকদের গুণাবলি


আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দরবারে বসে ছিলাম, তখন তিনি লোকজনের সঙ্গে কথা বলছিলেন। ইতিমধ্যে জনৈক গ্রাম্য লোক এসে প্রশ্ন করল, কিয়ামত কখন হবে? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজের আলোচনাতেই ব্যস্ত থাকলেন। উপস্থিতিদের কেউ বলল, তার কথা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শুনেছেন এবং তার কথা অপছন্দ করেছেন। অন্য একজন বলল, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার কথা শোনেননি। একপর্যায়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন কথা শেষ করলেন, তখন বললেন—
أَيْنَ أَرَاهُ السَّائِلَ عَنِ السَّاعَةِ.
কিয়ামত সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদী ব্যক্তিটি কোথায়?
সে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! এই যে এখানে আমি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন,
فَإِذَا ضُيِّعَتِ الْأَمَانَةُ فَانْتَظِرِ السَّاعَةَ.
যখন আমানত নষ্ট হবে, তখন তুমি কিয়ামতের অপেক্ষায় থাকো。
লোকটি জিজ্ঞেস করল, কীভাবে আমানত নষ্ট করা হয়? নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন—
إِذَا وُسِّدَ الْأَمْرُ إِلَى غَيْرِ أَهْلِهِ فَانْتَظِرِ السَّاعَةَ.
যখন কোনো বিষয় অযোগ্যের কাছে ন্যস্ত করা হয়, তখন কিয়ামতের অপেক্ষায় থাকো。
নোট: হাদিসে শেখামুক্তকূর মর্ম হলো—দুনিয়াতে অভিযোগ কাজে সপে দেবে, তার উপর আবর্জনাজন হবে এবং তার গলায় ক্ষমতার সমালোচন মালা পরাবে। যেমন আমাদের যুগে পরিলক্ষিত হয়। কারণ, আল্লাহ তায়ালা তার বানদাদের ওপর ইমাম ও শাসকদেরকে দায়িত্বশীল বানিয়েছেন এবং তাদের জন্য কল্যাণ কামনার দায়িত্ব অর্পণ করেছেন। প্রমাণ, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন—
وَكُلُّكُمْ رَاعٍ وَكُلُّكُمْ مَسْئُولٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ.
তোমরা সকলেই দায়িত্বশীল এবং তোমরা সকলেই নিজের অধীনস্থদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে。
সুতরাং জনগণের জন্য সমীচীন হলো, দ্বীনদার, আমানতদার এবং উম্মতের ওপর হিতৈষী লোকেদেরকে দায়িত্বশীল বানানো। যখনই জনগণ দ্বীনহীন লোককে সম্মানের মালা পরিধান করাবে, তারা অবশ্যই আমানতকে নষ্ট করবে—যা আল্লাহ তায়ালা তাদের প্রতি ফরজ করে দিয়েছেন。
হাদিসে জিবরিলের বিশাল পাঠের মাঝে এই অংশটুকুও উল্লেখ করেছেন—
'হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বললেন, আমাকে আপনি কিয়ামত সম্পর্কে বলুন। নবিজি বললেন, জিজ্ঞাসাকারীর চেয়ে জিজ্ঞাসাকৃত ব্যক্তি বেশি জানে না। হযরত জিবরীল আবার বললেন, আমাকে কিয়ামতের আলামত সম্পর্কে বলুন। নবিজি বললেন, দাসী তার মনিবকে জন্ম দেবে, তুমি দেখবে—নগ্নপদ, বস্ত্রহীন এবং নিম্ন স্তরের রাখালেরা অট্টালিকা তৈরি করে গর্ব করছে।’
আরেক বর্ণনায় আছে—'যখন তুমি দেখবে—দাসী তার মনিবকে জন্ম দেবে, সেটা হবে কিয়ামতের একটি আলামত। যখন দেখবে—নগ্নপদ, বস্ত্রহীন, বধির এবং মূক দুনিয়ার বাদশাহী করবে, সেটাও হবে কিয়ামতের আলামত।’
হুজাইফা ইবনুল ইয়ামান রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন—
لَا تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى يَكُونَ أَسْعَدُ النَّاسِ بِالدُّنْيَا لَكَعُ ابْنُ لَكَعٍ.
যতক্ষণ বংশীয়ভাবে অসৎ (গোঁড়া) সৌভাগ্যবান বলে বিবেচিত না হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত কিয়ামত সংঘটিত হবে না。
আবু মালিক আল-আশয়ারি রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন—
لَيَشْرَبَنَّ نَاسٌ مِنْ أُمَّتِي الْخَمْرَ يُسَمُّونَهَا بِغَيْرِ اسْمِهَا يُعْزَفُ عَلَى رُءُوسِهِمُ الْمَعَازِفُ وَالْمُغَنِّيَاتُ يَخْسِفُ اللَّهُ بِهِمُ الْأَرْضَ وَيَجْعَلُ مِنْهُمُ الْقِرَدَةَ وَالْخَنَازِيرَ.
আমার উম্মতের অনেক মানুষ মদ পান করবে, কিন্তু সেগুলোকে তার মূল নাম ছাড়া অন্যান্য নামে নামকরণ করবে। সেখানে বাদ্যযন্ত্র বাজানো হবে এবং গানের আয়োজন করা হবে। আল্লাহ তাদেরকে সহ জমিনকে বিধ্বস্ত করবেন এবং তাদের মধ্য থেকে অনেককে বাঁদর ও শূকরে বিকৃত করবেন।’
আবু মালিক আশয়ারি রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলেছেন—
لَيَكُونَنَّ مِنْ أُمَّتِي أَقْوَامٌ يَسْتَحِلُّونَ الْحِرَ وَالْحَرِيرَ وَالْخَمْرَ وَالْمَعَازِفَ وَلَيَنْزِلَنَّ أَقْوَامٌ إِلَى جَنْبِ عَلَمٍ يَرُوحُ عَلَيْهِمْ بِسَارِحَةٍ لَهُمْ يَأْتِيهِمْ يَعْنِي الْفَقِيرَ لِحَاجَةٍ فَيَقُولُونَ ارْجِعْ إِلَيْنَا غَدًا فَيُبَيِّتُهُمُ اللَّهُ وَيَضَعُ الْعَلَمَ وَيَمْسَخُ آخَرِينَ قِرَدَةً وَخَنَازِيرَ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ.
আমার উম্মতের মধ্যে এমন কিছু মানুষের আবির্ভাব ঘটবে—যারা নারীর যৌনাঙ্গ, রেশম, মদ এবং বাদ্যযন্ত্রকে হালাল মনে করবে। কিছু মানুষ একটি উঁচু পাহাড়ের পাদদেশে যাত্রা বিরতি করবে। সেখানকার এক রাখাল রাতের বেলা তাদের কাছে কোনো প্রয়োজনে আসবে। তারা বলবে, আগামীকাল এসো। আল্লাহ তায়ালা রাতেই তাদের ওপর গযব নাযিল করবেন, পাহাড়কে বিধ্বস্ত করবেন এবং অন্যদেরকে কিয়ামত পর্যন্ত বাঁদর ও শূকরে বিকৃত করবেন।’

টিকাঃ
[৪০৪] সহীহ বুখারি, খণ্ড: ১, পৃষ্ঠা: ১০৩, হাদিস: ৫৯。
[৩৫৯] সহীহ মুসলিম, খণ্ড: ১, পৃষ্ঠা: ৫৭, হাদিস: ৯。
[৩৬۰] সহীহ মুসলিম, খণ্ড: ১, পৃষ্ঠা: ۶۹, হাদিস: ۱۱۱。
[৩৬۱] সুনানুত তিরমিজি, খণ্ড: ৮, পৃষ্ঠা: ২৫۰, হাদিস: ۲۲۱۵。
[৩৬۲] সুনানুত তিরমিজি, খণ্ড: ৮, পৃষ্ঠা: ২৫۰, হাদিস: ۲۲۱۵。
[৩৬۳] সুনানু ইবনু মাজাহ, খণ্ড: ۱۲, পৃষ্ঠা: ۲۹, হাদিস: ۴۰۱۰。
[৩৬۳] সহীহ বুখারি, খণ্ড: ১০, পৃষ্ঠা: ১২৯, হাদিস: ৫০০৯。

📘 মৃত্যুর ওপারে অনন্তের পথে > 📄 কলব থেকে আমানত ও ঈমান উঠে যাবে

📄 কলব থেকে আমানত ও ঈমান উঠে যাবে


হুজাইফা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে দুটি হাদিস বর্ণনা করেছেন। আমি একটির বাস্তবতা দেখেছি এবং আরেকটির অপেক্ষায় আছি। তিনি আমাদেরকে হাদিস বর্ণনা করেছেন—
إِنَّ الْأَمَانَةَ نَزَلَتْ فِي جَذْرِ قُلُوبِ الرِّجَالِ ثُمَّ عَلِمُوا مِنَ الْقُرْآنِ ثُمَّ عَلِمُوا مِنَ السُّنَّةِ.
আমানত মানুষের হৃদয়ের মাঝখানে অবতীর্ণ হয়েছে। তারপর কুরআন কারিম অবতীর্ণ হয়েছে। সুতরাং তারা কুরআন জেনেছে এবং সুন্নাহ বুঝেছে。
হুজাইফা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমােেক আমানত তুলে নেওয়ার হাদিস বলেছেন, “মানুষ গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন থাকবে, তখন হঠাৎ করে তার কলব থেকে আমানত তুলে নেওয়া হবে। যার প্রক্রিয়া হবে হালকা দাগের মতো। তারপর আবার ঘুমালে, তখন আবার আমানত তুলে নেওয়া হবে। সুতরাং চিহ্ন হবে ফোসকা পড়ার মতো, ঠিক যেমন আপনার পায়ে অঙ্গার জ্বালিয়ে দিলে ফোসকা পড়ে, অতঃপর আপনি দেখেন যে, ফোসকা গভীর হয়ে গেছে—যার ভেতরে কোনো কিছু থাকে না। এরপর মানুষ ক্রয়-বিক্রয় করবে, কিন্তু কেউ আমানত রক্ষা করতে পারবে না। এমনকি তখন বলা হবে যে, অমুক গোত্রে আমানতদার মানুষ আছে। এমনকি তখন কোনো ব্যক্তি সম্পর্কে বলা হয়, সে কতই না বাহাদুর, কতই না বিচক্ষণ এবং কতই না জ্ঞানী। কিন্তু তার হৃদয়ে দানা পরিমাণও ঈমান থাকবে না।”
বর্ণনাকারী বলেন—আমার সামনে এমন একটি সময় এসেছিল, তোমাদের যে কারও সাথে বহিরাগত গ্রহণ করাতে কোনো পরোয়া করতাম না। যদি সে মুসলিম হয়, তাহলে সে আমার সঙ্গে দ্বীনদারিমূলক আচরণ করবে। আর যদি খ্রিষ্টান বা ইহুদি হয়, তাহলে সে আমার সঙ্গে সখ্যতাতে ভালো আচরণ করবে। কিন্তু আজকে তোমাদের মাঝে থেকে আমি কেবল অমুক ও অমুকের হাতেই রৌতাত্ম গ্রহণ করতে পারি.'

টিকাঃ
[৩৬৪] সহীহ বুখারি, খণ্ড: ১০, পৃষ্ঠা: ১২০, হাদিস: ৬৪৯৮。

📘 মৃত্যুর ওপারে অনন্তের পথে > 📄 ইলম উঠিয়ে নেওয়া হবে

📄 ইলম উঠিয়ে নেওয়া হবে


জিয়াদ ইবনু লাবিদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোনো একটি বিষয়ের আলোচনা করতে গিয়ে বললেন,
دَالَ عِنْدَ أَوَانِ ذَهَابِ الْعِلْمِ فَلِذَا يَا رَسُولَ اللَّهِ وَكَيْفَ يَذْهَبُ الْعِلْمُ وَنَحْنُ نَقْرَأُ الْقُرْآنَ وَنُقْرِئُهُ أَبْنَاءَنَا وَيُقْرِئُهُ أَبْنَاؤُنَا أَبْنَاءَنَا إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ قَالَ تِلْكَ لَكَعَةُ أَمْكُ زِيَادٍ إِنْ كُنْتَ لأَرَاكَ مِنْ أَفْقَهِ رِجَالِ الْمَدِينَةِ أَوَلَيْسَ هَذِهِ الْيَهُودُ وَالنَّصَارَى يَقْرَءُونَ التَّوْرَاةَ وَالْإِنْجِيلَ لَا يَعْمَلُونَ بِشَيْءٍ مِّمَّا فِيهِمَا.
এটা হবে ইলম চলে যাওয়ার প্রাক্কালে। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! কুরআন কীভাবে চলে যাবে—অথচ আমরা কুরআন পড়ব, আমাদের সন্তানদেরকে পড়াব, তারা তাদের সন্তানদেরকে পড়াবে, এভাবে কিয়ামত পর্যন্তই চলতে থাকবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, জিয়াদ, তুমি এটা কী বলছো! আমি তোমাকে মদিনার সবচেয়ে বুদ্ধিমান মানুষদের অন্যতম মনে করি। আচ্ছা, এই যে ইহুদি ও খ্রিষ্টান—তারা কি তাওরাত ও ইঞ্জিল পড়ে না? কিন্তু তারা এর অন্তর্নিহিত বিষয়াবলি সম্পর্কে জানে না। (মুসলিমদের অবস্থা ও হবে তথৈবচ)।

টিকাঃ
[৩৬۵] সুনানু ইবনু মাজাহ, খণ্ড: ۱۲, পৃষ্ঠা: ۵۷, হাদিস: ۴۰۴۱。
[৩৬۶] সহীহ মুসলিম, খণ্ড: ۱, পৃষ্ঠা: ۱۳۰, হাদিস: ۱۵۱。

📘 মৃত্যুর ওপারে অনন্তের পথে > 📄 ইসলামের পঠন-পাঠন সত্ত্বেও কুরআনের বিদায়

📄 ইসলামের পঠন-পাঠন সত্ত্বেও কুরআনের বিদায়


হুজাইফা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন—
يُدْرَسُ الْإِسْلَامُ كَمَا يُدْرَسُ وِشْيُ الثَّوْبِ حَتَّى لَا يُدْرَى مَا صِيَامٌ وَلَا صَلَاةٌ وَلَا نُسُكٌ وَلَا صَدَقَةٌ وَلَيُسْرَى عَلَى كِتَابِ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ فِي لَيْلَةٍ فَلَا يَبْقَى فِي الْأَرْضِ مِنْهُ آيَةٌ وَتَبْقَى طَوَائِفُ مِنَ النَّاسِ الشَّيْخُ الْكَبِيرُ وَالْعَجُورُ يَقُولُونَ أَدْرَكْنَا آبَاءَنَا عَلَى هَذِهِ الْكَلِمَةِ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ فَنَحْنُ نَقُولُهَا فَقَالَ لَهُ صِلَةٌ مَا تُغْنِي عَنْهُمْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَهُمْ لَا يَدْرُونَ مَا صَلَاةٌ وَلَا صِيَامٌ وَلَا نُسُكٌ وَلَا صَدَقَةٌ فَأَعْرَضَ عَنْهُ حُذَيْفَةُ ثُمَّ رَدَّهَا عَلَيْهِ.
عَلَيْهِ ثَلَاثًا كُلَّ ذَلِكَ يُعْرِضُ عَنْهُ حُذَيْفَةُ ثُمَّ أَقْبَلَ عَلَيْهِ فَقَالَ يَا صِلَةُ تُنْجِيهِمْ مِنَ النَّارِ ثَلَاثًا.
ইসলামের প্রথাগত পাঠ চলবে, ঠিক যেমন (পুরাতন) কাপড়কে রঙচঙে করা হয়। এমনকি (ভরসামাহীন ইসলামি পাঠের কারণে অনস্থান এমন পর্যায়ে গিয়ে দাঁড়াবে যে), বোঝা যাবে না যে, রোজা কী, নামাজ কী, কুরবানি কী এবং সাদাকাহ কী!!! রাতে আল্লাহ তায়ালার কিতাবের পঠন- পাঠন চলবে। একপর্যায়ে জমিনে একটি আয়াতও থাকবে না। মানুষের মাঝে কিছু বৃদ্ধ মানুষ থাকবে। তারা বলবে, আমরা আমাদের পূর্বপুরুষদেরকে এই কালিমার ওপর পেয়েছি 'আল্লাহই একমাত্র ইলাহ', সুতরাং আমরা সেটা বলব। তখন সিলাহ তাকে বলল, যারা জানে না যে, নামাজ কী, রোজা কী, কুরবানি কী এবং সাদাকাহ কী—তাদের জন্য এই কালিমাটি কি কোনো উপকারে আসবে না? হুজাইফা রাদিয়াল্লাহু আনহু তার কথা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলেন। তারপর সিলাহ কথাটি তিনবার বলল। হযরত হুজাইফা তিনবারই মুখ ফিরিয়ে নিলেন। তারপর তার দিকে মুখ করে হযরত হুজাইফা তিনবার বললেন, হে সিলাহ! কালিমাটি তাদেরকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেবে。

টিকাঃ
[৩৬۷] সুনানু ইবনু মাজাহ, খণ্ড: ۱۲, পৃষ্ঠা: ۵۱, হাদিস: ۴۰۰۹。

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00