📄 আরও কিছু আলামত
আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন—
لاَ تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى تَضْطَرِبَ أَلْيَاتُ نِسَاءِ دَوْسٍ حَوْلَ ذِي الْخَلَصَةِ وَكَانَتْ صَنَمًا تَعْبُدُهَا دَوْسٌ فِي الْجَاهِلِيَّةِ بِتَبَالَةَ
যতক্ষণ পর্যন্ত দাউস গোত্রের নারীদের নিতম্ব যুলখালাসা প্রতিমার কাছে ঘর্ষিত না হবে ততক্ষণ পর্যন্ত কিয়ামত সংঘটিত হবে না। যুলখালাসা একটি মূর্তি ছিল, দাউস গোত্রের লোকজন জাহেলি যুগে তাবালা নামক স্থানে এর উপাসনা করতো。
হজরত আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতেই আরও বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন—
لاَ تَذْهَبُ الْأَيَّامُ وَاللَّيَالِي حَتَّى يَمْلِكَ رَجُلٌ يُقَالُ لَهُ الْجَهْجَاهُ
যতক্ষণ পর্যন্ত জাহজাহ নামক একটি মানুষ রাজা না হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত রাত ও দিন অপগত হতে থাকবে。
আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন— “যতক্ষণ পর্যন্ত কিয়ামত সংঘটিত হবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত কাহতান গোত্রের একজন মানুষ লোকজনকে তার লাঠি দ্বারা পরিচালিত না করবে।”
আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন—
لَا تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى تَخْرُجَ نَارٌ مِنْ أَرْضِ الْحِجَازِ تُضِيءُ أَعْنَاقَ الْإِبِلِ بِبُصْرَى.
যতক্ষণ পর্যন্ত কিয়ামত সংঘটিত হবে না, যতক্ষণ হিজাজ ভূমি থেকে এমন একটি আগুন বের না হবে, যা বসরার উটের গর্দানগুলো আলোকিত করবে。
আবদুল্লাহ ইবনু উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন— ‘হাজারামাউত থেকে বা হাজারামাউতের সমুদ্রের দিক থেকে কিয়ামতের আগে একটি আগুন বের হয়ে তা মানুষদেরকে একত্রিত করবে। সাহাবায়ে কিরাম আরজ করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! সে উপলক্ষে আপনি আমাদেরকে কী নির্দেশনা দেন? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমরা সিরিয়ায় যাবে।’
আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন—
أَوَّلُ أَشْرَاطِ السَّاعَةِ قِنَارُ تَحْشُرُ النَّاسَ مِنَ الْمَشْرِقِ إِلَى الْمَغْرِبِ
কিয়ামতের প্রথম আলামত হলো—একটি আগুন, যা মানুষদেরকে পূর্ব দিক হতে পশ্চিম দিকে জমায়েত করবে。
আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন—
لَا تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى يَكْثُرَ الْمَالُ وَيَفِيضَ حَتَّى يَخْرُجَ الرَّجُلُ بِزَكَاةِ مَالِهِ فَلاَ يَجِدُ أَحَدًا يَقْبَلُهَا مِنْهُ وَحَتَّى تَعُودَ أَرْضُ الْعَرَبِ مُرُوجًا وَأَنْهَارًا.
যতক্ষণ পর্যন্ত সম্পদ বেশি এবং স্ফীত না হবে ততক্ষণ পর্যন্ত কিয়ামত হবে না। এমনকি তখন মানুষ তার সম্পদের যাকাত বের করবে, কিন্তু যাকাত গ্রহণ করার মতো কোনো মানুষ পাবে না। বরং একপর্যায়ে আরবভূখণ্ড উর্বর এবং নদীর দেশে রূপান্তরিত হবে。
নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন—
مِنْ أَشْرَاطِ السَّاعَةِ أَنْ يَقِلَّ الْعِلْمُ وَيَظْهَرَ الْجَهْلُ وَيَظْهَرَ الزِّنَا وَتَكْثُرَ النِّسَاءُ وَيَقِلَّ الرِّجَالُ حَتَّى يَكُونَ لِخَمْسِينَ امْرَأَةِ الْقَيِّمُ الْوَاحِدُ
কিয়ামতের আলামতগুলোর মধ্যে হতে ইলম কমে যাবে, মূর্খতা অধিক হবে, ব্যভিচার ছড়িয়ে পড়বে, নারী বেশি হবে, পুরুষ হ্রাস পাবে, এমনকি একজন কর্তা পুরুষের বিপরীতে পঞ্চাশজন নারী হবে。
আবু মুসা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘মানুষের ওপর এমন একটি সময় আসবে, একজন মানুষ যখন স্বর্ণ দ্বারা সাদাকা দেওয়ার জন্য ঘুরবে, কিন্তু গ্রহণ করার মতো কোনো মানুষ পাবে না। আরও দেখা যাবে যে, চল্লিশজন নারী একজন পুরুষের পিছু পিছু ঘুরবে তার কাছে যা কিছু গ্রহণ করার জন্য। কারণ, পুরুষ হবে কম এবং নারী হবে বেশি。
নোট: হাদিসের ভাষা—‘চল্লিশজন নারী একজন পুরুষের পিছু পিছু ঘুরবে’—এর কারণ হলো—যুদ্ধোত্তরে পুরুষরা নিহত হবে, আর নারীরা গ্রামীনপথ থেকে যাবে। সুতরাং তারা নিজেদের প্রয়োজন পূরণ করার জন্য একেকজন পুরুষকে গ্রহণ করবে। যেমন হাদিসে বলা হয়েছে যে—‘এমনকি একজন কর্তা পুরুষের বিপরীতে পঞ্চাশজন নারী হবে’ সেই একেকজন পুরুষ পঞ্চাশজন নারীর দেখাশোনা করবে, তাদের ক্রয়-বিক্রয় এবং লেনদেনের দায়িত্ব পালন করবে।
টিকাঃ
[৩৯০] সহীহ মুসলিম, খণ্ড: ১৪, পৃষ্ঠা: ১৩৯, হাদিস: ৫১৭৩。
[৩৯১] সহীহ মুসলিম, খণ্ড: ১৪, পৃষ্ঠা: ১৪০, হাদিস: ৫১৭৪。
[৩৯২] সহীহ বুখারি, খণ্ড: ১১, পৃষ্ঠা: ৩৯২, হাদিস: ৬৯৪২; সহীহ মুসলিম, খণ্ড: ১৪, পৃষ্ঠা: ১১৯, হাদিস: ৫১ ৬২。
[৩৯৩] সহীহ বুখারি, খণ্ড: ২২, পৃষ্ঠা: ১৯, হাদিস: ৬৯৮৬; সহীহ মুসলিম, খণ্ড: ১৪, পৃষ্ঠা: ১৭, হাদিস: ৫১ ৬৪。
[৩৯৪] সুনানুত তিরমিজি, খণ্ড: ৮, পৃষ্ঠা: ১৩৯, হাদিস: ২১৮৪。
[৩৯৫] সহীহ বুখারি, খণ্ড: ১১, পৃষ্ঠা: ১৪৬, হাদিস: ৬৮৫১。
[৩৯৬] সহীহ মুসলিম, খণ্ড: ৫, পৃষ্ঠা: ১৯৪, হাদিস: ২০৬৯。
[৩৯৭] সহীহ বুখারি, খণ্ড: ১, পৃষ্ঠা: ১৪৪, হাদিস: ৮১。
[৩৯৮] সহীহ মুসলিম, খণ্ড: ৫, পৃষ্ঠা: ১৯৫, হাদিস: ২০৬৮。
📄 কীভাবে ইলম তুলে নেওয়া হবে
আবদুল্লাহ ইবনু আমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতে শুনেছি—
إِنَّ اللَّهَ لاَ يَنْزِعُ الْعِلْمَ بَعْدَ أَنْ أَعْطَاهُوهُ انْتِزَاعًا وَلَكِنْ يَنْتَزِعُهُ مِنْهُمْ مَعَ قَبْضِ الْعُلَمَاءِ بِعِلْمِهِمْ فَيَبْقَى نَاسٌ جُهَّالٌ يُسْتَفْتَوْنَ فَيُفْتُونَ بِرَأْيِهِمْ فَيَضِلُّونَ وَيُضِلُّونَ.
আল্লাহ তাআলা তোমাদেরকে ইলম দান করার পর ছিনিয়ে নেবেন না, তবে উলামায়ে কিরামকে তাদের ইলমসহ তুলে নেওয়ার মাধ্যমে ইলমকে তুলে নেবেন। সুতরাং মানুষ মূর্খ হয়ে থাকবে। তাদের কাছে ফাতওয়া জিজ্ঞাসা করা হবে, তারা নিজেদের মন মতো ফাতওয়া প্রদান করবে। যার কারণে অন্যদেরকেও গোমরাহ করবে এবং নিজেরাও গোমরাহ হবে。
অন্য এক বর্ণনায় আছে এভাবে—
فَإِذَا لَمْ يُبْقِ عَالِمًا اتَّخَذَ النَّاسُ رُءُوسًا جُهَّالاً فَسُئِلُوا فَأَفْتَوْا بِغَيْرِ عِلْمٍ فَضَلُّوا وَأَضَلُّوا.
সুতরাং যখন আল্লাহ কোনো আলিমকে রাখবেন না, তখন মানুষেরা জাহেলদেরকে (দ্বীন বিষয়ে) নেতা হিসেবে গ্রহণ করবে। তাদেরকে (দ্বীনের বিধান) জিজ্ঞাসা করা হবে। তারাও ইলম ছাড়া ফাতওয়া দিয়ে নিজেরাও গোমরাহ হবে এবং অন্যদেরকেও গোমরাহ করবে。
টিকাঃ
[৩৯৯] সহীহ মুসলিম, খণ্ড: ১২, পৃষ্ঠা: ২৬৭, হাদিস: ৬৭৩৬。
[৪০০] সুনানুত ইবনু মাজাহ, খণ্ড: ২, পৃষ্ঠা: ১৩, হাদিস: ৫২। শামিলা হাসির ইবনু মাজাহর মুহাক্কাক আহমাদ শাকির কর্তৃক।
📄 জমিন তার গর্ভস্থ খনিজ সম্পদগুলো বের করে দেবে
আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন— ‘আতিশয়ে ফুরাত নদী স্বর্ণের খনি উন্মুক্ত করে দেবে। যে ব্যক্তি সেখানে যাবে, সে যেন তা গ্রহণ না করে।’
আরেক বর্ণনায় আছে—
يَقْتَتِلُ النَّاسُ عَلَيْهِ فَيُقْتَلُ مِنْ كُلِّ مِائَةٍ تِسْعَةٌ وَتِسْعُونَ وَيَقُولُ كُلُّ رَجُلٍ مِنْهُمْ لَعَلِّي أَكُونُ أَنَا الَّذِي أَنْجُو.
সেখানে মানুষেরা যুদ্ধে জড়িয়ে পড়বে। সুতরাং প্রতি একশ থেকে নিরানব্বইজন নিহত হবে এবং প্রত্যেকই বলবে, হয়তো আমিই হব মুক্তপ্রাপ্ত ব্যক্তি。
আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন—
‘জমিন তার গর্ভে থাকা খুঁটি সদৃশ স্বর্ণ ও রূপার খনিসমূহ (মূলবান সম্পদ) বমি (বের) করে দেবে। তখন হত্যাকারী এসে বলবে, আমি তো এই সম্পদের জন্যই হত্যা করেছি। আত্মীয়তা ছিন্নকারী এসে বলবে, আমি তো এর জন্যই সম্পর্ক ছিন্ন করেছি。
তারপর চোর এসে বলবে, এই সম্পদের জন্যই আমার হস্ত কর্তন করা হয়েছে। তারপর তারা সকলেই অর্ধেক পরিত্যক্ত পরিত্যাগ করবে, কেউ তা গ্রহণ করবে না।’ ইমাম তিরমিজি চোর ও হস্ত কর্তনের বিষয়টি উল্লেখ করেননি。
টিকাঃ
[৪০۱] সহীহ বুখারি, খণ্ড: ১২, পৃষ্ঠা: ২৮۰, হাদিস: ۷۱۲۱。
[৪০۲] সহীহ মুসলিম, খণ্ড: ১৪, পৃষ্ঠা: ২৮۴, হাদিস: ۶۹۹۱; সহীহ মুসলিম, খণ্ড: ১৪, পৃষ্ঠা: ۱۴۹, হাদিস: ۵۱۴۹。
[৪০۳] সহীহ মুসলিম, খণ্ড: ۱۴, পৃষ্ঠা: ۱۴۸, হাদিস: ۵۱۴۹。
[৪০۳] সহীহ মুসলিম, খণ্ড: ۵, পৃষ্ঠা: ۱۸۹, হাদিস: ۲۰۶۴। ইবনু তিরমিজির হাদিসটি হাসান গরিব বলেছেন。
📄 শেষ জামানার শাসকদের গুণাবলি
আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দরবারে বসে ছিলাম, তখন তিনি লোকজনের সঙ্গে কথা বলছিলেন। ইতিমধ্যে জনৈক গ্রাম্য লোক এসে প্রশ্ন করল, কিয়ামত কখন হবে? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজের আলোচনাতেই ব্যস্ত থাকলেন। উপস্থিতিদের কেউ বলল, তার কথা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শুনেছেন এবং তার কথা অপছন্দ করেছেন। অন্য একজন বলল, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার কথা শোনেননি। একপর্যায়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন কথা শেষ করলেন, তখন বললেন—
أَيْنَ أَرَاهُ السَّائِلَ عَنِ السَّاعَةِ.
কিয়ামত সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদী ব্যক্তিটি কোথায়?
সে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! এই যে এখানে আমি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন,
فَإِذَا ضُيِّعَتِ الْأَمَانَةُ فَانْتَظِرِ السَّاعَةَ.
যখন আমানত নষ্ট হবে, তখন তুমি কিয়ামতের অপেক্ষায় থাকো。
লোকটি জিজ্ঞেস করল, কীভাবে আমানত নষ্ট করা হয়? নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন—
إِذَا وُسِّدَ الْأَمْرُ إِلَى غَيْرِ أَهْلِهِ فَانْتَظِرِ السَّاعَةَ.
যখন কোনো বিষয় অযোগ্যের কাছে ন্যস্ত করা হয়, তখন কিয়ামতের অপেক্ষায় থাকো。
নোট: হাদিসে শেখামুক্তকূর মর্ম হলো—দুনিয়াতে অভিযোগ কাজে সপে দেবে, তার উপর আবর্জনাজন হবে এবং তার গলায় ক্ষমতার সমালোচন মালা পরাবে। যেমন আমাদের যুগে পরিলক্ষিত হয়। কারণ, আল্লাহ তায়ালা তার বানদাদের ওপর ইমাম ও শাসকদেরকে দায়িত্বশীল বানিয়েছেন এবং তাদের জন্য কল্যাণ কামনার দায়িত্ব অর্পণ করেছেন। প্রমাণ, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন—
وَكُلُّكُمْ رَاعٍ وَكُلُّكُمْ مَسْئُولٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ.
তোমরা সকলেই দায়িত্বশীল এবং তোমরা সকলেই নিজের অধীনস্থদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে。
সুতরাং জনগণের জন্য সমীচীন হলো, দ্বীনদার, আমানতদার এবং উম্মতের ওপর হিতৈষী লোকেদেরকে দায়িত্বশীল বানানো। যখনই জনগণ দ্বীনহীন লোককে সম্মানের মালা পরিধান করাবে, তারা অবশ্যই আমানতকে নষ্ট করবে—যা আল্লাহ তায়ালা তাদের প্রতি ফরজ করে দিয়েছেন。
হাদিসে জিবরিলের বিশাল পাঠের মাঝে এই অংশটুকুও উল্লেখ করেছেন—
'হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বললেন, আমাকে আপনি কিয়ামত সম্পর্কে বলুন। নবিজি বললেন, জিজ্ঞাসাকারীর চেয়ে জিজ্ঞাসাকৃত ব্যক্তি বেশি জানে না। হযরত জিবরীল আবার বললেন, আমাকে কিয়ামতের আলামত সম্পর্কে বলুন। নবিজি বললেন, দাসী তার মনিবকে জন্ম দেবে, তুমি দেখবে—নগ্নপদ, বস্ত্রহীন এবং নিম্ন স্তরের রাখালেরা অট্টালিকা তৈরি করে গর্ব করছে।’
আরেক বর্ণনায় আছে—'যখন তুমি দেখবে—দাসী তার মনিবকে জন্ম দেবে, সেটা হবে কিয়ামতের একটি আলামত। যখন দেখবে—নগ্নপদ, বস্ত্রহীন, বধির এবং মূক দুনিয়ার বাদশাহী করবে, সেটাও হবে কিয়ামতের আলামত।’
হুজাইফা ইবনুল ইয়ামান রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন—
لَا تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى يَكُونَ أَسْعَدُ النَّاسِ بِالدُّنْيَا لَكَعُ ابْنُ لَكَعٍ.
যতক্ষণ বংশীয়ভাবে অসৎ (গোঁড়া) সৌভাগ্যবান বলে বিবেচিত না হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত কিয়ামত সংঘটিত হবে না。
আবু মালিক আল-আশয়ারি রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন—
لَيَشْرَبَنَّ نَاسٌ مِنْ أُمَّتِي الْخَمْرَ يُسَمُّونَهَا بِغَيْرِ اسْمِهَا يُعْزَفُ عَلَى رُءُوسِهِمُ الْمَعَازِفُ وَالْمُغَنِّيَاتُ يَخْسِفُ اللَّهُ بِهِمُ الْأَرْضَ وَيَجْعَلُ مِنْهُمُ الْقِرَدَةَ وَالْخَنَازِيرَ.
আমার উম্মতের অনেক মানুষ মদ পান করবে, কিন্তু সেগুলোকে তার মূল নাম ছাড়া অন্যান্য নামে নামকরণ করবে। সেখানে বাদ্যযন্ত্র বাজানো হবে এবং গানের আয়োজন করা হবে। আল্লাহ তাদেরকে সহ জমিনকে বিধ্বস্ত করবেন এবং তাদের মধ্য থেকে অনেককে বাঁদর ও শূকরে বিকৃত করবেন।’
আবু মালিক আশয়ারি রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলেছেন—
لَيَكُونَنَّ مِنْ أُمَّتِي أَقْوَامٌ يَسْتَحِلُّونَ الْحِرَ وَالْحَرِيرَ وَالْخَمْرَ وَالْمَعَازِفَ وَلَيَنْزِلَنَّ أَقْوَامٌ إِلَى جَنْبِ عَلَمٍ يَرُوحُ عَلَيْهِمْ بِسَارِحَةٍ لَهُمْ يَأْتِيهِمْ يَعْنِي الْفَقِيرَ لِحَاجَةٍ فَيَقُولُونَ ارْجِعْ إِلَيْنَا غَدًا فَيُبَيِّتُهُمُ اللَّهُ وَيَضَعُ الْعَلَمَ وَيَمْسَخُ آخَرِينَ قِرَدَةً وَخَنَازِيرَ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ.
আমার উম্মতের মধ্যে এমন কিছু মানুষের আবির্ভাব ঘটবে—যারা নারীর যৌনাঙ্গ, রেশম, মদ এবং বাদ্যযন্ত্রকে হালাল মনে করবে। কিছু মানুষ একটি উঁচু পাহাড়ের পাদদেশে যাত্রা বিরতি করবে। সেখানকার এক রাখাল রাতের বেলা তাদের কাছে কোনো প্রয়োজনে আসবে। তারা বলবে, আগামীকাল এসো। আল্লাহ তায়ালা রাতেই তাদের ওপর গযব নাযিল করবেন, পাহাড়কে বিধ্বস্ত করবেন এবং অন্যদেরকে কিয়ামত পর্যন্ত বাঁদর ও শূকরে বিকৃত করবেন।’
টিকাঃ
[৪০৪] সহীহ বুখারি, খণ্ড: ১, পৃষ্ঠা: ১০৩, হাদিস: ৫৯。
[৩৫৯] সহীহ মুসলিম, খণ্ড: ১, পৃষ্ঠা: ৫৭, হাদিস: ৯。
[৩৬۰] সহীহ মুসলিম, খণ্ড: ১, পৃষ্ঠা: ۶۹, হাদিস: ۱۱۱。
[৩৬۱] সুনানুত তিরমিজি, খণ্ড: ৮, পৃষ্ঠা: ২৫۰, হাদিস: ۲۲۱۵。
[৩৬۲] সুনানুত তিরমিজি, খণ্ড: ৮, পৃষ্ঠা: ২৫۰, হাদিস: ۲۲۱۵。
[৩৬۳] সুনানু ইবনু মাজাহ, খণ্ড: ۱۲, পৃষ্ঠা: ۲۹, হাদিস: ۴۰۱۰。
[৩৬۳] সহীহ বুখারি, খণ্ড: ১০, পৃষ্ঠা: ১২৯, হাদিস: ৫০০৯。