📘 মৃত্যুর ওপারে অনন্তের পথে > 📄 ইমাম মাহদি এবং শেষ জামানা

📄 ইমাম মাহদি এবং শেষ জামানা


আবু নাজরারাহ্ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমরা হজরত জাবির ইবনু আবদুল্লাহ্ রাদিয়াল্লাহু আনহুর এর কাছে উপস্থিত ছিলাম। তিনি বললেন, অতিসত্বর ইরাকবাসীর কাছে এক কাফিজ (একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ) খাবার এবং এক দিরহাম অর্থও আসবে না। আমরা বললাম, কোন দিক থেকে বন্ধ হবে? তিনি বললেন, অনারবরা তা আটকে দেবে। তারপর বললেন, অতিসত্বর সিরিয়াবাসীর কাছে একটি দিনার এবং এক মুদ খাবারও আসবে না। আমরা বললাম, কোন দিক থেকে বন্ধ হবে? তিনি বললেন, রোমের দিক থেকে আটকানো হবে। অতঃপর কিছুক্ষণ চুপ থেকে আবার বললেন, রাসুলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন—
يَكُوْنُ فِيْ آخِرِ أُمَّتِيْ خَلِيفَةٌ يَحْثِي الْمَالَ حَثْيًا لَا يَعُدُّهُ عَدًّا.
আমার উম্মতের শেষ জামানায় এমন খলিফা হবে, যে অর্থ দু'হাতে নিক্ষেপ করবে, গুনেও দেখবে না। আবু নাজরারাহ্ এবং আবুল আলাকে বলা হলো—আপনারা কি মনে করেন যে, তিনি উমর ইবনু আবদুল আজিজ? তারা বললেন, না。
আবু সাইদ খুদরি রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসুলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন—
اَلْمَهْدِيُّ مِنِّيْ أَهْلُ الْجَنَّةِ أَفْخَارُ بَنِيْ عَبْدِ الْمَنَافِ يَمْلَأُ الْأَرْضَ قِسْطًا وَعَدْلًا كَمَا مُلِئَتْ جَوْرًا وَظُلْمًا
মাহদি হবে আমার বংশ থেকে। চেহারা হবে জ্যোতির্ময়, নাক হবে তীক্ষ্ণ। গোটা বিশ্বে ইনসাফ ও ভারসাম্যতা প্রতিষ্ঠা করবে, ঠিক যেমন ইতিপূর্বে জুলুম ও অন্যায় পরিপূর্ণ ছিল। সে সাত বছর রাজত্ব করবে।
আবু নাজরারাহ্ আব্দুল্লাহ্ আনহ বলেন, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম্ বলেছেন—
'খুদুনিয়ার মাত্র একটি দিনও বাকি থাকবে (বর্ণনাকারী জাদিয়াহ্ বলেছেন), আল্লাহ্ তাআলা সেই দিনটিকে সুদীর্ঘ করবেন। তারপর এভাবেই চলতে থাকবে। একপর্যায়ে দেখতে আল্লাহ্ তাআলা আমার থেকে অথবা আমার বংশ থেকেই একজন মানুষকে পাঠাবেন, যার নাম হবে আমার নাম এবং তাঁর পিতার নাম হবে আমার পিতার নামে.’

টিকাঃ
[৩১৬] সহীহ মুসলিম, খণ্ড: ১৪, পৃষ্ঠা: ১৫৯, হাদিস: ৫১৮১。
[৩১৭] সহীহ মুসলিম, খণ্ড: ১১, পৃষ্ঠা: ৩৯৯, হাদিস: ৫৬০৬。
[৩১৮] সহীহ মুসলিম, খণ্ড: ১১, পৃষ্ঠা: ৩৩০, হাদিস: ৬৪০১。

📘 মৃত্যুর ওপারে অনন্তের পথে > 📄 ইস্তাম্বুল বিজয় এবং হজরত ইসা আলাইহিস সালাম

📄 ইস্তাম্বুল বিজয় এবং হজরত ইসা আলাইহিস সালাম


আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসুলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম্ ইরশাদ করেছেন—'যতক্ষণ পর্যন্ত রোম আমাকে/দাবিক-এ (যুদ্ধের জন্য) অবতরণ না করবে, ততক্ষণ পর্যন্ত কিয়ামত সংঘটিত হবে না। তখন তাদের মোকাবিলা করার জন্য মদিনা থেকে একটি বাহিনী যাত্রা করবে। যারা তখন হবে দুনিয়ার সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ। যখন তারা কাতারবন্দি হবে, রোম বলবে, আমাদের মধ্য থেকে আমাদের মধ্য থেকে যারা ধর্মচ্যুত হয়েছে—তাদের মাঝ থেকে তোমরা সরে যাও, আমরা তাদের সঙ্গে যুদ্ধ করব। তখন মুসলিমরা বলবে, আল্লাহ্র কসম! আমরা তোমাদের ও আমাদের ভাইদের মাঝখান থেকে সরে যাব না। সুতরাং মুসলিমরা তাদের সঙ্গে যুদ্ধ করবে। যুদ্ধে এক তৃতীয়াংশ পরাজিত হবে—যাদের তওবা আল্লাহ্ কখনো কবুল করবেন না। এক তৃতীয়াংশ নিহত হবে, তারা হবে আল্লাহ্র কাছে সর্বোত্তম শহিদ। আর এক তৃতীয়াংশ বিজয়ী হবে, যারা কখনো ফিতনায় নিপতিত হবে না। তারাই ইস্তাম্বুল জয় করবে। যখন তারা গণিমত বন্টন করবে, তাদের তলোয়ারগুলোকে জাইতুন বৃক্ষে ঝুলিয়ে রাখবে। হঠাৎ শয়তান তাদের মাঝে চিৎকার করে বলবে, দাজ্জাল তোমাদের অবস্থানস্থলে হারিকাবাসীর হামলা করেছে। সুতরাং তারা পরিবারের দিকে যাত্রা করবে। অথচ তোমাদের পরিবারে হামলা করেছে。
শয়তানের এই কথাটা ছিল মিথ্যা। তারা যখন যাত্রা করে সিরিয়ায় পৌঁছে যুদ্ধের প্রস্তুতি গ্রহণ করবে, কাতারবন্দি হবে, তখন নামাজের ইকামতও বলা হবে। ঠিক সেসময় হজরত ঈসা ইবনু মারইয়াম আলাইহিস সালাম অবতরণ করবেন এবং তাদের ইমামতি করবেন। যখন হজরত ঈসা আলাইহিস সালামকে আল্লাহ্র শত্রু দেখবে, তখন ঠিক এমনভাবে গলে যাবে যেভাবে পানিতে লবণ গলে যায়। যদি ঈসা আলাইহিস সালাম তাকে ছেড়েও দিতেন, তবুও সে গলে ধ্বংস হয়ে যেত। কিন্তু আল্লাহ্ তাআলা তাকে হজরত ঈসা আলাইহিস সালামের হাতে হত্যা করবেন। তারপর ঈসা আলাইহিস সালাম নিজের বর্শার মাথায় দাজ্জালের রক্ত তাদের বাহিনীকে দেখাবেন.’
আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন—'তোমরা একটি শহর সম্পর্কে শুনে থাকবে—যার এক প্রান্ত স্থলভাগ এবং আরেক প্রান্ত জলভাগ—সমুদ্র। সাহাবায়ে কিরাম বললেন, হ্যাঁ, হে আল্লাহ্র রাসুল। রাসুলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, যতক্ষণ সেখানে সত্তর হাজার বনি ইসহাক যুদ্ধ না করবে— ততক্ষণ পর্যন্ত কিয়ামত হবে না। তারা সেখানে এসে অস্ত্র দ্বারা যুদ্ধ করবে না এবং তীরও বর্ষণ করবে না। তারা বলবে, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার। সঙ্গে সঙ্গে শহরটির এক প্রান্তের পতন ঘটবে। সাওর বলেন, আমার জানা মতে সামুদ্রিক অংশের কথাই বলেছেন। তারপরের দ্বিতীয়বার বলবে, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার। অতঃপর তাদের জন্য শহর খুলে দেওয়া হবে, সুতরাং তারা শহরে প্রবেশ পূর্বক যখন গণিমত বন্টন করবে, ঠিক সেসময় তাদের কানে একটি চিৎকার এর আওয়াজ আসবে, যাতে বলা হবে, দাজ্জাল বের হয়েছে। সুতরাং তারা সবকিছু ফেলে রেখে ফিরে যাবে.’

টিকাঃ
[৩১৯] সহীহ মুসলিম, খণ্ড: ১৪, পৃষ্ঠা: ৬৯, হাদিস: ৫৯৮১。
[৩২০] সহীহ মুসলিম, খণ্ড: ১৪, পৃষ্ঠা: ১৬৯, হাদিস: ৫৯৯৬。

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00