📘 মৃত্যুর ওপারে অনন্তের পথে > 📄 তুর্কিদের যুদ্ধ এবং তাদের গুণাবলি

📄 তুর্কিদের যুদ্ধ এবং তাদের গুণাবলি


আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাহ ইরশাদ করেছেন—
لَا تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى تُقَاتِلُوا خَوْزًا وَكِرْمَانَ مِنَ الْأَعَاجِمِ حُمْرَ الْوُجُوهِ فَطْسَ الْأُنُوفِ صِغَارَ الْأَعْيُنِ وُجُوهُهُمْ الْمَجَانُّ الْمُطْرَقَةُ نِعَالُهُمُ الشَّعْرُ.
ততক্ষণ পর্যন্ত কিয়ামতও সংঘটিত হবে না; যতক্ষণ পর্যন্ত তোমরা তোমাদের শত্রু এবং অনারব কারমান জাতির সঙ্গে যুদ্ধ না করবে, যাদের চেহারা হবে লাল, নাকগুলো হবে চ্যাপটা, চোখগুলো হবে ছোট, চেহারাগুলো চামড়ার তৈরি ঢালের মতো এবং জুতাগুলো হবে পশমের。
হজরত আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাহ ইরশাদ করেছেন—
تُقَاتِلُونَ يَبْنِ الْقِيَامَةُ تَوْرَكُمْ فَوْمًا يُعَالِمُ الشَّعْرُ كَأَنَّ وُجُوهَهُمْ الْمَجَانَّ الْمُطْرَقَةِ حُمْرَ الْوُجُوهِ صِغَارَ الْأَعْيُنِ ذُلْفَ الْأَنْفِ.
তোমরা কিয়ামতের পূর্বে এমন এক জাতির সঙ্গে যুদ্ধ করবে—যাদের জুতা হবে পশমের, চেহারা চামড়ার তৈরি ঢালের মতো ও লাল, চোখগুলো হবে ছোট এবং নাকগুলো হবে মোটা。
আরেক বর্ণনায় আছে—
يَلْبَسُونَ الشَّعْرَ وَيَمْشُونَ فِي الشَّعْرِ.
চুল পরিধান করবে এবং চুলের মধ্যেই চলবে。

টিকাঃ
[১৯৮] সহিহুল বুখারী, খণ্ড: ১১, পৃষ্ঠা: ৪২৪, হাদিস: ৩০০৭。
[১৯৯] সুনানু আবি দাউদ, খণ্ড: ১৩, পৃষ্ঠা: ৩৯, হাদিস: ৪২৯৫。

📘 মৃত্যুর ওপারে অনন্তের পথে > 📄 সিরিয়ার ফজিলত

📄 সিরিয়ার ফজিলত


আবুদ দারদা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন—
بَيْنَا أَنَا نَائِمٌ إِذْ رَأَيْتُ عَمُودَ الْكِتَابِ اخْتُفِيَ مِنْ تَحْتِ رَأْسِي فَظَنَنْتُ أَنَّهُ مَضْرُوبٌ بِهِ فأتْبَعْتُ بَصَرِي فَعَمِدَ بِهِ إِلَى الشَّامِ أَلَا وَإِنَّ الْإِيمَانَ حِينَ تَقَعُ الْفِتَنُ بِالشَّامِ.
আমি ঘুমিয়ে ছিলাম। ইতিমধ্যে কিতাবের স্তম্ভ দেখলাম যে, তা আমার মাথার নিচ থেকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। আমি ভাবলাম, কিতাব (কুরআন) নিয়ে যাওয়া হবে! সুতরাং আমি সেদিকে দেখতে পেলাম যে, সেটি সিরিয়ার দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। সাবধান, ফিতনা আঁকড়ে ঈমান থাকবে সিরিয়ায়。
আবু দারদা রাদিআল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন—
'যুদ্ধকর দিনগুলোতে মুসলিমদের তাবু হবে মদিনার পাশে একটি নিচু ভূমিতে—যার নাম হবে দামেষ্ক। এটি সিরিয়ার শহরগুলোর মধ্যে সবচেয়ে উত্তম।’

টিকাঃ
[১০০] সুনানে আহমদ, খণ্ড : ৪৪, পৃষ্ঠা : ২০৯, হাদিস : ২৫৪৫১ মূল কিতাবে মুসলিমদের ব্যবহারের উদ্ধৃতি দেওয়া আছে। আমি সেখানে পাইনি, তাই মুসলিমদের অংশে উদ্ধৃত করেছি— অনুবাদক。
[১০১] সুনানু আবি দাউদ, খণ্ড : ১১, পৃষ্ঠা : ৩৫৬, হাদিস : ৪৭৪১

📘 মৃত্যুর ওপারে অনন্তের পথে > 📄 এই যুদ্ধে আল্লাহর বিশেষ বাহিনী

📄 এই যুদ্ধে আল্লাহর বিশেষ বাহিনী


আবু হুরাইরা রাদিআল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন—
إِذَا وَقَعَتِ الْمَلَاحِمُ بَعَثَ اللَّهُ بَعْثًا مِنَ الْمَوَالِي هُمْ أَكْرَمُ الْعَرَبِ فُرْسًا وَأَجْوَدُهُ سِلَاحًا يُؤَيِّدُ اللَّهُ بِهِمُ الدِّينَ.
যখন যুদ্ধ সংঘটিত হবে, আল্লাহ তাআলা একদল মুক্তদাসকে পাঠাবেন, যাদের ঘোড়া হবে আরবের মধ্যে সবচেয়ে অভিজাত, অস্ত্রগুলো হবে সবচেয়ে শক্তিশালী। আল্লাহ তাআলা তাদের মাধ্যমে দ্বীনকে শক্তিশালী করবেন。

টিকাঃ
[১০২] সুনানু ইবনু মাজাহ, খণ্ড : ১২, পৃষ্ঠা : ২০৯, হাদিস : ৪০৮৩

📘 মৃত্যুর ওপারে অনন্তের পথে > 📄 মদিনা, মক্কা এবং সেগুলোর বিরানভূমি

📄 মদিনা, মক্কা এবং সেগুলোর বিরানভূমি


আবু হুরাইরা রাদিআল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন—
تَبْلُغُ الْمَسَاكِنُ إِهَابَ أَوْ يَفَافَ.
মুসলিমদের আবাসস্থলের সীমানা ইহাব নামক স্থানে পৌঁছাবে。
জুহাইর রাহিমাহুল্লাহ বলেন, আমি সুহাইলকে বললাম, মদিনা থেকে কতদূর? তিনি বললেন, এত ৭৩ মাইল (আরবি পরিভাষায় যার শুরু হয় ২১ থেকে, শেষ হয় ৯২)।
আবুদাউদ ইবনু উমর রাদিআল্লাহু আনহুমা বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন—
‘শিগগির মুসলিমদেরকে মদিনার কাছে অবরোধ করা হবে। এমনকি তখন তাদের অস্ত্রগুলোই হবে সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র।’
আবু হুরাইরা রাদিআল্লাহু আনহু বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি—
لَتُرْكَنُ الْمَدِينَةُ عَلَى خَيْرِ مَا كَانَتْ لَا يَفْغَهَاهَا إِلَّا الْعَوَافِيُّ يُرِيدُ عِوَافِيَ السِّبَاعِ وَالطَّيْرِ ثُمَّ يَخْرُجُ الرُّاعِيَانِ مِنَ الْمَدِينَةِ يُرِيدَانِ يَنْفِقَانِ فَيَجِدَانِهَا وَحْشًا حَتَّى إِذَا بَلَغَا ثَنِيَّةَ الْوِدَاعِ خَرَّا عَلَى وُجُوهِهِمَا.
মদিনাকে তারা পূর্বাবত উত্তম অবস্থায় ত্যাগ অথবা পরিবর্তন ঘটে, সেখানে হিংস্র প্রাণী ছাড়া সবাই প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াতে পারবে। তারপর মুজাহিরা গোত্র থেকে দুজন রাখাল মদিনার উদ্দেশে বের হবে। তারা দুজন নিজেদের ছাগল হাঁকিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল। হঠাৎ ছাগল হিংস্রভাবে আক্রমণ করবে। এমনকি সানিয়াতুল ওয়াদায় পৌঁছে তারা উপুড় হয়ে পড়ে যাবে。
আবু হুরাইরা রাদিআল্লাহু আনহু বলেন, মদিনা সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন—
لَتُرْكَنُهَا أَهْلُهَا عَلَى خَيْرٍ مَا كَانَتْ مُذَلِّلَةٌ لِلْعَوَافِي يَعْنِي السِّبَاعَ وَالطَّيْرَ.
মদিনাকে তার অধিবাসীরা হিংস্র প্রাণীদের জন্য ও নিরাপদ ছিল—তার চেয়ে উত্তম অবস্থায় রেখে যাবে。
হজরত হুযাইফা রাদিআল্লাহু আনহু বলেন, আমাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিয়ামত অবধি সংঘটিতব্য সমস্ত কিয়া সম্পর্কে অবহিত করেছেন। তবে আমি তাকে প্রতিটি বিষয়ে প্রশ্ন করে করে জেনে নিয়েছি। কিন্তু একটি বিষয়ে তাকে কোনো প্রশ্ন করিনি, তা হলো— মদিনাবাসীরা মদিনা থেকে কোন কারণে বহিষ্কৃত হবে!? আবু হুরাইরা রাদিআল্লাহু আনহু বলেন, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন—
يُخَرِّبُ الْكَعْبَةَ ذُو السُّوَيْقَتَيْنِ مِنَ الْحَبَشَةِ
‘কাবাকে নষ্ট করবে ইথিওপিয়ার দুই নলা-বিশিষ্ট একজন মানুষ।’
আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস রাদিআল্লাহু আনহুমা বলেন, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন—
‘যেন আমি দেখছি যে, একজন কালো মানুষ—যার দুই নলার মাঝে দূরত্ব থাকবে, সে কাবা ঘরের একটি একটি পাথর উপড়ে ফেলছে।’
জ্ঞাতব্য : হাদিস দ্বারা প্রমাণিত হলো— মদিনার এবং তার অধিবাসীদের জন্য দুআ করতে হবে এবং সেখানে বসবাস করার জন্য উৎসাহ প্রদান করতে হবে। এ প্রসঙ্গে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন—
يَأْتِي عَلَى النَّاسِ زَمَانٌ يَدْعُو الرَّجُلُ ابْنَ عَمِّهِ وَقَرِيبَهُ هَلُمَّ إِلَى الرَّخَاءِ هَلُمَّ إِلَى الرَّخَاءِ وَالْمَدِينَةُ خَيْرٌ لَهُمْ لَوْ كَانُوا يَعْلَمُونَ وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَا يَخْرُجُ مِنْهُمْ أَحَدٌ رَغْبَةً عَنْهَا إِلَّا أَخْلَفَ اللَّهُ فِيهَا خَيْرًا مِنْهُ أَلَا إِنَّ الْمَدِينَةَ كَالْكِيرِ تُخْرِجُ الْخَبِيثَ لَا تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى تَنْفِيَ الْمَدِينَةُ شِرَارَهَا كَمَا يَنْفِي الْكِيرُ خَبَثَ الْحَدِيدِ.
এমন একটি সময় আসবে, যখন মানুষ তার চাচাতো ভাই এবং নিকটাত্মীয়দেরকে ডাকবে —বাতাসের দিকে এসো, বাতাসের দিকে এসো, অথচ মদিনাই তাদের জন্য কল্যাণকর, যদি তারা জানত! ওই সত্তার শপথ যার হাতে আমার প্রাণ! যখনই কোনো মানুষ মদিনা থেকে বিমুখ হয়ে সেখান থেকে বের হয়ে যাবে, আল্লাহ তাআলা তার চেয়ে উত্তম মানুষকে তার স্থলাভিষিক্ত করবেন। সাবধান! মদিনা হলো জাতির মতো— যা লোহাবেশিকে বের করে দেয়। যতক্ষণ পর্যন্ত মদিনা তার দোষের নিকট মানুষগুলোকে বের করে না দেবে, ততক্ষণ পর্যন্ত কিয়ামাত সংঘটিত হবে না ঠিক যেমন ভাঁটি লোহার মরিচাকে দূর করে দেয়。
আবদ ইবনু আবি ওয়াক্কাস রাদিআল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন—
مَنْ أَرَادَ أَهْلَ الْمَدِينَةِ بِسُوءٍ أَذَابَهُ اللَّهُ كَمَا يَذُوبُ الْمِلْحُ فِي الْمَاءِ
যে ব্যক্তি মদিনাবাসীর অকল্যাণ করতে চাইবে, আল্লাহ তাআলা তাকে এমনভাবে গলিয়ে ফেলবেন, ঠিক যেভাবে লবণ পানিতে গলে যায়。
আবু হুরাইরা রাদিআল্লাহু আনহু থেকেও এমন বর্ণনা আছে, বরং এমন বর্ণনা আছে আছে, যেগুলো ইতিপূর্বে আলোচিত হাদিসগুলোর সঙ্গে যাকিছুভাবে সাহহার্তিক, যদি ও প্রকুপক্ষে কোনো সাহারকিতা নেই। কারণ, মদিনায় অবস্থান করার উৎসাহ ছিল এমন সময়ে, যখন বিভিন্ন শহর বিজিত হচ্ছিল, কল্যাণ উপচে পড়ছিল। যেমন সুফিয়ান ইবনু জুহেইফ রাদিআল্লাহু আনহু হাদিসে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি—
'যখন বিজিত হবে।' সুতরাং একদল মানুষ তাদের পরিবারগুলোকে এবং তাদের অনুদানগ্রহেরাকে নিয়ে সেদিকে যাত্রা করবে, অথচ মদিনাই ছিল তাদের জন্য কল্যাণমথ—যদি তারা জানত। তারপর সিরিয়া বিজিত হবে এবং মদিনা থেকে একদল মানুষ তাদের পরিবারগুলোকে এবং অনুদানগ্রহেতকে তুলে নিয়ে বের হবে, অথচ মদিনাই তাদের জন্য কল্যাণজনক—যদি তারা জানত। তারপর ইরাক বিজিত হবে, সুতরাং অনেক মানুষ তাদের পরিবারগুলোকে এবং তাদের অনুদানগ্রহেতকে তুলে নিয়ে মদিনা থেকে বের হয়ে যাবে, অথচ মদিনাই ছিল তাদের জন্য কল্যাণকর—যদি তারা জানত。
নোট: বিভিন্ন শহর মুসলিমদের হাতে বিজিত হওয়ার প্রলোভন যখন লোকজন সেই শহরগুলোর দিকে হিজরত করছিল, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুসলিমদেরকে মদিনায় অবস্থান করার প্রতি উৎসাহিত করেছিলেন। কারণ, মদিনা ছিল অহি স্থির থাকার স্থান এবং তার পবিত্রতা এলাকা। সুতরাং তার জীবদ্দশায় তার সঙ্গোব, তার পবিত্র কোরবার দর্শন এবং তার মৃত্যুর পর তার পবিত্র শহরদের সনেহের এবং তার বউয়ের প্রাণ ছিল অত্যন্ত বরকতময়। এজন্যই তো নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন—
‘যে ব্যক্তি মদিনার ক্ষুধার কষ্টের ওপর সবর করে মারা যায়, আমি তার জন্য শাফায়াতকারী বা কিয়ামতের দিন পক্ষে সাক্ষী হব; তবে তাকে মুসলিম হতে হবে।’
আরও ইরশাদ করেছেন—
مَنْ اسْتَطَاعَ أَنْ يَمُوتَ بِالْمَدِينَةِ فَلْيَمُتْ بِهَا فَإِنِّي أُشَفِّعُ لِمَنْ يَمُوتُ بِهَا.
যে ব্যক্তি পারবে সে যেন মদিনায় মারা যায়。
কেননা, মদিনায় মুহাম্মদকারীর্ণের জন্য আমি শাফায়াত করব。
এটা ছিল মদিনার বসন্তকাল। তারপর যখন অবস্থার পরিবর্তন ঘটে, সেখানে ফিতনা এবং আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে, তখন সেখান থেকে বের হয়ে যাওয়া নিন্দিত ছিল না, বরং সেখান থেকে অন্যত্র যাওয়া ছিল ভালো কাজ, মন্দ নয়। আর নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিস—
مَنْ أَرَادَ أَهْلَ الْمَدِينَةِ بِسُوءٍ أَذَابَهُ اللَّهُ كَمَا يَذُوبُ الْمِلْحُ فِي الْمَاءِ.
যে ব্যক্তি মদিনাবাসীর অকল্যাণ করতে চাইবে, আল্লাহ তাআলা তাকে এমনভাবে গলিয়ে ফেলবেন, ঠিক যেভাবে লবণ পানিতে গলে যায়。
—এর মর্ম হলো— নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবদ্দশায়।
যেমন আরেকটি হাদিসে আছে— 'যখনই কোনো মানুষ মদিনা থেকে বিমুখ হয়ে সেখান থেকে বের হয়ে যাবে, আল্লাহ তাআলা তার চেয়ে উত্তম মানুষকে তার স্থলাভিষিক্ত করবেন।’
অথচ পরবর্তী সময়ে এমন অনেক সাহাবায়ে কিরাম রাদিয়াল্লাহু আনহুম মদিনা থেকে বের হয়ে গেছেন—যাদের চেয়ে উত্তম বিনিময় আল্লাহ্ দান করেননি। বোঝা গেল—এটা ছিল নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবদ্দশার বিষয়। কেননা, আল্লাহ্ তাআলা সর্বদা নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে অন্যান্য বছর চেয়ে উত্তম হিসেবে রেখে দিয়েছেন। এটা তো পরিষ্কার বিষয়। আরেক হাদিস— اَللهُ اَعْلَمُ আল্লাহ্ তাআলা তাকে গলিয়ে ফেলবেন। -এর মর্ম এও হতে পারে যে, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মৃত্যুর পর ধ্বংস হয়ে যাবে।

টিকাঃ
[১০০] সহিহ মুসলিম, খণ্ড : ০৯, পৃষ্ঠা : ১৯, হাদিস : ২৯৩৭
[১০১] সুনানু আবি দাউদ, খণ্ড : ১১, পৃষ্ঠা : ৬২৩, হাদিস : ৪৭৬১
[১০২] সহিহ মুসলিম, খণ্ড : ৭, পৃষ্ঠা : ১৪২, হাদিস : ২৮৪৬
[১০৩] সহিহ মুসলিম, খণ্ড : ৭, পৃষ্ঠা : ১৪৩, হাদিস : ২৮৬১
[১০০] সহিহ মুসলিম, খণ্ড : ১৪, পৃষ্ঠা : ৯৪, হাদিস : ২৯০৯
[১০১] সহিহ মুসলিম, খণ্ড : ১৪, পৃষ্ঠা : ৯২, হাদিস : ২৯১৭
[১০২] সহিহ মুসলিম, খণ্ড : ৭, পৃষ্ঠা : ১২, হাদিস : ১৪১১২
[১০০] সহিহ মুসলিম, খণ্ড : ৭, পৃষ্ঠা : ১২৫, হাদিস : ২৮৬১
[১০১] সহিহ মুসলিম, খণ্ড : ৭, পৃষ্ঠা : ১৩০, হাদিস : ২৮৬৬
[১০২] সহিহ মুসলিম, খণ্ড : ৭, পৃষ্ঠা : ১৩১, হাদিস : ২৮৬৩। হাদিসের আরবি পাঠটি সহিহ মুসলিম গ্রন্থের হতে ওই অর্থে আর হাদিসের ইনামিল হাদিস বর্ণনা করেছেন。
[১০০] সহিহ মুসলিম, খণ্ড : ৭, পৃষ্ঠা : ১৩০, হাদিস : ২৪৬৬
[১০১] সুনানু তিরমিজি, খণ্ড : ১০, পৃষ্ঠা : ৩১১, হাদিস : ৩৯১৭。
[১০২] সহিহ মুসলিম, খণ্ড : ৭, পৃষ্ঠা : ১৩১, হাদিস : ২৪৬৬。
[১০৩] সহিহ মুসলিম, খণ্ড : ৭, পৃষ্ঠা : ১৩২, হাদিস : ২৪৬৭。
[১০৪] সহিহ মুসলিম, খণ্ড : ৭, পৃষ্ঠা : ১৩৪, হাদিস : ২৪৬৭。

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00