📄 যুদ্ধের লক্ষণসমূহ
আউফ ইবনু মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, তাবুক যুদ্ধের সময় আমি নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দরবারে এলাম, তখন তিনি মাটির একটি কুটিরে অবস্থান করছিলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন বললেন—
কিয়ামতৈর পূর্বে ছয়টি বিষয় গণনা করবে—আমার মৃত্যু, বাইতুল মাকদিসের বিজয়, মূতান নামক মহামারি—ছাগলের সর্দি মতো একটি রোগ, যা তোমাদের অনেককে হত্যা করবে, তারপর অর্থের বন্যা বইবে, মানুষকে একশ দিনার দিলেও অসন্তুষ্ট হবে, তারপর একটি ফিতনা আসবে—যা আরবের প্রতিটি ঘরে প্রবেশ করবে, তারপর তোমাদের মাঝে এবং বনি আসফারের (রোমকদের) মাঝে সন্ধি ঘটবে। অতঃপর তারা গাদ্দারি করবে। সুতরাং তারা বারোটি পতাকাতলে তোমাদের ওপর আক্রমণ করবে, প্রতিটি পতাকাতলে থাকবে বারো হাজার মানুষ。
টিকাঃ
[১৯৪] সহিহুল বুখারী, খণ্ড: ১০, পৃষ্ঠা: ৪৪০, হাদিস: ৭১৪৫。
📄 রোমের যুদ্ধ এবং মুসলিমদের বিরুদ্ধে বিজাতীয়দের ঐক্য
আউফ ইবনু মালিক আল-আশজায়ি রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন—
تَلْبَسُونَ بَيْنَكُمُ الْقِتَالَ الْأَعْوَرَ ثُمَّ يَغْدِرُونَ بِكُمْ فَيَسِيرُونَ إِلَيْكُمْ فِي ثَمَانِينَ غَايَةٍ تَحْتَ كُلِّ غَايَةٍ اثْنَا عَشَرَ أَلْفًا.
তোমাদের মাঝে এবং বনি আসফারের মাঝে সন্ধি চুক্তি হবে। কিন্তু তারা গাদ্দারি করে আশিটি পতাকাতলে জমা হবে তোমাদের ওপর আক্রমণ করবে, যার প্রত্যেকটি পতাকাতলে বারো হাজার করে মানুষ থাকবে。
জাবির ইবনু জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন—কুফায় লাল বাতাস প্রবাহিত হলো। তখন হ্যান্ডজাবিকের বাইরে একজন লোক এসে বলল, হে আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ, কিয়ামতও এসেছে! জাবির ইবনু জাবির বলেন, আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ হেলান দিয়ে বললেন, ততক্ষণ পর্যন্ত কিয়ামত সংঘটিত হবে না—যতক্ষণ মিরাস বণ্টনীন না হয়ে পড়বে এবং গনিমাত পাওয়ার পরও আনন্দিত না থাকবে। তারপর হাত দিয়ে সিরিয়ার দিকে ইঙ্গিত করে বললেন, এখানে মুসলিমদের শত্রুরা একত্রিত হবে এবং মুসলিমরা তাদের বিরুদ্ধে জমায়েত হবে। আমি বললাম, আপনি কি রোমের কথা বলছেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ। সেখানে কঠিন যুদ্ধ হবে। সেখানে মুসলিমরা মৃত্যু শিকারকারী অগ্রগামী সেনাদল প্রেরণ করবে, যারা বিজয়ী হয়েই ফিরবে। যুদ্ধ করতে করতে একসময় রাতও এসে তাদের মাঝে অস্ত্রশস্ত্র সুপ্ত করবে। যার কারণে কেউ বিজয়ী হতে পারবে না। মুসলিমদের অগ্রগামী সেনাদল শেষ হয়ে যাবে। তারপর আবার মুসলিমরা মৃত্যু শিকারকারী অগ্রগামী সেনাদল প্রেরণ করবে, যারা বিজয়ী হয়েই ফিরবে। আবার যুদ্ধ আরম্ভ হবে। যুদ্ধ হতে হতে আবার রাতও অন্তরায় সৃষ্টি করবে। উভয় পক্ষের হাতে বিজয় অবরুদ্ধই থেকে যাবে। মুসলিমদের অগ্রগামী সেনাদল শেষ হয়ে যাবে। মুসলিমরা আবার মৃত্যু শিকারকারী অগ্রগামী সেনাদল প্রেরণ করবে, যারা বিজয়ী না হয়ে ফেরে না। সন্ধ্যা পর্যন্ত তারা যুদ্ধ করতে থাকবে। উভয় দল বিজয় থেকে দূরে অবস্থান করবে। মুসলিমদের অগ্রগামী সেনাদল শেষ হবে। যখন চতুর্থ দিনের সূর্য উদয় হবে, অবশিষ্ট মুসলিমরা যুদ্ধের ময়দানে অবতীর্ণ হবে। আল্লাহ তাআলা তাদের ওপর বিপদ চাপিয়ে দেবেন। তারা কঠিন হত্যাযজ্ঞের শিকার হবে। এমন যুদ্ধ কেউ দেখেনি, সামনে দেখেও না। এমনকি পাহাড়েও তাদের শরীর নিয়ে যেতে পারবে না, মরে পড়ে যাবে। সুতরাং কুবুল অবাক ফিরিয়ে আনা হবে। যাদের সংখ্যা হবে একশ। অতঃপর তাদের মাঝেও কেবল একজন বাকি থাকবে। তখন কোন গনিমাতও পেয়ে খুশি হবে, আর কোন মিরাস বণ্টন করবে। অবশ্য যখন এমন ভয়ানক হবে, তখন তারা মুসলিমদের শত্রুদের চেয়েও বড় বিপদের কথা শুনতে পারবে। বিকট চিৎকার হবে। তারপর বলবেন, মুসলিমদের এই শত্রুদের মাঝেই রাসূলের আবির্ভাব ঘটুক। তখন কাফিররা তাদের হাতের জিনিস ফেলে দিয়ে দাজ্জালকে সাঙ্ঘাতিক জানাবে এবং পূর্ব পদক্ষেপনকারী দলটি ঘোড়সওয়ার করবে। বর্ণনাকারী বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন—
إِنِّي لَأَعْرِفُ أَسْمَاءَهُمْ وَأَسْمَاءَ آبَائِهِمْ وَأَلْوَانَ خُيُولِهِمْ هُمْ خَيْرُ فَوَارِسَ عَلَى ظَهْرِ الْأَرْضِ يَوْمَئِذٍ أَوْ مِنْ خَيْرِ فَوَارِسَ عَلَى ظَهْرِ الْأَرْضِ يَوْمَئِذٍ.
'আমি অবশ্যই জানি তাদের নাম, তাদের পিতাদের নাম এবং তাদের ঘোড়াগুলোর রঙ। সেদিন তারাই হবে দুনিয়ার সবচেয়ে উত্তম ঘোড়সওয়ার।’
সাওবান রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন—'অচিরসঙ্গী অন্য জাতিরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে পরস্পরকে তোমাদেরকে বিরুদ্ধে আহ্বান করবে, যেমন ভক্ষণকারীরা খাবারের পাত্রের দিকে আহ্বান করা হয়। তখন জনৈক ব্যক্তি জানতে চাইল, আমরা কি সেদিন সংখ্যায় অল্প হব? রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, বরং তোমরা সেদিন অনেক হবে, তবে তোমরা হবে বন্যায় পানিতে ভাসমান খড়কুটোর মতো। আল্লাহ তোমাদের শত্রুদের হৃদয় থেকে তোমাদের প্রভাব ছিনিয়ে নেবেন এবং তোমাদের হৃদয়ে ওয়াহান ঢুকিয়ে দেবেন। জনৈক সাহাবি জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসূল, ওয়াহান কী? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, দুনিয়ার প্রেম এবং মৃত্যুর ঘৃণা।’
টিকাঃ
[১৯৫] সুনানু ইবনু মাজাহ, খণ্ড: ১২, পৃষ্ঠা: ৩৯৯, হাদিস: ৪০৪১。
[১৯৬] সহিহ মুসলিম, খণ্ড: ১৪, পৃষ্ঠা: ২৮, হাদিস: ৭০৯১。
[১৯৭] সুনানু আবি দাউদ, খণ্ড: ১৩, পৃষ্ঠা: ৩৯, হাদিস: ৪২৯৭。
📄 তুর্কিদের যুদ্ধ এবং তাদের গুণাবলি
আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাহ ইরশাদ করেছেন—
لَا تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى تُقَاتِلُوا خَوْزًا وَكِرْمَانَ مِنَ الْأَعَاجِمِ حُمْرَ الْوُجُوهِ فَطْسَ الْأُنُوفِ صِغَارَ الْأَعْيُنِ وُجُوهُهُمْ الْمَجَانُّ الْمُطْرَقَةُ نِعَالُهُمُ الشَّعْرُ.
ততক্ষণ পর্যন্ত কিয়ামতও সংঘটিত হবে না; যতক্ষণ পর্যন্ত তোমরা তোমাদের শত্রু এবং অনারব কারমান জাতির সঙ্গে যুদ্ধ না করবে, যাদের চেহারা হবে লাল, নাকগুলো হবে চ্যাপটা, চোখগুলো হবে ছোট, চেহারাগুলো চামড়ার তৈরি ঢালের মতো এবং জুতাগুলো হবে পশমের。
হজরত আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাহ ইরশাদ করেছেন—
تُقَاتِلُونَ يَبْنِ الْقِيَامَةُ تَوْرَكُمْ فَوْمًا يُعَالِمُ الشَّعْرُ كَأَنَّ وُجُوهَهُمْ الْمَجَانَّ الْمُطْرَقَةِ حُمْرَ الْوُجُوهِ صِغَارَ الْأَعْيُنِ ذُلْفَ الْأَنْفِ.
তোমরা কিয়ামতের পূর্বে এমন এক জাতির সঙ্গে যুদ্ধ করবে—যাদের জুতা হবে পশমের, চেহারা চামড়ার তৈরি ঢালের মতো ও লাল, চোখগুলো হবে ছোট এবং নাকগুলো হবে মোটা。
আরেক বর্ণনায় আছে—
يَلْبَسُونَ الشَّعْرَ وَيَمْشُونَ فِي الشَّعْرِ.
চুল পরিধান করবে এবং চুলের মধ্যেই চলবে。
টিকাঃ
[১৯৮] সহিহুল বুখারী, খণ্ড: ১১, পৃষ্ঠা: ৪২৪, হাদিস: ৩০০৭。
[১৯৯] সুনানু আবি দাউদ, খণ্ড: ১৩, পৃষ্ঠা: ৩৯, হাদিস: ৪২৯৫。
📄 সিরিয়ার ফজিলত
আবুদ দারদা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন—
بَيْنَا أَنَا نَائِمٌ إِذْ رَأَيْتُ عَمُودَ الْكِتَابِ اخْتُفِيَ مِنْ تَحْتِ رَأْسِي فَظَنَنْتُ أَنَّهُ مَضْرُوبٌ بِهِ فأتْبَعْتُ بَصَرِي فَعَمِدَ بِهِ إِلَى الشَّامِ أَلَا وَإِنَّ الْإِيمَانَ حِينَ تَقَعُ الْفِتَنُ بِالشَّامِ.
আমি ঘুমিয়ে ছিলাম। ইতিমধ্যে কিতাবের স্তম্ভ দেখলাম যে, তা আমার মাথার নিচ থেকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। আমি ভাবলাম, কিতাব (কুরআন) নিয়ে যাওয়া হবে! সুতরাং আমি সেদিকে দেখতে পেলাম যে, সেটি সিরিয়ার দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। সাবধান, ফিতনা আঁকড়ে ঈমান থাকবে সিরিয়ায়。
আবু দারদা রাদিআল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন—
'যুদ্ধকর দিনগুলোতে মুসলিমদের তাবু হবে মদিনার পাশে একটি নিচু ভূমিতে—যার নাম হবে দামেষ্ক। এটি সিরিয়ার শহরগুলোর মধ্যে সবচেয়ে উত্তম।’
টিকাঃ
[১০০] সুনানে আহমদ, খণ্ড : ৪৪, পৃষ্ঠা : ২০৯, হাদিস : ২৫৪৫১ মূল কিতাবে মুসলিমদের ব্যবহারের উদ্ধৃতি দেওয়া আছে। আমি সেখানে পাইনি, তাই মুসলিমদের অংশে উদ্ধৃত করেছি— অনুবাদক。
[১০১] সুনানু আবি দাউদ, খণ্ড : ১১, পৃষ্ঠা : ৩৫৬, হাদিস : ৪৭৪১