📘 মৃত্যুর ওপারে অনন্তের পথে > 📄 এই উম্মতের প্রথমাংশ ও শেষাংশের ভিন্ন-ভিন্ন ভাগ্যলিপি

📄 এই উম্মতের প্রথমাংশ ও শেষাংশের ভিন্ন-ভিন্ন ভাগ্যলিপি


আব্দুল্লাহ ইবনু উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমরা কোনো এক সফরে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সঙ্গে ছিলাম। পথে এক জায়গায় যাত্রাবিরতি করলাম। তখন আমাদের মধ্যে কেউ তাঁবু স্থাপন করছিল, কেউ ভাতের ব্যবস্থা করছিল এবং মজাকেন ঘোষণা করছিল। ইতিমধ্যে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মুয়াজ্জিন ঘোষণা করলেন—নামাজে দাঁড়াও। সুতরাং আমি নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে হাজির হলাম। তখন তিনি বললেন, ‘আমার পূর্বে যত নবি অতীত হয়েছেন—সকলের দায়িত্ব ছিল তার উম্মতকে যাবতীয় কল্যাণের প্রতি উৎসাহিত করা এবং সব প্রকারের অকল্যাণ থেকে সতর্ক করা। আর এই উম্মতের প্রথমাপণের জন্য নিরাপত্তা এবং শেষাপণের জন্য রয়েছে বিপদ। এখন এমন কিছু বিষয়ের ফায়সালা করা হয়েছে—যা তোমরা জানো না। একটি ফিতনা আসবে, তখন তারা পরস্পরকে দোষি পরিণত করবে। আরেকটি ফিতনা আসবে, তখন মুমিনরা বলবে, আমরা ধ্বংস হয়ে যাব, তারপর ফিতনা নির্মূল হবে। আবার ফিতনা আসবে, তখন মুমিনরা বলবে, এটা তো!…এ সময় যে ব্যক্তি জাহান্নাম থেকে মুক্তি পেয়ে জান্নাতে প্রবেশ করতে ভালোবাসবে তার মৃত্যু চলে আসবে। যে অবস্থায়, সে আল্লাহর প্রতি ও পরকাল দিবসের প্রতি ইমান আনবে এবং এমন মানুষের কাছে যাবে—যাকে সে নিজের দিকে আনতে ভালোবাসে। আর যে ব্যক্তি ইমানের হাতে বাহিত হবে, তার হাতে নিজেকে অর্পণ করবে, নিজের করমমের বিষয়টিও তার কাছে মাওন করবে, সে যথাসম্ভব ইমানের আনুগত্য করবে। যদি অন্য কেউ ইমানের সঙ্গে ইমানত নিয়ে যুদ্ধ করে, তাহলে দৃঢ়তার গড়দানে আঘাত করো।’

📘 মৃত্যুর ওপারে অনন্তের পথে > 📄 ফিতনার সময় মৃত্যুর দুআ করার বিধান

📄 ফিতনার সময় মৃত্যুর দুআ করার বিধান


ইহইইয়া ইবনু সাঈদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুআ করতেন—
اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ فِعْلَ الْخَيْرَاتِ وَتَرْكَ الْمُنْكَرَاتِ وَحُبَّ الْمَسَاكِينِ وَإِذَا أَرَدْتَ فِي النَّاسِ فِتْنَةً فَاقْبِضْنِي إِلَيْكَ غَيْرَ مَفْتُونٍ
হে আল্লাহ! তোমার কাছে আবেদন করছি কল্যাণময় কাজ করার তাওফিক, গর্হিত কাজ না করার শক্তি এবং মিসকিনদেরকে ভালোবাসার স্পৃহা। আর যখন তুমি মানুষের মাঝে ফিতনা দেওয়ার ইচ্ছা করবে, তখন আমাকে ফিতনায় না জড়িয়ে তোমার কাছে তুলে নিয়ো。
আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন—
لَا تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى يَمُرَّ الرَّجُلُ بِقَبْرِ الرَّجُلِ فَيَقُولُ يَا لَيْتَنِي مَكَانَهُ
যতক্ষণ পর্যন্ত কিয়ামত কায়েম হবে না—যতক্ষণ পর্যন্ত কোনো মানুষ আরেক মানুষের কবরের পাশ দিয়ে অতিক্রম করার সময় এ কথা না বলবে যে, হায় আমি যদি তার জায়গায় থাকতাম!’ অর্থাৎ জীবনের চেয়ে মৃত্যুই শ্রেয়。

টিকাঃ
[১০৭] ইমাম আযম আবু হানিফা, খণ্ড: ২, পৃষ্ঠা: ১৫৯。
[১০৮] সহীহ মুসলিম, খণ্ড: ২২, পৃষ্ঠা: ২৯, হাদিস: ৫৫৪৬; সহীহ মুসলিম, খণ্ড: ১৪, পৃষ্ঠা: ১১২, হাদিস: ৫১৭৫。

📘 মৃত্যুর ওপারে অনন্তের পথে > 📄 কষ্ট, ফিতনা এবং বিপদের কারণ

📄 কষ্ট, ফিতনা এবং বিপদের কারণ


আব্দুল্লাহ ইবনু উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন—
إِذَا مُتِّ أُمَّتِي بِالْعَظَائِمِ وَخَدَمَهَا أَبْنَاءُ الْمُلُوكِ أَبْنَاءُ فَارِسَ وَالرُّومِ سُلِّطَ شِرَارُهَا عَلَى خِيَارِهَا
আমার উম্মত যখন হাত লম্বা করে দম্ভভরে চলবে, রোম ও পারস্যের রাজপুত্ররা যখন তাদের সেবা করবে, তখন উম্মতের দুষ্ট লোকদেরকে ভালোদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হবে。
কায়েস ইবনু আবু হাযিম রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু দাঁড়িয়ে আল্লাহর তাআলার প্রশংসা করলেন, তাঁর স্তুতি গাইলেন, তারপর বললেন, হে লোকসকল! তোমরা এই আয়াতে পড়বে—
يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا عَلَيْكُمْ أَنْفُسَكُمْ لَا يَضُرُّكُمْ مَنْ ضَلَّ إِذَا اهْتَدَيْتُمْ
হে মুমিনগণ, তোমাদের নিজেদের চিন্তা করা আবশ্যক। তোমরা যখন সৎপথে রয়েছ, তখন কেউ পথভ্রষ্ট হলে তাতে তোমাদের কোনো ক্ষতি নেই। [সুরা মায়েদা, আয়াত: ১০৫]
কেননা, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি—
إِنَّ النَّاسَ إِذَا رَأَوُا الْمُنْكَرَ لَا يُغَيِّرُوْهُ أَوْشَكَ أَنْ يَعُمَّهُمْ اللَّهُ بِعِقَابِهِ
মানুষ যখন গর্হিত কাজ দেখেও তা প্রতিরোধ করার চেষ্টা করবে না, তখন আল্লাহ তাআলা ব্যাপকাকারে তাদেরকে আযাবে গ্রেফতার করেন。
আব্দুল্লাহ ইবনু আমর ইবনুল আস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন—‘যখন তোমাদের জন্য পারস্য ও রোমের বিষয় দান করা হবে, তখন তোমরা কেমন হবে?’
আব্দুর রহমান ইবনু আওফ রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বললেন, ‘আমরা আল্লাহ তাআলার নির্দেশ অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করব।’
তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘এর বিপরীতও হবে, তোমরা (জাগতিক) প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হবে, তারপর পরস্পরে হিংসায় জড়াবে, তারপর একে অপর থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে, তারপর পরস্পরের প্রতি ক্রোধান্বিত হবে ইত্যাদি ইত্যাদি। তারপর দুর্বল মুহাজিরদের পিছনে নেবে। তারপর তোমরা পরস্পরকে ভয় করবে।’
উসামা ইবনু জায়েদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন—
مَا تَرَكْتُ بَعْدِي فِتْنَةً أَضَرَّ عَلَى الرِّجَالِ مِنَ النِّسَاءِ
আমার অর্ধাঙ্গমার পক্ষে পুরুষের জন্য নারীর চেয়ে বড় কোনো ফিতনা রেখে যাইনি না。
আবু সাঈদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেওয়ার একপর্যায়ে বলেছেন—
'দুনিয়া সবুজ মিষ্টি। এ ব্যাপারে আল্লাহ তাআলা তোমাদের পশ্চাতে রেখেছেন যে, তোমরা কী করো! সাবধান, দুনিয়াকে পরিহার করো এবং নারীদের থেকে দূরে থাকো。'
অন্য বর্ণনায় আছে—
إِنَّ الدُّنْيَا حُلْوَةٌ خَضِرَةٌ وَإِنَّ اللَّهَ مُسْتَخْلِفُكُمْ فِيهَا فَيَنْظُرَ كَيْفَ تَعْمَلُونَ فَاتَّقُوا الدُّنْيَا وَاتَّقُوا النِّسَاءَ فَإِنَّ أَوَّلَ فِتْنَةٍ بَنِي إِسْرَائِيلَ كَانَتْ فِي النِّسَاءِ.
দুনিয়া সবুজ মিষ্টি। এ ব্যাপারে আল্লাহ তাআলা তোমাদের পশ্চাতে রেখেছেন যে, তোমরা কী করো!! সাবধান, দুনিয়াকে পরিহার করো এবং নারীদের থেকে দূরে থাকো। কারণ, বনি ইসরাঈলের প্রথম ফিতনা নারীদেরকে。
কায়াব ইবনু আয়াজ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি—
إِنَّ لِكُلِّ أُمَّةٍ فِتْنَةً وَفِتْنَتِي الْمَالُ.
নিশ্চয় প্রতিটি উম্মতের ফিতনা ছিল, আর আমার উম্মতের ফিতনা হলো সম্পদ。

টিকাঃ
[১০৯] সুনান তিরমিযি, খণ্ড: ৮, পৃষ্ঠা: ২১৬, হাদিস: ২১৬৭。
[১১০] সুনান তিরমিযি, খণ্ড: ৬, পৃষ্ঠা: ২৯১, হাদিস: ২১৯৫。
[১১১] সহীহ মুসলিম, খণ্ড: ১৪, পৃষ্ঠা: ১২২, হাদিস: ৫১৮১。
[১১২] সহীহ বুখারী, খণ্ড: ২১, পৃষ্ঠা: ১২৬, হাদিস: ৭১৬১。
[১৯০] সহিহুল বুখারী, খণ্ড: ১০, পৃষ্ঠা: ৪১, হাদিস: ৪৭৯৪; সহিহ মুসলিম, খণ্ড: ১০, পৃষ্ঠা: ২১০, হাদিস : ৭১২৪。
[১৯১] সুনানু ইবনু মাজাহ, হাদিস: ৩৯৯১。
[১৯২] সহিহ মুসলিম, খণ্ড: ১০, পৃষ্ঠা: ২১০, হাদিস: ৭১২৪。
[১৯৩] সুনানুত তিরমিযি, খণ্ড: ৮, পৃষ্ঠা: ৩২৭, হাদিস: ২২১৮। ইমাম তিরমিযি রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন— হাদিসটি হাসান, সহিহ, গরিব。

📘 মৃত্যুর ওপারে অনন্তের পথে > 📄 যুদ্ধের লক্ষণসমূহ

📄 যুদ্ধের লক্ষণসমূহ


আউফ ইবনু মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, তাবুক যুদ্ধের সময় আমি নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দরবারে এলাম, তখন তিনি মাটির একটি কুটিরে অবস্থান করছিলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন বললেন—
কিয়ামতৈর পূর্বে ছয়টি বিষয় গণনা করবে—আমার মৃত্যু, বাইতুল মাকদিসের বিজয়, মূতান নামক মহামারি—ছাগলের সর্দি মতো একটি রোগ, যা তোমাদের অনেককে হত্যা করবে, তারপর অর্থের বন্যা বইবে, মানুষকে একশ দিনার দিলেও অসন্তুষ্ট হবে, তারপর একটি ফিতনা আসবে—যা আরবের প্রতিটি ঘরে প্রবেশ করবে, তারপর তোমাদের মাঝে এবং বনি আসফারের (রোমকদের) মাঝে সন্ধি ঘটবে। অতঃপর তারা গাদ্দারি করবে। সুতরাং তারা বারোটি পতাকাতলে তোমাদের ওপর আক্রমণ করবে, প্রতিটি পতাকাতলে থাকবে বারো হাজার মানুষ。

টিকাঃ
[১৯৪] সহিহুল বুখারী, খণ্ড: ১০, পৃষ্ঠা: ৪৪০, হাদিস: ৭১৪৫。

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00